Friday, August 16, 2013

নির্বাচনী তহবিল আত্মসাৎ করায় জেসি জ্যাকসনের কারাদণ্ড

জেসি জ্যাকসন
মাত্র এক বছর আগেও তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের উদীয়মান এক আইনপ্রণেতা। তাঁকে মনে করা হতো অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র। কয়েকবার কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই জেসি জ্যাকসন জুনিয়রকে আদালত গত বুধবার দুর্নীতির জন্য দণ্ডিত করেছেন। নির্বাচনী তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য জ্যাকসন জুনিয়রের বিরুদ্ধে ৩০ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ হয়েছে। পাশাপাশি কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী স্যান্ডি জ্যাকসনকে দেওয়া হয়েছে ১২ মাসের কারাদণ্ড। দণ্ডিত হয়ে পতিত এই আইনপ্রণেতা শিশুর মতো কেঁদেছেন। আবেগরুদ্ধ কণ্ঠে বলেছেন, ‘রাজনৈতিক জীবন আর ব্যক্তিজীবনকে আমি পৃথক করতে পারিনি।...এর চেয়ে মারাত্মক ভুল আর কী হতে পারে?’
প্রখ্যাত মানবাধিকার নেতা রেভারেন্ড জেসি জ্যাকসনের ছেলে জ্যাকসন জুনিয়র। শিকাগো নগরের অনগ্রসর কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান। রেভারেন্ড জ্যাকসনের পরিচিতির সুবাদে দ্রুত রাজনীতির মাঠে এগিয়ে যান জ্যাকসন জুনিয়র। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিতর্কিত হয়ে ওঠেন। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে গত বছর। এর আগে ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ছেড়ে দেওয়া আসনে মনোনয়ন নিয়েও অনৈতিকতার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তোপের মুখে গত নভেম্বরে কংগ্রেস থেকে তাঁকে পদত্যাগ পর্যন্ত করতে হয়। বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনী তহবিলের অপব্যবহার নিয়ে তদন্ত শুরু হয় জেসি জ্যাকসন জুনিয়রের বিরুদ্ধে। তদন্তে প্রমাণিত হয়, ঘরের আসবাব থেকে নিজের জন্য দামি রোলেক্স ঘড়ি কিনেছেন নির্বাচনী তহবিলের অর্থ দিয়ে। প্রায় সাড়ে সাত লাখ ডলারের নির্বাচনী তহবিল তসরুফ করেছেন। আবার রাজকীয় জীবন যাপন করলেও স্ত্রী স্যান্ডি জ্যাকসন কর ফাঁকি দিয়েছেন। আদালতের বাইরে সাংবাদিকসহ অপেক্ষমাণদের সামনে জেসি জ্যাকসন জুনিয়র নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করে জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্ষতি’ করায় দুঃখ প্রকাশ করলেন ম্যানিং

ব্র্যাডলি ম্যানিং
উইকিলিকসকে গোপন তথ্য সরবরাহ করে আলোচিত মার্কিন সেনাসদস্য ব্র্যাডলি ম্যানিং গত বুধবার দেশের ‘ক্ষতি’ করার অভিযোগ স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মিডের সামরিক আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে রায়ের শুনানি চলছে। ম্যানিং তাঁর কাজের জন্য এবারই প্রথমবারের মতো দুঃখ প্রকাশ করলেন। গুপ্তচরবৃত্তি এবং ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধবিষয়ক মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তা ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে ম্যানিংকে গত মাসে অভিযুক্ত করা হয়। গোপন তথ্য ফাঁসকারী বহুল আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকসকে প্রায় সাত লাখ গোপন দলিলপত্র সরবরাহ করেছিলেন ২৫ বছর বয়সী ম্যানিং। ওই অপরাধের পাশাপাশি প্রতারণা ও সামরিক শৃঙ্খলা অমান্য করার দায়ে তাঁর ৯০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। শুনানিকালে ম্যানিং বলেন, তিনি ‘ভুলবশত’ মনে করেছিলেন, তাঁর ওই কাজের মধ্য দিয়ে বিশ্বে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সাধনের লক্ষ্যে আসলে ‘নিয়মের মধ্যে থেকেই’ কাজ করা উচিত ছিল তাঁর। বিমর্ষ ম্যানিং বলেন, আমার কাজে যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন জনগণের ক্ষতি হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিণতির জন্য আমি দুঃখিত। নিজের কাজের অপ্রত্যাশিত ফলের জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমার জন্য গত তিনটি বছর ছিল শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সময়। বক্তব্য দেওয়ার সময় কয়েকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ম্যানিং। দেখে মনে হচ্ছিল তিনি কান্নায় ভেঙে পড়বেন। ২০১০ সালে ইরাকে অবস্থানকালে যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রতিবেদন ও কূটনৈতিক তারবার্তা উইকিলিকসকে সরবরাহের অভিযোগ আগেই স্বীকার করেছেন ম্যানিং। এদিকে, উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ম্যানিংয়ের কাছ থেকে জবরদস্তিমূলক উপায়ে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বিচারব্যবস্থা তাঁকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছে। এএফপি, বিবিসি ও এপি।

প্রাণঘাতী রোগের কারণে পদত্যাগ করেন কাস্ত্রো!

ফিদেল কাস্ত্রো
প্রাণঘাতী’ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে দেশের ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন কিউবার সাবেক নেতা ফিদেল কাস্ত্রো। কেননা, তিনি তখন কল্পনাও করেননি এত দিন বেঁচে থাকবেন। আজও বেঁচে থাকায় তিনি ‘বিস্মিত’। নিজের লেখা এক নিবন্ধে এই কথা বলেছেন কিউবার বিপ্লবের স্বনামখ্যাত নেতা ফিদেল কাস্ত্রো। ১৯৫৯ সালে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন ফিদেল কাস্ত্রো। সেই থেকে টানা ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশের সর্বেসর্বা ছিলেন। এরপর দায়িত্ব ছেড়ে দেন ছোট ভাই রাউলকে। গত মঙ্গলবার ছিল ফিদেলের ৮৭তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে গত বুধবার কিউবার রাষ্ট্রীয় পত্রিকা গ্রানমা য় তাঁর দীর্ঘ ওই নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে। নিবন্ধে ফিদেল জানিয়েছেন, ২০০৬ সালে তাঁর গুরুতর পেটের পীড়া ধরা পড়ে। সে অসুস্থতা এতটাই মারাত্মক ছিল যে তিনি তখন ভাবতে পারেননি বেশি দিন বেঁচে থাকবেন। ফিদেল কাস্ত্রো লিখেছেন, ‘আমি তখন এটা কল্পনাও করতে পারিনি যে আরও সাত বছর বেঁচে থাকব।’
নিবন্ধে ফিদেল বলেন, ‘আমি যখন বুঝতে পারলাম, এটা (অসুস্থতা) চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাচ্ছে, তখন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে কোনো প্রকার দ্বিধাবোধ করিনি।’ নিবন্ধে ফিদেল আরও জানিয়েছেন, কিউবা আশির দশকের গোড়ার দিকে উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র নিয়েছিল। কমিউনিস্ট রাষ্ট্রটিকে রক্ষায় আর কোনো পদক্ষেপ নিতে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রস্তুত নয়—ইউরি আন্দ্রোপভের এমন সতর্কবাণীর পর উত্তর কোরিয়ার ওই অস্ত্রের জোগান আসে। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কিউবার কমান্ডার-ইন-চিফ এবং প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়লেও চিকিৎসা গ্রহণের স্বার্থে মূলত ফিদেল ২০০৬ সালেই ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তখন ছোট ভাই রাউল কাস্ত্রোকে তিনি নিজের স্থলাভিষিক্ত করেন। বিবিসি।

ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ড থামান

নয়াদিল্লির লাল কেল্লায় গতকাল স্বাধীনতা দিবসের
ভাষণ দেন মনমোহন সিং ষ রয়টার্স
পাকিস্তানের মাটিকে ‘ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ ব্যবহারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। কাশ্মীর নিয়ে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ দুটির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে গতকাল বৃহস্পতিবার এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন মনমোহন। গতকাল ১৫ আগস্ট ছিল ভারতের স্বাধীনতা দিবস। এ উপলক্ষে রাজধানী নয়াদিল্লির লাল কেল্লা থেকে দেওয়া বার্ষিক ভাষণে মনমোহন সিং বলেন, ভারত সব সময় তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে উদ্যমী। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন প্রশ্নে এ বিষয়টি অপরিহার্য যে তাদের নিজ ভূখণ্ড ও তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ডকে ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা প্রতিরোধ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন বুলেটপ্রুফ বেষ্টনীর মধ্যে অবস্থান নিয়ে ভাষণ দেন। সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় এলাকাটি নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য দিয়ে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। বিরোধপূর্ণ কাশ্মীরে গত সপ্তাহে পাঁচ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের এই বক্তব্য এল। ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য ভারত পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করে আসছে। ঘটনাটি নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে থমকে যাওয়া শান্তি আলোচনা আবার শুরুর সম্ভাবনা দেখা দিলেও তাতে এখন অনিশ্চয়তার ছায়া পড়েছে। গত সপ্তাহের ওই ঘটনার পর থেকে কাশ্মীর অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণরেখায় উভয় দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান হলে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্র গঠিত হয়। পৃথক হওয়ার পর দেশ দুটির মধ্যে তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে দুটিই কাশ্মীর নিয়ে। বর্তমানে ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যটির কিছু অংশ ভারতের ও কিছু অংশ পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে উভয় দেশই পুরো কাশ্মীরকে নিজেদের বলে দাবি করে থাকে। মনমোহন সিংয়ের আগে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া পৃথক এক বাণীতে পাকিস্তানের উদ্দেশে বলেন, ‘ধৈর্যের সীমা আছে’। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ভারতীয় ভূখণ্ড রক্ষা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে বলেও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং আগামী বছর অনুষ্ঠেয় নির্বাচন সামনে রেখে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বলিষ্ঠ ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মনমোহন ঘোষণা করেন, ‘একটি আধুনিক, প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশে সংকীর্ণ ও সাম্প্রদায়িক ভাবাদর্শের’ কোনো জায়গা নেই। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ভাবাদর্শগুলো আমাদের সমাজে বিভাজন সৃষ্টি এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। তাই আমাদের এগুলো প্রতিরোধ করা দরকার।’ অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গত নয় বছরে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ) সরকারের সফলতা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মনমোহন স্বীকার করেন, শিক্ষাসহ কিছু ক্ষেত্রে আরও অনেক কিছুই করার রয়েছে। এএফপি ও আইএএনএস।

বক্সিরহাটের বিবর্তন by মোবাশ্বির আলম মজুমদার

পীতাম্বরের মসলার দোকান, শিল্পীঃ শায়লা শারমিন
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের অতিচেনা বক্সিরহাটের নামের কোনো পরিবর্তন না হলেও পাল্টে গেছে এর দালানের বাহ্যিক রূপ ও এখানে বসবাসরত মানুষের জীবনমান। বক্সিরহাট চট্টগ্রামের জিরো পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। রাত-দিন এখানে চলে পণ্য বিপণনের কার্যক্রম। এবার এই হাটটি উঠে এসেছে শিল্পীদের নানামাত্রিক শিল্পকর্মে।চট্টগ্রামের শিল্পীদের গড়া যোগ অল্টারনেটিভ আর্ট স্পেসের আয়োজনে ঢাকা আর্ট সেন্টারে গত ১৯ জুলাই শুরু হয় চিত্রশিল্পী, আলোকচিত্রী ও শৌখিন আলোকচিত্রশিল্পীর আলোকচিত্র, ভিডিও আর্ট এবং স্থাপনাশিল্প নিয়ে ১৪ জন শিল্পীর এক প্রদর্শনী।
অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা এখানে প্রথাগত আলোকচিত্র নির্মাণের বাইরে দাঁড়িয়ে পাল্টে যাওয়া এ সময়ের বক্সিরহাটকে তুলে ধরেছেন। তবে একে কেবল আলোকচিত্র প্রদর্শনী বলে ক্ষান্ত হওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে আলোকচিত্রের সঙ্গে চিত্রকলার সংযোগ ঘটেছে বেশ ভালোভাবেই। কিন্তু দৃশ্যশিল্পের দুটি মাধ্যম যুক্ত হয়ে নতুন এ মাধ্যমে সৌন্দর্য প্রকাশই প্রধান বিবেচ্য নয়; বরং বিষয়ের সাহায্যে এখানে বক্তব্যকে প্রধান করে দেখা হয়েছে। আলোকচিত্রের উপস্থাপনারও আছে ভিন্নতা। আলোকচিত্রের সঙ্গে  ওই বক্সিরহাটের মানুষের  দিনযাপন, অতি পুরোনো দোকানের বিপণন প্রক্রিয়া, পথঘাট, স্থাপত্য, নিত্য দেখা মানুষের মুখ, আলো-আঁধারের বৈচিত্র্যসহ বিচিত্র কর্মযজ্ঞের বার্তা এখানে উপস্থিত। জাহেদ আলী চৌধুরীর ‘যুবরাজের সময় কি বিপজ্জনক নাকি সম্ভাবনাময়?’ শিরোনামের কাজে দেখা যায় একগুচ্ছ আলোকচিত্রের উপস্থিতি। এর মধ্যে মুদি দোকানি থেকে নিউ আনন্দ ব্যান্ড পার্টির ঢোল বা ড্রামের আলোকচিত্র—কোনোটাই বাদ নেই। সব আলোকচিত্রের সঙ্গে শিল্পী হাতের নির্দিষ্ট ভঙ্গি প্রদর্শন করেছেন। যুবরাজের তোলা আলোকচিত্র গ্যালারিতে সাজিয়েছেন স্থাপনাশিল্পের আদলে। শায়লা শারমিন পীতাম্বরের মসলার দোকানকে নিয়ে আলোকচিত্র তুলে সাজিয়েছেন বিভিন্ন মসলার সাহায্যে আঁকা জ্যামিতিক ও প্রাকৃতিক ফর্মের ভেতরে।
চট্টগ্রামের অতি পুরোনো এই মেসার্স পীতাম্বর শাহর ভান্ডারে আছে রূপচর্চার সামগ্রী, আয়ুর্বেদিক জড়িবুটি, দারুচিনি, এলাচি থেকে চন্দন, ধূপসহ নানা চেনা-অচেনা পণ্যের সমাহার। শিল্পী তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে এখানে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার দ্বিধা-দ্বন্দ্বকে তুলে ধরেছেন। ‘আলো’ শিরোনামে ভিডিও আর্ট প্রদর্শন করছেন জিহান করিম। তিনি চিত্রশিল্পী, তাই আলো-আঁধারের নন্দন তাৎপর্য তাঁর কাছে গ্রহণীয়। তাঁর কাজের বিশেষত্ব এমন, দিন-রাতের যে সময়েই আমরা সেটি দেখি না কেন, আমাদের তা ভাবায়। অন্যদিকে, কুমার বিশ্বাসের ক্যামেরায় উঠে এসেছে বক্সিরহাটের গীতালি ব্যান্ড পার্টির বাদক দলের মুখচ্ছবি। এ ছাড়াও হোসেইন মাহমুদ রকি প্রদর্শন করেছেন পুরোনো দালান, কাঠের নকশা করা ঘর, মরচে পড়া লোহার দরজার আলংকারিক সৌন্দর্য ইত্যাদি। রূপায়ণ বড়ুয়ার শিল্পকর্মের নাম ‘শামসুল আলমের বাবার দোকান।’ রিয়াদ মাহমুদের ছবির বিষয় ‘পথ’। জুবলী দেওয়ানের ছবির নাম ‘বাস্তবতা’ এবং সুচয়ন পালের কাজের শিরোনাম ‘পরম্পরা’।  এভাবে এই প্রদর্শনীতে শিল্পীরা তুলে এনেছেন চট্টগ্রামের বক্সিরহাটের বিবর্তন। আলোকচিত্রের সঙ্গে চিত্রকলার মিশেলে প্রদর্শনীটি দৃশ্যশিল্পের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ঢাকার আগে এটি প্রথম অনুষ্ঠিত হয়েছিল চট্টগ্রামে। ঢাকায় শেষ হয়েছে গত ২৯ জুলাই।

মানুষ হতে চাওয়া পাখিদের দল by ইমরান মাঝি

মানুষ হতে চাওয়া পাখিদের দল
মাঝে মাঝে এক ঝাঁক পাখি এসে মানুষ হতে চায়। আমি তখন রুপার কাঠি খোঁজার বিবিধ ভঙ্গি করি। ফুলগাছের শিকড় জড়িয়ে ধরা পিঁপড়েদের জন্য বিষ কিনে আনতে চাই ধানগাছে ছিটিয়ে দেওয়া কৃষকের মতো।
আমার কাছে সোনার কাঠি আছে—তা বোঝানোর জন্য কখনো বা বেশ সাজুগুজু করি। রাস্তায় দাঁড়ানো রাতের বেশ্যার মতো। কিন্তু সাজটা ঠিক প্রচলিত নয় বলে আমাকে কেনে না কেউ। ফলে পাখিদের মানুষে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়নি আমার।