Thursday, December 30, 2010

গণমাধ্যমকে কে রেগুলেট করবে? by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর

সংবাদপত্র, টিভি বা বেতার অর্থাৎ সার্বিকভাবে গণমাধ্যম যদি স্বেচ্ছাচারী হয়, তাহলে তার চেয়ে বিপজ্জনক আর কিছু হতে পারে না। কারণ গণমাধ্যমকে রেগুলেট করার মতো কোনো প্রতিষ্ঠান আমরা স্বাধীনতার ৪০ বছরেও তৈরি করতে পারিনি। সরকার ও সমাজের হয়তো প্রত্যাশা ছিল, গণমাধ্যম চলতি আর দশটি ব্যবসার মতো হবে না; এটা হবে সমাজসেবার ব্যবসা, আদর্শ প্রচারের বাহন। একসময় এটাই ছিল বাস্তবতা। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, পাকিস্তান আমল (১৯৭০) পর্যন্ত এ দেশে সংবাদপত্র প্রকাশনা আলু-পটোলের ব্যবসার মতো ছিল না। পূর্ব বাংলার অধিকারবঞ্চিত মানুষের প্রতিবাদের কথা প্রচারের লক্ষ্যে বা শ্রমিক-কৃষক তথা মেহনতি মানুষের দাবি তুলে ধরার জন্য অনেকে সংবাদপত্র প্রকাশ করেছেন। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে মওলানা আকরম খাঁ, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া বা খায়রুল কবীররা সংবাদপত্র প্রকাশ করেছিলেন এ রকম নানা আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে। স্বাধীনতার পরও কিছুদিন এই ধারা অব্যাহত ছিল। কিন্তু নব্বইয়ের পর যখন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং অবাধে সংবাদপত্র প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়, তখন সংবাদপত্র প্রকাশনা আদর্শের জায়গা থেকে আস্তে আস্তে সরে যেতে থাকে। নব্বইয়ের পর থেকে এ দেশের রাজনীতিও দূষিত হতে থাকে। জাতীয় ও ছাত্ররাজনীতির এক বিরাট অংশ সন্ত্রাস ও দুর্বৃত্তায়নের পঙ্কে নিমজ্জিত হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে সংবাদপত্র প্রকাশনায় ও টিভি চ্যানেলের ব্যবসায়। ব্যতিক্রম কয়েকটি ছাড়া বেশির ভাগ গণমাধ্যম নানা বাণিজ্যিক স্বার্থ, কালো টাকার পাহারাদার, ভূমিদস্যুতার স্বার্থ রক্ষা, দূষিত রাজনীতিতে প্রভাব বাড়ানো ইত্যাদি লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুধু তা-ই নয়, সামরিক-বেসামরিক নানা গোয়েন্দা সংস্থার অর্থ-সহায়তায়ও সংবাদপত্র প্রকাশনার অভিযোগ শোনা যায়।
আমার এই পর্যবেক্ষণ পাঠকের জন্য নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন অফিসে, ক্লাবে, পারিবারিক আড্ডায় বা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব কথা অনেক বছর ধরে আলোচনা হচ্ছে। আমি সৌজন্যবশত কোনো পত্রিকা বা টিভি চ্যানেলের নাম লিখিনি। কিন্তু আড্ডার আলোচনায় অনেকে প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নাম নিয়েই অভিযোগ তোলেন। অনেক পাঠক এসব কথা জানেন।
আদর্শভিত্তিক চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে এ দেশে একদা সংবাদপত্র প্রকাশনা শুরু হয়েছিল। সংবাদপত্রের সম্পাদক, প্রকাশক ও সাংবাদিকেরা ছিলেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র। আর আজ? আজ ঋণখেলাপি, ভূমিদস্যু থেকে শুরু করে গোয়েন্দা বিভাগের এজেন্ট অনেকেই সংবাদপত্রের প্রকাশক বা সম্পাদক। নানা কারণে এখনো সম্পাদক বা প্রকাশকের একটা সরকারি বা সামাজিক স্বীকৃতি ও সম্মান রয়েছে। এই সম্মানের আড়ালে তাঁরা কার কী স্বার্থ উদ্ধার করছেন, তা খুব কম পাঠকেরই জানার সুযোগ হয়। অনেক সরলমনা পাঠক এখনো সংবাদপত্রের সব খবর বা নিবন্ধকে খুব আস্থার সঙ্গে পড়েন। কিন্তু সব সংবাদপত্র যে ‘সাংবাদিকতা’ করার লক্ষ্যে সংবাদপত্র প্রকাশ করে না, তা অনেকেই জানেন না। তবে কিছু সংবাদপত্র নিয়মিত পাঠ করে অনেক পাঠক ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছেন, কয়েকটি সংবাদপত্রের বিশেষ অ্যাজেন্ডা কী? একটা পুরোনো প্রবাদ আছে, কিছু মানুষকে কিছু সময়ের জন্য বোকা বানানো যায়। অনেক মানুষকে বেশি সময়ের জন্য বোকা বানানো যায় না।
সাংবাদিকতার কিছু আন্তর্জাতিক নিয়মরীতি আছে। কিন্তু সংবাদপত্রের প্রকাশক বা সম্পাদক যদি তা মানতে না চান, তাহলে তাঁকে বাধ্য করবে কে? কারণ তাঁর হাতে রয়েছে সংবাদপত্র, রিপোর্ট, ছবি, কলাম ও আরও কত কী। টিভি চ্যানেলের মালিকের রয়েছে ক্যামেরা, ক্যাসেট, এডিটিং টেবিল ও সম্প্রচারের যন্ত্র। আর কী চাই? তিনি যা চান, তা-ই প্রচার করতে পারেন। ইচ্ছেমতো বক্তৃতা কাটতে পারেন। এক কথার সঙ্গে সুবিধামতো আরেক কথা জোড়া দিতে পারেন। বক্তার একটা কথার দুটি শব্দ বাদ দিয়েও প্রচার করতে পারেন। একই কথা দুবার প্রচার করতে পারেন। এক ছবি ১০ বার দেখাতে পারেন। দেখানোর উপযুক্ত হলেও তা না দেখানোর স্বাধীনতাও তাঁর রয়েছে। টিভি চ্যানেলের স্বাধীনতার (পড়ুন স্বেচ্ছাচারিতা) কোনো শেষ নেই। টিভি চ্যানেলও যদি নিয়মরীতি মানতে না চায়, কে তাকে বাধ্য করবে? সমাজে এমন কোনো শক্তি আছে কি, গণমাধ্যমকে রীতিনীতি মানতে বাধ্য করতে পারে? হ্যাঁ, একমাত্র সরকারই পারে। কিন্তু সরকারের প্রশ্রয়ে যদি এ রকম স্বেচ্ছাচারিতা ঘটে, তাহলে কে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করবে?
আমার মাঝেমধ্যে সন্দেহ হয়, এর পেছনে কি কোনো সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র কাজ করছে? আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল দূষণ ও দুর্বৃত্তায়নের শিকার। দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান পরিবারতন্ত্রের ওপর দল দুটি নির্ভরশীল। দলের প্রধানের একনায়কত্ব এবং কিছু পেটুয়া নেতার নিয়ন্ত্রণে প্রধান দুটি দলের নীতিনির্ধারণ হয়ে থাকে। দলের সম্মেলন, নানা কমিটি ও নানা সভা অনেকটাই লোক দেখানো। দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অন্যত্র নেওয়া হয়। দল দুটির ঐতিহ্যবাহী ছাত্র শাখাও টেন্ডারবাজি ও দুর্বৃত্তায়নের শৃঙ্খলে আবদ্ধ। সুস্থ ও গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে বড় দুটি দলের ছাত্র শাখার কোনো সম্পর্কই নেই। বড় দুটি দল তাদের দলের সরকারের আমলে বিচারব্যবস্থাকে কলুষিত করে ফেলেছে। সাম্প্রতিক টিআইবি রিপোর্ট তা আরও ভালোভাবে তুলে ধরেছে। গণতন্ত্রচর্চার কেন্দ্রবিন্দু ‘জাতীয় সংসদ’ পর পর দুই মেয়াদ প্রায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই চলছে। বিরোধী দল ছাড়া ‘জাতীয় সংসদ’ এক প্রকার প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়। সেই প্রহসন আমরা প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ করছি।
দেশের প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমে দূষিত, অকার্যকর ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। ঠিক সে রকম অবস্থায় সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলের মতো শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় সুপরিকল্পিতভাবে কিছু লোক তাদের নানা অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করে গণমাধ্যমকেও জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ ও হাস্যকর করে তুলছে। ভূমিদস্যু, ঋণখেলাপি বা গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টরা প্রকাশক ও সম্পাদকের ছদ্মবেশে গণমাধ্যমের ইতিবাচক শক্তিকে ভোঁতা করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে নেমেছে বলে আমার সন্দেহ হয়। কারণ সংবাদপত্র যদি প্রায়ই ভুল খবর ছাপিয়ে পরদিন ভুল স্বীকার করে, তাহলে পাঠক সংবাদপত্রের ওপর আস্থা রাখবে কীভাবে? গুজবই যদি সংবাদপত্রের শীর্ষ খবর হয় এবং পরদিন তা ভুল বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে পাঠক সেই সংবাদপত্রকে বিশ্বাস করবে কেন? এভাবে চলতে থাকলে সংবাদপত্র, টিভি বা সাংবাদিকতা পেশার প্রতিই মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলবে। উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যা, ভুল ও অর্ধসত্য তথ্য দিয়ে যদি প্রতিদিন সংবাদপত্র প্রকাশ করতে হয়, সেই সংবাদপত্রকে পাঠক গুরুত্ব দেবে কেন?
‘রাজনীতি’ ছিল সমাজসেবার এক মহান পেশা। রাজনীতিবিদেরা ছিলেন ত্যাগী মানুষ হিসেবে সমাজে পরিচিত। সেই রাজনীতিকদের এখন কী ভাবমূর্তি দাঁড়িয়েছে, পাঠক তা ভালোভাবে জানেন। একটি ক্ষুদ্র মহল সুপরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকতা পেশাকেও এভাবে কালিমালিপ্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে আমার সন্দেহ হয়। পেশাদার সংবাদপত্র বা সৎ সাংবাদিকতাকে ছাপিয়ে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ সমাজে বেশি আলোচিত হয়। মানুষ নেতিবাচক খবর নিয়ে গল্প করতে পছন্দ করে। এটা মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার। এর ব্যাখ্যা মনস্তত্ত্ববিদেরা ভালো দিতে পারবেন।
সমাজ কি সাংবাদিকতা পেশাকে এভাবে কলুষিত হতে দেবে? মতলববাজ রাজনীতিবিদ, ভূমিদস্যু, ঋণখেলাপি ও গোয়েন্দা দপ্তরের এজেন্টদের তথাকথিত ‘মিশন’ থেকে সৎ ও নীতিনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে উদ্ধার করার উপায় কী? এখনো উদ্ধার করার সময় আছে। জাতীয় ও ছাত্ররাজনীতির মতো সাংবাদিকতা পেশা এখনো একেবারে কলুষিত হয়নি। এখনো ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ সংখ্যায় কম। কিন্তু ব্যবসা, বিজ্ঞাপন, নানা রাজনৈতিক প্রলোভন বা ব্ল্যাকমেইলিং করে পেশাদার সংবাদপত্র বা টিভি চ্যানেলকে ‘হলুদ’ করে ফেলা অসম্ভব কিছু নয়। সেটা আরও ভয়ের। পুলিশ বিভাগ বা বিচার বিভাগের মতো জাতীয় প্রতিষ্ঠানের স্বরূপ যেভাবে উন্মোচিত হয়েছে, তার পেছনে স্বাধীন সংবাদপত্রের অবদান অনেকখানি। সে জন্য স্বাধীন সংবাদপত্র তথা পেশাদারি সাংবাদিকতাকে ধ্বংস করার জন্য আজ অনেকে তৎপর। স্বাধীন সংবাদপত্র দেশে আছে বলেই আজ দূষিত রাজনীতি, দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতির অনেক খবর জনসমক্ষে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে। পাঠককে সংবাদপত্রের এই ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
হলুদ সাংবাদিকতাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারত ‘প্রেস কাউন্সিলের’ মতো সরকারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু আমাদের তথ্যমন্ত্রীর নির্লিপ্ততার কারণে প্রেস কাউন্সিল আজ একটি প্রায়মৃত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আজ যদি প্রেস কাউন্সিল সত্যিকার অর্থে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হতো, তাহলে হলুদ সাংবাদিকতার অভিযোগ প্রমাণের পর অনেক প্রকাশক বা সম্পাদককে নানা শাস্তি পেতে হতো। প্রেস কাউন্সিলকে আমি তখনই কার্যকর প্রতিষ্ঠান বলব, যখন সংবাদপত্রে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেই সংবাদপত্রের রিপোর্টার, প্রকাশক ও সম্পাদকের অর্থদণ্ড হতো; সম্পাদক ক্ষমা প্রার্থনা করতে বাধ্য হতেন। এক বছরে তিনবার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেই সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিল করে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত। প্রেস কাউন্সিল যদি সাংবাদিকতার মান রক্ষার জন্য কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে পারে, তাহলেই সেটা একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠানের দাবিদার হতে পারবে। তা সম্ভব না হলে আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পেশাদারি সাংবাদিকতা একদিন হলুদ সাংবাদিকতার গহ্বরে ঢুকে পড়লে আমি অবাক হব না।
সাংবাদিকেরা সংবাদপত্রে বা টিভিতে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন। সেটা তাঁদের দায়িত্ব। কখনো ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ মাধ্যমে অনেককে আগাম শাস্তিও দিয়ে থাকেন। কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে তাঁরা যে অপকর্মটি করছেন, সে জন্য তাঁদের শাস্তি দেবে কে?
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর: উন্নয়নকর্মী ও কলাম লেখক।

জেলে কার্ড জেলেদের জন্যই by নেয়ামত উল্যাহ

নভেম্বর থেকে মে। টানা সাত মাস মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে ‘জাটকা সংরক্ষণ অভিযান’ চালানো হয়। এরই মধ্যে দুই মাসে (মার্চ-এপ্রিল) দুটি নদীতে কোনো প্রকার জাল না ফেলার ‘নিষেধাজ্ঞা’ আছে। মোট ৩৩০ কিলোমিটার জলাশয়ের ওপর ২০০৭ সাল থেকে এ নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে। ইলিশ বাঁচানোর জন্য পুলিশ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, মৎস্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন একসঙ্গে দৌড়াচ্ছে। সঙ্গে আছেন ইউনিয়ন পরিষদের নেতারা। বেকার জেলেরা এ সময় কী খাবেন, কী করবেন, তা কিন্তু ঠিক হয়নি। অনির্ধারিতভাবে জেলেদের ঘরে বসে খাবারের ব্যবস্থা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ আসে। কিন্তু সেগুলোর কোনো খোঁজ থাকে না। এখন আবার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, জেলেদের জন্য ‘জেলে কার্ড’ করবেন। এটা জেলেদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। কিন্তু এ জেলে কার্ড যাবে কোথায়?
বয়স্ক জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় জেলেরাই অনেক নিয়মকানুন মান্য করে নদীতে মাছ ধরতেন। তাঁরা ছোট মাছ ধরতেন না, ডিমওয়ালা মাছ ধরতেন না, ছোট ফাঁকার জাল ব্যবহার করতেন না। কিন্তু এখন সরকার আইনকানুন করেও আইন মানাতে পারছে না। বয়স্ক জেলেরা বলেন, ‘মারু হাপ্পু প্যান্ট পরোইন্যারা অইছে জাইল্যা, খিদা লাগজে খাইল আড়ি (পাত্র) হুদা করি। পরের বেলা কী খাবি, দরকার কী চিন্তা করি। মাছ থাইকপো কুডেত্তেন?’ কারা ধরেছে এ মাছ? অবশ্যই সাধারণ জেলেরা। তবে তাঁদের দিয়ে ধরানো হচ্ছে। ধরাচ্ছেন প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ীরা। তাঁরা ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী, নয়তো নেতাকে বখরা দিয়ে তাঁর ছত্রচ্ছায়ায় মৎস্য ব্যবসা করেন। এঁদের সঙ্গে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন। দেখা গেছে, গত দুই বছর এই প্রভাবশালী মহল নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের দিয়ে ঠিকই মাছ ধরিয়েছে। আর সেটা মাছের রেণু পোনা বংশসহ।
গত মার্চে ভোলা সদর উপজেলার ‘ভোলা খালের মাথা’ নামের মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দিনদুপুরে জেলেরা ঝুড়ি ভরে ছোট ছোট মাছের পোনা ধরে আনছেন। একেকটি ঝুড়িতে কমপক্ষে ১৫ কেজি মাছ হবে, যা মাছঘাটে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ১১৫ টাকায়। ওই ১৫ কেজিতে কয়েক লাখ মাছ হবে। এ মাছ কোন জাল দিয়ে ধরা হয়—জানতে চাইলে জেলেরা জানালেন, বেহুন্দি, খরচি-মশারি, ঘুন্ডি জাল দিয়ে—যে জালগুলো সারা বছরই সরকার নিষিদ্ধ করেছে। দৌলতখান মাঝিরহাট ও পাতার খাল মৎস্যঘাট থেকে লালমোহন বাত্তিরখাল মাছঘাটের দৃশ্যও একই। নিষিদ্ধ সময়ে কোনো অভিযানের বালাই ছিল না। ফলে নিষিদ্ধ সময়ে রাত-দিন এসব জালে মাছ ধরা হয়েছে। সঙ্গে আছে কারেন্ট জাল, যে জাল দোকানে বিক্রি নিষেধ নয়, কিন্তু তা দিয়ে মাছ ধরা নিষেধ। ফলে চুরি করে ঠিকই মাছ ধরা হচ্ছে। ৮-১০ প্রকার জাল দিয়ে মাছ ধরা সারা বছর নিষিদ্ধ, কিন্তু প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শুধু কারেন্ট জাল নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
নদীতে জাল ফেলা নিষিদ্ধ সময়ে দাঁড়ের নৌকার জেলেরা মাছ ধরেন না। কারণ, তাঁরা যে আড়তে মাছ বিক্রি করেন, তারা শক্তিশালী নয়, নয়তো নিজের শেষ সম্বল জালটি হারানোর ভয় থাকে। ওই জেলেরাই প্রকৃতভাবে বেকার থাকেন, তাঁদের সংসারে অভাব থাকে। সন্তানদের দুবেলা খেতে দিতে পারেন না। এরপর আছে এনজিওর কিস্তি। দাদন ও এনজিওর কিস্তি মিলিয়ে এঁরা ১৫-২০ হাজার টাকায় একটি জেলে নৌকা তৈরি করেন। আর ১২ মাসই এ ঋণের কিস্তি টানতে হচ্ছে। তাই যেসব জেলে চুরি করে মাছ না ধরতে পারেন, বেকার থাকা দুই মাসে তাঁর সব খোয়া যায়। গরিব জেলেদের নালিশ কখনো তাঁরা প্রশাসনকে বলতে পারেন না।
নিষিদ্ধ সময়ে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছের জাটকা, রেণু পোনা ধরা হলো। কিন্তু ওই মাছ কিনল কে? বেচল কোথায়? জানা গেল, আড়তদারেরা সারা দিন মাছ কিনে বরফ দিয়ে রাখেন। ভোররাতে ইঞ্জিনের নৌকায় চাঁদপুর অথবা লক্ষ্মীপুরে পাঠিয়ে দেন। কারণ, নিষিদ্ধ জলসীমা পার হলেই অবৈধ মাছ বৈধ হয়ে যায়। মাছ ক্রেতার ব্যাগে ঢোকার পর ‘দাঁতে রোদ’ লাগিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন নদীতে অভিযানে বের হন। অন্যদিকে এসব বাহিনী নদীতে অভিযান না চালিয়ে ওপরে অভিযান চালাতে ভালোবাসে। এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন প্রভাবশালীরা। জেলেরা জানান, দাদনভুক্ত জেলেরা মাছ ধরে আড়তদারের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু আড়তদার যদি মাছ কেনা বন্ধ করে দেন, তবে জেলেরা আর মাছ ধরবেন না। কিন্তু মৎস্য বিভাগ সেটা করে না। অন্যদিকে ভোলায় কী পরিমাণ মৎস্য ব্যবসায়ী রয়েছেন, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। তাঁদের কতটি নৌকা, কতটি জাল ও কতজন দাদনভুক্ত জেলে রয়েছেন, মৎস্য বিভাগের কাছে তারও কোনো হিসাব নেই। নেই জবাবদিহি। ক্ষমতা আর টাকা থাকলেই একজন ‘প্যান্ট পরা’ লোক মৎস্য ব্যবসায় নামছেন।
দুই মাস বেকার জেলেদের পুনর্বাসনে এ বছর সরকার সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছে। এ বছর ৪৪ হাজার ৩৭২টি জেলে-পরিবারকে চার মাসে ১২০ কেজি চাল দেওয়া হয়। এবং এক হাজার ৪০০ জেলেকে তাঁদের দারিদ্র্যের ধরন অনুযায়ী অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে পুনর্বাসনের জন্য। কিন্তু ওই চাল আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসেও অনেক ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়নি। মৎস্য বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিবছর তালিকা করে। মৎস্য বিভাগ, ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা প্রতিবছর তাঁদের কে কী সুবিধা দিলেন, তার ওপর নির্ভর করে তালিকা করেন। এ বছর প্রথম তিন-চার মাস লেগেছে জেলেদের তালিকা করতে।
গত দুই বছর তালিকা নিয়ে জটিলতা বেশি হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের দ্বন্দ্ব সংঘাতের কারণে। এ চাল বিতরণ নিয়ে অন্তত ১০টি ইউনিয়নে বিক্ষোভ, হাতাহাতি, সংঘাত-সংঘর্ষ হয়েছে। যেসব ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা হয়েছে, সেখানেও সঠিক নিয়মে বিতরণ করা হয়নি। প্রতি মাসে ৩০ কেজির স্থলে ২০-২৬ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। যদি প্রকৃত জেলেদের সঠিক তালিকা করে কার্ড দেওয়া হয় এবং নিষিদ্ধ সময়ে সংসার চালানোর মতো চাল দেওয়া হয়, তবে জেলেরা সে সময়ে নদীতে মাছ ধরতে যাবেন না। কথায় আছে, পেটে দিলে পিঠে সয়। প্রধানমন্ত্রী জেলে কার্ড করবেন। সে কার্ড বিতরণের আগে একটি নিরপেক্ষ জরিপ দরকার। জরিপকাজটি পরিসংখ্যান বিভাগ করতে পারে। তারপর প্রকৃত জেলেদের মধ্যে রেশনিং পদ্ধতিতে নদীতে জাল ফেলা নিষিদ্ধ দুই মাস চাল-ডাল-তেল বিতরণ করা উচিত। নইলে দলীয় কর্মী আর ভুয়া জেলেরা প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া জেলে কার্ডের মালিক হবেন।
নেয়ামত উল্যাহ: প্রথম আলোর ভোলা প্রতিনিধি।

পৌরসভা নির্বাচন

ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম মাসটি নির্বাচনী তৎপরতায় মুখর থাকবে। ২৬২টি পৌরসভায় নির্বাচন ও দুটি আসনে জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন হবে। পৌরসভা নির্বাচন স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার অন্যতম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা চলে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পৌরসভার উন্নয়নে কাজ করবেন, স্থানীয় জনগণের কাছে তাঁদের জবাবদিহি হবে। গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করার জন্য এ নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া জরুরি। অন্যদিকে জাতীয় সংসদের দুটি আসনে যে উপনির্বাচন হচ্ছে, সেগুলোও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর আগে নির্বাচন হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এবার হচ্ছে দলীয় সরকারের সময়। তাই এ নির্বাচনগুলো সরকারের প্রভাবমুক্তভাবে সুসম্পন্ন হয় কি না, সেদিকে সবার নজর থাকবে।
সম্প্রতি বিভিন্ন পৌরসভার ৩০ জন মেয়র পদপ্রার্থী নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অভিযোগ করেছেন যে তাঁদের এলাকায় সরকারি দলের সমর্থিত প্রার্থীরা প্রশাসনকে প্রভাবিত করছেন। তাঁরা ইসির কাছে প্রতিকার হিসেবে সেনা মোতায়েনের আবেদন জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি। সেনা মোতায়েন মূল কথা নয়। আসল কথা হচ্ছে, সরকারি দল-সমর্থিত প্রার্থীরা যেন প্রশাসনকে ব্যবহার করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট সচেতন ও সক্রিয় রয়েছে, তা বলা চলে। তবে সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
পরশুরামে সরকারি দল-সমর্থিত প্রার্থীর বাসভবনে বেশির ভাগ নির্বাচনী কর্মকর্তাকে দাওয়াত করে খাওয়ানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তা অবিলম্বে তদন্ত করে দেখা দরকার। কোনো প্রার্থীর বাসভবনে যদি নির্বাচনী কর্মকর্তা দাওয়াত খেতে যান, তাহলে নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
নির্বাচনের এ মাসটি সরকারের জন্য এক বিরাট পরীক্ষা। দুই বছর আগে জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এ সরকারকে ক্ষমতায় এনেছিল। কালের আবর্তে সরকারের জনপ্রিয়তার হ্রাস-বৃদ্ধি কতটা হয়েছে, তার একটা পরিমাপ এ নির্বাচনের ফলাফল থেকে পাওয়া যাবে। পৌরসভা নির্বাচনগুলো যদিও দলীয় রাজনৈতিক পরিচয়ে হবে না, তা সত্ত্বেও এসব নির্বাচনের ফলাফলকে সরকার ও বিরোধী দলের সমর্থকদের জয়-পরাজয় হিসেবেই দেখা হয়। তাই উভয় পক্ষই নির্বাচনে জয়লাভের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে।
সরকারের মনোভাব এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সরকার যদি প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার না করে, তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। মানুষের কাছেও নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না। যদি এটা সম্ভব হয়, তাহলেই কেবল বলা যাবে যে সরকার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। কোন দলের সমর্থিত প্রার্থী কতটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন, সে বিষয়টি তখন গৌণ হয়ে পড়বে।
নির্বাচন কমিশন এখন আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। এটা গণতন্ত্রের অগ্রগতিরই সুফল। এখন আর কোনো প্রার্থী আগের মতো লোকলশকর নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যেতে পারেন না। নির্বাচনী ‘শোডাউন’ এখন আর চলে না। আমরা আশা করব, এই ধারাটি অব্যাহত রাখার জন্য সব দল ও প্রার্থী সচেষ্ট থাকবেন। তাহলে আসন্ন নির্বাচনগুলো আমাদের গণতন্ত্রকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে।

পাকিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলায় ১৫ জঙ্গি নিহত

পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন মানববিহীন বিমান ড্রোন থেকে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে। স্থানীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মিরানশাহ শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত গুলাম খান গ্রামে এ হামলা চালানো হয়। গ্রামটিতে তালেবান জঙ্গিদের দুটি আস্তানা লক্ষ্য করে অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এতে ওই ১৫ জঙ্গি নিহত হয়। তবে তাদের পরিচয় জানানো হয়নি।
গত ২৪ ঘণ্টায় এটি ওই এলাকায় এ ধরনের দ্বিতীয় হামলা। এলাকাটিতে হাক্কানি সমর্থকদের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। ধারণা করা হয়, সেখান থেকে জঙ্গিরা সীমানা পার হয়ে আফগানিস্তানে বিদেশি সেনাদের ওপর হামলা চালায়।

সিয়াওবোর জন্মদিন উদ্যাপিত

এ বছর শান্তিতে নোবেলজয়ী চীনের ভিন্নমতাবলম্বী নেতা লিউ সিয়াওবো গতকাল মঙ্গলবার কারাগারে তাঁর ৫৫তম জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন।
গত বছরের বড়দিনে সরকারবিরোধী তৎপরতার দায়ে তাঁকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত অক্টোবরে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় বেইজিং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নোবেল কমিটির এ সিদ্ধান্ত অপরাধকে উৎসাহিত করার শামিল বলে মন্তব্য করে।

ব্রিটেনে গ্রেপ্তার নয়জন রিমান্ডে

ব্রিটেনে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া নয়জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা ব্রিটেনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে, বিগবেন ও সে দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ ছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জ, বরিস জনসনস, লন্ডন আই অ্যান্ড দ্য চার্চ অব সায়েন্টলোজি এ হামলার তালিকায় ছিল। লন্ডনের পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।
২০ ডিসেম্বর পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মধ্যে নয়জনের বিরুদ্ধে বোমা ও সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। অপর তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সবাই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তাঁরা হলেন গুরুকান্ত দেশাই (২৮), ওমর শরীফ লতিফ (২৬), আবদুল মালিক মিয়া (২৪), মুহাম্মদ মকসুদুর রহমান চৌধুরী (২০), শাহ মুহাম্মদ লুৎফর রহমান (২৮), নাজাম হোসেন (২৫), উসমান খান (১৯), মহিবুর রহমান (২৬) ও আবুল বশির মুহাম্মদ শাহজাহান (২৬)।
তাঁদের গত সোমবার লন্ডনের সিটি অব ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তাঁদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ জানুয়ারি তাঁদের আবার ওল্ড বেইলি আদালতে হাজির করা হবে।

নাইজেরিয়ায় সহিংসতার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৮০

নাইজেরিয়ায় বড়দিনের উৎসবে বোমা হামলা এবং খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৮০ জনে পৌঁছেছে। দেশটির জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, বোমা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় হতাহতদের পাঁচটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এসব হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ৮০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১৮৯ জন।
গত শুক্রবার নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় জস শহরে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের একটি গির্জায় বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ৩৮ জনের প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে গত রোববার খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর সবচেয়ে প্রশংসিত ওবামা ও হিলারি

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে ২০১০ সালের সবচেয়ে প্রশংসিত পুরুষ নির্বাচিত হয়েছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এ তালিকায় নারীদের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। ইউএসএ টুডে ও গ্যালাপের বার্ষিক জরিপের ফলাফলে এ কথা জানানো হয়েছে।
ফলাফল অনুযায়ী, পুরুষদের মধ্যে ওবামাকে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন ২২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। পাঁচ শতাংশ লোকের ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। তিনি পেয়েছেন চার শতাংশ ভোট।
অন্যদিকে ১৭ শতাংশ লোকের ভোট পেয়ে হিলারি ক্লিনটন নবমবারের মতো সবচেয়ে প্রশংসিত নারী নির্বাচিত হয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে আছেন আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর সারাহ পেলিন। তিনি পেয়েছেন ১২ শতাংশ ভোট। ১১ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক অপরাহ উইনফ্রে।

মুক্তিপণ নিয়ে একটি জাহাজ ছেড়েছে সোমালীয় জলদস্যুরা

সোমালীয় জলদস্যুরা ৫৫ লাখ ডলার মুক্তিপণের বিনিময়ে জার্মানির পরিচালিত একটি জাহাজ গত সোমবার ছেড়ে দিয়েছে। জাহাজটিতে দুজন বাংলাদেশিসহ ২২ জন ক্রু ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
গত মে মাসে ওমানের ১২০ মাইল দক্ষিণে ভারত মহাসাগর থেকে মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী এমটি ম্যারিডা মারগুয়েরাইট নামের ওই জাহাজটি সোমালীয় জলদস্যুরা ছিনতাই করে। রাসায়নিক পদার্থবাহী জাহাজটি ভারতের গুজরাট থেকে বেলজিয়ামে যাচ্ছিল। জাহাজে ১৯ জন ভারতীয়, দুজন বাংলাদেশি ও একজন ইউক্রেনীয় ক্রু ছিলেন।
কেনিয়াভিত্তিক ইস্ট আফ্রিকান সিফেয়ারারস অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম জানায়, গত রোববার মুক্তিপণের অর্থ হস্তান্তর করা হয়। পরে গত সোমবার জাহাজটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জাহাজটি সম্ভাবত বেলজিয়ামের দিকে রওনা দিয়েছে।

মস্কোর বিমানবন্দরে যাত্রী বিক্ষোভ নিয়ে তদন্ত

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় গত তিন দিন বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দুটি প্রধান বিমানবন্দরে আটকে পড়া হাজার হাজার যাত্রীকে বিদ্যুৎ ও পানির জন্য অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এর প্রতিবাদে যাত্রীরা বিক্ষোভ করে। গতকাল মঙ্গলবার সে দেশের সরকারি কৌঁসুলিরা বিষয়টির তদন্তে নামেন।
প্রচণ্ড ঠান্ডা আবহাওয়া ও বিদ্যুৎব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত মস্কোর দোমোদেদোভো ও শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে দুই শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এতে এসব ফ্লাইটের হাজার হাজার যাত্রী বিমানবন্দরে দুর্ভোগ পোহান।
সরকারি কৌঁসুলি ইয়েভজেনি পসপেলভ সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে গতকাল জানান, বিমানের ফ্লাইট বাতিল, বিদ্যুৎব্যবস্থা ভেঙে পড়া ও যাত্রীদের দুর্ভোগের এ ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। যাত্রী অধিকার রক্ষার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে দোমোদেদোভোর একাধিক যাত্রী জানান, গত সোমবার পর্যন্ত বিমানবন্দরটিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তাঁদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। শৌচাগারে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল বিমানবন্দরটির বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার চালু করা হয়।
শীত মৌসুমের শুরু থেকেই রাশিয়ার অনেক স্থানে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। গত শনিবার মস্কোয় প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হয়।

ইরানে চরবৃত্তির দায়ে দুজনের ফাঁসি

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করা এবং জাতীয় বিপ্লববিরোধী তৎপরতায় জড়িত থাকার দায়ে ইরানে দুই ব্যক্তিকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার তেহরানের এভিন কারাগারে তাঁদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এদিকে গত সোমবার রাতে ইরানে আটক থাকা দুই জার্মান সাংবাদিকের সঙ্গে তাঁদের স্বজনদের দেখা করতে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, যে দুজনের ফাঁসি হয়েছে, তাঁরা হলেন, আলি আকবর সিদাত ও আলি সারেমি। ইরান সরকার বলেছে, সিদাত মোসাদের কাছে ছয় বছর ধরে ইরানের পরমাণুসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর তথ্য পাচার করে আসছিলেন। চরবৃত্তির জন্য তিনি এ পর্যন্ত ইসরায়েলের কাছ থেকে প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার নিয়েছিলেন—এটা স্বীকার করেছেন বলে কর্মকর্তারা দাবি করেন।
আলি সারেমির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইরানের জাতীয় বিপ্লববিরোধী সংগঠন পিপলস মুজাহিদিন অর্গানাইজেশন অব ইরানের (পিএমওআই) সদস্য ছিলেন। তিনি সরকারের অতি গোপনীয় তথ্য পিএমওআইয়ের কাছে পাচার করছিলেন।

কুয়েতের প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ

কুয়েতের বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতারা সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ নাসের মোহাম্মাদ আল-আহমাদ আল সাবাহেক এক রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার অধিবেশন উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী এসব আইনপ্রণেতার প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হন। পরে স্পিকারের নির্দেশে আলাদা গোপন অধিবেশনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
৮ ডিসেম্বর বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রা করার সময় কুয়েতের ‘এলিট ফোর্স’ তাঁদের লাঠিপেটা করে। এতে কমপক্ষে চারজন আইনপ্রণেতা ও ১২ জন ছাত্র আহত হন। এ ঘটনায় আইনপ্রণেতারা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ তোলেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব তোলারও পরিকল্পনা নেন। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে আলাদা গোপন অধিবেশনে ওই জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন জানানো হয়। সে অনুযায়ী তাঁকে প্রধান তিনটি বিরোধী দলের তিনজন প্রতিনিধি জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় পার্লামেন্ট ভবনের চারপাশে কড়া নিরাপত্তাচৌকি বসানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ নাসের আল সাবাহ্ কুয়েতের বাদশাহ শেখ সাবাহ্ আল আহমাদ আল সাবাহ্র ভাতিজা। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে দুর্নীতির অভিযোগে আইনপ্রণেতারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন।

সীমান্তরক্ষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া ঘুষের বিনিময়ে মানুষ ও মাদক পাচারে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে দেশের সামরিক বাহিনীর সীমান্তরক্ষীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সিউল-ভিত্তিক উত্তর কোরিয়ার ভিন্নমতাবলম্বীরা এই দাবি করেছে।
উত্তর কোরিয়ার সংগঠন ইন্টিলেচুয়াল সলিডারিটির বরাত দিয়ে ওই সূত্র জানায়, গত রোববার চীনের সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলীয় হেইসান ও হোয়েরইয়ং শহরে ওই রক্ষীদের তল্লাশি করতে পিয়ংইয়ং একটি জরুরি আদেশ জারি করে। অভিযানের খবর পাওয়ার পর ছুটিতে থাকা ও হাসপাতালে বিশ্রাম নেওয়া অনেক সেনা কর্মকর্তা ব্যারাকে ছুটে যান বলে ভিন্নমতাবলম্বী ওই সূত্র জানায়।
সূত্র আরও জানায়, সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সীমান্তরক্ষীদের অনেকের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে মানুষ ও মাদক পাচারে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে শরণার্থীদের চীনে পালানোর সুযোগ দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন কর্মকর্তা মাসের পর মাস ছুটি কাটাতে পরিদর্শককে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে সূত্র জানায়।
সিউল-ভিত্তিক পত্রিকা ডেইলি এনকে জানায়, উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং ইলের উত্তরাধিকারী কিম জং উন সীমান্ত নিরাপত্তা কঠোর করার জন্য অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন।
নতুন ইউনিফর্ম
উত্তর কোরিয়ার কিছু সেনা দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাদের অনুরূপ ইউনিফর্ম পরে সীমান্তের কাছে অবস্থান নিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানান, উত্তর কোরিয়ার সম্মুখভাগের কিছু সেনার ওই নতুন ইউনিফর্ম পরার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুপ্রবেশের অংশ হিসেবে তারা এই অনুশীলন করেছে।

সরে না দাঁড়ালে বাগবোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান হতে পারে

আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট লঅন্ত বাগবোকে পদত্যাগের সময় বেঁধে দিতে প্রতিবেশী তিনটি দেশের প্রেসিডেন্ট গতকাল মঙ্গলবার দেশটির প্রধান শহর আবিদজানে পৌঁছেছেন। পদত্যাগ করতে না চাইলে আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে বলে প্রেসিডেন্ট বাগবোকে বার্তা দেবেন তাঁরা।
এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পাওয়া আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট আলাসেন ওয়েতাহার সমর্থকেরা ফ্রান্সে দেশটির দূতাবাস গত সোমবার দখল করে নিয়েছে। আইভরি কোস্টের রাজনৈতিক অচলাবস্থার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) কেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী রায়লা ওডিঙ্গাকে বিশেষ দূত মনোনীত করা হয়েছে।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট ইসিওডব্লিউএএসের পক্ষে বার্তা নিয়ে বেনিনের প্রেসিডেন্ট থমাস ইউয়েয়ি বোনি, সিয়েরা লিয়নের প্রেসিডেন্ট আর্নেস্ট বাই করোমা ও কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো ভেরোনা রদ্রিগেজ পিরেস গতকাল আবিদজান পৌঁছান।
গত ২৮ নভেম্বর আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির স্বাধীন নির্বাচন কমিশন বিরোধীদলীয় প্রার্থী আলাসেন ওয়েতাহাকে জয়ী ঘোষণা করে। কিন্তু ওই ফল প্রত্যাখ্যান করে সাংবিধানিক পরিষদের সমর্থন নিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন লঅন্ত বাগবো। আলাসেন ওয়াতেহাও পৃথকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আলাসেন ওয়াতেহার প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বাগবোকে পদত্যাগ করতে আহ্বান জানিয়ে আসছে।
সামরিক অভিযানের হুমকি সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট বাগবোর পদত্যাগের সম্ভাবনা খুব কম। বাগবোর দাবি, তিনিই দেশটির বৈধভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। এর আগে ইসিওডব্লিউএএসের সামরিক অভিযানের হুমকির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলে এ অঞ্চলে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে। তবে প্রেসিডেন্ট বাগবোর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসিওডব্লিউএএসের পক্ষে যাঁরা আসছেন, সবাইকে আমরা স্বাগত জানাই। তাঁরা কী বার্তা নিয়ে এসেছেন, আমরা তাও শুনব।’
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট থাবো এমবেকি ও আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের প্রধান জেন পিংয়ের মধ্যস্থতায় আইভরি কোস্টের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। এরপর প্রেসিডেন্ট বাগবোকে পদত্যাগে চাপ সৃষ্টি করতে তিন প্রেসিডেন্ট আইভরি কোস্টে গেলেন।
আলাসেন ওয়াতেহার সমর্থকেরা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আইভরি কোস্টের দূতাবাস দখল করে নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাগবোর নিযুক্ত আইভরি কোস্টের দূত পিয়ার কিপরে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই দূতাবাস ছেড়ে চলে যান। গতকাল মঙ্গলবার কোনো দূত ছাড়াই দূতাবাস খুলে দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের কর্মীরা আলাসেন ওয়াতেহার নিয়োগ দেওয়া দূতের জন্য অপেক্ষা করছেন।
প্রেসিডেন্ট বাগবো পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার জন্য সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওয়াতেহা। গত সোমবার এই ধর্মঘট শুরু করেছে ওয়াতেহার সমর্থকেরা। গতকাল আবিদজান শহরে স্বাভাবিকের চেয়ে কম যানবাহন চলাচল করে। শহরের অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। তবে অনেক জেলা শহরে দোকানপাট বন্ধ ছিল।
ওয়েতাহা দেশটির আবিদজান শহরে একটি হোটেলে কার্যালয় বানিয়ে অবস্থান করছেন। দেশটিতে মোতায়েন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনী তাঁর নিরাপত্তা দিচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে অবস্থান করছেন বাগবো।

পাকিস্তানে এমকিউএমের দুই মন্ত্রী প্রত্যাহারের ঘোষণা

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট সরকারের অন্যতম প্রধান শরিক দল মুত্তাহিদা কাওমি মুভমেন্ট তাদের (এমকিউএম) দুজন মন্ত্রীকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। গত সোমবার এমকিউএমের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার ওই দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ করার কথা।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে তারা এ পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষমতাসীন পিপিপির সঙ্গে তাদের মতবিরোধ তীব্র হয়ে উঠেছে। এর জের ধরে দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করছেন। ক্ষমতাসীন জোট সরকারে এমকিউএম থাকবে কি না, এ ব্যাপারেও শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এমকিউএমের জ্যেষ্ঠ নেতা হায়দার আব্বাস রিজভি গত সোমবার জানান, ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদে আমাদের দলের দুজন মন্ত্রী রয়েছেন। তাঁরা হলেন বন্দর ও জাহাজমন্ত্রী বাবর ঘাউরি ও প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী ফারুক সাত্তার। তাঁরা আগামীকাল (গতকাল মঙ্গলবার) পদত্যাগ করবেন।’ তিনি বলেন, ‘তাঁদের প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তবে আমরা বিরোধী শিবিরে যাব না।’
এমকিউএম জোট থেকে বেরিয়ে গেলে প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির সরকার পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে। সে দেশের ৩৪২ আসনের পার্লামেন্টে জোট সরকারের বর্তমানে ১৮১টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে এমকিউএমের রয়েছে ২৫টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার মোট ১৭২টি আসন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে জোটের আরেক শরিক দল জামায়াত-ই-ইসলাম (জেইউআই) বেরিয়ে আসে। দলটির এক মন্ত্রীকে বরখাস্ত করার প্রতিবাদে জেইউআই এ সিদ্ধান্ত নেয়।

ওয়েস্টিনসহ দুই কোম্পানির আইপিও ও দুটির রাইট অনুমোদন

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমোদন পেল দুটি কোম্পানি। কোম্পানি দুটি হলো, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড এবং বরকতউল্লাহ ইলেকট্রো ডায়নামিকস কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানি দুটি পৃথকভাবে ৬৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সভায় গতকাল মঙ্গলবার কোম্পানি দুটির এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সভায় ফু-ওয়াং ফুড ও কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের রাইট শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে এসইসি।
সভা শেষে এসইসির দুই নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া এবং এ টি এম তারিকুজ্জামান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
ইউনিক হোটেলস: পাঁচতারকাবিশিষ্ট হোটেল ওয়েস্টিন ঢাকার মূল প্রতিষ্ঠান ইউনিক হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড ১০ কোটি টাকা অভিহিত মূল্যের মোট তিন কোটি শেয়ার ছাড়বে। কিন্তু আইপিওর জন্য বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানির শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৫ টাকা। সেই হিসেবে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে প্রায় ৫৫৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে পারবে। সর্বশেষ আর্থিক হিসাব অনুযায়ী কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দেখানো হয়েছে চার টাকা ৮০ পয়সা।
ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে।
বরকতউল্লাহ ইলেকট্রো: পুঁজিবাজারে দুই কোটি শেয়ার ছেড়ে ১২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বরকতউল্লাহ ইলেকট্রো ডায়নামিকস লিমিটেড।
কোম্পানিটির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ৫০ টাকা প্রিমিয়াম (অভিহিত মূল্যের অতিরিক্ত) চাওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে শেয়ারের প্রস্তাবিত মূল্য হবে ৬০ টাকা।
কোম্পানিটি ইতিমধ্যেই সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ৫১ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, উৎপাদন ও সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে ১৫ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ২০০৯ সালের ১০ অক্টোবর এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
দুটি কোম্পানির রাইট অনুমোদন: ফু-ওয়াং ফুড পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর লক্ষ্যে একটির বিপরীতে একটি (১:১) রাইট শেয়ার দেবে। কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স দুটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

২৫০ জনের ওপরে প্লেসমেন্ট শেয়ার দেওয়া যাবে না

তালিকাভুক্তির আগে ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় থেকে মূলধন সংগ্রহের সময় প্লেসমেন্টে শেয়ার বরাদ্দের পর এক বছরের মধ্যে তা হস্তান্তর বা বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে নিয়ম করা হয়েছে, একটি কোম্পানি সর্বোচ্চ ২৫০ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে প্লেসমেন্ট শেয়ার দিতে পারবে। তার মানে, এখন থেকে কোনো কোম্পানি ঢালাও বা গণহারে প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করতে পারবে না।
পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা কোম্পানির মূলধন সংগ্রহের ক্ষেত্রে অনিয়ম বন্ধ করতেই গতকাল মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
এ ব্যাপারে এসইসির নির্বাহী পরিচালক এ টি এম তারিকুজ্জামান বলেন, কমিশনের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন নেওয়ার পর অনেক কোম্পানি অনৈতিক পন্থার আশ্রয় নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কমিশন থেকে বিদ্যমান শেয়ারধারী বা নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য শেয়ার বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হলেও কোনো কোনো কোম্পানি গণহারে তা বিক্রি করছে। এসব ক্ষেত্রে শেয়ারের মালিকানা হস্তান্তরের জন্য নির্ধারিত ফরমে (১১৭) আগাম সই দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ ধরনের প্রবণতা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অনৈতিক উল্লেখ করে এসইসির এই কর্মকর্তা বলেন, এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতেই মূলধন সংগ্রহের জন্য বরাদ্দ করা শেয়ার হস্তান্তরের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাবলিক বা প্রাইভেট উভয় ধরনের কোম্পানির ক্ষেত্রেই এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
উল্লেখ্য, প্রাক-আইপিও প্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা আগে থেকেই রয়েছে।

ইসলামিক ফাইন্যান্সের রাইট বরাদ্দে অনিয়ম

ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের রাইট শেয়ার বরাদ্দে অনিয়মের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। তাই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে খবর না পাওয়ায় যাঁরা কোম্পানিটির রাইট শেয়ার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাঁদের নামে তা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য কোম্পানির প্রতি নির্দেশ দিয়েছে এসইসি।
এসইসির নিয়মিত সভায় গতকাল মঙ্গলবার এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রায় মাস তিনেক আগে বেশ কয়েকজন সাধারণ শেয়ারধারী এসইসির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ে তাঁরা ইসলামিক ফাইন্যান্সের রাইট শেয়ার বরাদ্দের চিঠিসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র পাননি। এ কারণে তাঁদের পক্ষে প্রাপ্য রাইট শেয়ারের জন্য টাকা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। আর এ সুযোগে কোম্পানিটি তাঁদের রাইট শেয়ার থেকে বঞ্চিত করেছেন। এতে তাঁরা আর্থিকভাবে লোকসানের শিকার হয়েছেন।
সময়মতো কাগজপত্র না পেয়ে কোম্পানির শেয়ার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন শেয়ারধারীরা।
ইসলামিক ফাইন্যান্সের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত ১৭ অক্টোবর দুই সদস্যের কমিটি গঠন করে এসইসি। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন ও ওয়াহিদুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
এর কয়েক দিন পর কোম্পানিটির অবিতরণ করা রাইট শেয়ার অবলেখনকারী প্রতিষ্ঠানকে (আন্ডারটাইটার) বরাদ্দ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এসইসি।
এদিকে তদন্ত দল যথাযথ সময়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের সঠিক ঠিকানায় চিঠি পাঠায়নি। কিন্তু পুঁজিবাজারের নিয়মানুযায়ী সব শেয়ারধারীকে অবহিত না করে রাইট শেয়ার বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই।
যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক এ টি এম তারিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ঘটনার মাধ্যমে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারের আইন ভঙ্গ করেছে। এ কারণে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
ইসলামিক ফাইন্যান্সের রাইট শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয় গত ২০ জুলাই। বিদ্যমান প্রতি দুটি শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার দেওয়ার কথা কোম্পানিটির। ৫০ টাকা প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি রাইট শেয়ারের প্রস্তাবিত মূল্য ছিল ১৫০ টাকা। রাইট শেয়ারের জন্য মনোনীত শেয়ারধারী নির্ধারণের জন্য গত ১১ আগস্ট কোম্পানির রেকর্ড ডেট ছিল। আর রাইট শেয়ারের জন্য টাকা জমা দেওয়ার সময়সূচি ঠিক করা হয় ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
কিন্তু এ সময়ের মধ্যে অনেক শেয়ারধারীর কাছে চিঠি পৌঁছায়নি।

ভারতে ফ্রিকোয়েন্সি কিনতে চায় চায়না রেডিও

চীনের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন চায়না রেডিও ইন্টারন্যাশনাল (সিআরআই) ভারতে সম্প্রচারসীমা বাড়াতে ফ্রিকোয়েন্সি কেনার চেষ্টা করছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।
বর্তমানে রেডিও স্টেশনটি বেইজিং থেকে হিন্দি, বাংলা, উর্দু ও তামিল—এ চার ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচার করছে।
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমারসহ এবং আরও সাতটি দেশে এফএম ও এএম ব্যান্ডে সম্প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে চায়না রেডিও।
সিআরআইর ডেপুটি এডিটর ইন চিফ বলেন, ‘সম্প্রচার সুবিধা বাড়ানোর জন্য আমরা ভারতে ফ্রিকোয়েন্সি কেনার চেষ্টা করছি। এর পাশাপাশি আমাদের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক এ রকম কয়েকটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি।’
উই গং মা আরও বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের দ্বার উন্মোচন করতে চাই। চাই চীনের প্রকৃত পরিচয় বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে।’ তিনি আরও বলেন, চায়না রেডিও সম্প্রতি চীনের পর্যটন খাতের উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

খাদ্যপণ্য ব্যবসায়ীদের সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য বিক্রেতাদের জন্য লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এ ছাড়া এসব পণ্যমূল্য ও মজুদ নিয়ন্ত্রণ আদেশ সংশোধিত আকারে ১৯৫৩ সালের মূল্যনিয়ন্ত্রণ ও মজুদবিরোধী আদেশ কার্যকর করা হচ্ছে। এই আদেশে যেসব পণ্যের মূল্য ও মজুদ নিয়ন্ত্রণের উল্লেখ রয়েছে সেগুলো হচ্ছে, চাল, ধান, গম ও গমজাত দ্রব্য, সয়াবিন, পামঅয়েল, চিনি, ডাল, পেঁয়াজ, গুঁড়োদুধ এবং শিশুখাদ্য।
আজ বুধবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে খাদ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, খাদ্যপণ্য বিক্রেতাদের লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর এ লাইসেন্স দেবে। এ নিয়ম কার্যকর হলে সরকার খাদ্যপণ্যের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করতে পারবে, যা মানা বাধ্যতামূলক হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালের ১৪ আগস্ট খাদ্য মন্ত্রণালয় এ মন্ত্রণালয়ের অধীন কোনো ডিলার, মিল-মালিকের লাইসেন্স নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই মর্মে আদেশ জারি করে। ফলে খাদ্যদ্রব্য ব্যবসায়ীদের ওপর থেকে সরকারের সব ধরনের নিয়ন্ত্রণ রহিত হয়ে যায়।
মন্ত্রী জানান, পণ্যমূল্য ও মজুদ নিয়ন্ত্রণে ১৯৫৩ সালের আদেশ আবার কার্যকর করা হবে সংশোধিত আকারে। এ আদেশটি ১৯৯১ সালে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক আদেশে বাতিল করা হয়েছিল, যা সঠিক হয়নি। এখন ১৯৯১ সালের আদেশ বাতিল করে প্রথমে ১৯৫৩ সালের আদেশ পুনরুজ্জীবীত করে তা সংশোধন করা হবে।

আন্তজেলা ভলিবল

ট্রান্সকম বেভারেজ আন্তজেলা ভলিবলের পুরুষ বিভাগের ফাইনালে উঠেছে সাতক্ষীরা ও রংপুর। মেয়েদের বিভাগে ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে রাজবাড়ী ও পাবনা। পল্টন ভলিবল মাঠে কাল সেমিফাইনালে পুরুষ বিভাগে সাতক্ষীরা ৩-০ সেটে খুলনাকে ও রংপুর ৩-২ সেটে পাবনাকে হারিয়েছে। মহিলা বিভাগের সেমিফাইনালে রাজবাড়ী ৩-০ সেটে রাজশাহীকে ও পাবনা ৩-০ সেটে রংপুরকে হারিয়েছে।

বিজয় দিবস টেনিস

রানার গ্রুপ বিজয় দিবস টেনিসে দ্বি-মুকুট জিতলেন ইশিতা আফরোজ। নওগাঁ টেনিস কোর্টে কাল মহিলা এককের ফাইনালে সাথী সরকারকে হারানোর পর বালিকা এককের ১৬ বছরের গ্রুপে হারিয়েছেন আয়েশা সুলতানাকেই। পুরুষ এককের ফাইনালে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে হয়নি আলমগীর হোসেনকে, অসুস্থ অমল রায় দিয়েছেন ওয়াকওভার। পুরুষ দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অমল রায় ও রঞ্জন রাম জুটি। মহিলা দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন সাথী সরকার ও নাদিয়া আফরিন রিপা। বালক এককের ১৬ বছর গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন রুস্তম আলী, বালক এককের ১২ বছর গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন মাহিন রেজা।

সূর্যতরুণ-কলাবাগানের উল্টো স্বাদ

টানা তিন ম্যাচ হারের পর প্রাইম দোলেশ্বরকে ৭ উইকেটে হারিয়ে এবারের লিগে কাল প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে সূর্যতরুণ ক্লাব। উল্টো অভিজ্ঞতা হয়েছে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের, হ্যাটট্রিক জয়ের পর দেখেছে প্রথম পরাজয়; বিকেএসপিতে তাদের ৩৩ রানে হারিয়েছে ক্রিকেট কোচিং স্কুল (সিসিএস)। বগুড়ায় ওরিয়েন্টকে ৯২ রানে গুটিয়ে দিয়েও জিততে ঘাম ছুটে গেছে ভিক্টোরিয়ার। সাবেক চ্যাম্পিয়নরা শেষ পর্যন্ত জিতেছে ৪ উইকেটে; দলে বড় কোনো তারকা না থাকলেও চার ম্যাচে এটি তাদের তৃতীয় জয়।
তৃতীয় ওভারে ওপেনার অমিত মজুমদারকে (০) হারানোর ধাক্কা সিসিএস সামলে ওঠে দ্বিতীয় উইকেটে সৈকত আলী ও শাহবাজ বাটের ৬৪ রানের জুটিতে। তৃতীয় উইকেটে তাপস ঘোষকে নিয়ে আরও ৫৮ রান যোগ করেন সৈকত। ৭৫ বলে ৭৭ করে সৈকত আউট হলেও এক পাশ আগলে ছিলেন তাপস। আরেক পাশে রানের গতি বাড়ান আশরাফুল (৪২ বলে ৪৩) ও শুভাগত হোম (২২ বলে ২৪)। শেষ দিকে নাজমুল হোসেনের ১৯ বলে ৩৩ সিসিএসকে এনে দেয় ২৭৪ রানের শক্ত ভিত্তি। ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়েই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে কলাবাগান। এর আগে দুই ইনিংসে ব্যাট করে ৫ ও ১৩ রান করা রকিবুল হাসান কাল করেছেন ৪১। তাঁর বিদায়ের পর কলাবাগানকে একা টেনেছেন মাহমুদুল হাসান। তবে তাঁর ৮০ রানের ইনিংসটা শুধু ব্যবধানই কমিয়েছে।
রাজশাহীতে ৪০ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ১২৩ রান করা দোলেশ্বরকে লড়ার মতো রান এনে দেয় নাদিফ চৌধুরীর ৪৫ আর আরাফাত সালাউদ্দিনের ২৮। তবে দোলেশ্বরের ১৯৮ রানকে মামুলি বানিয়ে দেন জুনায়েদ-রাজিন। আগের ম্যাচে চোট পাওয়া জুনায়েদ সিদ্দিক ৫৯ করে আউট হলেও দলের জয় সঙ্গে নিয়েই ফিরেছেন রাজিন সালেহ। তাঁর ৯৮ বলে ৮৫ রানের ইনিংসে চার ৫টি, কিন্তু ছয় ৬টি!
বগুড়ায় ওরিয়েন্টকে প্রথম ধাক্কা দেন আরসালান মীর। এরপর মনির হোসেন নেন টানা চার উইকেট, দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে কামরুল ইসলাম রাব্বি তিনটি, শেষটি আবার আরসালান। ১৬ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে ৪০ রানের জুটি গড়েন ভিক্টোরিয়ার মাইশুকুর রহমান ও মোহাম্মদ সামি। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়েছে ওরিয়েন্ট, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে হয়েছে আর কিছু রান করতে না পারার হতাশা নিয়েই।
সং ক্ষি প্ত স্কো র
সিসিএস: ৫০ ওভারে ২৭৪/৭ (সৈকত ৭৭, তাপস ৫১, আশরাফুল ৪৩, নাজমুল ৩৩, শাহবাজ ২৭, শুভাগত ২৪; শাহাদাত ৩/৪৯, আরাফাত সানি ২/৪৩, নাজমুস ২/৫০)। কলাবাগান: ৪৯.১ ওভারে ২৪১ (মাহমুদুল ৮০, রকিবুল ৪১; বিশ্বনাথ ৪/৫৩, আবুল বাশার ২/২১, আশরাফুল ২/৪৩, ওয়াকাস ১/৪৫)। ফল: সিসিএস ৩৩ রানে জয়ী।
দোলেশ্বর: ৫০ ওভারে ১৯৮/৯ (নাদিফ ৪৫, ইমরান ৩৮, আরাফাত সালাউদ্দিন ২৮, ইউনুস ২৭; রেজওয়ান ৪/৪৪, জাহিদ ২/১৫, ইমতিয়াজ ১/১৮, শাফাক ১/২১, সোহরাওয়ার্দী ১/৪৬)। সূর্যতরুণ: ৪৪.২ ওভারে ১৯৯/৩ (রাজিন ৮৫*, জুনায়েদ ৫৯, মিজানুর ২৬, হামিদুল ২০*; নিজামউদ্দিন ২/৩৬, দেলোয়ার ১/১২)। ফল: সূর্যতরুণ ৭ উইকেটে জয়ী।
ওরিয়েন্ট: ২৮.১ ওভারে ৯২ (আনহুর ২১, আসিফ ১৯; মনির ৪/২৭, কামরুল রাব্বি ৩/৪৮, আরসালান ২/১৪)। ভিক্টোরিয়া: ৩০.২ ওভারে ৯৪/৬ (সামি ২৫, মাইশুকুর ১৮; জাকারিয়া ৩/২৩, সোহাগ ২/২০, জায়েদ ১/২৫)। ফল: ভিক্টোরিয়া ৪ উইকেটে জয়ী।

হিমাগার থেকে বেরোচ্ছে স্কুল ফুটবল

তৃণমূল ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কতটা উদাসীন, এটা জানতে একটা তথ্যই যথেষ্ট। জাতীয় স্কুল ফুটবলের কথা বাদ দিন, খোদ ঢাকা শহরেই স্কুল ফুটবল করতে পাঁচ বছর সময় চলে গেছে!
বাফুফের গত কমিটির সময় ২০০৫ সালে সর্বশেষ ঢাকা মহানগরী স্কুল ফুটবল হয়েছিল। বর্তমান কমিটির দুই বছর আট মাস পর অবশেষে এই টুর্নামেন্ট হিমাগার থেকে বেরোচ্ছে। ৪১টি স্কুল নিয়ে ঢাকা মহানগরী স্কুল ফুটবলের আজ উদ্বোধন হবে কমলাপুর স্টেডিয়ামে।
‘মাঠ নেই’ বলে তৃণমূল ফুটবল করা যাচ্ছে না! বাফুফে যতই অজুহাত দিক, এবারের ঢাকা মহানগরী স্কুল ফুটবল আয়োজন করার জন্য ঢাকা শহরের পাঁচটি মাঠ পাওয়ায় সেটি আর ধোপে টেকে না। বিএএফ শাহীন স্কুল ও কলেজ, খিলগাঁও জোড়পুকুর মাঠ, রহমতগঞ্জ মাঠ ও গেন্ডারিয়ায় সাদেক হোসেন খোকা মাঠে হচ্ছে স্কুল ফুটবলের খেলা।
কাল বাফুফের ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাফুফের সহসভাপতি বাদল রায় জানালেন, এই টুর্নামেন্ট থেকে খেলোয়াড় বাছাই করে দীর্ঘ মেয়াদে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বাফুফের কোচরা খেলা দেখতে মাঠে যাবেন। এসব কথা অবশ্য শুনতে ভালোই লাগে। তবে ঘটনা হলো, টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর খুদে ফুটবলারদের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের ব্যাপারটি বাফুফের তো মনেই থাকে না!
ছেলেদের স্কুল ফুটবলই যেখানে নিয়মিত করতে পারে না বাফুফে, সেখানে মেয়েদের স্কুল ফুটবল! তবে বাফুফের স্কুল ফুটবল কমিটির প্রধান এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের কাছে এটি কঠিন নয়। আগামী বছর মেয়েদের ঢাকা মহানগরী স্কুল ফুটবল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের মিডিয়া পার্টনার এটিএন বাংলা এবং আর দু-একটি টিভি ক্যামেরা ছাড়া অন্য টিভি ক্যামেরা না আসায় ক্ষোভ জানিয়ে মাহফুজুর রহমান বললেন, ‘টিভিগুলোর মধ্যে রেষারেষি আছে। কিন্তু এ জাতীয় আয়োজনে দেশপ্রেম নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
স্কুল ফুটবলের টাইটেল স্পনসর আশিয়ান সিটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভুইয়া এবারের স্কুল ফুটবলের সেরা খেলোয়াড়কে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রয়োজনে আরও আর্থিক পুরস্কার দেবে প্রতিষ্ঠানটি। টুর্নামেন্টের কো-স্পনসর প্রাণ গ্রুপ। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ফারহান রশিদ ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এই আয়োজনে বড় অবদান রাখছেন স্কুল ফুটবল কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ আসলাম। জানা গেছে, বাফুফের অফিস থেকে তেমন উৎসাহ পাননি সাবেক এই জাতীয় ফুটবলার। নিজ উদ্যোগেই যা করার করেছেন। সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান আরেক সাবেক হাসানুজ্জমান বাবলুকে।

প্রিমিয়ারে মজিদ-ধন্য শেখ জামাল

নাম বদলেই তাহলে চেহারাটা বদলে গেল ধানমন্ডি ক্লাবের! ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকেই যারা প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের নিয়মিত দল, সেই ধানমন্ডি ক্লাবই এবার শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব হয়ে উঠে গেল প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে। ক্লাবের এই সাফল্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ওপেনার আবদুল মজিদ।
এবারের প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭৮৬ রান করা আবদুল মজিদ কাল করলেন লিগে টানা তৃতীয় সেঞ্চুরি। বিকেএসপিতে তাঁর ১৩১ বলে খেলা ১০০ রানের সৌজন্যে ৭ উইকেটে ২৬৪ রান করা শেখ জামাল এ ম্যাচে পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে হারিয়েছে ৮৫ রানে। ওপেনার রুবেল হাওলাদারের ফিফটির পরও ৪৮.২ ওভারে ১৭৯ রানে অলআউট হয়ে গেছে পারটেক্স। আগেই প্রিমিয়ার লিগ নিশ্চিত করা শেখ জামালের এটি ১৫ ম্যাচে টানা ১৫তম জয়।
আগের দুই ম্যাচে ব্রাদার্স ও উত্তরা স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা মজিদ তাঁর সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন গোটা দলকে, ‘কোচ সুজন ভাই (খালেদ মাহমুদ), অধিনায়ক উজ্জ্বল ভাইসহ দলের সবাই আমাকে সাহায্য করেছে। তা ছাড়া আমারও লক্ষ্য ছিল এবার লিগে সর্বোচ্চ রান করব।’ তিনটি সেঞ্চুরি ছাড়াও এবার প্রথম বিভাগে মজিদের ফিফটি আছে চারটি।
২০০১-০২ ও ২০০২-০৩—প্রিমিয়ার লিগে এই দুই মৌসুম খেলার পর ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকেই প্রথম বিভাগে খেলছে ধানমন্ডি, বর্তমানে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব।
এবার তাদের সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগে ওঠার সম্ভাবনা আছে ব্রাদার্স, বারিধারা ড্যাজলার্সেরও। কাল ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম বিভাগের অন্য ম্যাচে বারিধারা (২৪০/৮) ২৩ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ বয়েজকে (২১৭)।

বেতন বাড়ল ক্রিকেটারদের

টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশ ছিলই। পরশু বোর্ড সভার পর আনুষ্ঠানিক অনুমোদনও হয়ে গেল। জাতীয় দলের ১৮ ক্রিকেটারের বেতন তাতে বেড়ে গেল ১৫ শতাংশ। প্রতি মাসে এই ১৮ ক্রিকেটারের বেতন বাবদ বোর্ডের খরচ হবে ১৬ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা।
বিসিবির সঙ্গে ‘এ+’ শ্রেণীর চুক্তিতে থাকা মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ আশরাফুল, আবদুর রাজ্জাক, মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবাল এত দিন বেতন পেতেন মাসে এক লাখ সাত হাজার ৬০০ টাকা করে। ১৫ শতাংশ বাড়ার পর তাঁরা প্রত্যেকে পাবেন এক লাখ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা করে। ‘এ’ শ্রেণীতে থাকা শাহাদাত হোসেন, জুনায়েদ সিদ্দিক ও মাহমুদউল্লাহর বেতন ৮৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ তিন হাজার টাকা। ‘বি’ শ্রেণীতে থাকা সৈয়দ রাসেল, রকিবুল হাসান, নাজমুল হোসেন, নাঈম ইসলাম, ইমরুল কায়েস ও রুবেল হোসেনের নতুন বেতন ৮২ হাজার ৫০০ টাকা। আগে তাঁরা পেতেন ৭১ হাজার ৭০০ টাকা করে।
এ ছাড়া ‘সি’ শ্রেণীর একমাত্র ক্রিকেটার শফিউল ইসলামের বেতন ৫৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ৫০০ টাকা। ‘রুকি’ শ্রেণীতে থাকা জহুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীর বেতন আগে ছিল ৩৬ হাজার টাকা, এখন সেটা ৪১ হাজার ৫০০ টাকা।
ক্রিকেটারদের নতুন বেতন কার্যকর হয়ে গেছে ১ ডিসেম্বর থেকেই।

বদলে গেল নিউজিল্যান্ড

কিছুদিন আগেও একটা জয়ের জন্য চাতকতৃষ্ণা ছিল যাদের, সেই নিউজিল্যান্ড এক ম্যাচ হাতে রেখেই পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতল টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ৩ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয়টি তারা জিতেছে ৩৯ রানে।
ব্যাটে-বলে শ্রেয়তর নৈপুণ্য দেখিয়ে কাল যেভাবে ম্যাচ জিতল নিউজিল্যান্ড, তাতে বিশ্বাস করাও কঠিন এই দলটিই ওয়ানডেতে জয়শূন্য থেকেছে টানা ১৩ ম্যাচ! হোক টি-টোয়েন্টি, নতুন কোচ জন রাইটকে পেয়ে যে নিউজিল্যান্ডের মানসিকতা বদলে গেছে, সেটাই দেখা গেল হ্যামিল্টনে। প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে নিউজিল্যান্ড ১৮৫ রান করে। পাকিস্তান ২০ ওভার ব্যাট করলেও ৯ উইকেটে থেমেছে ১৪৬ রানে।
প্রথম বলেই রাইডারকে হারিয়ে শুরু হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের। দ্বিতীয় উইকেটে গাপটিল (৪৪) ও ফ্রাঙ্কলিনের (৪০) ৯১ রানের জুটির ওপর দাঁড়িয়ে রস টেলর (২১ বলে ৩০*), স্টাইরিস (১৪ বলে ৩৪), ম্যাকগ্লাশানরা (১০ বলে ২৬) নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে তোলেন ১৮৫ রানে।
প্রথম ১১ বলে ২৪ রান নিয়ে ঝোড়ো সূচনাই করেছিল পাকিস্তান। আফ্রিদিকে হারিয়েও ৬ ওভারে ৫৮ রান করেছিল। কিন্তু মাঝের ৮ ওভারে দুই কিউই স্পিনার নাথান ম্যাককালাম ও অভিষিক্ত লুক উডককের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কক্ষচ্যুত হয়ে পড়ে তারা। ম্যাচের সেরা ম্যাককালাম ১৬ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ওয়েবসাইট।
নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৮৫/৭ (গাপটিল ৪৪, ফ্রাঙ্কলিন ৪০, স্টাইরিস ৩৪, টেলর ৩০*, ম্যাকগ্লাশান ২৬; আজমল ৩/৩৫, রাজ্জাক ১/১২, রিয়াজ ১/২২, আফ্রিদি ১/২২, শোয়েব ১/৪২)।
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৪৬/৯ (হাফিজ ৪৬, উমর আকমল ২৬, রিয়াজ ১৮, শেহজাদ ১৫, রাজ্জাক ১৪; নাথান ম্যাককালাম ৪/১৬, সাউদি ২/২৬, মিলস ১/৩৪, বাটলার ১/৩৫)।
ফল: নিউজিল্যান্ড ৩৯ রানে জয়ী।

লক্ষ্মণ-রেখায় ভারতের আশা

মেঘকালো আকাশের কারণে খেলা আবার স্থগিত রেখে সাজঘরে যখন ফিরছিলেন, মহেন্দ্র সিং ধোনির চোখে-মুখে ছিল উজ্জ্বলতা। ভারতীয় অধিনায়কের কানে নিশ্চয়ই পৌঁছে গেছে রেকর্ডটির কথা। কোন রেকর্ড? চতুর্থ ইনিংসে ৩০০-র বেশি রান তাড়া করে ডারবানে জেতার। মাত্র দুটি উদাহরণ। একটি সেই ১৯৫০ সালের। অন্যটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা ফেরার পর।
দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য কাজটা কঠিন, কোনো সন্দেহ নেই।
স্মিথ-পিটারসেন অবশ্য দারুণ শুরু করেছিলেন। ১২ ওভারে তুলে ফেলেছিলেন ৬৩। কিন্তু চা-বিরতির আগের ওভারে শ্রীশান্তের বলে ফিরে যান স্মিথ। চা-বিরতির পরের তৃতীয় ও চতুর্থ ওভারে পিটারসেন ও আমলাও ফিরে গেলে ৩ উইকেটে ৮২ রানে পরিণত হয় স্বাগতিকেরা।
২৯ ওভার বাকি থাকতেই দিনের খেলা শেষ হয়ে গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ভরসা হয়ে উইকেটে আছেন ক্যালিস ও ডি ভিলিয়ার্স। ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে এই দুজনেরই ব্যাটিং গড় ৪২-এর ওপরে। সেই সুনামটা ধরে রাখতে পারলে হয়। এরই মধ্যে চতুর্থ উইকেটে তাঁদের ২৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিটা ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গেছে। ডি ভিলিয়ার্স হরভজন সিংকে সপাটে ছক্কা হাঁকিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার যন্ত্রণা তাঁকে কতটা পোড়াচ্ছে।
এই দুজনের একজন আউট হলেই উইকেটে আসবেন রানখরায় ভুগতে থাকা অ্যাশওয়েল প্রিন্স (গত ১৮ ইনিংসে দুটি ফিফটি)। মার্ক বাউচারও সেরা সময়ে নেই। সব মিলে পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা এই ম্যাচে সৌভাগ্যের কাঁটা আপাতত ভারতের দিকে।
সিরিজটাকে জমিয়ে তুলতে হলে এই ম্যাচে ভারতের জয় জরুরি। বৃষ্টি-মেঘ বাগড়া দিলেও এ ম্যাচে ফলই দেখা যাবে বলে বাজি ধরা যায়। ম্যাচের যে এখনো দুই দিন বাকি।
৪ উইকেটে ৯৪ রান নিয়ে দিন শুরু করা ভারত ৩০৩ রানের লিড আশা করেছিল বলে মনে হয় না। বিশেষ করে, আগের দিনের সঙ্গে আর এক রান যোগ করতেই যখন আউট হয়ে গেলেন চেতেশ্বর পূজারা। ধোনি লক্ষ্মণের সঙ্গে ৪৮ রানের একটা জুটি গড়েছেন বটে, কিন্তু সাত রানের ব্যবধানে অধিনায়ক ও হরজভজনের বিদায়ের পর ভারতের লিড ছিল মাত্র ২২২। কিন্তু তখনো লক্ষ্মণ ছিলেন।
চাপের মুখে লক্ষ্মণ আরেকটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন। দারুণ জুটি গড়েছেন জহির খানের সঙ্গে। ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গ টেস্টে এমনই একটা জুটি গড়েছিলেন লক্ষ্মণ। সেবারের মতো এবারও সেঞ্চুরি শেষ পর্যন্ত পেলেন না। ক্যারিয়ারে মাত্র চতুর্থবারের মতো আউট হলেন নম্বইয়ের ঘরে।
জোহানেসবার্গের ওই টেস্টটা কিন্তু জিতেছিল ভারত!

নিন্দিত, ধিকৃত পন্টিং

ব্যাটে রানখরা থাকতেই পারে, খারাপ সময়ও সবার আসে। দুবার আউট হয়েছেন লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে, তিনবার দুর্দান্ত ডেলিভারিতে—চাইলে রানখরার জন্য ভাগ্যকেও দুষতে পারেন। কিন্তু আচরণ তো আর ব্যাটিং ফর্ম নয় যে ওঠা-নামা থাকবে। নিজের আচরণ সম্পূর্ণই নিজের নিয়ন্ত্রণে, এতে গড়বড় হলে প্রতিফলও পেতে হয়। যেমন পাচ্ছেন রিকি পন্টিং। তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মনঃপূত না হওয়ায় মেলবোর্ন টেস্টের দ্বিতীয় দিন তর্ক জুড়ে দিয়েছিলেন আম্পায়ার আলিম দারের সঙ্গে। জরিমানা, ম্যাচ রেফারির তিরস্কারের সঙ্গে নিন্দার ঝড়ও সামলাতে হচ্ছে। পন্টিং অবশ্য মাথা পেতে নিয়েছেন নিজের অপরাধ।
ওই ঘটনার সময় ধারাভাষ্যকক্ষে বসেই পন্টিংয়ের সমালোচনা করেছিলেন সাবেক দুই অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল ও মার্ক টেলর। বড় চ্যাপেল পরে দি অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকায় নিজের কলামে লিখেছেন, ‘আমার ধারণা, এটা বহিষ্কৃত হওয়ার মতো অপরাধ। এমন নয় যে সে (পন্টিং) প্রথম এমনটা করল। এ জন্য আইসিসিই দায়ী। এসব পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে প্রথমবার করার সময়ই উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।’ পন্টিংয়ের এমন আচরণের কোনো যুক্তিই খুঁজে পাচ্ছেন না তাঁর প্রথম টেস্ট অধিনায়ক টেলর, ‘সিদ্ধান্তটা দিয়েছেন তৃতীয় আম্পায়ার, মাঠের আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক করে কী লাভ? এমন তো নয় যে তিনি সিদ্ধান্ত ঘুরিয়ে দিতে পারবেন!’ ক্রিকেট লেখক পিটার রোবাক তো পন্টিংয়ের শেষই দেখে ফেলেছেন, ‘আগে হোক বা পরে, সব অধিনায়কেরই সময় একদিন শেষ হয়। সে খুব বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে। এভাবে প্রকাশ্যে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে তর্ক করা কোনো অধিনায়কের উচিত নয়।’
পন্টিং দোষ স্বীকার করেছেন, তবে নিজের পক্ষে সাফাইও গেয়েছেন, ‘বুঝতে পেরেছি, কাল (পরশু) আমি সীমা লঙ্ঘন করেছি। রাতে ঘটনাটা দেখে আমার নিজেরও ভালো লাগেনি। বুঝতে পেরেছি, অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হিসেবে অন্য অধিনায়ক ও তরুণদের সামনে আমি বাজে উদাহরণ সৃষ্টি করেছি। শুনানিতে আমাকে জরিমানা করার সঙ্গে সঙ্গে আমি তা মেনে নিয়েছি। আম্পায়াররা কিন্তু বলেছে, আমার আচরণ আগ্রাসী বা খারাপ কিছু ছিল না, শুধু আলোচনাটা একটু দীর্ঘ করেছিলাম।’

জয় দেখছে ইংল্যান্ড

সত্যি বলতে সিরিজ হারাটা হবে ভয়াবহ, আমরা চুরমার হয়ে যাব। অ্যাশেজ জয়ের গুরুত্বটা আমরা জানতাম। কারণ, গত ২৪ বছরে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া হারেনি। আগামী টেস্ট জিতে এই গর্ব ধরে রাখার সম্ভব সব চেষ্টাই আমরা করব। তবে ইংল্যান্ডের কাছ থেকে ছোট্ট ভস্মাধার ফিরিয়ে আনাটাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আমরা সেটা পারিনি।’
শঙ্কা, আশাবাদ, হতাশা—সব একাকার হয়ে গেল শেন ওয়াটসনের প্রতিক্রিয়ায়। সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডারের কথাতেই স্পষ্ট ম্যাচ ও সিরিজের অবস্থা। মেলবোর্নের প্রথম দিনটা যে ইঙ্গিত দিয়েছিল, সেটাই প্রায় নিশ্চিত হয়েছে কাল। ইংল্যান্ডকে আবার ব্যাটিংয়ে নামাতেই এখনো প্রয়োজন ২৪৬ রান। তবে স্বাগতিকদের সেই আশা দূরাশা মাত্র, হাতে আছে মাত্রই ৩ উইকেট। উইকেট পড়েছে ৬টি, কিন্তু গোড়ালির চোটে সিরিজ থেকেই ছিটকে পড়া রায়ান হ্যারিসের ব্যাট করার সম্ভাবনা খুবই কম। ভস্মাধার ফিরিয়ে আনা নয়, অস্ট্রেলিয়া এখন দেশের মাটিতে ২৪ বছর অ্যাশেজ না হারার গর্বটা ধরে রাখার শেষ চেষ্টাটাই করতে পারে। মেলবোর্নের পর তাদের নিয়ে এই বাজি ধরার লোকও খুব একটা পাওয়া যাবে না।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনাশের শুরু ওই ওয়াটসনকে দিয়েই। মাথায় ইনিংসে হারের খাড়া, হাতে অফুরন্ত সময়, হঠাৎ কেন যে ঝুঁকিপূর্ণ সিঙ্গেল নেওয়ার ইচ্ছা হলো ওয়াটসনের! ফলোঅন এড়াতেই প্রয়োজন ৪১৫ রান, ৫২ রানের উদ্বোধনী জুটিতে লড়াইটা ভালোই শুরু করেছিলেন ওয়াটসন ও হিউজ। কিন্তু হিউজের ওই আত্মঘাতী রানআউটে হঠাৎ ছন্দপতন। রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেট জুটিটাও জমে উঠেছিল। প্রথম ইনিংসের ৯৮ পেরিয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ওই এক উইকেট হারিয়েই। চা-বিরতির পরপর দ্বিতীয় ওভারে আবার ওয়াটসনের ভুল সিদ্ধান্ত। এবার ব্রেসনানের ইনসুইঙ্গার না খেলে ছেড়ে দিয়ে এলবিডব্লু।
এর পরই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে অজি মিডল অর্ডার। রানের গতি যেমন থমকে দাঁড়ায়, তেমনি পড়তে থাকে উইকেটও। চা-বিরতির আগে ৩০ ওভারে ৯৫ করা অস্ট্রেলিয়া বিরতির পর ২৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ৩৯ রান। প্রথম ইনিংসে ধ্বংসযজ্ঞের দুই নায়ক অ্যান্ডারসন-ট্রেমলেট কাল খুব একটা সুবিধে করতে পারেননি। তবে জ্বলে উঠেছিলেন ব্রেসনান ও সোয়ান। চা-বিরতির আগে ৭ ওভার বোলিং করে মাত্র ৫ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি, পরে ৭ ওভারের আরেকটি স্পেলে ৩ উইকেট নিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন মিডল অর্ডার। পার্থে খারাপ করায় সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেট-শিকারি স্টিভেন ফিনকে বাদ দিয়ে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ব্রেসনানকে। দুই ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে বুঝিয়ে দিলেন সিদ্ধান্তের যথার্থতা। ১ উইকেট পেলেও ২২ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়েছেন সোয়ান।
সকালে অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা কিন্তু খারাপ করেননি। ৫৪ রানে ইংল্যান্ডের শেষ ৫ উইকেট তুলে নিয়েছেন তাঁরা, পিটার সিডল পেয়েছেন সিরিজে দ্বিতীয় ৬ উইকেট। সঙ্গীর অভাবে ডাবল সেঞ্চুরি হয়নি জোনাথন ট্রটের।

অন্তত জয়ে শুরু মোহামেডানের

মোহামেডানের দুই সাবেক তারকা মাঠের দিকে যাচ্ছিলেন ম্যাচের পর। ইমতিয়াজ সুলতান জনি ও সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালি সাব্বিরের কাছে মোহামেডানের খেলা সম্পর্কে জানতে চাইলে দুই তারকার অভিন্ন জবাব, ‘খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছি না। তবে জয়টা দলের জন্য খুব দরকার ছিল এবং তা পাওয়ায় অন্তত উজ্জীবিত হতে পারবে মোহামেডান।’ আরেক সাবেক ছাইদ হাসান কাননের মুখেও শোনা গেল একই কথা।
চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে ১-০ জয়, ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান এই জয়ে কতই না খুশি! সাবেকরা তো বটেই, বর্তমান খেলোয়াড়-কর্মকর্তা-সমর্থকদের কাছেও এটি স্বস্তির এক জয়।
কারণও আছে, এবার অখ্যাত তরুণদের নিয়ে গড়া দল ফেডারেশন কাপে তিন ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি। মোহামেডানের ইতিহাসে এমন দুর্বল দল নাকি কখনো হয়নি। শুধু নামটাই এবার মোহামেডানের সম্বল।
গত তিনটি পেশাদার লিগেই রানার্সআপ হয়েছে মোহামেডান। এবার চ্যাম্পিয়ন হলে সেটি তাই বড় এক ‘অঘটন’ হিসেবেই বিবেচিত হবে। এবারই প্রথম ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ মোহামেডান—মৌসুমের শুরুতেই সাদা-কালোরা জেনে গেছে তাদের সামর্থ্যের পরিধি।
ড্র দিয়ে বাংলাদেশ লিগ শুরু করতে হচ্ছে কি না, এই শঙ্কায় যখন মোহামেডান টেন্ট ও হাজার খানেক দর্শকের ভিড়ে ভুভুজেলা বাজিয়ে দলকে প্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন পাঁড় সমর্থক, তখনই মোহামেডানকে উল্লাসে ভাসান এক রুয়ান্ডান মিডফিল্ডার। ৮৭ মিনিটে রিদনের মাইনাস থেকে হাবুমুগিসা ইসমাইলের ঠেলে দেওয়া বল জালে জড়ায় (১-০)।
ঠিক এর ১০ মিনিট আগেই চট্টগ্রাম আবাহনীর এক বিদেশি লাল কার্ড দেখলেন। এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে মোহামেডান। চট্টগ্রাম আবাহনীকে জয়ের জন্য মরিয়া দেখা যায়নি। যে দলের স্ট্রাইকার গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদের চেষ্টা না করে পাস দেওয়ার জন্য সতীর্থ কাউকে খোঁজেন, সেই দল পয়েন্ট পাবে কী করে?
মোহামেডানের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এখন একটা জয়ই দলটির কাছে বিরাট কিছু। সেই জয় যে দলের বিপক্ষেই আসুক না কেন! চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে এবার তো ঢাকা মোহামেডানের কোনো পার্থক্য নেই। দুদলের খেলোয়াড় তালিকাই সেটা বলে দিচ্ছে।
তবে নিজেদের সামর্থ্যটা অনুযায়ী ভালোই খেলেছে মোহামেডান। বড় সমস্যা—দক্ষ গোলদাতার অভাব। দলীয় সমন্বয়েও সমস্যা রয়ে গেছে। আস্তে আস্তে তা হয়তো কাটিয়ে উঠতে পারবে মোহামেডান, কিন্তু বড় দলের সঙ্গেই তাদের বড় পরীক্ষা।
মোহামেডানের সবচেয়ে বড় শক্তি কোচ শফিকুল ইসলাম। বরাবরই দলকে নিয়ে আশাবাদী শফিকুল ম্যাচের পর বললেন, ‘জয়টা আমাদের জন্য বড় উদ্দীপনা। জয় দিয়ে শুরু করতে চেয়েছিলাম, সেটি পেরেছি। সমস্যাগুলো সামনে কাটিয়ে উঠে মোহামেডানের মতোই আমরা সামনে এগোতে চাই।’
মোহামেডান: টিটু, আরাফাত রনি (কবির), রিপন (ইয়াসিন/সোহেল), রমজান, রনি ইসলাম, এমেকা লাকি, আমানি, শরিফ, ইসমাইল, এমেকা, রিদন।
আজকের খেলা: ফেনী সকার-চট্টগ্রাম মোহামেডান (বেলা ২.৩০মি, ফেনী স্টেডিয়াম)

নাগালের বাইরে সাড়ে ৭ হাজার টিকিট

প্ররতি ম্যাচে সৌজন্য টিকিটই থাকবে ৩৭৮১টি। বিশেষ সুবিধায় বিক্রি হবে ৩৬৬০টি টিকিট। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরের জেলায় ম্যাচপ্রতি টিকিট বিক্রি হবে মাত্র ১০৮টি। সিটি ব্যাংক ছাড়া অন্য একটি বেসরকারি ব্যাংকেও টিকিট পাওয়া যাবে।

থার্টি ফার্স্ট নাইটটা এবার বিশ্বকাপের কোনো টিকিট বুথের সামনে দাঁড়িয়ে উদ্যাপন করে ফেলাই ভালো। পরদিন ১ জানুয়ারি টিকিট বিক্রি শুরু। সাধারণ দর্শকদের জন্য সেই টিকিটের সংখ্যা এতটাই নগণ্য যে, সকালে নাশতা সেরে টিকিট কিনতে যাওয়াটা হবে বিশ্বকাপ বিসর্জন দেওয়ার মতো ব্যাপার।
তবে বিশ্বকাপের টিকিট কেনার জন্য সবাইকে এই কষ্টটুকু করতে হবে না। কারও কারও ঘরেই হয়তো পৌঁছে যাবে টিকিট। আবার কেউ ঘরে বসে সেটা না পেলেও বিসিবির অফিসে তাঁদের টিকিটটি রেখে দেওয়া হবে সযত্নে। সময় করে এসে টাকা দিয়ে সেটি শুধু কিনে নিলেই হবে। লাইনে দাঁড়ানোর দরকার নেই।
বিশ্বকাপের স্থানীয় আয়োজক কমিটির (এলওসি) টিকিট ও সিটিং কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রতিটি ম্যাচে এই ‘সৌভাগ্যবান’দের সংখ্যা হবে অন্তত ৭৪৪১! অর্থাৎ, প্রতি ম্যাচের প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টিকিট থাকবে সাধারণ দর্শকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রায় একই অবস্থা হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ম্যাচ দুটিতেও।
৭৪৪১টি টিকিটের মধ্যে আইসিসির ১২৭০টি ছাড়াও সৌজন্য টিকিট আছে আরও ২৫১১টি। এ ছাড়া ‘বিশেষ সুবিধায় কেনা’র সুযোগ দিয়ে বিক্রি হবে আরও ৩৬৬০টি টিকিট।
২৫৫০৯ জন দর্শক ধারণক্ষমতার মিরপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় প্রতি ম্যাচে সাধারণ দর্শকের জন্য টিকিট ছাড়া হবে ১৫ হাজারের মতো। এর সঙ্গে ওই ৭৪৪১টি টিকিট, আগেই অনলাইনে বিক্রি হওয়া ৫ শতাংশ টিকিট এবং হসপিটালিটি বক্সের ৪৮২টি আসন যোগ করলেও আরও অন্তত ১৩১৬টি টিকিট থেকে যাওয়ার কথা। এলওসির টিকিট ও সিটিং কমিটির প্রধান বিসিবির পরিচালক জি এস হাসান তামিম অবশ্য বলেছেন, ‘সব টিকিটের সংখ্যাই কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। কোনোটাই এখনো চূড়ান্ত নয়।’
প্রতি ম্যাচে ২৫১১টি সৌজন্য টিকিট বিনা মূল্যে বিতরণ করা হবে দেশের সব মন্ত্রী, সাংসদ, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, সব মন্ত্রণালয় ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, দূতাবাস, বিসিবি ও অন্যান্য ক্রীড়া ফেডারেশনের কর্মকর্তা, বিওএ, বিসিবির কাউন্সিলর, জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটার এবং মহিলা ক্রিকেটারদের মধ্যে। এর মধ্যে প্রতি ম্যাচে ভিআইপি গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিট থাকবে ১১৩৩টি, ক্লাব হাউস (উত্তর) ৫৩০টি, ক্লাব হাউস (দক্ষিণ) ২৭টি, আন্তর্জাতিক গ্যালারি ১০৪টি, উত্তর গ্যালারি ১৭৩টি, দক্ষিণ গ্যালারি ২০টি এবং সাধারণ গ্যালারি ৫২৪টি। বিভিন্ন শ্রেণী মিলিয়ে শুধু বিসিবির সভাপতি ও পরিচালকদের জন্যই সৌজন্য টিকিট থাকছে ম্যাচপ্রতি ২৭২টি করে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যাবে প্রতি ম্যাচের ১২২টি টিকিট।
বিশেষ সুবিধায় বিক্রির টিকিটের মধ্যে ঢাকার প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ (ক্লাবপ্রতি ৩০টি) এবং প্রথম (ক্লাবপ্রতি ২৫টি), দ্বিতীয় (ক্লাবপ্রতি ২০টি) ও তৃতীয় বিভাগ (ক্লাবপ্রতি ২০টি) ক্রিকেটের ৭২টি ক্লাবের জন্য বরাদ্দ ১৭৪০টি টিকিট। দেশের ৬৪টি জেলা ও ছয় বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা মিলিয়ে ‘বিশেষ সুবিধায়’ কিনতে পারবে আরও ১৯২০টি টিকিট। বিক্রি শুরু হলে এসব টিকিট বিসিবি থেকেই সংগ্রহ করতে হবে।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ‘সৌজন্য টিকিট’ বা বিশেষ ব্যবস্থায় টিকিট বিক্রি হতেই পারে। কিন্তু স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই যখন এই ‘সৌভাগ্যবান’দের ভাগে চলে যায়, সাধারণ দর্শকদের হাহাকার কেবলই বাড়ে। বিশ্বকাপে এই হাহাকার বেশি শোনা যাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়া দেশের বাকি ৬২টি জেলায়। এসব জেলার প্রতিটিতে ম্যাচপ্রতি টিকিট বিক্রি হবে মাত্র ১০৮টি করে! বুথের জন্য নির্দিষ্ট টিকিটের বাকি প্রায় সাড়ে আট হাজার ভাগ হয়ে বিক্রি হবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বুথগুলোতে।
এলওসি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকায় সিটি ব্যাংকের বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, বনানী, ধানমন্ডি, ইসলামপুর রোড, নিউ মার্কেট, উত্তরা, কারওয়ান বাজার, মিরপুর, মৌচাক ও ইমামগঞ্জ শাখায় বিক্রি হবে বিশ্বকাপের টিকিট। এ ছাড়া চট্টগ্রামের নিজাম রোড, পাহাড়তলী, জুবিলি রোড, চকবাজার ও আন্দরকিল্লা শাখায়ও বুথ বসবে। তবে সারা দেশেই সিটি ব্যাংক ছাড়া আরও একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকেও বিক্রি হতে পারে টিকিট। কালও এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছিল।
ব্যাংক আর বুথ বাড়লেও টিকিট কিন্তু বাড়ছে না। বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে হাহাকারটা থাকছেই।

খবর- এরশাদের বিচার হওয়া উচিত by মহিউদ্দিন ফারুক

সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘সামরিক শাসন জারির জন্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ করেছেন। এ জন্য তাঁর বিচার হওয়া উচিত। এ বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ আছে কি না, সরকার তা খতিয়ে দেখতে পারে।’ গত ২৬ আগস্ট এক রায়ে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেন।