Monday, July 15, 2024

আর্জেন্টিনার ইতিহাস গড়া জয়, কোপার শিরোপা মেসিদের

কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রাখলো আর্জেন্টিনা। এতে কোপায় সর্বকালের সবচেয়ে সফল দলের তকমা পেয়েছে আলবিসেলেস্তারা। এটি আর্জেন্টিনার ১৬তম শিরোপা। এর আগে ২০২১ সালে কোপার ফাইনালে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে উরুগুয়ের সমান ১৫টি শিরোপা নিশ্চিত করেছিল আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে টানা তিন আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের এক বিরল রেকর্ড গড়ল তারা। যে কীর্তি ছিল কেবল স্পেনের। ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত ইউরো এবং বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল তারা। এবার লাতিন আমেরিকা থেকে তাদের সেই কীর্তিদের ভাগ বসালেন লিওনেল মেসিরা।


ফাইনালে খেলার মূল সময়ে অনেক চেষ্টা করেও গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া। ম্যাচের  ১১২ মিনিটের গোলের মুখ দেখলো চলতি কেপার ফাইনাল। আর্জেন্টিনাকে গোল উপহার দিলেন লাওতারো মার্টিনেজ। এতে ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে আর্জেন্টিনার।

সকালে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে এদিন টিকিট ছাড়াই দর্শকদের মাঠে ঢুকে পড়ার কারণে সময় মতো খেলা শুরু করতে পারেনি আয়োজকরা। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় দর্শকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে তারা। অবশেষে সকাল ৬টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ম্যাচটি শুরু হয় ৭টা ২৫ মিনিটে।

শুরুতেই আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথম মিনিটে গঞ্জেলো মনটিয়েলের ক্রস থেকে হুলিয়ান আলভারেজের হেড গোলবারের বাঁপাশ মিস করে বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপর ৫ মিনিটে লুইস দিয়াজ ও ১৩ মিনিট কার্লোস কুয়েস্টা কলম্বিয়ার হয়ে দুটি আক্রমণ করে।

২০ মিনিটে ডি মারিয়ার ক্রস থেকে বাঁপায়ের শট নেন লিওনেল মেসি। তবে মেসির শট সেভ করেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভারগাস।

৩২ মিনিটে দারুণ একটি আক্রমণ করে কলম্বিয়া। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা সেটি ব্লক করে দিলেও কর্নার পেয়ে যায় কলম্বিয়া। তবে কর্নার কিক থেকে বল তালুবন্দি করে নেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। এর ৩ মিনিট পর ফের আক্রমণে আসে আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সের ভেতরে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডারদের ড্রিবলিং করে বল নিয়ে আগানোর চেষ্টা করছিলেন মেসি। শেষ পর্যন্ত আর লক্ষ্যে শট নিতে পারেননি। বল চলে যায় মাঠের বাইরে। চোটও পেতে হয় মেসিকে। তবে মাঠ ছেড়ে যাননি তিনি।

৪০ মিনিটে রড্রিগেজের ক্রস থেকে হেড নেন কলম্বিয়ার জন অ্যারিয়াস। তবে ডানপাশ দিয়ে বল চলে যায়। ৪২ মিনিটে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে কিক নেন মেসি। ডি-বক্সের ভেতর আর্জেন্টিনার নিকোলাস ত্যাগলিয়াফিকোর হেড চলে যায় গোলবারের উপর দিয়ে। অবশেষে গোল না করেই বিরতিতে যেতে হয় দুই দলকে।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমেই আক্রমণ কলম্বিয়ার। ৪৭ মিনিটে সান্তিয়াগো অ্যারিয়াসের ডান পায়ের দ্রুতগতির শট গোলবারের ডানপাশ দিয়ে চলে যায়। এরপর কাউন্টার অ্যাটাকে যায় আর্জেন্টিনা। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের অ্যাসিস্ট থেকে ডি মারিয়ার করা বাঁপায়ের শট সেভ দেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক।

৫৪ মিনিটে গোল করার আরেকটি সুযোগ তৈরি করে কলম্বিয়া। ডেভিনসন সানচেজের হেড চলে যায় গোলবারের উপর দিয়ে। কর্নার কিক থেকে হেড করে তাকে অ্যাসিস্ট করেছিলেন জন কর্ডোবা।

৬৪ মিনিটের ঘটনা হয়তো আর্জেন্টিনা ফুটবলের জন্য দুঃসহ স্মৃতি হয়ে থাকবে। আক্রমণভাগে যখন দলের বিশৃঙ্খল অবস্থা তখনই ইনজুরিতে পড়তে হয়েছে আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিকে। নিজেই দৌড়াতে গিয়ে ইনজুরি হয়েছেন। তারকা এই ফুটবলারের চোট এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তার চোখ দিয়ে অশ্রু প্রায় বেরিয়ে আসছিল।

মেসিকে অবশ্য কেউ ফাউল করেনি। এরপর আর তাকে মাঠেই রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। বদলি হিসেবে নিকোলাস গঞ্জালেজকে মাঠে নামান তিনি। মেসি মাঠে না থাকলেও তার শুন্যতা বুঝতে দেননি ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলতে নামা ডি মারিয়া। শেষটা তার জন্য হলো ছবির মতোই সুন্দর। ২০২১ সালে মারাকানায় তার গোল দিয়েই আর্জেন্টিনা শুরু করেছিল শিরোপা জয়ের এক যাত্রা। এরপর থেকে আরও দুই শিরোপা জয়ের সাক্ষী হয়েছেন। ২০২২ সালের ফিনালিসসিমা আর বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করেছিলেন। আজ গোল না পেলেও লিওনেল মেসির অনুপস্থিতিতে দলের পাপেট মাস্টার হয়ে ছিলেন এই কিংবদন্তী। একই সঙ্গে লাওতারো  মার্টিনেজের একমাত্র গোলে  নিজেদের এক চক্রপূরণ সম্পন্ন করল আর্জেন্টিনা। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আর ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা। টানা তিন আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের এক বিরল রেকর্ড গড়ল তারা। যে কীর্তি ছিল কেবল স্পেনের। ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত ইউরো এবং বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল তারা। এবার লাতিন আমেরিকা থেকে তাদের সেই কীর্তিদের ভাগ বসালেন লিওনেল মেসিরা।

নিমেষে প্রস্রাব হয়ে যাবে বিশুদ্ধ পানি, বিশেষ স্পেসস্যুট বানালো নাসা

মহাকাশচারীদের জন্য উন্নত থেকে উন্নততর পোশাক বানানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। অবশেষে মিলেছে দুরন্ত সাফল্য। কল্পকাহিনী ছবি ডিউনের ‘স্টিলসুটস’ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে একটি যুগান্তকারী স্পেসস্যুট বানিয়ে ফেলেছেন গবেষকরা। যা  ভবিষ্যতে চন্দ্র অভিযানে স্পেসওয়াক করার সময় মহাকাশচারীর ক্ষমতায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। নতুন পোশাকটি সত্যিই অভিনব। আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বানিয়েছেন নতুন ধরনের স্পেসস্যুট। এতে রয়েছে একটি বাহ্যিক ক্যাথিটার, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ফরোয়ার্ড-রিভার্স অসমোসিস ইউনিট। এর সাহায্যেই মূত্র থেকে তৈরি হবে বিশুদ্ধ পানি। তাও আবার ৫ মিনিটে। ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন স্পেস টেকনোলজি’ নামের এক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এই সংক্রান্ত গবেষণাপত্র। এর লক্ষ্য নাসার আর্টেমিস প্রোগ্রামের অধীনে বর্ধিত মিশনে নভোচারীদের সাহায্য করা। এই মিশনের উদ্দেশ্য ২০২৬ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মহাকাশচারীদের অবতরণ এবং শেষ পর্যন্ত ২০৩০ সালের মধ্যে মঙ্গলে মানুষ পাঠানো।


সোফিয়া এটলিনের নেতৃত্বে ওয়েইল কর্নেল মেডিসিন এবং কর্নেল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা স্যুটটিতে উন্নত প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করেছেন।স্পেসওয়াকের সময় নভোচররা নিজেদের পোশাকের মধ্যেই মলমূত্র ত্যাগ করেন। সর্বাধিক শোষণকারী এই পোশাকে (MAG) থাকে বহুস্তরীয় অ্যাডাল্ট ডায়পার। যা তৈরি হয় অত্যধিক শোষণ ক্ষমতাযুক্ত পলিমার দিয়ে। কিন্তু এরপরেও  বর্জ্য ‘লিক’ করার বিষয়ে বার বারই অভিযোগ উঠেছে। যার ফলে মূত্রনালীতে সংক্রমণ কিংবা গ্যাসট্রিকের অসুখ হতে দেখা যায়। অভিনব প্রায় ৮ কেজি ওজনের এবং ৩৮ সেমি বাই ২৩ সেমি পরিমাপের লাইটওয়েট ডিজাইন স্পেসসুটগুলি সমস্যার অনেকটাই সমাধান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। গবেষকরা প্রকৃত মহাকাশ মিশনে মোতায়েন করার আগে সিমুলেটেড মাইক্রোগ্রাভিটি অবস্থার অধীনে সিস্টেমের কার্যকারিতা এবং সুরক্ষা যাচাই করতে নিউইয়র্কে স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে বিস্তৃত পরীক্ষা পরিচালনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস