Wednesday, September 12, 2018

‘অতি ধনী’ বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে

আড়াইশ’ কোটি টাকা বা সমমূল্যের সম্পদের মালিক, এমন ‘অতি ধনী’ মানুষের সংখ্যা অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ গতিতে বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ‘অতি ধনী’ বৃদ্ধির হার ১৭.৩ শতাংশ, যা ভারত ও চীনের চেয়েও বেশি। লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক সংস্থা ওয়েলথ-এক্সের রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘ওয়েলথ অ্যান্ড ইনভেস্টেবল অ্যাসেটস মডেল’ ব্যবহার করে রিপোর্টটি তৈরি করেছে ওয়েলথ-এক্স। পূর্ববর্তী রিপোর্টে এই তালিকার শীর্ষস্থান চীনের দখলে ছিল। কিন্তু এবার বাংলাদেশ চীনকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করেছে। গত ৫ই সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে নগরায়ন, অবকাঠামোগত বিনিয়োগ বেড়েছে। ফলে দেশটি উন্নতি করছে। ভিয়েতনাম ও ভারতেও এমনটি ঘটছে বলে উল্লেখ করেছে ওয়েলথ-এক্স। ‘অতি ধনী’ বৃদ্ধির হার বিবেচনায় বাংলাদেশ বিশ্বে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করে সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ‘অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, নতুন ধনী তৈরির ক্ষেত্রে বৈশ্বিক পরিসরে চীন এখন আর শীর্ষে নয়। সেখানে বাংলাদেশ সবার চেয়ে এগিয়ে। ২০১২ সাল হতে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৭ শতাংশ হারে অতি ধনীর সংখ্যা বেড়েছে। ভিয়েতনাম, কেনিয়া এবং ভারতও খুব বেশি পিছিয়ে নেই।’
সংস্থাটি তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছে, অতি ধনী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে চীন। দেশটিতে ১৩.৭ শতাংশ হারে ‘অতি ধনী’ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বৃদ্ধির হারে তালিকার প্রথম দিকে থাকা অন্য দেশগুলো হলো- ভিয়েতনাম, কেনিয়া, ভারত, হংকং ও আয়ারল্যান্ড। তবে গত ৫ বছরে বিশ্বে অতি ধনীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে চীন ও হংকংয়ে। বিপরীতে জাপান, কানাডা, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রে ‘অতি ধনী’ মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির গতি মন্থর হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে অতি ধনী মানুষের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি। দেশটির প্রায় ৮০ হাজার মানুষ ‘অতি ধনী’। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান। সেখানে অতি ধনী মানুষের সংখ্যা ১৮ হাজার। অল্প ব্যবধানে তৃতীয় স্থানে রয়েছে চীন। দেশটিতে অতি ধনী মানুষের সংখ্যা ১৭ হাজার। তালিকায় শীর্ষ দশে থাকা অন্য দেশগুলো হলো, জার্মানি, কানাডা, ফ্রান্ড, হংকং, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও ইতালি।
বাংলাদেশে ‘অতি ধনী’ বৃদ্ধির হার বৃদ্ধি নিয়ে ওয়েলথ-এক্স দেয়া রিপোর্টের বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘এই তথ্যে আমি মোটেও অবাক হইনি। কারণ গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে যে একটা গোষ্ঠীর হাতে এ ধরনের সম্পদ সৃষ্টি হচ্ছে সেটা আসলে দেখাই যাচ্ছে। এই সমপদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া তো একদিনে তৈরি হয়নি। এটা কয়েক দশক ধরেই হয়েছে। এখন এটি আরো দ্রুততর হচ্ছে।’
‘অতি ধনী’ বৃদ্ধির দৌড়ে চীন ও ভারতকে পেছনে ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চীন এবং ভারতে এক সময় যে রকম দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে, সেখান থেকে অবস্থা একটু স্তিমিত হয়ে এসেছে। সেটা একটা কারণ। আরেকটা কারণ হচ্ছে বাংলাদেশে ধনী এবং গরিবের মধ্যে যে তফাৎ, এই তফাৎ অনেক বাড়ছে। বাংলাদেশে সম্পদের একটা কেন্দ্রীভবন হচ্ছে। অর্থাৎ উপরের দিকে যারা আছে তারা সম্পদশালী হচ্ছে ক্রমান্বয়ে। নিচের দিকে যারা আছে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি যতটা না হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি উন্নতি হচ্ছে উপরের দিকে যারা তাদের। উপরের পাঁচ শতাংশের হাতে আরো বেশি করে সমপদ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। বাংলাদেশের ‘অতি ধনীরা’ কীভাবে সম্পদ অর্জন করছেন, এ প্রশ্নের উত্তরে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, মূলত শিল্প খাত এবং সেবা খাত, এই দুটি খাতেই তারা বিনিয়োগ করছে। শিল্প খাতে তৈরি পোশাক শিল্প, ওষুধ শিল্প, জাহাজ ভাঙা শিল্প, চামড়া শিল্পে অনেকে বিনিয়োগ করেছেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে এখন ভৌত অবকাঠামো সৃষ্টির একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখানে অনেক বড় বড় প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্পের সঙ্গে যারা জড়িত আছে, তাদের সবারই কিন্তু এখানে একটা সম্পদ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর তার পাশাপাশি সেবা খাতেও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তিও একটি বিকাশমান খাত হিসেবে এসেছে। অতি ধনী বৃদ্ধির পেছনে দুর্নীতির কোনো ভূমিকা আছে কিনা এ বিষয়ে ড. ফাহমিদা বলেন, ‘এ সম্পর্কে তো কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে এশিয়া বা আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেটা হয়, যাদের হাতে সম্পদ আসে, সেটার পেছনে রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যের একটা বড় ভূমিকা থাকে। রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য যারা পায়, বা যাদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার যোগাযোগ থাকে, প্রাথমিকভাবে তারাই সমপদের মালিক হয়। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেহেতু সুশাসনের অভাব থাকে বা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা থাকে, তখন এই সুযোগটা একটা বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে রয়ে যায়। খুব ক্ষুদ্র একটা গোষ্ঠী সম্পদের মালিক হয়, যাদের সঙ্গে প্রভাবশালীদের যোগাযোগ থাকে।
প্রতিষ্ঠানটির ‘ওয়েলথ অ্যান্ড ইনভেস্টেবল অ্যাসেটস মডেলের’ মাধ্যমে ব্যক্তিগত মোট সম্পদের আনুমানিক তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি সম্পদের মালিকানা ও বিনিয়োগযোগ্য সম্পদের বিবেচনায় জনসংখ্যার তুলনামূলক একটি চিত্রও এতে উঠে আসে। বৈশ্বিকভাবে সম্পদের এ ধরনের বিশ্লেষণ ছাড়াও শীর্ষ ৭৫টি অর্থনীতির দেশে সম্পদের ব্যাপ্তি ও প্রবৃদ্ধি ওয়েলথ-এক্সের গবেষণার বিষয়বস্তু। প্রতিবেদন তৈরিতে দুটি ধাপে তথ্য বিশ্লেষণ করে ওয়েলথ-এক্স ইনস্টিটিউট। প্রথম ধাপে ইকোনমেট্রিক কৌশল ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে পুুঁজিবাজারের আকার, জিডিপি, করহার, আয় ও সঞ্চয়ের তথ্য সংগ্রহ করে তারা। তথ্যের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরিসংখ্যান সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষকে। দ্বিতীয় ধাপে জনপ্রতি সম্পদের পরিমাণ হিসাব করা হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সম্পদের বণ্টন সংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতি থাকায় সংশ্লিষ্ট দেশে মানুষের আয় বণ্টনের হিসাব বিবেচনায় নেয়া হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কাছে থাকা বিশ্বব্যাপী অত্যধিক সম্পদশালী ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করা হয়। এতে আর্থিক স্থিতি, কর্মজীবন, ঘনিষ্ঠ সহযোগী, পারিবারিক তথ্য, শিক্ষাজীবন, আগ্রহ, শখসহ সম্পদশালীদের ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি অর্জিত সম্পদের বিনিয়োগ ও ব্যয়প্রবণতার তথ্যও বিবেচনায় নেয়া হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্পদের প্রকৃত ও গ্রহণযোগ্য চিত্র তুলে ধরে ওয়েলথ-এক্স।

মানসিক আঘাতে বিধ্বস্ত নওয়াজ শরীফ

একের পর এক আঘাতে বিধ্বস্ত পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। প্রথমে তিনি দুর্নীতির অভিযোগে হারিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীত্ব। তারপর এ বছর ওই মামলায় তার, মেয়ে মরিয়ম ও জামাই মোহাম্মদ সফদারের বিরুদ্ধে জেল দেয় আদালত। সেই জেলের রায় মাথায় নিয়েই তিনি পাকিস্তানে ফেরেন। তাকে বিমানবন্দর থেকেই গ্রেপ্তার করে নেয়া হয় জেলে। এরপর তার দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএলএন) ক্ষমতা হারায়। সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে মঙ্গলবার। এদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত তার সহধর্মীনি কুলসুম নওয়াজ মারা যান। এ আঘাতে একেবারে ভেঙে পড়েছেন তিনি, মেয়ে মরিয়ম। অনলাইন ডন জানাচ্ছে, মৃত কুলসুমের প্রথম জানাজা লন্ডনে হবে বৃহস্পতিবার। এরপর তার দেহ বিমানে করে আনা হবে লাহোরে। সেখানে জাতি উমরায় দাফন করা হবে তাকে। এ জন্য রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি থাকা নওয়াজ শরীফ, মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ ও জামাই অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সফদারকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার কুলসুম মারা যাওয়ার কয়েক ঘন্টা পরেই তাদেরকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, তারা ১২ ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্ত থাকবেন। তবে ডন বলছে, এই প্যারোল শুক্রবার বিকালে জাতি উমরায় বেগম কুলসুমকে দাফন না করা পর্যন্ত বর্ধিত করা হতে পারে। তাদেরকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয় পাঞ্জাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে। এরপর মুক্ত নওয়াজদেরকে সেই নূর খান বিমানঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখান থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তাদের কমপক্ষে ৫ দিনের প্যারোলে মুক্তি দাবি করে আবেদন করেছিলেন নওয়াজ শরীফের ভাই ও পিএমএলএনের প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরীফ। কিন্তু প্যারোল অনুমোদন করা হয়েছে ১২ ঘন্টার জন্য। সরকারের একটি সূত্র বলেছেন, লাহোরে শরীফ পরিবারের আবাসিক এলাকা জাতি উমরায় বেগম কুলসুমের দাফন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্যারোলের মেয়াদ বাড়াবে পাঞ্জাব সরকার। ওদিকে পিএমএলএনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আরো একটি আবেদন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ওই আবেদনে জাতি উমরা বাসভবনকে একটি সাবজেল ঘোষণা করে সেখানে শরীফদের থাকার অনুমতি চাওয়া হবে।
কুলসুম নওয়াজ অনেকদিন ধরেই অসুস্থ। গত বছর আগস্টে তার গলায় ক্যান্সার ধরা পড়ে। ১৫ই জুন তার কার্ডিয়াক এরেস্ট হয়। তাকে দ্রুত লন্ডনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর থেকে মৃত্যৃর শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন। পরিবারের সূত্র মতে, রোববার রাত থেকে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রাখা হয় লাইফ সাপোর্টে। কিন্তু কুলসুম আর ফিরতে পারেন নি। মঙ্গলবার তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্র আরো বলেছে, দলের সভাপতি ও জাতীয় পরিষদের বিরোধী দলীয় নেতা শাহবাজ শরীফ ও তার ছেলে হামজা শাহবাজ লন্ডন যেতে পারেন। লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক মসজিদে বৃহস্পতিবার প্রথম নামাজে জানাজা হবে। তারা তাতে যোগ দিতে চান। সেখান থেকে লাহোরে নিয়ে আসা হবে দেহ। তবে তার সঙ্গে পাকিস্তানে আসবেন না ছেলেরা। মৃতদেহের সঙ্গে থাকবেন শরীফ দম্পতির কন্যা আসমা, নাতনী জাক্রিয়া শরিফ।

মডেলের অশ্লীল কাণ্ড

পরনে শাড়ি আর ব্লাউজ। চিরাচরিত শাড়ি পরেই মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু, সেখানে গিয়ে মুম্বইয়ের মডেল যা করলেন, তা ভাইরাল হতে বেশি সময় লাগেনি। আর ওই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই নেটিজেনদের একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় ওই মডেলকে। সম্প্রতি উজ্জয়িনের মহাকাল মন্দিরে হাজির হন মুম্বইয়ের এক মডেল। মন্দিরে হাজির হয়ে বলিউডের গানে কোমর দোলাতে দেখা যায় তাকে। শুধু তাই নয়, মন্দিরের মধ্যেই এই মডেল অশ্লীলভাবে পোজ দিয়েছেন বলেও নেটিজেনদের একাংশ তাকে আক্রমণ করতে শুরু করে। এই মুহূর্তে মুম্বইয়ের এই মডেলের ৪টি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হবে বলেও মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে।

বরখাস্ত হতে পারেন তেরেসা মে’!

ব্রেক্সিট নিয়ে ঘোরতর বিপদে রয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’। এবার গুঞ্জন উঠেছে তেরেসা মে’ বরখাস্ত হতে পারেন। এজন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তার দল কনজারভেটিভ পার্টিরই প্রায় ৫০ জন পার্লামেন্ট সদস্য। বিবিসি’র উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কনজারভেটিভ পার্টির প্রায় অর্ধশত সদস্য মঙ্গলবার রাতে বৈঠকে বসেন।
কখন ও কীভাবে তেরেসা মে’কে দল থেকে বহিষ্কার করা যায় সে বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে আলোচনা করেন তারা। আর দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার অর্থ হলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব চলে যাওয়া। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে উৎখাত করতেই প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন কনজারভেটিভ পার্টির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য।
বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়,  ব্রেক্সিট ইস্যুতে ইইউ’র প্রতি আরো কঠোর নীতি অনুসরণের পক্ষে অবস্থান নেয়া কনজারভেটিভ পার্লামেন্টারিয়ানদের সংঘ ইউরোপিয়ান রিসার্চ গ্রুপের সদস্যরা মঙ্গলবার বৈঠকে বসেন। তারা প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেন। সেখানে এমন কথাও উঠে যে, ‘তেরেসা মে’ একটি দুর্যোগ। এটা চলতে দেয়া যায় না।’ এমনকি অংশগ্রহণকারী সদস্যরা তেরেসা মে’র প্রতি অনাস্থা পত্র জমা দিয়েছেন বলেও বৈঠকে জানান।
কনজারভেটিভ পার্টির নিয়ম অনুসারে, যদি ১৫ শতাংশ পার্লামেন্টারিয়ান দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে, তাহলে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে ভোটের আয়োজন করা হবে। বর্তমানে বৃটিশ পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ পার্টির আসন সংখ্যা ৩১৫। সে বিবেচনায় ৪৮ জন পার্লামেন্টারিয়ান তেরেসা মে’র প্রতি অনাস্থা জানালেই তেরেসা মে’ তার ক্ষমতা হারাবেন।
তবে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের অনেকে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র পক্ষেও কথা বলেছেন। জ্যাকব রিস মগ নামের এক কনজারভেটিভ পার্লামেন্টারিয়ান বলেন, ব্রেক্সিট নীতির পরিবর্তন দরকার। কিন্তু আমি তেরেসা মে’কে সমর্থন করি। তিনি খুবই কর্তব্যপরায়ণ, তার প্রতি আমার সমর্থন আছে। আমি শুধু চাই, তিনি তার নীতি পরিবর্তন করুক।’
বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র এ প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চেকার্সের ব্রেক্সিট পরিকল্পনাই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পরিকল্পনা। তবে দ্য সানের খবরে বলা হয়েছে, ইইউ যদি চেকার্সের ব্রেক্সিট পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে বিকল্প আরেকটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে বৃটেন।  সে পরিকল্পনার রূপরেখা নির্ধারণের কাজ চলছে বলেও নিশ্চিত করেছে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।

মিশরের প্রেসিডেন্ট সিসিকে খুনি বলেছেন ট্রাম্প! -বব উডওয়ার্ডের বইয়ে তথ্য

মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিকে নিয়ে মস্করা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তাকে একজন ‘ফাকিং’ কিলার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ‘ফিয়ার: ট্রাম্প ইন দ্য হোয়াইট হাউজ’ বইয়ে এমন মন্তব্য করেছেন ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি উদঘাটনকারী বিখ্যাত সেই সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড। তার ওই অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের বিদায় ঘন্টা বেজে যায়। তিনি পদ ছাড়তে বাধ্য হন। সেই বব উডওয়ার্ড এবার বই লিখেছেন ট্রাম্পকে নিয়ে। ওই বইটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।
তা উদ্ধৃত করে অনলাইন আল জাজিরা লিখেছে, মিশরের রাজধানী কায়রোতে আটক ছিলেন মিশরিয় বংশোদ্ভূত মার্কিনি আয়া হিজাজি। তার মুক্তি নিশ্চিত হওয়ার পর আল সিসিকে নিয়ে ওই মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প।  বইটিতে উডওয়ার্ড দাবি করেছেন, আয়া হিজাজিকে মুক্তির বিষয়ে মিশরের প্রেসিডেন্ট আল সিসির সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে ট্রাম্প আলোচনা করছিলেন তখনকার হোয়াইট হাউজের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা জন দাউদের সঙ্গে। বলা হয়েছে, ওই সময় দাউদকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘মনে রাখুন আমি কার সঙ্গে আলোচনা করছি। ওই ব্যক্তিটি হলো একটি ‘ফাকিং’ কিলার। আমি এটা শেষ করে এনেছি। সে আপনাকে ফোনে পেলে ঘামিয়ে ছাড়বে।
২০১৭ সালের এপ্রিলে হিজাজিকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়। মানব পাচারের অভিযোগে প্রায় তিন বছর বন্দি থাকার পর তিনি মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো বোগাস বা বানোয়াট বলে প্রত্যাখ্যান করে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে হোয়াইট হাউসে আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিকে আমন্ত্রণ জানান ট্রাম্প, এ কাজটি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কখনো করেন নি।
আল সিসিকে ট্রাম্প একজন ফ্যান্টাস্টিক গাই বলে আখ্যায়িত করেন । এর এক বছরের কম সময় পরে আল সিসি মিশরের নির্বাচনে শতকরা ৯৭ ভাগ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এরপর ফোন করে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান ট্রাম্প। ব্যাপক প্রচারণা পাওয়ার পর মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে উডওয়ার্ডের ওই বইটি। এতে ওভাল অফিসের ভিতরের উচ্চ মাত্রার জীবনযাপন নিয়ে সমালোচনামুলক তথ্য রয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত চরিত্র।
বলা হয়েছে তার চরিত্র ভয়াবহভাবে ত্রুটিপূর্ণ। এতে আরো বলা হয়েছে গত এপ্রিলে রাসায়নিক হামলার পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। ওই বইয়ে বলা হয়েছে, একবার ট্রাম্প বলেছিলেন- চলো আমরা তাকে হত্যা করি। শুরু করা হোক। চল তাদের অনেককে হত্যা করি।
বইটি প্রকাশের প্রাক্কালে ট্রাম্প টুইটারে উডওয়ার্ডের বইয়ের নিন্দা জানিয়েছেন। বলেছেন, এটা একটি ফিকশন বই।

জাতিসংঘের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে গেছেন ফখরুল: বৃহস্পতিবার একটি বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে নিউইয়র্ক গেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার রাত পৌনে দুইটায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যান তিনি। মির্জা আলমগীরের সঙ্গে গেছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। বিএনপির আরও দুয়েকজন নেতা নিউইয়র্ক যাওয়ার কথা রয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে গিয়ে সে বৈঠকে অংশ নেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠেয় এক বৈঠকে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি, খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির পর্যবেক্ষণ ও মতামত তুলে ধরবেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্র্কে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থাটির রাজনীতিবিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিরোস্লাভ জেনকার সঙ্গে এ বৈঠক করবেন বিএনপি নেতারা। এছাড়া সফরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধি দলের একটি বৈঠক হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত ২৪শে আগস্ট জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে রাজনীতিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনকা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বরাবর একটি চিঠি পাঠান। এতে জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফরে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে দলটির নেতাদের জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আমন্ত্রণ জানানো হয়। দেশের প্রধান দুই নেত্রীর বাইরে বাংলাদেশে একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মহাসচিবকে জাতিসংঘ মহাসচিবের চিঠি দেওয়া বা আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনা এই প্রথম। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে- দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আগামী জাতীয় নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপি, ২০ দলীয় জোট ও বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর যেসব দাবি রয়েছে তার পক্ষে তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি তুলে ধরে বৈঠকে উপস্থাপনের একটি লিখিত বক্তব্যও তৈরি করেছে বিএনপি। বিশেষ করে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৫টি সিটি নির্বাচনের ওপর ভিত্তি করে- ম্যানিপুলেশন অ্যান্ড ইনটিমিডেশন, হাউজ অব কার্ডস, এ নিউ মডেল অব ম্যানিপুলেটেড ইলেকশন, টেল অব ডেসপায়ের ও দ্য পাওয়ার প্লে- শীর্ষক ৫টি আলাদা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সেসব প্রতিবেদনে বর্তমান সরকার কিভাবে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম করে তার কৌশল ও চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্রিকার খবর ও ছবিও উপস্থাপন করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার বিচার প্রক্রিয়া, তার মুক্তি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়া এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম, মামলা ও গ্রেপ্তার হয়রানির বিষয়গুলোও জাতিসংঘকে অবহিত করা হবে।
তবে জাতিসংঘের চিঠি, নেতাদের আমন্ত্রণ ও মহাসচিবের নিউইয়র্ক যাত্রা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন বক্তব্য দেয়নি বিএনপি। এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কিছু বলতেও রাজি হননি দলটির নেতারা। বিষয়টি জানেন না বলেই জানিয়েছেন দলের সংশ্লিষ্ট সিনিয়র নেতারা। বিএনপি স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, সোমবার দলের ভাইস চেয়ারম্যানদের সঙ্গে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে একজন নেতা জাতিসংঘের চিঠির বিষয়টি জানতে চান। এ সময় চিঠির বিষয়টি নেতাদের জানান মির্জা আলমগীর। তিনি জানান, বিষয়টির দেখভাল করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকের সার্বিক বিষয়গুলো অবহিত করতে নিউইয়র্ক থেকে লন্ডনে যাবেন মির্জা আলমগীর। দলের স্থায়ী কমিটির অন্য একজন সদস্য জানান, বিএনপি মহাসচিবসহ দলের নেতাদের জাতিসংঘে যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ হলে সরকারের তরফে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। তাই বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি। বিএনপি মহাসচিব দেশে ফেরার পর পুরো বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার বলেন, কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, মানবাধিকারসহ সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চেয়ে জাতিসংঘের পাঠানো একটি চিঠি পেয়েছিল বিএনপি। নতুন করে চিঠির কথা বা মহাসচিবের নিউইয়র্ক যাত্রার বিষয়টি এখন পর্যন্ত আমি জানি না।  
আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে একটি চিঠি দিয়েছিল বিএনপি। সেই চিঠিতে অংশগ্রহণমুলক নির্বাচনের পথে কী কী বাধা রয়েছে তা তুলে ধরার পাশাপাশি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলায় সাজা-পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতিও তুলে ধরেছিল বিএনপি। চিঠিতে বলা হয়েছিল, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির মতো একতরফা আরেকটি নির্বাচনের পথে অগ্রসর হচ্ছে সরকার। এছাড়াও আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অব্যাহত মামলা ও গ্রেপ্তার এবং গুম-খুনসহ মানবাধিকার বিষয়ে কয়েক দফায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ব্রিফ করেছে বিএনপি। সম্প্রতি ঢাকায় কূটনীতিকদের ডেকে অন্তত তিন দফা পরিস্থিতি জানিয়েছে বিএনপি নেতারা। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের তরফে চিঠি পায় বিএনপি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুন বাংলাদেশের দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে দুই দফা চিঠি দিয়ে সংলাপে বসার তাগিদ দিয়েছিলেন। একই বছরের ২৩শে আগস্ট দুই নেত্রীর সঙ্গে সরাসরি টেলিফোন করে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছিলেন বান কি মুন। তারই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের সহকারি মহাসচিব ও সংস্থাটির মহাসচিবের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো সে সময় তিনবার বাংলাদেশ সফর করে প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। তারানকোর মধ্যস্থতায় ২০১৪ সালের ১০ ও ১১ই ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা কয়েকবার বৈঠকেও বসেন। কিন্তু সে বৈঠকের মাধ্যমে তখন কোন ঐক্যমত্যে পৌঁছোতে পারেননি আওয়ামীলীগ-বিএনপির নেতারা।

‘জুঁইর’ এখন কেউ চিনে নাঃ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বর্ষাতি আজ বিলুপ্তির পথে

যান্ত্রিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কৃষি ও গৃহসামগ্রী। আধুনিকতার কাছে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার এক সময়ের জনসাধারণের বৃষ্টি থেকে বাঁচার প্রধান মাধ্যম বাঁশ ও বেতের তৈরি ‘জুঁইর’ বা জোংলা। (মাথাসহ পিঠ ঢাকার এক ধরনের বর্ষাতি)। এক সময় বর্ষা মৌসুমে ধুমধামের সঙ্গে তৈরি হতো জুঁইর। ব্যস্ত সময় পার করতেন এর নির্মাতা গ্রামীণ কারিগরেরা। এখন তাদের আর হাট-বাজারে দেখা যায় না। অনেকটা বেকার সময় পার করছেন তারা। গ্রামগঞ্জে এখন পুরোপুরি যান্ত্রিক ঢেউ লেগেছে। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঁশ ও বেতের তৈরি ‘জুঁইর’। বাগেরহাটের গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘জুঁইর’ আজ বিলুপ্তির পথে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিনদিন জুঁইর কদর কমে যাচ্ছে। গ্রামবাংলার কৃষকদের বাড়ি থেকেও হারিয়ে যাচ্ছে এ শিল্পটি।
হাতেগোনা দু-একজন জেলে ও কৃষকের বাড়িতে বাঁশ ও বেতের তৈরি বৃষ্টি থেকে বাঁচার অন্যতম সম্বল প্রাচীনতম বর্ষাতি ‘জুঁইর’ এখনও মাঝে-মধ্যে চোখে পড়ে। জেলার কচুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামের বৃদ্ধ দেলোয়ার হোসেন জানান, এক সময়ে জুঁইর খুব কদর ছিল। কিন্তু এখন কয়েক গ্রাম খোঁজ করেও একটি জুঁইর পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ জুঁইর বিলুপ্তির পথে। একই ইউনিয়নের বারুইখালী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য জগদিশ চন্দ্র সাহা জানান, বাবা-ঠাকুরদার ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী জুঁইর স্মৃতিস্বরূপ ঘরে রেখে দিয়েছি দীর্ঘসময় ধরে। কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নের ভাষা গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি, এক সময়ের জুইর তৈরির কারিগর রহম তরফদার বলেন, এক সময় জুঁইর তৈরি করে তার সংসার চলত। বর্তমানে এর ব্যবহার কমে যাওয়ায় তিনি এ কাজ আর করেন না। তাই শেষ জীবনে অনেকটা বেকার সময় পার করছেন বলেও জানান তিনি। গ্রামীণ জনপদের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে বাপ-দাদার মাটি ও কুঁড়েঘরের বদলে ইটের বাড়িঘর তৈরি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকে বাড়িতে জুঁইর রাখতে চায় না। কচুয়া উপজেলার গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান এস এম আবুবকর ছিদ্দিক জানান, জুঁইর এক সময়ে খুবই প্রয়োজনীয় একটি শিল্প ছিল। কালের পরিবর্তনে এখন আর জুঁইর দেখা যায় না। জুঁইর বললে এখনকার অনেকে চিনবেও না। বলতে গেলে এটি এখন বিলুপ্তপ্রায়।

এক বছরে তৈরি হবে ক্যানসারের ‘ডিভাইস’ by ওয়েছ খছরু

এক বছরের মধ্যে তৈরি হবে ক্যানসার শনাক্তকরণ ‘ডিভাইস’। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল ক্যানসার শনাক্তকরণ প্রযুক্তি আবিষ্কারের পর এখন ডিভাইস ও ডাটাবেজ তৈরির ওপর মনোযোগ দিয়েছেন। কাজ এগিয়ে গেছে অনেক দূর। আগামী এক বছরের মধ্যে ডিভাইসটি সহজলভ্য করা হবে। তাদের টার্গেট হচ্ছে প্রথমে দেশের ভেতরেই কমমূল্যে সেটি পৌঁছানো। এ লক্ষ্যে এখন কাজ চলছে। গতকাল সকালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও গবেষক ড. শরীফ মো. শরাফউদ্দিন মানবজমিনের কাছে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘ক্যানসার শনাক্তকরণের গেইটওয়ে খোলা হয়েছে। এটি কোন স্টেইজে, কোন অবস্থায় রয়েছে এবং সেটির ক্ষতির পরিমাণ কতটুকু- এসব বিষয়ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করতে গবেষণা চলছে। তবে ডিভাইস ও ডাটাবেজ তৈরিতে এখন মনোযোগ সবচেয়ে বেশি। গবেষণা দলের সব সদস্য এখন ডিভাইস তৈরির দিকে মনোযোগ দিয়েছেন।’
গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য ড. শরীফ জানান, ‘এখন জাতীয় ক্যানসার হাসপাতাল থেকে তাদের ল্যাবে রক্ত পাঠানো হয়। এবং সেটি পরীক্ষা করার পর রিপোর্ট দেয়া হয়। ল্যাবের বাইরে সেই পরীক্ষা করতে হলে ডিভাইস জরুরি। এক ডিভাইসের মধ্যে পরীক্ষার যাবতীয় উপাদান সংযুক্ত করে সেটি পরিপূর্ণ করতে হবে। পাশাপাশি যাতে কমমূল্যে সবাই এর সুফল ভোগ করতে পারে সেটিও দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।’ বায়োকেমিক্যাল নয়, অপটিক্যাল পদ্ধতির মাধ্যমে ক্যানসার শনাক্ত করার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের গবেষণার আলোকিত একটি অধ্যায়। আর এই অধ্যায়ের শুভ সূচনা ঘটালেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরা। এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. ইয়াসমীন হক। এই গবেষণা দলকে সহযোগিতা করেছেন কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. জাফর ইকবালও। এই গবেষণায় অংশ নিয়ে দুইজন পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
গবেষণার শুরুর গল্পটা ভালো ছিল না। ১৯৯৬ সাল থেকে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে এই গবেষণা নিয়ে পরিকল্পনা শুরু হয়। আর এই পরিকল্পনার অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন তখনকার তরুণ শিক্ষক ড. শরীফ মো. সরাফউদ্দিন। প্রফেসর ড. জাফর ইকবাল ও প্রফেসর ড. ইয়াসমিন হকের অনুপ্রেরণায় নিজেরাই গবেষণা শুরু করেন। কিন্তু গবেষণার যন্ত্রপাতি উচ্চ মূল্য থাকায় সেটি ধীরগতিতে এগোয়। পরবর্তীতে ২০১১ সাল থেকে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় গবেষণার কাজ পুরোদমে শুরু হয়। আর ২০১৫ সালের দিকে এসে সেটি প্রজেক্টর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এবং অত্যাধুনিক ল্যাব তৈরিতে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক।
প্রফেসর ড. ইয়াসমীন হক জানিয়েছেন, ‘গবেষণার মূলপর্ব শুরুর পর টার্গেট ধরা হয়েছিল ৫ বছর। কিন্তু সোয়া দুই বছরের মাথায় তারা ক্যানসার শনাক্তকরণের প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন। রক্ত সংগ্রহের পর কোনো বাড়তি কেমিক্যাল না মিশিয়ে অপটিক্যাল লেজারের মাধ্যমে তারা ক্যানসার নির্ণয় করতে পারছেন।’ ৫০০ টাকার বিনিময়ে মাত্র ৫ মিনিটে ক্যানসার শনাক্তকরণের এ প্রক্রিয়া দেশের ইতিহাসে প্রথম। মেথড অ্যান্ড সিস্টেম বেজড ননলিনিয়ার অপটিক্যাল ক্যারেকটারিস্টিক অব বডি ফ্লুয়িড ফর ডায়াগনোসিস অন নিওপ্লাসিয়া’ শিরোনামের এই প্রযুক্তির পেটেন্টের জন্য বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান গবেষকরা।

ভৌতিক মামলা নতুন ভয়

ঘটনা ঘটেনি, কিন্তু মামলা করেছে পুলিশ। কোথায়, কার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বাদী নিজেই জানেন না। আবার দুই বছর আগে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে আসামি করেও মামলা হয়েছে থানায়। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন থানায় এমন গায়েবি মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বিতর্কিত এসব মামলা নিয়ে আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বমহলে। বেশির ভাগ মামলার আসামি বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের অভিযোগ, নির্বাচন সামনে রেখে ভীতির পরিবেশ তৈরির জন্য এসব গায়েবি মামলা দায়ের হচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বিরোধী মতকে দমন ও সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে পুলিশ উৎসাহিত হয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য এসব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা উচিত বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহদীন মালিক বলেন, এটা তো এখন স্পষ্ট যে পুলিশের একটা বড় অংশ সরকারি দলের বাহিনী হয়ে গেছে। এই অংশ অপরাধ দমন থেকে সরকারি দল নির্বাচনে যেন জিততে পারে সেটাই তাদের মুখ্য কার্যক্রম বলে মনে হচ্ছে। এটা পুলিশের আইনগত দায়িত্বের সম্পূর্ণ বরখেলাপ। জেনেশুনে এভাবে মিথ্যা মামলা এটা ফৌজদারি আইনে অপরাধও। ভিকটিমরা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিতে পারে। তবে এখন আদালতের কাছ থেকে খুব বেশি প্রতিকার পাবে বলে এই মুহূর্তে প্রত্যাশা করি না। গত মঙ্গলবার যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। সেখানে বাদী হিসেবে যে ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে তিনি নিজেই মামলা সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন।
বুধবার পুরান ঢাকায় কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে দায়ের করা অপর এক মামলার আসামি দুই বছর আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। মামলার আরেক আসামি হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান কথিত ঘটনার আগেই। গণমাধ্যমের কাছে স্থানীয়রা দাবি করেছেন, মামলায় উল্লেখিত সময়ে কারাগার এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাই ঘটেনি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে হবিগঞ্জে কেউ মাঠে না নামলেও সেখানে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গত ৩০শে জুলাই হবিগঞ্জ শহরের জে কে অ্যান্ড হাইস্কুলের সামনে আসামিরা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, যানবাহন ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা করেছে-এমন অভিযোগে পুলিশ মোট দশটি মামলা করেছে। বিশেষ আইনে দায়ের করা এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এসব মামলার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন। তিনি বলেন, প্রথমত, এই ধরনের মামলায় ধারণা করা যায়, বিরোধী শক্তিকে ঘায়েল করার হাতিয়ার হিসেবে ভবিষ্যতে যাতে ব্যবহার করা যায় সেজন্য হতে পারে। দ্বিতীয়ত, এসব মামলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা এবং অর্থ উপার্জনের একটা পথও খুলতে পারে। তৃতীয়ত, সমাজে এক ধরনের ভয়, ভয়ার্ত পরিবেশ তৈরি করে রাখা। যেহেতু আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নির্বাচন। সেই কারণে এই মামলাগুলো হয়তো জনগণের বাক-স্বাধীনতা রহিত করার জন্য ব্যবহৃত হওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে।
এই মানবাধিকার কর্মী আরো বলেন, যে ঘটনা ঘটেনি বা একটা ছোট্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটা বড় ধরনের অজ্ঞাতনামা মামলার উদ্দেশ্য কখনো ভালো হতে পারে না। সরকারের বা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি নজরে আসা উচিত। এই ধরনের মামলা যদি হয়ে থাকে, যারা এইসব মামলা তৈরি করে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এটা জনগণকে হয়রানি বা অর্থ উপার্জন যে কারণেই হোক না কেন এসব থেকে পুলিশ বাহিনীকে রক্ষা করা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব। বিরোধী দলমতকে কোণঠাসা করার জন্য করে থাকলেও সেটা খারাপ। গত শনিবার রাজধানীতে এক মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যে মামলা হচ্ছে সেগুলোর কথা একই রকমের। মনে হয় যেন ফরমেট তৈরি করে দিয়েছে, সেই ফরমেটে এজাহার তৈরি করা হয়েছে। তারা নিজেরাই কিছু ককটেল-টকটেল ফুটাচ্ছেন, ফুটিয়ে সবকিছুর অবশিষ্টাংশ নিচ্ছেন, রাস্তা থেকে কয়েকটা পাথর কুড়িয়ে নিচ্ছেন, কয়েকটা লাঠি আনছেন, বলছেন আলামত পাওয়া গেছে। আসলে সেখানে কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

আসামের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে যা বললেন অনুপ চেটিয়া

অনেকদিন পর মুখ খুললেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বহুল আলোচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে পরিচিত অনুপ চেটিয়া। তিনি আসামে বিজেপি সরকারের গৃহীত নাগরিকপঞ্জী নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। করেছেন ব্যাপক সমালোচনা। বলেছেন, এই নাগরিকত্ব বিল অবৈধ অভিবাসী ইস্যুকে শুধুই আরো জটিল করবে। এর মধ্য দিয়ে পরেশ বড়ুয়া ও তার অস্ত্রের আহ্বানকে আরো শক্তিশালী করবে। তার একটি সাক্ষাৎকার ভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের দ্য হিন্দুর বিজনেস লাইন। তাতেই এসব কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, নাগরিকপঞ্জী নিয়ে যতটাই হয়েছে সেখান থেকে পিছনে ফিরে যাওয়ার পক্ষে কথা বলেছেন উলফা ও এজিপি নেতারা। পূর্ণিমা যোশীর লেখা ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপির জাতীয় পর্যায়ের নেতারা আসামে সংশোধিত নাগরিকত্ব বিল এনেছেন। এতে আসামের সমাজ ব্যবস্থায় উপ-জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। তা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা।
এতে বলা হয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার উদারপন্থি শাখার প্রধান বর্তমানে অনুপ চেটিয়া। তিনি বিজনেস লাইনকে বলেছেন, এই বিল ‘পরেশ বড়ুয়ার হাতকে শক্তিশালী করবে। তিনি অস্ত্রের জন্য যে আহ্বান জানিয়েছেন তাকে শক্তিশালী করবে। এখানে উল্লেখ্য, ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম যার সংক্ষিপ্ত নাম উলফা তা এখন নিষিদ্ধ। এই শাখার প্রধান হলেন পরেশ বড়ুয়া।
অনুপ চেটিয়া বলেছেন, বিজেপি বাংলাদেশি হিন্দু ভোটার ব্যাংককে খুশি করার চেষ্টা করছে। এসব হিন্দু ভোটব্যাংকের অনেকেই আসামের নাগরিকত্ব বিষয়ক ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেনস (এনআরসি)-এ অন্তর্ভুক্ত হননি। এসব করা হচ্ছে একটি লেজিসলেশন বা আইনের মাধ্যমে যা, আসাম চুক্তির বিরুদ্ধে যায়। বাংলাদেশিদের সহায়তা করতে গিয়ে আসামীয়দের পরিচয়কে খর্ব করছে বিজেপি। তারা হিন্দু ও মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের আলাদা করতে চায়। ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের মধ্যে যারা এনআরসিতে নেই তার মধ্যে রয়েছেন বিপুল সংখ্যক হিন্দু। সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিলের মাধ্যমে বিজেপি ১৯৭১ সালের জন্য নির্ধারিত তারিখকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ব্যবহার করছে শুধু বাংলাদেশি হিন্দুদের জন্য। তারা এমন একটি প্যারালাল প্রক্রিয়া চালু করতে চায়, যার মাধ্যমে আসামে নাগরিকত্বের ইস্যুটি আরো জটিল হয়ে উঠা ছাড়া কিছুই অর্জিত হবে না।
উল্লেখ্য, রোববার জাতীয় পর্যায়ে বিজেপির নির্বাহীদের বৈঠক হয়। তাতে আসামে এনআরসির চূড়ান্ত খসড়ার প্রশংসা করে একটি প্রস্তাব পাস করা হয়। তাতে জোর দিয়ে যেসব কথা বলা হয়েছে তা হলো- সব অনুপ্রবেশকারীকে সনাক্ত করা ও তাদের ফেরত পাঠানোই হলো বিজেপির মনোভাব। পাশাপাশি সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিলের মাধ্যমে বাংলাদেশে, পাকিস্তানে ও আফগানিস্তানে নির্যাতিত সব হিনদু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও শিখদের সুরক্ষা দিতে চায় তারা।
বিজেপির এমন কর্মকান্ডে আসামে বিদ্রোহ ও সশস্ত্র অস্ত্রধারীরা বিদ্রোহ করে বসতে পারে, পরিস্থিতি সেদিকে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অনুপ চেটিয়া। তবে বিজেপি জোটের অংশীদার এজিপি বলেছে, এমন কোনো দিকে পরিস্থিতি মোড় নিলে তারা তার প্রতিবাদ করবে। বিজনেস লাইনকে আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল কুমার মাহাতো বলেছেন, বিজেপির বিভক্তি সৃষ্টির কৌশলের বিরুদ্ধে তার দল দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিবাদ করবে। তিনি আরো বলেন, আগেই আমরা বলে দিয়েছি, তাদের (বিজেপি) উচিত হবে না স্পর্শকাতর রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে রাজনীতি খেলা। তারা যখন ১৯৭১ সালের আগে আসা লোকদের বিষয়ে প্রস্তাব করে তখন অংশীদারদের সবাই তা মেনে নিয়েছিল। এখানে এখন প্রশ্ন এসে যায়, এই ধাতা থেকে হিন্দুরা কি বাদ?
বাংলাভাষীদের বিষয়ে এবং সার্বভৌমত্বের বিষয়ে আসামীয়দের পরিচয় হুমকির মুখে বলে অনেকদিন ধরেই বেশ কিছু পার্টি ক্ষোভ প্রকাশ করছিল। তার মধ্যে উলফা অন্যতম। এখন এনআরসি থেকে বিপুল সংখ্যক হিন্দুকে বাইরে রাখার বিষয়ে বিজেপিও উদ্বিগ্ন। তারা চাইছে এসব হিন্দুকে নিশ্চয়তা দিতে যে, সিটিজেনশিপ বিলের মাধ্যমে তাদের সুরক্ষিত রাখা হবে। তবে তাদের সঙ্গে জোটে থাকা অন্যরা মনে করছে এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে। এতে আসামের মতো বিভক্ত সমাজে শুধুই বিশৃংখলা বাড়াবে।
ওদিকে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের উপদেষ্টা সমুজ্জল ভট্টাচার্য বলেছেন, যারা ১৯৭১ সালের পরে এসেছেন তাদেরকে ফিরে যেতেই হবে। এক্ষেত্রে আমরা পরিষ্কার। তাতে তারা হিন্দু, মুসলিম বা যেই হোন না কেন। আসাম হলো আসামীয়দের। আমরা নাগরিকত্ব নির্ধারণে ১৯৭১ সালকেই সময় ধরতে চাই। কিন্তু বিজেপি খেয়ালখুশিমতো কাজ করতে পারে না। তারা তাদের এজেন্ড চাপিয়ে দিতে পারে না।
উল্লেখ্য, অনুপ চেটিয়া নিষিদ্ধ উলফার জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। ১৯৯৭ সালের মার্চে তাকে প্রথম আসামে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তখনকার মুখ্যমন্ত্রী হিতেশ্বর সাইকিয়ার সময়ে মুক্তি দেয়া হয়। এরপরে ১৯৯৭ সালের ২১শে ডিসেম্বর তাকে ঢাকায় আটক করা হয়। তার কাছে বিদেশী মুদ্রা ও একটি স্যাটেলাইট ফোন পাওয়া যায়। অবৈধভাবে প্রবেশ, ১৬টি দেশের মুদ্রা ও অবৈধ অস্ত্র পাওয়ার কারণে তাকে ৭ বছরের জেল দেয়া হয়। রাখা হয় কাশিমপুর জেলে। ওদিকে ভারত সরকার তাকে ফেরত দেয়ার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করে। ২০১৫ সালের ১১ই নভেম্বর তাকে ভারতের হাতে তুলে দেয় বাংলাদেশ।

তালিকা থেকে বাদ পড়াদের বাংলাদেশে পাঠানোর হুমকি

নাগরিক তালিকা (এনআরসি)  থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির জেনারেল সেক্রেটারি রাম মাধব। তিনি বলেছেন, এসব অবৈধ বাংলাদেশি আসামে ভোটাধিকার পাবেন না। বিজেপি এই প্রথমবারের মতো স্পষ্টভাবে এমনটা ঘোষণা করলো। বিজেপির অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা রাম মাধব। তাকে নিয়ে বিবিসি লিখেছে, রাম মাধব বিজেপির নিছক একজন সাধারণ সম্পাদক মাত্র নন- দলের কাশ্মীর নীতি থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্ব ভারতের নীতি, সবই তিনি দেখাশোনো করেন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের সঙ্গে বিজেপির প্রধান সেতুও তিনি।
বিজেপির পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও দলের বাংলাদেশ বিষয়ক নীতি ও কর্মকাণ্ডও পরিচালিত হয় রাম মাধবের নির্দেশে। বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের বা এইচটি ইমাম, জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদ কিংবা জাকের পার্টির নেতা আমির ফয়সল মুজাদ্দেদি- দিল্লিতে যারাই আসুন না কেন, রাম মাধবের সঙ্গে তারা দেখা করবেন ধরেই নেয়া যায়। দিল্লিতে রাম মাধব ‘ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন’ নামে যে থিঙ্কট্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত, বাংলাদেশের নেতা-মন্ত্রী-নীতি নির্ধারকরাও সেখানে নিয়মিতই বিভিন্ন আলোচনাসভা বা সেমিনারে যোগ দিয়ে থাকেন। এ কারণেই রাম মাধব যখন এনআরসি থেকে বাদ পড়া লোকজনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলেন, সেটাকে আলাদা গুরুত্ব দিতে হয়।
রাম মাধবের পাশাপাশি আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল বলেছেন, অবৈধ বাংলাদেশি  শুধু আসামের সমস্যা নয়। এমন বাংলাদেশি ভারতের সর্বত্রই আছে। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খন্ড, বিজার ও দিল্লি মেট্রোপলিটন শহরগুলোও অবৈধ অভিবাসীদের কারণে নরক যন্ত্রণা সইছে। তাই সব রাজ্যে এনআরসি নিশ্চিত করা উচিত। সোমবার ‘এনআরসি: ডিফেন্ডিং দ্য বর্ডারস, সিকিউরিং দ্য কালচার’ শীর্ষক সেমিনারে এমন মন্তব্য করেছেন বিজেপির এই দু’নেতা। এ খবর দিয়েছে স্টার অনলাইন ও বিবিসি। এতে বলা হয়েছে, ভারতে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আসামের নাগরিকত্ব বিষয়ক এনআরসি ইস্যুতে প্রচারণা জোরালো করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এ ইস্যুতে তারা আসাম থেকে সারা দেশের রাজ্যগুলোতে তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে চায়।
ওই সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বিজেপির জেনারেল সেক্রেটারি রাম মাধন। তিনি বলেন, এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা থেকে যেসব মানুষ বাদ পড়েছেন তারা আসামে ভোটাধিকার পাবেন না এবং তাদেরকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এনআরসির অধীনে সব অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা নিশ্চিত করা হবে। আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ অভিবাসীদের নাম বাতিল করা বা মুছে ফেলা। তারপর সরকারের তরফ থেকে তারা যেসব সুযোগ সুবিধা পায় তার সবকিছু থেকে তাদের বঞ্চিত করা। তারপরই তাদের ফেরত পাঠানো হবে।
সেমিনারে সর্বানন্দ সনোয়াল বলেন, ভারতের জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক রাজ্য অধিক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রত্যক্ষ করছে। বিদেশি অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের দেশে প্রবেশ করে হুমকি সৃষ্টি করছে। তারা আমাদের সম্পদ থেকে তারা খাবার খাচ্ছে এবং আমাদের অধিকার তারা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। এটা আমাদের জন্য একটি বিগ চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জের জবাব আমার মনে হয়, সব রাজ্যের জন্য এনআরসি অত্যাবশ্যকীয়। প্রতিটি রাজ্যের এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া উচিত।
তিনি মনে করেন সব রাজ্যে আসামের মতো এনআরসি নেয়া হলে তা হবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে। ওই সেমিনারে রাম মাধন ও বিনয় সহস্রবুদ্ধের মতো বিজেপির সিনিয়র অন্য নেতাদের উপস্থিতিতে আসামে এনআরসি তালিকা চূড়ান্ত করা হলে যদি আসাম থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা অন্য রাজ্যগুলোতে ছড়িয়ে পড়েন তাহলে কি ঘটবে তা তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, ভারতে ১৯৫১ সালে প্রথম আসাম রাজ্যে এনআরসি প্রস্তুত করা হয়। তারপর থেকে এ তালিকা নবায়ন করা হচ্ছে। বিজেপি প্রধান অমিত শাহ দলের জাতীয় পর্যায়ের নির্বাহীদের উদ্দেশে একদিন আগে একটি বিবৃতি দেন। তাতে আসামে এনআরসির বিরোধীতা করার জন্য তিনি বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করেন। তিনি এদিন বলেন, বেশ কিছু শহরে অবৈধ অভিবাসী ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শনাক্তকরণ কর্মসূচি এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এদেরকে দেশ থেকে বের করে দেয়া হবে। তার বক্তব্যের একদিন পরেই আসামের মুখ্যমন্ত্রী সব রাজ্যে এনআরসির প্রস্তাব রাখলেন।
রোববার বিজেপির জাতীয় নির্বাহীদের বৈঠকে একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব পাস হয়। এতে আসামে এনআরসি চর্চা করার পক্ষে সুপারিশ করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার অধীনে তা আগ্রাসীভাবে বাস্তবায়নের জন্য সর্বানন্দ সনোয়ালের প্রশংসা করা হয় তাতে।
গত ৩০শে জুলাই আসামের চূড়ান্ত এনআরসি তালিকা প্রকাশ হয়। সেই তালিকার কথা তুলে ধরে সর্বানন্দ সনোয়াল বলেন, ওই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ৪০ লাখ মানুষ্‌ তারা আবার নাগরিকত্ব দাবি করে আবেদন করতে পারেন, তাদের আপত্তির কথা জানাতে পারেন। তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কারণ, প্রতিজন খাঁটি ভারতীয় নাগরিকের বিষয়ে সরকার যত্নশীল, তাদেরকে এনআরসিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কিনতউ এত বিপুলসংখ্যক মানুষ কীভাবে এনআরসি থেকে বাদ পড়লেন তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। এ বিষয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কাজ করতে গিয়ে এখানে-ওখানে ভুলত্রুটি হতেই পারে। তাই আবেদন ও আপত্তির প্রেক্ষিতে সরকার বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব সংশোধনের কাজ করে যাচ্ছে। এমন আবেদন বা আপত্তি যাচাই করা হচ্ছে। যদি কারো নাম এনআরসিতে না থাকে তার মানে এটা নয় যে তিনি বিদেশী বলে চিহ্নিত হবে।
সর্বানন্দ সনোয়াল আরো বলেন, সীমান্তকে যতক্ষণ নিরাপদ করা না যাবে ততদিন পর্যন্ত অভিবাসী সমস্যার সমাধান করা যাবে না। এক্ষেত্রে অতীতে সীমান্তকে সিল করে দিয়েছিল কংগ্রেস পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার। কিন্তু তারা ভুল পথে গিয়েছিল। কারণ, ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বিষয়ক কোনো চুক্তি ছিল না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের অধীনে বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত সিল করে দেয়া হচ্ছে।
ওই সেমিনারে রাম মাধব বলেন, ১৯৫০-৫১ সাল পর্যন্ত তখনকার জওয়াহারলাল নেহরু নেতৃত্বাধীন সরকার অভিবাসন বিষয়ক আইন করেছে। তাতে আসামে অবৈধ মানুষদের বের করে দেয়ার কথা জোর দিয়ে বলা হয়েছে তাতে। একই রকম পদক্ষেপ যখন বর্তমান সরকার নিয়েছে তখন তা নিয়ে হইচই শুরু করেছে কংগ্রেস পার্টি। অতীতের সরকার রাজনৈতিক কারণে এ বিষয়ে হাত দেয়নি। তিনি আরো বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে তার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। তিনি এর বিরোধিতা করছেন। তিনি এখন অবস্থান নিয়েছেন অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষে। তিনি বলেন, বর্তমানে আসামের ২৭টি জেলার মধ্যে কমপক্ষে ১১টিকে বলা হয় অনুপ্রবেশকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ। এটা আসামের সংস্কৃতি, সমাজ ও রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। রাম মাধব আরো বলেন, এনআরসি আধুনিকায়ন করা হচ্ছে পক্ষপাতহীন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে যেসব হিন্দু, পারসি, শিখ, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান নির্যাতিত হচ্ছেন তাদেরকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। তাদের প্রতি বিজেপি সরকারের প্রতিশ্রুতি আছে। যেসব মানুষ বিপদে পড়েন তাদেরকে সব সময়ই স্বাগত জানায় ভারত।
বিবিসি লিখেছে, রাম মাধব ওই সেমিনারে বলেছেন, এখানে আমাদের পরিকল্পনা হলো তিনটে ‘ডি’- ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট। অর্থাৎ প্রথম ধাপে অবৈধ বিদেশি কারা, তাদের শনাক্ত করা হবে (ডিটেক্ট)- যেটা এখন চলছে। তারপর ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া ও বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে (ডিলিট)। আর তারপর আমরা তাদের বাংলাদেশে ডিপোর্ট করবো!
এর আগে বিজেপির শীর্ষ স্তরের কোনো নেতাই এত স্পষ্টভাবে এনআরসি থেকে বাদ-পড়া লোকজনকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার কথা বলেননি।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল মন্তব্য করেন, অবৈধ বিদেশিদের খুঁজতে আসামের পর এবার সারা ভারতেই এনআরসি প্রক্রিয়া চালু করা উচিত।
রাম মাধব যখন ডিপোর্ট করার কথা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সনোয়াল-সমেত সভায় উপস্থিত বিজেপির শীর্ষ নেতারা ও শ্রোতা-দর্শকরা টেবিল চাপড়ে ও তুমুল করতালিতে সেই মন্তব্যকে স্বাগত জানান। বস্তুত রাম মাধব ‘অবৈধ বিদেশি’দের যেভাবে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করার পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেছেন, তাতে পরিষ্কার বিজেপির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই অনেক ভাবনাচিন্তা হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেকে হয়তো প্রশ্ন তুলবেন, বাংলাদেশ আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ, সেখানে কীভাবে আপনি এই লোকগুলোকে ডিপোর্ট করবেন? আরে, বন্ধু তো আপনাদের সবাই- তাই বলে কি তাদের যে সব লোকজন অবৈধভাবে এখানে আছেন তাদের কি ফেরত পাঠানো যাবে না? আরে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের দিকেই তাকান না। বাংলাদেশ নিজেরাই তো লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে সে দেশের সঙ্গে সক্রিয় আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে। সৌদি আরবও সে দেশে থাকা অবৈধ পাকিস্তানি, বাংলাদেশি বা ভারতীয়দের মাঝে মাঝেই ফেরত পাঠায়। কাজেই ডিপোর্ট করার মধ্যে অন্যায় কিছু নেই।
ভারত সরকার বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিষয়টি ঠিকই ‘কূটনৈতিক দক্ষতায় ম্যানেজ করে নিতে পারবে’ বলেও তিনি দাবি করেন।
বস্তুত এটা যে তার কোনো ব্যক্তিগত দাবি নয়, বরং বিজেপির ‘সুচিন্তিত মতামত’, সেটাও তিনি সোমবার সভার পর একান্ত আলোচনায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তবে এনআরসি থেকে যারা বাদ পড়বেন, তাদের বাংলাদেশে ডিপোর্ট করাটা ভারত সরকারেরও নীতি কিনা- দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টতই এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার এ বিষয়ে বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা এনআরসি প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছি। তিনি বলেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পরিচালিত এই প্রক্রিয়া যে এখনো শেষ হয়নি এবং খসড়ায় যাদের নাম বাদ পড়েছে তারা যে নিজেদের ভারতীয় নাগরিক প্রমাণ করার আরো অনেক সুযোগ পাবেন সেটাও বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু আমাদের বলার নেই।
তার কথা থেকে এটা পরিষ্কার, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বাংলাদেশে ডিপোর্ট করার কথা পরিষ্কার করে বললেও ভারত সরকার এখনই এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাইছে না।
ভারতে জুলাই মাসের শেষে আসামের জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি)-র যে দ্বিতীয় খসড়া প্রকাশিত হয়েছে, তা থেকে রাজ্যের প্রায় চল্লিশ লাখ বাসিন্দার নাম বাদ পড়েছে।
সরকার যদিও বলছে, এরা সবাই আবার আপিল করার বা নথিপত্র জমা দেয়ার সুযোগ পাবেন। তারপরেও যদি এনআরসি-তে তাদের নাম না-ওঠে, তাহলেও তাদের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে বা শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে যাওয়ার অবকাশ থাকবে।
কিন্তু এই সব প্রক্রিয়ার শেষেও আসামের বেশ কয়েক লাখ লোক অবৈধ বিদেশি হিসেবেই চিহ্নিত হবেন বলে ধরে নেয়া হচ্ছে।
বিজেপি এই লোকজনদেরই এখন বাংলাদেশে পাঠানোর কথা বলছে- যদিও বাংলাদেশ সরকার অনেক আগেই জানিয়ে দিয়েছে তারা এদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে মনে করে না, আর তাই তাদের ফিরিয়ে নেয়ারও কোনো প্রশ্ন নেই।

চীন বাংলাদেশের এক নম্বর বাণিজ্যিক অংশীদার

বাংলাদেশের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে একটি কার্যকর প্ল্যাটফরম তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে বেইজিং। চীন মনে করে, এ ধরনের প্ল্যাটফরম করা গেলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে আলোচনা  সংলাপ, শেয়ারিং এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা যাবে। এতে দুই দেশই লাভবান হবে। একইসঙ্গে উইন-উইন সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও এগিয়ে যাবে।
গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘চীন-বাংলাদেশ যোগাযোগ, সহযোগিতা এবং বেল্ট ও সড়ক উদ্যোগের অধীনে শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য সমন্বয় প্রক্রিয়া’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেছেন, ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জু। চীনা দূতাবাস ও বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয় এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। বৈঠকে বক্তব্য রাখেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ হক, বাংলাদেশ  কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এর চেয়ারম্যান শাহ মো. আমিনুল হক, চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন চেন উই, চাইনিজ চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট লিন ওয়েকিয়াং, ওভারসিজ চাইনিজ এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ঝং লিফেং, বিএসিসি চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ প্রমুখ।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন ও বাংলাদেশের জনগণ যৌথভাবে সাধারণ উন্নয়ন, পারস্পরিক সম্মান এবং সমতার সঙ্গে শক্তিশালী একটি চমৎকার অধ্যায় লিখিত হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রত্যাশা করি, আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে এই সম্পর্ক আরো বাড়বে। চীনকে বাংলাদেশের এক নম্বর বাণিজ্যিক অংশীদার উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জু বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৩ সালে বেল্ট ও রোড উদ্যোগ  নেয়ার পরে এর সঙ্গে বিশ্বের ১০৩টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা জড়িত হয়েছে।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়। একই সঙ্গে বেল্ট ও রোড উদ্যোগ বাস্তবায়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। এই উদ্যোগের ফলে উভয় দেশই লাভবান হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, আমি আশা করি উভয়পক্ষের শিল্প উদ্যোক্তারা পারস্পরিক বিশ্বাস, যোগাযোগ এবং সহযোগিতা শক্তিশালী করার মাধ্যমে পারস্পারিক সুবিধার অংশীদার এবং দুই দেশের কার্যকর অর্থনৈতিক সহযোগিতায় সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে পারেন।  রাষ্ট্রদূত জানান, ২০১৭ সালে দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা গত বছরের তুলনায় ৫.৮ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ী অংশীদার হিসেবে চীন ছিল এক নম্বরে। বাংলাদেশ ও চীনের কোম্পানিগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ইঞ্জিনিয়ারিং চুক্তি পরিমাণ ১০.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের মধ্যে দ্বিতীয়। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান শাহ মো. আমিনুল হক  বলেন, চীন  বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। বাংলাদেশে চীন বিনিয়োগ করেছে। তবে এখানে চীনাদের আরো বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

কারাগারে আদালত স্থাপন সংবিধান সম্মত নয় -সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল

গণফোরামের সভাপতি ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, কারাগারে আদালত বসানো সংবিধানসম্মত নয়। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া সংবিধানস্বীকৃত অধিকার। দেশে বেআইনি ধরপাকড় চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার আইন না মেনেই দেশ শাসন করছে। বেআইনি ধরপাকড় চলতে থাকলে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আদালতে যাওয়ারও কথা বলেন তিনি। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরতে গণফোরাম এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
ড. কামাল হোসেন বলেন, সাদা  পোশাকে ধরপাকড়ের ব্যাপারে কিছুটা তদন্তের দরকার আছে। এরা কারা? সাদা পোশাকে তো কাউকে ধরার ক্ষমতা আইনে দেয়া নেই। এখানে রিস্ক আছে! এখন মানুষ যদি সাদা পোশাকওয়ালাদের ধরে বলে তুমি কে? পোশাক এই কারণেই দেয়া হয় সাধারণ মানুষ যাতে বুঝতে পারেন তারা রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্ববান লোক। পোশাক না পরলে মানুষ ধরে নিতে পারে, এরা হলো ছিনতাইকারী। এরা মানুষকে অন্যায়ভাবে কিডন্যাপ করছে। এই কারণেও কিন্তু এই প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আইনে এই বিধান নেই যে সাদা পোশাক পরে কেউ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে। হয়তো বিশেষ ক্ষেত্রে পোশাক না পরা লোক এটা করতে পারে। যারা ইউনিফর্ম পরে তারা একটি ডিসিপ্লিনের মধ্যে থাকে, তাদের পরিচয় থাকে।
যাদের ধরার ক্ষমতা আছে, তাদের আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। আজকে আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করতে হচ্ছে হয়তো আমরা সাংবিধানিক শাসনের বাইরে চলে যাচ্ছি। সংবিধানের বাইরে গিয়ে করলে তা বেআইনি শাসন এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। এটা বেশি হলে আমরা গুরুতর সংকটের সম্মুখিন হবো। সরকারকে এই ব্যাপারে সজাগ হতে হবে, যাতে এই জিনিসগুলো দ্রুত বন্ধ করা যায়। হঠাৎ ধরপাকড় আতঙ্ক, পুরনো মামলা সচল, ঘটনা ঘটেনি অথচ মামলা করে রেখেছে পুলিশ, এমন দাবি করে কামাল হোসেন বলেন, ‘মৃত ব্যক্তিকে ককটেল ছুড়তে দেখেছে পুলিশ! এগুলো পুলিশ সম্পর্কে উদ্বেগের কারণ। এ রকম ঘটনা একটার পর একটা ঘটছে। এটা অবশ্যই উদ্বেগের কারণ।
তিনি বলেন, সাংবিধানিক শাসন যেখানে থাকে, সেখানে পুলিশের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে। যেখানে  স্বৈরতন্ত্র থাকে, সেখানে ইচ্ছামতো লোকজন ধরা যায়, মানুষকে গুম করা যায়। সাংবিধানিক শাসন থাকলে কাউকে ধরলে বলতে হবে, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা জানাতে হবে।
কোর্টে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজির করতে হবে, যাতে সে জামিন নিতে পারে। একবার-দুবার এরকম হলে আমরা বলতে পারি বিশেষ কারণে হয়তো এই আইন অমান্য করা হয়েছে। কিন্তু রীতিমতো যদি হতেই থাকে, তাহলে তো আর আমাদের সাংবিধানিক শাসন থাকে না। সবচেয়ে আপত্তিকর যেই জিনিসটার ব্যাপারে সরকারকে আমরা জানাবো যে এই আদেশ যদি পুলিশকে দিয়ে থাকেন, আপনারা এটা থেকে বিরত থাকুন। অন্যথায় আমরা কোর্টে যাবো। পুলিশ যদি আদেশ না পেয়ে এরকম করে থাকে, তাহলে সেটা আরো গুরুতর অপরাধ। আর যদি ওপর থেকে আদেশ দেয়া হয়, তাহলে এ ধরনের আদেশ বেআইনি। নির্বাচনকে সামনে রেখে যদি এগুলো করতে থাকে সরকার, তাহলে পরিবেশটা নষ্ট হচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে গণফোরাম সভাপতি বলেন, এখানে কোনো দল বা নেতানেত্রীর পক্ষে বলছি না। একটা অসুস্থ মানুষের কথা বলছি। আমি মনে করি আমাদের তো একটা ঐতিহ্য আছে পাকিস্তান আমল থেকেই, যে কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেয়া। যারা বিচারাধীন তাদের জন্য সব হাসপাতালেই ব্যবস্থা রয়েছে। আমি বলবো না নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নিন। তবে, নীতির যে জায়গা আছে সেখান থেকে বিশেষ বিশেষভাবে হয়রানি, অসুস্থ মানুষকে কষ্ট দেয়া মোটেও উচিত না। এটা একটা খারাপ উদাহরণ হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, আজ না হয় এক দল বিরোধী অবস্থানে আছে, কাল তারা নাও থাকতে পারে। অসুস্থ মানুষকে কষ্ট দেয়া মোটেও উচিত না। আমাদের সংবিধানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এগুলো থেকে সরকারের বিরত থাকা উচিত।
তিনি বলেন, আমরা এটাও শুনছি যে, ওনার স্বাস্থ্যের কারণে বিএনপি চাচ্ছে হাসপাতালে নেয়া হোক। কিন্তু দরকার ছিল ওনাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। যারা বিচারাধীন তাদের জন্য সব হাসপাতালেই ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারের ভুলে যাওয়া উচিত না যে আমরা একটা সভ্য সমাজে বসবাস করি। এদেশে আমরা সবাই সভ্য, আমরা সভ্য রাষ্ট্রকে যেন অসভ্য রাষ্ট্রে পরিণত না করি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আগামী ২২শে সেপ্টেম্বর ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। আমাদের অনুমতি দেয়া হয়নি। কিন্তু সরকার পক্ষের হলে অনুমতি দেয়া হয়। এটা বৈষম্য। সংবিধানের ১৬ আনা পরিপন্থি।
তিনি বলেন, মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশের অনুমতি পাওয়া গেছে। ওই সমাবেশ থেকে জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। ঐক্যের কাজ এগুচ্ছে। জামায়াতকে জাতীয় ঐক্যে রাখলে গণফোরাম ওই ঐক্যে থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জামায়াত তো এখন দল হিসেবেও নেই। তাদের নিবন্ধন নেই। সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাহরাইনে তিনশ’র বেশি বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, আতঙ্ক

বাহরাইনে দুই লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক বিপাকে। যাদের অধিকাংশের বৈধ কাগজপত্র নেই। গত আগস্ট থেকে দেশটির চারটি প্রদেশ থেকে তিনশ’র বেশি অবৈধ বাংলাদেশিকে পুলিশ  গ্রেপ্তার করেছে। বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোমিনুর রহমান এর আগে বাহরাইনের সংবাদ সংস্থা জিডিএনকে বলছেন, তিনি সরকারের চলমান ক্র্যাকডাউনকে সমর্থন করেন। কারণ অবৈধ বাসিন্দা প্রতিরোধ, বিশেষ করে জুয়ার আস্তানা নস্যাত করতে এধরনের অভিযানের দরকার আছে। গত ১০ই সেপ্টেম্বর গালফ ডিজিটাল নিউজ জিডিএন এই খবর দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ঠা আগস্টে মুহাররাক এলাকায় অভিযোগমতে বাহরাইনি ইমাম শেখ আবদুল জলিল হামদ বাংলাদেশি মুয়াজ্জিনের হাতে নৃশংসভাবে নিহত হওয়ার ঘটনার পরে সারা দেশে অবৈধ অভিবাসী বিরোধী অভিযান আরো তীব্রতা পেয়েছে। 
বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কন্সাল শেখ তাহিদুল ইসলাম বাহরাইনের সংবাদ সংস্থা জিডিএনকে বলছেন, সমগ্র বাহরাইন জুড়ে পুলিশি অভিযান চলছে। এবং আমরা বুঝতে পারি, বেশ কিছু অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদরকে বিতাড়নের জন্য অন্তরীণ করা হয়েছে। তাদের পাসপোর্ট নেই। সে কারণে আমরা তাদের আউট পাস সরবরাহ করছি। গত তিন সপ্তাহে গড়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলোর কাছ থেকে ৬০ থেকে ৭০টি আউট পাস সরবরাহের অনুরোধ পেয়েছি।
জিডিএন জানায়, বাহরাইনের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর রেইডের মুখে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিদিন গড়ে ৬০টিরও বেশি আউট পাস বিতরণ করছে।
জিডিএন গত ২১শে আগস্ট রিপোর্ট করেছিল যে, বাহরাইন ইতিহাসের বৃহত্তম অবৈধ অভিবাসী শ্রমিক বিরোধী অভিযান চালাতে যাচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা অবৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত সমস্যা বিশেষ করে অপরাধ দমন করতে বদ্ধপরিকর।
জিডিএন উল্লেখ করে যে, তথাকথিত ফ্রি-ভিসা বাজারের ওপর এটা সর্বশেষ ক্র্যাকডাউনটির অংশ। সারা দেশ থেকে শত শত অবৈধ অভিবাসী বিতাড়নে এটাই ‘সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে বেশি তীব্র’ অভিযান। এর লক্ষ্য অবৈধ শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের ব্যাপক সমস্যা হ্রাস করা।
বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমিক কনসুল শেখ তাহিদুল ইসলাম জিডিএনকে বলেন, ‘বাহরাইনের সব জায়গায় পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং আমরা বুঝতে পেরেছি যে অনেক অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।’
‘আমরা এই লোকদের বাংলাদেশে পাঠাতে আউট-পাসের অনুরোধ পেয়েছি। বিভিন্ন কারণে তাদের কাছে  পাসপোর্ট বা সিপিআর নেই।
‘গত তিন সপ্তাহে গড়ে আমরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি অনুরোধ পেয়েছি। যাদের ব্যক্তিগত কোনো ডকুমেন্ট নেই, যারা বিতাড়নের জন্য অন্তরীণ থাকতে চায় না, তারাই আউট পাস নিচ্ছেন।
মি. ইসলাম বলেন যে দূতাবাসে? ‘নমনীয় ওয়ার্ক পারমিটের’ (ফ্লেক্সিবেল ওয়ার্ক পারমিট) জন্য আবেদনকারীদের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত বছরের জুলাই মাসে চালু করা হয়েছিল, নমনীয় ওয়ার্ক পারমিট। এটি পুনর্নবীকরণযোগ্য। দুই বছরের রেসিডেন্সি পারমিট ১১৬৯ টাকায় এটা মিলছে। বর্তমানে এরকম পারমিটের জন্য ১০ হাজার দরখাস্ত প্রক্রিয়াধীন আছে।
‘ফ্লেক্সি পারমিটের জন্য অ্যাপ্লিকেশনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে,’ মন্তব্য করেন মি. ইসলাম।
জিডিএন জানায়, বাহরাইনে বসবাসরত আনুমানিক ৬০ হাজার অবৈধ প্রবাসী রয়েছে। বাহরাইনে দু’লাখেরও বেশি শ্রমিকের মধ্যে বাংলাদেশিরা দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রবাসী সমপ্রদায়, যাদের বেশির ভাগই অননুমোদিত শ্রেণির অন্তর্গত। কারণ তারা আবাসনের আইন লঙ্ঘন করেছে।

দুনিয়া থেকে জান্নাতে হযরত ইদ্রিস নবীর স্থায়ী সফর ও ঘটনাবহুল পয়লা মহররম

মক্কা থেকে কারবালার দিকে ইমাম হুসাইনের (আ.) যাত্রাপথের ম্যাপ
পয়লা মহররম ইতিহাসে ঘটেছিল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। যেমন, হযরত ইদ্রিস নবীর (আ.) জান্নাত গমন, হযরত জাকারিয়া (আ)'র দোয়া কবুল হওয়া, মক্কায় কাফের নেতাদের পক্ষ থেকে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)এবং তাঁর অনুসারীদের ওপর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবরোধ আরোপের মত কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
এ ছাড়াও এই দিনে সব ঘটনাকে ম্লান করে দেয়া ঘটনার মহানায়ক তথা কারবালার কালজয়ী মহাবিপ্লবের মহান নেতা ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর কাফেলা ও সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন এ বিপ্লবের অকুস্থল তথা কারবালা প্রান্তরের দিকে যদিও তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কুফা শহরে পৌঁছা।
জান্নাতে হযরত ইদ্রিস নবীর (আ.) স্থায়ী সফরের ঘটনা:
আজ হতে কয়েক হাজার বছর আগে এমন দিনে (পয়লা মহররম) হযরত ইদ্রিস (আ.)-কে বেহেশতে উঠিয়ে নেন মহান আল্লাহ। মানুষকে একত্ববাদের দিকে ফিরিয়ে আনার মিশন সফল হওয়ার পর এই ঘটনা ঘটে। এর আগে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল বহু খোদার উপাসনা ও অগ্নি-পূজা। কেউ কেউ মনে করেন হযরত ইদ্রিস (আ) মৃত্যু বরণ করেননি এবং তিনি জীবিত অবস্থাতেই বেহেশতবাসী হন। বলা হয় তিনি জীবিত অবস্থায় বেহেশত সফরের সুযোগ পাওয়ার পর সেখান থেকে আর ফিরতে চাননি। আর মহান আল্লাহ তাঁর ওই ইচ্ছা পূরণ করেন।
হযরত ইদ্রিস (আ.)’র নাম ছিল আনুখ। বলা হয়, তিনি ছিলেন হযরত আদম (আ.)’র সপ্তম অধস্তন পুরুষ ও হযরত নুহ (আ.)’র পরদাদা। তিনি নিজে গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী ছিলেন এবং অন্যদেরও তা শিক্ষা দিতেন বলে তাঁকে বলা হত ‘ইদ্রিস’।
মানবজাতিকে তিনিই প্রথম কাপড় বুনন ও পোশাক সেলাইয়ের কৌশল শিখিয়েছিলেন। তাঁর আগে মানুষ জন্তু বা পশুর চামড়া ব্যবহার করত পোশাক হিসেবে। হযরত ইদ্রিস (আ.) প্রথম লিখনের প্রবর্তন করেন এবং কলম ব্যবহার করেছেন। তাঁর বাড়ী ছিল ইরাকের কুফা শহরের বাইরে সাহলা মসজিদে। হযরত ইদ্রিস (আ.)-কে বলা হত ‘দার্শনিকদের নবী’ এবং কোনো কোনো  প্রাচীন বইয়ের লেখক হিসেবে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়। পশ্চিম মিশরের কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনাসহ বেশ কয়েকটি শহর নির্মাণ করেছিলেন এই মহান নবী।
মজার ব্যাপার হল মানব-জাতির শেষ ত্রাণকর্তা হযরত ইমাম মাহদী (আ.)’র বাসস্থানও হবে সাহলা মসজিদ। এ মহান ইমাম হলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র পবিত্র বংশধর বা আহলে বাইতের সর্বশেষ সদস্য। তিনি গোটা বিশ্বে ন্যায়বিচার, শান্তি ও সমৃদ্ধি ছড়িয়ে দিবেন।
- হাজার হাজার বছর আগে এই দিনে মহান আল্লাহ হযরত জাকারিয়া (আ)'র দোয়া কবুল করেছিলেন। মহান আল্লাহ তাঁকে যেন এক নেক পুত্র সন্তান দান করেন এই ছিল বৃদ্ধ বয়সে জাকারিয়া নবীর দোয়া। মহান আল্লাহ তাঁকে দান করেছিলেন বিখ্যাত নবী ইয়াহিয়া (আ) যদিও জাকারিয়া নিজে ছিলেন বৃদ্ধ ও তার বৃদ্ধা স্ত্রীও ছিলেন বন্ধ্যা! এই দিনে কেউ রোজা রেখে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা কবুল করবেন বলে হযরত ইমাম রেজা (আ) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। 
- মক্কায় বিশ্বনবী(সা.)সহ মুসলমানদের ওপর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবরোধ আরোপ:
এখন হতে ১৪৪৬ বছর আগে (পয়লা মহররম, হিজরতের ৬ বছর আগে) মক্কার কাফের নেতারা এইসব অবরোধ আরোপের জন্য একটি চুক্তি-পত্র স্বাক্ষর করেন। ফলে নিষিদ্ধ হয়ে যায় মুসলমানদের সঙ্গে বাণিজ্য-সম্পর্ক এবং সামাজিকভাবে বয়কট করা হয় শৈশবে উপনীত মুসলিম সম্প্রদায়কে। বিশ্বনবী (সা.)’র চাচা ও অভিভাবক হযরত আবু তালিব (আ.) অবরুদ্ধ মুসলমানদের দেখা-শুনার দায়িত্ব নেন। তিনি মুসলমানদেরকে মক্কার বাইরে একটি উপত্যকায় নিয়ে যান। এ উপত্যকা আজও ‘শেব আবি তালিব’ নামে খ্যাত।
তিন বছর ধরে ওই অবরোধ বা নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত ছিল। এ সময় মুসলমানরা তীব্র অর্থনৈতিক দুর্গতি ও কষ্টের শিকার হয়। মুসলমানদের অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবেলার জন্য রাসূল (সা.)’র স্ত্রী উম্মুল মুমিনিন হযরত খাদিজা (সালামুল্লাহি আলাইহা) তাঁর বিপুল সম্পদ ব্যয় করেন। তিনি ছিলেন এক সময় আরবের শীর্ষস্থানীয় ধনী। বিপুল সম্পদ দানের ফলে দরিদ্র অবস্থায় মারা যান এই মহীয়সী নারী ও প্রথম মুসলমান। (একই সময়ে পুরুষদের মধ্যে প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন  দশ বছরের শিশু আলী-আ.)।
এ সময় বিশ্বনবী (সা.)’র চাচাত ভাই মহাবীর আলী (আ.) ছিলেন খুবই কম বয়সী। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুসলমানদের জন্য খাদ্য-শস্য  নিয়ে আসতেন। কিন্তু মুসলমানদের ওপর কাফেরদের নিষেধাজ্ঞা তাঁদেরকে কাবু করতে সক্ষম হয়নি। ফলে মূর্তি পূজারি আরব নেতারা হতাশ হয়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তারা নিষেধাজ্ঞার চুক্তি-পত্রটি তালাবন্ধ বাক্স থেকে বের করে সবিস্ময়ে দেখে যে ওই চুক্তির সব ধারা বা শর্ত উল্লেখিত লাইনগুলো উই-পোকার খাদ্য হয়ে উধাও হয়ে গেছে! নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সামান্য কিছু সময় আগে বিশ্বনবী (সা.)-কে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে ইন্তিকাল করেন সে সময় পর্যন্ত তাঁর একমাত্র স্ত্রী ও ২৫ বছরের দাম্পত্য-জীবনের শরিক হযরত খাদিজা (সা.)। ফলে নবী-নন্দিনী শিশু ফাতিমা (সা.) ইয়াতীম হয়ে যান।
·  ১৪২০ বছর আগে হিজরি ২০ সালের এমন দিনে (পয়লা মহররম) মুসলিম বাহিনীর হাতে পূর্বাঞ্চলীয় রোমান বা বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের আওতাভুক্ত মিশর মুক্ত হয়। মিশরীয়রা মুসলিম বাহিনীকে স্বাগত জানায় এবং তাদের বেশিরভাগই খ্রিস্ট ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হন।
·  ১৩৫৯ চন্দ্রবছর আগে ৮১ হিজরির এই দিনে (পয়লা মহররম) ইন্তিকাল করেন আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)’র পুত্র মুহাম্মাদ আল হানাফিয়া। তার মায়ের নাম ছিল খাওলা। প্রথম স্ত্রী নবী-নন্দিনী হযরত ফাতিমা (সা.)’র মৃত্যুর কয়েক বছর পর এই মহীয়সী নারীকে বিয়ে করেছিলেন হযরত আলী (আ.)। মুহাম্মাদ ইবনে হানাফিয়া জামাল ও সিফফিন যুদ্ধে পিতার অন্যতম প্রধান সহযোগী ছিলেন। অসুস্থ হওয়ার কারণে তিনি কারবালার অসম যুদ্ধে যুদ্ধে ভাই ইমাম হুসাইন (অ.)’র সঙ্গে অংশ নিতে পারেননি। মুহাম্মাদ ইবনে হানাফিয়া ছিলেন সৎ, সাহসী ও ধার্মিক। কারবালার  মহা-ট্র্যাজেডির পর তিনিই ছিলেন হযরত আলী (আ.)’র পরিবারের সবচেয়ে সিনিয়র বা বয়স্ক সদস্য। এ সময় ভাতিজা ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) নির্জনে থাকতে পছন্দ করতেন। মুহাম্মাদ ইবনে হানাফিয়ার নাম (ও অনুমতি) নিয়েই কারবালা হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে কুফায় সফল গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মহামতি মুখতার সাকাফি।