Monday, November 1, 2010

জ্বালানির পাঁচ কোম্পানির শেয়ার ছেড়ে ৪৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা যাবে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পাঁচ কোম্পানির শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার বেশি তুলতে পারবে সরকার। বর্তমান বাজারমূল্যের চেয়ে ১০ শতাংশ কম দামে এসব শেয়ার বিক্রি করেও এ পরিমাণ টাকা তোলা সম্ভব।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্ত বৈঠকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষে সংস্থাটির সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান এ হিসাব তুলে ধরেন। তিনি বাজারমূল্যের চেয়ে হ্রাসকৃত মূল্যেই বর্তমানে বাজারে তালিকাভুক্ত এসব কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার পরামর্শ দেন।
লিখিত ওই সুপারিশে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া শেয়ারের বিক্রি বা হস্তান্তরের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা (লকইন) তুলে নেওয়ার বিরোধিতা করা হয়। এতে বলা হয়, এ মুহূর্তে লকইন তুলে নেওয়া হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে। এমনকি সরকারের ওপর জনগণের আস্থার সংকট দেখা দেবে।
পুঁজিবাজারের আইন অনুযায়ী ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া শেয়ার তালিকাভুক্তির অনুমোদন পাওয়ার দিন থেকে এক বছর বিক্রি নিষিদ্ধ থাকে। কিন্তু সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকে শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর যুক্তিতে লকইন তুলে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।
ডিএসইর সুপারিশে পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকার চাইলে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে তিন দিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানির বাকি শেয়ারগুলো বাজারে ছাড়া সম্ভব।
তবে ২৫ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত এক বৈঠকে তালিকাভুক্ত সরকারি কোম্পানিগুলোর শেয়ার ১৫ দিনের মধ্যে বাজারে ছাড়ার সুপারিশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বৈঠকের সুপারিশগুলো এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অবগতি ও অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ডিএসইর হিসাবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডেসকো), পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি), যমুনা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং তিতাস গ্যাসের মোট ৪৯ শতাংশ শেয়ার হ্রাসকৃত দামে বাজারে ছেড়ে চার হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করা যাবে।
বর্তমানে সরকারের হাতে ডেসকোর ৭৫ শতাংশ, পিজিসিবির ৭৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, যমুনা অয়েলের ৭০ শতাংশ, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ৭০ শতাংশ এবং তিতাসের ৭৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। কোম্পানিগুলোর বাকি শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
এ কোম্পানিগুলো ছাড়াও তালিকাভুক্ত অন্য আটটি সরকারি কোম্পানির ১০ শতাংশ করে শেয়ার বাজারে ছাড়তে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব করা হয়।
কোম্পানিগুলো হচ্ছে রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি), ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, ন্যাশনাল টিউবস, উসমানিয়া গ্লাস, ইস্টার্ন কেব্লস, এটলাস বাংলাদেশ ও পদ্মা অয়েল। এসব কোম্পানির ছয় থেকে ৪৯ শতাংশ শেয়ার বর্তমানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে বিমান, সিভিল এভিয়েশন, হোটেল-মোটেল, বাংলাদেশ টেলি কমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল), বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু (যমুনা ব্রিজ), পদ্মা ব্রিজ ও ফ্লাইওভার প্রকল্পগুলোকে কোম্পানি গঠন করে বাজারে শেয়ার ছেড়ে অর্থ উত্তোলনের সুপারিশ করা হয়েছে।
তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে শ্রম অসন্তোষ ঠেকাতে প্রয়োজনে কোম্পানির পাঁচ শতাংশ শেয়ার শ্রমিকদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়। বলা হয়, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ঠিক করা নির্দেশক দামের ১০ শতাংশ কমে শ্রমিকদের মধ্যে শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) দক্ষতা ও জনবল বাড়াতেও সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, ডিএসইর পক্ষ থেকেই সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতার স্বার্থে বেশ কিছু লিখিত সুপারিশ করেছেন। এসব সুপারিশের সঙ্গে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদও একমত।

এক দিনে তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়াল আর্থিক লেনদেন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আর্থিক লেনদেন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচকও আজ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর রেকর্ড করেছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে ডিএসইতে আজ মোট তিন হাজার ২০৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। যা গত বৃহস্পতিবারের চেয়ে ২৬২ কোটি টাকা বেশি।
এ ছাড়া আজ সাধারণ মূল্যসূচক ২০ দশমিক ০৭ পয়েন্ট বেড়ে সাত হাজার ৯৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে আজ লেনদেনের শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে সাধারণ সূচক আট হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করে। কিছুক্ষণ পর আবার তা কমে যায়। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে সাধারণ সূচক ৭৮ পয়েন্ট আবারও আট হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করে আট হাজার ১৫ পয়েন্টে পৌঁছায়। এর পর আবারও সাধারণ সূচকের নিম্নগামিতা লক্ষ করা যায়। দিন শেষে সাধারণ সূচক সাত হাজার ৯৫৭ পয়েন্টে পৌঁছায়।
শেয়ারবাজারে আজ বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমেছে। লেনদেন হওয়া ২৪২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৭৯টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ১৬০টি প্রতিষ্ঠানের এবং তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল।
এদিকে আজ ঢাকার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ খাতের শেয়ারের দাম কমলেও ব্যাংক খাতের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। ব্যাংক খাতের ৩০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আজ ২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া সিমেন্ট, আইটি ও সিরামিক খাতের পাঁচটির মধ্যে সব কটি প্রতিষ্ঠানের ও টেলিকমিউনিকেশন খাতের একমাত্র প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনেরও শেয়ারের দাম আজ কমে যায়। আর্থিক খাতের ২১টির মধ্যে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পায়, বাকি ২০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমে যায় আজ। এ ছাড়া জ্বালানি, ইন্সুরেন্স, মিউচুয়াল ফান্ড, ফার্মাসিউটিক্যাল ও টেক্সটাইল খাতের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম আজ কমে যায়।
আজ লেনদেনে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো, এবি ব্যাংক, ইউসিবিএল ও বেক্সিমকো টেক্সটাইল।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ফার্মাএইডের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া লিব্রা ইনফিউশন, চিটাগাং ভেজিটেবল, ইমাম বাটন ও অ্যাম্বি ফার্মা দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে অগ্নি সিস্টেমের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া দেশ গার্মেন্টস, আইপিডিসি, সাফকো স্পিনিং ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক দাম কমে যাওয়া শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
আজ ডিএসইর বাজার মূলধন ৩,৩৭,০৯৯ কোটি টাকা।

ফার্মাএইডের ৫০০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণার ব্যাপারটি খতিয়ে দেখছে এসইসি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফার্মাএইডের ৫০০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণার ব্যাপারটি খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আজ রোববার এসইসির বাজার পর্যালোচনা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
আনোয়ারুল কবির বলেন, ফার্মাএইড একটি দুর্বল কোম্পানি। কোম্পানিটি গত বৃহস্পতিবার ৫০০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করে। লভ্যাংশ ঘোষণার পর আজ রোববার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। একটি দুর্বল ভিত্তির কোম্পানি কীভাবে ৫০০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করে, তা বোধগম্য নয়। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এসইসির পরিচালক হাসান মাহমুদ ও সহকারী পরিচালক মো. রকিবুর রহমানকে নিয়ে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আগামী সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়া দুর্বল কোম্পানিগুলোকে পর্যায়ক্রমে ধরা হবে।
আনোয়ারুল কবির আরও জানান, বাজার পর্যালোচনা বৈঠক আজ মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার বাজারের অবস্থা বুঝে আবারও বসা হবে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ ফার্মাএইডের প্রতিটি শেয়ারের দাম ১১,৬১৬ দশমিক ২৫ টাকা বা ১৬৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। আজ প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের শুরুর মূল্য ছিল ২০,০০০ এবং সমাপনী মূল্য ছিল ১৮,৭০০ টাকা। এ ছাড়া গতকালের সমাপনী মূল্য ছিল ৭,০৮৩ দশমিক ৭৫ টাকা। আজ সারা দিন ১৬০০০-২৫০০০ টাকায় প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ওঠানামা করে।

কেন এবার অগ্রগতি হলো না? by ইফতেখারুজ্জামান

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) তাদের ২০১০-এর দুর্নীতির ধারণাসূচক প্রকাশ করেছে ২৬ অক্টোবর। সূচকের ০-১০-এর স্কেলে ২০০৯-এর সমান ২.৪ পেয়ে ১৭৮টি দেশের মধ্যে ১৩৪তম অবস্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। সমান স্কোর পেয়ে সূচকের নিম্নক্রম অনুযায়ী দ্বাদশ স্থান পেয়েছে আরও আটটি দেশ—আজারবাইজান, হন্ডুরাস, নাইজেরিয়া, ফিলিপাইন, সিয়েরা লিওন, টোগো, ইউক্রেন ও জিম্বাবুয়ে। গত বছর বাংলাদেশ বেলারুশ, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের সঙ্গে একত্র নিম্নক্রম অনুযায়ী ত্রয়োদশ স্থান পেয়েছিল।
ত্রয়োদশ থেকে দ্বাদশ স্থানে নেমে যাওয়া খুব একটা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নয়, কারণ এই স্থান নির্ধারণের (র্যা ঙ্কিং) ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রাপ্ত স্কোরের পাশাপাশি অন্য দেশের তুলনামূলক অবস্থান এবং তালিকায় কতগুলো দেশ অন্তর্ভুক্ত হলো বা কতগুলো দেশ বাদ পড়ল—এরূপ বিষয়ের প্রভাব পড়ে থাকে।
এই সূচকে মূলত কোন দেশ কত স্কোর পেল, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের এবারের স্কোর গতবারের সমপর্যায়ে থাকাটা নিরাশাব্যঞ্জক এই কারণে যে ২০০৮-এর তুলনায় ২০০৯-এ আমরা ০.৩ পয়েন্ট বেশি পেয়েছিলাম। এক বছরে ০.৩ পয়েন্ট বেশি স্কোর পাওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছিল, এবং সেবার বাংলাদেশ বিশ্বের ১৮০ দেশের মধ্যে মাত্র নয়টি দেশের একটি ছিল, যাদের অর্জনকে এভাবে মূল্যায়িত করা হয়েছিল।
অতএব, সংগত কারণেই প্রত্যাশা ছিল যে অর্জনের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকবে, এবং বাংলাদেশ হয়তো গতবারের তুলনায় অন্তত কিছুটা হলেও বেশি স্কোর পাবে, বিশেষ করে এমন পরিপ্রেক্ষিত্রেযখন দেশে এমন একটি সরকার রয়েছে যাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতিবিরোধী দৃঢ় অবস্থান প্রাধান্য পেয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাস্তবে তা হলো না।
দুর্নীতির ধারণাসূচক বা সিপিআই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির ব্যাপকতার ধারণার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দেশের একটি তুলনামূলক চিত্র প্রদান করে থাকে। ১৯৯৫ সাল থেকে এই সূচকটি প্রণীত হয়ে আসছে। শুরুর বছর এতে ৪৫টি দেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল, আর ২০০৯ সালে এতে সর্বোচ্চ ১৮০টি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়।
দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে ভুটান, ভারত ও শ্রীলঙ্কা এবারও বাংলাদেশের তুলনায় উন্নততর অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে ভুটানের কথা বলতে হয়, যারা ৫.৭ স্কোর পেয়ে ইতালি (৩.৯), থাইল্যান্ড (৩.৫), চীন (৩), মালয়েশিয়া (৪.৪) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার (৫.৪) মতো দেশের চেয়ে ভালো ফল করেছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কা যথাক্রমে ৩.৩ ও ৩.২ স্কোর পেয়েছে। মালদ্বীপ ও পাকিস্তান ২.৩ স্কোর পেয়েছে, আর নেপাল পেয়েছে ২.২। উল্লেখ্য, ভুটান গতবারের ৫.০ স্কোর থেকে ৫.৭ পেয়ে সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনকারী দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, আর শ্রীলঙ্কা গতবারের তুলনায় ০.১ বেশি পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ্রঅন্য দেশগুলো ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল ও পাকিস্তান ২০০৯-এর তুলনায় কম স্কোর পেয়েছে। ভুটানের উৎকৃষ্ট অর্জনের পেছনে রয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনমনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আইনের শাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো জাতীয় সততা ব্যবস্থার মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা।
বাংলাদেশের গত বছরের ইতিবাচক অগ্রগতি আমাদের জন্য সুসংবাদ ছিল। যদিও ৩-এর কম স্কোর প্রাপ্ত দেশ হিসেবে আমাদের দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতার মাপকাঠিতে ্র‘উদ্বেগজনক’ অবস্থানেই থাকতে হয়েছে।
সিপিআই পরপর দুই বছরের তথ্যের একটি চলমান হিসাব এ বছরের সূচকে জানুয়ারি ২০০৯ থেকে সেপ্টেম্বর ২০১০ পর্যন্ত সময়ের তথ্যের প্রতিফলন ঘটেছে।্রঅতএব, বাংলাদেশের এবারের ফল ২০০৮-৯-এর তুলনায় অগ্রগতিতে ব্যর্থতারই পরিচায়ক।
২০০৯-এর সূচক প্রকাশের সময় আমাদের সেবারের অগ্রগতির পেছনে মূলত তিনটি উপাদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রথমত, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জ করা ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি যে-ই হোক না কেন বিচারের মুখোমুখি করার প্রয়াস; দ্বিতীয়ত, উল্লিখিত সময়ে দেশে বেশকিছু মৌলিক প্রাতিষ্ঠানিক ্রও আইনি পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল; আর তৃতীয়ত, সূচকে নতুন সরকারের দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অঙ্গীকারের একটা ইতিবাচক মূল্যায়নের প্রতিফলন ঘটেছিল।
আওয়ামী লীগের ইশতেহারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোর মধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ আর যুদ্ধাপরাধের বিচারের পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ্রদৃঢ় ও সুনির্দিষ্ট প্রত্যয় ব্যক্ত হয়। কমপক্ষে ডজন খানেক সুস্পষ্ট নীতিমালার উল্লেখ পাওয়া যায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকারে, যার বাস্তবায়ন বাংলাদেশে দুর্নীতিকে কার্যকর ও স্থায়ীভাব্রেনিয়ন্ত্রণের জন্য অপরিহার্য।
সরকার গঠনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিশ্রুতিগুলো মোটামুটি ধারাবাহিকভাবে পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে কিছু সম্ভাবনাময় পদক্ষেপও গৃহীত হয়েছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সূচিত হয়েছে প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার দৃষ্টান্ত। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের কতিপয় সংশোধনীর প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিপরিষদ কমিশনের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠার পথে বড় ধরনের নৈরাশ্যজনক সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল। টিআইবিসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি স্থগিত রয়েছে, তবে সুরাহা হয়নি, যা উদ্বেগের কারণ।
প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও তাঁদের পরিবার-পরিজনসহ ক্ষমতাবানদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশের অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হয়নি। এ ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত তাঁর অন্য সহকর্মীরা কবে অনুসরণ করবেন—তার কোনো ইঙ্গিত নেই। জাতীয় বাজেটে অব্যাহতভাবে বিভিন্ন কৌশলে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট নির্বাচনী অঙ্গীকার থেকে সরে এসে কর ন্যায়পাল পদটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার’ নিষ্পত্তিকরণের উদ্যোগও ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
এরূপ বিতর্কিত পদক্ষেপের পাশাপাশি তথ্য অধিকার আইনের মতো দুর্নীতি প্রতিরোধে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টিকারী আইনটি সংসদে অনুমোদনের মাধ্যমে সরকার জনগণের প্রতি অঙ্গীকার পূরণের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সম্পূরক অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি নতুন আইন—তথ্য প্রদানকারীর সুরক্ষা আইন সংসদে উপস্থাপিত হয়েছে, যা উৎসাহব্যঞ্জক।
সরকার সব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নাগরিক সনদ কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি প্রতিরোধবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। জাতিসংঘে দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন অনুযায়ী অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নে সরকার কৌশলপত্র অনুমোদন করেছে, যা আশার উদ্রেক করে, যদিও এর কার্যকর বাস্তবায়নে বাস্তব পদক্ষেপ এখনো বিরল।
ভূমি দস্যুতা প্রতিরোধে ড্যাপ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ ও এ-সংক্রান্ত সংসদে গৃহীত নতুন আইন অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। অন্যদিকে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা তাঁদের সমর্থনপুষ্ট ব্যক্তিরা সাম্প্রতিককালে যেভাবে স্থানীয় পর্যায়ে টেন্ডারবাজি, নদী-বনাঞ্চল-ভূমি দখল ও টোলবাজিসহ আইনের শাসনপরিপন্থী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হচ্ছেন, তাতে দুর্নীতি প্রতিরোধে অপরিহার্য প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ক্রমান্বয়ে দুর্বল থেকে দুর্বলতর হওয়ার আশঙ্কা বেড়েই চলেছে।
সরকারি ক্রয় খাতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী সাম্প্রতিক সংস্কার, বিশেষ করে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অবমূল্যায়ন, কোনো অবস্থায়ই সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধক পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে না। একইভাবে টেলিযোগাযোগ আইন, ২০১০ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) বিল, ২০১০ সংশ্লিষ্ট খাতে ্রস্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে— এরূপ আশা করা কঠিন।
দুর্নীতি, তা যে পর্যায়েই ঘটুক না কেন, কারও প্রতি কোনো প্রকার ভয় বা করুণা না করে, সব ধরনের্রদলীয় বা রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে তার বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে, আইন প্রয়োগে আদালতকে কোনো অবস্থাতেই প্রভাবিত না করা দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত। দুর্নীতিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে তখনই সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে, যখন বিচার-প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ সম্ভব হবে। অন্যদিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা তখনই সুফল আনবে, যখন এই বিভাগে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা, পেশাগত উৎকর্ষ ও সততার সঙ্গে কার্য পরিচালনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
জাতীয় সংসদকে কার্যকর করা যেকোনো সংসদীয় গণতন্ত্রে দুর্নীতিবিরোধী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সৃষ্টির জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংসদীয় কমিটিগুলো গঠিত হয়েছে, যা প্রশংসার দাবি রাখে। বেশ কিছু কমিটি তুলনামূলক সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় হাত দিয়েছিল। তবে অনেক ক্ষেত্রেই সংসদীয় কমিটির সদস্যদের স্বার্থের দ্বন্দ্ব কমিটির কার্যক্রম ও কার্যকারিতাকে ইতিমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষভাবে উল্লেখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে জনপ্রশাসন তথা সরকারি কর্মকর্তারা। পৃথিবীর যেসব দেশে সাফল্যের সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে সেসব দেশে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, যোগ্যতাসম্পন্ন প্রশাসনকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রণোদনার সমন্বয়নির্ভর সংস্কারের পাশাপাশি নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ইত্যাদি ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব দূর করা অপরিহার্য। সরকার পরিবর্তনের পর এ ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তাতে উৎসাহিত হওয়ার খুব বেশি সুযোগ নেই।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত ব্যক্তি কর্তৃক স্বাস্থ্য খাতে সরকারি পদে শুধু দলীয় সমর্থনপুষ্ট কর্মীদের নিয়োগের ঘোষণা ও পাবনায় নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট নৈরাজ্যের দৃষ্টান্ত দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক ভাবা কঠিন।
এতদসত্ত্বেও আমরা আশা ছেড়ে দিতে চাই না। এ বছরের সিপিআই সরকার ও অন্যান্য সব স্টেকহোল্ডারদের জন্য সময়োপযোগী ্রইঙ্গিত এই মর্মে যে, দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্য বৃদ্ধি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা অদূর ভবিষ্যতে ্রআরও নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।
ইফতেখারুজ্জামান: নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।

মিসরে সুদানি অভিবাসী গুলিতে নিহত

ইসরায়েলে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে গতকাল শনিবার মিসরের সীমান্তরক্ষীরা এক সুদানি অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করেছে।
কর্মকর্তারা জানান, গতকাল ভোরে একদল চোরাকারবারির সঙ্গে সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করে কয়েকজন সুদানি অভিবাসী। এ সময় সীমান্তরক্ষীরা চোরাকারবারিদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে ওই সুদানি অভিবাসী নিহত হন।

আফগানিস্তানে ন্যাটোর সেনাঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা, ৮০ জঙ্গি নিহত

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে তালেবান জঙ্গিদের হামলা চেষ্টা গতকাল শনিবার নস্যাৎ করা হয়েছে। এ সময় ন্যাটো সেনাদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৮০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। ন্যাটো জানায়, পাকিস্তান সীমান্তের কাছে পাকতিকা প্রদেশের বেরমাল নামক জায়গায় স্থানীয় সময় রাত দেড়টায় ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন ন্যাটো সেনা আহত হয়েছেন। এই প্রদেশে মোতায়েন সেনাদের প্রায় সবাই যুক্তরাষ্ট্রের।
ন্যাটোর বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জঙ্গিরা চারদিক থেকে ওই সেনাঘাঁটিতে হামলা চালায়। তাঁরা গুলিবর্ষণসহ রকেটচালিত গ্রেনেড ও মর্টার নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে ন্যাটো বাহিনী হেলিকপ্টারে করে জঙ্গিদের ওপর হামলা চালায়। এতে ৮০ জঙ্গি মারা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তানের জঙ্গিরা সীমান্ত অতিক্রম করে সেনাঘাঁটিতে ওই হামলা চালিয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে রুশ-মার্কিন যৌথ অভিযান
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানে গত বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানে বেশ কয়েকটি মাদকের কারখানা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এ সময় এক টনেরও বেশি হেরোইন ও আফিম আটক করা হয়। আফগানিস্তানে রুশ-মার্কিন যৌথ অভিযান এটাই প্রথম। রাশিয়ার মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ভিক্তর ইভানভ এ তথ্য জানান। তবে এই অভিযানের নিন্দা করেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। তিনি বলেন, সরকারের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের অভিযান চালানোর এখতিয়ার কোনো সংস্থার নেই।

গ্রাউন্ড জিরোর কাছে মসজিদ নির্মাণ চান না সৌদি প্রিন্স

সৌদি প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালাল বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ বলেছেন, তিনি নিউইয়র্কে নাইন-ইলেভেন হামলাস্থলের কাছে মসজিদ নির্মাণের বিরোধী। আর বিতর্কিত এ নির্মাণকাজে অর্থায়ন করছেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সৌদি প্রিন্স বলেন, ‘আমি ওই নির্দিষ্ট জায়গায় মসজিদ নির্মাণের বিরোধী ‘নাইন-ইলেভেন হামলাস্থলের কাছে মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে পুরোনো সেই ক্ষতস্থান থেকে আবার রক্ত ঝরুক, তা চাই না।’ সৌদি প্রিন্সকে উদ্ধৃত করে এরাবিয়ান বিজনেস এ কথা জানায়।
প্রিন্স বলেন, ওই ঘটনার ক্ষত এখনো রয়ে গেছে। আর যাঁদের হূদয়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তাঁদের প্রতি সম্মানার্থেই তিনি সেখানে মসজিদ নির্মাণের বিরোধী।

ফার্স্ট লেডি স্কার্ফ পরায় তুরস্কে জেনারেলদের সরকারি অনুষ্ঠান বর্জন

ফার্স্ট লেডি স্কার্ফ পরায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সরকারি অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন দেশটির শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা। ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টিও (সিএইচপি) প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে। সংবাদপত্রের খবরে গতকাল শনিবার এ কথা বলা হয়েছে।
১৯২৩ সালে আধুনিক ও ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্কের জন্ম স্মরণে গত শুক্রবার রাতে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল। অনুষ্ঠানে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁরা এতে যোগ দেননি। খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ উপেক্ষা করার অজুহাত হিসেবে সামরিক বাহিনী একই সময়ে পৃথক আরেকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুলের স্ত্রী মাথা ও গলা ঢাকতে হিজাব পরে এসেছিলেন। কিশোরী বয়স থেকেই তিনি এভাবে অভ্যস্ত। প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান জেনারেলদের অনুষ্ঠান বর্জনের সমালোচনা করেছেন। তাঁর স্ত্রীও স্কার্ফ পরেন।
সেনাবাহিনীর জেনারেলরা নিজেদের তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের রক্ষক এবং সেইসঙ্গে রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য স্কার্ফকে হুমকি বলে বিবেচনা করে থাকেন।

আর্জেন্টিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট কির্চনার সমাহিত

আর্জেন্টিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেস্টর কির্চনারকে গত শুক্রবার তাঁর নিজ শহর রিও গ্যালেগোসে সমাহিত করা হয়েছে। এর আগে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাজধানী বুয়েনস এইরেসের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তাঁর মরদেহ রাখা হয়।
এ সময় কির্চনারকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাঁর স্ত্রী আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা ডা সিলভাসহ লাতিন আমেরিকার অন্যান্য নেতা যোগ দেন। পরে তাঁর কফিন রিও গ্যালেগোসে নিয়ে যাওয়া হয়। গত বুধবার হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কির্চনার।

কলম্বো থেকে নিরাপত্তা চৌকি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

শ্রীলঙ্কার সরকার তামিলদের বিরুদ্ধে গত বছরের যুদ্ধের সময় রাজধানী কলম্বোয় স্থাপন করা নিরাপত্তা চৌকিগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র এ তথ্য জানান।
ওই মুখপাত্র জানান, ‘গত বছর এলটিটিই গেরিলাদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর যুদ্ধ অবসানের পর থেকে কলম্বোয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তাই সরকার পর্যায়ক্রমে কলম্বোর সব নিরাপত্তা চৌকি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মাউন্ট মেরাপিতে আবার ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত

ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট মেরাপি আগ্নেয়গিরিতে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে আবার ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। এ সময় জ্বালামুখ থেকে ছাই বের হয়ে অনেক দূর গিয়ে বৃষ্টির মতো ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে লোকজনের মধ্যে হুলস্থুল পড়ে যায়। হুড়োহুড়ির সময় পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচ দিন আগে সুমাত্রার উপকূলে আঘাত হানা সুনামিতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় থাকা ১৩০ জনের বেশি লোককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে মাউন্ট মেরাপিতে প্রচণ্ড শব্দে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে আগ্নেয়গিরির আশপাশের এলাকার শত শত লোক নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে শুরু করে। এমনকি এসব এলাকায় মোতায়েন থাকা সেনা ও পুলিশের সদস্যরাও পালাতে থাকে। এ সময় রাস্তাঘাটে লোকজন, গাড়ি, মোটরসাইকেলের ভিড়ে প্রচণ্ড জট লেগে যায়। মাউন্ট মেরাপি থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে ইয়োগ্যাকার্তা বিমানবন্দরে গিয়ে ছাই ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড এক ঘণ্টা বন্ধ ছিল। কর্মীরা রানওয়ে পরিষ্কার করার পর বিমানবন্দরটি আবার চালু হয়।
হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার গভীর রাতের অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে হুড়োহুড়ির সময় দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
সার্দজিতো হাসপাতালের মুখপাত্র আরিফ নোভিয়ানতো জানান, দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া এই দুজনের একজন নারী ও অপরজন এক বছরের শিশু। এই নিয়ে এ পর্যন্ত ৩৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৬ জন মারা গেছে সরাসরি অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায়।
ক্রিস বুদিয়ানতো (৫১) নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ বজ্রপাতের মতো প্রচণ্ড শব্দে জেগে উঠি। তারপর মোটরসাইকেল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে পালাতে থাকি।’ একপর্যায়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে তিনি আঘাত পান বলে জানান।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা অগাস প্রায়িতনো বলেন, উত্তর পাগাই দ্বীপের উঁচু স্থান থেকে নিখোঁজ কিছু ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ২৯৮ জন। এখন তা ১৬৩ জনে নেমে এসেছে। তিনি জানান, সরকারি হিসাব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা এখনো ৪১৩ জন।

ইয়েমেন থেকে বিস্ফোরকভর্তি প্যাকেট পাঠানো হচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্রে

ব্রিটেন ও সংযুক্ত আরব-আমিরাতের দুবাইয়ে পণ্যবাহী বিমান থেকে উদ্ধার করা প্যাকেটগুলোতে বিস্ফোরক ছিল। ইয়েমেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে এসব বিস্ফোরক পাঠানো হচ্ছিল। সন্ত্রাসী হামলা চালানোই ছিল এর মূল লক্ষ্য। হামলার আশঙ্কায় গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলার বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, আল-কায়েদার ইয়েমেন শাখা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়, সৌদি আরবের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিস্ফোরকের বিষয়টি জানতে পারে তারা। বিভিন্ন সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর দুটি সিনাগগের (ইহুদি উপাসনালয়) ঠিকানায় এসব প্যাকেট পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আসন্ন দক্ষিণ এশিয়া সফর বিঘ্নিত বা বাতিল হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়, এসব মোড়কে পেন্টারিথ্রিটল টেট্রানাইট্রেট (পিইটিএন) বিস্ফোরক ছিল। একই জাতীয় শক্তিশালী বিস্ফোরক দিয়ে গত বছর বড়দিনে নাইজেরিয়ার নাগরিক ওমর ফারুক আবদুলমুতাল্লাব বিমানে হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। নেদারল্যান্ডের আমস্টারডাম থেকে বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ওবামার সন্ত্রাসবিরোধী উপদেষ্টা জন ব্রেননান বলেন, সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা একবারে ভণ্ডুল হয়ে গেছে—যুক্তরাষ্ট্র এমনটা মনে করে না।
বিস্ফোরকভর্তি মোড়কের বিষয়টি নিশ্চিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘আমরা জানি, আল-কায়েদা ও এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন আমাদের মাতৃভূমি, আমাদের জনগণ, বন্ধু ও মিত্রদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে।’
ব্রিটেনের ইস্ট মিডল্যান্ডস বিমানবন্দরের একটি বিমান থেকে উদ্ধার করা প্যাকেটের বিবরণ দিতে গিয়ে একজন প্রকৌশলী জানান, এতে টোনার কার্ট্রিজ, সাদা পাউডার, কিছু তার ও সার্কিট বোর্ড ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দুবাইয়ের কর্মকর্তারা জানান, সেখানেও পণ্যবাহী বিমান থেকে একই ধরনের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
বিমানে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইউপিএস এবং ফেডেক্স ইয়েমেন থেকে পণ্য সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘটনার তদন্তকাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছে তারা।
এদিকে বিমানে বিস্ফোরকের বিষয়টি জানার পর হামলার আশঙ্কায় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়। বিভিন্ন বিমানে তল্লাশি চালানো হয়। শুক্রবার বিকেলে ইয়েমেন থেকে নিউইয়র্কগামী আমিরাত এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় পৌঁছার পর বিমানটি মার্কিন দুটি সামরিক বিমানের পাহারায় জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ বিমানে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। তবে যাত্রীবাহী এই বিমানে সন্দেহজনক কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ফিলাডেলফিয়াসহ বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে পণ্যবাহী বিমানে তল্লাশি চালানো হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহন সংস্থা ডিএইচএল, ইউপিএস ও ফেডেক্সের গুদাম এবং সরবরাহ কেন্দ্রে তল্লাশি চালানো হয়। বিশেষ করে ইয়েমেন থেকে আসা যেকোনো প্যাকেট গোয়েন্দা বিভাগ থেকে সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়।
শিকাগো নগরের সব কটি সিনাগগে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইহুদি নাগরিকদের যেকোনো ধরনের প্যাকেট সম্পর্কে সাবধান থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিনাগগ ছাড়াও শিকাগোর গির্জা ও মসজিদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনে ইয়েমেন দূতাবাসের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলবাসা বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে ইয়েমেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে। বিস্ফোরক পাঠানোর উৎস খুঁজে বের করতে ইয়েমেন সরকার তদন্ত শুরু করেছে। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ওবামার পক্ষ থেকে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুুল্লাহ সালেহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ সালেহ এ ঘটনা তদন্তের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া হোয়াইট হাউস থেকে সময়মতো তথ্য সরবরাহের জন্য সৌদি আরবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রশংসা করা হয়।

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঐতিহাসিক চুক্তি

তীব্র মতবিরোধের পর অবশেষে নাগোয়া সম্মেলনের একেবারে শেষ সময় এসে জীববৈচিত্র্য রক্ষার ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছায় বিশ্ব সম্প্রদায়। পৃথিবীব্যাপী বন ও প্রবালপ্রাচীরসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জাপানের নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ১২ দিনব্যাপী জীববৈচিত্র্যবিষয়ক শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী দিনে গতকাল শনিবার এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
মানব জাতির জন্য অত্যাবশ্যকীয় প্রকৃতির ধ্বংস ঠেকাতে ধনী ও গরিব দেশগুলো ‘কার্যকর ও জরুরি’ পদক্ষেপ গ্রহণে রাজি হয়েছে। সম্মেলনে যোগ দেওয়া ১৯৩টি দেশ ১০ বছরব্যাপী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ২০২০ সাল নাগাদ কার্বন-দূষণ বন্ধ, বন ও প্রবালপ্রাচীর রক্ষা, স্থল ও জলভাগের অংশবিশেষ সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদ টিকিয়ে রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেছে রাষ্ট্রগুলো।
চুক্তি সইয়ের পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচিবিষয়ক প্রধান আচিম স্টেইনার বলেছেন, ‘দিনটি উদ্যাপন করার মতো।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবেশবিষয়ক কমিশনার জ্যানেজ পোটোকনিক বলেন, ‘আমরা চাইলে কিছু করতে পারি নাগোয়া চুক্তি তা-ই প্রমাণ করেছে।’ পরিবেশবাদী সংগঠন কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি রাস মিত্তারমিয়ার বলেন, ‘এ সম্মেলন অবশ্যই সফল ও বড় ধরনের অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’
পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস ও সম্মেলনে যোগ দেওয়া প্রতিনিধিরা বলেছেন, এই চুক্তি সইয়ের মধ্য দিয়ে আশার প্রদীপ জ্বলেছে। গত বছর কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলন ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর নাগোয়া চুক্তি এই বার্তা দিয়েছে যে, পৃথিবীর যেকোনো পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে ক্ষমতা রাখে জাতিসংঘ।
নাগোয়া চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিক হলো জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৭ শতাংশ ভূমি ও ১০ শতাংশ সমুদ্র এলাকা সংরক্ষণে মতৈক্যে পৌঁছানো। গ্রিনপিস অবশ্য ২০ শতাংশ সমুদ্র সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিল। সংগঠনটির চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ৪০ শতাংশ সমুদ্রাঞ্চল সংরক্ষণ করা। বর্তমানে মাত্র ১৩ শতাংশ ভূমি ও এক শতাংশ সমুদ্রাঞ্চল রক্ষা করা হচ্ছে।
নাগোয়া চুক্তির আরেকটি দুর্বলতা হলো এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সই করেনি।
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নাগোয়া সম্মেলনের ২০ দফা কৌশলগত পরিকল্পনাকে কোনো কোনো পরিবেশবাদী সংগঠন প্রত্যাশিত মনে করে না। তবে অধিকাংশই একে স্বাগত জানিয়েছে। ডব্লিউডব্লিউএফ ইন্টারন্যাশনালের মহাপরিচালক জিম লিপ বলেছেন, ‘এই চুক্তি সইয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় একটা জোরালো বার্তা দিয়েছে, পৃথিবী রক্ষার ইস্যুটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিরই অংশ। জীববৈচিত্র্য রক্ষার সংগ্রামে বিশ্ব সম্প্রদায় যোগ দিতে প্রস্তুত।’
চুক্তি সইয়ের আগে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর প্রবেশাধিকার ও সুবিধা ভাগাভাগি নিয়ে ‘অ্যাকসেস অ্যান্ড বেনিফিটস শেয়ারিং (এবিএস)’ প্রটোকলটি অনুমোদনের জোরালো দাবি জানায় ব্রাজিল। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিযোগ, উন্নত দেশ ও তাদের কোম্পানিগুলো ওষুধ ও প্রসাধনসামগ্রীসহ অন্যান্য পণ্য উৎপাদনে গরিব দেশ থেকে বিনা মূল্যে প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টিকে ‘বায়োপাইরেসি’ অভিহিত করে এ সম্পদ আহরণের মাধ্যমে ধনী দেশগুলো যে মুনাফা পাচ্ছে তার একটা অংশ দাবি করেছে উন্নয়নশীল বিশ্ব।
সম্মেলনের শেষ দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন ধনী রাষ্ট্রগুলো এবিএস প্রটোকল মেনে নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এবারের সম্মেলনের ২০ দফা কৌশলগত পরিকল্পনা সফল হওয়াটা নিশ্চিত হয়েছে।

দেমেন্তিয়েভার অপ্রত্যাশিত অবসর

কোনো আভাস পর্যন্ত দেননি আগে। দোহায় ডব্লুটিএ টুর্নামেন্টের গ্রুপ ম্যাচ হেরে তাই ঘোষণাটা দিলেন যখন, সবার কাছেই এল বিস্ময় হিসেবে। টেনিসকে বিদায় বলে ফেললেন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন এলেনা দেমেন্তিয়েভা।
বয়স ২৯। তাঁর চেয়েও বেশি বয়সী হয়েও যেখানে কোর্ট দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন কিম ক্লাইস্টার্স, জাস্টিন হেনিনরা, তিনি কেন অবসর নিয়ে ফেললেন? আসলে তিনি হেরে গেলেন ইনজুরির কাছে। বেশ কিছুদিন ধরেই অ্যাঙ্কেলের চোট ভোগাচ্ছিল তাঁকে। ৬-৪, ৬-২ গেমে ফ্রান্সের ফ্রান্সেসকা শিয়াভনের বিপক্ষেও হেরে যাওয়া ম্যাচেও দেখা গেছে যার প্রভাব। টেনিসকে বিদায় বলতে গিয়ে আরেক লড়াইও করতে হয়েছে দেমেন্তিয়েভাকে, আবেগ ও টেনিসের প্রতি ভালোবাসার সঙ্গে, ‘বিদায় বলাটা খুবই কঠিন।’ পরশুর ম্যাচ শেষে রুশ-কন্যা বলে গেলেন, ‘অবসরের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে যখন আমি পরিবারের সঙ্গে কথা বলি, একটা প্রস্তুতি ছিল তাদের সমর্থন পাব। কিন্তু (আমার সিদ্ধান্তে) তারা বিস্মিত হয়েছে। তারা আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে, আমি আরও বছর দুই খেলে যেতে পারব, অনেক টুর্নামেন্ট জিততে পারব। কিন্তু এভাবে (ইনজুরির বিপক্ষে লড়াই) চললে সিদ্ধান্ত একটা নিতেই হবে আপনাকে। আমি মনে করি, আমার বয়ফ্রেন্ড ছাড়া অবসরের সিদ্ধান্তে আর কেউ খুশি হতে পারেনি।’
বয়ফ্রেন্ড প্রসঙ্গটা তুলে ১৬টি ডব্লুটিএ শিরোপা জেতা দেমেন্তিয়েভা আরেকটি ইঙ্গিতও দিলেন। টেনিস ছেড়ে শুরু করবেন সংসার ধর্ম। মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাটাও শেষ করতে চান।
২০০৪ সালে ফ্রেঞ্চ ও ইউএস ওপেনের ফাইনালে উঠেছিলেন, কিন্তু হেরে যাওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করতে পারেন তাঁর সার্ভিসে সমস্যা আছে। সমস্যা কাটিয়ে উঠতে নিবিড় অনুশীলন করেছেন দীর্ঘদিন। কিন্তু পরে আর কোনো গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে উঠতে পারেননি। ক্যারিয়ারে বড় অর্জন বলতে বেইজিং অলিম্পিক টেনিসের সোনাটাই।
কিন্তু সবকিছুকেই কি অর্জন দিয়ে মাপা যায়! দোহায় খেলতে আসা তাঁর স্বদেশি ভেরা জনারেভা বিদায়ী সতীর্থের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন এভাবেই, ‘তোমার জন্য গর্বিত রাশিয়া, তুমি যা করেছে গর্বিত তার জন্য। শুধু রুশ টেনিসের জন্যই নয়, দেশের খেলাধুলার জন্যও তুমি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

টেন্ডুলকারের ব্যাটের দাম ৪২ লাখ

গত বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রাইস্টচার্চে অপরাজিত ১৬৩ রান করেছিলেন। যেটি ওয়ানডেতে শচীন টেন্ডুলকারের চতুর্থ সর্বোচ্চ ইনিংস। যে ব্যাট দিয়ে দুর্দান্ত ইনিংসটি খেলেছিলেন, কাল নিলামে সেটার দাম উঠল ৪২ লাখ রুপি। গত বেইজিং অলিম্পিকে যে রাইফেল দিয়ে ভারতকে তাদের অলিম্পিক ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তিগত সোনা এনে দিয়েছিলেন অভিনব বিন্দ্রা, সেটির দামকেও ছাড়িয়ে গেছে টেন্ডুলকারের ব্যাট। বিন্দ্রার রাইফেল আর রাহুল দ্রাবিড়ের একটি ব্যাটের দাম উঠেছে ২০ লাখ রুপি করে। টেন্ডুলকারের ব্যাটটি ছাপিয়ে গেছে ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের স্বাক্ষরিত একটি ব্যাটকেও। সুনীল গাভাস্কারের দান করা ব্যাটটির দাম উঠেছে সাড়ে ১৭ লাখ। নিলামের আয়োজক বলিউড তারকা রাহুল বোসের বেসরকারি সাহায্য সংস্থা দ্য ফাউন্ডেশন। মুম্বাইয়ের এই নিলামে উঠেছিল জিম লেকারের রেকর্ড ছোঁয়ার দিন অনিল কুম্বরের পরনে থাকা জার্সিও।

ইন্টার-বায়ার্নের স্বস্তির জয়

ইতালিতে জিতেছে ইন্টার মিলান। জার্মানিতে জয় পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। ইন্টার-বায়ার্ন দুই দলই নিজ নিজ লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। দুই দলই মাঠে নেমেছিল আগের ম্যাচের ড্রর হতাশা মুছে ফেলার তাগিদ নিয়ে। জয় সেই হতাশা তো মুছে দিয়েছেই, পয়েন্ট তালিকায়ও তুলে এনেছে ওপরের দিকে।
আগের ম্যাচে সাম্পদোরিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা ইন্টার এদিন জেনোয়াকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। বায়ার্নের জয়টি অবশ্য বেশ স্বস্তির, আগের ম্যাচে হামবুর্গের সঙ্গে ড্র করা চ্যাম্পিয়নরা ফ্রেইবুর্গকে হারিয়েছে ৪-২ গোলে।
ইন্টার অবশ্য জয় নিয়ে ফিরেছে ভাগ্যজোরে। ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত করা গোলটি (১-০) যতটা না ঘানাইয়ান তারকা সুলে মুনতারির, তার চেয়েও বেশি করে যেন জেনোয়ার পর্তুগিজ গোলরক্ষক এদুয়ার্দোর।
বায়ার্নের ৪-২ গোলের জয়ে প্রথম গোলটি করেছেন প্রায় বিস্মৃত হতে বসা মার্টিন ডেমিকেলিস। বাকি গোল তিনটি করেছেন মারিও গোমেজ, ইউক্রেনিয়ান টিমোসচুক ও টনি ক্রুজ। এই জয় ১১তম স্থান থেকে বায়ার্নকে তুলে এনেছে সপ্তম স্থানে। ১০ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট তাদের। এক ম্যাচ কম খেলেই শীর্ষে থাকা মেইঞ্জের পয়েন্ট ২৪।
ওদিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গতকাল হেরে বসেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ইমানুয়েল আদেবায়রের গোলে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরেছে তারা উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে। অবশ্য লিগে যার যার ম্যাচে জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আর্সেনাল ও চেলসি। আলেক্সান্ডার সংয়ের একমাত্র গোলে ওয়েস্টহামকে হারিয়েছে আর্সেনাল। আর নিকোলাস আনেলকা ও ইভানোভিচের গোলে ২-১ ব্যবধানে ব্ল্যাকবার্নকে হারিয়েছে চেলসি। ওদিকে ভিদিচ ও ন্যানির গোলে টটেনহামকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ম্যানইউ।

সেই ব্যাটিংকেই দুষছেন আফ্রিদি

পাকিস্তানের আরও একটি ব্যাটিং-ধসের পর ক্রিকইনফোর সরাসরি ধারাভাষ্যে এক রসিক পাঠকের মন্তব্য, ‘প্রতিটি অজুহাতের জন্য যদি এক পেনি করেও দেওয়া হতো, তাহলে এত দিন কোটিপতি হয়ে যেতেন শহীদ আফ্রিদি।’ কিন্তু অধিনায়কদের যে হতাশ হলে চলে না! পরশু আরেকটি বড় পরাজয়ের পর আফ্রিদির কণ্ঠে সেই পুরোনো বুলি, ‘ব্যাটিংটাই বারবার ডোবাচ্ছে, আশা করি, পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়াব।’
আফ্রিদির কথায় বিশ্বাস করার লোক অবশ্য খুব একটা খুঁজে পাওয়া যাবে না। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও তাই পরিষ্কার ফেবারিট দক্ষিণ আফ্রিকা। পরশু ৮ উইকেটে জিতে ওয়ানডেতে টানা দশম জয় পেয়েছে গ্রায়েম স্মিথের দল। ইউনুস খানকে পেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল পাকিস্তান। দ্বিতীয় উইকেটে ইউনুসের (৫৪) সঙ্গে মোহাম্মদ হাফিজের (৬৮) ১১৪ রানের জুটিতে ৩০ ওভার শেষে রান ছিল ১ উইকেটে ১৪০। কিন্তু ইয়োহান বোথার অফ স্পিনে এই দুজন আউট হওয়ার পর হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে পাকিস্তান। ৬৩ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয় ২০৩ রানে।
দুর্দান্ত ফর্মে থাকা হাশিম আমলা ২৯ বলে ৩৫ রান করে ভালো শুরু এনে দেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এরপর জ্যাক ক্যালিস ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের ফিফটিতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা ৬৩ বল আগে। টানা তিন ম্যাচে সেঞ্চুরির রেকর্ড ছুঁতে না পারলেও ডি ভিলিয়ার্স খেলেছেন ৫৩ বলে ৫১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। তবে বড় জয়ের পাশাপাশি পরশু একটা অস্বস্তি নিয়েও মাঠ ছেড়েছে প্রোটিয়ারা। শোয়েব আখতারের দুটি বাউন্সারে হাতে আঘাত পেয়ে অবসর নেন স্মিথ। চোট কাটিয়ে দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরা ফেরা জ্যাক ক্যালিসের পায়ে ক্র্যাম্প করে উইকেটে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই। এরপর ক্র্যাম্প নিয়েই খেলে গেছেন, তবে ৬৬ রান করার পর অবসর নেন তিনিও। আজ দুজনকেই পাওয়া নিয়ে শঙ্কা।
ক্যালিস না খেললে দলে ফিরতে পারেন আরেক অলরাউন্ডার আলবি মরকেল। দক্ষিণ আফ্রিকা সত্যিকারের ঝামেলায় পড়বে স্মিথ না খেললে, কারণ দলে আর কোনো স্পেশালিস্ট ওপেনার নেই। সে ক্ষেত্রে একসময় ওপেন করা এবি ডি ভিলিয়ার্স বা কলিন ইনগ্রামকে দেখা যেতে পারে ওপেনিংয়ে। পাকিস্তান দলে ফিরতে পারেন উমর আকমল। তবে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা স্বরূপে ফিরতে পারবেন কি না, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটাই।

বড় জয় দিয়ে শুরু শ্রীলঙ্কার

বড় জয় দিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফর শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা। পার্থে আজ রাতে অনুষ্ঠিত সফরের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে স্বাগতিকদের সাত উইকেটে হারিয়েছে কুমার সাঙ্গাকারার দল। প্রথমে ব্যাট করে আট উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ১৬ দশমিক ৩ ওভারে মাত্র তিনটি উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।
ম্যাচের শুরুটা হতাশা দিয়ে শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার, শেষটাও হয়েছে হতাশা দিয়েই। দলীয় ১২ রানে প্রথম উইকেটের পতন। মাত্র ৪৩ রানে পাঁচটি উইকেট পড়ে গিয়েছিল। এই ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যেও প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে তোলেন ব্রাড হ্যাডিন ও স্টিফেন স্মিথ। রণদিভের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে হ্যাডিন ৩৫ ও স্মিথ ৩৪ রান করেন। শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট লাভ করেন রণদিভ।
টি-টোয়েন্টি ম্যাচে লক্ষ্য মাত্র ১৩৪। হেসে খেলেই জয়টা তুলে নিয়েছেন সফরকারীরা। উদ্বোধনী জুটিতে জয়াবর্ধনে ও দিলশান তোলেন ৩৫ রান। ব্যক্তিগত ২৪ রানে সিডলের শিকারে পরিণত হন জয়াবর্ধনে। সাজঘরে ফেরার আগে দিলশান সংগ্রহে যোগ করেন ৪১ রান। অস্ট্রেলিয়ার হার নিশ্চিত করা সাঙ্গাকারা অপরাজিত থাকেন ৪৪ রানে।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'বিষয় কাশ্মীর-ইনসাফ ও স্বাধীনতা by অরুন্ধতী রায়

লিখছি কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর থেকে। আজকের (২৬ অক্টোবর ২০১০ মঙ্গলবার) সকালের পত্রিকাগুলো বলছে, কাশ্মীর বিষয়ে সম্প্রতি আমি প্রকাশ্যে যা বলেছি, তার জন্য জনগণকে উসকে দেওয়ার অভিযোগে আমাকে হয়তো গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

আমি যা বলেছি, তা এখানকার লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিনই বলে যাচ্ছে। আমি যা বলেছি, তা আমিসহ আরও অনেক লেখক ও ভাষ্যকার বছরের পর বছরজুড়ে বলে আসছেন। কেউ যদি কষ্ট করে আমার বক্তৃতার শ্রুতিলিখন পড়েন তো দেখবেন, আসলে আমি যা বলেছি তা বুনিয়াদিভাবে সুবিচারের জন্য দাবি। আমি সেই কাশ্মীরি জনগণের জন্য সুবিচারের দাবি করেছি, যারা বিশ্বের অন্যতম নির্মম সামরিক দখলদারির মধ্যে বাস করে আসছে।

ইতিহাস- 'ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ডায়েরি' by শাহাদুজ্জামান

এই অক্টোবর মাসে আমেরিকা ‘কলম্বাস দিবস’ পালন করে থাকে। কলম্বাস ১৪৯২ সালের ১২ অক্টোবর আমেরিকার ভূখণ্ডে পা রেখেছিলেন। কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের বিজয়োৎসব পালন করে তারা।

কিন্তু সবাই এদিনে উৎসব করে না, কেউ কেউ করে পরিতাপ। যেমন—আমেরিকার এক শিক্ষক বিল বিগলো কলম্বাস দিবসে ক্লাসে ঢুকে টেবিলের ওপর রাখা তাঁর ছাত্রীর পার্সটি বগলদাবা করে হাঁটতে শুরু করেন। ছাত্রীটি চেঁচিয়ে ওঠে, ‘এ কি! আপনি আমার পার্স নিয়ে যাচ্ছেন কেন?’ বিগলো বলেন, ‘নিলাম কোথায়, আমি তো এটা আবিষ্কার করলাম।’ ‘কলম্বাস এভাবেই আবিষ্কার করেছিলেন আমেরিকাকে।’ ছাত্রছাত্রীদের বলেন বিগলো। তিনি বলেন, ‘ওটা আবিষ্কার নয়, বরং স্রেফ লুটতরাজ।

বিজ্ঞান আলোচনা- নাসা আজীবনের জন্য মঙ্গলে মানুষ পাঠাবে

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা নতুন একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের চিন্তাভাবনা করছে। এই প্রকল্পের আওতায় নভোচারীদের মঙ্গল গ্রহে নিয়ে গিয়ে আর ফেরত আনা হবে না। আজীবনের জন্য সেখানে তাঁদের রেখে আসা হবে।

ব্যতিক্রমী এ প্রকল্পটির নাম ‘হান্ড্রেড ইয়ার্স স্টারশিপ’।
নাসার প্রধান গবেষণা কেন্দ্র ‘অ্যামিস রিসার্চ সেন্টার’-এর পরিচালক পেটি ওয়ার্ডেন জানান, এ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে অ্যামিস রিসার্চ সেন্টার এরই মধ্যে ১০ লাখ ডলার পেয়েছে।
ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা বলেছেন, প্রযুক্তিগত কারণে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ।