Tuesday, February 24, 2015
সন্ত্রাস-পুলিশ-আইন
পুলিশ
স্যারেরা ঘরে, বাইরে বা অফিসে কাউকে নিরাপত্তা দিতে পারবেন না, কারন তারা
ভিআইপি এবং সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।
তাছাড়া তাদের আরেকটি বড় কাজ হলো নানা দাবিতে প্রতিবাদী সোচ্চার
ছাত্র-শিক্ষক-জনতা ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন-পীড়ন করা। ধিক তোদের। দাস-এর
দল।একটি দেশে পুলিশই যখন নিয়মিত সন্ত্রাসীর ভূমিকায় অবতীর্ন হয় তখন কি কোন সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজরা ভয় পায়?
তাছাড়া পুলিশের উপরের ধাপ মানে বিশেষ বাহিনীগুলোও নানাসময়ে গুম-খুন-চাদাবাজি-দুর্নীতির সাথে জড়িত।
তাদের উপরের ধাপ মানে তাদের নিয়ন্ত্রঙ্কারী ও রক্ষাকর্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীও যখন নানাভাবে বিতর্কিত হন তখন আর একটাই পথ খোলা থাকে—বিচার বিভাগ।
আবার সেই বিচারবিভাগের কিছু অংশও যখন সরকারি দলের পক্ষ নিয়ে বিচারকে প্রভাবান্বিত করে, বা সরকারের কোন ব্যক্তি বা বাহিনীর পক্ষ নিয়ে নিশ্চুপ থাকে তখন সাধারন মানুষ যারা রাজনীতি করেনা, বা করলেও সরকারি দল করেনা তারা কোথায় যাবে? কার কাছে অন্যায়ের বিচার চাইবে?
আর এভাবেই যদি চলতে থাকে তাহলে অপরাধ কিভাবে কমবে? প্রথম দায়িত্বটা যার সেই পুলিশের এত খারাপ অবস্থা কেন?
# পুলিশকে কিভাবে নিয়োগ দেয়া হয়?
# এদের প্রশিক্ষনের সময় কি গনতন্ত্র-মানবাধিকার-জনসেবা ইত্যাদি শেখানো হয়?
# এদের নিজস্ব মগজ বের করে কি প্রোগ্রাম করা নতুন মগজ মাথায় ভরে দেয়া হয়?
# এদের বিবেক-বুদ্ধি লোপ পায় কেন?
# এদের যে বিভিন্ন সরকার নানাভাবে অপব্যবহার করে এরা প্রতিবাদ করেনা কেন?
# কেন এরা গনপদত্যাগ করেনা? …ইত্যাদি প্রশ্ন আমাকে অবিশ্রান্ত করে ফেলে।
ক্ষমতা এমন একটা জিনিস যা শুধুমাত্র ভালোকাজে লাগালেই ভালো ফল পাওয়া যায়, অন্যথায় নয়।
# এটা কি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সরকারি দলের এমপি, ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জানেন না?
# এনারা যদি না জানেন বা না মানেন তাহলে তাদের দেখে যারা অনুকরণ করে সেসব তৃনমূলের নেতা-কর্মীরা কিভাবে জাতে আসবে?
# সাধারন জনগন কি তবে নিজেদের অন্ধ-কালা-দুর্বল গরু-গাধা ভাবতে শুরু করবেনা?
উপরের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট হলোঃ বিডিনিউজের সংবাদকর্মী ও অফিসের কর্মচারিদের উপর সশস্ত্র হামলা; প্রথম আলো’র ৩ ফটোসাংবাদিককে দিনে-দুপুরে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কনস্টেবলের মারধর-হেনস্তা; সম্প্রতি শাহবাগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপর পুলিশের অমানবিক হামলা; পাবনাতে ৩দিনের মধ্যে একজন স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রীর দুর্নীতির ও আরেকজন এডওয়ার্ড কলেজে অনৈতিক কর্মকান্ডের খবর দেওয়ায় হামলার শিকার; সাংবাদিক বিভাস দা’র সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যু এবং সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধানমন্ডি থানার ওসি’র কীর্তি; তেল-গ্যাস কমিটির প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশে পুলিশি হামলা; বিএনপি’র হরতাল-বিক্ষোভে পুলিশী হামলা-নির্যাতন এবং কোন কর্মসূচীর আগে ধড়পাকড়; এবং সারাদেশে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া সরকার সমর্থকদের হামলা-মামলা-সন্ত্রাস আর পুলিশী সহায়তা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাহমুদুর রহমান মান্না কোথায়?
আজ সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে যোগাযোগ করা হলে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার লুৎফুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেহেতু পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে, সেহেতু তাঁকে খুঁজে বের করা আমাদের দায়িত্ব। সে অনুযায়ী আমাদের কাজ চলছে। ’
আজ সন্ধ্যায় র্যাবের পরিচালক (গণমাধ্যম) কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে কোনো কিছু জানি না। ’ তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়েছে কি না। সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে জানালে তিনি বলেন, নির্দেশনা এলে অবশ্যই তাঁরা এ ব্যাপারে কাজ করবেন।
মান্নাকে ‘তুলে নিয়ে যাওয়ার’ পর আজ দুপুরে মান্নার ভাই মোবায়েদুর রহমানের স্ত্রী সুলতানা এ বিষয়ে বনানী থানায় জিডি করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল রাত তিনটার দিকে ডিবি পরিচয় দিয়ে চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যান।
পরিবারের সদস্যরাও এখন পর্যন্ত মান্নার কোনো খোঁজ পাননি বা তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগও হয়নি। মান্নার স্ত্রী মেহের নিগার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, থানা থেকে তাঁদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। তাঁরা সন্ধ্যায় থানায় খবর নিয়েছেন, কিন্তু পুলিশ কিছু জানাতে পারেনি।
দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টায় মান্নার অবস্থান সম্পর্কে কোনো কিছু নিশ্চিত না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেন, ‘সরকারের অবশ্যই জানা উচিত মান্না কোথায়। না জানলে সেটিও বলা উচিত। কারণ জনগণের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। জানমালের নিরাপত্তা বিধান সরকারের কর্তব্য। ’
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আরেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘মান্না তো বাচ্চা ছেলে না। নিশ্চয় যারা নিয়ে গেছে তাদের পরিচয় নিশ্চিত জেনেই তিনি তাদের সঙ্গে গেছেন। এখন খুঁজে বের করার দায়িত্ব সরকারের। ’ এভাবে ডিবি পরিচয়ে মানুষ তুলে নিয়ে যাওয়া বন্ধ করারও আহ্বান জানান তিনি।
চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংলাপের অন্যতম উদ্যোক্তা মান্নার সঙ্গে বিএনপির নেতা সাদেক হোসেন খোকা ও অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির কথোপকথনের অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়। এর ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
ফোনে এই আলাপচারিতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইউটিউবে প্রকাশিত এই অডিও টেপ নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে আলোচনা চলছে। কথাবার্তার একপর্যায়ে বোঝা গেছে, আলোচনার বেশির ভাগ অংশ ভাইবারে হয়েছে। সেখান থেকেই তাঁদের কথোপকথন ধারণ করে ইন্টারনেটে ছাড়া হয়েছে। দুটি টেলিফোন আলাপচারিতায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের সাম্প্রতিক আন্দোলন পরিস্থিতি, সংলাপ, নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগ, সরকারের পদক্ষেপ, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংগঠন ও বিভিন্ন দেশের উদ্যোগ ও ভূমিকা, আন্দোলন চাঙা করার জন্য করণীয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া ও সেনাবাহিনীর ভূমিকাসহ নানা বিষয় উঠে আসে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্ত্রীর আকুতি : আমার স্বামীকে হত্যা করবেন না
![]() |
| সংবাদ সম্মেলনে শামীম প্রধানের স্ত্রী তানিয়া আক্তার |
তিনি বলেন, ‘প্রকাশ্যে দিনের বেলায় আমার স্বামীকে আটকের পর বগুড়া এবং গাইবান্ধা র্যাব ক্যাম্পে বারবার যোগাযোগ করলেও তারা আটকের কথা স্বীকার করেনি। আমি নিজের চোখে বগুড়া র্যাব ক্যাম্পে দেখার পরেও তারা অস্বীকার করছেন। ফলে আমি তার প্রাণনাশের আশঙ্কা করছি। আমি আমাদের দুই বছরের ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। এই অবস্থায় আমি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এবং র্যাবের মহাপরিচালকের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, আপনারা আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিন। সে কোনো অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় আনুন। দয়া করে আমার স্বামীকে হত্যা করবেন না।’
এসময় তানিয়া কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বারবার চোখের পানি মুছতে থাকেন।
শামীম প্রধান গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী বলে জানান স্ত্রী তানিয়া আক্তার। সংবাদ সম্মেলনে তানিয়ার মামা রাজু আহমেদ, ভাই হাদিউল ইসলাম, শামীমের বোন শ্যামলী আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্বের চেষ্টা চলছে -সম্পাদক পরিষদের বিবৃতি

সংসদে সম্পাদক ও প্রকাশকদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়া হয়েছে যা তাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ। ইতোমধ্যে একাধিক সম্পাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ পত্রিকার অফিসে তল্লাশির নামে পুলিশি হয়রানির মতো ঘটনাও ঘটানো হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এছাড়াও একাধিক টিভি মালিককে গ্রেপ্তার করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। টিভি টকশো’কে নানাভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু টকশো বন্ধ করা হয়েছে। টকশো’র অতিথি তালিকা নির্দিষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। লাইভ অনুষ্ঠান প্রচার নিয়ে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। কী প্রচার হবে আর হবে না তা নিয়ে টেলিফোনে নির্দেশনাও স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর হস্তক্ষেপ বলে আমরা মনে করি। গণমাধ্যমে কোন কোন সাংবাদিককে সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও দলীয় কার্যক্রমের খবর সংগ্রহের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। প্রচার মাধ্যমসহ অন্যান্য পক্ষকে বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়ে অযথা হয়রানি করাটা স্বাধীন গণমাধ্যমের সহায়ক হতে পারে না। সংবাদপত্রসহ সকল প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দলনিরপেক্ষতা সংরক্ষণে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে অধিকতর দায়িত্বশীল ও সহযোগিতামূলক আচরণ আশা করি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সবই করব: প্রধানমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল সাজ্জাদুল হক স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা, সাংসদ, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনীতিক এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। এ আদর্শ সামনে রেখে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে এগিয়ে যেতে হবে।’ সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মূর্ত প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে তাঁর প্রথম সরকারের মেয়াদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৪ সালের ডিফেন্স পলিসির অনুসরণে সশস্ত্র বাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে অনেকগুলো ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, তাঁর সদ্য সমাপ্ত বিগত সরকারের মেয়াদে ফোর্সেস গোল ২০৩০–এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে বহু উল্লেখযোগ্য কাজের বাস্তবায়ন হয়েছে। এবারও সরকার গঠনের পর উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সম্পদ সীমিত। আর এ সীমিত সম্পদ দিয়েই আমরা একটি যুগোপযোগী, দক্ষ ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে উন্নত প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’
বিশ্বের সঙ্গে সংগতি রেখে দেশের প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান উন্নত ও আধুনিক হবে, এই আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় জীবনের সব পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুলিতে ঝাঁঝরা by নুরুজ্জামান লাবু
এদিকে কাজীপাড়ার বাইশবাড়ির যেই স্থানে এ তিন যুবককে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়েছে বলে দাবি করছে পুলিশ, সেখানকার অধিবাসীদের কেউ গণপিটুনির কোনও ঘটনার কথা জানাতে পারেননি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তারা কোন গণপিটুনির ঘটনা প্রত্যক্ষ করেননি। তবে রাতে দু’দফায় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ তারা শুনতে পেয়েছেন। কিন্তু ভয়ে কেউ তারা বাসা থেকে বের হননি।
রোববার মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়ার বাইশবাড়ি থেকে অজ্ঞাত তিন যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ এসময় জানায়, রোববার রাতে নিহত তিন যুবক কাজীপাড়ার কৃষিবিদ ভবনের সামনে নাশকতামূলক কর্মকা- পরিচালনা করে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, বোমা বিস্ফোরণের লক্ষ্যে অবস্থান করে। এসময় স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করে বাইশবাড়ি এলাকায় গিয়ে ধরে ফেলে। পরে তাদের গণধোলাই দেয় এবং গুলি করে। এতে তিন জনের মৃত্যু ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগে দুই লিটারের বোতল ভরা পেট্রল, দুটি ককটেল, তিনটি পেট্রল বোমা উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। গতকাল মিরপুর থানার এসআই মাসুদ পারভেজ বাদী হয়ে এ ঘটনায় একটি মামলা (নং ৬১) দায়ের করেছে।
তবে গতকাল দুপুরে বাইশবাড়ির যেখানে তিন যুবককে গণপিটুনি ও গুলি করার কথা পুলিশি বলছে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মূল সড়ক থেকে কয়েক শ’ গজ দূরে বাইশবাড়ি মসজিদের পাশে বেল্লা ভিস্তা নামে একটি অ্যাপার্টমেন্টের পূর্ব পাশের গলিতে ছোপ ছোপ রক্ত পড়ে আছে। গলির উত্তর দিকে ১০ হাত দূরেই রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে ‘ড্রিম টাচ’ নামে একটি নির্মাণধীন বহুতল ভবনের দরজা। ঘটনাস্থলে রক্তে ভেজা একটি নাইলনের দড়িও দেখা যায়। দিনভর স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেছে। স্থানীয়রা জানান, সকালে ঘটনাস্থলে ৭-৮টি গুলির খোসা দেখা গিয়েছে। পরে কে বা কারা গুলির খোসা নিয়ে গেছে। ঘটনাস্থল লাগোয়া ৮২৩ পশ্চিম কাজীপাড়া ভবনের মালিকের স্ত্রী রহিমা বেগম জানান, তারা তিন তলায় থাকেন। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তারা রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ ৮-১০ রাউন্ড গুলির শব্দ পান। পরে তারা ভয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন। এর কিছুক্ষণ পর আবারো ৮-১০ রাউন্ড গুলির শব্দ পাওয়া যায়। তবে তিনি মানুষের কোলাহল বা চিৎকার চেচাঁমেচি শুনতে পাননি। রহিমা বেগম বলেন, ‘সকালে জানতে পারি গলিতে তিন জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মারা গেছে।’ ঘটনাস্থল লাগোয়া পাশের আরেকটি ভবনের মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি রাত সাড়ে ১১টার দিকে ধানমন্ডির এক চিকিৎসকের কাছ থেকে বাসায় ফিরেছেন। বাসায় ঢোকার সময় তিনিও ওই গলিতে কোনও লোকজন দেখতে পাননি। ওই গলিতে ঢোকার আগ মুহূর্তেই বাম দিকে একটি বড় খোলা জায়গা। সেখানকার ৮২২/২ নম্বর পশ্চিম কাজীপাড়া টিনশেড ঘরের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন জানান, তিনি রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসায় ফিরেছেন। সে সময় গলিতে কোন লোকজনকে দেখেননি। সকালে তিনি তিন জন নিহত হওয়ার খবর জানতে পারেন। তবে ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ বেগম জানান, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি দুই দফায় গুলির শব্দ পান। ভয়ে দরজা খুলে বাইরে বের হয়ে আসেননি। তবে গুলির আওয়াজ ছাড়া কোনও লোকজনের চিৎকার চেঁচামেচি কিছু শুনতে পাননি। একই কথা বলেন ৮২২ নম্বর বাসার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী। তিনিও জানান, তারা রাতে কেবল গুলির শব্দই পেয়েছেন। কোনও লোকজনের চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পাননি।
ঘটনাস্থলের পশ্চিম দিকে বেল্লা ভিস্তা নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট। ওই অ্যাপার্টমেন্টের দোতলায় বাসরত এক নারী জানান, তারা রাতে গুলির শব্দ পেয়েছেন। কিন্তু সেখানে কোনও মারামারি কিংবা অন্য কিছু ঘটেনি। বেল্লা ভিস্তার দুই সিকিউরিটি গার্ড মোতালেব ও জাহাঙ্গীর জানান, তারা গুলির শব্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির মূল দরজা তালাবদ্ধ করে গ্যারেজের ভেতরের দিকে চলে যান। গ্যারেজের ভেতরের অংশের দেয়ালের পাশেই তিন যুবক নিহত হওয়ার ঘটনাস্থল। তারা দেয়াালের পাশে কান লাগিয়ে গলিতে দুই-তিন জনের হাঁটাচলার শব্দ পান। তবে গণপিটুনি দেয়ার মতো মানুষজনের আওয়াজ শুনতে পাননি। ওই অ্যাপার্টমেন্টের ৬-সি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ডা. আজাদও বলেন, তারা কেবল গুলির শব্দ পেয়েছেন। অন্য কোনও শব্দ বা চিৎকারের আওয়াজ তারা পাননি।
এদিকে নিহত তিন যুবকের একজনের সুরতহাল রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অজ্ঞাত (২০) এই যুবক মুসলিম। তার মুখের বাম পাশের থুঁতনিতে বুলেটের আঘাত। ডান হাতের কব্জির উপরে ৮টি বুলেটের আঘাত এবং হাতের পাতায় একটি বুলেটের আঘাত। এছাড়া বাম কাঁধে দুটি, বুকে ৪টি বুলেটের আঘাত রয়েছে। পেটে নাভির নিচে ছেঁচড়া জখম। পিঠ স্বাভাবিক তবে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহত এই যুবকের পরনে কালো-সাদা চেক শার্ট, কালো গেঞ্জি ও হলুদ রঙের গ্যাবাডিন ফুলপ্যান্ট ছিল। অজ্ঞাত অপর যুবকের সুরতহালে বলা হয়েছে, একই উচ্চতার অজ্ঞাত (১৯) এই যুবক সনাতন ধর্মালম্বী। গালের বাম পাশে একটি বুলেটের চিহ্ন, কান স্বাভাবিক। তবে নাক দিয়ে রক্ত বের হয়েছে। গলার বাম পাশে দুটি বুলেটের চিহ্ন আছে। ডান হাতের কনুইয়ের উপরে দুটি বুলেটের চিহ্ন। বাম পাশের বগলে দুটি বুলেটের চিহ্ন। এছাড়া বুকে দুটি, নাভীর উপরে ১টি বুলেটের চিহ্ন আছে। পিঠে ৫টি, বাম পাশের পাঁজরে দুটি, কোমরের বাম পাশে ১টি বুলেটের চিহ্ন আছে। এছাড়া তার সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার পরনে ছিল একটি হলুদ রঙের হাফহাতা গেঞ্জি ও কালো ফুলপ্যান্ট। নিহত অপর যুবক লম্বায় ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি ও মুসলিম। তার বাম হাতের কব্জির ওপরের অংশ ভাঙা এবং ৪টি গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ও শাহাদত আঙ্গুলে কাটা জখম। বুকের মধ্যে ৮টি গুলির চিহ্ন এবং পেটে একটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। পিঠে ৯টি গুলির চিহ্ন আছে। সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার পরনে একটি খয়েরি রঙের হাফ হাতা শার্ট ও নীল রঙের গ্যাবাডিন প্যান্ট ছিল।
অপরদিকে কথিত ক্রসফায়ারে নিহত ওয়াদুদ আলীর পিতা আবদুল আলী জানান, ওয়াদুদ তার সঙ্গে মিরপুরের ঝুটপট্টির দোকানে বসতেন। রোববার সকালে ৯টার পর তিনি বাসা থেকে বের হন। এরপর দুপুরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে ওয়াদুদকে মিরপুর থানা পুলিশ আটক করেছে বলে জানায়। এরপর তিনি দ্রুত মিরপুর থানায় ছুটে যান। থানা কম্পাউন্ডের ভেতরে তিনি ছেলের সিবিজেড ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলটিও দেখতে পান। কিন্তু সেসময় দায়িত্বরত কর্মকর্তা ওয়াদুদ নামে কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানায়। আবদুল আলী ব্যাপারী জানান, তিনি থানায় বসেই কৌশলে হাজতখানায় খোঁজ নেন। কিন্তু সেখানে ওয়াদুদ ছিল না। পরে তিনি জানতে পারেন ওয়াদুদকে থানার দোতলার একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ তাকে দোতলায় উঠতে দেয়নি। আবদুল আলী জানান, তিনি থানা থেকে বের হয়ে তার পরিচিত যুবলীগ নেতা ১৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সেক্রেটারি মোফাজ্জলের কাছে ছুটে যান। মোফাজ্জল থানার সেকেন্ড অফিসার তানভীর হাসানের কাছে ফোন করলে তানভীর ওয়াদুদকে আটকের কথা স্বীকার করে। এসময় অর্থের বিনিময়ে ছাড়ার বিষয়ে কথা হলে এসআই তানভীর বলেন, ১০ লাখ টাকা দিলেও ওয়াদুদকে ছাড়া যাবে না। তিনি বলেন, তার ছেলেকে পুলিশ বিনা কারণে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে। হত্যার পর এখন ক্রসফায়ারের গল্প বানাচ্ছে। নিহতের চাচা চান মিয়া ব্যাপারী বলেন, ওয়াদুদ তেজগাঁও কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করে পড়াশুনা বন্ধ করে দেয়। পরে পিতার সঙ্গে ব্যবসায় সহযোগিতা করে। কিন্তু সে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল কিনা তা তিনি জানতেন না। নিহত ওয়াদুদের মামাতো ভাই শরীফ জানান, ওয়াদুদ খুব ভদ্র ছিল। তাদের পরিবার এমনিতে বিএনপি সমর্থন করলেও সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তাকে পুলিশ অকারণে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে।
এদিকে গতকাল সকাল থেকে নিহত ওয়াদুদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে ভিড় করে। পিতা আবদুল আলী ব্যাপারী মর্গের সামনে বসে মাথা চাপড়িয়ে কাঁদছিলেন। স্বজনরা তাকে কেউ শান্ত করতে পারছিল না। ওয়াদুদের মা শানু ও বোন মিরপুর কমার্স কলেজেপড়–য়া তানিয়াকে প্রাইভেটকারে বসিয়ে সান্ত¡না দিচ্ছিলেন অন্য স্বজনরা। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়–য়া ছোট ভাই আলামীনকে ধরে রেখেছিলেন তার বন্ধুরা।
মিরপুর থানার ওসি সালাউদ্দিন জানান, রোববার সকালে মিরপুরের সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বৈশাখী’ নামে একটি বাসে ককটেল হামালার সময় ওয়াদুদকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে নিজেকে দারুসসালামের ১০ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে দাবি করে। মিরপুর থানা শ্রমিক দলের সভাপতি পারভেজ ওরফে পিস্তল পারভেজ ও রুবেলের নির্দেশনায় সে ককটেল হামলা চালিয়েছে বলে স্বীকার করে। পরে রাতে তাকে নিয়ে টেকনিক্যাল মোড়ের পাশে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং কর্পোরেশনের সামনে সহযোগীদের ধরতে অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে সেখানে পুলিশের গাড়িটি উপস্থিত হলে ওয়াদুদের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও ককটেল ছোড়ে। এসময় ওয়াদুদ গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে নেমে পালানোর চেষ্টার সময় সহযোগীদের গুলিতে সে নিহত হয়।
নিহত ওয়াদুদের সুরতহাল রিপোর্টে বলা হয়েছে, তার বুকের ডান পাশে এক ইঞ্চি ব্যাসের দুটি ছিদ্র জখম, পেটের নিচে বাম পাঁজরে একই ব্যাসের একটি ছিদ্র জখম, পিঠের ডান পাশে দু’টি ছিদ্র জখম, পিঠের বাম পাঁজরে একটি ছিদ্র জখম রয়েছে। এছাড়া ডান হাতের কনুইয়ের ওপরে সামান্য ফোলা জখম রয়েছে। মিরপুর থানার এসআই নিজাম জানান, এ ঘটনায় থানার এসআই আবদুল আজিজ বাদী হয়ে একটি মামলা (নং ৬০) দায়ের করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে ৪টি ককটেল, তিনটি পেট্রলবোমা, বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ ও প্লাস্টিকের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।
ঝিনাইদহে দুই বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা
আমিনুল ইসলাম লিটন, ঝিনাইদহ থেকে জানান, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডেফোলবাড়িয়া গ্রামের মাঠ থেকে দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকাল ৮টার দিকে সদর উপজেলার চরখাজুরা গ্রামের নাসিম বিশ্বাসের ছেলে দেলোয়ার হোসেন দুলাল (২৫) ও পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কমিশনার বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফার ছেলে গোলাম আজম পলাশের (২৬) লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, এলাকার কৃষকরা সকালে মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় দু’টি লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, চারদিন আগেই ডিবি পুলিশ তাদের আটক করেছিল। জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালিক জানিয়েছেন, নিহত দুইজনই বিএনপি’র কর্মী।
নিহত দুলাল পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রী ও পলাশ একজন কৃষক বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার। নিহত পলাশের চাচা নাজমুল হোসেন বলেন, গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকালে পলাশবাড়ী থেকে বের হয়ে নিখোঁজ ছিল। রাতে আমরা জানতে পারি ওইদিন বিকালে পলাশকে চুয়াডাঙ্গার দশ মাইল এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকের লোকজন ধরে নিয়ে যায়। আটকের পর ডিবি পুলিশের হেফাজতে থাকাকালে পলাশের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ব্যাপারে তার মা মরিয়ম বেগম শুক্রবার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পলাশের বাবা গোলাম মোস্তফা জানান, ‘তার ছেলের বিরুদ্ধে কোন মামলা ছিল না। ডিবি পুলিশ আটকের পাঁচদিন পর সোমবার সকালে ডেফলবাড়িয়া গ্রামের মাঠে তাদের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেল।’
নিহত দুলালের ভাই আলাল বিশ^াস বলেন, ‘১৮ই ফেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায় শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে তার ভাইকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকের লোকজন তুলে নিয়ে যায়। ডিবি পুলিশ আটকের পর থেকেই আমরা শুনতে পামফ ভাইকে হাত-পা বেঁধে মারপিট করা হচ্ছে, খেতেও দেয়া হচ্ছে না। আটকের দিন রাত ১২টার দিকে ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশ কার্যালয় থেকে দুলালের মোবাইল ফোনে কথা হয়। সে জানায়, আমি ভাল আছি, কোন সমস্যা নেই। তারপর থেকে দুলালের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। ভাইকে জীবিত ফেরত পাওয়ার জন্য ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে বার বার ধরনা দেই আমরা। সেখানে আমাদের মোবাইল নম্বর দিয়ে আসি। পরে ডিবি পুলিশের সদস্যরা টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ আলাল বিশ্বাসের। তিনি বলেন, আমার ভাই বিএনপি করে বলে পুলিশে ধরে নিয়ে গিয়ে মেরেছে, তার নামে কোন কেস নেই।’
তবে ডিবি পুলিশ পলাশ ও দুলালকে আটকের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঝিনাইদহের সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কান্জিলাল বলেন, কি কারণে তাদের হত্যা করা হয়েছে প্রাথমিকভাবে তা জানা যায়নি। ভোররাতের কোন এক সময় তাদের হত্যা করে দুর্বৃত্তরা লাশ মাঠে ফেলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কে বা কারা এই হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছে তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, পুলিশ তাদের আটক করেনি এটা আমরা নিশ্চিত হয়েছি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচনটি না হলে সাংবিধানিক সঙ্কট দেখা দিত কি? by ইকতেদার আহমেদ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে বর্তমানের বিধানে উল্লেখ রয়েছে যে, মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এবং মেয়াদ অবসান ছাড়া অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের নির্বাচনবিষয়ক এ বিধানটি ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নকালে প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অবধি যে ছয়টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এর কোনোটিই মেয়াদ পূর্ণ করতে না পারায় সংসদ বহাল থাকাবস্থায় সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আবশ্যকতা দেখা দেয়নি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী ৪৩ বছরের ইতিহাসে দেশটি ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা দ্বারা শাসিত হয়েছে। অবশিষ্ট সময় এ দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা বহাল ছিল, যা বর্তমানেও কার্যকর আছে। প্রথম থেকে পঞ্চম এ পাঁচটি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে শেষোক্ত চারটি রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা বহাল থাকাকালীন অনুষ্ঠিত হয়। এ চারটি নির্বাচন অনুষ্ঠানকালে রাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির অধীনে ন্যস্ত থাকায় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা ও সংসদ সামগ্রিকভাবে এ তিনটির গুরুত্ব রাষ্ট্রপতির গুরুত্বের কাছে ম্লান ছিল। প্রথম সংসদ নির্বাচনটি অনুষ্ঠানের আগে পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদ থেকে নির্বাচিত সদস্য সমন্বয়ে যে গণপরিষদ গঠন করা হয়েছিল তা সংবিধান প্রণয়নের পর ভেঙে দেয়া হয়। সুতরাং প্রথম সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারব্যবস্থা কী ছিল তা বিবেচ্য নয়। ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনটি সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা বহাল থাকাকালে অনুষ্ঠিত হলেও সে সময়কার প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবিতে এ নির্বাচনটি বর্জন করে।
বিরোধী দলের বর্জনের মুখে ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনটি অনুষ্ঠানের সময় ব্যাপক সহিংসতা হয়। এ নির্বাচনটিতে ভোটার উপস্থিতি নগণ্য হলেও নির্বাচন-পরবর্তী যে ফলাফল ঘোষণা করা হয় তাতে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। এ নির্বাচন অনুষ্ঠান-পরবর্তী সহিংসতা অব্যাহত থাকলে বিএনপি নেতা বেগম খালেদা জিয়া এ সংসদে একতরফাভাবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিল পাস করিয়ে সংসদের অবলুপ্তি ঘটান। উল্লেখ্য, পঞ্চম সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না। তা ছাড়া পঞ্চম সংসদ থেকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবিতে পদত্যাগ করলে সে সংসদটিকে মেয়াদ পূর্তির আগেই ভেঙে দিতে হয়। পঞ্চম সংসদ বহাল থাকাকালে যদিও বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এ দু’টি দলের পক্ষে সম্মিলিতভাবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংক্রান্ত বিল পাস করার সুযোগ ছিল কিন্তু সে সময় উভয় দলের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় এ বিলটি পাস করা দূরের কথা অধিকন্তু আওয়ামী লীগ ওই সংসদ থেকে পদত্যাগ করে। পরিহাসের বিষয় হলো- যে বিএনপি নীতিগতভাবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিরোধী ছিল এবং এবং যে বিএনপি নেতা বেগম খালেদা জিয়া এ সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে বলেছিলেনÑ এ পৃথিবীতে পাগল ও শিশু ছাড়া অন্য কেউ নিরপেক্ষ নয় সে বিএনপি ও সে খালেদা জিয়াই এককভাবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিল পাস করে সংসদের অবলুপ্তি ঘটিয়ে ওই সরকারের অধীন সপ্তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে দেশকে অস্থিতিশীল, নৈরাজ্য ও বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন।
সপ্তম, অষ্টম ও নবম এ তিনটি সংসদ মেয়াদ পূর্ণ করায় ত্রয়োদশ সংশোধনী-পরবর্তী এবং পঞ্চদশ সংশোধনী পূর্ববর্তী সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান বিষয়ে যে বিধান ছিল সে অনুযায়ী অর্থাৎ সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
আমাদের সংবিধানের বিধান অনুযায়ী একটি সংসদের মেয়াদ সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান-পরবর্তী প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে পাঁচ বছর; তবে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই সংসদ ভেঙে দিতে পারেন যদিও অনুরূপ ভেঙে দেয়ার ক্ষেত্রে অন্য কোনো সংসদ সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন নন মর্মে রাষ্ট্রপতির নিশ্চিত হওয়ার আবশ্যকতা রয়েছে।
সাংবিধানিক সঙ্কট অর্থ সাংবিধানিক শূন্যতা। আমাদের অতীতের নির্বাচনগুলোর মধ্যে একমাত্র দশম সংসদ নির্বাচন ছাড়া অপরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ এ পাঁচটি সংসদ নির্বাচন মেয়াদ অবসান ছাড়া ভেঙে যাওয়ার কারণে সংসদের নির্ধারিত মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই অনুষ্ঠিত হয়। সপ্তম, অষ্টম ও নবম এ তিনটি সংসদ নির্বাচন মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ায় নির্ধারিত মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর অনুষ্ঠিত হয়; যদিও শেষোক্ত নির্বাচনটি সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়নি।
আমাদের সংবিধানে সংসদ বহাল থাকা এবং না থাকা উভয় অবস্থায় সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান ছিল। অতীতে একাধিক সংসদ নির্বাচন সংসদ বহাল না থাকাবস্থায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সব নির্বাচন অনুষ্ঠানকালে সংসদ বহাল না থাকার কারণে সাংবিধানিক সঙ্কটের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি। সুতরাং অতীত অভিজ্ঞতা ধারণা দেয় সংসদ বহাল না থাকাকালীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এবং সংসদ ভেঙে যাওয়া পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা না গেলে সাংবিধানিক সঙ্কট দেখা দেয় না। যার অন্য অর্থ সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হয় না।
আমাদের বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে অথবা তিনি সংসদ সদস্য না থাকলে তার পদ শূন্য হয়। কিন্তু অনুরূপ শূন্যতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকেন। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা স্বীয় পদে বহাল না থাকলে মন্ত্রীদের প্রত্যেকে পদত্যাগ করেছেন বলে গণ্য হয়; তবে তারাও প্রধানমন্ত্রীর মতো তাদের উত্তরাধিকারীরা কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত নিজ নিজ পদে বহাল থাকেন। আমাদের সংবিধানের বিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার অপরাপর সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ লাভ করেন। প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত মন্ত্রীদের পদে বহাল থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে তার সন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে এবং প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় যেকোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে অনুরোধ করতে পারেন। একজন মন্ত্রী অনুরোধ রক্ষায় ব্যর্থ হলে তিনি রাষ্ট্রপতিকে ওই মন্ত্রীর নিয়োগের অবসান ঘটানোর পরামর্শ দিতে পারেন। এ ধরনের পরামর্শের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অন্যথা করার সুযোগ নেই।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী সরকারের প্রধান নির্বাহী। সরকারের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান করা না গেলে সংসদ ভেঙে যাওয়া সত্ত্বেও তা প্রধানমন্ত্রীর পদে বহাল থাকার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অন্তরায় সৃষ্টি করে না। প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি নিজ পদে বহাল থাকার কারণে তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সাংবিধানিক সঙ্কট বা শূন্যতা সৃষ্টির অবকাশ নেই।
দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানকালীন সরকারি দলের শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্যই এ নির্বাচনটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে এবং এ নির্বাচনটি অনুষ্ঠানের পর দ্রুত একাদশ সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। দশম সংসদ নির্বাচনটি ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনের মতো একতরফা ছিল। ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনটি আওয়ামী লীগ ও তার তৎকালীন মিত্র জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী বর্জন করে। অন্য দিকে দশম সংসদ নির্বাচনটি বিএনপি ও তার বর্তমান মিত্র জামায়াতসহ জোটভুক্ত দল এবং অপরাপর কিছু দল বর্জন করে। ষষ্ঠ ও দশম সংসদের আগে পঞ্চম ও নবম যে দু’টি সংসদ ছিল এ দু’টির প্রথমটিতে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না অপর দিকে শেষোক্তটিতে আওয়ামী লীগের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল।
এ কথাটি অনস্বীকার্য যে, পঞ্চম সংসদে এককভাবে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে ওই সংসদ থেকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর পদত্যাগ সত্ত্বেও তা ভেঙে না দিয়ে ওই সংসদের মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিল পাস করানোর সুযোগ ছিল। অপর দিকে নবম সংসদে আওয়ামী লীগের এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার পক্ষে নির্বাচনটি আয়োজনের আগে বিরোধী দলের সাথে সমঝোতায় উপনীত হয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ ছিল। পঞ্চম সংসদে বিএনপির সে সুযোগ না থাকায় এ দলটি ষষ্ঠ সংসদের মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলটি পাস করিয়ে সে সংসদের অবলুপ্তি ঘটান। নবম সংসদে আওয়ামী লীগের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এ দলটির পক্ষে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সাথে সমঝোতায় উপনীত হওয়ার সুযোগ ছিল। এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করলে নির্বাচন অনুষ্ঠানকালীন যে সহিংসতা হয়েছিল নির্দ্বিধায় বলা যায় তা থেকে রক্ষা পাওয়া যেত।
দশম সংসদ নির্বাচনটি কিরূপ হয়েছে এবং সে নির্বাচনটিতে ভোটার উপস্থিতি কেমন ছিল সে বিতর্কে না গিয়ে ওই নির্বাচনটি অনুষ্ঠানের পর আওয়ামী লীগ যদি অতীতে বিএনপির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী উদাহরণ অনুসরণ করত তা হলে আজ নির্বাচন অনুষ্ঠানের এক বছরের মাথায় আমাদেরকে অস্থিতিশীল ও নৈরাজ্যকর অবস্থায় পড়তে হতো না।
দেশের যেকোনো রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে বিরোধী দলের চেয়ে সরকারি দলের দায়িত্ব বেশি। নবম ও দশম উভয় সংসদে সংবিধানে সংশোধনী আনয়নের মতো প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে রাজনৈতিক সঙ্কটটি ক্ষমতাসীন দল অবজ্ঞা ও উপেক্ষা করে চলেছে। এ অবজ্ঞা ও উপেক্ষার পরিণতি শুধু সরকারি দল ও বিরোধী দল নয়, দেশের জন্যও শুভ নয়। আর তাই দশম সংসদ নির্বাচনটি না হলে সাংবিধানিক সঙ্কট বা শূন্যতার সৃষ্টি হতো এ ধরনের অজুহাত না দেখিয়ে সংসদে সরকারি দলের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দেশী বা বিদেশী অন্য কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে তারা নিজেরাই সঙ্কট উত্তরণে উদ্যোগী হবেন এটিই এখন তাদের কাছ থেকে দেশবাসীর প্রত্যাশা।

লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান ও
রাজনৈতিক বিশ্লেষক
E-mail: iktederahmed@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাহমুদুর রহমান মান্না আটক, অবস্থান পরিষ্কার করতে পারলেন না
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আফগানিস্তানে সেনা অবস্থান দীর্ঘ হবে : যুক্তরাষ্ট্র
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তুরস্ক আক্রান্ত হলে ন্যাটো কি এগিয়ে আসবে?
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পিঁপড়াও টয়লেটে যায়?
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে এবার মধ্যবিত্তের বাজেট
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কে নেবে দায়ভার by আতাউর রহমান ও বিপ্লব চক্রবর্তী
গতকাল দুর্ঘটনাস্থলে বারবারই ঘুরেফিরে এসেছে একটি প্রশ্ন, কার বা কাদের কারণে ঝরে গেল এসব প্রাণ। কে নেবে এর দায়ভার। এভাবে আর কত লাশ যাবে পদ্মায়-মেঘনায়। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস বলেন, 'চালকদের অদক্ষতা আর প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটা কখনোই কাম্য নয়। তারা সতর্ক ছিলেন না। দুই চালকই নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি পৃথক তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখছে। এর আগে রোববার ঘটনাস্থলে গিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানও একই ধরনের কথা বলেছেন।
এদিকে, পদ্মায় লঞ্চডুবিতে নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল তিনি টুইটারের মাধ্যমে এক শোকবার্তায় নিহতদের পরিবারের স্বজনের প্রতি সমবেদনা জানান। এ ছাড়া এক শোকবার্তায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডবি্লউ গিবসনও।
রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া এমভি মোস্তফা নামে পদ্মা নদীতে যাত্রী পারাপারের লঞ্চটি অন্য একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যায়। এর পর রোববার গভীর রাত পর্যন্ত ৪১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। গতকাল ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে লঞ্চটি টেনে তোলার পর ভেতরে পাওয়া যায় আরও ২৯ জনের মরদেহ। নিহতদের মধ্যে পুরুষ ২৭ জন, নারী ২৪ ও শিশু ২০ জন। গতকাল বিকেল পর্যন্ত ৬৯ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও এক নারীর পরিচয় শনাক্ত হয়নি। তার মরদেহ ঢামেক মর্গে রয়েছে। গতকাল রাত ১০টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ভাটির ৬ কিলোমিটার দূরে মান্দারখোলা এলাকায় এক শিশুর লাশ পাওয়া যায় বলে জানান শিবালয় উপজেলার নির্বাহী কমকর্তা এ কে এম গালিব খান। লঞ্চটি টেনে পদ্মার তীরে নেওয়ার পর গতকাল সকাল ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে লাশের অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
শিশু রাইসানকে কোলে নিয়ে দাদি রিক্তা বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, রাইসান তার মা আর বোনের সঙ্গে গাজীপুর থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সাওতা গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিল... এ কথা বলেই রিক্তা ভেঙে পড়েন কান্নায়। রাইসানের বাবা ফারুক হোসেন জানান, সকালে ছেলে রাইসান, ১৪ বছরের মেয়ে বীথি আর তার স্ত্রী রেবেকাকে লঞ্চে তুলে দেন। সঙ্গে তার বৃদ্ধ চাচা গোলাম মোস্তফাও ছিলেন। লঞ্চডুবির পর সন্ধ্যায় স্ত্রী, মেয়ে আর চাচার লাশ পান। তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে খুঁজছিলেন ছেলেটাকে। তীর থেকে মাঝনদী পর্যন্ত কোথায়ও খুঁজে পাননি। অবশেষে ছেলেকে পেলেও সে কোনো কথা বলে না। শোকে পাথর হয়ে যাওয়া ফারুক তথ্যগুলো দিতে দিতে একপর্যায়ে বিলাপ করতে থাকেন। স্ত্রী, আদরের মেয়ে, ছেলে আর চাচাকে হারিয়ে অনেকটা পাগলের মতোই আচরণ করেন পেশায় মুদি দোকানি ফারুক।
বডিব্যাগে মোড়ানো একেকটা মানুষের মরদেহ নিয়ে সেখানে ঢুকতে থাকেন স্বেচ্ছাসেবকরা। মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে ২৯টি মরদেহ নেওয়া হয় সেখানে। আবারও হুমড়ি খেয়ে পড়েন নিশ্চিত দুঃসংবাদের প্রতীক্ষায় থাকা স্বজনরা। সারি সারি লাশ উল্টেপাল্টে খুঁজতে থাকেন নিজের স্বজনকে। ভোররাতে কান্না আর গগনবিদারী আর্তনাদে ভারি হয় পাটুরিয়ার চারপাশ। পাটুরিয়া লঞ্চঘাট ছাড়াও মানিকগঞ্জ, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাগুরাসহ কয়েকটি জেলার পরিবেশ শোকাবহ। ডুবে যাওয়া লঞ্চে মূলত এসব এলাকার বাসিন্দাই বেশি ছিলেন। গতকাল পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের পাশে নির্বাক হয়ে বসেছিলেন পুলিশ কনস্টেবল নুরুল ইসলাম। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত। লঞ্চডুবির ঘটনায় তার মুখের সব ভাষা বন্ধ হয়ে গেছে, কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানিও শুকিয়ে গেছে। লঞ্চডুবির পর কনস্টেবল নুরুল ইসলামের স্ত্রী রুমা বেগম, সাত বছরের ছেলে উৎসব আর আড়াই বছরের ছেলে উৎসের লাশ মিলেছে।
নুরুল ইসলামের শ্যালক মুনসুর আলী শেখ জানান, তার বোন ও ভাগ্নেরা মানিকগঞ্জে ভাড়া থাকত। তবে রোববার গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীতে যাওয়ার জন্য দুলাভাই নিজেই দুই ছেলে আর স্ত্রীকে লঞ্চে তুলে দিয়েছিলেন। এর আধাঘণ্টা পরই খবর পান দুর্ঘটনার। ভোররাতে লঞ্চ উদ্ধারের পর পাওয়া যায় বোন আর দুই ভাগ্নের লাশ।
গতকাল দুপুরে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সামনে স্বামী লিটন মিয়ার (৩০) লাশের পাশে বসে কাঁদছিলেন মারুফা বেগম। আর নিজের কাপড়ের আঁচল দিয়ে অতি যত্নে মুছে দিচ্ছিলেন নিথর দেহের মুখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া পানি। বিলাপ করে মারুফা বলছিলেন, তার স্বামী ঢাকায় স্কুলভ্যান চালাতেন। তাদের সংসারে দুটি মেয়ে রয়েছে। সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেছেন তার স্বামী। সাভারের নবীনগরের বাসিন্দা বিউটি পারভীন রাতভর কান্নায় পদ্মার তীর ভারি করলেও গতকাল সকালে জানালেন, তার একমাত্র মেয়ে কেয়ামণির লাশটি পেয়েছেন। সাত বছরের কেয়ামণির লাশ পেলেও বিউটির মা আনোয়ারা বেগম তখনও নিখোঁজ। রাতভর বিলাপের পর শোকে পাথর বিউটি জানান, নানি ও নাতনি মিলে নড়াইলে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিল। এরপরই সব শেষ।
রাতভর উদ্ধার অভিযান :রোববার দুপুর ১২টার দিকে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া এমভি মোস্তফা ডুবে যাওয়ার পর প্রথমে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এর পর চার ডুবুরি নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২৫ সদস্যসহ, নৌ পুলিশ, নৌবাহিনী ও বিআইডবি্লউটিএর উদ্ধারকর্মীরা কাজে যোগ দেন। রাত সোয়া ১১টায় উদ্ধারযান রুস্তম ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর মূল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লঞ্চটিকে টেনে তোলা সম্ভব হয়। এর পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেটিকে টেনে পাটুরিয়া ঘাটের অদূরে বড়রিয়া এলাকায় পদ্মাতীরে রাখা হয়।
ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লঞ্চটি পানি থেকে টেনে তোলার সময় ভেতরে কয়েকজনের লাশ ঝুলতে দেখা যায়। উদ্ধারকর্মীরা সেগুলো দ্রুত উদ্ধার করেন। লঞ্চটি উদ্ধারের পর দেখা যায়, কার্গোর ধাক্কায় লঞ্চটির মাঝামাঝি অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গছে। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্বে থাকা পরিদর্শক জিহাদ মিয়া সমকালকে বলেন, লঞ্চটি টেনে তোলার পর দোতলার কেবিনে একসঙ্গে ২৫টি লাশ পাওয়া যায়।
মানিকগঞ্জ জেলার সার্কেল এএসপি হারুনার রশিদ জানান, লঞ্চ ও কার্গোর চালকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। তিনজনকেই ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চচালক আফজাল হোসেনসহ তার কর্মচারীদের বিরুদ্ধে একই ধারায় সোমবার বিকেলে মামলা করা হয়েছে। তবে তাদের এখনও আটক করা যায়নি।
এখনও নিখোঁজ যারা :স্বজনদের দাবি অনুযায়ী এখনও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের ঢাকা হেড অফিসের কর্মকর্তা মোস্তফা মাহাফুজ দানা (৪৫), কুষ্টিয়ার লিপি বেগম (২২), মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আবুল হাশেম (৫৫), ঝিনাইদহের মারুফা খাতুন (৫), ফরিদপুরের জুয়েল রানা (২৭) ও দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চের বাবুর্চি সোহরাব হোসেন (৪৫)।
নিহতদের পরিচয় :লঞ্চডুবির ঘটনায় লাশ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৬৯ জনের মধ্যে রাজবাড়ী জেলার ২০ জন, কুষ্টিয়ার ১৯, ফরিদপুরের ১১, মানিকগঞ্জের ৮, নড়াইলের ৫, গোপালগঞ্জের ৩, ঢাকা জেলার দু'জন এবং কুমিল্লা জেলার একজন রয়েছেন। পরিচয় শনাক্ত না হওয়া এক নারীর মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।
তাদের মধ্যে রাজবাড়ী জেলার নবিজান (৬৫), হালিমা বেগম (৪৫), অসিমা রানী (৪০), নাসিমা আক্তার (৩৬), রহমান (৫৪), ইনামুল (১৪), নুশরাত (১৮ মাস), মনজিলা বেগম (৪৫), রত্না আক্তার, উৎসব (৭), সাফেরা (৫০), ফাতেমা (২), রেখা রানী হালদার (৪৭), হালিমা বেগম (৪৫), মঞ্জিলা বেগম (৪৪), হলিমা বেগম (৪৪), রুমা (২৫), উৎসব (৭), সাফেরা বেগম (৫০), রেখা মালাকার (৪৭) ও জয়নাল শেখ (৫০) রয়েছেন। কুষ্টিয়ার ১৯ জনের মধ্যে রয়েছেন_ মধুসূদন সাহা (৩০), নাছির হোসেন (৪০), মেহেদি হাসান বাপ্পী (৩০), মোস্তফা খাতুন (৩৩), বীথি খাতুন (১৫), আসাদুল (২০), ইনামুন হক (১৮), ইমামুল (১৮), মদিনা (৭০), রাইসান হক (২), ডলি খাতুন (৩৪), গোলাম মোস্তফা (৫৫), নবনীতা পাল (২৮), নায়না (৬), ফাতেমা (২), শরিফুল ইসলাম (২৪), শরিফ (২৪), বানেজ আলী (৫৫) ও সাগু (২৫)। ফরিদপুরের ১১ জন হলেন_ পাপন (৫), রতন সরকার (৩৪), স্বপন সরকার (৫০), চম্পা রানী (৫৮), অর্চনা মালো, নারগিস আক্তার, শারমিন (২৫), মারজানা (৬), দেবনাথ মালো (৫৫), অনিমা মালো (৪৫) ও মমতা বেগম (৪৭)। মানিকগঞ্জের আটজন হলেন_ লতা (২২), আবুল কাশেম (৪৫), অঞ্জলি সূত্রধর (৬০), ইমরান (৮), ইমন (৪), সেলিম (২২), হোসাইন মোল্লা (১৮ মাস) ও রতন সরকার (১৮)। নড়াইলের পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন_ আমেনা বেগম (৩৫), হাফসা (৮), হোসাইন কবির (২৮), কেয়ামনি আদুরি (৭) ও রিয়া (৩)। গোপালগঞ্জের তিনজন হলেন_ নোয়াব শেখ (১৩ মাস), শাহানাজ (৪৫) ও রিনা বেগম (২৭)। এ ছাড়া ঢাকা জেলার দু'জন হলেন নবাবগঞ্জ উপজেলার সুফিয়া (২৮) ও দেড় বছরের শিশু ফারজানা স্মৃতি এবং কুমিল্লার আবুল হাসেম।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংবাদপত্র কীভাবে জঙ্গিদের মদদ দিচ্ছে? by মশিউল আলম
দেশের সর্বাধিক প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার, যেটি ধর্মীয়, রাজনৈতিকসহ সব ধরনের উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার, সেই পত্রিকার বিরুদ্ধে একটি নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে ‘মদদ’ দেওয়ার অভিযোগসহ হুমকিসূচক এই কথাগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে। ১১ ফেব্রুয়ারি সংবাদপত্রটির তৃতীয় পাতায় হিযবুত তাহ্রীরের একটি পোস্টারের ছবি ছাপা হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ, ডেইলি স্টারসহ দেশের সংবাদমাধ্যমের এর জন্য গুরুতর বার্তাবহ। এই ঘটনায় সাংবাদিকতার প্রায়োগিক অনুশীলন ও এ পেশার নৈতিকতা নিয়ে কিছু গোড়ার প্রশ্ন আবার উঠে এল। তবে সেসব প্রশ্নে যাওয়ার আগে একটু দেখে নেওয়া যাক, ডেইলি স্টার-এর পাতায় পোস্টারটির একটি আলোকচিত্র কীভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
দেয়ালে সাঁটা অবস্থায় পোস্টারটির একটি আলোকচিত্র ছাপা হয়েছে তিন কলামজুড়ে। তিন কলাম শিরোনামে বড় বড় ফন্টে ক্যাপিটাল লেটারে লেখা হয়েছে: ‘ফ্যানাটিকস রেইজ দিয়ার আগলি হেডস অ্যাগেইন’ (উগ্রপন্থীরা আবারও তাদের কুৎসিত মাথা তুলছে)। স্মর্তব্য যে, ইংরেজি সংবাদপত্রগুলোতে সংবাদের শিরোনাম সাধারণত ক্যাপিটাল লেটারে লেখা হয় না। এখানে ক্যাপিটাল লেটার ব্যবহার করা হয়েছে বিষয়টির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে। এই দৃষ্টি আকর্ষণ একটি সতর্কবার্তা: দেশবাসী ও সরকারকে হুঁশিয়ার করে দেওয়া হচ্ছে, দেখুন, এই অশুভ শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে (তাদের মাথা ‘কুৎসিত’)। আলোকচিত্রটির নিচে ক্যাপশন লেখা হয়েছে: ‘টেকিং অ্যাডভান্টেজ অব দ্য কারেন্ট পলিটিক্যাল ক্রাইসিস ইন দ্য কান্ট্রি অ্যাকোম্পানিড বাই ওয়ান্টন ভায়োলেন্স, ব্যানড এক্সট্রিমিস্ট ইসলামিস্ট অর্গানাইজেশন হিযবুত তাহ্রীর পাবলিশড অ্যান্ড পেস্টেড পোস্টারস ইন দ্য ক্যাপিটাল ইন অ্যান অ্যাটেম্পট টু ফোমেন্ট আনরেস্ট উইদইন আর্মড ফোর্সেস। দিস পোস্টার ওয়াজ ফাউন্ড পেস্টেড অন এ ওয়াল নিয়ার বাংলামোটর ইন্টারসেকশন ইয়েসটারডে’ (দেশে চলমান ব্যাপক সহিংসতাপূর্ণ রাজনৈতিক সংকটের সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি ইসলামি সংগঠন হিযবুত তাহ্রীর সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার লক্ষ্যে পোস্টার ছাপিয়ে রাজধানীর দেয়ালে দেয়ালে সেঁটেছে। এই পোস্টারটি গতকাল দেখতে পাওয়া যায় বাংলামোটরের চৌরাস্তার কাছের একটি গলির দেয়ালে)।
ক্যাপশনটির বক্তব্য প্রধানত তথ্যমূলক, তবে তথ্যের সঙ্গে সংবাদপত্রটির নিজস্ব অবস্থানও ব্যক্ত হয়েছে, যা কোনোভাবেই হিযবুত তাহ্রীরের প্রতি সহযোগিতামূলক নয়, বরং তার উল্টা। ছবিটির ক্যাপশনও শিরোনামের মতোই একটি বড় হুঁশিয়ারি।
পোস্টারটির ভাষ্য থেকে যে তথ্য পাওয়া গেল তা হলো এই যে, হিযবুত তাহ্রীর আমাদের সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে উসকানি সৃষ্টি করার দুরভিসন্ধি নিয়ে প্রচারণায় লিপ্ত রয়েছে। এই তথ্য দেশবাসীর সামনে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে ডেইলি স্টার সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে। এটাকে জঙ্গিদের মদদ দেওয়া হচ্ছে বলে ধরে নেওয়া কোনোভাবেই ঠিক নয়। এ জন্য পত্রিকাটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকি দুঃখজনক।
হিযবুত তাহ্রীর একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন—এটা এখন আর খবর নয়। বাংলাদেশে কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের ঘৃণ্য ও জনবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাতে পারছে না—এমন কথাবার্তাও সরকারের পক্ষ থেকে গর্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়, সংবাদমাধ্যমগুলো প্রকৃত পরিস্থিতি গভীরভাবে তলিয়ে না দেখেই সরকারের সেসব কথাবার্তা প্রচার করে। কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রবল জঙ্গিবিরোধী এই পরিবেশের মধ্যেই হিযবুত তাহ্রীর কীভাবে তাদের গোপন তৎপরতা চালিয়ে যেতে পারছে, কোথায় কোন প্রেসে তারা বিপুল পরিমাণে উসকানিপূর্ণ পোস্টার ছাপাতে পারল, কী করেই বা তারা খোদ রাজধানীর অনেক এলাকার দেয়ালে দেয়ালে সেসব পোস্টার সেঁটে দিতে পারল—সরকার কি এসব খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছে? যে প্রেসে পোস্টারগুলো ছাপা হয়েছে, তার অস্তিত্ব আবিষ্কারের চেষ্টা কি করেছে এবং তা আবিষ্কার করতে পেরেছে? কোনো ব্যবস্থা কি নেওয়া হয়েছে প্রেসটির বিরুদ্ধে? এসব পোস্টার ছাপানো ও দেয়ালে সাঁটার সময় বা তার পরে এ অপরাধের দায়ে পুলিশ কি কাউকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে?
রাজধানীর দেয়ালে সাঁটা হিযবুত তাহ্রীরের একটি পোস্টারের ছবি প্রকাশ করার জন্য একটি সংবাদপত্রকে সংগঠনটির মদদদাতা আখ্যা দিয়ে শাস্তির হুমকি দেওয়ার পরিবর্তে নিষিদ্ধঘোষিত হওয়ার পরেও হিযবুত তাহ্রীর নামের জঙ্গি সংগঠনটি কীভাবে খোদ রাজধানীর দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার লাগাতে পারছে, এর জবাবদিহি নিশ্চিত করা বেশি জরুরি।
সংবাদমাধ্যমের কাজ জনগণকে সংবাদ দেওয়া—এই অতি প্রাচীন কথাটি আবার স্মরণ করা যাক। বাংলা ভাই ও শায়খ আবদুর রহমানের কথাও এ প্রসঙ্গে স্মরণ করা দরকার। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ওই ইসলামি জঙ্গিদের সহিংস উপদ্রবে বাংলাদেশ পাকিস্তান-আফগানিস্তানের চেহারা পেতে যাচ্ছিল। স্মরণ করা যাক, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ দেশের প্রধান জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রগুলো তাদের জঙ্গি তৎপরতার খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করছিল বলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, অন্যান্য মন্ত্রী ও বিশেষত শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে বলতেন, ‘বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি’, ‘দেশে জঙ্গিবাদ নাই, জঙ্গিবাদ মিডিয়ার সৃষ্টি।’ কিন্তু তার পরেও সংবাদমাধ্যম চুপ করে থাকেনি, অবিরাম জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণা ও তাদের অশুভ কর্মকাণ্ডের খবর প্রচার করেছে। সংবাদমাধ্যম জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবিরাম সংবাদ, মতামত, সাক্ষাৎকার, চিঠিপত্র ইত্যাদি প্রকাশ করেছে দিনের পর দিন। তার ফলে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেশে ও বিদেশে প্রচণ্ড জনমত সৃষ্টি হয়েছিল। দেশি ও আন্তর্জাতিক সেই চাপেই তৎকালীন সরকার জঙ্গিবাদের রাশ টেনে ধরতে বাধ্য হয়েছিল। যে জঙ্গিদের তারা মাঠে ছেড়ে দিয়েছিল, তাদের ধরে ফাঁসিতে লটকাতে বাধ্য হয়েছিল।
জঙ্গিবাদ দমনে সংবাদমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতার এমন দৃষ্টান্ত নিকট অতীতেই যখন আছে, তখন ডেইলি স্টার-এর পাতায় হিযবুত তাহ্রীরের একটি পোস্টারের ছবি ছাপার ঘটনাকে উেল্টাভাবে পাঠ করা যৌক্তিক নয়।
কেউ হয়তো একটা আইনি প্রশ্ন তুলে বলতে পারেন: যে সংগঠন আইন দ্বারা নিষিদ্ধ, তার পোস্টার বা যেকোনো প্রচারপত্র পুনঃপ্রচার করাও বেআইনি হবে। কিন্তু এই যুক্তিকে সিদ্ধান্ত আকারে হাজির করার আগে পুনঃপ্রচারের মোটিভ বা উদ্দেশ্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। উদ্দেশ্যটা যে ওই বেআইনি সংগঠনকে সহযোগিতা করা নয়, বরং তাদের সম্পর্কে দেশবাসী ও সরকারকে সতর্ক করা, তা তো ছবিটির শিরোনাম ও ক্যাপশনের বক্তব্যের মধ্যে দিয়েই সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
মশিউল আলম: সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংলাপের এজেন্ডা ও রূপরেখা by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপ ও সংলাপ আহ্বানকারীদের তির্যক সমালোচনা করেছেন। তিনি সাম্প্রতিক কালে বিএনপি-জামায়াতেরও এত সমালোচনা করেননি, যতটা নাগরিক সমাজের করেছেন। প্রধানমন্ত্রী কী কী কারণে নাগরিক সমাজের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তা আমরা জানি না। আমরা সাদাচোখে দেখছি, নাগরিক সমাজ তাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে অবিলম্বে পেট্রলবোমা-সন্ত্রাস বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা দোষী ব্যক্তিদের আইনানুগভাবে শাস্তি দিতে বলেছে। তারা ক্রসফায়ার বন্ধ করতে বলেছে। তারা আরও বলেছে, বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে বর্তমানে উদ্ভূত রাজনৈতিক সংকটের অবসান করতে হবে। এ ব্যাপারে তারা নিজেরা কোনো ভূমিকা পালন করার জন্য প্রস্তাব দেয়নি। তারা মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে কোন কথাটি প্রধানমন্ত্রীর অপছন্দ হলো, তা আমরা বুঝতে পারি না।
সরকার, আওয়ামী লীগ ও তাদের চৌদ্দ দল ছাড়া দেশের আর কোনো দল, জোট, সংগঠন, ফোরাম কি আছে, যারা সংলাপের বিরোধিতা করছে? সংলাপ হচ্ছে গণতন্ত্রের ভাষা। যেকোনো রাজনৈতিক বিবাদ দূর করতে আলাপ-আলোচনা প্রয়োজন। আলোচনায় বসা মানে আত্মসমর্পণ নয়। যারা আলোচনার বিরোধিতা করছে, তারা বোমা-সন্ত্রাস টিকিয়ে রাখতে চায়। আশা করি দেশের সচেতন মানুষ এই বিশেষ গোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে দেবে না। জনগণ শান্তি চায়। তাই আশা করা যায় জনগণ আলোচনার পক্ষে।
হাইকোর্ট কয়েক দিন আগে হরতাল-অবরোধ ও পেট্রল-সন্ত্রাস বন্ধের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করা যায় সরকার এবার সন্ত্রাস, অবরোধ ও হরতাল বন্ধে ‘কার্যকর ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে। এর ফলে যদি বোমা-সন্ত্রাস, অবরোধ-হরতাল বন্ধ হয়, তাহলে জনসাধারণ সরকারকে অভিনন্দন জানাবে। অবরোধ বা হরতালের ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশ সরকার কীভাবে পালন করবে, তা এখনো আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। দেশে গণতন্ত্র, সংসদ, সংবিধান ইত্যাদি বহাল রেখে হরতাল–অবরোধ বন্ধ করা সহজ কাজ হবে না। তবু হাইকোর্টের নির্দেশ বলে কথা। সরকারের আইন বিশেষজ্ঞরা নিশ্চয় এ ব্যাপারে একটা কৌশল বের করবেন।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সরকার সন্ত্রাস বন্ধে ‘কার্যকর পদক্ষেপ’ গ্রহণ করলে পেট্রলবোমা-সন্ত্রাস হয়তো বন্ধ হবে, কিন্তু তাতে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট দূর হয়ে যাবে না। নাগরিক সমাজ শুধু বর্তমান সংকট দূর করার জন্য সংলাপের প্রস্তাব করেনি। ভবিষ্যতে যাতে সরকার ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অগণতান্ত্রিক আচরণে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য একটি জাতীয় সনদ রচনা এবং তাতে সব দল যেন একমত হতে পারে, তারও উদ্যোগ নিয়েছে। নাগরিক সমাজের কমিটি কীভাবে সংলাপের লক্ষ্যে এগোতে পারে, তার একটা খসড়া রূপরেখা এই লেখায় তুলে ধরছি। কমিটিতে অনেক যোগ্য, অভিজ্ঞ, গুণী ব্যক্তি রয়েছেন, তাঁরা হয়তো সঠিকভাবেই তাঁদের কর্মসূচি তৈরি করছেন। তবু নানাজনের নানা চিন্তা তাঁদের সহায়ক হতে পারে।
সংলাপের প্রথম পর্ব: ১. আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বা জ্যেষ্ঠ কোনো নেতার সঙ্গে পেট্রলবোমা-সন্ত্রাস বন্ধের ব্যাপারে কথা বলতে হবে। তাঁদের বোঝাতে হবে যে বোমা-সন্ত্রাস কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি হতে পারে না। যদি তাঁরা বোমা-সন্ত্রাসের দায়িত্ব নিতে রাজি না হন, তাহলে এর প্রতিবাদে ও অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে বিবৃতিসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে পরামর্শ দিতে হবে। আওয়ামী লীগ এসব কর্মসূচি পালন করেছে। তবে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অনেকে বোমা-সন্ত্রাসে যুক্ত বলে সংবাদপত্রে নাম, ঠিকানা, প্রমাণসহ খবর বেরিয়েছে। ২. আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে বোঝাতে হবে যে বিএনপিসহ সব বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি অবাধে বাস্তবায়নের সুযোগ দিতে হবে। সরকারকে এই মর্মে একটি বিবৃতি দিতে হবে যে বিএনপির সব অফিস খুলে দেওয়া হয়েছে, অবাধে নির্দিষ্ট স্থানে সভা-সমাবেশ তারা করতে পারবে। প্রয়োজন হলে ডিএমপি এ ব্যাপারে কিছু শর্ত দিতে পারে, যা সব দলের প্রতি প্রযোজ্য হবে। ৩. রাজনৈতিক মামলায় আটক বিএনপির নেতা–কর্মীদের মুক্তি দিতে হবে। ৪. অবরোধ বা হরতাল থেকে পাবলিক পরীক্ষাকে অব্যাহতি দিতে হবে। ৫. রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে কতগুলো শর্তে সব প্রধান দলকে একমত হতে হবে। ৬. সংলাপ চলাকালে অবরোধ–হরতালের কর্মসূচি স্থগিত রাখতে হবে।
দ্বিতীয় পর্ব: সংলাপের প্রথম পর্ব সফল হলে দ্বিতীয় পর্বে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে প্রস্তাব দিতে হবে: ১. চলমান সংকট নিরসনের জন্য সব প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে হবে। ২. নাগরিক সমাজ ও সব কেন্দ্রীয় পেশাজীবী গ্রুপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। ৩. সংবাদপত্রে, টিভিতে প্রশ্নমালা দিয়ে ই-মেইলে, ডাকযোগে সাধারণ মানুষের মতামত নিতে হবে। এই আলাপ–আলোচনার মধ্য দিয়ে সরকার রাজনৈতিক দল ও জনমতের একটা প্রতিফলন পাবে। এই আলাপ-আলোচনা ও প্রশ্নমালার সম্ভাব্য এজেন্ডা কী হতে পারে? ক. ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে তাঁদের অবস্থান কী? খ. তাঁরা কি বর্তমান সরকারকে মেয়াদের বাকি সময় পর্যন্ত মেনে নিতে রাজি আছেন, নাকি ছয় মাসের মধ্যে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন চান? গ. নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁদের মতামত কী? (সংবিধান সংশোধন না করেও গ্রহণযোগ্য একটি পথ বের করা যায়।) ঘ. বর্তমান নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবির নেতৃত্ব সম্পর্কে তাঁদের মনোভাব কী?
এভাবে সরকার জনমতের একটা প্রতিফলন পাবে। এর পরের কাজ সরকারের। প্রতিনিধিত্বমূলক জনমত যদি সরকারের বর্তমান অবস্থানের পক্ষে যায়, তাহলে সরকার বিনা দ্বিধায় পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবে এবং ২০১৯ সালে নির্বাচন দেবে। যদি জনমত এর বিপরীত হয়, তাহলে সরকার তাদের নিজেদের ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেবে। বিদেশে জনমতের চাপে মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়াও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা ও প্রশ্নমালার মাধ্যমে জনমত জরিপ ইত্যাদি খুব পেশাদারি ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে করতে হবে। বিআইডিএস ও সিপিডির মতো প্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে এর পরিকল্পনা, পরিচালনা ও লজিস্টিকসের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এ দুটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কোনো পক্ষের আপত্তি থাকলে ভিন্ন নামও প্রস্তাব করা যায়। তবে তা উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।
নাগরিক সমাজের উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আমরা যে স্বপ্ন দেখছি, তা ‘দিবাস্বপ্ন’ কি না, জানি না। তবে বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে এর চেয়ে কার্যকর বিকল্প আর দেখি না। যাঁরা পুলিশ ও হাইকোর্ট দিয়ে এই রাজনৈতিক সংকটের সমাধান চান, তাঁরা সাময়িক শান্তি বা স্বস্তির কথা ভাবছেন। কিন্তু আমরা বর্তমান সংকটকে রাজনৈতিকভাবে দেখছি এবং এর রাজনৈতিক সমাধান চাইছি। সমাধান দেশ ও জনগণের স্বার্থেই হতে হবে।
নির্বাচন প্রশ্নে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হলে জাতীয় সনদ নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড আবার আলোচনা শুরু হবে। কারণ সুষ্ঠু নির্বাচন গণতন্ত্র নিশ্চিত করছে না। নির্বাচিত সরকারকে আমরা ‘নির্বাচিত স্বৈরাচার’ হিসেবেও দেখেছি। এ জন্য নির্বাচনের আগেই জাতীয় সনদে একমত হওয়া খুব জরুরি। তবে বর্তমান সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক সংকট দূর করার আগে জাতীয় সনদের প্রসঙ্গ বেশি আলোচনা করার প্রয়োজন নেই। সংলাপের প্রথম পর্ব সফল হলেই জাতীয় সনদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করা যাবে।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর: মিডিয়া ও উন্নয়নকর্মী।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সর্বনাশা কর্মসূচির শেষ কোথায়
১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত অসহযোগ আন্দোলন করে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। তখনও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে শিথিল হতো কর্মসূচি। এবার ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসেও শিথিল হয়নি অবরোধ। অবরোধের পাশাপাশি আবার হরতালও দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই প্রাণহানি ঘটছে।
এখন পর্যন্ত যে ১০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে জীবন হারিয়েছেন ৫৫ জন। আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে যানবাহনে দুর্বৃত্তের হামলায়। পিকেটারের ছোড়া ঢিলে নিহত হয়েছেন দুই জন। এই ৬০ জনই সাধারণ মানুষ। যাদের রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না। ৩১ জনই সাধারণ খেটে যাওয়া মানুষ। পরিবহন চালক-শ্রমিক। নারী নিহত হয়েছেন ৯ জন।
সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ১৩ জন। তাদের সবাই রাজনৈতিক কর্মী। ১১ জন বিএনপি-জামায়াতের কর্মী। আওয়ামী লীগের কর্মী দুইজন। 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছেন ২৮ জন। পুলিশের দাবি তারা নাশকতাকারী। তবে তাদের পরিবারের দাবি, তাদের ধরে নিয়ে পুলিশ হত্যা করেছে। 'বোমা মারার' সময় তিনজন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। বোমা বানাতে গিয়ে যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতা নিহত হন। 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহতদের ৯ জন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী। ৮ জন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী। এছাড়াও অবরোধ চলাকালে আরও দুইজন 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার হয়েছে তিন রাজনৈতিক কর্মীর। রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান বাসেত মারজানসহ পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের পরিবারের দাবি, পুলিশ পরিচয়ে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারির পর থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে আটক ও গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার জনকে। এ সময়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বোমা হামলায় একজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন প্রায় তিনশ' জন। ভাংচুরের শিকার হয়েছে পুলিশের শতাধিক যানবাহন।
অবরোধে যানবাহন পুড়েছে ৬১২টি। ভাংচুর করা হয়েছে আরও অন্তত ৯০০টি। এতে ক্ষয়ক্ষতি ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। ট্রেনে হামলা হয়েছে ১১ বার। তবে এতে প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটেনি। রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি যৎসামান্য হয়েছে।
ক্ষতির বোঝায় জর্জরিত অর্থনীতি :ঢাকা চেম্বারের হিসাবে একদিনের হরতাল কিংবা অবরোধে ২ হাজার ২৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। প্রতিদিন শিল্প উৎপাদন সক্ষমতায় ২৫ শতাংশ ক্ষতি ধরলে এর পরিমাণ প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি। ঢাকা চেম্বার, এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় অর্থনীতির ১৬ খাতে গত ৫০ দিনে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৯১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। তবে এর বাইরের সব খাতের হিসাব করলে এক লাখ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
ঢাকা চেম্বার ও এফবিসিসিআইয়ের প্রতিদিনের ক্ষতি অনুযায়ী হিসাব করলে অবরোধ-হরতালে গত ৫০ দিনে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় রফতানি পোশাকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, পরিবহন ও যোগাযোগে ১৫ হাজার কোটি টাকা, কৃষিতে ১৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ও আবাসনে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
এ সময় পর্যটন খাতে ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। পাইকারি বাজার, শপিং মল, শো রুম, ক্ষুদ্র ও ছোট দোকানে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, স্থানীয় পোশাক খাতে ৭ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়াও উৎপাদন খাতে ক্ষতি ৫ হাজার কোটি টাকা, বন্দর ও সেতুতে রাজস্ব হারানোর ফলে ক্ষতি ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা, সিরামিক শিল্পে ১ হাজার কোটি টাকা, পোলট্রি শিল্পে ক্ষতি ৯০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশের প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুত ও রফতানি শিল্পের ৯০০ কোটি টাকা করে ক্ষতি হয়েছে। দেশে বর্তমানে ৬০টি বীমা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এই বীমা খাতে ক্ষতি ৭৫০ কোটি টাকা। রাজধানীতে ছোট-বড় মিলিয়ে ভ্রাম্যমাণ এবং হকার ও অস্থায়ী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। এতে হকারদের ক্ষতি ৭৫০ কোটি টাকা। বন্দরে আমদানিপণ্য খালাসে ক্ষতি ৫০০ কোটি টাকা ও হিমায়িত খাদ্যের ক্ষতি ৪০০ কোটি টাকা এবং আবাসন খাতে ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা।
আর্তনাদ, আহ্বান সবই মূল্যহীন :জীবিকার সন্ধানে পথে নেমে দগ্ধ মানুষের এত কান্না, এত আহাজারি, শান্তির জন্য নিপীড়িত মানুষের আহ্বান কানে তুলছেন না সহিংসতার রাজনীতির কুশীলবরা। বরং আরও লাশের রাজনীতির গোপন পরিকল্পনা প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে জনসমক্ষে। রাজনীতি লাশের নির্ভরতা ছেড়ে কবে জীবনের জন্য হবে, এ প্রশ্ন সচেতন বিবেকের। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সমকালকে বলেন, আজকের সহিংসতা সহিষ্ণুতার অভাবের ফল। দুই পক্ষই অসহিষ্ণু, নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার কারণে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাদের চোখে পড়ছে না। এর ফলে রাজনীতিবিদদের ক্ষতি হচ্ছে না, ক্ষতি হচ্ছে সাধারণ নাগরিকের। এটা খুবই দুঃখজনক। রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া এ সহিংসতা বন্ধ হওয়ার আশাও নেই।
জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও একাধিকবার আহ্বান জানানো হয়েছে সহিংসতা বন্ধের। নিশ্চিত করার আহ্বান রয়েছে শান্তিপূর্ণ মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার জন্যও। যাদের প্রতি আহ্বান, তারা যেন অন্ধ, বধির, তাদের কানে যেন কিছুই পেঁৗছে না!
নানা শ্রেণী-পেশার মানুষও বুঝে উঠতে পারছেন না কোন পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, কবে হবে অনিশ্চয়তার সমাধান। অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বল্প আয়ের মানুষের দুশ্চিন্তা তীব্র হচ্ছে। খেটে খাওয়া দিনমজুর হোসেন মিয়া কোদাল হাতে সাত সকালে কাজের আশায় বসে আছেন উত্তরা আজমপুরের ফুটপাতে। গত এক সপ্তাহে একটা কাজও পাননি। 'কিসের রাজনীতি, প্যাডে লাথি মারার রাজনীতি চাই না।' বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সাবরিনা আহমেদ ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, 'রাজনীতি, গণতন্ত্র কিছুই দরকার নেই। বাসা থেকে বের হয়ে দিনের শেষে যেন সুস্থ শরীরে বাসায় ফিরতে পারি তার নিশ্চয়তা চাই।'
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমার মায়ের লাশ কই? by রিপন আনসারী
নিখোঁজ রয়েছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার মানু মিয়া। ফরিদপুরে ভাতিজার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হন। বেসরকারি এনজিও ব্র্যাকের অডিট অফিসার মেহফুজ আহমেদও নিখোঁজ। রোববার এমভি মোস্তফা লঞ্চযোগে মেহফুজ, মো. রফিক মিয়া ও আবুল কালামসহ তিনজন অডিট অফিসার যাচ্ছিলেন কুষ্টিয়া জেলার একটি অফিসে অডিটের কাজে। লঞ্চ দুর্ঘটনায় রফিক ও কালাম অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে উঠলেও হারিয়ে যান মেহফুজ। গতকাল সকালে লঞ্চটি উদ্ধার হলেও মেহফুজ উদ্ধার হয়নি। তার মরদেহ খুঁজতে গতকাল প্রায় সারা দিন ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ ও স্বজনরা পদ্মার ভাটি অঞ্চলে ট্রলার নিয়ে ঘুরে বেড়ালেও তার কোন সন্ধান পায়নি।
এক কন্যাকে এয়ারপোর্টে বিদায় দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আরেক কন্যাকে সঙ্গী করে এ পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিলেন হতভাগা বাবা জয়নাল শেখ (৬৫)। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় পাটুরিয়া ঘাটের পুলিশ ফাঁড়ির সামনে রাস্তার ওপর রাখা হয়েছিল লঞ্চডুবিতে নিহত পিতা ও কন্যা নারগিসের মরদেহ। পরে রাত দেড়টার দিকে শনাক্ত করে লাশ নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। দুর্ঘটনায় বেঁচে যায় জয়নালের ছেলে রফিক ও আরেক মেয়ে বুলবুলি। বেঁচে যাওয়া ভাইবোনের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠে মাঝ রাতের পাটুরিয়া ঘাটের বাতাস।
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া রফিক জানান, রোববার বোন রহিমাকে শাহজালাল বিমান বন্দরে বিদায় জানিয়ে লঞ্চযোগে বাবা, আমি ও দুই বোনসহ আমরা চার জন গ্রামের বাড়ি শিবরামপুরে ফিরছিলাম। কিন্তু হঠাৎ একটি কার্গো জাহাজ তাদের বহনকারী লঞ্চটিকে সজোরে আঘাত করলে লঞ্চটি মাঝ নদীতে ডুবে যায়। ভাগ্যক্রমে আমি ও আমার এক বোন প্রাণে বেঁচে গেলেও বাবা ও আরেক বোন নিখোঁজ হয়। রাতে ডুবুরিরা বাবা ও বোনের লাশ উদ্ধার করে।
কুষ্টিয়া লালন শাহ এলাকা থেকে বড় ছেলের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে বেড়ানো শেষে পুত্র ও নাতিনকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে লাশ হয়েছেন মদিনা বেগম (৭০), ছেলে শাবলু (২৫) ও নাতনি লাবণী আক্তার মুক্তা (১৩)। তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে রোবরার রাতেই। আদরের কন্যা, প্রিয় মা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে নির্বাক লাবু মিয়া। তার কান্না আর আহাজারি শত মানুষের চোখের পানি ঝরিয়েছে।
গত দুই দিন ধরে স্বজনদের এরকম আহাজারি ও আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছিল পদ্মার পাড়। তবে এখনও অনেক নিখোঁজ যাত্রীর স্বজনদের ভিড় গতকাল বিকাল পর্যন্ত পাটুরিয়া ঘাটে দেখা গেছে। ৭০টি মৃতদেহ উদ্ধার হলেও আরো কিছু লাশ নদীর ভাটিতে ভেসে গেছে বলে মনে করছেন নিখোঁজদের স্বজনরা।
৭০ লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ অনেক
ওদিকে দুর্ঘটনার দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা পর অবশেষে পাটুরিয়ার পদ্মায় নিমজ্জিত এমভি মোস্তফা নামক লঞ্চটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম। সেই সঙ্গে গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লঞ্চের ভেতর থেকে আরো ২৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে ১৭ ঘণ্টায় ৭০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে নারী ২৮, পুরুষ ২৭ ও শিশু রয়েছে ১৫। আর ৬৯ জনের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি মৃতদেহের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। এছাড়া, গতকাল সকাল ১১টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক ভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছেন।
পাটুরিয়া ঘাটে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমে সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস জানান, রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সারবাহী কার্গোর ধাক্কায় এমভি মোস্তফা নামের লঞ্চডুবির ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৭০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৬ জন।
দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চের ফিটনেস ছিল ২ দিন: সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক শফিউর রহমান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চটির ফিটনেসের মেয়াদ ছিল আর মাত্র ২ দিন। ২৪শে ফেব্রুয়ারিতে শেষ হতো সনদের মেয়াদকাল। তিনি জানান, এই লঞ্চের যাত্রী ধারণক্ষমতা ছিল ১৪০ জনের।
কে এই লঞ্চের মালিক: দুর্ঘটনাকবলিত এমভি মোস্তফা লঞ্চটির মালিক হচ্ছেন শিবালয় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম খান। তিনি আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। প্রভাবশালী এই নেতা দুর্ঘটনার পর এলাকা ছাড়া। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সেল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
পালিয়েছে লঞ্চের মাস্টার: এমভি মোস্তফা লঞ্চের মাস্টার আফজাল হোসেন ঘটনার পর থেকে পলাতক। পুলিশও তাকে খুঁজছে বলে জানিয়েছে শিবালয় থানার ওসি।
কার্গো জাহাজের তিনজন আটক: এ ঘটনায় নার্গিস-১ কার্গোর তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে। এরা হলো- কার্গোর তিন লস্কর শাহীনুর রহমান (২১), শহীদুল ইসলাম (২৪) ও জহিরুল ইসলাম (২১)।
পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন: অপরদিকে, লঞ্চডুবে যাওয়ার ঘটনা তদন্তের জন্য এ পর্যন্ত তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নৌ-মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটিতে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান ড. শামসুজ্জোহা খন্দকারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন মো. শাহজাহানকে প্রধান করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া নৌ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নূর-উর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ায় শোকের মাতম
দেলোয়ার মানিক, কুষ্টিয়া থেকে জানান, পাটুরিয়ার কাছে পদ্মায় লঞ্চডুবির ঘটনায় যে মরদেহ উদ্ধার হয়েছে তার মধ্যে কুষ্টিয়ারই ২০ জন। নিহতদের তালিকায় তিন পরিবারের ৯ জনসহ এক ডাক্তার ও প্রকৌশলীও রয়েছেন। তাদের বাড়ি কুমারখালী, খোকসা, মিরপুর ও সদর উপজেলায়। নিহতদের পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। আর কুষ্টিয়া জুড়ে নেমেছে শোকের ছায়া। কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, জেলার খোকসা উপজেলার ৪ জন, কুমারখালী উপজেলার ১১ জন, সদর উপজেলার ৪ জন এবং মিরপুর উপজেলার ১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।
কুমারখালী উপজেলার নিহতরা হলেন- সাবু (৩০), মর্জিনা খাতুন (৫৬), লাবণী (১৪), রেবেকা খাতুন (২৯), রাইসান (৩), বীথি খাতুন (১৪), মোস্তফা বিশ্বাস (৬০), হাফেজ ইউনুস আলী (৩০), ফাতেমা (২), মধুসূদন সাহা (৬৫) ও তারা ওরফে ডলি (৩০)।
একই উপজেলার সাঁওতা গ্রামের ফারুক জানান, তার স্ত্রী রেবেকা খাতুন (২৯) তার তিন বছরের ছেলে রাইসান ও মেয়ে বীথি খাতুন (১৪)কে নিয়ে গিয়েছিলেন ঢাকায় এক কবিরাজের বাড়িতে মানত শোধ করতে। মানত শোধ করে বাড়ি ফেরা হয়নি তাদের। একই পরিবারের তিন জনের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ পরিবারের স্বজনরা। এছাড়া একই এলাকার মোস্তফা বিশ্বাস (৬০) মৃত্যুবরণ করেছেন। ব্যবসায়িক কাজ শেষে বাড়ি ফেরার কথা ছিল কুমারখালী শহরের কুণ্ডুপাড়া এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী মধুসূদন সাহার (৬৫)। কিন্তু লঞ্চডুবিতে বাড়ি ফিরেছে লাশ হয়ে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে নির্বাক পরিবারের সদস্যরা।
খোকসা উপজেলার নিহতরা হলেন- লতা (২২), পুলক (২), এনামুল (১৪) ও গোলাম মোস্তফা (৫৭)। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, খোকসা উপজেলার জয়ন্তিহাজরা ইউনিয়নের মহিষবাথান গ্রামের একই পরিবারের ৩ জন, ইসমাইল হোসেনের মেয়ে লতা (২২), আড়াই বছরের ছেলে পুলক হোসাইন এবং ছোটভাই এনামুল (১৪) মৃত্যুবরণ করেছে। একই উপজেলার সাতপাখিয়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা (৫৭) মৃত্যুবরণ করেছেন। মিরপুর উপজেলার আমলা সদরপুর স্কুল পাড়ার স্কুলপাড়া এলাকার আনসার আলীর ছেলে আসাদুল হক (২৭) মৃত্যুবরণ করেছেন।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নিহতরা হলেন- নাসির (২৯), নাইমা (৬), প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বাপ্পী (৩২) ও ডা. নবনীতা কুমার পাল (৩০)। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়া (ভাটাপাড়া) এলাকার নাসির (২৯) তার দুই মেয়েকে বাড়িতে রাখার জন্য ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়েছিলেন। লঞ্চডুবিতে মৃত্যুর পর নাসির ও মেয়ে নাইমার (৬) লাশ উদ্ধার হয়েছে। একই সঙ্গে থাকা ছোট মেয়ে নোহা (৪)কে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
এদিকে কুষ্টিয়া শহরের নতুন কমলাপুর এলাকার সান্টু মিয়ার ছেলে প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বাপ্পী (৩২) ও ডা. অসীম কুমার পালের কন্যা নবনীতা কুমার পাল (৩০) নিহতের তালিকায় রয়েছেন।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালেহা আক্তার জানান, নিহতদের লাশ প্রশাসন তদারকির মাধ্যমে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। সকলের লাশ সুষ্ঠুভাবে দাফন করা হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হরতাল না ভয়তাল! by আতাউর রহমান
আর গান্ধীজিকে একবার এক নৌবন্দরে শুল্ক কর্তৃপক্ষ তাঁর কাছে ডিক্লারেশন দেওয়ার মতো কিছু আছে কি না জিজ্ঞেস করায় তিনি নাকি জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমার পার্থিব সম্পদের মধ্যে আছে ছয়টি চরকা, একটি ছাগদুগ্ধ রাখার জগ, ছয়টি হাতে বোনা লেংটি ও একটি তোয়ালে, আর আছে আমার খ্যাতি, যেটা পরিমাপ করা যায় না।’ আমাদের বাংলাদেশের কথা না-হয় বাদই দিলাম, ভারতের আর কয়জন রাজনীতিবিদ বুকে হাত দিয়ে এভাবে বলতে পারতেন বা পারবেন?
তো গান্ধীজি ছিলেন সত্যিকার অর্থেই একজন মহাত্মা। এর সর্বোৎকৃষ্ট প্রমাণ: তিনি ছিলেন নীতিগতভাবে ভারতবর্ষ বিভাজনের বিপক্ষে; কিন্তু এতৎসত্ত্বেও বিভাজন হয়ে গেলে পরে নেহরু-প্যাটেল প্রমুখ যখন রিজার্ভ ব্যাংক থেকে পাকিস্তানের হিস্যা ৫০০ কোটি রুপি দিতে গড়িমসি করছিলেন, তখন তিনি অনশন-ধর্মঘট শুরু করেন। এক্কেবারে খাঁটি অনশন; হালের এরশাদ সাহেব মার্কা অনশন নয়। তাঁর অনশনের ফলে ওঁরা ওই টাকা অবমুক্ত করতে বাধ্য হন।
আর স্বাধীনতার প্রাক্কালে, ছেচল্লিশের আগস্টে দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকার শিরোনাম অনুসারে ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এর পর কলকাতায় শান্তি বজায় রাখতে তিনি স্বয়ং মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় এসে বাস করতে শুরু করেছেন। সর্বোপরি, ব্রিটিশের বিরুদ্ধে তিনি অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়ার পর একপর্যায়ে সেটা সহিংস আন্দোলনে রূপ নিলে তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। হায়! এতদ্দেশীয় রাজনীতিবিদেরা কবে গান্ধীজির জীবনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবেন। আর আমার ক্ষুদ্র বিবেচনায়, এ দেশের প্রত্যেক শিক্ষিত দেশপ্রেমিক নাগরিকের উচিত গান্ধীজির আত্মজীবনীমূলক বই মাই এক্সপেরিমেন্টস উইথ ট্রুথ পাঠ করা।
‘যাকগে, বলতে যাচ্ছিলাম হরতালের ব্যাপারটা। আমাদের সময়কার ছাত্রনেতা ও পরবর্তী সময়ে অনেকবার ডিগবাজি খাওয়া রাজনীতিবিদ শাহ্ মোয়াজ্জেম হোসেন স্বৈরাচারী সরকারের মন্ত্রী থাকাকালে একবার বলেছিলেন, ‘হরতাল তো নয়, ওটা ভয়তাল!’ সে সময় তিনি আরেকটি অশালীন উক্তির মাধ্যমে বলতে চেয়েছিলেন, দুই নারী একজোট হয়েও এরশাদের পতন ঘটাতে পারবেন না। তাঁর ওই উক্তি অশালীনতার কারণে সর্বত্র সমালোচিত হয়েছিল। যা হোক, সেবার তিনি ভুল প্রমাণিত হয়েছিলেন, দুই নেত্রীর ঐকে্যর ফলেই এরশাদীয় স্বৈরাচারের পতন ঘটেছিল। কিন্তু এখন তাঁদের একজনের অবস্থান উত্তর মেরুতে হলে অপরজনের অবস্থান দক্ষিণ মেরুতে।
স্যানিটারি ইন্সপেক্টর হলে নাকি সর্বত্র মাছি দেখতে পাওয়া যায়। তদ্রূপ পত্রিকার পাতায় রম্য কিছু প্রকাশিত হলে রম্যলেখকের দৃষ্টি সেখানটায় অবিচ্ছেদ্যভাবে আটকায়। আত্মজপ্রতিম একজন ইদানীং ‘রস+আলো’র পাতায় লিখেছে: লাগাতার হরতাল মানে হলো লাগা তার, অর্থাৎ তার লাগা; হরতালে অনেকের মাথার তার ছিঁড়ে যায় তো, সেটা লাগানোর জন্যই লাগাতার হরতাল। ওর এই বিশ্লেষণটা আমার খুব ভালো লেগেছে। তাই তৎসঙ্গে আমি যোগ করতে চাই, হরতাল মানে হচ্ছে তাল হরণ করা। বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই।
আর পত্রিকার পাতায় ‘গাধা মানুষের মতো কথা বলে’ শিরোনাম দেখতে পেয়ে জনৈক রসিক ব্যক্তি মন্তব্য করেছিলেন, ‘মানুষ যদি গাধার মতো কথা বলতে পারে, তাহলে গাধা মানুষের মতো কথা বলায় অবাক হওয়ার কী আছে?’ তো আগেকার দিনে রাজনৈতিক সংকটকালে সরকারি কর্মচারীরা দৃশ্যত নিরপেক্ষ ও নির্বাক থাকতেন; আজকাল তাঁরা রাজনীতিবিদদের মতো বক্তব্য দিতে শুরু করেছেন। সরকারের এক ডানার কাজ আরেক ডানা করতে শুরু করে দিলে ফলাফল কী হয়, সেটা বোঝাতে গিয়ে অনেক আগে ঈশপের এই গল্পটা বলেছিলাম:
এক কৃষকের ছিল একটি গাধা ও একটি কুকুর। গাধার কাজ ভার বহন করা আর কুকুরের কাজ রাতে বাড়ি পাহারা দেওয়া। কৃষক তাদের ভালোমতো ভরণপোষণ করে না বিধায় অসন্তুষ্টি একেবারে চরমে। একদিন গভীর রাতে বাড়িতে নিশিকুটুম্বের আগমন ঘটল। কুকুর বলল, ‘মালিক আমাদের ভালোমতো খেতে দেয় না। চোর চুরি করে নিয়ে যাক, তাতে আমাদের কী? আমি ডেকে মালিকের ঘুম ভাঙাব না।’ কিন্তু গাধা কুকুরের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলল, ‘হাজার হোক তিনি আমাদের মালিক। তুমি না ডাকলেও আমি ডেকে তাঁর ঘুম ভাঙাবই।’ সে তার হেঁড়ে গলায় চিৎকার শুরু করলে চোর পালিয়ে গেল। এদিকে মালিক মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে কিছুই দেখতে না পেয়ে অহেতুক ঘুম ভাঙানোর অপরাধে গাধাকে আচ্ছাসে পিটুনি লাগাল।
এ স্থলে সম্প্রতি সংগৃহীত আরেকটি মজাদার গল্প উপস্থাপন করতে চাই। অবশ্য পূর্বাহ্নে বলে রাখি, আমাদের এক ঢাকাইয়া ভাই যথার্থই বলেছিলেন, ‘আইজকাল রাজনীতিতে পলিটিকস ঢুইক্যা গ্যাছেগা।’ তবে সেই সঙ্গে ঘেন্না ও প্রতিহিংসা যে ঢুকে গেছে, ওটাই চিন্তার বিষয়। আর দোহাই লাগে, এই গল্পটিতে কেউ রাজনীতির গন্ধ খুঁজে বেড়ানোর চেষ্টা করবেন না। আব্বাসীয় যুগের এক শাসক একদিন দামেস্কে জনগণের উদ্দেশে বক্তৃতাকালে বলছিলেন, ‘হে লোকসকল! আপনারা আল্লাহর শোকর গোজার করুন যে তিনি আমাকে আপনাদের শাসনকর্তা বানিয়েছেন। ইতিপূর্বে অনেকবার প্লেগের প্রাদুর্ভাব হয়েছে, কিন্তু আমার রাজত্বকালে একবারও প্লেগের প্রাদুর্ভাব ঘটেনি।’
পেছন থেকে এক মুসল্লি ফোড়ন কাটলেন, ‘আল্লাহ অত্যন্ত মহান ও মেহেরবান। তিনি এতটা নির্দয় নন যে একই সঙ্গে আপনাকে ও প্লেগ ব্যাধিকে আমাদের ওপর আরোপ করবেন।’
আতাউর রহমান: রম্যলেখক৷ ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
February
(1363)
-
▼
Feb 24
(34)
- সন্ত্রাস-পুলিশ-আইন
- মাহমুদুর রহমান মান্না কোথায়?
- স্ত্রীর আকুতি : আমার স্বামীকে হত্যা করবেন না
- সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্বের চেষ্টা চলছে -সম্পাদ...
- সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সবই করব: প্রধানমন্ত্রী
- গুলিতে ঝাঁঝরা by নুরুজ্জামান লাবু
- নির্বাচনটি না হলে সাংবিধানিক সঙ্কট দেখা দিত কি? by...
- মাহমুদুর রহমান মান্না আটক, অবস্থান পরিষ্কার করতে ...
- আফগানিস্তানে সেনা অবস্থান দীর্ঘ হবে : যুক্তরাষ্ট্র
- তুরস্ক আক্রান্ত হলে ন্যাটো কি এগিয়ে আসবে?
- পিঁপড়াও টয়লেটে যায়?
- ভারতে এবার মধ্যবিত্তের বাজেট
- কে নেবে দায়ভার by আতাউর রহমান ও বিপ্লব চক্রবর্তী
- সংবাদপত্র কীভাবে জঙ্গিদের মদদ দিচ্ছে? by মশিউল আলম
- সংলাপের এজেন্ডা ও রূপরেখা by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
- সর্বনাশা কর্মসূচির শেষ কোথায়
- আমার মায়ের লাশ কই? by রিপন আনসারী
- হরতাল না ভয়তাল! by আতাউর রহমান
- গণতন্ত্রের জন্য একবার কাঁদুন by সৈয়দা পাপিয়া
- পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের তাৎপর্য ...
- ব্যাংকে উদ্বৃত্ত মূলধন
- উত্তরপাড়ার কথা বলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্...
- আস্থা না রেখে উপায় কী? by বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ব...
- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এ হাল কেন? by বিমল সরকার
- মমতার সফরে কী পেল বাংলাদেশ by তারেক শামসুর রেহমান
- ৬৯-এর ২৩ ফেব্রুয়ারি, গণঅভ্যুত্থান ও আজকের বাংলাদেশ...
- সংলাপ হবে না সমস্যাও মিটবে না
- আলোচনা ছাড়া কিছুই বদলানো সম্ভব নয় : অমর্ত্যসেন
- বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ হোক -‘বন্দুকযুদ্ধের’ গল্...
- শুভেচ্ছা সফরটিও অনেক গুরুত্ব বহন করে by সালমা ইসলাম
- ‘আগুনে নিহতদের তালিকা টাঙালেন ক্রসফায়ারের তালিকা ত...
- লণ্ডভণ্ড গ্রামীণ অর্থনীতি
- পাসপোর্ট অধিদফতরে অনিয়ম-দুর্নীতি
- সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য -১৫৭ by ড. একেএম শাহনাওয়াজ
-
▼
Feb 24
(34)
-
▼
February
(1363)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



















