Saturday, July 22, 2017

৪ আরব দেশকে কাতারের শর্ত

শক্তিশালী চার আরব প্রতিবেশীর বর্জন শিথিল করার উদ্দেশ্যে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের আমির।
সঙ্কট শুরু হবার পর প্রথম দেয়া ভাষণে শেখ তামিম বিন হামাদ আল-সানি বলেন, যেকোনো সমাধানই কাতারের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ হতে হবে।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব গত জুনে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়া এবং ইরানের সাথে মৈত্রীর অভিযোগে কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে আমিরাত, বাহরাইন এবং মিসর। কিছুদিন পর তারা কাতারের কাছে কিছু দাবিও উত্থাপন করে। সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার।
টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে কাতারের আমির পদশটির বিরুদ্ধে ‘কলুষিত অপবাদের প্রচারণার’ নিন্দা জানান এবং দেশের জনগণের সহ্যশক্তির প্রশংসা করেন। ‘কাতারের জীবনযাত্রা স্বাভাবিকভাবেই চলছে’ বলেন তিনি।
তবে তিনি আরো বলেন ‘সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের দ্বন্দ্ব থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করার সময় এসেছে।’
‘আমরা আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী’, যতক্ষণ পর্যন্ত কাতারের ‘সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা করা হবে’, বলেন কাতারের আমির।
চারটি আরব দেশের অবরোধের কারণে তেলসমৃদ্ধ কাতার দেশটির ২৭ লাখ মানুষের জন্য সমুদ্র এবং আকাশপথে খাদ্য আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছে।
আমিরাত থেকে ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়ার প্রমাণ আছে
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেই যে কাতারের সরকারি সংবাদমাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলা চালানো হয়েছে সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রমাণ আছে বলে জানিয়েছে দোহা। বৃহস্পতিবার দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দলের কর্মকর্তারা বলেন, এপ্রিলের শুরু থেকেই কাতার নিউজ এজেন্সি (কিউএনএ) হ্যাক করার পরিকল্পনা করা হয়।
২৪ মে গভীর রাত থেকে ২৫ মে ভোর পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। পরে কাতারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের আইটি বিশেষজ্ঞরা সাইটের নিয়ন্ত্রণ নেন। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প থেকে একটি ভিডিও উপস্থাপন করা হয়। ভিডিওতে বলা হয়, তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন ভিপিএন সফটওয়্যার ব্যবহার করে এপ্রিলের শুরুর দিকেই হ্যাকাররা কিউএনএর ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ করেছিল এবং ওয়েবসাইটটি স্ক্যান করেছিল।
মে মাসের শেষের দিকে কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কাতার নিউজ এজেন্ট (কিউএনএ) এবং সরকারি সোস্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়। হ্যাকাররা কিউএনএর ওয়েবসাইটে একটি ভুয়া খবর যুক্ত করে দেয়। ওই খবরে দেখা যায়, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানি ইরান, হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মতায় টিকে থাকবেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। তবে শুরু থেকেই কাতার দাবি করে আসছে দেশটির আমির কখনই এ ধরনের মন্তব্য করেননি বরং কিউএনএর ওয়েবসাইট হ্যাক হয়েছে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টের এক খবরে বলা হয়, নতুন করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত হয়েছে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে আমিরাতের সংযোগ রয়েছে। তারা জানতে পেরেছে গত ২৩ মে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সিনিয়র সদস্যরা হ্যাকিংয়ের পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। আর তার পরদিনই কাতার সরকারের সংবাদমাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়। তবে আমিরাতি কর্তৃপক্ষ সরাসরি হ্যাক করেছে নাকি চুক্তির ভিত্তিতে কাউকে দিয়ে হ্যাকিং চালিয়েছে তা নিশ্চিত করা হয়নি। ওয়াশিংটন পোস্টে খবরটি প্রকাশের পরপরই তা নাকচ করে দেয় আরব আমিরাত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, খবরটি সত্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত আমিরাতি দূত ইউরুফ আল ওতাইবা ওয়াশিংটন পোস্টের খবরটিকে নাকচ করে দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন : “আর্টিকেলে হ্যাকিং নিয়ে যা যা অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলোর কোনোটিই আমিরাত করেনি....এটাই হলো কাতারের সত্যিকারের আচরণ। তালেবান থেকে শুরু করে হামাস এবং গাদ্দাফি পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন ও সমর্থন দেয়াটা তাদের কাজ। সহিংসতায় উসকানি দেয়া, চরমপন্থাকে উৎসাহিত করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর স্থিতিশীলতা নষ্ট করাটা কাতারের স্বভাব।’
কাতারের সন্ত্রাস দমন আইনে পরিবর্তন
এএফপি জানায়, কাতার বৃহস্পতিবার তাদের দেশের সন্ত্রাস দমন আইনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। দোহা ও তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে চরম সঙ্কটের ক্ষেত্রে বিতর্কিত বিষয়গুলোর এটি ছিল অন্যতম। কাতারের বিরুদ্ধে চার আরব দেশের অভিযোগ হচ্ছে তারা বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে সহযোগিতা করছে। বৃহস্পতিবার কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কিউএনএর খবরে বলা হয়, সৌদি জোটের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই আইন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানির ফরমানে ব্যক্তিবর্গ ও সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা প্রণয়ন এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়। এতে সন্ত্রাসী, সন্ত্রাস-সংশ্লিষ্ট অপরাধ, সন্ত্রাসী সংস্থা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আর্থিক সহযোগিতার বিষয় সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘আদালতের নির্দেশ শুনে হতভম্ব হয়ে যাই’

আদালতের জারি করা এক সমনের পরিপ্রেক্ষিতে বরগুনার ইউএনও গাজী তারেক সালমনকে বরিশালের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছিল। যে অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে, সেটি জামিনের অযোগ্য কোন অপরাধ নয়। আর সরকারেরই একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা তিনি, একটি উপজেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তার জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে আদালত তাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেবেন, সেটা তিনি ভাবতেই পারেন নি।
"আদালতের নির্দেশ শুনে আমি খুবই অবাক হই, হতভম্ব হয়ে যাই। আমি কল্পনা করিনি যে আমার জামিন নামঞ্জুর করা হবে। একটি জামিন-যোগ্য ধারায় মামলাটি করা হয়েছে এবং যথাযথভাবে আদালতের সামনে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করেছে আমার আইনজীবী। জামিন নামঞ্জুর করার পর আমাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। আমি খুবই অপমানিত বোধ করি।"
বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
বরগুনা সদরের ইউএনও-কে হাতকড়া পরিয়ে জেলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হওয়ছেন বাংলাদেশের আরও অনেক মানুষ। যে ধরণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিল, সেরকম একটি মামলা যে করা যায়, আর সেই মামলায় একজন গুরুত্বপূর্ণ সরকারী কর্মকর্তাকে এভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া যায, তা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য ঠেকেছে।
বাংলাদেশের জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া হয়েছিল মারাত্মক। তাদের একটি সংগঠনের তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে এই ঘটনার নিন্দা করা হয়েছে। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতরের কর্মকর্তারাও এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী।
কিন্তু কেমন করে এরকম একটি ঘটনা ঘটতে পারলো? এটি কি যা বলা হচ্ছে, আসলেই তাই? অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের 'বিকৃত ছবি' প্রকাশের কারণে হৃদয়ে আঘাত পাওয়া কোন মুজিব ভক্তের মামলা? নাকি এর পেছনে আছে অন্য কিছু?
বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে গাজী তারিক সালমন বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন, কিভাবে শিশুদের এক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে শেষ পর্যন্ত এরকম একটি হেনস্থার শিকার হয়েছেন তিনি।
১৭ই মার্চ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিবসটি পালিত হয় জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে। সে উপলক্ষে আগৈলঝড়া উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস এইটের বাচ্চারা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
"তখনই ঘোষণা দিয়েছিলাম যে যারা প্রতিযোগিতায় প্রথম এবং দ্বিতীয় হবে তাদের ছবি ব্যবহার করেই ২৬শে মার্চের কার্ডটি ডিজাইন করা হবে। এই প্রতিযোগিতার থীম ছিল বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ।"
ঘোষণা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া কার্ডটি ফ্রন্ট কাভারে এবং দ্বিতীয়টি ব্যাক কভারে ব্যবহার করে তার কার্ডটি ছাপান।
"আমি বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবেই এই কার্ডটি ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেই। বাচ্চাদের একটা ছবি ব্যবহার করি বাচ্চাদের উৎসাহ দেয়ার জন্য। আমি কল্পনাও করিনি যে এই কার্ডটি নিয়ে আমাকে এ ধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। এবং আমার বিরুদ্ধে এরকম অমূলক একটি মামলা দায়ের করা হবে।"
গাজী তারিক সালমন জানান, কার্ডে তাদের পরিচিতিও লেখা ছিল তারা কোন ক্লাসে পড়ে। ছিল তারা যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী তার নাম। বাচ্চাদের এই ছবি নিয়ে বিভ্রান্তির কোন অবকাশ ছিল না।
পুরস্কার বিজয়ী যে ছবিটি নিয়ে এত বিতর্ক, প্রথম যখন তিনি সেই ছবিটি দেখেন, তাঁর কি মনে হয়েছিল?
"ছবিটি প্রথম দেখে মনে হয়েছিল খুবই দৃষ্টিনন্দন এবং খুবই সুন্দর একটা ছবি। ক্লাস ফাইভের একটি বাচ্চা এটি এঁকেছে, এবং তার বয়স বিবেচনায় খুবই সুন্দর একটি ছবি। এটিকে বিকৃত বলার কোন সুযোগ নেই। এবং এটিকে কেউ যদি বিকৃত বলে, সে নিজেই আসলে বিকৃত মনস্ক।
তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কেন এই মামলা হলো? তাঁর কি মনে হয়?
"আমি আট মাস বরিশালের আগৈলঝড়া উপজেলায় কর্মরত ছিলাম। এসময় আমাকে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। সরকারী বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ যাতে সঠিকভাবে যথাযথভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্যে আমি তৎপর ছিলাম। কঠোর অবস্থানে ছিলাম। আমি সেখানকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি। আমি অবৈধ স্থাপনা করতে দেই নি আমি যতদিন সেখানে ছিলাম। এসব কারণে সেখানকার প্রভাবশালীরা আমার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিল। আমার অনুমান, তারা আমাকে হয়রানি করার জন্য বাদীকে দিয়ে এই মামলাটি করিয়েছে।"
এই মামলার কিছুদিন পরে তারিক সালমনকে বরগুনা সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়।
যেদিন তিনি বরগুনা সদরে জয়েন করেন, সেদিন বরিশালের কয়েকটি আঞ্চলিক পত্রিকায় তাকে নিয়ে একটি খবর প্রকাশিত হয়।
"জুনের ৪ তারিখে প্রকাশিত সব কটি পত্রিকার রিপোর্টের ভাষা ছিল একই রকম। শিরোণামটি ছিল 'বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতকারী সেই ইউএনও অবশেষে বদলি'। এই খবরের প্রতিবাদ আমি সমস্ত পত্রিকায় পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু কোন পত্রিকা প্রতিবাদটি ছাপেনি।
আদালত প্রাঙ্গণে যা ঘটেছিল:
বিচারক যখন তার জামিনের আবেদন নাকচ করে দিলেন, কিছুটা হতভম্ব হয়ে পড়েছিলেন গাজী তারিক সালমন। তিনি বুঝতে পারেন নি, এরকম ঘটনা ঘটতে পারে।
"যখন আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়, তখনই আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। তারা আমাকে বলেছিলেন মামলা যেহেতু হয়েছে, মামলাটি আইনগত-ভাবে মোকাবেলা করতে হবে।"
"আমাকে ঠিক গ্রেফতার করা হয়নি। আমার যে জামিনের আবেদন সেটি নামঞ্জুর করা হয়। তারপর আমাকে কোর্টের গরাদখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আমাকে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। তখন আমি পুলিশকে অনুরোধ করেছিলাম, দয়া করে আমাকে একটু সময় দিন। আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানোর সুযোগ দিন।
গাজী তারিক সালমনের অনুরোধে পুলিশ তাকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ দেন। দু ঘণ্টা তিনি ছিলেন আদালতের গরাদখানায়। বেলা দেড়টার দিকে আদালতের বিচারক পিয়ন পাঠিয়ে তাকে ডেকে পাঠান। তাঁর আইনজীবীকেও ডেকে পাঠানো হয়।
"আমি আদালতে যাই। এজলাসে যাই। কিন্তু বিচারক আমার মুখোমুখি হননি। তিনি খাস কামরায় বসে আমার জামিন মঞ্জুর হয়েছে মর্মে একটি আদেশ দেন। আদালতের পেশকার, তিনি আমার জেল পরোয়ানাটি আমার সামনেই ছিঁড়ে ফেলেন। তিনি আমাকে বলেন, আপনার কোন চিন্তা নেই। আপনার জেল পরোয়ানাটি ছিঁড়ে ফেলেছি।"
গত তিন দিন ধরে সারা বাংলাদেশ জুড়ে তাঁকে নিয়ে যে আলোচনা-বির্তকের ঝড়, তারপর এখন তিনি কি করবেন? তিনি কি কোন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছেন?
"এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। এব্যাপারে আমাদের সার্ভিসের এসোসিয়েশন রয়েছে। সবার সঙ্গে পরামর্শ করে আমি পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।"
"আমাকে যে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে, এটি মিডিয়াতে প্রকাশ হওয়ার পর, যে নিন্দার ঝড় বয়ে গেছে, সমস্ত দেশবাসী আমার পক্ষে দাঁড়িয়েছে। সংবাদকর্মীরা আমার পক্ষে কথা বলেছেন। আমি এজন্য কৃতজ্ঞ। এজন্যে আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।"
সূত্র: বিবিসি

পদত্যাগ করলেন হোয়াইট হাউজ মুখপাত্র শন স্পাইসার

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র, প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন নতুন কমিউনিকেশন ডিরেক্টর নিয়োগ দেয়ার পরই স্পাইসার পদত্যাগ করেন। বলা হচ্ছে, ব্যবসায়ী অ্যান্থনি স্কারামুচিকে এই পদে নিয়োগ দেয়া নাখোশ হয়ে পদত্যাগ করেন তিনি। গত জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেবার পর নানা কারণেই আলোচনায় ছিলেন স্পাইসার বিশেষ করে, সংবাদ সম্মেলনগুলোতে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তার বাক্যবাণ ও কটাক্ষ নিয়ে সবসময়ই সমালোচনা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে পদত্যাগ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আইনি সহায়তা দেয় এমন একটি দলের মুখপাত্র। স্পাইসারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে তার এতদিনের কাজের জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা নেয়ার পর থেকেই এক পর এক পরীক্ষার মুখে পড়ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুরুতেই তার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদত্যাগ করেন। আর মি. স্পাইসারের পদত্যাগের ঘটনা এমন সময় ঘটলো, যখন রাশিয়ার সাথে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে তদন্তের মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বয়ং। তার ছেলের বিরুদ্ধেও তদন্ত হচ্ছে। আর জি-২০ বৈঠকের রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বৈঠকের বিষয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে। সূত্র : বিবিসি

ফিলিস্তিনকে তিন ভাগ করার ট্রাম্প-নেতানিয়াহু চুক্তি ফাঁস

ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের সঙ্কট নিরসনে একটি চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে খবর বেরিয়েছে। প্রায় ৭০ বছর ধরে চলা ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যকার সঙ্কট নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত ‘শতাব্দীর চুক্তি’র (ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি) বিস্তারিত ফাঁস হয়ে গেছে। ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদপত্র হারেৎজ এ খবর জানিয়েছে। প্রস্তাবিত ওই চুক্তির নতুন শর্তগুলোর বিষয়ে একমত হয়েছেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু। সেই শর্তে সঙ্কট নিরসনে দুই রাষ্ট্র সমাধান বা টু স্টেট সলিউশনের প্রস্তাবকে নাকচ করে দেয়া হয়েছে। ওই চুক্তি কার্যকর হলে কার্যত অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার শাসনভার যাবে মিসরের হাতে। অন্য দিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের একাংশের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব যাবে জর্দানের কাছে। আর পশ্চিম তীরের বাকি অংশ নিয়ন্ত্রণ করবে ইসরাইল। একই সঙ্গে দেশটি তাদের সার্বভৌমত্বে থাকা ফিলিস্তিনিদের নাগরিকত্ব দেবে। ওই চুক্তি নিয়ে ইসরাইলি কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে মিসরের সেনাশাসক আবদুল ফাত্তাল আল-সিসি, জর্দানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহসহ অনেক আরব নেতার আলাপ হয়েছে। এ ছাড়া এ নিয়ে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি ও জর্দানের বাদশাহ আবদুল্লাহর মধ্যে গোপন বৈঠক হয়েছে। আলমেসরিউন ডটকম নামে একটি সংবাদপত্রের খবরে বলা হয়, ইসরাইলি সাংবাদিক ইয়োসি ভারতার অনুসন্ধান করে পেয়েছেন, নেতানিয়াহু ও ইসরাইলের সাবেক বিরোধীদলীয় প্রধান আইজ্যাক হারজগ ২০১৬ সালের এপ্রিলে কায়রোর প্রজাতন্ত্র প্রাসাদে সিসির সঙ্গে বৈঠক করেন।
আমিরাতের মন্ত্রী-নেতানিয়াহু বৈঠক
এ দিকে ইসরাইলের দৈনিক হারেৎজ গতকাল আরো জানিয়েছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইউএইর পরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আন-নাইয়ান গোপন বৈঠক করেছিলেন। ২০১২ সালে নিউ ইয়র্কে গোপন এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানত ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই পশ্চিমা কূটনীতিবিদ এ খবর জানিয়েছেন। নিউ ইয়র্কের পার্ক এভিনিউ এবং ইস্ট ৬১তম স্ট্রিটে অবস্থিত লোস রিজেন্সি হোটেলের নেতানিয়াহুর কে বৈঠক হয়। ২০১২ সালের জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনের অবকাশে ২৮ সেপ্টেম্বর বৈঠকটি হয়। ইসরাইলের তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইকোভ আমিদরোর এবং নেতানিয়াহুর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল জোহানান লোকার বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।

ইসরাইলের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করেছেন মাহমুদ আব্বাস

ইসরাইলের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। পবিত্র আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়নের অবসান না হওয়া পর্যন্ত এ যোগাযোগ বন্ধ থাকবে। শুক্রবার ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের সাথে এক বৈঠকের পর দেয়া বিবৃতিতে মাহমুদ আব্বাস ইসরাইলের সাথে যোগাযোগ বন্ধের ঘোষণা দেন। তার এ বিবৃতি ফিলিস্তিনের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সম্প্রচার করা হয়।
মাহমুদ আব্বাস বলেন, ইসরাইল নিরাপত্তার নামে মিথ্যা অজুহাত দিয়ে পবিত্র আল-আকসা মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার লক্ষ্যে নতুন এ দমন-পীড়ন শুরু করেছে। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের পক্ষে আমি ঘোষণা করছি যে, ইসরাইল তার নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ বন্ধ না করা পর্যন্ত যোগাযোগ বন্ধ থাকবে।” গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আল-আকসা মসজিদ প্রঙ্গনে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে মাহমুদ আব্বাস এ বিবৃতি দিলেন। ইসরাইলের সাথে নানা ইস্যুতে ফিলিস্তিনের যোগাযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সাম্প্রতিক পানি ও বিদ্যুৎ চুক্তি।

ইয়েমেনে ১০ হাজার টন সাহায্য পাঠাল তুরস্ক

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইয়েমেনে ১০ হাজার ৫৬০ টন খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য সাহায্য পাঠিয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে শুক্রবার এ খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনাদলু এজেন্সি। খবরে বলা হয়, তুরস্কের সাহায্যবাহী জাহাজটি বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের এডেন বন্দরে পৌঁছে। সেখানে ইয়েমেন কর্তৃপক্ষ জাহাজ থেকে মালামাল বুঝে নিতে শুরু করেছে। জাহাজটিতে ৫০ টন ওষুধ, চিকিৎসা উপকরণ, আটা-ময়দাসহ অন্যান্য খাদ্য দ্রব্য, জুতা, হুইল চেয়ার এবং দুটি ইমার্জেন্সি হাসপাতাল ক্যাম্প রয়েছে। ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের দুর্দশা লাঘবে তুরস্ক দীর্ঘদিন সাহায্য করে আসছে। সমস্যা নিরসনে তুরস্ক সেখানে রাজনৈতিকভাবে সমাধান করারও চেষ্টা করছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। হুথি ও সানা গ্রুপ এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ২০১৫ সালে সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে বিমান হামলা চালায়।

রোহিঙ্গা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি: জাতিসংঘ

মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নির্যাতনের তেমন কোনো উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াং জি লি। খবর আনাদলু এজেন্সির। তিনি বলেন, গত জানুয়ারি মাসে আমাদের সর্বশেষ পরিদর্শনের পর পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। আমরা এখনো অব্যাহতভাবে সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের রিপোর্ট পাচ্ছি। গত বছরের অক্টোবর মাসে রাখাইন রাজ্যে তিন পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর পর সেনাবাহিনী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। অভিযানে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মুসলিমদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়। সেনা অভিযানে ১০৬ জন রোহিঙ্গা নিহত হয় বলে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দাবি করে। তবে রোহিঙ্গাদের একটি গ্রুপের হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৪০০ জন। গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সেখানে সেনাবাহিনীর অভিযান শেষ হয়। অভিযান শেষ হলেও সেখানে কোনো সাহায্যদাতা বা গণমাধ্যমকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

‘চিরকাল’ নিষেধাজ্ঞা থাকলেও টিকে থাকব : কাতার

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত মেশাল বিন হামাদ আল থানি বলেছেন, আরব জোটের নিষেধাজ্ঞার অধীনে টিকে থাকতে পারবে কাতার। একই সঙ্গে তার দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ইতি টানার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মেশাল বিন হামাদ আল থানি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব পড়েনি। কাতার নিজেদের অর্থনীতিতে অনেক বলিষ্ঠ। আর আমরা স্বাচ্ছন্দ্যকর অবস্থাতেই আছি। আমরা এভাবে চিরকাল চালিয়ে যেতে পারব।’ রয়টার্স জানিয়েছে, কাতারকে দেয়া ১৩ দফা শর্ত প্রত্যাহারে সৌদি আরবসহ চারটি আরব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক।

কিম জং সরকার উৎখাতের ইঙ্গিত সিআইএ প্রধানের

উত্তর কোরিয়ায় সরকার পরিবর্তনের আকাক্সক্ষার কথা ব্যক্ত করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক মাইক পম্পেও। উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসক কিম জং উনের ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার এ যাবৎকালের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন তিনি। তার এই মন্তব্যগুলোর মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় একনায়ক সরকার পরিবর্তনের ব্যাপারে তার আকাক্সক্ষার ব্যক্ত হয়েছে। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিম জং উনের সরকারের পতন বা তকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিরুদ্ধে। তবে সিআইএ প্রধান বলেছেন, পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ও অস্ত্র মজুদ থেকে কিমকে সরিয়ে আনার একটা কার্যকর উপায় বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের খুঁজে বের করা দরকার। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত আস্পেন সিকিউরিটি ফোরামের এক আলোচনা সভায় পম্পেও বলেন, ‘কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ হবে বিশাল একটা অর্জন। তবে এ ব্যাপারে সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হচ্ছে, যিনি বর্তমানে এ অস্ত্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ করছেন।’ এদিকে মার্কিন নাগরিকদের উত্তর কোরিয়া ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
উত্তর কোরিয়ার দুটো পর্যটন সংস্থা এ কথা জানিয়েছে। কোরিও টুরস ও ইয়ং পাইওনিয়ার টুরস নামের ওই দুটো সংস্থা জানায়, চলতি মাসের ২৭ জুলাই এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হবে এবং পরবর্তী ৩০ দিন পর্যন্ত এটা কার্যকর থাকবে। জাতিসংঘ বলেছে, উত্তর কোরিয়ায় চরম খাদ্য সংকট চলছে। এ খাদ্য সংকটে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০০১ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ খরায় আক্রান্ত এ খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে। তাছাড়া পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে দ্বিপাক্ষিক খাদ্য সহায়তা বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে দেশটির শিশু ও বৃদ্ধরা। জাতিসংঘের নতুন এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানানো হয়েছে। সংকট মেটাতে জরুরিভাবে খাদ্য আমদানি করা প্রয়োজন। এদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা থামাতে জাপানের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবস্থান নেবে যুক্তরাজ্য। শুক্রবার ফক্স নিউজ এ খবর জানিয়েছে। জাপান সফররত বরিস জনসন শুক্রবার টোকিওতে সাংবাদিকদের বলেন, কূটনৈতিকভাবে ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে হবে।

আলোচনায় আগ্রহী কাতার আমির

শক্তিশালী চার আরব প্রতিবেশীদের বর্জন শিথিল করতে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। সংকট শুরু হবার পর প্রথম দেয়া ভাষণে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেন, যেকোনো সমাধানই কাতারের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ হতে হবে। সম্প্রতি টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে কাতারের আমির দেশটির বিরুদ্ধে 'কলুষিত অপবাদের প্রচারণার' নিন্দা জানান তিনি এবং দেশটির জনগণের সহ্যশক্তির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, কাতারের জীবনযাত্রা স্বাভাবিকভাবেই চলছে। সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের দ্বন্দ্ব থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করার সময় এসেছে।
আমরা আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী, যতক্ষণ পর্যন্ত কাতারের 'সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা করা হবে, বলেন কাতার আমির। চারটি আরব দেশের অবরোধের কারণে গ্যাসসমৃদ্ধ দেশ কাতার তাদের ২৭ লাখ মানুষের জন্য সমুদ্র এবং আকাশপথে খাদ্য আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছে। গত জুনে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়া এবং ইরানের সঙ্গে মিত্রতার অভিযোগে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিশর। কিছুদিন পর তারা কাতারের কাছে কিছু দাবিও উত্থাপন করে। তবে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার।

ফিলিস্তিনি যুবকের ছুরিকাঘাতে তিন ইসরায়েলি নিহত

পশ্চিম তীরের রামাল্লায় ছুরিকাঘাতে তিন ইসরায়েলি নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া হালমিশে হামলায় আহত হয়েছেন আরেক ইসরায়েলি। খবর বিবিসির। হামলাকারীকে ধরা হয়েছে এবং গুলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। জেরুজালেমে নিরাপত্তা বাড়ানো নিয়ে ফিলিস্তিন এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলা সংঘর্ষের মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটলো। পূর্ব জেরুজালেমে এবং পশ্চিম তীরে সংঘর্ষে তিন ফিলিস্তিনি নিহত এবং শতাধিক আহত হয়। হারাম আল-শরিফ প্রাঙ্গণের প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর বসানো ও সংঘর্ষের পর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জানিয়েছেন, তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে চান। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, এক সপ্তাহ আগে ওই এলাকায় হামলায় তাদের দুই পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার কারণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রয়োজন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, শুক্রবার একটি বাড়ি থেকে ছদ্মবেশে এসে এক ফিলিস্তিনি যুবক চার ইসরায়েলির ওপর ছুরি নিয়ে হামলা করে। হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী। আহত আরেক নারীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হামলাকারীর নাম ওমর আল আবেদ। তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়নি।

বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে

মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। এ কারণে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়- রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থার বিবরণে বলা হয়, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়া এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। ফলে মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থা বিরাজ করছে। আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় (তিনদিন) বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় (আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত) সর্বোচ্চ ১৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে টেকনাফে। এছাড়া  সিলেটে ৭৯, খুলনায় ৬৬, চট্টগ্রাম ৩২, ময়মনসিংহ ২০, বরিশাল ১৩, রাজশাহী ৭ ও ঢাকায় ২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

ইউএনও তারিক সালমান হেনস্থার নেপথ্যে

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক সালমান যখন বুধবার সকালে বরিশালের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির হন, তখন বুঝতে পারেননি পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা তাকে কিরকম হেনস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আদালতের জারি করা এক সমনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সেখানে হাজিরা দিতে হয়েছিল। যে অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে, সেটি জামিনের অযোগ্য কোনো অপরাধ নয়। আর সরকারেরই একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা তিনি, একটি উপজেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তার জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে আদালত তাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেবেন, সেটা তিনি ভাবতেই পারেন নি। টেলিফোনে বিবিসি বাংলাকে তারিক সালমানের দেয়া সাক্ষাৎকারটি যুগান্তর অনলাইন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। "আমি কল্পনা করিনি যে আমার জামিন নামঞ্জুর করা হবে। একটি জামিন-যোগ্য ধারায় মামলাটি করা হয়েছে এবং যথাযথভাবে আদালতের সামনে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করেছে আমার আইনজীবী। জামিন নামঞ্জুর করার পর আমাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। আমি খুবই অপমাণিত বোধ করি।" বরগুনা সদরের ইউএনও-কে হাতকড়া পরিয়ে জেলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়েছেন আরও অনেক মানুষ। যে ধরনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিল, সেরকম একটি মামলা যে করা যায়, আর সেই মামলায় একজন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাকে এভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া যায়, তা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য ঠেকেছে। বাংলাদেশের জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া হয়েছিল মারাত্মক। তাদের একটি সংগঠনের তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে এই ঘটনার নিন্দা করা হয়েছে। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতরের কর্মকর্তারাও এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী।
কিন্তু কেমন করে এরকম একটি ঘটনা ঘটতে পারলো? এটি কি যা বলা হচ্ছে, আসলেই তাই? অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের 'বিকৃত ছবি' প্রকাশের কারণে হৃদয়ে আঘাত পাওয়া কোন মুজিব ভক্তের মামলা? নাকি এর পেছনে আছে অন্য কিছু? বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে গাজী তারিক সালমান বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন, কিভাবে শিশুদের এক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে শেষ পর্যন্ত এরকম একটি হেনস্থার শিকার হয়েছেন তিনি। ১৭ই মার্চ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিবসটি পালিত হয় জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে। সে উপলক্ষে আগৈলঝড়া উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস এইটের বাচ্চারা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। "তখনই ঘোষণা দিয়েছিলাম যে যারা প্রতিযোগিতায় প্রথম এবং দ্বিতীয় হবে তাদের ছবি ব্যবহার করেই ২৬ মার্চের কার্ডটি ডিজাইন করা হবে। এই প্রতিযোগিতার থীম ছিল বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ।" ঘোষণা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া কার্ডটি ফ্রন্ট কাভারে এবং দ্বিতীয়টি ব্যাক কভারে ব্যবহার করে তার কার্ডটি ছাপান। "আমি বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবেই এই কার্ডটি ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেই। বাচ্চাদের একটা ছবি ব্যবহার করি বাচ্চাদের উৎসাহ দেয়ার জন্য। আমি কল্পনাও করিনি যে এই কার্ডটি নিয়ে আমাকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। এবং আমার বিরুদ্ধে এরকম অমূলক একটি মামলা দায়ের করা হবে।" গাজী তারিক সালমান জানান, কার্ডে তাদের পরিচিতিও লেখা ছিল তারা কোন ক্লাসে পড়ে। ছিল তারা যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী তার নাম। বাচ্চাদের এই ছবি নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ ছিল না। পুরস্কার বিজয়ী যে ছবিটি নিয়ে এত বিতর্ক, প্রথম যখন তিনি সেই ছবিটি দেখেন, তাঁর কি মনে হয়েছিল? "ছবিটি প্রথম দেখে মনে হয়েছিল খুবই দৃষ্টিনন্দন এবং খুবই সুন্দর একটা ছবি। ক্লাস ফাইভের একটি বাচ্চা এটি এঁকেছে, এবং তার বয়স বিবেচনায় খুবই সুন্দর একটি ছবি। এটিকে বিকৃত বলার কোনো সুযোগ নেই। এবং এটিকে কেউ যদি বিকৃত বলে, সে নিজেই আসলে বিকৃত মনস্ক। তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কেন এই মামলা হলো? তাঁর কি মনে হয়? "আমি আট মাস বরিশালের আগৈলঝড়া উপজেলায় কর্মরত ছিলাম। এসময় আমাকে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ যাতে সঠিকভাবে যথাযথভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্যে আমি তৎপর ছিলাম। কঠোর অবস্থানে ছিলাম। আমি সেখানকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি। আমি অবৈধ স্থাপনা করতে দেইনি আমি যতদিন সেখানে ছিলাম। এসব কারণে সেখানকার প্রভাবশালীরা আমার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিল। আমার অনুমান, তারা আমাকে হয়রানি করার জন্য বাদীকে দিয়ে এই মামলাটি করিয়েছে।" এই মামলার কিছুদিন পরে তারিক সালমনকে বরগুনা সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়। যেদিন তিনি বরগুনা সদরে জয়েন করেন, সেদিন বরিশালের কয়েকটি আঞ্চলিক পত্রিকায় তাকে নিয়ে একটি খবর প্রকাশিত হয়। "জুনের ৪ তারিখে প্রকাশিত সবকটি পত্রিকার রিপোর্টের ভাষা ছিল একই রকম। শিরোণামটি ছিল 'বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতকারী সেই ইউএনও অবশেষে বদলি'। এই খবরের প্রতিবাদ আমি সমস্ত পত্রিকায় পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু কোন পত্রিকা প্রতিবাদটি ছাপেনি। আদালত প্রাঙ্গণে যা ঘটেছিল: বিচারক যখন তার জামিনের আবেদন নাকচ করে দিলেন, কিছুটা হতভম্ব হয়ে পড়েছিলেন গাজী তারিক সালমান। তিনি বুঝতে পারেন নি, এরকম ঘটনা ঘটতে পারে। "যখন আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়, তখনই আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। তারা আমাকে বলেছিলেন মামলা যেহেতু হয়েছে, মামলাটি আইনগত-ভাবে মোকাবেলা করতে হবে।" "আমাকে ঠিক গ্রেফতার করা হয়নি। আমার যে জামিনের আবেদন সেটি নামঞ্জুর করা হয়। তারপর আমাকে কোর্টের গরাদখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আমাকে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। তখন আমি পুলিশকে অনুরোধ করেছিলাম, দয়া করে আমাকে একটু সময় দিন। আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানোর সুযোগ দিন। গাজী তারিক সালমানের অনুরোধে পুলিশ তাকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ দেন। দু ঘণ্টা তিনি ছিলেন আদালতের গরাদখানায়। বেলা দেড়টার দিকে আদালতের বিচারক পিয়ন পাঠিয়ে তাকে ডেকে পাঠান। তাঁর আইনজীবীকেও ডেকে পাঠানো হয়।" "আমি আদালতে যাই। এজলাসে যাই। কিন্তু বিচারক আমার মুখোমুখি হননি। তিনি খাস কামরায় বসে আমার জামিন মঞ্জুর হয়েছে মর্মে একটি আদেশ দেন। আদালতের পেশকার, তিনি আমার জেল পরোয়ানাটি আমার সামনেই ছিঁড়ে ফেলেন। তিনি আমাকে বলেন, আপনার কোন চিন্তা নেই। আপনার জেল পরোয়ানাটি ছিঁড়ে ফেলেছি।" গত তিন দিন ধরে সারা বাংলাদেশ জুড়ে তাঁকে নিয়ে যে আলোচনা-বিতর্কের ঝড়, তারপর এখন তিনি কি করবেন? তিনি কি কোন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছেন? "এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। এব্যাপারে আমাদের সার্ভিসের এসোসিয়েশন রয়েছে। সবার সঙ্গে পরামর্শ করে আমি পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।" "আমাকে যে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে, এটি মিডিয়াতে প্রকাশ হওয়ার পর, যে নিন্দার ঝড় বয়ে গেছে, সমস্ত দেশবাসী আমার পক্ষে দাঁড়িয়েছে।সংবাদকর্মীরা আমার পক্ষে কথা বলেছেন। আমি এজন্য কৃতজ্ঞ। এজন্যে আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।"

এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ রোববার

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে আগামীকাল রোববার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফল প্রকাশে সম্মতি দেয়ায় এ দিন নির্ধারণ করা হয়। এদিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলাফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তর করা হবে। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ২৩ জুলাই ফল প্রকাশের ব্যাপারে আমরা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পেয়েছি। এখন সে অনুযায়ী প্রস্তুতি চলছে। নজিরবিহীন সতর্কতার মধ্য দিয়ে ১ এপ্রিল এ পরীক্ষা শুরু হয়েছিল।
এবার ১০ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ১৫ মে। ব্যবহারিকসহ পরীক্ষা শেষ হয় ২৫ মে। এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফল লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার দিন থেকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এইচএসসির ফল ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার দিন থেকে দুই মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, এবার এইচএসসি পরীক্ষার রুটিনে গত বছরের চেয়ে ২৩ দিন সময় কমানো হয়। এ সময়টা পরীক্ষা শুরু থেকে শেষ হওয়ার মধ্যে ছিল। সাধারণত প্রথমদিকে শেষ হওয়া বিষয়ের খাতা পরীক্ষা চলাকালেই নিরীক্ষা শেষ করানো হয়। সেই হিসাবে ফলা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এ ২৩টি দিন কম পাওয়া গেল। সে কারণে ব্যবহারিকের ১০ দিন নেয়া হয়। বরং এ হিসাবে ফল প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ১৩ দিন কম পাওয়া গেল।

ঢাকায় ভয়ংকর চাকরির ফাঁদ

‘সিড প্রকল্প ও বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে নিজ উপজেলা ও ইউনিয়নে লোকবল নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হচ্ছে- ‘বাংলাদেশ শিশু উন্নয়ন বাস্তবায়নে শিশু বিকাশ কেন্দ্র, ১৬৭ মতিঝিল সার্কুলার রোড, ইডেন বিল্ডিং, চতুর্থ তলা।’ এভাবেই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) নামে একটি চক্র চাকরি দেয়ার প্রলোভন দিচ্ছে। চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সারা দেশের চাকরি প্রার্থী বেকার যুবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। কেবল এই একটি চক্রই নয়। রাজধানীতে ভুয়া চাকরি দাতাদের বেশ কয়েকটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। রাজধানীর আশপাশে বিশেষ করে টঙ্গী ও গাজীপুর এলাকায় এ ধরনের একাধিক চক্র কাজ করছে। রাজধানীতে থাকা এ ধরনের একটি চক্রের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা হয়েছে। এদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীও রয়েছে। এরই মধ্যে এ চক্রের দুই নারীসহ পাঁচ সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়ে যুগান্তরকে বলেছে, চাকরি প্রতারক চক্রের সদস্যরা একেক সময় একেক এনজিওর নাম ব্যবহার করে। টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর তারা গুটিয়ে নিচ্ছে অফিস। ২০৯০টি পদে নিয়োগের জন্য ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে ধরা পড়া প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্য পুলিশকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। দ্বীপক কুমার দেব নামে এক চাকরি প্রার্থীর মামলা ও ২০-২৫ জন ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্র্রেক্ষিতে রাজধানীর মতিঝিল থানা পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেফতার করে। শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুরুল আহসান খান। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তারা হল- মাহবুবুর রহমান, সুজিত কুমার ঘোষ, রোকসানা আক্তার, মো. রবিন ও মায়া রানী রায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানিয়েছে, সর্বশেষ যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি পত্রিকায় প্রকাশ করেছিল তার মাধ্যমে এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। গ্রেফতারকৃতরা জানায়, অফিস নেয়ার পর তারা ওই অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। এক মাসের মধ্যেই সব প্রক্রিয়া শেষ করে ট্রেনিংয়ের নামে জনপ্রতি ৪-৫ হাজার নেয়া হয়। এরপরই চাকরি প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেয়া হয়। নিয়োগপত্রে যোগদানের তারিখ দেয়া হয় ২-৩ মাস সময় হাতে রেখে। ওই সময়ের মধ্যে নিয়োগপত্র হাতে পাওয়া চাকরি প্রার্থীদের কাছে আরও লোকবল চাওয়া হয়। তারা যেসব লোকবল দেয় তাদের কাছ থেকেও একই কায়দায় টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এরপর তারা (প্রতারক) অফিস গুটিয়ে চম্পট দেয়। গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, তাদের চক্রের প্রধানের নাম জাহাঙ্গীর আলম আকাশ। আকাশ হল গ্রেফতার রোকসানা আক্তারের স্বামী। স্বামীর সাজানো অফিসে রোকসানা রিসিপশনিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। মতিঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম রব্বানী যুগান্তরকে জানান, এ চক্রের সদস্যরা অনেক দিন ধরে প্রতারণা চালালেও ইডেন ভবনে তারা মাস দুয়েক আগে অফিস নেয়। এ অফিস নেয়ার পর এরই মধ্যে ৬০-৭০ চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, সর্বশেষ ১৪ জুন একটি জাতীয় দৈনিকে সাতটি পদে দুই হাজারের বেশি জনবল নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেয় এ চক্রের সদস্যরা। এসব পদের মধ্যে জেলা প্রোগাম অফিসার পদে ৪০, উপজেলা প্রোগ্রামার ১৫০, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ২৫০, অফিস এক্সিকিউটিভ (নারী) ৩০০, ব্লক সুপারভাইজার ৩৫০, ইউনিয়ন সুপারভাইজার ৪০০ এবং ফিল্ড অফিসার ৬০০। এর আগে একই ধরনের পদে ৭২০ জন জনবল নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেয় প্রতারক চক্রের সদস্যরা। এ চক্রের প্রধান আকাশকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, ভুয়া বিজ্ঞাপনে তারা তাদের প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করে। রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করা হয় সি-১১৭৭৭/১৪। প্রাথমিকভাবে ওই রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি ভুয়া বলে মনে হয়েছে। নামধারী এ প্রতিষ্ঠানের সরকারি কোনো অনুমোদনও নেই। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বেশকিছু চাকরির আবেদনপত্র, নিয়োগপত্র ও টাকার রসিদ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সারা দেশে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলেও ঢাকার বাইরে তাদের কোনো অফিস নেই। ঢাকায়ও তাদের কোনো স্থায়ী অফিস নেই। প্রতারণার জন্য তারা ঢাকায় অফিস নেয়। প্রতারণা শেষে ঢাকার অফিসও খুঁজে পাওয়া যায় না। মামলার বাদী দ্বীপক কুমার দে যুগান্তরকে বলেন, ‘গত ৫ মে দৈনিক প্রথম আলোতে বিজ্ঞাপন দেখে আমি শিশু বিকাশ কেন্দ্র নামক প্রতিষ্ঠানে শাখা ব্যবস্থাপক পদে চাকরির জন্য আবেদন করি। আবেদন করার তিন দিনের মধ্যে গত ৮ মে ০১৮৪৮৩৫১৫৪৯ নম্বর থেকে মাহবুবুর রহমান নামে একজন আমাকে ফোন করে বলে- আপনাকে ১০ মে অফিসে হাজির হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। আপনার চাকরি নিশ্চিত হলে আনুষঙ্গিক খরচবাবদ আপনাকে চার হাজার ২৫০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। আমি মৌখিক পরীক্ষা দিতে গেলে আমার কাছ থেকে দ্রুত টাকা নিয়ে ওই দিনই নিয়োগপত্র দেয়। যোগদানের তারিখ দেয় ১৬ সেপ্টেম্বর। পরে তারা আমার কাছে আরও লোকবল চায়। আমি চাকরির জন্য আমার আত্মীয় রূপক দেবসহ কয়েকজনকে নিয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসি। ভোর ৬টার সময় অফিস খোলা থাকা দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। ওই সময় নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ২০-২৫ জন আমাকে জানান, তাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে কিন্তু চাকরি দেয়া হয়নি। এতে সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। আমরা অফিসে গেলে চাকরি দেয়ার নামে টাকা দাবি করা হয়। আমরা বলি টাকা সঙ্গে নেই। নিচে গিয়ে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে আনার কথা বলে সোজা থানায় চলে আসি। পরে থানা থেকে পুলিশের একটি দল ইডেন ভবনে গেলে অফিসের স্টাফরা প্রথমে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পরে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।’ চাকরিপ্রার্থী মোরসালিন এবং তপন জানান, চাকরি দেয়ার নাম করে তাদের দু’জনসহ পরিচিত অনেকের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে। নিয়োগপত্রও দেয়া হয়েছে। কিন্তু যোগদান করতে দিচ্ছে না। চাকরিতে যোগদান করতে চাইলে অফিস থেকে বলা হচ্ছে- ‘আরও লোকজন নিয়ে আস। তাদের কাছ থেকে যে টাকা পাওয়া যাবে সেখান থেকে তোমাদের কমিশন দেয়া হবে। এটাই তোমাদের চাকরি।’ ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার গাড়াইকুটি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে গিয়াস উদ্দিন জানান, গত রমজানে তাদের গ্রামের ১০-১২ জনকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গাজীপুরে আনা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার করে টাকা নিয়ে ট্রেনিংয়ের নামে একটি অফিসে আটকে রাখে। কোনো ট্রেনিং দেয় না। এমনকি চাকরিতে যোগদানও করতে দেয় না। চাকরি চাইলে বলে- ‘তোমার পরিচিত আরও কয়েকজন লোককে খবর দাও। তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার করে টাকা নাও। তোমাদের চার হাজার টাকা করে কমিশন দেয়া হবে। এটাই তোমাদের চাকরি।’ গিয়াস উদ্দিন আরও জানান, তিনি কৌশলে বন্দিদশা থেকে বের হয়ে এসেছেন। তার মতো আরও কয়েকজন এখনও গাজীপুরের সেই নামধারী অফিসে আটকে আছেন।

শেরেবাংলা পদক পেলেন তিন সম্পাদক

সাংবাদিকতা পেশায় অনন্য অবদানের জন্য শেরেবাংলা পদক পেয়েছেন তিন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। তারা হলেন- সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম ও মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া। শুক্রবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে বরিশাল বিভাগ সমিতির উদ্যোগে এ পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক দুটি শ্রেণীতে তিনজন সাংবাদিককে এই পদকে ভূষিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সাংবাদিকতা পেশায় অনন্য অবদানের জন্য সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার ও যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংবাদিকতার জন্য প্রকাশিতব্য বাংলাদেশের খবরের সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়াকে এই পদক দেয়া হয়। পদক প্রদান করেন বরিশাল বিভাগ সমিতির সভাপতি ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দীন আহমেদ। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এমএ জলিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ স ম মোস্তফা কামাল, আইনবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ অন্য নেতারা। পদক গ্রহণকালে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, শেরে বাংলা এমন একজন নেতা ছিলেন, যার কাছ থেকে বাঙালি জাতির শিক্ষণীয় আছে। তার আদর্শ ধারণ করেই পরবর্তীতে লাহোর প্রস্তাব অনুসরণ করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাতি তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আগামীতে বাঙালি জাতির নেতা শেরে বাংলার জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী জাতীয়ভাবে পালন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বরিশাল বিভাগ সমিতি এ উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। আমরা সহযোগিতা করব। সাইফুল আলম বলেন, এই মহান নেতার নামে পদক দিয়ে আমাকে একটি দায়বদ্ধতার মধ্যে আবদ্ধ করা হয়েছে। আগামীতে শেরে বাংলার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী আরও গুরুত্ব সহকারে প্রচারের জন্য মূল্যায়ন করা হবে। এই মূল্যায়নের মাধ্যমে বাঙালি জাতি যাতে উপকৃত হয় সেই প্রচেষ্টা থাকবে। সিরাজ উদ্দীন আহমেদ বলেন, শেরে বাংলার মাজারে একটি শেরে বাংলা একাডেমি করে তার ওপর গবেষণা করে বাঙালি জাতিকে তার আদর্শ-উদ্দেশ্য, সাংবাদিকতা, সেবা সবকিছুই তুলে ধরতে হবে জাতির কাছে।

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় ইউপি চেয়ারম্যান নিহত

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিহত হয়েছেন। শনিবার সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক সড়কের চারা বটতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আমিরুল ইসলাম গ্রহ (৫০)তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। তিনি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন। সদর থানার ওসি হেলাল উদ্দিন জানান, সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে সিরাজগঞ্জে আসছিলেন আমিরুল। পথে চারা বটতলা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাস তার মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে আমিনুল গুরুতর আহত হন। তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। লাশ ওই হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান ওসি।

ছাত্রাবাসে কলেজ ছাত্রের লাশ

ছাত্রাবাস থেকে মনিরুল ইসলাম (২৩) নামে রাজশাহী কলেজের এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মনিরুল নাটোরের সিংড়া উপজেলার মাঝগ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি রাজশাহী কলেজে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নগরীর সোনাদীঘি এলাকার এসএস ছাত্রাবাস থেকে মনিরুলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ছাত্রাবাসের ৬০৪ নম্বর কক্ষে থাকতেন মনিরুল। নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি আমান উল্লাহ বলেন, দুই সিটের একটি রুমে থাকতেন মনিরুল। বিকালে তার রুমমেট বাইরে যান। রাত ৯টার দিকে তিনি ছাত্রাবাসে ফিরে দেখেন তাদের কক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ। এ সময় অনেক ডাকাডাকি করেও মনিরুলের সাড়া পাওয়া যায়নি।
অসংখ্যবার মুঠোফোনে ফোন দেয়া হলেও ফোনটি রিসিভ হয়নি। পরে ছাত্ররা বিষয়টি ছাত্রাবাসের মালিককে জানান। এরপর ছাত্রাবাসের মালিক পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে মনিরুলের অভিভাবকদের খবর দেন। রাতে মনিরুলের বাবা-মা রাজশাহী গেলে তাদের উপস্থিতিতেই দরজা ভাঙা হয়। এ সময় কক্ষের ভেতর ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মনিরুলের লাশ পাওয়া যায়। লাশটি একটি বিছানার চাদর দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছিল। পরে সেটি উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। ওসি বলেন, এটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে লাশের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

কুমারীকে বিধবা ভাতা!

অবিবাহিত তাছলিমা খানমের বিধবা ভাতা কোটালীপাড়া পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর আকলিমা বেগম আত্মসাৎ করেছেন। এ ব্যাপারে ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কোটালীপাড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জহুরুল ইসলাম পৌরসভার মেয়রকে অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, কোটালীপাড়া পৌরসভার ১, ২ ও ৩নং সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর আকলিমা বেগমের সুপারিশে ২০১৪ সালের জুলাই মাস থেকে ৩নং ওয়ার্ডের শিমুলবাড়ি গ্রামের মৃত করিম খলিফার মেয়ে তাছলিমা খানম বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুস্থ মহিলা ভাতা পাচ্ছেন। টাকার বিনিময়ে তাছলিমাকে বিধবা ভাতা পাইয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেন আকলিমা। ২০১৪ সাল থেকেই ভাতার টাকা আকলিমা গ্রহণ করেছেন। ২৭ এপ্রিল ওই কাউন্সিলর তাছলিমা খানমকে কোটালীপাড়া পৌরসভার প্রতিবন্ধীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। তাকে (তাছলিমা) প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানের সুপারিশ করেন। তাছলিমা খানম অবিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে বিধবা এবং স্বামী পরিত্যক্তা দুস্থ মহিলা ভাতা পাওয়ার সুপারিশপ্রাপ্ত হল? বিষয়টি জানা অতীব জরুরি বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কাউন্সিলর আকলিমা বেগম সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৯টি ভুয়া এনআইডি প্রদর্শন করে বয়স্কভাতা প্রদানের সুপারিশ করেন। বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানে সঠিক ব্যক্তিকে বাছাই না করে ভুয়া ব্যক্তিকে বাছাই করে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ওই কাউন্সিলর মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছেন। অবিবাহিত তাছলিমা খানম অভিযোগ করে বলেন, এখনও আমার বিয়ে হয়নি। এমনকি আমি প্রতিবন্ধীও নই। টাকার বিনিময়ে কাউন্সিলর আকলিমা বেগম আমাকে বিধবা ভাতার কার্ড পাইয়ে দেয়। ভাতার টাকা ব্যাংক থেকে আমি উত্তোলন করি। পরে সব টাকাই আকলিমা বেগম গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেছেন। তিনি আমাকে কোনো টাকা দেননি। অভিযুক্ত কাউন্সিলর আকলিমা বেগম বলেন, তাছলিমা অসহায় ও দুস্থ। সে অবিবাহিত তারপরও তাকে আমি সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করে একটি বিধবা কার্ড পাইয়ে দিয়েছি। সে প্রতি মাসে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিত। আমি কখনও তার টাকা গ্রহণ করিনি। সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা আত্মসাতের অভিযোগ করেছে। কার্ড পাওয়ার পর সে সমাজসেবা অফিসে আমার মাধ্যমে ১ হাজার টাকা দিয়েছিল। তাকে প্রতিবন্ধী তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করা আমার ভুল হয়েছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বেড়ে উঠছে সুরাইয়া

একটা প্লাস্টিকের চেয়ারে চুপচাপ বসেছিল শিশু সুরাইয়া। পাশে বসে রুটি বানাচ্ছিলেন মা নাজমা বেগম। কাজের ফাঁকে বারবার সন্তানের দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলেন তিনি। পাছে সে পড়ে না যায়! নাজমা বেগম জানান, সুরাইয়ার শরীরের ডান পাশ খুবই দুর্বল। ডান হাত ও ডান পা ভালোভাবে কাজ করে না। পুরোপুরি অকেজো ডান চোখ ও ডান কান। এ কারণে দুই বছর পূর্ণ হলেও সে দাঁড়াতে পারে না। শুক্রবার মাগুরা শহরের দোয়ারপাড়ার ভূঁইয়া বাড়িতে গেলে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বহুল আলোচিত গর্ভবতী অবস্থায় গুলিবিদ্ধ সেই নাজমা বেগম। তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, ‘প্রত্যেক শিশুর জন্মদিন তার মা-বাবার জন্য অনেক আনন্দের। ২৩ জুলাই (আগামী কাল) সুরাইয়ার জন্মদিন। কিন্তু এই দিনের কথা মনে হলে আমার চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ে। তারপরও আমার সন্তান বেঁচে আছে এটাই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।’ ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড়ে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগম। মাগুরা সদর হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে শিশুকন্যা সুরাইয়ার জন্ম হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন নাজমা বেগম ও শিশুটি। ঘটনার দিন আহত অন্তঃসত্ত্বা নাজমার শরীরে অস্ত্রোপচার করেছিলেন মাগুরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শফিউর রহমান। এখনও তিনি শিশু সুরাইয়ার খোঁজখবর নেন। তিনি যুুগান্তরকে জানান, সুরাইয়ার শরীরের ডান পাশটা একেবারেই নাজুক। মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ হয়ে সে প্রাণে বেঁচে গেলেও এই প্রতিবন্ধিতা নিয়ে তাকে বেড়ে উঠতে হবে।
এর সুচিকিৎসার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বলে জানান তিনি। ডা. শফিউর আরও বলেন, গুলিটি মায়ের শরীর ভেদ করে শিশুর পিঠ, বুক, হাত, গলা এবং চোখের পাশে ক্ষত তৈরি করেছিল। ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে এভাবে আঘাতপাপ্ত হওয়ায় তার শরীরের ডান পাশ ভালোভাবে কাজ করছে না। তবে সুরাইয়ার সুস্থতা নিয়ে এখনও আশায় বুক বেঁধে আছেন মা নাজমা বেগম। তিনি বলেন, ‘যদি কেউ আমার মেয়ের সুচিকিৎসায় এগিয়ে আসেন তাহলে হয়তো আমার মেয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে। আমরা তো টাকার অভাবে তাকে ভালোভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না।’ সেদিন যা ঘটেছিল : বিকালে ঘরের বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন বাচ্চু ভূঁইয়ার স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৭)। হঠাৎ বাইরে চিৎকার, চেঁচামেচি আর গুলি-বোমার শব্দ। বড় মেয়েটি ঘরের বাইরে খেলা করছে। তার কথা মনে হতেই শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও বারান্দা থেকে নেমে পড়েন। আধা পাকা টিনের ঘরের পেছনে সবজি মাচার নিচে এসে দাঁড়াতেই একটি গুলি এসে বিঁধে যায় নাজমার পেটে। তখন তার গর্ভে আট মাসের সন্তান। মারাত্মকভাবে জখম হন তিনি। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন তার চাচাশ্বশুর মোমিন ভূঁইয়া। দু’দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। অন্যদিকে মাগুরা হাসপাতালে সুরাইয়ার জন্ম হয়।
মামলার সব আসামি মুক্ত : ঠিকাদারি, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবলীগ কর্মী মেহেদি হাসান আজিবর এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ভূঁইয়া সমর্থিত পক্ষের মধ্যে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে নিহত মোমিন ভূঁইয়ার ছেলে রুবেল ভূঁইয়া বাদী হয়ে জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সহসভাপতি সুমন সেনসহ ১৭ জনকে আসামি করে মাগুরা থানায় একটি মামলা করেন। ওই বছরের ১৮ আগস্ট মামলার প্রধান আসামি যুবলীগ কর্মী পুলিশের ক্রসফায়ারে মারা যায়। অন্যদিকে অভিযুক্ত সব আসামিকে আটক করা হলেও মামলাটি চলছে এখন ধীরগতিতে। মাগুরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আরাফাত হোসেন ২৮ মার্চ মামলাটির চার্জ গঠন করেন। কিন্তু চার্জ গঠনের পর এখন পর্যন্ত বাদীপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় মামলাটি শুরুতেই থেমে আছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত আসামিদের সবাই একে একে জামিনে মুক্ত হয়ে গেছে। মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী কামাল হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে দু’বার বাদীপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল। সর্বশেষ তারিখ ছিল ২০ জুন। কিন্তু মামলার বাদী রুবেল ভূঁইয়া সময়মতো আদালতে হাজির না হওয়ায় সাক্ষ্য গ্রহণ সম্ভব হয়নি। আগামী ৮ আগস্ট রুবেল ভূঁইয়ার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আদালত নতুন দিন ধার্য করেছেন বলে তিনি জানান।

বিদ্যুৎ লাইন মেরামতে গিয়ে নিহত ২

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ এলাকায় ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইন মেরামত করতে গিয়ে দুই বৈদ্যুতিক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার কাকিনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হাতীবান্ধা বিদ্যুৎ অফিসের এক লাইনম্যান শ্রমিক নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   নিহতরা হলেন উপজেলার চাপারতল এলাকার মনছুর আলীর ছেলে রুবেল মিয়া (২২) ও একই এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে মোরসালিন (২০)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দিনের বেলা লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের ধারে জেলার হাতীবান্ধা পর্যন্ত টানানো ৩৩ কেভি সঞ্চালন নতুন লাইনের একটি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সেটি মেরামত করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে যোগ দেন রুবেল, মোরসালিনসহ সংশ্লিষ্ট পিডিবি'র লোকজন। রাত ১০টার দিকে তারা চেন পুলির সাহায্যে কাকিনা এলাকায় হেলেপড়া ওই বৈদ্যুতিক খুঁটি সোজা করতে যায়। এসময় খুঁটির তার ছিঁড়ে পড়লে ঘনাস্থলেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান রুবেল ও মোরসালিন।

শিশুসহ আটক ৪, মেলেনি অস্ত্র-গোলাবারুদ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামনদী বাজার এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অভিযান চালিয়ে দুই শিশুসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে জঙ্গি সন্দেহে তাদের আটক করার পর এই অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। তবে সেখানে কোনো অস্ত্র-গোলাবারুদ মেলেনি বলে জানায় পুলিশ। আটকরা হল- মাবিয়া (৪০), তার বড় মেয়ে রজনী (১৮) ও ছোট মেয়ে রিমি (০২)  এবং  রজনীর মেয়ে সাদিয়া (০২)। মাবিয়া কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কিশোরী নগর গ্রামের বরকত আলীর স্ত্রী। তিনি ১৫ দিন আগে মেয়ে রজনীর বাড়িতে এসেছেন। তার জামাই আব্বাস আলী গাংনীর ভবানিপুরে ব্যবসা করেন।দোতালার ওই বাড়িটি সৌদি প্রবাসী হাসিব মিয়ার। এক বছর আগে ওই বাড়িটি ভাড়া নেন আব্বাস আলী। এরপর থেকেই তারা সেখানে থাকতেন বলে জানান স্থানীয়রা। আব্বাস আলী মাঝে মাঝে ওই বাড়িতে আসেন।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে দোতালার ওই বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ। মেহেরপুরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ওই বাড়িটি বেলা পৌনে ১১টা থেকে ঘিরে রাখা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এরপর বেলা সোয়া ১২টার দিকে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, আটকরা এক বছর আগে সৌদি প্রবাসী হাসিব মিয়ার বাড়িটি ভাড়া নেন। তাদের কথাবার্তা, চলাফেরা অসংলগ্ন ও সন্দেহজনক ছিল বলে আমাদের কাছে গোপন তথ্য আসে। এরপর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে ওই বাড়িটি থেকে কোনো অস্ত্র বা গোলাবারুদ পাওয়া যায়নি বলে জানান পুলিশ সুপার।

ঘুষের হাটে টাকার খেলা

ঘুষের হাটে পরিণত হয়েছে গোয়ালন্দ সাবরেজিস্ট্রি অফিস। জমি দলিলে এখানে ঘাটে ঘাটে টাকা খরচ করতে হয় জনসাধারণকে। সাবরেজিস্ট্রি অফিস ও দলিল লেখক সমিতির যোগসাজশে প্রতিটি দলিল ও দানপত্র থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ১ শতাংশ হারে ঘুষ আদায় করে বলে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্র মতে, এলাকার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে থাকলেও এর প্রতিকারে দায়িত্বশীল কাউকেই এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। সম্প্রতি দলিল লেখক আ. সালাম এই বাধ্যতামূলক ঘুষ আদায়ের প্রতিবাদ করে উল্টো বিপদে পড়েছেন। সাবরেজিস্ট্রি অফিস তাকে শোকজ করা ছাড়াও তার লাইসেন্স বাতিল করার হুমকি দিচ্ছে বলে ওই দলিল লেখক অভিযোগ করেন। সপ্তাহে প্রতি বুধবার একদিন এখানে দলিল সম্পাদিত হয়। প্রতিটি দলিল ও দানপত্র হতে দলিল লেখকরা অফিস বা সাবরেজিস্ট্রারের কথা বলে ১ শতাংশ হারে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। এছাড়া দলিল সম্পাদনের সময় অফিসে দাতা-গ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রতিটি টিপসই বাবদ ৫০-২০০ টাকা, বায়নাপত্র বাবদ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এর বাইরেও দলিল লেখক সমিতির নামে দলিল প্রতি আদায় করা হয় বিভিন্ন অঙ্কের টাকা। অতিরিক্ত আদায়কৃত টাকা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের প্রধান করনিক আ. সালাম আদায় করে থাকেন। পরে তারা অফিসের পদ-পদবি অনুযায়ী নিজেদের মধ্যে এ টাকা ভাগ করে নেন।
এছাড়া দলিল লেখকরা তাদের আদায়কৃত টাকাও নিজেদের মধ্যে সপ্তাহ শেষে আনুপাতিক হারে ভাগ করে নেন। শুধু অফিসের নামেই সপ্তাহে এখানে ২ হতে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ আদায় হয় বলে নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করে। উপজেলার উত্তর দৌলতদিয়া তাহের কাজীপাড়ার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে আজিজুল মণ্ডল জানান, আমার বাবার মৃত্যু হওয়ায় ভাই বোনেরা আমাকে ২২ শতাংশ ৮৫ পয়েন্ট জমি দান সত্ত্বে (হেবা দলিল) দলিল করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দলিলে জমির আর্থিক মূল্য রয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হেবা দলিলে সর্বসাকুল্যে ৬৫০ টাকা সরকারি ফিস আদায়ের নিয়ম আছে বলে শুনেছি। কিন্তু আমার কাছ থেকে আদায় করা হয় ৩৬শ’ টাকা। ঈদুল ফিতরের আগের বুধবার দলিল লেখক আ. সালামের মাধ্যমে তিনি এ দলিল সম্পাদন করেন। এ বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আরশাদ শেখ ও সাধারণ সম্পাদক আ. জলিল মুন্সি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ঘুষের টাকা আদায় করে দেয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। বরং অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেই আমাদের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ আছে। এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সাবরেজিস্ট্রার মো. মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে তার অফিসে গিয়ে ছবি তুললে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। পরে কথা বলতে রাজী করানোর পর তিনি জানান, এখানকার নিয়মিত সাবরেজিস্ট্রার রুবেল পারভেজ ট্রেনিংয়ে থাকায় আমি বালিয়াকান্দি উপজেলা হতে সপ্তাহে বুধবার একদিন এসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। এখানে কি হয় না হয় আমি তার কিছুই জানি না। আমি নিজে কোনো টাকা আদায় করি না। অফিস কিংবা আমার নামে কেউ বাড়তি টাকা আদায় করে কিনা সেটাও আমার জানা নেই।

গাছের সঙ্গে বাসের ধাক্কা, নিহত ২

সিরাজগঞ্জে কাজীপুর উপজেলায় বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুইজন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন কমপক্ষে সাতজন। শনিবার ভোর ৪টার দিকে সোনামুখী ইউনিয়নের রোহাবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল হামিদ জানান, বাসটি (সুমন এন্টারপ্রাইজ) যাত্রী নিয়ে রংপুর থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। পথে ওই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হয়। এসময় আহত হয় কমপক্ষে সাতজন। আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক হতাহতদের পরিচয় জানাতে পারেননি ওই কর্মকর্তা।

ঠাকুরগাঁওয়ে ব্লক রেইড, আটক ৪০

ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান ব্লক রেইডে ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিচারাধীন ও তদন্তাধীন মামলার ২৮, পুলিশ আইনে ৩৪ ধারায় ছয়জন, বিভিন্ন মাদক, জুয়াসহ অন্যান্য মামলায় মোট ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়াও অভিযানে ২৫০ গ্রাম গাঁজা, ৭টি ইয়াবা, ১৭০টি ইউএস ডলার উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি (তদন্ত) এটিএম সিফাতুল মাজদার জানান, পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদের নিদের্শনায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি বলেন, পুলিশের এ ধরনের ব্লক রেইড অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গাংনীতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়ি ঘেরাও

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামনদী বাজার এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। শনিবার বেলা পৌনে ১১টার থেকে ওই বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। মেহেরপুরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ওই বাড়িটি বেলা পৌনে ১১টা থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে। ওই বাড়ির লোকজনের কথাবার্তা, চলাফেরা অসংলগ্ন ও সন্দেহজনক এমন গোপন তথ্য পেয়ে বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে। এখনো অভিযান শুরু হয়নি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে ওই বাড়ির আশপাশের এলাকা থেকে লোকজনকে দূরে সরে যেতে বলা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।