Wednesday, December 2, 2015

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানে যাচ্ছেন!

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ আগামী সপ্তাহে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন। ভারত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিিভ অনলাইনের প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে চলমান জলবায়ু সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গত সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মধ্যে কুশল বিনিময় হয়। পাশাপাশি সোফায় বসে কয়েক মিনিট কথাও বলেন তাঁরা। এর একদিন পরেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমার পাকিস্তানের সফরে যাওয়ার খবর প্রকাশ হলো।
এনডিটিভি অনলাইনের খবরে বলা হয়, আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে ৭ ও ৮ ডিসেম্বর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২৭ দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসছেন। ওই বৈঠকে ভারতও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, ভারত থেকে কে ওই বৈঠকে যোগ দেবেন, তা গত সোমবার চূড়ান্ত ছিলা না। তবে প্যারিসে মোদি-নওয়াজ বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে পাকিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার চীর প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের এই নেতারা সর্বশেষ গত জুলাইয়ে রাশিয়ায় বৈঠক করেন। তখন দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর একটা পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে বলে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন অনেকে। এরপর দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়ে যায়। ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার কাশ্মীরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করায় নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠক বাতিল করা হয়।
সম্প্রতি দুই দেশের সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাও ঘটছে। এসব হামলার জন্য পরস্পরকে দায়ী করছে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ। ভারতের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদী হামলায় পাকিস্তান সরকার সন্ত্রাসীদের মদদ দেয় বলে অভিযোগ নয়াদিল্লির। তবে সে অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে ইসলামাবাদ।

১০ দফা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা সন্তু লারমার

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে হরতাল অবরোধ, অফিস আদালত বর্জন, ভূমি অধিগ্রহণ ও পর্যটন প্রতিরোধসহ ১০ দফা আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।
শান্তি চুক্তির দেড়যুগ পুর্তি উপলক্ষে ২ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে রাঙ্গামাটিতে জনসংহতি সমিতি আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। সমাবেশে দ্রুত শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।
শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তিতে জনসংহতি সমিতির উদ্যোগে প্রতিবছরের মতো এবারও গণসমাবেশের আয়োজন করা হয় রাঙ্গমাটিতে। রাঙ্গামাটির জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গনে আয়োজিত এই গণসমাবেশে তিন পার্বত্য জেলা থেকে হাজার হাজার উপজাতীয় নারী পুরুষ যোগ দিয়েছেন। এতে রাঙ্গামাটি শহরে সকাল থেকে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সমাবেশে বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, বাংলাদেশ কমিউনিস্টি পার্টির চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহ আলম, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র নাথ সরেনসহ পাহাড়ি নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
১০ দফা আন্দোলন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১ জানুয়ারি থেকে চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের মধ্যে যারা জনস্বার্থ পরিপন্থী কাজে যুক্ত রয়েছে তাদের বয়কট করা, তাদের রাজনৈতিকভাবে বর্জন, চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষে হরতাল, অবরোধ, অর্থনৈতিক অবরোধ, পর্যটন কাজে বিরোধীতা করা ও সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত অফিস বর্জন করা ইত্যাদি।
সমাবেশে সন্তু লারমা অভিযোগ করেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের নামে গত আঠারো বছরে কেবল টালবাহানাই হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়েও জুম্ম জনগণ মুক্তি লাভ করেনি। সরকার যে সমস্যার জন্ম দিয়েছে তার সমাধান সরকারকেই করতে হবে।
সন্তু লারমা বলেন, জেলা পরিষদ দলীয়করণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। মিথ্যা মামলা ও দমন নিপিড়ন করে চুক্তি বিরোধী সরকারী কার্যক্রম অব্যাহত ভাবে রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এসময় সমাবেশে রাজনৈতিক এবং পাহাড়ি নেতারা পার্বত্য এলাকার বর্তমান অসহনীয় পরিস্থিতি দূর করতে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে রোডম্যাপ ঘোষণা করে সময় নিযর্ধারণের জন্য সরকারকে পরামর্শ দেন।
সমাবেশ শেষে একটি র‌্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে জনসংহতি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

তারকাদের সেক্স টেপ বিতর্ক

শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে ফুটবল তারকা পিকে ও পপ গায়িকা শাকিরাকে। দুষ্কৃতীদের হাতে চলে এসেছে বার্সা-তারকা ও পপ গায়িকার যৌন সংসর্গের ভিডিও। সেক্স টেপের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও এ হেন ঘটনা ঘটেছে।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো
সিআর সেভেনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিলেন ব্রাজিলীয় মডেল আন্দ্রেসা উরাচ। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা তাঁর সঙ্গে নিশিযাপন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছিলেন উরাচ। পরে ব্রাজিল বিশ্বকাপের সময়ে আন্দ্রেসা উরাচ পর্তুগালের অনুশীলনে সাংবাদিক সেজে ঢুকে পড়েন। ব্রাজিলীয় মডেলকে অনুশীলন কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার জন্য নিরাপত্তারক্ষীদের অনুরোধ করেন রোনাল্ডো।
করিম বেঞ্জেমা ও ভালবুয়েনা
ফ্রান্সের জাতীয় দলের সদস্য ভালবুয়েনাকে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় রিয়াল মাদ্রিদ তারকা করিম বেঞ্জেমাকে। ফরাসি মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, ভালবুয়েনাকে সেক্স টেপ নিয়ে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে ভার্সেই পুলিশ গ্রেফতার করে বেঞ্জেমাকে। একই কারণে গত মাসে গ্রেফতার করা হয়েছিল প্রাক্তন ফরাসি ফুটবলার জিবিল সিসেকেও। কিন্তু সিসে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তিনি আদৌ ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নন।
হাল্ক হোগান
জনপ্রিয় কুস্তিগীর হাল্ক হোগানকে ২০১২ সালে সেক্স টেপ দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হয়েছিল। হোগান ও তাঁর জনৈক বন্ধুর স্ত্রীর সহবাসের সেই ভিডিও পরবর্তীকালে কুস্তিগীরকে সমস্যায় ফেলে দিয়েছিল। ভিডিওয় হোগানকে তিন-তিনবার বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতে শোনা যায়। তার ফলে হোগানের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে ডব্লিউডব্লিউই।
আসামোয়া জিয়ান
ঘানার তারকা ফুটবলার আসামোয়া জিয়ানকেও বিপদে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। সারা কোয়াবলা নামের ২২ বছরের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অভিযোগ করেছিল ব্ল্যাক স্টারস অধিনায়ক জিয়ান তাঁকে ধর্ষণ করেছেন।
সূত্র: এ বেলা

‘দোষ স্বীকার করিনি, এটর্নি জেনারেলের বক্তব্য অজ্ঞতাপূর্ণ’ -খন্দকার মাহবুব

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আইনজীবী দোষ স্বীকার করেছেন বলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন খন্দকার মাহবুব হোসেন।
আজ বুধবার মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে আপিলের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তার প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আদালতে আমার সর্বশেষ বক্তব্য ছিল মাওলানা নিজামী সরাসরি কোনো ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন এটা রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি। এরপরও যদি সাক্ষ্য প্রমাণের কোনো ধারায় তাকে দোষীসাব্যস্ত করা হয় তাহলে তার বয়স ও অসুস্থতা বিবেচনা করে যেন দণ্ড মওকুফ করা হয়। তিনি বলেন, বেশিরভাগ চার্জেই তাকে খালাস দেয়া সম্ভব। মাওলানা নিজামীর আইনজীবী দোষ স্বীকার করেছেন বলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সঠিক নয়।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, জামায়াত ও জামায়াতের সদস্য হিসেবে মাওলানা নিজামী অখণ্ড পাকিস্তানে বিশ্বাস করতেন। এই বিশ্বাসে তারা পাকিস্তানকে তখন রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ ও লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে। এরকম চারটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ মামলার সাক্ষীদের দীর্ঘদিন সেফহোমে রেখে শিখিয়ে আদালতে সাক্ষ্য দেয়া হয়েছে। তার প্রমাণ তারা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া জবানবন্দীতে যা বলেননি, আদালতে এসে তা বলেছেন। ’৭১ সালে মাওলানা নিজামীর মতো ১৯ বা ২০ বছরের একজন ছেলের পক্ষে পাকিস্তান আর্মিকে কমাণ্ড করার ক্ষমতা ছিল না। ’৭১ সালের ২৬ মে আল-বদর গঠন করা হয়েছে। ওই তারিখের আগের দুটি ঘটনায় তাকে আল বদরের কমান্ডার বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আমরা বলেছি, ৩০ সেপ্টেম্বরের পর তিনি ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন না। ’৭১ সালে পাকিস্তান আর্মি কোনো এলাকায় গেলে পুলিশকে খবর দিয়ে যেত। নিজামী তখন পাকিস্তান আর্মিকে পথ দেখিয়েছেন এটা হাস্যকর কথা।
খন্দকার মাহবুব বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যায় তিনি (নিজামী) জড়িত ছিলেন না। নিজামী সাহেব ওই সময়ে একজন যুবক ছিলেন। আলবদর বাহিনীর হয়ে একজন যুবক এত মানুষকে হত্যা করেছেন এমন কোনো তথ্য প্রসিকিউশন দিতে পারেনি। আদালতে বলেছি, আমাদের দৃষ্টিতে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণ করতে পারেনি প্রসিকিউশন। আদালত যদি মনে করে দোষী তাহলে নিজামীর বয়স ও শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় সর্বোচ্চ দণ্ড কমাতে পারেন। ফৌজদারি মামলায় এ আবেদন করার সুযোগ সব সময় থাকে। তবে এর অর্থ এ নয় যে আইনজীবীরা দোষ স্বীকার করে মৃত্যুদণ্ড কমানোর আবেদন করেছেন।

পক্ষে-বিপক্ষে নানা কর্মসূচি দিয়ে শান্তিচুক্তির ১৮তম বর্ষপূর্তী পালিত

পক্ষে বিপক্ষে নানা কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে আজ বান্দরবানে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ১৮তম বর্ষপূর্তী উদযাপিত হয়েছে।
চুক্তির সাফল্য তুলে ধরে বান্দরবান জেলা পরিরষদের উদ্যোগে সকালে শহরের রাজার মাঠ হতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। এতে বান্দরবানের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহম্মদ চৌধুরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারী, আদিবাসি সম্প্রদায়ের নারী পুরুষ ও নানা পেশার লোকজন অংশ নেয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। পরে রাজার মাঠে বান্দরবান সেনা রিজিয়নের উদ্যোগে গরীব অসহায় রোগীদের জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। দূর-দূরান্ত থেকে গরীব অসহায় রোগীরা ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা নিতে আসে। এবার সরকারিভাবে শান্তিচুক্তির সাফল্য নিয়ে অনুষ্ঠান করা হলেও এসব কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসনের কোন কর্মকর্তাদের দেখা যায়নি।
এদিকে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে জনসংহতি সমিতি শহরের পুরাতন রাজবাড়ি মাঠে জনসমাবেশের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য গুনেন্দু বিকাশ চাকমা। বান্দরবান জনসংহতি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এর আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তীকে ঘিরে শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

সিসির পেছন থেকে সরে যাচ্ছে আমিরাত? by ডেভিড হার্স্ট

আবুধাবির যুবরাজ (ক্রাউন প্রিন্স) মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের জন্য তৈরীকৃত একটি অত্যন্ত গোপনীয় কৌশলগত দলিলে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত মিসরের প্রেসিডেন্টের উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থরক্ষা করার সামর্থ্যরে ব্যাপারে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। বিন জায়েদের টিমের একজন এই দলিলটি প্রস্তুত করেন। ১২ অক্টোবর দলিলটি প্রস্তুত করা হয়।
ওই দলিলের প্রধান দু’টি উদ্ধৃতির বর্ণনা দিয়ে বলা হয়, বিন জায়েদ সিসির ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, আল সিসির সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার সময় সৌদি আরবের সাথে বিন জায়েদ শত শত কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছিলেন। এতে বলা হয়, তার জানা উচিত আমি এটিএম মেশিন নই। এতে আরো প্রকাশ হয় যে, আমিরাতের দলিলে দু’টি প্রধান বিষয় উল্লেখ করা হয়। দলিলে বিন জায়েদ সিসির ব্যাপারে যে হতাশা ব্যক্ত করেছেন, তার উল্লেখ করা হয়। এখানে প্রসঙ্গত উল্লেখ করা প্রয়োজন, সিসির সামরিক অভ্যুত্থানের সময় যুবরাজ নিজে এবং সৌদি আরব মিলে সিসিকে কয়েকশত কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছিলেন। এতে বলা হয়, এই ধূর্ত লোকের জানা প্রয়োজন যে, আমি এটিএম মেশিন নই। এতে আমিরাত মিসরকে অর্থ সহায়তা দেয়া অব্যাহত রাখলে তাদের এর জন্য যে বিরাট রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে তার উল্লেখ করা হয়।
আমিরাতের ভবিষ্যৎ নীতি বা কৌশল কিসের ভিত্তিতে হওয়া উচিত তার উল্লেখ করতে গিয়ে বলা হয়, ভবিষ্যৎ নীতি কেবল মিসর সরকারকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে নয়, বরং তা হওয়া উচিত মিসর সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করার নীতির ভিত্তিতে। সংক্ষেপে এভাবে বলা যায়Ñ ‘এখন আমি দেবো, তবে তা আমার শর্তাধীনে, আমি দিলে আমি শাসন করব।’ মিসর আমিরাতের নগদ অর্থের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। সম্প্রতি তারা মিসরীয় পাউন্ডের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার চেষ্টা করে। আমিরাত মিসরের বৃহত্তম বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগকারীতে পরিণত হয়েছে। গত মার্চে শারম আল শেখে এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মুহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম জানান, আমিরাত মিসরকে ইতোমধ্যে ১৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন তথা এক হাজার ৩৯০ কোটি ডলার দিয়েছে এবং আরো ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন বা ৩০৯ কোটি ডলার দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, আমিরাতের কাছ থেকে সিসি প্রায় দুই হাজার ৫০০ বিলিয়ন বা প্রায় দুই হাজার ৫০০ কোটি ডলার পেয়েছেন। এই পরিসংখ্যান হচ্ছে মিসর উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে যে মোট সহায়তা পেয়েছেন তার প্রায় অর্ধেক। কেবল ১৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার অবশিষ্ট রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের স্বর্ণ আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিসরের একজন সাবেক কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে এ তথ্য জানান। বাকি অর্থ হচ্ছে ঋণের মাধ্যমে। এই অর্থ দু’মাসের মৌলিক পণ্য আমদানির জন্য যথেষ্ট নয়। এই দলিলটি একচেটিয়ো এমইই (মিডল ইস্ট আই) দেখেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, বিন জায়েদ কি তার বিনিয়োগের যথাযথ রিটার্ন পাবেন? এতে মিসরীয় কর্মকর্তাদের সাথে অসন্তোষের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ে। আমিরাতিরা মনে করে, তাদের রিক্রুট করা হয়েছে। কারণ এটা তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে, তারা মিসরের কাছে যেমন অনুগত তেমনি আমিরাতের প্রতি অনুগত নয়।
তিন পর্যায়
কৌশলপত্রে বলা হয়, ভবিষ্যতে আমিরাতিদের মিসরে তাদের অংশীদারদের অধিকতর সতর্কতার সাথে বাছাই করতে হবে। মিসরের মিডিয়ায় সৌদি আরবের নতুন শাসক বাদশাহ সালমান এবং তার ছেলে মুহাম্মদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর উদ্ধৃতি দেয়া হয়। সিরিয়ার ব্যাপারে সৌদি ভূমিকা এবং মিসরকে বলপ্রয়োগে দমন করার অভিযোগে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে মনে করা হয়। দলিলে বলা হয়, তাদের কথার যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। কারণ এটা আমিরাতের স্বার্থে আঘাত করছে।
কৌশলগত দলিলে মিসরে বিনিয়োগের তিনটি পর্যায়ের বর্ণনা দেয়া হয়। এই বিনিয়োগ আগামী বছরের প্রথমার্ধে শুরু করা হবে। তৃতীয় পর্যায়ে আমিরাত অর্থ যোগানদাতা থেকে ‘পূর্ণ অংশীদার’ হতে চায়। কৌশলগত দলিলে বলা হয়, আমিরাতকে অবশ্যই মিসরীয় থিংক ট্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং মিডিয়া আউটলেটে রিক্রুট ও অর্থায়ন করতে হবে। এতে আরো সরাসরি বলা হয়, এসব সরাসরি বিনিয়োগের অবশ্যই একটি সুস্পষ্ট নীতি বা কৌশল এবং ভিশন বা লক্ষ্য থাকতে হবে এবং প্রত্যেক ডাউনপেমেন্ট আবুধাবির কল্যাণের জন্য হওয়ার ব্যাপারে পরীক্ষিত হতে হবে। এতে যেসব শর্তাবলি রয়েছে সেগুলো হলো : আগামী তিন বছরে পেট্রলের ওপর থেকে সাবসিডি তুলে নেয়া। ক্রমান্বয়ে সাবসিডি ৩০ শতাংশ করে হ্রাস করা। প্রথমে ৩০ শতাংশ এবং পরে বার্ষিক ৪০ শতাংশ হারে। মার্কিন ডলারের সাথে তুলনা করে মিসরীয় পাউন্ডের মূল্য নির্ধারণের জন্য আমিরাতকে নীতিনির্ধারণ করতে হবে বলে দাবি জানানো হয়। এর মাধ্যমে মিসরের আর্থিক নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এরপর আমলাতন্ত্রকে হ্রাস করতে হবে। এগুলোর প্রত্যেকটি হচ্ছে অভ্যন্তরীণ নীতি।
দলিলে আরো উল্লেখ করা হয়, সিসি তার সাহায্যদাতাদের হতাশ করেছেন। দুই দেশের মধ্যে অবনতিশীল সম্পর্ক নিয়ে গবেষণারত একজন বিশ্লেষক বলেন, ‘এই সমালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, তারা সিসিকে নিয়ে খুশি নন এবং তিনি তাদের লক্ষ্য পূরণ করছেন না। আমিরাতের প্রধান ধারণা হচ্ছে এমবিজেডই (বিন জায়েদ) মিসরের সত্যিকারের শাসক হওয়া উচিত। যে বা যিনিই দায়িত্বে থাকবেন তাকে অবশ্যই তারা (আমিরাতিরা) যা করতে বলবেন তা করতে হবে।’
উদ্বেগের কারণ
আমিরাতিদের উদ্বেগের তিনটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, আমিরাতিরা মনে করে, মিসর এবং সৌদি আরবের মধ্যে যে মিডিয়াযুদ্ধ শুরু হয়েছে তা আবুধাবির স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
গত মাসে মিসরের সংবাদপত্র আল ইয়ায়ূম আল সাবিত জানায়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আল আহকাম মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ এস সায়েদ আল নাজ্জার এবং মিসরে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আহমদ কাতানের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। আল আহকাম দাবি করে যে, কায়রোর কেন্দ্রস্থলের একটি ভবন ও সৌদি আরব থেকে পুরনো। সরকারপন্থী টিভি সাংবাদিক ইব্রাহীম ঈশা সিরিয়ায় সন্ত্রাসী গ্রুপকে অর্থ সহায়তা দেয়ার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে। সিসিকে তিনি ‘রিয়াদের একজন বন্দী বা রিয়াদের কাছে আবদ্ধ থাকা’ বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি মিসরের প্রতি সৌদি আরবের প্রতি কৃতজ্ঞাবদ্ধ থাকার সম্পর্ক থেকে মুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
দ্বিতীয়ত, ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন অভিযানে স্থলসৈন্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় আমিরাত সিসির ওপর অসন্তুষ্ট। সংযুক্ত আরব আমিরাত সৈন্য পাঠাতে প্রতিশ্রুতি দিতে তাদের বাধ্য করেছিল। সিসি মিসরীয় আরবি ভাষায় তার বক্তব্যে বলেন, ‘মাসাফাহ এস শিফাহ’ অর্থাৎ তারা সামরিক সহায়তার প্রয়োজন বোধ করলে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সহায়তা দেয়ার জন্য তাকে সময় দিতে হবে। এ পর্যন্ত ইয়েমেনে স্থলবাহিনীতে মিসরের কোনো সৈন্য দেয়া হয়নি।
তৃতীয়ত, তারা অভিযোগ করেন, তারা অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার বা তারা একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে সুশাসনের দাবি জানালে সিসি তাদের কথা শোনেননি। ‘আবুধাবির দৃষ্টিকোণ থেকে সিসি কাজ সম্পাদন করেননি। অর্থনৈতিক সংস্কারের ব্যাপারে তার কোনো কর্মকৌশল বা নীতি নেই। সার্ভিস খুবই খারাপ। আমিরাতের দৃষ্টিকোণ থেকে, সিসি যা করবেন বলেছিলেন তা তিনি করছেন না।’ এমইই’র সাথে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিশ্লেষক বলেন, আসন্ন পর্যায় শুরু হবে আগামী বছরের প্রথমে আমিরাত এই ব্যাপক অভিযানের পরিকল্পনা করছে। তারা সিসিকে পরিত্যাগ করেনি। তিনি এখনো তাদের লোক। কিন্তু তারা তাকে নিয়ে খুশি নয়। তারা চায় পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ, যাতে তারাই সত্যিকারের শাসক হতে পারে।
রিয়াদের সাথে সম্পর্ক
রিয়াদের সাথেও সিসির সম্পর্ক খুব খারাপের পর্যায়ে চলে গেছে। মিসরের সেনাবাহিনীর একজন প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেল গত দু’সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করে গোপনে আলোচনা করছেন বলে জানতে পেরে সৌদির সাথে সিসির সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সৌদি আরবের সাথে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, মিসরের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ সাবেক সেনাপ্রধান সামি আনান কেন সৌদি রয়েছেন তা সৌদি আরবের কাছে জানতে চেয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আনান বেসরকারি সফরে সৌদি আরবে আছেন এবং রিয়াদ সরকারের এ ব্যাপারে কিছু করার নেই। ২০১১ সালে মোবারককে যখন ক্ষমতাচ্যুত করা হয়, তখন মুহাম্মাদ হোসেইন তান-তাবীর পর দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন আনান। ২০১২ সালে মুরসি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর আনানকে বরখাস্ত করেছিলেন। এক বছর পর এক সামরিক অভ্যুত্থানে মুরসি যখন ক্ষমতাচ্যুত হন, তখন আনান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে তার উচ্চাভিলাষের কথা ঘোষণা করেছিলেন। তার বয়স ৭০ বছর এবং তাকে ওয়াশিংটনের সাথে ঘনিষ্ঠ হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে। ২৫ জানুয়ারির বিপ্লবের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন।
ওয়াকিবহাল সূত্র জানায়, সিসির স্থলাভিষিক্ত করার জন্য যে তিনজনের নাম বিবেচনা করা হচ্ছে আনান হচ্ছেন তাদের একজন। অন্যরা হচ্ছেন আহমদ শফিক- সাবেক জেনারেল। যিনি বর্তমানে প্রবাসে আবুধাবিতে রয়েছেন। অপরজন হচ্ছেন সাধারণ গোয়েন্দা পরিদফতরের সাবেক প্রধান মুরাদ মুয়াফি। আনানের মতোই তাকেও মুরসি বরখাস্ত করেছিলেন। শফিক এবং মুয়াফি দু’জনকেই আমিরাতের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের সাথে কথোপকথনের সময় সৌদি বাদশাহ সালমান মিসরের দায়িত্বে সেনাবাহিনীকে রাখার ব্যাপারে তার ইচ্ছার কথা গোপন রাখেননি। সৌদি আরব মিসরের সেনাবাহিনীকে দেশটির স্থিতিশীলতার একমাত্র গ্যারান্টার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গণতন্ত্রের চেয়ে স্থিতিশীলতাই প্রয়োজন বলে সৌদি আরব মনে করে। গণতন্ত্রের ব্যাপারে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
যাই হোক না কেন, গত তিন মাসে হিসাব পরিবর্তন হয়ে গেছে। বাদশাহ সালমান সিসিকে আর মিসরের স্থিতিশীল নেতা বলে মনে করেন না। তারা মনে করেন, নেতা হিসেবে সিসির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই তারা সামরিক বাহিনীর মধ্যে কে দায়িত্ব নিতে পারেন তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন, সাথে সাথে তারা বিরোধী সব রাজনৈতিক সেকশনের কাছে পৌঁছার চেষ্টা করছেনÑ বিশেষত যাদের অধিকাংশই প্রবাসে আছেন তাদের সাথেই যোগাযোগ করা হচ্ছে।
আনানকে শান্ত প্রকৃতির কিন্তু ধূর্ত নেতা যাকে স্বাভাবিকভাবে ঝুঁকিবিমুখ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তিনি একজন প্রধান পছন্দের প্রার্থী। মিসরের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব কারার ব্যাপারে তার জোরালো দাবি রয়েছে।
কিন্তু মিসরের বিরোধী দলগুলোর কাছে তিনি তেমন একটা বিশ্বস্ত নন। বিরোধী দলগুলো সুপ্রিম কাউন্সিল অব দ্য আর্মড ফোর্সেসের দায়িত্বে থাকার সময়ে তার দিনগুলোর কথা স্মরণ করে। মোবারককে ক্ষমতাচ্যুত করে মুরসির নির্বাচন পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে ছিলেন এবং দেশের তত্ত্বাবধান করেন। তখন কায়রোর তাহরির স্কোয়ারে প্রতিবাদকারীদের রক্ত ঝরে ছিল।
তারা যদি একজন সামরিক ব্যক্তিত্বকে খোঁজেন তাহলে আনান হচ্ছেন তাদের বেষ্ট অপশন। কিন্তু সামরিক বাহিনী দিয়ে কেউ গ্রহণযোগ্য হলে সংখ্যাগরিষ্ঠদের দিয়ে তিনি গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে হয়তো আনানকে নিয়ে সমস্যা হতে পারে। মিসরের বিরোধী রাজনৈতিক দলের একজন সদস্য এ কথা বলেন।
মিডল ইস্ট আই থেকে ভাষান্তর
মুহাম্মদ খায়রুল বাশার

এশীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমঝোতা

এশিয়ার পারস্পরিক ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতারা নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারে একমত হয়েছেন। সেই সঙ্গে নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনেও তারা পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় এক সম্মেলন শেষে রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়। ২০১২ সালের পর এ প্রথম তিন দেশের নেতারা বৈঠকে বসেছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন-হাই, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। বৈঠকে নেতারা অন্যান্য আরও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ব্যাপারেও একমত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। যৌথ ওই বিবৃতিতে নেতারা বলেন, আমরা ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেছি। ১৬ জাতির মুক্তবাজার সৃষ্টিতে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে (আরসিইপি) আরও জোরদারে একমত হয়েছি। পার্ক জিউন-হাই পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জানান, তিন নেতা উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারেও একমত হয়েছেন।
সোমবার আবে ও পার্কের মধ্যে আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলন উপলক্ষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের দক্ষিণ কোরিয়া সফরের প্রতিবাদে সম্মেলন কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ করে একদল জাপানবিরোধী। এ সময় তাদের জাপানের পতাকা ছিঁড়তে দেখা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সেনাদের দক্ষিণ কোরীয় নারীদের যৌন দাসত্বে বাধ্য করার প্রতিবাদ জানান এবং ওই ঘটনার জন্য জাপানি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। তারা বলেন, ‘আমরা অ্যাবের দক্ষিণ কোরিয়া সফরের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চেয়ে তার এ সফরকে আমরা মেনে নিতে পারছি না।’ এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশ কার্টার বলেছেন, দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত জলসীমার কারণে ওই অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবিতেই, বেইজিংয়ের নির্মিত কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জের বারো নটিক্যাল মাইল দূরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছে। সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে অ্যাশ কার্টারের। ২০১২ সালের আগ পর্যন্ত দেশ তিনটি এমন ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে নিয়মিত অংশ নিয়ে আসছিল। তবে এবারের আলোচনায় অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে আলোচনা প্রয়োজন বলে মন্তব্যও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিধ্বস্ত বিমানের লাশের খোঁজে ব্যাপক অনুসন্ধান

মিসরের সিনাই উপত্যকায় রাশিয়ার যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ধ্বংসাবশেষ ও লাশের সন্ধানে বিস্তৃত অনুসন্ধান চালাচ্ছেন মিসরীয় উদ্ধারকর্মীরা। বিমানে থাকা ২২৪ আরোহীর মধ্যে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৬৩ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার একদিন পর আট বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাশ খুঁজে পাওয়ায় উদ্ধার এলাকা বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উদ্ধার কাজে জড়িত একজন সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ১৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মিসরের সরকারি বার্তা সংস্থা মিনা জানায়, রাশিয়ার তদন্তকারীরা ইতিমধ্যে কায়রো পৌঁছেছেন। তাদের সিনাই উপদ্বীপের বিধ্বস্ত এলাকায় যাওয়ার সুযোগ দেয়া হবে। বিমানটি ভূপাতিত করা সংক্রান্ত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দাবি নাকচ করেছে মিসর। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সিনাই উপত্যকার পাহাড়ি এলাকায় শনিবার রাশিয়ার যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে প্রযুক্তিগত ত্র“টি থাকতে পারে। মিসরে আইএসের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি জঙ্গিগোষ্ঠী এক টুইটার বার্তায় ওই বিমানটি ভূপাতিত করার দাবি করেছে। এ দাবি নাকচ করে মিসরের প্রধানমন্ত্রী শরিফ ইসমাইল বলেন, ‘কোগালিমাভিয়া এয়ারলাইনসের ভাড়া করা এয়ারবাসটি (এ-৩২১) যে উচ্চতা দিয়ে ওড়ছিল, তাতে সেটিকে ভূপাতিত করা সম্ভব নয় বলে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন।’ রাশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী ম্যাকসিম সকলভ বলেছেন, ‘আইএসের দাবি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। বিমানটিকে যে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, তার কোনো প্রমাণ মেলেনি।’ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে ২২৪ আরোহী নিহত হওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,
বিমানটির ‘ব্ল্যাকবক্স’ বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। মিসরের নেতৃত্বাধীন তদন্তে রাশিয়া ও ফ্রান্সের তদন্তকারীরা যোগ দিয়েছেন। এদিকে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি বলেছেন, বিধ্বস্তের কারণ জানতে তদন্ত প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে সিরিয়ায় আইএসকে লক্ষ্য করে রাশিয়ার বিমান হামলা শুরুর পরই দেশটির বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার হুমকি দেয় আইএস। তবে ৩০ হাজার ফুটেরও বেশি ওপর দিয়ে উড়ন্ত একটি বিমানকে ভূপাতিত করার মতো অস্ত্রশস্ত্র এ গোষ্ঠীর কাছে আদৌ আছে কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। মিসরের বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী হোসাম কামাল বলেছেন, ‘বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটিতে কোনো সমস্যার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল বিমানটির পাইলট জরুরি অবতরণের অনুরোধ করেছিলেন।’ রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম এনটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিধ্বস্ত বিমানের কো-পাইলট সের্গেই ত্র“খাশেভের স্ত্রী নাতালিয়ার দাবি, ফ্লাইটটি ছেড়ে যাওয়ার আগে বিমানটির ত্র“টিপূর্ণ অবস্থা নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন তার স্বামী। সিনাই এড়িয়ে যাচ্ছে ইউরোপের বিমান সংস্থাগুলো : মিসরে রুশ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ইউরোপের দুটি বৃহৎ বিমান পরিবহন সংস্থা সিনাই অঞ্চল এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জার্মান বিমান পরিবহন সংস্থা লুফথানসা এবং ফরাসি সংস্থা এয়ার ফ্রেন্স ক্লেম সিনাই অঞ্চলের ওপর দিয়ে কোনো বিমান না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে শনিবার সংস্থা দুটোর মুখপাত্ররা জানিয়েছেন। আইএসের হামলা নয়, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে প্রযুক্তিগত ত্র“টি থাকতে পারে
শরিফ ইসমাইল
মিসরের প্রধানমন্ত্রী
বিধ্বস্তের কারণ
জানতে তদন্ত প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে
আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি
মিসরের প্রেসিডেন্ট

ভোট জালিয়াতিতে সতর্ক থাকুন

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী ও বিরোধীদলীয় নেতা অং সান সুচি আসন্ন নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি বন্ধে তার সমর্থকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে রোববার ইয়াঙ্গুনের এক নির্বাচনী প্রচারাভিযানে এ আহ্বান জানান তিনি। খবর এএফপির। মিয়ানমারে আসন্ন ৮ নভেম্বর নির্বাচন সামনে রেখে এক প্রচারাভিযানে ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নেতা অং সান সুচি বলেন, জনগণের শক্তিই আমাদের প্রধান শক্তি। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা জয়ী হই, ততক্ষণ আমরা সঠিক পন্থায় কাজ করব। এজন্য ভোট জালিয়াতি রোধে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।’
নোবেল বিজয়ী সুচি হাস্যোজ্জ্বল ভাব নিয়ে আরও বলেন, আমরা কোনো নোংরা রাজনীতির চর্চা করে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করব না। নির্বাচনের আগে রোববারের এ প্রচারাভিযান ছিল হাজার হাজার এনএলডি পার্টির সমর্থকদের সর্বশেষ একত্রিত হওয়া। সুচির সমর্থকরা হাতে লাল ব্যান্ড বেঁধে, গায়ে টি-শার্ট,
ক্যাপ এবং দলের পতাকা হাতে স্লোগান দিতে দিতে অগ্রসর হয়। পরিবর্তনের নির্বাচন (ভোট ফর চেঞ্জ), এনএলডির জন্য নির্বাচন- এমন স্লোগানে মুখরিত ছিল ইয়াঙ্গুনের রাজপথ। ছোট-বড়, যুবক ও বয়বৃদ্ধদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে সুচির নির্বাচনী প্রচারাভিযান ছিল প্রাণবন্ত। এ প্রচারে অংশগ্রহণকারী ৬২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মিন্ট মিট চি বলেন, ‘আমি সুচিকে পছন্দ করি, আমি পরিবর্তন চাই। এ সরকারকে (জান্তা সরকার) ঘৃণা করি আমি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (সুচি) যখন ক্ষমতায় বসবেন তখনই আমাদের দেশ পরিবর্তন হবে।’ ৫০ বছর বয়সী সাউথ ড্রাগনের বাসিন্দা চোনিও বলেন, ‘তিনিই আমাদের উত্তম নেতা, যিনি আমাদের কল্যাণকামী হবেন।’ এদিকে, নির্বাচনে ভোট জালিয়াতিসহ ক্ষমতাসীন জান্তা সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধে সমর্থকদের কড়া নজরদারি রাখার আহ্বান জানান সুচি। ক্ষমতাসীন ইউনিয়ন সোলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) নির্বাচনী প্রচারে ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ের আÍবিশ্বাসী ঘোষণা দিলে সুচি এমন সতর্কবাণী দেন।

বিহার বিধানসভার ৪র্থ দফা ভোটগ্রহণ

ভারতের বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে চতুর্থ দফায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রোববার রাজ্যের ৫৫টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ৫৭ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে চতুর্থ দফার নির্বাচনে। রোববার সকাল থেকেই বুথে বুথে লম্বা লাইন চোখে পড়ে। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ এবং মুজফ্?ফরপুরে সকাল থেকেই বুথে বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। এমনিতে কোনো সহিংসতার খবর না পাওয়া গেলেও শিউহরে ভোটার এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচাজের্র অভিযোগ তুলেছেন ভোটাররা। এদিন সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। তবে ৪টি কেন্দ্রে ভোট শেষ হয় বেলা ৩টায়। আর ৮টি কেন্দ্রে তা শেষ হয় বিকাল ৪টায়।
বাকি ৪৩টি কেন্দ্রে অবশ্য ৫টা পর্যন্তই ভোট হয়। এদিন ভোট হয় পশ্চিম চম্পারন, পূর্ব চম্পারন, শিউহর, সীতামঢ়ী, মুজফ্?ফরপুর, গোপালগঞ্জ এবং সিওয়ান জেলায়। এ নির্বাচনে ভাগ্য নির্ধারণ হবে ৭৭৬ জন প্রার্থীর। ভোট চলছে ১৪ হাজার ১৩৯টি বুথে। এর মধ্যে ৪ হাজার ২৪৬টি বুথকে অতি স্পর্শকাতর ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া ৩ হাজার ৪৩টি বুথ মাওবাদী প্রভাবিত এলাকার মধ্যে পড়েছে। ভোট যাতে সুষ্ঠুভাবে হয় তার জন্য মোতায়েন করা হয় ১ হাজার ১৬৩ কোম্পানি আধা-সামরিক বাহিনী। নজরদারি চালানোর জন্য থাকে পাঁচটি হেলিকপ্টার ও ড্রোন। কিছু কিছু কেন্দ্রে মোটরবোটেও নজরদারি চালানোর ব্যবস্থা রাখে নির্বাচন কমিশন। ২০১০ সালের নির্বাচনে এই ৫৫টি ?আসনের মধ্যে ২৬টি জিতেছিল বিজেপি। ২৪টি জেডিইউ এবং আরজেডি ২টি আসনে জয়ী হয়।

ঈশ্বরদীতে প্রতিদিন কোটি টাকার শিম বেচাকেনা

ক্রেতা-বিক্রেতার পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান ঈশ্বরদীর মুলাডুলি সবজি আড়ত। এখানে প্রতিদিন আড়াই কোটি টাকার শিম বেচাকেনা হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে উৎপাদন কম এবং বাজার চড়া থাকলেও ক্রেতা বিক্রেতার সমাগমে আড়ত এলাকা জনারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।
প্রতিদিন গড়ে ৮০ ট্রাক শিম মুলাডুলি থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। প্রতি ট্রাকে ৩শ’ মণ শিম লোড করা যায়। সরজমিন মুলাডুলি শিমের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, আড়তের পুরো জায়গায় ক্রয়কৃত শিম স্তূপ করে রাখা হয়েছে। পাহাড়সম এসব স্তূপে শত শত মণ শিম। অন্যান্য এলাকার আড়ত সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বসলেও মুলাডুলির শিমের আড়ত বসে সপ্তাহে সাত দিনই।

বিপর্যস্ত বিনিয়োগকারীরা

শেয়ারবাজারে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো দরপতন হয়েছে। আর এ সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজারমূলধন ৮ হাজার কোটি টাকা কমেছে। আর সূচক কমেছে ১৩৩ পয়েন্ট। এর মধ্যে রোববার একদিনেই সূচক কমেছে ৪৯ পয়েন্ট। একই ভাবে কমছে লেনদেনও। একই অবস্থা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন থেকে বাজারে নেতিবাচক অবস্থা চলছে। এরপর সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দরপতনে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে- গত ২১ অক্টোবর ডিএসইর বাজারমূলধন ছিল ৩ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। রোববার তা কমে ৩ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ ৬ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজারমূলধন ৮ হাজার কোটি টাকা কমেছে।
আলোচ্য সময়ে ডিএসইর মূল্যসূচক ৪ হাজার ৬৪৭ পয়েন্ট থেকে কমে ৪ হাজার ৫১৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে মূল্যসূচক ১৩৩ পয়েন্ট কমেছে। এছাড়া ডিএসইর গড় লেনদেন কমে ২শ’ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। একক দিন হিসেবে রোববার ডিএসইতে ৩১৭টি প্রতিষ্ঠানের ৭ কোটি ৯৬ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ২৬৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আগের দিনের চেয়ে যা ১৮৮ কোটি ২০ লাখ টাকা কম। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ২৫০টি এবং অপরিবর্তীত রয়েছে ২৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসই ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ৪৯ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৫১৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭০৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই শরীয়াহ্ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর বাজারমূলধন আগের দিনের চেয়ে কমে ৩ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
সিএসই : চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে রোববার ২২৯টি প্রতিষ্ঠানের ৬০ লাখ ৯৬ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ১৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ২৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ১৮৬টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৭৩ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৭৮৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সিএসই ৩০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৫৪ পয়েন্ট কমে ১২ হাজার ২১৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সিএসইর বাজারমূলধন আগের দিনের চেয়ে কমে ২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
শীর্ষ দশ কোম্পানি : রোববার ডিএসইতে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হল- খুলনা পাওয়ার কোম্পানি, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, ইফাদ অটো, শমরিতা হাসপাতাল, কেডিএস এক্সেসরিস, শাহজিবাজার পাওয়ার, বেক্সিমকো ফার্মা, আমান ফিড, সিএনএ টেক্সটাইল এবং সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল। ডিএসইতে রোববার যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হল- মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, শমরিতা হাসপাতাল, জাহিন স্পিনিং, দেশ গার্মেন্টস, ন্যাশনাল ফিড মিলস, জেমীনি সি ফুড, এপেক্স স্পিনিং, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, জিএসপি ফাইন্যান্স এবং ইফাদ অটো। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হল- সমতা লেদার, হাক্কানী পাল্প, কোহিনুর কেমিক্যাল, ফাইন ফুডস, বিডি ওয়েল্ডিং, জিলবাংলা সুগার, আজিজ পাইপস, কে অ্যান্ড কিউ, ইমাম বাটন এবং শাইনপুকুর সিরামিক।

অনন্য নেইমার

মৌসুমের শুরু থেকেই অসাধারণ খেলছেন নেইমার। লিওনেল মেসির অনুপস্থিতিতে বার্সেলোনায় প্রতি ম্যাচেই যেন নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। গেটাফের বিপক্ষে আরেকবার জ্বলে ওঠা ব্রাজিলের এ ফরোয়ার্ডকে ‘অনন্য’ বলেছেন কোচ লুইস এনরিকে। শনিবার রাতে গেটাফেকে ২-০ গোলে হারায় বার্সেলোনা। এ জয়ে শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের পাশেই থাকল কাতালুনিয়ার দলটি। ২০১৩ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেয়ার পর প্রথম মৌসুম কিছুটা খারাপ কাটলেও গত মৌসুমে জ্বলে ওঠেন নেইমার। আর এ মৌসুমের শুরু থেকেই খেলছেন দারুণ। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে মেসি চোট পেয়ে ছিটকে পড়ার পর নেইমার যেন বার্সেলোনার কাণ্ডারি হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত লা লীগায় সর্বোচ্চ ৯টি গোল করেছেন তিনি, যার পাঁচটিই করেন মেসির অনুপস্থিতিতে। গেটাফের বিপক্ষে যেমন জয়সূচক গোলটি নেইমারের পা থেকেই আসে। এটা ছাড়া পুরো ম্যাচেই দারুণ খেলেন ২৩ বছর বয়সী এ তারকা। নেইমারের প্রশংসায় সংবাদ সম্মেলনে এনরিকে বলেন, সে আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে, সব বিষয়েই সে অনন্য। সে আমাদের জন্য গোল করে, করায়, রক্ষণেও সাহায্য করে। দিন দিন সে উন্নতি করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে নেইমার তার উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এনরিকে। নেইমারের প্রশংসা করে সতীর্থ সুয়ারেজ বলেন, ‘সবাই জানে, দলে তাদের দায়িত্ব কি।
আমি তিন-চারজনকে কাটাতে পারব না- এটা নেইমারের কাজ।’ মেসিকে নিয়ে মাথাব্যথা নেই এনরিকের ইনজুরির কারণে এক মাসেরও অধিক সময় ধরে দলের বাইরে লিওনেল মেসি। অন্তত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের আগে তার মাঠে ফেরা হচ্ছে না। তবে আর্জেন্টাইন তারকাকে ছাড়াই জয়ের ধারায় রয়েছে বার্সেলোনা। নেইমার-সুয়ারেজ নৈপুণ্যে মেসির অভাবটা যেন টেরই পাচ্ছে না কাতালানরা। কোচ লুইস এনরিকের কণ্ঠেও একই সুর। তার মতে, মেসির অনুপস্থিতি সত্ত্বেও বার্সা এখন আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ এবং টিম কম্বিনেশনটাও দুর্দান্ত। গেটাফের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের পর এক সাক্ষাৎকারে এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন এনরিক। এ ম্যাচে নেইমার ও লুইস সুয়ারেজ দু’জনই গোল করেন। এনরিক বলেন, ‘মেসির অনুপস্থিতিতে সবাই নিজেদের সেরাটা দিচ্ছে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। ইনজুরির কারণে সে দলে না থাকলেও আমি খেলোয়াড়দের ওপর কোনো ধরনের বাড়তি চাপ দিচ্ছি ?না। সবাই এমনিতেই নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিচ্ছে। দল হিসেবে আমরা এখন আগের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ এবং সবাই নিজেদের খেলায় উন্নতি করছে।’ ২৬ সেপ্টেম্বর লাস পালমাসের বিপক্ষে হাঁটুর ইনজুরিতে ভুগে ৭-৮ সপ্তাহের জন্য ছিটকে যান মেসি। তার অনুপস্থিতিতে সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই জয়লাভ করে বার্সা। শুধু মেসিবিহীন প্রথম ম্যাচেই সেভিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে হার মানে কাতালানরা। আর গত ২৮ অক্টোবরের কোপা দেল রে’র ম্যাচে ভিলানোভার বিপক্ষে প্রথম সারির দল নামিয়ে হতাশা উপহার পান এনরিকে। গোলশূন্য ড্র করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন লীগের ম্যাচে বেয়ার লেভারকুসেন ও বাতে বোরিসভের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় বার্সা। মেসিকে ছাড়া কাতালানদের জয়ের ধারা বজায় থাকবে কিনা, সেটিই এখন দেখার বিষয়! ওয়েবসাইট।

ফের হাসপাতালে দিতি

আবারও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে চিত্রনায়িকা দিতিকে। মস্তিষ্কে পানিজনিত সমস্যার কারণে গত শুক্রবার তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পূর্বের চেয়ে অবস্থার কিছুটা অবনতি হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। দিতির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভারত থেকে ফেরার পর দিন কয়েক সুস্থ ছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করেই শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এ অবস্থায় তাকে আবারও ভারতে নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু সমস্যা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দিতির মস্তিষ্কে পানি জমেছে।
ওষুধের মাধ্যমেই তাকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করছেন চিকিৎসকরা। এখানে সুস্থ না হলে তাকে আবারও ভারতে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, মস্তিস্কে টিউমার ধরা পড়লে চলতি বছরের ২৫ জুলাই দিতি চেন্নাই যান। ২৯ জুলাই মাদ্রাজ ইন্সটিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রমাটোলজিতে (এমআইওটি) তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর এক মাসেরও বেশি সময় ভারতে থেকে চিকিৎসা শেষে ২০ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন তিনি। কয়েকদিন সুস্থ থাকার পর হঠাৎ করেই আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন দিতি। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি।

গণ-অভ্যুত্থানের ২৫ বছর ‘কাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য গুলি করছেন?’ by সোহরাব হাসান

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করে বেরিয়েছেন আলিফুর রহমান। গতকাল তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ১৯৯০ সাল সম্পর্কে কী জানেন? তিনি বললেন, শুনেছি এরশাদের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন হয়েছিল। কেন আন্দোলন হয়েছিল সে সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না। কেউ কিছু তাঁকে বলেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজের কাছে একই প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এরশাদ নির্বাচিত একটি সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। এ কারণে মানুষ আন্দোলন করে তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র শফিকুর রহমানের মতে, পঁচাত্তরের পর যে স্বৈরতান্ত্রিক ধারা চলে আসছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এরশাদ ক্ষমতায় আসেন এবং নব্বইয়ে পদত্যাগে বাধ্য হন।
এই প্রজন্মের তিন শিক্ষার্থীর বক্তব্য থেকে ইতিহাসের যে চিত্র পাওয়া যায়, তা পূর্ণাঙ্গ নয়, খণ্ডিত। অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তাদের জানতে দেওয়া হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের মতো নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের ইতিহাসকেও যে যার মতো করে ব্যাখ্যা করছেন, সময়ের ব্যবধানে সেই ব্যাখ্যা আবার বদলেও দিচ্ছেন। নব্বইয়ের অব্যবহিত পর আন্দোলনরত তিন জোট স্বৈরতন্ত্রের পতন ও গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাকে ঘটা করে উদ্যাপন করলেও এখন আর কারও মধ্যে সেই জোশ লক্ষ করা যাচ্ছে না। কেউ স্বৈরাচারের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের দলভুক্ত করেছেন, কেউ বা খোদ স্বৈরাচারকে ক্ষমতার শরিক করে নিয়েছেন। এ কারণেই সেদিনের পরিত্যক্ত স্বৈরশাসক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দুই শীর্ষ নেত্রীকে নিয়ে উপহাস করার দুঃসাহস দেখাচ্ছেন।
আজ ২ ডিসেম্বর। নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বের সপ্তম দিন। ২৭ নভেম্বর জরুরি অবস্থা জারি পর থেকেই ঢাকাসহ দেশের সব বড় শহরে কারফিউ বলবৎ ছিল। কিন্তু ছাত্র–জনতা তা অমান্য করে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। এমনকি তারা নেতা–নেত্রীদের হুকুমেরও অপেক্ষা করেনি। ২ ডিসেম্বর কারফিউ উপেক্ষা করেই ছাত্ররা রাজপথে এরশাদের প্রতীকী বিচার বসিয়ে তাঁর ফাঁসি ঘোষণা করে এবং একটি গাছে তাঁর কুশপুত্তলিকা ঝুলিয়ে তা কার্যকর করে। ওই দিনই ঢাকায় একটি প্রচারপত্র বিলি করা হয়, যার শিরোনাম ছিল ‘কাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য ভাইয়ের বুকে গুলি করছেন?’
২ ডিসেম্বরই এক সমাবেশে ছাত্রনেতারা ঘোষণা করেন, ‘বন্ধুদের লাশের সামনে দাঁড়িয়ে ঐক্য গড়েছি, এরশাদকে বিদায় না করে ঘরে ফিরব না।’
আমরা আরও পেছনে গেলে দেখতে পাব, ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর ইসলামী ছাত্রশিবির ছাড়া সব ছাত্রসংগঠনের উদ্যোগে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য পরিষদ গঠিত হয়। এরশাদের পতন না হওয়া পর্যন্ত এক থাকার ঘোষণা দেয় তারা। এরপরই আটটি যুবসংগঠন মিলে যুব সংগ্রাম পরিষদ, ১৯টি শ্রমিক সংগঠন মিলে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, ৯টি কৃষক ও খেতমজুর সংগঠন মিলে কৃষক খেতমজুর সংগ্রাম পরিষদ, ১৮টি নারী সংগঠন মিলে ঐক্যবদ্ধ নারী সমাজ গঠিত হয় এবং তারা এরশাদের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করে। শতাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠন মিলে ১৯৮৩ সালে গঠিত সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটও আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে। গত চার দিনের মতো ২ ডিসেম্বরও সাংবাদিকেরা সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করেন এবং দেশের সব সংবাদপত্র বন্ধ থাকে।
সেদিনের ছাত্র–জনতার আন্দোলনের রূপ কী ব্যাপক ও বিস্তৃত ছিল, তার কিছুটা চিত্র পাওয়া যায়, এরশাদেরই এককালীন প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরীর রাজনীতির তিনকাল বইয়ে। তিনি লিখেছেন, ‘২৭ নভেম্বর ছাত্র–জনতা জরুরি আইন অমান্য করে মিছিল ও সমাবেশ করতে থাকে। পুলিশ ও বিডিআরের সঙ্গে ছাত্র–জনতার সংঘর্ষে সারা দেশে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়, এর মধ্যে ঢাকায় ৩০ জন, চট্টগ্রামে ৬ জন, রাজশাহীতে ৩ জন, খুলনায় ৩ জন, নারায়ণগঞ্জে ২ জন ও ময়মনসিংহে ৪ জন নিহত হন। তাঁর ভাষায় ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ছাত্র–জনতার চলমান আন্দোলন আরও তীব্র হয়। ছাত্রদের সঙ্গে ছাত্রীরাও লাঠিসহ মিছিল বের করে। ২৮ নভেম্বর সকালে মালিবাগে রেলপথ অবরোধ করলে লাইনে ট্রেন রেখে চালক পালিয়ে যান। ফলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাজধানীর অলিতে গলিতে হাজার হাজার মানুষ কারফিউ ভেঙে মিছিল করে। বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ছাত্র–জনতার খণ্ডযুদ্ধ হয় এবং প্রাণহানিও ঘটে।
মিজানুর রহমান চৌধুরীর বই থেকে আমরা আরও জানতে পারি যে, এরশাদ আন্দোলনকারীদের দমন করতে পুলিশ–বিডিআরের পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে রাস্তায় নামালেও তারা ছিল নিষ্ক্রিয়। তাদের এই নিষ্ক্রিয়তার কারণেই শেষ পর্যন্ত এরশাদকে পদত্যাগ করতে হয়।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

স্কুলের টয়লেটে সন্তান প্রসব ১৩ বছরের ছাত্রীর!

এমনটা যে হতে পারে, আঁচ করেননি কেউই৷ কিন্তু এমন ঘটনা সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় অনেক কিছু৷ স্কুলের টয়লেটে এক ১৩ বছরের কিশোরীর সন্তানপ্রসব এমনই এক ভয়াবহ দৃষ্টান্তের ইঙ্গিত৷
ভারতের হায়দরাবাদের মাধাপুর এলাকার একটি স্কুলে নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী টয়লেটেই সন্তানের জন্ম দিয়েছে৷ এহেন ঘটনায় চক্ষু চড়কগাছ ওই সরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষের৷ শিক্ষিকা থেকে শুরু করে শিক্ষাকর্মী, প্রত্যেকেই অবাক হয়ে গেছেন এই ঘটনায়৷
সোমবার স্কুল চলাকালে ওই ছাত্রীর অসহ্য পেটে যন্ত্রণা শুরু হলে এক সহপাঠীর সঙ্গে তাকে টয়লেটে পাঠান এক শিক্ষিকা৷ কিছুক্ষণ পর সেই সহপাঠী এসে খবর দেয়, ওই ছাত্রী সন্তান প্রসব করেছে৷ দ্রূত প্রসূতি ও তার শিশুকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয় এবং খবর দেয়া হয় তার অভিভাবককে৷ স্কুলের ১৩ জন শিক্ষিকা ঘুর্ণাক্ষরেও জানতেন না, ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা৷
এক শিক্ষিকা জানিয়েছেন, "ওই ছাত্রী অত্যন্ত রুগণ এবং স্কুলের মধ্যে চলাফেরার সময় পেটের কাছে ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখত সে৷ বসার সময়েও কোলের উপর ব্যাগ রাখার জন্য আন্দাজ করা যায়নি তার শারীরিক পরিস্থিতি৷ সোমবার ঘটনা জানাজানির পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়৷ অনুমান, প্রতিবেশীর হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ওই কিশোরী৷ পুলিশ একটি ধর্ষণের মামলা রুজু করেছে৷ জেলার শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুলে এসে ওই ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে পুলিশ বা অন্য কাউকে বিষয়টি জানাননি তাঁরা৷ সহপাঠীরাও জানিয়েছে, ওই ছাত্রী একা একাই থাকতে ভালবাসত এবং বাইরে খেলতে আসত না৷ মনোবিদদের মতে, এই ঘটনা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, মা-বাবার অবহেলায় শিশু যৌননিগ্রহের ঘটনা চাপা পড়ে যায়৷

ইরাকের অনাথ শিশুরা

তের বছর বয়সী দুনিয়া শুনতে পায় না, বলতেও পারে না। কিন্তু সাংকেতিক চিহ্ন দিয়ে সে বলতে পারে কিভাবে তার বাবাকে হত্যা করেছে আইএস। সে তার পাকস্থলীর দিকে ইঙ্গিত করে, গুলির যাত্রাপথ বোঝাতে ব্যবহার করে তার আঙ্গুল। দ্বিতীয় গুলিটি বিদ্ধ হয় তার বাবার পায়ে, সঙ্গে সঙ্গে তিনি পড়ে যান মেঝেতে। বাবার চেহারা বুঝাতে দুনিয়া নিজের গালে গোঁফ এঁকে দেখায়। তার মা মুনতাহা আলি মনে করেন, ২০১৪ সালের জুনে মারা গিয়েছে দুনিয়ার বাবা। কারণ, তিনি ছিলেন সংখ্যালঘু শিয়া শাবাক গোষ্ঠীর একজন। তার মৃত্যুর একমাস পরেই নিজ শহর ইরাকের মসুল ছেড়ে চলে আসতে হয়েছে মুনতাহাকে। তিনি এরপর চলে যান উত্তর ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে। মুনতাহা বলেন, আমার ছেলেমেয়েরা ওই হত্যা দেখেছে। তারা চমকে উঠেছিল। মুনতাহার স্বামীর নাম সুলাইমান আব্বাস। মসুলে তিনি ছিলেন ট্যাক্সিচালক। এরবিল বাহারকা শিবিরের ছোট একটি কেবিনে নিজের সন্তানদের নিয়ে থাকেন মুনতাহা। এ শিবিরে প্রায় ৪ হাজার উদ্বাস্তু ইরাকির বসবাস। এদের বেশিরভাগই আইএসের উত্থানের পর মসুল ছেড়ে পালিয়েছেন। দুনিয়া ও তার তিন ভাইবোন এমন হাজারো ইরাকি শিশুর অন্যতম, যারা আইএসের হাতে নিজের পিতা বা পিতা-মাতা উভয়কে হারিয়ে অনাথ হয়েছে। যদিও এ ধরনের অনাথ শিশুদের কোন নিশ্চিত পরিসংখ্যান নেই। তবে স্থানীয় এনজিও সিএনএস ফাউন্ডেশন এখন পর্যন্ত এমন ৭১২টি অনাথ শিশুকে চিহ্নিত করেছে। এরা সবাই ২০১৪ সালের জুনের পর আইএসের হাতে নিজের পিতা অথবা পিতা-মাতা উভয়কে হারিয়েছে। এরা সবাই অনুমোদিত শিবিরের বাইরে বসবাস করে। শিবিরের ভেতর বসবাসরত অনাথ শিশুদের কোন পরিসংখ্যান সিএনএস ফাউন্ডেশন দিতে পারেনি। অপরদিকে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এ বছর ‘সঙ্গীবিহীন’ শিশুদের ৫৮৮টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। এদের পিতা অথবা পিতা-মাতা নিহত কিংবা নিখোঁজ। ইরাকে মানবিক সহায়তা খুবই অপ্রতুল। ফলে এ পরিসংখ্যানেও পুরো চিত্র উঠে আসার সম্ভাবনা কম। ইউনিসেফের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ করিম এলকোরানি বলেন, এ শিশুরা বড় ধরনের ঝুঁকিতে আছে। যদি তারা একা থাকে, তবে তাদের বিপদের ঝুঁকি খুব বেশি। বিশেষ করে তাদেরকে সদস্য হিসেবে রিক্রুট করতে পারে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার শঙ্কাও আছে। সে তুলনায় দুনিয়া ও তার ভাইবোনকে ভাগ্যবানই বলতে হবে। কেননা, তাদের অন্তত প্রাণোচ্ছল মা আছেন। মুনতাহা নিজের সাত বছর বয়সী শিশুসন্তান এইসাকে কোলে নিয়ে বলে যাচ্ছেন, আমি এদেরকে ভালোভাবে বড় করতে কাজ করে যাচ্ছি। তাদেরকে একা বড় করা ছাড়া, আমার আর কোন উপায় নেই। আগে আমার স্বামী ছিলেন। কিন্তু এখন শুধু খোদার সাহায্য চাই আমরা।
বড় বোন দুনিয়ার মতো এইসাও বধির ও মূক হয়ে জন্মেছে। সেও সংকেতের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। নিজের মৃত পিতার কথা উঠতেই সে হাত দিয়ে গড়ন ইঙ্গিত করে দেখায়। মুনতাহা বলেন, কেউ এইসাকে তার পিতার কথা জিজ্ঞেস করলেই সে কাঁদে। এখনও সরকার থেকে কোন সহায়তা পাননি তিনি। কয়েকদিন আগে কুর্দি আঞ্চলিক সরকার পিতা হারানো পরিবারের জন্য অতিরিক্ত সহায়তার ঘোষণা দেয়। কিন্তু ওই ঘোষণা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। উদ্ধাস্তু পরিবারগুলো এখন ত্রাণসংস্থার সাহায্যের ওপরই নির্ভর করে।
সুলাইমানি বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক নাজার আমিন বলেন, ইরাক যুদ্ধের অনাথ শিশুরা বহু মানসিক রোগের শিকার হতে পারে। সাত বছর বয়সী শিশু খালেদের মতো অনেক শিশু আছে, যারা নিজের পিতামাতাকেও স্মরণ করতে পারে না।
মসুলে মূল আবাস ছিল খালেদের। এখন সেও বাস করে বাহারকা শিবিরে। আইএসের পূর্বসূরি আল কায়েদা ইন ইরাক তার পিতা-মাতাকে যখন হত্যা করে, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২ বছর। তার পিতা ছিলেন ইরাকি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য। এ কারণেই তাকে ও তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করেন খালেদের চাচা। খালেদ এখন চাচী নাদা সালেম ও চাচা রাকান সুলফেজের যত্নে বড় হচ্ছে। খালেদ ও তার বড় দুই যমজ ভাইবোন জয়নাব ও হামেদকে দত্তক নিয়েছেন তারা। যেসব শিশুকে কেউ দত্তক নেয় না, তাদের আশ্রয় হয় এতিমখানা বা আশ্রয়কেন্দ্রে। কিন্তু ইরাকের যে কারও পরিবার এত বড় থাকে যে, কেউ না কেউ দত্তক নিয়ে নেয় শিশুদের। সালেম যেমনটি বলছিলেন, আমাদের সমাজে কাউকে এতিমখানায় পাঠানো ঠিক কাজ নয়। আমাদের সংস্কৃতিতে এটা করা হয় না। আমি তাদের ছেড়ে যেতে পারবো না। আমি তাদের মায়ের মতো।

সিরিয়দের জন্য আমেরিকায় 'মুসলিম শহরের' দরজা খোলা

মিশিগানের হ্যামট্রাম্ক শহরটি আমেরিকায় 'মুসলিমদের শহর' বলেই পরিচিত। কারণ এখানকার বাসিন্দাদের বেশিরভাগই মুসলমান এবং অভিবাসী। যারা এসেছেন বাংলাদেশ, ইয়েমেন ও বসনিয়া থেকে। শহরটিতে মোট জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ মুসলমান।
যে দেশে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে সিরিয়া শরণার্থীদের অবজ্ঞার চোখে দেখছে, অথচ সেখানকার এই ছোট্ট শহরের বাসিন্দারা হাসিমুখে সিরিয় শরণার্থীদের স্বাগত জানাচ্ছেন।
হ্যামট্রাম্ককে বলা হতো 'দুই বর্গ কিলোমিটারের পৃথিবী'। যেখানে ২২ হাজার বাসিন্দার বসবাস।
এক সময় শহরটিতে ৯০ শতাংশ পোলিশ ক্যাথলিক বসবাস করতেন। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন 'মুসলিমদের শহরে' রূপান্তরিত হয়েছে। কাউন্সিলে মুসলমানদের সংখ্যাই বেশি। মসজিদগুলোতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আযান ধ্বনিত হয়।
সর্বশেষ আদমশুমারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আরবদের সংখ্যা ২৩ শতাংশ, বাংলাদেশী ১৯ শতাংশ এবং বসনিয়া ও অন্যান্য মুসলিম প্রায় নয় শতাংশ।
সম্প্রতি সেখানে যুক্ত হয়েছেন ৩৩ জন সিরিয়। তারা মুসলমান এবং সন্তানদের নিয়ে শরণার্থী পরিবারগুলো দেশ থেকে পালিয়ে এখানে এসেছে।
সিরিয়ার শরণার্থীরা দেশটিতে এসে প্যারিসের মতো হামলাতে পারে- এই তুমুল বিতর্কের মধ্যে হ্যামট্রাম্ক কর্তৃপক্ষ শরণার্থীদের জন্য শহরের দরজা খুলে দিয়েছে।
রিপাবলিক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেন কারসন এবং গত সপ্তাহে শরণার্থীদের প্রবেশের ব্যাপারে বিরোধীতাকারী ৩১ জন গভর্নরের মধ্যে মিশিগান গভর্নর রিক স্নাইডার ছিলেন সবার আগে।
অথচ মিশিগানের এ শহরের কর্মকর্তারা জোর গলায় বলেছেন, 'আমাদের শহরের দরজা সিরিয় শরণার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।'
৪০ বছরের থায়ের হোসেন সিরিয়ার বাসিন্দা। ২০১২ সালে স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান পরিবার নিয়ে পালিয়ে এসেছিলেন হ্যামট্রাম্ক শহরে।
বলেন, আমি কখনো মিশিগান ও হ্যামট্রাম্কের কথা শুনিনি। আমার কোনো ধারণা ছিল না এদের সম্পর্কে। কিন্তু যখন এখানে পা রাখলাম বুঝলাম, এরা আমার মতোই। এখানে মসজিদ আছে, প্রায় সবাই আমাদের মতোই কথা বলে। মনে হলো, আমার বাড়িতেই আছি।' 
শহরের মেয়র কারেন মাজেস্কি বলেন, আসলে কয়টি জনগোষ্ঠী এখানে বসবাস করে, তা কারো সঠিক জানা নাই। সবাইকে স্বাগত জানানো হয় এখানে। জনসংখ্যা বেশি নিয়ে তাদের কোনো দুঃশ্চিন্তা নেই।
সূত্র : ডেইলি মেইল

বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি -মার্কিন কংগ্রেসে শুনানি

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ কমছে না। গতকালই মার্কিন কংগ্রেসের টম ল্যানটস হিউম্যান রাইটস কমিশনে এ নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা। কমিশনের ওয়েবসাইটে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় এ ব্যাপারে শুনানির কথা বলা হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায়নি। ‘শ্রিঙ্কিং স্পেস ফর সিভিল সোসাইটি’ শীর্ষক সিরিজ ব্রিফিংয়ের এবারের বিষয়বস্তু হলো ‘হিউম্যান রাইটস ইন বাংলাদেশ’। ব্রিফিং নোটিশে চলতি বছরে ব্লগার হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এসব হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের অবনতিক্রম মানবাধিকার পরিস্থিতির একটি অংশ। দেশটিতে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার বিষয়গুলো বিশেষ উদ্বেগের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি সেন্সর করা হয়েছে। এসব সমালোচনাকারী কখনও গ্রেপ্তার হয়েছেন। কখনও বা নিখোঁজ হয়ে গেছেন। এতে বলা হয়, সম্প্রতি বিতর্কিত যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়ার পর দুইজন রাজনৈতিক বিরোধী নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের ঘাটতির জন্য সমালোচিত এই ট্রাইব্যুনাল। ধর্মীয় গোষ্ঠী, বিদেশি ও ধর্মনিরপেক্ষ কর্মীদের যেসব সহিংস উগ্রপন্থিরা টার্গেট করেছে তারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। বাংলাদেশে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দৃঢ় অবস্থান থাকতে পারে এমন রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে সংবেদনশীলতা আর উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতি নাগরিক সমাজের কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে সেলফ সেন্সরশিপ। নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বক্তব্য রাখার কথা প্যানেল সদস্যদের। আর মানবাধিকার রক্ষা ও তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলে বাংলাদেশ কিভাবে এসব উদ্বেগজনক রীতি মোকাবিলা করতে পারে তা নিশ্চিতে মার্কিন কংগ্রেসের কি কি করণীয় থাকতে পারে সে বিষয়গুলো তুলে ধরার কথা তাদের।
ব্রিফিংটি উন্মুক্ত রাখা হয় কংগ্রেসের সদস্য, কর্মকর্তা, গণমাধ্যম ও আগ্রহী জনসাধারণের জন্য। ব্রিফিংয়ে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখার কথা টম ল্যানটস হিউম্যান রাইটস কমিশনের দুই কো চেয়ার কংগ্রেসম্যান জেমস পি. ম্যাকগভার্ন ও কংগ্রেসম্যান জোসেফ আর. পিটস। ব্রিফিংয়ে আলোচক তালিকায় রাখা হয় নিহত ব্লগার অভিজিত রায়ের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা, ইউএস কমিশন ফর ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের সিনিয়র পলিসি অ্যানালিস্ট সাহার চৌধুরী, পেন আমেরিকান সেন্টারের মুক্ত মতপ্রকাশ কার্যক্রমের পরিচালক কারিন ডিউশ কারলেকার ও আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া সেন্টারের পরিচালক ভারত গোপালাস্বামী।

প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনঃ ভালো ভালো কথায়ও আড়াল হয়নি বিভেদ

প্যারিসে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে কয়েকটি
দ্বীপরাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
এ দ্বীপরাষ্ট্রগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের
ফলে বিপন্ন l ছবি: রয়টার্স
প্যারিসের জলবায়ু সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে এসে কথা বলছিলেন কিরিবাতির প্রেসিডেন্ট অ্যানোটে টং। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটি জলবায়ু পরিবর্তনের চরম শিকার। অ্যানোটে টং এবারের সম্মেলনে একটি শক্ত, আইনি বাধ্যবাধকতাসম্পন্ন চুক্তির পক্ষে কথা বলেছেন। কার্বন সৃষ্টিকারী কয়লা উত্তোলন স্থগিত করে দেওয়ার পক্ষেও ছোট এই রাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্ট।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের কথা শুনে বেশ উদ্দীপ্ত কিরিবাতির প্রেসিডেন্ট। বললেন, এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বনেতারা কিছু একটা করবেন বলে মনে হয়। বিশ্বনেতাদের প্রত্যেকের জন্য তিন মিনিট সময় বরাদ্দ ছিল কথা বলার। তবে সবাই তাঁদের ইচ্ছামতো সময় নিয়েছেন। ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে কথা বলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, এই জায়গাটায় আসতে ২০ বছর সময় লাগল কেন? আর বিশ্বনেতারা যে গরম গরম কথা বললেন, তাতে কিরিবাতির প্রেসিডেন্টের আশাবাদী হওয়ার কি যৌক্তিক কারণ আছে?
বিশ্বনেতাদের কথার মধ্যে অনেক ইতিবাচক দিক আছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সবার কথার মধ্যে মোটামুটি একই সুর। যেমন, জলবায়ু পরিবর্তন একটি বিরাট সমস্যা, বৈশ্বিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এর সমাধান করতে হবে। তবে তার দেশ এই পরিবর্তন রোধে যে অনেক কিছু করছে, তা বলতেও ভোলেননি কেউ।
জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কঠোর কর্মসূচির পক্ষে উচ্চকণ্ঠ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘এখানে সাফল্য অর্জন দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানের জন্য অপরিহার্য।’
ওবামা চুক্তির পক্ষে প্রতিশ্রুতি দিলেও তাতে যে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে, সে বিষয়ে অঙ্গীকার করেননি। কারণ, তিনি জানেন, আইনি বাধ্যবাধকতা আছে—এমন কোনো চুক্তি রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে পাস করা দুরূহ হবে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি চুক্তির পক্ষে বললেন। কিন্তু রাশিয়া কীভাবে অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা করছে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাচ্ছে, সে বিষয় বিশদে বলেননি।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কার্বন নিঃসরণকারী দেশ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কার্বন নিঃসরণে ধনী ও গরিব দেশের দায়িত্বশীলতা বণ্টনের পক্ষে অবস্থান নেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মতোই শি চান, ধনী দেশগুলোই বেশি করে কার্বন নিঃসরণ কমাক। এ ক্ষেত্রে আর্থিক দায়বদ্ধতাও নিক ধনী দেশগুলো।
এখন বিশ্বের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ কার্বনই নিঃসরণ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো। তবে ভারত ও চীন মনে করে, দূষণ সৃষ্টিতে ধনী দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা আছে।
২০০৯ সালে কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনে ধনী দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে জলবায়ু অর্থায়নে যে এক হাজার কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারও বাস্তবায়ন চান শি। এবারের সম্মেলনে এসবই আলোচনায় আসবে। তবে আগামী দুই সপ্তাহে নানা ধারার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কিছু উন্নতি হতেও পারে, না-ও পারে।
প্যারিস সম্মেলনে অংশ নেওয়া একজন আলোচক বলছিলেন, মূল বিষয়টি হচ্ছে বিশ্বনেতারা এখানে আসবেন, কথা বলবেন এবং খুব সযত্নে তৈরি করা বিভাজন ভেঙে দিতে কোনো কিছু না করেই খুশিমনে বাড়ি ফিরবেন।
ওই আলোচক আরও বলেন, বিশ্বনেতারা রাজনৈতিক জটিলতাগুলো ভালো করেই বোঝেন। কিছু কৌশলী পরামর্শ দিতেই এখানে তাদের আগমন। আমাদের দায়িত্ব এসব পরামর্শ লিখে রাখা।
সূত্র: বিবিসি।
লক্ষ্যমাত্রা: এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সীমা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা। শতাধিক দরিদ্র এবং দ্বীপ দেশের দাবি, এই লক্ষ্যমাত্রা আরও কঠোর করে দেড় ডিগ্রি করা হোক।
স্বচ্ছতা: উন্নয়নশীল দেশগুলোর দাবি, শিল্পোন্নত দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ রোধে বর্তমানের চেয়ে আরও বেশি দায়িত্ব নিক। কারণ, তারাই বেশি দূষণকারী। তবে শিল্পোন্নত দেশগুলো চায়, সবাইকেই সমানভাবে নিঃসরণ রোধ করতে হবে।
অর্থায়ন: কোপেনহেগেন সম্মেলনে ২০২০ সালের মধ্যে এক হাজার কোটি ডলার দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ধনী দেশগুলো, যাতে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে প্রযুক্তি ও অবকাঠামো তৈরি করা যায়। কিন্তু কোত্থেকে সেই অর্থ আসবে এবং কীভাবে এর বণ্টন হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি।

পুতিনকে এরদোগানের পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ

আইএস থেকে তেল কেনার জন্যই তুরস্ক রাশিয়ার বিমান ভূপাতিত করেছে বলে পুতিন যে অভিযোগ করেছে তা চ্যালেঞ্জ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।
এরদোগান চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন রাশিয়া যদি তাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারে তবে তিনি পদত্যাগ করবেন। এছাড়া যদি প্রমাণ করতে না পার তাহলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পদত্যাগ করবেন কি-না সে প্রশ্নও করেন তিনি।
এরদোয়ান বলেন, অভিযোগকারীর কাছে কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা উপস্থাপন করা উচিত।
আইএসের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে তুরস্ক। একই সঙ্গে তুর্কি সরকার বলেছে, তারা ওই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় ক্ষমা চাইবে না।
গত ২৪ নভেম্বর সিরিয়া সীমান্তে তুর্কি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এ ঘটনায় এক রুশ পাইলট নিহত হয়েছেন। আরেকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তুরস্কের দাবি, রুশ যুদ্ধবিমানটি তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল।
যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা নিয়ে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তুরস্কের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে রাশিয়া।
সিরিয়ায় আইএস বিরোধী যুদ্ধে রাশিয়া সিরিয়ার প্রধান মিত্র হিসেবে কাজ করছে।
সূত্র : বিবিসি

টেন্ডুলকার প্রথমে ইমরানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের হয়ে খেলেছেন!

এখন ভারতজুড়ে অসিহষ্ণুতার তাণ্ডব। পার্লামেন্টে পর্যন্ত এনিয়ে আলোচনা-তর্ক চলছে রোজ। শাহরুখ খানের মতো তারকাকেও শুনতে হচ্ছে 'পাকিস্তানের এজেন্ট'!
এই অবস্থায় একজনের কথা খুব মনে পড়তে পারে। তিনি হলেন শচিন রমেশ টেন্ডুলকার। কারণ, দুটি। এক, শচিন টেন্ডুলকারের থেকে বড় তারকা এই দেশে আর কেউ আছেন নাকি!
দুই, এই শচিন টেন্ডুলকারকে পাকিস্তান এতটাই সম্মান করে যে, পাকিস্তানের কেউ কেউ এমনও বলেছিল, 'শচিনকে আমাদের দিয়ে দাও। আমরা কাশ্মীর দিয়ে দেব।'
তাই পুরনো 'খবর' হলেও আজ আরো একবার সকলের সঙ্গে শেয়ার করা।
তাহলো, শচিন টেন্ডুলকার ভারতের হয়ে ক্রিকেট খেলার আগেই মাঠে নেমে পড়েছিলেন পাকিস্তানের হয়েই!
শচিনের ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। এর ঠিক দু'বছর আগে ১৯৮৭ সালে পাকিস্তান গিয়েছিল ভারতে খেলতে। মুম্বইয়ের ব্রেবোর্ন স্টেডিয়ামে হচ্ছিল প্রীতি ম্যাচ। পাকিস্তানের অধিনায়ক তখন ইমরান খান। লাঞ্চের সময় জাভেদ মিয়াঁদাদ এবং আবদুল কাদির মাঠ থেকে খানিকক্ষণের জন্য বাইরে যান। সেইসময় পাকিস্তানের হয়ে ফিল্ডিং করতে নামিয়ে দেয়া হয় বেড়ে ওঠা ক্রিকেটার শচিন টেন্ডুলকারকে! একটা চার বাঁচাতে শচিন অনেকটা দৌড়েওছিলেন। প্রায় ১৫ মিটার তো বটেই। কিন্তু সেই চার রান বাঁচাতে পারেননি!
পরে কেরিয়ারে এত রান করেছেন যে, রান বাঁচানোটা তার সঙ্গে মেলেও না।
তা হলে কী দাঁড়ালো? শচিন টেন্ডুলকারও খেলেছেন ইমরান খানের নেতৃত্বে। মাঠে নেমেছেন জাভেদ মিয়াঁদাদের পরিবর্তে। আর ফিল্ডিং করেছেন পাকিস্তানের হয়েই।
আমাদের দেশের ইতিহাস এটাই। শচিন নিজের আত্মজীবনী 'প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে'-তে লিখেছেনও সে কথা। বিষয়টাকে কতটা পজিটিভভাবে নেবেন, এবার সেটা আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
সূত্র : জি নিউজ

'উগ্র ইসলামপন্থীদের' চেয়ে শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীরা অনেক বড় হুমকি

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য 'উগ্র ইসলামপন্থীদের' চেয়ে শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীরা অনেক বড় হুমকি বলে এক গবেষণায় দেখা গেছে। প্যারিস ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইসলামভীতি ব্যাপকভাবে বেড়ে গেলেও গবেষণা দেখা গেছে, দেশটিতে দুই-তৃতীয়াংশ সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে ‌'ডানপন্থী হামলাকারীরা'।
গবেষণাটি চালান নিউ আমেরিকা ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম এসোসিয়েন ডেভিড স্টারম্যান। তিনি ভক্সকে বলেন, সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিদেশীরা হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু নাইন ইলেভেনের পরের হামলাগুলো পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এসবের ৮০ ভাগ ঘটিয়েছে মার্কিন নাগরিকেরা।
চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক মাইেকল মুরও একই কথা বলেছেন। তিনি কলোরাডোর এবরশন ক্লিনিকে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, এগুলো চালাচ্ছে বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গরা।
সূত্র : এক্সপ্রেস ট্রিবিউন