Friday, December 12, 2025

কেন গ্রেসি ম্যানশনে উঠছেন মামদানি, সেখানে কি আছে?

নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি আগামী জানুয়ারিতে ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডে অবস্থিত ঐতিহাসিক গ্রেসি ম্যানশনে উঠছেন। কয়েক বছর ধরে তিনি কুইন্সের যে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন সেখান থেকে এই বিলাসবহুল সরকারি বাসভবনে যাত্রা বহু পর্যবেক্ষকের নজর কেড়েছে। বিশেষত তিনি যেহেতু আবাসন ন্যায়সংগতির প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

১৭৯৯ সালে নির্মিত হলুদ রঙের ফেডারেল-স্টাইলের এই বাড়িটি ১৯৪২ সাল থেকে নিউইয়র্ক সিটির সরকারি মেয়রের বাসভবন। এটি কার্ল শুর্ৎস পার্কের ভেতরে ইস্ট রিভারের কাছে অবস্থিত। মূল ভবনটিতে পাঁচটি শোবার ঘর, পাঁচটি বাথরুম এবং ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্যযুক্ত উচ্চ সিলিং ও ফায়ারপ্লেস রয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে যোগ করা হয় সুসান ই. ওয়াগনার উইং, যেখানে সরকারি অনুষ্ঠান, সভা ও অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। পুরো কমপ্লেক্সের আয়তন এখন প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার বর্গফুট। ১৯৮১ সাল থেকে একটি পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্ব বাসস্থানটির রক্ষাণাবেক্ষণ করছে। যার লক্ষ্য এটি ‘জনগণের বাড়ি’ হিসেবে উন্মুক্ত রাখা।
গ্রেসি ম্যানশনের ভবনটি তৈরি করেছিলেন স্কটিশ-আমেরিকান শিপিং ব্যবসায়ী আর্চিবল্ড গ্রেসি। আর্থিক সংকটে তিনি বাড়িটি হারালেও তার নামই থেকে যায়। ১৮৯৬ সালে নিউইয়র্ক সিটি ভবনটিকে অধিগ্রহণ করে পার্কের অন্তর্ভুক্ত করে এবং পরে এটি বিভিন্ন সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এর মধ্যে অস্থায়ীভাবে সিটি মিউজিয়ামের আবাসও ছিল। ১৯৪২ সালে পার্কস কমিশনার রবার্ট মোজেসের সুপারিশে মেয়র ফিয়োরেলো লা গুয়ার্ডিয়া এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র বাসভবন ঘোষণা করেন।

নিউইয়র্কে নির্বাচিত বেশিরভাগ মেয়রই গ্রেসি ম্যানশনে থেকেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এড কচ, ডেভিড ডিঙ্কিন্স, বিল ডে ব্লাসিও ও এরিক অ্যাডামস। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম ছিলেন মাইকেল ব্লুমবার্গ। তিনি নিজের ব্যক্তিগত টাউনহাউজেই থাকতেন এবং গ্রেসি ম্যানশন কেবল আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করতেন।
৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, তিনি ও তার স্ত্রী শিল্পী রামা দুয়াজি জানুয়ারিতে গ্রেসি ম্যানশনে উঠবেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সরকারি দায়িত্ব পালনে সুবিধা এবং আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতা-কেন্দ্রিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে মনোযোগী হওয়ার স্বার্থেই সরকারি বাসভবনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন- ভাড়া অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসের অভিজ্ঞতাকে তিনি যে তার রাজনৈতিক বার্তার অংশ করেছিলেন, তা সরকারি প্রাসাদে উঠে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে।

গ্রেসি ম্যানশন বহুবার বিভিন্ন বিক্ষোভের কেন্দ্র হয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার সংক্রান্ত আন্দোলনে বাড়িটির সামনে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছে। ২০২৩ সালে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে মানবাধিকারকর্মীদের মুখোমুখি সংঘর্ষও ঘটে এখানেই। ২০২৩-২৪ সালে মেয়র এরিক অ্যাডামস যখন গৃহহীনদের ‘রাইট-টু-শেল্টার’ আইন সীমিত করার উদ্যোগ নেন, তখনও গ্রেসি ম্যানশনের সামনে বড় বিক্ষোভ হয়।
মামদানির প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল শহরের আবাসন সংকট মোকাবিলা। তিনি একাধিক বছর ভাড়া-ফ্রিজ, ভাড়াটিয়া সুরক্ষাবৃদ্ধি, সামাজিক আবাসন সম্প্রসারণ এবং জমিদারদের জল্পনামূলক ক্রয়ের নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং অ্যান্ড ভ্যাকান্সি সার্ভে অনুযায়ী, শহরের ভাড়া-উপযোগী বাসস্থানের খালি থাকার হার মাত্র ১.৪১ শতাংশ। যা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মতে গভীর সংকটের ইঙ্গিত। এছাড়া ২৪ লাখ ভাড়া বাসার মধ্যে ৩৩ হাজার এখনও খালি। শহরটিতে মধ্যম রেঞ্জের বাসার ভাড়া প্রায় ৩৬০০ ডলার। আয়ের তুলনায় ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেশি। যেমন- ম্যানহাটনে গড় মাসিক আয় ৫১০০ ডলার, এক বেডরুম ভাড়া ৪২০০ ডলার। ব্রুকলিনে আয় ৩৪০০ ডলার, ভাড়া ২৮০০ ডলার।

https://mzamin.com/uploads/news/main/193607_Kaium-2.webp

‘এরপর তাঁর পালা’: কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোকে ট্রাম্পের হুমকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, দক্ষিণ আমেরিকার এই নেতা তাঁর মাদকবিরোধী অভিযানের পরবর্তী নিশানা হতে পারেন।

গতকাল বুধবার হোয়াইট হাউসে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক গোলটেবিল বৈঠকে ট্রাম্পকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, তিনি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোর সঙ্গে কথা বলেছেন কি না। এই প্রশ্নের পরই রিপাবলিকান নেতা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।

ট্রাম্প প্রথমে বলতে শুরু করেন, ‘আসলে আমি তাঁকে (পেত্রো) নিয়ে খুব বেশি ভাবিনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেশ শত্রুভাবাপন্ন ছিলেন।’ এরপর বেশ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘তিনি যদি নিজের ভালো না বোঝেন, তাহলে তাঁকে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘কলম্বিয়া প্রচুর মাদক উৎপাদন করছে। তাদের কোকেন তৈরির কারখানা আছে। আপনারা জানেন, তারা কোকেন তৈরি করে এবং তা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করে। সুতরাং, তাঁর ভালো হওয়া উচিত, নয়তো এরপর তাঁর পালা। এরপর তাঁর পালা। আমি আশা করি, তিনি শুনছেন। এরপর তাঁর পালা, কারণ যাঁরা মানুষ হত্যা করেন, তাঁদের আমরা পছন্দ করি না।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন তিনি ক্যারিবীয় সাগরে একটি তেল ট্যাঙ্কার দখলে নেওয়ার জন্য মার্কিন সামরিক অভিযানের বিষয়ে কথা বলছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল কথিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য ভেনেজুয়েলা ও ইরানকে শাস্তি দেওয়া।

আধুনিক কলম্বিয়ার ইতিহাসে প্রথম বামপন্থী নেতা পেত্রোর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ।

পেত্রোকে নিয়ে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্যের কারণে কলম্বিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। এই দেশটি বৈশ্বিক ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার ছিল।

‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ অংশীদার

জানুয়ারিতে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে ফিরে আসার আগপর্যন্ত দক্ষিণ আমেরিকায় কলম্বিয়া ছিল মার্কিন সহায়তার অন্যতম বৃহত্তম প্রাপক।

কলম্বিয়া কেবল তাদের সীমান্তের মধ্যে কোকেন উৎপাদন নিয়েই সংগ্রাম করছে না, বরং ছয় দশক ধরে চলা অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়েও লড়ছে। সেখানে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে রয়েছে বামপন্থী বিদ্রোহী, ডানপন্থী আধা–সামরিক ও অপরাধী চক্র।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, কোকেন ও অন্যান্য পণ্যের কাঁচামাল কোকা উৎপাদনে কলম্বিয়া বিশ্বে বৃহত্তম। প্রায় ২ লাখ ৫৩ হাজার হেক্টর বা ৬ লাখ ২৫ হাজার ১৭৬ একর জমিতে কোকা চাষ হয়।

সমালোচকদের যুক্তি, কোকা নির্মূলের চেষ্টা করা হলেও গ্রামীণ কৃষকদের বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি করা হয়নি। ফলে তাঁরা অসুবিধায় পড়েছেন।

এর পরিবর্তে পেত্রোর সরকার সেই অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো শুরু করেছে, যারা এই পাতাটিকে মাদকে রূপান্তর করে।

তবে পেত্রোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীদের অভিযোগ, কলম্বিয়ায় কোকেন উৎপাদন বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

এই ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, গত ২৩ অক্টোবর তিনি পেত্রোকে একজন ‘গুন্ডা’ বলে অভিহিত করে বলেন, কলম্বিয়া আর ‘খুব বেশি দিন পার পাবে না’।

২ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কলম্বিয়ায় সরাসরি হামলার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। তিনি মন্ত্রিসভাকে বলেন, ‘আমি শুনছি কলম্বিয়া দেশটি কোকেন তৈরি করছে। যারা এটি করছে এবং আমাদের দেশে বিক্রি করছে, তাদের ওপর হামলা চালানো হতে পারে।’

তবে পেত্রো তাঁর কাজের বর্ণণা দেন এবং মাদক উৎপাদনকারী স্থাপনা ধ্বংসের জন্য তাঁর সরকারের চালানো অভিযানের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর দায়িত্বকালে ১৮ হাজার ৪০০টি মাদক পরীক্ষাগার ধ্বংস করা হয়েছে।

ডিসেম্বরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকির দ্রুত জবাব দেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে পেত্রো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে মনে করিয়ে দেন, তাঁর দেশ ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ অপরিহার্য অংশ ছিল।

পেত্রো লেখেন, ‘যদি কোনো দেশ মার্কিনদের হাজার হাজার টন কোকেন সেবন বন্ধ করতে সাহায্য করে থাকে, তবে তা হলো কলম্বিয়া।’

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করিয়ে লেখেন, ‘মিত্র দেশের ওপর আক্রমণ চালিয়ে তিনি যেন জাগুয়ারকে জাগিয়ে না তোলেন।’ তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত করার অর্থ যুদ্ধ ঘোষণা করা। দুই শতাব্দীর কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষতি করবেন না।’

এর বদলে পেত্রো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কোকেন পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরাসরি অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, ‘কলম্বিয়ায় আসুন মি. ট্রাম্প। আমি আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যাতে আপনি আমাদের প্রতিদিন ভেঙে ফেলা নয়টি পরীক্ষাগার ধ্বংসের কাজে অংশ নিতে পারেন।’

বিস্তৃত সংঘাত

মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই ছাড়াও অন্য আরও বেশ কিছু বিষয়ে পেত্রো ও ট্রাম্পের মধ্যে বাদানুবাদ হয়েছে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় গত ২৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়নের বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই নেতার মধ্যে কথার লড়াই হয়।

প্রায়শই যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া ও হাতকড়া পরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের বিতাড়নের কঠোর সমালোচনা করেন পেত্রো। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়ার অভিবাসীদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ করতে পারে না।’

পেত্রো সতর্ক করে দেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের নিয়ে আাসা উড়োজাহাজ গ্রহণ করবেন না।

জবাবে ট্রাম্প কলম্বিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন, যা পরে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত পেত্রো পিছু হটতে বাধ্য হন।

তবে দুই নেতা ক্রমাগত বাগ্‌যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, ট্রাম্প পেত্রোর ‘টোটাল পিস’ পরিকল্পনার কঠোর সমালোচক, যা কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জড়িয়ে থাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনার একটি নীলনকশা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে পেত্রোকে শাস্তি দেওয়ার জন্যও পদক্ষেপ নিয়েছেন। সেপ্টেম্বরে পেত্রো নিউইয়র্ক নগরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যান। সেখানে তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে অংশ নেন।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন পেত্রোর বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া ও উস্কানিমূলক কার্যকলাপের’ অভিযোগ এনে তাঁর ভিসা বাতিল করে। পরের মাসে তারা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাঁর যেকোনো সম্পদ জব্দ হয়ে যাবে।

অন্যদিকে, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ট্রাম্পের বোমা হামলার অন্যতম কঠোর সমালোচক হয়ে উঠেছেন। ২ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ক্যারিবীয় সাগরে কমপক্ষে ২২টি নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যাতে প্রায় ৮৭ জন নিহত হয়েছেন।

গত ১৭ অক্টোবর একটি নৌযানে হামলায় কলম্বিয়ার ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন), একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যদের লক্ষ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ১৬ অক্টোবর আরেকটি হামলায় দুজন বেঁচে গিয়েছিলেন, যাঁদের একজন কলম্বিয়ার নাগরিক।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। পেত্রো এসব হামলাকে ‘হত্যা’ ও কলম্বিয়ার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। ছবি: রয়টার্স

সুন্দরী প্রেস সেক্রেটারির ভূয়সী প্রশংসা ট্রাম্পের: ওই সুন্দর মুখ, ঠোঁট মেশিনগানের মতো

হোয়াইট হাউসে নিজের সুন্দরী প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের রূপের ভূয়সী প্রশংসা করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ক্যারোলিন লেভিটের ‘সুন্দর মুখ’ ও ‘ঠোঁট’ নিয়ে উচ্ছ্বসিত এই প্রশংসা করেন তিনি। মূলত অর্থনৈতিক এজেন্ডা তুলে ধরার জন্য পেনসিলভ্যানিয়াতে এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছিলেন ট্রাম্প। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। সেখানে ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক সাফল্য নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ প্রসঙ্গ বদলে ২৮ বছর বয়সী লেভিটকে ‘চমৎকার’ বলে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। তিনি দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজ আমরা আমাদের সুপারস্টার ক্যারোলিনকেও এনেছি। ও কি দারুণ না? ক্যারোলিন কি দারুণ না?’ এরপর তিনি লেভিটের শারীরিক সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করতে থাকেন। ক্যারোলিন লেভিট তার চেয়ে বয়সে পঞ্চাশ বছরেরও বেশি ছোট। ট্রাম্প বলেন, যখন সে টেলিভিশনে যায়- ফক্সে, আমি বলতে চাই, তারা দাপট দেখায়, পুরো দাপট... যখন সে সেই সুন্দর মুখ আর ওই ঠোঁট নিয়ে উপস্থিত হয়- যা থামে না, (ওর সেই ঠোঁট) ছোট্ট এক মেশিনগানের মতো’। এসময় ট্রাম্প অদ্ভুত শব্দও করেন। তিনি আরও বলেন, ‘তার কোনো ভয় নেই... কারণ আমাদের নীতিগুলো ঠিক আছে। আমাদের নারীদের খেলায় পুরুষ খেলোয়াড় নেই। আমাদের ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু সবাইকে ‘বিক্রি’ করতে হয় না। আমাদের খোলা সীমান্তও নেই, যেখানে কারাগার থেকে শুরু করে সারা পৃথিবীর মানুষ ঢুকে পড়ে। তাই তার কাজটা একটু সহজ। আমি কিন্তু অন্য পক্ষের প্রেস সেক্রেটারি হতে চাইতাম না।’

এ ধরনের মন্তব্য এর আগেও করেছেন ট্রাম্প। আগস্ট মাসে নিউজম্যাক্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি প্রায় একইভাবে লেভিটের সৌন্দর্য ও কথা বলার ধরন নিয়ে মন্তব্য করেন। সেই সময় তিনি বলেন, ‘ওই মুখ... ওই মস্তিষ্ক... ওই ঠোঁট- যেভাবে নড়ে, ঠিক মেশিনগানের মতো নড়ে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘আমার মনে হয় না, কখনও কোনো প্রেসিডেন্ট এর চেয়ে ভালো প্রেস সেক্রেটারি পেয়েছেন।’

লেভিট ২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনে সহকারী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেন। নিউ হ্যাম্পশায়ারের এই নারী বিবাহিত। তার স্বামী রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার নিকোলাস রিচিও (৬০)। তাদের এক ছেলে আছে। নাম নিকো। কংগ্রেসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন এবং ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি হন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি পঞ্চম প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

mzamin

ইউরোপের প্রতি কেন এতটা ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, এতে লাভ হচ্ছে কার

রাশিয়ার মস্কোয় গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা ইউক্রেন শান্তিচুক্তি–সংক্রান্ত আলোচনায় তেমন অগ্রগতি করতে পারেননি। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার যে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের মধ্যে দূরত্ব যত গভীর হচ্ছে, তা রাশিয়ার জন্যই লাভজনক হয়ে উঠছে।

গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আবারও ইউরোপের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ইউরোপ তাদের অভিবাসন নীতির কারণে ‘দুর্বল’ হয়ে পড়ছে। অঞ্চলটি ক্রমেই পতনের দিকে যাচ্ছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে যুদ্ধের ক্ষেত্রে রাশিয়া সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। তিনি মনে করেন, যুদ্ধ বন্ধের জন্য এখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকেই এগিয়ে আসতে হবে। তাঁকেই ‘বিভিন্ন বিষয় মেনে নেওয়া শুরু’ করতে হবে। কারণ, তিনি পরাজিত হতে যাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রকাশ করেছে। সেখানে ইউক্রেনকে সমর্থন করার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, ‘ইউরোপীয় কর্মকর্তারা যুদ্ধ নিয়ে বাস্তববাদী নন, তাঁরা শান্তিচুক্তির পথে বাধা তৈরি করছেন।’

নথিতে আরও বলা হয়েছে, বেশির ভাগ ইউরোপীয় মানুষ শান্তি চান। কিন্তু সে আকাঙ্ক্ষাটুকু নীতিতে রূপান্তর করা হয় না।

গতকাল জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস নিরাপত্তা কৌশলটির সমালোচনা করেছেন। এদিন এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এর (নিরাপত্তা কৌশল) কিছু অংশ বোঝা যায়, কিছু অংশ গ্রহণযোগ্য, আর কিছু অংশ আমাদের জন্য ইউরোপীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।’

ফ্রিডরিখ আরও বলেন, ইউরোপের গণতন্ত্র রক্ষা করতে ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যের প্রয়োজন নেই।

রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্থিতিশীল সম্পর্কের পথে ইউরোপকে একটি অগণতান্ত্রিক বাধা হিসেবে দেখাতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। আর তা রাশিয়ার কর্মকর্তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে।

রাশিয়ার ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (ডিআইএফ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কিরিল দিমিত্রিয়েভ এই সুযোগকে কাজেও লাগিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক পোস্ট দিয়েছেন। তিনি ইউরোপকে নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনাগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছেন।

ইউরোপীয় অনলাইন কনটেন্ট বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকেরা গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সকে ১৪ কোটি ডলার জরিমানা করেছে। এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইউরোপকে নিয়ে নানা সমালোচনা করেন।

জরিমানা করার প্রতিক্রিয়ায় এক্সের মালিক ইলন মাস্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ‘বিলুপ্ত’ করার আহ্বান জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন।

ইউরোপীয়রা গণতন্ত্র চর্চার দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে বলে ট্রাম্প প্রশাসন যে অভিযোগ তুলেছে, তাকে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে উপস্থাপন করাটা একটু হাস্যকরই বলা চলে। কেননা, দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার ক্ষমতায় থাকাকালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করেছেন।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকেও নাই করে দিয়েছেন পুতিন। তার ওপর রাশিয়া কার্যত ফেসবুক ও এক্সের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় প্রবেশাধিকার বন্ধ করে রেখেছে। অথচ দিমিত্রিয়েভের মতো প্রভাবশালী রুশ কর্মকর্তারা ইংরেজিতে নিজেদের বক্তব্য ছড়িয়ে দিতে এসব প্ল্যাটফর্মই ব্যবহার করেন।

মনে হচ্ছে এখানে রাশিয়ার একটি পরিকল্পিত কৌশল আছে। তারা ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপের সমর্থন কমাতে চাচ্ছে এবং ন্যাটো জোটের শক্তি নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিরাপত্তা কৌশল মস্কোকে তথ্যযুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মানুষের মনোভাব প্রভাবিত করতে পারার মতো সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় নেতাদের সমর্থন দৃঢ় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সময়ে ইউরোপকে উদ্দেশ করে রুশ সতর্কবার্তার সুর আরও জোরালো হচ্ছে।

রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কট্টরপন্থী রুশ রাজনীতি বিশ্লেষক সের্গেই কারাগানভ বলেন, ‘রাশিয়া ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করছে, কোনো দুর্দশাগ্রস্ত, করুণ অবস্থায় থাকা, ভুল পথে চালিত ইউক্রেনের সঙ্গে নয়।’

কারাগানভের দাবি, তিনি পুতিনের হয়ে কথা বলেন না, তাই নির্দ্বিধায় নিজের মত জানাতে পারেন। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ শেষ হবে না, যতক্ষণ না আমরা ইউরোপকে নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করতে পারছি।’

তবে কারাগানভ রুশ সরকারের হয়ে কথা না বললেও এটা পরিষ্কার যে তিনি আসলে পুতিনেরই হুমকির ভাষারই পুনরাবৃত্তি করছেন।

গত সপ্তাহে মস্কোয় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জারেড কুশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই পুতিন সতর্ক করে বলেছিলেন, এখনই ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করার মতো প্রস্তুতি রাশিয়ার আছে। তবে দেশটি যুদ্ধ শুরুর পরিকল্পনা করছে না।

পুতিন বলেন, ‘আমরা ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধের পরিকল্পনা করছি না। আমি এ বিষয়ে শতবার কথা বলেছি। কিন্তু ইউরোপ যদি হঠাৎ আমাদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় এবং যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে বলব আমরা এখনই প্রস্তুত।’

এই হুমকির ভাষা কাকে উদ্দেশ করে বলা হচ্ছে, তা স্পষ্ট। ক্রেমলিন চাচ্ছে ইউরোপীয়রা আতঙ্কিত হোক। কারণ, এসব কথা তাদের ট্রান্স–আটলান্টিক সম্পর্ককে নড়বড় করে দিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

প্রকৃতির কাছে ধরাশায়ী ইসরায়েল, সেনাদের জন্য নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনা

নতুন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইসরায়েল। দেশটিতে তীব্র বৃষ্টি ও প্রবল বাতাস নিয়ে আঘাত হানছে ঘূর্ণিঝড় বাইরন। এর ফলে দেশজুড়ে বন্যা ও বিপজ্জনক আবহাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার পূর্বাভাসের পর সন্ধ্যায় দেশজুড়ে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া সেনাদের জন্য নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবহাওয়া আরও খারাপ হতে শুরু করেছে। এর ফলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির পুরো সামরিক বাহিনীর জন্য নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেন। নির্দেশনা অনুযায়ী, বুধবার রাত ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সৈন্যরা তাদের ঘাঁটি ছেড়ে সপ্তাহান্তের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে পারবে না।

আইডিএফ জানিয়েছে, সব ধরনের আউটডোর তথা হেঁটে বা যানবাহনে প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু মেজর জেনারেলের অনুমতি ছাড়পত্র দিতে পারবেন। নেভিগেশন বা ক্যামোফ্লাজ প্রশিক্ষণসহ অনুরূপ সব অনুশীলন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাতে বাইরে অবস্থান করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে অপারেশনাল প্রয়োজন হলে সেই ক্ষেত্রেও আঞ্চলিক ডিভিশন কমান্ডারের অনুমোদন আবশ্যক। টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, রুটিন নিরাপত্তা কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে শুধুমাত্র অপরিহার্য কাজে। একইভাবে ফুট প্যাট্রলসহ সব ধরনের অপারেশনাল চলাচল সীমিত করা হয়েছে। লজিস্টিক কার্যক্রমের জন্য কর্নেল বা কর্পস কমান্ডারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশনা শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানায় আইডিএফ।

ঘূর্ণিঝড় বাইরন গ্রিস ও সাইপ্রাসে তাণ্ডব চালানোর পর ইসরায়েলে আঘাত হানতে শুরু করেছে। বুধবার দিনভর আরও শক্তিশালী হতে থাকে এটি। বুধবার রাত এবং বৃহস্পতিবার ঝড়টি সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাবে বলে সতর্ক করা হয়।

এর আগে বুধবার সকালে নতুন মূল্যায়নের পর আইডিএফ দক্ষিণাঞ্চলের প্রত্যন্ত ঘাঁটির সৈন্যদের নিরাপদে বাড়ি পাঠাতে বৃহস্পতিবার বা শুক্রবারের পরিবর্তে বুধবারই ছুটি দিয়ে দেয়। দক্ষিণাঞ্চলে বহু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে, যেখানে আইডিএফের বড় বড় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে।

ইসরায়েলি আবহাওয়া অধিদপ্তর বুধবার রাত ১০টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকা এবং শফেলা অঞ্চলে লাল সতর্কতা জারি করে। এসব এলাকায় ১০০-১৫০ মিমি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সেনারা। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সেনারা। ছবি: সংগৃহীত

তুলা আমদানি: ভারতের কাছ থেকে সরে যাচ্ছে বাংলাদেশ

ইন্ডিয়া টুডের রিপোর্টঃ তুলা আমদানিতে এখন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় উৎস হলো ব্রাজিল। এর মধ্য দিয়ে এ খাতে ভারতের কাছ থেকে সরে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ‘বাংলাদেশ মুভস অ্যাওয়ে ফ্রম ইন্ডিয়া, মেকস ব্রাজিল ইটস টপ কটন সোর্স’ শীর্ষক রিপোর্টে এ কথা বলেছে ইন্ডিয়া টুডে। এতে আরও বলা হয়, বিশ্বের অন্যতম টেক্সটাইল বাজারের ওপর ভারতের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে কাঁচা তুলার বৃহত্তম উৎস হয়ে উঠেছে ব্রাজিল। চীনের পর বিশ্বে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বৃহৎ রপ্তানিকারক বাংলাদেশ। তবে ভারতকে টপকে ব্রাজিলের দিকে মনোনিবেশ করা হয়েছে বাংলাদেশে শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তনের কয়েক মাস পরে। সেখানে ২০২৪ সালে ছাত্রদের নেতৃত্বে গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (ইউএসডিএ) এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতকে টপকে বাংলাদেশে শীর্ষ সরবরাহকারী দেশ হয়ে উঠেছে ব্রাজিল। ওই রিপোর্টে বাংলাদেশে শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তনের বিষয়েও বলা হয়েছে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে তুলা বা সুতা সরবরাহের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী এখনও ভারত। ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে বাংলাদেশে মোট তুলা বা সুতা আমদানির শতকরা প্রায় ৮২ ভাগ এসেছে ভারত থেকে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে মোট রপ্তানি আয়ের শতকরা কমপক্ষে ৮০ ভাগ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে রয়টার্সের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই রপ্তানি থেকে আসে দেশের বার্ষিক জাতীয় প্রবৃদ্ধির (জিডিপি) শতকরা প্রায় ১০ ভাগ। তৈরি পোশাক খাতে নিয়োজিত আছেন প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। এর মধ্যে বেশির ভাগই নারী। ২০২৪-’২৫ মার্কেটিং বছরে (আগস্ট ২০২৪-জুলাই ২০২৫) রেকর্ড ৮.২৮ মিলিয়ন বেল তুলা বা সুতা আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ব্রাজিল সরবরাহ দিয়েছে ১.৯ মিলিয়ন বেল। এটা মার্কেটের শতকরা ২৫ ভাগ শেয়ারের সমান।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি মন্ত্রণালয় ডিসেম্বরে প্রকাশিত রিপোর্টে বলেছে, এ সময়ে ১.৪ মিলিয়ন বেল তুলা সরবরাহ দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে গেছে। ঠিক এক বছর আগে ভারত ১.৭৯ মিলিয়ন বেল রপ্তানি করে শীর্ষে ছিল। তখন রপ্তানিতে শতকরা ২৩ ভাগ ছিল ভারতের। বাংলাদেশে স্পিনিং শিল্পে কাঁচা তুলা দুই রকম সুতা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তা হলো সুতির সুতা এবং মিশ্র সুতা। ২০২৪-২৫ বিপণন বছরে বাংলাদেশের মোট তুলা আমদানি গত বছরের তুলনায় ৫.২ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউএসডিএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ সালে যেখানে ৭.৮ মিলিয়ন বেল তুলা আমদানি হয়েছিল, সেখানে এ বছরে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে কাঁচা তুলার সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে উঠে এসেছে ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্র (৭ ভাগ শেয়ার), অস্ট্রেলিয়া এবং পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি দেশও প্রধান সরবরাহকারী। 

mzamin

বিতণ্ডার মধ্যে মাকে ছুরিকাঘাত, চিৎকারে ঘুম থেকে উঠে এলে মেয়ের ঘাড়ে কোপ -গৃহকর্মীর বরাতে পুলিশ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা–মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, বাসাটি থেকে দুই হাজার টাকা চুরি হওয়া নিয়ে গৃহবধূ লায়লা আফরোজের সঙ্গে গৃহকর্মীর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরেই মা–মেয়ে খুনের এ ঘটনা ঘটে।

গত সোমবার মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি ভবনের সপ্তম তলার বাসায় লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার একমাত্র সন্তান নাফিসা নাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) গলা কেটে হত্যা করা হয়। চার দিন আগে ওই বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নিয়েছিলেন আয়েশা (২০)। গতকাল বুধবার দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি থেকে আয়েশা ও তাঁর স্বামী রাব্বীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

কেন এই হত্যাকাণ্ড, সে বিষয়ে আয়েশার দেওয়া বক্তব্যের বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োজিত থেকে চুরি করার অভ্যাস তাঁর আগ থেকেই ছিল। এই বাসায় কাজে যোগ দেওয়ার দ্বিতীয় দিন আয়েশা গৃহকর্তার মানিব্যাগ থেকে দুই হাজার টাকা চুরি করেন। এ নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে গৃহকর্ত্রী লায়লা আফরোজের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। গৃহকর্ত্রী আয়েশাকে পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখান। এ নিয়ে কাজের তৃতীয় দিনেও দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

নজরুল ইসলাম বলেন, চতুর্থ দিনে কাজে যাওয়ার সময় আয়েশা পরিকল্পনা করেন, তাঁর সঙ্গে আবার বিতণ্ডা হলে তিনি লায়লাকে ছুরিকাঘাত করবেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বাসা থেকে সুইচ গিয়ার ছুরি সঙ্গে করে নিয়ে যান। সেদিন লায়লার সঙ্গে আয়েশার আবার কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে লায়লা তাঁর স্বামীকে মোবাইলে কল দিতে গেলে আয়েশা পেছন থেকে তাঁর ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করেন। তখন তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এরপর আয়েশা ছুরি দিয়ে লায়লাকে একের পর এক আঘাত করেন। তখন পাশের ঘুরে ঘুমিয়ে ছিল লায়লার মেয়ে নবম শ্রেণিপড়ুয়া নাফিসা। চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে এসে মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে সে বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীকে ফোন করতে যায়। তখন তার ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করেন গৃহকর্মী আয়েশা।

নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন আয়েশা নিজেও আহত হন। এরপর তিনি নিজের রক্তমাখা পোশাক পাল্টে নাফিসার স্কুলড্রেস পরে একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল নিয়ে চলে যান।

মা–মেয়েকে হত্যার পর বাসা থেকে বেরিয়ে আয়েশা কীভাবে চলে যান, তার বর্ণনা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান ও অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা। তাঁরা জানান, আয়েশা ওই বাসা থেকে বেরিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে যান। সেখানে গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করে সাভারের দিকে চলে যান। তাঁদের বাসা সাভারের হেমায়েতপুরে। স্বামী রাব্বীর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তাঁরা ওই বাসা থেকে চুরি করে নেওয়া মোবাইল ও তাঁর নিজের রক্তমাখা কাপড় সিঙ্গাইর সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেন। পরে তাঁরা আত্মগোপনে থাকার জন্য ঝালকাঠির নলছিটিতে রাব্বীর দাদাবাড়ি চলে যান।

চুরির এক জিডির সূত্র ধরে আয়েশাকে শনাক্ত

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, ওই বাসায় কাজে যোগ দেওয়ার সময় আয়েশার কোনো মোবাইল নম্বর, ঠিকানা রাখা হয়নি। গত জুলাইয়ে মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের হওয়া চুরির ঘটনাসংক্রান্ত একটি জিডির সূত্র ধরে তাঁকে শনাক্ত করে পুলিশ। ওই জিডিতে বলা হয়, বাবর রোডের একটি বাসা থেকে আয়েশা আট হাজার টাকা ও একটি সোনার আংটি চুরি করেছিলেন।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ওই জিডির তদন্ত কর্মকর্তা আয়েশার কাছ থেকে চুরি হওয়া টাকা ও সোনার আংটি উদ্ধার করেছিলেন। মা–মেয়ে খুনের ঘটনা উদ্‌ঘাটনে বসা বৈঠকে ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, বাবর রোডের বাসা থেকে সোনার আংটি চুরি করা আয়েশার গলার একপাশে পোড়া দাগ রয়েছে। আয়েশার দেওয়া একটি মুঠোফোন নম্বর রয়েছে বলে জানান তিনি। মা–মেয়ে খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটনে এটাই ছিল একমাত্র ক্লু (সূত্র)। ওই মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে মহসিন নামের একজন ফোন ধরে জানান, একটি ঘটনায় তিনি জেলে গিয়েছিলেন। সেই সময় নম্বরটি তাঁর বন্ধু রাব্বী ব্যবহার করতেন। মোবাইলের ডিসপ্লে নষ্ট থাকায় তা ঠিক করতে কিছুদিন আগে রাব্বী সেটি তাঁকে দিয়েছিলেন। মহসিন জানান, রাব্বীর স্ত্রীর নাম আয়েশা, গৃহকর্মীর কাজ করেন এবং সাভারের হেমায়েতপুরে থাকেন। এভাবে রাব্বীকে শনাক্ত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, আয়েশার খোঁজে হেমায়েতপুরে তাঁদের ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে রাব্বী ও তাঁর স্ত্রীকে পাওয়া যায়নি। ওই বাসায় আয়েশার সঙ্গে তাঁর শাশুড়ি ও মা থাকতেন। তাঁদের কাছ থেকে আয়েশা বরিশালে যেতে পারেন এমন ধারণা পেয়ে পুলিশ পটুয়াখালীর দুমকিতে এবং পরে বুধবার দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটিতে রাব্বীর দাদার বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে রাব্বী ও আয়েশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে মা–মেয়েকে খুন করার পর ওই বাসা থেকে খোয়া যাওয়া একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুধু দুই হাজার টাকা চুরির জন্যই এ জোড়া খুন—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যদি দুই হাজার টাকার জন্য বিতণ্ডা না হতো, তাহলে সে কাজে না–ও আসতে পারত। কিন্তু পরদিন সে ওই বাসায় ছুরি নিয়ে ঢুকেছে, ক্রাইম করার জন্যই ঢুকছে। সে কোনো মোবাইল ব্যবহার করেনি। মুখ ঢেকে আসছে, কাজটা করার পরে কীভাবে সেফ এক্সিট হবে, মেয়ের স্কুলড্রেস পরে ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে গেছে। তার ক্লিয়ার ক্রিমিনাল ইনটেনশন আছে। এর পাশাপাশি পুলিশে দেওয়ার ভয়, রাগারাগির ক্ষোভ কাজ করেছে আয়েশার।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হয়তো আরও তথ্য পাওয়া যাবে। তাঁর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না বা এর পেছনে কোনো সিন্ডিকেট আছে কি না, তা জানা যাবে।

রিমান্ড মঞ্জুর

মা–মেয়েকে হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সহিদুল ইসলাম আয়েশা ও তাঁর স্বামী রাব্বীকে আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত আয়েশার ছয় দিন ও রাব্বির তিন দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যায় গ্রেপ্তার গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার। আজ বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যায় গ্রেপ্তার গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার। আজ বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে। ছবি: ডিএমপির সৌজন্যে

পার্লামেন্টে অমিত শাহ বনাম রাহুল গান্ধী: ‘ভোট চুরি’ মন্তব্য ঘিরে তীব্র বাকযুদ্ধ

লোকসভায় নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে বিতর্ক চলাকালে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে তুমুল বাকযুদ্ধ হয়েছে। রাহুল গান্ধী যখন ভোটার তালিকায় অনিয়ম নিয়ে তার প্রেস কনফারেন্সগুলোর ওপর সরাসরি বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, তখন অমিত শাহও চড়াও হন। এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি।

বক্তব্যে অমিত শাহ অভিযোগ করেন, বিরোধীরা একদিকে ভোটার তালিকার অনিয়ম তুলে ধরে, অন্যদিকে সেই তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়াতেও আপত্তি তুলছে। তিনি বলেন, বিহারের মতো জায়গায় যখন হেরে যান, তখন বলেন তালিকায় সমস্যা। এই দ্বিচারিতা চলবে না।

রাহুল গান্ধীর ভোট চুরি সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অমিত বলেন, যাদের পরিবারের ‘প্রজন্মগত ভোট জালিয়াতির ইতিহাস’ রয়েছে, তারা এখন ভোট চুরির কথা তুলছেন। ইঙ্গিত ছিল সরাসরি নেহরু-গান্ধী পরিবারের দিকে।

রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, কেন নির্বাচন কমিশনারদের অফিসে থাকাকালীন দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি শাহকে তিনটি প্রেস কনফারেন্সের প্রতিটির ওপর খোলামেলা বিতর্কে নামার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। আমি ৩০ বছর ধরে আইনসভা ও সংসদ সদস্য। আমার বক্তব্য কোন ক্রমে হবে তা আপনি ঠিক করবেন না। ধৈর্য ধরুন, সব প্রশ্নের উত্তরই দেব।

ইতিহাস টেনে অমিত দাবি করেন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার সময় ২৮ জন প্রাদেশিক কংগ্রেস নেতার ভোট পেয়েছিলেন সরদার প্যাটেল। আর নেহরু পেয়েছিলেন মাত্র দুটি ভোট। তবু নেহরুই প্রধানমন্ত্রী হন। এ সময় বিরোধী শিবির থেকে তীব্র প্রতিবাদ ওঠে।

তিনি আরও দাবি করেন, রায়বরেলির আসনে ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচনের বিরুদ্ধে ইলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় বাতিল হলে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আইন পরিবর্তন করেন। পরে সিনিয়রিটি উপেক্ষা করে চতুর্থ স্থানের বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন। সোনিয়া গান্ধীও তার নাগরিকত্ব পাওয়ার আগেই ভোট দিয়েছেন। এই অভিযোগও তোলেন অমিত শাহ। যদিও কংগ্রেস তা সঙ্গে সঙ্গে নাকচ করে।

লোকসভা থেকে বেরিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব পুরোপুরি রক্ষণাত্মক ছিল। তিনি স্বচ্ছ ভোটার তালিকা, ইভিএমের স্থাপত্য বা আমার দেওয়া প্রমাণ- কোনোটি নিয়েই স্পষ্ট করে কথা বলেননি।  

mzamin