Showing posts with label রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়. Show all posts
Showing posts with label রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়. Show all posts

Thursday, October 24, 2024

দু’দিন অফিস করেও পুরো মাসের বেতন পেতেন লিটন কন্যা by মারুফ হোসেন মিশন

গত ৫ই আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে দল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বামীকে নিয়ে থাইল্যান্ডে পাড়ি জমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) চিকিৎসা কেন্দ্রের সাধারণ চিকিৎসক আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯ মাস অফিস করতে দেখা যায়নি অর্ণাকে। তবে নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা পেয়ে আসছেন এ চিকিৎসক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অর্ণা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের বড় কন্যা। তিনি আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এছাড়াও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক।

রাবি চিকিৎসা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারি মাসের ১১ তারিখ অফিস করেছিলেন অর্ণা। এদিকে গত ৯ মাসে আর অফিস করতে দেখা যায়নি তাকে। অফিস না করেও গত ৯ মাসে সরকারি বেতন-ভাতা পেয়েছেন প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অষ্টম গ্রেডের বেতন পেতেন এ নেত্রী।

আরও জানা যায়, ২০১৯ সালে ১লা জুলাই রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহানের সময়ে বাবার রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে রাবির মেডিকেল সেন্টারে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পান আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় এ নেত্রী। অস্থায়ী নিয়োগ পাওয়ায় ৬ মাস পরপর নবায়ন করে গত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে রাবির মেডিকেল সেন্টারে কর্মরত তিনি। তার সর্বশেষ ছয় মাসের জন্য নবায়নকৃত চাকরির মেয়াদ ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৪ সাল পর্যন্ত। যদি নতুন করে চাকরি নবায়ন করা না হয়, তাহলে অটোমেটিক চাকরি হারাবেন তিনি। এদিকে চাকরিতে প্রবেশের সাড়ে পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও তাকে রাবির চিকিৎসক হিসেবে চিনেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থী। মাসে দু-একদিন অফিস করেই পুরো মাসের বেতন হাতিয়ে নিতেন।

মেডিকেলের অন্যান্য চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে নিয়মিত কখনোই অফিস করতে দেখা যায়নি অর্ণা জামানকে। মাসে দু-একদিন অফিস করতেন তিনি। সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত তার ডিউটি থাকলেও তিনি অফিস করতেন ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত। অফিস চলাকালে তার সাথে থাকতেন একাধিক অস্ত্রধারী বডিগার্ড। ফলে মেডিকেলের অন্যান্য চিকিৎসকরা এ নিয়ে খুব আতঙ্কে থাকতেন। এছাড়াও তার অফিস টাইমের পুরো সময়জুড়ে চেম্বারের সামনে ভিড় করে রাবি থেকে শুরু করে রুয়েট ও রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতেন। এতে রোগ নির্ণয়ের জন্য আসা সাধারণ শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা সেবা না নিয়েই ফিরে যেতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেডিকেল সেন্টারের এক ডাক্তার বলেন, ডা. আনিকা তেমন একটা ডিউটি করতেন না। মাসে দুএকদিন হঠাৎ তাকে দেখা যেত। যেদিন অফিসে আসতেন সেদিন তার সাথে অস্ত্রধারী দুজন বডিগার্ড থাকতেন। ফলে আমিসহ আমার সহকর্মীরা খুব আতঙ্কে থাকতাম। ভয়ে তার চেম্বারে যেতাম না। এদিকে, যতটুকু সময় অফিস করতেন তিনি সেই সময়টাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সবসময় তার চ্যাম্বারের সামনে উপস্থিত থাকতেন এবং মাঝেমধ্যে স্লোগান দিতেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে অর্ণার ফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল-মেসেজ দিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক ডা. মাফরুহা সিদ্দিকা লিপি বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেও রিচ করতে পারিনি। আমরা বিষয়টি অভিযোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে অবগত করেছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যা ভালো মনে করেন তাই করবেন।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সালেহ্‌ হাসান নকীব বলেন, ৫ই আগস্টের পর যেসকল শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিজ দপ্তরে উপস্থিত নেই আমরা তাদের কাছে নোটিশ পাঠিয়েছি। তবে অর্ণা যেহেতু ৯ মাস ধরে অফিস করছেন না তার বিষয়টি অবশ্যই ভিন্নভাবে দেখতে হবে। তার বিষয়টি বিস্তারিত জেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

mzamin

Saturday, February 13, 2010

রক্তাক্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বর্বরতার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত দেখা গেল গত সোমবার রাতভর ছাত্রলীগ ও পুলিশের সঙ্গে তাদের সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনায়। ফারুক হোসেন নামে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ম্যানহোলে ফেলে দেওয়া, আরও তিন কর্মীর হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া, পুলিশের সঙ্গে তাদের রাতভর গুলিবিনিময়, ছাত্রাবাসগুলোর ফটক ভাঙা, ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর কক্ষ ভাঙচুর, কয়েকটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া—এসবের বিবরণ ছাপা হয়েছে বুধবারের জাতীয় দৈনিকগুলোতে। চিত্রটি এমন, যেন ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রদের সংগঠন নয়, বরং প্রশিক্ষিত, সশস্ত্র, সংঘবদ্ধ একটি দুর্বৃত্ত বাহিনী; যারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় তত্পর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আবু বকর সিদ্দিক নামের এক সাধারণ ছাত্রের মৃত্যুর এক সপ্তাহের মাথায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবির সংঘর্ষে ছাত্রলীগের কর্মী ফারুক হোসেনের মৃত্যু দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আকস্মিক অবনতির লক্ষণ। রাজশাহীর ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বিস্ময়ের সঙ্গে মন্তব্য করেছেন: সব তো ঠিকভাবেই চলছিল, হঠাত্ করে কেন এসব শুরু হলো? তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এসব সহিংসতার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেটা করা খুবই জরুরি; তবে সাধারণভাবে দেখা যায়, কিছু বোঝাও যায় যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সহিংসতার আশঙ্কা সব সময়ই রয়েছে। কোন মুহূর্তে তা শুরু হচ্ছে, সেটা নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর।
শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলো যদি পড়াশোনার পরিবর্তে ক্যাম্পাসের ভেতর, আবাসিক হলগুলোতে ও সংলগ্ন এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ, দখলদারি এবং সেসবের সঙ্গে আনুষঙ্গিক বৈষয়িক প্রাপ্তির বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়, তাহলে তাদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষ অনিবার্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে দ্বন্দ্ব ছাত্রলীগের ভেতরই বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে, রাজশাহীতে তা ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে। দ্বন্দ্বটা আধিপত্যের। ছাত্রলীগের এক কর্মীর একটি আবাসিক হলে প্রবেশের চেষ্টা এবং ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের তাতে বাধা দেওয়ার ঘটনা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিরাট সংঘর্ষ ঘটে গেল, তা থেকেই আধিপত্যের লড়াইটা খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তথাকথিত ছাত্রসংগঠনগুলোর আধিপত্যের লড়াইকে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারগুলো প্রশ্রয় দেয়। যে সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে, তার অনুসারী ছাত্রসংগঠন সেই লড়াইয়ে সরকারি সহযোগিতা পায়। সেখানে দেশের প্রচলিত আইন কাজ করে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয় বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে, সেই সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও সংগঠনটি একই রকম সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনসহ নিকটবর্তী এলাকার সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাদের প্রভাব ও আধিপত্য এতটাই বিস্তৃত ও গভীর হয়েছে যে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তারা এমনকি সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গেও রীতিমতো যুদ্ধ চালাতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দৌরাত্ম্য মাত্রা ছাড়িয়েছে; তাদের ঘাঁটি উচ্ছেদ করতে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ আইনি উদ্যোগ নিতে হবে।
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যদি মনে করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের আধিপত্য অপসারিত হবে ছাত্রলীগের দ্বারা, তাহলে সংঘর্ষ, রক্তপাত, প্রাণহানি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা-বিপর্যয় বন্ধ হবে না। বকর ও ফারুকের মতো সম্ভাবনাময় তরুণদের অকালে ঝরে পড়া থামবে না। সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে শিক্ষাঙ্গনকে সব ধরনের দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করে শিক্ষার প্রকৃত পরিবেশ ফিরিয়ে আনার। এই ধারার ছাত্ররাজনীতিও আর চলতে দেওয়া উচিত কি না, তা গভীরভাবে ভেবে দেখার সময় হয়েছে।