Monday, February 8, 2010

দলগত ব্রোঞ্জের বেশি আসছে না টিটিতে

সবাই যখন সোনার হিসাব কষছিলেন, টেবিল টেনিসের কর্তারা ছেলেদের দলগত ইভেন্টে জিততে চেয়েছিলেন রুপা। কিন্তু টেবিল টেনিসের প্রথম দিনেই স্বপ্নটা উবে গেল। সেমিফাইনালে হেরে গেল ছেলেদের দল।
অথচ উডেনফ্লোর জিমনেসিয়ামে দিনের শুরুটা কী দুর্দান্তই না হয়েছিল! শ্রীলঙ্কান প্রতিপক্ষ চালিথা রঞ্জনের বিপক্ষে ২-০ সেটে এগিয়ে গিয়েছিলেন মাহবুব বিল্লাহ, হানিফ হ্যামলেটও ভালো শুরু করেছিলেন। গ্রপ পর্যায়ে মালদ্বীপকে হারানোর পর সেমিফাইনালে এসেই শ্রীলঙ্কার কাছে হার। মাহবুব প্রথমে চালিথ রঞ্জনার কাছে হারার পর রোহান সিরিসেনার কাছেও হেরেছেন। তবে হ্যামলেট হেরেছেন ইনজুরির কাছে। রোহানের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে পায়ে আঘাত পান তিনি।
সেমিফাইনালে হেরে বাংলাদেশকে এখন লড়তে হবে ব্রোঞ্জের জন্য। এই ইভেন্টে ফাইনালে উঠেছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ছেলেদের মতো মেয়েদের দলগত ইভেন্টেও বাংলাদেশের দৌড় থেমেছে সেমিফাইনালে। শ্রীলঙ্কার কাছেই। মেয়েদের দলগত ইভেন্টে সোনা জিতেছে ভারত। কাল তারা ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে ৩-০ গেমে।

আমাদের দেশে কবে সেই ছেলে হবে by উৎপল শুভ্র

খুবই তৃপ্তিদায়ী ইনিংস! অনেক দিন পর এমন মারতে পারলাম।’
৬ ফুট ৫ ইঞ্চি লম্বা, বহরেও খারাপ নয়। রীতিমতো মানব-পাহাড়। পাশে বসা ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকেও বামন-বামন লাগে!
কত দিন পর, মনে আছে জ্যাকব ওরাম? ‘১২-১৩ মাস তো হবেই।’
আসলে প্রায় পনেরো মাস। গত পরশু নেপিয়ারে ৪০ বলে ৮৩ রানের পনেরো মাস ও ১০ ইনিংস আগে ৬২ বলে অপরাজিত ৭৫। প্রতিপক্ষ? বাংলাদেশ!
নেপিয়ারের এই ইনিংসের সঙ্গে ঢাকার ইনিংসের মিল আছে। সেখানেও নিউজিল্যান্ড বিপদে। ৫৭ রানে ৫ উইকেট নেই। সেখান থেকে ওরামের কল্যাণে ২১৩।
মিল আছে আরও। ঢাকায় ২৬ রানে ক্যাচ দিয়েছিলেন। রাজ্জাকের সঙ্গে আরেক ফিল্ডারের ধাক্কা লেগে পড়েছে সেই ক্যাচ। নেপিয়ারে নাজমুল-মাহমুদউল্লাহর ধাক্কা লাগেনি। কিন্তু দুজনই দৌড় শুরু করার পর কার ক্যাচ বুঝতে দেরি করাতেই বেঁচে গেছেন ওরাম। তাঁর রান তখন মাত্র ৩০।
বাংলাদেশ দলের হাজারো সমস্যা। একদিন ব্যাটিং ভালো হয় তো বোলিং ডুবিয়ে দেয়। যে দিন বোলাররা ভালো করেন, ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ড্রেসিংরুমে ফিরে চা-পানি খাওয়ার তাড়া! এসব নিত্যদিনের সমস্যা। তবে নেপিয়ারে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ চিরন্তন একটা হাহাকারকে আবারও সামনে নিয়ে এল। আহা, আমাদের যদি একটা ওরাম থাকত!
৩০ ওভারে ১৫৮ থেকে ৫০ ওভারে ৩৩৬—এটা তো ইহজন্মে বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। সম্ভব নয় শেষ ১০ ওভারে ১৩০ রানের ওই ঝড় তোলা। টুকটাক মারতে পারেন—এমন ব্যাটসম্যান বাংলাদেশ দলেও আছেন। কিন্তু অমন আসুরিক শক্তি আছে নাকি কারও গায়ে!
২০০৩ সালে বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে অস্ট্রেলিয়ান কোচ জন বুকানন একটা সাময়িকীতে বাংলাদেশ দলের শক্তি-দুর্বলতার ছবি এঁকেছিলেন। সেখানে একটা পয়েন্ট ছিল—প্রতিপক্ষের বিশাল শরীরের খেলোয়াড়েরা ঘিরে ধরলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বামন-বামন মনে হয়। মনস্তাত্ত্বিক একটা প্রভাবও পড়ে এর।
শুধু মনস্তাত্ত্বিক নয়, ক্রিকেটীয় সমস্যাও হয়। ইমরুল কায়েস ওরামের বিপক্ষে খেলার প্রথম অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন, ‘চট্টগ্রামে যখন ওকে প্রথম খেলি, মনে হচ্ছিল পুরো গায়ের ওপর চলে আসছে।’ এটা বোলার ওরাম। ব্যাটসম্যান ওরামেরও সুবিধা আছে। লম্বা পা এত দূর চলে যায় যে, বোলারদের গুড লেংথ খুঁজে পেতেই সমস্যা হয়।
নিউজিল্যান্ডে তো আরও পোয়াবারো। নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কের আড়াআড়ি বাউন্ডারি খুব ছোট। সেখানে ওরামের মতো বিগ হিটারদের বড় মজা। আগামীকাল ডানেডিনের যে ইউনিভার্সিটি ওভাল মাঠে দ্বিতীয় ওয়ানডে, সেটির আবার উইকেটের সোজাসুজি বাউন্ডারি খুব ছোট। এখানে ওরাম আবার না জানি কী করে বসেন!
এত ওরাম-ওরাম হচ্ছে প্রতীকী অর্থে। মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের চেহারা বদলে দিতে পারেন, বাংলাদেশ দলে এমন বিগ হিটারের অভাব বোঝাতে। ওরামকে অবশ্য প্রতীকী না ভাবলেও সমস্যা নেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভদ্রলোক বরাবরই দুর্বার। ওয়ানডেতে ৬ ইনিংসে ৪টি হাফ সেঞ্চুরি। স্ট্রাইকরেট ১১৮.৮২!
দুই বছর আগে পৃথিবীর সর্বদক্ষিণের এই শহরে ৫০তম টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। সেটিতেও ওরামের সেঞ্চুরি। বোলিংয়ে যদি ড্যানিয়েল ভেট্টোরি হন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের আতঙ্ক এই ওরাম।
এক সময় মারকাটারি ব্যাটসম্যান হিসেবে যাঁর খুব খ্যাতি ছিল, সেই মোহাম্মদ আশরাফুল প্রথমেই মেনে নিলেন, ‘শক্তির দিক থেকে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা অনেক পিছিয়ে। এশিয়ার বাইরের দেশগুলোর ক্রিকেটাররা তো বটেই, এশিয়াতেও ভারত-শ্রীলঙ্কাকে দেখুন, ওরা আমাদের চেয়ে অনেক স্ট্রং।’ ব্যাটিংয়ে এর বাড়তি সুবিধাটার কথাও ব্যাখ্যা করলেন, ‘ওদের মিস হিটও অনেক সময় ছয় হয়ে যায়। নেপিয়ারেই ওরামের যে ক্যাচটা ত্রিশ গজে গিয়ে পড়ল, আমরা মারলে সেটি খাড়া ওপরে উঠে যেত।’
বাংলাদেশ দলে ‘ছক্কা নাঈম’ বলে যাঁর খ্যাতি, সেই নাঈম ইসলাম ছক্কা মারায় ব্যাট সুইং আর টাইমিংয়েরই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা দেখেন। তবে সঙ্গে যোগ করে দিচ্ছেন, ‘গায়ে শক্তি বেশি থাকলে অবশ্যই সুবিধা।’
বাংলাদেশের ম্যাচে এই সুবিধা শুধুই প্রতিপক্ষের। ওয়ানডেতে ২০০ বা এর বেশি স্ট্রাইকরেটে কমপক্ষে ২৫ রানের যে ১৫৮টি ইনিংস আছে, সেখানে বাংলাদেশের আছেন মাত্র একজন। কেনিয়ার বিপক্ষে মাশরাফি বিন মুর্তজার ১৬ বলে অপরাজিত ৪৪ ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসের তালিকায় ৯ নম্বরে (২৭৫.০০)। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে এমন ইনিংস খেলা হয়েছে ৯টি। সেখানে আফ্রিদি-ওরাম-কেয়ার্নস-যুবরাজদের মতো পরিচিত বিগ হিটার যেমন আছেন, তেমনই আছেন ফারভিজ মাহারুফ ও মুত্তিয়া মুরালিধরনও!
আফ্রিদি-কেয়ার্নসদের মতো ধারাবাহিকভাবে ঝোড়ো ইনিংস খেলার ব্যাটসম্যান বাংলাদেশ কখনোই পায়নি। তবে এটা শুধু বোধহয় শক্তির ব্যাপার নয়। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা তো আর বাংলাদেশের বোলিং খেলার সুযোগ পায় না!
সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমানে সহকারী কোচ খালেদ মাহমুদ যেমন বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিগ হিটার-শূন্যতার এই আলোচনা করতে গিয়ে জিয়াউর রহমানের নাম বললেন। বলেই যোগ করে দিলেন, ‘ও স্পিনে মারতে পারে। কিন্তু বেশি পেসের বলে পারে না।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় সব দলেই এখন ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির একাধিক বোলার। বাংলাদেশের একটা ওরাম পাওয়ার অপেক্ষা কোনো দিন শেষ হবে কি না কে জানে!

ক্রিকেটে সোনার স্বপ্ন

রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়, সিরিজ জেতে—কিন্তু সোনা জেতার ক্রিকেট! এমন ক্রিকেট কে খেলেছে কবে? মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এসএ গেমস টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দিবারাত্রির ফাইনালে আজ সেই ক্রিকেটেই মুখোমুখি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ ও শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-২১ দল।
সোনা জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন, ‘টিম স্পিরিটই আমাদের মূল শক্তি। আমাদের দল শ্রীলঙ্কার দলটার চেয়ে অনেক ভালো।’ তাই যদি হবে, লিগ পর্বের ম্যাচে কেন হারল স্বাগতিক দল? কোচ সারওয়ার ইমরানের ব্যাখ্যা, ‘সেদিন ৬টা ওভারেই আমরা হেরে গেছি। প্রথম ৩ ওভার আর শেষ ৩ ওভার...নইলে ওই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলেছি আমরা।’ অধিনায়কের মতো কোচও মনে করেন, ‘ফাইনালে আমরাই ফেবারিট। ব্যাটিংয়ে টপ-অর্ডার ক্লিক না করলেও আমাদের স্পিন বোলিং আর ফিল্ডিং খুবই ভালো।’
এর সঙ্গে আজ যদি ব্যাটিংটাও জ্বলে ওঠে, মোহাম্মদ মিঠুন তো মনে করেন, বাংলাদেশের সোনা পাওয়া তাহলে কেউই ঠেকাতে পারবে না, ‘ব্যাটিংয়ে এখনো প্রমাণের বাকি আছে। টপ-অর্ডার ভালো খেলছে না। এই জায়গাটা ঠিক হয়ে গেলে শ্রীলঙ্কা আমাদের সামনে দাঁড়াতেই পারবে না।’ আর সেটা প্রমাণে ব্যাটসম্যানদের জন্য কোচ সারওয়ার ইমরানের মূল মন্ত্র, ‘প্রথম ৬ ওভারের সুবিধা নিতে হবে। এই সময়ে অন্তত ৬০ রান করতে পারলেই ২০ ওভারে ১৫০ রান সম্ভব, ১৬০ হলে তো আরও ভালো।’
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ দলে আছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসা দুই ক্রিকেটার আনামুল হক ও সাব্বির রহমান। দলে আর যাঁরা আছেন, একাডেমির হয়ে বা বয়সভিত্তিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তাঁদের অনেকেই। এসএ গেমস ক্রিকেট তার পরও একটু অন্যরকম অনুভূতি দিচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ দলকে। অন্যতম কারণ, গেমসে এবারই ঢুকেছে ক্রিকেট। প্রথম সোনা জয়ের আকাঙ্ক্ষা তাই তীব্র! ‘সবার মধ্যে একটা জিনিসই কাজ করছে—দেশের মাটিতে প্রথম ক্রিকেটের সোনা জিততে হবে। সেটার আনন্দই হবে অন্যরকম’—অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের কথার প্রতিধ্বনি কোচের কণ্ঠেও, ‘এসএ গেমসের ক্রিকেটে দেশাত্মবোধ একটু বেশিই কাজ করছে এখানে খেলোয়াড়দের মধ্যে। কোনো ইভেন্টে বাংলাদেশ ভালো করলে তারা অনুপ্রাণিত হচ্ছে।’
অথচ গেমস শুরুর আগে এই ক্রিকেটকে আলাদা চোখে দেখেননি মিঠুনরাও! তাঁদের মনে হয়েছে, ক্রিকেট তো ক্রিকেটই। সেটা এসএ গেমসের হলেই কী আর অন্য কোনো টুর্নামেন্টের! অধিনায়ক জানালেন, গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটাই ওলটপালট করে দিয়েছে তাদের সেই মনোজগতে।
ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে পাকিস্তান-নেপাল: আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় ফাইনাল শুরুর আগে দুুপুর ১টায় শুরু হবে পাকিস্তান-নেপাল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। কাল মালদ্বীপকে (১৬.৪ ওভারে ৫৫ রান) ১০ উইকেটে হারিয়ে এ ম্যাচে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে নেপাল (৭ ওভারে ৫৮ রান)। আজ দুটো ম্যাচেই সাধারণ গ্যালারি ও স্পেশাল এনক্লোজার উন্মুক্ত থাকবে দর্শকদের জন্য।

অথচ তায়কোয়ান্দোতে আসতে চাননি by আবিদুল ইসলাম

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) ভেতরে বসে বাইরে নামা অন্ধকারকে উপলব্ধি করার উপায় ছিল না। বিজলিবাতির কারণে নয়। বিজলিবাতির ঝা চকচকে আলোকে হার মানিয়ে এনএসসি জিমনেসিয়ামে ঠিকরে পড়ছিল সোনার ছটা। একটু আগেই যে তায়কোয়ান্দোতে বাংলাদেশকে কাল সোনা এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের থানা তেঁতুলিয়ার আজিজপুর গ্রামের মেয়ে শারমিন ফারজানা রুমি।
সোনালি হাসি ঠিকরে পড়ছিল শারমিনের মুখ থেকেও। সেই হাসি মুখে নিয়ে তায়কোয়ান্দো কোটটা দুবার ঘুরে এলেন শারমিন। এসে বসতেই একটা প্রশ্ন ছুটে গেল তাঁর দিকে—এ পর্যন্ত কয়টা পা ভেঙেছেন, নাকই বা বোঁচা করেছেন কয় ডজন? ‘না, না; আমি ভাই মারামারি করি না। মারামারি একদমই পছন্দই করি না’—ত্বরিত উত্তর শারমিনের। অথচ একটু আগে ‘মারামারি করেই কিন্তু জিতে এলেন। তবে, ‘এটা খেলা!’
এই মারামারির খেলায় কীভাবে এলেন? শারমিন তাঁর গল্পের ঝাঁপি খুলে বসেন। সে গল্প তাঁর হ্যান্ডবল খেলোয়াড় থেকে তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় হয়ে যাওয়ার গল্প। ‘জানেন, আমি এই খেলাটায় আসতে চাইনি। আমিও ভাবতাম এটা আবার কেমন খেলা। ভাবতাম আর হাসতাম একা একা। কিন্তু রানা স্যার (মাহমুদুল ইসলাম) আমাকে জোর করে নিয়ে এলেন। বলেছেন, তুমিই পারবে।’
শারমিন সত্যি পেরেছেন। কীভাবে পারলেন ব্যাখ্যা করলেন সেটিও। তাতে মিশে থাকল কৃতজ্ঞতা, ‘আসলে আমার সোনা জয়ে বড় অবদান রানা ও লি জু সাং স্যারেরই। ওনারা আমাকে সব সময় প্রেরণা জুগিয়ে গেছেন।’ পরিবার আপনাকে কেমন সমর্থন দিয়েছে? ‘মা, বড় ভাই সবাই খুব অনুপ্রাণিত করেছেন’—বললেন শারমিন।
আফগানিস্তানের মেয়ে লায়লা হুসেইনকে হারিয়ে সোনা জয়ের পর কার কথা প্রথম মনে পড়েছে? ‘মা এবং বাবাকেই খুব মনে পড়েছে। আমার বাবা নেই। আমার যখন ৬ বছর বয়স, তখন মারা গেছেন তিনি। সোনা জয়ের পর আমার কাছে মনে হয়েছে বাবা এসে যেন আমার মাথায় হাত বুলিয়ে গেলেন। বলে গেলেন, তুমি দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছ। মা, তোমাকে আশীর্বাদ।’

আমেরিকা থেকে মুরগি আমদানিতে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক বসাবে চীন

আমেরিকা থেকে মুরগি আমদানির ওপর চড়া হারে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছে চীন।
গত শুক্রবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে মুরগিজাত পণ্য ‘ডাম্প’ করা হচ্ছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংজ্ঞানুসারে, কোনো প্রতিষ্ঠান তার পণ্য নিজ দেশে যে দামে বিক্রি করে, তার চেয়ে কম দামে যদি অন্য দেশে রপ্তানি করে, তাহলে তা হবে ডাম্পিং।
আর এই ডাম্পিং প্রমাণিত হলে ওই পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ডাম্পিং-বিরোধী শুল্ক (অ্যান্টি-ডাম্পিং) আরোপ করা যেতে পারে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পদক্ষেপ ঘোষণা করার মাধ্যমে চীন-আমেরিকা বাণিজ্যবিরোধকে আরও উসকে দেওয়া হলো।
চীনা মুদ্রা ইউয়ানের মূল্যমান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ বারবার চীনকে এই বলে অভিযুক্ত করে আসছে যে চীন কৃত্রিমভাবে মুদ্রার মান কমিয়ে রেখেছে, যা তাদের রপ্তানিকারকদের সুবিধা দিচ্ছে।
তবে কয়েক মাস ধরেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যবিরোধ চরমে উঠেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র সরকার চীন থেকে আমদানি করা মোটরগাড়ির চাকার ওপর জরুরি ভিত্তিতে বাড়তি ৩৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করে।
এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চীন তখনই আমেরিকা থেকে আমদানি করা মুরগিজাত পণ্য ডাম্পিং হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার ঘোষণা দেয়। শুক্রবারের সিদ্ধান্ত সেই তদন্তেরই ফল বলে মনে করা হচ্ছে।
মুরগির পা ও পাখনা প্রক্রিয়াজত করে আমেরিকার প্রতিষ্ঠানগুলো এগুলো ব্যাপক পরিমাণে চীনে রপ্তানি করে থাকে। বর্তমানে চীন এসব পণ্যের এক বিরাট বাজার। অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হলে চীনে এগুলোর আমদানি ব্যয় বর্তমানের তুলনায় কয়েক গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
চাইনিজ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওয়াং জিউলিন বলেন, মুরগির পা ও পাখনার তেমন কোনো চাহিদা আমেরিকায় নেই। আর তাই তারা এগুলো চীনে রপ্তানি করে। তবে উত্পাদন খরচের চেয়ে কম দামে রপ্তানি করে তারা এখানে বাজার গড়েছে।
ওয়াং জিউলিন আরও বলেন, কয়েক বছর ধরেই এসব পণ্যের আমদানি বাড়ছে। এর ফলে স্থানীয় উত্পাদকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁরা সরকারের কাছে ডাম্পিংয়ের বিষয়টি তদন্ত করার অনুরোধ জানান।
বর্তমানে আমেরিকা থেকে প্রতি টন মুরিগর পাখনা ও পা আমদানিতে ৭৩ ডলার শুল্ক ও ১৩ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর দিতে হয়। অর্থাত্ প্রতি পাউন্ড মুরগিজাত পণ্যের দাম পড়ে প্রায় ৫৪ সেন্ট যেখানে চীনা মুরগিজাত এসব পণ্যের দাম পড়ে ৭৬ সেন্ট।
এখন ৪৩ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে ১০৫ দশমিক ৪০ শতাংশ হারে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হলে প্রতি পাউন্ড মুরগিজাত পণ্যের আমদানি মূল্য অনেক বেড়ে যাবে।
চীন আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে উচ্চহারে এই অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করবে বলে জানিয়েছে।

ব্যাংকব্যবস্থার অদক্ষতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে by মনজুর হোসেন

বর্তমানে বাংলাদেশে সুদের হারের ব্যাপ্তি (স্প্রেড) অর্থাত্ ঋণ ও আমানতের সুদের হারের পার্থক্য ব্যাংকভেদে পাঁচ থেকে আট শতাংশ। উন্নয়নশীল দেশের হিসেবে এটি খুব বেশি নয়। তবুও এ ব্যবধান নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিনিয়োগকারীরা সন্তুষ্ট নন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেকেই বর্তমান সুদহারের ব্যাপ্তিকে কাঙ্ক্ষিত মনে করেন না। আর তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েক বছর ধরে ব্যাংকগুলোকে তাদের ঋণ ও আমানতের সুদের হারের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনার তাগাদা দিয়ে আসছিল। কিন্তু ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ এবং আমানতের সুদহার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে দেয়। বর্তমানে এ ব্যবস্থা বহাল রয়েছে।
অর্থনীতিতে সুদহারের স্প্রেডের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থার দক্ষতা এবং কার্যক্ষমতা নিরূপণ করা যায়। যদি ব্যবধান বেশি হয়, তাহলে আমানতকারীরা আমানতের কম সুদের কারণে অর্থ জমা রাখায় নিরুত্সাহিত হয়। অন্যদিকে ভালো বিনিয়োগকারীরা ঋণের উচ্চ সুদের হারের কারণে বিনিয়োগে নিরুত্সাহিত হয়। এভাবে সঞ্চয় ও বিনিয়োগকে প্রভাবিত করার কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর সুদহারের ব্যবধানের প্রভাব রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে এই স্প্রেড বিষয়ে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা প্রয়োজন। এগুলো হলো: বাংলাদেশে সুদের হারের স্প্রেড কত এবং তা উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় কত বেশি? যদি বেশি হয়, তাহলে তার কারণ কী? সে ক্ষেত্রে এর প্রতিকারই বা কী? আর যদি স্প্রেড উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় বেশি না হয়, তাহলে সমস্যাগুলো কোথায়?
বিভিন্ন প্রকার ঋণের (যেমন: বড় ঋণ, ছোট ঋণ, কৃষিঋণ ইত্যাদি) এবং আমানতের (যেমন: সঞ্চয়ী, পেনশন স্কিম, স্থায়ী আমানত ইত্যাদি) প্রকারভেদে সুদের হারের ভিন্নতা রয়েছে। তাই বিভিন্ন ধরনের ঋণের সুদের এবং আমানতের সুদের ভারিত গড়ের (ওয়েটেড এভারেজ) পার্থক্য নির্ণয়ের মাধ্যমে সুদের হারের ব্যবধান নির্ণয় করা হয়। এ পদ্ধতি অনুসারে বর্তমানে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে ছয় শতাংশ; বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে (যারা ১৯৯৯ সালের আগে প্রতিষ্ঠিত) সাড়ে পাঁচ শতাংশ; নতুন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে (যারা ১৯৯৯ সালের পরে প্রতিষ্ঠিত) সাড়ে তিন শতাংশ; বৈদেশিক বাণিজ্যিক ব্যাংকে আট শতাংশ; বিশেষায়িত ব্যাংকে ছয় শতাংশ ।
এখন সুদের হারের এ ব্যবধান উন্নত দেশে তিন থেকে চার শতাংশ । তবে বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের তুলনায়, এমনকি আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায়ও সুদহারের এ ব্যবধানকে বেশি বলা যাবে না। এর অর্থ আবার এই নয় যে আমাদের সুদের হারের ব্যবধান কমানোর কোনো প্রয়োজন নেই। তা ছাড়া অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে একই রকম ব্যবধান বজায় থাকলেও অর্থনীতির আকার ও আচরণের ভিন্নতার কারণে সুদহারের ব্যবধান তুলনা করা সব সময় সমীচীন হবে না। তাই বাংলাদেশের সুদহারে স্প্রেডের বিষয়ে সম্যক ধারণা লাভ করার জন্য স্প্রেডের আচরণ, বিভিন্ন প্রকার সুদের হারের সঙ্গে এর ওঠা-নামার সম্পর্ক এবং এর নির্ণায়কসমূহ পর্যালোচনা করতে হবে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, সুদের হারের ব্যবধান পরিবর্তন হয়ে থাকে মূলত আমানতের সুদের হারের পরিবর্তনের কারণে। ঋণের সুদহার পরিবর্তনের সঙ্গে স্প্রেডের পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া যায়নি। এ থেকে বলা যায়, ঋণের সুদহার নিয়ন্ত্রণ করে সাময়িকভাবে স্প্রেড কমানো যেতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে স্প্রেডের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ, ব্যাংকগুলো সে ক্ষেত্রে আমানতের সুদহার কমিয়ে ব্যবধান আগের মতোই রাখবে। বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করেও এ রকম একটি অবস্থাই লক্ষ করা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের সুদের সর্বোচ্চ হার ১৩ শতাংশ নির্ধারণ করায় ব্যাংকগুলো বর্তমানে আমানতের সুদের হার কমাচ্ছে। এমতাবস্থায় শুধু ঋণের সুদ নিয়ন্ত্রণ করে কার্যকর ফলাফল পাওয়া যাবে না। বরং আমানতের সুদের হারের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। এ ছাড়া ঋণ ও আমানতের পরিমাণের সঙ্গে তাদের স্ব স্ব সুদের হারের কোনো সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয় না।
এ থেকে প্রমাণিত হয়, বাংলাদেশের ব্যাংকিংব্যবস্থা প্রতিযোগিতামূলক নয়। এখানে আমানত সংগ্রহ বা বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ব্যাংকগুলো সুদের হারের পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে তেমন কোনো প্রতিযোগিতা করে না। ফলে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়ে আনলে সুদের হারের ব্যবধান কমে আসবে বলে যাঁরা মতামত দিয়ে থাকেন, তা গ্রহণযোগ্য নয় বলেই প্রতীয়মান হয়। বরং আশঙ্কা করা হয়, প্রয়োজনে ব্যাংকগুলো আমানতের সুদের হার শূন্য ভাগে নামিয়ে আনতেও পিছপা হবে না তাদের লভ্যাংশ বজায় রাখার স্বার্থে। কারণ, বাংলাদেশে এখনো ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিকল্প তেমন কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি, যেখানে মানুষ তাদের আমানত রাখতে পারে। শেয়ারবাজারের প্রতি সাধারণ জনগণের তেমন আস্থাও নেই, এ সম্পর্কে তারা বিশেষভাবে অবহিতও নয়। ব্যাংকগুলো এ অবস্থার সুযোগ নিতেই পারে।
উচ্চ পরিচালনা ব্যয় ও মন্দ ঋণের হারকে সুদের হারের ব্যবধানের অন্যতম কারণ হিসেবে বিআইডিএসের গবেষণায় দেখানো হয়েছে। এ দুটি বিষয়ই ব্যাংকিংব্যবস্থায় ব্যবস্থাপনার অদক্ষতাকে নির্দেশ করে। ব্যাংকগুলোর শাখার সাজসজ্জা, কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা এবং পরিচালক কর্তৃক গৃহীত সুযোগ-সুবিধাকে একটি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নিয়ে আসা প্রয়োজন। অন্যদিকে অতিরিক্ত এবং অপ্রয়োজনীয় শাখা ও লোকবল কমিয়ে আনতে হবে। সর্বোপরি সেবার মান কীভাবে আরও বাড়ানো যায় সেদিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে বর্তমানে কু-ঋণের পরিমাণ মোট ঋণের পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ। সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এই হার ২০ শতাংশের বেশি। উচ্চ স্প্রেডের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো তাদের অদক্ষতা ঢাকার প্রয়াস পায় (লভ্যাংশ বজায় রাখার মাধ্যমে)। অথচ জনগণকে এর মূল্য দিতে হচ্ছে। তাই পরিচালনাগত ব্যয় এবং কু-ঋণের পরিমাণ কমানোর মাধ্যমে বর্তমান স্প্রেড আরও কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব। গবেষণায় আরও দেখা যায়, বর্তমানে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোই (যারা ১৯৯৯ সালের আগে প্রতিষ্ঠিত) বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। অর্থাত্ তারাই সুদের হার নির্ধারণে ভূমিকা রাখছে। তাই এসব ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও বেশি করে তদারক করা উচিত। তদুপরি, তাদের গ্রাহক কারা এবং কাদের কী হারে ঋণ দেওয়া হয়, তা ভালোভাবে নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ, এসব ব্যাংক অর্থবাজারে একটি একচেটিয়ামূলক ব্যবস্থা তৈরির পেছনে ভূমিকা রাখছে।
আয়কর হারের সঙ্গেও সুদহারের ব্যবধানের কোনো তাত্পর্যপূর্ণ সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। কাজেই, ব্যাংকাররা যে প্রায়শই উচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক আয়করকে তাদের উচ্চ স্প্রেডের কারণ হিসেবে দেখান, তার কোনো ভিত্তি নেই।
আবার এখন সময় এসেছে বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিষয়ে আরও খতিয়ে দেখার। বৈদেশিক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ দেশে অনুমতি দেওয়া হয় মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানো; দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা বাড়ানোর। প্রযুক্তি বিকাশে বিদেশি ব্যাংকগুলো ভূমিকা রাখলেও তাদের ব্যাংকিংব্যবস্থা অনেকটাই অস্বচ্ছ। তারা বাংলাদেশের ব্যাংকিং জগতে প্রতিযোগিতা বাড়াতে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদবহির্ভূত আয় (কমিশন, ফি, মাশুল ইত্যাদি) অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি। তাদের ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধানও অনেক বেশি। তাই তাদের ভূমিকা প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য কতটা ফলদায়ক তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সুতরাং, বাংলাদেশে সুদের হারের ব্যবধান আরও কমানোর সুযোগ রয়েছে। এর পেছনে যে কারণগুলো পাওয়া গেছে তা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য মোটেও ভালো খবর নয়। দেশের অর্থনীতিকে আরও বেগবান করার জন্য ব্যাংকিংব্যবস্থাকে অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন ব্যাংকিংব্যবস্থায় পরিচালনাগত দক্ষতা বাড়ানো এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি জোরদার করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান তদারকিব্যবস্থায় যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে হবে।
স্বল্পমেয়াদে ঋণের সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করার চেয়ে সুদের হারের স্প্রেড নিয়ন্ত্রণ অধিকতর সুফলদায়ক হতে পারে। বাংলাদেশের ব্যাংকিংব্যবস্থাকে প্রতিযোগিতামূলক করার জন্য সরকারি ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। এটি অবশ্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ। দীর্ঘমেয়াদে মূলধনী বাজার ও বন্ড বাজার শক্তিশালী করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ড. মনজুর হোসেন: গবেষক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)।
monzur@sdnbd.org

সম্পর্ক জটিল হবে by এম হাফিজউদ্দিন খান

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) নির্ধারণ করতে উচ্চ আদালত যে আটটি নির্দেশনা দিয়েছেন, তাতে জেলা জজের অবস্থান সচিব ও তিন বাহিনীর প্রধানের ওপরে বলে ঠিক করা হয়েছে।
এখানে এ বিষয়ে দুটি মতামত প্রকাশকরা হলো।
সম্প্রতি মহামান্য হাইকোর্ট সম্পূর্ণ প্রশাসনিক বিভাগের আওতাভুক্ত বিষয়ে একটি উল্লেখযোগ্য রায় দিয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা ক্রমিকে জেলা জজ ও সমপর্যায়ভুক্ত জজদের অবস্থান পুনর্নির্ধারণ করেছেন। তাঁদের সরকারের সচিব এবং তিন বাহিনীর প্রধানের ওপর স্থান দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ রায়ের ফলে প্রশাসনে যে সমস্যাগুলো সৃষ্টি হতে পারে, তা তুলে ধরা দোষের হবে না বলে মনে করি।
প্রথমেই উল্লেখ করা দরকার, বর্তমানে বলবত্ জেলা জজ ও সমপর্যায়ভুক্ত জজদের যে পদমর্যাদা রয়েছে, তা অবশ্যই নিন্দনীয়। তাঁরা বর্তমানে উপসচিবের পদমর্যাদা ভোগ করেন। বিসিএস জুডিশিয়াল ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ হলো জেলা জজ। সুতরাং তাঁদের উপসচিব পদমর্যাদা প্রদান গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দেশের অন্যান্য ক্যাডারের (প্রশাসনিক ক্যাডার ব্যতীত) সর্বোচ্চ পদ সরকারি বেতনক্রমের দ্বিতীয় গ্রেডভুক্ত বা অতিরিক্ত সচিবের সমপর্যায়ভুক্ত। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যেতে পারে সড়ক ও জনপথ, গণপূর্ত বিভাগ, কৃষি বিভাগ, মত্স্য বিভাগ, নিরীক্ষা ও হিসাব ইত্যাদি বিভাগের সর্বোচ্চ পদ অতিরিক্ত সচিবের পর্যায়ভুক্ত। তবে সেসব বিভাগের দ্বিতীয় গ্রেডের ১০ শতাংশ পদকে প্রথম গ্রেড অর্থাত্ সচিবের সমপর্যায়ের মর্যাদা দেওয়া হয়ে থাকে। বেতনক্রমও সচিবদের সমান অর্থাত্ বেতনক্রমের প্রথম গ্রেডভুক্ত। সুতরাং সে বিচারে জেলা জজকে এত দিন যে পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে তা অসন্তোষজনক, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে হাইকোর্টের রায়ে তাঁদের যে পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে, তা অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে অত্যন্ত অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং আন্তক্যাডার জ্যেষ্ঠতা ও পদমর্যাদায় অনেক সমস্যা স্পষ্ট করবে বলে প্রতীয়মান হয়। আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত সব পদ বিসিএস জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের দ্বারা পূরণযোগ্য। জেলা জজরা ওই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন। অতঃপর পদোন্নতি পেয়ে ক্রমান্বয়ে যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন। এ ক্ষেত্রে হাইকোর্টের রায় অনুসারে, জেলা জজরা সচিবের অনেক ঊর্ধ্বে অবস্থান করবেন। তাহলে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত পদগুলো কাদের দ্বারা পূরণ করা হবে, সে প্রশ্ন রয়ে গেল। যদি জেলা জজদের এসব পদে নিয়োগ করা হয়, তাহলে তাঁদের পদাবনতি হয়ে যাবে। এটা কী করে সম্ভব?
আমার মনে হয়, জেলা জজদের বর্তমান সমস্যার সর্বোচ্চ সমাধান হতো যদি বিসিএস জুডিশিয়াল ক্যাডারকে হাইকোর্টের বিচারকদের ফিডার পদ হিসেবে নির্ধারণ করা হতো এবং তত্সহ হাইকোর্টের বিচারকের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পদ ওই ক্যাডারের জন্য সংরক্ষিত থাকত। তাহলে জেলা জজদের উচ্চতর আদালতে যাওয়ার পথ সুগম হতো এবং এতে তাঁদের বর্তমান পদমর্যাদা নিয়ে যে অসন্তোষ বিরাজমান, তা কিছুটা উপশম হতো। এর ফলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে জেলা জজরা উচ্চতর আদালতে আসতে পারতেন এবং উচ্চতর আদালতের গুণগত মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারতেন। উচ্চতর আদালতে বিচারক নিয়োগে বর্তমানে যে রাজনৈতিক ও দলীয় বিবেচনা প্রবলভাবে বিদ্যমান, তা দূর করার একটি সুযোগ পাওয়া যেত।
সংবিধানের বর্তমান বিধান অনুসারে, উচ্চতর আদালতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিসিএস জুডিশিয়াল ক্যাডারের যেকোনো কর্মকর্তা ১০ বছর চাকরি করলেই যোগ্যতা অর্জন করেন। কিন্তু অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, উচ্চ আদালতে অধিকাংশ বিচারক নিযুক্ত হন আইনজীবীদের মধ্য থেকে। কালেভদ্রে দুই-একজন জেলা জজ হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। সম্প্রতি হাইকোর্টে বিরাটসংখ্যক বিচারক নিয়োগ করা হয়। সেখানে মাত্র দুজন এসেছেন জেলা জজ থেকে।
পত্রিকান্তরে দেখতে পেলাম, সরকার এ বিষয়টি নিয়ে আপিল বিভাগে যাবে। কারণ, মনে হয় রায়ের ফলে প্রশাসনে যে অস্থিতিশীল অবস্থা ও আন্তক্যাডার অসন্তোষ সৃষ্টি হবে, তার নিরসন হওয়া দরকার। এমনিতেই আমাদের জন্য প্রশাসনে বহুবিদ জটিলতা রয়ে গেছে। প্রশাসন সার্বিকভাবে অদক্ষ ও স্থবির। হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে সার্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল হবে এবং প্রশাসনের অদক্ষতা ও স্থবিরতা আরও বেড়ে যাবে বলে অনুমিত হচ্ছে।
এম হাফিজউদ্দিন খান: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

সংরক্ষিত বনে তামাক চাষ

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় তিনটি সংরক্ষিত বনে পাঁচ শতাধিক তামাকচুল্লি নির্মাণ করা হয়েছে। এখন চলছে সংরক্ষিত বন থেকে কাঠ এনে তামাকপাতা শুকানোর প্রস্তুতি। এতে ১০ লাখ মণ কাঠ পোড়ানো হবে, যার সিংহভাগ আসবে এসব বন থেকে। এর ফলে পরিবেশ বিনষ্ট হবে এবং বনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
গত শনিবার প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বছরের চেয়ে এবার সেখানে তিন গুণেরও বেশি জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। এই তামাক চাষ বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে বিভিন্ন তামাক উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা। বেশি টাকার প্রলোভন; চাষিদের বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ এবং উত্পাদিত তামাক কিনে নেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে কৃষকদের তামাক চাষে আগ্রহী করে তোলার অভিযোগ উঠেছে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে। এই বাড়তি তামাক চাষ হুমকির মধ্যে ফেলেছে সংরক্ষিত বনকে। বিপুল মুনাফার উদ্দেশ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ আইনকে এভাবে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সংরক্ষিত বনে তামাক চাষের এমন বিস্তারের পেছনে বন বিভাগের তদারকির অভাব অনেকাংশে দায়ী। বন বিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী যে বন ধ্বংসের কাজে সহায়তা করেন, তা নানা সময়ে দেখা গেছে। আবার লোকবলের সংকট, তাঁদের নিরাপত্তার অভাবজনিত ভীতির ফলে সৃষ্ট অসহায়ত্বের কথাও আমাদের অজানা নয়। বন বিভাগের বিদ্যমান নানা সমস্যা সমাধান করে বন রক্ষার কাজে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার কৌশল উদ্ভাবনও তাই জরুরি হয়ে পড়েছে।
সংরক্ষিত বনে তামাক চাষ বন্ধ করতে এবং বনের কাঠ ব্যবহার রোধে তামাকচুল্লিগুলোতে ঘন ঘন অভিযান চালানো প্রয়োজন। এ ব্যাপারে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

বিরোধী দলের সংসদে যাওয়া

অনেক বাগিবতণ্ডা ও কালক্ষেপণের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় সংসদে যোগদানের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। জনগণ আশা করে, তারা পরবর্তী কার্যদিবসেই অধিবেশনে যোগ দিয়ে সংসদকে কার্যকর করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলই সংসদকে রাজনীতির কেন্দ্র করার গালভরা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে উল্টো পথেই হাঁটছে। সরকারি ও বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সংসদ কার্যকর হতে পারে না। দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু থাকলেও আমাদের নেতা-নেত্রীদের মধ্যে গণতন্ত্র অনুশীলনের খুব অভাব রয়েছে।
গত তিনটি সংসদে বিরোধী দলের লাগাতার সংসদ বর্জন এবং সরকারি দলের অসহিষ্ণুতা সংসদীয় ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এক-এগারোর পর আশা করা গিয়েছিল, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসবে। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না, যদিও নবম জাতীয় সংসদের সূচনাটা ভালোই ছিল। উদ্বোধনী অধিবেশনে বিরোধী দলের উপস্থিতি জনমনে আশাও জাগিয়েছিল। তার পরই রথ উল্টো পথে চলতে থাকে। সামনের সারিতে বাড়তি আসন পাওয়ার মতো ঠুনকো দাবিতে বিরোধী দল সংসদ বর্জন অব্যাহত রাখে। তাদের দাবির পক্ষে হয়তো যুক্তি আছে। তাই বলে সংসদ বর্জন করতে হবে? সরকারি দল অন্যায়ভাবে প্রথম সারির আসন কেড়ে নিলে তার প্রতিবাদ জানানোর উপযুক্ত স্থানই হলো সংসদ। বিরোধী দলের চিফ হুইপ বলেছেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে তাঁরা সংসদে যোগ দিচ্ছেন। তাঁদের এ মনোভাব কেবল কথায় নয়, কাজেও দেখতে চায় দেশবাসী। সরকারি দলেরও উচিত হবে না এমন কিছু করা, যাতে বিরোধী দল ফের সংসদ বর্জনের সুযোগ পায়।
স্পিকার ও সরকারি দলের নেতারা আশ্বস্ত করেছেন, বিরোধী দল নির্বিঘ্নে সংসদে কথা বলতে পারবে। সংসদে সরকারি দলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও বিরোধী দলকে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আইন করলেই যে তার ফল ভালো হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। উদাহরণ হিসেবে সংবিধানের চতুর্থ ও পঞ্চম সংশোধনীর কথা উল্লেখ করা যায়। দুটো সংশোধনীই সংসদে অনুমোদিত হয়েছিল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায়। কালের নিরিখে তা টেকেনি। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এসব বিবেচনায় রাখতে হবে সরকারি দলকে।
অনেক সময় সংসদে ব্যক্তিগত দ্বেষ ও উসকানিমূলক বক্তব্য রাখা হয়, যা গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী। এ ব্যাপারে সরকারি ও বিরোধী দলকে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তাদের মনে রাখতে হবে, সংসদ গালমন্দ করার জায়গা নয়। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থেই এ সংসদ পরিচালিত হয়, তাদের কাছে সাংসদদের দায়বদ্ধতার কথাটিও ভুলে গেলে চলবে না।
আমরা বিরোধী দলের সংসদে যোগদানের সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানিয়েও যে কথাটি জোর দিয়ে বলতে চাই তা হলো, তাদের এ যোগদান যেন সাময়িক বা সদস্যপদ রক্ষার জন্য না হয়। মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা সংসদে থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হবে—এটাই প্রত্যাশিত।

কলকাতা বইমেলা আজ শেষ হচ্ছে

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বইমেলা আজ রোববার শেষ হচ্ছে। এ মেলা শুরু হয়েছিল ২৫ জানুয়ারি। এবারের এই ৩৪তম বইমেলার থিম কান্ট্রি ছিল মেক্সিকো। আগামী বছরের বইমেলার থিম কান্ট্রি হবে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার বইমেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এ কথা জানায় মেলার আয়োজক সংস্থা পাবলিসার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড।
গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিপ চট্টোপাধ্যায় প্রথম আলোকে জানান, এবারের বইমেলায় প্রায় ১৩ লাখ দর্শকের সমাগম ঘটেছে। মেলায় বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ অংশ নেয়।

পরমাণু চুক্তির কাছাকাছি তেহরান ও বিশ্বশক্তি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানুচেহের মোত্তাকি বলেছেন, তাঁদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বশক্তির সঙ্গে তাঁরা একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। গত শুক্রবার জার্মানির মিউনিখে এক নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মানুচেহের মোত্তাকি বলেন, আরও সমৃদ্ধ করার জন্য কিছু ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানোর ব্যাপারে একটি ‘চূড়ান্ত’ চুক্তি খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংলাপ ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ আরোপের বিরোধিতা করে আসছে বেইজিং।
মোত্তাকির ওই মন্তব্য সম্পর্কে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি পশ্চিমা কূটনীতিকেরা। যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের আশঙ্কা, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচির উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ।
বিবিসির তেহরান সংবাদদাতা জন লাইন লন্ডন থেকে বলেন, জোরালো সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত নতুন নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচার চেষ্টায় ইরানের পক্ষ থেকে ওই নতুন মন্তব্য করা হয়েছে।
মোত্তাকি বলেন, বর্তমানে তাঁরা যে অবস্থায় পৌঁছেছেন, তাতে তাঁর ধারণা, তাঁরা একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছেন। যা সব পক্ষ গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, ‘ইরান দেখিয়েছে যে এটা করার জন্য তারা আন্তরিক। এবং আমরা এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রদর্শন করেছি।’
তবে কবে এই চুক্তি হতে পারে, সে বিষয় উল্লেখ করেননি মোত্তাকি। এদিকে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং জিয়েচি মিউনিখ সম্মেলনে বলেন, বিশ্বশক্তি বা পি৫+১কে ধৈর্যশীল হতে হবে। এ বিষয়ে একটি কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। পি৫+১ দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি।

তিনজনকে চাবুক মারছে তালেবান জঙ্গিরা

নতুন এক ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, আফগান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় তালেবান জঙ্গিরা তিনজনকে চাবুক দিয়ে বেদম প্রহার করছে। এর মধ্যে দুই ব্যক্তি বয়স্ক ও একজন কিশোর। বার্তা সংস্থা এপি গতকাল শনিবার এ কথা জানিয়েছে।
নির্যাতনের ভিডিওচিত্রের দৃশ্যটি ৩ ফেব্রুয়ারি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরে আদিবাসী এক বৃদ্ধ তা স্থানীয় এক সাংবাদিককে দেন। ওই সাংবাদিক এপি টেলিভিশন নিউজের জন্য মাঝেমধ্যে ভিডিওচিত্র সরবরাহ করে থাকেন।
নির্যাতনের ভিডিওচিত্র সরবরাহ করা আদিবাসী ওই বৃদ্ধ জানান, আদিবাসী ওরাকজাই অঞ্চলের মামোজাই এলাকা থেকে ভিডিওচিত্রটি ধারণ করা হয়। তবে ওই এলাকা বহিরাগতদের জন্য বিপজ্জনক হওয়ায় এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

সাবেক সামরিক ঘাঁটি নিলামে বিক্রি

লাটভিয়ার একটি ছোট্ট শহর স্কুন্ড্রা-১। শহরটি বিখ্যাত এ কারণে যে একসময় এটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এর অবস্থান রাজধানী রিগা থেকে ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে। সোভিয়েত ইউনিয়ন শহরটিকে সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করত। ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলে তাদের সেনাবাহিনীও সেখান থেকে চলে যায়। এর পর থেকে এটি ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়।
৪৫ হেক্টরের এই জায়গায় ১০টি বাড়ি, একটি নৈশ ক্লাব, একটি বিপণনকেন্দ্র ও সেনাশিবির থাকলেও সেগুলো এখন শূন্য। পুরো এলাকা জনমানবহীন। কিন্তু লাটভিয়া সরকার পুরো এলাকা বিক্রি করে দিয়েছে একটি রুশ কোম্পানির কাছে। সূত্র: বিবিসি অনলাইন।
জায়গাটি কিনে নেয় আলেকক্সিভোকোচ সার্ভিস নামের একটি কোম্পানি। তবে শহরটির নতুন মালিক সেখানে কী করবে, সে সম্পর্কে কোনো ধারণাই দিচ্ছে না। জায়গাটি কিনতে তাদের গুনতে হয়েছে ৩০ লাখ ডলার। এটি বিক্রি করতেও লাটভিয়া কর্তৃপক্ষ নিলামের আয়োজন করে। বলা হচ্ছে, স্বাভাবিক দামের চেয়ে রুশ ওই কোম্পানি ১০ গুণ বেশি দাম দিয়ে কিনেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া পান্ডা এখন চীনে

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া একজোড়া বাচ্চা পান্ডাকে চীনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সে দেশের সিচুয়ান প্রদেশে এদের নতুন জীবন শুরু হয়েছে। এদের চীনা ভাষা শিক্ষা দেওয়া হবে। খাদ্যাভ্যাসও বদলানো হবে। পান্ডা দুটির নাম মেই লান ও তাই শ্যান। এদের বাবা-মাকে ধার দিয়েছিল বেইজিং।
মেই লান (৩) ও তাই শ্যানকে (৪) ‘পান্ডা এক্সপ্রেস’ নামে একটি বিশেষ বিমানে করে নেওয়া হয়েছে সিচুয়ানের চেংদু এলাকার চিড়িখানায়। তাই শ্যানের রক্ষণাবেক্ষণকারী নিকোলে মেসেও এদের সঙ্গে এসেছেন। বিবিসি অনলাইন।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এই পান্ডা দুটিকে বেশি আঁশযুক্ত খাবার দেওয়া হতো। চীনে এদের খাওয়ানো হবে রুটি ও বাঁশের অঙ্কুর। এতদিন এদের নির্দেশ দেওয়া হতো ইংরেজি ভাষায়। এখন থেকে চীনা ভাষায় তালিম দেওয়া হবে। চীন বিভিন্ন দেশের চিড়িয়াখানাকে শর্তসাপেক্ষে পান্ডা ধার দিয়েথাকে। বেইজিং কর্তৃপক্ষ শর্ত অনুযায়ীধার দেওয়া পান্ডা ও এদের সন্তানদের নির্দিষ্ট সময়শেষে চীনকে ফেরত দিতে হয়।

শিবসেনাকে সমুচিত জবাব রাহুলের

আগেই হুমকি দিয়েছিল শিবসেনা। মুম্বাইয়ে গেলে কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে সফর পণ্ড করে দেওয়া হবে ভারতের কংগ্রেস দলের সাধারণ সম্পাদক রাহুল গান্ধীর। ওই হুমকির কোনো পরোয়া না করে গত শুক্রবার মুম্বাইয়ের আন্ধেরি, দাদার ও ঘাটকোপার সফর করেন রাহুল। হেলিকপ্টারে নয়, রীতিমতো লোকাল ট্রেনে চেপে তিনি ওই সফর সারেন।
এই তিনটি এলাকা সফরের আরও একটি কারণ হলো, এগুলো শিবসেনার শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। শুধু তাই নয়, এসব এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি এদিন মিশে গিয়ে আড্ডাও দিয়েছেন। নিজে ট্রেনের টিকিট কেটেছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনিও লাইনে দাঁড়িয়েছেন।
মুম্বাই কার? রাহুল বলেছেন, মুম্বাই সবার। শিবসেনাদের দাবি, মুম্বাই মারাঠিদের। এই বিতর্কে জিততেই কিনা রাহুল প্রমাণ করলেন, তিনি কারও হুমকির পরোয়া করেন না। মুম্বাই সবার।
রাহুল শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বিমানে করে নামেন ছত্রপতি শিবাজি বিমানবন্দরে। সেখান থেকে তিনি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে প্রায় সহস্রাধিক কলেজশিক্ষার্থীর উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার জন্য ‘ভাইদাস হল’-এ যান। অবশ্য সঙ্গে ছিলেন নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, পুলিশ, এনএসজি ও র্যাফ সদস্য। এ সময় ওই এলাকায় শিবসেনার কয়েক শ নারী সমর্থক থাকলেও নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙতে পারেনি তারা।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ভাইদাস হল থেকে বেরিয়ে পবনহংস হেলিপেড থেকে হেলিকপ্টারে করে রাহুলের যাওয়ার কথা ছিল ভিক্রোলির গোদরেজ কম্পাউন্ডে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও জানতেন তেমনটাই। কিন্তু এর পরই শুরু হলো রাহুলের চমক। তিনি হেলিকপ্টারের বদলে ভাইদাস হল থেকে গাড়িবহর নিয়ে ছুটলেন আন্ধেরি স্টেশনের দিকে, গাড়ির ফোটবোর্ডে দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশে হাত নাড়তে নাড়তে। পথে জনতার অনেকে হাত মেলাল। হঠাত্ তিনি পকেটে হাত দিয়ে দেখলেন কোনো রুপি নেই। অগত্যা সান্তাক্রুজে নেমে অন্য সাধারণের মতো লাইন দিয়ে তিনি সেখানকার একটি এটিএম বুথ থেকে রুপি তোলেন। এরপর সবাইকে হতবাক করে লাইনে দাঁড়ান রেলের টিকিটের জন্য। টিকিট নিয়ে উঠে যান একেবারে দ্বিতীয় শ্রেণীর এক কামরায়।
নিজেদের মধ্যে ভিভিআইপিকে পেয়ে কামরার যাত্রীরা একেবারে থ। মাঝের আসনে বসে রাহুল তাদের সঙ্গে জুড়লেন গল্প। আমজনতা তাদের দুঃখ-কষ্টের কথাও বলল। অনেকে নিল রাহুলের অটোগ্রাফ। ট্রেন পৌঁছায় দাদারে। তখন বাজে দুপুর একটা ১৭ মিনিট। এভাবে তিনি রেল বদলে যান ঘাটকোপারে। সেখানেও জনতার বিশাল ভিড়। এভাবে শিবসেনার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তাদেরই শক্ত ঘাঁটিতে জনতার মধ্যে নির্বিকারে ঘুরে বেড়ালেন রাহুল। এভাবে রাহুল সমুচিত জবাব দিলেন বালসাহেব ঠাকরেদের।

সমালোচনার মুখে শ্রীলঙ্কা সরকার

জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোয় সমালোচনার মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। গতকাল শনিবার একটি বেসরকারি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, জরুরি অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধি পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বেসরকারি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা দ্য পিপলস অ্যাকশন ফর ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনের নির্বাহী পরিচালক রোহানা হেট্টিয়ারাচ্চি বলেন, জরুরি আইনের ব্যবহার নির্বাচনী প্রচারণাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। কোনো নিশ্চয়তা নেই যে সরকার জরুরি অবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে না।
স্বাভাবিক আইন পুনর্বহাল করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান সত্ত্বেও গত শুক্রবার জরুরি আইনের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেয় শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট। প্রধানমন্ত্রী রত্মসিরি বিক্রমানায়েক পার্লামেন্টে বলেন, জরুরি অবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ দেশের শত্রুরা নতুনভাবে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে।
জরুরি আইনের আওতায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিনা বিচারে দীর্ঘদিন কারাগারে আটকে রাখা যায়। একটি সরকারি সূত্র জানায়, ছয় বছরের মেয়াদকাল শেষ হওয়ার দুই মাস আগেই আগামী সপ্তাহে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়া হতে পারে। এপ্রিলের শুরুর দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
জরুরি আইন তুলে নিতে ও সরকারবিরোধীদের লক্ষ্য করে চালানো সহিংসতা বন্ধ করার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিয়ে যাচ্ছে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, শ্রীলঙ্কার বন্ধুদের সরকারকে বলা উচিত যে, সুশীল সমাজের ওপর যেকোনো ধরনের দমন-পীড়ন ভবিষ্যত্ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিক্রমানায়েক দাবি করেন, গত বছর সরকারি সেনারা তামিল টাইগার গেরিলাদের গুঁড়িয়ে দিলেও অবশিষ্ট বিদ্রোহীরা পুনর্গঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিরোধীরা সরকারের এ দাবি নাকচ করে দিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনের জন্য সরকার জরুরি আইন ব্যবহার করছে।

হাইতিতে ত্রাণ তত্পরতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিলেন ক্লিনটন

ভূমিকম্পবিধ্বস্ত হাইতিতে ত্রাণ তত্পরতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। গত শুক্রবার হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স সফরের সময় তিনি ওই প্রতিশ্রুতি দেন। এদিকে শিশু পাচারের চেষ্টার অভিযোগে হাইতিতে আটক মার্কিন ১০ নাগরিকের বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য মার্কিন সরকার ও হাইতি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ক্লিনটন।
হাইতিতে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। তিনি যখন হাইতির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে যান, তখন সেখানে বিক্ষোভ দেখানো হয়। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মন্থরগতিতে চলা ত্রাণ বিতরণ জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন। ত্রাণকাজে বিল ক্লিনটনের এটা দ্বিতীয় হাইতি সফর।
গত ১২ জানুয়ারি সাত মাত্রার ভূমিকম্পে হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সেখানকার কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষের ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন। কর্মকর্তারা জানান, ভূমিকম্পে নিহত হয়েছে দুই লাখ ১২ হাজার মানুষ।
সমন্বিত ত্রাণ তত্পরতায় বিলম্বের কারণে দুঃখ প্রকাশ করেন বিল ক্লিনটন। সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি দুঃখিত যে এতে সময় বেশি লেগে গেছে। তবে ত্রাণ তত্পরতার সঙ্গে জড়িত লোকজন কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। যেসব কাজ এখনো করা হয়নি এবং যেগুলো জোরদার করা প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি আমি। আমি সেসব শূন্যতা পূরণ করার চেষ্টা করব। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী অনেক মানুষ এখনো তাদের বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের কাছে বসবাস করছেন। অস্থায়ীভাবে নির্মিত ৬১৫টি অস্থায়ী শিবিরে গাদাগাদি করে অবস্থান করছে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ।
বিল ক্লিনটন বলেন, যারা এখনো রাস্তায় রাত যাপন করছে, তাদের সাহায্যের জন্য কয়েক দিনের মধ্যে কয়েক হাজার নতুন তাঁবু হাইতিতে এসে পৌঁছাবে। ত্রাণ বিতরণে সহায়তার জন্য কয়েক শ ট্রাক আসছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে হাইতিতে আটক মার্কিন ১০ নাগরিকের বিরুদ্ধে শিশু অপহরণ এবং শিশুদের অবৈধভাবে হাইতির বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিল ক্লিনটন সিএনএনকে বলেন, এই মুহূর্তে যেটা গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো হাইতি ও মার্কিন সরকারের একত্রে কাজ করা। তিনি বলেন, বিপর্যয়কর ভূমিকম্পের পর হাইতি থেকে শিশু পাচার রোধ এবং বেআইনি দত্তক নেওয়া থেকে হাইতির শিশুদের রক্ষা করতে হাইতি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়টি তিনি বোঝেন।
সাক্ষ্যপ্রমাণে দেখা গেছে, উদ্ধার করা অনেক শিশুই এতিম নয়। কিন্তু উন্নত জীবনের আশায় মা-বাবা তাদের অন্যের হাতে তুলে দিয়েছেন।

তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় নারীদের রাখতে হবে: জাতিসংঘ

আফগানিস্তানে তালেবানের সঙ্গে সরকারের যেকোনো শান্তি আলোচনায় অবশ্যই নারীদের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য দূরীকরণবিষয়ক জাতিসংঘের এক কমিটি জেনেভায় আলোচনার পর গত শুক্রবার এ বিষয়ে সতর্ক করে দেয়।
কমিটি এক বিবৃতিতে জানায়, তালেবানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছোতে হলে নারীর অধিকার রক্ষা ও সম্মানের প্রতি একটি স্পষ্ট অঙ্গীকার থাকতে হবে। খবর এএফপি।
২৩ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ এ কমিটি আফগান সরকার ও তার বিদেশি মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তালেবানদেন সঙ্গে আলোচনার জন্য নারী প্রতিনিধির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
গত মাসে আফগানিস্তানবিষয়ক লন্ডনে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নারীদের বাদ দেওয়ায় এ কমিটির সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পাথর ছুড়ে লাখ টাকা আয়

পাথর ছুড়লেই মজুরি। আয় করা যায় লাখ টাকাও। হ্যাঁ, এই অভিনব ব্যবসা চালাচ্ছে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। এই ব্যবসায়ীরা মিছিল-মিটিং থেকে পুলিশ বা নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর পাথর ছোড়ার জন্য ভাড়া দেন মানুষ।
এই ভাড়াটেরা মিছিল থেকে গোপনে ছুড়ে মারে পাথর। কখনো বা গাড়ির টায়ারে আগুন দিয়ে ভীতির সঞ্চার করে। সড়ক অবরোধ করে। এই কাজের জন্য কোনো কোনো রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিয়োগ সংস্থাকে মজুরি দিয়ে থাকে। কখনো এই মজুরি পাঁচ লাখ রুপিও হয়ে যায়। আর এই ভাড়াটে কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাথর ছোড়ে নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর

জ্যাকসনের চিকিত্সকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হচ্ছে কাল

প্রয়াত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের চিকিত্সক কনরাড মারের বিরুদ্ধে কাল সোমবার অভিযোগ দায়ের করা হবে। এর আগে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানিয়েছিল, শুক্রবার চিকিত্সক মারে আদালতে শুনানির আগে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। কিন্তু আত্মসমর্পণের ধরন নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ও মারের আইনজীবীদের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় শুক্রবার তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলেও বিলম্ব করেন সরকারি কৌঁসুলিরা।
শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেস ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, কনরাড মারেকে সোমবার বিচারের জন্য আদালতে হাজির করে অভিযোগ দাখিল করা হবে। তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ দাখিল করা হচ্ছে না। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি সূত্র জানিয়েছে, মারের বিরুদ্ধে ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে মানব হত্যাকাণ্ড’ ঘটানোর অভিযোগ আনা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ক্যালিফোর্নিয়ার আইনে তাঁর সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
গত বছরের ২৫ জুন পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন ৫০ বছর বয়সে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে মারা যান। আগস্টে লস অ্যাঞ্জেলেস করোনারের (অপঘাত ও সন্দেহজনক মৃত্যুর তদন্তকারী বিচারক) কার্যালয় জানায়, শক্তিশালী প্রপোফল ওষুধের ক্রিয়াতেই পপসম্রাট মাইকেল মারা গেছেন। সাধারণত অস্ত্রোপচারের সময় অবেদনের (অ্যানেসথেসিয়া) জন্য রোগীকে ওই ওষুধ দেওয়া হয়।
তদন্তে জানা যায়, কনরাড মারেই ওই দিন পপসম্রাটকে ওই ওষুধ দিয়েছিলেন। তিনিই পপসম্রাটের অন্তিম সময়ে তাঁর চিকিত্সা দিয়েছিলেন। প্রথম দিকে স্বীকার না করলেও পরে ৫৬ বছর বয়সী কনরাড স্বীকার করেন, অন্য কোনো ওষুধে কাজ না হওয়ায় এবং পপসম্রাটের বারবার অনুরোধের পর তিনি অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে প্রপোফলও দিয়েছিলেন।

আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র কারখানার উদ্বোধন করেছে ইরান

পশ্চিমা বিশ্বের উদ্বেগের মুখে ইরান আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র কারখানার উদ্বোধন করেছে। সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমাদ বাহিদি গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানা দুটির উদ্বোধন করেন। ইরানের সরকারি টেলিভিশন এ তথ্য দিয়েছে।
এ দুটি কারখানা থেকে দুই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হবে। এগুলোর নাম কায়েম ও তুফান-৫। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা ফারস জানায়, কায়েম নামের ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য। হেলিকপ্টার ধ্বংসের লক্ষ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে। তুফান-৫ ভূমি থেকে ভূমিতে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি দুটি ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এবং ট্যাংকসহ অন্যান্য সমরাস্ত্র ধ্বংস করতে পারে।
চলতি মাসের শেষ দিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৩১তম বার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে এ দুটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা উদ্বোধন করা হলো।
এর আগে গত বুধবার দেশটি কৃত্রিম উপগ্রহবাহী একটি রকেটের সফল উেক্ষপণ করে। উপগ্রহটিতে জীবিত ইঁদুর, কচ্ছপের বাচ্চা ও কেঁচো পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পশ্চিমা বিশ্ব উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইরান পরমাণু বোমা বানানোর চেষ্টা করছে—পশ্চিমা বিশ্ব এত দিন এই দাবি করে আসছিল। এখন তারা বলছে, তাঁদের আশঙ্কাই সত্য। তেহরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এই সাক্ষ্যই দিচ্ছে। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাঁদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

ওবামার শিল্পকলা ও মানবিক বিষয়ক কমিটিতে ঝুম্পা লাহিড়ি

পুলিত্জার বিজয়ী ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন লেখিকা ঝুম্পা লাহিড়িকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শিল্পকলা ও মানবিকবিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটির সদস্যসংখ্যা ছয়।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘তাঁদের মতো সম্মানিত মানুষ আমার প্রশাসনে কাজ করবেন, এতে আমি গর্ব বোধ করছি। শিল্পকলা ও মানবিক কমিটি আমাদের সমাজের স্পন্দন বাড়াবে, আমাদের উদ্দীপ্ত করবে এবং আমাদের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে।’
ওবামা আরও বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে আমি তাঁদের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি।’ হোয়াইট হাউস জানায়, ওই কমিটিতে আর যাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন চুক ক্লোজ, ফ্রেড গোল্ডরিং, শিলা জনসন, পামেলা জয়নার ও কেন সলোমন।
লেখিকা ঝুম্পা লাহিড়ির প্রথম ছোটগল্পের সংকলন ইন্টারপ্রেটর অব মালদ্বীবস পুলিত্জার পুরস্কার জিতে নেয়। বইটি পুলিত্জার ছাড়াও পেন/হেমিংওয়ে পুরস্কার এবং এডিসন এম মেটক্ল্যাফ পুরস্কারও জিতে নেয়।
তাঁর সর্বশেষ ছোটগল্পের সংকলন আনঅ্যাকাস্টমড আর্থ ফ্রাংক ও’কনর ইন্টারন্যাশনাল শর্ট স্টোরি অ্যাওয়ার্ড ও দ্য ভালোমব্রোসা-গ্রেগর ভন রেজোরি পুরস্কার জেতে।

উত্তর কোরিয়া মার্কিন ধর্মপ্রচারককে মুক্তি দিয়েছে

মার্কিন ধর্মপ্রচারক রবার্ট পার্ককে মুক্তি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। তিনি গতকাল শনিবার সকালে চীন পৌঁছেছেন। বিকেলে তিনি স্বদেশের উদ্দেশে রওনা হন। বেইজিংয়ের মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র সুসান স্টিভেনসন এ তথ্য দিয়েছেন।
দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, ‘রবার্ট পার্ক মুক্ত। তিনি ইতিমধ্যে বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। তাঁকে মুক্তি দেওয়ায় আমরা পিয়ংইয়ংকে স্বাগত জানাই।’ উত্তর কোরিয়ার প্রধান সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে গত শুক্রবার বলা হয়, পশ্চিমা প্রচারণার ফাঁদে পড়ে রবার্ট পার্ক দেশটির সীমান্ত পাড়ি দেন। তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা প্রার্থনা করলে পিয়ংইয়ং কর্তৃপক্ষ তাঁকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
রবার্ট পার্ক গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সীমান্তের বরফাবৃত তুমেন নদী হেঁটে পার হয়ে উত্তর কোরিয়ায় ঢুকে পড়েন। এ সময় তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইলের প্রতি লেখা একটি চিঠি বহন করছিলেন। উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ, সব রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি ও সব বন্দিশালা বন্ধের দাবিতে তিনি ওই চিঠি লেখেন বলে তাঁর সহকর্মীরা তখন জানান।

তুষারে ঢেকে গেছে ওয়াশিংটন জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রচণ্ড তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল ও রাজধানী ওয়াশিংটনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শুধু ওয়াশিংটন নয়, বাল্টিমোরেও বেশির ভাগ এলাকা গতকাল শনিবার প্রায় ১০ ইঞ্চি তুষারের নিচে ঢাকা পড়ে। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে যানবাহন চলাচল, বন্ধ হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ওঠানামা নেই বিমানের। গত ৯০ বছরে কখনো এত তুষারপাত হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অফিস। খবর বিবিসি অনলাইন ও এএফপি
ব্যাপক তুষারপাতের কারণে মানুষ বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। দর্শক না থাকায় জাদুঘরেরও দরজা বন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দারা এ অবস্থায় অন্তত পাঁচ দিন ঘরে বসে থাকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া অফিস এ দুর্যোগকে ভয়ানক বিপদ বলে আখ্যায়িত করেছে। ১৯২২ সালের পর এমন তুষারপাত আর হয়নি। ওই সময় তুষারপাতে শ খানেক মানুষের মৃত্যু হয়।
শুক্রবার রাতে শুরু হওয়া ব্যাপক তুষারপাতে ওয়াশিংটন ও বাল্টিমোরের অনেক জায়গা তুষারে ডুবে আছে। সবকিছুর ওপর শ্বেত আস্তরণ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, তুষারঝড়ের এই প্রভাব ইন্ডিয়ানা থেকে পেনসিলভানিয়া এবং নিউইয়র্কের কিছু অংশ থেকে নর্থ ক্যারোলাইনা পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
ওয়াশিংটনের দুটি প্রধান বিমানবন্দর রিগ্যান জাতীয় বিমানবন্দর ও ডালাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুক্রবার কিছু বিমান ওঠানামা করলেও গতকাল রিগ্যান বিমানবন্দর থেকে সব ধরনের বিমানের ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। শুধু ডালাস বিমানবন্দর থেকে নির্দিষ্ট কিছু বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ করেছে।
এ অবস্থায় ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, ডিলাওয়ার অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছে অঙ্গরাজ্যগুলোর সরকার। জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় ন্যাশনাল গার্ডকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মাওবাদী দমনে ভারতের ছয় রাজ্যে শুরু হচ্ছে অভিযান

মাওবাদী দমনের জন্য এবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে। মাওবাদীদের দমনে এবার মাওবাদী প্রভাবিত ছয়টি রাজ্যেই দ্বিতীয় পর্যায়ে শুরু করছে সবচেয়ে বড় অভিযান ’অপারেশন গ্রিন হান্ট’। এই অভিযান চলবে পশ্চিমবঙ্গসহ ছয়টি রাজ্যে। রাজ্য ছয়টি হলো—ঝাড়খন্ড, উড়িষ্যা, বিহার, মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গ। তবে এর আগে গত ১১ নভেম্বর থেকে মহারাষ্ট্র ও ছত্তিশগড়ে প্রথম পর্যায়ের ’অপারেশন গ্রিন হান্ট’ শুরু হয়েছে। এবার বাকি চারটি রাজ্যের সঙ্গে ওই দুটি রাজ্যেই একযোগে শুরু হবে ‘অপারেশন গ্রিন হান্ট’।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযান শুরু হতে পারে এ মাসের ১৫ তারিখ থেকে ওই ছয় রাজ্যের মাওবাদী অধ্যুষিত ৩৬টি জেলায়। এই তারিখ চূড়ান্ত করতে ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সচিবালয় মহাকরণে বসছে চার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীসহ পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খন্ড, উড়িষ্যা ও বিহারের মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবদের এক বৈঠক। এ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে আরও জানা গেছে, মাওবাদী দমনে এই অভিযান চলবে জলে-স্থলে এবং আকাশপথে। এ জন্য সেনাবাহিনী থেকে হেলিকপ্টারের সাহায্য নেওয়া হতে পারে। এই অভিযান হবে সর্বাত্মক। চলবে জঙ্গল, নদী, পাহাড়ে। অভিযানে যোগ দেবে ভারতের আধা-সামরিক বাহিনী সিআরপি, বিএসএফ, ইন্দো-টিবেটিয়ান বর্ডার পুলিশ, আইআরবি, রাজ্য সশস্ত্র পুলিশ, ইএফআর এবং কমান্ডো ব্যাটালিয়ন ফর রেজোলিউট অ্যাকশনের (কোবরা) জওয়ানেরা।
পশ্চিমবঙ্গে এই অভিযানে অংশ নেবে অন্তত পাঁচ হাজারের বেশি আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য। এই অভিযান চলবে পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী অধ্যুষিত তিনটি জেলার ২১টি থানা এলাকায়। জেলা তিনটি হলো পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুরা।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব অর্ধেন্দু সেন বৃহস্পতিবার রাজ্য সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, পশ্চিমবঙ্গে ’গ্রে হাউন্ড’ ধাঁচে একটি বিশেষ বাহিনী গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য রাজ্য সরকার ২৫ কোটি রুপি বরাদ্দ করবে।
তিনি আরও জানান, এই বাহিনী গড়ার জন্য দ্রুত নিয়োগ করা হবে ৫০০ থেকে ৬০০ যুবককে। এদের প্রশিক্ষণ দেবে ভারতীয় সেনাবাহিনী, সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বা বিএসএফ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী বা সিআরপিএফের প্রশিক্ষিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এদিকে অপারেশন গ্রিন হান্ট শুরু করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সিপিআই (মাওবাদী) আজ রোববার থেকে মাওবাদী অধ্যুষিত এই ছয় রাজ্যে ৭২ ঘণ্টার বন্ধ্ ডেকেছে।

দারিদ্র্য মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান বানের

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও জলবায়ু পরিবর্তন একুশ শতকের মানবতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। এ হুমকি মোকাবিলায় বিশ্ববাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। জার্মানিতে গতকাল শনিবার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ভিডিও লিংকের মাধ্যমে বান কি মুন বলেন, ‘সারা বিশ্বে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা বেশ কয়েকটি দেশে খাদ্য নিয়ে দাঙ্গা হতে দেখেছি। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্যই আমি “মিলেনিয়াম উন্নয়ন লক্ষ্যে” বিশ্বব্যাপী এ-সংক্রান্ত প্রচার চালানোর কথা বলে আসছি।’
জার্মানির মিউনিখে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে সারা বিশ্বের প্রায় ৩০০ শীর্ষ সামরিক, কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক কর্মকর্তা যোগ দিয়েছেন। গতকাল প্রাচ্যের শান্তি-প্রক্রিয়া ত্বরান্বিতকরণ এবং বিশ্ব পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর জন কেরি, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেমস জোন্স, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন আশটন, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থার প্রধান উকিয়া আমানো প্রমুখের বক্তব্য রাখার কথা ছিল।
সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং জিয়েচি গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো মিউনিখে পৌঁছান। ধারণা করা হচ্ছে, তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ করতে রাজি হওয়ায় ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন তিনি। এ ছাড়া ইরানের ওপর পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবেও বাধা দেবেন তিনি।
পর্যবেক্ষকেরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানুচেহের মোত্তাকি তাঁর দেশে মানবাধিকার রেকর্ডের সাফাই গেয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেডেলিন অলব্রাইটসহ বেশ কয়েকজন সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং জিয়েচি বলেছেন, তাইওয়ানের সঙ্গে ৬৪০ কোটি ডলারের অস্ত্রচুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ চুক্তি তাঁর দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। কারণ, চীন তাওয়ানকে নিজের দেশের অংশ গণ্য করে।
তিব্বতের ধর্মীয় নেতা দালাই লামার সঙ্গে এ মাসের শেষের দিকে হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

নতুন সামরিক নীতি প্রকাশ করল রাশিয়া

ন্যাটোর সম্প্রসারণকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে একটি নতুন সামরিক পরমাণু মতবাদ বা নীতি নিয়েছে রাশিয়া। তাদের ওই মতবাদের সারকথা হলো, নিজেদের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়লে রাশিয়া তাদের পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে এবং সেই অধিকার তাদের রয়েছে। শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ওই নীতি অনুমোদন করেছেন।
সামরিক ওই মতবাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ব ইউরোপে ন্যাটো শক্তির বিস্তার এবং ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থের জন্য বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এ জন্য রাশিয়া নতুন ওই নীতি নিয়েছে।
রাশিয়ার সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রেমলিনের বর্তমান সামরিক বাহিনীতে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের অভাব রয়েছে। একটি পেশাদার সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে যে সংস্কার চলছে তাও বেশ কষ্টসাধ্য। এই পরিস্থিতিতে আক্রান্ত হলে পারমাণবিক শক্তিকে শেষ আশ্রয় হিসেবে বিবেচনা করছে রাশিয়া।
তবে নতুন নীতিমালায় আঞ্চলিক সংঘাতের ক্ষেত্রে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারের কথা বলা হয়নি। গত বছরই রুশ নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান নিকোলাই পাতরুশেভ ওই সুপারিশ করেছিলেন। সম্প্রতি ওই নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়।
সামরিক গবেষক আলেকজান্ডার গোল্টস বলেন, রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি নিয়ে যারা বিশ্বে আতঙ্ক ছড়াতে চায়, কয়েকজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি তাদের পরাজিত করতে পেরেছেন। ২০০৮ সালে জর্জিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার পাঁচ দিনব্যাপী এক সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ হয়। নতুন সামরিক মতবাদ বলছে, এখনো এ ধরনের আঞ্চলিক সংঘাত ও যুদ্ধের হুমকিতে রয়েছে রাশিয়া। এতে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়ার মূল হুমকির মধ্যে রয়েছে রুশ সীমানা ঘেঁষে ন্যাটো শক্তির বিস্তার, সীমানাজুড়ে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের ঘটনা এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়া।
কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিক বলেছেন, পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা ডিঙিয়ে রাশিয়ার এই নীতি নেওয়ার একটি উদ্দেশ্য হলো উদীয়মান চীন ও ন্যাটো শক্তিকে সতর্ক করে দেওয়া।
রাশিয়ার একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল শুক্রবার বার্তাসংস্থাকে বলেছেন, ১৯৬৮ সালে চীনের সঙ্গে সীমান্তবিরোধের পর থেকেই রাশিয়া তাদের এশীয় প্রতিবেশী ওই দেশটির সঙ্গে প্রচলিত যুদ্ধের ধারণা থেকে কার্যত সরে আসে। এখন রাশিয়া ফের আগের নীতিতে ফিরে যাচ্ছে।
এই মতবাদটি এমন সময় প্রকাশ করা হলো, যখন রুশ-মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্রের ভান্ডার কমিয়ে আনার ব্যাপারে দুদেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা চলছে। দুদেশের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের সময় করা ঐতিহাসিক একটি চুক্তির মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়। এর পর গত ডিসেম্বরে ওই চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ছিল। এ নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।