Wednesday, November 13, 2013
ইদানীং রাজনীতি- মন্ত্রিত্ব এখন চাকরি! by শাহদীন মালিক
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্যাংক জালিয়াতি- অর্থমন্ত্রী, সবগুলোই আপনার বিষয় by শওকত হোসেন
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নারীস্বার্থ- রাষ্ট্র, সরকার ও বিরোধী দলের কাছে কী চাই by মালেকা বেগম
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অস্বস্তিতে ভুগছেন পুলিশ কর্মকর্তারা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মন্ত্রীবিহীন প্রধানমন্ত্রী by শহীদুল্লাহ ফরায়জী
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাতীয় মশকরা by সাজেদুল হক
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
টেলিভিশনে শিষ্টাশিষ্ট বিশিষ্ট কথন by হানিফ সংকেত
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঈশ্বর কণায় হকিংস কেনো নাখোশ?
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাম লীলার ওপর নিষেধাজ্ঞার খড়গ!
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১৬ কোটি মানুষের কী অপরাধ? by মোস্তফা কামাল মজুমদার

অচলাবস্থার মূল কারণ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধ। নির্বাচন বর্তমান সরকারের তত্ত্বাবধানে নাকি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হবে- যে ব্যবস্থা ১৯৯৬ সাল থেকে চালু ছিল। ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালে তিনটি নির্বাচন কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। সব বিরোধী দল, এমনকি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের কয়েকটি শরিক দল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো এ দাবির পক্ষে সারা দেশে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলেছে।
আওয়ামী লীগ ও তার অন্ধ সমর্থক দলগুলো ক্ষমতাসীনদের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। তারা শুধু বিরোধী দলের কিছু সংসদ সদস্যকে নির্বাচনকালীন সরকারে অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি আছেন। এর পক্ষে প্রধান যুক্তি- দুই বছরের সর্বশেষ কেয়ারটেকার সরকারের সময়কার দুরবস্থা, জরুরি অবস্থা এবং তার অধীনে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের ওপর নেমে আসা নিষ্পেষণ এবং মাইনাস টু ফর্মুলা ইত্যাদি। কিন্তু এখানে একটা বিষয় দৃষ্টির আড়ালে থেকে যাচ্ছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা না থাকার কারণেই অচলাবস্থার সূত্র ধরে জরুরি অবস্থা এসেছিল। বিরোধী দলের একটা দাবি উপেক্ষা করা যায় না। তারা বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির পরিবর্তন আওয়ামী লীগ তথা তার নেতৃত্বাধীন জোটের কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল না। এ রকম কোনো কর্মসূচি ২০০৮ সালের নির্বাচন মেনিফেস্টোতেও বলা হয়নি। যারা পঞ্চদশ সংশোধনী প্রণয়ন ও পাসের সঙ্গে জড়িত তাদের বিভিন্ন সময়ের কথাবার্তা থেকেও এটা পরিষ্কার যে, শুরুর দিকে কেউ এই মীমাংসিত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাননি। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের তরফে বলা হয়েছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে দুটি শর্ত জুড়ে দেয়া যেতে পারে : ১. নির্বাচনকালীন এই সরকারের মেয়াদ ৯০ দিনে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং ২. এ সরকার বিদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি সই করতে পারবে না। সরকারি দলের এ মনোভাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের নেতারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংরক্ষণের পক্ষে জোরালো বক্তব্য রেখে তাদের অবস্থান আরও পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন। এর পরেও পারস্পরিক আস্থাহীনতার যে বিরাট ফারাক পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে, তা টেকসই গণতন্ত্রের স্বার্থে দূর করা দরকার। এই মূল ইস্যু বাদ দিয়ে মামুলি বিষয়- ২৭-২৯ অক্টোবরের হরতাল বিরোধী দল প্রত্যাহার করেছে কিনা- নিয়ে টানাটানি করলে ফলপ্রসূ কিছু হবে বলে মনে হয় না। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের ভাষায় অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণভিত্তিক নির্বাচন করার পরিবেশ তৈরি করা এখনকার জরুরি কাজ।
এ কথা বলার অর্থ এই নয় যে, একটা নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের তত্ত্বাবধানে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান অসম্ভব। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এমন একটা মার্জিত পর্যায়ে এখনো আসেনি যে, ক্ষমতায় আসীন ব্যক্তিরা তাদের নির্ধারিত ক্ষমতা বা ম্যান্ডেটের বাইরে যাবেন না- এতটুকু বিশ্বস্ততা অর্জন করেছেন। বা বিরোধী দলের মধ্যে আস্থা এমন পর্যায়ে আসেনি যে, তারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিতের নিরপেক্ষতা ও সত্যনিষ্ঠার ব্যাপারে সন্দিহান নন। এখানে এ কথা বলা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা মানুষের স্বভাবজাত পক্ষপাত বা লোভকে তাদের বিচার-বুদ্ধির কাছে ছেড়ে না দিয়ে রাষ্ট্রের তিন অঙ্গ নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি করেছিলেন। যার ফলে মাত্র কদিন আগেও বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সরকারেরও কিছু কর্মকাণ্ড অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কারণ তার প্রবর্তিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য চাহিদা মতো রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা কংগ্রেস তাকে দেয়নি। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাকেও তার দূতাবাস ও বাসস্থানের বাইরে ভ্রমণ এ কারণে অনেকটা সীমিত রাখতে হয়েছিল।
এটা পরিষ্কার যে, আমাদের দেশে রাষ্ট্র বা সরকারের কোনো অঙ্গ বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে নেই যে, মার্কিন কংগ্রেসের মতো নির্বাহী বিভাগের ওপর চাপ প্রয়োগ করা যেতে পারে। আমাদের দেশের মতো সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় এরকম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা প্রায় অসম্ভব, যদি না সংসদে কারও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে বা দেশে কোয়ালিশন সরকার থাকে। এখানে শুধু উচ্চ আদালতের ক্ষমতা আছে নির্বাহী বা আইন বিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করার। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে উচ্চ আদালত আগে থেকেই তার অবস্থান নিয়ে নিয়েছে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারের ছত্রছায়ায়ই আইন বিভাগ পরিচালিত হয়। আবার পার্লামেন্ট সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করে এমনকি বিচার বিভাগের ক্ষমতা হ্রাস করারও ক্ষমতা রাখে। বর্তমান সংসদের ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কতটা শক্তিশালী তা ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না। কারণ সংসদের নয়-দশমাংশ সদস্য সরকারি দলের বা জোটের। এরূপ অবস্থায় ক্ষমতাসীনরা চাইলে একদিনের মধ্যে একটা সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করে শাসন ব্যবস্থা তথা সাংবিধানিক বিষয়ে ঐকমত্য ফিরিয়ে এনে শান্তিপূর্ণ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে এবং তা করলে তারা এদেশের গণতন্ত্রকামী ও শান্তিপ্রিয় মানুষের মনে স্থায়ী শ্রদ্ধার আসন দখল করতে সক্ষম হবে।
ঐকমত্য সৃষ্টিতে সমর্থ না হলে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর বর্তমান জটিলতা আরও প্রকট হবে। বর্তমান ব্যবস্থায় নির্বাচনী প্রচারণা সমান অধিকারভোগী প্রতিযোগীদের মধ্যে হবে না, হবে অসম প্রতিযোগিতার নির্বাচন। একদল প্রতিযোগী সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং মর্যাদা পাবে, অন্যদল সাধারণের কাতার থেকে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। মন্ত্রীরা সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি ভোগ করবেন। কারণ আইন প্রয়োগকারীরাসহ প্রশাসন প্রটোকল ও মর্যাদা রক্ষাসহ তাদের সন্তুষ্ট রাখার কাজে ব্যস্ত থাকতে বাধ্য হবে। রাশেদ খান মেননসহ সরকারি রাজনৈতিক জোটের প্রভাবশালী কিছু সদস্য অল্প কদিন আগে পর্যন্ত এমপিদের সংসদ সদস্য পদে আসীন রেখে অসম নির্বাচনী প্রতিযোগিতার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন। সরকারি মহল নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে এবং আসন্ন নির্বাচন কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে এ নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। কারণ এ ধরনের নির্বাচনের কোনো নজির এদেশে কখনও ছিল না। নির্বাচনী আচরণবিধি চূড়ান্ত করতে নির্বাচন কমিশন হিমশিম খাচ্ছে, কারণ এই বিধিতে নির্বাচনে সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বী ও এমপি-মন্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্বাচনকালীন সুযোগ ও মর্যাদা একরকম হবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সর্বশেষ বক্তব্য হল, তারা রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য অপেক্ষা করছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অতি সম্প্রতি সংসদে সংশোধিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের ওপর থেকে এ বিষয়ে চাপ কিছুটা কমবে। কিন্তু এদেশের মানুষ একই নির্বাচনে মর্যাদার পার্থক্য নিয়ে প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখতে অভ্যস্ত নয়।
যদিও প্রবাদে আছে- একটা জনগোষ্ঠী যে ধরনের সরকারের জন্য উপযোগী সে ধরনের সরকারই পায়, তবুও বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ সম্ভবত বর্তমান অবস্থায় নিপতিত হওয়ার মতো কোনো অপরাধ করেনি। শত বিপত্তি অতিক্রম করে এদেশের মানুষ এখনও উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলার সামর্থ্যরে পরিচয় দিয়ে চলেছে। বিদেশের মাটিতে গরিব মানুষের শরীরে ঘামের বিনিময়ে ডলার উপার্জনের কারণেই তিন দশক ধরে বাংলাদেশ বাণিজ্যিক লেনদেনে একটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পেরেছে।
বাংলাদেশের চাষীরা শুধু চাল, গম ও ভুট্টার উৎপাদনই বাড়ায়নি, কৃষি বহুমুখী করে তারা সবজি এবং ফলের সরবরাহও বাড়িয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে এখন এসব কৃষিপণ্যের সরবরাহ বাজারে প্রচুর থাকে। কোনো কোনো পণ্যের দাম আগের তুলনায় কমে গেছে। নিবেদিত গার্মেন্ট কর্মীরা কঠোর পরিশ্রম, এমনকি কখনও জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন বাড়িয়ে চলেছে। ক্রিকেটাররা দেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে। এখন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সারা বিশ্বের ঘরে ঘরে মিনি পর্দায় পত্পত্ করে ওড়ে। এ সাফল্য তাদের। এখনকার যুবকরা ইন্টানেটের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়ায় এবং আকাশছোঁয়া উন্নতির স্বপ্ন দেখে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের উচিত তাদের নিরাশ না করে ক্ষমতায়নের পরিবেশ আরও পরিচ্ছন্ন রাখা।
মোস্তফা কামাল মজুমদার : সাংবাদিক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রশাসন দলীয়করণের পরিণাম! by আবদুল লতিফ মণ্ডল

প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলবাজি প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, প্রজাতন্ত্রের কর্মের সব ক্ষেত্রেই যেমন- সংযুক্ত দফতর, অধস্তন দফতর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, আধা- স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদিতে এর বিস্তার ঘটেছে। নিজের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে সর্বনিু পর্যায়ের কর্মচারী দলবাজিতে লিপ্ত। পেশাজীবীরা যেমন- চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, কৃষিবিদরাও দলবাজিতে পিছিয়ে নেই। প্রজাতন্ত্রের নিরপেক্ষ ও নিরীহ কর্মচারীরা উপেক্ষিত। যুগান্তরের আলোচ্য প্রতিবেদনে এ অবস্থারই প্রতিফলন ঘটেছে।
তবে এটাও সত্য যে, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলবাজি বর্তমান সরকারের আমলেই শুরু হয়নি। গত ২০ বছরে দুটি বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ তাদের পালাক্রমিক শাসনামলে প্রশাসনকে দলীয়করণের কোনো চেষ্টাই বাকি রাখেনি। প্রশাসনে দলীয়করণে ব্যবহৃত দুটি মোক্ষম অস্ত্র হল পদোন্নতি ও প্রাইজ পোস্টিং। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ তাদের শাসনামলে প্রশাসন দলীয়করণে এ দুটি অস্ত্রের পূর্ণ ব্যবহার করেছে। প্রশাসনকে দলীয়করণে রাজনীতিকদের উদ্যোগ কর্মকর্তাদের দলবাজ হতে উৎসাহ দিয়েছে।
স্বাধীনতার পর থেকে আশির দশকের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সচিবালয়ের উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদগুলোতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ব্যাপারে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হলেও বিএনপির শাসনামলে ১৯৯২ সালে এসব পদে পদোন্নতিতে বড় ধরনের বিশৃংখলার শুরু হয়। অনেকের মতে, প্রশাসনকে দলীয়করণেরও এটি ছিল প্রথম সুপরিকল্পিত বড় পদক্ষেপ। তবে কেউ কেউ মনে করেন, স্বাধীনতার পর পরই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিপুলসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাকে ম্যাজিস্ট্রেট ও অন্যান্য পদে চাকরি প্রদান ছিল প্রশাসনকে দলীয়করণের প্রথম পদক্ষেপ। এদের অধিকাংশ কর্মকর্তা প্রশাসনে ‘আওয়ামীপন্থী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই এসব কর্মকর্তা প্রশাসনে নানা ধরনের সুবিধা পেয়েছেন।
অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দাবি গণআন্দোলনে রূপ নিলে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি সরকারের পতন হয়। ১৯৯১ সালের ফেব্র“য়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। সরকার গঠনের এক বছর পার না হতেই বাংলাদেশ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিএনপির প্রতি সহানুভূতি সৃষ্টি করতে এবং পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের সময় তা কাজে লাগাতে ১৯৯২ সালের ফেব্র“য়ারিতে প্রয়োজনীয় শূন্যপদ ছাড়াই বিএনপি সরকার বাংলাদেশ সচিবালয়ের উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে সাতশ’র বেশি কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়।
১৯৯২ সালে বিএনপি প্রয়োজনীয় শূন্যপদ ছাড়াই অনেকটা ‘গণপদোন্নতির’ যে নজির সৃষ্টি করে, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ তা যত্নসহকারে অনুসরণ করে।
২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার শূন্যপদ ছাড়া পদোন্নতি ও প্রশাসনে দলীয়করণের গতিকে জোরদার করে। এ ছাড়া স্বাধীনতার পর চাকরিতে নিয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যারা ‘আওয়ামীপন্থী’ হিসেবে বহুল পরিচিত, তাদের চাকরি হতে অবসর প্রদান করে। এখানেই শেষ নয়। ২০০৭ সালে অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের বিজয় সুনিশ্চিত করতে বিএনপি সরকার প্রশাসন সাজানোর উদ্যোগ নেয়। নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারে প্রশাসনের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিজেদের পছন্দসই লোক রাখতে প্রতিটি পদের বিপরীতে একাধিক বিকল্প কর্মকর্তার তালিকা প্রণয়ন করা হয়, যাতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল হলেও তাদের নিজেদের লোক এসব পদে থাকে। বহুল আলোচিত ১/১১-এর কারণে তাদের সে আশা পূরণ হয়নি।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক শূন্যপদ ছাড়াই বাংলাদেশ সচিবালয়ে উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদে পদোন্নতি প্রদান এবং দলীয়করণের ধারা অব্যাহত রাখে। ক্ষমতা গ্রহণের মেয়াদ এক বছর পূর্ণ না হতেই ২০০৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শূন্যপদ ছাড়াই সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পদে ৪৯৪ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও ২০১২ সালের ফেব্র“য়ারিতে উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পদে প্রায় সাতশ’ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়। শূন্যপদের অভাবে তাদের অধিকাংশকে পদোন্নতি পূর্বপদে পদায়ন করা হয়। শূন্যপদ ছাড়াই পদোন্নতি প্রদানের সর্বশেষ উদাহরণ গত ১৮ জুলাই তিনশ’র অধিক উপসচিবকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি প্রদান।
তাছাড়া এবার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ প্রশাসনে দলীয়করণকে জোরদার করতে ‘আওয়ামীপন্থী’ হিসেবে পরিচিত যেসব মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাকে বিএনপি অবসর প্রদান করেছিল বা যারা আওয়ামী লীগের ভাবাদর্শে বিশ্বাসী, যারা স্বাভাবিক নিয়মে অবসর গ্রহণ করেছিলেন তাদের অনেককে স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের অনেককে নিয়োগ দেয়া হয় বিভিন্ন কমিশনে। অনেকে মনে করেন, বর্তমান সরকারের আমলে প্রশাসনকে দলীয়করণ ও কর্মচারীদের দলবাজি অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশাসনে দলীয়করণের অন্য মোক্ষম অস্ত্রটি হল ভালো পোস্টিং। গত দু’দশকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে যে বিষয়টি প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে তা হল, ক্ষমতাসীন দলের ভাবধারা ও আদর্শে বিশ্বাসী না হলে কোনো কর্মকর্তার পক্ষে মন্ত্রণালয়/বিভাগের সচিব; সংযুক্ত দফতর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, আধা- স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার প্রধান এবং দ্বিতীয় স্তরের পদে পোস্টিং পাওয়া সম্ভব নয়। জনপ্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে ডিসি, এসপি প্রভৃতি পদে পদায়নে এটা সমভাবে প্রযোজ্য। উপমহাদেশের অন্য দেশগুলোতে রাজনীতিকরা প্রশাসনে তথা আমলাতন্ত্রে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারলেও বাংলাদেশে রাজনীতিকরা, বিশেষ করে বড় দুটি দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিকরা সফলভাবে এ কাজটি সমাধা করতে পেরেছেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূলত ‘আওয়ামীপন্থী’ ও ‘বিএনপিপন্থী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। দুই শিবিরে বিভক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সুসম্পর্কের অভাব রয়েছে। একই ব্যাচের কর্মকর্তা হয়ে তারা একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করতে পারেন না। এতে সরকারের কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সততা এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলবাজি ও ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিকদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ায় কারণে মাঠ পর্যায়ে সরকারি সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হচ্ছেন বড় দুটি দলের রাজনীতিকরা।
প্রশাসন দলীয়করণের যে সর্বনাশা খেলায় রাজনৈতিক দলগুলো মেতে উঠেছে, তা থেকে তাদের সরে আসতে হবে। সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা থাকলেও স্বাধীনতার চার দশকেও তা করা হয়নি। স্বাধীনতার পর চার দশকের তিন দশক দেশ শাসন করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। প্রজাতন্ত্রের কর্মে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণীত হলে তারা খেয়ালখুশি মোতাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহার করতে পারবেন না ভেবে তারা আইনটি প্রণয়ন করেননি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার এবার ক্ষমতায় এসে আইনটি প্রণয়নের উদ্যোগ নিলেও এখন তারা তা থেকে সরে এসেছে। প্রশাসনে গতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার জন্য আইনটি দরকার। আগামীতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তাদের উচিত হবে আইনটি প্রণয়ন করা এবং প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলবাজির অবসান ঘটানো। তাদের প্রস্তুত করতে হবে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য।
আবদুল লতিফ মণ্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রধানমন্ত্রীর এই অতি উৎসাহের উদ্দেশ্য কী by সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতী

কথাগুলো বললাম এজন্য যে, সংবিধান সংশোধনী কমিটি কী সুপারিশ নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কী নির্দেশনা দিয়ে ওই কমিটিকে ফেরত পাঠিয়েছিলেন, সেটি ড. বদিউল আলম মজুমদারের লেখায় রয়েছে। ওই কলাম পড়ার পর আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহ বা জেদ বা যে কোনো গোপন রাজনৈতিক পরিকল্পনার কারণেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। ড. বদিউল আলম মজুমদারকে ধন্যবাদ।
৮ নভেম্বর আরেকটি দৈনিকে প্রকাশিত এক কলাম পড়ে বিষয়টি আরেকটু পরিষ্কার হয়েছে। ওই কলামের শিরোনাম ছিল ‘আওয়ামী লীগ অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে তৃপ্তি পায়’। এ কলামের লেখক ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম (অব.) এমপি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে যাদের মানা যায়, তাদের অন্যতম কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম। তিনি বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ থানার সন্তান। নিজের এলাকায় অত্যন্ত সুপরিচিত শিক্ষানুরাগী একজন ব্যক্তি হিসেবে তিনি সাফল্যের যথেষ্ট স্বাক্ষর রেখেছেন। দীর্ঘ সংসদীয় জীবনে তিনি বিভিন্ন দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে পালন করেছেন। ২০০৬ সালের অক্টোবরে তিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি নিয়ে নবযাত্রা শুরু করেন এবং এ দলের কার্যরত প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তিনি। কর্নেল অলি আহমদের নাম এবং তার কলামের রেফারেন্স এজন্য নিলাম যে, তার লেখাটিতে সংবিধান সংশোধনী প্রসঙ্গে বক্তব্য এসেছে। আমরা উভয়েই উভয়ের কলামগুলো পড়ি, ত্র“টি-বিচ্যুতি নিয়ে কথা বলি। যেহেতু রাজনীতিতে আমি তুলনামূলক নবীন এবং তিনি ৩৩ বছরের অধিককাল রাজনীতিতে সক্রিয়, তাই আমি মাঝেমধ্যে তার কাছে রাজনৈতিক ইতিহাস, প্রেক্ষাপট এবং বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাই বা সেসব নিয়ে আলোচনা করি। তার কলামে সংবিধান সংশোধনী প্রসঙ্গ যতটুকু উঠে এসেছে. তার থেকে বেশি তথ্য তিনি মৌখিকভাবে আমাকে বলেছেন।
যা হোক, সংবিধান সংশোধনী প্রসঙ্গে কমিটি যাই করুক বা না করুক, বাস্তবতা হল সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী এসেছে এবং এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে বিরোধী দল যতবারই এর পক্ষে কথা বলতে চেয়েছে, ততবারই সরকার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। আমি ইংরেজি অক্ষর ‘এ’ অ্যাভয়েড দিয়ে এটাই বোঝাতে চাচ্ছি যে, এ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন রাজনীতিক হিসেবে একটি কৌশল বেছে নিয়েছেন এবং সেই কৌশলটি হল, তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুটিকে তিনি অ্যাভয়েড করতে থাকবেন যতক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব হয়। এ নিয়ে আলোচনা, ফয়সালা সবকিছুকেই তিনি অ্যাভয়েড বা পরিহার করে যাবেন। ইংরেজি অক্ষর ‘বি’ বা বাইপাস শব্দটি দিয়ে বোঝাতে চাচ্ছি যে, যখনই বিরোধী দল এ বিষয়টিকে সামনে আনতে চায়, তখনই সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী এটিকে বাইপাস করে চলেন। কোনোভাবেই মূল প্রশ্নের উত্তরটি তিনি দেন না। তিনি কোনো সময়ই উত্তর দেন না ১৯৯৫-৯৬ সালে কেন ১৭৩ দিন হরতাল দিয়েছিলেন, কেন তিনি সংসদীয় কমিটির সুপারিশের বিরুদ্ধে গেলেন, কেন তিনি এরশাদ সাহেবের মার্শাল ল’ (২৪ মার্চ ১৯৮২) আসায় খুশি হয়েছিলেন অথবা কেন তিনি ওয়ান-ইলেভেন সরকার তার ও তার দলের আন্দোলনের ফসল বলে ওই সরকারকে জনসমক্ষে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। বিরোধী দলের এই মুহূর্তের মূল প্রশ্ন বা বক্তব্য হচ্ছে, ‘সংবিধান সংশোধনী করেছেন আপনাদের (সরকারি দলের) প্রয়োজনে, আপনাদেরই স্বার্থকে সামনে রেখে। জাতির স্বার্থকে সামনে রেখে নয়। শুধু তাই নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে যদি আপনাদের এতই অনীহা থাকে, তাহলে আপনারা কেন বিরোধী দলে থাকাবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৭৩ দিন হরতাল দিয়েছেন? ওই সময় আপনারা কেন সর্বদলীয় সরকার ব্যবস্থাকে পরিহার করেছিলেন?’ ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর কোনো মঞ্চে বা টেলিভিশন ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেন না। তিনি বিষয়টিকে বাইপাস করেন বা এড়িয়ে যান। আর এসব কারণেই জাতি আজ কনফিউজ বা বিভ্রান্তিতে রয়েছে। এটি দেশ ও জাতির জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি কেন বাতিল করা হয়েছে? এ প্রশ্নের জবাবে কখনও বলা হচ্ছে, আদালত বলেছে দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক থাকবে, বাকি সময় থাকবে না বলে বাতিল করা হয়েছে। কখনও বলা হচ্ছে, গণতান্ত্রিক চেতনা রক্ষায় বাতিল করা হয়েছে। কখনও বলা হচ্ছে, নির্বাচিত ব্যক্তিদের জড়িত রাখার জন্য বাতিল করা হয়েছে। কখনও বলা হচ্ছে, সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনার জন্যই বাতিল করা হয়েছে, ইত্যাদি ইত্যাদি। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে জাতি বিভ্রান্তি বা ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে। বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা মানে কনফিউশন। বাংলা ব্যাকরণে ধোঁয়ার সঙ্গে কুয়াশা সন্ধি করলে ধোঁয়াশা শব্দটি আসে। ধোঁয়ার মধ্যে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং কুয়াশার মধ্যে মানুষ একটি নির্দিষ্ট দূরত্বের পর আর কিছুই দেখতে পায় না। সুতরাং এই ধোঁয়াশা সৃষ্টির মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সচেতন নাগরিকদের এমন একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্মে নিয়ে গেছেন, যেখানে সবারই শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে এবং সেখান থেকে কোন দিকে যাবে সে পথও কেউ দেখতে পাচ্ছে না। সুতরাং এমন পরিস্থিতির কারণে একটি কঠিন অনিশ্চয়তা আর দিকভ্রান্তিতে পুরো জাতিই রাজনৈতিকভাবে অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এই অবরুদ্ধ বা বন্দিদশা থেকে জাতি মুক্তি চায়। আর এই মুক্তির চাবিটি একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে। তিনি ইচ্ছে করলেই পুরো জাতিকে দিকভ্রান্তি, অনিশ্চয়তার হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অ্যাভয়েড ও বাইপাস করার ফলে জাতি কনফিউশনে আছে। এই তিনটির সম্মিলিত প্রভাবে আজকে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, ইংরেজি ভাষায় তাকে ডেঞ্জারাস বলতে পারি। বর্তমানে জাতি বিপদের মধ্যে রয়েছে। পত্রিকার কলামে, টিভির টকশোতে অনেকেই বলেছেন, রাজনৈতিক এ বিপদ বা সংকট মোকাবেলায় দুই নেত্রীর আলোচনায় আসা উচিত। আমি অবশ্যই একে সাধুবাদ জানাই। তবে এখানে আমার একটি প্রশ্ন : আজকের এ পরিস্থিতির জন্য দুই নেত্রীই কি সমানভাবে দায়ী? যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করা না হতো, তাহলে কি বিএনপি আন্দোলনে নামত? আমি বলতে চাচ্ছি, আজকের এই রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টির জন্য শতকরা ৯০ ভাগই দায়ী বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বাকি দশভাগ- দশজনের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে আমি বলব- বিরোধী দল হয়তোবা দায়ী তাদের কৌশলগত ভুল-ভ্রান্তির জন্য। তবে বিরোধী শিবির সব সময়ই একটি শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান প্রত্যাশা করে যাচ্ছে।
প্রফেসর ড. ইউনূসের একটি কথার উদ্ধৃতি দিয়ে বলতে চাই, জাতি শুধু শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই চায় না, জাতি নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও শান্তি চায়। কারণ এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বেঁচে থাকতে হলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে টিকিয়ে রাখতে হবে। বিচক্ষণতা আর বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের এগুতে হবে।
এই কলাম যখন পাঠকের কাছে পৌঁছুবে, সে সময়ের মধ্যে যে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। কারণ পরিবেশ-পরিস্থিতি অতি দ্রুত বদলাচ্ছে। তাই আগামী ২৪ ঘণ্টা বা ৪৮ ঘণ্টা বা ৯৬ ঘণ্টা পর কী পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, তা বলা মুশকিল। তবে প্রতিটি ঘটনার পেছনেই বক্তব্য থাকে, সমালোচনা থাকে।
যা হোক, আমরা যদি আগামীর বাংলাদেশকে ভালো একটি অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাদের একটি যুগোপযোগী বাস্তবধর্মী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা কি ‘এক্সক্লুসিভ’ রাজনীতি করব নাকি ‘ইনক্লুসিভ’? ইনক্লুসিভ রাজনীতি বলতে বোঝাতে চাচ্ছি সবাইকে নিয়ে দেশের জন্য কাজ করা, সব দল ও মতকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে যথাস্থানে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়া। আর এক্সক্লুসিভ রাজনীতি বলতে বোঝাতে চাচ্ছি, কোনো কোনো ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে দেশের জন্য কাজ করা। সুতরাং যে কোনো একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত আমাদের নিতেই হবে। সিদ্ধান্তটি নিতে হবে ভেবেচিন্তেই। কারণ সিদ্ধান্তটি এমন হতে হবে যাতে করে বিশ্বে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। বিশেষত আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোর কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। আমরা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেব না, যার জন্য বিশ্বে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
আমার এই কলামের শেষ অনুচ্ছেদে আমি সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে লিখব। আমার অনুভূতি হচ্ছে, বিতর্কিত পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী দুটি কাজ করছেন। প্রথম কাজ হচ্ছে, বিরোধী শিবিরের ওপর মামলা-হামলাসহ তীব্র আক্রমণ চালানো এবং দ্বিতীয় কাজ, তার নির্বাচনমুখী কার্যক্রম দুর্বার গতিতে চালিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে টেলিভিশনের পর্দায় হরতালের দৃশ্য, পুলিশের গোলাগুলির দৃশ্য, আগুন লাগার দৃশ্য ইত্যাদি দেখছি, অপরদিকে সরকারি দলের লোকেরা আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে মনোনয়নপত্র কিনছেন- সেই দৃশ্য দেখছি। ইংরেজি প্রবাদ ‘হোয়েন রোম ইজ বার্নিং, নিরো ইজ প্লেইং দি ফ্লুট’, মানে প্রায় ২০০০ বছর আগে রোম শহর আক্রমণ করে শহরে আগুন লাগিয়ে দেয়ার পর সম্রাট নিরো বাঁশি বাজিয়ে তৃপ্তি পাচ্ছিলেন। বাংলাদেশের পরিস্থিতি এ মুহূর্তে তা-ই। যুগপৎ যে দুটি কাজ প্রধানমন্ত্রী চালিয়ে যাচ্ছেন, সেই দুটি কাজ করার পেছনে বা চালিয়ে যাওয়ার পেছনে যে চারটি শক্তি কাজ করছে, সেগুলো হল : এক. ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অন্তরে লালিত দুর্দমনীয় ইচ্ছা, দুই. ক্রমান্বয়ে দুই-তিন বছর ধরে দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থ দ্বারা সাজানো প্রশাসনিক শক্তি, তিন. প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে প্রায় বিনা শর্তে দেয়া আকাশচুম্বী সুযোগ-সুবিধাগুলোর বিনিময়ে অধিকতর পাওয়া এবং তাদের পক্ষ থেকে তার প্রতি সীমাহীন শুভেচ্ছা ও সমর্থন, চার. বিগত পাঁচ বছরে বিভিন্ন প্রশ্নবিদ্ধ উপায়ে ও নিয়মে উপার্জিত হাজার হাজার হাজার কোটি টাকার নির্বাচনী তহবিল।
মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক : কলাম লেখক; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মন্ত্রিত্ব এখন চাকরি!
দুই মন্ত্রীরা যোগদানপত্র বা জয়েনিং লেটার কীভাবে দেন? মন্ত্রীদের কি যোগদানপত্র দিতে হয়? ‘আমি অদ্য অমুক তারিখে পূর্বাহে কাজে যোগদান করেছি। আমার এই যোগদানপত্র গ্রহণ করে বাধিত করবেন’— এই গোছের কোনো যোগদানপত্র মন্ত্রীদের দিতে হয় না বা যোগদানপত্র ‘গৃহীত’ হওয়ার কোনো দরকার বা বিধান নেই। তাহলে কী আছে? ‘১৪৮(৩): ...শপথ গ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।’ অর্থাৎ শপথ নেওয়াটাই হলো এক অর্থে যোগদানপত্র। এ জন্যই আমরা টেলিভিশনে দেখি যে শপথ নেওয়ার আগে পতাকাবিহীন গাড়ি আর বঙ্গভবন থেকে শপথ নিয়ে বেরিয়ে আসার সময় গাড়িতে পতপত করে পতাকা উড়ছে। নিজামী-মুজাহিদ হলেও। সংবিধানের ভাষায় ‘কার্যভার গ্রহণ’ করতে যোগদানপত্র লাগে না এবং তা গ্রহণ হওয়ারও প্রয়োজন নেই। একইভাবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ বা গ্রহণ না করার কোনো সুযোগ নেই।
তিন পদত্যাগপত্র যেহেতু এখনো গৃহীত হয়নি আর সে কারণে মন্ত্রীরা মন্ত্রিত্ব করে যাচ্ছেন, সেহেতু মন্ত্রিত্ব এখন চাকরি। সমস্যা হলো, এই চাকরির বিধিমালা বা নিয়মকানুন কী। সরকারের প্রায় ধরনের চাকরির বিধিমালা আছে। অর্থাৎ চাকরিতে নিয়োগ কীভাবে হবে। পদোন্নতি, বদলি, ছুটি, অবসর ইত্যাদির শর্ত কী, সেগুলো চাকরি বিধিমালায় বিস্তারিত উল্লেখ থাকে। চাকরির নিয়মকানুন না মানলে, কাজে গাফিলতি হলে কীভাবে কী কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেসব ব্যাপারও চাকরি বিধিমালার অংশ। বিভিন্ন ধরনের সরকারি চাকুরেদের বেলায় বিভিন্ন আইন ও বিধিমালা আছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে একই চাকরির বিভিন্ন বিষয়ে বহুবিধ আইন-বিধিমালা থাকতে পারে। অধমের জানামতে, মন্ত্রীদের চাকরিসংক্রান্ত কোনো আইন বা বিধিমালা নেই। শুধু তাঁদের বেতন-ভাতা সুযোগ-সুবিধাসংক্রান্ত আইন আছে। কোনো চাকরির ব্যাপারে যদি বিধিমালা বা আইন না থাকে, তাহলে সেই চাকরির শর্তাবলি কীভাবে নির্ধারিত হয়? এ ক্ষেত্রে, অর্থাৎ চাকরির শর্তাবলি-সংক্রান্ত যখন কোনো নির্দিষ্ট আইন বা বিধিমালা না থাকে, তখন আমরা বলি ওই চাকরির শর্তাবলি ‘মাস্টার সার্ভেন্ট রুলস’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অর্থাৎ রুক্ষ বাংলায় ‘মনিব-চাকর নিয়ম দ্বারা’। বেশ কয়েকটি পত্রিকায় পড়লাম, পদত্যাগপত্র প্রদানের সময় পাঁচজন প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর পায়ে হাত দিয়ে সালাম করেছেন।
চার প্রায় সবকিছুতেই সরকার প্রতিনিয়ত এখন গুবলেট পাকিয়ে ফেলছে। সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। অতীতের অন্য বিভিন্ন সরকারের মতো এই সরকারও অনেক হিসাব-নিকাশ করছে, প্ল্যান-পাঁয়তারা করছে। কিন্তু আমাদের ইতিহাস বলে, ভালো কাজ না করলে কোনো প্ল্যান-পাঁয়তারাই কাজে লাগে না। বেশি পেছনে যাওয়ার দরকার নেই। গত বিএনপি সরকার তাদের হিসাব আর প্ল্যান অনুযায়ী চতুর্দশ সংশোধনী পাস করিয়েছিল ২০০৪ সালের মে মাসে। অর্থাৎ মেয়াদ শেষ হওয়ার কমবেশি আড়াই বছর আগে। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের চাকরির বয়স বাড়িয়েছিল ৬৭ বছরে। ধরে নেওয়া হয়, একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি যাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হতে পারেন, সে জন্যই এই সংশোধনী। আরও অনেক হিসাব-নিকাশ ছিল। কোনো কিছুই কাজে দেয়নি। এই সরকারও পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করিয়েছিল প্রায় আড়াই বছর আগে। আর এখন মন্ত্রীর পদকে পর্যন্ত মামুলি চাকরির পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। কোনো কিছুতেই সম্ভবত শেষরক্ষা হবে না। তাই কূটকৌশল, হিসাব-পাঁয়তারা বাদ দিয়ে সরল বিশ্বাসে জনসেবা করুন। তাতেও ভরাডুবি ঠেকানো যাবে না, তবে আমাদের, অর্থাৎ জনগণের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমবে, আর আমরা তাতেই কৃতজ্ঞ থাকব। আর মন্ত্রীদের দোহাই—আপনারা কারও চাকরি করেন না। মনিব-চাকরের আইন আপনাদের জন্য নয়।
ড. শাহদীন মালিক: অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট, অধ্যাপক স্কুল অব ল, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আরাফাতের খুনি ইসরায়েল
![]() |
| ইয়াসির আরাফাত |
ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ ফারুক ওয়াসিফ। কাউন্টারপাঞ্চ থেকে নেওয়া।
স্টিফেন লেন্ডম্যান: মার্কিন সাংবাদিক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হাইয়ান এবার সোমালিয়ায়
সৃষ্টিকর্তা আমার সব কেড়ে নিলেন
গণমাধ্যমকে আবদুল্লাহি
যুগান্তর ডেস্ক
ফিলিপিন্সের পর এবার ঝড়ের তাণ্ডবলীলা দেখেছে সোমালিয়া। দেশটির উত্তর পূর্বাঞ্চলের পুন্টল্যান্ড রাজ্যে মৌসুমি ঝড়ে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছে আরও কয়েকশ’ মানুষ। সোমবার রাতে দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের দেয়া বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দেশটির আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুটল্যান্ডে এই ঝড় আঘাত হানে। ঝড়ের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির পর লুটপাট ও বিশৃংখলা প্রতিরোধে জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রশাসন। এছাড়া, এ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য ?কামনা করেছে দেশটির সরকার। সরকারি কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ঝড়ের আঘাতে ?
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাষ্ট্র, সরকার ও বিরোধী দলের কাছে কী চাই
মালেকা বেগম: নারীনেত্রী, অধ্যাপক, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1432)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
November
(403)
-
▼
Nov 13
(16)
- ইদানীং রাজনীতি- মন্ত্রিত্ব এখন চাকরি! by শাহদীন মালিক
- ব্যাংক জালিয়াতি- অর্থমন্ত্রী, সবগুলোই আপনার বিষয়...
- নারীস্বার্থ- রাষ্ট্র, সরকার ও বিরোধী দলের কাছে কী ...
- অস্বস্তিতে ভুগছেন পুলিশ কর্মকর্তারা
- মন্ত্রীবিহীন প্রধানমন্ত্রী by শহীদুল্লাহ ফরায়জী
- জাতীয় মশকরা by সাজেদুল হক
- টেলিভিশনে শিষ্টাশিষ্ট বিশিষ্ট কথন by হানিফ সংকেত
- ঈশ্বর কণায় হকিংস কেনো নাখোশ?
- রাম লীলার ওপর নিষেধাজ্ঞার খড়গ!
- ১৬ কোটি মানুষের কী অপরাধ? by মোস্তফা কামাল মজুমদার
- প্রশাসন দলীয়করণের পরিণাম! by আবদুল লতিফ মণ্ডল
- প্রধানমন্ত্রীর এই অতি উৎসাহের উদ্দেশ্য কী by সৈয়দ ...
- মন্ত্রিত্ব এখন চাকরি!
- আরাফাতের খুনি ইসরায়েল
- হাইয়ান এবার সোমালিয়ায়
- রাষ্ট্র, সরকার ও বিরোধী দলের কাছে কী চাই
-
▼
Nov 13
(16)
-
▼
November
(403)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


