Showing posts with label শিলালিপি. Show all posts
Showing posts with label শিলালিপি. Show all posts

Thursday, January 19, 2012

জন্মশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি-পরাবাস্তববাদী ওডিসিয়াস ইলেতিস-ভূমিকা ও ভাষান্তর by চন্দন চৌধুরী

লেখালেখি শুরু ১৭ বছর বয়সে। গ্রিসের অন্যতম প্রধান এই কবির নাম। পুরো নাম ওডিসিয়াস এলেপোডেলিস ইলেতিস। জন্ম গ্রিসে। ১৯১১ সালের ২ নভেম্বর ক্রিতের হার্কলিন শহরে প্রথম সূর্য দেখেছেন এই নোবেলজয়ী। নোবেল পুরস্কারটা ঝুলিতে আসে ১৯৭৯ সালে। ১৯৪০-৪১ সালে আলবেনিয়ায় ইতালীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন তিনি।

নতুন গদ্য আখ্যান, বাংলাদেশে : শামীম রেজা by দেবেশ রায়

বাংলাদেশের তরুণদের গদ্যলেখা নিয়ে আমার উৎসাহ একটু বা মাত্রাহীন। তার ইঙ্গিত এটা নয় যে তরুণদের লেখা নিয়ে আমার উৎসাহ কিছু কম। বরং পক্ষপাতটা সেদিকেই বেশি_হাসান আজিজুল হক, সেলিনা হোসেনদের প্রতি আনুগত্যে। বরং, পাল্টা একটা নালিশই জমে উঠছে যে বারবার বলা সত্ত্বেও এই প্রবীণরা এই তরুণ লেখকদের পড়ছেন না। বা, এঁদের নিয়ে লিখছেন না। আবার আমাকেও তো কিছু বলছেন না, আমার ভুল হচ্ছে কোথাও।

টমাস ট্রান্সট্রোমার-আমি শূন্য নই, আমি উন্মুক্ত by আজীজ রহমান

দেয়াল ভেদ করে গেলে প্রতিটি মানুষ আহত ও রক্তাক্ত হয়, কিন্তু আমাদের কোনো গত্যন্তর নাই। বিশ্বের সর্বত্র তা-ই। দেয়ালের মুখোমুখি আমরা সবাই। জানি বা না জানি আমরা সবাই। তুমি আমি আমরা সবাই দেয়ালের গায়ে একাকার হয়ে যাই। শিশুরাই শুধু ব্যতিক্রম, তাদের সামনে কোনো দেয়াল নাই। উন্মুক্ত আকাশ বসে আছে দেয়ালে হেলান দিয়ে।

হুমায়ূন আহমেদের সাক্ষাৎকার

ইমদাদুল হক মিলন : লেখায় আপনি সব সময় এক ধরনের রহস্য তৈরি করেন। এসব রহস্য নিয়ে আপনার ব্যাখ্যা কী?
হুমায়ূন আহমেদ : আসলে মিলন, আমার কাছে পুরো জীবনটাই অত্যন্ত রহম্যময়। এই রহস্যের কোনো রকম কূল-কিনারা আমি পাই না। জীবনের যে রহস্যময়তা আছে, সেই রহস্যময়তা কিছুটা হলেও আমি আমার লেখায় আনতে চাই। জীবনের রহস্যময়তা তো আমি প্রায়ই বোধ করি। একদিন সকালে আমার ঘুম ভাঙল নুহাশপল্লীতে।

হুমায়ূন আহমেদ এবং হুমায়ূন আহমেদ by ইমদাদুল হক মিলন

৬. বিশেষ দ্রষ্টব্য 'জোছনা ও জননীর গল্প' নিয়ে আমার মতামত প্রকাশের মাঝখানে এই উপন্যাস নিয়ে আরেকটু তথ্য দেওয়া প্রয়োজন। ভোরের কাগজে কয়েক কিস্তি লেখার পর পাক্ষিক 'অন্যদিন' পত্রিকায় উপন্যাসটির বেশ কয়েকটি কিস্তি লিখেছিলেন হুমায়ূন ভাই। নিউ ইয়র্ক থেকে ফোন করে 'অন্যদিন' সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এই তথ্য জানালেন।

Friday, January 13, 2012

খালেদ হোসাইনের পাতাদের সংসার by আরিফ ওবায়দুল্লাহ

পাতাদের আবার সংসার হয় নাকি?'_পড়ার টেবিল থেকে বইটি হাতে নিয়ে এমনই প্রশ্ন ছিল কবিতা-অবুঝ এক বন্ধুপ্রতিমের। বললাম, পাতা কেমন?_হতে পারে সবুজ, স্নিগ্ধ, হতে পারে জীর্ণ। এটা তো বৃক্ষই ধারণ করে; সময় শেষে ঝরে যায়, খসে পড়ে কিংবা ঝরানো হয়। ধরো এই বৃক্ষটাই পৃথিবী আর তুমি পাতা। এইবারে বলো তোমার কি সংসার নেই? তুমি কি ঝরবে না? দেখ, কবিরা কিভাবে পাতা দিয়ে সংসার গড়েন! অবাক বন্ধু, বই হাতে ধীরে ধীরে উল্টাতে লাগল পাতা।

আমার বন্ধু কবি হাসান হাফিজ by ইমদাদুল হক মিলন

কবি হাসান হাফিজকে নিয়ে বলতে হলে নিজের কথাও অনেকখানি বলতে হয়। ১৯৭৩ সালের কথা। প্রথম হাসান হাফিজকে দেখি অবজারভার ভবনে। ওই ভবন থেকে বের হতো দৈনিক পূর্বদেশ। পূর্বদেশের ছোটদের পাতা 'চাঁদের হাট'। সেখানে জীবনের প্রথম লেখাটি ছাপা হয়েছে আমার। কিশোর গল্প। নাম 'বন্ধু'। গল্প প্রকাশের কয়েক দিন পর চাঁদের হাটের পাতায় দেখলাম পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে অনুষ্ঠান হবে পূর্বদেশ অফিসে।

গান্ধারীর তৃতীয় চক্ষু by মণিকা চক্রবর্তী

ধৃতরাষ্ট্রের বনগমনের সংবাদ অনেক আগেই প্রচার হয়ে গিয়েছিল হস্তিনাপুরে। রাজপথ তখন লোকে লোকারণ্য। চতুর্বর্ণের মানুষ একত্র হয়েছে ধৃতরাষ্ট্রকে শেষ অভিবাদন জানানোর জন্য। ধৃতরাষ্ট্র হাত জোড় করে অনুমতি চাইলেন প্রস্থানকালে। ধৃতরাষ্ট্রের বনযাত্রার সঙ্গী হয়েছেন গান্ধারী আর কুন্তী। সেই দিনটি ছিল কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথি। কুন্তী পথ দেখিয়ে চলছেন সবার আগে, তাঁর পিঠে হাত রেখেছেন কাপড় দিয়ে চোখ বাঁধা গান্ধারী, তাঁকে অনুসরণ করছেন অন্ধরাজা ধৃতরাষ্ট্র। বনবাসের প্রথম রাতটি কেটে গেল ভাগীরথীর তীরে কুশশয্যার শয়নে।

জীবনানন্দ দাশ-ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময় by শাহাবুদ্দীন নাগরী

বিশ শতকে আধুনিক বাংলা কবিতার ভেতর দিয়ে উত্থান ঘটে কবি ও লেখক জীবনানন্দ দাশের (১৮৯৯-১৯৫০)। বাংলা কবিতা যখন মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-৭৩) থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ (১৮৬১-১৯৪১) পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে একটি পর্যায়ে এসে পেঁৗছেছে, তখনো বিশ শতকীয় পশ্চিমা আধুনিক বাংলা কবিতাকে তদর্থে আবাহন করতে পারেনি।

বিশেষ রচনা-বিপন্নতার অক্টোপাস 'বন্দী শিবির থেকে' by জাহিদ সোহাগ

তিরিশি পাঁচ মহৎ আধুনিক-উত্তর বাঙলা কবিতার প্রধান পুরুষ শামসুর রাহমান। তাঁর কবিতার অত্যুজ্জ্বল পরিণতি লাভ করেছে রবীন্দ্রোত্তর সে-কবিতাধারা, যার প্রিয় অভিধা আধুনিক কবিতা। শামসুর রাহমান বাহ্যজগৎ ও সমকাল ও অব্যবহিত প্রতিবেশকে শুষে নেন আপন অভ্যন্তরে, এবং তাঁর কবিতা ধ্যান বা স্তব বা গান বা শাশ্বত শ্লোকের বদলে হয়ে ওঠে সমকালীন জীবনসৃষ্টি।

প্রচ্ছদ রচনা-ধ্রুপদ সাহিত্যের কথক জুলিয়ান বার্নেস by এম এ মোমেন

জুলিয়ান বার্নেস ইংরেজি সাহিত্যে এবং ইংরেজিভাষী কমনওয়েলথ দেশগুলোর সাহিত্যে কোনো আকস্মিক আগন্তুক নন। আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি হচ্ছে, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নাক উঁচু দেশ ফ্রান্সে গত তিন দশকে জুলিয়ানের মতো সমাদৃত কোনো ইংরেজ লেখকের নাম শোনা যায়নি। তাঁর একটি স্মরণীয় উপন্যাস 'ফ্লবেয়রের তোতা পাখি' (ফ্লবেয়রস প্যারোট) ১৯৮৪ সালে মান বুকার ফিকশন পুরস্কারের জন্য হ্রস্ব তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিশেষ আকর্ষণ-হুমায়ূন আহমেদের সাক্ষাৎকার

ইমদাদুল হক মিলন : আপনি অনেক দিন ধরে বলছেন যে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনী আপনি লিখতে চান। সেই লেখার প্রস্তুতিটা কী রকম? হুমায়ূন আহমেদ : আমার প্রস্তুতির কথা বলব, কিন্তু এখানেও কিছু সমস্যা আছে। সমস্যা হলো দুই ধরনের। প্রথম সমস্যা হলো, আমার মধ্যে কিছু ছেলেমানুষি আছে তো...আমি যখন সব কিছু ঠিকঠাক করলাম, তখন একটা ঘটনা ঘটে। শুরু থেকেই বলি। বাংলাবাজারে অন্যপ্রকাশের একটি স্টল আছে।

বিশেষ আয়োজন-হুমায়ূন আহমেদ এবং হুমায়ূন আহমেদ by ইমদাদুল হক মিলন

এবার অন্য একটি প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু করি। ভোরের কাগজের সাহিত্য পাতায় হুমায়ূন আহমেদ ধারাবাহিকভাবে লিখতে শুরু করেছিলেন তাঁর মনোজগৎ আচ্ছন্ন করে থাকা মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'জোছনা ও জননীর গল্প'। সতেরো-আঠারো বছর আগের কথা। হুমায়ূন আহমেদ তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। বিশাল ক্যানভাসের উপন্যাসটি লেখার জন্য স্ত্রী আরো কয়েক বছর আগে তাঁকে ৫০০ পৃষ্ঠার একটি খাতা উপহার দিয়েছিলেন।

সঞ্জীবের ফড়িংডানার বালক by মইনুদ্দীন খালেদ

নগর কেবলই আকাশচুম্বী হচ্ছে আর বিধ্বস্ত হয়ে মাটিতে মিশে যাচ্ছে জীবন। দালান যতই মসৃণ, চক্চকে, রঙিন হয়ে উঠছে, ততই প্রকট হয়ে উঠছে তার পাশে শ্রমিকের মলিন রূপ। কোথাও অর্থনীতির মারকুট খেলা চলছে। নগরায়ণ থেমে থাকে না। কে অর্থ জোগান দেয়। জীবনের শিবত্ব কেন ঘুচে যাচ্ছে। মানুষ মানুষকে আর জড়িয়ে ধরছে না। একা হয়ে যাচ্ছে। দূর থেকে একজন অন্যজনকে দেখছে। মধ্যবিত্তও আর সংবেদী নেই। সেও কেবলই অভ্যাসের দাসত্ব করছে।

সেলিম আল দীন-কহন কথা ও কবিতা বিকালের কথা by হারুন রশীদ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, 'আমরা যদি কিছু নাও করতে পারি, তবে মহাকাল আমাদের এই জন্য মনে রাখবে যে, আমরা রবীন্দ্রনাথকে দেখেছি।' কথাটি বাংলা নাটকের গৌড়জন সেলিম আল দীনের কাছ থেকে শোনা। এখন তাঁর সম্পর্কেও যদি একই কথা উচ্চারিত হয়, সেটি কি ভুল হবে? হয়তো হবে, হয়তো না।

কেস অব ইনফার্টিলিটি by শামীম রেজা

"যমজ ছেলে দুটি হুবহু ইমরানের চেহারাই শুধু পায়নি, আচার-আচরণেও অবিকল ইমরান, আমি যেমন চেয়েছিলাম তেমনই; অথচ তামীম-মামীম কেউই ইমরানের সন্তান নয়।" কথার পিঠে এই কথা বলে শাবিলা ম্লান চোখে সেবন্তী ভট্টাচারিয়ার দিকে তাকায়। ইমরান তাঁর সন্তানদের নিয়ে একটু দূরে টেঙ্াসের হাউসটোন পার্কের চাইল্ড গ্যালারিতে খেলছেন; সঙ্গে সুকুমার ভট্টাচারিয়া ও তাঁর বাচ্চারা। এখানে শাবিলারা এসেছেন আজ দুদিন।

পাঁচ নম্বর ঘাটে দুজন একা মানুষ by আলফ্রেড খোকন

শতাব্দী থাকে ঢাকায়। একটি ভাড়া বাসার চিলেকোঠার এক রুমে। দরজা খুললেই উঠানের মতো ছাদ। রাতে বাসায় ফিরে ছাদে কিছুক্ষণ দাঁড়ায়, তখন ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। ছোটবেলার উঠান। এই শহরে কোনো উঠান নেই। ভাবতে ভাবতে একপা-দুইপা করে বহু পুরনো পিতলের তালাটির ভেতর জিনসের কনিষ্ঠ পকেটে রাখা চাবিটি বের করে ঢুকিয়ে দেয় অন্ধকারে। অন্ধকারের ভেতরই সে তালার আধারে চাবিটি ঢোকানোর চেষ্টা করে। এবং ঢুকেও যায়।

ভার্চুয়াল রিয়ালিটি by কবির হুমায়ূন

আনন্দ-বিষাদে ভরেছে মন। নাকি আনন্দে ভরেছে মন। অন্ধকার মধ্যরাতে আকাশের তারা খসে কোথাও হারিয়ে যেতে থাকলে আনন্দ-বিষাদ দুই-ই কাজ করে। বিস্ময়ের আনন্দ। হারিয়ে যাওয়ার বিষাদ।' ফেসবুকের ইনবঙ্ েএই লাইন কটা পাঠিয়েছে রিকি। কেন পাঠিয়েছে_এই প্রশ্ন করে কোনো লাভ নেই। রিকি কোনো প্রশ্নের জবাব দেয় না। মাঝেমধ্যে এমন কিছু লাইন পাঠায় শুধু। বছরখানেক আগে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট থেকে রিকিকে অ্যাড করে নিলে সংক্ষিপ্ত জবাব আসে; ধন্যবাদ। রিকি কখনো ফেসবুকের দেয়ালে কিছু লেখে না।

গল্প বিক্রেতার খাতা by পাবলো শাহী

অবশ্যই, মানসিক গঠনের দিক থেকে যারা জীবসত্তাকে মর্যাদা দিতে পেরেছে বলে মনে করে, আমি তাদেরই একজন; এটা দৈহিক গঠনগত মনুষ্য প্রাণী হিসেবে আমার বড় পরিচয়। একটা সংস্কৃতির পূর্ণ পরিণতি ঘটে যেসব মানুষের মধ্যে, তাঁদের কেবল শিল্পী আখ্যা দেওয়া চলে। তার জীবসত্তার মধ্যে যুগ ও সমাজ দীর্ঘায়িত হয়, ফলে সাহিত্য ও দর্শন কী অনন্তর এষণা_এ কথা আমি ভাবি।

ঘোড়া by চঞ্চল আশরাফ

তোরাব মজুমদারের দুঃখ একটাই, পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য সে রক্ষা করতে পারেনি। তার পিতামহর পিতামহ ঘোড়া চড়ত এবং তাদের আরো অনেক বিত্তবৈভব ছিল; এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, কিছু জমি আর ভিটামাটি ছাড়া। কারো মধ্যে এ নিয়ে কোনো আফসোস নেই। তার আছে। অনেক দিন ধরে এই সিদ্ধান্ত সে বয়ে বেড়াচ্ছে যে একটা ঘোড়া, যেভাবেই হোক, কিনতে হবে। কিন্তু সময় চলে যাচ্ছে; তার বয়স ষাট পার হয়ে গেছে।