Tuesday, September 14, 2021

খোসপাঁচড়া কেন হয়? by অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার

এটি এক প্রকার ছোঁয়াচে রোগ। চর্মের ওপর প্রথম রস ও পুঁজযুক্ত বড় বড় ফুসকুড়ি প্রকাশ পায়। প্রথমে আক্রান্ত স্থান অত্যন্ত চুলকায়। কতগুলো উদ্ভেদ একসঙ্গে উৎপন্ন হলে চুলকানির জন্য ছিঁড়ে গিয়ে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং পরে মামড়ি পড়ে। Sarcoptes Scabies  নামক পরজীব Parasite এ রোগের কারণ। এরা চামড়া দিয়ে ঢুকে, চামড়ার নিচে বাসা বাঁধে। এদেরকে চুলকানি পোকও বলা যায়। স্ত্রী পোকা চর্মের একদম উপরিভাগের মৃত কোষে গর্ত করে এবং এ গর্ত করা বাসায় Burrow অসংখ্য ডিম পাড়ে।
এভাবে এরা অসংখ্য Burrow সৃষ্টি করে ও ডিম ছড়াতে ছড়াতে এরা এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গে হানা দেয়। ২/৪ দিনের মধ্যেই ডিম ফুটে অসংখ্য বাচ্চা পোকাদের সৃষ্টি হয় এবং এক সঙ্গে সব জমা হয়ে চর্মের Hair follicles বা কেশগর্ভগুলোতে আশ্রয় নেয়। ফলে এসব স্থানে চুলকানি হয়। যখন এ পোকাগুলো গর্ত বা নালীর Burrow  মধ্যে নড়াচড়া করে তখন চুলকানি সৃষ্টি হয়। অপরিষ্কার জামা-কাপড় ও বিছানা পত্র থেকে এ রোগ বেশি ছড়ায়। যেহেতু রোগটি ছোঁয়াচে, সেহেতু খুব সহজেই পরিবারের অন্য সদস্যরা আক্রান্ত হয়। সাধারণত একই বিছানায় শোয়া বা ঘনিষ্ঠ সাহচার্যে থাকলে, একই কাপড় চোপড় ব্যবহার করলে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে চামড়ার নানা সমস্যা দেখা দেয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ও আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ 
পরিহার করা। আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্য যারা একই বিছানা, তোয়ালে ও কাপড় চোপড় ব্যবহার করে, ঘনিষ্ঠ সাহচর্যে থাকে তাদের রোগের উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক তাদের চিকিৎসা করতে হবে।
অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার
লেখক: চেয়ারম্যান, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ ও  প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। তার এই লেখাটি ‘চর্ম ও যৌন রোগ চিকিৎসা’ শীর্ষক বই থেকে নেয়া।

শুধু ফোটালেই কি পানি বিশুদ্ধ হয়? by শাহনাজ খান

সুমাইয়ার দুমাস হয় বিয়ে হয়েছে। নতুন সংসার গোছানোর আপ্রাণ চেষ্টায় ব্যস্ত সে। ইশ্বরদীর মেয়ে সুমাইয়া। বর তার পাশের গ্রামের তবে চাকরি করে ঢাকায়। বিয়ের পর সুমাইয়ার বসবাস শুরু স্বামীর সাথে ঢাকার মগবাজারে। ঢাকায় আসার পর থেকেই সুমাইয়া পানি নিয়ে পড়েছে মহা ঝামেলায়। গ্রামে টিউবয়েলের পানি পান করা সুমাইয়ার কাছে সাপ্লাইয়ের পানি খেতে ভালো লাগছে না। তার উপর প্রায়ই ডায়রিয়ার সমস্যায় পড়ছে সে। বিষয়টা তার স্বামীকে বলতেই একেবারে পাত্তাই দিলো না। বললো, “আরে আমরা মেসে থাকতে এই পানিই তো খেতাম, বুয়া না আসলে ফুটানো ছাড়া সরাসরি টেপের পানিই খেতে হতো। আস্তে আস্তে সব সয়ে যাবে” বলে- সুমাইয়ার স্বামী। কিন্তু সুমাইয়া লক্ষ্য করলো তার স্বামীরও পেটের সমস্যা লেগেই থাকে, আর অনেক দূর্বলও সে।
সুমাইয়াদের গ্রামের বাড়িতে সব কাজে টিউবয়েলের পানি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু চৈত্র মাস আসলেই দেখা দেয় বিপত্তি। তখন ওদের গ্রামের টিউবয়েল গুলোতে আর পানি উঠে না। তখন পুকুরের পানিই ভরসা। ওর মাকে দেখেছে, পুকুরের পানিতে ফিটকিরি ব্যবহার করতে। এতে পানি পরিষ্কার হয়ে যায়, শ্যাওলার সবুজ আর থাকে না। কিন্তু গ্রামের সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী ওদের বলেছে, ফিটকিরি দিলেই পানি জীবাণুমুক্ত হয় না। তাই পানি ফুটাতে হবে। এতে সব জীবাণু মরে যায়। তারপর থেকে সুমাইয়াদের বাড়ির সবাই এভাবেই পানি বিশুদ্ধ করে।
কিন্তু ঢাকার ওয়াসার সাপ্লাইয়ের পানি দেখতে পরিষ্কার তাই সুমাইয়া ফিটকিরি দেয় না, শুধু ফুটায়। সে মনে মনে ভাবে তাহলে কি ফিটকিরি না দেয়াতেই এই সমস্যা। এসব নিয়ে পাশের বাসার ভাবীর সাথে কথা বলে সুমাইয়া। জানতে চায়, তাদেরও একই সমস্যা আছে কিনা।
প্রতিবেশি ভাবী সুমাইয়াকে বুঝিয়ে বলে, পানি ফুটালে এর মধ্যে থাকা জীবাণু, পরজীবী এমনকি এর ডিম, লার্ভাসহ ধ্বংস হয়ে যায়। তাই পানি ১০০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় দশ মিনিট ধরে ফুটানো উচিত। তবে, ফুটানো পদ্ধতিতে পানিতে থাকা রাসায়নিক উপাদান ধ্বংস হয় না। যেমনঃ ক্যালসিয়াম কার্বোনেট। অনেক সময় পানি ফুটিয়ে ওই একই পাত্রে রেখে দিলে তলানি জমে থাকতে দেখা যায়। এগুলোই ক্যালসিয়াম কার্বোনেট। এছাড়া দীর্ঘ সময় ফুটানো পানিতে ফ্লোরাইডের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এটি মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। অনেকেই রান্না শেষে পানির হাড়ি সারাদিন ধরে চুলাতেই রেখে দেয়, যা কোনভাবেই করা উচিত না।
ফ্লোরাইড শিশুর মস্তিষ্কের গঠন প্রক্রিয়াতে বাঁধা দেয়, আইকিউ কমায় এমনকি পানিতে থাকা এই ফ্লোরাইডকে সন্তান জন্মদান ক্ষমতা হ্রাসের জন্য দায়ী করা হয়। ২০১৩ সালে এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রকাশিত হয় এনভায়রনমেন্ট হেলথ সায়েন্সেস’ সাময়িকীতে। এছাড়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে অধিক ফোটানো পানিতে আর্সেনিকের প্রভাব দেখা যায়। আর্সেনিকযুক্ত পানি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এর ফলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ফুসফুসের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। আর্সেনিকের বিষক্রিয়া পরিপাক অঙ্গগুলোরও ক্ষতি করে। প্রতিবেশি ভাবী সুমাইয়াকে বলেন যে তিনি এসব জেনেছেন একটি হেলথ ম্যাগাজিন থেকে।
সুমাইয়া জানতে চায় তাহলে আপনারা কিভাবে পানি বিশুদ্ধ করেন? ভাবী জানায়, বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার ব্যবহার করেন তারা। ফিল্টারের পানি খেতেও ভালো লাগে। তবে, ফিল্টার কিনতে হবে বুঝেশুনে, বলেন ভাবী। গল্প করতে করতে তিনি আরো বলেন, পানি অনেক উপায়ে বিশুদ্ধ করা যায়। যেমনঃ আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি, সৌর তাপ, রাসায়নিক (ওজোন, ক্লোরিন, আয়োডিন ও ব্রোমিন দ্বারা)ব্যবহার, প্রভৃতি। তবে সহজ হলো ফিল্টার ব্যবহার করা।সে রাতেই সুমাইয়া তার স্বামীর কাছে ফিল্টার কেনার আবদার করে।
পরদিন ওরা যায় ঢাকার নিউমার্কেটে। দোকানে ঢুকে তো সুমাইয়া একেবারে অবাক। কত নাম ও ডিজাইনের ফিল্টার। ভাবনায় পড়ে যায় কোনটা ভালো, কোনটাই বা কিনবে সে। দোকানীকে বললে, তিনি তাদের একটা ফিল্টার দেখান। এই ওয়াটার ফিল্টার, পানি বিশুদ্ধকরণের এমন এক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে দূষিত পানি পুরোপুরি বিশুদ্ধ করে ফেলা সম্ভব। শতভাগ বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা পাওয়া যায় এই ফিল্টারে। কিন্তু এটা ব্যবহারে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। আর তিন লিটার পানি দিলে এ থেকে পাওয়া যায় এক লিটার বিশুদ্ধ পানি, বাকীটা পান করা যায় না। তবে অন্য কাজে ব্যবহার করা যায়। এটি রিভার্স অসমোসিস ফিল্টার বা আরও (RO) ওয়াটার পিউরিফায়ার।
এরপর আরো একধরনের ফিল্টার দেখে। এগুলো ইউভি ওয়াটার পিউরিফায়ার। এটাতেও বিদ্যুৎের প্রয়োজন হয়। দোকানী জানায়, এ ধরনের ফিল্টার পানিতে থাকা জীবাণু, ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়াগুলোকে মেরে ফেলতে সক্ষম। তবে মৃত ব্যাকটেরিয়াগুলো পানিতেই থেকে যায়। এগুলো সম্পূর্ণভাবে কেমিক্যাল ফ্রি এবং পানির স্বাদ কিংবা রংয়ের পরিবর্তন হয় না। এই ফিল্টারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণও সহজ।
সুমাইয়া আরেক ধরনের ফিল্টার দেখিয়ে জানতে চায়, ওগুলো কেমন? দোকানী বলে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ করে এগুলো। এটা ইউএফ ওয়াটার পিউরিফায়ার। এ ফিল্টারগুলো পানি থেকে সব জীবাণু, ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে সরিয়ে ফেলতে পারে। তবে, এগুলো পানিতে দ্রবীভূত কঠিন পদার্থগুলোকে দূর করতে পারেনা। সেক্ষেত্রে এই ফিল্টারগুলোর উপরে ছাকনি সিস্টেম থাকে। সাধারণত এধরণের ফিল্টার অনেক বছর ব্যবহার করা যায়।
সুমাইয়া জানতে চায় কোনটা বেশি ভালো? দোকানী বলে এর সবগুলো দিয়েই পানি বিশুদ্ধকরণ সম্ভব। যার যেমন সামর্থ্য বা চাহিদা, সে তেমনটা কেনে।
এতো কিছু দেখে সে বিভ্রান্ত হয়ে যায়। দোকানীর সব কথায় ভরসাও পায় না সে।  তারপর সে বিভিন্ন অনলাইন ও ফেসবুক পেইজে আরো একটু খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারে গ্রিনবাড নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই ধরনের ফিল্টার বাজারজাত করে, যা অনেক বেশি আধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য। তারপর GREENBUD Water Purification System এর ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করে সেখান থেকেই ফিল্টার কিনে নেন।
তবে কেনার সময় সাবধান থাকতে হবে নকল কোম্পানি থেকে। ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে নির্দেশিকার নিয়ম মেনে। যথাযথ পদ্ধতি ও পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মেনে চললেই পাওয়া যাবে জীবন রক্ষাকারী বিশুদ্ধ পানি। পানি সঠিক উপায়ে বিশুদ্ধ করা না হলে এ থেকে পানিবাহিত রোগ যেমন- ডায়রিয়া, কলেরা, জন্ডিস হতে পারে। শিশুদের জন্য এর যে কোনটাই হতে পারে প্রাণঘাতী।
>>নিয়ন আলোয়

খালি পেটে কলা খেলে কী হয়?

সকালে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে পড়েছেন, খাওয়ার সময় পাননি।‌ কিংবা বিকেলে পড়া–ক্লাস সব সেরে আর খাওয়ার সময় পাওয়া যায়নি। অতএব উপায়!‌ দোকান থেকে কলা কিনে খেয়ে ফেলা। কারণ ফলের মধ্যে এটাই তো স্বাস্থ্যকর। রোজকার দিনে এরকম করে থাকেন এমন অনেকেই কিন্তু আছেন। পেট হয়ত ভরে গেল, কিন্তু জানেন কী?‌ খালি পেটে কলা খেয়ে আখেরে নিজেরই ক্ষতি করছেন।
উচ্চ মাত্রার পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম বিদ্যমান থাকায় কলা পুষ্টিকর একটি খাবার। এর নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। কলা হার্ট ভালো রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, কোষ্ঠকাঠিন্য, আলসারের মতো রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের উৎপাদন বাড়াতে এবং অ্যানিমিয়া দূর করতেও কলার জুড়ি মেলা ভার। কলায় শতকরা ২৫ ভাগ চিনি থাকে এবং এগুলো শরীরে শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু এগুলো তখনই হতে পারে, যখন পেট ভরা থাকে। খালি পেটে কলা খেলে কিন্তু সমূহ বিপদ।
খালি পেটে কলা খেলে কী হয়?
পুষ্টিগুণের কারণেই অনেকে সকালে খালি পেটে কলা খেয়ে থাকেন। ভাবেন, অন্য অনেক খাবারের মতো এটিও শরীরে অনেক পুষ্টি জোগাবে। কিন্তু কয়েকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কলায় উচ্চ মাত্রার চিনি বিদ্যমান রয়েছে যা শরীরে শক্তি জোগাতে কাজ করে। তাই আপনি যদি সকালে খালি পেটে কলা খান, তাহলে আপনার শক্তি কয়েক ঘণ্টা পরই বেরিয়ে যাবে। এর ফলে আপনি অলস হয়ে পড়বেন। ক্লান্ত লাগবে এবং ঘুম পাবে। তাই খালি পেটে কলা না খাওয়াই ভালো।
অ্যাসিডিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় শুকনো কিছু খাবারের সঙ্গে কলা মিলিয়ে খাওয়া ভালো। তা না হলে শরীরে উচ্চ মাত্রার ম্যাগনেশিয়ামের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। এতে হৃদয়ের রোগ হওয়ার শঙ্কাও দেখা দেয়। শুধু সকালে কলা নয়, বরং কোনো ফলই খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়। কারণ এখনকার দিনে সতেজ কোনো ফল খুঁজে পাওয়া যায় না বললেই চলে। এ ছাড়া ফলগুলোতে নানা রাসায়নিক থাকে। তাই সকালে খালি পেটে এসব খাবারের রাসায়নিকগুলো সরাসরি পেটে প্রবেশ করে। তখন পুষ্টি সরবরাহ করার বদলে এগুলো শরীরে নানা স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করে।