Tuesday, March 4, 2025

শাপলা চত্বর ও গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে প্রেস সচিবের স্ট্যাটাস

শাপলা চত্বর ও গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এ সময় তিনি ২০১৩ সালকে আওয়ামী লীগের জন্য ‘ইয়ার জিরো’ বা বিপ্লবী পরিবর্তনের সূচনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (০৩ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন।

শফিকুল আলম বলেন, ২০১৩ সাল ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (বিএল)-এর জন্য বিপ্লবী পরিবর্তনের সূচনা। এই বছরে দুটি বড় গণহত্যা, সপ্তাহব্যাপী আওয়ামী চেতনার বিক্ষোভ, সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি এবং এক ডজনেরও বেশি বিরোধী কর্মীর একযোগে জোরপূর্বক গুমের ঘটনা ঘটে। বছরের শেষ নাগাদ, আওয়ামী লীগ বুঝতে পেরেছিল যে তারা তাদের শাসন আরও এক দশক ধরে বাড়ানোর জন্য একটি নিখুঁত ফর্মুলা খুঁজে পেয়েছে।

এ সময়ে শাহবাগ বিক্ষোভটি (গণজাগরণ মঞ্চ) প্রতিটি সংবাদপত্র এবং টিভি স্টেশন থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিল। হাজার হাজার আওয়ামী পন্থি বিক্ষোভকারীরা একটি বিশাল জনতার মতো আচরণ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে একটি রায় পরিবর্তন করতে এবং একজন বিরোধী ইসলামী নেতাকে ফাঁসি দিতে বাধ্য করে। এটি সম্ভবত প্রথমবার ছিল যখন দেশের শীর্ষ আদালতকে জনতার চাপে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমও আগুনে ঘি ঢেলেছিল। শীর্ষ সম্পাদকরা শাহবাগের জনতার আচরণ এবং কিভাবে বিচার বিভাগ রক্তপিপাসু জনতার দাবির কাছে নতি স্বীকার করেছিল তা নিয়ে পুরোপুরি ঠিক মনে করেছিলেন। দেশের বিচার বিভাগ সেদিন মারা গিয়েছিল।

শাপলা চত্বর এবং মাওলানা সাঈদীর রায় পরবর্তী গণহত্যাগুলো পুরোপুরি স্ক্রিপ্টেড ছিল। হেফাজত এবং জামায়াত সমর্থকদের গণহত্যায় মানবাধিকার পূজারী পশ্চিমা বিশ্ব থেকে খুব কম প্রতিবাদ দেখা গিয়েছিল। আওয়ামী সমর্থকরা এগুলোকে দেশের অগ্রগতি এবং ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয়ের দিকে যাত্রা করার জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করেছিল। তারা মাওলানা সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের নিয়ে উপহাস করেছিল। ফেসবুক মাওলানা সাঈদীর সমর্থকদের নিয়ে উপহাসমূলক মন্তব্যে ভরে গিয়েছিল। শাপলা চত্বরে গণহত্যার পর আওয়ামী সমর্থকরা হেফাজত সমর্থকদের কাপড়ে লাল রঙ মেখে রাখার অভিযোগ করে উপহাস করেছিল।

এই দুটি গণহত্যা আওয়ামী লীগকে বিশ্ব সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের ‘সঠিক’ দিকে নিয়ে গিয়েছিল। কয়েক বছর ধরে শেখ হাসিনা সরকার আওয়ামী লীগকে একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ধর্মনিরপেক্ষ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অবস্থান দিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের আলোচনাকে কাজে লাগিয়েছিল। এই দুটি গণহত্যা, সন্দেহভাজন ইসলামী চরমপন্থিদের দ্বারা নাস্তিক ব্লগারদের হত্যা এবং জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের যুদ্ধাপরাধের বিচার তাদের অবস্থান পশ্চিমা বিশ্বে সুদৃঢ় করেছিল। আওয়ামী লীগকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ত্রাণকর্তা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বেশিরভাগ পর্যবেক্ষক, পশ্চিমা বিশ্বসহ, ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকে চোখ বন্ধ করে রেখেছিল। শুধুমাত্র হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল হত্যাকাণ্ড নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছিল।

দেশে যখন সাধারণ নির্বাচনের সময় আসে তার এক মাস আগেই এইচটি ইমাম স্পষ্টভাবে কারচুপির পরিকল্পনা সাজিয়ে রাখেন। আওয়ামী প্রার্থীরা আইনের চতুর ব্যাখ্যা করে ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে জয়লাভ করেন। নিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্রপ্রতিযোগীদের বাদ দেওয়া হবে এবং শুধুমাত্র আওয়ামী প্রার্থীরা চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য যোগ্য হবে বলে নিশ্চিত করে। খালেদা জিয়ার চলাফেরা সীমাবদ্ধ করা হয়। এক ডজনেরও বেশি বিএনপি কর্মী একদিনে নিখোঁজ হন এবং তাদের আর কখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রভাবশালী সংবাদপত্র এবং টিভি স্টেশনগুলো মূলত নীরব ছিল। সমাজ এবং বিরোধী দলের র্যাঙ্ক এবং ফাইলের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করার আগেই নির্বাচন হেরে গিয়েছিল।

পরের দশকে আওয়ামী লীগকে এই ফর্মুলা প্রায়ই প্রয়োগ করতে হয়নি। ২০১৩ সালে এটি যে ভয় সৃষ্টি করেছিল তা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়েছিল। প্রতিবার বিএনপি ফিরে আসার চেষ্টা করলে হিংস্রতা নৃশংসভাবে ব্যবহার করা হত। আ.লীগকে শাপলা চত্বরে এবং সাঈদীর রায়ের পরের মতো নৃশংস হতে হয়নি। হেফাজত ২০২১ সালের মার্চ মাসে নরেন্দ্র মোদির সফরের সময় আরেকটি বড় বিক্ষোভের চেষ্টা করেছিল।

কিন্তু আ.লীগ নেতৃত্ব ২০১৩ সালের মতো একই ফর্মুলা প্রয়োগ করেছিল এবং প্রায় ২০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। প্রথমবারের মতো এই ভয়ের জাদু ভেঙে গিয়েছিল ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাবের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর। পরের কয়েক বছর বিএনপি পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শাপলা চত্বরের মতো কঠোর পদক্ষেপের ভয়ে তাদের পুনর্গঠন ব্যাহত হয়েছিল। ২০১৩ সালের এই জাদু শেষ পর্যন্ত মধ্য জুলাইয়ে শেষ হয়েছিল যখন সাহসী একটি নতুন প্রজন্ম আ.লীগের কসাইদের মুখোমুখি হয়েছিল। বাকিটা ইতিহাস। 
গণজাগরণ মঞ্চ ও শাপলা চত্বরে জমায়েত এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব। ছবি : সংগৃহীত

রাখাইনে শুধু ৩টি জায়গা জান্তার নিয়ন্ত্রণে

রাখাইনে আর মাত্র তিনটি জায়গা জান্তার নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতি নিউজ। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, রাজ্যের রাজধানী শহর সিত্তে, বন্দরনগনরী কিয়াউকফিউ এবং বঙ্গপসাগরীয় দ্বীপাঞ্চল মানাউং জান্তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাকি ১৪টি শহর দখল করে নিয়েছে আরাকান আর্মি।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রায় এক বছরের বিরতির পর আরাকান আর্মি এখন কিয়াউকফিউয়ের জান্তার নৌঘাঁটিতে হামলা শুরু করেছে। একইসঙ্গে তারা আশপাশের সামরিক ফাঁড়ি এবং একটি পুলিশ ব্যাটালিয়নে আক্রমণ চালাচ্ছে। ২০ ফেব্রুয়ারি এই হামলা শুরু হয়েছে।

সামরিক জান্তার শাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই মিয়ানমারে অশান্তি শুরু হয়। রাজধানীসহ অন্যান্য শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ-প্রতিবাদে জড়ো হয় হাজার হাজার মানুষ। সেসব বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করে সেনাবাহিনী। জান্তা বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয় শত শত মানুষের। তবে এখানেই তা থেমে যায়নি।

বহু জাতিগোষ্ঠীতে বিভক্ত মিয়ানমারে আগে থেকেই জাতিগত উত্তেজনা চলছিল। রাখাইনের সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি অন্যান্য প্রদেশেও জাতিগত সংখ্যালঘুরা বার্মিজ শাসনের অধীনে কয়েক দশক ধরে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। কোনো কোনো প্রদেশে সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহও দেখা গিয়েছিল। তেমন একটি প্রেক্ষাপটে জান্তার ক্ষমতা দখল এবং নির্বিচারে গুলি এসব বিদ্রোহীদের দিকেই এগিয়ে দেয় মানুষকে।

মানুষ দলে দলে বিদ্রোহীগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্ত হতে থাকে। জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নেয় তারা। মিয়ানমারে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। দেড় বছরের গৃহযুদ্ধে ইতোমধ্যে অনেকগুলো শহরে জান্তা বাহিনীর পতন ঘটেছে। দেশের ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা দখল করে নিয়েছে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। বিশেষ করে বাংলাদেশ লাগোয়া রাখাইনসহ সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলো এখন অনেকটা জান্তার সেনামুক্ত।

জান্তা ক্ষমতা গ্রহণের আড়াই বছরের মাথায় অর্থাৎ ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে দেশটির তিন বিদ্রোহী গোষ্ঠী- তাঙ ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ), আরাকান আর্মি (এএ) এবং মায়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) জোটবদ্ধ হয়। নতুন এই জোট ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়্যান্স’ নামে সামরিক জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। ওই অভিযানের পোশাকি নাম ছিল ‘অপারেশন ১০২৭’।

পরবর্তী সময়ে জান্তাবিরোধী এই যুদ্ধে শামিল হয় “চিন ন্যাশনাল আর্মি (সিএনএ), চায়নাল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্স (সিডিএফ), কাচিন লিবারেশন ডিফেন্স ফোর্স (কেএলডিএফ) এবং সুচির সমর্থক স্বঘোষিত সরকার ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট-এর সশস্ত্র বাহিনী পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)।” মায়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি শক্তির স্বঘোষিত সরকার ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’, জান্তাবিরোধী রাজনৈতিক দল ‘শান স্টেট প্রোগ্রেস পার্টি’ এবং তাদের সশস্ত্র শাখা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন জানায়।

বিদ্রোহীদের মদদপুষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী ‘দ্য ইউনাইটেড ওয়া স্টেট পার্টি (ইউডব্লিউএসপি)’ ইতোমধ্যেই কয়েকটি প্রদেশে সমান্তরাল সরকার পরিচালনা শুরু করে দিয়েছে। থাইল্যান্ডে নির্বাসিত মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নাগরিকদের পরিচালিত সংবাদমাধ্যম ‘ইরাবতী’ বিদ্রোহীদের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে জান্তা সরকার। রাজধানী নাইপিদো, প্রধান শহর ইয়াঙ্গন এবং আরও কিছু বড় জনপদ-শিল্পাঞ্চলেই এখন জান্তা বাহিনীর গতিবিধি সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। কিন্তু বিদ্রোহী জোট সে এলাকাগুলো সহজে দখল করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মায়ানমারের রাজধানীসহ বড় জনপদগুলোতে মূলত সংখ্যাগুরু বামার জনগোষ্ঠীর বাস। তাদের বড় অংশই জান্তা সরকারের সমর্থক। প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এখনো জান্তার পাশে রয়েছেন। অন্যদিকে, মূলত প্রান্তিক এলাকার জনজাতি গোষ্ঠীগুলো রয়েছে বিদ্রোহীদের জোটে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় শহরগুলোর বাইরে কার্যত পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জান্তা সরকার কতক্ষণ ক্ষমতায় টিকে থাকে সেটাই এখন দেখার বিষয়। অন্যদিকে রাখাইনসহ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলো যদি সম্পূর্ণভাবে বিদ্রোহীরা দখল করে নেয় তাহলে ভেঙে যেতে পারে মিয়ানমার। স্বাধীন রাখাইন নামে বাংলাদেশের পাশে নতুন একটি দেশ তৈরি হতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত

চার দফা পরিকল্পনা স্টারমারের: ৩ দিনের ধুন্ধুমার কূটনীতি জেলেনস্কি

রুশ আগ্রাসন থেকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ওই যুদ্ধ শেষ করতে চার দফা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার। ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করার কথা জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, বৃটেন, ফ্রান্স এবং এই  স্বেচ্ছায় এই জোটের অন্যান্য দেশগুলো ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, ইউক্রেন নিয়ে বৃটেনের রাজধানী লন্ডনে যে সম্মেলন হয়েছে সেখানে এসব কথা বলেছেন স্টারমার। তার সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরাও উপস্থিত ছিলেন। ওই সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন জোরালো সমর্থন অনুভব করছে। লন্ডনে যে সম্মেলনটি হলো তা ইউরোপীয় নেতাদের শীর্ষ নেতাদের ঐক্যের প্রতীক হয়ে ফুটে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরেই এমনটি দেখা যায় না।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর লন্ডনে ইউরোপিয়ান নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। সেখানে ইউরোপের নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন জেলেনস্কি। বলেছেন, শান্তিচুক্তি এবং নিরাপত্তার গ্যারিন্টি পেতে আমেরিকার সমর্থন আদায়ে আমরা সকলে ইউরোপের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করছি।

ওই সম্মেলনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার বলেছেন, তারা চার দফা পরিকল্পনার বিষয়ে একমত হয়েছেন। সেগুলো হলো- ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা জারি রাখা এবং রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা।  যেকোনো স্থায়ী শান্তির জন্য ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনকে উপস্থিত রাখতে হবে। শান্তিচুক্তির  ক্ষেত্রে, ভবিষ্যতে যেকোনো হামলা রোধ করতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। ইউক্রেনে শান্তি চুক্তির নিশ্চয়তার জন্য স্বেচ্ছাসেবী একটি জোট গড়ে তুলতে হবে।

এ সকল দফা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই ইউক্রেনের জন্য প্রতিরক্ষা সহায়তার জন্য ঋণ ঘোষণা করেছেন স্টারমার। তিনি ২০০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইল রয়েছে। রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদের লভ্যাংশও ওই ঋণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। স্টারমার বলেছেন, অতীতের ভুল থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আমরা এমন কোনো দুর্বল চুক্তি মেনে নেবো না যা রাশিয়া চাইলেই লঙ্ঘন করতে পারে। এর বিপরীতে প্রতিটি চুক্তিই হতে হবে শক্তিশালী।
কোন কোন দেশ নিয়ে স্বেচ্ছা জোট গড়ে তোলা হবে তা স্পষ্ট করেননি বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, যারা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারাই জরুরিভাবে এগিয়ে আসবেন। ইউক্রেনের মাটি এবং আকাশ সুরক্ষায় বৃটেন নিজের অঙ্গীকার পূর্ণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন স্টারমার।

৩ দিনের ধুন্ধুমার কূটনীতি জেলেনস্কি

তিন দিনের ধুন্ধুমার কূটনৈতিক মিশন। এ সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর ব্যক্তির সামনেও মাথা নত করেননি। যুদ্ধের ভেতর থাকা একজন যোদ্ধা প্রেসিডেন্টের মতো মাথা উঁচু করে বিশ্ববাসীর সামনে এক নতুন নজির স্থাপন করলেন। অথচ তার ক্যারিয়ার রাজনীতি দিয়ে শুরু নয়। তিনি একজন কৌতুক অভিনেতা। কিন্তু নিজের জনপ্রিয়তা, প্রজ্ঞার জোরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অপমানে দৃশ্যত পরাজিত হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিন্তু নৈতিকতার কাছে তিনি পরাজিত হননি। তিনি সাহস দেখিয়েছেন সত্য বলার। নিজের দেশবাসীকে অন্ধকারে রেখে তিনি মাথা নিচু করে থাকেননি। একজন বীরের মতো কথা বলেছেন। এক পর্যায়ে তাকে হোয়াইট হাউস থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তবু কৃতজ্ঞতা দেখিয়েছেন। ইউরোপিয়ানদের ঐক্যের প্রশংসা করেছেন। ২৮শে ফেব্রুয়ারি ওভাল অফিসের উত্তেজনাকর কথোপকথন এখন সারাবিশ্বের টক অব দ্য টাউন। এরপর শনিবারই তিনি লন্ডনে ফিরে আসেন। রোববার লন্ডনের ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে ইউরোপিয়ান নেতাদের বৈঠকে যোগ দেন। জেলেনস্কির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। ওই বৈঠকে ইউক্রেনের শান্তির নিরাপত্তায় চার দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেন তিনি।  

ওই চার দফায় বলা হয়-

১. ইউক্রেনে সামরিক সহায়তার প্রবাহ অব্যাহত রাখতে হবে এবং রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করতে হবে।

২. যেকোনো রকম শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনকে অবশ্যই রাখতে হবে। যেকোনো  টেকসই শান্তিতে অবশ্যই ওই দেশটির সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।

৩. শান্তিচুক্তিতে ভবিষ্যতের যেকোনো আগ্রাসনকে বানচাল করে দিতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং

৪. ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা চুক্তি রক্ষা করতে এবং পরে শান্তি নিশ্চিত করতে ‘স্বেচ্চায় একটি জোট’ গঠন করতে হবে।

পরে রোববার রাতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন লা ফিগারো পত্রিকাকে বলেছেন, আকাশ, সমুদ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করতে চায় প্যারিস ও লন্ডন। ওদিকে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে গেলেন জেলেনস্কি। তিনি এ সময় বলেন, যেকোনো শান্তিচুক্তিতে ইউক্রেনের নিরাপত্তার গ্যারান্টি নিশ্চিত করতে হবে। লন্ডন ত্যাগের আগে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ চুক্তি করার জন্য তিনি প্রস্তুত। বিভিন্ন মিডিয়ায় এ নিয়ে নানা রকম রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। অনলাইন বিবিসি লিখেছে, রোববারের সম্মেলনে ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। স্টারমার যে চার দফা দিয়েছেন, তাতে এ বিষয়টি স্পষ্ট।

ইমানুয়েল ম্যাক্রন লা ফিগারো পত্রিকাকে যে পরিকল্পনা দিয়েছেন তাতে তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, পুরো ইউরোপ মহাদেশে সামরিক ব্যয় অবশ্যই বৃদ্ধি করা উচিত ইউরোপের। এক্ষেত্রে ইউরোপে জব্দ করা রাশিয়ার সম্পদ ব্যবহার করা যেতে পারে। কোনো কিছুর খরচ মেটানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেয় সহায়তার পরিবর্তে এই অর্থ ব্যবহার হতে পারে। তবে ম্যাক্রনের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার বিষয়ে বৃটেন এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মন্তব্য করেনি। ওদিকে ইউক্রেনে শান্তির পথ নিয়ে বিবিসি’র পলিটিক্যাল এডিটর ক্রিস ম্যাসন বলেন, ইউক্রেনের জন্য শান্তির পথ খুব সোজা বা সহজ হবে না।

যদিও ইউরোপিয়ানরা রোববার ল্যাঙ্কাস্টার হাউজে মিলিত হয়েছিলেন এবং এটা ছিল ওভাল অফিসের উত্তেজনার আগেই পরিকল্পনা করা, কিন্তু এটাকে কেউ ওভাল অফিসের পাল্টা হিসেবে দেখতে পারেন। বিশেষ করে রাশিয়া একে ট্রাম্পবিরোধী সম্মেলন হিসেবে দেখতে পারে। তবে স্যার কিয়ের স্টারমার ও অন্যরা তেমন কিছুই নন। ওই সামিটে যা অনুভূত হয়েছে তা হলো, ইউরোপের জন্য একটি শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে চেষ্টা করছে ইউরোপ।

ইউক্রেন এরই মধ্যে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে, এই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আস্থাকে আমলে নেয়া উচিত ইউরোপের। যদি শান্তিচুক্তি করা যায় তাহলে এর বড় রকম প্রভাব পড়বে বৃটেনের অনেক পরিবারে। সম্ভবত সেনাদের মোতায়েন করতে হবে। অস্ত্রধারী পুরুষ এবং নারীদের মোতায়েন করতে হবে ইউক্রেনে। এই দায়িত্ব পালন করতে হবে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে, যেখানে কয়েক দশক ধরে পরিকল্পনা করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনে মোতায়েন করা ওইসব ব্যক্তির ভূমিকা হবে শান্তিরক্ষীর। কিন্তু অনেকেই তাদেরকে দেখতে পারেন সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে। এ জন্য এখনো কূটনৈতিক অনেক কাজ বাকি। এ জন্য অনেক সময় প্রয়োজন।

mzamin

এ কেমন বাটপারি! by সাজ্জাদ হোসেন

জুলাই অভ্যুত্থানে চরম বর্বরতার শিকার হয়েছিলেন বিপ্লবী ছাত্র-জনতা। ফ্যাসিবাদী সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর বুলেটের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলে জীবন দিয়েছেন সহস্রাধিক মানুষ। আহত হয়েছেন ২২ হাজারের বেশি মানুষ। জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সহায়তায় গড়ে তোলা হয়েছে জুলাই শহীদ ফাউন্ডেশন। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই ফাউন্ডেশন থেকে শহীদ পরিবারকে অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে একইসঙ্গে আহতদের চিকিৎসা খরচ ও সহায়তা দেয়া হচ্ছে। মানবিক এই কাজের প্রতিষ্ঠান থেকেও প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। এ পর্যন্ত অনেকে এভাবে তর্থ হাতিয়ে নিয়েছে যাদের অন্তত ৫০ জন ভুয়া তথ্য দিয়ে ফাউন্ডেশন থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার তথ্য মিলেছে। যাদের শনাক্ত করে ইতিমধ্যে অর্থ ফেরত চাওয়া হয়েছে। প্রতারণার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যাদের ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। বাড়িতে মারামারি করে আহত হওয়া, স্বামী-স্ত্রীর মারামারিতে আহত হয়েও ফাউন্ডেশন থেকে সাহায্য নেয়ার পর বিষয়টি ধরা পড়েছে ফাউন্ডেশনের যাচাইয়ে।

নয়ন শিকদার নামের এক ব্যক্তি শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট কমে যাওয়ার কারণে এক সময় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনেও তাই লেখা ছিল। কিন্তু শরীরের বিভিন্নস্থানে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে, ফটোশপের মাধমে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছেন এমন ছবি তৈরি করে গত ফেব্রুয়ারি মাসে জুলাই ফাউন্ডেশনে আহতদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তের আবেদন করেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ‘ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)’-এ প্রায় ২ মাস আগেই তার সকল তথ্য ভেরিফাইড হয়। নয়নের প্রতারণায় বিভ্রান্ত হয়ে সিভিল সার্জন অফিসও প্রকৃত আহত হিসেবে এমআইএস-এ তার নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেয়। কিন্তু জুলাই ফাউন্ডেশনের ভেরিফিকেশন সেলের তৎপরতায় ধরা পড়ে এই প্রতারক।
রাশেদুল ইসলাম নামের আরেক জন ৭ই আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকার জাতীয় অর্থপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু) হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু গত ৪ঠা আগস্ট পাবনায় আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি আহত হয়েছেন এমন তথ্য দিয়ে ইতিমধ্যে আহতদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা তুলে নেন। সম্প্রতি আহতদের জন্য বরাদ্দকৃত দ্বিতীয় ধাপের টাকা পাওয়ার জন্য পুনরায় আবেদন করেন। জুলাই ফাউন্ডেশনের ভেরিফিকেশন সেলের সন্দেহ হলে, তাকে ফাউন্ডেশনের অফিসে ডাকা হয়। তার মেডিকেল রিপোর্টে ‘আরটিএ’, অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন এমন লেখা থাকার ব্যাখ্যা চায় ফাউন্ডেশন।
জবাবে প্রথমে আন্দোলনে গিয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়েছেন এমন কথা বলেন তিনি, পরে ৭ই আগস্টে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিজয় মিছিলে গিয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন রাশেদুল। জুলাই ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তার দাবি মিথ্যা বলে জানতে পারে। একপর্যায়ে রাশেদুল ও তার বোন স্বীকার করেন যে, কোনো আন্দোলনে তিনি আহত হননি। পরে এক মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেবেন এই মর্মে ২রা মার্চ ফাউন্ডেশনের ভেরিফিকেশন সেলের কাছে মুচলেকা দিয়ে মামলা হতে আপাতত রেহাই পান তিনি।
রুনা আক্তার নামের একজন নারী ফাউন্ডেশনে এসেছিলেন আন্দোলনে আহতদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য। পারিবারিক ঝগড়ায় ঠোঁট ফেটে গিয়ে আহত হয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। এর চিকিৎসা সনদ নিয়ে তিনি আন্দোলনে আহত হয়েছেন দাবি করে সহায়তা দাবি করেন। ফাউন্ডেশন যাচাই করে সত্যতা না পেয়ে তাকে কোনো সহায়তা দেয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ‘ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)’-এর তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে আহতদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা তুলে নেন বেলাল হোসেন নামের এক অটোরিকশাচালক। পুঙ্গ পাসপাতালে ভর্তি এই ব্যক্তির একটা পা কেটেও ফেলতে হয়েছে। কিন্তু ফাউন্ডেশনের ভেরিফিকেশন সেলের কাছে তথ্য আসে বেলাল আন্দোলনে আহত ব্যক্তি নন। পরে ভেরিফিকেশন টিম তাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে জানতে পারে ৩০শে ডিসেম্বর তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সময় ছিনতাইকারীর গুলি ও ছুরিকাঘাতে আহত হয় বেলাল।

যেহেতু তিনি একটি পা হারিয়েছেন এবং আর্থিকভাবেও তেমন সচ্ছল নন তাই মানবিক কারণে বেলালের নামে আর প্রতারণার মামলা দেয়নি ফাউন্ডেশন। তবে টাকা ফেরত দেয়ার মুচলেকা দিতে হয়েছে তাকে।

জুনায়েদ নামের আরেক প্রতারক দেশের বিভিন্নস্থানে আহতদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এমআইএস-এ নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য যোগাযোগ করতো। আহতদের নানা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বলতো, ইতিমধ্যে জুলাই ফাউন্ডেশনের বরাদ্দকৃত টাকা দেয়া শেষ। আপনারা এখনো যেহেতু এমআইএস-এ নাম অন্তর্ভুক্তি করেননি তাই আপনারা আর টাকা পাবেন না। আমার কাছে লোক আছে, আমি আপনার নাম এমআইএস-এ যোগ করে দিবো বিনিময়ে ফাউন্ডেশন থেকে যত টাকা পাবেন তার অর্ধেক টাকা আমাকে দিতে হবে। এতে সফলও হয়েছে সে। পঙ্গু হাসপাতালের এক আহতের বাবার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নেয় সে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুনায়েদকে ডেকে আনা হয় ফাউন্ডেশনের অফিসে। জুনাযেদ তার অপরাধ স্বীকার করলে ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তার দেয়া মামলায় জেলহাজতে পাঠানো হয়।

জুলাই ফাউন্ডেশনের ভেরিফিকেশন সেলের সমন্বয়ক সাইদুর রহমান শাহীদ মানবজমিনকে বলেন, আমরা জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত আহতদের সেবা দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আহতদের নাম তালিকাভুক্তির জন্য আমরা মূলত মেডিকেল সার্টিফিকেটগুলো ভালোভাবে পরীক্ষা করি। এ ছাড়াও আহত ব্যক্তি কখন আন্দোলনে গিয়েছিল, কীভাবে আহত হয়েছিল, তার দেয়া তথ্য নানাভাবে যাচাই করি। এ ছাড়াও স্থানীয় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য নিয়ে তারপর আহতদের নাম তালিকাভুক্ত করি। কিন্তু পঙ্গু হাসপাতালে একসঙ্গে অনেক লোক ভর্তি থাকায় কিছু ভুয়া লোক আহত সেজে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে। কিন্তু আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এসব ভুয়া আহতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
জুলাই ফাউন্ডেশনের লিগ্যাল অফিসার এডভোকেট পায়েল ভুয়া আহতদের ব্যাপারে মানবজমিনকে বলেন, আমরা ইতিমধ্যে কিছু ভুয়া আহতদের নাম শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা ভুয়া আহতদের চিহ্নিত করে মামলা দেয়া, মুচলেকা নেয়া এবং টাকা ফেরত চেয়ে শোকজ নোটিশ দেয়াসহ মোট ৩ রকমের ব্যবস্থা নিচ্ছি।

প্রতারণার মাধ্যমে আহত সেজে টাকা নেয়ার গুরুতর অভিযোগে জুলাই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে রাজধানীর রমনা থানায় দেয়া ২টি মামলায় ৩ জন জেলহাজতে আছে। প্রায় ৫০ জনের অধিক প্রতারক আমাদের কাছে মুচলেকা দিয়েছে এবং টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। যদি সময়মতো টাকা না দেয় তবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।
এ ছাড়াও যেসব আহত কিংবা নিহতদের পরিবারের সদস্য এককভাবে বরাদ্দকৃত টাকা উঠিয়ে নিয়েছে, অন্য অংশীদারদের বঞ্চিত করেছে তাদের নোটিশের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে। যদি কাজ না হয় পরবর্তীতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।

জুলাই ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন তিনটি উইংয়ে কাজ করছে। কেউ যদি ভুল তথ্য দিয়ে ফাউন্ডেশন থেকে টাকা নিয়ে যায় অথবা নেয়ার চেষ্টা করে, আমরা তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিবো।

mzamin

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আ’লীগের রাজনীতি করবো না

রাজধানীর কাফরুল থানাধীন বিআরটিএ অফিসের পেছনের রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আতিকুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ও মোহনা টেলিভিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ মজুমদারকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এ সময় রাজনীতি থেকে অব্যাহতি নেয়ার ঘোষণা দিয়ে সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, মৃত্যুর আগে আর আওয়ামী লীগের রাজনীতি করবেন না। এছাড়া চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধও এবং কারাগারে পড়ার জন্য ডিজিটাল কোরআন শরীফ চেয়েছেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।

সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র এই আদেশ দেন। ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামাল আহমেদ মজুমদারকে কাফরুল থানার আতিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। এ সময় বিচারক গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে আদালতে কামাল আহমেদ মজুমদার বিচারকের অনুমতি নিয়ে কিছু কথা বলার অনুমতি চান। সে সময় বিচারক তাকে কথা বলার অনুমতি দেন।

কামাল আহমেদ মজুমদার আদালতকে বলেন, আমার ৭৬ বছর বয়স। আমার চোখে সমস্যা। ৭০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। আমার পরিবার সম্পর্কে কোনো খোঁজ-খবর নিতে পারছি না। আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতি করবো না। রাজনীতি থেকে ইস্তফা দিলাম। আমি আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই। এখন থেকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করলাম।

তিনি আরও বলেন, কারাগারে ডায়াবেটিস চেক করার জন্য ডিজিটাল কোনো যন্ত্র বা ওষুধ দেয়া হচ্ছে না। এমনকি পবিত্র কোরআন শরীফও দেয়া হয়নি। একের পর এক মামলা দেয়া হচ্ছে। একের পর এক নির্যাতন করা হচ্ছে। এই বয়সে আমার ওপর জুলুম চালানো হচ্ছে। আল্লাহ্‌কে ডাক দেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। এজন্য আমি আপনার কাছে অনুরোধ করছি, ডায়াবেটিসের ওষুধ, ডায়াবেটিস মাপার ডিজিটাল যন্ত্র এবং ডিজিটাল কোরআন শরীফ দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক। এ সব কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কামাল মজুমদার।

এ সময় বিচারক বলেন, আপনার সবগুলো দাবি আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করুন। এরপর বিচারক তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯শে জুলাই বিকালে রাজধানীর কাফরুল থানাধীন বিআরটিএ অফিসের পেছনের রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন আতিকুল ইসলাম। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গত ২৩শে ডিসেম্বর ব্যবসায়ী আহসান হাবীব রাজধানীর কাফরুল থানায় একটা হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় কামাল মজুমদার ১০ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

mzamin

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন: শরীরে ৩০০ গুলি, পরিবার নিয়ে অসহায় সুজন

২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট, ছাত্র-জনতার এক ঐতিহাসিক বিজয়ের দিন। সেদিন স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে সারা দেশের ন্যায় রাজধানী ঢাকার বাড্ডা এলাকায় ঘেরাও কর্মসূচি ছিল ছাত্র-জনতার। সেই কর্মসূচিতে সকাল ৯টায় অংশ নেন সিএনজিচালক সুজন। শুধু তিনিই নয়, তার মতো হাজারো ছাত্র-জনতা কর্মসূচিতে জড়ো হয়। সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হলে এক ছাত্র আহত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে সুজন জীবন বাজি রেখে সেই ছাত্রকে উদ্ধারে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে যায় এবং গুলি তারও সারা শরীরে লাগে। গুলি লাগার পর সে অসচেতন হয়ে বিকাল পর্যন্ত পড়ে থাকে। সে সময় বাড্ডার রাজপথে পুলিশের গোলাগুলি চলমান থাকায় তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিকাল ৪টার দিকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকার আফতাব নগর নাগরিক হাসপাতালে নেন আন্দোলনকারীরা।

এরপর ওই হাসপাতালে আহত সুজন চিকিৎসা না পেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়, কিন্তু সেখানেও অতিরিক্ত হতাহতদের চিকিৎসার কারণে ভর্তি করা হয়নি। তারপর সেখান তাকে নিয়ে আসা হয় তার গ্রামের বাড়ি। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারিভাবে তাকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করলেও পরিবারের উপার্জনসক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় অর্থাভাবে পথে বসতে হয় তাকে। অন্যের সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে জীবিকানির্বাহ করলেও তার খোঁজখবর কেউ নেননি বলে জানায় সুজন। এখন সে খেয়ে-না খেয়ে পরিবার নিয়ে দিনযাপন করছে। সুজন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের আকালু গ্রামের মৃত আনছের আলীর ছেলে। প্রাইমারিতে পড়ার সময় বাবাকে হারালে পরিবারের হাল ধরতে পড়াশোনা বন্ধ করে রিকশা চালানোর উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায় রাজধানী ঢাকায়। রিকশা চালানোর পাশাপাশি স্থানীয় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন।
সুজন বলেন, জুলাই বিপ্লবের আন্দোলনে অন্যদিনের মতো ৫ই আগস্ট সকাল ৯টার দিকে বাড্ডা থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করি। সকাল ১০টার দিকে পুলিশ আমাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশ আমাদের ওপর একতরফা গুলিবর্ষণ করে। একপর্যায়ে পুলিশের ছররা গুলির ২৯৬টি স্প্লিন্টার আমার শরীরে লাগে। আমি অচেতন অবস্থায় দেয়ালের পাশে পড়ে থাকি। পরদিন সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমার জ্ঞান ফিরে। আমার শরীরে এখনো স্প্লিন্টার রয়েছে। আমি চলাফেরা করতে পারি না। ক্রাচের মাধ্যমে হাঁটলেও ব্যথা বেড়ে যায় ও শরীর ফুলে শক্ত হয়। কেউ খোঁজ নেয় না। এমন অবস্থায় উন্নত চিকিৎসা ও আর্থিক সহযোগিতার অনুরোধ করেন তিনি।
সুজনের স্ত্রী নূপুর বলেন, আহত হওয়ার পর থেকে সংসারে কোনো আয় নেই। এখন খেয়ে না খেয়ে দিন যাচ্ছে। এদিকে সন্তানদের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার পথে। তিনি আরও বলেন, গত কয়েক মাস আগে উপজেলা থেকে কিছু সাহায্য পেয়েছিলাম যা আমাদের বেশ উপকার হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে আহত স্বামীর চিকিৎসা ও সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারছি না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা. পপি খাতুন বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে এ উপজেলায় একজন নিহত ও তালিকামতে ১৬ জন আহত রয়েছে। এর বাহিরেও আহত থাকতে পারে। নিহত ও আহতদের পরিবারকে সরকারি ও ব্যক্তিভাবে সহযোগিতা প্রদান করে আসছি। আহতদের মধ্যে অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারিভাবে এখনো আহতের কর্মসংস্থানের কোনো নির্দেশ আসেনি। তবে, তারা যাতে কোনো সমস্যায় না পড়ে সে ব্যাপারে প্রশাসন ও সমাজসেবা কাজ করছে।

mzamin

অবশেষে সেই মানবতাবাদীর মৃত্যু

রক্তদাতাদের মধ্যে গোটা বিশ্বে অন্যতম ছিলেন তিনি। যার প্লাজমা ২০ লাখের  বেশি শিশুর জীবন বাঁচিয়েছে। জেমস হ্যারিসন নামের সেই অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি নার্সিং হোমে ঘুমন্ত অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে তার পরিবার। এ খবর দিয়েছে  অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়াতে হ্যারিসনের উপাধি ছিল গোল্ডেন আর্ম বা সোনালী বাহু। তার রক্ত কণিকায় অ্যান্টিবডি, অ্যান্টি ডি ছিল যা গর্ভবতী মায়েদের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হতো। যেসব নারীর রক্তকণিকা তাদের শিশুর জন্য বিপজ্জনক তাদের জন্য ওই অ্যান্টি ডি ছিল বেশ কার্যকর। তার মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা ও শোক জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার রেডক্রস ব্ল্যাড সার্ভিস। তারা জানিয়েছে যে, ১৪ বছর বয়সে বুকে বড়ধরনের অস্ত্রোপচারের জন্য রক্ত গ্রহণের পর রক্তদাতা হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন হ্যারিসন। ১৮ বছর বয়স থেকে রক্তের প্লাজমা দান করতে শুরু করেন তিনি। ৮১ বছর পর্যন্ত প্রতি দুই সপ্তাহে রক্ত দিতেন হ্যারিসন। ২০০৫ সালে তিনি সর্বাধিক রক্তের প্লাজমা দান করার বিশ্ব রেকর্ডটি অর্জন করেছিলেন। ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি এই খেতাবটি ধরে রেখেছিলেন। পরে সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের একজন পুরুষ তাকে ছাড়িয়ে যান। হ্যারিসন কোনোরকম যন্ত্রণা ছাড়াই এত জীবন বাঁচাতে পেরে খুব গর্বিত বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে ট্রেসি মেলোশিপ। এ বিষয়ে হ্যারিসন সবসময় বলতেন, এতে কোনো ক্ষতি হয় না। মেলোশিপ এবং হ্যারিসনের দুই নাতিও অ্যান্টি-ডি টিকা গ্রহণকারী। অ্যান্টি-ডি গর্ভস্থ শিশুদের ভ্রূণ এবং নবজাতকের হেমোলাইটিক রোগ বা এইচডিএফএন নামক একটি মারাত্মক রক্তের ব্যাধি থেকে রক্ষা করে। শিশু মায়ের গর্ভে থাকাকালীন ওই অবস্থা দেখা দেয়। কেননা, তখন মায়ের লোহিত রক্তকণিকা তার ক্রমবর্ধমান শিশুর রক্তকণিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না।

mzamin

আত্মহত্যা করেছেন কেরালার কিডনি বিশেষজ্ঞ আব্রাহাম!

আত্মহত্যা করেছেন কেরালার বিশিষ্ট কিডনি বিশেষজ্ঞ সিনিয়র সার্জন জর্জ পি. আব্রাহাম। কোচিন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কাছে অবস্থিত তার ফার্মহাউসে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মৃতদেহ। এর পাশে একটি সুইসাইড নোটও ছিলো। এতে বলা হয়, শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তিনি কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। সেই হতাশা থেকে আত্মহত্যা করেছেন। আব্রাহাম তার পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে ২ হাজার ৫০০ কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন, যা কেরালাতে রেকর্ড। এ খবর দিয়েছে গালফ নিউজ।  সম্প্রতি তার মেরুদণ্ডের অস্ত্রপচার হয়েছে। ওই ফার্মহাউসের পাশে বসবাসকারী এক বাসিন্দা জানান, প্রতি রোববার ফার্মহাউসে যেয়ে সময় কাটাতেন ডা. আব্রাহাম। এভাবেই তিনি রোববার (২রা মার্চ) ফার্মহাউসে যান। সঙ্গে তার ভাইও ছিলেন।  এক পর্যায়ে ভাইকে সেখান থেকে পাঠিয়ে দেন তিনি। সোমবার খবর ছড়িয়ে পড়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। রেনাল স্পেশালিস্ট বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি তৃতীয় কোনো সার্জন-  যিনি লাপারোস্পোপিক মেথড ব্যবহার করে ডোনারের দেহ থেকে কিডনি সংগ্রহ করেছেন। বাকি যেসব কাজ করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তিনি মৃতদেহ থেকে কিডনি নিয়ে তা প্রতিস্থাপন করেছেন। যা কেরালাতে সচারচর হয় না। আব্রাহাম একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি বিভিন্ন সভা, সেমিনারে অংশগ্রহণ করে অনুজদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেন। স্থানীয় পুলিশ তার অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে এবং এ বিষয়ে একটি তদন্ত শুরু করেছে। উল্লেখ্য, তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সোমবার দুপুরে এসটি জর্জ জ্যাকোবাইট সিরিয়ান চার্চে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই চার্চটি চেরাথোত্তাকুনেলে অবস্থিত। 
mzamin

ট্রাম্পের অভিযোগ সত্য নয়, বললো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশে দুইজন ব্যক্তির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে ইউএসএআইডি’র ২৯ মিলিয়ন ডলার দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এমন অভিযোগ সত্য নয় বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ডনাল্ড ট্রাম্পের আগের মেয়াদে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রকল্পের অর্থ এসেছে এবং যেসব সংস্থা এই বরাদ্দ ব্যয় করেছে তাও যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে ২৯ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প ‘স্ট্রেংদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ (এসপিএল) ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এ প্রকল্পটি নিয়ে কিছু তথ্য দিয়েছেন যা নিয়ে জনমনে ব্যাপক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুসন্ধান করেছে।

অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ইউএসএআইডি যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালকে (ডিআই) নির্বাচিত করে। প্রকল্প প্রস্তাবনা আহ্বানের প্রেক্ষিতে অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে এবং একটি স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণের মধ্যদিয়ে ইউএসএআইডি সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করে। ২০১৭ সালের মার্চে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ডিআই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু করে। পরবর্তীতে প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় এবং এর অর্থ আসে ধাপে ধাপে।
শুরুতে এসপিএল প্রকল্পটি ছিল ৫ বছর মেয়াদি এবং বাজেট ১৪ মিলিয়ন ডলার। প্রকল্পটির ব্যবস্থাপনায় ছিল ইউএসএআইডি এবং অর্থায়নে ছিল ইউএসএআইডি ও যুক্তরাজ্যের উন্নয়ন সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ডিএফআইডি (বর্তমানে এফসিডিও)। এই প্রকল্পে ডিএফআইডির অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি ছিল ১০ মিলিয়ন ডলার।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসপিএল প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল- রাজনৈতিক সহিংসতা হ্রাস করে শান্তি ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান তৈরি, দলগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চার উন্নয়ন এবং প্রতিনিধিত্বমূলক নেতৃত্বের বিকাশে উৎসাহ প্রদান। প্রকল্পের অধীনে ডিআই বাংলাদেশে জরিপ কার্যক্রমও পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য, ইউএসএআইডি’র প্রকল্পের ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নীতি অনুসরণ করাটা বাধ্যতামূলক। এতে আর্থিক নিরীক্ষার প্রক্রিয়াটি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ার কয়েক বছর পরও এ-সংক্রান্ত নথিপত্র সংরক্ষণ করা হয়। প্রয়োজনে পুনর্নিরীক্ষা করা হয়।

অনুসন্ধান থেকে দেখা যায় যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে এসপিএল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু করে। তাই এটি বাংলাদেশের দুইজন ব্যক্তির মালিকানাধীন কোনো সংস্থাকে প্রদান করার অভিযোগটি সত্য নয়। বস্তুত এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হয় বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে। এক্ষেত্রে ব্যক্তি বিশেষের কোনো কিছু করার ক্ষমতা থাকে না।

mzamin

দেশে জিকা ভাইরাসের প্রথম ক্লাস্টার শনাক্ত, আক্রান্ত ৫

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাসের ক্লাস্টার শনাক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ৫ জনের মধ্যে এই ভাইরাস পেয়েছে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মতো জিকাও ছড়ায় এডিস মশার মাধ্যমে।

সোমবার সংস্থাটি তাদের ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছে।

আইসিডিডিআর,বির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে সংগ্রহ করা নমুনা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পেয়েছেন তারা। বিজ্ঞানীরা সমগ্র জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশি এই স্ট্রেইন এশিয়ান লাইনেজের অন্তর্গত। এতে আক্রান্ত হলে মাইক্রোসেফালি ও অন্যান্য স্নায়বিক রোগের মতো গুরুতর সংকট দেখা দিতে পারে।

আইসিডিডিআর,বি তাদের ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্যে জানিয়েছে, বাংলাদেশের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু, এর উষ্ণ তাপমাত্রা এবং দীর্ঘ বর্ষাকাল এডিস মশার জন্য সর্বোত্তম প্রজনন পরিস্থিতি তৈরি করে। এ কারণে মশাবাহিত অনেক রোগ হয়। ডেঙ্গু ছাড়াও এখানে চিকুনগুনিয়া দেখা গিয়েছিল। এবার জিকা ভাইরাসও শনাক্ত হলো।

জানা গেছে, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মতো জিকাও ছড়ায় এডিস মশার মাধ্যমে। এর লক্ষণ ডেঙ্গুর মতো হলেও আশি শতাংশের ক্ষেত্রেই তা ধরা পড়ে না। ভাইরাস শরীরে থাকে বছর ধরে। এমনকি জিকা ভাইরাসে আক্রান্তের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেও ছড়ায় এই রোগ। জিকা আক্রান্ত হয়ে গর্ভবতী হলে অথবা গর্ভবতী জিকা আক্রান্ত হলে নানা শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয় শিশু।

জানা যায়, ২০১৬ সালে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালিত একটি পর্যালোচনা গবেষণায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি উঠে আসে।

ক্লাস্টার সংক্রমণের বিষয়ে আইসিডিডিআর,বি বলছে, গবেষকেরা ২০২৩ সালে তাদের ঢাকার রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে আসা রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করেন। জ্বর আক্রান্ত ১৫২ জন রোগীর শরীরে জিকার লক্ষণ রয়েছে এমন সন্দেহে তাদের নমুনা পিসিআরভিত্তিক পরীক্ষা করা হয়। এতে পাঁচজনের নমুনায় জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়। এই পাঁচজন রোগী এক কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করতেন। তাদের কেউ-ই দুই বছরের মধ্যে বিদেশ ভ্রমণ করেননি। এসব রোগীরা একই সময়ে পরীক্ষা করিয়েছেন। ফলে বিষয়টি একই সংক্রমণ চক্রের অংশ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া পাঁচজন আক্রান্তের মধ্যে একজন ডেঙ্গু ভাইরাসেও সংক্রমিত হয়েছিলেন।

১৯৪৭ সালে উগান্ডায় বানরের শরীরে প্রথম ধরা পড়ে জিকা ভাইরাস। ১৯৫৪ সালে প্রথম শনাক্ত হয় মানবদেহে নাইজেরিয়ায়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের অনেক দেশে।

mzamin

‘আমাগো কপালে ভালো খাবার দিয়ে ইফতারি করার ভাগ্য নেই’ by রিপন আনসারী

‘আমাগো মতন গরিব মানুষের কপালে ভালো খাবার দিয়ে ইফতারি করার ভাগ্য হয় না। ভাত আর বেগুন ভর্তা দিয়ে সেহরি খাইছি। ইফতারের কোনো আয়োজনই নেই। এক গ্লাস পানি এরপর শাক-ভাত দিয়েই রোজা ভাঙবো।’ ইফতারির আগ মুহূর্তে এমন কথা বলেন, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী-বাঠুইমুড়ি বেড়িবাঁধের বাসিন্দা বৃদ্ধা ফাতেমা বেগম।

সরজমিন বেড়িবাঁধ এলাকায় দেখা যায়, কোনো বাড়িতেই ইফতারির বাড়তি কোনো আয়োজন নেই। বাঁধের দু’ধারে ৩ শতাধিক হতদরিদ্র পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বসবাস করে আসছে। তাদের বেশির ভাগ পরিবারই দিনমজুর। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে অর্থনৈতিক দৈন্যতার কারণে রমজান মাসে ভালো-মন্দ ইফতার তাদের ভাগ্যে জোটে না। দীর্ঘদিন ধরেই রোগে-শোকে জর্জরিত আফজাল ফকিরের বাড়ি গিয়ে দেখা গেল রমজানের প্রথম রোজার ইফতারির ন্যূনতম কোনো আয়োজন নেই। এ বিষয়ে ফাতেমা বেগম জানান, কয়েক বছর ধরে ভালো কোনো খাবার দিয়ে ইফতারি করার সৌভাগ্য হচ্ছে না তার। স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় মেয়েকে নিয়ে দিনমজুরি করে কোনোরকমে সংসার চালান। সংসারে চাল ডাল লবণ কিনতেই হিমশিম খেতে হয়।
পাশের বাড়ির বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম বলেন, ইফতারি কি জিনিস স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে সেটা বুঝি না। ডাল ভাত খেয়ে রোজা রেখেছি এবং পানি আর ভাত দিয়ে ইফতার করবো। একটা খেজুর কেনার মতো সামর্থ্য নেই। কষ্টের কথা কাউকে বুঝাতে পারবো না। রিকশা চালক সুমন বলেন, পরিবারে বৃদ্ধ মা, বোন ও স্ত্রী রোজা রেখেছে। সকাল থেকে সারাদিন রিকশা চালাতে পারি নাই। হাতে কোনো টাকা-পয়সাও নেই। তাই ইফতারি কেনার মতো সামর্থ্য না থাকায় নিয়মিত রান্না করা খাবার দিয়েই রোজা ভাঙতে হবে। তার বৃদ্ধা মা বেদেনা বেগম বলেন, অভাবের সংসারে কখনোই ভালো কোনো খাবার দিয়ে ইফতার করতে পারি না। প্রথম রোজায় অনেকে সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু ভালো মন্দ খাবার দিয়ে ইফতার করে। কিন্তু আমার কপালে তা নেই। মেয়ে এবং নাতনি নিয়ে কোনোরকমে ডাল ভাত খেয়েই রোজা ভাঙবো।
কাজলী বেগম বলেন, ছয় ছেলে, এক মেয়ে ও নাতি-নাতনি নিয়ে বড় সংসার আমার। স্বামী মারা গেছে চার বছর আগে। পরিবারের কয়েকজনই রোজা। ব্রয়লার মুরগির দোকান থেকে পা, গিলা, মাইটা কিনে এনে তা রান্না করে রাতে সেহরি খাই, সেহরি খেয়েছি। ইফতারের খাবার বলতে যা বোঝায় তার কোনো কিছুই কেনার মতো সামর্থ্য নেই। দু’বেলা খাবার জোগাড় করাই যখন কঠিন তখন রমজান মাসে ইফতার নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখি- সেটাই বড় কথা। আজ মাছ মাংস কেনার অর্থ নেই তাই ইফতারির জন্য শুধু খিচুড়ি রান্না করেছি। নুরুল্লাহ বলেন, বাড়িতে ছোট-বড় সবাই রোজা রেখেছি। ইফতারির জন্য বাড়তি কোনো খাবার কেনার মতো সামর্থ্য নেই। সাধারণ যে খাবার প্রতিদিন খেয়ে থাকি সেটা দিয়েই ইফতার করবো।
এদের মতো প্রায় প্রত্যেকটি পরিবারই অসহায়। প্রথম রমজানে ইফতারের বাড়তি কোনো আয়োজন কোনো পরিবারের মাঝেই দেখা যায়নি। প্রতিনিয়ত তারা তিন বেলা যা দিয়ে ক্ষুধা নিবারণ করে তা দিয়েই ইফতার ও সেহরি করছেন। এলাকার অনেকেই জানান, বেশির ভাগ পরিবারই ভালো নেই। বিশেষ করে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থকষ্টে জীবনযাপন করছেন। পকেটে টাকা না থাকলেও কারও কাছে লোকলজ্জায় হাত পাততে পারছেন না। তাদের এই কষ্টের কথা শুধুমাত্র ঘরের লোকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

mzamin

জাপানে বয়স্ক ব্যক্তিদের যত্ন নেবে এআই রোবট

এক ব্যক্তি দুই পা ভাঁজ করে বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন। তার দিকে ঝুঁকে আছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) পরিচালিত একটি রোবট। সেটির একটি হাত ওই ব্যক্তির হাঁটুতে আর আরেকটি তার কাঁধে। ওইভাবে ধরে ওই ব্যক্তিকে বিছানায় কাত করে শুইয়ে দিলো রোবটটি। সমপ্রতি জাপানের টোকিওতে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। সাধারণত চলাচলে অক্ষম বয়স্ক মানুষের ডায়াপার পরিবর্তন বা শরীরের যত্ন নিশ্চিত করতে কাত করানোর জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ১৫০ কেজির  (৩৩০ পাউন্ড) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত মানবিক রোবট অওজঊঈ (এআই ড্রাইভেন রোবট অব এমব্রেস অ্যান্ড কেয়ার) জাপানে বয়স্কদের পরিচর্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিগেকি সুগানো, যিনি সরকারি অর্থায়নে অওজঊঈ-এর গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বলেছেন, ‘আমাদের বার্ধক্যজনিত সমাজ এবং ক্রমহ্রাসমান জন্মহারের কারণে চিকিৎসা ও বয়স্কদের যত্নের জন্য এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রোবটের সহায়তার প্রয়োজন হবে।’ জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে কমছে জন্মহার। কর্মক্ষম জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং সীমিত অভিবাসন নীতি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাপানে ১৯৪৭-১৯৪৯ সালের মধ্যে জন্ম নেয়া প্রজন্মের সবাই গত বছর ৭৫ বছর বয়সী হয়েছে। ফলে বয়স্কদের যত্ন ও পরিচর্যা খাতে কর্মীর সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে টানা নবম বছরের মতো দেশটির জন্মহার কমেছে। ৫ শতাংশ কমে এটি ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৮৮-এ নেমে এসেছে, যা রেকর্ড সর্বনিম্ন। নার্সিং সেক্টরে কর্মীর ঘাটতি বেড়েই চলেছে। ডিসেম্বরে প্রতি ৪.২৫টি চাকরির জন্য মাত্র একজন আবেদনকারী ছিল, যা সরকারি তথ্য অনুসারে দেশের সামগ্রিক চাকরি-আবেদনকারী অনুপাত ১.২২ এর চেয়ে অনেক খারাপ। এমন অবস্থায় বিদেশি কর্মীদের দিয়ে সেবা খাতে শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা করছে জাপান সরকার। এতে গত কয়েক বছরে এ খাতে বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা বেড়েছে। তবে এরপরও ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজারের কাছাকাছি, যা এ খাতে প্রয়োজনীয় জনবলের তুলনায় ৩ শতাংশের কম। টোকিওর একটি পরিচর্যা কেন্দ্রে দেখা গেল, পুতুল আকারের একটি রোবট পপ সংগীত গাইছে এবং সেখানকার সেবাগ্রহণকারীদের সাধারণ কিছু ব্যায়াম করাচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে সেখানকার পরিচর্যাকর্মীকে সহযোগিতা করছে এটি। পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে সবচেয়ে বেশি যে প্রযুক্তিটি এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হতে দেখা যায়, সেটি হলো সেবাগ্রহীতাদের ঘুমের অবস্থা নিরীক্ষণের জন্য তাদের বিছানার নিচে ‘স্লিপ সেন্সর’ স্থাপন করা। বয়স্কদের সুবিধা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জেনকৌকাইয়ের পরিচালক তাকাশি মিয়ামোতো বলেন, ‘১০-১৫ বছরের মধ্যে আমাদের দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যাবে। এই সমস্যা এড়াতে এখন  প্রযুক্তিই আমাদের সেরা বিকল্প।’  জেনকৌকাই সক্রিয়ভাবে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে, কিন্তু রোবটের ব্যবহার এখন পর্যন্ত সীমিত। অধ্যাপক সুগানোর কথায় ‘বিশ্ব জুড়ে মানবাকৃতির রোবট তৈরি হলেও সরাসরি মানুষের সঙ্গে কাজ করতে দেখা যায়নি। এসব রোবট সাধারণত ঘরবাড়ি বা কারখানার কাজেই ব্যবহৃত হয়।’ তবে গবেষকের তৈরি ‘এআইআরইসি’ রোবট একজন ব্যক্তিকে বসাতে, মোজা পরাতে, কাপড় ভাঁজ করতে এবং বাড়ির বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতে সক্ষম। তবে, তিনি মনে করেন, ২০৩০ সালের আগে এ রোবট পুরোপুরি সেবা ও চিকিৎসার কাজে ব্যবহারের উপযোগী হবে না। প্রাথমিকভাবে প্রতি ইউনিট রোবটের জন্য কমপক্ষে ১ কোটি ইয়েন (৬৭ হাজার মার্কিন ডলার) ব্যয় হবে। জেনকৌকাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠানের একজন সেবাকর্মী তাকাকি ইতো, রোবোটিক নার্সিংয়ের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে  আশাবাদী। তিনি মনে করেন, যদি আমাদের কাছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সজ্জিত রোবট থাকে যারা প্রতিটি সেবাগ্রহীতার জীবনযাত্রার অবস্থা এবং ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলো বুঝতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে তাদের সরাসরি নার্সিং সেবা প্রদানের সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয় না রোবটরা নার্সিং কেয়ার সম্পর্কে সবকিছু বুঝতে পারে। নার্সিং কেয়ার উন্নত করার জন্য রোবট এবং মানুষ একসঙ্গে কাজ করবে এমন একটি ভবিষ্যৎ আমি আশা করতে পারি। সূত্র: রয়টার্স
mzamin