Saturday, February 25, 2017

ট্রাম্প যদি তখন ক্ষমতায় থাকতেন...

ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প যখন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯০-এর দশকে মডেলিংয়ের কাজ করেছিলেন তখন যদি তার স্বামী ডনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকতেন তাহলে তার নতুন অভিবাসন নীতির অধীনে মেলানিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেয়া থাকতো অগ্রাধিকারে। এমন মন্তব্য করেছেন অভিবাসন বিষয়ক কয়েকজন এটর্নি। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালে মেলানিয়া ছিলেন কèাউস নামে পরিচিত। তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন পরিদর্শক, পর্যবেক্ষক ভিসায়। কিন্তু ওই সময়ে তিনি অভিবাসন নীতি লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করে পারিশ্রমিক নিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এপি এমন কিছু ডকুমেন্ট হাতে পেয়েছে। তাতে দেখা যায়, বর্তমান ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি পাওয়ার সাত সপ্তাহ আগে কাজ করে ২০ হাজার ডলার আয় করেছেন। তিনি ২০০১ সালে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। অতীতের কোনো তথ্য প্রকাশ না করে তিনি ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। এখন দেখা যাচ্ছে, গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যে নতুন অভিবাসন বিষয়ক নীতি গ্রহণ করেছেন তাতে এ বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তারা কোন্ বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবেন সে বিষয়ে এতে তথ্য রয়েছে। বলা হয়েছে, যদি কোনো বিদেশি নাগরিক প্রতারণার আশ্রয় নেন বা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে সরকারি বিষয়ের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করেন অথবা সরকারি সংস্থার কাছে আবেদন করে থাকেন তাহলে তাদেরকে প্রত্যাহারের বিষয়টি অগ্রাধিকারে নিতে হবে। অভিবাসন বিষয়ক দু’জন আইনজীবী অনলাইন স্লেট’কে বলেছেন, এই ক্যাটাগরির মধ্যে পড়েন মেলানিয়া ট্রাম্প। তিনি ভিসার নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। তিনি ভবিষ্যৎ ভ্রমণ ও আবাসিক সুবিধার জন্য আবেদন করার সময় ওইসব হঠকারিতা প্রকাশ করেননি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানুয়ারিতে অভিবাসন বিষয়ক যে নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন তার অধীনে মেলানিয়া ট্রাম্প ডিপোর্টেশনের বা দেশ থেকে বের করে দেয়ার মুখে পড়তেন। লিগ্যাল এইড সোসাইটির অভিবাসন আইন বিষয়ক ইউনিটের ডেপুটি এটর্নি ইনচার্জ হাসান শফিকুল্লাহ বলেছেন, ট্রাম্প যদি ১৯৯০-এর দশকে মেলানিয়ার যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ক্ষমতায় থাকতেন তাহলে ঝুঁকিতে পড়তেন মেলানিয়া। তার এ মন্তব্যে সায় দিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির অভিবাসন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ চেরিল ডেভিড।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ঢুকতে বাধা

সিএনএন ও আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে গতকাল শুক্রবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। একই প্রেস ব্রিফিংয়ে হাতে গোনা কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো। সিএনএনের খবরে জানানো হয়, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, পলিটিকো, বিবিসি ও গার্ডিয়ানের মতো বড় বড় পত্রিকা ও সংবাদ সংস্থাকে প্রেস ব্রিফিংয়ে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসারের কার্যালয়ে ওই প্রেস ব্রিফিং হয়। উল্লিখিত পত্রিকা ও সংবাদ সংস্থার কর্মীরা যখন স্পিসার্সের কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন, তখন জানানো হয়, তাঁরা অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় নেই। হোয়াইট হাউসের প্রেস পুলে একটি টেলিভিশন চ্যানেল, একটি রেডিও, একটি পত্রিকা ও কিছু সংবাদ সংস্থার সাংবাদিকদের অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এই প্রেস ব্রিফিংয়ে এনবিসি, এবিসি, সিবিএস ও ফক্স নিউজের মতো চার থেকে পাঁচটি বড় টেলিভিশন চ্যানেলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু সিএনএনকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসকেও ভেতরে যেতে দেওয়া হয়নি।
রক্ষণশীল মতাদর্শের গণমাধ্যম ব্রেইটবার্ট নিউজ, দ্য ওয়াশিংটন টাইমস ও ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্ককে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। এই আচরণের নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে সিএনএন বলেছে, ‘ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের এ ধরনের আচরণ মেনে নেওয়ার মতো নয়। দৃশ্যত, ট্রাম্পের অপ্রিয় সত্য খবর প্রকাশ করায় এ ধরনের প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হয়েছে। আমরা সংবাদ পরিবেশন চালিয়ে যাব।’ নিউইয়র্ক টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক ডিন বাকেটও এই আচরণের নিন্দা জানান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্ক টাইমসসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমকে বর্জন করায় আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে এ রকম ঘটনা এর আগে ঘটেনি।’ এপি, টাইম ম্যাগাজিন ও ইউএসএ টুডেও ওই ব্রিফিং বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ওয়াশিংটন পোস্ট, পলিটিকোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পরে ওয়াশিংটনের কাছে কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের ওপর আবারও ঝাল ঝাড়েন। তিনি বলেন, বেশির ভাগ সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা জনগণের শত্রু।

যুক্তরাষ্ট্রকে এক নম্বরে দেখতে চাই

আবারও নিজের দেশের পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভারে যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়েছে। এ অস্ত্রের মজুতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের এক নম্বরে থাকতে হবে।
গত ২০ জানুয়ারি শপথ নেওয়ার পর এবারই প্রথম ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রসম্ভার নিয়ে কথা বললেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে উত্তর কোরিয়া, ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, মারমুখী আচরণের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তায় যে হুমকির সৃষ্টি করছে, চীন উদ্যোগী হলে খুব সহজেই তার সমাধান সম্ভব। ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি সংঘাত নিরসনে ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান নীতি’র প্রতিও তিনি সমর্থন জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত এ নীতি থেকে তাঁর সরে যাওয়ার খবর নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের ভান্ডার আরও সমৃদ্ধ করার ব্যাপারে ট্রাম্প বলেন, তিনি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত একটি বিশ্ব দেখতে চান। এ কথা বলার পরই বলেন, ‘তবে পারমাণবিক শক্তির প্রশ্নে আমরা কোনো দেশের থেকেই পিছিয়ে থাকতে রাজি নই, এমনকি তা কোনো বন্ধুপ্রতিম দেশ হলেও।’ গত বছরের ডিসেম্বরে ট্রাম্প একটি টুইট করেছিলেন। এতে তিনি বলেছিলেন, গোটা বিশ্বে এ নিয়ে উপলব্ধি সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভার শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করা উচিত। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবেই ট্রাম্প ওই কথাগুলো বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী সংগঠন প্লাওশেয়ার্স ফান্ডের হিসাবে রাশিয়ার মজুতে ৭ হাজার পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে ৬ হাজার ৮০০টি। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, স্থলভিত্তিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্তার ঘটিয়ে রাশিয়া ১৯৮৭ সালের মার্কিন-রুশ চুক্তির লঙ্ঘন করেছে। উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করা এ সমস্যা সমাধানের অনেক উপায়ের একটি। তবে চীন চাইলেই খুব সহজে এ সমস্যার সমাধান করতে পারে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি ইস্যুতে ট্রাম্প বলেন, দুই রাষ্ট্র সমাধান নীতিতে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান সমস্যা নিরসনের পক্ষেই আছেন তিনি। তবে উভয় পক্ষ যে সমাধানে সন্তুষ্ট হবে, তেমন একটা সমাধান বের করতে পারলেই তিনি সবচেয়ে খুশি হবেন।
সময়ের আগেই দেয়াল উঠবে
মেক্সিকো সীমান্তে খুব শিগগির দেয়াল নির্মাণ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কংগ্রেসে (সিপিএসি) দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি পুরো বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করছেন না। কাজেই মার্কিন জনগণ তাঁর বিবেচনায় সর্বাগ্রে থাকবে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা দেয়ালটা নির্মাণ করছি। আসলে এর কাজ খুব শিগগির শুরু হবে। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই।’
হোয়াইট হাউসকে প্রত্যাখ্যান
ইউএসএ টুডে জানায়, রাশিয়ার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহযোগীদের যোগাযোগের যে খবর ছড়িয়ে পড়েছে, তা নাকচ করে দিতে হোয়াইট হাউসের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাসহ (এফবিআই) অন্যান্য গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। মার্কিন এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্পের সহযোগীরা রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছিলেন বলে চলতি মাসের প্রথম দিকে নিউইয়র্ক টাইমস দাবি করে। হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ রেইন্স প্রিবাস খবরগুলো নাকচ করে দিতে এফবিআইসহ অন্যান্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাঁর অনুরোধে সাড়া দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।

জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সদস্য রুমানা আহমেদের পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের একমাত্র মুসলিম সদস্য, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুমানা আহমেদ পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার দ্য আটলান্টিক পত্রিকার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক রচনায় রুমানা জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মুসলিম নিষিদ্ধকরণ’ ঘোষণার প্রতিবাদে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০১১ সালে বারাক ওবামার শাসনামলে রুমানা হোয়াইট হাউসে চাকরি গ্রহণ করেন। গত বছরের নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে অস্বস্তি বোধ করা সত্ত্বেও নিরাপত্তা পরিষদে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু আট দিনের বেশি তাঁর পক্ষে সে চাকরিতে থাকা সম্ভব হয়নি। ‘যে প্রশাসন আমাকে ও আমার মতো (মুসলিমদের) যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ভাবার বদলে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে,
সেখানে আমার পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়,’ আটলান্টিক পত্রিকায় লিখেছেন রুমানা। রুমানা আহমেদ বারাক ওবামার প্রশাসনে নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান বেন রোডসের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হোয়াইট হাউসের এই মুসলিম কর্মকর্তা প্রতিদিন হিজাব পরেই এই ভবনে প্রবেশ করতেন। রুমানা জানান, তিনি কেন পদত্যাগ করছেন, সে কথা নিরাপত্তা পরিষদের যোগাযোগ উপদেষ্টা মাইকেল এন্টনকে ব্যাখ্যা করে বলেন, ট্রাম্পের মুসলিম আগমন নিষিদ্ধ ঘোষণার পর কাজ চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে ওঠে। ‘আমি তাঁকে জানাই, (এই ঘোষণার পর) দেশের সবচেয়ে ঐতিহাসিক এই ভবনে প্রতিদিন প্রবেশ করা আমার জন্য রীতিমতো অপমানজনক হয়ে উঠেছে।’

জং–নাম হত্যায় বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সৎভাই কিম জং-নামকে উচ্চমাত্রায় বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান (ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট) দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার পুলিশ গতকাল শুক্রবার এ কথা বলেছে। কিম জং-নাম গত সপ্তাহে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর মারা যান। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, এর আগে দুই নারী তাঁর পিছু নিয়েছিলেন।
মালয়েশিয়ার বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন বলছে, গুপ্তঘাতকেরা জং-নামের ওপর প্রাণঘাতী ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগ করেছিল। এই রাসায়নিক উপাদানটিকে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ। জং-নাম হত্যাকাণ্ডে উত্তর কোরিয়া জড়িত বলে অনেকেই সন্দেহ করছেন। তবে দেশটি এমন অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করছে। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ জং-নামের লাশের ময়নাতদন্ত করায় পিয়ংইয়ং অসন্তোষ জানিয়েছে এবং এমন পদক্ষেপকে ‘দুরভিসন্ধিমূলক’ আখ্যা দিয়েছে। মালয়েশিয়ার পুলিশপ্রধান খালিদ আবু বকর বলেন, জং-নামের চোখ ও মুখমণ্ডল থেকে সংগৃহীত নমুনায় নার্ভ এজেন্টের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে এক নারীর কথাবার্তা হয়েছিল। তিনিও কিছুক্ষণ পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বমি করেন। কীভাবে ওই নিষিদ্ধ রাসায়নিক উপাদান মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করল, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। বস্তুটি যদি খুব সামান্য পরিমাণে আনা হয়ে থাকে, তা শনাক্ত করা কঠিন হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাত্র এক ফোঁটা ভিএক্স নার্ভ এজেন্টই জং-নামের স্নায়ুতন্ত্রকে দ্রুত বিকল করে দিয়েছিল। ফলে তাঁর শরীরে তাৎক্ষণিক কাঁপুনি হয় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনি মারা যান। সিসিটিভি ফুটেজের দৃশ্য অনুযায়ী এক নারী জং-নামের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাঁর মুখমণ্ডলে কিছু একটা ছড়িয়ে দেন। তখন তিনি বিমানবন্দরের চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে বলেন, তাঁর শরীরের কেউ তরল কিছু ছিটিয়ে দিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে অজ্ঞান হয়ে পড়েন জং-নাম। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
জং-নামের লাশ নিয়ে কুয়ালালামপুর ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ শুরু হয়েছে। মালয়েশিয়া বলছে, জং-নাম হত্যায় উত্তর কোরীয় গুপ্তচরদের যোগসাজশ স্পষ্ট। ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের একজন উত্তর কোরীয়। দেশটির পুলিশ আরও সাতজনকে খুঁজছে। তাঁদের মধ্যে একজন কূটনীতিকও রয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার প্রয়াত নেতা কিম জং-ইলের বড় ছেলে জং-নাম দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। একসময় তাঁকে দেশটির ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে মনে করা হতো। কিন্তু একপর্যায়ে তাঁকে ছাপিয়ে যান বর্তমান নেতা কিম জং-উন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা গত বৃহস্পতিবার বলেছে, তাদের একজন নাগরিকের মৃত্যুর জন্য মালয়েশিয়াই দায়ী। তারা ওই ব্যক্তির লাশ ফেরত দেওয়ার বিষয়টিতে রাজনৈতিক রং চড়ানোর চেষ্টা করছে। এদিকে প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরা গতকাল বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রায় পাঁচ হাজার টন রাসায়নিক অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। এসবের মধ্যে ভিএক্স নার্ভ এজেন্টও আছে।
ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট কী
 একধরনের তৈলাক্ত তরল, বাদামি স্ফটিক রঙের স্বাদ-গন্ধহীন
 মারাত্মক বিষাক্ত, প্রাণঘাতী গ্যাস হিসেবে কার্যকর
 বেশি পরিমাণে প্রয়োগ করলে খিঁচুনি, চেতনাহীনতা, পক্ষাঘাত এবং শ্বাসতন্ত্র বিকল হয়ে মৃত্যু হয়

দুতার্তের কড়া সমালোচক সেই নারী সিনেটর গ্রেপ্তার

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের বিতর্কিত ‘মাদকবিরোধী লড়াইয়ের’ কড়া সমালোচক নারী সিনেটর লেইলা ডি লিমাকে (৫৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরদিন গতকাল শুক্রবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা আখ্যা দিয়ে এ ঘটনার সমালোচনা করেছেন দুতার্তের ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা। সিনেটর লেইলা ডি লিমার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং আমি নিরপরাধ। দুতার্তের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণেই আমাকে হয়রানি ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’ প্রেসিডেন্টের ‘দমনপীড়নের’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন ডি লিমা।
মাদক পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিবাদী এ সিনেটরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। ডি লিমা সিনেটে তাঁর কার্যালয়ের বাইরে বলেন, ‘আমি যে কারণে যুদ্ধ করছি তার জন্য কারাবরণ করাটা সম্মানের ব্যাপার। আপনারা আমার জন্য প্রার্থনা করবেন। তারা আমার কণ্ঠরোধ করতে পারবে না।’ বৃহস্পতিবার পরোয়ানা জারির পরই গ্রেপ্তারের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন ডি লিমা। ওই রাতে পুলিশ হানা দিলে তিনি রাতটুকু সময় চান। সারা রাত সিনেটে থাকার পর গতকাল সকালে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। ধরা দেওয়ার আগে একটি ভিডিও বার্তা রেকর্ড করেন সিনেটর। সেখানে তিনি ফিলিপাইনের জনগণকে দুতার্তের ‘মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের’ প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। কয়েক দিন আগেই দুতার্তেকে একজন ‘সিরিয়াল কিলার’ আখ্যায়িত করে তাঁকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন ডি লিমা। গত মঙ্গলবার তিনি বলেন, তাঁর মুখ বন্ধ করার জন্য সরকার মাদকসংক্রান্ত মামলা করেছে। ডি লিমা দেশটিতে ‘পিপল পাওয়ার রেভল্যুশন’-এর ডাকও দেন। এ ধরনের গণ-অভ্যুত্থানের জেরেই তিন দশক আগে স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোসের পতন হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিদ্বেষপ্রসূত হামলায়’ ভারতীয় নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার একজন ভারতীয় নাগরিককে গুলি করে হত্যা ও আরেকজনকে আহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার এক পানশালায় সংঘটিত এ ঘটনাকে সম্ভাব্য বিদ্বেষপ্রসূত হামলা হিসেবে তদন্ত করছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। ক্যানসাসের জনসন কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি স্টিফেন হাউয়ি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অ্যাডাম পিউরিনটন নামের এ হামলাকারীর বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একজনকে হত্যা ও একইভাবে দুজনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। গুলিতে নিহত ভারতীয় হলেন শ্রীনিবাস কুচিভটলা (৩২)। তাঁর আহত বন্ধু অলোক মাদাসানি।

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ ‘শিগগিরই’: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘নির্ধারিত সময়ের আগেই, শিগগিরই’ মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণকাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রক্ষণশীলদের নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প এ প্রতিশ্রুতি দেন। শুক্রবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কংগ্রেসে (সিপিএসি) দেওয়া ভাষণে মার্কিন নাগরিকদের প্রথমে রাখা এবং ‘বিশাল, বিশাল সীমান্ত দেয়াল’ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। এ ছাড়া তিনি ‘বাজে লোকদের এই দেশ থেকে দূরে রাখার’ ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
মেরিল্যান্ডে আয়োজিত ওই কংগ্রেসে দেওয়া ওই ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা দেয়াল নির্মাণ করছি। মূলত আমরা নির্ধারিত সময়ের আগেই খুব শিগগিরই কাজ শুরু করতে যাচ্ছি।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রধান জন কেলির মেক্সিকো সফরে একদিন পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘শিগগিরই’ দেয়াল নির্মাণকাজ শুরু করার এই ঘোষণা দিলেন।

চকরিয়ায় মাইক্রোবাস উল্টে নিহত ৪

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় মাইক্রোবাস উল্টে চারজন নিহত হয়েছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার পরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম খানের ভাষ্য,
মাইক্রোবাসটি কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। গয়ালমারা এলাকায় এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। হাইওয়ে পুলিশ মাইক্রোবাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। বাসের চালককে পাওয়া যায়নি। লাশগুলো চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।

ঢাকার বংশালে দুর্ঘটনায় মেডিকেল ছাত্রী নিহত

রাজধানীর বংশাল থানার নর্থসাউথ রোড এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ওই ছাত্রীর মা। আজ শনিবার সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাত্রীবাহী একটি বাস ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অটোরিকশায় ওই ছাত্রী ও তাঁর মা ছিলেন। নিহত ছাত্রীর নাম সাদিয়া হাসান (২২)। তাঁর মায়ের নাম শাহীনা সুলতানা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাদিয়া ও তাঁর মা রাজশাহী থেকে ট্রেনে কমলাপুর স্টেশনে আসেন।
সেখান থেকে অটোরিকশায় করে তাঁরা সাদিয়ার হোস্টেলে যাচ্ছিলেন। সাদিয়া ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ছাত্রী ছিলেন। হাসপাতালে সাদিয়ার মা শাহীনা জানান, আল রাজ্জাক হোটেলের সামনে যাত্রীবাহী একটি বাস অটোরিকশায় ধাক্কা দেয়। আহত অবস্থায় মা-মেয়েকে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। মা চিকিৎসা নিয়েছেন। সাদিয়ার লাশ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রয়েছে। হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জঙ্গিরা ভিনগ্রহের প্রাণী নয়, আমাদেরই সন্তান

তিউনিসিয়ান বংশোদ্ভূত বেলজিয়ামের নাগরিক সালিহা বেন আলী একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন তাঁর ১৭ বছরের ছেলে সাবরি বেন আলীর বিছানাটা খালি। এরপর তিনি জানলেন ছেলে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে সিরিয়া গেছে। চার মাস পরই তিনি জানলেন ছেলে মারা গেছে। সালিহা ভেঙে পড়েননি। উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়তে গোটা পৃথিবীই চষে বেড়াচ্ছেন। সম্প্রতি এসেছিলেন বাংলাদেশেও। ১৫ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডির একটি প্রতিষ্ঠানে এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে প্রথম আলোকে সাক্ষাৎ​কার দেন তিনি। সাক্ষাৎ​কার নিয়েছেন গোলাম মর্তুজা
প্রথম আলো: সাবরি কীভাবে নিখোঁজ হলো?
সালিহা: ২০১৩ সালের আগস্টে এক সকালে উঠে দেখলাম ও বিছানায় নেই। তার আগের দিন বিকেলে ও আমার কাছে অনুমতি চেয়েছিল এক বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য। আমি বলেছি, তুমি যেতে পারো। এখন আমার মনে হয়, সে আসলে জঙ্গিবাদে যুক্ত হওয়ার জন্য আমার কাছে এভাবে অনুমতি আদায় করেছে। স্কুল ছাড়ার পর থেকে ও নিজেকে বঞ্চিত মনে করত।
প্রথম আলো: ওই বয়সে সাবরি কেন স্কুল ছাড়ল?
সালিহা: সাবরি হোটেল ম্যানেজমেন্টে পড়ত। পড়াশোনার শেষ পর্যায়ে ছিল। একদিন সাবরি বলল, সে ওই প্রতিষ্ঠানে পড়তে চায় না, কারণ তাদের দুজন শিক্ষক বর্ণবাদী (রেসিস্ট)। তাই তার জন্য ওখানে পড়াশোনা করা কঠিন। এরপর সে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খোঁজ করছিল। আমি আর তাঁর দুজনেই তাকে স্কুল ছাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। আমরা বললাম, বসে না থেকে তুমি স্বেচ্ছাশ্রম বা কোনো উপার্জনমূলক কাজ করো। কিন্তু সে ভালো কোনো কাজ পাচ্ছিল না। কারণ, বেলজিয়ামে উচ্চ ডিগ্রি ছাড়া আমাদের মতো তিউনিসিয়ান বা মরক্কোর লোকেরা ভালো কাজ পায় না। তখন সাবরি ময়লা পরিষ্কারের (গার্বেজ ম্যান) কাজ নেয়। ওই কাজে কঠিন পরিশ্রম। হতাশ হয়ে সাবরি আমাকে বলেছে, মা, আমি তিনটি ভাষা জানার পরও ভালো কাজ পাচ্ছি না। তাঁর প্রতিবেশী বন্ধুরা বলেছে, দেখো, তুমি স্কুলে ভালো ফল করার পরেও তোমাকে সমাজ গার্বেজ ম্যান বানিয়েছে। ও সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু পারেনি। কারণ, তার কোমরে সমস্যা ছিল। এরপরে সে পাচক বা প্রশাসনিক কাজ বেছে নিতে চায়। সে দমকল বাহিনীতেও যোগ দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনোটাই হয়নি। বেশ কিছু ব্যর্থতা তাঁর আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিয়েছিল। এ সময়ই সে কিছু লোকের সঙ্গ পায়, যারা তাকে একজন ভালো মুসলিম হওয়ার জন্য উৎসাহিত করে। এরপর সে ইসলাম কী, তা বুঝতে স্থানীয় মসজিদের ইমামের কাছে যায়। ইমামের সঙ্গে ভাষাজনিত সমস্যার কারণে যোগাযোগ সফল হয়নি, ইমাম তাঁকে সময়ও দেয়নি। পরে সে ইন্টারনেটে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এ সময় তার সঙ্গে একজন ধর্মান্তরিত মুসলমানের পরিচয় হয়। তার নাম জাঁ লুইদানি। আর ইউরোপের এই ধর্মান্তরিত মুসলিমরা সবচেয়ে ভয়ংকর জঙ্গিতে পরিণত হয়েছিল। ও-ই তাকে উগ্রবাদের দীক্ষা দেয়।
প্রথম আলো: অ-ইউরোপীয় হওয়ায় বঞ্চনা, বর্ণবাদের শিকার হওয়ার কারণে কি মুসলিমরা জঙ্গিবাদে উৎসাহিত হচ্ছে? আপনি কী ভাবেন?
সালিহা: বিষয়টা এ রকম না-ও হতে পারে। ইউরোপে অনেকেই জঙ্গিবাদে যুক্ত হয়েছে যারা আরব বংশোদ্ভূত নয়। এটা আদর্শ বা ধর্মের জন্য নয়। তারা তরুণদের মৃত্যুর পরের অসীম সুখময় জীবনের লোভ দেখাচ্ছে। ওই তরুণেরাও জীবনে আরও ভালো কিছু করতে চায়। আর তরুণদের কাছে সংঘাতটা বেশি আকর্ষণীয়। তাদের বোঝানো হচ্ছে, এ পথে গেলে তুমি রাতারাতি জিরো থেকে হিরো হয়ে যাচ্ছ। তরুণেরা ভাবে, আজকে যে কিছুই না, রাতারাতি সে কিছু একটা হয়ে যাবে।
প্রথম আলো: ছেলে চলে যাওয়ার পর প্রথম দিনটিতে আপনি কী করলেন?
সালিহা: আমি তার বন্ধুদের ফোন করে জানতে চাইলাম তারা সাবরির খোঁজ জানে কি না। তাঁর বন্ধুরা জানাল, কয়েক সপ্তাহ ধরেই তারা সাবরিকে দেখে না। সে যে মসজিদে যাওয়ার কথা বলত, তখন জানলাম আসলে সে মসজিদে যেত না। আমি ও আমার স্বামী পুলিশের কাছে গেলাম। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম।
প্রথম আলো: পুলিশের কি কোনো উদ্যোগ ছিল?
সালিহা: তারা (পুলিশ) খুবই সহানুভূতিশীল ছিল। তারা বলল, হয়তো আপনার ছেলে তার মেয়েবন্ধুর সঙ্গে আছে বা কোথাও মদ্যপান করতে গেছে। আমি বললাম, আমার ছেলের কোনো মেয়েবন্ধু নেই এবং সে মদ্যপান করে না। সে সিরিয়ায় যেতে পারে বলে আমাদের শঙ্কার কথা পুলিশকে জানালাম। পুলিশ জানাল, তাকে নিখোঁজ হিসেবে ঘোষণা করতে হলে অন্তত দুদিন অপেক্ষা করতে হবে। বাসায় ফিরে আমরা প্রতিবেশীদের কাছেও খুঁজলাম। আমরা দুদিন বাসায় থাকলাম। এর মধ্যেই আমার ছেলের এক বন্ধু বলল, সাবরি সিরিয়ায় গেছে, তার নাম তালিকায় আছে। আমি বললাম, আমাকে সেই তালিকাটা দাও। যে লোকটা তালিকাটা বানিয়েছে তার নাম খালিদ জারকানি, সে এখন ৩০ বছরের সাজা ভোগ করছে। সে একজন পেশাদার (উগ্রবাদে) নিয়োগকারী। অন্য দুই তরুণকে জঙ্গিবাদে নিয়োগের অপরাধ সাব্যস্ত হওয়ায় তাঁর পৃথকভাবে দুটি ঘটনায় ৩০ বছরের সাজা হয়েছে। এরপর আমাদের কেবল অপেক্ষাই করার ছিল। চার দিন পর আমরা ফেসবুকে আবু তোরাব নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি বার্তা পেলাম। সেই আবু তোরাব জানাল, সে-ই আমার ছোট্ট ছেলে সাবরি, সিরিয়ায় গিয়ে নাম পাল্টেছে। আমি প্রশ্ন করলাম, তুমি কোথায়? সে বলল, ‘মা, দুঃখিত হয়ো না, পাগল হয়ো না। আমি সিরিয়ায়। সিরিয়ার মানুষকে সাহায্য করতে এসেছি। বেহেশতে আমাদের দেখা হবে।’
প্রথম আলো: সাবরি চলে যাওয়ার পরে আপনার প্রতিবেশী ও স্বজনদের প্রতিক্রিয়াটা কেমন ছিল?
সালিহা: অনেক প্রতিবেশী বলছে তুমি তোমার ছেলেকে ভুল শিক্ষা দিয়েছ। স্থানীয় বেলজিয়ানদের কেউ বলেছে, তোমাদের (ইসলাম) ধর্মেই জিহাদের উল্লেখ রয়েছে। আবার কেউ বলেছে, তুমি শহীদের মা, জীবন শেষ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরো। অপেক্ষা করো। আর কিছু ঘনিষ্ঠ ও পরিচিত লোক আমাকে এমনভাবে এড়িয়ে চলা শুরু করল যেন আমার কোনো সাংঘাতিক ছোঁয়াচে রোগ হয়েছে।
প্রথম আলো: সিরিয়ায় যাওয়ার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল? সে সেখানে যা করতে গিয়েছিল, তা করতে পেরেছিল কি?
সালিহা: আমার ছেলেটির এক বন্ধু সিরিয়ায় গিয়ে আবার বেলজিয়ামে ফেরতও আসে। সাবরি তাকে বলেছে যে, সে মা-বাবার কাছে ফিরে যেতে চায়। কারণ, এখানে (সিরিয়ায়) অনেক অনৈসলামিক কার্যকলাপ বা ফিতনা চলছে। তারা জানে না তাদের শত্রু কারা। এখানে একদল মানুষ অন্য দলগুলোর ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। সাবরি তার বন্ধুকে বলেছে, শিয়ারাও মুসলমান, তাদের হত্যা করা ঠিক নয়। এসব কারণে সে ফিরে আসতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি। ফেরার ইচ্ছা পোষণ করার দুই সপ্তাহ পরই ডিসেম্বরে (২০১৩ সালের) সে নিহত হয়।
প্রথম আলো: সে কীভাবে নিহত হলো?
সালিহা: আমরা আসলে জানি না। কেউ বলেছে, সে ইরাকে বোমা হামলা চালাতে গিয়ে মারা যায়। তার যে বন্ধুটি ফিরে এসেছে সে বলেছে, সাবরি সম্মুখযুদ্ধের সময় মারা গেছে। ডিসেম্বরে কেউ একজন সাবরির বাবাকে ফোন করে বলল, আপনি আবু তোরাবের বাবা? আমার স্বামী বলল, আমার ছেলের নাম সাবরি। ফোনের ওই লোকটি তখন বলল, ‘আপনাকে অভিনন্দন, আপনার ছেলে শহীদ হতে পেরেছে।’
প্রথম আলো: এত বড় একটা আঘাতের পর আপনি কী করে এই প্রচারণামূলক কাজটা শুরু করলেন?
সালিহা: আমি ক্যাথলিক অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি এনজিওর পরিচালক হিসেবে কাজ করতাম। এনজিওটি শিশু শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করে। সাবরিকে হারিয়ে আমি সমাজকর্মীর মতো চিন্তা করা শুরু করি। আমার মনে হলো বিষয়টি নিয়ে আমাদের কথা বলা উচিত, সচেতনতা বাড়ানো উচিত। পরিবারগুলোকে উগ্রবাদের ধরন ও লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করলাম। কারণ, যখন থেকে সাবরির মধ্যে পরিবর্তন শুরু হলো, তখন থেকেই আমি বলতাম, এটা কী ইসলাম। এটা ইসলাম কি না, বিষয়গুলো আলোচিত হওয়া উচিত। আমি মানুষকে আমার উদ্বেগের বিষয়ে জানালাম। তাদের প্রকৃত মুসলিম হওয়ার বিষয়গুলো বললাম। আমি বুঝলাম যে আমি একা সব মানুষকে ব্যাখ্যা দিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারি না। তাই আমি আমার মতো অন্য পিতা–মাতার সঙ্গে দেখা করলাম। আমরা পিতা–মাতাদের দল গঠন করলাম। যেখানে আমরা আমাদের আঘাত, বেদনা ও সবাই যেন সুবিচার পাই এসব বিষয়ে কাজ করতাম। তখন অবস্থাটা এ রকম যে আমার পরিবারের গল্পগুলোও সবাই শুনতে চাইত না। কিন্তু আমি বারবারই আমার ছেলে সাবরির নাম উচ্চারণ করতাম। ওটা আমার জন্য জরুরি ছিল। আমার কোনো কোনো স্বজন বলল, তুমি দয়া করে সাবরির নাম নিয়ো না, এতে তোমার কষ্ট বাড়বে। আর তুমি ঘরের চারদিকে ছেলের ছবি লাগিয়ে কীভাবে তাকে ভুলে থাকার আশা করো। আমি বলছি, আমি তাকে ভুলতে চাই না। আমি তাকে সর্বত্রই রাখতে চাই। কখনো কখনো পরিবারের লোকও ঠিকমতো বুঝতে পারে না। তখন আমরা একটা দল করলাম। আমরা রাজনীতিবিদ, এনজিও, মিউনিসিপ্যালিটিসহ সব জায়গায় গেলাম। জানালাম আমাদের দেশে একটি বড় সমস্যা এসেছে। স্কুলগুলোতে বাজে শিক্ষাব্যবস্থা বৈষম্যের তৈরি করছে। ইসলামভীতির মতো আরও অনেক বিষয় তৈরি হচ্ছে।
প্রথম আলো: জঙ্গিবাদের শিকার পরিবারগুলোর জন্য আপনার বার্তা কী?
সালিহা: আপনারা ভাববেন না সেই বাচ্চাগুলোর জন্য আপনারা একাই দায়ী, নিজেদের অপরাধী ভাববেন না। এর জন্য আমরা সবাই দায়ী। ওরা এ সমাজেরই সন্তান। এখনই আপনাদের উচিত অপরাধী মনোভাব ঝেড়ে সমাজের জন্য কিছু করতে মাঠে নামা। এখন আপনি অন্যদের সন্তানদের জন্য কিছু করতে পারেন, যাতে অন্য পরিবারগুলোর একই পরিণতি না হয়।
প্রথম আলো: এসব ক্ষেত্রে সবাই মুখ লুকাতে চায়, আপনি কেন নিজেকে প্রকাশ করছেন, ছেলের ছবি সবাইকে দেখাচ্ছেন?
সালিহা: মানুষকে মুখ না দেখালে মানুষের ধারণা হয় সবাই একটা দানবের বিষয়ে কথা বলছে। আইএসে কারা যায়? এরা কোনো ভিনগ্রহের প্রাণী নয়। এরা আপনার-আমার যে কারোরই ছেলে হতে পারে। আজ আমি এর শিকার হয়েছি, কাল এর শিকার হতে পারেন আপনিও। তাই আমি সব সময় আমার ও ছেলের ছবিটা সবাইকে দেখাতে চাই। দেখো আমার ছেলেটা কোনো দানব নয়। সে হাসিখুশি, দেখতে সুন্দর একটা হ্যান্ডসাম ছেলে। এই ইস্যুটার একটা মানবীয় চেহারা দেওয়া খুবই জরুরি। তাই আমি বলি, কথা বলুন, আপনাদের মুখ দেখান।
প্রথম আলো: বাংলাদেশের এ পরিস্থিতিতে জঙ্গিবাদ রোধে সরকারের কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
সালিহা: শুধু নিরাপত্তার পরিপ্রেক্ষিত থেকে দেখলেই হবে না। পুরো বিষয়টা পুলিশি নয়। সামাজিক ক্ষেত্র, শিক্ষা ও তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে হবে। পুলিশ ছাড়াও বাংলাদেশ সরকারের কাছে বার্তা পৌঁছানোর বিকল্প মাধ্যম থাকতে হবে যেখানে মানুষ নিজেদের সমস্যা ও সংশয়ের বিষয়গুলো মন খুলে জানাতে পারে। পুলিশ তাদের সর্বোচ্চটাই করছে। তারপরও আমাদের একটা হেল্পলাইন নম্বর দরকার, যাতে মানুষ কোনো ছেলেমেয়ের মধ্যে জঙ্গিবাদের কোনো চিহ্ন দেখামাত্রই সাহায্য চাইতে পারে। সমাজকে বলতে হবে, তারা যেন তরুণ ও শিশুদের সময় দেয়। আর গণতন্ত্রের চর্চাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি এখানে রোহিঙ্গাদের কথা শুনেছি। এটা আপনাদের আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। তাই এখন তোমাদের গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সঠিক পথটা দেখানোর।

পদচারী–সেতুর চলন্ত সিঁড়ি ১০ দিন ধরে বন্ধ

পরিচালনাসংক্রান্ত ঝামেলায় ১০ দিন ধরে বন্ধ আছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের নতুন পদচারী-সেতুর চলন্ত সিঁড়ি। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে চলন্ত সিঁড়িটি বন্ধ করে দিয়েছে এর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হরাইজন্টাল টেকনো লিমিটেড। ফলে রাস্তা পারাপারে ভোগান্তিতে পড়েছে পথচারীরা। হরাইজন্টাল টেকনোর সহকারী ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে আটলান্টিক মেরিন এবং তাদের কাছ থেকে ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জ মালিকানা কেনে। আমাদের সঙ্গে পরিচালনা বিষয়ে কোনো চুক্তি নেই। উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিজস্ব লোকবল দিয়ে নিজেদের খরচে আমরা চলন্ত সিঁড়িটি পরিচালনা করে আসছি।’ আহসান হাবিব আরও বলেন, ‘আটলান্টিক মেরিন এবং ডকইয়ার্ডের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। চলন্ত সিঁড়িটি বুঝে নিতে এবং সেটি তাদের লোকবল দিয়ে পরিচালনা করতে অনুরোধ জানানো হয়। একাধিকবার চিঠি দেওয়ার পরও তারা বুঝে নেয়নি। সিটি করপোরেশনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে এত দিন পরিচালনা করে আসছি। এ মাসে সিটি করপোরেশন, ডকইয়ার্ড এবং আটলান্টিক মেরিনকে চিঠি দিয়ে জানাই যে আমরা আর পরিচালনা করতে পারছি না।’ সেতুটির সহকারী নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান আটলান্টিক মেরিনের পরিচালক নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘চলন্ত সিঁড়িটি যারা পরিচালনা করে সেই অপারেটরদের বিল হরাইজন্টাল টেকনো সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে পায়নি, তাই তারা এটি বন্ধ করে দিয়েছে। হরাইজন্টালকে অনুরোধ করেছিলাম জনগণের সুবিধার্থে সেতুটি বন্ধ না করার জন্য, কিন্তু তারা অপেক্ষা না করেই বন্ধ করে দিয়েছে।’
গতকাল শুক্রবার দেখা যায়, চলন্ত সিঁড়িটি বন্ধ থাকায় লোকজন ঝুঁকি নিয়ে সেতুর নিচ দিয়ে পার হচ্ছে। কেউ হাত উঁচিয়ে, কেউ যানবাহনের সামনে দিয়ে দৌড়ে পার হচ্ছে। বেপরোয়াভাবে সড়ক পার হওয়ায় যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিমানবন্দর এলাকার ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) আবদুল আলীম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সেতুটি চালুর পর থেকে মাঝেমধ্যেই বন্ধ থাকে। লোকজন আগের মতোই নিচ দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। লোকজন নিচ দিয়ে পার হওয়ায় রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। চলন্ত সিঁড়ির বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ১৭ আগস্ট এটি উদ্বোধনের দিনই সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর থেকে পরিচালনার দায়িত্ব তাদের। কিন্তু তারা পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছে না এবং পরিচালনার জন্য যে ব্যয় হচ্ছে, সেটিও বহন বা পরিশোধ করছে না। চলন্ত সিঁড়ির চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে ১৪ তারিখ রাতে জানানো হয় লিফট বন্ধ রাখতে। এরপর ১৫ তারিখ সকাল থেকে লিফট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। লিফটের কোনো সমস্যা নেই। আমারে এখন চালু করে দেখাতে বলেন, চালু কইরা দিমু।’ এ বিষয়ে জানতে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তা ধরেননি। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে জানা ছিল না। কাল (আজ শনিবার) এটি চালু করার ব্যবস্থা করা হবে।’

সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ের সামনের ফুটপাতই দখলে

ফুটপাতের অবৈধ দোকান উচ্ছেদের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। কিন্তু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আঞ্চলিক কার্যালয়-৪-এর সামনের এবং আশপাশের ফুটপাতে শতাধিক দোকান গড়ে উঠেছে। স্থানীয় কাউন্সিলরের লোকজন এসব দোকান থেকে নিয়মিত টাকা নেন বলে দোকানদারেরা অভিযোগ করেছেন।
সড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দখল সরিয়ে নিতে একাধিকবার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন। ডিএনসিসির পাঁচটি অঞ্চলের কর্মকর্তারা মাঝেমধ্যেই অবৈধ হকার উচ্ছেদে এলাকাভিত্তিক অভিযান চালান বটে, কিন্তু তাতে অবস্থার বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। গতকাল শুক্রবার দেখা যায়, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে ডিএনসিসির আঞ্চলিক কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অনেক অবৈধ দোকান। পানিনিষ্কাশনের নালার ওপরে বাঁশের মাচা দিয়ে বানানো এসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে প্যান্ট, শার্ট, জুতা। দোকানিদের ফেলা পলিথিন ও ময়লা-আবর্জনায় নালা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্য দিয়ে নাক চেপে, মুখ ঢেকে চলাচল করছেন সাধারণ পথচারীরা। ফুটপাত দখল হওয়ায় কেউ কেউ মূল সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছেন। ব্যস্ত সড়কে যানবাহনের পাশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এই পথে নিয়মিত চলাচলকারী আবদুল মান্নান বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। তাদের অফিসের আশপাশের ফুটপাতই দখলমুক্ত রাখতে পারে না, পুরো ঢাকা দখলমুক্ত করবে কীভাবে। সিটি করপোরেশনের লোকজন না চাইলে তো এভাবে দোকান বসতে পারার কথা না। ডিএনসিসির আঞ্চলিক কার্যালয়সংলগ্ন মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট হয়ে হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পর্যন্ত মূল সড়কের ফুটপাত দখল করেও গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকান। এসব দোকানের কারণে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চলাচলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অবৈধ হকারদের দখলে থাকা ফুটপাত দেখে মনে হয় মার্কেট। এই এলাকায় আছে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এভাবে ফুটপাতে দোকানপাট বসায় বিরক্ত শিক্ষার্থীরা। গত বছর ডিএনসিসির আঞ্চলিক কার্যালয়ে মেয়রের সঙ্গে মতবিনিময়ে একাধিক শিক্ষার্থী ফুটপাতের এসব দোকানপাটের কারণে তাদের চলাচলে সমস্যার কথা জানায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত পাঁচজন দোকানদার বলেন, মেয়র আনিসুল হকের মিরপুরে আসার তারিখ নির্দিষ্ট থাকলে ডিএনসিসির কর্মচারীরা ওই দিন সকালে দোকান খুলতে মানা করেন। পরের দিন থেকেই আবার দোকান বসে যায়। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নাম বলে টাকা তোলা হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম বলেন, মিরপুর ১০ নম্বর থেকে মূল সড়কের ফুটপাত দখল করে যেসব দোকান বসেছে, সেগুলো কয়েক দিন পরপর উচ্ছেদ করা হয়। তুলে দেওয়ার কয়েক দিন পরই দখলকারীরা আবার চলে আসে। তবে হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে লোকজনের চলাচলে বাধা হয় না—এমনভাবে শতাধিক হকারকে পরীক্ষামূলকভাবে বসতে দিয়েছে সিটি করপোরেশন। ডিএনসিসির মেয়র সড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দখল সরিয়ে নিতে একাধিকবার নির্দেশ দিলেও কাজ হয়নি। হকারমুক্ত করতে ব্যর্থ হয়ে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট দিনে ও স্থানে হলিডে মার্কেট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ হলিডে মার্কেট বসানোর জায়গা এখনো নির্ধারণ করতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মিরপুরের অনেক এলাকায় গ্যাস ছিল না

মিরপুরের অনেক স্থানেই গত বৃহস্পতিবার গ্যাস ছিল না। বুধবার রাতে বিভিন্ন স্থানে গ্যাস না থাকার কথা মাইকে প্রচার করা হয়। তবে যেসব এলাকায় প্রচার করা হয়নি, সেসব স্থানেও গ্যাস ছিল না বলে বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। সন্ধ্যার আগেই গ্যাস আসার কথা বলা হয়, কিন্তু মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনসহ অনেক এলাকার বাসাবাড়িতে রাত নয়টায়ও চুলায় পুরো আঁচ ছিল না। এলাকা ঘুরে এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিতাস গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানি জানায়, অনিবার্য কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পাইপ লাইন সংস্কারের জন্য মিরপুর ১০ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুপাশের কিছু এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে আট ঘণ্টা গ্যাস না থাকার ঘোষণা ছিল। তবে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জানা যায়, অনেকেই মাইকিং শুনতে পাননি। আবার অনেক এলাকায় আদৌ মাইকিং হয়নি, অথচ দিনভর গ্যাস ছিল না। পূর্ব প্রস্তুতি না থাকায় এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দা বড় ধরনের সমস্যায় পড়েন। অনেকে হোটেল থেকে খাবার সংগ্রহ করেন। কোনো কোনো বাসিন্দা বিকল্প ব্যবস্থায় রান্না করেন। মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকায় মাইকে গ্যাস না থাকার কথা প্রচার করা হয়। কিন্তু ১৪ নম্বরের কাফরুল থানার বিপরীত দিকে রোটারি স্কুলের আশপাশের এলাকায় বাসিন্দারা জানান, সেখানে প্রচার হয় না। তাই সকাল থেকে গ্যাস না থাকায় বিপাকে পড়তে হয় অনেক পরিবারকে। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ নির্মিত ৩০টিরও বেশি বহুতল ভবন রয়েছে সেখানে। একটি ভবনের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা পারভিন সুলতানা বলেন, সকালে চা করার পরই চুলায় আঁচ কমতে থাকে। ১০টার দিকে একেবারেই চলে যায়। আগের রাতের ঠান্ডা ভাত ছিল ফ্রিজে।
পানি দিয়ে ‘পান্তা’ হিসেবে স্বামী ও এক সন্তানকে নিয়ে খেয়েছেন। অপর একজন গৃহিণী রীতা সাহা রাইস কুকারে ভাত আর আলু সেদ্ধ করে দুপুরে কোনোভাবে খাওয়ার কাজ সম্পন্ন করেন। কিন্তু রাত আটটার পরও চুলায় আগুন জ্বলেনি। গতকাল শুক্রবারও একই অবস্থা হবে, এমন আশঙ্কায় তিনি ভোরে উঠেই মাছ-ভাত রান্না করেন বলে জানান। অপর একটি বহুতল ভবনের মালিক খায়রুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে চা চাইলে তাঁর স্ত্রী জানান, চুলা জ্বলছে না। পরে নাশতা এবং দুপুরের খাবারও তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তিনি এলাকার একটি হোটেল থেকে খাবার সংগ্রহ করেন। তবে গ্যাস না থাকায় এবং বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেক হোটেলেও রান্না হয়নি বলে জানা গেছে। পূর্ব শেওড়াপাড়ার অনেক বাড়িতে গ্যাস না থাকার অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। তবে সেখানে মাইকে প্রচার হয়েছে। কাজীপাড়ার ইটখোলা বাজার এলাকায় গ্যাসের অভাবে বড় সমস্যায় পড়েন এলাকাবাসী। বিকল্প উপায়ে রান্নাবান্না করছেন বাসিন্দারা। গ্যাসের স্বল্প চাপের জন্য অনেক বাড়িতে কেরোসিনের চুলা (স্টোভ) কেনা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার গ্যাস না থাকায় সেসব চুলার ব্যবহার হয় বলে জানা গেছে। যোগাযোগ করা হলে তিতাস গ্যাস কোম্পানির জরুরি নিয়ন্ত্রণ বিভাগ থেকে বলা হয়, ভূগর্ভস্থ গ্যাস পাইপ সংস্কার করতে গিয়ে কিছু সরবরাহ পাইপ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর প্রভাব অন্য এলাকায়ও পড়ে থাকতে পারে। তবে যথাসম্ভব চেষ্টা করা হয়েছে মাইকিং করে বা সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রচার করার।

গাবতলী বাস টার্মিনালে হকারদের দৌরাত্ম্য, পরিবেশ নোংরা

গাবতলী বাস টার্মিনালে অবৈধ দোকান ও হকারদের দৌরাত্ম্য কমেনি। বিশ্রাম ও টয়লেট-সুবিধায় যাত্রীরা সন্তুষ্ট হলেও মালপত্র নিয়ে টানাটানিতে তাঁরা বিরক্ত। আর টার্মিনালের পরিবেশও খুব নোংরা। রাজধানীর অন্যতম বড় বাস টার্মিনাল গাবতলীতে। এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার বাস চলাচল করে। গতকাল শুক্রবার দেখা যায়, গাবতলী টার্মিনালের সামনের ও ভেতরে স্থায়ী দোকানগুলো ছাড়াও অনেক অবৈধ দোকান ও হকার বসেছেন। ভেতরে চলার পথের পাশেই তাঁরা বসেছেন নানা পসরা সাজিয়ে। মো. হাসান নামের এক হকার টার্মিনালে ঢোকার মুখেই জুতার দোকান নিয়ে বসেছেন। অনুমতির বিষয়ে বলেন, অনুমতি লাগে না। মাঝে কর্তৃপক্ষ এসে তুলে দেয়, কিন্তু তেমন ঝামেলা হয় না। তবে হাসান আরও বলেন, অনেক কুলিই এখানে হকার হিসেবে বসেন বা অন্য লোক দিয়ে বসান। বাস এসে থামলেই যাত্রীদের মালামাল নিয়ে কুলিদের টানাটানি শুরু হয়ে যায়। নির্দিষ্ট মজুরির হারও মানা হয় না। আয়নাল হক নামের এক যাত্রী বলেন, ‘ভিড় একটু বেশি থাকলে ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া শুরু হয়। মজুরির তালিকা থাকলেও ওরা বেশি চায়।’ আরও কয়েকজন যাত্রী বলেন, আগে বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারের লোকজন টানাহেঁচড়া করত। এখন কিছুটা কমেছে। তবে ঈদের সময় তাদের তৎপরতা বেড়ে যায়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ ২০১৪ সালে এ টার্মিনালে একটি টয়লেট নির্মাণ করা হয়। গতকাল দেখা যায়, শৃঙ্খলা মেনেই সবাই এটি ব্যবহার করছেন। ভেতরে পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধ না থাকায় যাত্রীরা সন্তুষ্ট। এ ছাড়া মেয়েদের জন্য এখানে স্যানিটারি ন্যাপকিন-সুবিধা আছে। একটি ন্যাপকিন ১০ টাকা। টয়লেটের টিকিট বিক্রেতা রুমি আক্তার বলেন,
প্রতিদিন এখানে পাঁচ শ মানুষ আসে। তবে বুধ ও বৃহস্পতিবারে বেশি ভিড় হয়। বিশ্রামাগার নিয়েও যাত্রীদের অসন্তোষ নেই। দেখা গেল পুরো টার্মিনাল আবর্জনায় ভর্তি। খাবারের প্যাকেট, ফলের খোসা, সিগারেটের প্যাকেট, ছেঁড়া টিকিট ছড়ানো-ছিটানো। ভ্যানপট্টি নামের জায়গায় বানানো কাউন্টারগুলো ব্যবহার হচ্ছে না। ভাঙা আসবাব ফেলে রাখা। ভবঘুরেরা ঘুমাচ্ছে। এই অংশটি বেশি নোংরা। বিভিন্ন জায়গায় আবর্জনার স্তূপ হয়ে আছে। টার্মিনালের দেয়ালঘেঁষা ফুটপাত ব্যবহারের অনুপযোগী। মানুষ প্রস্রাব করছে, শুকনা গাছের ডাল ফেলে রাখা ও দুর্গন্ধ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এ টার্মিনালের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. জোসান আলী প্রথম আলোকে বলেন, টানাহেঁচড়ার ব্যাপারে অভিযোগ পেলে তাঁরা পরিবহন মালিক সমিতিকে অবহিত করেন। কুলিরা যাতে বেশি মজুরি আদায় না করতে পারেন, সে জন্য মজুরির তালিকা টাঙিয়েছেন টার্মিনালের বিভিন্ন জায়গায়। পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে জোসান আলী বলেন, তাঁদের পরিচ্ছন্নতাকর্মী কম থাকায় কিছু সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া ২১২টি ‘টোকেন’ দোকানের অনুমতি দিয়েছেন। হকারদের উচ্ছেদ করা হবে বলে জানালেন।

গড়ে প্রতিদিন একটি শিশু খুন

এ বছরের প্রথম দেড় মাসে (১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) সারা দেশে বিভিন্নভাবে ৪৫ শিশু খুন হয়েছে। গত বছরের প্রথম দুই মাসে শিশু হত্যার সংখ্যা ছিল ৪৮। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিসংখ্যানে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা বলছে, চলতি বছরের প্রথম দেড় মাসে ৪২ শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে। অপর দুটি সংস্থার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শিশুদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। গত বছর (২০১৬) তিন শতাধিক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যা ওই সময়ের মোট ধর্ষণের ঘটনার প্রায় অর্ধেক। ধর্ষণের শিকার শিশুদের অর্ধেকেরই বয়স ১২ বছরের নিচে। এদের মধ্যে ৬ বছরের কম বয়সী শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া শিশুদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও বাড়ছে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। চলতি মাসে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের একটি অপহরণ চক্র ধরা পড়ার পর উদঘাটিত হয়, সাম্প্রতিক সময়ে তারা ১৭টি শিশুকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করেছে। শিশু ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এসব অপরাধের বিচার-প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে সাজা কার্যকর করতে পারলে দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। ২৬৯টি সংগঠনের মোর্চা বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম ১০টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ওপর ভিত্তি করে শিশু হত্যার পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। তাদের হিসাবমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ২৭ শিশু এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৮ শিশু খুন হয়েছে। সে হিসাবে গড়ে প্রতিদিন একটি করে শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ১৯ শিশু খুন হয়। নিখোঁজের পর শিশুর লাশ উদ্ধারের ঘটনা বেশি ঘটছে। দেড় মাসে এই সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ১৭টিতে। আর গত বছর প্রথম দুই মাসে এই সংখ্যা ছিল ১০। এরপরই আছে বাবা-মায়ের হাতে শিশু খুনের ঘটনা। দেড় মাসে সংখ্যাটি ৭ জনে পৌঁছে গেছে। গত বছরের এই দুই মাসে তা ছিল ১০টি। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, বাবা-মায়ের কাছে শিশুরা সব থেকে নিরাপদ থাকবে, এটা স্বাভাবিক কথা। কিন্তু এখন বাবা-মায়ের হাতেও শিশুরা খুন হচ্ছে। এগুলো কোনো স্বাভাবিক বিষয়ের মধ্যে পড়ে না। একক কোনো মন্ত্রণালয় নারী ও শিশুর বিষয়ে কোনো সমাধান দিতে পারে না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত প্রয়াস থাকাটা জরুরি। নাছিমা বেগম বলেন, শিশু রাজন ও রাকিব হত্যা মামলায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ছিল। আসামিদের দ্রুত ফাঁসির রায় হলো। রায় কার্যকর হয়ে গেলে মানুষ ভয় পেত। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে, ২০১৬ সালে মোট ধর্ষণের ঘটনা ৭২৪টি। এর মধ্যে ৩০৮টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫৭টি শিশুর বয়স ১২ বছরের কম। ৬ বছরের নিচে আছে ৪৬টি শিশু। আটটি জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর এবং নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সংস্থাটি এ তথ্য পেয়েছে। শিশুবিষয়ক বেসরকারি সংস্থাগুলোর জাতীয় নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের (বিএসএএফ) তথ্যমতে, গত বছরের বছরের প্রথম ১১ মাসে শিশু ধর্ষণের ঘটনা চার শতাধিক, যার মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ৬৪টি শিশু।
ধর্ষণের শিকার বেশির ভাগ শিশুর বয়স ৪ থেকে ৯। ২০১৫ সালে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ছিল ৫২১টি। শিশু অধিকার ফোরাম বলছে, অপহরণের পর হত্যা, পিটিয়ে হত্যা, রাজনৈতিক বা পারিবারিক দ্বন্দ্ব, খেলা নিয়ে সংঘর্ষ, জমিসংক্রান্ত ও অন্যান্য বিরোধের জের, যৌতুকের কারণসহ বিভিন্ন কারণে শিশুরা খুন হচ্ছে। প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত শিশু খুনের ঘটনা পর্যালোচনা করেও দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বড়দের দ্বন্দ্বে পরিবারের শিশুটিকে হত্যার জন্য টার্গেট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। জানুয়ারি মাসে কক্সবাজারের চকরিয়ার দরবেশকাটা এলাকায় রশিদুল ইসলাম নামের সাত বছরের এক শিশুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। শিশুটির এক নিকটাত্মীয় রিদুয়ানুল হককে এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, পারিবারিক দ্বন্দ্বে তিনি কুপিয়ে শিশুটিকে আহত করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। অপরদিকে ১২ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জে সুমাইয়া খাতুন (৭) ও মেহজাবিন আক্তারকে (৬) হত্যা করা হলে অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী লাকী আক্তারের বিরুদ্ধে। ২১ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীতে তিন ভাইবোন খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন মেজ ভাই রুবেল মিয়া। বড়দের দ্বন্দ্বের পাশাপাশি সম্প্রতি শিশুদের হাতে শিশু হত্যা একটি নতুন প্রবণতা হিসেবে দেখা দিয়েছে। জানুয়ারি মাসের শুরুতে উত্তরায় স্কুলছাত্র আদনান কবীর খুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, তাদের একজনের বয়স ১৩ ও অন্যজনের ১৬ বছর। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুছ সহিদ মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, সমাজে শিশু হত্যা চলছেই। দেড় মাসে প্রায় দিনে গড়ে একটি শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। বছর শেষে এ চিত্র কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা বলা যাচ্ছে না। আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অপরাধের শিকার হওয়া পরিবারের মধ্যে আইনি সহায়তা নেওয়ার ব্যাপারে হতাশা দেখা দেয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা যেকোনো কারণে পরিবারের শিশুটিকে অপহরণ করা হচ্ছে। বাবা-মা সন্তানকে খুন করে ফেলছেন। সর্বত্র সামাজিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাবা, মা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে অবশ্যই শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা বাড়াতে হবে। ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ইভ টিজিং বা অ্যাসিড-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যে ধরনের আন্দোলন হয়েছিল, সে ধরনের আন্দোলন প্রয়োজন।

হত্যা মামলা উচ্চ আদালতে বিস্ফোরকের বিচার চলছে

আট বছর পেরিয়ে গেল বিডিআর বিদ্রোহের। দেশের ইতিহাসে কোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীতে এমন মর্মন্তুদ রক্তস্নাত বিদ্রোহের ঘটনা ছিল নজিরবিহীন। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটেছিল এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড। সেদিন ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। এত দিনে পিলখানার দরবার হল থেকে মুছে গেছে গুলির চিহ্ন। শোকের কোনো চিহ্নও সেখানে নেই। কিন্তু স্বজনহারাদের হৃদয়ের যে ক্ষত, তা এখনো শুকায়নি। আট বছর পেরিয়ে গেলেও এই বিদ্রোহ নিয়ে মানুষের মনে যেসব প্রশ্ন রয়েছে তার পরিষ্কার কোনো জবাব এখনো মেলেনি। বিদ্রোহের কারণ সম্পর্কে জওয়ানদের নানা ক্ষোভের কথা বলা হলেও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট হয়নি সাধারণ মানুষের কাছে। বিডিআর বিদ্রোহের পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরেকটি তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছিল। দুটি কমিটিই বলেছিল, তারা এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। এ দুটি কমিটি এ ঘটনার তদন্ত ও ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটতে পারে সে ব্যাপারে বেশ কিছু সুপারিশ করেছিল। কিন্তু দুই কমিটির অনেক সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাহিনীর নিজস্ব আইনের পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি এখন শেষ পর্যায়ে আছে। তবে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে করা মামলাটির বিচার এখনো শেষ হয়নি, মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়েই রয়ে গেছে। বিডিআর বিদ্রোহের পর থেকে ঘটনাপ্রবাহ মোড় নিয়েছে নানা দিকে। পুরো বাহিনীকে ঢেলে সাজানো হয়েছে, নামও বদলেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি নামে নতুন আইনে চলছে বাহিনীর কার্যক্রম। বিদ্রোহের ঘটনায় গত আট বছরে ১০ হাজার ৮৭৮ জওয়ানের শাস্তি হয়েছে।
তাঁদের মধ্যে ৬ হাজার জওয়ানকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অভিযুক্ত জওয়ানদের ৮৫০ জনের বিচার হয়েছে ফৌজদারি আদালতে। বিদ্রোহের পর যে ২১ জন জওয়ান পলাতক ছিলেন, তাঁদের মাত্র ১ জন ধরা পড়েছেন। বাকি ২০ জন এখনো পলাতক আছেন। আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিচারিক আদালতে ১ হাজার ৩০২ জন সাক্ষীর মধ্যে বিগত বছরে ৫০ জনের সাক্ষ্য জেরা শেষ হয়েছে, বাকি রয়েছে ১ হাজার ২৫২ জন। আর দেশের ইতিহাসে আসামির সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় এই মামলায় (হত্যা) তিন সদস্যের হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর আইনি যুক্তি উপস্থাপন চলছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৫৯ দিনের (কার্যদিবস) মতো শুনানি হয়। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২ এপ্রিল পর্যন্ত শুনানি মুলতবি হয়। চলতি বছর এই মামলার বিচার শেষ হবে বলে আশা করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে করা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলার বিচার নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষকে দায়ী করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই হত্যা মামলার বিচার আগে নিষ্পত্তি হয়েছে। এই মামলার বিচার পরে শুরু হয়েছে। এ মামলায় ৮৩৪ জন আসামি রয়েছে। এদের অধিকাংশই হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলায় মোট সাক্ষী ১ হাজার ৩০২ জন। এর মধ্যে ৫০ জনের সাক্ষ্য জেরা শেষ হয়েছে। আগামী ৮ মার্চ পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য আছে। বাকি ১ হাজার ২৫২ জনের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়। বিচার হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসংলগ্ন আলিয়া মাদ্রাসা মাঠসংলগ্ন অস্থায়ী এজলাসে। বিচার শেষে ঢাকা মহানগর তৃতীয় বিশেষ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিডিআরের সাবেক ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দীন আহাম্মেদ পিন্টু (প্রয়াত), স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীসহ ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ২৭৭ জনকে খালাস দেওয়া হয়। রায়ের পর ১৫২ জনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে আসে। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, রায়ের পর বিভিন্ন সময়ে দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামিরা পৃথক ১১৯টি আপিল করেন। জেল আপিল করেন ১৪১ জন। আর ৬৯ জনকে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষও আপিল করে। গুরুত্বপূর্ণ এ মামলার শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ উদ্যোগ নেন। বিশেষ ব্যবস্থায় এই মামলার পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) ৩৬ খণ্ডে ৩৬ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক তৈরি করা হয়।
পরে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেন। এরপর ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে হাইকোর্টে এ মামলার শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, এ মামলার আসামিদের মধ্যে ইতিমধ্যে ১৫ জন আসামি মারা গেছেন। বিচারিক আদালতের রায়ের আগে চারজন আসামি মারা যান। বিচারিক আদালতের রায়ের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনসহ বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত ১১ আসামি মারা যান। এদিকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলার বিচার চলছে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে। এই মামলায় আগামী ৮ মার্চ পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। সূত্র জানায়, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি লোকের সাজা হয় অধিনায়কদের সামারি ট্রায়ালে। এতে মোট ১১ হাজার ২৬৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তাঁদের মধ্যে ১০ হাজার ৯৭৩ জনের বিভিন্ন ধরনের সাজা হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৮ হাজার ৭৫৯ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বাকিরা প্রশাসনিক দণ্ড শেষে আবার চাকরিতে যোগদান করেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে বিশেষ আদালত গঠন করে ৬ হাজার ৪৬ জন জওয়ানকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। এসব মামলায় ৫ হাজার ৯২৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। তাঁদের প্রত্যেককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আর বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত ১১৫ জন চাকরি ফিরে পেয়েছেন।
কর্মসূচি: বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এই দিনটি শাহাদতবার্ষিকী হিসেবে পালন করবে। এ দিন বিজিবির সব রিজিয়ন, সেক্টর ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় বাদ ফজর কোরআন খতম এবং বিজিবির সব মসজিদে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করা হবে। সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় আজ সকাল নয়টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, স্বরাষ্ট্রসচিব, বিজিবির মহাপরিচালক স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। কাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাদ আসর পিলখানায় বীর উত্তম ফজলুর রহমান মিলনায়তনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এতে উপস্থিত থাকবেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।

পিকনিকের বাস বিলে, নিহত ৩

যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলে সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা আর তাতে প্রাণহানি থামছে না। গতকাল শুক্রবারও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেপরোয়াভাবে চলা পিকনিকের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিলে পড়ে তিনজন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন জেলায় আরও কয়েকটি দুর্ঘটনায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে গত ১৫ দিনে সড়কে প্রাণ হারালেন ১৫৩ জন। এদিকে এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনায় দোষী চালকের সাজা দিতে গেলে বাধছে বিপত্তি। মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার মামলায় গত বুধবার বাসচালকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। এর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় নেমেছেন পরিবহনের চালক-শ্রমিক ও মালিকেরা। চুয়াডাঙ্গায় টানা তিন দিন ধরে চলছে পরিবহন ধর্মঘট। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বরাতে প্রথম আলোর সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাস বিলে
সদর উপজেলার বাবুডাইং পিকনিক স্পট থেকে ফেরার পথে একটি যাত্রীবোঝাই বাস পৌর এলাকার মহাডাঙ্গা বিলের পানিতে পড়ে তিনজন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হন। গতকাল বিকেল সোয়া চারটার দিকে পিকনিক স্পট থেকে দুটি বাসে প্রায় ১৪০ জন বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনের বাসটি বিলে পড়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পেছনের বাসের যাত্রী ও স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। সাড়ে চারটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও উদ্ধারকাজে যোগ দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আবদুল হামিদ জানান, বাসের ভেতর থেকে সাতজনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠানোর পর তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। বাসযাত্রী গোমস্তাপুর উপজেলার নয়াদিয়াড়ি গ্রামের মো. টুকু বলেন, হতাহত ব্যক্তিদের প্রায় সবাই দৈনন্দিন খেটে খাওয়া মানুষ। ২০০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে পিকনিকে গিয়েছিলেন তাঁরা। বেশির ভাগই এ গ্রামের বাসিন্দা। নিহত এন্তাজুল হক (৬৫), আবদুল করিম (৩৫) ও হাসেম আলীর (৬২) বাড়িও এ গ্রামে। একই দিন শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ মহাসড়কের পুখুরিয়া পেট্রলপাম্পের সামনে সকালে ট্রাকের ধাক্কায় আবদুল হালিম (২৫) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। তিনি সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে। মোটরসাইকেলের চালকসহ আরও দুজন এ সময় আহত হন।
রাজধানীতে নিহত দুজন
ঢাকার উত্তরায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় গতকাল এক বাসচালকের সহকারীসহ নিহত হয়েছেন দুজন। তাঁরা হলেন মোশাররফ হোসেন (২৮) ও আবু তাহের মুন্সি (৮২)। সড়ক পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় তাঁরা মারা যান। ভোর চারটার দিকে বিজিবি মার্কেটের সামনে গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলে নিহত হন মোশাররফ। তাঁর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ইটখোলা রোডে। তিনি প্রচেষ্টা পরিবহনে চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। এদিকে আবু তাহের মুন্সি বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আরেক গাড়ির চাপায় গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর রোডের একটি বাসায় থাকতেন। বনানী জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জে গাড়িচাপায় নিহত ১
নগরীর সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের ভেতর গতকাল সকালে মাইক্রোবাসের চাপায় শামীম আহমেদ (২০) নামের এক নিরাপত্তাপ্রহরী নিহত হয়েছেন। গাড়িচাপায় শামীম গুরুতর আহত হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুপুরে তিনি মারা যান।
রাজশাহীতে নিহত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা
রাজশাহী নগরের হাদির মোড়ে মেয়ের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় অটোরিকশার ধাক্কায় মারা গেছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক এ কে এম খালেকুজ্জামান (৬০)। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। তাঁর বাড়ি রংপুর সদর উপজেলার পাকার মোড় এলাকায়। অটোরিকশাচালক রজব আলীকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বরিশালে নিহত গৃহবধূ
বানারীপাড়া সদরের ডাকবাংলো মোড়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাসের চাপায় মুন্নি খানম (৩৫) নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। তিনি বানারীপাড়া রেডসান প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষক মনিরুজ্জামানের স্ত্রী।
চুয়াডাঙ্গায় চলছে ধর্মঘট
চুয়াডাঙ্গায় তিন দিন ধরে চলা পরিবহন ধর্মঘটে গতকালও দিনভর লোকজনকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সাংবাদিক মিশুক মুনীর ও চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় বাসচালক জামির হোসেনের সাজার প্রতিবাদে এ ধর্মঘট চলছে। তৃতীয় দিনেও জেলা থেকে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ পথে কোনো বাস-ট্রাক চলেনি। পরিবহন শ্রমিকেরা বাস টার্মিনাল ও দৌলাতদিয়াড় বাসস্ট্যান্ডসহ শহরের বিভিন্ন মোড়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন।
শ্রমিকনেতারা জানান, ধর্মঘটের সময়সীমা ঠিক করা হয়েছে আজ শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। দুপুরে যশোরে খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের বৈঠক থেকে নতুন কর্মসূচি আসবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস–ট্রাক সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল ইসলাম বলেন, বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়ার বিষয়টি মানবেন না তাঁরা। যাবজ্জীবন সাজার বোঝা মাথায় নিয়ে শ্রমিকেরা চালকের আসনে বসবেন না।

দেশে ৬৩ লাখের বেশি মানুষ বিষাদে ভুগছে

দেশে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৪ জনের বেশি মানুষ বিষাদগ্রস্ত। বেকারত্ব, মানসিক ধাক্কা, বঞ্চনা বা মৃত্যুজনিত শোকের মতো অভিজ্ঞতা এই মানসিক রোগের কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এই তথ্য দিয়েছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘ডিপ্রেশন অ্যান্ড আদার কমন মেন্টাল ডিজঅর্ডার্স: গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেট’ শিরোনামে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে ৬৩ লাখ ৯১ হাজারের বেশি মানুষ বিষাদগ্রস্ততায় ভুগছে, যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ১ শতাংশ। এ ছাড়া উদ্বেগজনিত সমস্যায় ভুগছে ৬৯ লাখ মানুষ, মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলভুক্ত।
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় বিষাদগ্রস্ত মানুষের হার সমান হলেও ভুটানে তা বেশি, ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বিষাদগ্রস্ত মানুষের দেশ ভারত, ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম পূর্ব তিমুরে, ৩ শতাংশ। বিশ্বে সবচেয়ে কম বিষাদগ্রস্ত মানুষের দেশ সোলোমন দ্বীপপুঞ্জ, ২ দশমিক ৯ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি ইউক্রেনে, ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। ১৯৯০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন বিশ্বের বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে গবেষণা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যের সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাদের নিজস্ব তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিকভাবে বিষাদগ্রস্ততা একটি সাধারণ রোগ। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০ কোটি মানুষ এই রোগে ভুগছে। প্রতিবন্ধিতার একটি প্রধান কারণ বিষাদগ্রস্ততা। পুরুষের তুলনায় নারী এই মানসিক রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। সবচেয়ে খারাপ দিক হলো, বিষাদগ্রস্ততার একেবারে শেষ স্তরে গিয়ে অনেক মানুষই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিষাদগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা করার অভিজ্ঞতা আছে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক মোহিত কামালের। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, আর্থসামাজিক কারণে মানুষ বিষাদগ্রস্ত হয়। অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতা মানুষকে বিষাদগ্রস্ত করে তোলে। কিছু ক্ষেত্রে এর জন্য জিন বা বংশগতি দায়ী।
অর্থাৎ মা-বাবা এই রোগে ভুগলে সন্তানেরও তাতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিভিন্ন ধরনের রোগী দেখার অভিজ্ঞতা থেকে মোহিত কামাল বলেন, অবহেলার শিকার বা স্বামী থেকে বঞ্চনা পাওয়া নারী বিষাদে ভোগে। অনেক ক্ষেত্রে পরকীয়া বিষাদের কারণ হয়। পরীক্ষা বা লেখাপড়ায় ভালো না করার কারণে তরুণেরা বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। যারা বেশি টেলিভিশন দেখে বা ভিডিও গেমস নিয়ে ব্যস্ত থাকে সেই কিশোরদের মধ্যেও বিষাদগ্রস্ততা দেখা যাচ্ছে। ‘এর লক্ষণ কী’—এমন প্রশ্নের উত্তরে মোহিত কামাল বলেন, বিষাদগ্রস্ত মানুষের কোনো কিছুতে আনন্দ থাকে না। এরা কাজের উদ্দীপনা পায় না। এদের কাছে বর্তমান গ্লানিময় মনে হয়। আর ভবিষ্যৎকে মনে হয় অন্ধকার। অনেক বিষাদগ্রস্ত মানুষের বিশেষ করে নারীদের শরীরে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিষাদগ্রস্ত রোগের কার্যকর চিকিৎসায় সদস্যদেশগুলোকে নানা ধরনের সহায়তা দেয়। মোহিত কামাল আরও বলেন, ব্যক্তি পর্যায়ে চিকিৎসার পাশাপাশি সরকারের উচিত মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তোলা।

যে ঘটনায় ঘুরে যায় তদন্তের মোড়

সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকায় গত ১ ডিসেম্বর রাতে অস্ত্রের মুখে এক তরুণের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় তিন দুর্বৃত্ত। মোটরসাইকেলে আসা ওই দুর্বৃত্তদের কাছ থেকে ঘটনাস্থলে পড়ে যায় পিস্তলের গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিন। এর ৩০ দিন পর সেখান থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ গ্রামে নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয় আওয়ামী লীগের সাংসদ মনজুরুল ইসলামকে (লিটন)। সাংসদ মনজুরুল হত্যা মামলা তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, ওই ছিনতাই ঘটনার সূত্র ধরেই তাঁরা মনজুরুল হত্যারহস্য উন্মোচন করেছেন। দুর্বৃত্তদের কাছ থেকে পড়ে যাওয়া ম্যাগাজিনের ছয়টি গুলি ও ছিনতাই হওয়া কালো রঙের সিম্ফোনি ডব্লিউ এক্সপ্লোরার এইচ ৬০ মডেলের মুঠোফোনই তাঁদের নিয়ে যায় হত্যাকারীদের দ্বারপ্রান্তে। গাইবান্ধা শহর থেকে একটি পাকা সড়ক চলে গেছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদরের দিকে। ওই সড়ক ধরে ১৬ কিলোমিটার গেলে মূল সড়কের পাশেই নতুন বাজার। বাজারের লাগোয়া মূল সড়কের পাশেই বাড়ি মো. ফাহিম মিয়ার (২০)। তিনি গাইবান্ধা সরকারি কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র। ১ ডিসেম্বর তাঁর মুঠোফোনটিই ছিনিয়ে নিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। ফাহিমের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর বাড়িতে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ওই রাতে (১ ডিসেম্বর) বাড়ির সামনে মুরগির খামার পাহারা দিচ্ছিলেন তিনি। রাত সোয়া ১২টার দিকে তিনি পাকা রাস্তা ধরে একটু সামনে একটি বন্ধ টং দোকানের সামনে বসে মোবাইল ফোন ঘাঁটছিলেন। হঠাৎ গাইবান্ধার দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল তাঁর সামনে দাঁড়ায়। মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনের মধ্যে দুজন নেমে আসে। ‘দেখি তোর কাছে কী আছে’ বলে একজন তাঁর শার্টের পকেটে হাত দেয়। কিছু না পেয়ে পাশের জনকে বলে ‘ভাই, গুলি করে দেই’। অন্যজন বলে, ‘না’। এরপর তারা মুঠোফোনটি চাইলে তিনি দিয়ে দেন। তারা ফোনটি নিয়ে চালু থাকা মোটরসাইকেলে করে সুন্দরগঞ্জের দিকে চলে যায়।
ফাহিম বলেন, ছিনতাইকারীরা চলে যাওয়ার পর তিনি কিছুক্ষণ হতভম্বের মতো বসে থাকেন। এরপর সঙ্গে থাকা টর্চলাইট জ্বালালে তিনি দেখেন, পাকা রাস্তার ওপর কালো একটা কিছু পড়ে আছে। হাতে নিয়ে দেখেন ভেতরে গুলি। তিনি রাতেই ঘটনাটি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার সবুজ চৌধুরীকে জানালে তিনি পরদিন বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশ এসে ম্যাগাজিনটি নিয়ে যায় এবং ঘটনার বর্ণনা লিখে নেয়। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোরওয়ার্দী ২ ডিসেম্বর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তৈরি করেন জব্দ তালিকা। ওই জব্দ তালিকায় বলা হয়েছে, একটি কালো রঙের পুরাতন ব্যবহার করা ৭.৬৫ পিস্তলের ম্যাগাজিন। এর ভেতর ৭.৬৫ এর ছয়টি সতেজ গুলি ছিল। এর মধ্যে দুটি গুলির পেছনে ক্যাপে ইংরেজিতে ৭.৬৫ বিটি .১২ এসআরবি লেখা আছে। অন্য চারটি গুলির পেছনের ক্যাপে ইংরেজিতে কেএফ ৭.৬৫ লেখা আছে। নতুন বাজারেই থাকেন নিহত সাংসদ মনজুরুলের একসময়ের একান্ত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (সুজা)। সাংসদ মনজুরুল হত্যার ১০ দিন পর ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এই চেয়ারম্যান ছিনতাইয়ের ঘটনাটি জানান গাইবান্ধা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন মিয়াকে। জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, মনজুরুল হত্যার পর ঘটনা তদন্তে পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল, র্যা ব, পিবিআই ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তাঁর কাছে আসেন। তখন একদিন তিনি কথা প্রসঙ্গে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি আনোয়ার হোসেন মিয়াকে জানিয়ে খতিয়ে দেখতে বলেন। পিবিআই কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন, ম্যাগাজিনে ৭.৬৫ বোরের গুলি ছিল। বিষয়টি তাঁকে আগ্রহী করে তোলে। কারণ, সাংসদ মনজুরুল হত্যার পর গুলির উদ্ধার করা খোসাগুলোও ছিল ৭.৬৫ বোরের। এরপর ছিনতাই হওয়া মুঠোফোনটির আইএমইএ নম্বর সংগ্রহ করে ট্র্যাক করে তা খুঁজে বের করেন। ছিনতাই হওয়া মুঠোফোনটি ব্যবহার করছিলেন মো. মুজাহিদুল ইসলাম। তিনি গাইবান্ধা শহরের পুরাতন ব্রিজ এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা তাঁকে গত ৩১ জানুয়ারি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারেন, তিনি মো. রায়হান মিয়া নামে পরিচিত একজনের কাছ থেকে মুঠোফোনটি আড়াই হাজার টাকায় কিনেছেন। রায়হানের কাছ থেকে মুঠোফোনটি কেনার কথা মুজাহিদুল গতকাল শুক্রবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকেও বলেন। তিনি বলেন, তিনি ৩১ জানুয়ারি পিবিআইয়ের কার্যালয়ে এবং পরবর্তী সময়ে থানায় গিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি আর কিছু বলবেন না বলে ফোন কেটে দেন। ওই রায়হানের বাড়ি সুন্দরগঞ্জের শ্রীপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর বাজার এলাকায়। ওই বাজারে তাঁর একটি দোকান আছে। বাজার থেকে পাঁচপীর এলাকার দিকে যাওয়া সড়ক ধরে কিছুটা এগোলে তাঁর বাড়ি। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়িতে গেলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, একদিন রানা (আনারুল ইসলাম রানা, সাংসদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া) তাঁর দোকানে এসে বলেন, খুব টাকার দরকার। তিনি টাকা দিতে না চাইলে মুঠোফোনটি রেখে এক হাজার টাকা দিতে অনুরোধ করেন। তিন দিন পর টাকা ফেরত দিয়ে মুঠোফোন নিয়ে যাবে বলে জানান। তিন দিন পর রানা এলেও টাকা দিয়ে মুঠোফোন ফেরত না নিয়ে আরও এক হাজার টাকা চান। বিনিময়ে মুঠোফোনটি রেখে দিতে বলেন। তিনি তখন ফোনটি রেখে দেন। এর কিছুদিন পর মুজাহিদের সঙ্গে দেখা হলে তিনি তাঁর কাছ থেকে ফোনটি আড়াই হাজার টাকায় কেনেন। রায়হান বলেন, রানার সঙ্গে তাঁর পূর্বপরিচয় ছিল, অনেকটা বন্ধুর মতো। সে কারণেই তিনি ফোনটি নিয়েছিলেন। রানার সঙ্গে তিনি কয়েকবার মেহেদীকেও দেখেছেন। কিন্তু তাঁকে তেমন চিনতেন না। মুজাহিদকে নিয়ে যাওয়ার পর একদিন পিবিআই দোকানে এসে তাঁকেও খোঁজে। জানতে পেরে তিনিই পিবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাইবান্ধা শহরে পিবিআইয়ের কার্যালয়ে যান। সেখানে তাঁকে তিন দিন আটক রাখার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন মিয়া গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, রায়হানের বক্তব্য অনুযায়ী রানা ও মেহেদীর বিষয়ে তিনি খোঁজখবর শুরু করেন। তখন এলাকাবাসীর কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, এরা সাবেক সাংসদ কাদের খানের দেওয়া ফ্রিডম চিতা মডেলের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন। এরই মধ্যে তিনি তাঁর পরিচিত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, এই গুলি গাজীপুরের জয়দেবপুরের অস্ত্র কারখানায় তৈরি হয় এবং এলপিআর, পিআরএলে থাকা বা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা ছাড়া কেউ এই গুলি পাওয়ার কথা নয়। তখনই তিনি নিশ্চিত হন যে ঘটনার সঙ্গে আবদুল কাদের খান সম্পৃক্ত। বিষয়টি তিনি ঢাকায় পিবিআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। পুলিশ বলেছে, এরপর বিষয়টি ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপর পুলিশ ছিনতাইয়ে জড়িত রানা, মেহেদী ও শাহিনের ফোনের কল তালিকা বিশ্লেষণ করে ও আড়ি পেতে কাদের খানের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগের প্রমাণ পায়। পরে সাংসদ মনজুরুল হত্যার ব্যাপারে কাদের খানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়ার পর তাঁকে বগুড়া শহরের রহমান নগরের বাড়িতে ছয় দিন ‘নজরবন্দী’ রাখে পুলিশ। গত মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে বুধবার ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

খাদিজা ফিরেছেন, ফিরেছে পরিবারে হাসি

আদরের মেয়ে খাদিজার ওপর হামলার পর তাঁর মা মনোয়ারা বেগম বলেছিলেন, ‘ময়না (খাদিজা) কইছল পরীক্ষা থাকি আইয়া ভাত খাইব। আর তো আইল না। ময়না না ফিরলে আমিও আর ভাত খাইতাম না।’ সুস্থ হয়ে গতকাল শুক্রবার মায়ের কোলে ফিরেছেন সেই ময়না। খাদিজাকে ছাড়া আর ভাত খেতে না চাওয়ার কথা গতকাল মনে করিয়ে দিতেই চোখ ছলছল করে ওঠে মা মনোয়ারা বেগমের। তবে ছিলেন হাসিমুখে। পাশ থেকে খাদিজার দাদি আলতাফুন নেছা বললেন, ‘নাতিন ফিরছে; বাড়ির হাসিও ফিরছে। সকলের দোয়া কবুল অইছে!’ সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) চিকিৎসা শেষে প্রায় তিন মাস পর গতকাল সকালে বাড়ি ফিরেছেন সিলেটের কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম। তাঁকে কাছে পেয়ে প্রাণ ফিরেছে তাঁর পরিবারে। আনন্দ গ্রামবাসীর চোখেমুখেও। সিআরপি ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল নয়টায় সিআরপির একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে খাদিজাকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বড় ভাই শাহীন আহমেদ। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তাঁরা সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে পৌঁছান। শাহীন আহমেদ বলেন, ওসমানী বিমানবন্দর থেকে পুলিশ প্রহরায় মাইক্রোবাসে করে তাঁরা বেলা দুইটার দিকে নিজ বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার হাউসা গ্রামে পৌঁছান। খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস প্রথম আলোকে বলেন, খাদিজা বাড়ি ফেরায় সবাই খুশি। আর কোনো খাদিজা যেন নৃশংসতার শিকার না হন, এমনটাই চাওয়া তাঁদের।
খাদিজার ওপর হামলাকারী বদরুল আলমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী তিনি। খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া বলেন, ‘খাদিজা বাড়িতে ফিরে আত্মীয়স্বজনসহ সবার সঙ্গে অনেক দিন পর মন খুলে কথা বলছে। এখন মেয়েটার দিকে চাইলে সকল কষ্ট ভুলে যাই।’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খাদিজা বলেন, ‘আমি ভালো আছি। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানাই।’ তাঁকে হত্যাচেষ্টা মামলায় কাল রোববার আদালতে সাক্ষ্য দেবেন বলে জানালেন খাদিজা। এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘বদরুলের শাস্তি চাই। আমি আদালতে যাব।’ গত বৃহস্পতিবার সিআরপি কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, খাদিজা এখন প্রায় সুস্থ। আবার পড়াশোনা শুরু করতে পারবেন। তবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আরও কয়েক বছর চিকিৎসা নিতে হবে। সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা গত বছর ৩ অক্টোবর বিকেলে এমসি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে বিএ (পাস) পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সময় তাঁকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম।

আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ির চারপাশে সাংসদের দেয়াল

খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় বিরোধপূর্ণ ৫০ শতক জমির চারপাশে উঁচু দেয়াল তুলেছেন স্থানীয় সাংসদ নূরুল হক। তাতে ওই দেয়ালের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে সেখানে বসবাসকারী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা আবদুল আজিজ গোলদারের পরিবার। তারা এখন মই লাগিয়ে দেয়ালের ওপর দিয়ে এবং গর্ত খুঁড়ে দেয়ালের নিচ দিয়ে চলাচল করছে। পাইকগাছা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সরল গ্রামের এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন, থানা-পুলিশ সবাই জানলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। অবরুদ্ধ আবদুল আজিজ গোলদারের অভিযোগ, বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতেই এক বছরের বেশি সময় ধরে সাংসদ তাঁদের দেয়ালবন্দী করে রেখেছেন। সাংসদ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, আজিজের বাড়ির চারপাশে ১০ ফুট উঁচু দেয়াল। দক্ষিণ পাশ দিয়ে একটি প্রবেশপথ আছে। সেখানে বড় লোহার ফটক রাখা। আবদুল আজিজ জানান, দেয়াল নির্মাণের পর সাংসদ এই দিক দিয়ে লোহার ফটক লাগিয়ে বন্ধ করে দিচ্ছিলেন। প্রশাসনের কাছে আবেদন করার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওই লোহার দরজা আর লাগাতে দেয়নি। তবে আজিজের বাড়ির ভেতরে একটি টিনের ঘর তৈরি করেছেন সাংসদ। সেখানে একটি পরিবারকে থাকতে দিয়েছেন। এই পথ এখন ব্যবহার করে ওই পরিবার। আজিজের দাবি, এই পথ ব্যবহার করতে গেলে ওই পরিবারের লোকজন তাঁদের বাধা দেন, গালিগালাজ করেন। এ জন্য তাঁরা সুড়ঙ্গ পথে অথবা মই বেয়ে চলাচল করেন। আজিজ গোলদার প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ওই জমিতে তাঁরা ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। জমির খাজনাও নিয়মিত পরিশোধ করছেন। কিন্তু গত বছরের জানুয়ারির প্রথম দিকে ওই জমি কিনেছেন বলে দাবি করেন সাংসদ। এ সময় গ্রামের শেখ আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে দেয়াল তোলার সরঞ্জামাদি আনা হয়। এতে বাধা দিলে তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে শেখ আলাউদ্দিন বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় মামলা করেন। তখন গ্রেপ্তার এড়াতে তাঁরা পালিয়ে বেড়ান। এই সুযোগে সাংসদ ওই দেয়াল নির্মাণ করেন। আজিজের ছোট ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এ জমি তাঁর বাপ-দাদার সম্পত্তি। এ নিয়ে তাঁরা পাইকগাছা থানায় দুটি মামলা করেছেন। মামলায় সাংসদের ছেলে শেখ মনিরুল ইসলামসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে খুলনা-৬ আসনের সাংসদ নূরুল হক বলেছেন, ওই জমির প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে তিনি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (আমমোক্তারনামা) করে জায়গা দখল নিয়েছেন। দেয়াল তুললেও সামনে ফটক খোলা রেখেছেন। কিন্তু আজিজের পরিবারের লোকজন নাটক করছেন। তাঁরা ওই ফটক ব্যবহার করছেন না। সাংসদ দাবি করেন, আজিজ গোলদার সেখানে অবৈধভাবে বসবাস করছেন। সামনে নির্বাচন, এ কারণে একটি পক্ষ আজিজকে প্ররোচনা দিচ্ছে।
সাংসদ নূরুল হক যাঁদের কাছ থেকে জমির স্বত্ব নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন, তাঁরা হলেন ঠাকুর দাস হালদার ও তাঁর ছোট ভাই অজিত হালদার। জানতে চাইলে ঠাকুর দাস হালদার বলেন, ৫০ শতক জমির মালিক তাঁর বাবা অমূল্য হালদার। জমিতে তাঁদের গোলপাতার একটি ঘর ছিল। ২০০১ সালের দিকে কে বা কারা ঘরটি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এর আগে ১৯৯৩ সালের দিকে তাঁরা নূরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে জায়গাটি বর্গা দেন। পরে নূরুল ইসলামের মামাতো ভাই আজিজ ওই জমিতে ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন। এরপর তাঁরা আর ওই জমির দখল বুঝে পাননি। এ কারণে নামমাত্র মূল্যে জমির স্বত্ব সাংসদ নূরুল হকের বড় ছেলে শেখ মনিরুল ইসলামকে দেন। জমির সব কাগজপত্র তাঁদের কাছে আছে বলেও দাবি করেন ঠাকুর দাস। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এস এম তৈয়বুর রহমান বলেন, এই জমির বিষয়ে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে একাধিকবার সালিস হয়েছে। কোনো সুরাহা হয়নি। পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ওই পরিবারকে দেয়াল দিয়ে অবরুদ্ধ করার বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি।’ পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহম্মদ বলেন, জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা রয়েছে। তদন্ত চলছে। কিছুদিনের মধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে। বাড়ির চারপাশে দেয়াল দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজিজ এ ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

‘সংস্কারপন্থী’ দুই নেতাকে ১০ বছর পর ডাকলেন খালেদা

২০০৭ সালের এক-এগারোর সময় সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিতি পেয়ে দলের বাইরে থাকা নেতাদের আবার দলে টানছে বিএনপি। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বৃহস্পতিবার দুই ‘সংস্কারপন্থী’ নেতাকে ডেকে কথা বলেছেন। বিএনপির সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে গুলশানের কার্যালয়ে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ জহির উদ্দিন স্বপন এবং সাবেক সাংসদ সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। খালেদা জিয়া তাঁদের আবার দলের কাজে সক্রিয় হতে বলেছেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে বলেছেন। পর্যায়ক্রমে এ রকম আরও বেশ কয়েকজন নেতাকে খালেদা জিয়া ডেকে পাঠাবেন। জানতে চাইলে জহির উদ্দিন স্বপন প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁদের দুজনকে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। দলের জন্য কাজ করতে নতুন করে সুযোগ দেওয়ায় তিনি দলের চেয়ারপারসন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আর সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তাঁরা অতীতের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, তাঁরা অন্য কোনো দলে যাননি, কারণ তাঁরা বিএনপিতে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। তিনি বলেন, চেয়ারপারসন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলেছেন।
‘মাতৃস্নেহে’ ভবিষ্যতের করণীয় তুলে ধরেছেন, দলের জন্য কাজ করতে বলেছেন। ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে ভাঙন ধরেছিল। দলের একাংশ সংস্কার প্রস্তাব তুলে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগ থেকে এবং খালেদা জিয়াকে বিএনপি থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। দুই নেত্রী সে সময় কারাবন্দী ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সংস্কার প্রস্তাব সফল হয়নি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর দুই দলেই সংস্কারপন্থী নেতারা বেকায়দায় পড়েন। অনেকে দলে আর জায়গা পাননি। এর মধ্যে বেশি চাপে পড়েন বিএনপির সংস্কারপন্থীরা। বিএনপির সূত্র জানায়, দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া এখন চান দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে। সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত যেসব নেতা দলে জায়গা না পেয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন, তাঁদের সক্রিয় করতে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ওই দুই নেতাকে খালেদা জিয়া ডেকে পাঠান। পর্যায়ক্রমে এ রকম আরও কয়েকজনকে তিনি ডেকে পাঠাবেন।

মানবিক সমাজ গড়ার শপথ

প্রবেশপথে মনীষীদের বাণী। ভেতরে বিশাল প্যান্ডেলের নিচে হাজারো শিক্ষার্থী। সবার মাথায় লাল-সবুজের টুপি। প্রত্যেকের নিজ নিজ স্কুল পোশাক পরা। কিছুক্ষণ পরপর ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের সঙ্গে উল্লসিত হয়ে ওঠে তারা। শপথ নেয় একটি মানবিক সমাজ গড়ার। দুপুর পর্যন্ত তারা নাচ-গান আর আনন্দে মেতে থাকে। এই আনন্দ মুক্তির, বিজয়ের। প্রতিবছর শিশুশিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে আয়োজিত হয় ‘মুক্তির উৎসবের’। আয়োজক মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। জাদুঘরের শিক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই উৎসব হয়। উৎসবে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তারা শপথ নেয় বিজ্ঞানমনস্ক, যুক্তিবাদী-উদার-অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার। মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের চলমান বিচার-প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার। শপথ পাঠ করান ক্যাপ্টেন আকরাম আহমেদ। তাঁর সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা বলে, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী ও শিশু নির্যাতন ও সহিংসতাকে তারা রুখে দেবে। সব ধর্ম ও জাতিসত্তার মানুষের অধিকার রক্ষা ও সম্প্রীতির স্বদেশ গড়বে। ধর্মের অপব্যবহার করে নিরীহ মানুষ হত্যা প্রতিরোধ করবে। এই শপথের সঙ্গে কিছু স্বপ্ন গেঁথে দেন শিক্ষাবিদ জাফর ইকবাল। তিনি শিক্ষার্থীদের নতুন এক যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানান। যে যুদ্ধের মাধ্যমে তারা নতুন এক বাংলাদেশ গড়বে। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। জাফর ইকবালের গলাব্যথা থাকায় তাঁর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী রফিকুল ইসলাম। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে ছায়ানটের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের শুরু হয়।
নৃত্যালেখ্য পরিবেশন করে স্পন্দন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে চলতে থাকে আমন্ত্রিতদের বক্তব্য। তাঁরা শোনান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের পেছনের গল্প। স্বাগত বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী প্রজন্মকে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে ২১ বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল এই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।’ পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার শোনালেন তাঁর অভিযাত্রার কথা। নতুন বিজয়ের কথা। এবারের স্বাধীনতা দিবসে নিশাতের অভিযাত্রী দলটি একাত্তরের শরণার্থী ও বিপন্ন মানুষের কথা স্মরণ করে শহীদ মিনার থেকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে হেঁটে যাবে। শিক্ষার্থীদের তিনি এই অভিযাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। উৎসবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করে সানিডেল স্কুল, ক্যালিক্স প্রি-ক্যাডেট স্কুল, দক্ষিণখান আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, আবদুল্লাহ মেমোরিয়াল হাইস্কুল ও ইউসেপ স্কুল। শিক্ষার্থীদের গান শোনান শিল্পী ফেরদৌস আরা ও বাপ্পা মজুমদার। স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি তারিক সুজাত। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তৃতীয় প্রজন্মের অংশগ্রহণে ‘বধ্যভূমির সন্তানদল’ সংগীত পরিবেশন করে। সবশেষে মঞ্চে ওঠে জলের গান। উৎসবস্থলের এক পাশে ছিল ভ্রাম্যমাণ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। সেখানে ছিল একাত্তরের ছবি আর সংবাদের প্রদর্শনী। জাদুঘর ঘিরে শিক্ষার্থীদের ছিল ব্যাপক আগ্রহ। অনুষ্ঠানের ফাঁকে তারা লাইন ধরে ঘুরে দেখে এই ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর। যেন পুরো খেলার মাঠই হয়ে ওঠে একটি জাদুঘর।

ফকির আলমগীরের জন্মদিনে

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনের সামনের দেয়ালে সাঁটানো অনেক ছবি। কিছু সাদাকালো, কিছু রঙিন। সেখানে ঝাঁকড়া চুলের এক যুবকের ছবি। তাঁর সামনে মাইক্রোফোন। তিনি একুশে পদকপ্রাপ্ত গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর। বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সরব হয়ে ওঠে তাঁর সংগীত। গতকাল উদ্‌যাপন করা হলো তাঁর ৬৭তম জন্মবার্ষিকী। জাতীয় জাদুঘরের কর্মসূচির ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ছিল এই আয়োজন। জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে প্রিয় শিল্পীর গান শুনতে কানায় কানায় পূর্ণ দর্শক-শ্রোতায়। দুই পর্বের অনুষ্ঠানে ছিল আলোচনা ও গণসংগীতের আসর। অনুভূতি প্রকাশ করার সময় জানালেন, বক্তব্যে একটু গলাটার মহড়া করে নিচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর তো গাইতে হবে তাঁকে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ভরাট কণ্ঠের অধিকারী এই শিল্পী গান দিয়ে দেশের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। গণসংগীতের কথা উঠে এলে তাঁর নামই ভেসে ওঠে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মুহাম্মদ সামাদ, অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান প্রমুখ। অনুভূতি জানান শিল্পীপত্নী সুরাইয়া আলমগীর। ফকির আলমগীরের উদ্দেশে পঠিত হয় অভিজ্ঞানপত্র। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় জাদুঘরের সচিব শওকত নবী।
ধন্যবাদ জানান আজিজুর রহমান। নিজের জন্মদিনে অনুভূতি জানাতে গিয়ে ফকির আলমগীর বললেন গ্রামের কথা। গ্রামই তাঁর কাছে প্রিয়। আগামী জন্মদিনগুলো নগরে নয়, গ্রামেই কুমার নদের পাড়ে উদ্‌যাপন করতে চান তিনি। অনুষ্ঠানে গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের শিল্পীরা পরিবেশন করেন জাতীয় সংগীত এবং উদ্বোধনী সংগীত ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’। এরপর ‘আলো আমার, আলো ওগো, আলোয় ভুবন-ভরা’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ফকির আলমগীর গণসংগীত পরিবেশন করেন। তাঁর গানগুলোর মধ্যে ছিল দেশের গান, মাইজভান্ডারি, কীর্তন ও মুকুন্দ দাসের গান। গেয়ে শোনান ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা’, ‘ভয় কি মরণে’, ‘মুজিব আমার স্বপ্ন সাহস’ ইত্যাদি গান। অনুষ্ঠানে তাঁর জীবন ও কাজ নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। জাতীয় জাদুঘরের লবিতে ছিল দেড় শতাধিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। তাঁর জীবন তুলে ধরা হয়েছে সেখানে। ফকির আলমগীর ১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গণসংগীতশিল্পী হিসেবে ষাটের দশকে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে একজন শব্দসৈনিক হিসেবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে সংগীত পরিবেশন করে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। সংগীতের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ফকির আলমগীর পেয়েছেন একুশে পদক।

ময়মনসিংহে বসতভিটা রক্ষার দাবিতে সমাবেশ

ময়মনসিংহে বসতভিটা অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আবারও সমাবেশ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জয় বাংলা বাজারের রেনেসাঁ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ হয়। এতে চর এলাকার শত শত মানুষ অংশ নেন। ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি কার্যালয় স্থাপন এবং আধুনিক ময়মনসিংহ নগর গড়ে তোলার জন্য সরকার চর এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন করে যাচ্ছেন চরবাসী।
তাঁরা ফসলি জমি রক্ষার দাবি থেকে সরে দাঁড়ালেও এখন বসতভিটা রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করছেন। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন চর ঈশ্বরদিয়া, চর গোবিন্দপুর, চর আনন্দিপুর, চর ভবানীপুর, চর দুর্গাপুর গ্রামের মানুষ। গতকালের সমাবেশে বক্তারা বলেন, চরবাসী যেকোনো মূল্যে নিজেদের বসতভিটা রক্ষা করতে চায়। সরকার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না দাঁড়ালে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তাঁরা বলেন, বিভাগ ও আধুনিক ময়মনসিংহ নগরের পক্ষে তাঁরা। তবে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে তাঁদের প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের বসতভিটা বাদ দিতে হবে। এ ছাড়া জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁরা চর এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে সমহারে জমি অধিগ্রহণের অনুরোধ করেন। সমাবেশে বসতভিটা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, শহীদুল ইসলাম, খোরশেদ আলম, নাদিম মাহমুদ, বজলুর রহমান, ফজলুল হক, হাবীবুর রহমান, আবদুল হান্নান, হারুন অর রশিদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ছুটির দিনে বইপ্রেমীদের ভিড়

চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সাঈদ বিন আকতার। গোয়েন্দা কাহিনির ভক্ত সে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে একুশে বইমেলায় গোয়েন্দা বইয়ের খোঁজে ঘুরতে দেখা গেল তাকে। সঙ্গে আসা মা-বাবা আর ছোট ভাইও নিজ নিজ পছন্দের বই খুঁজছিলেন। সাঈদ বলল, মা-বাবা তাকে গল্পের বই পড়তে উৎসাহ দেন। সে কারণে ছুটির দিনে বাসার সবাই মেলায় চলে এসেছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরের মুসলিম ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে চলছে ১১ দিনব্যাপী একুশের বইমেলা। গতকাল ছুটির দিন থাকায় মেলায় বইপ্রেমীদের ভিড় অন্য দিনের তুলনায় বেশি ছিল। বইমেলায় স্টল রয়েছে ৫০টি। চট্টগ্রাম ছাড়াও ঢাকা থেকে বেশ কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে। মেলায় রয়েছে আড্ডা কর্নারও। গতবারের মতো এবারও চট্টগ্রামের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘প্রথমা’। ঢাকার একুশে বইমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত ৬০টি নতুন বই পাওয়া যাচ্ছে চট্টগ্রামের প্রথমার স্টলেও। প্রথমা প্রকাশনের বিক্রয় প্রতিনিধি মো. সোহেল হাসান বলেন, শিশু-কিশোরদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে আছেন লেখক রকিব হাসান। বড়রা উপন্যাসের পাশাপাশি রাজনীতিবিষয়ক বইগুলো বেশি পছন্দ করছেন। নক্ষত্র প্রকাশনী নামের একটি স্টলের উদ্যোক্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শিশুদের কার্টুন ও কমিক বইগুলো বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। দুই সন্তান ও ভাইয়ের মেয়েকে নিয়ে মেলায় গতকাল বই কিনতে আসেন কলেজশিক্ষক অজিত কুমার ধর। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই বইমেলায় আসি।
বিশেষ করে বাচ্চারা বইমেলায় আসতে খুব পছন্দ করে।’ অবশ্য অনেক স্টলের বিক্রেতারাই কাঙ্ক্ষিত পাঠক-ক্রেতার সমাবেশ হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেন। একজন বিক্রয়কর্মী প্রথম আলোকে বলেন, বইমেলার আয়োজন করলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন তেমন কোনো প্রচারের ব্যবস্থা নেয়নি। এ বিষয়ে অমর একুশে বইমেলা আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিন প্রথম আলোকে বলেন, প্রচার কম এ কথা ঠিক না। সবাই এই বইমেলাটির কথা জানেন। তবে খুব একটা জাঁকজমকপূর্ণ করা যায়নি এবার। আগামী বইমেলা আরও বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা রয়েছে। বইমেলার আয়োজনে সহযোগিতা করেছে চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ। এই পরিষদের সভাপতি মহিউদ্দিন শাহ আলম বলেন, মেলা আয়োজনে সিটি করপোরেশনের আন্তরিকতার অভাব ছিল না। কিন্তু সব পাঠকের কাছে মেলাটি পৌঁছানো যায়নি এবার। ভবিষ্যতে চট্টগ্রামেও ঢাকার মতো জমজমাট বইমেলা হবে। ছুটির দিনে মেলা বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ও অন্যান্য দিন বেলা তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চলে। মেলা শুরু হয়েছে ১৮ ফেব্রুয়ারি, চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

রোহিঙ্গা শিবিরে ঠাঁই হচ্ছে না জাহেদার

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জঙ্গলঘেরা গ্রাম বালুখালী। এই গ্রামের প্রায় ২০০ একর বনভূমি দখল করে তৈরি হয়েছে ‘বালুখালী অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবির’। এখানে থাকছে দমন-পীড়নের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সম্প্রতি পালিয়ে আসা প্রায় সাত হাজার রোহিঙ্গা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে এই শিবিরের প্রবেশমুখে মাটিতে বসে কাঁদছিলেন রাখাইন রাজ্যের পোয়াংখালী গ্রাম থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারী জাহেদা বেগম (২৬)। তাঁর কোলে শিশু মুনিয়া। পাশে বসে ছিল তিন বছর বয়সী আরেক শিশু পারভেজ। সন্তানদের খাবারের জন্য জাহেদা পথচারীদের কাছ থেকে সাহায্য চাচ্ছিলেন। এ সময় কথা হয় তাঁর সঙ্গে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, গত ডিসেম্বর মাসে পোয়াংখালী গ্রামটি ঘিরে গুলি করতে থাকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
সেনাসদস্যরা তাঁর স্বামী জাহেদ আলমকে (৩৪) ধরে নিয়ে যায়। এ সময় তাঁর দুই ছেলে জানে আলম (১১) ও ছৈয়দুল আমিন (৯) বাবাকে রক্ষার চেষ্টায় এগিয়ে গেলে দুজনকেই গুলি করে সেনারা। দুই ছেলে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এরপর সেনারা তাঁর স্বামীকেও হত্যা করে। তখন তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। জাহেদার ভাষ্য, ওই ঘটনার পর তিনি পারভেজকে নিয়ে পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেন। পরদিন অন্য রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তিনি নৌকায় টেকনাফের কাঞ্জরপাড়ায় পালিয়ে আসেন। রাস্তার পাশে তাঁকে কাঁদতে দেখে টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকার আয়ুব নামের এক ব্যক্তি বাড়িতে আশ্রয় দেন। ওই বাড়িতে জন্ম হয় মেয়ে মুনিয়ার। ৬৮ দিন ওই বাড়িতে ছিলেন। মালয়েশিয়ার জাহাজে আনা ত্রাণ বিতরণের খবর পেয়ে গতকাল সকালে তিনি ছুটে আসেন বালুখালীর রোহিঙ্গা শিবিরে। কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শিবিরের কেউ তাঁকে জায়গা দেয়নি। দুই শিশু নিয়ে কোথায় যাবেন ভেবে পাচ্ছেন না। জাহেদার মতো আরও কয়েকজন গতকাল দুপুরে বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরে ঢোকার চেষ্টায় ছিলেন। তাঁদের কেউ শিবিরের পাশের গাছতলায় কেউবা রাস্তার ধারে বসে ছিলেন। কিন্তু কিছু রোহিঙ্গা পুরুষ তাঁদের শিবিরে ঢুকতে দিচ্ছিলেন না। বালুখালী অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের ১ নম্বর ব্লকের মাঝি (নেতা) মোহাম্মদ খলিল বলেন, ডিসেম্বর মাসে বালুখালী পাহাড়ে এই শিবির গড়ে ওঠে। জানুয়ারিতে এই শিবিরে রোহিঙ্গা ছিল প্রায় পাঁচ হাজার। এখন সাত হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মালয়েশিয়া জাহাজে আনা ত্রাণসামগ্রী বিতরণের খবর শুনে রোহিঙ্গা শিবিরে ছুটে আসছেন। কিন্তু শিবিরে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।
মোহাম্মদ খলিল বলেন, এই শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের অনেকে সে দেশের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার। কেউ হারিয়েছেন স্বামী, কেউবা স্ত্রী, কেউবা ছেলেমেয়ে। ২১ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংঘি লি বালুখালী শিবির পরিদর্শন করেন। তাঁকে তাঁরা বলেছেন, নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হলে এই শিবিরের সব রোহিঙ্গা নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাবে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) কক্সবাজার জেলার সমন্বয়কারী সৈকত বিশ্বাস বলেন, আজ শনিবার তৃতীয় দফায় আরও ১ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় উখিয়া ও টেকনাফের দুটি অনিবন্ধিত শিবিরের ৬০০ পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, দুই উপজেলার তিনটি শিবিরে নতুন আসা প্রায় ১৫ হাজার রোহিঙ্গা পরিবার মালয়েশিয়া থেকে পাঠানো ত্রাণ পাবে।

লোহাগাড়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল করে অবৈধ বসতি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া রেঞ্জের আওতাধীন ডলু বিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় আড়াই হাজার একর বনভূমি বেদখল হয়ে গেছে। বনাঞ্চলের ভূমি দখল করে বসবাস করছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ পরিবার। বন বিভাগ সূত্র এ কথা জানিয়েছে। এদিকে বনাঞ্চলের পাহাড় কেটে চলছে মাটি বিক্রি। এ ছাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ পাচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ডলু বন বিট সূত্র জানায়, বিটের আওতাধীন চান্দা, নারিশ্চা, ফারেঙ্গা ও সরইয়া মৌজায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার একর বনভূমি আছে। সরইয়া মৌজার রাজা মিয়া, ইলিয়াছ, জহির উদ্দিন, আবদুর রহমান; নারিশ্চা মৌজায় আহমদ কবির, নাজিম উদ্দিন, মো. মামুন, মোনায়েম, লুৎফর রহমান, জিল্লুর রহমান, আবদুল আলম, কবির আহমদ; চান্দা মৌজায় নুরুল ইসলাম, বদিউর রহমান, মো. মুজিব, মো. হাসান; ফারাঙ্গা মৌজায় সালেহ আহমদ, আবদুর রহমান, মো. পেটান, মো. জকরিয়া, ইসহাক মিয়াসহ অনেকে বনভূমি দখল করে রেখেছেন। নারিশ্চা মৌজায় ১০ একর ভূমি দখল রাখার কথা স্বীকার করে আহমদ কবির বলেন, ‘জায়গাগুলো খালি থাকায় আমরা ১৫ বছর আগে তা দখল করে গাছ লাগিয়েছি। ওই সময় তৎকালীন বিট কর্মকর্তাকে কিছু টাকা দিয়েছি। এ ছাড়া গাছ লাগাতে ও গাছ কাটতে টাকা দিতে হয় বন বিভাগকে।’ সংরক্ষিত বনে বসবাসরত শামসুন্নাহার বলেন, ১০-১২ বছর ধরে এক দখলদারের কাছ থেকে তাঁর স্বামী জায়গাটি কিনেছেন।
তবে কোনো দলিলপত্র নেই। ডলু বিট কর্মকর্তা শিবু দাশ বলেন, ডলু বিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় আড়াই হাজার একর বনভূমি দখলদারেরা অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। এ ছাড়া বনাঞ্চলের ভূমি দখল করে বসবাস করছে দেড় হাজারের বেশি পরিবার। শিবু দাশ বলেন, এই বিটে বর্তমানে জনবল-সংকট আছে। আটজন প্রহরীর মধ্যে আছেন মাত্র তিনজন। তিনি বলেন, অবৈধ দখলদার ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বনভূমি থেকে অবৈধ দখলদারেরা বনের গাছ পাচার করছে। এ ছাড়া ডলু বিটের আওতাধীন নারিশ্চা ও সাতগড় পাটিয়াল পাড়ায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে এসব পাহাড়ি বনাঞ্চলের বড় অংশ বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আবদুল মান্নান সিকদার বলেন, প্রতিনিয়ত বনের জায়গা বেদখল ও কাঠ পাচার হচ্ছে। চুনতি অভয়ারণ্য সহব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইসমাইল মানিক বলেন, পাহাড়গুলোতে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট গাছ ও বনভূমি উজাড় হওয়ার কারণে বন্য প্রাণী হুমকির মুখে পড়েছে। হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য। পদুয়া রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মতলবুর রহমান বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। আর কাঠ পাচারকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারেরা কাউকে টাকা দিয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না। ডলু এলাকায় পাহাড় কাটার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।