Thursday, April 27, 2017

কাশ্মীরে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ

কাশ্মীর উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। কোনোভাবেই তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেন না। এ প্রেক্ষাপটে সেখানে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজ্য সরকার। সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, হোয়াটস অ্যাপ, ফেসবুক, স্ন্যাপ চ্যাট, টুইটারসহ যাবতীয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারবেন না কাশ্মীরের বাসিন্দারা। প্রশাসনের দাবি, এই সোশ্যাল মিডিয়া মারফতই অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে উপত্যকায়। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধাচারণের উস্কানিতে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সে কারণেই এই নয়া নির্দেশিকা। গত এক মাস ধরেই ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রয়েছে কাশ্মীরে।
সেক্ষেত্রেও এই একই কারণ বলা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় আরো জানানো হয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে। গত কয়েক মাস ধরেই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কাশ্মীরের একাধিক জায়গায় প্রতিরোধ গড়ে তুলছে উপত্যকার বাসিন্দারা। ছাত্র–যুবদের প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। একাধিক জায়গায় সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ার ঘটনা বাড়ছে। কয়েকদিন আগেই শ্রীনগরের উপনির্বাচনে ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয় সেনাবাহিনীকে। প্রকাশ্য রাস্তায় সেনা জওয়ানদের মারধর করতে দেখা গিয়েছে উপত্যকার যুবকদের।

কাশ্মীরি যুবকদের আজহারউদ্দিনের পরামর্শ

পাথর ছুঁড়ে জম্মু ও কাশ্মীরের সমস্যার সমাধান হবে না। যুবকদের উচিত নিজেদের শক্তিকে গঠনমূলক কাজে ব্যবহার করা। এমনটাই মনে করেন প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রাজনীতিবিদ মুহাম্মদ আজহারউদ্দিন। তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত রাজ্যবাসীর কাছে পৌঁছে যাওয়া। বারামুল্লা জেলায় সেনাবাহিনীর আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন আজহার ও অভিনেত্রী দিয়া মির্জা।
তারই ফাকে আজহার বলেন, রাজনৈতিক উদ্যোগ অবশ্যই হওয়া উচিত। কারণ, সেটা না থাকলে এধরনের হিংসা চলতেই থাকবে। তার মতে, পাথর ছুঁড়ে কাশ্মীরি যুবকদের কোনো লাভ না। তিনি বলেন, ‘আমি বরাবর পাথর-ছোঁড়ার বিরুদ্ধে। সৃষ্টিকর্তা আপনাকে যুবশক্তি দিয়েছেন, আর আপনি তা পাথর ছুড়ে নষ্ট করছেন। কী পাবেন এসব করে? এক বা দু’বছর ধরে পাথর ছুঁড়বেন, তারপর কী হবে? বদলে এই যুবাবস্থাকে কোনো ভালো কাজে ব্যবহার করা উচিত। শিক্ষালাভ করে প্রতিভার সদ্ব্যবহার করুন। তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল।’

সিরিয়ায় অস্ত্র গুদামে ইসরাইলি হামলা

দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি অস্ত্র গুদামে বিস্ফোরণ ঘটেছে। ‌ইসরাইলি বিমান হামলায় এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে সিরিয়ার একটি সূত্র আলজাজিরাকে জানিয়েছে। ওই গুদামটি ছিল বাশার আল আসাদ সমর্থক লেবাননের হিজবুল্লাহ গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে দামেস্ক নগরী থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে এই গুদামে হামলা পাঁচবার বিমান হামলা চালানো হয়। তবে সিরিয়া সরকার এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছু জানায়নি। বলা হয়ে থাকে, লেবাননের হিজবুল্লাহ সংগঠনের তদারকিতে থাকা ওই অস্ত্র ভান্ডারটিতে অস্ত্রের জোগান দিত ইরান। রাশিয়া ও আসাদ বাহিনীর পক্ষেই সিরিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে তেহরান। রয়েছে লেবাননে শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাও। আসাদবাহিনীর হয়ে যুদ্ধে নেমেছে তাদের হাজার হাজার সেনা। তাই তেহরান থেকে কার্গো বিমানে করে ওই অস্ত্র ভান্ডারে নিয়মিত অস্ত্রশস্ত্র এসে পৌঁছত।  বিমান হানার জন্য লেবাননের সংবাদমাধ্যম ইসরাইলকে দুষলেও,
বরাবরের মতো কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তবে সে দেশের গোয়েন্দা দপ্তরবিষয়ক মন্ত্রী ইসরেল কাৎজ একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, হিজবুল্লার হাতে যাতে কোনোরকম বিধ্বংসী অস্ত্র না পৌঁছয় সেজন্যই এই হামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের হামলায় প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হলেও, প্রাণহানি হয়নি বলে জানিয়েছে লেবাননের আল–মানার টিভি চ্যানেল। সিরিয়ায় ব্রিটেনের মানবাধিকার সংক্রান্ত নজরদারি সংস্থার মুখ্য কর্মকর্তা রামি আব্দেল রহমান বলেছেন, ‘‌দামেস্কসের ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে বিমানবন্দরটি অবস্থিত। কিন্তু বিস্ফোরণের তীব্রতা পৌঁছেছে রাজধানীর অভ্যন্তরেও। তীব্র শব্দে সাত সকালে ঘুম ভেঙেছে সেখানকার বাসিন্দাদের।’‌ ২০১১ সালে থেকে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলছে। সেনা ও বিদ্রোহীদের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত তাতে ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

টাকার জন্য রোগী আটকে রাখা যাবে না : ভারতীয় হাইকোর্ট

হাসপাতালের বিল পুরোপুরি না মেটানো পর্যন্ত রোগীদের প্রায় আটক করে রাখার যে প্রবণতা এখন দেখা যাচ্ছে তার তীব্র নিন্দা করে ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট রায় দিয়েছে, বকেয়া বিলের কারণে কোনো রোগীকে আটক করে রাখা যাবে না। বুধবার দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণার সময় এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি বিপীন সাঙ্ঘি এবং দীপা শর্মার একটি বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিল মেটানো হোক বা না হোক রোগী সুস্থ হয়ে গেলে অথবা অসুস্থ রোগীকে তার পরিবারের লোক অন্যত্র নিয়ে যেতে চাইলে তাকে জোর করে আটকে রাখা যাবে না। রোগী আটকে বকেয়া বিল আদায় করার ‘মোডাস অপারেন্ডি’ কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। মধ্য দিল্লির গঙ্গা রাম হাসপাতালকে হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের এই ব্যবহার আদালত মেনে নেবে না।
যে রোগীকে কেন্দ্র করে অভিযোগ উঠেছিল তাকে অবিলম্বে রিলিজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাসপাতালকে। দিল্লির রাজ্য সরকারের সিনিয়র স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল রাহুল মেহরাও হাসপাতালগুলোর এই ব্যবহারের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। যাকে কেন্দ্র করে আদালতের এই রায় তিনি মধ্যপ্রদেশ পুলিশের প্রাক্তন কর্মী। এন্টারোকিউটেনিয়াস ফিসচুলার সমস্যা তিনি ভর্তি হয়েছিলেন। তার ছেলের অভিযোগ অন্যায্য টাকার দাবিতে তার বাবাকে আটক করে রাখে হাসপাতাল। তাদের কাছে ১৩.৪৫ লাখ টাকার দাবি করা হয় কিন্তু চিকিৎসার বেলায় হাসপাতালের চরম গাফিলতি দেখা যায়। পরে পুলিশে নালিশ করার পরে ২১ এপ্রিল অস্ত্রোপচার করা হয় রোগীর। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

সিরিয়ায় বিমানবন্দরের কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণ

সিরিয়ার দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছের একটি এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার বিষয়ক সিরীয় পর্যবেক্ষণ সংস্থা একথা জানিয়েছে। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক এ পর্যবেক্ষণ গ্রুপের প্রধান রামি আব্দেল রাহমান বলেন, ‘বিস্ফোরণটি অনেক শক্তিশালী ছিল এবং দামেস্ক থেকে এ বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি সিরিয়ার রাজধানীর প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। সেখানে বিস্ফোরণের পরই আগুন ধরে যায়। এতে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি এবং বিস্ফোরণের কারণও জানা যায়নি। উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় ব্যাপক সঙ্ঘাত চলছে। ছয় বছরের বেশি সময় ধরে চলা এ সঙ্ঘাতে তিন লাখ ২০ হাজারের অধিক লোক প্রাণ হারিয়েছে। কিন্তু তারপরও দেশটিতে সঙ্ঘাত নিরসনের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

আলোচনায় বসাতে উ. কোরিয়াকে চাপ দিবে যুক্তরাষ্ট্র

উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র বুধবার দেশটির ওপর অবরোধ আরো জোরদারের অঙ্গীকার করেছে। হোয়াইট হাউসে সিনেটরদের ব্রিফিং শেষে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, কোরীয় উপদ্বীপের সমস্যা সমাধানে মিত্র ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগণ প্রধান জিম ম্যাটিস, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ও জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক ড্যান কোটস এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে দেশটির ওপর চাপ বাড়ানোর জন্যে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল সদস্যদের নিয়োজিত করেছি।’
এর আগে প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান এডমিরাল হ্যারি হ্যারিস ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের উত্তেজনা কমাতে চীনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং একইসাথে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে মত দেন। এদিকে উত্তর কোরিয়া তার সামরিক বাহিনীর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সবচেয়ে বড় আকারে সামরিক মহড়ার আয়োজন করে, যা প্রত্যক্ষ করেন দেশটির নেতা কিম জং উন। দেশটির সরকারি সংবাদ মাধ্যম বুধবার এ কথা জানায়। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়াও ব্যাপকভাবে বার্ষিক সামরিক মহড়ার আয়োজন করে। এতে মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় প্রায় দুই হাজার সৈন্য অংশ নেয় বলে জানায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো আমেরিকা

মার্কিন বিমান বাহিনী পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম একটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র এবং পরমাণু পরীক্ষা নিয়ে যখন উত্তর কোরিয়ার সাথে উত্তেজনা তুঙ্গে তখন পরীক্ষা চালানো হলো। এতে চলমান উত্তেজনা আরেক দফা বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মিনিটম্যান-৩ নামের ক্ষেপণাস্ত্র ভ্যাডেনবার্গ বিমান ঘাঁটি থেকে ছোঁড়া হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলসের ১৩০ উত্তর-পশ্চিমে এ ঘাঁটি অবস্থিত। ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের ওয়াজালেইন অ্যাটোলের একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।
মার্কিন বিমান বাহিনী বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা, প্রস্তুতি এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যে আঘাত হানার সক্ষমতা যাচাইয়ে এ পরীক্ষা চালানো হয়। পরমাণু সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য নিয়মিত এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করতে হয়। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এ পরীক্ষার সময় নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পিয়ংইয়ংয়ের সাথে যখন টানাপড়েন চলছে তখন এ রকম পরীক্ষাকে ওয়াশিংটনের দ্বিমুখী নীতি হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, একদিকে ওয়াশিংটন নিজের পরীক্ষাকে ন্যায়সঙ্গত এবং উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষাকে হুমকি প্রমাণ করতে চাইছে। সূত্র : ওয়েবসাইট

ভারতে কমান্ডোবাহী সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

বুধবার ভারতের ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার চিন্তাগুড়া জঙ্গলে কোবরা কম্যান্ডোসহ এক হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ল। এই ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কোবরা কম্যান্ডোর দুই কর্মকর্তা ও তিনজন কম্যান্ডো আহত হয়েছেন এই ঘটনায়। চিকিৎসার জন্য তাদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সিআরপিএফ ক্যাম্পের কাছেই বুধবার হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ে। যদিও এই ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। সোমবার সুকমায় ৩০০ মাওবাদীদের হামলায় নিহত হন ২৫ সিআরপিএফ জওয়ান। ৯৯ জন জওয়ান সেই সময় ওই অঞ্চলে টহল দিচ্ছিলেন। মাওবাদীরা অত্যাধুনিক অস্ত্র ও রকেট লঞ্চার নিয়ে হামলা চালায়। প্রায় দু’‌ঘন্টা ধরে জওয়ানদের সঙ্গে মাওবাদীদের লড়াই চলে।

টাঙ্গাইলে দুর্ঘটনায় ২ ট্রাক চালক নিহত

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই চালকের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন এক সহকারী। বৃহস্পতিবার সকালে কালিহাতীর ভাবলা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বলে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ওসি মো. আছাবুর রহমান জানান, একটি ট্রাক ঢাকা থেকে পেঁয়াজ নিয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল।
আর অন্যটি কুরিয়ার সার্ভিসের মালামাল নিয়ে ঢাকার দিকে যাবার পথে ভাবলা এলাকায় দুই বাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে হয়। এতে দুই ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। দুই চালকের মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলেই। পরে এক ট্রাকের চালকের সহকারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

ভালুকায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ১জন নিহত, আহত ২

ময়মনসিংহের ভালুকায় ট্রাক-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও মহিলাসহ দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভালুকা উপজলার বাগরাপাড়া নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। হাইওয়ে পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ঢাকাগামী ট্রাক (ঢাকা-মেট্রো-ট-১৩-১৬২৯) ও ময়মনসিংহগামী একটি পিকআপের (ঢাকা মেট্রো-ন-১৮-৭৫৭১) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ময়মনসিংহের কতোয়ালী থানার চরঈশ্বরদী গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৬) মারা যান। আহতরা হলেন, ময়মনসিংহ কতোয়ালী থানার চরঈশ্বরদী গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩০) ও গফরগাঁও উপজেলার রাগাইচুটি গ্রামের আব্দুল আলীমের স্ত্রী হেনা আক্তার (৪৫)। তাদেরকে আশংকাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভরাডোবা হাইওয়ে ফাড়ির এসআই আবুল খায়ের জানান, ট্রাক ও পিকআপটি দুটি ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

টঙ্গীতে মহাসড়ক অবরোধ

গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। দুই স্কুল শিক্ষককে অপসারণের প্রতিবাদে ও তাদের পুণর্বহালের দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে টঙ্গী বাজার সংলগ্ন বাটা গেটের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। এর আগে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।
গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর (টিআই) মো. কাওছার আলম জানান, টঙ্গীর আশরাফ টেক্সটাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে অপসারণ করে স্কুল পরিচালনা কমিটি। এর প্রতিবাদে ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টঙ্গী থানা ও ট্রাফিক পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে বলে জানান তিনি।

পাবনায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

পাবনায়ে এক ব্যবসায়ীকে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। জেলা শহরের শিবরামপুর মহল্লার মুজাহিদ ক্লাবপাড়ায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতের নাম  ফারুক হোসেন (৪৫)। তিনি বেকারি ব্যবসায়ী। পুলিশ জানায়, ফারুক নিজেই বেকারির পণ্য তৈরি ও বিক্রি করতেন।
সকালে তিনি পণ্য নিয়ে বাড়ি থেকে বের হলে বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ছুরিকাঘাত করে ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন ফারুককে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তবে হত্যার কারণ ও হত্যাকারীদের সম্পর্কে জানা যায়নি।

উগ্রবাদী আস্তানায় ফের অভিযান : গুলির শব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের ত্রিমোহিনী শিবনগর গ্রামে উগ্রবাদী আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়িতে ফের অভিযান শুরু হয়েছে। আজ সকালে পুলিশের বিশেষায়িত দল সোয়াটের জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এরপর সকালে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শোনা গেছে। আগে কাল বুধবার রাত নয়টার দিকে ‘ইগল হান্ট’ নামের এই অভিযান স্থগিত করা হয়।
স্থানীয় লোকজন জানান, বাড়িটি থেকে রাতে ও ভোরে কয়েক দফা গুলির ভেসে আসে। সকাল নয়টার পর সেখান থেকে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ আসে। জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে গতকাল ভোর থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখেন জেলা পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গতকাল ভোর থেকে ঘটনাস্থলের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তা বজায় থাকবে বলে মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হয়।

'ডিজিটাল আইল্যান্ড' হতে যাচ্ছে মহেশখালী

বাংলাদেশের উপকূলবর্তী দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীকে 'ডিজিটাল আইল্যান্ড' হিসেবে রূপান্তরের জন্য একটি কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ। এর উদ্যোক্তা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বা আইওএম বলছে, এটি বাস্তবায়িত হলে শহরের ভালো চিকিৎসক ও শিক্ষকদের সহায়তা পাবে স্থানীয়রা। সংস্থাটির বাংলাদেশ মিশনের প্রধান শরত দাস জানান, মূলত উচ্চ গতির ইন্টারনেটের মাধ্যমে দ্বীপের মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করবেন তারা। তিনি বলেন, দ্বীপগুলোতে সুযোগ সুবিধা খুব কম থাকে,
আর সে কারণে মহেশখালীতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষকে সুযোগ সুবিধা দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও ই-কমার্স এ তিনটি খাতে বিশেষভাবে দ্বীপবাসীকে সহায়তা করা হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক স্কুল আছে কিন্তু দ্বীপ হওয়ার কারণে যোগ্যতা সম্পন্ন লোকজন যেতে চায় না। তাই সেখানে সেবার মান বাড়ানো হবে।

ভয়াবহ রূপ নিয়েছে চেক জালিয়াতি

ব্যাংকের চেক জালিয়াতির ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতি মাসেই ২০ থেকে ২৫টি চেক জালিয়াতির অভিযোগ আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র চেক জালিয়াতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আবার মেয়াদি হিসাব জামানত রেখে ঋণ সৃষ্টি, অতঃপর ভুয়া চেকের মাধ্যমে অর্থ অন্য হিসাবে স্থানান্তরের ঘটনা অহরহ ঘটছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের হিসাবে অর্থ ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও অনেক ব্যাংক বিভিন্ন অজুহাতে তা মানছে না। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের নামে ব্যাংক প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার অভিযোগ উঠেছে। এমনি পরিস্থিতিতে চেক জালিয়াতি ঠেকাতে ব্যাংকগুলোর জন্য কঠোর নির্দেশনা আসছে। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিতব্য ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের বৈঠকে গভর্নর ফজলে কবির কঠোর বার্তা দেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে চেক জালিয়াতির ঘটনা হঠাৎ বেড়ে গেছে। গত অর্থবছরে চেক জালিয়াতিসংক্রান্ত অভিযোগ ছিল ২০৯টি। আর এবার প্রতি মাসেই ২০ থেকে ২৫টি চেক জালিয়াতিসংক্রান্ত অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্রে (সিআইপিসি) জমা পড়েছে। গত অর্থবছরে চেকসংক্রান্ত অভিযোগের বেশির ভাগই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যস্থতায় নিষ্পত্তি করা হয়েছিল।একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র অহরহই এ চেক জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকের হিসাব থেকে লাখ লাখ টাকা তুলে নিচ্ছে। গ্রাহকের চেকের বইয়ের পাতা হুবহু নকল কিভাবে করে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের তদন্তে চেক জালিয়াতির সাথে চেক প্রস্তুতকারী কিছু কোম্পানি লোকজন জড়িত থাকতে পারে বলে তাদের কাছে মনে হয়েছে। আর এ কাজে সহযোগিতা করছে ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা। বিভিন্ন সময়ে তদন্তে এর সত্যতাও মিলছে। এ ছাড়া গত মাসে এক সার্কুলারে চেক জালিয়াতি ইস্যুতে গ্রাহককে সুরক্ষা ও তার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে। ওই সার্কুলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বীকার করে বলেছে, চেক জাল করে গ্রাহকের হিসাব হতে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি বা প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। ব্যাংকের কিছু কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে এ ধরনের ঘটনা সংঘটিত হতে পারে। তা ছাড়া চেকের পাতা বা চেকবই চুরি করে, চেক জালিয়াতি বা সিস্টেমের ত্রুটিজনিত কারণে এবং আইটি সিস্টেম অপব্যবহারের মাধ্যমেও এ ধরনের ঘটনা সংঘটিত হতে পারে। এতে আরো বলা হয়, সাধারণত অর্থ জালিয়াতির ঘটনা উদঘাটিত হওয়ার সাথে সাথে ব্যাংক কর্তৃক আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নিষ্পত্তি সময়সাপেক্ষ বিধায় এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিজস্ব তদন্তে গ্রাহকের কোনোরূপ সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হলে গ্রাহকের কাছ থেকে মুচলেকা (ইনডেমনিটি বন্ড) গ্রহণপূর্বক আত্মসাৎকৃত অর্থ গ্রাহককে প্রদান করা যুক্তিযুক্ত হবে। সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক ব্যবস্থার নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রাহকের চেক ইস্যুতে ম্যাগনেটিক ইঙ্ক ক্যারেক্টর রিকগ্নিশন (এমআইসিআর) বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরও নকল চেকের প্রবণতা ঠেকানো যাচ্ছে না।
ব্যাংক গ্রাহককে নির্দিষ্ট পাতার একটি চেক বই হস্তান্তর করে। কিন্তু এর মধ্যে একই সিরিয়ালের কয়েকটি ভুয়া পাতা তৈরি করা হচ্ছে। ডুপ্লিকেট ওই পাতা ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছে। তবে অর্থ হস্তান্তরের আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের স্বাক্ষর যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যাংকের উদাসীনতা রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার প্রমাণও পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, সাধারণ চেকের জালিয়াতি ঠেকানো ও লেনদেনে গতি আনতে ম্যাগনেটিক ইঙ্ক ক্যারেক্টার রিকগ্নিশন (এমআইসিআর) নামের আধুনিক চেক বাংলাদেশে চালু করা হয় ২০০৯ সালে। তবে ২০১০ সালের এপ্রিল থেকে তা সব ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়। সূত্র বলছে, অনলাইন ব্যাংকিং চালু, এমআইসিআর চেক প্রচলন ও অটোমেটেড কিয়ারিং হাউজ চালু হওয়ার পর ব্যাংকিং খাতে চেক নিষ্পত্তিতে নতুন গতি পায়। অনলাইন ব্যাংকিংয়ের কারণে গ্রাহকেরা যে শাখায় অ্যাকাউন্ট, সেই শাখা ছাড়াও ব্যাংকের অনলাইনভুক্ত অন্যান্য শাখা থেকেও টাকা তুলতে ও জমা দিতে পারেন। এতে চেক উপস্থাপনকালীন সময়ে তা যাচাইয়ের জন্য ফিজিক্যালি প্লেস ব্যাংকের কাছে যেতে হয় না। ইমেজ দেখেই সব কিছু করে থাকে পেয়িং ব্যাংক। ফলে চেকের যেকোনো ধরনের টেম্পারিং সহজে বোঝার উপায় থাকে না। তা ছাড়া বাজারে এমন কিছু কেমিক্যাল পাওয়া যায়, যা দিয়ে আসল চেকের অনেক তথ্য তুলে ফেলা যায়। পরে পছন্দমতো নামে সেই চেক হুবহু প্রিন্ট করা যায়। সিগন্যাচারও স্ক্যান করা যায়। এ জন্য চেক জালিয়াতি করেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে জালিয়াতচক্র। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, চেক জালিয়াতির ঘটনা নিয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে সম্প্রতি কোনো একটি ব্যাংকের গ্রাহক আবেদন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছেন তিনি। সেই আলোকে ব্যাংকার্স সভায় এ-সংক্রান্ত একটি এজেন্ডা রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন গভর্নর।

টেকসই উন্নয়নে ২৬ ভাগ উপাত্ত নেই

টেকসই উন্নয়নের অভিষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশ তথ্য উপাত্ত ঘাটতিতে ভুগছে। ২৩০টি সুচকের মধ্যে মাত্র ৭০টির উপাত্ত রয়েছে। ৬৩ টি সূচকের বা ২৬ শতাংশ উপাত্ত ঘাটতিতে রয়েছে বলে বেরিয়ে এসেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারন অর্থনীতি বিভাগের গবেষনায়। আর ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের মতে, হাওরের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত তিনটি গবেষনা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তাতে এসব বেরিয়ে আসে। প্রতিবেদনগুলো হলো, এসডিজি বাস্তবায়নে উপাত্ত ঘাটতি বিশ্লেষণ: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত, ব্যাংকিং অ্যাটলাস এবং হাওরাঞ্চলের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারন অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ও সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বক্তব্য রাখেন, তত্ত্বাবধান সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মূখার্জি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ'র অধ্যাপক মনির খসরু, ডিজি বিআইবিএম ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, ইউনাইটেড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হামিদুল হক, ডিজি বিআইডিএস ড. কেএস মুরশিদ প্রমূখ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এসডিজি ও এর লক্ষ্যমাত্রাসমূহ বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিবীক্ষন ও মূল্যায়নে উল্লেখযোগ্য পরিমানে উপাত্ত ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। এসডিজি সূচকের মাত্র এক-তৃতীয়াংশের উপাত্ত বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছে।
বাকি দুই-তৃতীয়াংশ উপাত্ত আংশিক ভাবে বিদ্যমান ও অনুপস্থিত। প্রতিবেদন বলছে, এসডিজির ১৭টি বৈশ্বিক অভীষ্টেরর অধীনে ১৬৯টি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয় ২৩০টি সূচকের সাধ্যমে। বাংলাদেশ ২৪০ টি সূচক দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়েছে। যার মধ্য ৭ টি সূচক দুবার ও দুটি সূচক তিনবার এসেছে। দেখা যায়, এখন বাংলাদেশে ৭০টি সূচকের উপাত্ত বিদ্যমান। ১০৮টি সূচকের উপাত্ত আংশিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। বাকী ৬৩টি সূচকের উপাত্ত একেবারেই নেই। মোট উপাত্তের ২৯ ভাগ পাওয়া গেছে। ৪৫ ভাগ আংশিক পাওয়া গেছে। ২৬ ভাগ উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে না। ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, হাওর এলাকার জন্য পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। এই এলাকার জন্য আন্ত: মন্ত্রণালয়েরর সমন্বয়ের প্রয়োজন। তিনি বলেন, হাওর এলাকা ছাড়া আমাদের দেশে মুক্ত জলাশয় অার অবশিষ্ট্য নেই।

মৃধাসহ তিনজনের ৪ বছর জেল

রেলে নিয়োগে দুর্নীতির দুই মামলায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (বরখাস্ত) ইউসুফ আলী মৃধাসহ তিন আসামির দুই বছর করে মোট চার বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মীর রুহুল আমিন এই রায় ঘোষণা করেন।
দুই মামলায় মোট পাঁচজন আসামি খালাস পেয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত বাকি দুই আসামি হলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক সিনিয়র ওয়েলফেয়ার কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া ও সাবেক অতিরিক্ত প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান। দুই মামলায় কারাদণ্ড ছাড়া তিন আসামির প্রত্যককে ১০ হাজার করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ডেভিড ক্যামেরন ঢাকায়

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন। বুধবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (ইউরোপ) মোঃ খোরশেদ আলম খাস্তগীর বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের এই প্রথম সফরে ক্যামেরন আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ডেভিড ক্যামেরন যুক্তরাজ্যের ফ্র্যাগিলিটি, গ্রোথ এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক আইজিসি কমিশনের চেয়ারম্যান। দিনের শেষে ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার (আইজিসি)-এ এক গোলটেবিল আলোচনায় যোগ দেবেন তিনি। এই প্রতিষ্ঠানটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর টেকসই প্রবৃদ্ধির সহায়তায় নীতিমালা তৈরিতে সহায়তা করে থাকে। ক্যামেরন ডিএফআইডি’র অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প ও একটি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করবেন।
উল্লেখ্য, ডেভিড ক্যামেরন ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  সূত্র : বাসস

কামরাঙ্গীরচর থেকে অপহৃত শিশু ২৫ দিন পর উদ্ধার

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে অপহৃত শিশু সুমাইয়াকে ২৫ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর কদমতলী থানার জুরাইনের রহমতবাগ এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সুমাইয়ার বাবা জাকির হোসেন সাংবাদিকদের একথা জানিয়ে বলেন, তার মেয়ে এখন থানায় রয়েছে।
কামরাঙ্গীরচর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় ফাতেমা আক্তার বৃষ্টি, সিরাজুল ইসলাম বাবুল, আনিসুর রহমান, বিল্লাল হোসেন ও নাছির নামের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ জুরাইন রহমতবাগ এলাকার দক্ষিণ ধনিয়ায় কামাল মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ির ভাড়াটিয়া সিরাজুল ইসলামের ঘর থেকে সুমাইয়াকে উদ্ধার করা হয়। গত ২ এপ্রিল কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ছয় বছরের সুমাইয়া। এ ব্যাপারে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা হয়। এর পর থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।

ভারতের আদানি গ্রুপের কাছ থেকে চড়া দামে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে

ভারত থেকে অধিক দামে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার বিদ্যুৎ কিনবে সরকার। ভারতের ঝাড়খণ্ডে নির্মিতব্য ১৬০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এ বিদ্যুৎ কেনা হবে। এ বিদ্যুৎ কেনা হবে ভারতের আলোটিত ‘আদানি’ গ্রুপের কাছ থেকে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮৯ টাকা। যা দেশীয় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ট্যারিফ মূল্যের চেয়ে বেশি। কয়লাভিত্তিক দেশীয় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড’-এর ট্যারিফ মূল্য থেকে ২৯ পয়সা বেশি।২৫ বছর মেয়াদি এ বিদ্যুৎ কেনায় বাংলাদেশের ব্যয় হবে এক লাখ ৯০ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা। সচিবালয়ে গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। জানা গেছে, ভারতের ঝাড়খণ্ডে নির্মিতব্য ১৬০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সাথে ২০১০ সালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সমঝোতা চুক্তি সই হয়। এ চুক্তির আওতায় ওই বিদ্যুৎ আসবে বাংলাদেশে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঝাড়খণ্ড কেন্দ্র থেকে আমদানি করা প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টা বিদ্যুতের ট্যারিফ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে আট দশমিক ৬১ সেন্ট। যা বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়াবে ছয় টাকা ৮৯ পয়সা। সূত্র মতে, ঝাড়খণ্ড বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টা বিদ্যুতের ট্যারিফ মূল্য যা বাংলাদেশী টাকায় দাঁড়াবে ছয় টাকা ৮৯ পয়সা, যা দেশীয় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এস আলম পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেড’-এর ট্যারিফ মূল্য থেকে ২৯ পয়সা বেশি। সূত্র জানায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর বিদ্যুতের চাহিদা ১০ শতাংশ থেকে ১৪ শতাংশ হারে বাড়ছে। পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান-২০১০ এ ২০২১ সালের ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুতের এ বর্ধিত চাহিদা পূরণের সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের এক প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তা ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন জ্বালানি উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কৌশলও নির্ধারণ করছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ঘাটতি দূর করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইন-২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইনের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ক্রয়ের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে একটি প্রক্রিয়াকরণ কমিটি গঠন করা হয়। এ আইনের আওতায় গঠিত প্রক্রিয়াকরণ কমিটির গৃহীত পরিকল্পনা ও প্রস্তাবগুলো কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ২০১৫ সালে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। সূত্র জানায়, আদানি পাওয়ার লিমিটেড ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিতব্য ১৬০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি একটি কম্প্রিহেনসিভ টেকনো-কমার্শিয়াল প্রস্তাব ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে দাখিল করে।
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ২০১০ সালে বিদ্যুৎ খাত সহযোগিতাবিষয়ক একটি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় আদানি পাওয়ার লিমিটেড কর্তৃক ভারতের যেকোনো উপযুক্ত স্থানে ১৬০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে ডেডিকেটেড অল্টারনেটিভ কারেন্ট (এসি) সঞ্চালন লাইন নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশে রফতানির উদ্যোগ নেয়। এ বিদ্যুৎ ক্রয়ের লক্ষ্যে ২০১৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো) ও ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেডের মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। ওই এমওইউর অধীনে আদানি পাওয়ার লিমিটেড কর্তৃক ভারতের ঝাড়খন্ড থেকে বাংলাদেশ সীমানা পর্যন্ত নির্মিতব্য ডেডিকেটেড সঞ্চালন লাইনের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করে ২০১৬ সালে একটি দরপ্রস্তাব দাখিল করে। সূত্র জানায়, বিউবো, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি) এবং কারিগরি কমিটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুস্পষ্ট মতামত দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। বিউবো ২০১৬ সালের মার্চ মাসে বোর্ড সভায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইন-২০১৫ এর আলোকে ট্যারিফ নোগোশিয়েশনের সুপারিশ করে। পিজিসিবি ভারতের ঝাড়খন্ড থেকে বগুড়া পর্যন্ত ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইনের আনুমানিক ১৪৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এবং আনুমানিক ৯০ কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে নির্মাণ করতে হবে। কারিগরি কমিটির সুপারিশে আদানি পাওয়ার লিমিটেড কর্তৃক ভারতের ঝাড়খন্ডে ২৮০০=১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণপূর্বক বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তাবটি কারিগরি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় আর্থিকভাবে নির্বাচিত বলে মতামত দেয়া হয়েছে।

মৃধাসহ তিনজনের ৪ বছরের কারাদণ্ড

অনিয়ম ও দুর্নীতির দুই মামলায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক জিএম ইউসুফ আলী মৃধাসহ তিনজনকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মীর রুহুল আমিন এই রায় ঘোষণা করেন। মামলা দুটি হল- সহকারী কেমিস্ট এবং ফুয়েল চেকার পদে নিয়োগ দুর্নীতি।

২৪ দিন পর মা-বাবার কোলে ফিরল সুমাইয়া

রাজধানীর উপকণ্ঠ কামরাঙ্গীরচর এলাকার বড়গ্রাম বাসার সামনের রাস্তা থেকে নিখোঁজ শিশু সুমাইয়াকে কদমতলী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দিনগত রাত ২টার দিকে কদমতলী থানাধীন রহমতবাগ দক্ষিণ দনিয়া কামালের বাড়ি থেকে সুমাইয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সিরাজুল ইসলাম ও সাবিনা আক্তার বৃষ্টি নামের দু'জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়।
সুমাইয়ার বাবা জাকির হোসেন জানান, মেয়েকে ফিরে পেয়ে তিনি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও ধন্যবাদ জানান। বৃহস্পতিবার সকালে  ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান এ তথ্য জানান। প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল কামরাঙ্গীরচর এলাকার বড়গ্রাম বাসার সামনের রাস্তা থেকে নিখোঁজ হয় সুমাইয়া (৫)। এরপর তার বাবা থানায় প্রথমে একটি সাধারণ ডায়েরি বরলেও পরে অপহরণের মামলা দায়ের করেন।

এবার ইউনাইটেড এয়ারে মরল দৈত্যাকার খরগোশ

এশিয়ান যাত্রীকে মারধর এবং টেনে-হিঁচড়ে নামানোর পর নতুন বিতর্কে জড়ালো মার্কিন বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স। যাত্রীবাহী বিমানটির পোষা প্রাণী সংরক্ষণাগারে একটি ৩ ফুট লম্বা দৈত্যাকার খরগোশের মৃত্যুতে সৃষ্টি হয়েছে এ নতুন বিতর্ক। জানা যায়, দৈত্যাকার খরগোশটির নাম সিমন্স। এটি পৃথিবীর অন্যতম বড় খরগোশের একটি। তবে বিমান সংস্থাটির পক্ষে দাবি করা হয়েছে, লন্ডন থেকে শিকাগো বিমানবন্দর পর্যন্ত খরগোশটি সুস্থ মতেই এসে পৌঁছায়। পরে যখন মালিকের হাতে খরগোশটি হস্তান্তর করা হবে তখনই বাধে বিপত্তি। মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় খরগোশটিকে।
গত ২০ এপ্রিল এ ঘটনা ঘটলেও বুধবার 'সান' নামের একটি দৈনিকে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। দৈনিকটিকে সিমন্সের পালক, প্লে বয় মডেল অ্যানেট এডওয়ার্ডস বলেন, 'আমি খরগোশ সিমন্সকে নিয়ে বিভিন্নস্থানে গিয়েছি। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। ওই দিনও বিমানে ওঠার আগ পর্যন্ত সিমন্স পুরো সুস্থ ছিল। কিন্তু পরে তাকে মৃত হিসেবে পাওয়া যায়। আমার বিশ্বাস তার সঙ্গে খুব খারাপ একটা কিছু হয়েছে। বিষয়টি আমাকে জানতেই হবে।' এদিকে খরগোশটির মৃত্যুর পর বিতর্ক ধামাচাপা দিতে খরগোশের মালিককে ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছিল বিমান সংস্থাটি। তবে খরগোশটির মালিক তা নেননি।

কাশ্মীরের সেনাক্যাম্পে ফের হামলা, ৩ সেনা নিহত

ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু কাশ্মীরের এক সেনাক্যাম্পে ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় এক সেনা কর্মকর্তাসহ তিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিতে মারা গেছে দুই হামলাকারি। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে কাশ্মীরের কুপওয়ারার সেনাক্যাম্পে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ভারত-পাকিস্তানের সীমান্তরেখার কাছাকাছি এ সেনাক্যাম্পটির অবস্থান। খবর এনডিটিভি। ভারতীয় সেনা সূত্রে জানা গেছে, ভোর ৪টার দিকে সেনাক্যাম্পে হামলা চালানো হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় চার ঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধ চলে।
এসময় এক সেনা কর্মকর্তাসহ তিন সেনা সদস্য ও হামলাকারিদের দুইজন নিহত হন। হামলার পর ওই এলাকায় তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। এর আগে গত বছর উরিতে ভারতীয় সেনাক্যাম্পে হামলায় ১৯ সেনাসদস্য নিহত হয়েছিলেন। ওই হামলাকারীরা পাকিস্তান থেকে এসেছিল বলে দাবি করেছিল ভারত। এ ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এলে বাংলাদেশ সীমান্ত সিলগালা হবে : অমিত শাহ

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করে দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। বুধবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আসামে ক্ষমতায় এসে গরু পাচার আর অনুপ্রবেশ বন্ধ করেছি। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে তাই করব।’ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ নিয়ে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসে অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে পারেনি। বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার অনুপ্রবেশ যেমন করছে, তেমনই নকল নোটও আসছে।’

আল কায়দার বাংলাদেশ প্রধান আফগানিস্তানে নিহত!

আল কায়দার বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান তারিক ওরফে সোহেল ও তার পাঁচ সহযোগী আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিহত হয়েছেন। আল কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার (একিউআইএস) প্রধান অসিম ওমর এক অডিও বার্তায় এ দাবি করেছেন। মঙ্গলবার ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ অ্যাপ টেলিগ্রামে এ অডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়। পরে অনলাইনে ইংরেজি ভার্সনে তা প্রকাশ করা হয়। তবে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।

কাশ্মীর কি ভারতের হাতছাড়া হতে চলেছে?

ভারতের সবচেয়ে অশান্ত এলাকা কাশ্মীরে আবারও এসেছে গ্রীষ্মকাল। ভাষ্যকাররা যাকে দেখছেন সহিংসতার আরেকটি গ্রীষ্মকাল হিসেবে। আর একই সঙ্গে আবার ফিরে এসেছে সেই প্রশ্নটি, কাশ্মীর কি ভারতের হাতছাড়া হতে চলেছে? আর এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন বিবিসি নিউজ অনলাইনের ভারত সংবাদদাতা সৌতিক বিশ্বাস। মুসলমান-অধ্যুষিত কাশ্মীর উপত্যকায় গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী গ্রীষ্ম ছিল গতবারেরটি। জুলাইয়ে ভারতীয় বাহিনীর হাতে প্রভাবশালী সশস্ত্র নেতা বুরহান ওয়ানী খুন হওয়ার পর সেখানে ৪ মাস ধরে যে অচলাবস্থা চলেছে, তখন সংঘাতে ১০০ জনেরও বেশি বেসামরিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। চলতি গ্রীষ্মকালটিও খুব একটা ভালো যাবে বলে মনে হচ্ছে না। এই মাসে শ্রীনগরে সংসদীয় যে নির্বাচন হয়েছে, তাতে সহিংসতা হয়েছে আর ভোট পড়েছে রেকর্ড পরিমাণ কম, মাত্র সাত ভাগ। এমন কিছু ভিডিও বেরিয়েছে যাতে দেখা গেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারতীয় শাসনেরবিরোধী তরুণদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অনেকেÑ ফলে আগুনে আরও ঘি পড়েছে। বিক্ষোভ আরও ছড়িয়েছে, ছাত্ররা রাস্তায় মেমে এসেছে। আর খুব বিরল একটা দৃশ্যও চোখে পড়ছেÑ স্কুলের মেয়েরা পাথর ছুড়ছে,
আর তা আঘাত করছে পুলিশের গাড়িকে। কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আঞ্চলিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ফারুক আবদুল্লাহ এ বলে সতর্ক করে দিয়েছেন যে ভারত কাশ্মীর হারাচ্ছে।  ভারতের দাবি, কাশ্মীর অঞ্চলে এখন তাদের ৫ লাখ সৈন্য রয়েছে, ফলে এলাকাটি তাদের হাতছাড়া হবে না। কিন্তু বিশ্লেষক শেখর গুপ্ত বলছেন যে কাশ্মীর ভূখণ্ডগত ভাবে নিরাপদ, কিন্তু আমরা একে অনুভূতিগত আর মানসিকভাবে হারিয়ে ফেলছি। তিনি বলেন, শ্রীনগরের নির্বাচনে মাত্র ৭ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি এটাই প্রমাণ করে যে কাশ্মীরের ভূখণ্ডের ওপর আপনার কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকলেও আপনি এর মানুষদের হারাচ্ছেন। একটি হল, আরও বেশি বেপরোয়া ও বিচ্ছিন্ন একটি তরুণ প্রজš§ এখন কাশ্মীরে ভারতবিরোধী প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিচ্ছে। উপত্যকার ৬০ শতাংশেরও বেশি পুরুষের বয়স ৩০-এর নিচে। এদের বেশিরভাগই বিক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত। আয়জাজ-বাডগামের ১৯ বছরের তরুণ। তিনি বলছেন যে ভারতীয় নিপীড়নের মুখে তাদের প্রজš§ সব আশা হারিয়েছে, আর তিনি ও তার বন্ধুরা মৃত্যুকে আর ভয় করেন না।

একশ’ দিনে ট্রাম্পের সাফল্য-ব্যর্থতা

ক্ষমতা গ্রহণের শততম দিন উদযাপন করতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার তার হোয়াইট হাউসে পদার্পণের ১০০ দিন পূর্ণ হবে। এ সময় তার সফলতা-ব্যর্থতার মূল্যায়ন করতে শুরু করেছেন বিশ্লেষকরা। গণমাধ্যমের জরিপে আধুনিক কালের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে ক্ষমতার প্রথম পর্বে ট্রাম্প সবচেয়ে কম জনপ্রিয় প্রমাণিত হয়েছেন। অনেক বাগাড়ম্বর করে ক্ষমতায় এলেও নিজের নীতি ও কৌশল বাস্তবায়নে কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গুরুত্বপূর্ণ অনেক ইস্যুতেই তাকে ইউটার্ন নিতে হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ৭০ বছর বয়সী ট্রাম্প এখনও নাছোড়বান্দা, পূর্বাভাসের অযোগ্য ও হুজুগে স্বভাব আঁকড়ে রেখেছেন। এ ইমেজ নিয়েই তিনি আবাসন খাতের ধনকুবের ও রিয়েলিটি টিভি তারকা হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনাড়িপনা ও চতুরতার মিশেলে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, পৃথিবীর অন্যতম কঠিন দায়িত্বটি এখন তার হাতে। দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্প একাধিক হোঁচট খেয়েছেন। তার প্রস্তাবিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আদালতে আটকে গেছে। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারে তার প্রস্তাব কংগ্রেসে মুখথুবড়ে পড়েছে। তার উল্লেখযোগ্য কিছু নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও সেসবের অবস্থা উল্লেখ করা হলো।
এশিয়ায় পরমাণু উত্তেজনা : ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসন বড় ধরনের নিরাপত্তার প্রশ্ন তৈরি করেছে এশিয়ায়। শপথের আগেই তাইওয়ান প্রসঙ্গে তার মন্তব্য শুধু চীনকে হতবাক করেনি, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের তৈরি দ্বীপে তার প্রবেশ আটকে দেয়ার হুমকি দিয়ে বক্তব্য দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনও। উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে ওবামা প্রশাসনের নীতি ছিল কৌশলগত সহনশীলতা প্রদর্শন। কিন্তু ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন, কৌশলগত সহনশীলতা বা ধৈর্যের যুগের অবসান ঘটেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে কোরীয় উপদ্বীপে তৈরি হয়েছে যুদ্ধের উত্তেজনা।
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে জটিলতা : নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একজন দক্ষ নেতা হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন। তার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চান বলেও তখন জানিয়েছিলেন। রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপের সূত্র ধরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন আকস্মিক পদত্যাগ করলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ককে ঘিরে উদ্বেগ চলতে থাকে। ট্রাম্প জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর বিশ্বাস রাখতে চান তিনি। কিন্তু তা হয়ত দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি। সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার ঘটনাকে ঘিরে দুটি দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে। এ হামলার জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষ সিরিয়ার সরকারকে দোষারোপ করে এলেও, রাশিয়া অব্যাহতভাবে বাশার আল আসাদের প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছে। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন ঐতিহাসিক তলানিতে।
ন্যাটোর দিকে মনোযোগ : আগে ন্যাটোর কট্টর সমালোচক ছিলেন ট্রাম্প। তিনি এ সংগঠনকে সেকেলে বলেও আক্রমণ করেছেন। ইদানীং তার মনোভাব বদলে ফেলেছেন এবং বলেছেন, ন্যাটো আর সেকেলে প্রতিষ্ঠান নেই। সন্ত্রাসের হুমকির প্রেক্ষাপটে এ জোটের গুরুত্ব রয়েছে এবং ইরাকি এবং আফগান শরিকদের আরও সহায়তা দেয়ার জন্য জোটের সদস্যদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
সামরিক শক্তির ব্যবহার : ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধ বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতে না জড়ানোর প্রত্যাশায় বারাক ওবামাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছিল। এমনকি সিরিয়ায় নৃশংসতার মাত্রা যখন চরম রূপ নিয়েছিল তখনও তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য ব্যাপক মাশুল দিতে হবে। ওবামা প্রশাসন মানবিক সহায়তা প্রদান, বিদ্রোহীদের পরিবর্তনের জন্য অর্থ প্রদান, যুদ্ধবিরতির চেষ্টা এবং প্রেসিডেন্ট আসাদকে অপসারণের জন্য রাজনৈতিক মধ্যস্থতার দিকে মনোযোগী হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পও এর আগে সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক অভিযানের ব্যাপারে বিরোধী ছিলেন। কিন্তু এখন সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন তিনি। চলতি মাসে সিরিয়ায় সরকারি বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দিলেন । অল্প সময়ের ব্যবধানে আফগানিস্তানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নিক্ষেপ করে আবারও বিশ্বের সামনে সামরিক শক্তির পরিচয় দেয় আমেরিকা।
মুক্ত বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা : বহু দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাকি বিশ্বের সঙ্গে যেভাবে বাণিজ্য পরিচালনা করছে তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য-নীতি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্মহীনতার অজুহাতে অনেক বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা থেকেও আমেরিকাকে প্রত্যাহার করে নেয়ারও চিন্তাভাবনা রয়েছে তার। ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনেই ১২ জাতির বাণিজ্য জোট ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) বাতিল করেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গ : ট্রাম্প বলেছিলেন, দায়িত্ব নেয়ার প্রথম একশ’ দিনের মধ্যেই তিনি প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাতিল করবেন। তবে সেটা তিনি করেননি। তার সিনিয়র উপদেষ্টাদের মধ্যে এ বিষয়ে বিভক্তি রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রণীত জলবায়ু নীতি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। তবে ট্রাম্পের জ্বালানিমন্ত্রী মঙ্গলবার বলেছেন, প্যারিস চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।
ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে সংশয় : ইরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের বিনিময়ে অবরোধ তুলে নেয়ার যে চুক্তি হয়েছিল তাকে বারাক ওবামার প্রশাসন ঐতিহাসিক বোঝাপড়া বলেই মূল্যায়ন করেছে। কিন্তু ট্রাম্প বলেছেন, আমার দেখা এ যাবতকালের সবচেয়ে বাজে কোনও চুক্তি। এ চুক্তি ভেঙে ফেলাই হবে তার প্রধান অগ্রাধিকার। কিন্তু তিনি আসলে কী করতে চান, সেটি স্পষ্ট নয়। তার সরকার ইরানের বিষয়ে মার্কিন নীতি পুনরায় ঢেলে সাজাতে চাইছে। বিষয়টি শুধু ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলবে তা নয়, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে তার ভূমিকা, সিরীয় সংঘাত, সৌদি আরব এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কেও প্রভাব ফেলবে। বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্পের ইউটার্ন ও নিজের অবস্থান বদলানোর বিষয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট এক সম্পাদকীয়তে বলেছে, ‘একজন প্রেসিডেন্ট যখন এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এত ভুল অবস্থান থেকে এত সঠিক অবস্থানে যান, তখন ছিদ্রান্বেষণের চেয়ে সতর্ক উদযাপনই প্রজ্ঞার কাজ।’ বিবিসি, সিএনএন।

ইসরাইলে হামলার পর আইএসের ক্ষমা প্রার্থনা!

ইসরাইলের দখলকৃত গোলান মালভূমিতে দেশটির সেনাদের আক্রমণ করেছিল ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা, কিন্তু পরে জঙ্গিগোষ্ঠীটি ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ করে বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলুফায় এক অনুষ্ঠানে দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে ইয়া আলোন এ কথা বলেছেন বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই)। আইএস ও অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীকে ইসরাইল সরাসরি রসদ সরবরাহ করে থাকে বলে অভিযোগ করে আসছেন সিরীয় কর্মকর্তারা। অনেকেই বলে থাকেন- আইএস ইসরাইলের সৃষ্টি। জঙ্গিগোষ্ঠীটির সঙ্গে তাদের গোপন যোগাযোগ রয়েছে।
তবে ইসরাইল সব সময়ই এসব অস্বীকার করে আসছে। ইয়া আলোন বলেছেন, ‘সম্প্রতি একটি ঘটনায় দায়েশ (আইএস) গুলিবর্ষণ করার পর ক্ষমা চায়।’ গত নভেম্বরে সিরিয়ার সীমান্তে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘটেছিল। ইয়া আলোন সম্ভবত সেই ঘটনার ইঙ্গিত করেছেন বলে টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ওই ঘটনায় আইএস সমর্থিত জঙ্গিদের সঙ্গে ইসরাইলি সৈন্যদের গুলিবিনিময় হয়েছিল। সংক্ষিপ্ত বন্দুকযুদ্ধের পর ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জঙ্গিদের ওপর বিমান হামলা ও ট্যাঙ্ক থেকে গোলা নিক্ষেপ করেছিল, এতে চার জঙ্গি নিহত হয়।

দেশে তৈরি প্রথম বিমানবাহী রণতরী নামাল চীন

দেশে তৈরি প্রথম বিমানবাহী রণতরী সাগরে ভাসিয়েছে চীন। উত্তর কোরিয়া নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা ও দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বুধবার এ রণতরীর উদ্বোধন করে দেশটি। এ বিমানবাহী রণতরীটি এর আগে ইউক্রেন থেকে কেনা অপর বিমানবাহী রণতরীর সঙ্গে যোগ দেবে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের। রোববার চীনা নৌবাহিনীর ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। এর পরপরই দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী জলে নামাল বাহিনীটি। নতুন এ রণতরীটি দৈর্ঘ্যে ৩১৫ মিটার, প্রস্থ ৭৫ মিটার। ৭০ হাজার টনের এ রণতরীটি সর্বোচ্চ ৩১ নট গতিতে এগিয়ে যেতে পারবে। ২০১৩ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছিল। মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই এর নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়। ২০২০ সালের আগে এটি সামরিক বাহিনীর দায়িত্বে নিয়োজিত হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, বিমানবাহী রণতরীটির নকশা চীনেই করা হয়েছে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ান বন্দরের শিপইয়ার্ডে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে রণতরীটির নাম ‘টাইপ ০০১এ’ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। লিয়াওনিং নামের চীনের প্রথম বিমানবাহী রণতরীটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে তৈরি। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর ওই রণতরীটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ইউক্রেনের একটি শিপইয়ার্ডে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকা রণতরীটি কিনে সংস্কার করে ২০১২ সালে নিজেদের বাহিনীতে কমিশন্ড করে চীনের পিপলস লিবারেশ আর্মি-নেভি। দেশে তৈরি এ রণতরীতে চীনের জে-১৫ যুদ্ধবিমানসহ অন্যান্য বিমান সংযুক্ত করা যাবে।
সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার জেরে দক্ষিণ কোরিয়ায় পরমাণুচালিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বেইজিং। এছাড়া দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে বেইজিংয়ের। এর মধ্যে চীনের এ বিমানবাহী রণতরীর ‘প্রতীকী তাৎপর্য’ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডভান্সড রণতরীর কাছে এ যুদ্ধজাহাজ তেমন কিছুই নয়। অস্ট্রেলিয়া উপকূলে মহড়া দিয়ে ভারত মহাসাগর হয়ে কোরীয় উপদ্বীপে ভেড়া মার্কিন রণতরী কার্ল ভিনসনের শক্তিমত্তা নিয়ে ইতিমধ্যে ওই অঞ্চলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ফ্রান্সভিত্তিক মিলিটারি স্কুল স্ট্রাটেজিক রিসার্চ ইন্সটিটিউটের চীনবিষয়ক গবেষক জুলিয়েট জেনেভাজ বলেন, চীনের নতুন বিমানবাহী রণতরীর উদ্বোধন প্রাথমিকভাবে একটি প্রতীকী ঘটনা। এটাকে সমরসজ্জিত করতে আরও দু’বছর লাগবে। তবে এটা বেইজিংয়ের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ইঙ্গিত। ভবিষ্যতে তারা নিজেরাই আরও উন্নত বিমানবাহী রণতরী বানাতে পারবে। চলতি বছরের মার্চেই চীন ঘোষণা দিয়েছিল, তারা সামরিক বাজেট বাড়াতে যাচ্ছে। আর এ বর্ধিত বাজেটের অধিকাংশ ব্যয় হবে নৌ-সমরাস্ত্র খাতে। দক্ষিণ চীন সাগরে নিজেদের আধিপত্য বৃদ্ধি ও সমগ্র এশিয়ায় চীনা উপস্থিতি জোরদারে মনোযোগ দিয়েছে বেইজিং। জাপান-ফিলিপাইন-ভিয়েতনামসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নৌসীমা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। অন্যদিকে ভারত মহাসাগরে চীনা মহড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। ভারতের কাছে একটিমাত্র বিমানবাহী রণতরী রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় চীনা আধিপত্যের বিরুদ্ধে নৌশক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে অস্ট্রেলিয়া।

কোরীয় উপদ্বীপে যুদ্ধ কি আসন্ন

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও সাবমেরিন এখন উত্তর কোরিয়ার নাকের ডগায়। উত্তর কোরিয়াও তার এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়াটি চালিয়েছে। ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ং প্রতি সপ্তাহেই একে অপরের বিরুদ্ধে উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য করছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ আসলেই আসন্ন কিনা, সেটা জানা বেশ কঠিনই। তবে এ অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিন যেসব প্রতিবেদন হাতে আসছে তাতে এ উদ্বেগই জোরালো হচ্ছে যে, যুদ্ধ বাধতে দেরি নেই। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, ছোট্ট একটি উসকানিতেই যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। র‌্যান্ড কর্পোরেশনের এক সিনিয়র প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ব্রুস বেনেট বলছেন, এখন আসল প্রশ্ন হচ্ছে, ‘বোকার মতো কোনো ভুল কেউ করতে যাচ্ছে কিনা। কারণ ছোট্ট একটি ভুলের কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।’ উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার সিনেটের সব সদস্যকে হোয়াইট হাউসে ডেকে পাঠান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বুধবারের এ বৈঠকে ট্রাম্প প্রশাসন যদি কৌশলগত কোনো ভুল সিদ্ধান্তও নেয়, তারপরও যুদ্ধ আসন্ন নয়। হাওয়াই প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ইউএস প্যাসিফিক কমান্ডের জয়েন্ট ইনটেলিজেন্স সেন্টারের সাবেক পরিচালক কার্ল শুসটারও এমনটাই মনে করেন। তিনি বলেন, যদি তাই হতো, তাহলে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে যুদ্ধ পরিস্থিতির জরুরি অবস্থায় রাখা হতো। যুদ্ধের পরিভাষায় যেটা ডেফকন-২ হিসেবে পরিচিত। শুসটার বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি হলে সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও বলেন, সে ধরনের পরিস্থিতি হলে মার্কিন সেনাবাহিনীও তার সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রস্তুত থাকত এবং আমেরিকা পূর্ব এশিয়ায় তার দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠাত।
ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড বলেছে, এউএসএস কার্ল ভিনসন স্ট্রাইক গ্রুপ চলতি মাসের শেষ নাগাদ কোরীয় উপদ্বীপ ছেড়ে জাপান সাগরে অবস্থান নেবে। অন্য কোনো রণতরী পাঠানোর ঘোষণাও দেয়নি মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটা ফ্যাক্টর। একটা ব্যাপার লক্ষণীয়, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি বিভিন্ন ইস্যুতে কঠোর কথাবার্তার ক্ষেত্রে একটা নতুন যুগের সূচনা করেছে। ট্রাম্প ও তার মন্ত্রিসভার মূল সদস্যরা সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে তাদের বক্তব্য বেশ কঠোর করেছে। তারা বলেছেন, ‘কৌশলগত ধৈর্যের সময় শেষ হয়ে গেছে এবং উত্তর কোরিয়া সমস্যার সমাধানে সব অপশন এখন টেবিলে রয়েছে।’ তবে উভয়পক্ষই এখনও বেশ সংযত রয়েছে। তাদের এ সংযম নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এক্ষেত্রে ট্রাম্প এখন চীনকে কাজে লাগাতে চান। ট্রাম্প চাচ্ছেন, প্রেসিডেন্ট কিম জং উনকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরিয়ে আনতে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র চীন দেশটির ওপর অধিক অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করুক। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন, কিমকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র তার নিজের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের এবং চীনসহ উত্তর কোরিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবে। উত্তর কোরিয়া সাধারণত এ ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধ পরোয়া করে না। এত উত্তেজনা ও কথার যুদ্ধ প্রকৃত যুদ্ধে রূপ নেবে কিনা, সেক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম কী চান, সেটাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যদিও তাকে অল্প বয়স্ক ও বদমেজাজি হিসেবে দেখা হয়। তবে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত করার একটা আকাক্সক্ষা তার রয়েছে। এবং সেটা তার টিকে থাকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। উত্তর কোরীয় পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী নর্থ ৩৮-এর বিশ্লেষক জো বারমুডেজ বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া এবং কিমের সরকারের টিকে থাকার একমাত্র পথ হচ্ছে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হওয়া।’

ইয়েমেনে প্রতি ১০ মিনিটে মারা যাচ্ছে একটি শিশু

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘খাবার ও জরুরি সাহায্যের অভাবে ইয়েমেনে প্রতি ১০ মিনিটে একজন করে ৫ বছরের কমবয়সী শিশু মারা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জরুরিভিত্তিতে মানবিক সহায়তা না পাঠালে কিছু দিনের মধ্যেই দুর্ভিক্ষের কবলে পড়বে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ।’ মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইয়েমেনের জন্য কল্যাণ তহবিল সংগ্রহ সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান গুতেরেস। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। তহবিল সংগ্রহের সম্মেলনে দাতা দেশগুলো ১১০ কোটি ডলার সাহায্য দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক বলে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ দিয়ে বিশাল এই জনগোষ্ঠীর খাদ্য সমস্যা মেটানো সম্ভব নয়।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘ইয়েমেনের পরিস্থিতি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়। এ কঠিন অবস্থা থেকে বের হতে ১১০ কোটি মার্কিন ডলার দরকারের তুলনায় অর্ধেক।’ তিনি আরও বলেন, দেশটিতে প্রতি ১০ মিনিটে ৫ বছরের কমবয়সী একজন শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। অর্থাৎ এখানে যখন সম্মেলন চলছে তখন ইয়েমেনে ৫০ জন শিশু মারা গেছে, যা আটকানো সম্ভব। ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে।

দাদনের টাকা শোধে দিশেহারা

আকস্মিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে হবিগঞ্জের প্রায় সব হাওরই। পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল। এর মাঝে অধিকাংশই কাঁচা ধান, যা পানির নিচে থাকায় পচতে শুরু করেছে। চোখের সামনে ফসল নষ্ট হতে দেখে জেলার লক্ষাধিক কৃষক পরিবারে হাহাকার দেখা দিয়েছে। অনেকেই দাদন নিয়ে চাষাবাদ করলেও সে টাকা পরিশোধ নিয়ে এখন তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এদিকে হাওরে ৯টি প্রকল্পের অধীন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ৩৯টি স্থানে ৮ কিলোমিটার এলাকা সংস্কার করা হয়েছিল। এতে ব্যয় হয় ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা কোনো কাজে আসেনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাওহীদুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন নদীসহ হাওর এলাকায় জেলায় ৪শ’ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এর মাঝে ২৫০ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ। এগুলো এপ্রিলের ৩০ তারিখের পর পানিতে প্লাবিত হয়। কিন্তু গত ২০ বছরের পরিসংখ্যানে এ বছর অন্যান্য বছরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে পানি হাওরে ঢুকে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীগুলোর পানিও ২ এপ্রিল থেকেই বিপদসীমার উপরে ছিল। কুশিয়ারা নদীর পানি এখনও বিপদসীমার অনেক উপরে রয়েছে। এতে দিনে দিনে নদীর বাঁধগুলোও দুর্বল হয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে খোয়াই নদীর লাখাই উপজেলার বুল্লায় ২২০ মিটার বাঁধ ভেঙে গেছে। বাঁধ সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারের মাধ্যমে ৮ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধের সংস্কার হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান মণ্ডল জানান, জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত ৫৫ হাজার ৫৬৫ জনের তালিকা পাওয়া গেছে। তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়নি। সময় লাগছে কারণ একেকটি ইউনিয়নে মাত্র একজন করে লোক কাজ করছে।
পুরো তালিকা তৈরিতে আরও বেশ কয়েক দিন সময় লাগবে। বুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মুক্তার হোসেন বেনু জানান, তার ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষকই দাদন নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। ধান তুলে সে টাকা পরিশোধের কথা ছিল। প্রতি বছরই কৃষকরা দাদন নিয়ে চাষাবাদ করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ১ হাজার টাকার বিনিময়ে ২ থেেেক ৩ মণ করে ধান দেয়ার কথা থাকে। ধান কাটার পর তারা তা পরিশোধ করে। কিন্তু এ বছর আকস্মিক বন্যায় সব তলিয়ে যাওয়ায় এখন তারা সে টাকা কীভাবে পরিশোধ করবে এ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তিনি কৃষকদের সরকারি সহায়তা দেয়ার দাবি জানান। লাখাই উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক জমির আলী জানান, ২০ হাজার টাকা দাদন নিয়ে ৪ কাঠা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। কিন্তু পানিতে সব জমি তলিয়ে গেছে। এখন ঋণের টাকা কিভাবে শোধ করবো তা নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে জেলার ৮টি উপজেলায় মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। এপ্রিলের শুরুতেই ভারি বৃষ্টিপাতে জেলার হাওর এলাকার আবাদকৃত প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে যায়। বাকি জমি কিছুটা রক্ষা পেলেও কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তাও শেষ রক্ষা হয়নি। জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৫৩ হাজার ৫৬৫ জন কৃষকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্তদের অর্ধেকের বেশি হবে না। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বানিয়াচংয়ে ২৫ হাজার ৭২০, লাখাইয়ে ৮ হাজার ১৭০, আজমিরীগঞ্জে ৮ হাজার ৫৯৫, নবীগঞ্জে ৫ হাজার ৫শ’, সদরে ২ হাজার, বাহুবলে ১ হাজার ৮শ’, মাধবপুরে ১ হাজার ৩শ’ ও চুনারুঘাটে ৩৫০ জন। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, জেলার বানিয়াচং উপজেলায় মাকালকান্দি হাওর প্রকল্প, কুশিয়ারা বাম বাঁধ প্রকল্প, শুঁটকি নদী এফসিডি প্রকল্প, ঝিংড়ি নদী প্রকল্প, সদর, চুনারুঘাট, বাহুবল, বানিয়াচং ও লাখাই উপজেলায় খোয়াই নদী প্রকল্প ও গুইংগাজুরী এফসিডি প্রকল্প, আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচংয়ে বসিরা নদী বামতীর ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণ ও কৈয়ারঢালা-রতœা এফসিডিআই প্রকল্প এবং মাধবপুরে হরিসীমা ও ধনিসমীমা হাওর এফসিডি প্রকল্পের মোট ৩৯৯ কিলোমিটার ২৭০ মিটার বাঁধ রয়েছে। এর মাঝে ২৫০ কিলোমিটার হাওরে ডুবন্ত বাঁধ। এ প্রকল্পগুলোর আওতায় ৩৯টি অংশে মোট ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকার সংস্কার হয়, যা কৃষকদের কোনো কাজে আসেনি।

বিয়ের বয়স হয়নি-নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই

আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই, এখন বিয়ে করতে চাই না। আমার বিয়ের বয়সও হয়নি। পরিবারের লোকজন আমাকে জোর করে বাল্য বিয়ে দিতে চায়। এবার আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। আরো পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। নিজের বিয়ে ঠেকাতে আকুতি ভরা কণ্ঠে এমন আবেদন জানান, রত্না খাতুন (১৬) নামের এক কিশোরী। নিজের মুঠো ফোন থেকে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছাদেকুর রহমানের কাছে ফোন করে তার বিয়ে ঠেকানোর এই আবেদন জানান ওই কিশোরী। এরপর ইউএনও ছাদেকুর রহমান মেয়ের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ওই কিশোরীর বাল্য বিয়ে বন্ধ করেন। রত্না কালীগঞ্জ পৌরসভার আড়পাড়া গ্রামের জাক্কু মিয়ার মেয়ে।
বিয়ে বন্ধ হওয়ার পর রত্না অনেক খুশি। বলেন, লেখাপড়া করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবো। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছাদেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মেয়েটি বুধবার বিকালে আমাকে ফোন করে তার নিজের বিয়ে বন্ধ করার আকুতি জানায়। এরপর রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিয়ে বন্ধ করি। ই্উএনও বলেন, এই কিশোরীর মতো সবাই যদি বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, তাহলে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করা অনেক সহজ হবে।

জমি নিয়ে বিরোধে চাচাকে পিটিয়ে হত্যা

টাঙ্গাইলের বাসাইলে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে চাচাকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে ভাতিজাসহ ভাতিজি জামাইয়ের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার নাকাসিম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম নিলু সরকার (৪৮)। নিহতের পরিবার জানায়, সকালে বাড়ির পাশেই কোদাল দিয়ে মাটি ভরাটের কাজ করছিল নিলু ও তার স্বজনরা।
এ সময় তার ভাতিজা দিপক সরকার ও ভাতিজি জামাই সুবল সরকার তাদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে আঘাত এবং উপর্যপুরি কিল ঘুষি দিতে থাকে নিলু সরকারকে। এতে ঘটনাস্থলে নিলু সরকার লুটিয়ে পড়ে। পরে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাসাইল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আইয়ুব হোসেন জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আংশিক কমিটির অনুমোদন

মো. আব্দুল হাইকে সভাপতি ও কামরুজ্জামান রতনকে সাধারণ সম্পাদক করে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাত সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশক্রমে এই কমিটি অনুমোদন দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিবের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটির তথ্য জানানো হয়।
কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- সহ সভাপতি শাহজাহান খান, আতাওয়ার হোসেন বাবু ও আলী আজগর রিপন মল্লিক। এছাড়া কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন নজরুল ইসলাম বাচ্চু ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস ধীরণ। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রণয়নের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দ. কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি মোতায়েন স্থলে ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রত্যাশিত সময়ের আগেই বুধবার এ কাজ শুরু করার পর স্থানীয় কয়েকশ’ বাসিন্দা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। উত্তর কোরিয়া হুমকি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার দোসরদের ওপর হামলার জন্য আমাদের পরমাণু অস্ত্র এখন প্রস্তুত। খবর বিবিসির। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবেলায় গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের টার্মিনাল হাই অ্যালটিটুড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থা মোতায়েনে সম্মত হয় দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী যে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করে দিতে পারবে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, থাডের কিছু উপাদান দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি এলাকায় পাঠানো হচ্ছে, যেখানে এক সময় একটি গল্ফ কোর্স ছিল। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি বলেছে, ‘উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থাড সিস্টেমকে প্রাথমিকভাবে অভিযানে সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।’ চলতি বছরের শেষদিকে প্রতিরক্ষা এই পদ্ধতিটি কার্যকর হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, সামরিক ট্রেইলারে করে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটির বড় ধরনের কিছু ইউনিট রাজধানী সিউলের ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে পরিকল্পিত মোতায়েন স্থলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রতিবাদকারীরা সামরিক যানগুলোর দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারছে আর পুলিশ তাদের আটকানোর চেষ্টা করছে। আসছে ৯ মে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এই নির্বাচনে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা প্রার্থী মুন জায়ে-ইনও এ তৎপরতার নিন্দা জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ‘জনগণের মতামত ও যথাযথ প্রক্রিয়া’কে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মুন এবং পরবর্তী প্রশাসন দায়িত্বভার গ্রহণ করে তাদের নীতিনির্ধারণ না করা পর্যন্ত এই মোতায়েন প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ায় থাড মোতায়েনে ক্ষুব্ধ চীনও। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে আপত্তি তুলে বলা হয়, অগ্রসর এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উত্তর কোরিয়াকে নিবৃত্ত করতে তেমন অবদান রাখতে পারবে না বরং ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ভারসাম্য বিনষ্ট করবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র থেকে রক্ষার জন্য দরকারি বিবেচনায় এই ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে এবং ‘যত দ্রুত সম্ভব’ এই মোতায়েনের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্দেশে নতুন করে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়ক ইয়ং সিক বলেন, সর্বাধুনিক পরমাণু অস্ত্র ও সরঞ্জামের অধিকারী তার দেশের সেনাবাহিনী আমেরিকায় হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। মঙ্গলবার পিয়ংইয়ংয়ে উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর ৮৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন,
উত্তর কোরিয়া আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে অনায়াসে আঘাত হানতে সক্ষম। এ লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রগুলো ‘নিক্ষেপণযোগ্য’ অবস্থায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী। উত্তর কোরিয়াকে কঠোর বার্তা চীনের : পরমাণু প্রকল্প নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি না করতে উত্তর কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। পিয়ংইয়ং ফের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করলে সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে বলেও হুশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং। বুধবার চীনের ক্ষমতাসীন দলের মুখপত্র গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয় কলামে এসব সতর্কবাণী দেয়া হয়েছে। খবর দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের। গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘কোরীয় সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় চীন। কিন্তু পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেইজিংয়ের প্রভাব সীমিত। ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের এই যুদ্ধ-খেলা সহ্যসীমার দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। এখন উত্তর কোরিয়া ষষ্ঠবারের মতো পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। সেখান থেকে ফেরার আর পথ থাকবে না।’ উত্তর কোরিয়ার প্রধান বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক বন্ধু চীন। দেশটির জ্বালানি, খাদ্য এমনকি পুরো অর্থনীতির প্রধান উৎস বেইজিং। তবে পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ জাতিসংঘের তীব্র চাপে রয়েছে চীন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কারণে কোরীয় উপদ্বীপে যুদ্ধের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বেইজিং উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করছে।

জনগণ যেন কোনোভাবেই নিগৃহীত না হয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নৈতিক স্খলন যে কোনো বাহিনীর মনোবল দুর্বল করে দেয়। মনে রাখবেন, জনগণের পয়সায় আমাদের-আপনাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। আমরা সবাই জনগণের সেবক। সেই জনগণ যেন কোনো ভাবেই নিগৃহীত না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। বুধবার সকালে রাজধানীর কুর্মিটোলার সদর দফতরে র‌্যাব ফোর্সেসের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দরবারে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন। র‌্যাব সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সদস্যকে দেশপ্রেম, সততা, কর্তব্য নিষ্ঠা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মনে রাখতে হবে আপনারা একটি শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। র‌্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি বেনজির আহমেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, আইজিপি মো. শহীদুল হকসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী র‌্যাব সদর দফতরে এসে পৌঁছলে মেজর মঞ্জুরুল ইসলামের নেতৃত্বে র‌্যাব ফোর্সেস প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা না থাকলে দেশে বিনিয়োগ আসবে না, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে না। আইন-কানুন এবং নিয়ম-নীতি মেনে আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন- এটাই আমার প্রত্যাশা। শেখ হাসিনা বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাব যথেষ্ট সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস, জঙ্গি, চরমপন্থী দমনসহ সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে।
র‌্যাবের অভিযানের সাফল্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি সিলেটের জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলকে দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে র‌্যাব বিস্ফোরকমুক্ত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সিলেটের জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে অভিযান পরিচালনার সময় নিহত র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তার স্বজনদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থী দমনেও র‌্যাব কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চরমপন্থী গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। র‌্যাব তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করেছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ আত্মসমর্পণের পর সুন্দরবন এখন একটি নিরাপদ জনপদ এবং তারা সেখানে (আত্মসমর্পণের পর পুনর্বাসিতরা) জীবন-জীবিকা করেও খাচ্ছে। তারা যেন এ ভুল পথে আর না ফেরে সে জন্য সব রকমের সাহায্য এবং জীবন-জীবিকার সুযোগ আমাদের করে দিতে হবে। জঙ্গিবাদকে একটি বৈশ্বিক সমস্যা আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের অনেক দেশে একটি নতুন উপদ্রব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমরা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, আমরা যে যেখানে আছি সেখান থেকেই জঙ্গিবাদের মোকাবেলা করতে হবে। তা না হলে আমাদের সব অর্জন বিনষ্ট হয়ে যাবে। পাশাপাশি তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে এবং প্রতিকার নয়, প্রতিরোধের দিকেই বেশি নজর দেয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী র‌্যাব-৯-এর জন্য নবনির্মিত হেডকোয়ার্টার্স ভবনের ফলক উন্মোচন করেন।

প্রকাশ্যে ঘুরছে আসামি : পলাতক দেখিয়ে চার্জশিট!

স্কুলছাত্র বাবুল শিকদার হৃদয় হত্যার প্রায় এক বছর পরও একমাত্র আসামি রায়হান ওরফে বিধানকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তাকে পলাতক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে পুলিশ। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, রায়হান মিরপুরে কাউন্সিলর মামার গাড়িতে প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়ায়। অনেক সময় মামার মিরপুরের ধানক্ষেত মোড়ের বাসায় রাতযাপনও করে। খোদ পুলিশ বলছে, ঘটনার পর ঘাতক রায়হান পলাতক থাকলেও মিরপুরে তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। তবে তাকে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশের এ বক্তব্যকে দায়সারা বলছেন বাবুলের বাবা মোস্তফা শিকদার। তার দাবি, আসামির মামা মিরপুরের ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন তিতু। প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় রায়হানকে ধরতে পুলিশের কোনো আগ্রহ নেই। সে এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না- এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। গত বছরের ১১ মে মিরপুরের জনতা হাউজিংয়ের ধানক্ষেত মোড় এলাকায় বাবুলকে হত্যা করা হয়। ক্রিকেট খেলার দ্বন্দ্বে রায়হান তাকে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দুই ঘণ্টা আগে বাবুল খুন হয়। পরে পরীক্ষার ফলাফলে সে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। বাবুল মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাজ্জাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘আসামি এখনও পলাতক। মাঝে মধ্যে মিরপুরে আসে সে। তবে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা আসামিকে পলাতক দেখিয়ে শিগগিরই চার্জশিট দেব।’ মামলার বাদী বাবুলের বাবা মোস্তফা শিকদার যুগান্তরকে বলেন, ঘাতক রায়হানকে ধরতে পুলিশের কোনো আগ্রহ নেই। কাউন্সিলরের ভাগ্নে বলেই হয়ত তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। আমরা বিভিন্ন সূত্রে তথ্য পাই, মিরপুরে রায়হান নিয়মিত আসে। পুলিশও সেটা জানে। তারপরও বলছে, আসামিকে তারা খুঁজে পায় না। তিনি বলেন, পুলিশের অনেক কর্মকর্তার সঙ্গে আমি দেখা করেছি। সবাই আমাকে আশ্বস্ত করেছেন খুনিকে ধরা হবে। কিন্তু এক বছর পরও তারা আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র বলছে, রায়হানের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের ভাণ্ডারীকান্দিতে তাকে প্রায়ই দেখা যায়। এমনকি মিরপুরের ধানক্ষেত মোড় এলাকায় তার মামা কাউন্সিলর তিতুর বাসায় সে নিয়মিত যাতায়াত করে। মামার গাড়িতে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। অথচ পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না।
রায়হান নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে পুলিশের মিরপুর বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আসামিপক্ষ বাদীর সঙ্গে সমঝোতার জন্য একসময় চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এটি একটি হত্যাকাণ্ড। এখানে সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। আসামি গ্রেফতারে এখনও চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বাবুল হত্যার একমাত্র আসামি রায়হান এখনও পলাতক। তাকে ধরতে চেষ্টা চলছে। দুরন্ত কিশোরের নির্মম পরিণতি : দুরন্ত কিশোর ছিল বাবুল শিকদার। বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকত মিরপুর-১ নম্বর এলাকায়। ছেলেকে নিয়ে মোটর মেকানিক বাবা মোস্তফা শিকদারের অনেক স্বপ্ন ছিল। সময় পেলেই বাবুল বন্ধুদের সঙ্গে মেতে উঠত খেলাধুলায়। ২০১৬ সালের ১১ মে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার কথা। বাবুল সকালে মাকে বলেছিল, আমি একটু বাইরে যাচ্ছি। এরপর মিরপুরের ধানক্ষেত এলাকায় ক্রিকেট খেলায় মেতে উঠেছিল সে। খেলার সময় একটি নো বলকে কেন্দ্র করে রায়হানের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। দুই ঘণ্টা পর পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হবে- এ যুক্তিতে বাবুল তখন খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। এ সময় রায়হান ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে বাবুলের মাথায় আঘাত করে। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। সেদিন দুপুরে এসএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, বাবুল জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এবার চলনবিলে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ

অতিবৃষ্টিতে শস্যভাণ্ডারখ্যাত নাটোরের চলনবিল ডুবে গেছে। বিলদহর-কৃষ্ণনগর বাঁধ দিয়ে আসা আত্রাই ও গুড় নদীর পানিতে ভেসে গেছে দেশের সবচেয়ে বড় এ বিল। তলিয়ে গেছে বোরো ধান, আলু, বাদাম, ভুট্টা, পাট, তরমুজ, করলাসহ অন্যান্য ফসল। সেই সঙ্গে ডুবেছে এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্ন। ধান কাটার জন্য মাইকিং করে শ্রমিক ডাকা হচ্ছে। বাড়তি মজুরি দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। ফলে চোখের সামনেই ধানসহ অন্যান্য ফসল পানির নিচে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পুকুর উপচে ভেসে গেছে লাখ লাখ টাকার মাছ। সব হারিয়ে কৃষক নিঃস্ব। তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে চলনবিলের বাতাস। নাটোর, সিংড়া, নিয়ামতপুর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে এসব জানা গেছে। কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা এবং সিলেট অঞ্চলের সব হাওর ডুবে গেছে। এতে লাখ লাখ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এরপর শস্যভাণ্ডারখ্যাত সবচেয়ে বড় চলনবিলও ডুবে গেল। এতে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান, পাট, আলু, ভুট্টা, বাদাম ও করলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল ভেসে গেছে। এতে এবার বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হতে পারে। ফলে আরও বাড়তে পারে চালের দাম। এছাড়া অতিবর্ষণে সবজির ক্ষতি হওয়ায় আসন্ন রমজানে কাঁচাবাজারে এর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে। নাটোরে সিংড়া, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, নলডাঙ্গা, নিয়ামতপুর, চন্দননগর, ভাবিচা, শ্রীমন্তপুর, বাহাদুরপুরে কয়েক হাজার হেক্টর জমি থেকে কোনো ফসল তোলা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এসব এলাকার ছোটবড় সব চাষী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয় বিশিষ্টজনদের মতে, বিল এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ, রাস্তা, কালভার্ট নির্মাণ এবং ফসলি জমিতে ইচ্ছেমতো পুকুর খননই এ দুর্যোগের মূল কারণ। নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন বলেন, অসময়ে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে এসেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য তালিকা তৈরি করতে কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালককে চিঠি দেয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কর্মকর্তাকেও চিঠি দেয়া হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, আকস্মিক বর্ষণ ও ঢলের পানিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ফসল রক্ষায় একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আত্রাই নদীতে ঢলের পানি উপচে চলনবিলে প্রবেশ করায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে নদীর পানি কমে গেলে কৃষকের ক্ষতি কম হতে পারে। স্থানীয়রা জানান, সিংড়া এলাকায় আত্রাই নদীর কাছে বিলদহর-কৃষ্ণনগর এলাকায় বাঁধ আছে। নিজেদের সুবিধার জন্য স্থানীয় মৎস্যজীবীরা ২০১১ সালে বাঁধের একটি অংশ কেটে দেন। এ বাঁধের কাটা অংশ দিয়ে আত্রাই নদী থেকে প্রচণ্ড সে াতে মঙ্গলবার বিকাল থেকে চলনবিলে পানি ঢুকতে দেখা গেছে। এতে পাকা-আধাপাকা ধান, পাট, ভুট্টা, বাদাম, আলু, করলা, তরমুজের জমি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক কৃষক বলেন, বাঁধ কাটার কারণে প্রতিবছর চলনবিলের লক্ষাধিক কৃষক আতঙ্কে থাকেন।
এ অঞ্চলের কৃষকের স্বপ্ন জোয়ার-ভাটার মতো চলনবিলের পানিতে ভাসতে থাকে। এবার আতঙ্কই সত্যি হয়েছে। এবারের স্বপ্ন ভাটার টানে ভেসে গেছে। পানিতে ডুবে যাওয়া অন্যান্য ফসল ঘরে তুলতে না পারলেও জরুরিভাবে ধান কাটতে কয়েক দিন ধরেই স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে দিনমজুর ডাকা হচ্ছে। বিলদহর বাজার এলাকার কৃষক মো. আবদুল কাদের মণ্ডল জানান, তার চাষ করা ৪৫ বিঘা জমির সবই পানিতে ডুবে গেছে। ধান কাটার জন্য তিনি দিনমজুর পাচ্ছেন না। অন্যান্য মৌসুমে ২৫০ টাকা চুক্তিতে শ্রমিক পাওয়া গেলেও এবার ৭০০ টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে স্থানীয়রা জানান, পানিতে ডুব দিয়ে ধান কাটা খুব কষ্টের। শ্রমিকরা সারা দিন পানিতে ডুবে ধান কাটতে চাচ্ছেন না। ফলে বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। রংপুর, দিনাজপুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ধান কাটতে আসা অনেক শ্রমিক তাদের সরঞ্জাম নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। কৃষ্ণনগর গ্রামের কৃষক আবু সাঈদ ও মজিবুর রহমান বলেন, চলনবিলের অধিকাংশ কৃষক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন। হঠাৎ ঢলের পানিতে ফসল ডুবে যাওয়ায় তাদের স্বপ্ন পানির নিচে চলে গেছে। এখন কীভাবে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করবেন, সেই চিন্তায় তাদের ঘুম চলে গেছে। গুরুদাসপুরে টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে পাকা ধান পানিতে ডুবে যাওয়ায় কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গুরুদাসপুর উপজেলার দরদমা, বিলশা, পিপলা, হাঁড়িভাঙা, চাকলবিলে বৃষ্টির পানি জমে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অতিবৃষ্টিতে জমিতে পানি আটকে থাকায় আতঙ্কে কৃষক পাকা ধানের পাশাপাশি আধাপাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন। একদিকে দ্রুত পানি ঢুকছে, অন্যদিকে টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। বিলশা গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, এলাকায় সর্বনাশ হয়ে গেছে। ধান ডুবার পাশাপাশি পুকুর থেকে লাখ লাখ টাকার মাছও ভেসে গেছে। আমরা কী খেয়ে বাঁচব, এখন এ চিন্তায় আছি। পিপলা গ্রামের বেলাল হোসেন জানান, তার ৩০ বিঘার প্রজেক্ট। ধান চাষ করতে ঋণ নিয়েছেন। এখন কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন, তা নিয়েই বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘ধান কাটব যে কামলাও মিলছে না। ভুট্টারও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’ বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, চলনবিল অধ্যুষিত এলাকায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আবার অনেকে আতঙ্কে কাঁচা ধান কাটছেন। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত অবৈধ পুকুর খননের কারণে মূলত এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বড়াইগ্রাম উপজেলায় জালোরা বিল, চিনিডাঙ্গা বিল, ভিটাকাজীপুর বিল ও কচুগাড়িবিল, মাড়িয়া, বাজিতপুর, শ্রীরামপুরসহ বিভিন্ন নিন্মাঞ্চলে বৃষ্টির পানিতে ফসল ডুবে গেছে। এতে করে বড়াইগ্রামের সহশ্রাধিক কৃষক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। স্থানীয় কৃষক জানান, বড়াইগ্রামে ধানের তেমন ক্ষতি না হলেও পাট, তরমুজ, করলা ভুট্টার জমি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করলা এবং পাটক্ষেত প্রায় সবটাই পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় কাঁচা-পাকা তরমুজ পানিতে ভাসতে দেখা গেছে।

শিবগঞ্জে সোয়াতের ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের ত্রিমোহনী শিবনগর গ্রামের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু করেছে সোয়াত। ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ নাম দিয়ে সোয়াতের এ অভিযান শুরু হয় বুধবার সন্ধ্যা পোনে ৭টায়। আস্তানাটির দেয়াল ভেঙে অভিযান শুরু করে সোয়াত। ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে শিবগঞ্জ পৌঁছেই সোয়াত সদস্যরা অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করেন। এরই অংশ হিসেবে এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। রাতে অভিযান চালানোর জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে অভিযান শুরুর পর ওই এলাকায় গুলির মুহুর্মুহু শব্দ শোনা যায়। একবার বিস্ফোরণের শব্দও পাওয়া গেছে। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এডিসি আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, সোয়াত সদস্যরা অভিযান শুরু করেছেন। একতলা বাড়ির ভেতরে নারী ও শিশুসহ চারজন সদস্য আছেন বলে তাদের ধারণা। জেলা পুলিশ সুপার মুজাহিদুল ইসলাম জানান, অপারেশনের নাম দেয়া হয়েছে ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’। রাত সাড়ে ৮টায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকের (বুধবার) জন্য অপারেশন স্থগিত করা হয়েছে। কাল (আজ) অভিযান ফের শুরু হবে।’ আবু (৩০) নামের এক ব্যক্তি তার স্ত্রী-সন্তানসহ আস্তানায় অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন বাড়ির মালিকের ছেলে ও আবুর মা। আবুর স্ত্রী-সন্তান ছাড়াও বাড়িতে আরও দু’জন থাকতে পারেন বলে পুলিশের ধারণা। এর আগে আবুকে আত্মসমর্পণের জন্য তার মা ও পরিবারের সদস্যদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিকালে আবুর চাচি চামেলি বেগম, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রুনা বেগমকে নিয়ে তার মা ওই বাড়ির দরজার সামনে পর্যন্ত যান। এ সময় মাইকে তারা আবুকে বাড়ির বাইরে বের হয়ে আসার আহ্বান জানান। বেশ কয়েকবার আহ্বান জানানোর পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। তাদের সঙ্গে পুলিশ ছিল।
সকাল থেকে বাড়ি ঘেরাও : সকাল থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামের বাড়িটি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে ফেলেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। কাউন্টার টেরোরিজমের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, শিবনগর এলাকায় সাইদুর রহমান জেন্টু হাজী নামে এক ব্যক্তির বাড়ি ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টার দিকে ওই বাড়ি থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় বলে ডিবি ইন্সপেক্টর সারওয়ার রহমান জানান। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে এর জবাব দেয়। বাড়িটিতে রফিকুল আলম আবু নামে এক জঙ্গি তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছেন। প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, বাড়িতে মোট চারজন সদস্য অবস্থান করছেন। মাইকে তাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আশপাশের বাড়ির লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ সকাল থেকে বাড়ির চারপাশে অবস্থান নেয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘিরে রাখা বাড়ি থেকে মাঝে মধ্যে গুলির শব্দ শোনা যায়। অভিযানের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় দুপুর থেকেই। শিবগঞ্জ ও নাচোল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়। ঢাকা থেকে কাউন্টার টেরোরিজম ও সোয়াত সদস্যরা হেলিকপ্টারে উপজেলার শিবগঞ্জ স্টেডিয়ামে নেমে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে ছুটে যান এবং বিকাল সাড়ে ৪টার পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান।
১৪৪ ধারা জারি : শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে শিবনগর ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ এলাকায় যানবাহন, ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে চলাচল নিষিদ্ধ করে মাইকিং করা হয়। পুলিশের রাজশাহী বিভাগীয় এডিশনাল ডিআইজি ইসরুল আরেফিনসহ প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। অভিযান সফলভাবে সমাপ্তি এবং অহেতুক মানুষের জটলা এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সাংবাদিকদেরও নির্দিষ্ট এরিয়ার বাইরে থাকতে বলা হয়েছে। জানা যায়, বাড়ির মালিক ৭৫ বছর বয়সী সাইদুর রহমান ওরফে জেন্টু বিশ্বাস মাস তিনেক আগে একই এলাকার আফসার আলীর ছেলে আবুর কাছে বাসাটি ভাড়া দেন। আবু স্থানীয় বাজারে মসলা বিক্রি করেন। সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালানোর পর পুলিশ গত শুক্র ও শনিবার ঝিনাইদহের একটি বাড়ি ঘিরে অভিযান চালিয়ে ‘বিপুল বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম’ উদ্ধার করে। এরপর মঙ্গলবার দিনভর রাজশাহীর একটি এলাকায় ব্লকরেইড দিয়ে কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালায়। তবে সেখানে কোনো জঙ্গি আস্তানার খোঁজ পায়নি পুলিশ।
কে এই আবু? : শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামে জঙ্গি আস্তানায় থাকা আবুর সঙ্গে তার পরিবারের যোগাযোগ ছিল না বলে জানিয়েছেন তার মা ফুলসানা বেগম (৫০)। ঘিরে রাখা বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে আবুর বাবা আফসার আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আবুর মা অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়ে আছেন। তিনি জানান, ৮ বছর আগে শিবগঞ্জ উপজেলার আব্বাস বাজার এলাকার রুহুল আমিনের মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় আবুর। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। আবুর দুই মেয়ে। বাবা-মায়ের সঙ্গে আবুর খুব বেশি যোগাযোগ নেই, তবে মাঝে মধ্যে আসতেন। এদিকে আবুর বাবার বাড়ির পাশের কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, আবু শ্বশুরবাড়ি ও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে ঈদ উদ্যাপন করতেন। এ নিয়ে বাবার সঙ্গে আবুর মতপার্থক্য ছিল। শ্বশুরবাড়ি গিয়েই আবু এসব আলাদা রীতিনীতি গ্রহণ করেন। তার বাবা এ নিয়ে তাকে অনেক বুঝিয়েছেন কিন্তু তিনি এসব ছাড়েননি। আবু পেশায় একজন মসলা বিক্রেতা। তিনি হাটবাজারে পাটি বিছিয়ে মসলা বিক্রি করতেন।
তিনি বাড়ির কাছের চাতরা ফাজিল মাদ্রাসায় দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন বলে জানান প্রতিবেশীরা। স্থানীয়রা আরও জানান, সাধারণত মসজিদে জামাত শেষ হওয়ার পর আবু কয়েকজনের সঙ্গে মিলে নামাজ পড়তেন। আবু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন, সর্বশেষ বাবার বাড়িতে কিছুদিন ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঝগড়া হওয়ার পর তার বাবা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে আবু তার বাড়ির আধা কিলোমিটার দূরে জেন্টু বিশ্বাসের একটি অব্যবহৃত নতুন বাড়ি ভাড়া নেন। বাড়ির মালিক জেন্টু বিশ্বাস তাকে মূলত বাড়িটি দেখাশোনার জন্য বিদ্যুৎ বিলসহ সামান্য টাকায় ভাড়া দেন বলে জানান বাড়ির মালিকের ছেলে আনারুল ইসলাম বাবুল। তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন আবু।

টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মন‌সিংহ মহাসড়ক অবরোধ

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী‌তে আশরাফ টেক্সটাইল মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসেনের অপসারণের দা‌বি‌তে ঢাকা-ময়মন‌সিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্প‌তিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের নানা অ‌নিয়ম, প্রধান শিক্ষকের দুর্নী‌তিসহ নানা অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দা‌বিতে তারা সড়ক অবরোধ করে। তারা বিদ্যালয়ের দুর্নী‌তিবাজ প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দা‌বি করেন। টঙ্গী থানার ও‌সি ফিরোজ তালুকদার জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দা‌বি করে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছে। তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় ফের নতুন পদ্ধতি

ছাত্রছাত্রীদের গিনিপিগ বানিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা-নিরীক্ষা অব্যাহত আছে। পাঁচ বছরে কারিকুলাম একবার ও পাঠ্যবই পাঁচবার পরিবর্তন-পরিমার্জন হয়েছে। পরীক্ষা পদ্ধতি পাল্টানো হয়েছে কয়েকবার। দেড় দশকে শিক্ষার্থী মূল্যায়ন পদ্ধতিও বদলেছে তিনবার। এমন ভাঙাগড়ার মধ্যেই শিক্ষার্থী মূল্যায়নে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। নতুন এ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর বাড়িয়ে-কমিয়ে মূল্যায়ন করা হবে। নম্বরের ভিত্তিতে নয়, সরকার নির্ধারণ করে দেবে জিপিএ-৫-এর সংখ্যা। এ ছাড়া মাত্র চার বছরের মধ্যে ফের কারিকুলাম এবং এক বছরের মধ্যে পাঠ্যবই পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। কারিকুলাম, পাঠ্যবই ও পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আজ বৃহস্পতিবার বৈঠক বসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু কারিকুলাম, পাঠ্যবই আর পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিই নয়, শিক্ষার অন্যান্য দিকেও ঘন ঘন কাটাছেঁড়া চলছে। কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে এক শ্রেণীর আমলা ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক বিদেশ ঘুরে আসেন। দেশে ফিরে জাতীয় পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং আর্থসামাজিক দিক বিবেচনায় না নিয়ে বিদেশ সফরের লব্ধ জ্ঞানের আলোকে তৈরি নতুন পদ্ধতি চাপিয়ে দিচ্ছেন। ফলে বিদেশ থেকে ধার করা ওইসব পদ্ধতি অনেক সময় ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
অসঙ্গতি ধরা পড়লেও অনেক ক্ষেত্রে তা টেনেহিঁচড়ে ছয়-সাত বছর চালু রাখতে দেখা যায়। যদিও নয়া সৃজনশীল পদ্ধতি বহুল সমালোচনার পরও ধরে রাখা হয়েছে। কোনো ক্ষেত্রে সমালোচনার মাত্রা বাড়লে একপর্যায়ে তা বাতিল করা হয়। পরিবর্তে ফের চালু হয় নতুন কোনো পদ্ধতি। এভাবে ঘন ঘন এই পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষার্থী-অভিভাবক এবং বেশিরভাগ শিক্ষকই খাপ খাওয়াতে পারেন না। এতে বিপাকে পড়েন শিক্ষার সঙ্গে জড়িত সবাই। ফলে খুঁড়িয়ে চলে লেখাপড়া। জোড়াতালির ক্লাস কার্যক্রমের ক্ষতি পোষাতে শিক্ষার্থীকে হতে হয় কোচিং আর প্রাইভেটমুখী। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষার্থী মূল্যায়নে প্রস্তাবিত নতুন পদ্ধতি প্রবর্তনের উদ্দেশ্য ফলের গুণগত মান নিশ্চিত করা। এটা হলে একজন শিক্ষার্থী প্রকৃত অর্থে কতটা মেধাবী তা নিরূপিত হবে। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় ঘন ঘন পরিবর্তনের কোনো ঘটনা নেই। ১৯৯৬ সালের পর ২০১২ সালে কারিকুলাম পরিবর্তন হয়েছে। পাঠ্যবইও নতুন হয়েছে দু’বার। পাঠ্যবইয়ে মাঝখানে যা হয়েছে তা শুধু ইতিহাস বিকৃতি দূরের কাজ। সেটা একটা বড় কাজ ছিল। এখন কারিকুলাম ও পাঠ্যবই পর্যালোচনা চলছে। প্রত্যেক দেশেই নির্দিষ্ট সময় পর এটা করা হয়। তিনি স্বীকার করেন, শিক্ষায় মৌলিক পরিবর্তন এনেছে সৃজনশীল পদ্ধতি। ছাত্রছাত্রীদের সৃজনশীল, চিন্তাশীল এবং স্বাধীনভাবে লেখার সক্ষমতা তৈরির জন্যই এটি আনা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, তা উত্তরণে কাজ চলছে।
নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি : গত ২৭ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থী মূল্যায়নে ‘স্টান্ডার্ডাইজেশন’ (প্রমিতকরণ) নামে নতুন পদ্ধতির কথা প্রকাশ করেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী। গ্রেডিং সিস্টেম বহাল রেখেই শিক্ষার্থীর ফল তৈরি করা হবে। এই পদ্ধতি অনুযায়ী, খাতায় প্রাপ্ত নম্বর সরাসরি শিক্ষার্থীকে দেয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো বিষয়ে শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর থেকে ওই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরের গড় সংখ্যা দিয়ে বিয়োগ করা হবে। এরপর প্রাপ্ত ফল ওই বিষয়ে সব শিক্ষার্থীর নম্বর প্রাপ্তির তারতম্য (স্টান্ডার্ড ডেভিয়েশন) দিয়ে ভাগ করা হবে। এরপর যা আসবে সেটিই শিক্ষার্থীকে দেয়া হবে। এই পদ্ধতি আনা হলে প্রতিবছর কত শতাংশ শিক্ষার্থীকে জিপিএ-৫ দেয়া হবে তা সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হবে। এ পদ্ধতি প্রবর্তনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিটের (বেডু) পরিচালক রবিউল কবীর চৌধুরী। তিনি সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘বর্তমানে আমরা শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর সরাসরি যোগ করে ফলাফল দিয়ে থাকি। পৃথিবীর কোথাও এটা করা হয় না। এতে একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত অর্থে মূল্যায়ন করা হয় না। ফলে আমরা ভালো ছাত্র আর দুর্বল ছাত্রকে চিহ্নিত করতে পারি না। তাই স্টান্ডার্ডাইজেশন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী মূল্যায়নের চিন্তা করছে সরকার। বর্তমানে আইইএলটিএস, টোফেল, স্যাট, জিআরই এমনকি ইংরেজি মাধ্যমের ‘ও’ এবং ‘এ’ লেবেল পরীক্ষাসহ বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন পরীক্ষায় এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্টান্ডার্ডাইজেশন’ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী মূল্যায়নে কয়েকটি দিক বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে, প্রশ্নপত্রের মান বা তা কতটা কঠিন-সহজ ছিল, পরীক্ষকের নম্বর দেয়ার প্রবণতা বা তিনি কম-বেশি নম্বর দিয়েছেন কিনা ইত্যাদি। এ ছাড়া পরীক্ষার হলের পরিবেশ, উত্তর দেয়ার জন্য শিক্ষার্থীর প্রশ্ন নির্ধারণের ক্ষমতা (সহজ না কঠিন প্রশ্ন বেছে নিয়েছে) বিবেচনায় নেয়া হয়। ক্লাসরুমে পাঠদান (শিক্ষক কতটা সফলভাবে পড়িয়েছেন), জেন্ডার, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। বর্তমানে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষার ফল পায়। কিন্তু এটা তার সত্যিকার প্রাপ্ত নম্বর নয়। প্রতিবছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ভর্তির চিত্র দেখলেই বোঝা যায়। কেননা, সেখানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে অন্য গ্রেডের শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়। এর মানে হচ্ছে, কম জিপিএধারীরা ভালো ছাত্র ছিল। তাই অর্থপূর্ণ নম্বর দিতেই উল্লিখিত পদ্ধতি প্রবর্তনের ঘোষণা আসছে। এটা প্রয়োগ করলে শিক্ষার্থীর র‌্যাঙ্ক অর্ডারে (যে রেজাল্ট করার কথা) কোনো পরিবর্তন আসবে না। জানা গেছে, আজকের বৈঠকে এ পদ্ধতির পাইলট কার্যক্রম বিষয়ে উপস্থাপনা করা হবে।
সৃজনশীল পদ্ধতি : শিক্ষা পদ্ধতিতে এযাবৎকালের সবচেয়ে ওলটপালট করা পরিবর্তনের নাম ‘সৃজনশীল ব্যবস্থা’। সনাতনী পদ্ধতিতে পাঠ্যবইয়ের আলোচনা শেষে প্রশ্ন থাকত। শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে সেই প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করে লিখত। মুখস্থনির্ভর লেখাপড়া থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে আনা, কোচিং-প্রাইভেট ও নোট-গাইড বন্ধ করতে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করা হলেও বাস্তবে এর সবই বেড়েছে। সৃজনশীলের চতুর্থ প্রশ্নটি মুখস্থই করে লিখে থাকে শিক্ষর্থীরা। শিক্ষকরা ঠিকমতো না বোঝায় তারাও ক্লাসে ভালোভাবে পড়াতে পারছেন না। খোদ সরকারি সমীক্ষাই বলছে, ২০০৫ সালে এ পদ্ধতি চালু হলেও ১২ বছরে ৫৬ শতাংশ শিক্ষক এটি আয়ত্ত করতে পেরেছেন। অপরদিকে শিক্ষকরা যাতে পদ্ধতি বুঝতে পরিশ্রম করেন সে জন্য স্কুলের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার প্রশ্ন বাইরে থেকে না কেনার নির্দেশনা ছিল। এ ব্যাপারে পরিপত্রও জারি করা হয়। কিন্তু পদ্ধতি না বোঝায় অনেক শিক্ষক তা মানছেন না। বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশ্ন কিনে পরীক্ষা নেন। স্কুল-কলেজ তো বটেই, খোদ বোর্ড পরীক্ষায়ও গাইড বই থেকে প্রশ্ন তুলে দেয়ার ঘটনা ঘটছে। শিক্ষার্থীরা আগে এক কোম্পানির গাইড কিনলেও এখন বেশি উদ্দীপক পাওয়ার আশায় একাধিক কোম্পানির গাইড কিনছে। ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া ক্লাসরুমের পরিবর্তে চলে গেছে কোচিং সেন্টারে। শিক্ষকরা এ পদ্ধতি না বোঝায় কমার্শিয়াল কোচিং সেন্টার বিস্তার লাভ করেছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের কোচিং ব্যবসাও বেড়েছে। গণসাক্ষরতা অভিযানসহ (ক্যাম্পে) বিভিন্ন সংস্থার সমীক্ষায়ও এসব তথ্য উঠে এসেছে। এ ব্যাপারে বেডুর পরিচালক যুগান্তরকে বলেন, ‘শুধু শিক্ষকের মানের অভাবে আমরা সৃজনশীল পদ্ধতিটা ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পারিনি। সৃজনশীল মানে পাঠ্যবইয়ের গল্পের আদলে শুধু নাম পরিবর্তন করে প্রশ্ন তৈরি নয়; সৃজনশীল পদ্ধতির কথা ছিল- পাঠের মূল স্পিরিট সামনে রেখে প্রশ্ন করা হবে। কিন্তু বোর্ডের প্রশ্নও কেবল নাম পরিবর্তন করে করা হয়।’
কারিকুলাম ও পাঠ্যবই : ২০১০ সালে সরকার শিক্ষানীতি তৈরি করে। এর আলোকে ২০১২ সালে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের কারিকুলাম তৈরি করা হয়। এর আগে ১৯৯৬ সালে কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছিল। নতুন কারিকুলামের আলোকে ২০১৩ সালে শিশুদের হাতে তুলে দেয়া হয় পাঠ্যবই। ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ এবং চলতি বছরও এসব বই পরিমার্জন-পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে এ বছর পাঠ্যবই পরিবর্তন নিয়ে সুধী মহলে ব্যাপক আপত্তি উঠেছে। অনেকেরই অভিযোগ- হেফাজতে ইসলামের দাবি আমলে নিয়ে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আগে ২০০৯, ২০১০, ২০০৭ ও ২০০২ সালে পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন আনা হয়। এদিকে ২০১২ সালের কারিকুলামের আলোকে স্বাস্থ্য ও শারীরিক শিক্ষা, চারু ও কারুকলা, ক্যারিয়ার শিক্ষা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নামে কয়েকটি নতুন পাঠ্যবই প্রবর্তন করা হয়। অন্যান্য বিষয়ের মতো এগুলোতেও বার্ষিক, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হচ্ছিল। নতুন কারিকুলামের অধীনে প্রবর্তিত নতুন বিষয় নিয়ে শোরগোল ওঠে। বিশেষ করে জেএসসি-এসএসসি পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও শারীরিক শিক্ষা, চারু ও কারুকলা, ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা নেয়ার প্রশ্নে আপত্তি তোলেন বিশেষজ্ঞরা। এ কারণে গত ২২ মার্চ পাবলিক পরীক্ষা থেকে বিষয়গুলো তুলে নেয়া হয়। এখন এগুলো ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে স্কুল-মাদ্রাসা পর্যায়ে মূল্যায়ন করা হবে। আইসিটি বিষয় চালু করলেও এর শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি। ফলে জোড়াতালি দিয়ে চলছে এ শিক্ষা। এ প্রসঙ্গে জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য অধ্যাপক মশিউজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ‘সারা বিশ্বেই প্রতি ৫-৭ বছর পরপর কারিকুলাম পরিবর্তন করা হয়ে থাকে। ২০১২ সালে যখন আমরা এই কারিকুলাম প্রবর্তন করি, তখনই ২০১৭ সালে এটি পর্যালোচনার কথা ছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয়ই কারিকুলাম এবং পাঠ্যবই পর্যালোচনায় দুটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী জরুরি কিছু থাকলে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন করা হবে। তা না থাকলে আমরা বিষয়ভিত্তিক পর্যালোচনা কমিটি করব। মাঠপর্যায় থেকেও মতামত নেয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত কারিকুলাম তৈরি করা হবে। এই দুটি কমিটির সঙ্গে আজ বৈঠকে বসছেন শিক্ষামন্ত্রী। এতে তাদের কাজের অগ্রগতি আলোচনা করা হবে।’
পরীক্ষা পদ্ধতি : গত দেড় দশকে শিক্ষার্থী মূল্যায়ন পদ্ধতিও অন্তত তিনবার পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে- গ্রেডিং পদ্ধতি, এসবিএ (স্কুলভিত্তিক মূল্যায়ন) ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন। ২০০৭ সালে এসবিএ চালু করতে গেলে এক শ্রেণীর শিক্ষকের দুর্নীতিতে হোঁচট খায়। এ পদ্ধতি অনুযায়ী শিক্ষক স্কুলেই শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ন করে নম্বর দেবেন। তখন শিক্ষকরা এ পদ্ধতিকে অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে নেন। পরে সমালোচনার মুখে এক বছরেই তা স্থগিত করা হয়। এখন ধারাবাহিক মূল্যায়নের নামে এ পদ্ধতিই আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা স্বাস্থ্য ও শারীরিক শিক্ষা, চারু ও কারুকলা, ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের মাধ্যমে চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গলার ফাঁস এমসিকিউ : পরীক্ষায় সবচেয়ে বড় মৌলিক পরিবর্তন আসে ১৯৯১ সালে। ওই বছর এসএসসিতে চালু করা হয় ৫০ নম্বরের এমসিকিউ। বাকি ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেয়া হতো। এমসিকিউতে প্রতি বিষয়ে ৫০০টি এমসিকিউ প্রশ্ন নির্ধারণ করে দেয়া হয়। তার নাম দেয়া হয় প্রশ্নব্যাংক। সেখান থেকে প্রশ্ন করা হতো। উভয়টি মিলিয়ে তখন ৩৩ নম্বর পেলেই পাস করত পরীক্ষার্থী। ফলে এক শ্রেণীর শিক্ষার্থী রচনামূলক অংশের লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে শুধু ৫০০ এমসিকিউ মুখস্থ করেই পাস করত। এতে পাসের হার রাতারাতি বাড়লেও শিক্ষার মান পড়তে থাকে। এ অবস্থায় ১৯৯৬ সালে প্রশ্নব্যাংক তুলে দিয়ে গোটা বই থেকে এমসিকিউ করা হয়। এতেও শেষরক্ষা হয়নি। এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর পরীক্ষার হলে বলে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটতে থাকে। পরে এমসিকিউর পূর্ণ নম্বর কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়। কিন্তু জেঁকে বসা দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। ফলে চলতি বছরের এসএসসি থেকে এমসিকিউ প্রশ্ন ৩০ শতাংশ করা হচ্ছে। কিন্তু এরপরও দুর্নীতি পিছু ছাড়েনি। চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় এই প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ঢাকায় লালমাটিয়া মহিলা কলেজের সামনে একটি রেস্তোরাঁ থেকে এমসিকিউ প্রশ্নফাঁস করে সমাধান করার সময়ে দুই শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে গ্রেফতারের ঘটনা আছে।
আরও কিছু পরিবর্তন : ২০০৯ সালে হঠাৎ করেই চালু করা হয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। পরের বছর অষ্টম শ্রেণীতেও একই ধরনের পরীক্ষা জেএসসি চালু করা হয়। শুরু থেকেই এ দুটি পরীক্ষা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও আপত্তি ছিল। এর কারণে কোচিং ব্যবসা ব্যাপক বেড়েছে বলে ক্যাম্পের গবেষণায় উঠে আসে। কিন্তু এখনও তা অব্যাহত আছে। ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত করার সুপারিশ আছে। সে অনুযায়ী গত বছর মে মাসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষা কার্যক্রম হস্তান্তর করা হয়। বাস্তবায়ন কার্যক্রম এ পর্যন্তই। অপরদিকে প্রাথমিক স্তর অষ্টমে উন্নীত হলে জেএসসি পরীক্ষার দরকার আছে কিনা- এমন প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই দুটি পরীক্ষার পক্ষে শেষ পর্যন্ত জোরালো অবস্থান দেখা গেছে। অথচ শিক্ষানীতিতে এ দুটি পরীক্ষার কথাই উল্লেখ নেই। অপরদিকে ২০১৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত করার সুপারিশ থাকলেও এ নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রস্তুতি তেমন নেই। ফলে এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় আছে।