Wednesday, August 4, 2010

মৌয়িলার ৫০তম জন্মদিন

উপহার হাতে মৌয়িলা

সেদিন ঘটা করে উদ্যাপন করা হলো মৌয়িলার ৫০তম জন্মদিন। পশ্চিমা নিচু এলাকার বনাঞ্চলের এক মাদি গরিলা সে। ইংল্যান্ডের কেন্টের ক্যান্টারবুরিতে অবস্থিত বেসরকারি চিড়িয়াখানা হাউলেটস ওয়াইল্ড অ্যানিমেল পার্কে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক গরিলাগুলোর একটি মৌয়িলা।
জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ছিল মৌয়িলার ছয় সঙ্গী। মৌয়িলাকে বেশ কিছু উপহার দেওয়া হয়। গরিলার উপযোগী মোড়ক দিয়ে মোড়ানো ছিল এসব উপহার। মোড়কের ভেতর খড় দিয়ে সযত্নে রাখা হয় উপহারগুলো। এই উপহারের মধ্যে খাবার ও খেলনা ছিল।

হেগে শুনানির সময় কঠোর গোপনীয়তা চান নাওমি

নাওমি ক্যাম্পবেল
সুপার মডেল নাওমি ক্যাম্পবেলকে ‘ব্লাড ডায়ামন্ড’ উপহার গ্রহণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অভিযোগ রয়েছে, লাইবেরিয়ার সাবেক স্বৈরশাসক চার্লস টেলর তাঁকে ওই মূল্যবান হীরাটি উপহার দেন। এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দিতে নেদারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত হেগে উপস্থিত হবেন নাওমি। তবে এ ক্ষেত্রে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষার জন্য আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
লাইবেরিয়ার সাবেক স্বৈরশাসক চার্লস টেলরের বিরুদ্ধে নব্বইয়ের দশকে প্রতিবেশী সিয়েরালিওনে বিদ্রোহীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, ধর্ষণসহ ১১টি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে বিচার চলছে তাঁর।
হেগের আইনজীবীরা মনে করেন, নাওমি ক্যাম্পবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে টেলরের যুদ্ধাপরাধে সম্পৃক্ত থাকার ব্যাপারে তথ্য মিলবে। কারণ অভিযোগ রয়েছে, সিয়েরালিওয়নের খনি থেকে ‘ব্লাড ডায়ামন্ড’ লুট করে ওই ডায়ামন্ডের বিনিময়ে অস্ত্র কিনতে ১৯৯৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান টেলর। তখন নেলসন ম্যান্ডেলার বাসভবনে এক নৈশভোজে যোগ দেন তিনি। ওই নৈশভোজেই সুপার মডেল নাওমিকে তিনি ‘ব্লাড ডায়ামন্ড’ উপহার দেন।

নেপালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে তৃতীয় দফা উদ্যোগও ব্যর্থ

নেপালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে তৃতীয় দফা উদ্যোগ গতকাল সোমবার ব্যর্থ হয়েছে। চতুর্থ দফা নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার। দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ৬০১ সদস্যের পার্লামেন্ট এর আগে দুবার ব্যর্থ হয়। গত ৩০ জুন প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপালের পদত্যাগের পর দেশটিতে রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়। এক মাস পর গতকাল সোমবার নেপালের আইনপ্রণেতারা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের তৃতীয় দফা উদ্যোগ নেন। তবে প্রেসিডেন্ট রামবরণের আহ্বানে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়কপ্রধান হিসেবে মাধব কুমার দায়িত্ব পালন করবেন।
তৃতীয় দফা নির্বাচনের উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর গতকাল পার্লামেন্টের চেয়ারম্যান অব দ্য হাউস সুভাষ মেম্বাং তিনটি প্রধান দলের প্রধানদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে আগামী বৃহস্পতিবার চতুর্থ দফা নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
১০ বছর সশস্ত্র সংগ্রামের পর ২০০৬ সালে ক্ষমতাসীন দলগুলোর সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে মাওবাদীরা। ২০০৮ সালের ১০ এপ্রিল দেশটির সংবিধান প্রণয়নে দুই বছর মেয়াদের জন্য গণপরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সংবিধান প্রণয়নে ব্যর্থ হয় গণপরিষদ।

কিউবায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো সে দেশে বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারি নীতিমালা শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, উদ্যোক্তাদের নতুন নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খোলা এবং সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আর কোনো কড়াকড়ি থাকবে না। তিনি মনে করেন, এর ফলে কিউবায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো যাবে। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার কর্মী ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর গত রোববার জাতীয় পরিষদে দেওয়া ভাষণে রাউল কাস্ত্রো এ ঘোষণা দিলেন।
রাউল কাস্ত্রো বলেন, উদ্যোক্তারা যাতে সহজে ব্যবসার লাইসেন্স পান, সে জন্য সরকার অসংখ্য বাণিজ্যসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা বাতিল করবে। এর ফলে একদিকে যেমন বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে, অন্যদিকে সরকারি কোষাগারে মোটা অঙ্কের রাজস্ব জমা হবে।
এ বছরের শুরুতে রাউল কাস্ত্রো বলেছিলেন, কিউবায় বর্তমানে ৫১ লাখ সরকারি কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ লাখ লোক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি।

কমনওয়েলথ গেমস ঘিরে অনিয়মের অভিযোগের কারণ রাজনীতি

ভারতে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ গেমস ঘিরে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ গেমস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা বলেছেন, এর পেছনে রাজনীতি আছে।
অস্ট্রেলিয়ান কমনওয়েলথ গেমস অ্যাসোসিয়েশনের (এসিজিএ) প্রধান নির্বাহী পেরি ক্রসহোয়াইট বলেন, এসব অভিযোগ উত্থাপনের নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে। তিনি বলেন, এটা বোঝা যাচ্ছে যে বিষয়টি নিয়ে সরকার ও গেমসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কাদা ছোড়াছুড়ি করছে। তবে আমার পক্ষে বেশি কিছু বলা কঠিন।
ভারতের একটি দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা গত শুক্রবার জানায়, কমনওয়েলথ গেমস সামনে রেখে নির্মিত স্থাপনাগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার ভারতীয় হাইকমিশন লন্ডনে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন এক অভিযোগের কথা প্রকাশ করেছে।
ক্রসহোয়াইট বলেন, অভিযোগ করার ক্ষেত্রে প্রত্যেকে পরস্পরের অতি সূক্ষ্ম ত্রুটিগুলোও টেনে আনছে।
আগামী ৩ থেকে ১৪ অক্টোবর ভারতে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ গেমস হবে দেশটিতে এ পর্যন্ত আয়োজিত সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আসর। ৭১টি দেশের প্রতিযোগীরা এতে অংশ নেবে। এই আসরের বাজেট ইতিমধ্যে রেকর্ড ২০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে সেন্ট্রাল ভিজিলেন্স কমিশন কর্মকর্তারা বলেন, গেমসের জন্য বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সংস্থাটি ১৪টি প্রকল্পে অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে

আগস্টের মধ্যেই ইরাকে সামরিক অভিযান শেষ হবে: ওবামা

সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও নির্ধারিত সময় ৩১ আগস্টের মধ্যেই ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযান শেষ হবে। গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ ঘোষণা দেবেন। যুদ্ধে পঙ্গু হয়ে যাওয়া প্রবীণ মার্কিন সেনাদের জাতীয় সম্মেলনে ওবামা সোমবার ওই ভাষণ দেবেন।
সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত ভাষণে ওবামা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আমি ইরাকের ব্যাপারে নতুন কৌশল গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, ২০১০ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযান শেষ হবে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা সেটাই করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই।’
ওবামা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বাগদাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি নিরাপত্তা চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী ২০১১ সালের মধ্যে ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা। ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা ৫০ হাজারে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবামা। ইরাকে এ মুহূর্তে ৬৫ হাজারের মতো মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে।
ইরাকে যখন নতুন করে সহিংসতা বাড়ছে তার মধ্যেই ওবামা সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। ইরাক সরকার গত শনিবার জানিয়েছে, গত জুলাইয়ে সহিংসতায় মারা গেছে ৫৩৫ জন। এর মধ্যে ৩৯৬ জন বেসামরিক লোক, ৮৯ জন পুলিশ এবং ৫০ জন সেনা। ২০০৮ সালের মে মাসের পর গত মাসেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে।
তবে ইরাকে মার্কিন বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল স্টিফেন লিনজা বলেছেন, শুধু হতাহতের সংখ্যার মাধ্যমে ইরাকের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রতিফলিত হচ্ছে না। তা ছাড়া হতাহতের যে সংখ্যা বেসরকারিভাবে গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে তা অতিরঞ্জিত।
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, বিদ্রোহীরা ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলেও সেখানে সহিংসতার ঘটনা কয়েক বছরের মধ্যে সচচেয়ে কম অবস্থায় রয়েছে।
ওবামা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাস অন্তবর্তীকালীন মার্কিন সেনা ইরাকে থাকবে এবং ২০১১ সালের মধ্যে সব সেনা প্রত্যাহার করা হবে। এই সময় মার্কিন বাহিনী ইরাকি সেনাদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সহযোগিতা দেবে এবং নিজেদের সামরিক-বেসামরিক স্বার্থ রক্ষা করবে।

এ বছর ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন সাতজন

বাংলাদেশের এক আইনজীবীসহ মোট সাতজন এ বছর র‌্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন। অন্যরা হলের চীনের তিন পরিবেশকর্মী, জাপানের হিরোশিমা নগরের মেয়র এবং ফিলিপাইনের এক দম্পতি। এশিয়ার নোবেল খ্যাত এ পুরস্কার গতকাল সোমবার ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে পুরস্কার পেয়েছেন এ এইচ এম নোমান খান। প্রতিবন্ধীদের সাহায্যার্থে একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) পরিচালনায় দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত চীনের তিন পরিবেশকর্মীর একজন হলেন আলোকচিত্রী হুয়ো দাইশান। চীনের তৃতীয় বৃহত্তম নদী হুয়াইয়ের ভয়াবহ দূষণ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচারণার জন্য তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তা ও কারখানামালিকদের হুমকি-ধমকি এবং হয়রানি সত্ত্বেও তিনি এই প্রচারণার কাজ চালিয়ে গেছেন।
পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার পাওয়া অন্য দুজন হলেন চীনের পরিবেশ প্রতিরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার প্যান ইউয়ি এবং শেজিয়াং প্রদেশের এক গ্রামপ্রধান ফু কিপিং।
পুরস্কার পেয়েছেন জাপানি নগরের হিরোশিমার তিন মেয়াদের মেয়র তাদাতোশি আকিবা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পরমাণু বোমায় ধ্বংস হওয়া জাপানের দুই নগরের একটি হিরোশিমা। পরমাণু অস্ত্র ধ্বংসের কাজে অবদান রাখায় তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
ফিলিপাইনে দরিদ্রদের জন্য নতুন শিক্ষা পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ এক দম্পতি। তাঁরা হলেন ক্রিস্টোফার ও মারিয়া ভিক্টোরিয়া বার্নিডো। ১৯৫৭ সালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন ফিলিপাইনের জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট র‌্যামন ম্যাগসাইসাই। তাঁর নামেই ওই বছর থেকে ম্যাগসাইসাই পুরস্কার চালু করা হয়।

ইসলামাবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে তলব

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জের ধরে পাকিস্তান ও ব্রিটেনের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। ওই মন্তব্যের জের ধরে পাকিস্তান সরকার ইসলামাবাদে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যাডাম থমসনকে তলব করেছে।
গতকাল সোমবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে তলব করেন। এর মধ্য দিয়ে ব্রিটেন-পাকিস্তান সম্পর্কের আরও একধাপ অবনতি হলো বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা গতকাল এএফপিকে জানান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তলবে সাড়া দিয়ে দুপুরে (গতকাল) তাঁর কার্যালয়ে যান এবং বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি প্রকাশ করার কথা রয়েছে। ব্রিটিশ হাইকমিশন এ সংবাদের সত্যতা স্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরোধে ডেভিড ক্যামেরনের মন্তব্য নিয়ে হাইকমিশনার তাঁর সঙ্গে আলোচনা করছেন।
এদিকে ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলেছেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ক্যামেরনের বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্ককে উসকে দিচ্ছে। তাদের সমর্থন পেয়ে ইসলামি সংগঠনগুলো ক্যামেরনের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে। আইএসআইয়ের প্রধান আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের মধ্যে সহযোগিতামূলক বৈঠক বাতিল করে দেওয়ায় তারা বিক্ষোভ করতে উৎসাহ পেয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট জারদারি সরকারের বাইরে ও ভেতরের নেতা-কর্মীদের চাপে রয়েছেন। আগামী শুক্রবার ব্রিটেনে সফর করে জারদারির ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। বিরোধী দল ও সরকারের একটি অংশ চাইছে, জারদারি ওই বৈঠকে না যান। তবে এখন পর্যন্ত জারদারির সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
গত বুধবার ভারতের বেঙ্গালুরু সফর করার সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানকে তার ভূখণ্ড থেকে ভারত বা আফগানিস্তান অথবা অন্য যেকোনো দেশে জঙ্গি ‘রপ্তানি’ করতে দেওয়া হবে না। তাঁর এ মন্তব্যে পাকিস্তানের সরকারি ও বেসরকারি মহলে তোলপাড় শুরু হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ গিলানি ক্যামেরনের এ বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তবে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী কামর জামান কয়রা বলেন, আগামী শুক্রবার প্রেসিডেন্ট জারদারি ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রেসিডেন্ট জারদারি সেখানে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন এবং তাঁরা আশা করছেন, সব শুনে ক্যামেরন তাঁর ভুল বুঝতে পারবেন।

আত্মসমর্পণ প্যাকেজে মাওবাদীদের সাড়া

স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বানসংবলিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ঘোষিত আর্থিক প্যাকেজে ধীরে ধীরে সাড়া দিতে শুরু করেছেন মাওবাদী সদস্যরা। বিশেষ করে যৌথ বাহিনীর অভিযানে মাওবাদীদের কয়েকজন নেতার মৃত্যু এবং জঙ্গলমহলে মাওবাদীবিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠায় দলের একাংশ এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইছে। কিন্তু দলের ভয়ে এখনো অনেকে ওই আহ্বানে সাড়া দিতে পারছেন না।
মাওবাদীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে আর্থিক প্যাকেজসংক্রান্ত পোস্টার গত রোববার থেকে জঙ্গলমহলে লাগানো শুরু হয়েছে। প্যাকেজে আরও বলা হয়, আত্মসমর্পণকারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে রাজ্য সরকার। দুই বছর তাঁদের ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখা হবে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার মনোজ ভার্মা বলেন, ইতিমধ্যে আটজন মাওবাদী সদস্য আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করে আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর বিশ্বাস, মাওবাদী সদস্যরা এই ডাকে সাড়া দেবেন।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ঘোষিত আর্থিক প্যাকেজে বলা হয়েছে, মাওবাদী সদস্যরা অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করলে তাঁদের প্রত্যেককে আগামী তিন বছরের জন্য প্রতি মাসে দুই হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এককালীন দেওয়া হবে দেড় লাখ রুপি। এ ছাড়া স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থাও করা হবে। এ ছাড়া আত্মসমর্পণের সময় মেশিনগান জমা দিলে ২৫ হাজার, রাইফেল বা একে-৪৭ জমা দিলে ১৫ হাজার, রিভলবার বা পিস্তল জমা দিলে তিন হাজার, স্যাটেলাইট ফোন ১০ হাজার, ল্যান্ড মাইন তিন হাজার এবং বিস্ফোরক প্রতি কেজির জন্য এক হাজার রুপি আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে ১৮ মৃত্যু

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে একটি বৃদ্ধাশ্রমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৮ ব্যক্তির মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার জরুরি সেবাপ্রতিষ্ঠান নেটকেয়ার-৯১১-এর মুখপাত্র ক্রিস বোথা জানান, গত রোববার রাতে জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলীয় শহর নাইজেলের পিটার ওয়েসেলস নামের বৃদ্ধাশ্রমে অগ্নিকাণ্ডে ১৮ জন মারা যান।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৮৪ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি তদন্ত করছে।

ইসরায়েল ও জর্ডানে রকেট হামলা, নিহত ১

ইসরায়েলের অবকাশযাপন কেন্দ্র ও সমুদ্রবন্দর ইলাত এবং সংলগ্ন জর্ডানের সমুদ্রবন্দর আকাবায় গতকাল সোমবার রকেট হামলায় একজন নিহত ও কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছে। মিসরের সিনাই এলাকা থেকে এই রকেট ছোড়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল পৌনে আটটার দিকে কয়েকটি রকেট আঘাত হানে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চার-পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। রোজেনফেল্ড নামের ওই মুখপাত্র বলেন, ‘বিস্ফোরণগুলো রকেট হামলা বলেই মনে হয়েছে। দুটি রকেট পড়েছে সমুদ্রে। আর একটি পড়েছে সমুদ্রবন্দরের ফাঁকা এলাকায়।’ তবে সেই এলাকাটি ঠিক কোথায় সেটি তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি।
ইলাতের পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, আর দুটি রকেট আঘাত হেনেছে জর্ডান ভূখণ্ডে। প্রায় একই সময় ইলাত থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত জর্ডানের আকাবা সমুদ্রবন্দরে আঘাত হানে একটি রকেট। জর্ডানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্দরের একটি হোটেল এলাকায় ওই রকেটের আঘাতে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছে।
জর্ডানের রাজধানী আম্মানে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নায়েফ কাদাই জানান, একটি আন্তর্জাতিক হোটেলের কাছে রাস্তায় আঘাত হানে একটি রকেট। এতে দুটি গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়।
ঘটনা তদন্তের সঙ্গে জড়িত জর্ডানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আকাবা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কোনো এলাকা থেকে ওই রকেট ছোড়া হয়েছে। তিনি আসলে মিসরের সিনাই উপত্যকাকে ইঙ্গিত করেছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, রকেটটি ছোড়া হয়েছে আকাবার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে। এতে আহত হয়েছে পাঁচজন।’
ইসরায়েলে ইলাতের পুলিশ প্রধান মোশে কোহেন জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ইলাতের দক্ষিণ দিক থেকে রকেট ছোড়া হয়েছে। তিনিও মিসরের সিনাই উপত্যকার দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইলাত থেকে সিনাইয়ের দূরত্ব ১০ কিলোমিটারের মতো। ইসরায়েলি একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, রকেটগুলো সম্ভবত মিসর থেকে ছোড়া হয়েছে।
গত এপ্রিলেও আকাবা এবং ইলাতে একই ধরনের রকেট হামলা হয়েছিল। তবে তখন কোথা থেকে রটেক ছোড়া হয়েছে তা নির্ধারণ করা যায়নি। ২০০৫ সালেও এই দুই বন্দরে একই ধরনের রকেট হামলা হয়। কিন্তু ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল সিনাই এলাকার একটি জঙ্গি গোষ্ঠী।

‘উইকিলিকসের তথ্য ফাঁস অনৈতিক’

আফগান যুদ্ধ নিয়ে উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘গোপন তথ্য’ ফাঁস করাকে অনৈতিক বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস। উইকিলিকস এ বিষয়ে আরও তথ্য ফাঁস করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তথ্য ফাঁসের বিষয়ে গত রোববার এবিসি টেলিভিশনের নিউজ শোতে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন গেটস।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী গেটস বলেন, এভাবে তথ্য প্রকাশের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে পারস্পারিক বিশ্বাস কমে যেতে পারে। এ ছাড়া এসব নথিতে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা আফগান নাগরিকদের জীবন হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। তিনি বলেন, এ জন্য উইকিলিকসের বিরুদ্ধে আইনগতসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে তাও হতে হবে নৈতিকতার ওপর ভিত্তি করে। আর এটা বিচার বিভাগের ব্যাপার। গেটস আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, তথ্য ফাঁস করায় উইকিলিকস দোষী সাব্যস্ত হবে। তথ্য ফাঁসের পরিণতি কী হতে পারে, সে বিষয়ে তারা কোনো চিন্তাভাবনাই করেনি।’
এনবিসি টেলিভিশনে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ারম্যান অব দ্য জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ ঘটনা বলে অভিহিত করেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় জোর তদন্ত চলছে। ইরাক যুদ্ধে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক ব্রাডলি ম্যানিংকে কেন্দ্র করে এই তদন্ত চালানো হচ্ছে। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন বাহিনীর একটি বিমান হামলার গোপন ভিডিওচিত্র ফাঁস করার অভিযোগে ব্রাডলিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই হামলায় রয়টার্সের দুই সাংবাদিকসহ কয়েক ডজন সাধারণ নাগরিক নিহত হন। ব্রাডলি কাছের কারও সঙ্গে ইউকিলিকসের সম্পর্ক আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি উইকিলিকস নামের একটি সংস্থার ওয়েবসাইটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৯২ হাজারেরও বেশি গোপন তথ্যের নথি ফাঁস করা হয়। ‘আফগান যুদ্ধের দিনপঞ্জি’ শিরোনামে উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে বলা হয়, এসব নথিতে তালেবানকে পাকিস্তান ও ইরান সহায়তা করছে, সে বিষয়ে ন্যাটোর উদ্বিগ্নতার বিষয়টি উঠে এসেছে। নথিতে ন্যাটো বাহিনীর হামলায় আফগানিস্তানে বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: মুলেন

অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন
ইরানের পরমাণু অস্ত্র বাগানো ঠেকাতে প্রয়োজনে সে দেশে হামলা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন স্বীকার করেছেন, এ ধরনের হামলার পরিকল্পনা আছে তাঁর। তবে এ ধরনের হামলার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি চরম উদ্বেগের মধ্যে আছেন। গত রোববার মার্কিন টিভি চ্যানেল এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ আন্তর্জাতিক সমস্যাগুলোর সমাধান নিয়ে মুখোমুখি বিতর্কে অংশ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দেখতে চান, দুজনের মধ্যে কে সবচেয়ে ভালো সমাধান দিতে পারেন।
মার্কিন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার ওই মন্তব্যের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তারা বলেছে, মার্কিন সেনাদের কারণে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা সংকটাপন্ন হলে কঠোর জবাব দেবে তারা।
অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণাম ডেকে আনতে পারে। এ ব্যাপারে আগাম কিছু বলা মুশকিল। তবে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়াও মেনে নেওয়া যায় না। মন খুলে বলতে গেলে এটাই বলতে হয়, উভয় পরিণাম নিয়ে আমি চরম উদ্বেগের মধ্যে আছি।’
মুলেন আশা প্রকাশ করেন, যৌথ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রয়াস ও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ তেহরানকে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পরিত্যাগের পথে নিয়ে যাবে। অনেকের মতে, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর বিশ্বাস এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে।
মুলেন বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সমাধানের বিষয়টি টেবিলে উত্থাপন করা হয়েছে। তা এখন টেবিলেই রয়েছে। আশা করি, এ সমাধান আমাদের বেছে নিতে হবে না। তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান।’
মার্কিন সেনাদের ইরাকে হামলা করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে মুলেন বলেন, ‘পরিকল্পনা আছে।’ তবে এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
মুলেনের এসব মন্তব্যের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে ইরান। সে দেশের অভিজাত বাহিনী বলে পরিচিত রেভ্যুলিউশনারি গার্ডসের উপপ্রধান ইয়াদুল্লাহ জাভানি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি আমাদের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক ব্যবস্থা নেয়, সে ক্ষেত্রে আমরা আমাদের রক্ষা করব।’
তেহরানে গতকাল সোমবার প্রবাসী ইরানিদের এক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘আগামী মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আমরা মিলিত হব বলে আশা রাখি। সেখানে সংবাদমাধ্যমের সামনে ওবামার সঙ্গে আমি মুখোমুখি হতে চাই। দেখি, বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যার ব্যাপারে কে বেশি ভালো সমাধান দিতে পারে।
গত সেপ্টেম্বরে আহমাদিনেজাদ এ ধরনের এক বিতর্কের প্রস্তাব দেন। কিন্তু ওয়াশিংটন তা গ্রহণ করেনি

বাংলালিংক থেকে ট্রেনের টিকিট কেনা যাবে

বাংলালিংক গতকাল সোমবার সিএনএস লিমিটেড ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মোবাইল ট্রেন টিকিট সার্ভিস বা সেবা কার্যক্রম চালু করেছে।
এই সেবা কার্যক্রমের আওতায় রেলযাত্রীরা নিজ নিজ বাংলালিংক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া যেকোনো ট্রেনের টিকিট কিনতে পারবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রায় ৫০০ বাংলালিংক মোবাইল ক্যাশ পয়েন্ট থেকেও টিকিট কেনা যাবে।
ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক মো. শাহজাহান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলালিংকের ভারপ্রাপ্ত সিসিও মোহাম্মদ আরশাদ ও বিপণন পরিচালক শিহাব আহমেদ, সিএনএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী মো. আনওয়ারুল হক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মোবাইলে ট্রেনের টিকিট কেনার পর ফিরতি এসএমএসের মাধ্যমে একটি ই-টিকিট নম্বর পাবে। এরপর তাদের ট্রেন ছাড়ার এক ঘণ্টা আগে স্টেশনে পৌঁছে মোবাইল ফোন নম্বর ও ই-টিকিটের নম্বর দেখিয়ে ছাপানো টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।

আজ সাধারণ সূচক বেড়েছে ৪৪.৮২ পয়েন্ট

ঢাকা শেয়ারবাজারে আজ মঙ্গলবার সাধারণ সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। বিকেল তিনটায় লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ মূল্যসূচক ৪৪ দশমিক ৮২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪৮৪ পয়েন্টে। আজ মোট লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৯৭৪ কোটি টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ৩৬৫ কোটি টাকা বেশি।
আজ শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। মোট ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬১টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ৮৫টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট চারটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো বেক্সিমকো, সামিট অ্যালয়েন্স পোর্ট, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস, লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স ও বিএসআরএম স্টিলস।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো আলফা ট্যোবাকো, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, ফিডেলিটি অ্যাসেটস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ কোম্পানি, সামিট অ্যালয়েন্স পোর্ট ও আর এন স্পিনিং মিলস।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো ঢাকা ফিশারিজ, আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও আইসিবি এএমসিএল তৃতীয় এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড।

যেভাবে চলছে দল নির্বাচন

ক্রিকেট বোর্ড থাকলে নির্বাচক কমিটি থাকবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেরও (বিসিবি) একটা নির্বাচক কমিটি আছে। তবে বেতন দিয়ে এই নির্বাচক কমিটি রাখার যুক্তি এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দলে কে থাকবেন, কে থাকবেন না—সেসব তো নির্বাচকদের সিদ্ধান্তেই হয় না। বিসিবি কর্মকর্তারাও সে ব্যাপারে যথেষ্টই সক্রিয়।
বোর্ডের বিশ্বস্ত সূত্রে যেমন জানা গেছে, রকিবুল হাসানের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তাঁকে গত ইংল্যান্ড সফরের ওয়ানডে দলে নিতে ইতস্তত বোধ করছিলেন নির্বাচকেরা। বোর্ডের মনোভাব বুঝতে প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলম এক বোর্ড পরিচালককে ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন, রকিবুলকে দলে নেওয়াটা ঠিক হবে কি না। ওই বোর্ড পরিচালকের সম্মতিতে রকিবুল দলে এলেনও। কিন্তু পরে টেকনিক্যাল কমিটির সভায় উল্টো তোপের মুখে পড়েন প্রধান নির্বাচক—‘কেন নেওয়া হলো রকিবুলকে? ও তো কোনো ক্রিকেটারই না!’ প্রধান নির্বাচক মনে করিয়ে দিলেন, সিদ্ধান্তটা একজন বোর্ড পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া। দুর্ভাগ্য রফিকুলের। যাঁর সঙ্গে আলোচনা করে রকিবুলকে দলে নিয়েছিলেন, সেই বোর্ড পরিচালক তাঁকে সমর্থন তো করলেনই না, উল্টো বললেন, তিনি নাকি তখন খুব ঝামেলায় ছিলেন। ফোনে কী বলতে কী বলেছেন...! ইনজুরিতে পড়ে দেশে ফিরে এলেও রকিবুল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই ৭৬ রান করে তাঁর দলভুক্তির যৌক্তিকতা প্রমাণ করেছিলেন।
জাতীয় ক্রিকেট দল নির্বাচন এখন এই প্রক্রিয়াতেই চলছে। নির্বাচকেরা একটা নাম লেখার আগে শতবার চিন্তা করেন, নামটা থাকবে তো! এত ‘ভেবেচিন্তে’ কাজ করার পরও তাঁদের স্বাক্ষর করা দল বদলে যায় আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে। গত মার্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ থেকেই শুরু এই প্রবণতার। নির্বাচকদের দেওয়া টেস্ট দলে থাকলেও বোর্ডের ইচ্ছায় সেবার কাটা পড়ে রকিবুলের নাম। সূত্র জানিয়েছে, কাটাছেঁড়ার প্রতিবাদে এক নির্বাচক বোর্ডের বদলে দেওয়া দলে সই করতে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন। ‘এটাই প্রথম, এটাই শেষ’ আশ্বাস দিয়ে পরে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে ওই নির্বাচককে দিয়ে।
ওটা প্রথম ঘটনা, তবে শেষ নয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজের দলেও বোর্ড কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ আর কাটাছেঁড়ার অভিযোগ আছে। এশিয়া কাপ চলাকালে শ্রীলঙ্কা থেকেই নাকি ফ্যাক্সে ইংল্যান্ড সফরের দল নির্বাচনের নির্দেশনা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল নির্বাচক কমিটিকে। বোর্ড সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল ও বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন ওই সময় শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছিলেন। নির্বাচকদের করা দলে তার পরও নাঈম ইসলাম থেকে গেলে পরে সে নাম কেটে ঢোকানো হয় ফয়সাল হোসেনের নাম। ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফর্মার হিসেবে ফয়সাল জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন দেখতেই পারেন। কিন্তু এভাবে দলে আসতে নিশ্চয়ই তিনিও চাননি। এ ছাড়া এশিয়া কাপের দলেও বোর্ডের খবরদারির অভিযোগ আছে।
এসব ব্যাপারে প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলমের বরাবরই ‘বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না’ অবস্থা। ভাবটা এমন, সবাই যখন সবকিছু জানেই, ‘সাধারণ চাকুরে’ হয়ে খামোখা ঝামেলায় পড়ার দরকার কী! সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি অন্য দুই নির্বাচক আকরাম খান ও জাহিদ রাজ্জাকও। তবে দল নির্বাচনে বোর্ডের হস্তক্ষেপ নেই, এমন কথাও নির্বাচকদের কেউ বলছেন না। আকরাম খান বলেছেন, ‘আমি এ নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করব না।’ জাহিদ রাজ্জাকেরও প্রায় একই কথা, ‘আমি তো এখনো নতুন। সবকিছু ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারিনি। আমার এখনই এসব নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না।’
নির্বাচকেরা স্বীকার-অস্বীকার কোনোটাই না করলেও ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন দল নির্বাচনে বোর্ডের হস্তক্ষেপের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন, ‘দল নির্বাচনে বোর্ডের প্রভাব খাটানোর কোনো অভিযোগই ঠিক না। নির্বাচকদের দেওয়া দল খারাপ পারফরম্যান্স করলে বোর্ড জবাবদিহি চাইতে পারে। কিন্তু বোর্ড কখনোই একজনের নাম কেটে আরেকজনকে দলে ঢোকায়নি। নির্বাচকেরা যাঁদের নেন তাঁরাই দলে থাকে।’
এনায়েত হোসেন যা-ই বলুন, বোর্ড পরিচালকদের অযাচিত হস্তক্ষেপের অন্য প্রভাবও এর মধ্যে পড়তে শুরু করেছে জাতীয় দলে। সাকিব আল হাসান যে হুট করে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলেন, তার একটা কারণ যে দলের মধ্যে বিসিবি কর্মকর্তাদের ইচ্ছার অনুপ্রবেশ নয়, সেটা কে বলতে পারে?

‘ইউসুফ একা পারবেন না’

ইংল্যান্ডের কাছে ৩৫৪ রানে বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই যেভাবে তড়িঘড়ি মোহাম্মদ ইউসুফকে দলে ফেরানো হলো, মনে হচ্ছে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান এসেই ভোজভাজির মতো সব পাল্টে দেবেন। পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে অভিজ্ঞ নামের অবশ্যই প্রয়োজন। সন্দেহ নেই ইউসুফের সামর্থ্য নিয়েও। তবে সাবেক অধিনায়ক একাই দলের চেহারা পাল্টে দেবেন, এটা ভাবা অবান্তর। সবার প্রতি তাই সালমান বাটের সতর্কবার্তা, ইউসুফ একা পাকিস্তানকে বাঁচাতে পারবেন না, প্রয়োজন দলীয় প্রচেষ্টা।
অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ার পর গত ২৯ মার্চ ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন ইউসুফ। কিন্তু তাঁর ফেরার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল অবসরের পর থেকেই। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টে দলের ব্যাটিং-দুর্দশা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টেই ইউসুফ ও ইউনুসের ফেরার সম্ভাবনা জাগিয়েছিল। সেটা না হলেও ট্রেন্টব্রিজে ব্যাটিং-ব্যর্থতার পর আর দেরি করেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউসুফকে ইংল্যান্ড পাঠানোর। ট্রেন্টব্রিজে ৩৩ ওভারে ১৭১ রান খরচায় ১ উইকেট পাওয়া দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বোলার দানিশ কানেরিয়াকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এসেক্সের হয়ে কাউন্টি খেলার জন্য। বদলে ইংল্যান্ড যাচ্ছেন মাত্র দুটি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা ১৮ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার রাজা হাসান। সারের হয়ে কাউন্টি খেলতে ইংল্যান্ডেই থাকা ইউনুসের ব্যাপারে অবশ্য কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
শুধু ইউসুফকে নিয়ে সতর্কবার্তাই নয়, ট্রেন্টব্রিজের হারের পর যারা তরুণ দলটির সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তাদেরও একহাত নিয়েছেন সালমান বাট, ‘পাকিস্তান দলে যারা খেলছে, সামর্থ্য আছে বলেই খেলছে। সামর্থ্যের পুরোটা দেখানোর জন্য তাঁদের সময় দেওয়া উচিত। অধিনায়ক হিসেবে আমার বয়স মাত্র দুই টেস্ট, একটিতে জিতেছি, একটিতে হেরেছি। সবাই কী চায় আমরা প্রতি ম্যাচই জিতব? এটা তো হতে পারে না। এই ছেলেরাই ১৫ বছর পর দলকে একটা জয় এনে দিয়েছে। এখন সময় তাদের পুরো সমর্থন দেওয়া। আমার বিশ্বাস, দল ঘুরে দাঁড়াবে।’
হারের জন্য দায় দেওয়া হচ্ছে তারুণ্যকে। কিন্তু যখন অভিজ্ঞরা ছিলেন, তাঁরা কতটুকু করতে পেরেছেন, প্রশ্ন বাটের, ‘আগে যাঁরা খেলতেন তাঁরা পাকিস্তানকে কয়টা জয় এনে দিয়েছেন? এমন যদি হতো গত দুই বছরে তাঁরা দলকে অনেক জয় এনে দিয়েছেন, তাহলে না হয় একটা কথা ছিল। কিন্তু সত্যিটা হলো, অবস্থা ওই একই ছিল।’ সর্বশেষ ২১ টেস্টের মাত্র তিনটিতে জিতেছে পাকিস্তান, বাটের ইঙ্গিত সেদিকেই।
হুট করে ইউসুফকে ফেরানোর সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট মহলে। বরাবরই এসব ক্ষেত্রে অগ্রণী আমির সোহেল দায় চাপিয়েছেন বোর্ডের ওপর, ‘বোর্ড কর্তারা নিজেরাও জানে না, তারা কী চায়। প্রথমে তারা ইউসুফ-ইউনুসের বদলে তরুণদের ইংল্যান্ড নিয়ে গেল, এখন আবার সেখান থেকে পিছু হটছে।’ সাবেক লেগ স্পিনার ও নির্বাচক আবদুল কাদিরের কথা, ‘ইউসুফ ও রাজাকে ইংল্যান্ড পাঠানোর সিদ্ধান্ত অনাবশ্যক এবং জাতীয় দলের পুনর্গঠন-প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে। একটা পরাজয়ের পর এতটা অস্থির হওয়ার দরকার ছিল না।’ আর সাবেক অধিনায়ক রমিজ রাজা তুলেছেন একটি সম্পূরক প্রশ্ন, ‘ইউসুফকে ফেরানো হলে ইউনুস কী দোষ করল? ও দলের সেরা ব্যাটসম্যান, ওকে অবশ্যই ফেরানো উচিত।

২০১১ বিশ্বকাপের মাসকট ‘স্টাম্পি’

নাম খুঁজে পেল ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপের মাসকট। গতকাল কলম্বোয় ভারতীয় ও শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে বিশ্বকাপের মাসকটের নামের মোড়ক উন্মোচন করা হলো। মাসকটের নাম স্টাম্পি।
বিশ্বকাপের মাসকট হাতি—এটা অনেক আগেই ঠিক হয়েছে। কিন্তু সেটির নাম ঠিক করেনি ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপের আয়োজক কর্তৃপক্ষ। মাসকটটির নামকরণ ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। অনলাইনে সর্বসাধারণের জন্য সে সুযোগও করে দেওয়া হয়েছিল। অনলাইনে কতগুলো নাম জমা পড়েছে, বিজয়ীই বা হয়েছেন কে, তা জানায়নি কর্তৃপক্ষ। বিজয়ীর জন্য থাকছে ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি, শচীন টেন্ডুলকার এবং শ্রীলঙ্কার দুই ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনের সই করা ব্যাট।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ২০১১ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক বাংলাদেশও।

দরজা খোলাই আছে ম্যারাডোনার

যাঁকে মিথ্যুক-প্রতারক বলে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা, সেই কার্লোস বিলার্দোই এখনো দরজা খুলে রেখেছেন তাঁর জন্য। আর্জেন্টিনা দলের মহাব্যবস্থাপক বিলার্দো জানিয়েছেন, ম্যারাডোনার উত্তরসূরি ঠিক করতে কারও সঙ্গে এখনো আলোচনাই করা হয়নি। এই আভাসও দিয়েছেন, কোচ হিসেবে ম্যারাডোনাকে আবারও দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা পুরো শেষ হয়ে যায়নি।
তাঁর এককালের শিষ্য ম্যারাডোনা যেসব গুরুতর অভিযোগ এনেছেন, এ সম্পর্কে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার (এএফএ) প্রধান হুলিও গ্রন্দোনার পরামর্শে সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে দেন বিলার্দো। সেই বাতিলের ঘোষণা দিতে এসেই তিনি বলেছেন, ‘সবার আগে ডিয়েগোকে আমার সঙ্গে বসতে হবে, কথা বলতে হবে।’ যার অর্থ, আলোচনার দরজা এখনো খোলাই।
ম্যারাডোনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বরাবরই অম্ল-মধুর। ম্যারাডোনাকে শৈশব থেকেই চেনেন। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনাকে অধিনায়ক বানিয়েছিলেন তখনকার কোচ বিলার্দোই। ম্যারাডোনা আবারও যে কোচের ভূমিকায় আর্জেন্টিনার ফুটবলে এসেছিলেন, তাতেও অবদান আছে তাঁর। এ সবকিছু মনে করিয়ে দিয়ে ৭১ বছর বয়সী এই প্রবীণ ফুটবল ব্যক্তিত্ব বলেছেন, ম্যারাডোনার সঙ্গে তাঁর এই সম্পর্কের অবনতির পেছনে মূল কারণ ব্যক্তিগত কোনো অহংবোধের লড়াই নয়। বরং দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের অপ্রত্যাশিত ফলাফল, ‘সমস্যা দেখা দেওয়ার আগ পর্যন্ত সবকিছুই ভালোমতো চলছিল। ছয় মাস আগেও গ্রন্দোনা আমাদের সবার সঙ্গে বসে কথা বলেছিলেন। সবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল দারুণ। জার্মানির কাছে হেরে যাওয়ার পরই আসলে খেলোয়াড়েরা মেজাজ হারিয়ে ফেলেছিল। ডিয়েগো প্রশ্নের মুখে পড়ল। আমাকেও পড়তে হয়েছিল। ফলাফল যখন আপনার মনমতো হবে না, তখনই এসব সমস্যা দেখা দেবে।’
তবে কি ম্যারাডোনাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা তিনি করবেন? ধোঁয়াশামাখা একটা উত্তর মিলল বিলার্দোর কাছ থেকে, ‘আমার দায়িত্ব হলো জাতীয় দলের কোচ হিসেবে উপযুক্ত কারও নাম প্রস্তাব করা। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার নির্বাহী কমিটির। আমি কেবল নামই প্রস্তাব করতে পারি, যেমনটা আমি ডিয়েগোর বেলায়ও করেছিলাম। শুধু এতটুকু বলতে পারি, প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে কারও সঙ্গে কথা বলেননি। কাউকে নিয়োগ দেওয়াও হয়নি। আমরা অপেক্ষা করছি। এখনো যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।’
তবে কি ম্যারাডোনার ওপর কোনো রাগ নেই তাঁর? বিলার্দোর আবেগঘন উত্তর, ‘ওর তো কোনো দোষ নেই। সব দোষ ওর আশপাশের মন্ত্রণাদাতাদের। আমি ওকে চিরকালই আগলে রেখেছি। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তা-ই করে যাব।’
ম্যারাডোনার সহকারীদের ওপর আগে থেকেই বিলার্দো ক্ষুব্ধ। যদিও এই সহকারীদেরই একজন আলেসান্দ্রো মানকুসো দাবি করেছেন, বিশ্বকাপে বিলার্দোর সঙ্গে তাঁদের কোনো ঝামেলা ছিল না। বিলার্দো সব সময়ই পরামর্শ দিয়ে গেছেন কী করা উচিত না উচিত এ ব্যাপারে। ‘বিলার্দো কখনোই আমাদের দল ছেড়ে যাননি। তাঁকে আমরা সব সময়ই শ্রদ্ধা করতাম। যেকোনো প্রয়োজনে তাঁর কাছে ছুটে যেতাম। প্রায় প্রতি রাতে আমরা এক রুমে জড়ো হয়ে তাসও খেলেছি।’
ম্যারাডোনা কেন বিলার্দোর বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ এনেছেন তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন মানকুসো, ‘আসলে ডিয়েগো মনে করেছে, আমরা যদি চুক্তি থেকে বাদ পড়ি, তাহলে বিলার্দোরও বাদ পড়া উচিত।’ এএফএর নির্দেশ মেনে ম্যারাডোনা সাত সহকারীকে সরিয়ে দিতে চাইলে অন্তত তাঁর কোনো আপত্তি থাকত না বলেই জানালেন মানকুসো, ‘আমি নিজে তাঁর কাছে পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলাম

নতুন শুরুর প্রত্যয় মেসির

হোলা (হ্যালো) সিউল’! বার্সেলোনা এখন দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানীতে।
মেসি আর আলভেজ সিউলকে অভিবাদন জানিয়ে
এভাবেই বার্সেলোনার আপন করে নিলেন
এই তো সেদিন কার্লোস তেভেজ জানালেন, বিশ্বকাপে হেরে যাওয়ার ধাক্কা এখনো সামলে উঠতে পারেননি। গত মৌসুমে ২৯ গোল করা এই ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার এবার নাকি মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণাই পাচ্ছেন না! লিওনেল মেসি ঠিক উল্টো। না, পরাজয়ে ভেঙে পড়েছিলেন তিনিও। সেই বেদনা এখনো বাজে বুকের মধ্যে। কিন্তু সেই হতাশা ভুলে নতুনভাবেই শুরু করতে চান।
‘ওই পরাজয়ে আমি ভেঙে পড়েছিলাম। কারণ এমনটা আমি মোটেও আশা করিনি। কিন্তু যা হওয়ার হয়ে গেছে। এ নিয়ে করারও আর কিছু নেই। পেছনের দিকে তাকিয়ে থাকাটা হবে মস্ত ভুল। আমি সেই ধাক্কা সামলে উঠেছি। এখন শুধু বার্সেলোনা নিয়েই ভাবছি’—বলেছেন ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
বিশ্বকাপে গোলের দেখা না পেলেও গত ক্লাব মৌসুমটা কিন্তু দুর্দান্ত কেটেছে তাঁর। সব মিলে ৫৩ ম্যাচে করেছেন ৪৭ গোল। দলের এক নম্বর স্ট্রাইকার না হয়েও লিগে ৩৫ ম্যাচে করেছেন ৩৪ গোল। এবার কী লক্ষ্য তাঁর? মেসি জানালেন, ‘লক্ষ্য তো বরাবরের মতোই একটা—যতগুলো সম্ভব শিরোপা জেতা। জানি কাজটা কঠিন। কিন্তু আমাদের দলটাও তো দুর্দান্ত। পুরো দল আবারও অভিযান শুরু করতে উন্মুখ। আমরা প্রস্তুত।’
এই ‘দুর্দান্ত’ দলটায় কিন্তু শেষ পর্যন্ত থাকছেন না সেস ফ্যাব্রিগাস। এই মৌসুমে বার্সায় ফ্যাব্রিগাসের ফিরে আসা নিয়ে অনেক জল্পনা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দুই ক্লাবের পক্ষ থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই মৌসুমে আর ঠিকানা বদল হচ্ছে না ফ্যাব্রিগাসের। খবরটা মেসির জন্যও হতাশার। কারণ ‘বন্ধু’ ফ্যাব্রিগাসকে ফিরে পেতে উন্মুখ হয়ে ছিলেন তিনি।
বার্সেলোনার যুবদলে খেলেছেন একসঙ্গে। বিখ্যাত ‘খামার বাড়ি’তে একসঙ্গে দুজনের কেটেছে তিনটি বছর। ২০০৩-এ বিচ্ছেদ। ফ্যাবিগ্রাস ওই বছর চলে গেলেন আর্সেনালে। পরের বছর বার্সার সিনিয়র দলে অভিষেক মেসির। সাত বছর পর দুই বন্ধুর আবারও একই দলে খেলার সম্ভাবনা জেগেছিল। মেসি অবশ্য এখনো আশাবাদী, ‘সেস যে আমার খুবই ভালো বন্ধু এটা তো আর গোপন কিছু নয়। আমাদের দলের সবার সঙ্গেই ওর বন্ধুত্ব আছে। ও এখানে এলে ভালোই হতো। আমি চাই, সেস চলে আসুক। আশা করি, ওর বদলি-সংক্রান্ত জটিলতা শিগগিরই মিটে যাবে। সেস হয়ে যাবে বার্সেলোনার।’
এই মৌসুমে অন্তত মেসির চাওয়া পূরণ হচ্ছে না। তবে আগামী মৌসুমে ফ্যাব্রিগাস আর্সেনালে থাকবেন, এই নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। ওদিকে ডেভিড ভিয়া যেমন জানিয়ে দিলেন, এ বছর লিভারপুল বড় কোনো শিরোপা না জিতলে তারা হারাবে ফার্নান্দো তোরেসকে। পরের মৌসুমে নয়, অ্যাশলি কোল এবারই চলে যেতে চান রিয়ালে। কিন্তু চেলসি কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়ে দিয়েছেন, সেই আশা পূরণ হবে না তাঁরও।
জার্মান তারকা মেসুত ওজিল জানিয়েছেন, ভের্ডার ব্রেমেন ছেড়ে অন্য কোথাও গেলে তিনি ইংল্যান্ডেরই কোনো ক্লাবে যাবেন। আর এসি মিলান নাকি হাত বাড়িয়েছে জিওভানি দস সান্তোস, এলানো আর আলেকজান্ডার হ্লেব—এই তিন মিডফিল্ডারের দিকে।

বড় সংগ্রহ গড়ার পথে শ্রীলঙ্কা

ভারত-শ্রীলঙ্কার মধ্যকার তৃতীয় টেস্টে বড় সংগ্রহ গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। প্রথম দিন শেষে চার উইকেটের বিনিময়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ২৯৩ রান।
আগের দুই টেস্টে সেঞ্চুরি করা পারানাভিতানাকে তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে দিয়ে ভারতের পক্ষে শুরুটা ভালোই করেছিলেন ইশান্ত শর্মা। চুতর্থ ওভারে দলীয় ১৫ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান পারানাভিতানা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দিলশানের সঙ্গে জুটি বেঁধে ৮৭ রান যোগ করেন অধিনায়ক সাঙ্গাকারা। ৪১ রান করে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন দিলশান। এরপর ৭৫ রান করে প্রশান্ত ওঝার বলে শেবাগের হাতে ধরা পড়েন সাঙ্গাকারা।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৮৪ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন জয়াবর্ধনে ও সামারাবীরা। ৫৬ রান করে ওঝার বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফিরে যান জয়াবর্ধনে।
দিন শেষে সামারাবীরা ৬৫ রানে ও এঙ্গেলো ম্যাথিউ ২৬ রানে অপরাজিত আছেন।