Thursday, February 28, 2019

কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা: কী প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের উপর?

বাংলাদেশের পরমাণু শক্তিধর বড় প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে কম বেশি ভালো কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে বাংলাদেশের সব সরকার। সেই তুলনায় পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিভিন্ন সময়ে তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে।
এ অবস্থায় ভারত এবং পাকিস্তান এই দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে যখন সংঘর্ষ চলছে তখন বাংলাদেশের উপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে?
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলছিলেন "বাংলাদেশকে বাইরের বিশ্বের মানুষ তো দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে দেশ হিসেবে দেখছে না।"
"তাই দক্ষিণ এশিয়ায় যখন উত্তেজনা বা যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয় তখন তারা (বহিঃবিশ্ব) বাংলাদেশকে তার মধ্যেই দেখবার একটা প্রবণতা তৈরি হয়।''
'তিনি বলছেন, 'অবশ্যই আমরা বিনিয়োগের কথা ভাবি, ব্যবসা বাণিজ্যের কথা ভাবি, বাইরে লোক পাঠানোর কথা বলি- এইসব বিষয়গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। কূটনৈতিকভাবে এটা একটা বড় জায়গা।"
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই দুইটি দেশের সাথে বাংলাদেশের ব্যাপক বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছিলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের যেটির সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে , সেটি হলো ভারত।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বাণিজ্যের উপর কোন লাভ বা ক্ষতির আশঙ্কা আছে কী?
বিষয়টি নিয়ে কথা বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের গবেষক অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ।
"আপাতত বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর কোন কিছু না হলেও সার্কভুক্ত দেশ হিসেবে বাণিজ্যিক যেসব সুযোগ-সুবিধার পেতে পারতো সেটা এই চলমান উত্তেজনা একটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করলো বাংলাদেশের জন্য," তিনি বলেন।
তিনি বলছেন, পাকিস্তান এবং ভারত উভয় সার্কভুক্ত দেশের সদস্য। আবার সার্ককে কার্যকর করার চেষ্টা চলছে দীর্ঘদিন ধরে।
সার্কের সদস্য হিসেবে নানা রকম অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে যে আলাপ-আলোচনা চলছে, সেখানে সব সময় ভারত এবং পাকিস্তানের ইস্যু এক ধরণের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
"এই নতুন উত্তেজনার ফলে সার্কভুক্ত দেশগুলো অর্থনৈতিক যে সুযোগ-সুবিধা অর্জন করতে পারতো, সেটাকে আরো পিছিয়ে দিল বা একটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করলো।"
পুলওয়ামা হামলা নিয়ে এর আগে বাংলাদেশ সরকার নিন্দা জানিয়েছে।
সেটা ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক রোকসানা কিবরিয়া বলছিলেন, ''এটা দ্বারা ভারতকে সমর্থন করছে এটা সরাসরি বলা যাবে না।"
"আবার পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আগে থেকেই দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশে এখন পাকিস্তানের পূর্ণাঙ্গ কোন রাষ্ট্রদূত নেই।''
মিজ. কবির বলছিলেন, চলমান উত্তেজনা, রাজনৈতিক ভাবে বাংলাদেশের উপর কতটা প্রভাব পরবে সেটা বোঝা যাবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার অবস্থান এবং প্রতিক্রিয়া কী সেটা দেখা।
পুলওয়ামা হামলায় বাংলাদেশে নিন্দা জানানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এটা হল একটা নীতিগত অবস্থান জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। এখন বাংলাদেশ যেখানে, যে প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠী জঙ্গিবাদের শিকার হয়েছে সেখানেই নিন্দা জানিয়েছে।"
"এখন কে জঙ্গিবাদের শিকার হল এবং কে শিকার করলো - সেটা কিন্তু আলাদা প্রশ্ন।
এখানে কিন্তু জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যে প্রিন্সিপাল বা নীতিগত অবস্থান সেটাই ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।"
তবে অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ বলছিলেন, একেবারে ক্ষতির দিক চিন্তা না করে এর উল্টোটাও হতে পারে।
যদি উত্তেজনা বাড়তে থাকে তাহলে ভারত-পাকিস্তান যে পণ্যগুলো উভয় দেশ থেকে আমদানি করতো, সেসব পণ্য পাশের দেশে হিসেবে বাংলাদেশ থেকে নিতে পারে এমন সম্ভাবনাও দেখা দিতে পারে।

ভারতীয় পাইলটের মুক্তি দাবি ফাতিমা ভুট্টোর- আমরা এতিমদের উপমহাদেশ চাই না

পাকিস্তানের হাতে আটক ভারতীয় বিমান বাহিনীর একজন পাইলটের মুক্তি দাবি করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ভাইঝি ফাতিমা ভুট্টো। আকাশপথে লড়াইয়ের সময় পাকিস্তানের হাতে আটক হন ওই পাইলট। বুধবার তার মুক্তি দাবি করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কাছে একটি আবেগঘন চিঠি লিখেছেন ফাতিমা। তা প্রকাশ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমসে।
এ খবর দিয়েছে ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই। এতে আরো বলা হয়েছে, বুধবার দুই পক্ষের মধ্যে আকাশপথে লড়াই তীব্র হয়ে উঠার সময় মিগ ২১ বাইসন যুদ্ধবিমান থেকে নিরাপদে বেরিয়ে পড়েন ভারতীয় বিমান বাহিনীর পাইলট। তিনি নেমে আসেন নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপাড়ে। এ সময় তাকে আটক করে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ।
এরপর তাকে অবিলম্বে ও নিরাপদে ফেরত দেয়ার দাবি জানায় ভারত। ওই পাইলট বর্তমানে পাকিস্তানের শক্তিধর সেনাবাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই উত্তেজনার সময়ে তাই নিউ ইয়র্ক টাইমসে মতামত কলাম লিখেছেন ফাতিমা ভুট্টো (৩৬)। তাতে তিনি লিখেছেন, শান্তি, মানবতা ও মর্যাদার প্রতি আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই দিক থেকে ভারতীয় ওই পাইলটের মুক্তি দাবি করি আমি এবং পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্মের আরো অনেকে।
তিনি আরো লিখেছেন, আমরা তো সারাটা জীবনই কাটিয়ে দিলাম যুদ্ধ করে। আমি আর দেখতে চাই না পাকিস্তানি কোনো সেনা সদস্য মারা যাচ্ছেন। আমি আর দেখতে চাই না ভারতীয় কোনো সেনা সদস্য মারা যাচ্ছেন। আমরা এতিমদের একটি উপমহাদেশ দেখতে চাই না। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর ছেলে মুর্তজা ভুট্টোর মেয়ে ফাতিমা ভুট্টো।
তিনি ওই মন্তব্য কলামে আরো লিখেছেন, আমাদের প্রজন্মের পাকিস্তানিরা কথা বলার অধিকারের জন্য লড়াই করেছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শান্তি। তার পক্ষে কথা বলতে আমরা ভীত নই। কিন্তু আমাদের রয়েছে সামরিক স্বৈরতন্ত্র, সন্ত্রাসের অভিজ্ঞতা ও অনিশ্চয়তার দীর্ঘ এক ইতিহাস। তিনি আরো বলেছেন, তার মতো দেশের বিশাল একটি অংশের চলমান উত্তেজনার প্রতি সমর্থন নেই।
ফাতিমা লিখেছেন, আমি কখনোই দেখি নি আমার দেশ প্রতিবেশীর (ভারতের) সঙ্গে শান্তিতে আছে। কিন্তু টুইটার একাউন্টে কখনোই আমি আমাদের দুই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধে ভূমিকা রাখতে দেখি নি। 
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে ‘#সে নো টু ওয়্যার’ হ্যাসট্যাগ শুরু হয়। এর পরই টুইটারে তা বিশ্বজুড়ে নাম্বার ওয়ান স্পট হয়ে ওঠে। গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মিরের পালওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। এর জবাবে মঙ্গলবার দিনের শুরুতে নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে বালাকোটে জৈশ ই মোহাম্মদের সবচেয়ে বড় প্রশিক্ষণ শিবিরে বোমা হামলা করে ভারত। এতে ওই ক্যাম্প ধ্বংস হয়ে গেছে বলে বলা হচ্ছে। ওই হামলায় বিপুল সংখ্যক জৈশ ই মোহাম্মদের সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে ভারত। এরপর বুধবার পাকিস্তান দাবি করে, পাকিস্তানের আকাশ সীমায় প্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় যুদ্ধবিমান প্রবেশ করায় তা গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে একজন পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে তারা।

পরিস্থিতি নাগালের বাইরে যেতে দেয়া উচিত নয়, মুক্তি পাচ্ছেন পাইলট -ইমরান খানের হুঁশিয়ারি

আবারও হুঁশিয়ারি দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে বললেন, পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে যেতে দেয়া উচিত নয়। যদি তা-ই হয় তাহলে পাকিস্তানকে প্রতিশোধ নিতে হবে। বৃহস্পতিবার তিনি পার্লামেন্টে দেয়া ভাষণে ভারতকে উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেন। এদিন তিনি ঘোষণা দেন, শান্তির অংশ হিসেবে তাদের হাতে আটক ভারতীয় পাইলট অভিনন্দনকে শুক্রবার মুক্তি দেয়া হবে।
সীমান্তে ‘যুদ্ধ হিস্টেরিয়া’ ইস্যুতে তিনি সবাইকে সতর্ক করেন। আবারও ইমরান খান বলেন, ভুল হিসাবের কারণে অনেক দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি আশঙ্কা করেন, আবারও ভুল হিসাবনিকাশ করা হতে পারে। শান্তির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ কোনো সমস্যার সমাধান নয়।
যদি ভারত কোনো অ্যাকশনে যায় তাহলে আমরা প্রতিশোধ নেবো। এ সময় তিনি বলেন, কাশ্মির ইস্যুতে আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমার মনে হয় ভারতীয় জনগণ বর্তমান সরকারের যুদ্ধবাজ আচরণের সঙ্গে একমত নন।
ইমরান খান বলেন, কাশ্মিরের যুবকরা কেন আত্মঘাতী হামলা করছে তা ভারতকে জিজ্ঞেস করা উচিত।
তিনি বলেন, যদিও আত্মঘাতী হামলার জন্য ভারত দায়ী করে ইসলামপন্থি উগ্রবাদিদের, তবু এটা হলো হিন্দু যোদ্ধাদের অবলম্বন করা একটি অভিন্ন কৌশল, যা ব্যবহার করা হয়েছিল ৯/১১ তে তামিল টাইগারদের সময়ে। তারা (হামলাকারী) এসব ঘটাচ্ছে তাদের ধর্মের কারণে নয়। দুর্বলের অস্ত্র হয়ে উঠেছে আত্মঘাতী হামলা। তারা দিশাহারা হয়ে এসব করে।
ইমরান খান আরো যোগ করেন। বলেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া (পালওয়ামা) হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে ভারত। তিনি ভারতের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, তাদের কি উচিত না জিজ্ঞেস করা যে, কেন ১৯ বছর বয়সী একজন মানুষ মানববোমা হতে রাজি হয়?
ইমরান খান আরো বলেন, কোনো আদর্শ বা ধারণাকে আপনি জেলে পাঠাতে পারবেন না।
তিনি কাশ্মির ইস্যুতে ভারতীয় নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, এসব ইস্যুর কারণ হলো কাশ্মির। গত চার বছরে যেসব ঘটনা ঘটে গেছে সে বিষয়ে আমি ভারতীয় জনগণের কাছে জানতে চাই। কাশ্মিরে একটি আন্দোলন আছে। এক পর্যায়ে কাশ্মিরের নেতারা কিন্তু বিচ্ছন্নতা বা স্বাধীনতা চান নি। কিন্তু ভারতীয় নৃশংসতার কারণে, তারা সবাই এখন স্বাধীনতা দাবি করছেন। কাশ্মিরে সব কিছুর জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করা হবে আর কতদিন?
ইমরান খান আরো বলেন, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করার চেষ্টা করেছিলেন। কারণ, উত্তেজনা ভারত বা পাকিস্তান কারো স্বার্থে নয়।
এ সময় তিনি পাকিস্তানি মিডিয়ার প্রশংসা করেন। বলেন, পাকিস্তানের মিডিয়া অত্যন্ত পরিপক্বতা দেখিয়েছে।

ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করায় পাকিস্তানে উল্লাস, মিষ্টি বিতরণ

ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করার খবরে পাকিস্তানের হায়দরাবাদে উল্লাস করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ। বুধবার তারা রাস্তায় রাস্তায় নেমে উল্লাস প্রকাশ করতে থাকে। ‘ভারতের আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব’ দেয়ার কারণে তারা পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে। অনেক স্থানে শিক্ষার্থীদের দেখা যায় উর্দুতে লেখা ব্যানার হাতে নিয়ে মিছিল করছে। তাদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণও করা হয়েছে। এ ছাড়া রাস্তায় রাস্তায় পাকিস্তানি পতাকা হাতে নিয়ে নাচতে দেখা গেছে বিভিন্ন শ্রেণি, পেশার মানুষকে। এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের অনলাইন ডন পত্রিকা।
এতে বলা হয়, ভারতের যুদ্ধবাজ মনোভাবের নিন্দা জানিয়ে হায়দরাবাদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় নেতারা বিবৃতি দিয়েছেন।
তারা বলেছেন, আঞ্চলিক শান্তিকে খর্ব করছে ভারত। সিন্ধু প্রদেশে ঐতিহ্যবাহী পাকিস্তান পিপলস পার্টির সদস্য আবদুল জব্বার খান বলেছেন, পাকিস্তান শান্তি চায়। কিন্তু ভারতী শাসকরা যুদ্ধ উস্কে দিচ্ছেন। সব সময়ই যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। তিনি আরো বলেন, ভারতকে এখন অবশ্যই বুঝতেহ হবে যে, সব কিছুকেই নিজেদের মতো করে অনুমোদন করিয়ে নেবে এমনটা ভারতের ভাবা উচিত নয়।
আবদুল জব্বার খান আরো বলেন, পাকিস্তানের অখণ্ডতা নিয়ে কোনো সমঝোতা হবে না। তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সব রাজনৈতিক ও ধর্মীয় শক্তি ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানে।
সিন্ধু তারাক্কি-পছন্দ পার্টির চেয়ারম্যান ড. কাদির মাগসি বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমেই উত্তপ্তকর পরিস্থিতি বিশ্ব শান্তিকে হুমকিতে ফেলছে। দুই দেশের শাসকদেরই উচিত সব দ্বিপক্ষীয় সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা। তিনি আশঙ্কা করেন, ‘প্রক্সি ওয়্যার’-এর রণক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে সিন্ধু। কারণ, শুধু জাতিগত সন্ত্রাসীরাই নয়, ধর্মীয় উগ্রপন্থি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সিন্ধুকে বিভক্ত করার জন্য সন্ত্রাসকে উস্কে দিতে পারে। আর তাতে সমর্থন দেবে ভারত।
কওমি আওয়ামী তেহরিকের প্রেসিডেন্ট আয়াজ লতিফ পালিজো ভারতকে অভিযুক্ত করে বলেন, তারা এই অঞ্চলকে যুদ্ধের ভিতর ঠেলে দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির টিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিডিয়ার মাধ্যমে ঘৃণা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ জন্য তিনি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আয়াজ লতিফ আরো বলেন, শান্তিকে অনুমোদন দেয়ার জন্য কর্তারপুর সীমান্ত উন্মুক্ত করেছে পাকিস্তান। ভিসা নীতি শিথিল করেছে। পালওয়ামা হামলার নিন্দা জানিয়েছে। কিন্তু ওই হামলার জন্য কোনো প্রমাণ ছাড়াই ভারত দায়ী করছে পাকিস্তানকে। তিনি অভিযোগ করেন, সিপিইসি থেকে পাকিস্তানকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য চেষ্টা করছে প্রতিবেশী দেশগুলো ও পশ্চিমা শক্তিগুলো। তা ছাড়া পাকিস্তানের অগ্রগতিকে থামিয়ে দিতে চায় ভারত।
তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান, চীন, ইরান, সৌদি আরব ও রাশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তা মেনে নিতে পারছে না ভারত, আফগানিস্তান, ইসরাইল ও বিশ্বশক্তিগুলো। তা ছাড়া সামনেই জাতীয় নির্বাচন ভারতে। সেই নির্বাচনে এই উত্তেজনাকে ব্যবহার করছে ভারতের শাসকরা।
জামায়াতে ইসলামীর নেতা হাফিজ তাহির মজীদ ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করার জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেছেন। পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ নেতা ইমরান কুরেশি বলেছেন, ভারতীয় যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করার মধ্য দিয়ে ভারতের প্রপাগান্ডার মুখোশ খুলে গেছে।
ওদিকে সুক্কুরে মাজদুর শেহরি ইত্তেহাদের নেতাকর্মীরা র‌্যালি করেছে জ্যাকোবাবাদে। ভারতের উপযুক্ত জবাব দেয়ার জন্য তারা পাকিস্তান সেনাদের প্রশংসা করেছে। ইত্তেহাদ চেয়ারম্যান হাজি গোলাম নবী রিন্ড ও অন্যরা ডিসি চকে বক্তব্য রেখেছেন। তারা সেখানে র‌্যালি করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জবাব সেলিব্রেট করেছেন। ওই র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা নেচেছেন। ড্রাম বাজিয়ে উল্লাস করেছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন। বিতরণ করেছেন মিষ্টি। কান্ধকোটে সেনাদের সমর্থনে র‌্যালি করেছেন জামায়াতে ইসলামী এবং কওমি আমন কমিটির নেতাকর্মীরা। সেখানে তারা দেশকে নিরাপদ রাখতে নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত বলে জানান।
মিরপুখহাসে আনজুম তাহিরান, ইয়াং লয়ার্স ফোরাম, উলেমা একশন কমিটি র‌্যালি করেছে সেনাদের সমর্থনে। সেখানে ভারত বিরোধী স্লোগান দিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, ভারত যদি যুদ্ধ চায় তাহলে পাকিস্তান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাশে থাকার প্রত্যয় ঘোষণা করেন।
নাওয়াবশাহতে আনজুম তাজহির ইত্তেহাদ ও অন্যান্য সংগঠন একই ধরণের বিক্ষোভ র‌্যালি বের করে। এ সময় ইত্তেহাদ নেতারা বলেন, শিশু ও নারীরা সহ প্রতিজন পাকিস্তানি তাদের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর পাশে আছেন। এ সময় তারা ভারতীয় আগ্রাসনের নিন্দা জানান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সতর্ক করেন ‘চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ’ নিয়ে।

ইমরান খানের প্রস্তাবে অনড় ভারত

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রস্তাবে দৃশ্যত অনড় ভারত। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থায় আলোচনার আহ্বান জানিয়ে ‘ভুল’ না করার কথা বলেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ভারতের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে তিনি আশাবাদী। কিন্তু বুধবার ভারত জানিয়ে দিয়েছে, কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় যে বিমান হামলা বা আকাশপথে যুদ্ধ হচ্ছে তা আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের ফল। অর্থাৎ ভারত বলতে চাইছে, পাকিস্তান আগ্রাসী অবস্থান নেয়ার কারণে ওই নিয়ন্ত্রণ রেখায় দুই দেশের মধ্যে আকাশপথের লড়াই চলছে। ভারতের এমন অবস্থানে লড়াই আরো তীব্র হয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়টিকে জোরালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছে আরেকটি ঘটনা। তা হলো, নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাই কমশিনার সৈয়দ হায়দার শাহকে তলব করে ভারত।এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।
এতে আরো বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এরই মধ্যে তার তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তারপর তিনি ‘বিনা উস্কানিতে আগ্রাসন’ চালানোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধে গেছেন। দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান বিমান বাহিনী ভারতীয় আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এ কারণে ভারত ওই প্রতিশোধে গেছে।
ওদিকে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সংলাপের জবাবে তার ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনারকে তলব করে ভারত তার হাতে প্রমাণ হিসেবে দলিল তুলে দিয়েছে। তাতে পালওয়ামা হামলায় জৈশ ই মোহাম্মদের জড়িত থাকার বিষয়ে সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। তাতে আরো বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ভিতরে এই সন্ত্রাসী গ্রুপের ক্যাম্পের উপস্থিতি  আছে। তাদের নেতারাও রয়েছেন পাকিস্তানের ভিতরে।
ইমরান খান এ উত্তেজনা নিয়ে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে তিনি ভুল হিসাবের বড় বিপদের কথা উল্লেখ করেছেন। দুটি দেশই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী এ কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি পালওয়ামা হামলায় যে বেদনা সৃষ্টি হয়েছে তাও স্বীকার করে নিয়েছেন। প্রস্তাব করেছেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেকোনো সংলাপের জন্য প্রস্তুত তিনি। কিন্তু পাকিস্তানের ভিতরে সন্ত্রাসীদের অবকাঠামো থাকার কথা ক্রমাগতভাবে পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সেনা নেতারা অস্বীকার করার কারণে ভারত এর নিন্দা জানিয়েছে। তাই ভারতীয় নেতারা ইমরান খানের প্রস্তাবকে কোনো রকম উল্লেখযোগ্য ছাড় না দিয়েই অথবা কোনো রকম ব্যবস্থা না নিয়েই উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
ওআইসিতে যাচ্ছেন সুষমা স্বরাজ, প্রতিবাদে পাকিস্তানের বর্জন
পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনাকর অবস্থার মধ্যে আবু ধাবিতে অনুষ্ঠেয় অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) বৈঠকে যোগ দিতে আজ বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত যাচ্ছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তাকে গেস্ট অব অনার হিসেবে এতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ওআইসি। এমন আমন্ত্রণের প্রতিবাদে পাকিস্তান ওই সম্মেলন বর্জনের হুমকি দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে ভারতীয় মিডিয়া অনলাইন ইন্ডিয়া টুডে ও জি নিউজ। এতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান মদতপুষ্ট সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দেশটির বিরুদ্ধে সুষমা স্বরাজ সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সৌদি আরবের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবেন।
ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, সুষমা স্বরাজ এমন এক সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যাচ্ছেন যখন পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। পাকিস্তানের হাতে বন্দি হয়েছেন ভারতের বিমান বাহিনীর একজন পাইলট। এ উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে দেশ দুটির মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ওআইসিতে ভারতকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে বুধবার প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। তিনি হুমকি দিয়েছেন, ওই সম্মেলনে যোগ দেবেন না। তিনি জিও নিউজ শোতে বলেছেন, এ নিয়ে আমি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। (ভারতকে) আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে আমার বিরোধিতার কথা জানিয়েছি। আমি তাকে পরিষ্কার করে বলেছি, ভারত আগ্রাসন দেখিয়েছে। বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে ওআইসিতে, যেখানে সুষমা স্বরাজ উপস্থিত থাকবেন, সেখানে যোগ দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, এবারই প্রথমবার ওআইসির সম্মেলনে ভারতকে গেস্ট অব অনার হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ওআইসি হলো একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন, যা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৯ সালে। তারা মুসলিম বিশ্বকে রক্ষা ও এর অধিকারের রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠিত, এবং তারা সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। এই সংগঠনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তিনি আবু ধাবিতে সম্মেলনের উদ্বোধীন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ওদিকে অনলাইন জি নিউজ বলেছে, পাকিস্তানের হাতে আটক ভারতীয় বিমানবাহিনীর পাইলটকে মুক্তি দেয়া হবে, যেহেতু দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমে এসেছে। কূটনৈতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ কথা লিখেছে জি নিউজ। তবে ভারতের নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডদের মহারাষ্ট্র ও গুজরাট উপকূলে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে টহল যান।

মোট ভোটার ৪৯৭৭, ৪ ঘন্টায় পড়েছে ৮৬

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপ-নির্বাচনে মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ ঘণ্টার ভোট পড়েছে মাত্র ৮৬টি। এ  কেন্দ্রে মোট ভোটার ৪৯৭৭ টি। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার জানান, সকালে বৃষ্টি থাকায় ভোটার উপস্থিতি কম। দুপুরের পর ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে জানান তিনি। স্কুলের সামনে ছোটন সাহা নামে একজন ভোটার বলেন, এখানে শুধু মেয়র পদে ভোট হচ্ছে। তাই আগ্রহ কম। আমি ভোট দিতে এসেছিলাম। লোকজন নাই, তাই ভোট দেয়নি।
আমি একা ভোট দিয়ে আর কি হবে? তার প্রশ্ন প্রতিযোগিতামূলক ভোট না হলে ভোটারদের আগ্রহ থাকে না। পাশে দাড়িয়ে থাকা আরেকজন ভোটার বলেন, অনেকের ভোট দিতে এসেছিল কিন্তু ভোটার না থাকায় ভোট না দিয়েই চলে গেছে।
এলাকাবাসী জানান, সকাল ৮টা থেকে শুরু হলেও বৃষ্টির কারণে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি খুবই কম। বৃষ্টির বাগড়ায় ভোট কেন্দ্রগুলো প্রায় ভোটার শূন্য। কেন্দ্রটির ভোটগ্রহণ কক্ষের সামনে দুই/একজন ভোটার দাঁড়িয়ে আছেন। তাছাড়া পুরো ভোট কেন্দ্র ভোটার শূন্য। শুধু এই কেন্দ্রে নয়,  ভাসানটেকসহ এসব এলাকার অন্যান্য কেন্দ্রেও ভোটারদের উপস্থিতি খুবই কম। এছাড়া ছাতা মাথায় দুই-একজন ভোট দিতে আসলেও তাদের মধ্যে নারী ভোটার নেই বললেই চলে।
মাটিকাটা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন ভোটার অভিযোগ করেন, ভোটের প্রতি  মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। ভাবছিলাম সকালে লোকজন বেশি থাকবে তাই পরে ভোট দেব। এখন দেখি পুরাটাই খালি। এর মাধ্যমে বোঝা যায় ভোটের প্রতি আাগ্রহ নেই। ভোট কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকজন যুবক বলেন, যদি কাউন্সিলর থাকতো তাহলে হয়তো ভোটার বেশি হতো।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির এ নির্বাচনে মোট ৩২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র পদপ্রার্থী ছাড়া উত্তরের সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১১৬ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৪৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে উত্তরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একক প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন এবং ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া দক্ষিণ সিটির সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডের সাধারণ ওয়ার্ডে ১২৫ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সব জায়গায় ভোটারদের প্রচণ্ড ভিড়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সব কেন্দ্রে ভোটারদের প্রচণ্ড ভিড় উল্লেখ করে সুন্দরভাবে ভোট চলছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মানিক মিয়া এভিউনিউয়ের রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এসব কথা বলেন।
তিতি বলেছেন, ‘ভোটাররা ভোট দেওয়ার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন এটা ঠিক নয়। সব জায়গাতেই ভোটারদের প্রচণ্ড ভিড়। সুন্দরভাবে ভোট হচ্ছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভোট দিয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রার্থীকে জয়যুক্ত করবেন এটাই আশা করি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখছেন আজ সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছিল। এ কারণে সকাল বেলায় হয়তো ভোটার কম দেখেছেন আপনারা। পর্যয়ক্রমে ভোটার সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এর আগে সকাল থেকে মানবজমিনের সংবাদকর্মীদের পাঠানো প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভোটাদের অনুপস্থিতিতে অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছেন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা। সকাল ১১টা পর্যন্ত অনেক কেন্দ্র মোটেও ভোট পড়েনি।
কোথাও ২০টি কোথা তারও কম ভোট গ্রহণ হয়েছে।
কামাল বলেন, এ পর্যন্ত বেশিরভাগ কেন্দ্র পরিদর্শনের সুযোগ হয়নি আমার। আবার সব কেন্দ্রের সার্বিক অবস্থার প্রতিবেদন এখনও পাইনি। তবে যতটুকু দেখেছি আর জেনেছি, তাতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে।

রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য, নিজের জন্য নয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য, নিজের জন্য নয়। কাজেই মানুষের সমস্যা জানার এবং সমাধানের চেষ্টা করি। রাজনীতিবিদ এটাই আমার কর্তব্য বলে মনে করি। আর ক্ষমতা ভোগ করার বিষয় নয়, জনসেবার বিষয়। সেজন্যই বাংলাদেশের মানুষের কীভাবে কল্যাণ করতে পারি, সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে একাধিক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সামাজিক সচেতনতার সৃষ্টির মাধ্যমে মাদকমুক্ত দেশ ও সমাজ গড়ে তোলার ওপর সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় কেউ যাতে মাদকাসক্ত না হয়, সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে। অন্য যারা জনপ্রতিনিধি রয়েছেন তাদেরও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সচেষ্ট থাকতে হবে।
মাদক ব্যবহার, বিক্রি বা বহন করা- এগুলো যে অপরাধ; জনগণ এ ব্যাপারে এখন যথেষ্ট সচেতন।
তিনি বলেন, সরকার যাদের আত্মসমর্পণ করাচ্ছে তাদের চিকিৎসা ও কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে মাদক থেকে দূরে রাখার পদক্ষেপ নিয়েছি। মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা আত্মসমর্পণ করছে তাদের সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য দেয়া হচ্ছে, যাতে তারা অন্য কোনো ব্যবসায় নিয়োজিত হয়ে ভালোভাবে চলতে পারে। এভাবে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কারণ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন, চাঁদাবাজি রোধ এবং জঙ্গিবাদ দমনে ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আমরা সর্বদা তৎপর। ইতিমধ্যে জঙ্গিবাদ দমনের সফলতা বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। কাজী ফিরোজ রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে যেখানে মাদক চোলাচালান হয়, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চোরাচালান বন্ধে সরকার পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক পরিবহন ও চোরাচালানের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির (মৃত্যুদ-) বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
ঢাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু: জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হবে। আমরা যখনই সরকারে আসি তখনই গণপরিবহন ব্যবস্থার ওপর জোর দিই। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে বিআরটিসিসহ গণপরিবহন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল। কারণ বিআরটিসি লাভজনক নয়। আমরা ক্ষমতায় এসে আবার বিআরটিসিকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নিই। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় এসে অনেকগুলো বিআরটিসি বাস ক্রয় করি। কিন্তু আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত ৩০০ থেকে ৪০০ বিআরটিসির বাস পুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা গণপরিবহন যত বেশি চালু করতে পারি, সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ঢাকা শহরের মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার সবই গণপরিবহনের আওতায় করা হচ্ছে।
যানজট নিরসনে বিআরটিসিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগও সরকার নিয়েছে। জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, বিশ্বের সব দেশেই ট্রাফিক সমস্যা আছে। লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় বড় দেশেরও এ সমস্যা রয়েছে। কারণ জনসংখ্যা বাড়ছে, মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গাড়ি ব্যবহারের সংখ্যাও বাড়ছে। তিনি বলেন, ঢাকার যানজট নিরসনে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা ও ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা সরকার নিয়েছে। এটা চালু হলে যানজট নিরসন আরও কার্যকর হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার উদাত্ত আহ্বান জানান। সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম মহানগরে যানজট নিরসনে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
দেশের প্রতিটি গ্রামে শহরের সুবিধা: জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুর প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে দেশের সব গ্রামকে শহরের সুযোগ সুবিধা দিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য এসেছে। কৃষিজ ও অকৃষিজ উভয় ক্ষেত্রে কর্মকা- বহুগুণ সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে গ্রামীণ পরিবারের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে অকৃষি খাতের অবদান বেড়ে চলেছে। আমাদের মূল লক্ষ্যই হলো- সব গ্রামে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেয়া। তিনি বলেন, প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার গ্রামকেন্দ্রিক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, স্বাধীন দেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নগর ও গ্রামের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করার উদ্দেশ্যে কৃষিবিপ্লব, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতায়ন, কুটির শিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রূপান্তর সাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে অঙ্গীকার করেছিলেন। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, গত দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের বহুমাত্রিক তৎপরতা, যেমন শিক্ষা সম্প্রসারণ, কৃষি ও অকৃষি খাতে দক্ষ জনবল বাড়াতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা-প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, গ্রামাঞ্চলে আর্থিক সেবা খাতের পরিধি বিস্তার, কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, বিদ্যুতায়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি গ্রামোন্নয়ন প্রয়াসকে ত্বরাম্বিত করেছে। প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি গ্রামীণ অর্থনীতির এই বিকাশ প্রক্রিয়ায় সহায়ক হচ্ছে।
ঢাকার শহরের চতুর্দিকে বৃত্তাকার রেলপথ: সরকারি দলের সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরীরে যানজট সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে গত ১০ বছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হলে শিগগিরই ঢাকা মহানগরীর যানজটমুক্ত হবে আশা করা যায়। আগামীদিনের পরিকল্পনার মধ্যে ঢাকা শহরের চতুর্দিকে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পও রয়েছে। সংসদ নেতা যানজট নিরসনে আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী মহানগরীর সঙ্গে দ্রুত গতির আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে কমলাপুর হতে নারায়ণগঞ্জ রুটে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৪ নির্মাণ, গাবতলী হতে চট্টগ্রাম রোড পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-২ নির্মাণ করা হবে। তিনি জানান, পরিকল্পনার মধ্যে ঢাকা শহরের চারদিকে ২টি রিং রোড (ইনার ও মিডল) নির্মাণ, পিপিপি ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, যান্ত্রিক কার পার্কিং সিস্টেম চালুকরণ, পথচারী বান্ধব সড়ক ও ফুটপাত উন্নয়ন, আমিনবাজার হতে গাবতলী-রাসেল স্কয়ার-নিউমার্কেট হয়ে পলাশী/আজিমপুর পর্যন্ত মিরপুর রোডে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এর মাধ্যমে এলিভেটেড বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট নির্মাণ প্রকল্প রয়েছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স: সরকারি দলের মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী মাদক নিয়ন্ত্রণে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা তুলে ধরে বলেন, মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে যুব সমাজকে মুক্ত রাখার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার বদ্ধপরিকর। সমাজকে মাদকমুক্ত করার জন্য একটি বাস্তবমুখী পরিকল্পনার আওতায় নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করা হয়েছে। যেখানে মাদকের পরিমাণ ভেদে সাজার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাদক সংশ্লিষ্ট মামলাসমূহ দ্রুত ও যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও পুলিশের চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
জঙ্গিবাদ নির্মূলেও জিরো টলারেন্স নীতি: সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দেশে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জঙ্গিবাদ নির্মূল সংক্রান্ত বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের অপারেশনাল ও লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্পেশালাইজড নতুন ইউনিট কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) গঠন, বাহিনীর সদস্যদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশ এ যাবৎ বেশ কিছু বড় ধরনের সফল অভিযান পরিচালনা করে জঙ্গি তৎপরতা প্রতিরোধ করেছে। জঙ্গি সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে জড়িতদের সনাক্তকরণের সুবিধার্থে হ্যালো সিটি, রিপোর্ট টু র‌্যাব প্রভৃতি অনলাইন অ্যাপস চালু করা হয়েছে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত, সাজাপ্রাপ্ত ও আটক জঙ্গিদের নিবিড় নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ দমনে সফলতা বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশ: সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভিলক্ষ্য অর্জন, ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত, সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্টের জন্য আমরা বহুবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। ব্যক্তি খাতেও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন সম্পন্ন হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান এবং বছরের অতিরিক্ত প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ মূল্যের পণ্য/সেবা, উৎপাদন/রপ্তানি করা সম্ভব হবে। সংসদ নেতা জানান, ইতিমধ্যে ৮৮টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য স্থান নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশে শিল্পখাতে বিনিয়োগকারী, বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী এবং এ দেশ থেকে যেসব অনাবাসী বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য আমদানি করেন সেসব অনাবাসী বাংলাদেশিকে সিআইপি পদমর্যাদা প্রদানের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হবে।
রাজধানীর পাশে চারটি স্যাটেলাইট সিটি: সরকারদলীয় অপর সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর ঢাকার জনসংখ্যার চাপ কমানোর জন্য ইতিপূর্বে রাজধানীর পার্শ¦বর্তী এলাকায় চারটি স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণের লক্ষ্যে পিপিপি পদ্ধতিতে প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। তিনি জানান, এই চারটি স্যাটেলাইট সিটি হচ্ছে- বংশী-ধামরাই স্যাটেলাইট টাউন উন্নয়ন, ধলেশ্বরী-সিংগাইর স্যাটেলাইট টাউন উন্নয়ন, ইছামতি-সিরাজদিখান স্যাটেলাইট টাউন উন্নয়ন এবং সাভার স্যাটেলাইট টাউনে হাইরাইজ এপার্টমেন্ট প্রকল্প। প্রকল্পগুলো পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে। এছাড়াও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৪টি স্যাটেলাইট সিটি বিশেষ করে ঢাকা উত্তরে ও দক্ষিণে রাজউক কর্তৃক ২টি এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঢাকার পশ্চিমে ও দক্ষিণে ২টি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

নিস্তেজ ভোট কেন্দ্রে অলস সময় ক্ষেপন

প্রচারে যেমন উত্তাপ ছিল না, ভোটার উপস্থিতি একবারেই কম হওয়ায় ভোটের দিনেও মিলছে না ভোটের আমেজ। গতকাল পর্যন্ত অনেকে জানতেনই না ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ভোট আজ!
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ভোট শুরু হয়। অধিকাংশ দল ভোটে না আসায় অনেকটা এক চেটিয়া হয়ে উঠে নির্বাচন। অন্যান্য দল আসলে ভোট আরও অংশ গ্রহণমূলক হত, একথা উত্তরের নৌকার মেয়র প্রার্থী নিজেও স্বীকার করেছেন আজ। তবে অধিকাংশ কেন্দ্রে অলস সময় কাটাচ্ছেন কর্মকর্তারা।
দুই সিটি মিলিয়ে ১ হাজার ৭০০ এর বেশি কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভোটার রয়েছেন ৪০ লাখের মত।
উত্তরের মেয়র পদে উপনির্বাচনের পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটির ১৮টি করে মোট ৩৬টি নতুন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোট চলছে। পাশাপাশি ঢাকা উত্তরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে হচ্ছে উপনির্বাচন।
সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি না থাকায় প্রতিকুল আবহাওয়াকে দায়ি করেন অনেকে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে আবহাওয়া সাভাবিক হলেও প্রত্যাশিক ভোটার উপস্থিতি ঘটেনি।
গুলশানের মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৪টি কেন্দ্র রয়েছে ।
এখানে মহিলা ও পুরুষ কেন্দ্র দু’টি করে ।
অভিজাত এলাকা গুলশানের এ স্কুলের ৬৪৭ (মহিলা) কেন্দ্রের ২নং বুথে বেলা ১১ টার সময়ও একটি ভোটও পড়েনি। পাশের ৩ নং বুথে ভোট পড়েছে ৪টি। ৪নং বুথেও কোন  ভোট পড়েনি। এ বুথের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার কামরুল ইসলাম বলেন, আমার বুথে এখনো কোন ভোট পড়েনি। আমি এত নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করলাম, এ রকম চিত্র আর কখনো দেখেনি। মানুষ কেনো যে আসছে না, তা বলতে পারছি না।
কেন্দ্রের ১নং বুথের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মো. জাহিদুর রহমান বলেন, তার বুথে ২০ টি ভোট পড়েছে।
বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভোটার বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
তবে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে পুরুষ ভোটকেন্দ্রে। ৬৪৬ নং পুরুষ ভোটকেন্দ্র। এ কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি চোখে না পড়লেও ১নং বুথে এ সময়ের মধ্যে ১০০ অধিক ভোট কাস্ট হয়েছে। ৩নং বুথে ৬০টি ও ৪নং বুথে ২৯টি ভোট পড়েছে। ১নং বুথের সহকারী রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এ বুথে ভোটাররা সকাল সকাল এসে ভোট দিয়ে গেছেন। এ কারণে তার বুথে তুলনামূলক ভোট বেশি পড়েছে। এ  কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. আমিন উদ্দিন আকুঞ্জি মানবজমিনকে বলেন, ভোটাররা আসতেছে। ভোট দিয়ে তারা চলে গেছেন। এ পুরুষ কেন্দ্রে সকালে ভোটারদের উপস্থিতি বেশি ছিলো ।

বাজার এখন ৬৬ হাজার কোটি টাকার by মাসুদ মিলাদ

সরকারি প্রকল্প ও আবাসন খাতে ভর করে প্রতিবছর বাড়ছে ইস্পাত–সিমেন্টের চাহিদা। ২০১৮ সাল শেষে এই দুই খাতের বাজারের আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৬ হাজার কোটি টাকা। ২০১৭ সালে বাজারের আকার ছিল প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা। গত বছর এই দুই খাতের পণ্যের দাম বাড়ায় বাজারের আকারও বছর শেষে বেড়ে গেছে।
দুই খাতের উদ্যোক্তারা জানান, গত বছর দেশে সিমেন্ট বিক্রি হয়েছে ৩ কোটি ১৩ লাখ টন। গত বছর গড়ে টনপ্রতি সিমেন্ট বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার টাকায়। এ হিসাবে গত বছর সিমেন্টের বাজারের আকার ছিল প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে রড, ঢেউটিন, পাইপসহ ইস্পাত পণ্য ব্যবহার হয়েছে প্রায় ৬৯ লাখ টন। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর হিসাব করে টনপ্রতি ইস্পাত পণ্যের গড় দাম পড়ে ৬০ হাজার টাকা। এ হিসাবে রডসহ ইস্পাত পণ্য বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা।
ইস্পাত ও সিমেন্ট খাতের সংগঠন ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে বাজারের আকার সম্পর্কে এই তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানি থেকে প্রস্তুত পণ্য তৈরির হার বিবেচনায় নিয়েও এই হিসাব পর্যালোচনা করা হয়েছে। একই হিসাবে গত বছর সিমেন্টের বাজার ছিল প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। ইস্পাতের বাজারের আকার ছিল প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা।
এই দুই খাতের বাজার নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সেলিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, নির্মাণসামগ্রীর মধ্যে ইস্পাত ও সিমেন্ট সবচেয়ে বড় খাত। দুই খাতে বাজারের আকার ৬৫ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকার মতো হবে। তিনি আরও বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নে যে ঘাটতি আছে তা বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকলে এই বাজার আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বাড়বে। কারণ এখন সরকারি খাতে অসংখ্য বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। শুধু টানেল থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলে আগামী দিনে এক লাখ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে, যেসব প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত হবে ইস্পাত ও সিমেন্ট। সরকারি অবকাঠামো শেষ হলে বেসরকারি খাতে শিল্পকারখানা ও অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাপকহারে শুরু হবে। যেমন, পদ্মা সেতু নির্মাণের পর দক্ষিণাঞ্চলে বেসরকারি খাতে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠবে। ফলে নির্মাণের এই দুই খাতে ভবিষ্যত প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি।
সিমেন্টে প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ
সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সমিতি ও উদ্যোক্তাদের হিসাবে, নির্মাণ খাতের উপকরণের মধ্যে গত বছর প্রায় ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে সিমেন্ট খাতে। সমিতি জানায়, ২০১৭ সালে দেশের সিমেন্ট ব্যবহার হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টন। গত বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ১৩ লাখ টনে। দেশে ৩১টি কোম্পানির ৪০টি প্ল্যান্টে এসব সিমেন্ট উৎপাদন হয়। সিমেন্ট কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টন।
কনফিডেন্স সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, সিমেন্টের এই প্রবৃদ্ধি আগামী বছরগুলোতে বাড়বে। এর কারণ হলো এখনো অনেক প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। ফলে এখন যেভাবে অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে তা অব্যাহত রাখতে হবে। বর্তমানে সরকারি খাতের পাশাপাশি গ্রামেও বেসরকারি খাতে অবকাঠামো হচ্ছে। প্রবাসী আয় বাড়ায় স্বচ্ছল পরিবার এখন পাকা ভবন নির্মাণে ঝুঁকছে। আরসিসি রাস্তা নির্মাণের হারও বাড়ছে। আগামী ১৫ বছর পর্যন্ত এই প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সিডব্লিউ রিসার্চ প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ সিমেন্ট মার্কেট রিপোর্ট ২০১৭’ অনুযায়ী, বাংলাদেশে সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নে সিমেন্টের ব্যবহার ৩৫ শতাংশ। ব্যক্তি উদ্যোগে অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার ৪০ শতাংশ। আবাসন খাতে তা ২৫ শতাংশ।
বৈশ্বিক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে সিমেন্ট খাতের উদ্যোক্তারা জানান, গত বছর বাংলাদেশে মাথাপিছু সিমেন্টের ব্যবহার ছিল ১৯০ কেজি। সাধারণত সিমেন্ট খাতে মাথাপিছু ব্যবহার ৬০০ কেজি হলে প্রবৃদ্ধির গতি কমতে থাকে। এই তথ্য বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশে এখনো সিমেন্ট খাতে তিন গুণ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবার মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার বাড়ছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধির চেয়ে সিমেন্টের প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৩৫ থেকে ১ দশমিক ৫৫ গুণ বাড়ে। গত এক দশকে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৬ শতাংশ। গত অর্থবছর প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আগামী বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের ওপরে থাকবে। এ হিসাবেও
সিমেন্টের প্রবৃদ্ধি দুই অংকের বেশি হবে।
সিমেন্টের বৈশ্বিক বাজারের আকারও অনেক বড়। গ্লোবাল সিমেন্ট প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বিশ্বে ৪১২ কোটি ৯০ লাখ টন সিমেন্ট ব্যবহার হয়। ওই বছর সিমেন্ট উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল ৬১৩ কোটি ৮০ লাখ টন। সিমেন্টের বাজারের আকার ছিল ৩৯৫ বিলিয়ন ডলার বা ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা।
ইস্পাত খাতের বাজার বাড়ছে
বাংলাদেশে লং স্টিল বা রড, চ্যানেল ও অ্যাঙ্গেল এবং ফ্ল্যাট স্টিল বা ঢেউটিন, পাইপ ও ইস্পাতের পাত—এই দুই ধরনের ইস্পাত পণ্যের বাজার প্রতিবছর বড় হচ্ছে।
সরকারি হিসাবে দেখা যায়, গত বছর সব ধরনের লৌহ ও ইস্পাত পণ্যের প্রাথমিক ও মধ্যবর্তী কাঁচামাল আমদানি হয়েছে প্রায় ৮২ লাখ টন। ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই কাঁচামাল থেকে প্রস্তুত পণ্য পাওয়া গেছে প্রায় ৬৯ লাখ টন। এর আগের বছর ২০১৭ সালে ইস্পাত পণ্য ব্যবহারের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৮ লাখ টন। এ হিসাবে ইস্পাত খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ শতাংশ। ইস্পাত পণ্যের বড় অংশই হলো রড। এরপরে রয়েছে ঢেউটিন, পাইপসহ ইস্পাতের নানা পণ্য।
ইস্পাত পণ্যের বাজার সম্পর্কে বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলীহোসেইন আকবরআলী প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের মেগা প্রকল্পে ইস্পাতের ব্যবহার এখন সবচেয়ে বেশি। মেট্টোরেল, এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়ে ও বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বড় প্রকল্পগুলোতে প্রচুর ইস্পাত পণ্য দরকার হচ্ছে। আগামী ১০ বছর ইস্পাত পণ্যের এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।
ইস্পাত পণ্য প্রস্তুতকারক কয়েকটি কোম্পানির জরিপে দেখা গেছে, বছরে ন্যূনতম ১০ হাজার মেট্টিকটন রড উৎপাদন করে এমন কারখানার সংখ্যা ৫২টি। এসব কারখানাই ৯৮ শতাংশ রড উৎপাদন করে। এর বাইরে ফ্ল্যাট স্টিল বা ঢেউটিনসহ পাত উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানা রয়েছে। ইস্পাত খাতে ছোট ও সনাতনী কারখানার সংখ্যাও অনেক।
ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, বিশ্বে ২০১৭ সালে ১৫৮ কোটি ৭০ লাখ টন ইস্পাত পণ্য ব্যবহার হয়। এর ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশই ব্যবহার হয়েছে চীনে। বিশ্বে জনপ্রতি গড় ইস্পাতের ব্যবহার হলো ২০০ কেজি। চীনে জনপ্রতি ব্যবহার ৫২২ কেজি। ভারতে তা ৬৫ দশমিক ২ কেজি। গত বছরের হিসাবে, বাংলাদেশে মাথাপিছু ইস্পাতের ব্যবহার ৪২ কেজি।

কাশ্মীরের আকাশে পাক-ভারত লড়াই by মিসবাহুল হক

কাশ্মীরে পাক-ভারত সংকট ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সামরিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশ। দু’দেশই সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে ওপারে গিয়ে বিমান হামলা চালিয়েছে। গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি পালওয়ামা হামলাকে ঘিরে সংকটের শুরু হলেও মঙ্গলবার ভারতীয় বিমান পাকিস্তানের ভেতরে বালাকোট শহরে বোমা ফেলার পর উত্তেজনা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। গতকাল ওই হামলার প্রতিশোধ নিতে ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করে পাকিস্তানের জঙ্গি বিমান। তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তানের বিমানকে রুখে দিতে ধেয়ে আসে ভারতের সুপারসনিক ফাইটার জেট মিগ-২১। শুরু হয় কাশ্মীরের আকাশে পাক-ভারত বিমান যুদ্ধ। চলতে থাকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। সীমান্তে দু’পক্ষের গোলাগুলিও চলতে থাকে।  
দুই ভারতীয় বিমান ভূপাতিত ও এক পাইলট বন্দি: গতকাল সকালে ভারতের ভেতরে ঢুকে পড়ে পাকিস্তানের যুদ্ধ বিমান। তাদের রুখে দিতে তেড়ে আসে ভারতের মিগ-২১ যুদ্ধবিমান। ধাওয়াকারী ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলো পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে সেগুলো লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে পাকিস্তানি বাহিনী। ইসলামাবাদের দাবি, গুলিতে ধাওয়াকারী দুইটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। অভিনন্দন নামে এক ভারতীয় পাইলটকেও আটক করেছে তারা। পাকিস্তানি সেনাসূত্রে দাবি করা হয়েছে, গতকাল সকালে তাদের যুদ্ধ বিমান ভারতের ভেতরে ছয়টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর টুইটারে বলেন, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানকে ধাওয়া করে কয়েকটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান লাইন অব কন্ট্রোল অতিক্রম করে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে পাকিস্তানি বাহিনী দু’টি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
এর মধ্যে একটি ভারতশাসিত কাশ্মীরে ও অপরটি পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীরে বিধ্বস্ত হয়েছে। সেখান থেকে দুই ভারতীয় পাইলটকে আটক করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। এদের মধ্যে একজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্য ভারতীয় পাইলটের ভিডিও প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। এতে দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় ওই পাইলট নিজেকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার অভিনন্দন হিসেবে পরিচয় দেন। ৪৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তিনি নিজের সার্ভিস নম্বরও বলেন। পাকিস্তানি তথ্য মন্ত্রণালয় টুইটারে ওই ভিডিও প্রকাশ করলেও পরে তা সরিয়ে নেয়।
তবে পাকিস্তানের ভূ-খণ্ডে ভারতীয় বিমান বিধ্বস্তের ভিডিওচিত্র তথ্য মন্ত্রণালয়ের টুইটার অ্যাকাউন্টে রয়েছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এক পাইলট নিখোঁজের কথা স্বীকার করলেও পাকিস্তানের প্রকাশ করা ভিডিও’র বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রভিশ কুমার তাদের পাইলট নিখোঁজের খবর নিশ্চিত করে বলেছে, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভারতের ভেতরে সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে। পরে সেগুলোকে ধাওয়া করে ভারতীয় বাহিনী। দুঃখজনকভাবে ভারতের একটি মিগ-২১ বিমান হারিয়েছে।
ওই বিমানের পাইলটও নিখোঁজ রয়েছে। ভারত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলেও জানান তিনি। তবে ভারতের কোনো সেনা নিহত হয়েছেন কিনা তা স্পষ্ট করেন নি তিনি। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গতকাল সকালে পাকিস্তানের ছোড়া গুলিতে একটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। এতে ভারতের ছয় বিমান সেনা ও এক বেসামরিক অধিবাসী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমটি।
পাকিস্তানি বিমান ভূপাতিত করার দাবি ভারতের: পাকিস্তানের একটি যুদ্ধ বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি তুলেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রভিশ কুমার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারতীয় মিগ-২১ যুদ্ধবিমান থেকে গুলি করে পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ ফাইটার জেট ভূপাতিত করা হয়েছে। ওই বিমানটি সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানের ভূ-খণ্ডে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের মুখপাত্র মেজর জেনারেল গফুর ভারতের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, গতকালের আক্রমণে পাকিস্তান কোনো এফ-১৬ বিমান ব্যবহারই করে নি।
সীমান্তে গুলিবিনিময়: বিমান হামলার পাশাপাশি কাশ্মীর সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখায় উভয় দেশের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়েছে। বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষের গুলিবিনিময়ে পাকিস্তানের ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো দশ জন। বিপরীত পাশে, পাকিস্তানি বাহিনীর ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছেন ৫ ভারতীয় সেনা। সংঘর্ষের কারণে স্থানীয় স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানকার বসতবাড়িগুলো থেকে মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। পাকিস্তানি একটি হাসপাতালের কর্মকর্তা নাসরুল্লাহ খান আল-জাজিরাকে বলেন, এখন পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চরম বিরোধপূর্ণ ও ব্যাপক সামরিক অবস্থান থাকা লাইন অব কন্ট্রোল সীমান্তে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। নাসরুল্লাহ খান বলেন, নিহতদের মধ্যে ২ শিশুসহ এক নারীও রয়েছেন।
শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোদির বৈঠক: গতকাল সকালে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান যখন ভারতের সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশ করে, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন।  সেখানে ন্যাশনাল ইয়ুথ ফেস্টিভ্যালে তিনি সরাসরি উপস্থিত তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। এমন সময়ে একজন কর্মকর্তা নরেন্দ্র মোদির হাতে একটি চিরকুট তুলে দেন। এটি হাতে পেয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে তার বক্তৃতা বন্ধ করে দেন। উপস্থিত অতিথিদেরকে হাত নেড়ে বিদায় জানিয়ে নিজের কার্যালয়ে ছুটে যান তিনি। পিটিআই’র খবরে বলা হয়েছে, সকাল থেকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভিড় জমতে থাকে। তারা কাশ্মীরের পরিস্থিতি নরেন্দ্র মোদিকে বিস্তারিত খুলে বলেন। উপস্থিত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন- জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা কাশ্মীরের পরিস্থিতি তুলে ধরে ভারতের করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। তবে ওই বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে তা জানা যায় নি। গতকালের হামলার পর থেকে অনেকটাই নীরব রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সংবাদ সম্মেলন ছাড়া আর কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি কেউ।
প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে মন্তব্য করতে অভ্যস্ত হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার টুইটার অ্যাকাউন্টে নতুন কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ভারতীয় বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে অভিযানে সমর্থন দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নয়, বরং আত্মরক্ষার্থে বালাকোটে  জৈশ-ই-  মোহাম্মদের জঙ্গি ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ করেছে ভারত। তিনি বলেন, ভারতে ফের জঙ্গি হামলার ছক কষেছিল  জৈশ। আর তাই সেটা রুখতেই বিমান অভিযান চালানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সুষমা আরো বলেছেন, ভারত উত্তেজনা প্রশমনের জন্য দায়িত্বশীল ও সংযত পথেই চলতে চাইছে।
শান্তি ও সংলাপের আহ্বান ইমরান খানের: কাশ্মীর সংকট নিয়ে গতকাল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। টেলিভিশনে সরাসরি প্রচারিত ওই ভাষণে তিনি প্রতিবেশী ভারতের প্রতি শান্তির বার্তা দেন। সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান। পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী বলেন, দু’পক্ষের হাতে যে ধরনের অস্ত্র আছে, তা নিয়ে কোনো পক্ষেরই ভুল হিসাবের সুযোগ নেই। সে কারণে ভারতের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তাদের যেন শুভবুদ্ধির উদয় হয়। বিচক্ষণতার সঙ্গে দু’দেশের মধ্যকার সংকট নিরসনের আহ্বান জানান তিনি।
আর পাল্টাপাল্টি হামলা চালানো অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি কারোরই নিয়ন্ত্রণে থাকবে না বলেও সতর্ক করেন ইমরান খান। গতকালের হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল এই বার্তা দেয়া যে, তোমরা যদি আমাদের দেশে আসতে পারো, আমরাও একই কাজ করতে পারি। আমরা যা করেছি, তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল এটা বোঝানো। ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য পাকিস্তানি বিমান সীমান্তের ওপারে বেসামরিক অঞ্চলে আঘাত হেনেছে বলেও জানান তিনি। ইমরান খান বলেন, সীমান্ত অতিক্রম করে আমাদের ভূ-খণ্ডে প্রবেশ করার পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী তাদের দুইটি মিগ বিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এ থেকে তাদের বোঝা উচিত যে, আমরা মেধা ব্যবহার করে বিচক্ষণতার সঙ্গে কাজ করি। যুদ্ধের ভয়াবহতার বিষয়েও ভারতকে সতর্ক করেন ইমরান খান। তিনি বলেন, সব যুদ্ধ ভুল হিসাবের কারণেই হয়েছে। কেউই জানে না এর শেষ কোথায়? তিনি আরো বলেন, আমরা ভারতকে বলেছিলাম যে, তোমরা একতরফাভাবে যদি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করো, তাহলে আমরা জবাব দিতে বাধ্য হবো। কিন্তু ভারত নিজেরাই বিচারক, জুরি আর জল্লাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
বিমান চলাচল ব্যাহত: পাকিস্তানের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। অপর পাশে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় নয়টি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরে এগুলো বিমান উড্ডয়ন-অবতরণের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্লাইড রাডার বলেছে, আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী বিমানগুলো ওই এলাকা এড়িয়ে চলেছে। ভারতের দ্য ভিস্তারা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ঐ অঞ্চলে সব ধরনের বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
দিল্লির পাকিস্তানি ডেপুটি হাইকমিশনারকে তলব: নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার সইদ হায়দার শাহকে ডেকে পাঠিয়েছে ভারত। ধারণা করা হচ্ছে, গতকালের  হামলার বিষয়ে পাক ডেপুটি হাইকমিশনারের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য চাওয়া হবে। এ ছাড়া, পাকিস্তানের হাতে ভারতীয় পাইলট বন্দির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রধান রাহুল গান্ধী। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমাদের  একজন বীর পাইলট নিখোঁজ রয়েছেন। তার অক্ষত প্রত্যাবর্তন আশা করছি। এই কঠিন সময়ে  আমরা সশস্ত্র বাহিনীর পাশে আছি। এ ছাড়াও ভারতের অন্তত ২১টি রাজনৈতিক দল একটি বিবৃতিতে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংযম দেখানোর আহ্বান আন্তর্জাতিক বিশ্বের: সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তানকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন। তিনি উভয়পক্ষকে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলতে বলেছেন। গতকাল এক বিবৃতিতে পম্পেও বলেন, উভয় মন্ত্রীকে বলেছি যে, আমরা ভারত ও পাকিস্তানের সংযম দেখানোকে উৎসাহিত করি।
একই সঙ্গে নতুন সামরিক ব্যবস্থা বাদ দিয়ে সরাসরি আলোচনাকে অগ্রাধিকার দিতে তিনি দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া, ভারত-পাকিস্তানকে সংযম দেখাতে বলেছে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়া। এ বিবৃতিতে ক্রেমলিন বলেছে, যেসব সংবাদ আসছে তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা পরিস্থিতি গভীরভাবে নজরদারি করছি। এবং অবশ্যই আমরা সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানাচ্ছি। একই আহ্বান জানিয়েছে বৃটেন। আর উভয়পক্ষকে সংলাপে বসার কথা বলেছে জার্মানি।

Wednesday, February 27, 2019

কাশ্মীর নিয়ে কেন এই দ্বন্দ্ব?

পরমাণু অস্ত্রধারী দুই দেশ ভারত এবং পাকিস্তানের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে কথিত জঙ্গী আস্তানায় ভারতীয় বিমান হামলার ঘটনার পর পাকিস্তান এর জবাব দেয়ার কথাও বলেছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, ভারত অপ্রয়োজনীয় আগ্রাসন চালিয়েছে। পাকিস্তান তার সুবিধাজনক সময়ে এর জবাব দেবে। এদিকে ভারতও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে কাশ্মীর নিয়ে দেশ দু'টির সংকট একটা চরম অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।
ভারত-পাকিস্তান আগে ১৯৬৫ এবং ১৯৯৯ সালে দু'বার যুদ্ধে জড়েয়েছিল কাশ্মীর নিয়ে। এখন পরিস্থিতি ভিন্ন । কারণ দুই দেশের কাছেই পরমাণু অস্ত্র রয়েছে।
কিন্তু কাশ্মীর নিয়ে দেশ দু'টির মধ্যে বিরোধ কেন?  
বৃটেন থেকে ভারত পাকিস্তান ১৯৪৭ সালে যখন স্বাধীনতা পায়, তখনই দুই দেশই কাশ্মীরকে পাওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিল। ভারত পাকিস্তান ভাগ করার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাশ্মীর দুই দেশ থেকেই মুক্ত ছিল। তবে তৎকালীন কাশ্মীরের স্থানীয় শাসক বা রাজা হরি সিং ভারতকে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি একটি চুক্তির মাধ্যমে কাশ্মীরকে ভারতের সাথে অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন। ইতিহাসবিদরা বলেন, ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাক্সেশনের মাধ্যমে কাশ্মীর ভারতের অন্তর্ভূক্ত হয়েছিল ঠিকই কিন্তু যে শর্তে তা হয়েছিল, সেই শর্ত থেকে ভারত অনেকটা সরে এসেছে। পাকিস্তানও অনেকটা জোর করে এই ব্যবস্থায় ঢুকেছে এবং সেই থেকে সংকট জটিল থেকে আরও জটিল হচ্ছে।
এই অংশের অনেক মানুষ ভারতের শাসনে থাকতে চায় না। তারা পাকিস্তানের সাথে ইউনিয়ন করে যুক্ত হতে অথবা নিজেরা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে থাকতে চায়। কারণ ভারত শাসিত জম্মু কাশ্মীরে ৬০ শতাংশের বেশি মুসলিম। ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে এই একটি রাজ্য, যেখানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এছাড়া কাশ্মীরে কর্মসংস্থানের অভাব এবং বৈষ্যমের অনেক অভিযোগ রয়েছে। কাশ্মীরে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধেও নির্যাতন চালানো অনেক অভিযোগ রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনও দিন দিন সহিংস হয়ে উঠছে। এই সহিংসতায় গত বছরেই সাধারণ নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ৫০০ জনের মতো নিহত হয়েছে।
বছরের পর বছর রক্তক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে ভারত এবং পাকিস্তান দুই দেশই যুদ্ধ বিরতি দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল ২০০৩ সালে। পাকিস্তান পরে ভারত শাসিত কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অর্থ সহায়তা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২০১৪ সালে ভারতে নতুন সরকার এসেছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। কিন্তু ভারতের সেই সরকারও পাকিস্তানের সাথে শান্তি আলোচনা করার আগ্রহ দেখায়। তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ দিল্লী গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।
এর এক বছর পরই দুই দেশের মধ্যে সম্পের্কের অবনতি হয়। দুই দেশ কি আবারো চরম শত্রুর জায়গায় ফিরে যাচ্ছে? ২০১৬ সাল থেকে ভারত শাসিত কাশ্মীরে দেশটির সামরিক ঘাঁটিত বেশ কয়েকটি আক্রমণ হয়েছে। কিন্তু গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি যে আতœঘাতি হামলা হয়েছে, তাতে হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি। এই হামলায় ৪০ জনের বেশি ভারতীয় সৈন্য নিহত হয়েছে। এই ঘটনা দুই দেশকে আবারও মুখোমুখি করেছে।
সূত্র: বিবিসি

পরস্পরের দাবি: ভারতের দুটি পাকিস্তানের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই পরস্পরের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। পাকিস্তান ভারতের দুটি ও ভারত পাকিস্তানের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই নিজ দেশের কোনো বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা বা কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর টুইটারে দাবি করেছেন, ভূপাতিত ভারতীয় জেট বিমানের একটি পড়েছে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ও অন্যটি পড়েছে ভারতীয় অংশে। এ ঘটনায় একজন বৈমানিককে আটক করা হয়। পাকিস্তানের দাবি, অস্বীকার করে ভারত বলেছে, তাদের কোনো বৈমানিক ধরা পড়েনি। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকার প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ভারত। এ ঘটনা অস্বীকার করেছেন মেজর গফুর। তিনি বলেন, তাদের অপারেশনে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়নি।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, গতকাল পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে বিমান হামলা চালানোর ঘটনায় আমাদের জবাব দেওয়ার ছাড়া বিকল্প ছিল না। ভারত আগ্রাসন চালিয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, তারা শত শত জঙ্গি হত্যার কথা বলেছে। কিন্তু তাদের বোমায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ভারতীয় বিমানবাহিনী সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘন করেছিল, কিন্তু তাদের ফেরত পাঠাতে বাধ্য করা হয়েছে। ভারতের এ দাবির পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দুটি বিমান ভূপাতিত করার বিবৃতি দেওয়া হয়। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের এক সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান কিছুক্ষণের জন্য ভারতীয় সীমানায় ঢুকেছিল, কিন্তু তাদের ভারতীয় বিমানবাহিনী ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।
পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান পুনচ ও নওশেরা নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে। ফিরে যাওয়ার সময় তারা বোমা ফেলে গেছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর বিবৃতিতে বলেছে, তাদের বিমানবাহিনী সীমান্ত এলাকায় আঘাত (স্ট্রাইক) এনেছে। তবে ওই হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি তারা। তবে এটাকে বেসামরিক হামলা বলেছে। তাদের উত্তেজনা বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই।
ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যাওয়ায় সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। ভারতের জিনিউজ বলছে, দেশের আটটি বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমান পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে, শ্রীনগর, জম্মু, লে, অমৃতসর, পাঠানকোট, গগ্গল, দেরাদুন ও চণ্ডীগড়। আজ বুধবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ভারতের আকাশসীমায় পাকিস্তানের দুটি যুদ্ধবিমান ঢুকে পড়ায় জম্মু-কাশ্মীর-সহ উত্তর ভারতের আকাশসীমায় চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার জম্মু-কাশ্মীরের বুদগাম এলাকায় আজ সকালে বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় দুজনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বোমা ছোড়ার ঘটনার জবাবে সীমান্তে ভারী মর্টার শেল ছুড়ছে পাকিস্তান। এ ঘটনার মধ্যেই ওই হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির আধা সামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলা হয়। এতে অন্তত ৪০ জন জওয়ান নিহত হন। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদ এই হামলার দায় স্বীকার করে। পুলওয়ামা হামলার জবাব দিতেই গতকাল ভোররাতে পাকিস্তানের ভেতরে অভিযান চালায় ভারত।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পুলওয়ামায় হামলার পর জইশ-ই-মুহাম্মদের জঙ্গি ও প্রশিক্ষকেরা পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে সরে যায়। তারা খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বালাকোটে একটি পাঁচ তারকা রিসোর্টে ওঠে। এটি জইশ-ই-মুহাম্মদের প্রশিক্ষণ শিবির। শিবিরটি ঘন জঙ্গলের মধ্যে পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত।
বালাকোটের শিবিরে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও আধুনিক কৌশলের ওপর প্রশিক্ষণ নিতেন জইশ-ই-মুহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজাহারের আত্মীয় ও সহযোগী জঙ্গিরা।
ভারত বলছে, বিমান হামলার সময় বালাকোটের শিবিরে অন্তত ৩২৫ জন জঙ্গি ছিল। আর প্রশিক্ষক ছিল ২৫-২৭ জন।
শিবিরটি একসময় হিজবুল মুজাহিদিনও ব্যবহার করত। জঙ্গিদের উসকানি দিতে এই শিবিরে জইশ-ই-মুহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজাহার ও অন্য নেতারা ভাষণ দিত।
ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের ভাষ্য, কুনহার নদীর পাশে শিবিরটি অবস্থিত। এখানে জঙ্গিদের পানিপথেও প্রশিক্ষণের সুবিধা দেওয়া হতো। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্যরা ছিলেন এখানকার প্রশিক্ষক।
ভারতীয় সূত্রের ভাষ্য, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোররাত সাড়ে ৩টায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর মিরেজ-২০০০ যুদ্ধবিমান বালাকোটের শিবিরে হামলা চালায়। ওই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে পাকিস্তানের বিমানবাহিনী।

ভারতীয় ২ যুদ্ধবিমান ধ্বংস, ২ পাইলট আটক: -পাকিস্তান

নিজস্ব আকাশসীমায় দুই ভারতীয় বিমান ধ্বংসের দাবি করেছে পাকিস্তান। দেশটির সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বিবৃতিতে এ দাবি করেছেন। ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, বুধবার সকালে কমপক্ষে তিন পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এসময় ভারতীয় যুদ্ধবিমান তারা করলে সেগুলো পাকিস্তানে ফিরে যায়।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর টুইটারে বলেন, লাইন অব কন্ট্রোল পেরিয়ে পাকিস্তানি আকাশসীমায় প্রবেশ করলে ভারতীয় বিমান বাহিনীর দুটি বিমানকে ধ্বংস করে পাকিস্তান বিমানবাহিনী।
এর মধ্যে একটি ভারতশাসিত কাশ্মীরে ও অপরটি পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীরে বিধ্বস্ত হয়েছে। সেখান থেকে দুই ভারতীয় পাইলটকে আটক করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
এদিকে ভারতের একটি বিমান বিধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে কাশ্মীর থেকে।
সেখানে নিহত হয়েছেন ২ পাইলটসহ ৩ জন। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি এখনো। ভারত দাবি করেছে, পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ ফাইটার জেট ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল গফুর এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবী নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আজকের আক্রমণে কোনো এফ-১৬ বিমান ব্যবহার করা হয়নি।
পাকিস্তানি বিমান ভূপাতিত করার দাবি ভারতের, পাইলট নিখোঁজের তথ্য স্বীকার
ভারত দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী একটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভিশ কুমার ভারতীয় বিমান বাহিনীর বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন,  পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত করেছে ভারতের বিমান বাহিনী। বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানটি পাকিস্তানের সীমানার ভেতরে পড়েছে।  যদিও তার পাইলট বিমান থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। 
তবে পাকিস্থান আন্তঃবাহিনী গণসংযোগ পরিদফতরের মহাপরিচালক আসিফ গফুরকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানিয়েছে, পাকিস্তান বিমান ভূ-পাতিত করার ভারতীয় দাবি নাকচ করেছে। তিনি বলেন, তাদের অপারেশনে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়নি। এদিকে ভারত আকাশ যুদ্ধে তাদের একটি মিগ-২১ ভূপাতিত হওয়ার এবং তার পাইলট নিখোঁজ হওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
ভারত নিজেরাই বিচারক, জুরি আর জল্লাদের ভূমিকা নিয়েছে: ইমরান
কাশ্মিরের আকাশে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানের লড়াইয়ের মধ্যেই সংলাপের আহ্বান জানালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ভারতের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। আজ বুধাবার বিকেলে এক ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। তবে ভারতের দুটি মিগ বিমান ভূপাতিত করায় পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বুদ্ধিমত্তার প্রসংশা করেছেন ইমরান খান।
তিনি বলেন, পুলওয়ামায় যা ঘটেছে সে বিষয়ে আমরা ভারতকে শান্তির প্রস্তাব করেছিলাম। আমি নিহতদের পরিবারের কষ্ট অনুধাবন করতে পারি। আমরা নিজেরাও ৭০,০০০ মানুষ হারিয়েছি, ফলে তাদের কষ্ট আমি বুঝি।
ইমরান খান বলেন, আমরা ভারতকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। পাকিস্তান কখনই চায় না যে, তার দেশ সন্ত্রাসের কাজে ব্যবহৃত হবে। তিনি বলেন, আমরা ভারতে বলেছিলাম যে, তোমরা যদি একতরফা কোন ব্যবস্থা নাও, তাহলে আমরা জবাব দিতে বাধ্য হবো, যদি তোমরা কিছু করো।
কিন্তু ভারত নিজেরাই বিচারক, জুরি আর জল্লাদের ভূমিকা নিয়েছে।
ভাষণে ১ম বিশ্বযুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে এর ভয়াবহতার বিষয়েও কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি ভারতকে আবারও আহ্বান করব। সন্ত্রাস দমনে আমরা (আলোচনায়) প্রস্তুত। চলুন একসাথে আলোচনায় বসি।

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে জিতবে কে?

ভারত ও পাকিস্তান। দুই দেশের হাতেই রয়েছে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র। এক দেশ থেকে আরেক দেশে ভয়াবহ আঘাত করতে সক্ষম এসব অস্ত্র। ভারতের হাতে আছে অগ্নি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রসহ ৯ ধরনের অপারেশনাল ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলোর পাল্লা ৩০০০ থেকে ৫০০০ কিলোমিটার। অন্যদিকে পাকিস্তানের হাতে আছে শাহিন-২ ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাল্লা ২০০০ কিলোমিটার। এ ছাড়া আছে ১৪০ থেকে ১৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড।
সে তুলনায় পিছিয়ে আছে ভারত। ভারতের হাতে আছে এমন ১৩০ থেকে ১৪০টি অস্ত্র। যদি এই মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যায় তাহলে এসব পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সমূহ ঝুঁকি রয়েছে। আর যদি তাই হয় তাহলে জিতবে কে? বিশেষ করে গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পালওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলায় ভারতের কমপক্ষে ৪০ জন সিআরপিএফ সদস্য নিহত হওয়ার ফলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী জৈশ-ই-মোহাম্মদ। এর জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করছে ভারত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ হামলার কড়া জবাব দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলে দিয়েছেন, এক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে স্বাধীনতা দেবেন। অন্যদিকে পাকিস্তানও সমস্বরে জবাব দিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি তার দেশে হামলা চালানো হয় তবে প্রতিশোধ নেবেন তারাও। দুই দেশের সামরিক কর্তারাও কম যাননি। তারাই একই রকম হুমকি দিয়েছেন। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর এ দুটি দেশের মধ্যে কাশ্মির ইস্যুতে দুটি যুদ্ধ হয়েছে। এখন যদি সত্যিই আরেকটি যুদ্ধ বেধে যায় তাহলে কে জিতবে আর কে হারবে? এমন বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গেছে। এখানে দুই দেশের সামরিক শক্তির তুলনামূলক একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
সামরিক বাজেট
২০১৮ সালে ভারত সামরিক খাতে বরাদ্দ দিয়েছে ৪ লাখ কোটি রুপি, যা তার জাতীয় প্রবৃদ্ধির শতকরা প্রায় ২.১ ভাগ। দেশটিতে রয়েছে ১৪ লাখ সক্রিয় সেনাসদস্য। এ তথ্য ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস)।
অন্যদিকে গত বছর পাকিস্তান তার সামরিক খাতে খরচ করেছে এক লাখ ২৬ হাজার কোটি রুপি, যা তার জাতীয় প্রবৃদ্ধির শতকরা প্রায় ৩.৬ ভাগ। দেশটিতে রয়েছে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ সেনা সদস্য। ২০১৮ সালে তারা সামরিক খাতে বৈদেশিক সহায়তা পেয়েছে ১০ কোটি ডলার। ১৯৯৩ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে পাকিস্তানে সরকারের মোট বার্ষিক খরচের মধ্যে শতকরা ২০ ভাগেরও বেশি খরচ করা হয়েছে সামরিক খাতে। এ তথ্য স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্স ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআআই)। এতে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে সরকারি খাতের শতকরা ১৬.৭ ভাগ খরচ হয়েছে সামরিক খাতে।
তুলনামূলকভাবে ২০১৮ সালে ভারতে সামরিক খাতে সরকারি খরচের পরিমাণ শতকরা ১২ ভাগের নিচে রয়েছে। ২০১৭ সালে তা ছিল শতকরা ৯.১ ভাগ।
ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্র কার বেশি?
ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের হাতেই আছে ব্যাপক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলো পারমাণবিক অস্ত্র। ভারতের আছে ৯ ধরনের অপারেশনাল ক্ষেপণাস্ত্র। ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্যমতে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হলো অগ্নি-৩। এর পাল্লা ৩০০০ কিলোমিটার থেকে ৫০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
অন্যদিকে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গড়ে উঠেছে চীনের সহায়তায়। তাদের রয়েছে মোবাইল শর্ট এবং মধ্যম পাল্লার অস্ত্র। সিএসআইএস বলছে, এসব অস্ত্র ভারতের যেকোনো স্থানে হামলা চালাতে সক্ষম। তাদের হাতে রয়েছে যেসব ক্ষেপণাস্ত্র তার মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হলো শাহিন-২। এর পাল্লা ২০০০ কিলোমিটার।
কোন সেনাবাহিনী শক্তিশালী বেশি?
আইআইএসএসের মতে, ভারতের আছে ১২ লাখ শক্তিশালী সেনাসদস্য। তাদের সহায়তায় রয়েছে কমপক্ষে ৩৫৬৫টি যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েনযোগ্য ট্যাংক, ৩১০০ ইনফ্যান্ট্রি যুদ্ধযান, ৩৩৬টি আর্মড পারসোনেল ক্যারিয়ার এবং ৯৭১৯ পিস আর্টিলারি। এক্ষেত্রে পাকিস্তান অনেকটা খর্ব। তাদের কাছে আছে মাত্র ৫ লাখ ৬০ হাজার সেনা সদস্য। ট্যাংক আছে ২৪৯৬টি। আছে ১৬০৫টি আর্মড পারসোনেল ক্যারিয়ার। ৪৪৭২টি আর্টিলারি গান। আরো আছে ৩৭৫টি স্বচালিত ছোট কামানবিশেষ। এ মাসে আইআইএসএসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের কাছে সেনাসদস্য বেশি থাকা সত্ত্বেও তাদের সক্ষমতা কম। কারণ, তাদের পর্যাপ্ত লজিস্টিক, রক্ষাবেক্ষণ, গোলাবারুদ ও খুচরা যন্ত্রাংশের ঘাটতি রয়েছে।
বিমান বাহিনী
ভারতের বিমান বাহিনীতে আছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ২০০ সদস্য। তাদের কাছে আছে ৮১৪টি যুদ্ধজাহাজ। ভারতের বিমান বাহিনী পাকিস্তানের চেয়ে যথেষ্ট বড়। কিন্তু তাদের যুদ্ধজাহাজের উড্ডয়ন নিয়ে উদ্বেগ আছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের বিমানবাহিনীতে আছে রাশিয়ার পুরনো জেট। যেমন মিগ-২১। এগুলো ১৯৬০ এর দশকে প্রথম ব্যবহার হয়েছিল। এসব জেট বিমান শিগগিরই সরিয়ে ফেলা হবে। অন্যদিকে ২০৩২ সাল নাগাদ ভারতের হাতে আসতে পারে ২২টি স্কোয়াড্রন।
পাকিস্তানের হাতে আছে ৪২৫টি যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে রয়েছে চীনা প্রযুক্তির এফ-৭ পিজি এবং আমেরিকান এফ-১৬ ফাইটিং ফলকন জেট। এ ছাড়া তাদের হাতে আছে ৭টি আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এয়ারক্রাফট। ভারতের চেয়ে এক্ষেত্রে পাকিস্তানের হাতে আছে তিনটি এয়ারক্রাফট বেশি। আইআইএসএস তার ২০১৯ সালের এক হিসাবে বলেছে, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী আরো সমৃদ্ধ হচ্ছে।
নৌ বিাহিনী
ভারতের নৌবাহিনীর হাতে আছে একটি যুদ্ধজাহাজ বহনকারী জাহাজ। আছে ১৬টি সাবমেরিন, ১৪টি ডেস্ট্রয়ার, ১৩টি ফ্রিগেট, ১০৬টি পেট্রোল ও উপকূলীয় যুদ্ধবিষয়ক যান, ৭৫টি যুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য এয়ারক্রাফট। তা ছাড়া ভারতের নৌবাহিনীতে আছে ৬৭ হাজার ৭০০ সদস্য।
তবে পাকিস্তানের উপকূলভাগ ভারতের চেয়ে কম। তাদের এ জন্য অস্ত্রের পরিমাণও অত বেশি নয়। তাদের কাছে আছে ৯টি ফ্রিগেট, ৮টি সাবমেরিন, ১৭টি পেট্রোল ও উপকূলে ব্যবহারযোগ্য যান, ৮টি যুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধজাহাজ।

স্বর্ণের ঝলকে পাল্টে যাচ্ছে চীন by শাকিলা হক

গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সে-তুং যুগের পর কয়েক দশক ধরে চীনের নাগরিকদের মধ্যে স্বর্ণ ক্রয় ছিল নিষিদ্ধ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছিল স্বর্ণের বাজারে একমাত্র ভোক্তা। ছিল কেবল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কয়েকটি কোম্পানি। ২০০০ সালের শুরুতে এসে উঠিয়ে নেওয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। চালু হয় স্বর্ণ কেনাবেচার স্থান সাংহাই এক্সচেঞ্জ।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণ ক্রয়–বিক্রয়ের স্থান হলো সাংহাই এক্সচেঞ্জ। যে কাউকে এই বাজারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের দিকে ক্রেতা ও বিক্রেতার সমারোহে চীনের এই স্বর্ণের বাজার হয়ে ওঠে রমরমা। পশ্চিম থেকে স্বর্ণের বার গলিয়ে ছোট ছোট পাত আকারে পাঠানো হতো পূর্বে। থমসন রয়টার্সের গবেষণা ইউনিট জিএফএমএস বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই সময়টাতে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি স্বর্ণের বেচাকেনা হয়।
সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্ট সাময়িকীতে চীনের এই স্বর্ণ বাজার নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কীভাবে স্বর্ণের চাহিদার ধরনে পরিবর্তন এসেছে, তা উঠে আসে ওই প্রতিবেদনে।
২০১৩ সাল থেকে চীনের স্বর্ণের চাহিদা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের যৌথ চাহিদার চেয়ে বেশি। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী চীন বিশ্বের বৃহত্তম স্বর্ণের গ্রাহক, বিশ্ব বাজারের ৩০ শতাংশ চাহিদা চীনের।
২০০৭ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশ চীন। ওই বছর দক্ষিণ আফ্রিকাকে পেছনে ফেলে এই শীর্ষ স্থানে যায় চীন। এরপর গত ১১ বছর এই স্থান ধরে রেখেছে তারা। বছরে প্রায় ৪২৬ টন স্বর্ণ খনি থেকে উত্তোলন করে চীন। তবে দেশটির প্রয়োজন হয় ১ হাজার ৮৯ টন স্বর্ণ। চাহিদা বাড়ায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘চায়না গোল্ড’ এবং ‘শান দং গোল্ড’ সম্প্রতি স্বর্ণের দোকানের শাখা বাড়িয়েছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সদস্য রোল্যান্ড ওয়াং বলেন, চাহিদা বাড়ার সময় থেকে স্বর্ণের খুচরা বাজারের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম যাঁরা নতুন বিয়ে করেছেন, তাঁরা সাজসজ্জায় অধিক ব্যয় করছেন।
চীনে যখন স্বর্ণ ক্রয় নিষিদ্ধ ছিল, তখন কেবলমাত্র দক্ষিণাঞ্চলের শেনজেন প্রদেশের একটি অঞ্চলে বাণিজ্যের অনুমতি ছিল। ওটাই এখন মূল উৎপাদনকারী অঞ্চল। অন্যদিকে ফুজিয়ান প্রদেশের পুতিয়ান হচ্ছে খুচরা বাণিজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী অঞ্চল। পুতিয়ানের ব্যবসায়ীরা খুচরা বিক্রির প্রায় এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি উৎপাদন করেন, যার পরিমাণ সাড়ে ছয় শ টন। শহরের প্রধান সড়কেই ২০টির মতো স্বর্ণের দোকান আছে। গোল্ডহোয়ারফ, লাক লাক লাকের মতো স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর বড় শোরুম আছে এখানে।
পুতিয়ান শহরের বেইগাঁওতে প্রতি ১০ জনের ৯ জন স্বর্ণ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এখানে প্রায় ১ লাখ মানুষের বসতি। হাওচাং জুয়েলারি হচ্ছে পুতিয়ানের অন্যতম বড় জুয়েলারি সংস্থা। চার প্রজন্ম ধরে ব্যবসা করছেন তাঁরা। পুরো চীনজুড়ে প্রায় কয়েক শ শোরুম আছে তাঁদের। তাঁরা ব্যবসা আধুনিকায়নের ওপর জোর দিচ্ছেন। যদিও প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠরা বলছেন, ২৪ ক্যারেটের হলুদ সোনার পাতের এখনো দাম আছে। তবে তরুণ চীনারা ২৪ ক্যারেটের কাঁচা চকচকে সোনা অতটা পছন্দ করেন না। ক্যারেট নিয়ে খুব বেশি ভাবেন না তাঁরা। অপেক্ষাকৃত কম উজ্জ্বল আধুনিক অলংকার পছন্দ করেন। আর তাই চাহিদা বুঝে স্বর্ণকারেরাও কম ক্যারেটের স্বর্ণ ব্যবহারে আরও সৃজনশীল হয়েছেন। চলতি মাসে বেইগাওতে স্বর্ণ শিল্পাঞ্চলের উদ্বোধন হবে।
সম্প্রতি চায়না ডেইলির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তরুণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বর্ণের চাহিদায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। জুয়েলারি প্রস্তুতকারক কোম্পানি গাংলু গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝেং হুয়ানজিয়ান বলেন, ‘১ হাজার ইউয়ান খরচ করে যে তরুণ এখন স্বর্ণের গয়না কিনছেন, পরদিন একই দামে তা বিক্রির আশা করেন না তিনি। এই স্বর্ণ ভবিষ্যতে কী কাজে লাগবে, তা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই তরুণ সমাজের।’
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের পরিচালক শেং ঝিজুং বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে স্বর্ণ মূল্যবান বলেই মানুষ কেনেন। ২০১৩ সালে স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় বাজারের উৎপাদন সক্ষমতা অত্যধিক বেড়ে যায়। তবে মূল্য নিয়ে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৭ সাল থেকে এই শিল্পে আধুনিকায়ন খুব জরুরি হয়ে পড়ে। বর্তমানের ফ্যাশন প্রবণতার সঙ্গে শুদ্ধ স্বর্ণের সম্পর্কটা ফিকে হয়ে গেছে। ১৮ ক্যারেটের আধুনিক পণ্য তৈরি হচ্ছে, তরুণ সমাজের কাছে যার চাহিদায় বেশি।
অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি এখন চীন। উচ্চ প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে এগিয়ে রয়েছে দেশটি। তবে স্বর্ণশিল্পের অগ্রগতির জন্য এবং নিজের স্থান ধরে রাখতে এই শিল্পের আধুনিকায়নের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।

ভারতের বিমান হামলা, প্রাণহানি নিয়ে পাল্টাপাল্টি: যুদ্ধের দামামা by পরিতোষ পাল

হুমকি। পাল্টাপাল্টি। শেষ পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বুঝি লেগেই যাচ্ছে। পালওয়ামা হামলায় পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারতের পক্ষ থেকে একের পর এক হুমকি ও সতর্কবার্তা দেয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে ওই হামলার প্রতিশোধ নিতে সোমবার ভোররাতে পাকিস্তানের ৫০ কিলোমিটার ভেতরে একটি কথিত জঙ্গি আস্তানায় হামলা চালিয়েছে ভারত। এতে  জৈশ-ই-মোহাম্মদের সন্ত্রাসী, শীর্ষ কমান্ডার ও প্রশিক্ষকদের নির্মূল করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক প্রাণহানির কথা বলা হলেও পাকিস্তান তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, ভারতীয় বাহিনীর হামলার শিকার অঞ্চলটি পুরোপুরি জনশূন্য।
ভারতের বিমান দু’দেশের কার্যত সীমান্ত ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ অতিক্রম করলেও পাকিস্তানি বাহিনীর তাড়া খেয়ে পালিয়ে গেছে।
তাড়াহুড়ো করে পালানোর সময় যুদ্ধবিমানগুলো কয়েকটি পেলোড (যুদ্ধবিমানে বহন করা বিস্ফোরক) ফেলে গেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। তবে ভারতের এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে যে বালাকোট শহরে হামলার দাবি করেছে ভারত, সত্যতা যাচাই করে দেখার জন্য ওই শহরটি বিশ্ববাসীর জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকে সেখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে উভয় দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরো তীব্র হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সীমান্তের ওপারে ভারতের বিমান হামলায় বিপুল সংখ্যক জেইএম সন্ত্রাসী, প্রশিক্ষক ও  জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নির্মূল করা হয়েছে। এরা আত্মঘাতী হামলার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য আছে যে, জেইএম জঙ্গিরা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আরো আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করছিল।  বিজয় গোখলে জানান, ভারতের হামলায় তছনছ হওয়া জেইএম আস্তানাটি ছিল পাকিস্তানের বালাকোটে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেন নি তিনি। বালাকোট পাকিস্তানের খাইবার-পখতুনখাওয়া প্রদেশের একটি শহর। সীমান্ত রেখা ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ থেকে এর দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার।
ভারতীয় বিমান বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার এই বালাকোটেই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালিয়েছে তারা। তাদের দাবি, ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে পড়ে বিমান বাহিনীর মিরাজ-২০০০ ফাইটার বিমান। এগুলো থেকে বেছে বেছে  জৈশ-ই-মোহাম্মদের জঙ্গি ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়। পুলওয়ামার হামলার পর জম্মু-কাশ্মীরে সীমান্তবর্তী জঙ্গি ঘাঁটিগুলো ভেতরের দিকে সরিয়ে নেয়া হয়। ফলে বেশ খানিকটা ভেতরে ঢুকে খাইবার-পাখতুনওয়ার বালাকোট শহরে  জৈশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান আস্তানায় এই হামলা চালানো হয়। ভারতীয় বিমানগুলো ২১ মিনিট ধরে ১০০০  কেজি বোমা ফেলে ওই অঞ্চল গুঁড়িয়ে দেয়। সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, বালাকোট হামলায় ৩০০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আবার কয়েকটি গণমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা ৩৫০ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সেখানে কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। দেশটির  সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আসিফ গফুর টুইটারে দেয়া বার্তায় জানান, ভারতীয় বিমান ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ অতিক্রম করে। কিন্তু পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে তারা সীমান্তবর্তী বালাকোট অঞ্চল থেকে পালিয়ে যায়। তাড়াহুড়ো করে পালানোর সময় ভারতীয় বিমানগুলো পেলোড ফেলে যায়। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। আসিফ গফুর ভারতীয় বিমানের ফেলে যাওয়া পেলোডের ছবিও টুইটারে পোস্ট করেন। এতে গভীর বনাঞ্চলে আলগা মাটির ওপর বিচ্ছিন্ন ধাতব পড়ে থাকতে দেখা যায়।
বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, বালাকোট শহরের পার্শ্ববর্তী অধিবাসীরা গতকাল ভোররাতে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। মোহাম্মদ আদিল নামের এক কৃষক জানান, বিকট বিস্ফোরণের শব্দে রাত ৩টার দিকে তিনি ও তার স্ত্রী জেগে ওঠেন। ঘুম থেকে ওঠার পর আমরা মাথার ওপর যুদ্ধবিমান ওড়ার শব্দ পাই।
সকালে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে একটি বড় গর্ত ও ৪/৫টি বাড়ি বিধ্বস্ত হতে দেখেছি। হামলার পরপরই জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পরে এক বিবৃতিতে বালাকোট শহরে জঙ্গি আস্তানায় হামলা ও এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির বিষয়ে ভারতের দাবি প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তান। বিবৃতিতে পাকিস্তান বলেছে, ভারত সরকার আবারো একটি স্বপ্রণোদিত, বেপরোয়া ও ভুয়া দাবির আশ্রয় নিয়েছে। নির্বাচনে অভ্যন্তরীণ সুবিধা পেতেই এই হামলার দাবি করা হচ্ছে বলে মনে করে পাকিস্তান। যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের জনগণকে সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ভারতীয় বাহিনীর গতকালের হামলা কোনো প্রাণহানি ছাড়াই যথাসময়ে রুখে দেয়ার কারণে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রশংসা করেন।
পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলাকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মোহাম্মদ কুরেশি। তিনি বলেন, পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। ভারতের আক্রমণের বিষয়ে পাকিস্তান আগে থেকেই ইঙ্গিত পেয়েছিল বলে দাবি করেন কুরেশি। তিনি বলেন, বিশ্বের কাছে আমরা বলে আসছিলাম যে, ভারত এ ধরনের কিছু করার পরিকল্পনা করছে। আজ তারা সত্যিই হামলা করেছে। পাকিস্তানের আকাশে বিপদের মেঘ জড়ো হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান এখনো শক্ত রয়েছে। কুরেশি বলেন, আমরা একটি দায়িত্বশীল জাতি। কৌশলগতভাবে আমরা এই হামলার জবাব দেবো। পাকিস্তান জানে কীভাবে নিজ স্বার্থ রক্ষা করতে হয়।
এদিকে, হামলার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রভাবশালী মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। তবে ওই বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে তা জানা যায়নি।  বৈঠক শেষে রাজস্থানে একটি জনসভায় ভাষণ দেন মোদি। সেখানে তিনি বলেন, দুশ্চিন্তার কারণ নেই। দেশ নিরাপদ হাতে রয়েছে। আমরা আজকের জন্য আমাদের নায়কদের কুর্নিশ করছি।
গতকালের হামলা ছিল ১৪ই ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পালওয়ামায় জেইএম জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলার প্রতিশোধ। ওই হামলায় ভারতের আধা-সামরিক বাহিনীর ৪০ জনেরও বেশি জওয়ান নিহত হয়। দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের এমন পাল্টাপাল্টি হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আরেক প্রতিবেশী চীন। দেশটি উভয়পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তান সীমান্তে ঢুকে বোমা হামলার ঘটনায় দুই দেশকে সর্বোচ্চ সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এছাড়া, অস্ট্রেলিয়াও দেশ দু’টিকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের অধিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দু’দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। শ্রীনগরের ব্যাংকার সাবির আখোন বলেন, বৈরী দু’দেশের মধ্যে যাই ঘটছে, যুদ্ধ নাটকের মধ্যে আমরাই আছি। কয়েকজন অধিবাসী জানান, পালওয়ামা হামলার পর তারা উত্তেজনা কেটে যাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু কাশ্মীরে গত তিনদিন ধরে ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পালওয়ামার এক শিক্ষক বলেন,  বিজেপির সামনে বড় নির্বাচনের সময় এসেছে। শুধু ভোট পাওয়ার জন্য কাশ্মীরকে উস্কে দেয়া বন্ধ করা উচিত দলটির।

ভবিষ্যত ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সতর্ক থাকতে হবে: বাশার আসাদকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সিরিয়ার সরকার ও জনগণকে সহযোগিতা করাকে চলমান প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রতি সমর্থন বলে মনে করে এবং তা ইরানের জন্য গর্বের বিষয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী তেহরানে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দেয়া সাক্ষাতে এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদ ও জনগণের দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের কারণেই সিরিয়া বিজয় অর্জন করেছে এবং আমেরিকা ও তার আঞ্চলিক অনুচররা পরাজিত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যত ষড়যন্ত্রের ব্যাপারেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যেমনটি বলেছেন, আমেরিকা ও ইউরোপের মত বৃহৎ শক্তিগুলো ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সিরিয়ার সরকার ও জনগণ বিরাট বিজয় অর্জন করলেও বাস্তবতা হচ্ছে বিজয়ের এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে ভিন্ন উপায়ে শত্রুদের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। সর্বোচ্চ নেতা পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার তৎপরতাকে অত্যন্ত বিপদজনক ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এর বিরুদ্ধে অবশ্যই শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইরাক ও সিরিয়ার সীমান্তে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতিকে আরেকটি ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ইরান ও সিরিয়ার মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা বজায় রয়েছে এবং এ অঞ্চলে যে প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে উঠেছে তার পরিচিতি ও শক্তি নির্ভর করছে এ দুই দেশের সম্পর্কের ওপর। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে শত্রুরা কোনো ষড়যন্ত্রই বাস্তবায়ন করতে পারবে না।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সিরিয়ার সরকার জনগণের সহযোগিতায় আমেরিকা, ইসরাইল ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদেরকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এ কাজ যদিও অত্যন্ত কঠিন ছিল তারপরও ইরানের সহযোগিতায় দায়েশ সন্ত্রাসীদের পরাজিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার জন্য হুমকি ও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। আমেরিকা ভাল করেই জানে ইসলামি প্রতিরোধ সংগ্রামকে দুর্বল করার জন্য যেকোনো অজুহাতে সিরিয়ায় তাদের উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে এবং এ লক্ষ্যে তারা চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন ইহুদিবাদীদের পরিকল্পনা হচ্ছে ধর্ম, মাযহাব ও জাতীয়তার ভিত্তিতে সিরিয়াকে ভেঙে টুকরো টুকরো করা।
কিন্তু মার্কিন সরকার ভাল করেই জানে বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৯১৬ সালে 'সাইকাস পিকো' গোপন সমঝোতা অনুযায়ী আরব দেশগুলোকে ভেঙে টুকরো টুকরো করার পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন এত সহজ হবে না। কারণ সিরিয়ায় যে প্রতিরোধ শক্তি গড়ে উঠেছে এসব পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদও ধর্ম ও গোত্রের ভিত্তিতে সিরিয়াকে খণ্ডবিখণ্ড করার জন্য আমেরিকা ও তার মিত্রদের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি এবং কুর্দিসহ দেশটির অন্যান্য গোত্রের সঙ্গে সরকারের ভালো সম্পর্ক বজায় রয়েছে। এমনকি এক সময় যেসব গোষ্ঠী সরকারের বিরোধিতা করেছিল তারাও এখন আমেরিকা ও সৌদি আরবের মতের বিরুদ্ধে অবস্থা নিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করছে।

খরস্রোতা তিস্তা এখন ধু-ধু বালুচর

আমাদের ছোট নদী চলে আঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে...। পাঠ্যবইয়ে এই ছড়াটি পড়লেও বৈশাখ মাস আসতে এখনো অনেক দিন বাকি কিন্তু তার আগেই এক সময়ের খরস্রোতা তিস্তা নদী এখন পানি শূন্য হয়ে কঙ্কাল রূপ ধারণ করে ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। যে তিস্তা নদীকে নিয়ে গাথা হয়েছিলে নানা ধরনের ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া গান, বাড়িতে নতুন জামাই এলে বা নতুন মেহমান যে নদীর বইরাতি মাছ ছিলো খাবারের উপকরণ আজ সেই নদীর বুক চিরে চলছে চাষাবাদ। আর নদী নির্ভর শত শত জেলে পরিবার নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো তার আজ বেকার। বর্তমানে ভারতের গজল ডোবায় তিস্তা নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণ করায় এবং পানির ন্যায্য হিস্যা না দেয়ায় ধীরে ধীরে তিস্তা নদী পানি শূন্য হয়ে কঙ্কালসারে পরিণত হয়েছে। এখন তিস্তায় শুধুই ধু-ধু বালুচর। ভারতের সঙ্গে সরকারের দ্বি-পাক্ষিক পানি চুক্তির সুফল বাস্তবায়ন না হওয়ায় তিস্তা তীরবর্তী মানুষেরা নিদারুণ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্ষার সময় ভারত অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেয়ায় নদীর দু’পারের মানুষের জমি, ঘরবাড়ি ভেঙ্গে সর্বস্বান্ত করে দেয়।
খরা মৌসুমে পানির অভাবে ইরি বোরোসহ অন্যান্য ফসলের চাষাবাদ করতে পারে না নদী তীরের মানুষ। এক সময় সরাসরি নৌকা মাল বোঝাই করে পাল তুলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেত, বর্তমানে সেগুলো এখন কল্পকাহিনীর মতো। নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে শতাধিক মানুষ। এ ছাড়াও সরকারের নদী শাসনের পরিকল্পিত পরিকল্পনার অভাবে নদীর মাঝখান উঁচু হয়ে পানি দু’পারে প্লাবিত হয়। নদীর ড্রেজিংয়ের কাজ আদৌ হয়েছে কিনা তা এই এলাকার মানুষ জানে না অথচ নদী ড্রেজিং করে নদীর পানির গতিপথ সচল করলে একদিকে যেমন নদী ভাঙন কমে যাবে অন্যদিকে কৃষক নদীর পানি দিয়ে সেচ কাজ চালাতে পারবে, এর ফলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ খরচ কমে যাবে অন্যদিকে কৃষি উৎপাদন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। যৌবন হারানো খরস্রোতা তিস্তার এই ধরনের কঙ্কালসার চেহারা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে কখনো ছিল না। সরকার তিস্তা নদী জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং কৃষি নির্ভর রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলাকে কৃষিতে স্বাবলম্বীর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে এ কামনা করছে এলাকাবাসী।

Tuesday, February 26, 2019

থাইল্যান্ড ফিরতে পারবে গণতন্ত্রের পথে? by তৌহিদুল ইসলাম

আগামী মাসে থাইল্যান্ডে নির্বাচন। ২৪ মার্চের নির্বাচনে থাই রকসা চার্ট পার্টির এবং এর মিত্রদের সঙ্গে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রাউত চান-ওচার সেনা–সমর্থিত ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর পিস অ্যান্ড অর্ডারের (এনসিপিও) মূল লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের আগেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। প্রশ্ন উঠেছে, দেশটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরতে পারবে তো?
পাঁচ বছর সেনা শাসনের পর প্রথমবারের মতো এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটির গণতন্ত্রের পথে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু রাজকুমারী উবলরাতানা মাহিদলকে (৬৭) নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করায় ওই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে উঠছে।
নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে প্রাউত ২০১৪ সালে থাইল্যান্ডের ক্ষমতায় বসেছিলেন। তাঁকে সরাতে রাজকুমারীকে প্রার্থী করে চমক দেখাতে গিয়ে এখন উল্টো নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির মুখে পড়েছে ‘থাই রকসা চার্ট পার্টি’। রাজপরিবারের সদস্যকে প্রার্থী করায় দলটিকে নিষিদ্ধ করার বিষয়েও নির্বাচন কমিশন ভেবে দেখছে। বিষয়টি নিয়ে এখন গণমাধ্যম সরব।
থাইল্যান্ডের রাজকুমারী উবলরাতানা মাহিদলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। এর ফলে তিনি সাধারণ নির্বাচনে আর প্রার্থী হতে পারছেন না। ৬৭ বছর বয়সী ওই নারী থাইল্যান্ডের রাজার বোন। রাজকুমারী মাহিদল সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার পক্ষে একটি দলের হয়ে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন থাইল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, রাজকুমারীর নাম নেই। দেশটির বর্তমান রাজা প্রিন্স মাহা ওয়াজিরালংকর্নের বোন তিনি। থাই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দেশটির ঐতিহ্য অনুযায়ী রাজপরিবারের সদস্যরা রাজনীতির ঊর্ধ্বে।
একই সঙ্গে তাঁরা কোনো রাজনৈতিক পদেও থাকতে পারেন না। বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনে থাই রকসা চার্ট পার্টি থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন উবলরাতানা। পেয়েছিলেন মনোনয়নও। কিন্তু উবলরাতানার বড় ভাই নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষার কঠোর সমালোচনা করেন।
ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজকীয় বিধি ও রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে উবলরাতানাকে পিছু হটতে হলেও গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসার প্রক্রিয়ায় আলোচনা এখনো ব্যাপকভাবে চলছে। জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে দেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র নিয়ে সংশয়ে পড়তে হচ্ছে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশে প্রভাবশালী সিনাওয়াত্রা পরিবার ও রাজপরিবারের দ্বন্দ্ব, সংঘাত এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে ২০১৪ সালে ক্ষমতা দখল করে থাই সেনাবাহিনী। সে সময় নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক জান্তা। ওই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন সেনাবাহিনীর প্রধান প্রাউত চান-ওচা, যিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এই নির্বাচনী উত্তাপ এখন রাজপরিবার থেকে শুরু করে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচনের এই লড়াইয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি নতুন মাত্রা পায়। ওই দিন রাজপরিবারের রাজকুমারী উবলরাতানা মাহিদলকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী করে নির্বাচন কমিশনে প্রার্থিতা জমা দেয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনওয়াত্রার দল থাই রাকসা চার্ট।
সে সময় উবলরাতানার উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়, তিনি তাঁর রাজকীয় সব উপাধি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। এখন থেকে তিনি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে জীবন যাপন করবেন। প্রধানমন্ত্রী পদে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করে উবলরাতানা বলেছিলেন, তিনি চেয়েছিলেন একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তাঁর অধিকার চর্চা করতে। সব থাই নাগরিকের সমৃদ্ধির জন্য তিনি আন্তরিকতা ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন।
রাজকুমারীর রাজনীতিতে আসা নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে সরাসরি রাজনীতিতে আসা আইনের লঙ্ঘন বলেও অভিযোগ ওঠে। উবলরাতানার ছোট ভাই ও থাই রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন এক বিবৃতিতে বলেন, রাজপরিবারের কোনো সদস্যকে রাজনীতিতে আনা ঐতিহ্য ও জাতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী সিদ্ধান্ত। এটি ‘ভীষণ অনুচিত’। রাজপরিবারকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার কথাও বলেন তিনি। সেই সঙ্গে ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশটির নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে, রাজকুমারীকে রাজনীতিতে এনে থাই রাকসা চার্ট রাজনৈতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। এসবের জবাব দিতে গিয়ে তোপের মুখে পড়ে থাকসিনের ছেলের মালিকানাধীন ‘ভয়েস টিভি’। জেনারেলদের নির্দেশে ১৫ দিনের জন্য ওই টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত রাজার হস্তক্ষেপে নির্বাচনে রাজকুমারীকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করে প্রার্থিতা বাতিল করে দেয় নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানায়, ‘রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষতা ধারণ করার নিয়ম রাজপরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য প্রযোজ্য।’ পরে অবশ্য থাই রাকসা চার্ট বিষয়টি মেনে নিয়ে জল ঘোলা থেকে বিরত থাকে। এ নিয়ে রাজকুমারী ক্ষমাপ্রার্থনা করে ইনস্টাগ্রামে এক বার্তায় বলেন, ‘দেশের জন্য কাজ করার স্বাভাবিক ইচ্ছা যদি থাই জনগণের সমস্যার কারণ হয়, তবে সেটা করা উচিত হয়নি।’
সম্প্রতি ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজকীয় ও সামরিক বিশিষ্টজনেরা ‘ইয়োলো শার্ট’ হিসেবে পরিচিত। আর সাবেক জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনওয়াত্রার সহকারী ও সমর্থকের পরিচিত ‘রেড শার্ট’ হিসেবে। এই দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব, বিভাজন ও সংঘাতের জেরে ২০০৬ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী।
সিনাওয়াত্রাদের ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে ‘রেড শার্ট’পন্থীরা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। ২০১১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হলে পিউ থাই পার্টির পক্ষে ক্ষমতায় বসেন থাকসিনের বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রা। তবে তিনি জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেননি। তিনি ও তাঁর সহযোগীরা ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট শুরু করেন। রাজপরিবার ও সামরিক বিশিষ্টজনদের কাছে চক্ষুশূলে পরিণত হন ইংলাক। ক্ষমতার তিন বছরের মাথায় তৎকালীন রাজা ভূমিবলের মদদে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। ফলে আবার শুরু হয় সেনা শাসন।
১৯৩২ সালে রাজতন্ত্র অবসান হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১২ বার ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। এই বাহিনীর হস্তক্ষেপে থাই গণতন্ত্র বারবার মুখ থুবড়ে পড়েছে। আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে সেনা শাসন থেকে বের হয়ে গণতন্ত্রের পথে ফেরার দ্বার উন্মোচন হয়েছে। গণতন্ত্রের পথে ফিরতে পারবে কি থাইল্যান্ড? এ প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। নাকি মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন থাই প্রধানমন্ত্রী প্রাউত চান-ওচা। লোক দেখানো একটা নির্বাচন দিয়ে সেনা সমর্থনের জোরে ভোট বাগিয়ে নিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রাউত চানের ক্ষমতায় আসার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী প্রাউতকে নির্বাচনে মোকাবিলা করা থাকসিন সিনওয়াত্রার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জই বটে।
প্রধানমন্ত্রী প্রাউত গত কয়েক মাস থেকে সরকারি ব্যবস্থায় সারা দেশে নির্বাচনী প্রচার ও শোভাযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। বেসামরিক রাজনীতিকদের রুখতেও তাঁর নানা পদক্ষেপ দৃশ্যমান। পাঁচজনের বেশি একসঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছেন। পালং প্রাচার্য পার্টি নামে একটি দল সেনা–সমর্থিত দলকে সমর্থন দিয়েছে। এতে দলটির কিছু আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ছোট ও আঞ্চলিক দলগুলোর তারা সমর্থন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ডে সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

পশ্চিমে হেরোইন পাচারের নয়া মহাসড়ক by নাজনীন আখতার

পা ঝুলিয়ে কাঠের বাক্সের ওপর বসে ছিলেন আলিজিয়া স্মিট (আসল নাম নয়)। পেছনে সবজি আর ফলের ঝুড়ি। ক্রেতার পথ চেয়ে অপেক্ষা। ঝুড়ির সবজি ও ফল বিক্রি না হলে বেশ অসুবিধায় পড়বেন তিনি। সংসার চলবে না—সে সমস্যার চেয়ে অন্য সমস্যা নিয়েই তিনি বেশি চিন্তিত। ছয় বছর ধরে এই ‘সংকট’ তাড়া করে ফিরছে। তাই বিক্রি ভালো না হলে অর্থ আয়ে আজও বিকল্প পথ ধরতে হবে এই নারীকে।
দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উইনবার্গে যে জায়গায় বসে আলিজিয়া এসব ভাবছিলেন, এর কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক যুবক। ক্রেতার পাশাপাশি এই যুবকের জন্যও অপেক্ষা থাকে আলিজিয়ার। যুবকের সঙ্গে তাঁর কোনো প্রেমের সম্পর্ক নেই। ওই যুবক একজন হেরোইন সরবরাহকারী। সবজি ও ফল বিক্রির অর্থ থেকে প্রতিদিন ওই যুবকের কাছ থেকে হেরোইন কেনেন আলিজিয়া। ছয় বছর ধরে আলিজিয়া হেরোইন সেবন করেন। প্রতিদিন তাঁকে স্থানীয় মুদ্রায় ৩০ র‌্যান্ড (১ ডলার = ১৪ র‌্যান্ড) দিয়ে হেরোইন কিনতে হয়। যেদিন হেরোইন কেনার জন্য যথেষ্ট সবজি বা ফল বিক্রি করতে না পারেন, সেদিন সন্ধ্যায় যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করেন। তাঁর ভাষায়, ‘হেরোইন সবচেয়ে খারাপ জিনিস। প্রথম মাদক হিসেবে হেরোইন নিয়েছিলাম, আর পালাতে পারছি না।’
সাম্প্রতিক সময়ে আফ্রিকায় হেরোইন আসক্তির যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা আগে কখনো ছিল না। আশি ও নব্বই দশকে জানজিবার বা শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের শহর জোহানেসবার্গের মতো পর্যটন স্থানগুলোতেই হেরোইনে আসক্ত লোকজনকে পাওয়া যেত। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয়ের (ইউএনওডিসি) তথ্য অনুসারে, ২০০৬ সালের পর অন্য যেকোনো মহাদেশের তুলনায় আফ্রিকায় হেরোইনে আসক্তি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই হেরোইন–বাণিজ্য ভয়াবহ ধ্বংস ডেকে আনছে। এটা শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
আফ্রিকায় হেরোইনের ব্যবহার বাড়ায় তা প্রভাব ফেলেছে বৈশ্বিক সরবরাহে। আফগানিস্তানের বেশ কিছু অঞ্চল তালেবানদের দখলে রয়েছে। সেখানে বিশ্বের ৮৫ শতাংশ হেরোইন উৎপাদিত হয়। আফগানিস্তানে হেরোইনের মূল উৎস পপি চাষ বেড়েছে। এক জাতের পপি থেকে উৎপাদন করা হয় আফিম।
ইউএনওডিসির তথ্য অনুসারে, ২০১৭ সালে আফিম উৎপাদন রেকর্ডসংখ্যক ৬৫ শতাংশ বেড়ে সাড়ে ১০ হাজার টন হয়েছে।
মেক্সিকো থেকে উদ্ধার করা ব্যাগভর্তি মাদকদ্রব্য। ছবি: রয়টার্স ফাইল
শুধু হেরোইনের উৎপাদন যে বেড়েছে তা নয়, আফ্রিকা হয়ে তা পাচারও হচ্ছে বিভিন্ন দিকে। আগে বলকান সড়কপথে ইরান, তুরস্ক ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ ঘুরে পশ্চিমে পৌঁছে যেত হেরোইন। এটাই পশ্চিমে হেরোইন পাচারের মূল পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে এক দশক ধরে ওই পথে মাদক পাচার কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, সিরিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর যুদ্ধের কারণে শরণার্থী ঠেকাতে সীমান্ত এলাকা কড়া নজরদারিতে রেখেছে তুরস্ক। এ কারণে বেশির ভাগ হেরোইন পাচার এখন সরে গেছে ‘দক্ষিণাঞ্চলীয় রুটের’ দিকে।
এই পথে হেরোইন আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের মাকরান উপকূলীয় এলাকায় নেওয়া হয়। আরব দেশের পালতোলা নৌকা স্থানীয়ভাবে যেগুলোকে ধৌস বলা হয়, সেগুলোয় করে পাচার করা হয় সেই হেরোইন। কোনো কোনো হেরোইন বড় জাহাজে কন্টেইনারে করেও পাচার করা হয়। ধৌস দক্ষিণ-পশ্চিমে ভারত মহাসাগর হয়ে সোমালিয়া, তানজানিয়া ও মোজাম্বিকের দিকে যায়। সেখান থেকে হেরোইন স্থলপথে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জলপথে বা আকাশপথে ইউরোপ, আমেরিকায় পাচার করা হয়।
কর্তৃপক্ষ এই পাচার রোধে প্রচণ্ডভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে আরব সাগরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ নৌবাহিনী টহল দেয়। তবে এই বাহিনী মূলত সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে কাজ করে। মাদক পাচারকারীদের ধরা তাদের মূল কাজ নয়। মাদক ব্যবসার মাধ্যমে তালেবানদের অর্থায়ন হয়, সেই চিন্তা থেকে কখনো কখনো পাচারকারীদের ধরা হয়। তবে মাদক পাচারকারীদের গ্রেপ্তারে এই বাহিনীর কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই। অন্যদিকে, আফ্রিকা ভূখণ্ডে পাচারকারীদের আটকের হার অনেক কম। কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে পাচারকারীদের ধরার চেষ্টাও করে না পুলিশ।
মাদকদ্রব্য উদ্ধারে মেক্সিকোর এক শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান। ছবি: রয়টার্স ফাইল
বলা হয়ে থাকে, মোজাম্বিকে কয়লার পর হেরোইন পাচারই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়ের উৎস। কারও কারও মতে, হেরোইন পাচারই সেখানে প্রধান আয়ের উৎস। তবে এ তথ্য যাচাই করা সত্যিই কঠিন। মোজাম্বিকে এ পাচার নিয়ন্ত্রণ করে প্রভাবশালী পরিবার। এর সঙ্গে শাসক দল মোজাম্বিক লিবারেশন ফ্রন্টের (ফ্রেলিমো) নেতাদের যোগসাজশ রয়েছে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত একজন জানান, লেনদেন হয় চোরাকারবারি ও রাষ্ট্রের মধ্যে।
রাজনৈতিক অনুদান ও ব্যক্তিস্বার্থে ফ্রেলিমো পাচারকারীদের গ্রেপ্তার করা থেকে রক্ষা করে। শাসক দলটি পাচারকারীদের পণ্য আমদানি-রপ্তানির জন্য নাকালা বন্দরে নিরাপত্তাব্যবস্থা ঢিলেঢালা রাখে। সেখানে কী পণ্য আনা-নেওয়া হচ্ছে, তা ভালোভাবে দেখাও হয় না। ফ্রেলিমোর সরকারি ছাড়পত্র ব্যবহার করে একবার এক পাচারকারী শত শত মোটরসাইকেল আমদানি করেছিল। ওই সব মোটরসাইকেলের পেট্রল ট্যাংক হেরোইন প্যাকেট দিয়ে ভর্তি ছিল।
পাচারেরে এত সব ঘটনা ঘটলেও পাচারকারীদের গ্রেপ্তারে তেমন কোনো তৎপরতা নেই দেশটির সরকারের। দক্ষিণ আফ্রিকার অপরাধ-গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অভিযোগ, মাদক পাচার নিয়ে তাঁদের করা তদন্ত মোজাম্বিকের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়। হেরোইন পাচারসহ অবৈধ সব বাণিজ্যের কারণে দেশটির দক্ষিণে বিদ্রোহ গ্রুপগুলোর দাপট বেড়ে চলেছে।
মাদক ব্যবসা দক্ষিণ আফ্রিকাকেও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ভালো অবকাঠামো ও দুর্বল মুদ্রার কারণে জলপথে অন্য দেশে হেরোইন পাচারে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয় দেশটি। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কেপটাউনে হত্যার ঘটনাও বেড়ে চলেছে। তবে শুধু পাচার নয়, দেশটির অভ্যন্তরও হেরোইনে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। একদল মাদক বিক্রেতা নানা কৌশলে নতুন নতুন ক্রেতা জোগাড়ে মাঠে সরব রয়েছে।
যাঁকে নিয়ে লেখাটি শুরু হয়েছিল, সেই আলিজিয়া স্মিট জানান, জুমা নামের ৩৫ বছর বয়সী তানজানীয় এক অভিবাসী তাঁকে হেরোইনে আসক্ত করেন। জুমা জানান, নতুনদের বিশেষ ছাড়ে ‘উদ্বোধনী প্যাকেজ’ দেওয়া হয়। বারবার কেনেন যাঁরা, তাঁরা পুরস্কৃত হন। প্রতি পাঁচটি গুটির জন্য ৩০ র‌্যান্ডের একটি প্যাকেট বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। ‘বুস্টার প্যাক’-এর জন্য তিনি নেন ৫০০ র‌্যান্ড। এর থেকে ২৫০ র‌্যান্ড তাঁর লাভ থেকে যায়। তবে এসব বেচার জন্য ‘সুরক্ষা’ পেতে তাঁকে মাদকচক্রকে নিয়মিত ‘কর’ দিতে হয়।
তবে আগের স্বাভাবিক জীবনের জন্য বেশ আফসোস হয় জুমার। বললেন, মাদক বেচে যা আয় করেন, তা তিনি তানজানিয়ার আধা স্বায়ত্তশাসিত এলাকা জানজিবারে টেলিফোন খুঁটি মেরামত করেও পেতেন। তবে স্ত্রী ও দুই সন্তানের সংসারে ওই আয় যথেষ্ট না হওয়ায় কেপটাউনে চলে আসেন। বিরক্তি নিয়ে বললেন, ‘এই জীবন অনেক কঠিন, বস।’
ব্রায়ান নামের উগান্ডার এক যুবক জানান কীভাবে তিনি মাদক পাচারের চক্রে পড়েছিলেন। মাদক পাচারে জড়ানোর আগে উগান্ডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পশু চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশোনা করছিলেন। পাঁচ হাজার ডলারের টোপে তিনি মাদক পাচারে রাজি হন। প্রথমবার তিনি তানজানিয়ার জানজিবার থেকে মাদক সংগ্রহ করেন। ব্রায়ান জানান, প্রতিটি ধাপে তাঁকে নতুন নতুন লোকের সঙ্গে দেখা করতে হয়েছিল, এক ধাপের লোক অন্য ধাপে যাওয়ার পথ বাতলে দিচ্ছিল। জানজিবারে স্টোন টাউন নামে একটি হোটেলের কক্ষে একজন আরব লোক তাঁকে এক কেজি মাদক দেন। মাসকিং টেপে খুব শক্তভাবে মোড়ানো একেকটি গুটি তিনি পানি দিয়ে গিলে নেন। ১৫ মিনিটে এমন ১০০টি গুটি তাঁকে গিলতে হয়। একটি গুটি মাসকিং টেপ ফেটে কোনোভাবে তাঁর দেহে ছড়িয়ে গেলে মৃত্যু অনিবার্য। অথচ তিনি এ সম্পর্কে সচেতনও ছিলেন না। তাঁর ভাষায়, টেপে মোড়ানো গুটি গিলে নিলে কোনো ক্ষতি হয় না।
ভারত মহাসাগরে কেনিয়ার নৌবাহিনী হেরোইন পাচারের অভিযোগে এই নৌকা আটক করেছিল। ছবি: রয়টার্স ফাইল
১০০ গুটি গিলে নেওয়ার পর ব্রায়ানকে পরবর্তী ধাপের কথা জানান ওই আরব লোক। এরপর ব্রায়ান টানা ৪৮ ঘণ্টা বাসযাত্রা করেন। তানজানিয়া থেকে উগান্ডা ফিরে আসতে তিনটি সীমান্ত পাড়ি দিতে হয় তাঁকে। তাঁর দেহ থেকে এক কেজি হেরোইন বের করে আনার পর তা আবার প্যাকেট করা হয় এবং অন্য পাচারকারীদের মারফতে আকাশপথে তা চলে যায় ইউরোপে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় হেরোইন ব্যবহারকারীর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে তেমন কোনো তথ্য নেই। প্রায় দুই দশক আগে এক হাজারের বেশি লোক মাদক নিরাময়ের চিকিৎসা নিয়েছে। তবে এটা ব্যবহারকারীদের একটি ভগ্নাংশ মাত্র। এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ইনজেকশনের মাধ্যমে হেরোইন নিয়ে থাকে—এমন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭৫ হাজার। অনেকে হেরোইন কাপড় ধোয়ার গুঁড়া সাবানের সঙ্গে বিষাক্ত ককটেল তৈরি করে সিগারেটের মতো ব্যবহার করে। ঘুমের ট্যাবলেট ও উত্তেজক মেথামফেটামাইনসের মাধ্যমেও ব্যবহার করে অনেকে। অনেকে বিপজ্জনক ‘ব্লুটুথিং’ পদ্ধতি প্রয়োগ করে। এর মাধ্যমে হেরোইনের ককটেল গ্রহণের পর এক মাদকাসক্ত অন্য মাদকাসক্তের দেহের রক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে বের করে নিজের দেহে প্রবেশ করায়। দেশটিতে এইচআইভির প্রকোপ থাকায় এই পদ্ধতি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেপটাউনে ‘ক্যাম্প জয়’ নামের একটি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র চালান ক্র্যাভেন অ্যানজেল। মাদক পাচারের কাজ করতে গিয়ে যাঁরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন, তাঁদের সেখানে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। ক্র্যাভেন অ্যানজেল বলেন, হেরোইন এখন একটি অভিজাত মাদক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকচক্রের একজন জানান, তাঁরা অনেকে মাদক নেন মাদক ব্যবসা নিয়ে সহিংস লড়াইয়ের স্মৃতি ভুলের যাওয়ার জন্য।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মাদকদ্রব্য পাচারে দক্ষিণাঞ্চলের পথটি যত দিন সচল থাকবে, তত দিন মাদক সমস্যার সমাধান করা সহজ হবে না।
সূত্র: ইকোনমিস্ট, দ্য ডেইলি বিস্ট