Friday, October 5, 2018

অবশেষে সিভিতেও...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক সেই ব্যক্তির স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
‘গ্র্যাজুয়েশনের পর স্বাভাবিক ভাবেই চাকরি খোঁজা একটা নিত্যদিনের কাজে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই এই অফিস ঐ অফিস ঘুরে ঘুরে সিভি ড্রপ আর ইন্টার্ভিউ দিতে দিতে এখন আমি বেশ বিরক্ত। গতকাল এক অফিসে গেলাম সিভি জমা দিতে, সেখানে এক আপুর সিভি নিয়ে একটা কথায় আমি বেশ অবাক হলাম। উনার মতে আমার দেয়া সিভি সেক্সি না। এখন মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরছে... আপা সিভি সেক্সি হয় কেমনে?
সিভিতে দেয়া ছবিতে ক্লিভেজ দেখায় নাকি লিখাগুলোয় আমার চাকরীর এক্সপেরিন্সের বদলে কারো সাথে শুয়ে জব পাওয়ায় পার্রদশী কিনা তা দেখিয়ে? অবাক লাগে যখন প্রফেশনাল কোনো সিভির বদলে আজকাল মানুষ সেক্সি সিভি খুঁজে। হায়রে মানুষ!! এখন সিভিকেও সেক্সি হতে হবে!!! নাহলে জব কাছে আসবে না!’

দেশে এত লোকেশন তবুও... by এন আই বুলবুল

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ। শুধু সৌন্দর্য নয়, এটি একটি আবেগেরও নাম। গ্রামবাংলার অসাধারণ সৌন্দর্য ঘিরে আছে চারদিকে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও রূপ, লাবণ্যের কথা বলে শেষ করা যায় না। বাংলাদেশে এমন কোনো স্থান নেই যেখানে সৌন্দর্যের এতটুকু ভাটা পড়েছে। বিভিন্ন লেখক/কবি এই দেশের রূপে মুগ্ধ। ছোট এই দেশ রূপ বৈচিত্র্যের বিচারে পৃথিবীতে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। তাই মনের অজান্তেই কবিমন গেয়ে ওঠে- ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি/ সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি।’ বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়, জলপ্রপাত, বনভূমি এদেশকে করে তুলেছে অপূর্ব রূপময়।
প্রকৃতি কন্যা হিসেবে সারা দেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং। স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন আরো অনেক স্থান রয়েছে যেগুলো সবাইকে মুগ্ধ করে। দেশের এমন দর্শনীয় স্থানগুলো সাধারণ মানুষ দেখার সুযোগ পায় দেশীয় নাটক-চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে। একটা সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমাদের টিভি নাটকের শুটিং হতো। কিন্তু এখন তা তেমন চোখে পড়ে না। এই সময়ে দেশের বাইরে টিভি নাটকের শুটিং করার প্রবণতা বেড়েছে। সৌন্দর্যের লীলাভূমি দেশকে উপেক্ষা করে বিদেশে নাটকের শুটিংয়ে সুবিধা কী? এই প্রশ্নটি অনেকে আজকাল করছেন। এ ছাড়া গল্পের প্রয়োজনে না কি অন্য কোনো কারণে দেশের বাইরে টিভি নাটকের শুটিং হয় এমন জিজ্ঞাসাও এখন অনেক। সাম্প্রতিক সময়ে নেপাল, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার বালিতে আমাদের টিভি নাটকের বেশি শুটিং হচ্ছে। সম্প্রতি নেপাল থেকে পাঁচটি নাটকের শুটিং শেষ করে এসেছেন জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী জাকিয়া বারি মম। নেপালে শুটিং প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের বাইরে শুটিং নিয়ে আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই। এই বিষয়টি পরিচালকদের। আমি শুধু গল্পটি পছন্দ করি। এরপর কোথায় শুটিং করবেন সেটি পরিচালক সিদ্ধান্ত নেন। দেশের বাইরে শুটিংয়ে কী সুবিধা সেটি আমি জানি না। পরিচালকই ভালো বলতে পারবেন এই বিষয়ে। সম্প্রতি নেপালে একটি ধারাবাহিক ও চারটি খণ্ড নাটকের শুটিং করেছেন নির্মাতা সৈয়দ শাকিল। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার ধারাবাহিকটি একটি পর্যটন কেন্দ্রের গল্পের ওপর। এটি আমি ইচ্ছে করলে বাংলাদেশের কক্সবাজারে শুটিং করতে পারতাম। কিন্তু নেপালে শুটিং করার একটি বিশেষ কারণ আছে। সেটি হলো কক্সবাজারে শুটিং করলে নেপালের চেয়ে প্রতি পর্বে আমার ১০ হাজার টাকা বেশি খরচ হতো। কক্সবাজারে হোটেল ভাড়া থেকে অন্য সব কিছুর দাম কিছুটা বেশি। এ ছাড়া বাংলাদেশে অনেক সুন্দর সুন্দর লোকেশন রয়েছে এটি সত্যি। কিন্তু এসব স্থানগুলোতে শুটিং করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। অনুমতি নেয়া, প্রশাসন ঠিক রেখে কাজ করা নির্মাতাদের জন্য অসুবিধা হয়। তবে, অন্যরা কী কারণে দেশের বাইরে শুটিং করছেন সেটি আমি জানি না।  চলতি বছরে বাঁধন ড্রিম ভিশন নেপালে ৩১টি নাটকের শুটিং করেছে। নেপালে নাটকের শুটিং করা প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মোহাম্মদ বোরহান খান বলেন, আমি দুটি কারণে নেপালে নাটকগুলোর শুটিং করেছি। এর একটি হলো বিদেশে শুটিং করলে সঠিক সময়ে শিল্পীদের পাওয়া যায়। কিন্তু দেশে প্রতিদিন সঠিক সময়ে শিল্পীদের স্পটে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে স্পটে আসতে দেরি করেন তারা। ফলে সময় মতো শুটিং শেষ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এ ছাড়া আমার নাটকগুলো নেপাল কেন্দ্রিক ছিল। দেশের বাইরে শুটিং করার আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। অন্যরা গল্পের প্রয়োজন ছাড়া অন্য কী কারণে দেশের বাইরে শুটিং করছেন সেই বিষয়ে আমি অবগত নই। নাটক সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় লোকেশনের ওপর নির্মাতাদের গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। তাহলে টিভি নাটকের মধ্য দিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো দেশের মানুষের পাশাপাশি সারা বিশ্ব দেখার সুযোগ পাবে। এ ছাড়া দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে শুটিং করার সুস্থ পরিবেশ তৈরি করে দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন নাট্য সংশ্লিষ্টরা।

নির্যাতনের দুঃস্বপ্নে ঘুম ভাঙে স্বর্ণার by মরিয়ম চম্পা

স্বর্ণা। বয়স ২০ বছর। বাবা- মা আদর করে স্বর্ণামণি বলে ডাকেন। দুই ভাইবোনের মধ্যে স্বর্ণা বড়। ছোট ভাই সুমন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। স্বর্ণার বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জের উত্তরবালুচরে। বাবা কৃষিকাজ করেন। মা গৃহিণী।
ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন স্বর্ণা। হঠাৎ করে ইচ্ছে হয়েছে বিদেশ যাবেন। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে পছন্দ করেন স্বর্ণা। সৌদি আরবে মেডিকেল ভিসায় গেলে কাজের পাশাপাশি হয়তো অনেক ঘোরাঘুরি করতে পারবেন- এমনটাই ভেবেছিলেন তিনি। পরিবারের সকলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেকটা জোর জবরদস্তি করে বিদেশে যান স্বর্ণা। মেয়ের বিদেশ যাওয়া নিয়ে বাবা- মায়ের আক্ষেপের শেষ ছিল না। মা একা একা কাঁদতেন। আর বাবা তো বাসার বাইরে প্রায় বের হওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
স্বর্ণা মানবজমিনকে বলেন, বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনরা আমাকে বারবার নিষেধ করেছিল। কিন্তু কারো কথাই আমি শুনিনি। অনেকটা জেদ করেই বিদেশ যাই। যেমন জেদ করে গিয়েছি তেমন শাস্তি আমার কপালে জুটেছে। এখান থেকে মেডিকেল ভিসার কথা বলে নিয়ে গেলেও ওখানে আমাকে বাসাবাড়ির কাজে দেয়া হয়। প্রথমে রাগে-দুঃখে মন খারাপ হলেও সব মেনে নিয়ে বাসার কাজ শুরু করি। ফজরের আজানের পর কাজ শুরু করে রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করতাম। কখনো ভোররাত পর্যন্ত কাজ করতে হতো। কিন্তু ঠিকমতো খেতে দিতো না। খালি মারধর করতো। কারণে-অকারণে মার দেয়ার অজুহাত খুঁজতো। গলা টিপে ধরতো। যখন দমটা বেরিয়ে যাবে অবস্থা ঠিক তখন ছেড়ে দিতো। কিছুদিন পরে ওই বাসা থেকে পালিয়ে গিয়ে নতুন বাসায় কাজ নেই। আবার তারা ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
এরপর একদিন সকালে আবারো পালানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ধরা পড়ে যাই। নিয়োগকর্তার নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে নিচে নামতে গিয়ে পা ভেঙে যায়। পরে পুলিশ এসে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে প্রায় ১ মাস চিকিৎসাধীন ছিলাম। বাসার মালিক আমার ফোন ও সঙ্গে থাকা নগদ টাকা রেখে দেয়। তারা একদিনের জন্যও আমাকে হাসপাতালে দেখতে আসে নি। ওই হাসপাতালে ক্লিনারের কাজ করতো কয়েকজন বাংলাদেশি নারী। তাদের একজনকে ডেকে বলি- আপা আপনার ফোনটা একটু দেবেন। আব্বুর সঙ্গে কথা বলবো। তারা অনেক চিন্তা করছেন। এরপর ওই আপুর ফোন দিয়ে আব্বুর সঙ্গে যোগাযোগ করে সব খুলে বলি। আব্বুকে এসএমএস করি। তখন শ্রম মন্ত্রণালয়ে গিয়ে পুরো বিষয়টা খুলে বললে বাংলাদেশের স্যারদের সহায়তায় দেশে ফিরে আসি।
বর্তমানে নানু বাড়ি আছি। এখানে স্থানীয় একটি আধা-সরকারি প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করছি। বিদেশ যাওয়ার আগে এখানে মাঝে মধ্যে ক্লাস নিতাম। তখন থেকেই স্যারদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। দেশে ফিরে আসার পরে স্কুলটিতে পাকাপাকি ভাবে যোগদান করি। ক্লাস আর টিউশনি করে স্কুলের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে সারাদিন কেটে যায়। আমি এখন অনেক ভালো আছি। কিন্তু বিদেশের স্মৃতিগুলো আজও আমাকে দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে বেড়ায়। বিদেশ থেকে আসার পরে গ্রামের লোকজন অনেক বাজে কথা বলেছে। কলেজের বন্ধুরা আমাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে। বলে, কিরে বিদেশ কেমন, খুব মজা তাই না। এসব কথা একদম সহ্য হয় না। আবার আমি ঘুরে দাঁড়াবো। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষাটা দিতে চাই। কিন্তু আগের কলেজ থেকে টিসি তুলে নানু বাড়ির কাছে একটি কলেজে ভর্তি হবো। নতুন কলেজে কেউ আমার বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি জানবে না। স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকি জীবনটা মানুষ গড়ার কারিগর হয়ে হেসে-খেলে কাটিয়ে দিতে চাই।

২০ দিনে ৩৩ মামলার আসামি by কাফি কামাল

২০১৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর থেকে ২০শে সেপ্টেম্বর। মাত্র কুড়ি দিন সময়। এ সময়ের মধ্যেই রাজধানীর ৬ থানায় দায়েরকৃত ৩৩ মামলার সবক’টিতে আসামি হয়েছেন বিএনপি’র এক নেতা। তার নাম শেখ রবিউল আলম। তিনি বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। বিগত সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীর অধিকাংশ থানায় বিএনপিসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পাল্লা দিয়ে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। কোনো ঘটনা না ঘটলেও কল্পিত ঘটনায় মামলা দায়েরের কারণে এসব ‘গায়েবি মামলা’ আখ্যা পেয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে সে গায়েবি মামলা।
শেখ রবিউল আলম বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীর ৬টি থানায় দায়েরকৃত ৩৩টি মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে কলাবাগান থানায় ৭টি, ধানমণ্ডিতে ৬টি, হাজারীবাগে ৪টি, নিউমার্কেটে ৬টি, শাহবাগে ৭টি ও রমনা থানায় ৫টি মামলায় আমার নাম উল্লেখ করেছে পুলিশ।
এর মধ্যে ৩০শে সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভার পর ধানমণ্ডি ও হাজারীবাগের দুইটি মামলায় আসামি করা হয়েছে। বাকি মামলাগুলো হয়েছে ১ থেকে ২০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে। সেপ্টেম্বর মাসে বিএনপি’র কর্মসূচি উপলক্ষে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে প্রতীকী অনশনের পর। তবে কোনো কর্মসূচি ছাড়াই হয়েছে বেশিরভাগ মামলা। তিনি জানান, সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীর রমনা, পল্টন, শাহবাগসহ কয়েকটি থানায় দায়েরকৃত মামলায় কমন আসামি হিসেবে রয়েছে বিএনপি ও অঙ্গ দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতার নাম। যাদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল, যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব ও শেখ রবিউল আলমসহ কয়েকজন। ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতারা জানান, শেখ রবিউল আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন শেষে নগর বিএনপি’র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। রাজনীতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় তরুণ এ নেতা ঢাকা-১০ (ধানমণ্ডি) আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। সে হিসেবে ঢাকা-১০ নির্বাচনী আসনের অন্তর্ভুক্ত ৪ থানায় বেশির ভাগ মামলায় তাকে আসামি করেছে পুলিশ। শেখ রবিউল আলম জানান, রাজধানীর বিভিন্ন থানায় বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ১৪৭টির বেশি মামলা রয়েছে। যার সবগুলোই দায়ের হয়েছে ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের আমলে।
সেপ্টেম্বর মাসেই ৪১০০ মামলা, সাড়ে তিন লাখ আসামি: ৩০শে সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় সারা দেশে গায়েবি মামলার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, জনগণকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে নির্যাতন-নিপীড়নে মেতে উঠেছে সরকার। চলতি ২০১৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৯ দিনে সারা দেশে ৪ হাজার ৯৪টি গায়েবি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ২ লাখ ৭২ হাজার ৭৩০ জন। মামলাগুলোতে ৪ হাজার ৩১৯ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, এগুলো সবই গায়েবি মামলা। অভিযোগের কোনো অস্তিত্ব নেই। একেবারেই ভৌতিক মামলা। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের কাছে ‘আষাঢ়ে গল্পের’ একটা ‘ফরমেট’ সব সময় প্রস্তুত করা থাকে। সময় মতো বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে সেগুলো ব্যবহার করা হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০ দিনে সারা দেশে বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৪ হাজার ৯৪টি নতুন মামলা দায়ের করে পুলিশ। এসব মামলায় আসামির তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে ৮৪ হাজার ৪৮০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থকের নাম।
মামলার এজাহারে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ২ লাখ ৭২ হাজার ৭৩০ জন। নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা মিলিয়ে এসব মামলায় আসামির সংখ্যা ৩ লাখ ৫৭ হাজার ২১০ জন। এই সময়ে সারা দেশে বিএনপি ও অঙ্গদলের ৪ হাজার ৩১৯ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের ‘মামলা ও নির্যাতন-নিপীড়ন তথ্য সেল’-এর সমন্বয়ক পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত ওসি সালাহউদ্দিন জানান, ২০০৭ থেকে ২০১৮ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৮৬ হাজার ২৪৬টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এসব মামলায় আসামির তালিকায় নাম উঠেছে ২২ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৭ জনের। এ সময় ১৭২ জন জাতীয় পর্যায়ের নেতার নামেই দায়ের করা হয়েছে ৪ হাজার ৩৪২টি মামলা।

নির্বাচনের আগে ইসিতে নিয়োগ পদোন্নতির হিড়িক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিন স্তরের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিচ্ছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এ সংক্রান্ত কমিটি। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, উপ-সচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব পদে ৭৫ জনকে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়েছে। ইসি’র ‘নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার, পুনর্বিন্যাস ও দক্ষতা উন্নয়ন কমিটি’ এ সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া ৫১৭টি নবসৃষ্ট পদে লোকবল নিয়োগের পরিকল্পনাও করছে কমিশন। তাদের উপজেলা সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হবে। এর আগে ২০০৫ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে ৩২৩ কর্মকর্তার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক  তৈরি হয়েছিল। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন ইসি ওই নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় নিয়োগকৃতদের পরীক্ষা নেয়। এতে অনেকেই বাদ পড়ে।
জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক এক মাস আগে এমন নিয়োগ নতুনভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এমন ঘটনা অস্বাভাবিক। এই নিয়োগে হয় টাকার খেলা, এই নিয়োগে হয় দলীয়করণ। এখন যে পরিস্থিতি এত লোক যদি দলীয় লোক নিয়োগ দেয়া হয় তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশা তো আরো সুদূরপরাহত হয়ে যাবে। এসব কোনোভাবেই কাম্য নয়।  নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার গতকাল নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন সবারই পদোন্নতি হচ্ছে। আমি দেখতে পাই পত্রিকায়, জনপ্রশাসনে পদোন্নতি হচ্ছে, পুলিশে পদোন্নতি হচ্ছে, কিংবা তারা পদোন্নতি চাচ্ছেন। তো নির্বাচন কমিশনেও পদোন্নতির একটা ঢেউ  লেগেছে। মাহবুব তালুকদার জানান, কমিশনে বেশকিছু নতুন পদ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রায় ২ হাজার জনবল বেড়ে যাচ্ছে। কমিশনের বর্তমান জনবল ৩ হাজার। তবে তারা সবাই অফিসার না। এর মধ্যে উপজেলা সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা পদে ৫১৭ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।
এই কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া হলে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা আরো বেড়ে যাবে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে মন্তব্য করেছেন মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, ৭৫ জন কর্মকর্তার পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়েছে। এই তালিকা কমিশনে যাবে। কমিশন সভা অনুমোদন দিলে তারা পদোন্নতি পাবে। পদোন্নতির তালিকায় থাকা দশজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার মধ্যে নয়জনকে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়েছে। তারা সবাই ৪র্থ গ্রেড অনুসারে বেতন-ভাতা ও সুবিধা পাবেন। উপসচিব পদে ৫ম গ্রেডে ২৯ জন এবং সিনিয়র সহকারী সচিব পদে ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৩৭ জনকে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়েছে।
এই নির্বাচন কমিশনার আরো জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই তাদের পাওয়া যাবে। এরা একটা শক্তিশালী জনবল হিসেবে ভূমিকা পালন করবে বলে আমি আশা করি। তাদের পিএসসি’র মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হবে কিনা তা ঠিক জানি না। সেটা সময় আসলে দেখা যাবে কতটুকু কি করা যায়। তাদের পর্যাপ্ত ট্রেনিং দিতে হবে, তাদের কার্যপরিধি কি হবে? আগামী নির্বাচনে ইসি’র নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে কতজন বা কী সংখ্যক রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে সে বিষয়ে কমিশন এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানান তিনি। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিতর্কিত নিয়োগ পাওয়া অনেক কর্মকর্তাকে পরবর্তীতে বাদ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে এমন নিয়োগ বিতর্ক সৃষ্টি করবে কিনা- জানতে চাইলে মাহবুব তালুকদার বলেন,  যাদের পরীক্ষা নিয়ে বাদ দেয়া হয়েছে তাদের বাদ দেয়া হয়েছে। এইটা অনেক আগের ব্যাপার। পুরনো ইতিহাসের কথা বলতে পারবো না। আমরা আপাতত পদোন্নতি দিচ্ছি।
নিয়োগের ব্যাপারটা পরে আসবে। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের সভাপতিত্বে গত বুধবার ‘নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস এবং দক্ষতা উন্নয়ন কমিটি’ এর সভা হয়। গতকাল সভার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের জানান মাহবুব তালুকদার। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৫ সালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ৩২৭ জন থানা/উপজেলা নির্বাচন অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়।
বিতর্কিত ওই নিয়োগের পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ৩০৩ জন কর্মকর্তার পরীক্ষা গ্রহণ করে এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন। ওই পরীক্ষায় ৮৫ জন কর্মকর্তা অকৃতকার্য হওয়ায় তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়। পরে ২০০৯ সালে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ে তারা চাকরি ফিরে পায়। ২০১০ সালে পুনরায় চাকরিতে যোগদান করে ওই কর্মকর্তারা।

খেলতে আসলে ডাইরেক্ট হিটে চলে যাবো

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, ‘সামনে খেলা হবে, লড়াই হবে। আমরা লড়াইয়ের প্রথম ঢোল বাজাতে চাই।’ ‘ওরা সমস্ত ষড়যন্ত্র করবে। ষড়যন্ত্রের এখনো কিছুই শুরু হয়নি। শকুনরা সব আকাশে উড়ছে। সময়মতো আমাদের ওপর থাবা দেবে। সামনে ধাক্কা আসতেছে। এই ধাক্কাকে মোকাবিলা করতে হবে। এই লড়াই হবে শেষ লড়াই। এই লড়াইতে ওদের সমস্ত শক্তি ক্ষয় হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘হাতে সময় খুব কম। আর মাত্র বিশ দিন। এই বিশ দিনে সব খুনি একত্র হবে। মুখে মুখে অনেকে সভ্যতার কথা বলে, গণতন্ত্রের কথা বলে। আবার তারাই মোহাম্মদপুরে মিটিং করে। ধরাও পড়ে, গাড়ি নিয়েও পালায়। ওইদিন নাই। ওইদিন চলে গেছে। রাতে মিটিং করবেন আর বঙ্গবন্ধুরে হত্যা করবেন? ওইদিন আর নাই। শেখ হাসিনা মীরজাফরদের চিনে রাখছে।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে মাসদাইরে অবস্থিত বাংলাভবনে এক কর্মিসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শামীম ওসমান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নারায়ণগঞ্জে খেলতে আইসেন না। যদি কেউ ২০১৪ সালের মতো খেলতে চায় তাহলে একটু কঠিন খেলা খেলবো, আরেকটু খারাপ খেলা খেলবো। কী করবো? ডাইরেক্ট হিটে চলে যাবো। কসম করে বলতাছি, নারায়ণগঞ্জে এই খেলা খেলার চেষ্টা কইরেন না। জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে গেলে বাড়ির ইট কিন্তু কারোর থাকবে না। মনে রাইখেন।
তিনি আরো বলেন, ‘৯ তারিখের পর থেকে খেলা শুরু হবে। পারবে কি না সেটা পরের কথা। কিন্তু চেষ্টা শুরু হয়ে গেছে। সিদ্ধিরগঞ্জে কিছু লোক নিয়ে মিটিং হয়ে গেছে। সেখানে বাইরের লোকও ছিল। মিটিংয়ে বলা হয়েছে, প্রস্তুত হও, কিছু কিছু জায়গায় আঘাত করতে হবে। বলে দিচ্ছি, এই খেলা চলবে না।’
বিএনপি-জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে শামীম ওসমান বলেন, ‘সোজা কথা বলে দেই, বিএনপি-জামায়াতকে। রাজনীতি করতে চান করেন, নো প্রবলেম। মিছিল করতে চান করেন। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। এই যে ধরপাকড় করে মামলা দেয় আমি এর পক্ষে না। যেকোনো মিথ্যা মামলার পক্ষে আমি না। এখন পুলিশের কাছে রিপোর্ট আছে, কারা কী করতে চায়। সেই অনুপাতে কাজ করছে তারা। আমরা চাই না রাজনীতি করতে গিয়ে কেউ মামলা খাক। আমরা চাই, তোমরা মাঠে নামো। আসো ফেস টু ফেস রাজনীতি করো। তোমরা দশ হাজার লোক নিয়ে নামবা আমি এক লাখ নিয়ে নামবো। এটার নামই রাজনীতি। যার পক্ষে জনগণ থাকবে সেই জিতবে।’
২৯শে সেপ্টেম্বর আমার ভাই কাউন্সিলর ইস্রাফিল যোগদান করেছে আওয়ামী লীগে। আমি কোনো প্রেসার করি নাই। প্রেসার দিলে তো নারায়ণগঞ্জের সব বিএনপিই আওয়ামী লীগে যোগ দিবে। আমরা সবারে নিবোও না। আমরা তারেই নিমু যার এলাকায় গুড উইল আছে। যাকে মানুষ ভালো জানে। আমরা নিজেরাই অনেক শক্তিশালী। আমি জানি আজকে এনায়েতনগরের নেতাকর্মীরা জয়েন করবেন। আমাদের ভালো মানুষ দরকার। সে যদি ভালো হয়, তার জন্য আমরা চেয়ার ছেড়ে দিতে রাজি আছি।
বক্তব্য শেষে এমপি শামীম ওসমানকে ফুলের তোড়া ও ফুলের নৌকা দিয়ে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এনায়েত নগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানসহ ৫ সদস্য। তারা হলেন, এনায়েত নগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান প্রধান, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার সামসুল হক, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার বাতেন তালুকদার, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নেছার উদ্দিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ্‌ নিজাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মো. মোহসিন মিয়া, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহ্‌সানুল হক নিপু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ, সাধারণ সম্পাদক রাফেল প্রধানসহ ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

একজন সৌদি সাংবাদিককে নিয়ে রহস্য

সৌদি আরব সরকারের সমালোচক ও সুপরিচিত সাংবাদিক জামাল খাসোগি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। তিনি তুরস্কের ইস্তাম্বুল সৌদি আরবের কনসুলেটে প্রবেশ করার পর তার কোনো হদিস নেই। তিনি ওই কনসুলেট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন নি। ওদিকে কনসুলেটের বাইরে অবস্থান করছেন তার প্রেমিকা। কিন্তু তিনিও কারো কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাচ্ছেন না। রিয়াদ থেকে বলা হয়েছে, খাসোগি ইস্তাম্বুলে তাদের কনসুলেট ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন। তবে তুরস্ক ও খাসোগির প্রেমিকা হাতিস বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, খাসোগি ওই ভবনে প্রবেশের পর তিনি কোথায় আছেন কোনো খবর মিলছে না।
তার কোনো কথাও শোনা যায় নি। এ নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
জামাল খাসোগি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদক। তিনি মঙ্গলবার সৌদি আরবের কনসুলেটে গিয়েছিলেন তার বৈবাহিক অবস্থা সংক্রান্ত একটি ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে।  গত বছর যখন সৌদি আরবে ব্যাপক ধরপাকড় করা হয় তখন খাসোগি স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনসুলেটে প্রবেশ করে আর বেরিয়ে আসেন নি। তিনি সরকারের সাবেক একজন উপদেষ্টা। তবে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বেশ কিছু নীতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন তিনি। সমালোচনা করেছেন ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের হস্তক্ষেপ নিয়ে। সেই জামাল খাসোগি কোথায়! এ প্রশ্নে প্রথম দিকে সৌদি আরব নীরব ছিল। পরে তারা বলেছে, জামাল খাসোগি কনসুলেট ভবন ত্যাগ করার পর নিখোঁজের বিষয়ে তাদের কনসুলেট তুরস্কের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত এসপিএ বার্তা সংস্থা বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছে। তবে বুধবার তুরস্কের সিনিয়র একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ওই সাংবাদিককে কনসুলেটের ভিতর আটকে রাখা হয়েছে। আঙ্কারায় সাংবাদিকদের কাছে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বলেছেন, তথ্যমতে আমরা জানতে পেরেছি ওই সাংবাদিক সৌদি আরবের একজন নাগরিক। তিনি এখনও ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনসুলেটে আছেন। তিনি বলেন, তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ নিবিড়ভাবে নজর রাখছে এ ঘটনার দিকে। এ নিয়ে সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে আঙ্কারা।
ওদিকে খাসোগির প্রেমিকা ঘটনার পর থেকেই ওই কনসুলেটের বাইরে অপেক্ষা করছেন। তিনি একজন তুর্কি নাগরিক। বলেছেন, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর একটা থেকে তার কোনো খবরই আমি পাচ্ছি না। তিনি ওই কনসুলেটের সামনে দেয়া ব্যারিকেডের বাইরে অবস্থান করছেন। তার কাছে নিজের মোবাইল ফোন রেখে গেছেন খাসোগি। তিনি বলেন, খাসোগি কোথায় আছেন আমি জানতে চাই। আমরা চাই খাসোগি ওই কনসুলেট থেকে নিরাপদে এবং সুস্থ অবস্থায় বেরিয়ে আসুক।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়াশিংটন পোস্টের আন্তর্জাতিক মতামত বিষয়ক সম্পাদক ইলি লোপেজ। মঙ্গলবার তিনি বিবৃতিতে বলেছেন, খাসোগি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়ার পর যদি তাকে আটক করা হয় তাহলে তা হবে অন্যায় ও ক্ষোভের কারণ। টার্কিশ-আরব মিডিয়া এসোসিয়েশনের প্রধান ও খাসোগির বন্ধু তুরান কিসলাকসি বলেছেন, আমরা নিশ্চিত যে, খাসোগিকে আটক করা হয়েছে। যদি কনসুলেটের নিচ দিয়ে কোনো সুরঙ না থাকে তাহলে তাকে আটক রাখা হয়েছে। খাসোগি নিখোঁজ হওয়াকে চরমভাবে উদ্বেগের বলে উল্লেখ করেছে রিপোর্টার্স উইদআউট বর্ডারস। তাকে যত দ্রুত সম্ভব মুক্ত করতে তারা সৌদি আরব ও তুরস্ক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। নিন্দা জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস। তারা বলেছে, সৌদি আরবের এমন একজন সাংবাদিক নিখোঁজ হওয়া উদ্বেগের। সমালোচক খাসোগিকে আটক করা হতে পারে।

হেফাজতে টানাপড়েন by নূর মোহাম্মদ

আবারো টানাপড়েন শুরু হয়েছে কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামে। সংগঠনটির আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যকে ঘিরে এ টানাপড়েন সামনে এলেও রাজনৈতিক মেরূকরণ নিয়ে সংগঠনটিতে অস্থিরতা চলছে বেশ কিছু  দিন ধরে। হেফাজত সংশ্লিষ্টরা বলছেন কওমি মাদরাসাভিত্তিক দল ও সংগঠনের অনেকে হেফাজতের সঙ্গে আছেন। তাদের কেউ কেউ রাজনৈতিক দল থেকে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছেন। নেতাদের কেউ কেউ আগামী নির্বাচনে দল জোটের হয়ে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও আলোচনা আছে। এ অবস্থায় অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে হেফাজতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংগঠনের ভেতরেই।
হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ইসলামী ঐক্যজোট থেকে পদত্যাগের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে কওমিভিত্তিক আলেমদের মেরুকরণের বিষয়টি। বুধবার রাতে তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছে তার পরিবার।
গতকাল পদত্যাগের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি ইসলামী ঐক্যজোট থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি শুধু ইসলামী ঐক্যজোট নয়, হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমিরের পদ থেকেও পদত্যাগ করছেন। যদিও হেফাজত থেকে পদত্যাগের ব্যাপারে পরিবার ও সংগঠনের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সম্প্রতি দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা এবং ‘আওয়ামী লীগ হয়ে গেলেও আমার কোনো আপত্তি নেই’ হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মন্তব্যে এবং হেফাজতের শফীর পরিবারের একচেটিয়া দাপটের কারণে এ টানাপড়েন শুরু হয়েছে। আহমেদ শফীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর হেফাজতে মধ্যে থাকা বিভিন্ন ইসলামী দলগুলোর নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে অনেকেই এ ব্যাপারে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও তারা জানান, হেফাজত ১৩ দফা দাবি আদায়ে সম্পন্ন অরাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। এখন অনেকেই রাজনৈতিক দলের তোষামোদি শুরু করেছে। কেউ কেউ হেফাজতের নাম বিক্রি করে এমপি হওয়ার খায়েশ প্রকাশ করেছেন। কেউ নির্বাচন করার জন্য মাঠে নেমেছেন। অনেকেই গোপনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
হেফাজত সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন ইসলামী ঐক্যজোট। এ দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও মুফতি আমিনীর ছেলে আবুল হাসনাত আমিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরে জনসংযোগ করে নির্বাচন করার ব্যাপারে ইচ্ছে পোষণ করেছেন। এটি জানার পর গত বুধবার রাতে ইসলামী ঐক্যজোটের বৈঠকে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। ইসলামী ঐক্যজোটের কয়েকজন নেতা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে যোগদানের যে গুঞ্জন চলছে তারও ব্যাখ্যা চান তিনি। একপর্যায়ে বৈঠকে বাকবিতাণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন নেতারা। সেখানে থেকে বের হয়ে আসেন বাবুনগরী। মুফতি মাহমুদ হাসান, মুফতি মীর হুসাইনসহ কয়েকজন আলেমের পরামর্শক্রমে তিনি পদত্যাগ করেন বলে জানিয়েছেন বাবুনগরী। এ প্রেক্ষিতে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলেও পরে নায়েবে মুহতামিম ও শিক্ষাপরিচালকের পরামর্শক্রমে সংবাদ সম্মেলন থেকে বিরত রাখা হয়। পরিবারের অনুরোধে সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি পাঠানোর ব্যাপারে সম্মত হন তিনি।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে বুধবারের বৈঠক থেকে বের হয়ে তিনি বলেন, মুফতি আমিনী ধর্মনিরপেক্ষবাদ বিরোধী, তার নীতি আর্দশকে ভালোবেসে আমি মুফতি আমিনীর জোটে যোগ দিয়েছিলাম। আমি শেষ বয়সে মোটা অঙ্কের লোভে ঐতিহাসিক আদর্শ বিনষ্ট করে দিতে পারবো না। এ বিষয়গুলো তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানাতে চাইলেও পরে দলের নায়েবে মুহতামিম ও শিক্ষা পরিচালকের পরামর্শক্রমে সংবাদ সম্মেলন থেকে বিরত থাকেন। এ ব্যাপারে মুহ্বিুল্লাহ বাবুনগরীর মেয়ের জামাই ও হেফাজত ইসলামীর চট্টগ্রম উত্তর জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মীর মো. ইদ্রিস মানবজমিনকে বলেন, তিনি ইসলামী ঐক্যজোটে আর নেই এটা জানানোর দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে হেফাজত যদি ইসলামী ঐক্যজোটের মতো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে তবে সেখান থেকেও তিনি পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন। এর বেশি আমি কিছু জানি না।
পদত্যাগের ব্যাপারে ইসলামী ঐক্যাজোট কিছুই জানেন না বলে জানান ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ওনার পদত্যাগের ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। খোঁজ নিয়ে জানতে হবে।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার দৌলতপুরে অবস্থিত বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসার মুহতামিম মুহ্বিুল্লাহ বাবুনগরী দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র নায়েবে আমীরের পদে ছিলেন। পদত্যাগপত্রে তিনি বলেছেন, আমি আওয়ামী লীগের এজেন্টদের সঙ্গে নেই।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় হেফাজতের আমীর আহমেদ শফীর ছেলে আনাসের সঙ্গে মতবিরোধ চলছিল মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর। হেফাজতে আনাসের একচেটিয়া প্রভাব নিয়ে একাধিবার প্রতিবাদ করেছেন তিনি।

বিপজ্জনক সেলফিতে প্রাণ গেল ২৫৯ জনের

বিপজ্জনক জায়গায় ঝুঁকি নিয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে বিশ্বে গত ছয় বছরে নিহত হয়েছেন ২৫৯ জন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। অনাকাঙ্খিত এ মৃত্যু এড়াতে বিপজ্জনক জায়গাগুলোকে ‘নো সেলফি জোন’ ঘোষণা করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষকরা। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
মার্কিন ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বের  উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সেলফি তুলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত পানিতে ডুবে, সড়ক দুর্ঘটনায় বা উঁচু জায়গা থেকে নিচে পড়ে মারা গেছেন। এছাড়া বন্যপ্রাণীর আক্রমণে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বা আগুন লেগে নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। এসব অনাকাঙ্খিত মৃত্যু এড়াতে পর্বতচুড়া, উঁচু ভবন ও জলাধারসহ বিপজ্জনক জায়গাগুলোতে সেলফি তোলা নিষিদ্ধ করা উচিত বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বছরের জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার একটি খাড়া পাহাড়ের উপরে সেলফি তোলার সময় ১৯ বছর বয়সী গ্যাভিন জিমারম্যান নিচে পড়ে মারা যান।
গত মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি পাহাড়ের ওপরে সেলফি তুলতে গিয়ে ২৫০ মিটার গভীর খাদে পড়ে নিহত হন ১৮ বছরের ইসরায়েলি তরুণ টমার ফ্রাঙ্কারফুট। এ ধরনের সংবাদগুলোর ভিত্তিতে ন্যাশনাল লাইব্রেরি অন মেডিসিন তাদের ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণায় দেখা গেছে, সেলফি সংশ্লিষ্ট কারণে মৃত্যুর ঘটনা ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি। এসব ঘটনায় মৃতদের মধ্যে ৭২.৫ শতাংশই পুরুষ।
গবেষকরা বলছেন, বিশ্ব জুড়ে এ ধরণের মৃত্যুর ঘটনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১১ সালে সেলফি সংশ্লিষ্ট কারণে মারা গেছেন মাত্র ৩ জন। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে ২০১৬ সালে এ সংখ্যা ৯৮ জনে পৌঁছেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি বলে মনে করেন গবেষকরা। কেননা সব মৃত্যুর আসল কারণ প্রকাশিত হয় না। যেমন সেলফি তুলতে গিয়ে যদি কেউ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়, তাহলে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনার কথাই উল্লেখ করা হয়। তাই সেলফি তুলতে গিয়ে নিহতদের সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব নয়।

খালেদা জিয়াকে অনতিবিলম্বে বিএসএমএমইউতে ভর্তি ও মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠনের নির্দেশ

কারাবন্দি বিএনপি’র চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য অনতিবিলম্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তার চিকিৎসায় এর আগে গঠিত পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে ভর্তি এবং তার চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল এ আদেশ দেন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় এর আগে গত সেপ্টেম্বরে যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল সেই বোর্ডের তিন সদস্যকে বাদ দিয়ে সেখানে নতুন তিনজনকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে, ওই তিন চিকিৎসক স্বাচিপ (স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ) বা ড্যাব’র (ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) নেতা বা সমর্থক হতে পারবেন না। আদেশে বলা হয়েছে, বিএসএমএমইউ’র ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবদুল জলিল চৌধুরী এবং ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বদরুন্নেসা আহমেদ মেডিকেল বোর্ডে থাকবেন।
আর খালেদা জিয়া তার ইচ্ছা অনুযায়ী গাইনোলজিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট ও টেকনিশিয়ান নিতে পারবেন এবং মেডিকেল বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে দেশের বাইরে থেকেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনতে পারবেন তিনি। বিশেষায়িত হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানি বুধবার শেষ হয়।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র এডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
গতকাল আদেশ শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত অনতিবিলম্বে তাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তির নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই মেডিকেল বোর্ডের দুজনকে রেখে নতুন তিনজনকে অন্তর্ভুক্ত করে মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন করতে বলেছেন। তবে, ওই তিন চিকিৎসক স্বাচিপ বা ড্যাবের কেউ হতে পারবেন না।’ হাইকোর্টের এ আদেশের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি এখনো বলছি- তিনি (খালেদা জিয়া) এতই অসুস্থ যে, আগে তার চিকিৎসা দরকার। অ্যাটর্নি জেনারেল নিজেও বলেছেন যে তার চিকিৎসা প্রয়োজন।’ খালেদা জিয়ার অন্য আইনজীবী কায়সার কামাল বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে অনতিবিলম্বে বিএসএমএমইউতে ভর্তির পাশাপাশি আগের গঠিত মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠনের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ওই বোর্ডের দুই চিকিৎসককে বহাল রেখে সরকারকে নতুন আরো তিন চিকিৎসককে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। তবে, তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারবে না। আর খালেদা জিয়া চাইলে মেডিকেল বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে বাইরে থেকেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনতে পারবেন।’
আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে অনতিবিলম্বে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আর এর আগের মেডিকেল বোর্ডের দুইজনকে রেখে নতুন করে তিনজনকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে আদেশে। তবে, তারা স্বাচিপ বা ড্যাবের কেউ হতে পারবেন না।’ তিনি বলেন, ‘আদালত বলেছেন, যেহেতু খালেদা জিয়া একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং সরকারের হেফাজতে আছেন তাই সরকারের হেফাজতে থেকেই তিনি চিকিৎসা নেবেন। তাই তিনি তার ইচ্ছামতো চিকিৎসা পেতে পারেন না। এ ছাড়া তার নিরাপত্তার স্বার্থেই সরকার তার চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেবে।’

বাংলাদেশে কাজ করা ১৪ প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশ্বব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা

দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মে যুক্ত থাকার কারণে বাংলাদেশে কাজ করা ১৪টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্বব্যাংক। বুধবার ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপ স্যাংকশন সিস্টেমের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানানো হয়। এতে মোট ৭৮টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। যার মধ্যে ৪টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। আর্থিক অনিয়মের দায়ে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান এসএমইসি বাংলাদেশ লিমিটেড ও এসিই কনসালটেন্টস-এর ওপর দুই বছর ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জনতা ট্রেডার্সকে এক বছর ও সৈয়দ আখতার হোসেনকে ১১ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বিশ্বব্যাংক। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের ঠিক কোন কোন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেনি বিশ্বব্যাংক। মোটের ওপর বলা হয়েছে, নিজস্ব তদন্তে তারা বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বেশকিছু প্রকল্পে অযাচিত লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে পাঁচটি মৌলিক বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।
তা হলো- অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, আঁতাত, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায়িত্বে বাধা দেয়া। এগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়ার পরই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির ইন্টেগ্রিটি ভাইস প্রেসিডেন্সি (আইএনটি), অফিস অব সাসপেনশন অ্যান্ড ডিপার্টমেন্ট (ওএসডি) ও স্যাংকশন বোর্ড সমন্বিতভাবে এই প্রতিবেদন তৈরি করে।
বিশ্বব্যাংকের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫ ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে ৩ মাস থেকে শুরু করে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অলিভ হেলথ কেয়ারকে সাড়ে ১০ বছর, জয় মোদিকে সাড়ে সাত বছর, ফ্যামি কেয়ার লিমিটেডকে চার বছর ও ম্যাসদেলাস ফার্মাসিউটিক্যালসকে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে দুর্নীতির দায়ে বিশ্বব্যাংকের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া অন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- চীনা প্রতিষ্ঠান মিডল সাউথ ইউনিয়ন ইলেকট্রিক কো-লিমিটেড (চার বছর), ফ্রান্সের অবেরথার টেকনোলজিস (দুই বছর ছয় মাস), বেলজিয়ামের একার্ট অ্যান্ড জিগলার বেবিগ (দুই বছর), সুইজারল্যান্ডের কনভাটেক ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস জিএমবিএইচ (এক বছর ছয় মাস), মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠান কনভাটেক মালয়েশিয়া এসডিএ বিএইচডি (এক বছর ছয় মাস), অস্ট্রেলিয়ার এসএমইসি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড (এক বছর)।

নদীর নামেই পদ্মা সেতু -ওবায়দুল কাদের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নয়, পদ্মা নদীর ওপর নির্মীয়মাণ সেতুর নাম এ নদীর নামেই হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিজের নামে পদ্মা সেতুর নামকরণের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রস্তাবিত নাম থেকে তার নামের অংশটুকু কেটে দিয়েছেন। এ কারণে নদীর নামেই এই সেতুর নামকরণ করা হচ্ছে। গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন রোগীকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে আমরা পদ্মা সেতুর নাম দিতে চেয়েছিলাম ‘শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু’। কিন্তু বুধবার (৪ঠা অক্টোবর) সকালে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন মেলায় আমাকে বলে দিয়েছেন, সেতুর সঙ্গে তার নাম থাকবে না। তিনি শেখ হাসিনা নামটি কেটে দিয়েছেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছেন, এই পদ্মা সেতু নিয়ে আমার পরিবার অপমানিত হয়েছে, আমি নিজেও অপমানিত হয়েছি। বিশ্বব্যাংক আমাদের অনেক হেনস্তা করেছে। এখানে আমার পরিবারের কোনো নাম আমি যুক্ত করতে চাই না। এটা আমার চ্যালেঞ্জের সেতু। পদ্মা নদীর নামেই পদ্মা সেতুর নামকরণ হবে। সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ছাড়াই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের যে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন তা বাস্তবায়ন করায় সংসদ সদস্য, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সাংস্কৃতিক সংগঠকেরা তার নামে এই সেতুর নামকরণ করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
এজন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেতুর নাম ‘শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু’ করার প্রস্তাব করে এর সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। আগামী ১৩ই অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর পদ্মা রেল সেতুর কাজ উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা রয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এদিন প্রধানমন্ত্রী পদ্মার চলমান কাজসহ মোট চারটি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। পদ্মা সেতুর সঙ্গে রেললাইনের যে সংযোগ, সেটার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া মাওয়া পয়েন্টে ১৩০০ মিটার রিভারপ্রটেকশন ও ঢাকা-মাওয়া রুটে ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ের চলমান কাজেরও উদ্বোধন করবেন তিনি। কোটার পক্ষে আন্দোলন সম্পর্কে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্দোলনকারীদের দাবি-দাওয়া কী আগে তা দেখা যাক। তারপর এ বিষয়ে কথা বলা যাবে।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যা যা করেছেন, তা আর কেউ করেননি। মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে কারও কোনো দাবি জানাতে হবে না। তবে কোনো বিষয় ন্যায়সঙ্গত ও বাস্তবসম্মত হলে প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই তা দেখবেন। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের দুর্ভোগ হয়- এমন কর্মসূচি তারা কখনও করবেন না, তারা উঠে যাবেন বলে আমরা আশাবাদী। তারা কারও উস্কানিতে পা দেবেন না। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। এখন বিএনপি মুক্তিযোদ্ধা কোটার পক্ষে কথা বলার অর্থ হলো- ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’।
ওবায়দুল কাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিখনসহ বান্দরবানের থানচির একটি শিশু এবং ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এক পঙ্গু শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ভার নিয়েছেন বলে জানান। এদিকে গতকাল রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগে ফার্মগেটে অংশ নেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি সরকারে কোনো সংকট নেই বলে মন্তব্য করেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার কোনো সংকট সৃষ্টি করতেও চাচ্ছে না।
বরং সংকটে আছে বিএনপি। নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, একে- অন্যকে অবিশ্বাসের কারণে তারা আন্দোলন করতে পারছে না। সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন-অর্জনের কারণে বিএনপি আন্দোলনের পথও খুঁজে পাচ্ছে না। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘সরকার রাজনৈতিক সংকট  তৈরি করতে চাচ্ছে’- বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেন, গত দশবছরে বিএনপি আন্দোলন করতে পারেনি, আগামীতেও পারবে না।
তাদের আন্দোলন করার সামর্থ্য নেই। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোথাও কোনো সংকট নেই। যথাসময়ে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আপনারা জনগণের কাছে যান, নৌকায় ভোট চান। সরকারের উন্নয়ন পদক্ষেপ ও জনগণের জন্য করা কাজগুলো তাদের সামনে তুলে ধরেন। মানুষকে বোঝান, একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়। তারা শান্তিতে থাকে। এ সময় নেতাকর্মীদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য অটুট রেখে আগামী নির্বাচনের জন্য কাজ করার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। এদিকে গণসংযোগের সময় নেতাকর্মীদের দাঁড়ানো নিয়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার সব ক্ষেত্রে দেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এমন একটি দেশ গড়ে তোলা হবে যেখানে কোনো গৃহহীন থাকবে না, কেউ না খেয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না এবং সবাই সুন্দরভাবে জীবনযাপনের সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, ‘২০২০ সালে আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবো, সে সময়ে বাংলাদেশ হবে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ। আর ২০৪১ সালে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ সময় মঞ্চে ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যে বাংলাদেশ খাদ্য, শিক্ষা এবং মেধাসহ সব ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীল হবে। সেই লক্ষ্যে দেশকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নেয়ার জন্যই আমরা ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ প্রণয়ন করেছি।
যাতে করে উন্নয়নটা টেকসই হতে পারে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়, এটা যেন অব্যাহত থাকে। নতুন প্রজন্মেরই এখন দায়িত্ব বাংলাদেশ এগিয়ে নেয়ার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এবং তারাই দেশকে আগামীতে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আজকের তরুণ আগামী দিনে হবে এদেশের কর্ণধার। কাজেই আমাদের সব আয়োজন হচ্ছে এই তারুণ্যের জন্য। তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন সেই উন্নয়ন সম্পর্কে মানুষকে ওয়াকিবহাল করা এবং এর সুফলটা যেন তারা ভোগ করতে পারে। এর মাধ্যমে নিজের ভাগ্য গড়তে পারে সে বিষয়টা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।
‘তরুণ প্রজন্ম লেখাপড়া শিখে স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজেদের মেধা দিয়ে নিজেদের ভাগ্য যেমন গড়বে তেমনি দেশের ভাগ্যও গড়বে। আর সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের এই দেশব্যাপী উন্নয়ন মেলার আয়োজন।
উন্নয়ন মেলা তরুণ প্রজন্মের জন্য উৎসর্গ করে তিনি বলেন, তারা যেন নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়তে পারে। সন্ত্রাস, মাদক বা জঙ্গিবাদ- এসব থেকে মুক্ত থেকে তাঁরা নিজেদের সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। তাহলে তারা নিজের ভাগ্য যেমন গড়তে পারবে, দেশকেও তেমনি কিছু দিতে পারবে। তাদের পরিবারগুলোও সুন্দরভাবে বাঁচবে। সরকার উন্নয়নকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদম গ্রামীণ জনগণও যেন নিজের ভাগ্যটা নিজে গড়তে পারে সেজন্য সরকার একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীরও সেখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন মেলার মাধ্যমে দেশের জনগণের জন্য কী উন্নয়ন আমরা করলাম তা জানতে পারবে। এই উন্নয়নের মধ্য দিয়ে নিজের ভাগ্যকে কীভাবে তারা গড়তে পারেন সেই সুযোগটাও তারা পাবেন এবং সেই সুযোগটা তারা গ্রহণ করবেন। ভিডিও কনফারেন্সের সঙ্গে ৪টি উপজেলা এবং দেশব্যাপী ৫ শতাধিক বিভিন্ন বিভাগীয় শহর, জেলা-উপজেলার উন্নয়ন মেলা এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার সংযুক্ত ছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এবং গত ১০ বছরে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনের পর বরগুণা জেলার আমতলী উপজেলা, বাঘেরহাটের ফকিরহাট, নড়াইল জেলার লোহাগড়া এবং রংপুরের পীরগঞ্জের স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষা সমাপ্ত করার পর তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং আয় রোজগারের পথ ও পাথেয়’র দিক নির্দেশনা প্রদানে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে এবার নিয়ে ৪র্থবারের মতো সারা দেশে উন্নয়ন মেলার আয়োজন করেছে সরকার।
ঢাকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণ এবং প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় তিন দিনব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রেনেসাঁ পুরস্কার পেলেন ড. ইউনূস

নিউ রেনেসাঁ পুরস্কার পেয়েছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ইতালীয় বৌদ্ধ স্কুল সোকা গাকাই মিলানে অনুষ্ঠিত সোকা গাকাই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়। ইউনূস সেন্টার থেকে বুধবার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক ব্যবসা ও ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে মানবতাবাদী দর্শনে তার অসাধারণ অবদানের জন্য এ সম্মাননা দেয়া হয়। ইতালীয় বৌদ্ধ স্কুল সোকা গাকাইর মতে, প্রফেসর ইউনূস দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, মানুষ একটি অনন্য সত্তা যা নিছক মুনাফার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবাণ। দারিদ্র্যবিমোচন ও টেকসই অর্থনীতির মাধ্যমে মানবজাতির উন্নততর ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য তিনি নিরন্তর সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠান শেষ হয় প্রফেসর ইউনূসের সামপ্রতিক গ্রন্থ ‘এ ওয়ার্ল্ড অব থ্রি জিরোস’কে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে। সোকা গাকাই ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৭৫০ জনেরও বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি যোগ দেন।
সোকা গাকাই একটি কমিউনিটিভিত্তিক বৌদ্ধ সংগঠন যা জীবনের মর্যাদা বাড়াতে শান্তি, সংস্কৃতি ও শিক্ষার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটির সদস্যরা বিশ্ব জুড়ে ১৯২টি দেশ ও এলাকায় বৌদ্ধ মানবতাবাদী দর্শন সমুন্নত রাখতে কাজ করে চলেছেন।

শাহবাগের আদলে আন্দোলন

কে বলেছে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয় না। অন্তত শাহবাগে সেটা মিথ্যাও প্রমাণ হতে পারে। দাবি হয়তো আলাদা । কিন্তু আদল অনেকটা গণজাগরণ মঞ্চের মতোই। আবেগ আর উপস্থিতির মধ্যে তারতম্য আছে। তবুও ফের নতুন আঙ্গিকে শাহবাগকে যে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা চলছে তা এখন অনেকটাই পরিস্কার। অনেক পর্যবেক্ষকেরই ধারণা, এ ইস্যুকে হয়তো টেনে নিয়ে যাওয়া হবে অনেক দূর। কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলন করেছিল শিক্ষার্থীরা।
কিন্তু সংস্কার নয়, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরিতে পুরো কোটাই বাতিল করে দেয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদেই শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া এ অবরোধ কর্মসূচি গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে দেখা যায়। এদিকে অবরোধের কারণে শাহবাগের মতো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্পটটির আশেপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তি দেখা দেয় যাত্রীদের। বিপুল পরিমাণ পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও তাদের নীরব দর্শকের ভূমিকায় দেখা গেছে। অবরোধকারীরা ‘কোটা কোটা কোটা চাই, ৩০% কোটা চাই’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘মুক্তিযুদ্ধের অপমান মানি না মানবো না’, ‘শেখ হাসিনা ভয় নেই, ৩০% কোটা চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়। গতকাল এ অবরোধ কর্মসূচি চলাকালেই বিকালে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
এরপরই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় আন্দোলনকারীরা। বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা করা হয় ৬ দফা দাবিও। দাবিগুলো হচ্ছে- বিসিএসসহ সব চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। কোটা সংস্কার চাই, জাকির’স স্পেশাল বিসিএস, বিসিএস আওয়ার গোলসহ মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারী পেজের অ্যাডমিনদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির ঘরোয়া প্রতিবেদন বাতিল, বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। সরকারি চাকরি থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার ও নাগরিকত্ব বাতিল করতে হবে। এ ছাড়াও কোটা সংস্কার আন্দোলনে ভিসির বাসায় হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বিকালে আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা আল মামুন মানবজমিনকে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাবো। গতকাল রাত সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হওয়া আমাদের অবরোধ কর্মসূচি লাগাতারভাবে চলছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য না দেয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা দাবির পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যাবো। এসময় তিনি আগামী শনিবার শাহবাগে মহাসমাবেশ করার কথাও জানান।
এর আগে গত বুধবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এরপর তাদের সঙ্গে অন্যেরাও যোগ দেন। রাত ১১টার দিকে আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে তাদের রাস্তা ছেড়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে আন্দোলন করতে অনুরোধ করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তাতে সায় দেয়নি। তারা সরকার থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। গতকাল সকালে দেখা যায় রাতে শুরু হওয়া অবরোধ কর্মসূচি তখনো চলছে। তবে এতে অংশগ্রহণকারী হাতেগোনা কয়েকজন। সকালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, জনগণকে কষ্ট দিয়ে রাজপথ দখল করে আমরা আন্দোলন করবো না। এ ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করে আজ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এসময় তিনি জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
কিন্তু দুপুরে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির বর্তমান সভাপতি শেখ আতিকুর রহমান জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলবে। গতকাল দুপুরে দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ের গুরুত্বপূর্ণ স্পটটি দখলে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের আন্দোলনের ফলে আশেপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ যাত্রী ও রোগীদের। এদিকে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে অবরোধ কর্মসূচিতে আবারো অংশ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান জানান, তারা সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের যে প্রজ্ঞাপন হয়েছে তার বিরুদ্ধে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, পরিপত্র জারি না হওয়া পর্যন্ত আমরা আইনগতভাবে এগোতে পারছিলাম না। এখন যেহেতু পরিপত্র জারির প্রস্তুতি চলছে এবং মন্ত্রিসভায় কোটা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। তাই আমরা এখন আইনগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজট, দুর্ভোগ: রাজধানীর মিরপুর থেকে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে বাসযোগে যাচ্ছিলেন সাদ্দাম হোসেন। গন্তব্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। বাসে বসে ক্রমেই অসুস্থতা বাড়ছিল ওই নারীর। বাস চলছিল ধীরগতিতে। যানজটে আটকে ছিল মোড়ে মোড়ে। স্ত্রী বমি করেছিলেন। আর স্বামী সাদ্দাম শুধু আল্লাহকে স্মরণ করছিলেন যেন দ্রুত হাসপাতালে যেতে পারেন। তখনও সাদ্দাম জানতেন না কী কারণে তীব্র যানজট। দীর্ঘ সময় পরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এসে শাহবাগের যাত্রীদের নামিয়ে দেয় বাস চালকের সহকারী। স্ত্রীর হাত ধরে ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছিলেন। সময় তখন দুপুর সাড়ে ১২টা। সাদ্দাম জানান, মিরপুর-১১ থেকে সকাল ৯টায় বাসে উঠেন তারা। যানজটের কারণে এই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে এই দম্পতিকে।
শুধু এই দম্পতি না, রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সড়কেই এরকম দুর্ভোগের শিকার হয়েছে অসংখ্য মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়িতে বসে থাকতে হয়েছে তাদের। বাধ্য হয়ে অনেকে পায়ে হেঁটে চলাচল করেছেন। দিনব্যাপী প্রচণ্ড দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। সকাল থেকেই মগবাজার, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন, প্রেসক্লাব, মৎস্য ভবন থেকে, মিন্টু রোড হয়ে বাংলামোটর, কাওরানবাজার, ফার্মগেট সর্বত্র ছিল তীব্র যানজট।
সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবিতে বুধবার রাত থেকেই শাহবাগ মোড় দখল করে অবরোধ করেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা। এতে শাহবাগসহ আশপাশে এলাকায় যানচলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। শাহবাগ মোড়ে অবস্থানের কারণে মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগগামী সব যানবাহন কাকরাইল মোড় হয়ে মিন্টু রোডের পাশ দিয়ে যাতায়াত করেছে। একইভাবে সায়েন্সল্যাব থেকে শাহবাগগামী সব যানবাহনকে যেতে হয়েছে বাংলামোটর ও মিন্টো রোড হয়ে। এতে সকালে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় আশপাশের এলাকায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজটের প্রভাব পড়তে থাকে রাজধানীর প্রায় সব সড়কে। যনাজটের প্রভাব পড়ে অলিগলিতেও।
হামিদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, ‘সকালে পৌনে ৯টায় পৌঁছলাম শেরাটন (নতুন নাম হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল) ক্রসিংয়ে। উদ্দেশ্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যাব। শেরাটনের মোড় থেকে বারডেমের সামনে ওভারব্রিজের নিচে যেতে আধা ঘণ্টা লেগেছে। এমনটা কখনোই এর আগে হয়নি।’
সাড়ে ৯টায় মোহাম্মদপুর থেকে যাত্রাবাড়ীতে যাওয়ার জন্য বাসে উঠেছিলেন এক যাত্রী। মাহবুব আব্দুল্লাহ নামের ওই যাত্রী জানান, বাটা সিগন্যাল যেতেই সময় লেগেছে আড়াই ঘণ্টা। পরবর্তীকালে শাহবাগ থেকে পায়ে হেঁটে পল্টনে যান তিনি। একইভাবে সিলেট থেকে উচ্চ আদালতে জামিন নিতে এসেছিলেন হুমায়ুন কবির তালুকদার, মহিউদ্দিন মিলাদসহ বেশ কয়েক জন। ফকিরাপুল থেকে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া নিয়েও রাস্তার তীব্র যানজট দেখে দৈনিক বাংলায় সিএনজি অটোরিকশা ছেড়ে পায়ে হেঁটে আদালতে পৌঁছান যানজটের কারণে। সকালে বাংলামোটর থেকে অনেকের মতো এক বয়স্ক দম্পতিকে দেখা গেছে পায়ে হেঁটে শাহবাগের দিকে যাচ্ছেন। তাদের চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ। কপাল থেকে ঘাম ঝরছে। হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল। তবু একে-অন্যের হাত টেনে ধরে হাঁটছিলেন তারা। বয়স্ক ব্যক্তির নাম রবিউল ইসলাম।
তিনি জানান, তারা কাজীপাড়া থেকে ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশ্যে বাসে উঠেন। ছেলে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু রাস্তায় তীব্র যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটেছে যানজটে। নিজেদের ক্ষুধাও পেয়েছে। অন্যদিকে ছেলের জন্য মনটা কাঁদছে। ছেলে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে শুনে গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ থেকে রাতে এসেছেন তারা। যানজটের কারণে পায়ে হেঁটেই যাচ্ছেন তারা।
যানজটের প্রভাব পড়েছিল বাড্ডা, রামপুরা এলাকাতেও। এর প্রভাব ছিল দিনব্যাপী। গতকাল বিকাল ৪টায় মগবাজার থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে বারিধারা যান সাদিয়া তমা। তিনি জানান, বারিধারা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় পৌঁছাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লেগেছে তার। অন্যদিকে, যাত্রাবাড়ী থেকে মগবাজারে আসার জন্য পাঠাওয়ে কল দিয়েও অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে সেলিম আহমাদকে। কারণ হিসেবে জানান, পাঠাও রাইডার দয়াগঞ্জে ছিলেন। যানজটের কারণে বেশ সময় লেগেছে যাত্রাবাড়ী মোড়ে পৌঁছাতে। এভাবেই শহাবাগে অবরোধের প্রভাব পড়েছিল রাজধানীজুড়ে। দিনব্যাপী দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।

যৌন হয়রানির বিচার পাবেন তনুশ্রী!

তনুশ্রী দত্ত। সাবেক মিস ইন্ডিয়া। তিনিও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। সে ২০০৮ সালের কথা। তার দু’একদিন পরেই তিনি এ নিয়ে কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেই অভিযোগে তেমন কান দেয় নি কেউ। এখন এতদিন পরে সেই তনুশ্রী বলছেন, অভিযোগ করার পরে কেউ সমবেদনাও জানান নি। এমন কি কেউ যেন শুনতেও চান নি এ অভিযোগ।
হলিউড মুঘল উইনস্টেইন হারভের বিরুদ্ধে সম্প্রতি যৌন হয়রানি, ধর্ষণের অভিযোগ উঠার পর তনুশ্রী আবার সরব হয়েছেন। এসব নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে লন্ডনের অনলাইন দ্য গার্ডিয়ান।
২০০৮ সালের ঘটনা উল্লেখ করে তাতে বলা হয়, বলিউডের একটি মিউজিক ভিডিও ধারণ করার সেটে আশ্রয় নিয়েছিলেন তনুশ্রী। তখন বাইরে থেকে বেশ কিছু পুরুষ তারা দরজায় ধাক্কা দিচ্ছেন। তারা চাইছেন তিনি শুটিংটা শেষ করুন। কিন্তু তনুশ্রী বেরুলেন না। এক পর্যায়ে তার পিতামাতা এলন। তারা তাকে নিয়ে গেলেন। ওই ঘটনার সময়কার একটি ফুটেজে দেখা যায়, বেশ কিছু মানুষ তাদের গাড়ি ঘিরে ধরেছেন। গাড়ির ভিতরে সপরিবারে বসা তনুশ্রী।
ওই সেটে তনুশ্রী অভিযোগ করেন তাকে যৌন হয়রান করেছেন বলিউডের শক্তিধর অভিনেতা নানা পাটেকর। তাই সাবেক এই মিস ইন্ডিয়া ওই সেট ছেড়ে চলে যান। এর দু’একদিন পর এ অভিযোগের বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার পায়। তারপরই কাহিনী থিতিয়ে পড়ে। তবে যৌন হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নানা পাটেকর।
তনুশ্রীর বয়স এখন ৩৪ বছর। তিনি গত সপ্তাহে ভারতীয় সিনেমায় মি টু প্রচারণায় বেরিয়ে এসেছেন। ভারতীয় সিনেমায় নারীরা কিভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন তা তুলে ধরেন। সঙ্গে সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো এ-লিস্টে থাকা তারকা টুইট করা শুরু করেন। তিনি টুইট করেন বিলিভ সারভাইভারসে। আর এখন সাধারণ মানুষ পর্যন্ত তনুশ্রী দত্তের নির্যাতিত হওয়ার বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে।  বলিউডের সবচেয়ে সফল তারকাদের কাউকে কাউকে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হচ্ছে। এমন এক প্রশ্নের জবাবে সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চন বলেছেন, আমার নাম তনুশ্রীও না। নানা পাটেকরও না। তাহলে আমি কিভাবে এ প্রশ্নের উত্তর দেবো?
প্রায় এক দশক আগের ঘটনায় এখন সবাই মনোযোগ দিচ্ছেন তাতেই তনুশ্রী দত্ত বিস্মিত। তিনি বলেন, আমি তো প্রায় ওই বিষয়টি বাদই দিয়েছিলাম। তবে কেউ কেউ যে এখনও এ নিয়ে কথা বলছেন তাতে আমি বিস্মিত।
২০১০ সালের দিকে বলিউডের স্পটলাইট থেকে বিদায় নেন তনুশ্রী। চলে যায় যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে দু’বছর চুপচাপ বসবাস করেন। এখানেই খুব কাছ থেকে শুনতে পান হারভে উইন্সটেনের বিরুদ্ধে একগাদা নারীর যৌন হয়রানির অভিযোগ। এর পর জুলাইয়ে এক ছুটি কাটাতে তিনি ফিরে আসেন ভারতে। সেখানে তাকে একজন সাক্ষাতকার নেয়ার সময় জিজ্ঞেস করেন, কেন ভারতে এখনও মি টু আন্দোলন শুরু হয় নি।
জবাবে তিনি বলেন, ১০ বছর আগে যে ঘটনা ঘটে গিয়েছিল সে বিষয়ে যতক্ষণ দৃষ্টি দেয়া না হবে, বিচার না হবে ততক্ষণ এ নিয়ে এখানে কথা হবে না।
এখন এমন অভিযোগ শুনে অনেক বড় তারকারাও মুখ ঢাকেন। বলিউডের সবচেয়ে বেশি অর্থের অভিনেতাদের অন্যতম সালমান খান। তাকে এ বিষয়ে শনিবার প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি এ সময় সংবাদ সম্মেলন করছিলেন। প্রশ্ন শুনে তিনি মুখ ঢাকেন হাত দিয়ে। জবাবে বলেন, ওই বিষয়ে আমি অবহিত নই।
তবে নারী বিষয়ক ওয়েবসাইট লেডিস ফিঙ্গার-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক নিশা সুসান বলেছেন, তনুশ্রী দত্তের অভিযোগকে সামনে ঠেলে দিচ্ছেন নতুন প্রজন্মের অভিনেতারা ও সাংবাদিকরা, যারা মি টু আন্দোলন সম্পর্কে জানেন।

‘ততক্ষণে রক্তে ভিজে গেছে বিছানার চাদর’ by মো. কামরুল ইসলাম

আব্দুর রউফ রনির আঁকা ছবি
জরিনা বিবি (ছদ্মনাম) জন্মস্থান ভোলা। বয়স আনুমানিক ৩৫। ছোট বোন করিমন (ছদ্মনাম) ওমানে ছিলেন ৫ মাস। করিমনের ফেরার পর ওমান যান বড় বোন জরিনা বিবি। চোখে স্বপ্ন, মনে আশা, লক্ষ্য ভাগ্য পরিবর্তন। ওমানে তিনি ছিলেন প্রায় তিন মাস। দুই বোন একই শহরে ভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজে নিযুক্ত হন।
জরিনা বিবি যে বাড়িতে কাজ করতেন সে বাড়ির সদস্য সংখ্যা ১০। বাড়ির মালিক, মালিকের স্ত্রী, তাদের চার মেয়ে ও চার ছেলে।
ছেলে-মেয়েরা ছিল মাদরাসার শিক্ষার্থী।
প্রথমে সবাই তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন সেই সঙ্গে দিতেন ভালো খাবার। বাড়ির উঠানে লাগিয়েছিলেন মরিচ, কুমড়ার চারাসহ আরো অন্যান্য শাক ও সবজির বীজ।
দুই মাস যেতেই সমস্যায় পড়েন তিনি। সমস্যার কারণ তার ছোট বোন বাংলাদেশে আসার পর আর ফিরে আসেনি। তখন ছোট বোনের বাড়ির মালিক তার বাড়ির মালিককে চাপ দিতে থাকে। তার ছোট বোনকে ওমানে ফেরত আনতে হবে আর না হয় বাংলাদেশে পাঠাতে যে খরচ হয়েছে তা দিতে হবে। জরিনার পক্ষে ছোট বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি তাই তার উপর নেমে আসে সীমাহীন অত্যাচার।
জরিনা বিবি বলেন, আমাকে  রোজ মালিকের বউ আর তার বড়  মেয়ে মারধর করতো, চুল ধরে ঘুরাইতো, চর থাপ্পড় মারতো, বুকে পিঠে কিল ঘুষি ও মারতো। এমনই খারাপ অবস্থা হয় আমি নিজেই খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই। পাশের বাড়ির ড্রাইভার ছিলেন আমার এলাকার পরিচিত। তিনি আমার চিৎকার শুনে পুলিশে ফোন দেন। পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে। কিন্তু, ততক্ষণে আমার মুখ দিয়ে রক্ত পড়ে ভিজে গেছে একটি সোফা, বিছানার আস্ত একটা চাদর।
পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে এবং মালিককে নির্দেশ দেয় জরিনাকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠাতে।
জরিনা আরো বলেন, আমাকে প্রতি মাসে বাংলাদেশি টাকায় ১৬ হাজার টাকা করে দেয়ার কথা ছিল (তিন মাসে ৪৮ হাজার টাকা)। বিমান বন্দরে মালিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর নিয়েছিলেন। টাকা পাঠানোর কথা বললেও প্রায় ৩/৪ মাস হতে যাচ্ছে ১ টাকাও অ্যাকাউন্টে আসে নাই।
জরিনা এখন পরিবারসহ থাকেন ঢাকায়। স্বামী রিকশাচালক, আর জরিনা কাজ করেন অন্যের বাড়িতে। দুই ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে ভালোই আছেন তিনি। তিনি বলেন, দুই বেলা ভাত খাইতে পারি। আল্লাহ ভালোই রাখছে। তয় রাইতে স্বপনে ফিরা আসে ওমানের দিনগুলা।

‘বৃহত্তর ঐক্যে’র একযোগে কর্মসূচি! by সালমান তারেক শাকিল

ঘরে-বাইরে-মাঠে-ময়দানে আলোচনার পর এবার জোটবদ্ধ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে সরকারবিরোধী কয়েকটি রাজনৈতিক দল। একাদশ নির্বাচন সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করার দাবিতে আগামী সপ্তাহে এক টেবিলে বসছেন যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া ও বিএনপির নেতারা। ওই বৈঠক থেকে দাবি আদায়ে যৌথ কর্মসূচি নির্ধারণ করার ব্যাপারে জোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নেতারা। তারা জানিয়েছেন, কর্মসূচি জোটবদ্ধ হবে নাকি যুগপৎ সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে ওই বৈঠকে। 
ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যে এখন পর্যন্ত দুটি সমস্যা আছে। এসব সমস্যা আলোচনার মধ্য দিয়ে দূর করা সম্ভব বলে মনে করেন নেতারা। তারা জানান, যুক্তফ্রন্ট চায় বিএনপির সঙ্গে ঐক্য বাস্তবায়ন করার আগে আগামী নির্বাচনে প্রার্থিতা, সরকার গঠন নিয়ে উপযুক্ত ভারসাম্য সৃষ্টির লক্ষ্যে লিখিত ঐকমত্য। এই ভারসাম্যের বিষয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সমাবেশে বিএনপি তাদের অবস্থান প্রকাশ করলেও বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দিতে চায় যুক্তফ্রন্ট।
যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সূত্রগুলো বলছে, ড. কামাল হোসেন বিদেশে থাকায় আলোচনা শুরু হতে সময় লাগছে। তিনি আগামী শনি বা রবিবার দেশে ফিরতে পারেন। তিনি দেশে ফেরার পর যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া বৈঠক করে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার রূপরেখা চূড়ান্ত করবে।
যুক্তফ্রন্টের একজন অন্যতম নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘বিএনপির কাছ থেকে বোঝার দরকার আছে তারা ভারসাম্য বলতে কী বোঝাতে চায়। তারা কী বলতে চায়, সেটা আমরা নিরূপণ করতে চাই। এটা পরিষ্কার হয়ে গেলেই ঐক্য কার্যকর হবে।’
এ যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ক্ষমতার ভারসাম্য চাই। আগামী দিনে বাংলাদেশের ক্ষমতায় এক স্বৈরাচার গিয়ে আরেক স্বৈরাচার যেন না আসে, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ যেন নির্মাণ করতে পারি, এই লক্ষ্যে পরস্পরের সঙ্গে বোঝাপড়ার আলোচনা শুরু করেছি।’ গত ২ অক্টোবর যুক্তফ্রন্টের পক্ষে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিএনপি সমাবেশ থেকে দলটির দাবি ও লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। প্রায় প্রত্যেকটি দাবি ও লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের দাবি ও লক্ষ্যের সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে মিল রয়েছে। ৩ নম্বর লক্ষ্যে বিএনপির বক্তব্য, ‘রাষ্ট্র ক্ষমতায় গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।’ এ বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার লক্ষ্যে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে স্বেচ্ছাচারী শাসন ব্যবস্থা থেকে পরিত্রাণ এবং একব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্বাহী ক্ষমতা অবসানের লক্ষ্যে সংসদে, সরকারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়নসহ প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ।’
ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত দায়িত্বশীল নেতারা জানান, ইতোমধ্যে বিএনপির ৭ দফা ও যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ৫ দফা প্রায় এক। এক্ষেত্রে আগামীতে নির্বাচনে বিজয়ী হতে নিজেদের লক্ষ্যগুলোকে মানুষের সামনে তুলে ধরার চিন্তা করা হচ্ছে। এজন্য প্রথম দিকে সারাদেশে সমাবেশের মাধ্যমে মানুষের সামনে নিজেদের দাবি-দাওয়া ও প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বিবরণ দেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে সারোদেশে ‘গায়েবি’ মামলা দায়ের হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সূত্রে যুক্তফ্রন্টের নেতাদের কাছেও খবর আছে, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নেতাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রথম সারির কয়েকজন নেতা বাদে বাকি নেতাদের অতীতের কার্যক্রম, মামলা আছে কী না, রাজনৈতিক সূত্র ইত্যাদি খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নেতারা জানান, জোটবদ্ধভাবে প্রথমদিকে ‘গায়েবি’ মামলা প্রত্যাহারের দাবি ও রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে সরকারের উদ্দেশে বার্তা দিতে সমাবেশ করার চিন্তা-ভাবনা আছে তাদের।
বিএনপি ও যুক্তফ্রন্ট সূত্রের ভাষ্য, কর্মসূচির ধরণ নির্ধারণ নিয়ে দুটি চিন্তা এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত নেতাদের আলোচনায়। বিএনপির মধ্যে একটি অংশ যুগপৎ কর্মসূচি চাইলেও বড় অংশটি চায় যৌথ কর্মসূচি প্রণয়নের। যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারাও চাইছেন যৌথ কর্মসূচি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কোনও-কোনও প্রভাবশালী শরিক দলের প্রত্যাশা, বিএনপি জোটকে নিয়ে যুগপৎভাবে এগিয়ে যাক। এক্ষেত্রে এসব শরিক দল আলাদা আইডেন্টিটি সৃষ্টি করতে পারবে রাজনীতিতে।
ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা জানান, দাবি ও লক্ষ্যে প্রায় মিল থাকলেও ৩০ সেপ্টেম্বরের সমাবেশে বিএনপির ৩ নেতার বক্তব্যে ঐক্যে আগ্রহী দলগুলো রুষ্ট হয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বক্তব্যে ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত দলগুলো আশাহত হয়। অবশ্য দলীয় নেতাকর্মীদের মানসিকভাবে চাঙ্গা করতে বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার দলগুলোকে ‘খাটো’ করায় এই তিননেতার ওপর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নীতিনির্ধারকরা অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলেও জানিয়েছে দলটির একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র।
বিএনপির কূটনৈতিক উইংয়ে কাজ করেন এমন  একজন সিনিয়র নেতা জানান, ৩০ সেপ্টেম্বর বিএনপির সমাবেশে দেশের মানুষের পাশাপাশি বিদেশি বন্ধুরাষ্ট্র ও  সংস্থাগুলোরও নজর ছিল। তাদের পর্যবেক্ষণেও তিনজন নেতার বক্তব্য উঠে আসে। যদিও বিএনপির তরফে বলা হয়েছে, তাদের তিনজনের বক্তব্য নিছক ভক্ত-সমর্থকদের চাঙ্গা করার উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয়েছে। বিএনপির হাইকমান্ড বৃহত্তর ঐক্যে বিশ্বাসী এবং এই প্রক্রিয়াকে একটি কার্যকর জায়গায় নিয়ে যেতে তাদের সদিচ্ছার ও চেষ্টার কোনও ত্রুটি নেই।
জাতীয়তাবাদী ঘরানার বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুই তিনজন নেতার তাল গাছ-আম গাছ বক্তব্যে কিছু আসে যায় না। বিএনপির সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হচ্ছে, তারা এখন আলোচনা করতে চায়। তারা আলোচনা করে কাজ করছে। আগে দলটি এমন ছিল না। এটাই তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্যের দিক। তারা ঐক্য এগিয়ে নিতে, কার্যকর করতে অনেক ইতিবাচক।’
ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা জানান, বিএনপির ৩ (বুধবার) ও ৪ অক্টোবর  (বৃহস্পতিবার) কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়টিও প্রশ্ন তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে কর্মসূচির ক্ষেত্রে যৌথভাবে ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি এককভাবেই ঘোষণা দিয়েছে। ‘বিষয়টি এমনই ছিল’ জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের কথা এমনই ছিল। কিন্তু যেহেতু সমাবেশ থেকে নতুন কিছু ঘোষণা করার একটা রাজনৈতিক কৌশল থাকে, সে কারণেই আমরা দুটি প্রাথমিক কর্মসূচি দিয়েছি। পরবর্তী কর্মসূচি আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ হবে।’
স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বৃহস্পতিবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘বিএনপি জাতীয় ঐক্যের কার্যকরিতা তৈরি করতে পুরোপুরি প্রস্তুত। ঐক্য প্রক্রিয়া কিভাবে পরিচালিত হবে, কোনও কাঠামো থাকবে কী না, কর্মসূচি যুগপৎ নাকি যৌথভাবে সম্পন্ন হবে-এসব বিষয়ে আলোচনা হবে যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে। নাকি একমঞ্চের ঐক্যে না গিয়ে সবাই শুধু সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলবে আর ভেতরে-ভেতরে নির্বাচনি ঐক্য হবে-এটাও ঠিক হবে। বৃহস্পতিবার রাতে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এসব বিষয়ে টুকটাক আলোচনা করেছেন। কিন্তু কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’