Thursday, July 17, 2014

আমগোরে মাফ কইরা দেন! by সাহস রতন

জুন শেষ হয়ে জুলাই চলছে। এভাবে ডিসেম্বর শেষে ২০১৪ সালও ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু শেষ হচ্ছে না আমাদের ভোগান্তি। ভয়াবহ সব অঘটনের জন্ম দিয়ে সবসময় সমালোচনায় ছিল আমার প্রিয় বাংলাদেশ। একটার রেশ কাটতে না কাটতেই আগেরটার চেয়ে বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে বছরের পর বছর। ভয়ানক সব দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে ধারাবাহিকভাবে, বিরামহীন। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া দেশটির জন্মের সাড়ে চার বছরের মাথায় নৃশংস হত্যাকা-ের শিকার হলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু, সপরিবারে। কিছুদিন না যেতেই কারাগারের ভেতরে রাতের অন্ধকারে নিরস্ত্র অবস্থায় হত্যা করা হলো জাতীয় চার নেতাকে। এরপর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ এর বিফল প্রতিরোধের চেষ্টা। জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ। কয়েক বছর না যেতেই চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রাতের বেলায় তাকে হত্যা। জেনারেল এরশাদের ক্ষমতাদখল। নয় বছরের স্বৈরশাসনামলে রাজনৈতিক নেতাদের জেল-জুলুম, হত্যাসহ নানা কাহিনী। নব্বই দশকে এসে এরশাদকে ক্ষমতাচুত করার আন্দোলন। ’৯০-এ প্রথমবারের মতো তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচন। সব পূর্বাভাস মিথ্যে প্রমাণ করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি’র সরকার গঠন। ’৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সরকার গঠন। ২০০১ সালে বিএনপি আবারও ক্ষমতায়। শুরু হলো দেশব্যাপী বোমাবাজি, আদালত প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা। একই দিনে প্রায় একই সময়ে সারা দেশের ৬৫ জেলায় সিরিজ বোমা হামলা। বাংলাভাই  ও শায়খ রহমানের উত্থান। ঘটে ২১শে আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। মুহূর্তে ঝরে গেল ২১টি প্রাণ। স্প্লিন্টারের আঘাতে পঙ্গু হলো শতাধিক। ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রতিহত করার আন্দোলন। পল্টনে লগি-বৈঠা মিছিল। একাধিক প্রাণহানি। আবার সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ। প্রথমবারের মতো দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের দুই শীর্ষব্যক্তি গ্রেপ্তার। রাজনীতিবিদ, পেশাজীবীসহ অনেক গ্রেপ্তার। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে ২য় মেয়াদে আওয়ামী লীগের সরকার গঠন। এর ৫১ দিনের মাথায় ২০০৮ সালে ২৫শে ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহ। প্রাণ হারালেন সেনাবাহিনীর ৫৪ জন অফিসার। ক্ষমতায় আরোহণের তিন বছরের মাথায় আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ। শুরু হলো রাজনৈতিক অস্থিরতা। অনলাইন ব্লগারদের উদ্যোগে শাহবাগ চত্বরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নানা শ্রেণী-পেশার লাখো মানুষের সমাবেশ। শাহবাগ চত্বরে নতুন করে জয় বাংলা স্লোগান ফিরে এলো সাধারণের মুখে যা কিনা সময়ের বির্বতনে আওয়ামী লীগের দলীয় স্লোগানে পরিণত হয়েছিল। শাহবাগ চত্বরে গড়ে ওঠা আন্দোলনটির বিপরীতে তৈরি হলো হেফাজতে ইসলাম। ৫ই ফেব্রুয়ারি ৫ লক্ষাধিক মানুষের পাল্টা সমাবেশ ঘটলো মতিঝিলের শাপলা চত্বরে। জ্বললো অফিস, দোকান, ব্যাংক, গাড়ি। বাদ যায়নি সড়ক বিভাজনে বেড়ে ওঠা নিরীহ গাছও। গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপারেশন। মতিঝিল মুক্ত হলেও ঝরে গেল ৩০-এর বেশি প্রাণ। সংখ্যা নিয়ে নানারকম ধোঁয়াশা রয়েই গেল। সর্বশেষ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নারায়ণগঞ্জে সাত জনের প্রাণহানি। এই সময়ের মাঝে আরও অনেক দুর্ঘটনা। লিখলে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ভর্তি হয়ে যাবে। প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে একাধিক প্রাণহানি ঘটে চলেছে। এই যে এত দুর্ঘটনা, এর কোনটিই যে সাধারণ ঘটনা নয়, তা তো সবাই জানেন। আর এর সব ক’টির পেছনেই রয়েছে ক্ষমতা দখলের লড়াই। বেশ ক’বছর আগে একটা বাংলা সিনেমায় দেখেছিলাম, প্রয়াত অভিনেতা রাজীব প্রায়ই বিশেষ একটা সংলাপ বলেন, তা হলো- ক্ষমতা-রে ক্ষমতা। এই ক্ষমতাই যত নষ্টের গোড়া। ক্ষমতা দখলের লোভেই এতসব ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে যুগ যুগ ধরে। এত অহরহ এগুলো ঘটছে যে, ইদানীং সাধারণ মানুষ এতে মোটেও অবাক হচ্ছে না। কারণ আমরা বুঝে গেছি এর থেকে আমাদের মুক্তি নেই। আর মনে হয় এটা সবাই মেনেও নিয়েছি। দুর্ঘটনা যা-ই হোক তার প্রতিবাদ সীমাবদ্ধ থাকছে টক শো আর প্রেস রিলিজ-এর মধ্যে। বড় জোর কিছুদিন রাজপথে মিছিল, মিটিং, অবরোধ। এরপর আবার তথৈবচ। রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং এর সুবিধাভোগী ক্ষুদ্রতম গোষ্ঠীটি ছাড়া সর্বস্তরের জনগণ সবাই মোটামুটি এই ধারণায় উপনীত হয়েছেন যে, বর্তমান প্রচলিত রাজনৈতিক ধারায় আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। যদিও রাজনৈতিক দলগুলো কখনওই এটি স্বীকার করে না। এভাবে তো আসলে চলতে পারে না। ইদানীং সুশীল সমাজের অনেকে জোর গলায় এটা বলছেনও। যার ফলে ইতিমধ্যে ভিন্ন একটি রাজনৈতিক বলয় গড়ে ওঠার চেষ্টাও দৃশ্যমান। যদিও এটার ভবিষ্যৎ যে কি তা এখনও বোধগম্য নয়। এই অবস্থায় একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার মনে হয় যারা নিজেদেরকে সৎ মানুষ কিংবা সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করেন তাদের সবার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়া উচিত। সবাই বলছেন, রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে। কালো টাকার মালিক, ব্যবসায়ী আর সন্ত্রাসীদের হাতে চলে গেছে রাজনীতি। আসলেই তাই। কারণ সমাজহিতৈষী মানুষজন রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নেই প্রায় ৩০ বছরের বেশি কাল ধরে। শূন্যস্থান তো আর শূন্য থাকে না। কেউ না কেউ এসে তা পূরণ করে ফেলে। আমাদের রাজনীতিতেও তা-ই হয়েছে। রাজনীতির বর্তমান অবস্থাকে ঘৃণা করে, এর থেকে নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে রেখে আমরা নিজেরাই নিজেদের বিপদ ডেকে এনেছি। তারপরও আমি বিশ্বাস করি, এখনও বাংলাদেশে ভাল মানুষের সংখ্যাই বেশি। দুষ্ট চক্রটি সব মিলে মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশও হবে কিনা সন্দেহ। কিন্তু এই ১৫ শতাংশের হাতেই বাকি ৮৫ শতাংশের জীবন শৃঙ্খলিত। তাই পরবর্তী প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, সমাজের ভাল মানুষদের, বিশেষ করে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরকে, রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়া উচিত, এখনই। তাহলেই আমাদের মুক্তি মিলবে। অন্যথায় বর্তমান রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্যে হাতজোড় করে বলতে হবে- ভাইগো, আমগোরে মাফ কইরা দেন।

ইসরাইলের নিন্দা জানাতে মোদি সরকারের অস্বীকৃতি!

ভারতের কংগ্রেসসহ প্রায় সব বিরোধী দল গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের নৃশংস হামলার নিন্দা করে সংসদে প্রস্তাব আনার দাবি করলেও সরকার তা নাকচ করে দিয়েছে। মঙ্গলবার লোকসভায় জিরো আওয়ারে গাজায় ইসরাইলি হামলায় বিষয়টি প্রথম উত্থাপন করেন পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) নেত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি সংসদে মলতুবি প্রস্তাবের জন্য নোটিশ দেন। মেহবুবা মুফতি বলেন, ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা এখন ব্রাজিলে। সেখানেই ভারতের উদ্যোগে গাজায় একতরফা হামলার প্রতিবাদে প্রস্তাব নেয়া হোক। সরকার সংসদেও নিন্দা-প্রস্তাব গ্রহণ করুক। এসময় সিপিএমের মোহাম্মদ সেলিম বলেন, এতদিন পশ্চিমা দেশগুলো ফিলিস্তিনকে যে চোখে দেখে এসেছে, ভারত সরকারও এখন সেভাবেই দেখছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক।
তবে দক্ষিণপন্থী একটা সাম্প্রদায়িক দল তো এমন আচরণই করবে। বিরোধীদের তুমুল হট্টগোলের কারণে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অধিবেশন স্থগিত করে দেন স্পিকার সুমিত্রা মহাজন। আধা ঘণ্টা পরে ফের অধিবেশন শুরু হলে গাজায় ইসরাইলি হামলার বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম, এনসিপি, ইণ্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ এবং অল ইডিয়া মজলিস-এ ইত্তেহাদ-উল মুসলিমিনের সংসদ সদস্যরা। কংগ্রেসের শশী তারুর গাজায় পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের অবস্থানকে মর্মান্তিক ট্রাজেডি আখ্যা দেন। মুসলিম লিগ নেতা ই. আহমেদ বলেন, ইসরাইল যা করছে তা মানবাধিকারের চূড়ান্ত লংঘন। সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু নিন্দা প্রস্তাবের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। একইসঙ্গে সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এর মধ্যে এমন কোনো পদক্ষেপ করা ঠিক নয় যার বিরূপ ফল হয়। পরে ভেঙ্কাইয়া বলেন, আমরা অবশ্যই সব দেশের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই। কিন্তু দুটি দেশের মধ্যে সংঘাতের ব্যাপারে ভারত একটি তৃতীয় দেশ হিসেবে কীভাবে কোনো প্রস্তাব আনতে পারে? দেশের ঘরোয়া রাজনীতির স্বার্থ পূরণে এমনটা করা যায় না।

রোনালদিনহোর অভিনন্দন মেসিকে

আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ব্রাজিলের সাবেক ফুটবল তারকা রোনালদিনহো। একসময় তারা দু’জন একসঙ্গে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় খেলেছেন। সোমবার বুয়েনস আয়ার্সে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনে রোনালদিনহো মেসির সঙ্গে দেখা করেন। এরপর তিনি তার টুইটার অ্যাকাউন্টে জানান, ‘আমি মেসির সঙ্গে দেখা করেছি।
অসাধারণ একটি বিশ্বকাপ খেলে আসা মেসিকে অভিনন্দন জানানোর সুযোগ পেয়েছি। এটা দারুণ একটি মুহূর্ত ছিল।’ ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হারার পর দেশে ফিরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছে আর্জেন্টিনা দল। বুয়েনস আয়ার্সে হাজার হাজার ভক্ত-সমর্থক তাদের প্রিয় দল এবং দলের খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা জানায়। ওয়েবসাইট।

ইসরায়েল মানলেও হামাসের প্রত্যাখ্যান

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় গুঁড়িয়ে যাওয়া ভবনের
পাশ দিয়ে গাধার গাড়িতে চড়ে যাচ্ছে একটি
পরিবার। গতকাল তোলা ছবি। রয়টার্স
গাজায় রক্তপাত বন্ধের জন্য মিসরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েল গ্রহণ করলেও হামাস সম্মত হয়নি। তারা একে ‘আত্মসমর্পণের’ সমতুল্য আখ্যা দিয়ে রকেট হামলা অব্যাহত রাখে।ফলে কাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ছয় ঘণ্টা। গতকাল দুপুরের পর গাজা উপত্যকায় আবারও বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল, যা চলমান সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নেওয়া যুদ্ধবিরতির উদ্যোগে একটি বড় আঘাত।খবর বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপির। হামাস-শাসিত গাজা উপত্যকায় টানা আট দিন ইসরায়েলের প্রায় একতরফা সামরিক অভিযানের পর মিসর যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করে। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল নয়টা থেকে এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। বেঁধে দেওয়া সময়ের সামান্য আগে প্রস্তাবটি অনুমোদন করে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা। তারা হামলা বন্ধও করে। পাশাপাশি এও জানানো হয়, হামাস যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ না করলে তার জবাব হবে কঠিন। প্রয়োজনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সামরিক অভিযানের সম্প্রসারণ করা হবে।
কিন্তু হামাস এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে জানায়, তাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই এ প্রস্তাব আনা হয়েছে। এটি ‘আত্মসমর্পণের’ সমতুল্য। হামাস পূর্ণাঙ্গ কোনো চুক্তি ছাড়া রকেট হামলা বন্ধ করবে না। এই অবস্থায় গতকাল বেলা তিনটার দিকে ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান থেকে ফের হামলা চালানো শুরু হয়। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী তাদের নিজস্ব টুইটার অ্যাকাউন্টে বলেছে, ‘আমরা সকাল নয়টায় গাজায় হামলা চালানো বন্ধ করার পর থেকে হামাস ৪৭টি রকেট ছুড়েছে। তাই আমরাও হামাসের বিরুদ্ধে আবার অভিযান শুরু করেছি।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা বলেন, সেনাবাহিনীকে ‘শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে অভিযান চালানোর’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে শুরু করা হামলায় গাজার অন্তত দুটি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তবে এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। গাজায় আট দিনের ইসরায়েলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯২ জনে। আহত হয়েছে হাজারের বেশি, যাদের বেশির ভাগই নিরীহ নারী-পুরুষ ও শিশু। অন্যদিকে ইসরায়েলের পক্ষে মাত্র চারজন নাগরিক আহত হয়েছে। সংঘাত নিরসনে গত সোমবার কায়রোতে জরুরি বৈঠকে বসেন আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৈঠক শেষে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিন ধাপের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের কথা ঘোষণা করেন। ওই প্রস্তাবে বলা হয়, ১২ ঘণ্টার মধ্যে উভয় পক্ষ শর্তহীনভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করবে। খুলে দেওয়া হবে গাজার সীমান্ত। এ ছাড়া কায়রোতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসবেন। কিন্তু হামাস গোড়া থেকেই এ প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। আর ইসরায়েলও মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাদে তাদের অবস্থান থেকে সরে যায়। তবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ভেঙে যাওয়ার পরও হতাশ হয়নি মিসর।
হামাসের প্রত্যাখ্যানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ হতে দিতে চান না কায়রোর কর্মকর্তারা। যদিও ইসরায়েলের নতুন সামরিক অভিযান এই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে যে, তারা ভবিষ্যতে আলোচনার টেবিলে আসবে কি না; এলেও সবার জন্য গ্রহণযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয় কি না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল তাঁর মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তেলআবিব সফররত জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ওয়াল্টারের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘হামাস যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ না করলে প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা অর্জনে ইসরায়েল তার সামরিক অভিযানের বিস্তৃতির ব্যাপারে সব আন্তর্জাতিক বৈধতা পাবে।’ নেতানিয়াহু বলেন, তিনি গাজাকে ‘যুদ্ধমুক্ত’ দেখতে চান। তিনি বলেন, ‘আমরা মিসরের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছি যাতে গাজা ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেটমুক্ত হতে পারে।’ হামাসের সামরিক শাখা আল-কাশেম ব্রিগেড যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ‘যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবসংক্রান্ত আলোচনায় আমাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাই আমরাও এই উদ্যোগ মানছি না। আমরা এ প্রস্তাব মানতে বাধ্য নই।’ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নির্বিচার সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপতাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি গতকাল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের’ অভিযোগ এনে বলেছেন, ‘ইসরায়েল অব্যাহতভাবে এই অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালাচ্ছে। আমরা ছাড়া আর কেউই এ সন্ত্রাস বন্ধের কথা বলছে না...। বিশ্ব আর কবে এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে?’

এক হিরোইন আর এক ভিলেন by সাজিদুল হক

বেশির ভাগ সন্তানের কাছে বাবাই কিন্তু তাদের ছেলেবেলার নায়ক, এমনকি বড়বেলাতেও। আর সেই বাবাকে যদি সবাই ‘ভিলেন’ বলে ডাকে—তাহলে কেমন লাগে বলুন? টিভিতে কোনো ছবিতে বাবার ভিলেনগিরি দেখলেই তাই রেগেমেগে বসে থাকত শ্রদ্ধা। বাবা বাসায় ফিরলেই মেয়ে রাজ্যের অভিযোগ নিয়ে বলত—‘তুমি সবসময় শুধু ভিলেন হও কেন বাবা? তুমি নায়ক হতে পার না?’ প্রায় ৭০০ ছবির অভিনেতা বলিউডের ‘কমিক’ ভিলেন শক্তি কাপুর একমাত্র মেয়ের এমন অভিযোগে শুনে হয়তো হেসেই ফেলতেন। মা শিভাঙ্গি কাপুরও নাকি মেয়েকে মাঝেমধ্যে বোঝাতেন যে এসব বাবার অভিনয়। আসলে ছোট শ্রদ্ধা তখন কি আর বুঝতেন বাবা খল চরিত্রেই বেশি মানানসই? এই ভিলেন বেশেই তো শক্তি কাপুর জয় করেছেন দর্শকের মন। সেই শ্রদ্ধাই কিনা শেষমেশ এক ভিলেনের প্রেমে থিতু হলেন? বাস্তবে না হলেও, বাবার মতো সেই বড় পর্দাতেই। বলিউডের জেনারেশন ওয়াইয়ের অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুরের নতুন ছবি এক ভিলেন সেই কথাই তো বলছে।

হ্যাঁ, অভিনয়টা শ্রদ্ধার রক্তের সঙ্গে মিশেই ছিল! শুধু বাবা নন, মাসি পদ্মিনী কোলাপুরীও ছিলেন একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা। মুম্বাইয়ে স্কুল-কলেজের পাট চুকিয়ে থিয়েটার স্টাডিজ বিষয়ে পড়তে শ্রদ্ধা ভর্তি হয়েছিলেন আমেরিকার বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে। পড়াশোনা শেষ না হতেই ডাক পড়ে বলিউডে। ২০১০ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে শ্রদ্ধা তিন পাত্তি ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা। ছবিতে হলিউডের স্যার বেন কিংসলে, বলিউডের অমিতাভ বচ্চন থাকার পরও বক্স অফিসে তিন পাত্তির বাত্তি জ্বলেনি। শ্রদ্ধা ভালো অভিনয় করলেও রয়ে যান আলোচনার বাইরে। ২০১১-তে শ্রদ্ধা অভিনীত লাভ কা দ্য অ্যান্ড ছবিটিও চলে যায় ফ্লপের খাতায়। তবে ছবিটি শ্রদ্ধার ক্যারিয়ারের ‘দ্য অ্যান্ড’ হয়নি যদিও দুটি ছবির চরম ব্যর্থতার কারণে শ্রদ্ধা চলে গিয়েছিলেন সবার চোখের আড়ালে। অবশেষে ২০১৩ সালে এসে ভাগ্যের শিকে ছিঁড়ল শ্রদ্ধা কাপুরের। মোহিত সুরির আশিকি টু ছবিতে নায়িকা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াটা তাঁর জন্য ছিল হতাশা ও ব্যর্থতার পর অনেক আশার সঞ্চার। চমকে দিলেন শ্রদ্ধা কাপুর। এমন একটা কোমল বাতাসের ছোঁয়া পেলেন দর্শক, যা সহজে ভোলার নয়। বেকারত্বের সাইনবোর্ড ভেঙে শ্রদ্ধার গায়ে লেগে যায় ব্যস্ত নায়িকার তকমা।

সেই মোহিত সুরির হাত ধরেই মুক্তি পেল শ্রদ্ধার ক্যারিয়ারের চতুর্থ ছবিটাও। মোহিত সুরির ক্যারিশমা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। রাজ-দ্য মিস্টেরি কন্টিনিউস, মার্ডার-টু কিংবা আশিকি টু দিয়েই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর দক্ষতা। সেই ছাপ রাখলেন নতুন ছবি এক ভিলেন-এও। মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহেই ১০০ কোটির ক্লাবে ঢুকে পড়েছে সুপার হিটের তকমা পাওয়া এই ছবিটি। ছবিতে প্রথমবারের মতো রুপালি পর্দায় দর্শক দেখতে পাবে শ্রদ্ধা কাপুর আর সিদ্ধার্থ মালহোত্রার রসায়ন। দুই বছর আগে করণ জোহরের স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয়েছিল সিদ্ধার্থের। তবে শুধু সিদ্ধার্থ আর শ্রদ্ধাই নয়। এই ছবিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন রীতেশ দেশমুখ। রীতেশকে দর্শক কমেডি ছবিতে দেখেই অভ্যস্ত। কিন্তু এবার তাকে দেখা যাবে খল চরিত্রে। ছবির নামেই বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না যে খলচরিত্রটিই ছবির মূল আকর্ষণ। তবে ছবিতে সেই ভিলেন কে? রিতেশ দেশমুখ নাকি সিদ্ধার্থ মালহোত্রা? ছবির প্রোমো দেখে দর্শকের মনে এমন অনেক প্রশ্নই জেগেছে। কিন্তু আসল গল্পটা কী, আর চমকটাই বা কোথায় সেটা জানতে হলে অবশ্যই দেখতে হবে এক ভিলেন।
সাজিদুল হক
ইন্ডিয়া টাইমস, বলিউড হাঙ্গামা, টাইমস অব ইন্ডিয়া, উইকিপিডিয়া অবলম্বনে

মোদি সরকারের পদক্ষেপে উদ্বেগ সংসদীয় কমিটির

আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে ভারতের মোদি সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয়  স্থায়ী কমিটি। ভারতের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে এই প্রকল্পে ১০০ কোটি রুপি বরাদ্দ রেখেছে দেশটি। চুক্তি বাস্তবায়নের আগে প্রকল্পটিতে নতুন করে বরাদ্দ দেয়া টাকায় আসলে কি করতে যাচ্ছে ভারত তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি ভারত সরকারের কাছ থেকে এ বিষয়ে  বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। গতকাল সংসদ সচিবালয়ে কমিটির বৈঠকে এই পরামর্শ দেয়া হয়। কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্যড় মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, তালুকদারড় আব্দুল খালেক, একেএম ফজলুল হক, মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও সেলিনা জাহান লিটা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, ভারতের লোকসভায় সদ্য প্রস্তাবিত বাজেটে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পে ১০০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মোদি সরকারের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির প্রস্তাবে গত ৯ই জুলাই প্রস্তাবিত বাজেটে প্রকল্পটির জন্য এই বরাদ্দ রাখা হয়। তিনি জানান, এ আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে আগে থেকেই বাংলাদেশের পরিবেশবিদরা আন্দোলন করে আসছেন। প্রকল্পটিতে নতুন করে এ অর্থ বরাদ্দ আসলে কি সঙ্কেত দেয় তা নিয়ে পরিবেশবিদরা শঙ্কিত। কমিটির সদস্যরাও এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাই কমিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে ভারত সরকারের মনোভাব জানতে বলা হয়েছে। রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে আছে। পশ্চিমবঙ্গড় সরকারের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই সেই চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি। চুক্তি হলে ভাল হতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় আন্তঃনদী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। ভারতের নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।ড়নদী ড্রেজিংয়ে নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে সভাপতি বলেন, এর আগে আমরা ৩ দিনের সফরে কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা এলাকা পরিদর্শন করে এসেছি। পরিদর্শনকালে মনে হয়েছে যে, গড়াই নদী থেকে পদ্মা ব্রিজ পর্যন্ত যথোপযুক্ত ভাবে ড্রেজিং হয়নি। এখানে কিছু অনিয়ম হয়েছে। পদ্মা থেকে গড়াই নদী পর্যন্ত মাত্র ৩-৪ কিলোমিটার নৌ পথ। এটা ঠিকমতো ড্রেজিং করা হলে নৌপথ রক্ষা পাবে। তাই কমিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে যেন এ এলাকায় সব সময় ড্রেজিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয়। কালনী-কুশিয়ারা বর্তমানে হাঁটু পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে বলেও জানান সভাপতি। তিনি এ জন্য ড্রেজিং প্রকল্পকে দায়ী করেন। এছাড়া বিগত সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক কর্মকা-কেও দায়ী করেন তিনি।

সংসদ থেকে সরে দাঁড়ালো ইউএনডিপি by কাজী সোহাগ

৫ বছর মেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, দুর্নীতি আর অসন্তুষ্টির কারণে সংসদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি। আপাতত নতুন কোন প্রকল্পে তারা অর্থায়ন করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দাতা প্রতিষ্ঠান ইউএনডিপি। ১০ বছর ধরে তারা সংসদের বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। ইমপ্রুভিং ডেমোক্রেসি থ্রু পার্লামেন্টারি ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয় গত ৩০শে জুন। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ডোনার প্রতিষ্ঠানটি আভাস দিয়েছিল সরে আসার। কারণ প্রকল্পের টাকা অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। সমপ্রতি তারা মৌখিকভাবে তাদের অনাগ্রহের কথা জানিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয় কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা। এর মধ্যে ছিল ১০ পৃষ্ঠার ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্ট সেক্রেটারিয়েট স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ২০১২-২০১৪’ এবং ২৫ পৃষ্ঠার ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্ট সেক্রেটারিয়েট অ্যানুয়াল অ্যাকশন প্যান ২০১২-২০১৩’ নামে দু’টি বই। এ ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পরামর্শকদের সম্মানী, সংসদের কর্মকর্তাদের নিয়ে দেশে-বিদেশে একাধিক বার বিদেশ ভ্রমণ। সময় খরচ হয় প্রায় ৩ বছর। প্রকল্প শুরুর প্রথম তিন বছরেই ফান্ড প্রায় শূন্য হয়। প্রকল্পে ন্যাশনাল প্রজেক্ট ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রণব চক্রবর্তী। গতকাল তিনি মানবজমিনকে বলেন, ‘৩০শে জুন পর্যন্ত প্রকল্পের স্বাভাবিক মেয়াদ ছিল। এরপর তারা আর এক্সটেনশন করেনি। তবে শিগগিরই নতুন প্রকল্পে অর্থায়ন করবেন বলে তারা স্পিকারকে জানিয়েছে।’ এর আগে গত মাসে তিনি মানবজমিনকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইউএনডিপি মেয়াদ এক্সটেনশন করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এদিকে ওই প্রকল্পের আওতায় মন্ত্রী হোস্টেলে বরাদ্দ দেয়া ৫টি কক্ষ এখন গোছানোর কাজ চলছে। প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এরই মধ্যে অফিস করা বন্ধ করেছেন। ইউএনডিপির কোন কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ২০১০ সালে শুরু করা ওই প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৮৬ কোটি টাকা। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে আগেই সরে পড়ে কোরিয়ান ডোনার প্রতিষ্ঠান কোয়েকা। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটি ২০ কোটি টাকা দেয়ার অঙ্গীকার করেছিল। শেষ পর্যন্ত ৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পর অঙ্ক দাঁড়াই ৫৯ কোটি টাকায়। গত মাসে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে প্রকল্পর অগ্রগতি জানতে প্রায় ৭ দিনের সফরে আসেন রবার্ট নাকামুরা ও কার্ল ডি ফারিয়া। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তারা হতাশা প্রকাশ করেন। একই ভাবে ১৩ থেকে ২৭শে মে কাজের মূল্যায়ন করতে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে আসেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ পিটার লিনিয়েনফেন্ড। তিনি স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপসহ প্রায় ১৫ জনের সঙ্গে বৈঠক করেন। শেষ পর্যন্ত তিনিও সংশ্লিষ্টদের কাছে হতাশা প্রকাশ করেন। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই মূলত ইউএনডিপি সংসদ সচিবালয়ের নতুন প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন প্রকল্প বাস্তাবয়ন হয়েছে মাত্র ১৩ ভাগ। যদিও কাগজে কলমে দেখানো হয়েছে ৬৮ ভাগ। অভিযোগ রয়েছে, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বারবার স্টাডি ট্যুর বা শিক্ষা সফরের নামে বিদেশ ভ্রমণেই ব্যয় হয় প্রকল্পর বেশির ভাগ টাকা। দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ভারত, নিউজিল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেছেন ৪০ কর্মকর্তা। সংযুক্ত আরব আমিরাতে সংসদীয় গণতন্ত্র না থাকলেও সংসদীয় গণতন্ত্রের অভিজ্ঞতার জন্য দুবাইতে দু’দফায় প্রশিক্ষণে গেছেন সংসদের ১৫ কর্মকর্তা। বিদেশে স্টাডি ট্যুরে যাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশির ভাগই সংসদ সচিবালয়ের প্রেষণে নিয়োজিত হওয়ায় তাদের অভিজ্ঞতাও তেমন কোন কাজে লাগেনি। কারণ তাদের বেশির ভাগই অন্যত্র বদলি হয়ে চলে গেছেন। এ প্রসঙ্গে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গত জুনে মানবজমিনকে বলেছিলেন, প্রকল্পে যদি কোন অনিয়ম হয় তা তদন্ত করে দেখা হবে।

দুই পরিবারের টানাটানি লাশ পড়ে আছে হিমঘরে by রুদ্র মিজান ও আল আমিন

একুশ দিন ধরে লাশ পড়ে আছে হিমঘরে। লাশের দাবিদার দুই স্ত্রী। একজন মুসলিম। অন্যজন হিন্দু। দুই জনেরই দাবি খোকন নন্দী ওরফে খোকন চৌধুরীর স্ত্রী তারা। মুসলিম স্ত্রীর দাবি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে খোকন তাকে বিয়ে করেছিলেন। হিন্দু স্ত্রীর দাবি সনাতন ধর্ম বিশ্বাসে থেকেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। দুই এমন দাবির বিষয়টি আদালতেও গড়িয়েছে। তবে প্রথম দফায় আদালতও কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। এমন অবস্থায় লাশের ঠিকানা এখন হিমঘরে। লাশ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে এমন টানাটানি নিয়ে মানবজমিনের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে চমকপ্রদ তথ্য। দুই পরিবারের দাবি ও লাশ নিয়ে টানাহেঁচড়ার পেছনে রয়েছে খোকনের অর্থ ও সম্পত্তি দখলের লড়াই। এমন অবস্থায় দুই পরিবারের বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায় দুই পরিবারেই থাকতেন খোকন নন্দী ওরফে খোকন চৌধুরী। রাজধানীর উত্তর শাহজাহান পুরের বাসায় খোকন দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। মাঝে মধ্যে মসজিদে নামাজেও যেতেন। কোরবানি দিয়ে মাংসও বিতরণ করতেন। অন্যদিকে প্রথম স্ত্রী ও খোকনের এক ভাইয়ের দাবি রায়ের বাগের বাসায় প্রথম স্ত্রীর সঙ্গেও থাকতেন খোকন। তিনি সনাতন ধর্মের সব আচার অনুষ্ঠান পালন করতেন। নিয়মিত মন্দিরে যেতেন।

গত ১৫ই জুন খোকন অসুস্থ হয়ে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন। ২৬শে জুন সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান। হাসপাতালে তার সঙ্গে থাকা স্ত্রী হাবিবা আক্তার খানম বাবলি স্বামীর লাশ নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। এসময় বাদ সাধেন আগের স্ত্রী মিরা নন্দী এবং তার দু’সন্তান বাবলু ও চন্দনা। তারা দাবি করেন লাশ তারা নিয়ে হিন্দুধর্ম মতে সৎকার করবেন। বিষয়টি থানা পুলিশ থেকে আদালত পর্যন্ত গড়ায়। গত ১০ই জুলাই এ বিষয়ে আদালতের শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এ দিন বিচারক এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন না বলে অন্য আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
খোকন নন্দী মুসলমান হয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন বলে দাবি তার দ্বিতীয় স্ত্রী হাবিবা খানম বাবলির। এর পক্ষে তার কাছে প্রমাণও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ১৯৮৪ সালের ২রা জুলাই খোকনের সঙ্গে বিয়ে হয় বাবলির। এর আগে হাবিবুর রহমান নামে প্রথম শ্রেণীর একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এফিডেভিট করে খোকন ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। বাবলি বলেন, বিয়ের কাবিননামা, এফিডেভিট আছে। তিনি আমার স্বামী এবং মুসলমান এটা প্রমাণের জন্য আর কি প্রয়োজন। খোকনের জীবিত থাকা চার ভাইয়ের মধ্যে দু’ভাই জহরলাল নন্দী ও সাগর নন্দী থাকেন ঢাকায়। এর মধ্যে খোকন ও বাবলির উত্তর শাহজাহানপুরের ৩৩১ নম্বর বাসায় প্রায়ই আসা-যাওয়া করতেন সাগর নন্দী। সাগর দীর্ঘদিন তেজতুরি বাজারে ছিলেন। বর্তমানে ১৮৬/১৩ তেজকুনিপাড়ায় থাকেন। সাগর ওই বাসায় গেলেও ঢাকায় থাকা অপর ভাই জহরলাল নন্দী ওই বাসায় কখনও যাননি। বাসার তত্ত্বাবধায়ক আবদুস সালাম ও খোকার বাসার গৃহপরিচারিকা তাসলিমা জানান, সাগর প্রায়ই বাসায় আসতেন। বাসার পাশের লন্ড্রী ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন নুরু জানান, বাসায় মাঝে মাঝে খোকার ভাই সাগর যেতেন। সকালে তার লন্ড্রী দোকানে কাপড় নিয়ে যেতেন তিনি। কিন্তু খোকনের মৃত্যুর পর স্ত্রী হাবিবা খানম বাবলিকে চিনেন না বলে অস্বীকার করেন এই সাগর। মানবজমিন থেকে ফোনে এই প্রতিবেদক কথা বলেন সাগর নন্দীর সঙ্গে। তিনি ওই বাসায় যেতেন উল্লেখ করে তার কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ওই বাসায় যাতায়াত ছিল সত্য। কিন্তু সমাধান আমার পক্ষে সম্ভব না। কারণ হচ্ছে ভাইয়ের সম্পদ। তার ছেলেমেয়েরা এটা মানবে না।
উত্তর শাহজাহানপুরের বাসার আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে খোকনকে তারা মুসলমান হিসেবেই জানতেন। তারা তাকে খোকা ভাই ডাকতেন। তবে তিনি সকালে বাসা থেকে বের হতেন, ফিরতেন রাতে। এজন্য আশপাশের লোকজনের সঙ্গে তার তেমন ঘনিষ্ঠতা ছিল না। পাড়ার দোকানদার নজরুল ও বাসার গৃহপরিচারিকা তাসলিমা জানান, মাঝে মাঝে শুক্রবারে নামাজ পড়তে পাশের মসজিদে যেতেন খোকন। এছাড়া প্রতি ঈদ-উল আজহায় কোরবানি দিতেন এই দম্পতি। গরুর মাংস বিতরণ করতেন খোকন নিজেই। পাড়ার দোকানদার নজরুল, দেলোয়ার, বাসার তত্ত্বাবধায়ক আবদুস সালাম, গৃহপরিচারিকা তাসলিমাকে গরুর মাংস দিতেন প্রতি ঈদেই। কুরবানি দিতেন খোকার শ্বশুরবাড়ি অর্থাৎ বাবলির পিতার বাড়ি সিদ্ধেশ্বরীতে। উত্তর শাহজাহানপুরে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আছেন এই দম্পতি। বাসার মালিক আতাউর রহমানের ভাইপো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ-র ছাত্র এ টি এম তারেক জানান, খোকনকে একজন মুসলমান হিসেবেই জানেন তারা। খোকা একজন ব্যবসায়ী। সকালে বের হয়ে রাতে ফিরতেন। তাই তার সম্পর্কে খুব বেশি জানা নেই তাদের। হাবিবা আক্তার খানম বাবলির জাতীয় পরিচয়পত্রে তার পিতার নাম মৃত হাবিবুর রহমান, মায়ের মঞ্জুরা বেগম, জন্ম তারিখ ২রা ডিসেম্বর ১৯৫৬ সাল ও বাসার ঠিকানা ১১/১ সিদ্ধেশ্বরী উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু স্বামী হিসেবে কারও নাম উল্লেখ নেই। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোকার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানরা। এ বিষয়ে বাবলি বলেন, তখন এত কিছু চিন্তা করিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হাবিবা আক্তার খানম ওরফে বাবলির সঙ্গে খোকন নন্দীর পরিচয় হয় পুরানা পল্টনে একটি চটপটির দোকানে। পরিচয়ের সূত্র ধরে ১৯৮৪ সালের ২রা জুলাই তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮৬ সালে প্রথম স্ত্রী মীরাকে ডিভোর্স দেন খোকা। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র আদালতে দিয়েছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী হাবিবা খানম বাবলি। মীরার সঙ্গে খোকনের ভাই বাবুলের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয় জানার পরই খোকন দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন। বাবুল বর্তমানে মীরার সঙ্গেই রাজধানীর ১৫ রায়ের বাজারে থাকেন। এ বিষয়ে খোকনের গ্রামের বাড়ি মহেশখালীর জামালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া বলেন, জহরলাল নন্দীর সঙ্গে তার বৌদি মীরার অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি গোপন কিছু না। এটা আমরা সবাই জানি। এ কারণেই খোকা ধর্মান্তরিত হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন হাবিবা খানম বাবলিকে। বাবলিকে নিয়ে অনেকবার খোকা কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
সূত্র জানায়, খোকন ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে অসুস্থ হলেও ছোট ভাই সাগর ছাড়া অন্যরা তাকে দেখতে যেতেন না। গত এপ্রিল মাসে অসুস্থ হলে তাকে কলাবাগানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন ক্ষুব্ধ হয়ে মহেসখালীতে থাকা তার ছোটভাই শান্তি নন্দীকে ফোনে খোকা বলেছিলেন, তোরা কি আমাকে দেখতে আসবি না? এসময় শান্তি বলেছিলেন, আপনি মুসলমান। এসে কি করবো? আমরা তো আপনার লাশও পাবো না। তবে বারডেমে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে দেখতে এসেছিলেন খোকার ভাইয়েরা। বারডেমে ভর্তির সময় বাবলি ফোনে ডেকে এনেছিলেন খোকনের ম্যানেজার দুলাল চন্দ্রকে। হাসপাতালের যাবতীয় কাগজে খোকনের নাম খোকন নন্দী লেখান দুলাল। তবে সূত্রে জানা গেছে, ধর্মন্তরিত হলেও ব্যবসার প্রয়োজনে খোকা তার আগের নামই ব্যবহার করতেন।
এদিকে মীরা নন্দীর রায়ের বাগের ভাড়া বাসা ও ওই এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খোকন ওই বাসায়ও মাঝে মধ্যে যেতেন। ওই ভাড়া বাসার পাশের মুদি দোকানদার আবদুর রহমান খোকন প্রসঙ্গে বলেন, খোকন হিন্দু ধর্মের আচার অনুষ্ঠান পালন করতেন। মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়েরবাজারের সুলতানগঞ্জের কাপড় পট্টির ১৫ নম্বর হাজি ভবনের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, ওই বাসার এক তলায় ১/সি নম্বর ফ্ল্যাটে খোকন চৌধুরীর প্রথম স্ত্রী মীরা নন্দী তার ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকেন। তবে বাসায় কাউকে পাওয়া যায়নি। কাজের মেয়ে গৃহকর্মী দয়াকে সাংবাদিক পরিচয় দিলে কোন কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, সবাই গ্রামের বাড়িতে গেছেন। আমাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করে গেছেন। ওই বাড়ির মালিক আলহাজ নূরুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৫ মাস আগে মীরা নন্দী আমার কাছে একতলার একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়েছেন। তার স্বামী এ বাসায় সপ্তাহে দু’দিন থাকতেন। তিনি হিন্দুধর্ম পালন করতেন। সব সময় ধুতি পরে থাকতেন। দেখা হলেই আগেই নমস্কার বলে সম্মান জানাতেন। মানুষ হিসেবে মন্দ ছিলেন না। এ বিষয়ে ওই বাসার নিরাপত্তারক্ষী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, খোকন নন্দী একজন হিন্দু ছিলেন। ছোট ও বড় পূজায় তিনি আমাকে টাকা-পয়সা দিতেন। মৃত্যুর কয়েক দিন আগে একটি পাঞ্জাবিও কিনে দিয়েছিলেন। প্রায় ১ মাস আগে শুনতে পাই, তার আরেকটি স্ত্রী আছে। ওই স্ত্রীর বাসা রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায়। দ্বিতীয় স্ত্রীকে কেন্দ্র করে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝগড়া লেগে থাকতো। দ্বিতীয় স্ত্রী মুসলিম। আর প্রথম স্ত্রী হিন্দু। তাই কেউ কাউকে দেখতে পারতেন না। প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী পক্ষ থেকে খোকনকে চাপ দেয়া হতো উভয়কে তালাক দেয়ার জন্য। তিনি বলেন, মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি আমাকে বাসার পাশের মুরগি পট্টিতে মাংস আনতে দিয়েছিলেন। তখন তাকে আমি এক কেজি গরুর মাংস এনে দিলে তিনি আমাকে বলেন, গরুর মাংস আনলেন কেন। আমি তো হিন্দু। খোকনের বিষয় নিয়ে অনেকক্ষণ কথা হয় ওই বাসার পাশের মুদি দোকানদার আবদুর রহমানের সঙ্গে। বলেন, খোকন নন্দী প্রায় আমার দোকানে আড্ডা দিতেন। সন্ধ্যার পরই বেশি আসতেন। ছেলে বাবলু নন্দী জানান, তার পিতার লাশের শেষকৃত্য না হওয়ায় তাদের পরিবারের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। তিনি যেন স্বর্গ লাভ করেন এজন্য গ্রামের বাড়িতে শ্রদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আদালতে যে মামলা করা হয়েছে ওই মামলার রায় যদি তাদের বিপক্ষে যায় তাহলে তারা ওই রায় মানবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আশা করি বিজ্ঞ আদালত ন্যায়বিচার করবেন। এরপর থেকেই তার একটি ওয়ারিদ নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। রিং হলে রিসিভ করেন না। মৃতের ফার্মগেটের ক্যাপিটাল মার্কেটের ম্যানেজার দুলাল চন্দ্র রায় বলেন, গত রোজায় তিনি ক্যাপিটাল মার্কেটে সবাইকে ইফতারি খাইয়েছেন। তবে তার ম্যার্কেট, ব্যাংক একাউন্ট, ইনক্যাম টাক্স, মামলায় খোকন নন্দী উল্লেখ করা আছে।

এ পথ আওয়ামী লীগের নয় by সাজেদুল হক

ঘটনাটি বিস্ময়কর। তবে অভাবনীয় নয়। ক্রিকেটে এমন অঘটন নিয়মিতই ঘটে। ফুটবলে কখনও কখনও। কয়েকদিন আগে কর্মীর অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভা প- হয়ে যাওয়া তো বিস্ময়করই। কবে কোথায় কে ভেবেছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী দলের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটবে। অথচ আওয়ামী লীগই কিনা ক্ষমতায় রয়েছে টানা সাড়ে পাঁচ বছর। প্রবল-প্রমত্ত দলটি হারিয়ে গেছে সরকারের ভেতরে। দুনিয়াবি কারবারে ব্যস্ত নেতা-কর্মীরা। প্রত্যেকেই চেষ্টায় আছেন আখের গোছাতে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল। দৃশ্য একই। শুধু আওয়ামী লীগ নয় সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও এখন ব্যস্ত টেন্ডারবাজি আর ব্যবসা-বাণিজ্যে। ছাত্রলীগের কারণে বারবার বিব্রত হতে হয়েছে সরকারকে। ছাত্রসংগঠনটি এখন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আত্মঘাতী সংঘাতে লিপ্ত। যদিও এই দুর্বল দল নিয়ে প্রবল প্রতাপেই ক্ষমতায় টিকে আছে আওয়ামী লীগ। তবে নীতিনির্ধারকরা যে চিন্তিত নন তা নয়। কারণ তারাও জানেন, যদি কখনও ঝড় আসে তবে এই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সে ঝড় সামলাতে পারবেন না। অথচ অতীতে শত বিপর্যয়ের মুখেও আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো ছিল সক্রিয়। দিনের পর দিন সংগঠনের জন্য কাজ করে গেছেন নেতাকর্মীরা। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তা ছিল, উদ্বেগও ছিল। আওয়ামী লীগেরই একটি বড় অংশ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত রাজকৌশলেরই জয় হয়। এর জন্য নির্বিচারে ব্যবহার করা হয় পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনের পর দিন পরিচালনা করা হয় যৌথ বাহিনীর অভিযান। রীতিমতো পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয় দেশ। ‘অভিনব’ পদ্ধতিতে ক্ষমতায় আসার পর সরকারকে অবশ্য অভ্যন্তরীণভাবে তেমন কোন চাপ মোকাবিলা করতে হয়নি। গুম-মামলা-কারাগারের ভয়ে চুপসে যায় বিএনপি-জামায়াত। যদিও সরকারের সঙ্গে জামায়াতের সমঝোতার গুঞ্জন রয়েছে। হেফাজতের সঙ্গে সরকারের সমঝোতার বিষয়টি অবশ্য এখন একেবারেই স্পষ্ট। তবে ঈদের পর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার এ ঘোষণাকে প্রকাশ্য সরকার তেমন গুরুত্ব না দিলেও ভেতরে ভেতরে এক ধরনের উৎকণ্ঠা রয়েছে। কারণ সরকারের উপর থেকে আন্তর্জাতিক চাপ এখনও কমেনি। যদিও কৌশলে এ চাপ মোকাবিলা করে যাচ্ছে সরকার। দশম সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই একটি নতুন অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচনের জন্য পশ্চিমা বিশ্ব চাপ দিয়ে আসছে। এমনকি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা জুনেই একটি নতুন নির্বাচনের কথা বলেছিলেন। সর্বশেষ জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও সরকারকে সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ভারতীয় সরকার ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে তার বন্ধু সরকারের জন্য সম্ভাব্য সব কিছুই করেছে। বাংলাদেশের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্যও কাজ করে ভারত। তাদের ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও বাংলাদেশের ভারতের অবস্থানের জয় হয়। তবে দিল্লির মসনদে পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি দেখা যায়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফরের পর আওয়ামী লীগের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও অস্বস্তি পুরো কাটেনি। বিশেষ করে কংগ্রেস সরকারের মতো সমর্থন পাওয়া নিয়ে পুরোমাত্রাই সন্দিহান সরকারি নীতিনির্ধারকরা। এক্ষেত্রে বিরোধী দলের আন্দোলন এবং আন্তর্জাতিক চাপ একসঙ্গে সামলানো হবে সরকারের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী কতটুকু সক্রিয় থাকে সেদিকেও দৃষ্টি রয়েছে সরকারের। যদিও পূর্বমুখী নীতিতে শেখ হাসিনা সরকার আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন ও জাপান সফর করেন। জাপান বাংলাদেশকে বড় অংকের আর্থিক সহযোগিতার ঘোষণা দিলেও এ ব্যাপারে কিছু শর্ত রয়েছে। বিরোধী শক্তি ও আন্তর্জাতিক চাপের বাইরেও নিজ সমর্থনপুষ্ট প্রগতিশীল মহল থেকেও সরকার যে কোন সময় চাপের মুখে পড়তে পারে। কারণ জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধের বিচারে এক ধরনের শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন সমঝোতা, কেউ বলছেন সরকারি কৌশল। তবে জামায়াতের সঙ্গে সরকারের সমঝোতাকে আত্মঘাতী হবে বলেই মনে করেন আওয়ামী লীগ সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা। যদি শেষ পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে জামায়াতের সমঝোতার কোন প্রমাণ স্পষ্ট হয় সেক্ষেত্রে গণজাগরণ মঞ্চসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচিত অংশের আন্দোলনও মোকাবিলা করতে হতে পারে সরকারকে। অন্যদিকে, প্রকাশ্য আন্দোলন ও চাপের বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে এক ধরনের ষড়যন্ত্র এখনও সক্রিয় বলে মনে করেন সরকারি দলের নীতিনির্ধারকরাই। কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও সরকারের বিরুদ্ধে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেন। গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য আওয়ামী লীগের ত্যাগের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গায়েবি ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সেই ঐতিহ্য বহুলাংশেই ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিস্ময়কর হলেও সত্য, আওয়ামী লীগেরও কেউ কেউ একটি নতুন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষে রয়েছেন। যদিও তাদের কেউ প্রকাশ্য নন। কারণ এখনও পর্যন্ত সব কিছুই সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোথাও টু-শব্দটিও নেই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, এ নিয়ন্ত্রণ ক্ষণস্থায়ী। যে কোন সময়ই বদলে যেতে পারে দৃশ্যপট।