Tuesday, May 4, 2010

কার স্বার্থে দুদককে অকার্যকর করা হচ্ছে by বদিউল আলম মজুমদার

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রিসভা সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সংশোধিত আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে। অনুমোদিত খসড়াটি মূলত মন্ত্রিপরিষদের অধীনে শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশের আলোকে প্রণীত হয়েছে বলেই মনে হয়। জাতীয় সংসদে এটি পাস হলে দুদকের ক্ষমতা খর্ব হবে এবং প্রতিষ্ঠানটি অকার্যকর হয়ে পড়বে বলে অনেকের ধারণা। ইতিমধ্যে দুদক চেয়ারম্যান কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানটি নখ ও দন্তহীন বাঘে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা করেছেন। তাহলে কেন বা কার স্বার্থেই বা তা করা হচ্ছে?
দাপ্তরিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজে বা নিজের ঘনিষ্ঠজন বা সহযোগীদের লাভবান করার নামই দুর্নীতি। দুর্নীতির অপর নাম বেড়ায় খেত খাওয়া, রক্ষক ভক্ষকে পরিণত হওয়া। বেড়ায় খেত খেলে যেমন কৃষকের উন্নতি হতে পারে না, তেমনি দুর্নীতি যেকোনো জাতির অগ্রগতিকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করে। পৃথিবীতে সেসব জাতিই উন্নত ও সমৃদ্ধ হতে পেরেছে, যারা দুর্নীতিকে একটি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পেরেছে। এ ছাড়া দুর্নীতির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বস্তুত, দুর্নীতি দরিদ্রদের পেটে লাথি মারার সমতুল্য। তাই জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের দুর্নীতি দমনে আন্তরিক হতে হবে এবং এ ব্যাপারে সত্যিকারের অগ্রগতি অর্জন করতে হবে।
বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ইত্যাদি সমস্যা নিয়ে আজ নাগরিক জীবনে যে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে, তার নেপথ্যেও রয়েছে দুর্নীতি। দুর্নীতির কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস উৎপাদিত হয়নি, যা উৎপাদিত হয় তাও দুর্নীতির কবলে পড়ে যথাযথভাবে বিতরণ করা হচ্ছে না। তাই নাগরিকদের জন্য এসব অতি প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে হলে দুর্নীতির অবসান জরুরি।
দুর্নীতির কারণে আমাদের অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানও ধ্বংসপ্রায়। বিমান থেকে শুরু করে বন্দর পর্যন্ত আমাদের প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানই আজ দুর্নীতির আখড়া। হয় এগুলোর লোকসান জাতিকে গুনতে হয়, না হয় এগুলো সাধ্য অনুযায়ী উন্নয়নের জন্য সম্পদ জোগানে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না। বিমান আর বন্দর ব্যবহার করে সিঙ্গাপুরের মতো প্রাকৃতিক সম্পদহীন দেশ আজ উন্নতির উচ্চ শিখরে উঠেছে। কিন্তু এগুলো আমাদের জন্য চরম মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই জাতি হিসেবে আমাদের সমৃদ্ধি অর্জন করতে হলে এসব প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই।
এ ছাড়া দুর্নীতির সঙ্গে রাষ্ট্রের কার্যকরতাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলোই সাধারণত অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। আমেরিকান ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন তার জুলাই-আগস্ট, ২০০৯ সংখ্যায় ১২টি সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে ‘ফেইলড স্টেট ইনডেক্স’ বা অকার্যকর রাষ্ট্রের সূচক প্রকাশ করেছে। এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ২০তম। বাংলাদেশের আগে রয়েছে নিম্নক্রমানুসারে সোমালিয়া, জিম্বাবুয়ে, সুদান, চ্যাড, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইরাক, আফগানিস্তান, সেন্টাল আফ্রিকান রিপাবলিক, গিনি, পাকিস্তান, আইভরিকোস্ট, হাইতি, বার্মা, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, নর্থ কোরিয়া ও ইয়েমেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ঘোষিত দুর্নীতির ধারণাসূচকে এসব দেশের প্রায় সব কটির স্কোরই বাংলাদেশের চেয়ে কম, সমান বা তার কাছাকাছি। তাই এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে যে দুর্নীতি দমনে আন্তরিক না হলে আমাদের পরিণতিও অতি ভয়াবহ হতে পারে।
কার্যকরভাবে দুর্নীতি দমনের জন্য তিনটি জিনিস প্রয়োজন: একটি যথার্থ আইনি কাঠামো, দুদকের মতো শক্তিশালী ও বিচার বিভাগের মতো নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান, ব্যাপক গণসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ। ক্ষমতাসীনদের সুদৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া এগুলোর কোনোটিই অর্জন সম্ভব নয়।
স্বাধীনতা-পূর্ব কাল থেকেই আমাদের দেশে দুর্নীতি দমনের লক্ষ্যে একটি আইনি কাঠামো বিরাজমান ছিল। তবে এটি যথাযথ ছিল না এবং দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মতো প্রতিষ্ঠানও সঠিকভাবে কাজ করতে পারেনি। ফলে সমাজে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটে। এমন প্রেক্ষাপটে গত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪’ প্রণয়ন এবং এর অধীনে একটি কমিশন গঠন করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কমিশনারদের নিজেদের দুর্বলতা এবং তৎকালীন সরকারের অসহযোগিতার কারণে নবগঠিত প্রতিষ্ঠানটি কোনো রকম কার্যকরতা প্রদর্শন করতে পারেনি।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ন ও জনবলকাঠামো নিয়ে জটিলতার অবসান ঘটানো এবং কমিশনকে পুনর্গঠন করা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে ২০০৪ সালের আইনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীও আনা হয়। পুনর্গঠিত কমিশন দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে জোরদার এবং কয়েক শ দুর্নীতির মামলা করে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কারও কারও শাস্তিও হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আনীত সংশোধনীর মাধ্যমে কমিশনকে ‘একটি স্বাধীন, স্বশাসিত ও নিরপেক্ষ’ প্রতিষ্ঠানে [ধারা ৩(২)] পরিণত করা হয় (স্বশাসিত শব্দটি যোগ করা হয়)। এ ছাড়া এর মাধ্যমে কমিশনের আবশ্যক পূর্বানুমোদন ব্যতীত কমিশনের কর্মকর্তাদের ৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ পর্যন্ত গৃহীত কার‌্যাবলির ভূতাপেক্ষ (ex post facto) অনুমোদনের বিধান করা হয় [ধারা ১৮(২)]। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০১-এর অধীনের অপরাধগুলোও এর মাধ্যমে কমিশনের আওতায় আনা হয়।
বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশদ্বয়কে অনুমোদন না করে গত বছরের মাঝামাঝি কমিশনের আইন পর্যালোচনা ও সংশোধনের জন্য সুপারিশের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদের অধীনে একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করে। যেহেতু কমিশনের নিজস্ব সম্পদের উৎস নেই, তাই কমিটি আইন থেকে ‘স্বশাসিত’ শব্দটি বাদ দেওয়ার পক্ষে মতামত দেয়। কমিটি সরকার কর্তৃক কমিশনের সচিব নিয়োগের সুপারিশও করে। এ ছাড়া কমিশনকে রাষ্ট্রপতির কাছে জবাবদিহি করার পক্ষে কমিটি সুপারিশ করে। পর্যালোচনা কমিটির সবচেয়ে বিতর্কিত সুপারিশটি হলো সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করার ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি। উল্লেখ্য, অতীতের এমনই একটি বিধান ২০০৪ সালের আইনের মাধ্যমে রহিত করা হয়।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিটির এসব সুপারিশ প্রস্তাবিত খসড়া আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া খসড়া আইনে নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরকারের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশ্ন না করার বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সরকারের ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশ্ন করতে হলে কমিশনকে সমপদমর্যাদার কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে। এ ছাড়া দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপনকারীর বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার বিধান আইনে রাখা হয়েছে। দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারদর্শী কোনো সরকারি কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়ার সুযোগও আইনে রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত খসড়ার সবচেয়ে অগ্রহণযোগ্য বিধান হলো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে অনুমতির বাধ্যবাধকতা। শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত কমিটির এমন সুপারিশ সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক ও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। সরল বিশ্বাসে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে সরকারি কর্মকর্তারা দায়মুক্ত হতে পারলে অন্যান্য নাগরিকদের বেলায়ও তা প্রযোজ্য হবে না কেন? এ ছাড়া এমন বিধান আইনে থাকলে কমিশন আগের দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মতোই অকার্যকর হয়ে পড়বে বলে অনেকের আশঙ্কা। কারণ, এটি আজ সর্বজনবিদিত যে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে এক ধরনের অশুভ আঁতাতের ফলেই বাংলাদেশে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। তাই সরকারি কর্মকর্তাদের সুরক্ষার বিধান করে দুর্নীতি দমনের যেকোনো অভিযান ব্যর্থ হতে বাধ্য।
এ প্রসঙ্গে সংবিধান প্রণয়নের পর গণপরিষদের শেষ অধিবেশনে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রদত্ত ভাষণের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। তিনি বলেছিলেন: ‘সরকারি কর্মচারীরা একটি আলাদা জাতি নয়। তাঁরা আমাদের বাপ, আমাদের ভাই। তাঁরা কোনো different class নয়।...আইনের চক্ষে সাড়ে সাত কোটি মানুষের যে অধিকার, সরকারি কর্মচারীদেরও সেই অধিকার। মজদুর, কৃষকদের টাকা দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মাইনে, খাওয়া-পরার ব্যবস্থা করা হয়। সুতরাং মজদুর, কৃষকদের যে অধিকার, সরকারি কর্মচারীদের সেই অধিকার থাকবে। এর বেশি অধিকার তাঁরা পেতে পারেন না। সরকারি কর্মচারীদের মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে যে তাঁরা শাসক নন, তাঁরা সেবক।’ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদান এ চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংগতিপূর্ণ।
প্রস্তাবিত আইনে কমিশনকে রাষ্ট্রপতির কাছে জবাবদিহি করার সুপারিশের যৌক্তিকতা নিয়েও অনেকের মনে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। আমাদের সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ... প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাঁহার সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন।’ তাই দুদককে রাষ্ট্রপতির কাছে দায়বদ্ধ করলে প্রতিষ্ঠানটি মূলত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা নির্বাহী বিভাগের কাছে দায়বদ্ধ হয়ে যাবে এবং এর মাধ্যমে কমিশনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে। এ ছাড়া সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে দুদকের কমিশনারদের অপসারণের বিধান আইনে এরই মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উপরন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কমিটির সচিব নিয়োগের বিধানও কমিনের স্বাধীনতা খর্ব করবে। মন্ত্রী বা সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করার জন্য দুদকের একই পদমর্যাদার কর্মকর্তা নিয়োগের বাধ্যবাধকতাও সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
কমিটির আরেকটি সুপারিশও, যা খসড়া আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না আমরা জানি না, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুসন্ধান ও তদন্তকার্যে বাধা অপসারণের লক্ষ্যে দুদকের পক্ষ থেকে ২০০৪ সালের আইনের ১৯(১) এ ‘আপাতত বলবত্ অন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ, যাহা কিছুই থাকুক না কেন’ শব্দগুলো সংযোজনে দুদকের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়। কমিটি এ প্রস্তাবের বিপক্ষে সুপারিশ করে। দুর্নীতি দমন কার্যক্রমকে সত্যিকারার্থে জোরদার ও ফলপ্রসূ করতে হলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনকে অন্যান্য আইনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে বলে আমরা মনে করি।
পরিশেষে, এটি সুস্পষ্ট যে দুর্নীতি দমন কমিশনকে দুর্বল করলে বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে না এবং জনগণের স্বার্থও সংরক্ষিত হবে না। পক্ষান্তরে এর মাধ্যমে দুর্নীতিবাজেরা অন্যায় করে, তথা দরিদ্রদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে এবং দেশের ভবিষ্যেক জলাঞ্জলি, এমনকি হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে নিশ্চিন্তে পার পেয়ে যাবে। আমরা কি তা-ই চাই? এর মাধ্যমে কি আমরা ২০২১ সালের জন্য নির্ধারিত ‘ভিশন’ বা প্রত্যাশা পূরণে বাধাগ্রস্ত হব না? বস্তুত আমরা যদি সত্যিকারার্থেই বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে চাই, যা করতে বর্তমান সরকার তার দিনবদলের সনদে অঙ্গীকারবদ্ধ, তাহলে দুর্নীতি দমন কমিশনকে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা আবশ্যক। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে সংবিধান সংশোধন করে তা করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা সংসদে বর্তমান সরকারের রয়েছে।
তবে জাতি হিসেবে আমাদের বড় দুর্ভাগ্য যে বাংলাদেশ প্রায় সর্বদাই শাসকদের ক্ষুদ্র ও কোটারিস্বার্থে পরিচালিত হয়েছে। এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতেও কুণ্ঠাবোধ করা হয়নি। দুঃখজনক হলেও সত্য যে দিনবদলের সরকারের আমলেও এর খুব একটা ব্যত্যয় লক্ষ করা যায় না। যেমন, মাননীয় সাংসদদের স্বার্থে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্ত লঙ্ঘন করলে দলের নিবন্ধন বাতিল করার ক্ষমতা রহিত করে নির্বাচন কমিশনকে ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত করা হয়েছে। একইভাবে দলীয় ব্যক্তিদের উচ্চ আদালতে মনোনীত করে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা অতীতের মতো আবারও প্রশ্নের মুখোমুখি করা হয়েছে। নীতিনির্ধারকেরা কি ভাবেন না—কার স্বার্থ এতে সংরক্ষিত হবে?
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।

কাউন্সিলরদের অভিযোগ তদন্ত করুন -চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১০ জন কাউন্সিলর গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন: তাঁদের দায়িত্ব পালনের অবস্থা ‘ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দারের মতো’। বলা বাহুল্য, এই কাউন্সিলররা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, চট্টগ্রাম মহানগরের বাসিন্দাদের প্রত্যক্ষ ভোটে তাঁরা নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁরা বলছেন, সিটি করপোরেশন পরিচালনায় তাঁদের কোনো ক্ষমতা নেই; সংস্থাটির আয়-ব্যয়ের বিষয়ে সাধারণ সভায় তাঁরা কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেন না।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থার ধারণায় জনসাধারণের প্রতিনিধিত্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেখানে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের যথার্থ অংশগ্রহণের মাধ্যমে সব ধরনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে, আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে—এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় সুস্পষ্ট। মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে একক ক্ষমতা প্রয়োগ, ভিন্নমত পোষণকারী কাউন্সিলরদের কোণঠাসা করা, এমনকি অপমান-লাঞ্ছনা করার অভিযোগও একাধিকবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। গত শুক্রবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১০ জন কাউন্সিলর সংবাদ সম্মেলন ডেকে অভিযোগ তুলেছেন, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে জনগণের অর্থের অপচয় ও লুটপাট করা হচ্ছে। তাঁরা সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন এবং সেগুলোর লাভ-লোকসানের হিসাব চেয়েছেন।
এগুলো গুরুতর অভিযোগ। চট্টগ্রাম মহানগরের মানুষ তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উত্থাপিত এসব অভিযোগের ব্যাখ্যা অবশ্যই প্রত্যাশা করতে পারেন। মেয়রের উচিত, একা বা শুধু নিজের অনুগত কাউন্সিলরদের নিয়ে সিটি করপোরেশন পরিচালনার ঝোঁক ত্যাগ করে নির্বাচিত সব জনপ্রতিনিধিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা। বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের আগেও সবাই মিলে আলোচনা-পরামর্শ করা উচিত; অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মাত্রায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অবশ্যকর্তব্য। দৃষ্টান্তস্বরূপ, লালদীঘিতে সুইমিংপুল নির্মাণের ব্যাপারে মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘চট্টগ্রামের সৌন্দর্য বাড়াতে লালদীঘিতে সুইমিংপুল নির্মাণ করছি। চারদিকে বলা হচ্ছে, আমি নাকি দীঘি ভরাট করে ফেলছি।’ প্রশ্ন হচ্ছে, এ রকম কথা কেন বলা হচ্ছে? লালদীঘিতে সুইমিংপুল বা যেকোনো স্থাপনা নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সবার সঙ্গে আলোচনা করা হলে তো এমন প্রশ্ন উঠত না।
আমরা মনে করি, ১০ জন নির্বাচিত কাউন্সিলর যেসব অভিযোগ তুলেছেন, সেগুলোর তদন্ত হওয়া উচিত। তাঁরা সিটি করপোরেশনের যেসব প্রকল্পের আয়-ব্যয়ের হিসাব জানতে চেয়েছেন, সেগুলোর হিসাব প্রকাশ করা মেয়রের অবশ্যকর্তব্য। শুধু নির্বাচিত কাউন্সিলররাই নন, সিটি করপোরেশনের সাধারণ নাগরিকদেরও অধিকার রয়েছে তাঁদের করের অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে, তা জানার। সাধারণ নাগরিকদের পক্ষ থেকে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি তাঁদের নির্বাচিত কাউন্সিলরদের অবস্থানকে শক্তি জোগাতে পারে।

জঙ্গল মহলে মাওবাদীরা গড়েছে গেরিলা বাহিনী

ছত্তিশগড়, অন্ধ্র প্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডের ধাঁচে এবার পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গল মহলে মাওবাদীরা আদিবাসী তরুণ-তরুণীদের নিয়ে নতুন একটি গেরিলা বাহিনী গড়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী অধ্যুষিত পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুরা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গরিব আদিবাসী তরুণ-তরুণীদের জোর করে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নাম লিখিয়েছে এই গেরিলা বাহিনীতে।

সংকট নিরসনে থাই মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক

দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে থাইল্যান্ডের মন্ত্রিসভা গতকাল রোববার জরুরি বৈঠক করেছে। বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাপন্থী লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের সরকারবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ আন্দোলনের ফলে রাজধানীর বাইরেও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে বৈঠকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
এদিকে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অজিভিত্ ভেজ্জাজিভা গতকাল সাপ্তাহিক বেতার ভাষণে বলেছেন, সংকট নিরসনে তিনি কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই পদক্ষেপগুলো সরকারবিরোধী আন্দোলন অবসানে কাজে দেবে— এমনটা নিশ্চিত হওয়ার পরই তিনি সেগুলো প্রকাশ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তাঁদের আন্দোলনের ফলে অনেক ক্ষতি হতে পারে। এ বিষয়টি অবশ্য তিনি খোলাসা করেননি। তবে বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, পার্লামেন্ট বিলুপ্তির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত অঘোষিত গৃহযুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
সরকারের মুখপাত্র পানিতান ওয়াতানাগেনি জানিয়েছেন, মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক হয়েছে একটি সেনাঘাঁটিতে। বৈঠকে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা ও দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনের বিষয়টিও তাঁদের আলোচনায় প্রাধান্য পায়।

মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলা মামলার রায় আজ

২০০৮ সালের নভেম্বরে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলা মামলার রায় দেওয়া হবে আজ সোমবার। মুম্বাইয়ের আর্থার রোডের জেলখানায় স্থাপিত বিশেষ আদালতে চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। এরই মধ্যে আর্থার রোডের জেলখানা ও এর আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
মুম্বাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত একমাত্র জীবিত পাকিস্তানি জঙ্গি মোহাম্মদ আজমল আমির কাসাবকে (২২) আর্থার রোডের জেলখানায় অন্তরীণ রাখা হয়েছে। ‘ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ও হত্যাকাণ্ডসহ কাসাবের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। রায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
পুলিশ সূত্র জানায়, জেলখানার আশপাশে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি।
জেলখানার পার্শ্ববর্তী রাস্তা একমুখী করে দেওয়া হয়েছে। ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী সব গাড়ির নিবন্ধন নম্বর লিখে রাখছে পুলিশ।
কাসাবকেও রাখা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা-ব্যবস্থার মধ্যে। বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই তাঁকে রাখা হয়েছে বুলেটপ্রুফ কারাকক্ষে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৯০টি নগরে বিক্ষোভ

অভিবাসনবিরোধী কালো আইন বাতিলের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৯০টি নগরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রম দিবসে যুক্তরাষ্ট্রের রাজপথ ছিল বিক্ষোভকারীদের দখলে। শনিবার দিনভর অ্যারিজোনা থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত লাখো মানুষের পৃথক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সম্প্রতি অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে প্রণীত অভিবাসনবিরোধী কালো আইন বাতিলের সম্মিলিত স্লোগান উঠেছে দেশজুড়ে। ওই আইনে পুলিশকে যেকোনো অভিবাসীকে তল্লাশি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন যেকোনো ব্যক্তিকে পুলিশ বৈধতার সনদের জন্য চ্যালেঞ্জ করতে পারবে। গ্রিনকার্ড দেখাতে না পারলে গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার করা যাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে।
যুক্তরাষ্ট্রে দেড় কোটিরও বেশি অবৈধ অভিবাসী অবস্থান করছেন। বৈধতার সনদের জন্য দীর্ঘদিনের টানা সংগ্রামে অনেকেই এখন তাঁদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে ছাত্রসংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলোর ব্যাপক উপস্থিতি ছিল শনিবারের বিক্ষোভ সমাবেশে। সব নগরেই বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল মোটামুটি শান্তিপূর্ণ। তবে নাগরিক আইন লঙ্ঘনের জন্য পুলিশ ৩৫ জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবারের বিক্ষোভ সমাবেশে অভিবাসী গোষ্ঠীগুলো প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভেঙে পড়া অভিবাসন আইনের সংস্কারের জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রতি আহ্বান জানায় তারা।
নিউইয়র্ক নগরে প্রায় ১০ হাজার বিক্ষোভকারীর সমাবেশে শ্রমিকনেতা জন ভেলনাডো বলেছেন, ‘অ্যারিজোনার গভর্নরকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। অভিবাসীদের তিনি উসকে দিয়েছেন। দাবি আদায় করেই অভিবাসীরা এবার ঘরে ফিরবে।’
লস অ্যাঞ্জেলেস নগরের সমাবেশ ছিল সবচেয়ে বড়। এখানে প্রায় ৬০ হাজার বিক্ষোভকারী সমাবেশে অংশ নেন। সংগীততারকা গ্লোরিয়া এস্তেফান সমাবেশে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে অভিবাসীদের দেশ। এ দেশ থেকে কাউকে তাড়ানোর অধিকার কারও নেই। কিউবায় জন্ম নেওয়া এ সংগীততারকা বলেন, ‘এ দেশকে আমরা অনেক দিয়েছি, দেশটিও আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে।’
শিকাগো নগরে ২০ হাজার বিক্ষোভকারীর সমাবেশটি উৎসবে পরিণত হয়। টেক্সাসের ডালাস নগরে ৩০ হাজারেরও বেশি লোকের সমাবেশে বলা হয়, অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নব্য নািসবাদী। ডেনভার নগরে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীর সমাবেশে বক্তারা বলেন, অ্যারিজোনার আইন মেক্সিকোর অভিবাসীদের লক্ষ্য করে প্রণীত হয়েছে। এ বৈষম্যমূলক আইনের দ্রুত প্রভাব পড়বে অন্যান্য অভিবাসীদের ওপর।
অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টুসন নগরে প্রায় ১০ হাজার বিক্ষোভকারী অভিবাসনবিরোধী কালো আইন অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। রাজধানী ফিনিক্সেও আলাদা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যেই অভিবাসন আইনের সংস্কার নিয়ে উদ্যোগী হবেন। তাঁর ক্ষমতা গ্রহণের পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও এ ক্ষেত্রে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ অভিবাসী গোষ্ঠীগুলো। যদিও হোয়াইট হাউস থেকে বারবার আভাস দেওয়া হচ্ছে, এ বছরের মধ্যেই অভিবাসন আইনের সংস্কার বাস্তবায়ন করবেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা জানাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে মজুদ করা পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা প্রকাশ করতে পারে ওয়াশিংটন। আজ সোমবার জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠেয় পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হতে পারে। সে দেশের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে গত শনিবার এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে এনপিটি সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল রোববার সকালে তেহরান ছেড়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তেহরান ছাড়ার আগে ইরানি প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, এনপিটি চুক্তি ব্যর্থ হয়েছে। এনপিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব করবে তেহরান।
আজকের এই সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন তাঁর দেশে মজুদ পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা কত তা জানাতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সরকারি কর্তাকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, সম্মেলনে ইরানি প্রেসিডেন্ট পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোর পরমাণু অস্ত্রের মজুদ নিয়ন্ত্রণের দাবি জানাতে পারেন। তিনি তেহরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পক্ষে তাঁর অবস্থান ব্যক্ত করতে পারেন। যদিও মনে করা হয়, তেহরানের এ কর্মসূচি এনপিটি চুক্তি লঙ্ঘন করছে।
অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত নয় হাজার পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজারই সক্রিয়। ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিউ আমেরিকা ফাউন্ডেশনের পরমাণু কৌশল ও পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধবিষয়ক পরিচালক জেফারি লুইস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যাসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হলে পরমাণু অস্ত্র হ্রাসে তা হবে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
এদিকে তেহরান ত্যাগের আগে ইরানি প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, আজকের বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো পরমাণু অস্ত্র তৈরি এবং এসব অস্ত্রের মজুদ বৃদ্ধি। পরমাণু শক্তিধর অনেক দেশ পরমাণু অস্ত্র তৈরি অব্যাহত রেখেছে। পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি কেউ মেনে চলেনি।

চোরাচালান চক্রের সন্ধান পেয়েছে পাকিস্তান

পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ একটি বড় চোরাচালান চক্রের সন্ধান পেয়েছে। এই চক্রটি আফগানিস্তানে মোতায়েন ন্যাটো বাহিনীর কনটেইনারে করে বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য পাচার করে থাকে।
শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আমরা অ্যালকোহল, দামি মসলা ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যবোঝাই ৩০টি কনটেইনার আটক করেছি। কনটেইনারগুলোর রেজিস্ট্রেশন ছিল ন্যাটোর নামে। তিনি এ চোরাচালানের সঙ্গে শুল্ক কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রসঙ্গটি নাকচ করে দেননি।
ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক এফআইআর ও তদন্তে দেখা যাচ্ছে, চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিরা কয়েক মাস থেকে এই কাজে ন্যাটোর কনটেইনার ব্যবহার করছে।

ধর্মঘটে নেপাল অচল

নেপালে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মাওবাদীদের ডাকা ধর্মঘটে গোটা দেশ অচল হয়ে পড়েছে। শনিবার মে দিবসে কাঠমান্ডুতে লাখ লাখ কর্মী-সমর্থক বিক্ষোভ, শোভাযাত্রা ও সমাবেশ করার পর গতকাল রোববার থেকে তারা দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তারা গতকাল পুরোদমে ধর্মঘট পালন শুরু করে। মাওবাদীরা বলেছে, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা থেকে সরে না দাঁড়ানো পর্যন্ত তারা ধর্মঘট চালিয়ে যাবে। খবর এএফপি।
সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, স্বতস্ফূর্ত ধর্মঘটে প্রায় সমগ্র দেশ অচল হয়ে পড়েছে। বড় বড় মহাসড়ক থেকে শুরু করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সব সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। গতকাল কলকারখানা, দোকানপাট, সরকারি ও বেসরকারি কার্যালয় বন্ধ ছিল। সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দ্বাদশ শ্রেণীর নির্ধারিত পরীক্ষা মুলতবি করা হয়েছে। মাওবাদীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোগী বহনকারী গাড়ি, সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স এবং সংবাদকর্মী ও বিদেশি পর্যটকদের গাড়ি তারা আটকাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে পারে, সে জন্য প্রতিদিন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মার্কেট ও দোকান খুলতে দেওয়া হবে।
গতকাল হাজার হাজার মাওবাদী কর্মী-সমর্থককে লাল পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মিছিল ও পদযাত্রা করতে দেখা যায়। কাঠমান্ডুর রাজপথে ছিল ‘লালের স্রোত’। কর্মী-সমর্থকদের মুহুর্মুহু সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীদের এক জায়গায় জড়ে হয়ে নাচে-গানে মেতে উঠতে দেখা যায়।
২০০৬ সালে এক শান্তিচুক্তি অনুযায়ী মাওবাদী গেরিলারা অস্ত্র সমর্পণ করে মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হয়। চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২৮ মের মধ্যে নেপালে নতুন সংবিধান চালু করার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংবিধানের খসড়া প্রণয়নে আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় মাওবাদীরা এ আন্দোলনের ডাক দেয়। তাদের অভিযোগ, সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তরিক নয় এবং সে কারণেই তারা সংবিধান নিয়ে গড়িমসি করছে।
মাওবাদী প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহল ওরফে প্রচণ্ড বলেছেন, মাধব কুমার নেপাল প্রধানমন্ত্রীর আসন থেকে সরে না দাঁড়ানো পর্যন্ত তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন। প্রচণ্ড অভিযোগ করেছেন, ভুটানে সার্ক সম্মেলনে যোগদানের পাশাপাশি সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং নেপালের প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপালের বৈঠক হয়েছে। সেখানে মনমোহন সিং মাধব কুমারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর সমর্থন পেয়েই মাধব গদি ছাড়তে রাজি হচ্ছেন না।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নিজের দল সিপিএন-ইউএমএলের শীর্ষ ৬০ জন নেতা তাঁকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা তাঁর পদত্যাগ চেয়ে দলের সভাপতি ঝালানাথ কনলের কাছে একটি স্মারকলিপিও দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, সংবিধান প্রণয়নের বিষয়ে তাঁদের হাতে খুব কম সময় রয়েছে। এ অবস্থায় বিক্ষোভকারীদের দাবি না মেনে তাদের সঙ্গে সংঘাতে গেলে দেশে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রীর সরে দাঁড়ানো উচিত।
এদিকে গতকাল পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মহেন্দ্রনগরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ছাড়া দেশের অন্য কোথাও তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
মাওবাদী নেত্রী ও সাংসদ সবিতা বুড়া বলেছেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে চান। তবে নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের দমনের চেষ্টা করলে তাঁরা তার প্রতিবাদ করবেন।
কর্মকর্তারা বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মাঠে নামানো হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা শুরু শিগগিরই

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হচ্ছে। গতকাল রোববার দেশ দুটির সরকারি কর্মকর্তারা একথা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের পরোক্ষ আলোচনা আরব লীগ সমর্থন করার পর তাঁরা এ কথা জানালেন। খবর এএফপি।
ইসরায়েলি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী দান্নি আয়ালন বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই কোনো ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়া এই শান্তি আলোচনার পক্ষে ছিলাম।’ তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে এই আলোচনা শুরু হবে।
আরব লীগ গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ শান্তি আলোচনা আবার শুরুর ব্যাপারে সমর্থন জানায়। আরব লীগের এই সমর্থনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, এটি একটি ইতিবাচক দিক।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত জর্জ মিশেল এ সপ্তাহে দুই পক্ষের সঙ্গে আরেক দফা আলোচনার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে যাবেন।
ফিলিস্তিনের জ্যেষ্ঠ আলোচক সায়েব এরাকাত জানান, প্রেসিডেন্ট আব্বাস আগামী শুক্রবার মিশেলের সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয় কবে মিশেলের সঙ্গে সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে এ ব্যাপারে তারা এখন কিছু ঘোষণা করেনি। তবে স্থানীয় প্রচারমাধ্যমের খবরে বলা হয়, জর্জ মিশেল আগামী মঙ্গলবার বা বুধবার সে দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

ভেঙে গেছে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট

পশ্চিমবঙ্গের ৮১টি পৌরসভা এবং কলকাতা পৌর করপোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসন ভাগাভাগি প্রশ্নে অবশেষে ভেঙে গেছে কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেস জোট। উভয় দলই শেষ পর্যন্ত পৃথকভাবে প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করায় স্পষ্ট হয়ে গেছে এই ভাঙন। এই ভাঙনের জন্য তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী করেছে কংগ্রেসকে। আর কংগ্রেস দায়ী করেছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। রাজ্যব্যাপী পরিবর্তনের হাওয়ায় এবার পৌরসভা নির্বাচনে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট বামফ্রন্টকে হারানোর একটি সুযোগ পেয়েছিল। এই ভাঙনের ফলে বাড়তি সুবিধা এনে দিল বামফ্রন্টকে।
কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস জোট বেঁধে ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে লড়েছিল। জোট বাঁধার কারণে ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও সাফল্য পেয়েছিল তারা। একইভাবে জোট বেঁধে চলছিল ৮১টি পৌরসভার নির্বাচনের প্রস্তুতি। কিন্তু ক্ষমতার মোহই এখন সেই জোটে ভাঙন ধরিয়েছে।
৩০ মে এই ৮১টি পৌরসভা ও কলকাতা পৌর করপোরেশনের নির্বাচন। আর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৪ মে। বামফ্রন্ট ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন পৌরসভা এবং কলকাতা পৌর করপোরেশনের ১৪১টি আসনের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। অথচ কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত আসন-সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। কংগ্রেস চেয়েছে ৫১টি আসন। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসকে ছেড়েছে মাত্র ২৫টি আসন। এই ২৫টি ছেড়ে বাকি আসনে বুধবার প্রার্থিতাও ঘোষণা করে তৃণমূল। এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি কংগ্রেস। তারা বলেছে, তাদের ৫১টি আসন দেওয়া না হলে তারা ৮৮টি আসনে লড়বে। শেষ পর্যন্ত শনিবার কংগ্রেসও ঘোষণা করে দেয় ৮৮টি আসনের প্রার্থীতালিকা। বলা হয়, বাকি ৫৩টি আসন রাখা হয়েছে তৃণমূলের জন্য।
এ ঘটনায় দারুণ ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবারই দিল্লি থেকে ঘোষণা দেন, তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের সব পৌরসভা এবং কলকাতা পৌর করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে লড়বে। একই সঙ্গে মমতা আরও বলেছেন, ‘আমরা জোট চেয়েছিলাম। জোট ভেঙেছে কংগ্রেস। এতে আমরাই লাভবান হব।’ অন্যদিকে কংগ্রেস বলেছে, জোট রাজনীতিতে এবার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে তৃণমূল। কংগ্রেস-তৃণমূল জোট ভেঙে যাওয়ায় বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু সতর্কতার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, এ নিয়ে বামদের উত্ফুল্ল হওয়ার কারণ নেই।

একাডেমি দলের ড্র

গ্রামীণফোন-বিসিবি একাডেমি কাপের দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচটিও ড্র করেছে জিপি-বিসিবি একাডেমি। ডি হেনড্রিকসের ১০৯ ও ডি মিলার ৯৮ রানের ইনিংসের কল্যাণে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯৮ রান তুলেছে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দল। ১০৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন শাকের আহমেদ। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে ৩৬১ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৩১ রান তোলে স্বাগতিক দল। সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন সাব্বির রহমান। প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমির ২২২ রানের জবাবে জিপি-বিসিবি তুলেছিল ২৬০ রান।

শ্রেষ্ঠত্বের সন্ধানে বাংলাদেশ

গত দক্ষিণ এশীয় (এসএ) গেমসের পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে নামছে বাংলাদেশ হকি দল। ৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বের প্রস্তুতি নিয়ে খেলোয়াড়দের বেশ সন্তুষ্টই লাগছে। এক সপ্তাহ টানা অনুশীলনের পর তিন দিনের বিরতি দিয়ে আজ থেকে আবারও শুরু হচ্ছে অনুশীলন।
এই কদিনের অনুশীলনে কি সন্তুষ্ট? গত এসএ গেমসের অধিনায়ক মশিউর রহমান (বিপ্লব) জানালেন, ‘অনুশীলন কম হয়েছে, এটা বলব না। আমরা তো এক অর্থে অনুশীলনের মধ্যেই ছিলাম। কেউ আবাহনী, কেউ মোহামেডানের হয়ে, এই যা। তবে কন্ডিশনাল প্র্যাকটিসটাও ভালোই হয়েছে।’ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়াই তাঁর লক্ষ্য, ‘এখানে যে দলগুলো খেলতে আসছে তাদের তুলনায় আমরা র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে। চার বছর আগে এই দলগুলোকে হারিয়েই আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। তা ছাড়া আমরা আত্মবিশ্বাসী যে চ্যাম্পিয়ন হতে পারব।’ দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কোচ পিটার গেরহার্ডও, ‘ছেলেরা অনুশীলনে যথেষ্ট পরিশ্রম করছে।’
এরই মধ্যে ঢাকায় আসতে শুরু করেছে দলগুলো। কাল রাতেই ঢাকা এসে পৌঁছানোর কথা হংকংয়ের। সিঙ্গাপুর আসবে ৫ মে। ৬ মে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।

শামীমা ও শারমিনের লড়াই

শীর্ষস্থান নিয়ে লড়াই জমে উঠেছে শামীমা আক্তার (লিজা) ও শারমিন সুলতানার (শিরিন) মধ্যে। আরলিন ডেভেলপার জাতীয় মহিলা দাবার অষ্টম রাউন্ড শেষে তাঁদের দুজনেরই সংগ্রহ সাড়ে সাত পয়েন্ট করে। সাড়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে মাসুদা বেগম। তৃতীয় স্থানে নাজরানা খান (ইভা)। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে কাল অষ্টম রাউন্ডে শারমিন প্রতিভা তালুকদারকে, শামীমা রোকসানা তিতলীকে এবং জাকিয়া সুলতানা দিলারা জাহানকে হারিয়েছেন। নাজরানার সঙ্গে ড্র করেছেন আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ।

হ্যারিসের কাছেই হারল ‘এ’ দল

দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ ফলোঅন না করানোয় প্রথম ম্যাচের মতো ইনিংসে হারতে হয়নি, তবে বড় হার এড়ানো যায়নি। ১৮৫ রানে হেরে দুই ম্যাচ সিরিজে ‘হোয়াইটওয়াশ’ বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ৯ উইকেট নিয়ে সফরকারীদের জয়ের নায়ক ম্যাচের আগের দিন দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া পল হ্যারিস।
চতুর্থ ইনিংসে ৪৪১ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় দিনেই ৪ উইকেট হারিয়ে ১২৫ রান করেছিল বাংলাদেশ ‘এ’। কাল ২৯.৪ ওভারে মাত্র ১০০ রান যোগ করেই হারাতে হয়েছে বাকি ৬ উইকেট। প্রথম ইনিংসে দলের সেরা দুই ব্যাটসম্যান শামসুর রহমান ও ফয়সাল হোসেন সফল দ্বিতীয় ইনিংসেও। ৫৭ রান করা শামসুর আউট হয়েছিলেন আগের দিনই, ফয়সাল করেছেন ৪৩ রান। এই দুজন ছাড়া বলার মতো রান পেয়েছেন আর কেবল মেহরাব হোসেন (৪১)। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট পাওয়া হ্যারিস প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে দ্বিতীয় ১০ উইকেটের দেখা পাননি, তবে ৩ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার তিনিই।
৩ উইকেটে ১২৮ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করা বাংলাদেশ ‘এ’ প্রথম ইনিংসে অলআউট ২১৫ রানেই। শামসুরের ৮৯ ছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন কেবল ফয়সাল (৩৭)। ফয়সাল সফল ছিলেন বল হাতেও। প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার যে ৩টি উইকেট পড়েছে, তার দুটোই নিয়েছেন এই বাঁহাতি। ২৬৭ রানের লিড পাওয়ার পরও বাংলাদেশকে ফলোঅন না করিয়ে আবার ব্যাটিংয়ে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’। ৯১ বলে ৬৮ রান করা রিলে রোজু আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইনিংস ঘোষণা করে তারা ১৪৩ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর : দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’: ৪৮২ ও ৩৩.৪ ওভারে ১৪৩/৩ (ডিক্লে.); (রোজু ৬৮, পিটারসেন ৪০; ফয়সাল ২/৩৪, নাবিল ১/২৯)। বাংলাদেশ ‘এ’: ৫৯.২ ওভারে ২১৫ (শামসুর ৮৯, ফয়সাল ৩৭; হ্যারিস ৬/৯০, তোতসোবে ২/২৯, ফ্রেন্ড ১/১৯, ফিল্যান্ডার ১/৩৬) ও ৬৬.৪ ওভারে ২২৫ (শামসুর ৫৭, ফয়সাল ৪৩, মেহরাব ৪১; হ্যারিস ৩/৮৫, ফিল্যান্ডার ২/২১, ফ্রেন্ড ২/২৩, এলগার ২/৪০)।

প্রথম বিভাগ বাস্কেটবল

প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রথম বিভাগ বাস্কেটবলে ঈগলেটস ক্লাব ৫৯-৫৬ পয়েন্টে যোশে ফাইটস ক্লাবকে এবং হরনেটস ক্লাব ৭৪-৫১ পয়েন্টে রেইথস ক্লাবকে হারিয়েছে।

সুপার কাপে এবারই বিদেশি দল

পেশাদার ফুটবল লিগের দর্শক-খরা কাটিয়ে মাঠে আবার দর্শক আনার সুযোগ আসছে বাফুফের সামনে। উপলক্ষ—কোটি টাকার সেই আলোচিত সুপার কাপ। গতবার প্রথম আসরেই সাড়া ফেলা টুর্নামেন্টটি আবার মাঠে নামছে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার ৮-১০ দিনের মধ্যেই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসর শুরু হবে।
সুপার কাপ কমিটি (গতবারের কমিটিই বহাল) পরশু দ্বিতীয় টুর্নামেন্টের খসড়া রূপরেখা তৈরি করেছে সভায় বসে।
আজ বাফুফে নির্বাহী কমিটির সভায় তা উপস্থাপিত হবে। কমিটির দেওয়া সবচেয়ে বড় প্রস্তাব হচ্ছে, এবারই প্রথম দেশের বাইরে উপমহাদেশের দুটি দল নিয়ে আসা। যদিও গত বছর বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলেছিলেন, প্রথম দুটি টুর্নামেন্টে শুধু স্থানীয় দলই খেলবে। ২০১১ সালে আনা হবে বিদেশি দল।
দ্বিতীয় টুর্নামেন্টই বিদেশি দল আনার পক্ষে সুপার কাপ কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও বাফুফের সহসভাপতি শওকত আলী খানের (জাহাঙ্গীর) যুক্তি, ‘যেহেতু এবার ৮টির পরিবর্তে ৬টি দল নেওয়া হচ্ছে, তাই বিদেশি দুটি দল আনলে ভালো হবে। তা ছাড়া এমন প্রস্তাব গতবারই উঠেছিল। বিদেশি দল আনা হলে টুর্নামেন্টের আকর্ষণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে।’
বাফুফে সভাপতি চাইলেই কেবল তা হতে পারে। তিনি কি চান? ‘আগে প্রস্তাব দেখি, তার পর বলব। কাল (আজ) ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভা আছে, সেখানে আলোচনা হতে পারে’—গতকাল বলেছেন সালাউদ্দিন।
বিদেশি দল এলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়বে স্থানীয় দল এবং এতে টুর্নামেন্টের আকর্ষণও বাড়বে। তবে যেনতেন বিদেশি দল হলে হবে না। ভালো দল আনা যাবে কি না, সেটাই প্রশ্ন। জানা গেছে, ভারতীয় দল আনার চিন্তাই বেশি, তবে ওই দেশের দল পাওয়া এখন কঠিন তাদের ঘরোয়া সূচির জন্য। মালদ্বীপের দল হয়তো পাওয়া যেতে পারে।
তবে নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার দল টুর্নামেন্টের আকর্ষণ বাড়াতে পারবে না বলে মনে করেন সুপার কমিটির কর্মকর্তারা। তা ছাড়া বিদেশি দল যদি চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেড় লাখ ডলার নিয়ে যায় দেশের লাভটা কী হবে?
ওদিকে ৬ দলের টুর্নামেন্ট হবে ছোট টুর্নামেন্ট। লিগভিত্তিক খেলা হবে এবং সেরা চার দল নিয়ে সেমিফাইনাল। সে ক্ষেত্রে গতবারের মতো প্লেট গ্রুপ থাকবে না। গতবারের মতো এবারও দল নেওয়া হবে পেশাদার লিগ থেকে। প্রথমবার সুযোগ পেয়েছিল ৮ দল। এবার ছয় দল রাখায় ছোট দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে। কারণ ওই দলগুলোর একমাত্র লক্ষ্য সুপার কাপে খেলা।
অন্যান্য প্রস্তাব: গতবারের মতো এবারও ৫ বিদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারবে আর খেলতে পারবে ৩ জন। রানার্সআপ দলের অর্থ পুরস্কার ৫ লাখ বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা।

লির চোখে বিশ্বকাপ ২০১১

আবারও ইনজুরির কবলে ব্রেট লি। আবারও সংশয়ে এই গতিতারকার ক্যারিয়ার। কোনো সংবাদমাধ্যম নয়, খোদ অস্ট্রেলীয় প্রধান নির্বাচক অ্যান্ড্রু হিলডিচ বলছেন, দলে ফিরতে হলে এখন ব্রেট লিকে নিজের সেরাটা দেখিয়েই ফিরতে হবে।
একের পর এক ইনজুরিতে জর্জরিত ব্রেট লি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গিয়েছিলেন আশা নিয়ে। অনুশীলন ম্যাচে মাঠেও নেমেছিলেন। কিন্তু আবার কনুইয়ের কাছে মাংসপেশিতে চোট পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে দেশে। এর মাত্র কিছুদিন আগে আইপিএলে খেলতে গিয়ে পায়ের বুড়ো আঙুল ভেঙে ফেলেছিলেন। আইপিএলে খেলতে এসেছিলেন কনুইয়ের একটা অস্ত্রোপচারের পর! ওয়েবসাইট।
তবে আবার ইনজুরির ধাক্কায় লি খুব ভেঙে পড়েননি। ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিস করে আমি অবশ্যই হতাশ। তাই বলে আমি একেবারে মুষড়ে পড়েছি, ভেঙে পড়েছি বা ঘুমের মধ্যে কান্নাকাটি করছি; এমন নয়। অন্যান্য সময়ের মতোই অনুশীলন করছি, দৌড়াচ্ছি, ভালো করার জন্য সবকিছুই করছি।’ লি এসব করছেন এই উপমহাদেশে বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্যে,’ খেলাটা ভারতে হবে। আর ভারতকে আমি নিজের দ্বিতীয় বাড়ি মনে করি। এই বিশ্বকাপে আমি অবশ্যই ভালো কিছু করতে চাই।’

মুখ খুললেন গাভাস্কার

আইসিসির ক্রিকেট কমিটির প্রধান হয়েও ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থার নানা ভুলত্রুটির ক্ষুরধার সমালোচনা উঠে এসেছে তাঁর কলামে। শেষে তো হয় আইসিসি ক্রিকেট কমিটির প্রধান, নয়তো কলাম লেখক—এই দুইয়ের একটি ভূমিকা বেছে নিতে বাধ্য করা হয়েছিল তাঁকে। সুনীল গাভাস্কার বেছে নিয়েছিলেন কলাম লেখকের ভূমিকাই!
সেই গাভাস্কার আইপিএল নিয়ে এত কাণ্ড হয়ে যাওয়ার পরও মুখে যেন কুলুপ এঁটে বসেছিলেন। কারও কারও খোঁচা ছিল এমন, কথা বলবেন কী, লাভের গুড় তো খেয়েছেন তিনিও! অবশেষে গাভাস্কার স্বীকার করে নিলেন, আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য হওয়ার পরও আর্থিক অসংগতি আর অনিয়ম নিয়ে খুব একটা খোঁজখবর তিনি রাখতেন না। আইপিএলের বৈঠকে এ প্রসঙ্গে যখন আলোচনা হতো, সেটার বিন্দুবিসর্গও নাকি তিনি বুঝতেন না! এবং এ জন্য তিনি অনুতপ্ত।
অনেকেই বলছে, লোলিত মোদি কেন একা শাস্তি পাবেন? আইপিএলে যাতে কোনো অনিয়ম না হয় সেসব দেখার ভার ছিল যাঁদের ওপর, তাঁরা কেন বিনা শাস্তিতে পার পেয়ে যাবেন?

এক ওভারে ৫ উইকেট হারিয়েও অস্ট্রেলিয়ার জয়

এক ওভারে ৫ উইকেট হাওয়া, কোনো রানও হয়নি। যে দলের এমন অবস্থা হয়, হোক না টি-টোয়েন্টি, ইনিংস শেষে সেই দলের স্কোর বোর্ডে কত রান জমা পড়বে, অনুমান করতে পারেন? যদি শোনেন সেই দলের স্কোর বোর্ডে ২০ ওভার শেষে ১০ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান এবং ম্যাচ শেষে সেই দলটিই জয়ী, তাহলে নিশ্চয়ই অবাক হবেন।
কাল পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া এটাই করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই প্রথম এক ওভারে ৫ উইকেট পড়ার ঘটনা জন্ম দিয়েও ৩৪ রানে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ১৯২ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ১৫৭ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। এক ওভারে ৫ উইকেট পড়ার ঘটনাটি ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শেষ ওভারে। রান যা করার এর আগেই করেছে তারা। ওয়াটসন ও মাইক হাসির দারুণ দুটি ইনিংসের কল্যাণেই আসলে ১৯১ রান তুলতে পেরেছে তারা। ৪৯ বলে ৭টি চার ও ৪টি ছয়ে ৮১ রান করেছেন ওয়াটসন। আর হাসি ৫৩ রান তুলেছেন ২৯ বলে। ২টি চার ও ৫টি ছয় মেরেছেন তিনি। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৯৮ রান তুলেছেন ওয়াটসন-হাসি।
পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির ও সাঈদ আজমল নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। আমিরের পাওয়া উইকেট তিনটি শেষ ওভারে। বাকি দুটি হয়েছে রানআউট।