Friday, August 13, 2021

ইসলামভীতির শিকার ইলহান ওমর-রাশিদা তালিব, ‘জীবন ঝুঁকিতে’

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধি পরিষদের মুসলিম মার্কিন সদস্য ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিবের বিরুদ্ধে আক্রমণের মাধ্যমে ইসলামভীতি ছড়িয়ে দিচ্ছে আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপিএসি)। এর মধ্য দিয়ে তারা এসব মুসলিম কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে হামলায় উৎসাহ দিয়ে ঝুঁকিকে দ্বিগুন করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ইলহান ওমরের একজন সহযোগী বলেছেন, এমন আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ইলহান ওমরের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে এআইপিএসি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলপন্থি এডভোকেসি গ্রুপ হলো এআইপিএসি। তারা দ্বিপক্ষীয় (বাইপার্টিসান) হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করে। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেসে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যেসব সদস্য সমালোচনা করেন, তাদের বিরুদ্ধে তারা দীর্ঘদিন বিজ্ঞাপন প্রচার করে যাচ্ছে। এটা করা হচ্ছে বিশেষ করে যারা ডেমোক্রেট, তাদের বিরুদ্ধে।
ইলহান ওমরের যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক জেরেমি স্লেভিন বুধবার এআইপিএসি-এর কড়া সমালোচনা করেছেন। তারা একটি পোস্ট স্পন্সর করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, ইলহান ওমর যুক্তরাষ্ট্র এবং তালেবানের মধ্যে, ইসরাইল এবং হামাস, গণতন্ত্র এবং সন্ত্রাসের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখতে পারছেন না।
জেরেমি স্লেভিন বলেছেন, কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর যেসব ঘৃণাপ্রসূত ম্যাসেজ পেয়েছেন ঠিক সেই রকমই ভাষা ব্যবহার করেছে এআইপিএসি। স্লেভিন লিখেছেন, কোনো ভুল করবেন না। ইসলামভীতি থেকে বার বার বিজ্ঞাপন প্রচার করার মাধ্যমে প্রতিনিধি ইলহান ওমরের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে এআইপিএসি। এটা বলা উচিত নয়, কিন্তু মুসলিম-আমেরিকানদের ভিত্তিহীনভাবে সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত করা হলো ইসলামভীতির একটি টেক্সটবুক উদাহরণ। এর মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার বিষয়ক এই নারীর কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে নিয়মিতভাবে এটা করা হচ্ছে।
জেরেমি স্লেভিনের এই পোস্টের পর ওয়াশিংটনভিত্তিক নাগরিক অধিকার বিষয়ক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্স একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে এআইপিএসির এমন বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানো হয়েছে। ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে এমন প্রচারণাকে তারা ইসলামভীতি, অসততা এবং বিপজ্জনক বিজ্ঞাপন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। কেয়ার-এর উপ নির্বাহী পরিচালক এডওয়ার্ড আহমেদ মিশেল বলেছেন, এআইপিএসির এমন ইসলামভীতির ভাষা ফেসবুকের ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রতিনিধি ইলহান ওমর ও অন্য মুসলিম আমেরিকান নেতাদের বিরুদ্ধে সহিংস হুমকি উস্কে দেবে। খুব সহজভাবে বলা যায়, এআইপিএসির এই একগুঁয়েমিতে ইলহান ওমরের জীবন ঝুঁকিতে। এসব ঘৃণাপ্রসূত বিজ্ঞাপন অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা উচিত ফেসবুক কর্তৃপক্ষের। পক্ষান্তরে ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে এভাবে ইসলামভীতি, ঘৃণা উসকে দেয়ার জন্য এআইপিএসির বিরুদ্ধে নিন্দা জানানো উচিত কংগ্রেসনাল নেতাদের।
কিন্তু এই ক্ষোভ এআইপিএসির গতিবিধি পাল্টাতে পারেনি। উল্টো ইসরাইলপন্থি এই গ্রুপটি তাদের বার্তায় মিনেসোটার ডেমোক্রেট প্রতিনিধি ইলহান ওমরকে সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত বলে বার্তা প্রচার করেছে আবারও। জেরেমি স্লেভিনের প্রতিক্রিয়ার জবাবে এআইপিএসি একটি টুইট করেছে। তাতে তারা বলেছে, আপনি আমাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। ইলহান ওমর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে আক্রমণ করে কথা বলছেন। আপনার এই আক্রমণ আমাদেরকে ইলহান ওমরের বিষয়ে বিচ্যুত করতে পারবে না। প্রতিনিধি ইলহান ওমর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলকে তালেবান এবং হামাসের মতো একই পর্যায়ে ফেলেছেন। এটা ক্ষোভের। গণতান্ত্রিক মিত্র এবং সন্ত্রাসীদের মধ্যে কোনো নৈতিক সমতা করা চলে না। এসব সন্ত্রাসী গণতান্ত্রিক মিত্রদের টার্গেট করে।
এখানে উল্লেখ্য, ইসরাইলপন্থি এই গ্রুপটি জুনের একটি বিতর্কের দিকে ইঙ্গিত করেছে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনকে প্রশ্ন করেছিলেন ইলহান ওমর। আফগানিস্তান এবং ফিলিস্তিনে যুদ্ধাপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন- এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি কংগ্রেশনাল শুনানিতে ব্লিনকেনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন- এই দুটি ঘটনার ক্ষেত্রে যদি আভ্যন্তরীণ আদালত বিচার করতে না পারে, ন্যায়বিচার করতে না এবং আমরা যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরোধিতা করি, তাহলে দমিয়ে রাখার জন্য অপরাধের শিকার যেসব মানুষ তারা ন্যায়বিচারের জন্য কোথায় যাবে বলে আমরা মনে করি?
ইলহান ওমর পরে এর একটি ভিডিও পোস্ট করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এর সঙ্গে যুক্ত করে দেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের পক্ষ থেকে কিভাবে নিন্দার ঝড় বয়ে গেছে, তা। ইলহান ওমর লিখেছেন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শিকার সবার জন্য জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচারের জন্য সমতা বজায় রাখতেই হবে। যুক্তরাষ্ট্র, হামাস, ইসরাইল, আফগানিস্তান এবং তালেবানদের দ্বারা অচিন্তনীয় নৃশংসতা প্রত্যক্ষ করেছি আমরা।
তবে তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সুনির্দিষ্ট কিছু মামলার বিষয়ে উল্লেখ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে তালেবান ও হামাসের সঙ্গে যুক্ত করেননি। এরপরই প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেট নেতারা তার এই ব্যাখ্যাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু ওই ইস্যু থেকে সরে আসেনি এআইপিএসি। তারা শুধু ইলহান ওমরকে আক্রমণ করেই ক্ষান্ত দেয়নি। তারা একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ও ফিলিস্তিনে মানবাধিকার বিষয়ক প্রথম সারির সমর্থক রাশিদা তালিবের বিরুদ্ধেও আক্রমণ করেছে। বুধবার তার বিরুদ্ধেও নেমেছে এআইপিএসি।
জেরেমি স্লেভিনের পোস্টের জবাবে মিশিগানের এই কংগ্রেসওমেন লিখেছেন, এসব নিয়ে আমি খুবই মর্মপীড়ায়। তিনি লিখেছেন, ইসরাইল ছড়িয়ে দিচ্ছে ঘৃণার উস্কানি। বিদ্বেষপূর্ণ, বিপজ্জনক মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। এতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে না।
ওদিকে টুইটার একাউন্টের শীর্ষে রাশিদা তালিবের বিরুদ্ধে পোস্ট ‘পিন’ বা স্থির করেছে এআইপিএসি। এ অবস্থায় আমেরিকান-আরব এন্টি-ডিসক্রিমিনেশন কমিটির (এডিসি) আইনি পরিচালক আবেদ আয়ুব এআইপিএসির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেছেন, বার বার ইসলামভীতি ছড়িয়ে দিচ্ছে এআইপিএসি। ফিলিস্তিনি অধিকারের সমর্থকদের বিরুদ্ধে এন্টি-আরব আক্রমণ চালাচ্ছে তারা। বার বার তারা এটাই দেখিয়েছে যে, আসলেই তারা ধর্মান্ধ ও বর্ণবাদী।


মন্ত্রী কথন- মুহূর্তে মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন

করোনা-ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত এপ্রিল মাস থেকে দফায় দফায় বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে কখনো সাধারণ ছুটি, কখনো চলাফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। আবার জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ করে শিল্প-কারখানা খোলা রাখা হয়েছে। আবার সমালোচনার মুখে গণপরিবহন চালু হয়েছে। সর্বশেষ ১১ই আগস্ট থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু খুলে দিলেও অর্ধেক গণপরিবহন চলার বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়। গতকাল আবার প্রজ্ঞাপন দিয়ে ১৯শে আগস্ট থেকে সকল গণপরিবহন চালানোর অনুমতি দেয়া হয়। বারবার সিদ্ধান্ত বদলের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিধিনিষেধ জারির পর প্রথম কয়েকদিন কঠোর অবস্থানে থাকে প্রশাসন। পরে আবার সবকিছু ঢিলেঢালাভাবে চলতে থাকে। ফলে লকডাউনের যে মূল উদ্দেশ্য তা অর্জন হচ্ছে না। ভ্যাকসিন নিয়ে সরকারের যে খসড়া পরিকল্পনা ছিল তাও সরবরাহের ঘাটতি থাকার কারণে বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকার দফায় দফায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে করোনা মোকাবিলার মূল অস্ত্রই হচ্ছে ভ্যাকসিন। পাশাপাশি জনগণকে মাস্ক পরানো নিশ্চিত করা। কিন্তু এই দুই ইস্যুতেই সরকার পরিকল্পনা মাফিক এগোতে পারছে না। শুরুর দিকে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে আনা অক্সফোর্ডের টিকা নিয়ে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম জোরেশোরে এগোলেও পরবর্তীতে সরবরাহের ঘাটতির কারণে তা থমকে যায়। জুন মাসে বিকল্প উৎস থেকে টিকা এনে আবার গণটিকা কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় সে কার্যক্রমও সীমিত করতে হয়। অপরদিকে মাস্ক পরানোর জন্য যে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে তা খুব একটা কাজে আসছে না। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানানোর ব্যাপারে আইন বা অধ্যাদেশ জারি করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল সরকারের নীতি-নির্ধারকরা।

কিন্তু বিষয়টি সময় সাপেক্ষ হওয়ায় তা সহসাই হচ্ছে না। ফলে সংক্রমণের লাগাম টানতে দফায় দফায় বিধিনিষেধ দিতে হচ্ছে সরকারকে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হলে আবার বিধিনিষেধ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিককের সঙ্গে মতবিনিময়ে বলেছেন, প্রয়োজনে আবার বিধিনিষেধ জারি করা হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সরকারের পরবর্তী কৌশল কী হবে এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুটি কৌশলই আমরা অবলম্বন করবো। একটা হলো বিধিনিষেধ বা লকডাউন দেয়া। আরেকটি হচ্ছে ছেড়ে দেয়া, কিন্তু সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। পরিস্থিতি খারাপ হলে আবারো লকডাউন দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর যেকোনো দেশে বাড়লেই, যেমন অস্ট্রেলিয়াতে সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে, কারফিউ দেয়া হয়েছে, সেখানে লকডাউন দেয়া হয়েছে। আমেরিকাতে দেয়া হয়েছে। দেয়া হচ্ছে কেন? কারণ এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম।

এক্ষেত্রে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিভিন্নভাবে তাদের অপরিহার্যতা। এটা খোলা প্রয়োজন, কারণ হচ্ছে ব্যবসা করে, কাজ করে, তাদের দিকে তাকিয়ে কিন্তু এ বিষয়গুলো শিথিল করা প্রয়োজন। যদিও পরিস্থিতি কিন্তু এখনো সন্তোষজনক নয়। করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে ঈদের পর ২৩শে জুলাই থেকে শুরু হওয়া লকডাউনের বিধিনিষেধ ১১ই আগস্ট থেকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তুলে নেয়া হয়েছে। সেদিন থেকেই সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান ও দোকানপাট খোলা। ১৯শে আগস্ট থেকে পুরোদমে চলবে গণপরিবহন, খুলছে পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে আসন সংখ্যার অর্ধেক ব্যবহার করে পর্যটন, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র খোলার শর্ত দিয়েছে সরকার। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৯শে আগস্ট পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সড়ক, রেল ও নৌপথে সব প্রকার গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে। এ ছাড়া, পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র আসন সংখ্যার ৫০ ভাগ ব্যাবহার করে চালু করতে পারবে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রণীত স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। যেকোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে অবহেলা করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব বহন করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ১লা জুলাই দেশে লকডাউন জারি করা হলেও বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে কোরবানির ঈদের সময় ৯ দিন তা শিথিল করা হয়েছিল। ঈদের ছুটির পর ২৩শে জুলাই থেকে আবার লকডাউন শুরু হলেও এরমধ্যে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে। এরপর ১লা আগস্ট সব রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা খোলার অনুমতি মেলে। ১১ই আগস্ট থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সব ধরনের অফিস-আদালত খোলার অনুমতি দেয়া হয়।

বাসে-ট্রেনে গাদাগাদি করে এলে আবার সংক্রমণ বাড়বে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
করোনা থেকে সুরক্ষায় প্রত্যেককে আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, আমরা মৃত্যুর হার কমাতে চাই। শুধু সরকার পারবে না, সবাইকে প্রয়োজন। নিজেদের সুরক্ষা নিজেদের করতে হবে। বাসে ট্রেনে গাদাগাদি করে আসলে চলবে না। তাহলে আবার সংক্রমণ বাড়বে। গতকাল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের গ্র্যান্ড বলরুমে ‘ডেঙ্গু ও করোনা মহামারিতে চ্যালেঞ্জ’- শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন (বিএসএম) ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) যৌথভাবে কর্মশালার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন- বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন-এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মো. বিল্লাল আলম। সঞ্চালনা করেন- মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুদীপ রঞ্জন দেব।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ভ্যাকসিনের ব্যাপক চাহিদার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জানালে তিনি দ্রুতই চীনের সিনোফার্মের ৬ কোটি টিকা কেনার ব্যাপারে নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সেই ৬ কোটি টিকা ক্রয়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সময়মতো টাকা ছাড় দিয়ে অনুমোদন দিয়েছে। এখন ধাপে ধাপে ক্রয়কৃত সিনোফার্মের ৬ কোটি টিকা দেশে আসতে থাকবে। অন্যান্য মাধ্যমেও আমাদের আশানুরূপ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দেশে চলমান টিকা কার্যক্রমের গতি চলমানই থাকবে। তিনি আরও বলেন, এক সপ্তাহে ৫৪ লাখ এবং পরের মাসে আবার ৫০ লাখ টিকা সবমিলিয়ে এই মাসে ১ কোটি টিকা আসবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিবি, পক্স আগে মানুষের ছিল না। প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে অসুখগুলো আসে, এখনো আসছে। আমরা জানি যে, করোনা কোনো একটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে এসেছে। স্মল পক্স প্রতিরোধ করা গেছে। কোনো এক সময় করোনাও মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ভ্যাকসিন পাচ্ছি। কোভ্যাক্স থেকে আমরা ভ্যাকসিন পাচ্ছি, নিজেরাও কিনছি। ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে হলে ২৬ থেকে ২৭ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োজন হবে। একসঙ্গে এত ভ্যাকসিন আমরা পাবো না, রাখতেও পারবো না। আমরা চেষ্টা করছি, যখন যেটা পাওয়া যায় আনার জন্য। বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্র ভ্যাকসিন তৈরি করেছে এবং স্টক করেছে। জনসংখ্যার চারগুণ-পাঁচগুণ বেশি ভ্যাকসিন তারা স্টক করেছে। অনেক দেশ আছে যেখানে ভ্যাকসিন পৌঁছেনি।
তিনি বলেন, আমরা একেবারে সবাইকে ভ্যাকসিন দিতে পারবো না। ধৈর্য্য ধরতে হবে। আস্তে আস্তে সবাইকে আমরা ভ্যাকসিন দিচ্ছি। পৌনে দুই কোটি মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে। কোটি কেটি লোক রেজিস্ট্রেশন করেছে। আমাদের যারা বিরোধী আছেন, ভ্যাকসিন যখন কম থাকে তখন বলে ভ্যাকসিন কোথায়? যখন বেশি লোক আসে, লোক বেশি কেন এলো? না এলেও অসুবিধা, এলেও তাদের কাছে অসুবিধা। তাদের আমি অন্য কোনো কাজে দেখিনি। করোনার সময় মানুষের পাশে তাদের কখনো দেখিনি। মাঝে-মধ্যে টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছি। শুধু সমালোচনায় দেখেছি। সমালোচনা করা সহজ খুব।

তিনি বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ডেঙ্গু রোগী বাড়বে। হাসপাতালে জায়গা সংকুলনার করতে পারছি না। এখন প্রায় সবই খুলে দেয়া হয়েছে। জীবন-জীবিকা পাশাপাশি চলবে। জীবন বেশি গুরুত্ব। জীবনকে রক্ষা করে আমাদের জীবিকা অর্জন করতে হবে। আমরা মৃত্যুর হার কমাতে চাই। শুধু সরকার পারবে না, সবাইকে প্রয়োজন। নিজেদের সুরক্ষা নিজেদের করতে হবে। সংক্রমণ অনেক বেড়েছিল, এখন কমে এসেছে। ৩২ শতাংশে উঠেছিল, এখন তা ২৩ শতাংশ। এই কমার হার ধরে রাখতে চাই। যারা বাসে- ট্রেনে চলেন, গাদাগাদি করে এলে চলবে না। তাহলে সংক্রমণ আবার বাড়বে বলেন- স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আলী নূর বলেন, হাসপাতালে শয্যা বাড়িয়ে লাভ হবে না যদি সংক্রমণের মূল উৎস চিহ্নিত না করে কমানোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম অনুষ্ঠানে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে চিঠি দেয়া হয়েছে মশার প্রাদুর্ভাব বাড়বে। কোভিড নিয়ে বলতে চাই, আমি অনেক পরে এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত হয়েছি। আমরা রাতারাতি হাসপাতাল বাড়িয়ে ফেলতে পারি না, চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়িয়ে ফেলতে পারি না। এখন সবকিছু খুলে দেয়া হয়েছে, আমাদের খেয়াল করতে হবে আমরা যেন এই রোগ বাড়িয়ে না চলি। হাসপাতালে আর বেড বাড়ানো সম্ভব হবে না। নন-কোভিড রোগীদের সেবা ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের সংযত হতে হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, আমরা করোনা নিয়ে ক্লান্ত সবাই। এর মধ্যে নতুন করে এলো ডেঙ্গু। করোনায় বড়রা আক্রান্ত বেশি হয়। উল্টো ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে। আমরা খুব একটা ভালো সময়ে নেই। প্রতিদিনই সংক্রমণ হচ্ছে। মৃত্যু ২০০ এর উপরে। আমরা নানা পন্থা অবলম্বন করেছিলাম, তার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি সেটা খুব একটা মানা হচ্ছে না। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বেশি। চিকিৎসার চেয়ে মশা নিধন বেশি জরুরি। ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল দরকার নেই। আমি মনে করি, ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতাল করলে চিকিৎসায় সময় নষ্ট হবে। পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ বলেন, সিটি করপোরেশন বাড়ি আঙিনাভিত্তিক অভিযান চালাচ্ছে। অফিস-আদালতকে আরও গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

এর আগে ডেঙ্গু ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন-এর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির করোনার চিকিৎসার দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, বিএসএমএমইউ’র ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।


করোনা টিকার প্রাইভেট এসএমএস দিচ্ছে কারা? by কাজী সোহাগ

‘মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আপনার জন্য আমাদের কাছে রয়েছে অনুমোদিত বিশ্বখ্যাত কোম্পানির টিকা। আপনার পছন্দ অনুযায়ী সুলভমূল্যে দেয়া হবে করোনার টিকা। নিজে টিকা নিন, অপরকেও টিকা নিতে উৎসাহিত করুন।’ এভাবেই মোবাইলে এসএমএস দিয়ে টিকা নেয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। দেশে বেসরকারিভাবে টিকা দেয়ার অনুমোদন না থাকলেও এমন এসএমএস পাঠানো হচ্ছে সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোনে। এতে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। যদিও সরকারিভাবে বলা হচ্ছে বেসরকারিভাবে টিকা দেয়ার সুযোগ নেই। কেউ টিকা আমদানিও করতে পারে না। যারা এ ধরনের এসএমএস দিচ্ছে তা স্রেফ প্রতারণা।


এ ধরনের এসএমএস পেয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান।
মানবজমিনকে তিনি বলেন, আমাকে এ ধরনের এসএমএস দিয়ে টিকা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এরা আসলে প্রতারক। তারা টিকার পরিবর্তে অন্য কিছু দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে চায়। তিনি বলেন, কোন্‌ কোন্‌ ধরনের টিকা পাওয়া যায়, সেটাও এসএমএসে জানানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকতে বলেছি। কোনোভাবেই বেসরকারিভাবে টিকা না দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। কারণ বেসরকারি খাতে টিকা এলে অব্যবস্থাপনা বেড়ে যাবে। দেখা যাবে, মেয়াদোত্তীর্ণ টিকা নিয়ে আসবে। পানি ভরে টিকা দেয়া হবে। আর সব দোষ পড়বে সরকারের ওপর। আবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পর্যন্ত টিকা বিক্রিতে নেমে পড়বেন। তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই টিকা কমিটির সদস্য। আমরা তাকে বলেছি, ওই কমিটিতে যেন আমাদের এই পর্যবেক্ষণ জানানো হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এরা প্রতারক শ্রেণি। এভাবে বেসরকারি উদ্যোগে টিকা দেয়ার সুযোগ কাউকেই দেয়া হয়নি। রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সরকারিভাবে কেবল টিকা দেয়া হচ্ছে। দেশে এখন চারটি কোম্পানির কোভিড-১৯ টিকা দেয়া হচ্ছে। এগুলো হলো অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না ও সিনোফার্মের টিকা।

এদিকে টিকা নিয়ে আরেকটি প্রতারণামূলক ঘটনার শিকার হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। মানবজমিনকে তিনি বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি, পেশাজীবী সংগঠন, সাংবাদিক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার তৈরি ভ্যাকসিন তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে নিয়ে আসতে পারবে। কারণ রাশিয়ান এজেন্ট তাদের খুব পরিচিত ও বিশ্বস্ত। তাদেরকে অনুমোদন দেয়া হলে দেশে টিকার আর কোনো সমস্যা হবে না। বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ান দূতাবাসে যোগাযোগ করা হলে তারা আমাকে জানায় রাশিয়া এ ধরনের কোনো এজেন্টকে বাংলাদেশে নিয়োগ দেয়নি। এরপরই বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার টু সরকার এ পদ্ধতির বাইরে বেসরকারিভাবে আপাতত টিকা আমদানির কোনো সুযোগ নেই। এ দুটি বিষয় নিয়ে গতকাল সংসদ সচিবালয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রতারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকা সিরাজগঞ্জ-২ আসনের এমপি মো. হাবিবে মিল্লাত এ প্রসঙ্গে মানবজমিনকে বলেন, কমিটির বৈঠক থেকে বেসরকারিভাবে টিকা না আনার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অনেকে বিদেশ থেকে টিকা আনার আগ্রহ প্রকাশ করায় কমিটি এ সুপারিশ করে। তিনি বলেন, বৈঠকে কমিটির অন্য সদস্যরা বলেন, অতীতে বেসরকারিভাবে টিকা আনার অভিজ্ঞতা তিক্ত। তাই জি টু জি পদ্ধতিতেই টিকা আনা হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। পাইপলাইনে যে পরিমাণ টিকা আসার কথা রয়েছে তাতে আমাদের টিকার কোনো সংকট হবে না বলে মনে করি।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন দেশ বা প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যাকসিন আমদানির ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের মেয়াদ যাতে ছয় মাস থাকে, তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি পাইপলাইনে থাকা ভ্যাকসিনগুলো দ্রুততম সময়ে আনার জন্য তৎপরতা অব্যাহত রাখতে মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক খান মানবজমিনকে বলেন, আমরা বলেছি, টিকার মেয়াদ কতদিন আছে, সেটা আনার আগে দেখে নিতে হবে। সেই টিকা আমরা যেভাবেই পাই না কেন, উপহার হিসেবে হোক বা কিনে আনা হোক। কারণ দেখা গেল, বাংলাদেশে এসে যখন টিকা পৌঁছালো তার মেয়াদ ১৫ থেকে ২০ দিন রয়েছে। ওই টিকা পরে মাঠ পর্যায়ে যেতে যেতে আর মেয়াদই থাকবে না। রোল আউট করতে করতে ডেট চলে যাবে। তাই এ বিষয়ে আমরা তাদের সতর্ক করে দিয়েছি। কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, গত ১১ই আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন উৎস থেকে চারটি কোম্পানির মোট দুই কোটি ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৯২০ ডোজ টিকা এসেছে। আর গত ১০ই আগস্ট পর্যন্ত এক কোটি ৯৬ লাখ ৭১ হাজার ৬২০ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। মজুত আছে ৫৯ লাখ ৭২ হাজার ৩০০ ডোজ। বৈঠকে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত বিদেশে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের টিকার আওতায় আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানোর পরামর্শ দেয়া হয়। এ ছাড়া বৈঠকে বিশ্বব্যাংকসহ যে সকল দাতা সংস্থা ও দেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে অর্থ ও মানবিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রাখার ব্যাপারে কথা বলছে তাদের প্রত্যেককে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য অনুরোধ জানানোর পরামর্শ দেয়া হয়।

আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো ই-মেইলের মাধ্যমে নিয়মিত অবহিত করার এবং জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ অধিবেশনে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করা হয়। সংসদ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান। বৈঠকে কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, মো. আব্দুল মজিদ খান ও মো. হাবিবে মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।