Thursday, January 6, 2011

দোহায় আজ স্পট ফিক্সিংয়ের শুনানি

দোহায় আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে স্পট ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের শুনানি। ২০১০ সালে বিশ্ব ক্রীড়ার জগতে সবচেয়ে বিতর্কিত ও সমালোচিত ঘটনা ছিল ইংল্যান্ডে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের স্পট ফিক্সিং। এই কেলেঙ্কারির ঘটনার তিন হোতা—সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমিরের আজ দোহায় এ শুনানিতে উপস্থিত হবেন। এতে দোষী সাব্যস্ত হলে দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্রিকেটের বাইরেই চলে যেতে হবে এই ত্রয়ীকে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের চতুর্থ টেস্টে এ তিন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ এনেছিল ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান। এর পরপরই আলোচনা-সমালোচনার ঝড়ে তাঁদের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আনে আইসিসি। সালমান বাট ও মোহাম্মদ আমির অবশ্য এ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আলাদা আপিল করেছিলেন। কিন্তু ডিসেম্বরেই এ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট।
অভিযুক্ত এ তিন ক্রিকেটারের শুনানির জন্য ব্রিটিশ আইনজীবী মাইকেল বেলোফের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে আইসিসি। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক আলবি শাচেস ও কেনিয়ার শারদ রাও। দোষী প্রমাণিত হলে সালমান বাটের সাত বছর ও আসিফ ও আমিরের দুই বছর করে নিষেধাজ্ঞার খাঁড়ায় পড়তে হতে পারে বলে কিছুদিন আগেই ইঙ্গিত দিয়েছে আইসিসির এক ঘনিষ্ঠ সূত্র।
সালমান বাটের পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন ব্রিটিশ আইনজীবী ইয়াসিন প্যাটেল, আসিফের পক্ষে ব্যারিস্টার অ্যালান ক্যামেরন ও আমিরের পক্ষে শহিদ করিম।

গণতন্ত্র সংকোচনের নীতি by মাহবুব উল্লাহ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের দুই বছর অতিক্রান্ত। মেয়াদ পূর্ণ করলে এই সরকার আরও তিন বছর ক্ষমতায় থাকবে। গত দুই বছরে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, বৈদেশিক সম্পর্ক, জনজীবনে শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যে অবনতি ঘটেছে, তা শোধরানো না হলে পরবর্তী তিন বছরে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হবে। এমনকি রাষ্ট্র বিপর্যয়ের মতো পরিস্থিতিরও উদ্ভব ঘটতে পারে। বাংলাদেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের একান্ত কামনা, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যেন নিক্ষিপ্ত না হয়।
দুই বছরের মধ্যে বিগত বছরটি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের সার্বভৌম অস্তিত্ব প্রচণ্ডভাবে সংকুচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দিল্লি সফরে গিয়ে ভারতের সঙ্গে তিনটি চুক্তি সম্পাদন করেছেন এবং ৫০ দফা সম্মত স্মারক ঘোষণা করেছেন। এই চুক্তি তিনটি কী, সে সম্পর্কে দেশের জনগণ কিছুই জানে না। জানতেও দেওয়া হয়নি।
সংবাদপত্র থেকে যেটুকু জানা গেছে, তা থেকে বোঝা যায়, চুক্তিগুলো ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতাসংক্রান্ত চুক্তি। এই চুক্তিগুলো স্বাক্ষরের পর ভারতীয় পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া উত্তর-পূর্ব ভারতের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কিছু নেতাকে গ্রেপ্তার করে ভারতের কাছে সমর্পণ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও এই নিয়ে দেশবাসীর উদ্বেগ রয়েছে। সরকার এই দিকটি কতটুকু তলিয়ে দেখেছে, সেটাই ভাবার বিষয়। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সরকার বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির বিষয়াবলি জাতীয় সংসদে পেশ করতে বাধ্য। সংবিধান রক্ষার শপথ গ্রহণকারী সরকার এই কর্তব্যটি পালন করেনি। ৫০ দফার সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার এবং বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে করিডর সুবিধা পাবে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক নৌবন্দরগুলো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যেকোনো দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ব্যবহারযোগ্য। কিন্তু বিশেষভাবে বন্দর উন্মুক্ত করার সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো এটিকে করিডর সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত করা। ভারতকে করিডর সুবিধা দিলে বাংলাদেশ অচিরেই সিঙ্গাপুরে পরিণত হবে কিংবা বছরে ২০ হাজার কোটি টাকা উপার্জন করতে পারবে বলে করিডরের ওকালতকারীরা জনগণকে প্রলুব্ধ করতে চেয়েছেন। এখন দেখা যাচ্ছে, ভারত ট্রানজিট ফিও দিতে চাইছে না। তাহলে বাংলাদেশের কী লাভ হলো? ভারতকে করিডর সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে ভারতের কাছ থেকে সাত হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। সুদ ও কমিটমেন্ট ফিসহ এই ঋণের শর্তগুলো অত্যন্ত কঠিন। ভারতের কাছ থেকে অবকাঠামো নির্মাণের উপকরণের ৮৫ শতাংশ ক্রয় করতে হবে। এর ফলে একটি কেপটিক মার্কেট থেকে উপকরণসামগ্রী ক্রয় করতে গিয়ে বাংলাদেশ প্রভূত অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হবে। বাংলাদেশের কৃষি জমি করিডর অবকাঠামোর জন্য চলে যাবে। শোনা যাচ্ছে, ভারতীয় যানবাহন চলাকালীন বাংলাদেশি যানবাহন করিডরের জন্য ব্যবহূত সড়ক ব্যবহার করতে পারবে না। এমনিতেই বাংলাদেশের মহাসড়কগুলোতেও যানজট সৃষ্টি হয়, ভারতের এই শর্তটি পরিপালন করা হলে যানজট পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে। ভারতের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ভারতের জন্যই সুবিধা সৃষ্টি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
অর্থনীতির ভাষায় যাকে বলা হয়, সুযোগ-ব্যয় (Opportunity cost)। সেই বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিতে হবে। বাংলাদেশের জন্য কাম্য কোনো প্রকল্পে যদি সাত হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হতো, তাহলে বাংলাদেশ অর্থনীতির ক্ষেত্রে যে সুবিধা পেত, ভারত নির্দেশিত প্রকল্প গ্রহণের ফলে বাংলাদেশ সেই সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবে। ভারতীয় যানবাহনগুলো বাংলাদেশের ভেতরে জ্বালানি সংগ্রহ করলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ সৃষ্টি হবে। কারণ এই জ্বালানিতে রাষ্ট্রার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে আমদানি করা হয়। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সরকার কার্যক্রম গ্রহণ করছে না। পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ভারতকে করিডরের সুবিধা দিলে অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতিগুলো কী হবে, সেটিরও মূল্যায়ন করা হয়নি। এভাবে দেশের ভালো-মন্দের দিকগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিচার-বিশ্লেষণ না করে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে বলেই আমাদের ধারণা।
ভারতকে একতরফা সুবিধা দিতে গিয়ে সরকার ভারতের কাছ থেকে সুবিধা আদায় তো দূরের কথা, অসুবিধাগুলো দূর করার কোনো দর-কষাকষি করেছে কি না, সেটাও দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট নয়। ভারত এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক ও অশুল্ক বাধা অপসারণ করেনি, শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ পানির ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছে না। তিস্তার পানি ন্যায্যভাবে বণ্টনেরও কোনো অগ্রগতি নেই। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো আসছে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের তোড়জোড়। এমনকি গোমতী নদীর পানির প্রবাহও ভারত নিয়ন্ত্রণ করছে। বাংলাদেশি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্প্রচারও ভারতে সম্ভব হচ্ছে না। সীমান্তে বিএসএফ বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ সম্পর্কে যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে, তা রীতিমতো ভয়াবহ। পৃথিবীর কোনো দেশের সীমান্তে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটে না। ভারতকে বেরুবাড়ী হস্তান্তর করা হলেও তিন বিঘা করিডরের বিষয়টি আজও সুরাহা হয়নি। একদিকে কানেকটিভিটির কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে সীমান্তব্যাপী কাঁটাতারের বেড়া ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করে বাংলাদেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষকে অবরোধ করে ফেলা হয়েছে। এসব নিয়ে সরকারের কোনো প্রতিবাদ নেই। উল্লেখ্য, কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে একটি দেশকে অবরোধ করার নীতি অনুসরণ করে প্যালেস্টাইনের গাজার ক্ষেত্রে ইসরায়েল ও মেক্সিকোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের সঙ্গে যখন নতজানুনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, পাশাপাশি আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সেনা পাঠানোর কথা বলেছিলেন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশপ্রেমিক নাগরিকদের প্রতিবাদের মুখে বিষয়টি সাময়িকভাবে ধামাচাপা পড়লেও শুধু বৈদেশিক আশীর্বাদে টিকে থাকার জন্য সরকার যেকোনো সময় এই পদক্ষেপ নিতে পারে বলে জনমনে শঙ্কা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ মারাত্মক আন্তর্জাতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। এটি কোনোক্রমেই কাম্য হতে পারে না।
বিগত বছরটি মূল্যস্ফীতির ফলে জনজীবনে দুঃসহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। বাজারে যাওয়ার আগে ক্রেতার পক্ষে বোঝা কঠিন, কোন জিনিসের কী দাম হাঁকা হবে। সরকারের লক্ষ্য ছিল মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী এই অঙ্ক ৮ শতাংশেরও বেশি। মূল্যস্ফীতিকে বাগে রাখা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন গভর্নর। বাজার অর্থনীতিতে সরকার বাজারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না বটে, কিন্তু সরকারকে অবশ্যই রেগুলেটরের ভূমিকা নিতে হয়। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, সরকার কোনো টেকসই রেগুলেটরি পলিসি গ্রহণ করতে পারছে না। আমন ফসল ওঠা সত্ত্বেও চালের দাম কমেনি বরং বেড়েছে। এতে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থানকারী এবং দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি অবস্থানকারী মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও দীর্ঘ মেয়াদে এ ধরনের নিরাপত্তাবেষ্টনী অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। রাজধানীতে ওএমএসের ট্রাকগুলোকে ঘিরে লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। দেশ যে একটি কঠিন খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে, এটি তার জ্বলন্ত উদাহরণ। কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও অগ্রগতি নেই। বাজার অর্থনীতি অনুসরণকারী একটি দেশে সরকার নিজে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে না। এ জন্য প্রয়োজন ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ। কিন্তু বিদ্যুৎ ও গ্যাস-সংকটের ফলে বিনিয়োগ হচ্ছে না। বিনিয়োগ হচ্ছে না বলে কর্মসংস্থানও হচ্ছে না। কর্মসংস্থান বাড়লে মূল্যস্ফীতি কিছুটা হলেও সহনীয় হয়ে উঠত।
পোশাকশিল্পে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা এই শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শ্রম অসন্তোষের গভীরে প্রবেশ না করে তা ষড়যন্ত্রই হোক কিংবা ন্যায্য অসন্তোষই হোক, এই সমস্যার সমাধান হবে না। সেদিকে সরকারের কোনো মনোযোগ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী বিদেশি রেমিট্যান্স প্রবাহ এখন নিম্নমুখী। বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নতুন কোনো নিয়োগ হচ্ছে না। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর বহুল ভূষিত আশ্বাস ও আশার বাণীগুলো নিষ্ফল প্রমাণিত হচ্ছে।
বিগত বছরে সরকার একের পর এক নন-ইস্যুকে ইস্যুতে পরিণত করে বিরোধী দলকে ব্যতিব্যস্ত রাখতে চেয়েছে। সংসদ কার্যত অকার্যকর। সংসদে যে ভাষায় নন্দিত নেতাদের চরিত্রহনন করা হচ্ছে, তা নজিরবিহীন। বিরোধী দলকে সংসদে আনারও বাস্তব কোনো পদক্ষেপ নেই। গত ৩৯ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিরোধী দল সরকারের প্রতি সহযোগিতার কথা বললে সেই বিরল সুযোগ গ্রহণ করেনি সরকার। দমন-পীড়নের পথ বেছে নেওয়াই সরকার শ্রেয় মনে করেছে। সংসদে সরকারের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। কিন্তু এই সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে গঠনমূলকভাবে ব্যবহারের কোনো উদ্যোগ নেই। অন্যদিকে ড. ইউনূসের মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিকে হেয় করতে গিয়ে সরকার নিজেই হেয় হয়েছে। আমাদের জাতীয় গর্বের প্রতীকগুলো একে একে ধ্বংস করা হচ্ছে। মনে রাখা দরকার, গণতন্ত্র মানে সংখ্যালঘিষ্ঠের সম্মতিতে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন। গণতন্ত্রের এই গূঢ় অর্থটির প্রতি বারবার অবজ্ঞা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ আজ সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র সংকোচনের সংকটে নিপতিত। দেশবাসী এই সংকট থেকে পরিত্রাণ চায়। চায় ন্যায়বিচার ও সুশাসন।
ড. মাহবুব উল্লাহ: চেয়ারম্যান, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

শপথ নিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন গভর্নর

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের নতুন গভর্নর হিসেবে শপথ নিয়েছেন জেরি ব্রাউন। তিনি আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগারের স্থলাভিষিক্ত হলেন। ৭২ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট নেতা ব্রাউন এর আগে ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এই রাজ্যে গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তিন দফায় ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হওয়া দ্বিতীয় ব্যক্তি।অঙ্গরাজ্যের রাজধানী স্যাক্রামেনটোতে গত সোমবার শপথ অনুষ্ঠানে ব্রাউন বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে ক্যালিফোর্নিয়ার আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন মনোবল বৃদ্ধি ও ত্যাগের মানসিকতা।’ অনুষ্ঠানে শোয়ার্জেনেগার উপস্থিতছিলেন।ব্রাউনের প্রথম কাজ হবে একটি নতুন বাজেট প্রণয়ন করা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে আমার উপস্থাপিত বাজেট আমার জন্য কষ্টদায়ক হলেও তাতে সততা থাকবে।’ তিনি রাজ্যের আর্থিক খাতের ব্যাপারে স্বচ্ছ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, এখানে কোনো ধোঁয়াশা থাকবে না। ১৯৭৫ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তিনি প্রথম ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচিত হন।

বিহারে এক শিক্ষিকার হাতে ক্ষমতাসীন জোটের বিধায়ক খুন

ভারতের বিহার রাজ্যের পুর্নিয়ায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিহারের ক্ষমতাসীন জোটের শরিক বিজেপির বিধায়ক রাজকিশোর কিশোরী (৫১) এক স্কুলশিক্ষিকার হাতে খুন হয়েছেন। স্কুলশিক্ষিকার নাম রূপম পাঠক (৪০)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষিকা গত মে মাসে বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে পুর্নিয়া থানায় একটি মামলা করেন। কিন্তু পুলিশ এ ব্যাপারে ওই বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই শিক্ষিকা গতকাল সকালে হাতে একটি ছুরি নিয়ে বিধায়কের সিপাটিটোলার বাড়িতে যান। সেখানে তিনি বিধায়কের পেটে ছুরিকাঘাত করেন। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

২০১০ সালে বেশি দেখা গেছে কিম জং ইলকে

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইল তাঁর কর্মকাণ্ডে ২০১০ সালে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন। গত বছরই জনসমক্ষে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে তাঁকে। গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কিম জং ইল দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে ১৬১ বার সফর করেন। ১৯৯৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেশের অভ্যন্তরে এটিই ছিল তাঁর সর্বোচ্চ সফর। ২০০৮ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড ঝিমিয়ে পড়ে। সে বছর তিনি ৯৭ বার এ ধরনের সফর করেন। ২০০৯ সালে তা ১৫৯ বারে উন্নীত হয়।ধারণা করা হচ্ছে, কিম (৬৮) তাঁর ছোট ছেলে কিম জং উনের (২৭) হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। হবু নেতাকে গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই গত বছর নানা স্থানে মাঠপর্যায়ে নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে ভ্রমণের সময় উনেকে অন্তত ১২ বার সঙ্গে নেন কিম।গত সেপ্টেম্বরে উনকে চার তারকার জেনারেলের পদোন্নতি দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ পদ দেওয়া হয়। টহল জোরদার: উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী অতিরিক্ত পাঁচটি টহল বিমান মোতায়েন করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। গত শনিবার সে দেশের সেনাবাহিনী এসব বিমান মোতায়েন করে। গতকাল জুংঅং ইলবো প্রত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, সে দেশের পশ্চিম ও পূর্ব উপকূল সুরক্ষা দিতে বিশেষ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

আঁচ করেও পূর্বাভাস দেয়নি আবহাওয়া দপ্তর: বিবিসি

ইউরোপে এ বছর প্রবল তুষারপাত হবে আঁচ করেও এ ব্যাপারে পূর্বাভাস দেননি ব্রিটেনের আবহাওয়া কর্মকর্তারা। এতে অগণিত মানুষ এবারের শীত মৌসুমের বিরূপ আবহাওয়া সম্পর্কে আগেভাগে কোনো আভাস পায়নি। এ দাবি করেছেন বিবিসির একজন বিশ্লেষক। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে ২০০৯ সালের মতো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে, এ আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে তাঁরা বিষয়টি চেপে যান বলে ওই বিশ্লেষকের দাবি। এদিকে তুষারপাতের বিপর্যয় ও বড়দিনের ছুটি শেষে প্রায় দুই সপ্তাহ পর লোকজন যখন কর্মস্থলে যোগ দিতে শুরু করেছেন, তখন ব্রিটেনে নতুন করে তুষারপাত শুরু হয়েছে।দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিবিসির আবহাওয়া বিশ্লেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রজার হ্যারাবিন। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে ব্রিটেনের আবহাওয়া দপ্তর গরমকালে প্রচণ্ড গরম পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। তাদের পূর্বাভাস শুনে সাধারণ মানুষ গরম মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তেমনটি না হওয়ায় কর্মকর্তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। হ্যারাবিন বলেন, ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, এ জন্য আবহাওয়া কর্মকর্তারা এবার তুষারপাতের পূর্বাভাস দেননি। তবে এবারের শীতকালে ‘ব্যতিক্রমী মাত্রার’ ঠান্ডা পড়বে বলে তাঁরা গত অক্টোবর মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের জানিয়েছিলেন। তাঁরা মৌসুমি পূর্বাভাস না দিয়ে মাসিক আবহাওয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আবহাওয়া কর্মকর্তারা যদি আগে থেকেই তুষারপাতের ঘোষণা দিতেন, তাহলে অনেকেই বরফ গলানোর জন্য আগেভাগে ট্রাকবোঝাই লবণ মজুদ রাখতেন। শেষ পর্যন্ত তুষারপাত না হলে আবহাওয়া দপ্তরকে ক্ষোভের মুখে পড়তে হতো।বড়দিনের ছুটি ও তুষারপাতের কারণে অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর যখন খুলেছে, তখন আবার তুষারপাত শুরু হয়েছে।
ব্রিটেনের উত্তর ইয়র্কশায়ার, ডেভোন, সামারসেট ও ওয়েলসের একাংশে রাস্তাঘাটে আবার বরফের স্তর জমতে শুরু করেছে। আবহাওয়া কর্মকর্তারা বলেছেন, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সেখানে তাপমাত্রা ছয় থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকবে।

সমাজবিরোধী অপরাধের শিকার মানুষকে রক্ষা করবে পুলিশ

সমাজবিরোধী আচরণের কারণে অরক্ষিত হয়ে পড়া মানুষের নিরাপত্তায় সহায়তার জন্য ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে আটটি পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকা লোকদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য সাত মাস মেয়াদি হোম অফিস নামে ওই প্রকল্পটির নকশা করা হয়।
নির্যাতনের শিকার হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত মেয়েসহ ফিয়োনা পিকিংটনের আত্মহত্যার কয়েক বছর পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। একদল যুবক ১০ বছর উত্ত্যক্ত করার পর ফিয়োনা আত্মহত্যা করেন।
ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। অ্যাভন অ্যান্ড সমারসেট, কেমব্রিজশায়ার, লেইস্টারশায়ার, লিংকনশায়ার, লন্ডন, সাউথ ওয়েলস, সাসেক্স ও ওয়েস্ট মার্সিয়ায় আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত পুলিশের ওই কার্যক্রম চলবে।নতুন এই প্রকল্প অনুযায়ী একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সহজেই তথ্যের আদান-প্রদান সম্ভব হবে।
যুক্তরাজ্যের অপরাধ দমনবিষয়ক মন্ত্রী জেমস ব্রোকেনশায়ার বলেন, অভিযোগ চটজলদি প্রক্রিয়াকরণের জন্য পুলিশ বাহিনী প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। এতে তথ্যের আদান-প্রদান সহজ হবে। আর যাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাদের অভিযোগ শোনার পর দ্রুত সাড়া দেওয়াটা খুবই দরকারি।

ইতালীয় ব্যবসায়ী কমিশন নিয়েছিলেন?

ভারতের আয়কর বিভাগ এক আদেশে বলেছে, ভারত দুই দশক আগে সুইডেনের এবি বোফর্স কোম্পানির কাছ থেকে অস্ত্র কেনার সময় ভারতের এক অস্ত্র সরবরাহকারী ও ইতালির এক ব্যবসায়ীকে কমিশন দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের ওই অর্থের বিপরীতে তারা ভারত সরকারের প্রাপ্য শুল্ক পরিশোধ করেনি। প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সম্প্রতি বোফর্স কেলেঙ্কারি মামলা পুনরুজ্জীবিত করার দাবি জানানোর পর আয়কর বিভাগ এ কথা জানিয়েছে।
আয়কর বিভাগের অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের এক আদেশে বলা হয়েছে, বোফর্সের কাছ থেকে ৪০০ হাউইটজার কামান কেনায় মধ্যস্থতা করার জন্য কোম্পানিটি কমিশন হিসেবে ইতালির ব্যবসায়ী ওত্তাভিও কুয়াত্রোচ্চি এবং ভারতীয় অস্ত্র সরবরাহকারী উইন চাধাকে ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার দেয়। এঁদের মধ্যে উইন চাধা মারা গেছেন। আদেশে বলা হয়েছে, কমিশন হিসেবে নেওয়া অর্থের বিপরীতে ওই দুই ব্যবসায়ী ভারত সরকারকে কোনো শুল্ক দেননি। এ কারণে তাঁদের সে কমিশন গ্রহণ ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ। তাঁরা মনে করেন, এত দিন পরে হলেও সরকারের এ শুল্ক আদায় করা উচিত।
২০০৯ সালে ভারত এ সংক্রান্ত মামলা তুলে নেয় এবং ইন্টারপোলের পলাতক আসামির তালিকা থেকে কুয়াত্রোচ্চির নাম বাদ দেওয়া হয়।তবে বিজেপি সম্প্রতি ওই মামলা পুনরায় চালু করার দাবি তোলে। ইতালির ব্যবসায়ী ওত্তাভিও কুয়াত্রোচ্চির সঙ্গে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস পার্টির প্রধান সোনিয়া গান্ধীর বন্ধুত্ব রয়েছে।
এ কারণে এ মামলা আবার চালু হলে কংগ্রেস বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কুয়াত্রোচ্চি বরাবরই এ বিষয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এসেছেন।

আফ্রিকার নেতাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ

আইভরি কোস্টের চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে আফ্রিকান নেতাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ‘সাধারণ ক্ষমা’র প্রস্তাব দিয়েও ক্ষমতা হস্তান্তরে লঅন্ত বাগবোকে রাজি করাতে পারেননি নেতারা। গতকাল মঙ্গলবার তাঁরা আইভরি কোস্ট ত্যাগ করেছেন।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংস্থা ইসিওডব্লিউএএসের পক্ষ থেকে সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট আর্নেস্ট করোমা, বেনিনের প্রেসিডেন্ট বোনি ইউয়েয়ি, কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো পিরেস এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) প্রতিনিধি হিসেবে কেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী রাইলা ওদিঙ্গা গত সোমবার আইভরি কোস্টে যান। সেখানে তাঁরা দেশটির প্রেসিডেন্ট লঅন্ত বাগবো এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষিত আলাসেন ওয়েতাহার সঙ্গে বৈঠক করেন। স্বেচ্ছায় ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ালে বাগবোকে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দেন আফ্রিকান নেতারা। তবে ওই প্রস্তাবে কাজ হয়নি বলেই মনে হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বাগবোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু বলা হয়নি।
আফ্রিকান নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ওয়েতাহা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে আলোচনা শেষ। প্রথমত, তাঁকে (বাগবো) স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ঘোষিত নির্বাচনের ফলাফলকে মেনে নিতে হবে। আমিই আইভরি কোস্টের নির্বাচিত এবং বৈধ প্রেসিডেন্ট। এ জন্য বাগবোকে যত দ্রুত সম্ভব ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।’
গত ২৮ নভেম্বরের নির্বাচনের পর বাগবো ও ওয়েতাহা দুজনই আলাদাভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এর পর থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর আবিদজানের একটি হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন ওয়েতাহা। তাঁর নিজের পক্ষে থাকা সাবেক বিদ্রোহীদের একটি দল এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর একটি ছোট দল তাঁর নিরাপত্তা দিচ্ছে। আফ্রিকান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ওয়েতাহাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বাগবোকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে।
সোমবার বাগবোর সঙ্গে চূড়ান্ত দফায় বৈঠকের পর সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট আর্নেস্ট করোমা বলেন, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশেই আলোচনা হয়েছে। আপনারা দেখছেন, আমাদের সবার মুখেই হাসি আছে। তবে ফলাফল সম্পর্কে আমরা এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না।’

বিদেশি কূটনীতিকদের আমন্ত্রণের কথা নিশ্চিত করেছে ইরান

পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনে বিদেশি কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানোর কথা নিশ্চিত করেছে ইরান। ইস্তাম্বুলে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে পরমাণু কর্মসূচিসংক্রান্ত বৈঠক সামনে রেখে এবং বিতর্কিত পরমাণু ইস্যুতে সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে এটি করা হয়েছে। স্থাপনা পরিদর্শনে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) কয়েকটি দেশ, ন্যাম (জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন) ও ছয়টি পরাশক্তিধর দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রামিন মেহমানপারাশত সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন।
মুখপাত্র জানান, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির সহযোগিতামূলক অবস্থান প্রকাশের অংশ হিসেবে কূটনীতিকদের আমন্ত্রণের বিষয়টি এসেছে। তিনি বলেন, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৈঠকের আগেই কূটনীতিকেরা দুটি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করবেন। আইএইএর এক দূতের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছিল, কূটনীতিকেরা বুশেহের ও নাতাঞ্জ স্থাপনায় যাবেন।
তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি প্রশ্নে অনুষ্ঠেয় ইস্তাম্বুল বৈঠকে ইরান এবং ছয় পরাশক্তি ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এই ইস্যুতে গত ৬ ও ৭ ডিসেম্বর জেনেভায় সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এবারের বৈঠকে ওই বৈঠকে গৃহীত বিষয়গুলোর আলোকে আলোচনা হবে।
ইরান ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই বিতর্কিত পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছে বলে ইইউ ও পরাশক্তিগুলো দীর্ঘ দিন থেকে অভিযোগ করছে। তারা তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের পক্ষপাতী। ইরান অবশ্য বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটি দাবি করছে, কেবল শান্তিপূর্ণ কাজে এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জ্বালানির চাহিদার কথা মাথায় রেখেই তারা এই কর্মসূচি চালাচ্ছে।
এক জ্যেষ্ঠ ইউরোপীয় কূটনীতিক গত সোমবার রয়টার্সকে বলেন, ইরান আইএইএ ও ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘ পরমাণু সংস্থার কয়েকজন দূতকে তাদের পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইতিপূর্বে ইরানের ওপর চার দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধের দাবি জানিয়েছে। ইস্তাম্বুল বৈঠকে এ ধরনের দাবি নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের মধ্যস্থতাকারীরা।

অস্ট্রেলিয়ায় বন্যার সঙ্গে বেড়েছে সাপ

অস্ট্রেলিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। কুইন্সল্যান্ডের রকহ্যাম্পটন শহর দেশের অন্যান্য ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নদীতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে সাপের উপদ্রব। ছড়িয়ে পড়েছে কুমিরের আতঙ্ক। ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য সামরিক হেলিকপ্টারে করে ত্রাণ পৌঁছানো হচ্ছে।
আজ বুধবার দিনের শুরুর দিকে রকহ্যাম্পটনে ফিজরয় নদীর পানি সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। ফলে শহরের আরও অনেক বাসিন্দাকে বাড়ি-ঘর ছেড়ে যেতে হতে পারে। বন্যার কারণে কুইন্সল্যান্ডের রাস্তাঘাট ও বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক শিল্প-কারখানা। বন্যায় কমপক্ষে তিনজন মারা গেছে।
কুইন্সল্যান্ডের ২০টির বেশি শহর বন্যার কারণে বিচ্ছিন্ন অথবা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। রাজ্যের দুই লাখের বেশি মানুষ এখন বন্যাকবলিত। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড বর্তমান পরিস্থিতিকে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পরিস্থিতি সামলে উঠতে অনেক সময় লাগতে পারে।
রকহ্যাম্পটনে সাপের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে সাপ দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো সাপের দৈর্ঘ্য সাড়ে ছয় ফুট পর্যন্ত। আশ্রয়ের সন্ধানে বিষধর সাপসহ নানা ধরনের সাপ গাছে উঠছে। এমনকি মানুষের বাড়িঘরেও আশ্রয় নিচ্ছে। কোথাও কোথাও কুমির দেখা গেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে।

গিলানির বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট চাইবে না পিএমএল-এন

পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল-এন) পক্ষ থেকে গতকাল মঙ্গলবার বলা হয়েছে, তারা পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোট চাইবে না। কারণ, অনাস্থা ভোটের দাবি অস্থিতিশীলতাকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে। দলটির এই সিদ্ধান্তের কারণে প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি ও তাঁর সরকার সম্ভবত এ যাত্রায় পতনের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে যাবে।পিএমএল-এনের চেয়ারম্যান রাজা জাফর-উল-হক বলেন, পিএমএল-এনের বিশ্বাস, অনাস্থা ভোট গোটা দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।পিএমএল-এনের এই সিদ্ধান্তের অর্থ হচ্ছে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক সংকট থেকে উতরে গেল।
ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম শরিক মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের পর এই রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়। এমকিউএমের সমর্থন প্রত্যাহারের কারণে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় সরকার।জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত রোববার সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় এমকিউএম। সমর্থন প্রত্যাহারের পর বর্তমান সরকারের পতনের আশঙ্কা দেখা দেয়।
গতকাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পিএমএল-এনের একজন মুখপাত্র বলেন, অনাস্থা ভোটের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।মুখপাত্র আহসান ইকবাল বলেন, সরকার কীভাবে নিজেদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তা তাদের বিষয়।এদিকে চৌধুরী সুজাত হোসেনের নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল-কিউ) নেতারা জানান, তাঁদের দলও পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোট চাইবে না।
প্রধানমন্ত্রী গিলানি গত সোমবার বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন বিরোধী নেতাদের সঙ্গে কথা বলে।
সোমবার রাতে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি প্রধানমন্ত্রী গিলানির ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির ওপর জারদারির পূর্ণ আস্থা রয়েছে। জোট সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য যেকোনো প্রচেষ্টাকে রুখে দিতে তিনি গিলানির পাশে থাকবেন।
তবে এই যাত্রায় বেঁচে গেলেও গিলানি তাঁর মেয়াদকাল পূর্ণ করতে পারবেন বলে আশা করতে পারছেন না বিশ্লেষকেরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান আসকারি রিজভি বলেন, সরকার হয়তো কিছু সময়ের জন্য রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সরকার বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, সরকারকে সমর্থন জোগাড় করতে হবে। বিরোধীরা সরকারকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলার ও অচল করে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের করণীয় নির্ধারণ করতে গতকাল পিএমএল-এনের নেতাদের বৈঠকে বসার কথা।

আবারও দাঁড়িয়ে গেছেন কুক

টেস্ট অধিনায়কত্বের শুরু থেকেই নিজের ছাপ রাখতে চাইছেন মাইকেল ক্লার্ক। অভিষিক্তদের টেস্ট ক্যাপ সাবেক ক্রিকেটারদের হাত দিয়ে তুলে দেওয়ার রীতিতে ফিরে যাওয়া দিয়ে শুরু। এরপর ব্যাটিং অর্ডারে ছয়ে তুলে আনলেন ব্র্যাড হাডিনকে। ২০০৯ সালের লর্ডস টেস্টের পর আবার নতুন বল তুলে দিলেন মিচেল জনসনের হাতে। তিন স্লিপ, দুই গালি, ফরোয়ার্ড শর্ট লেগ—প্রথম বল থেকেই এমন আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং।
তবে ইংলিশদের ইতিহাস গড়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষার কাছে পাত্তা পাচ্ছে না কিছুই। অস্ট্রেলিয়াকে ২৮০ রানে গুটিয়ে দিয়ে দিনশেষে ৩ উইকেটে ১৬৭, সিডনির দ্বিতীয় দিনটিও তাই ইংল্যান্ডের। তবে দিনশেষে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে অস্ট্রেলিয়াও, এর চেয়ে অনেক খারাপ কিছুও যে হতে পারত! মিচেল জনসনের অলরাউন্ডার-সত্তা জেগে না উঠলে কালই হয়তো ঠিক হয়ে যেত ম্যাচের ভাগ্য। স্বাগতিকেরা যখন কাঁপছে দুই শর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়, দারুণ এক ফিফটি করে দলকে এনে দিয়েছেন মোটামুটি সম্মানজনক রান। পরে আউট করেছেন ট্রট-পিটারসেনকে। আজ সকালে ঝটপট দু-তিনটি উইকেট তুলে নিতে পারলে ভালোভাবেই ম্যাচে ফিরে আসবে অস্ট্রেলিয়া।
ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া হাডিনকে দিয়ে কাল শিকার শুরু করেছেন আগের দিন কোনো উইকেট না পাওয়া জেমস অ্যান্ডারসন। এর পরই অস্ট্রেলিয়াকে সবচেয়ে বড় আঘাতটা দিয়েছেন পল কলিংউড। নতুন বল নেওয়ার আগে সময় পার করার জন্য তাকে বোলিংয়ে এনেছিলেন স্ট্রাউস। নতুন বল নেওয়ার ঠিক আগের বলে মাইক হাসিকে বোল্ড করে পেয়ে গেছেন ক্যারিয়ারের সম্ভবত সবচেয়ে দামি উইকেট। নতুন বলে স্মিথ-সিডলকে যখন এক ওভারে ফেরালেন অ্যান্ডারসন, অস্ট্রেলিয়ার রান ৮ উইকেটে ১৮৯!
এর পরই হিলফেনহসকে নিয়ে জনসনের পাল্টা আক্রমণ। টিম ব্রেসনানকে ফ্লিক করে গ্যালারিতে পাঠান হিলফেনহস, সোয়ানকে এক ওভারে চার-ছয় মেরে জনসন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন ৬৩ বলে। ৭৬ রানের নবম উইকেট ভাঙেন ব্রেসনান, হিলফেনহসকে আউট করে অ্যান্ডারসন সিরিজে উইকেট সংখ্যা নিয়ে যান ২১-এ।
শেষ দুই উইকেটের ৯১ রান যে আত্মবিশ্বাসটা এনে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে, সেটা চূর্ণ করার মিশন নিয়েই যেন নেমেছিলেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। প্রথম ২৬ বলে ৩৬ করা স্ট্রাউস করেছেন ক্যারিয়ারের দ্রুততম ফিফটি (৪৯ বলে)। যাঁর ওপর বেশি খড়গহস্ত ছিলেন, সেই হিলফেনহসই থামিয়েছেন ঝড়। পরের ওভারে জনসন ট্রটকে শূন্য হাতে ফেরালে মনে হচ্ছিল পার্থের পুনরাবৃত্তিই হচ্ছে। তবে পার্থে বিনা উইকেটে ৭৮ থেকে ৯৮/৫ হয়ে যাওয়ার দুঃস্বপ্ন সিডনিতে ফিরে আসতে দেননি কুক-পিটারসেন। শেষ বিকেলে ফিরে যাওয়ার আগে কুকের সঙ্গে ৬৬ রানের জুটি গড়েছেন পিটারসেন।
তবে এই সিরিজের সবচেয়ে বড় ‘বিপ্লব’ অ্যালিস্টার কুক আবারও দাঁড়িয়ে আছেন অস্ট্রেলিয়ার বাধার দেয়াল আর ইংলিশদের আশার প্রতীক হয়ে। ৪৬ রানে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গেছেন বোলার মাইকেল বিয়ার নো বল করায়, অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংসে পেরিয়েছেন সিরিজে ৬০০ আর টেস্ট ক্যারিয়ারে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক।

রিয়ালের স্বস্তির জয়

অপেক্ষাটা তো এক-দুই দিনের নয়। আ-ট মাসের! গত বছর মে মাসে সর্বশেষ রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন। বিশ্বকাপে পাওয়া চোটের কারণে এই মৌসুমের প্রথমভাগে কাকা হয়ে গিয়েছিলেন দর্শক। অবশেষে এই ব্রাজিল-তারকা মাঠে নামলেন পরশু। কাকার ফেরার দিনে স্প্যানিশ লিগে রিয়াল গেটাফের বিপক্ষে জিতল ৩-২ গোলে।
কাকার এই ফেরায় জয়ের আনন্দের চেয়েও বেশি মিশে থাকল স্বস্তি। মাদ্রিদেরই ক্লাব গেটাফে শহরের বিখ্যাত প্রতিপক্ষকে ভালোই দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। শেষ কয়েক মিনিট দাঁতে দাঁত চেপে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে রিয়াল। ৮১ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে আরবেলোয়া মাঠ ছাড়লে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে হোসে মরিনহোর দল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পয়েন্ট হারাতে হয়নি। বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধানটা দুই পয়েন্টেই রেখেছে রিয়াল।
ম্যাচটা সহজ হবে না, সেটি বোঝা গিয়েছিল আগেই। দুদলই দারুণ ফর্মে। রিয়াল-গেটাফে দুদলই জিতে এসেছে আগের পাঁচটি ম্যাচ। গেটাফে তো টানা আট ম্যাচ অপরাজিত। যদিও ১৯ মিনিটে রিয়াল ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল একতরফা ম্যাচই হতে যাচ্ছে।রিয়ালের দুটো গোলেই জড়িয়ে অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার নাম। না, গোল তিনি একটিও করেননি। তবে প্রথম পেনাল্টিটি আদায় করে নিয়েছেন, যে পেনাল্টি থেকে ১১ মিনিটে লিগে এই মৌসুমে রোনালদো তাঁর ১৮তম গোলটি করেন। মেসুত ওজিলের ১৯ মিনিটের গোলটাও ডি মারিয়ার দারুণ পাস থেকে।
খেলায় প্রাণ ফিরিয়ে আনেন রিয়ালেরই যুবদলের আবিষ্কার ড্যানিয়েল পারেজো। ২০০৯ সালে গেটাফেতে নাম লেখানো এই মিডফিল্ডার ২৯ মিনিটে শোধ করে দেন একটি গোল। দ্বিতীয়ার্ধের ১২ মিনিটের মাথায় লিগে রোনালদোর ১৯তম গোল।ম্যাচে উত্তেজনা ভর করে আসলে শেষ ১৫ মিনিটে। এ সময়ই বেনজেমার বদলি হিসেবে নামেন কাকা। আরবেলোয়ার ইচ্ছাকৃত হ্যান্ডবলের শাস্তি হিসেবে লাল কার্ড তো বটেই, ৮৫ মিনিটে হুয়ান আলবিন স্কোরটাকে এ সময় বানিয়ে দেন ২-৩।শেষ দিকে ম্যাচের চেহারা এভাবে পাল্টে যাওয়ায় বিস্মিত মরিনহোও। রিয়াল কোচ সেটাই বলেছেন, ‘এটা ছিল অদ্ভুত একটা ম্যাচ। শুরুতে মনে হচ্ছিল আমরা ৩-০ বা ৪-০-তে জিতব। কিন্তু প্রথমার্ধের পর আমার মনে হচ্ছিল, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।’
এই নিয়ন্ত্রণ হারানোর পেছনে কোচ দায়ী করছেন ডিফেন্সে মনোযোগের অভাব। অবশ্য এদিন রক্ষণ ভাগে রিয়াল পায়নি নিষেধাজ্ঞার কারণে বাইরে বসে থাকা পেপে আর কারভালহোকে।
শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট আর কাকাকে ফিরে পাওয়া রিয়ালের জন্য অবশ্য সুখবর। ব্রাজিল ফরোয়ার্ড ম্যানইউতে চলে যাচ্ছেন এমন গুঞ্জনের মুখে কাকা নিজে অবশ্য জানালেন, রিয়ালের জার্সি গায়ে আবার মাঠে নামতে পেরে তিনি খুশি।

রাজনৈতিক আলোচনা- সরকারের ব্যর্থতায় হতাশাঃ বিরোধী দলের ব্যর্থতায় বিকল্পের অনুপস্থিতি by মোজাফ্ফর আহমদ

বাংলাদেশে জরিপ নিয়ে বিতর্ক এমন এক উচ্চমার্গে পৌঁছেছে, যেটা থেকে প্রতীয়মান হতে পারে, জরিপের কোনো স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি নির্ভর করে কিছু মানুষের বিচারিক বিশ্লেষণের ওপর। অথচ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো এ দেশেও জরিপ-সম্পর্কিত ফলিত তথ্যবিজ্ঞানই ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে নানা গবেষণায় ব্যবহূত হয়ে আসছে আজ প্রায় পৌনে শতকের বছর ধরে। এমন অবস্থায় প্রথম আলোর উদ্যোগে একটি জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে প্রতি বিভাগের দুই-চার জেলা থেকে সংখ্যাবিজ্ঞানের জরিপ-প্রক্রিয়ায় দৈবচয়িত তিন হাজার ব্যক্তির বিভিন্ন বিষয়ে মতামত গ্রহণ করেছে।

আলোচনা- ক্ষমতা ও গণতন্ত্র by প্রফেসর ড.মখদুম মাশরাফী

ক্ষমতার সাথে গণতন্ত্রের সম্পর্ক ওতপ্রোত । আবার ক্ষমতাসর্বস্বতা গণতন্ত্রের বিপরীত। তবে কোথায় থাকবে ক্ষমতা আর কোথায় থাকবে গণতন্ত্র, প্রশ্নটা এমন হয়ে আসে। এর উত্তরটা আমাদের বের করতে হবে যদি আমরা গণতন্ত্র চাই, যদি আমরা গণতন্ত্র বিষয়ে অভিনয় না করতে চাই। এ ক্ষেত্রে আমাদের রাজনীতির প্রসঙ্গে আসতে হবে। এর কারণ রাজনীতির বিষয়ে ক্ষমতা প্রধানভাবে প্রাসঙ্গিক। তবে ক্ষমতা রাজনীতির বাইরে আরো অনেকখানে থাকে ।