Showing posts with label মহিউদ্দীন জুয়েল. Show all posts
Showing posts with label মহিউদ্দীন জুয়েল. Show all posts

Thursday, June 15, 2017

বিচার হয় না পাহাড়খেকোদের by মহিউদ্দীন জুয়েল

প্রতিটি প্রতিবেদনেই ঘুরেফিরে এসেছে প্রভাবশালী মহলের নাম। তুলে ধরা হয়েছে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় পাহাড়খেকোদের সিন্ডিকেটের কথা। কখনও পাহাড় দখলের মহোৎসবের চিত্র কিংবা পাহাড়ের পাদদেশে লোকজনকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে ঘর ভাড়া দেয়ার রমরমা বাণিজ্যকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আবার অনেক তদন্ত কমিটির সদস্য সরাসরি বলেছেন, রাতের আঁধারে গাছ কেটে নেয়ার কারণে মাটির উর্বরতা কমে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই খসে পড়ছে বিশাল মাটির টুকরো। বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য আর মাটি কেটে নেয়ার কারণে এক দশকে আরো ১০/১২টি পাহাড় যেকোনো সময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। 
চট্টগ্রামে গত ১৫ বছরে ঘটে যাওয়া একাধিক পাহাড় ধসে লোকজনের প্রাণহানির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনগুলো কখনই আলোর মুখ দেখেনি। অথচ সবক’টি প্রতিবেদনেই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজন কাজ করেছেন। তারা গড়ে ২০/৩৬টি করে সুপারিশও করেছেন।
তাদের দেয়া সেই সব সুপারিশের প্রতিবেদনগুলোর বেশির ভাগই এখন ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার কিংবা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের স্টোররুমে। কোনো প্রতিবেদনের আলোকেই আজ পর্যন্ত নেয়া হয়নি পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক, কর্মী, পরিবেশবিদ ও সমাজের নানা স্তরের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই প্রতিবছর পাহাড় ধসে প্রচুর লোকের মৃত্যু হচ্ছে।
তারা জানান, পাহাড় ধসের ঘটনার পর প্রতিবছর প্রশাসন থেকে গঠিত হয় একাধিক তদন্ত কমিটি। কিছুদিন এই নিয়ে হাঁকডাক শোনা যায়। কিন্তু মাস ফুরালেই আর আলোর মুখ দেখে না এসব তদন্ত প্রতিবেদন। ফলে পাহাড়খেকোরা পার পেয়ে যাওয়ায় আবারো তারা নানা ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। পাহাড় নিয়ে বাণিজ্য শুরু করে।
এ বিষয়ে পরিবেশ আন্দোলন কর্মী ও অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি চিহ্নিত করা ও তাদের স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের সুপারিশগুলো কবে বাস্তবায়িত হবে আমাদের প্রশ্ন। দখল হওয়া পাহাড়গুলোর অধিকাংশের মালিক সরকারি সংস্থা। চট্টগ্রামে এখন ১১ মাসই পাহাড় কাটা চলে। এক মাসের উচ্ছেদে কি আর সমস্যার সমাধান হয়?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১১ই জুন ভয়াবহ পাহাড় ধসে ১২৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে চট্টগ্রামে। সেই ঘটনায় তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার এম এন সিদ্দিকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ২৮টি কারণ নির্ধারণ করে ৩৬টি সুপারিশ প্রণয়ন করে।
২০১৭ সালের চলতি জুন মাস পর্যন্ত সেই সুপারিশের একটিও বাস্তবায়িত হয়নি। পরিবেশ আন্দোলন কর্মীরা জানান, ওই প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটির সদস্যরা যেসব সুপারিশ করেছিলেন সেগুলো বাস্তবায়িত করতে গেলে খোদ প্রশাসনের লোকজনের নামই বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
 কেবল তাই নয়, প্রতিবেদনে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছিলো। বর্তমানে এই কাজটি করতে গিয়ে জেলা প্রশাসনকে বেশ হিমশিম খেতে হয় বর্ষা আসলে।
কেননা, নগরীর খুলশী, বায়েজীদ, পাহাড়তলী, মতিঝর্ণা, লালখান বাজারসহ একাধিক এলাকার পাহাড়গুলো রাজনৈতিক নেতাদের হাতে বন্দি হয়ে আছে। সেখান থেকে তারা লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। পাহাড় থেকে বসতি উচ্ছেদ করতে গিয়ে তারা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।  
অন্যদিকে ২০১১ সালের জুন মাসে বাটালি হিলে পাহাড় ধসে মারা যান ১৭ জন। ২০১২ সালে নগরীর চার স্থানে পাহাড় ধসে ১৮ জন মারা যান। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে মারা যায় আরো ৯ জন।
এসব ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা উল্লেখ করেছেন, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে পাহাড়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকতে হবে। পাহাড়ে কাঁটাতারের ঘের  দেয়া ও সামাজিক বনায়নের আওতায় আনা জরুরি। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য আধুনিক ও উন্নতমানের সরঞ্জামাদি ক্রয় করতে হবে।
কিন্তু কোনো প্রতিবেদনের সুপারিশই আলোর মুখ দেখেনি। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার ভেড়া পাহাড় ও খুলশী থানা এলাকার পাহাড়টির বেশির ভাগ অংশ কেটে ফেলা হয়েছে।
চট্টগ্রামের পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক শরীফ চৌহান বলেন, যারা পাহাড় কেটে বাণিজ্য করছে তারা বহাল তবিয়তে আছে। ওদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার খবর কেউ জানে না। পাহাড় থেকে সাময়িকভাবে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়। পরবর্তীতে আবারো সেখানে বসতি গড়ে উঠে।
পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল বলেন, অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। তবে সত্যি কথা কী কিছু সমস্যা আছে। সেগুলো ওভারকাম করলে আমি মনে করি বিষয়টি স্থায়ীভাবে নিরসন করা সম্ভব।

Sunday, June 4, 2017

১ বছরেও অধরা মূল আসামিরা by মহিউদ্দীন জুয়েল

দেশজুড়ে আলোচিত চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মিতুকে কার নির্দেশে হত্যা করা হয়েছিল, তা গত এক বছরেও বের করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। খুঁজে বের করতে পারেনি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সেই মূসাকেও। গত বছরের ৫ই জুন ভোরে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে খুন করা হয় মিতুকে। আগামীকাল সোমবার এ হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিতুর পরিবার।
অন্যদিকে পুলিশ সুপার বাবুল আকতার চাকরি থেকে অব্যাহতি নেয়ার পর বর্তমানে ঢাকার মগবাজারের একটি বেসকারি হাসপাতালে চাকরি করছেন। তার দুই সন্তান এখন তার সঙ্গে বসবাস করছে।
তবে আসামি মূসার খোঁজে এখনও মাঠে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। চট্টগ্রামের অস্ত্র বিক্রেতা মূসা এক সময় নানা হত্যাকাণ্ডে ভাড়াটিয়া হিসেবে কাজ করত। পরে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতে শুরু করে।
মদ, ইয়াবা কিংবা সোনার বড় চালান ধরিয়ে দিয়ে বিভিন্ন সময় বাবুল আকতারের কাছ থেকেও নানা সোর্স মানি নিয়েছে। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে যেসব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা সবাই বলেছেন মূসাই বাবুল আকতারের স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করেছে।
মূসাকে ধরতে ইতিমধ্যে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সে খুনের ঘটনার পর থেকে পালিয়ে আছে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ সুপার বলেন, তদন্ত চলছে। কাজ থেমে নেই। সমস্যা হচ্ছে মূসাকে পাওয়া গেলে খুনের নির্দেশদাতার নাম জানা যেতো। তবে আমরা তদন্ত কার্যক্রম অনেক দূর নিয়ে গেছি। যদিও মূসার স্ত্রী দাবি করেছেন তার স্বামীকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বহু আগেই বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মিতু হত্যাকাণ্ডে ইতিমধ্যে পুলিশ সুপার বাবুল আকতার, তার চাচাতো ভাই, মিতুর বাবা-মা, নিহত এক পুলিশ কর্মকর্তার বোনসহ একাধিক ব্যক্তির মুখোমুখি হয়েছেন এই খুনের তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান।
জিজ্ঞাসাবাদে বারবারই মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন তার মেয়ে হত্যার বিচার চেয়েছেন। একপর্যায়ে তিনি বলেছেন, তার মেয়েকে হত্যার ঘটনায় যদি বাবুলের সম্পৃক্ততা থাকে তা-ও যেন খুঁজে বের করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাবুল আকতারের শ্বশুর মোশারফ হোসেন বলেন, একটা বছর হয়ে গেল অথচ আমার মেয়েটাকে কারা খুন করলো, কার নির্দেশে করলো, কিছুই বের করা গেল না। মেয়ের শোকে তার মা এখনো সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন।
তিনি বলেন, মিতুর স্বামী বাবুলের ভূমিকা কী তা-ও আমরা জানতে চাই। সে চুপ কেন। তাকে বলতে হবে, কে আমার নিরাপরাধ মেয়েটাকে হত্যা করেছে।
মিতু খুনের ঘটনায় হঠাৎ করেই কয়েক মাস আগে বর্ণি নামের এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার জড়িত থাকার কথা শোনা যায়। যদিও ওই নারী সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, তার স্বামীর বোন ও পরিবারের সদস্যরা সম্পত্তির লোভে এই অভিযোগে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বাবুল আকতারের সঙ্গে তার কোনো সর্ম্পক নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলতে চাই না। তবে এটুকু বলবো, মূসাকে হন্যে হয়ে খুঁজছি আমরা। বাবুল আকতারকে ডেকে নিয়ে কথা বলা হয়েছে। তাকে আরও ডাকবো। প্রয়োজনে আরও কথা বলতে হবে।
অন্যদিকে বাবুল আকতার এই ঘটনার বিষয়ে কারও সঙ্গে কোনো কথা বলছেন না। কিছুদিন পরপরই তিনি ফেসবুকে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বক্তব্য দিচ্ছেন। এসব লেখায় বারবারই তার নিজের কষ্টের কথা শেয়ার করতে দেখা যায়।

Monday, April 3, 2017

বাকরুদ্ধ নুরুর স্ত্রী জীবন নিয়ে শঙ্কিত অন্যরা by মহিউদ্দীন জুয়েল ও নেজাম উদ্দিন রানা

বড় মেয়ের নাম মীম। বয়স ১০ বছর। ছেলে নাঈম পড়ছে কেজি স্কুলে। আর সর্বকনিষ্ঠ সন্তান নুয়াজের বয়স মাত্র ৩ মাস। বড় মেয়েটা একটু আধটু  বুঝতে পারলেও নিহত ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরুর বাকি দুই সন্তান এখনো কিছু জানে না।
তাদের বাবাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এটুকু জানতে পেরে মেয়ে মীম অঝোরে কাঁদছে ঘরের দরজায়। পুরো বাড়ি শোকে স্তব্ধ। একটু পরপরই বিলাপ আসছে ভেতর থেকে। এমন পরিবেশে ছোট্ট সন্তান নাঈম মায়াভরা চোখে তাকাচ্ছেন সবার দিকে।
চট্টগ্রামে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরুর রাউজানের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল এমনই চিত্র। চারদিকের পরিবেশ থমথমে। ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার বাতাস। ছাত্রদল নেতা নুরুকে কেন হত্যা করা হয়েছে? এমন প্রশ্ন সবার মুখে মুখে।
এলাকাবাসী বলেছেন, রাজনীতি করতো বলে সারাক্ষণ উৎকণ্ঠায় থাকতো নুরুর পরিবার। বাসায়ও সে তটস্থ থাকতো। প্রায় সময় স্ত্রীকে বলতেন কেউ হয়তো তাকে তুলে নিয়ে যাবে। মিথ্যা ঘটনায় ফাঁসিয়ে দেবে। থানায় বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের হওয়ার পর নুরু সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটা সরে এসেছিলেন।
তবে তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন সবসময়। চট্টগ্রাম শহরের চন্দনপুরার বাসা থেকে মাসে একবার হলেও রাউজান গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতেন।
গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরার সেই বাসা থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরুকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিয়ে যায় একদল লোক। বৃহস্পতিবার সকালে রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের খেলারঘাট বাজারের পাশে কর্ণফুলী নদীর তীরে তার লাশ পাওয়া যায়।
এই ঘটনার পর থেকেই বিপর্যয় নেমে এসেছে নূরুর পরিবারে। ৩ সন্তান অকালে হারিয়েছেন তাদের বাবাকে। অন্যদিকে স্ত্রী হয়েছেন বিধবা। রাজনীতি করার কারণে পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় জীবন কাটাচ্ছেন বলে জানান। নুরুর পিতার নাম মোহাম্মদ ইসহাক। তিনি অনেক আগেই মারা গেছেন।
৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে নুরু সবার ছোট। তার বড় ভাই মাহবুবুল আলম ও মেজভাই শফিউল আলম মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী। ভাই হত্যার খবর শুনে তারা দুইজনেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান ১৩ নং নোয়াপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
নুরুল আলম নুরুর আত্মীয়স্বজনরা জানান, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তিনি স্থানীয় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের হিংসার শিকার হন। এই নিয়ে নিজের জীবনের চেয়েও স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে থাকতেন।
শহরে বাসা নিয়ে সেখানে সন্তানদের পড়ালেখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।  
গত ২৩শে নভেম্বরের পিতা মারা যাওয়ার পর নুরুর কাঁধে সংসারের বিশাল দায়িত্ব পড়ে। রাজনৈতিক কারণে নিজের পিতার জানাজায় উপস্থিত থাকতে পারেননি নুরু।
প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের হামলা, মামলার ভয়ে  গত ১৫ বছর ধরে চট্টগ্রামে পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে ঢাকায় অবস্থান করতেন বেশির ভাগ সময়। খুন হওয়ার চারদিন আগেই ঢাকা  থেকে এসেছিলেন নুরু। গ্রামের বাড়িতে পাকা দালানটি পুরনো আমলের।
রাউজান থানায় গেলে পুলিশ জানায়, নুরুর বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, বিস্ফোরকসহ চারটি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে দক্ষিণ রাউজানের আলোচিত যুবলীগ নেতা  মোবারক হত্যা মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি। ছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আর গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী। দীর্ঘ দেড় যুগের রাজনৈতিক জীবনে নোয়াপাড়া কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বেশ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
সর্বশেষ গঠিত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান নুরু। চট্টগ্রামে ছাত্রদলের কর্মসূচিসমূহে নুরুর ছিল অগ্রণী ভূমিকা। নিরহংকারী, সজ্জন নুরু রাজনৈতিক গণ্ডির বাইরেও ছিল সমান জনপ্রিয়। দলের কর্মীদের দুঃসময়ে পাশে থাকতেন তিনি।
নুরুর বড় বোনের জামাই আবু জাফর বলেন, দেখতেই তো পারছেন একটি খুনের ঘটনা কিভাবে ওলটপালট করে দেয় সাজানো পরিবারকে। ছেলে-মেয়েগুলোর মুখের দিকে তাকানো যায় না। চোখে পানি চলে আসে। ছোট সন্তানের বয়স ৩ মাস। আফসোস বাবা বলে ডাকার আগেই সে বাবাকে হারালো।
তিনি বলেন, নুরু রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার। তার সক্রিয় হওয়াটাকে এলাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন ভালো চোখে দেখেনি। তারাই তাকে সরিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, নুরুর লাশ থানায় নেয়ার পর সেখান থেকে মামলা করার জন্য তার স্ত্রী সুমি আকতারকে বলা হয়। কিন্তু স্ত্রী সুমি থানার ওসিকে বলেন, আমার সামনে  থেকে পুলিশ আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে এসেছে, পরে আমরা তাকে জীবিত নয় লাশ  পেয়েছি। আমি আমার স্বামী হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। এই সময় সবাই চুপ থাকেন।
নিহত নুরুর ভগ্নিপতি আবু জাফর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাকে আমি  ছোটকাল থেকেই চিনি। আমরা পাশাপাশি বাড়ির। পরে তার বোনকে বিয়ে করার পর তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে উঠে। তাকে আমি  ছোটভাইয়ের মতো স্নেহ করতাম। তার মতো একটি ভালো ছেলেকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে নির্মম ভাবে খুন করবে তা আমরা কল্পনাও করিনি কোনোদিন।
নুরুর ভাগিনা রাশেদুল ইসলাম বলেন, তাকে হারিয়ে পুরো পরিবার বাকরুদ্ধ। তার স্ত্রীর আহাজারি এখনো থামেনি। এই মুহূর্তে পরিবারের পক্ষ  থেকে মামলা করার চিন্তা করতে পারছি না। বিষয়টি সম্পর্কে তার দলের নেতারা সিদ্ধান্ত  নেবে।
স্বামীকে হারিয়ে একটু পরপরই শোকে মূর্ছা যাচ্ছেন সুমি আকতার। তিনি বিলাপ করে বলেন, জলজ্যান্ত একটা মানুষকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে গেল। আর গুলি করে লাশ করলো। আল্লাহ এর বিচার করবেন।
তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে সে বারবারই বলতো তাকে বাঁচতে দেবে না। রাজনীতি করলে এখন মরতে হবে। হয়েছেও তাই। ছোট ছোট বাচ্চাগুলো এখন কাকে বাবা বলে ডাকবে? তাদের নিয়ে আমি শঙ্কিত। ওরা আমাদেরকেও হয়তো মেরে ফেলবে। আবার হয়তো পুলিশ নিয়ে এসে কাউকে ধরে নিয়ে যাবে।

Thursday, February 11, 2016

লতিফ-মহিউদ্দিন দ্বন্দ্ব চরমে by মহিউদ্দীন জুয়েল

চট্টগ্রামে মুখোমুখি আওয়ামী লীগের এমপি এম এ লতিফ ও সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী। এম এ লতিফের শাস্তি দাবি করে সমাবেশ  ডেকেছেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। এই নিয়ে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বন্দর নগরীর আওয়ামী লীগের রাজনীতি। দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে সবার সামনে। একজন আরেকজনকে নিয়ে করছেন বিষোদগার। কটূক্তি। নানা ধরনের মন্তব্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বছরের শুরুতেই তোপের মুখে পড়েছেন চট্টগ্রামের ১১ আসনের এমপি এমএ লতিফ। গত ৩০শে জানুয়ারি শেখ হাসিনার সফর উপলক্ষে তিনি বেশকিছু ফেস্টুন টাঙিয়েছিলেন নগরীতে। সেখানে নিজের শরীরে বঙ্গবন্ধুর মাথার অংশ বসানোর ঘটনায় ফেঁসে যান লতিফ। এরপর তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য হাজির করেন ওই ছবির ডিজাইনার ও নকশাকারককে। তারা জানিয়েছিলেন তাড়াহুড়ো করে এই কাজটি করেছেন। এখানে এমপি’র কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরী এই ঘটনায় দলীয় এমপি লতিফের বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, দলীয় হাইকমান্ডের কাছে এই বিষয়ে নালিশ করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে লতিফের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে গত এক সপ্তাহের মধ্যে। এমপি লতিফ এই ঘটনায় শুরুতে বলেছেন, একটি চক্র যারা দলের ভেতর লুকিয়ে রয়েছেন তারা তার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এমন কুৎসা রটাচ্ছেন। এসব লোকজন শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছাতে না পেরে তার পেছনে লেগেছে। ষড়যন্ত্র করছে। এসব কথায় তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ইঙ্গিত করেছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, এমপি লতিফ ও মহিউদ্দিন চৌধুরীর দ্বন্দ্ব দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে। শোনা যাচ্ছে মহিউদ্দিনের সমর্থনে লতিফের বিরুদ্ধে আরও বেশকিছু মামলা দায়ের করা হবে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে লতিফের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমাবেশ করার ঘোষণায় এই দ্বন্দ্ব আবারও প্রকট হয়ে উঠেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃতির অপরাধে এমপি লতিফের বিচারের দাবিতে আগামী শনিবার নগরের লালদীঘি মাঠে সমাবেশের ডাক দিয়েছেন তিনি। সেখানে ‘নাগরিক মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে এই কর্মসূচি নিয়েছেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি ছাড়াও তার সঙ্গে নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা একেএম বেলায়েত হোসেনও থাকবেন। কর্মসূচিতে সবাইকে থাকার আহ্বান জানান মহিউদ্দিন  চৌধুরী। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি যে বিকৃত করেছে তাকে যুদ্ধাপরাধীদের মতো সর্বোচ্চ শাস্তি ভোগ করতে হবে। সরকার ও প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা কুখ্যাত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে তাদের নির্মূল করতে হবে। মহিউদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, কেবল আমি নই। আমার সঙ্গে এই ঘটনার বিচার দাবিতে থাকবেন ডেপুটি অ্যাটর্নি  জেনারেল কামাল উদ্দিন, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সুনীল সরকার, খোরশেদ আলম সুজনসহ আরও অনেকে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। অন্যদিকে জানতে চাইলে এমপি এমএ লতিফ বলেন, কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না। এই ঘটনা নেত্রীর সামনে পরিষ্কার হয়ে গেছে। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা আমি মেনে নেবো। আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, এমপি লতিফ ও মহিউদ্দিন চৌধুরীর দ্বন্দ্ব নতুন নয়। নানা সময়ে নানা আলোচনায় তারা একে অপরকে ঘায়েল করার চেষ্টা চালিয়েছেন। তবে মূল বিষয়টি শুরু হয় চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে। যার প্রভাব পড়ে রাজনীতিতে। বন্দরের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে দুই নেতা ২০১২ সালের ডিসেম্বরে একে অপরকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। সেই সময় এমপি লতিফ মহিউদ্দিন চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বহদ্দারহাটের মোড় থেকে মহিউদ্দিন চৌধুরী বন্দরের চার নম্বর গেটে আন্দোলন করতে এসেছেন। তিনি একজন হঠকারী আন্দোলনকারী। উনার যখন স্বার্থ তখন তিনি আন্দোলন করেন। লতিফের এমন বক্তব্যে পরবর্তীতে এক অনুষ্ঠানে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, দলের ভেতর কিছু কুখ্যাত ব্যক্তি ঢুকে গেছে। এদেরকে আপনারা প্রশ্রয় দেবেন না। তারা কখনও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। রাতারাতি কিভাবে যেনো এমপিও হয়ে গেছে।

Friday, November 6, 2015

চবিতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ ২৫ বছরে নিহত ২২, ১২০০ তদন্ত কমিটি by মহিউদ্দীন জুয়েল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুইপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় গত ২৫ বছরে ১২০০ তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কিন্তু একটি ঘটনারও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে ছাত্রী হয়রানি, সাধারণ ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে বিছিন্নভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে দেখা গেছে প্রশাসনকে। একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনায় বারবারই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ক্যাম্পাস। বাড়ছে সেশনজট। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি, শাটল ট্রেনের বগি দখল, হল দখল, শোডাউন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এসব ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের লোকজন।
সর্বশেষ দুইপক্ষের সংঘর্ষে বছরখানেক আগে গুলিতে মারা গেছেন এক ছাত্রলীগ কর্মী। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রসংগঠনগুলোর কোন্দলে ও প্রকাশ্যে সংঘর্ষে ২২ জন ছাত্র নিহত হয়েছেন।
সব ঘটনায় তদন্ত কমিটি হলেও কোন ঘটনারই সুরাহা হচ্ছে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটিগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সদস্যরা কোন মন্তব্য না করে প্রশাসনকে দায়ী করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা একটি কারণে প্রতিবেদন জমা দিতে আগ্রহী হন না। সেটি হলো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা। যদি কোন ছাত্রলীগ নেতার বিপক্ষে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তবে দলীয় কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুনরায় অস্থিতিশীলতা তৈরি করে।
তারা শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। তালা লাগিয়ে দেয় ক্লাস রুমে। কেবল তাই নয়, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে শিক্ষক বাসে। ২০০৮ ও ২০১০ সালে তৎকালীন উপাচার্যদের আমলে শাহজালাল হলে মারামারির ঘটনায় ছাত্রলীগের কতিপয় কর্মীর বিরুদ্ধে এমন শাস্তি নেয়ার সিদ্ধান্ত হলে তারা ক্যাম্পাস অচলের হুমকি দেয়।
গত ২রা অক্টোবর ছাত্রলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস। এ সময় ক্যাম্পাসে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়।
শোডাউন দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে পুলিশসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১০০ দা, ছুরি, কিরিচসহ দেশীয় অস্ত্র। পাওয়া গেছে অত্যাধুনিক পাইপগান।
চলতি বছরের গত ৩০শে এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন চত্বর এলাকায় ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত বাংলার মুখ ও সিক্সটি নাইন নামের শাটল ট্রেনভিত্তিক দুটি সংগঠনের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। এর কিছুদিন আগে সোহরাওয়ার্দী হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের মধ্যে একে অপরকে ছুরিকাঘাত করার ঘটনা ঘটে। ওই সময় জমির উদ্দিন, ইমাদ আহমেদ সাহেল, সাঈদ, রিমন, বিপুল ও পুলিশের উপ-পরিদর্শক ইউনুসকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তারও কয়েক মাস আগে ২৬শে নভেম্বর ভিএক্স গ্রুপ ও সিক্সটি নাইন গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশসহ আহত হন ১০ জন।
তদন্ত কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুটি সূত্র জানায়, কেবল গত ৭ বছরে চবিতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ৫০টির বেশি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের ২রা মে ছাত্রলীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। এর সদস্য করা হয় আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল ফারুককে।
২০১২ সালের ২রা মার্চ পর্যন্ত এক মাসের ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগের মারামারির কারণে। এ ঘটনায় জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নুরুল আনোয়ারকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে ১৪ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
২০১৪ সালের ১৪ই ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষে নিহত হয় এক দলীয় কর্মী। এ ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। কমিটিতে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও মৃত্তিকাবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক খান তৌহিদ ওসমানকে আহ্বায়ক করা হয়। এই বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বর্তমান সময়ের সংঘর্ষের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা এমন বিষয়ে জানতে ফোন করা হয় উপাচার্য প্রফেসর ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীকে। তিনি বলেন, আমি এর আগে উপ-উপাচার্য ছিলাম। এখন উপাচার্যের পদে আছি। ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার কোন ষড়যন্ত্র আমি বরদাশত করবো না।
হাটহাজারী থানার ওসি ঈসমাইল মানবজমিনকে বলেন, চবিতে ছাত্রলীগের যেসব ঘটনা ঘটছে তার প্রতিটি ঘটনা থেকে প্রচুর অস্ত্র, গুলি, পিস্তল, রামদা পাওয়া যাচ্ছে। কিছু ছাত্র ক্যাম্পাসে রাজনীতির নামে আসলে অস্থিতিশীল করা চেষ্টা করে। তাদের কারণে সবাইকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
চবি ছাত্রলীগের সভাপতি আলগীর টিপু মানবজমিনকে বলেন, আমি পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করি। অতীতে ছাত্রলীগ যেভাবে পরিচালিত হয়ে এসেছে আমরা চাচ্ছি তার পরিবর্তন। দলীয় কর্মকাণ্ডের নামে কোন অপরাজনীতি আমরা হতে দেবো না।
অন্যদিকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজন বলেন, আমার দলে যারা রাজনীতি করছেন তাদের সবাই মেধাবী শিক্ষার্থী। কিন্তু এখন দলের ভেতর কিছু লোকজন ঢুকে পড়েছে, যারা ছাত্রলীগের নামে সন্ত্রাস ও আধিপত্য কায়েম করতে চায়। তাদের ব্যাপারে সবাই সতর্ক আছি।

Friday, July 10, 2015

চট্টগ্রামে ঈদবাজারে চোরাই সোনা by মহিউদ্দীন জুয়েল

এই ঈদে সারা দেশের গহনার বাজারে বেশির ভাগ সোনা চোরাই পথে আনা হচ্ছে। এক একজন গহনা ব্যবসায়ী ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকার সোনার চাহিদা দিচ্ছেন দুবাইয়ে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে গত ৬ মাসে ধরা পড়েছে ২০০ কোটি টাকার বেশি সোনার বার। কেবল মাত্র শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়েই ২০টির বেশি চক্র এসব চালান মধ্যপ্রাচ্য থেকে এনে সারা দেশে পাচার করছে। বেশ কিছু চালান ধরা পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছেন এমনি তথ্য। তারা বলেছেন, রোজার ঈদে সারা দেশে চোরাই সোনার বিশাল চাহিদা রয়েছে। আর তা মেটানোর জন্য কারবারীরা দুবাইয়ে অর্ডার দিচ্ছেন। এই কাজে তারা সহযোগিতা নিচ্ছেন হুন্ডি ব্যবসায়ীদেরও। অপরাধীদের এমন তৎপরতায় নড়েচড়ে বসেছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বাড়ানো হয়েছে নজরদারিও।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের নথি ঘেঁটে দেখা যায়, চট্টগ্রামে যেসব চালান ধরা পড়ছে সেগুলোর সবক’টিরই চাহিদা ঈদকে ঘিরে। দেশীয় সোনার বাজার পর্যাপ্ত না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা তাই বেশি টাকার আশায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন নিয়মিত। পাশাপাশি ঈদের পরপরই বিয়ের উৎসব থাকায় সোনার চাহিদা বাড়ছে বলে ধরা পড়া ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
গত ২৩শে জুন চট্টগ্রামে ধরা পড়ে ২০ কোটি টাকার সোনার বার। নগরীর বায়েজিদ থানা এলাকার হিলভিউ আবাসিক থেকে একটি প্রাইভেটকারসহ ১৩০টি সোনার বার ও প্রচুর গহনা উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ফারুক, জাকির ও জহির নামের ৩ ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে জানান, আলমগীর নামের হিলভিউ এলাকার এক ব্যবসায়ী এসব সোনা বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছেন। আর এই কাজে জড়িত রয়েছে হাজারী গলির কয়েকটি সিন্ডিকেট। মূলত এসব সোনা ঈদের বাজারের জন্যই আনা হচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১০ জন ব্যবসায়ী চোরাই সোনা আসার জন্য অগ্রিম টাকাও দিয়েছেন হুন্ডির মাধ্যমে।
জানতে চাইলে বায়েজিদ থানার এসআই এমএ হালিম প্রাইভেট কারের  তেলের ট্যাংকের ভেতরে এসব সোনার বার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা নেয়া হচ্ছিল। ঢাকা ও চট্টগ্রামের নিউমার্কেটসহ অভিজাত বিপণিবিতানের অনেক গহনা ব্যবসায়ী এসব সোনা কেনার জন্য তাদের তাগাদা দিচ্ছিল বলে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে।
তবে এই ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে গত ৬ই জুলাই চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার ফরেস্ট একাডেমি গেইট এলাকা থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায়। অভিযুক্ত ছয় ব্যক্তির কাছ থেকে এই সময় পাওয়া যায় ২৬টি সোনার বার।
এদের মধ্যে নিজাম উদ্দিন (২৬) নামের একজন বলেছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে চোরাই সোনা কেনার জন্য রয়েছেন অন্তত ২৫০ ব্যবসায়ী। যারা প্রতিনিয়ত গোপনে এসব সোনা কিনে নিচ্ছেন পাচারকারীদের কাছ থেকে। তবে এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রিত হয় মূলত হাজারী গলি থেকে। এই কাজে নিউমার্কেটের আরও ১০ জন ব্যবসায়ীও জড়িত।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার দীপক জ্যোতি খীসার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন দুবাই থেকে তারা এসব সোনা নিয়ে আসছেন। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে এই চাহিদা ততো বাড়বে। শাজাহান নামের এক ব্যক্তি বলেছে এসব কাজে আরও ১০/১৫ জন সোনার কারিগর রয়েছে। যারা দেশী সোনার সঙ্গে বিদেশের সোনার বার মিশ্রণ করতে ওস্তাদ।
গত ৯ই এপ্রিল গভীর রাতে চট্টগ্রামের সদরঘাট এলাকার একটি গুদাম ঘর থেকে উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ সোনা নিয়ে পাওয়া যায় এই নিয়ে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। উদ্ধারকৃত সোনার দাম ২০ কোটি টাকার বেশি।
অভিযানে উদ্ধার করা সোনার মধ্যে রয়েছে ৩২টি গলার চেইন লকেট, ২০টি গলার চেইন, ১৬টি হাতের বালা, ১২টি বাচ্চাদের চুড়ি, ৪ সেট গলার চেইনসহ কানের দুল, ২ সেট মোটা চেইনের গলার সেট, ২টি সীতাহার, ১টি গলার বড় গোল লকেট, ১টি টিকলিসহ চেইন, ২টি দুলসহ গলার চেইন, ৪টি গলার হার, ৪টি গোল লকেটসহ গলার চেইন, ১২  জোড়া কানের দুল, ৯ সেট গুটি চেইনসহ গলার মালা, ১৪টি ছোট চেইন, ১টি গলার ছোট হার ও ৬ সেট কালো পুঁতির গলার মালা।
এই ঘটনায় আটক ম্যানেজার টিটু ও কর্মচারী এমরান পুলিশকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, দীর্ঘদিন ধরে আনুমাঝির ঘাটের ওই গুদাম ঘরটিতে তারা ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের নামে সোনার অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এই ঘটনার সঙ্গে হাজারী গলির ১০ জন ব্যবসায়ী জড়িত রয়েছে। যারা দুবাই থেকে এয়ারপোর্ট দিয়ে সোনা নিয়ে আসছে অবৈধ উপায়ে। পরে এসব সোনা বিক্রি করা হচ্ছে কর ফাঁকি দিয়ে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল মানবজমিনকে বলেন, বিমানবন্দর থেকে সোনা পাচার হয়ে কোনভাবে তা ব্যবসায়ীদের হাতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে চোরাকারবারীরা। এর আগে ইলেক্ট্রনিক্স এর গুদামে, গাড়ির তেলের ট্যাংকে কোটি কোটি টাকার সোনা পাওয়া গেছে। যা উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, সোনা পাচার রোধে সিভিল পোশাকে কাজ করছে আমাদের একাধিক টিম। বেশ কিছু ঘটনায় সারা দেশের অনেক ব্যবসায়ীর নাম বেরিয়ে এসেছে। মূল হোতাদের অবস্থান পর্যবেক্ষণ চলছে। আশা করছি অনেক রাঘব বোয়াল ধরা পড়বে শিগগিরই।

Tuesday, July 7, 2015

কোকেন কাণ্ড: চট্টগ্রামে ল্যাটিন আমেরিকার একাধিক কনটেইনার নজরদারিতে by মহিউদ্দীন জুয়েল

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আসা একাধিক কনটেইনার নজরদারিতে আনা হচ্ছে। তরল কোকেনসহ একাধিক মাদক থাকার আশঙ্কায় পরীক্ষার জন্য গঠন করা হয়েছে পোর্ট কন্ট্রোল ইউনিটও। বলিভিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, প্যারাগুয়ে, পেরু, উরুগুয়ে, ভেনেজুয়েলাসহ ওই অঞ্চলের একাধিক দেশ থেকে প্রতিদিন আসছে প্রচুর সংখ্যক পণ্যবাহী কনটেইনার।
দেশগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে কোকেন ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠায় চট্টগ্রাম বন্দরকে তাই রুট হিসেবে ব্যবহার করার খবরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। বন্দর ও কাস্টমসের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে এমনি তথ্য।
কাস্টমস সূত্র জানায়, তরল কোকেনের মতো নিষিদ্ধ কেমিক্যাল মাদক সরাসরি শনাক্ত করার কোন মেশিন নেই! ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে কনটেইনারগুলোকে নিয়ে যাওয়া হয় পরীক্ষার জন্য। কিন্তু সেখানেও অত্যাধুনিক যন্ত্রের অভাবে ধরা পড়ে না ভোজ্যতেলে মাদক থাকার মতো কোন ঘটনা।
তরল মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে তাই কর্তৃপক্ষ গত ২০ বছরে এই প্রথমবারের মতো রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে ঢেলে সাজানোর কথা জানিয়েছে। গতকাল এ বিষয়ে কথা বলতে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে গেলে মাদক শনাক্তের বিষয়ে পাওয়া যায় নানা তথ্য।
ধারণা করা হচ্ছে, বেশির ভাগ চালান ধরা পড়ার পর তা প্রথমে নজরে আসে কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তাদের। কিন্তু পরীক্ষার জন্য কোন মেশিন না থাকায় অনেক সময় সেগুলো পার পেয়ে যাচ্ছে। সানফ্লাওয়ার তেল ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা ১০৭টি কনটেইনারের একটিতে গত ২৭শে জুন তরল কোকেনের অস্তিত্ব মিলে। ঢাকার বিসিএসআইআর ও বাংলাদেশ ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর পর তারা কোকেন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অথচ এর আগে গত ৮ই জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও নৌবাহিনীর ল্যাবের প্রাথমিক পরীক্ষায় কোন তরল কোকেন না থাকার কথা জানিয়েছিলেন কর্মকর্তারা! কাস্টমস ও বন্দরের পরীক্ষাগারে এই ধরনের কোন যন্ত্রপাতি না থাকায় ঘটনাটি ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে তরল কোকেন ধরা পড়ার পর অনেকটা নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। তাই মাদক শনাক্তের জন্য বিশেষ করে তরল কোকেনের মতো চোরাচালান ঠেকাতে তাই জাতিসংঘের কাছে বিশেষ ডিটেক্টরের জন্য আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তারা আরও জানান, জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম কর্তৃপক্ষ এর আগে মাদক নিরুপণের জন্য কাস্টমস কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিলেও তাতে কোন কাজ হচ্ছে না। কেননা ডিটেক্টরের অভাবে কোনভাবেই ধরা যাচ্ছে না ভোজ্যতেল আমদানির আড়ালে আসলে কি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো পণ্যবাহী কনটেইনার আসার পর সেগুলো রেনডম সিলেকশন ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতিতে ঝুকিপূর্ণ মনে হলে কায়িক পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে গোপন সংবাদই শুল্ক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভরসা।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে কথা হয় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার হোসেন আহমেদের সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকে যেসব কনটেইনার আসবে সেগুলো বিশেষ নজরদারিতে আনা হয়েছে। এর কারণ সেখানে তরল মাদক সরবরাহের ঝুঁকি রয়েছে। আমরা এ নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। যেহেতু একটি ঘটনা ধরা পড়েছে। তাই হালকাভাবে দেখা হচ্ছে পুরো বিষয়টি।
তিনি আরও বলেন, পোর্ট কন্ট্রোল ইউনিট এই বিষয়ে কাজ করবে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলেই তা পরীক্ষা করতে পারবেন। কিছুটা কড়াকড়ি আরোপ হচ্ছে। তবে এই ক্ষেত্রে আমি মনে করি আরো উন্নত প্রযুক্তি কিংবা যন্ত্রপাতি থাকলে চালান ধরার কাজটি আরও সহজ হতো বলে আমি মনে করি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ভোজ্যতেলের আড়ালে কোকেন পাচারের ঘটনা ফাঁস হয়। এর আগে চালানটি ছাড়িয়ে নিতে আমদানিকারক খান জাহান আলী লিমিটেডকে জানানো হলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক নূর মোহাম্মদ এর কোন দায়ভার নিতে রাজি হননি। তখন তিনি বলেছিলেন তার প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে কেউ এই কাজটি করেছে।
এতে সন্দেহ আরও বাড়ে। শেষমেশ চালানটির রপ্তানিকারক বলিভিয়ার সান্তা ক্রুজ কোম্পানি থেকে খাতুনগঞ্জের নবী মার্কেটের খান জাহান আলীর প্যাড ব্যবহার করে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সোহেল সান ফ্লাওয়ার তেলের চালানটি আমদানি করেন বলে নিশ্চিত হন পুলিশ।
যদিও তখন সেখানে থাকা ১০৭টি ড্রাম থেকে নমুনা সংগ্রহ করে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েও কোকেন পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছিল। পরে সেগুলো ঢাকায় পাঠানোর পর একটি ড্রামে থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
বর্তমান বাজার দর অনুসারে প্রতি কেজি কোকেনের দাম ৫০ কোটি টাকা। সেই হিসেবে ড্রামে থাকা এক-তৃতীয়াংশ কোকেনের পরিমাণ পড়ছে প্রায় ৬১ কেজি। যার মূল্য ৩ হাজার কোটি টাকা।

Monday, July 6, 2015

চট্টগ্রামের ঈদ বাজারে অস্ত্র by মহিউদ্দীন জুয়েল

ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে অস্ত্র উদ্ধারে নেমে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। বিশেষ করে ছোট অস্ত্র। গত একমাসে নগরীতে অপরাধ জগতের বেশ কয়েকটি দলের প্রধানসহ ১০টির বেশি সন্ত্রাসী গ্রুপ ধরা পড়েছে। যাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫০টির বেশি পিস্তল ও ছোরা। নগর পুলিশের ধারণা, ঈদের বাজারে লোকজনকে জিম্মি করতে বান্দরবান ও মহেশখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অস্ত্র নিয়ে এসে চট্টগ্রামে বিক্রি করছে একটি চক্র। আর তাদের কাছ থেকে এসব অস্ত্র কিনে অপরাধ সংঘটিত করছে সন্ত্রাসীরা। নগর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক গ্রুপের সদস্যরা জানিয়েছে এমনই তথ্য। গত ২৯শে জুন নগরীর চকবাজার থানার বাদশা মিয়া রোড থেকে অস্ত্রসহ চার ছিনতাইকারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এদের মধ্যে সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর ও রেজাউল ইসলাম প্রকাশ রাজন জিজ্ঞাসাবাদে জানান, এই মুহূর্তে চট্টগ্রামে ছিনতাইসহ ডাকাতির কাজে নিয়োজিত রয়েছে অন্তত এক ডজনের বেশি অপরাধী চক্র। যাদের কাছে রয়েছে প্রচুর ছোট অস্ত্র। এসব অস্ত্র আসছে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা দেশে তৈরি  দোনলা ছোট এলজি ও ১টি তাজা কার্তুজ, একটি ধারালো চাপাতি ও দুটি ছুরি ৩০ হাজার টাকায় কেনা হয়েছে। এ ঘটনার পরদিন ৩০শে জুন নগরীতে সাত ছিনতাইকারীকে অস্ত্রসহ আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।  তবে পুলিশ তাদের ‘ডাকাত’ বলে উল্লেখ করে। শহরের সিআরবি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নেজাম উদ্দিন বলেন, তাদের সবার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ইয়াছিন প্রকাশ সুমন (২৫) আমাদের বলেছে ঈদকে সামনে রেখে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। এই জন্য প্রচুর অস্ত্র শহরের বাইরে থেকে মজুত করা হচ্ছিল।
আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া অস্ত্রের মধ্যে সবই ছোট অস্ত্র। যার মধ্যে পিস্তলও রয়েছে। এগুলো হলো একটি দেশে তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড কার্তুজ, স্টিলের বাঁটযুক্ত একটি চাপাতি, কাঠের বাঁটযুক্ত দুটি স্টিলের চাপাতি, ৬টি ছিনতাই করা মোবাইল  সেট ও একটি সিএনজি অটোরিকশা। ধরা পড়ার আগে তারা সবাই সংঘবদ্ধ হয়ে সিআরবি এলাকায় বসে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলো।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাস কয়েক আগে বাকলিয়া থানায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর অস্ত্র ব্যবসায় নিয়োজিত এক দম্পতি জানায়, মহেশখালীর পাহাড়তলী ইউনিয়নের পূর্ব মাঝের  ঢেইল এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী চট্টগ্রামে এখন পিস্তল সরবরাহ করছে। যার বেশির ভাগই ছড়িয়ে পড়ছে অপরাধ জগতে। স্থানীয় ইসহাক নামের এক ব্যক্তি এসব অস্ত্র কেনাবেচার কাজের সঙ্গে জড়িত। এই ঘটনায় মাবুদ নামের অপর এক ব্যক্তির নামও বেরিয়ে এসেছে। যাদের বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানা পুলিশ আদালতে ইতিমধ্যে দুটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে।
জানতে চাইলে মানবজমিনের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা হয় নগর  গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এসএম তানভির আরাফাতের সঙ্গে। তিনি বলেন, গত ১৫ দিনে যাদেরকে ধরা হয়েছে তাদের কাছ থেকে ছোট অস্ত্র হিসেবে পিস্তলই বেশি পাওয়া গেছে। হঠাৎ করে এসব অস্ত্র অপরাধীদের হাতে থাকায় কিছুটা উদ্বিগ্ন আমরা। তবে এ ব্যাপারে মানুষের নিরাপত্তা দিতে সব ধরনের টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদকে টার্গেট করে মাঠে নেমেছে পুলিশ। সন্ধ্যার পর অভিযান চালানো হচ্ছে। বেশ কয়েকটি চক্র ধরাও পড়ছে। তবে এটা পরিষ্কার অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। তালিকা অনুযায়ী এখনও তাদের ধরার জন্য আমরা হন্যে হয়ে খুঁজছি। ওরা ধরা পড়লে অপরাধ অনেক কমে আসবে বলে আমি মনে করি।

Friday, July 3, 2015

১০০ কিলোমিটার রাস্তায় খানাখন্দ by মহিউদ্দীন জুয়েল

টানা এক সপ্তাহের প্রবল বৃষ্টিতে বেহাল অবস্থা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১০০ কিলোমিটার সড়কের। সরজমিন গতকাল একাধিক জায়গায় গিয়ে দেখা গেছে এমনি চিত্র। এমন অবস্থায় ঈদের আগে মহাসড়কের খানাখন্দগুলো মেরামত না করলে ঘরমুখো যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে অভিমত যাত্রীদের। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিতে বেশির ভাগ সড়কে ইট-সুরকি উঠে গেছে। তৈরি হয়েছে গর্ত। কয়েক দিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে বড় বাসগুলোকে চলতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার এসব গাড়ি ঈদে অতিরিক্ত সার্ভিস চালু করায় এ নিয়ে দুর্ভোগ কাটছে না মানুষের। সিটি গেট এলাকা থেকে মীরসরাই পর্যন্ত প্রায় ৫৫ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরা।
গতকাল সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার বেশ কিছু জায়গায় এখনও চলছে মাটি ভরাটের কাজ। বেশির ভাগ অংশে ইট-সুরকি উঠে যাওয়ায় তা ঢাকার চেষ্টা করছেন নিয়োজিত শ্রমিকরা। অনেক জায়গায় কার্পেট উঠে যাওয়ায় চলাচলে অনেক গাড়ি কাত হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে এক সপ্তাহ আগের প্রবল বর্ষণে পানি জমে এখানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এসব গর্ত ভরাট করতে তাই ট্রাকে ট্রাকে মাটি ও বালু এনে তা ভরাট করা হচ্ছে। কোন কোন জায়গায় মাটি দেবে গেছে। ফলে গাড়িগুলোকে অধিক যাত্রী নিয়ে সাবধানে চলাচল করতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে মীরসরাই হয়ে কুমিল্লা পর্যন্ত অন্তত ১০০ কিলোমিটার সড়কেরই বর্তমানে বিরাজ করছে বেহাল অবস্থা। এখানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় মিলিয়ে ২০০ গর্ত। প্রতিদিন জ্যাম লাগছে গড়ে ৩-৪ ঘণ্টা। যোগাযোগমন্ত্রী বিষয়টি জানার পর সব রাস্তা ঈদের আগে মেরামত করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মহাসড়কের বারৈয়ারহাট থেকে মীরসরাই এলাকার বড়দারোগারহাট নিজামপুর, বড়তাকিয়া, মীরসরাই সদর, মিঠাছড়া ও জোরারগঞ্জ এলাকা। সেখানে অসংখ্য খানাখন্দ দেখা গেছে। একই চিত্র সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট, বাংলাবাজার, জলিল গেট, রাস্তার মাথা, বিএমএ গেট, ভাটিয়ারী, মাদামবিবিরহাট, কদম রসুল, কুমিরা, ছোটকুমিরা, বাঁশবাড়ীয়া, আর আর টেক্সাটাইল গেটসহ স্থানীয় ২০টির বেশি এলাকায়। এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ দূরপাল্লার কয়েক শ বাস। প্রতিদিনই জ্যাম লাগছে ৩-৪ ঘণ্টা। চট্টগ্রাম বাসমালিক সমিতির নেতারা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রাস্তাগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে ২০০-এর বেশি গর্ত। বেশ কয়েক মাস আগে বড় গর্তগুলোতে সাময়িকভাবে ইট বসিয়ে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের ভারি বৃষ্টিতে বেশির ভাগ ইট সরে গেছে। এতে আবারও পুরনো অবস্থায় ফিরে গেছে মহাসড়ক। বিশেষ করে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড থেকে বড়দারোগারহাট পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা খুবই নাজুক। জানতে চাইলে এ বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যায় মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলেন চট্টগ্রামের আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন আহম্মদ। তিনি বলেন, ঈদের আগে মহাসড়ক মেরামত না হলে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে অনেক জায়গা থেকে চালকরা জানিয়েছেন, তারা গাড়ি চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। সীকতাকুণ্ড থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় অনেক গর্ত তৈরি হয়েছে কয়েক দিনের বর্ষণে।

Wednesday, July 1, 2015

সাগরে বেঁচে আছে রুম্মান, বিশ্বাস পিতার by মহিউদ্দীন জুয়েল

টানা তিনদিন উত্তাল সাগরে ৪৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালানোর পরও পাওয়া যায়নি পাইলট রুম্মানের খোঁজ। সাগরপাড়ে দাড়িয়ে আল্লার কাছে প্রার্থনায় রুম্মানের স্বজনরা। তার বাবা, মা, ছোট ভাইবোন আর বন্ধুদের বিশ্বাস সে জীবিত আছে। সাগরে নিজেকে রক্ষা করে বাঁচার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
টানা দুইদিনের ৩০ ঘণ্টার অভিযানের পর বুধবার সকাল থেকে আবারও বঙ্গোপসাগরে তাকে উদ্ধারে নামে বিমানবাহিনীর সদস্যরা। নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ সুরভী, মধুমতি ও অতন্দ্র কে দেখা যায় সাগরের একটু পরপরই কিছু একটা ফেলে তাকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করতে।
অন্যদিকে কোস্টগার্ডের জাহাজ তৌফিক সাগরের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ছুটে বেড়াচ্ছেন মূহুর্তে। বিমানবাহিনীর তিনটি হেলিকপ্টার উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানান কর্মকর্তারা।
বুধবার সাগরপাড়ে নিখোঁজ পাইলট রুম্মানের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে তার বাবা আবদুল কাদের চৌধুরীকে। তিনি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা। ছেলেকে না পেয়ে তাই একটু পরপরই ঢুকরে কেঁদে উঠছিলেন।
বলছিলেন, আমার ছেলে নিশ্চয় বেঁচে আছে। ও এতো সহজে হার মানার নয়। ছোটবেলা থেকেই ও খুব ডানপিটে। আকাশ ওকে খুব টানতো। বিমান নিয়ে নাড়াচাড়া করাটা ওর নেশা ছিলো। তাই পাইলট হয়ে সে আমাদের বলেছিলো দেশের জন্য কিছু একটা করতে চায়।
রুম্মানের বাবার পাশে দাঁড়ানো তার ছোট ভাই সালমান বলেন, ভাইয়াকে নিশ্চয় খুঁজে পাওয়া যাবে। সে বেঁচে থাকার জন্য কখনোই হাল ছাড়বে না। হয়তো ভেসে আছে।
ভাইয়ের জন্য দু:শচিন্তায় ছিলেন আরেক সদস্য বোন অন্তরা আর সেনাবাহিনীতে কর্মরত আদনানও। তাদের বিশ্বাস সে বেঁচে আছে।
তবে যুদ্ধবিমান এফ-৭ এর ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় তিনি বেঁচে আছেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন বিমানবাহিনীর সদস্যরা। যদিও এই বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু না বলে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন কোস্টগার্ড পূর্বাঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার দরুল হুদা।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনি এই ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা সাগরের তলদেশেও তাকে খোঁজার চেষ্টা করছি। এখন সাগর ভীষণ উত্তাল রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেও তার অবস্থান জানতে আমরা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।
তিনি আরো বলেন, বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। পাইলট রুম্মান কোন দিকে থাকতে পারেন তা নিয়ে গবেষণা চলছে। সেকি ¯্রােতে ভেসে গেলো কিনা তাও দেখা হচ্ছে। তবে ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযানে নেমেছে আমাদের দলগুলো।
রুম্মানের পুরো নাম রুম্মান তাহমিদ। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সে সবার বড়। ছোটবেলা থেকেই পাইলট হওয়ার স্বপ্ন ছিলো তার। বিমান ভীষণ টানতো তাকে। ঢাকায় স্থায়ী হওয়ার আগে কুমিল্লা ইস্পাহানী স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন মেধার সঙ্গে। এরপর ভর্তি হন ঢাকার নটরডেম কলেজে। সেখানে এইচএসসি পাশ করে যোগদেন বিমানবাহিনীতে।
গত সোমবার সকালে এফ-৭ নামের একটি জঙ্গি বিমান আকাশ থেকে নিচে সাগরে পড়ে যায়। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক।

Tuesday, June 30, 2015

কোকেন কাণ্ড- দুই প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর তদন্ত দলের by মহিউদ্দীন জুয়েল

চট্টগ্রাম বন্দরে তেলের ড্রামে কোকেন পাওয়ার ঘটনায় বিদেশী প্রতিষ্ঠান বলিভিয়ার ‘ইমপোর্ট এক্সপোর্ট ইএল ভাইভেন এসআরএল’ ও উরুগুয়ের ‘সাউথ ফ্রেইট লজিস্টিক নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দিকে নজর পুলিশ সদস্য, শুল্ক গোয়েন্দা ও এই বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের। কেবল তাই নয়, এমভি থর স্ট্রিট নামের যে জাহাজে এসব মাদক বাংলাদেশে আনা হয়েছে সেই জাহাজে করে ইতিপূর্বে ভোজ্যতেল আমদানির নামে কোকেন পাচার হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখলে অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে বলে তাদের ধারণা।
গতকাল মানবজমিনের সঙ্গে আলাপকালে এমনি কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট সদস্যরা। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সব কিছু জানাতে চায় না তারা। কারণ যেহেতু বিষয়টি জাতিসংঘ পর্যন্ত গড়িয়েছে তাই এখন এই ইস্যুটি আর বাংলাদেশে নেই। বিশ্বব্যাপী নজর হয়ে গেছে। সেই কারণে কোন তথ্য আগাম দিতে চায় না কমিটির কোন সদস্য।
তদন্ত কমিটির একটি সূত্র জানায়, দায়িত্ব এড়াতে ইতিমধ্যে খান জাহান আলী লিমিটেডের মালিক নুর মোহাম্মদ পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি এই ঘটনার সঙ্গে কোনভাবেই জড়িত নন। তার এক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা সোহেল প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ও প্যাড ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাইম হ্যাচারি নামে বলিভিয়া থেকে ১০৭ ড্রামের এই চালানটি এনেছে।
অন্যদিকে তার এই কথা কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারছে না পুলিশ সদস্যরাও। এর আগে একইভাবে সূর্যমুখী তেলের নামে বিদেশ থেকে কি পরিমাণ ভোজ্যতেল ড্রামে করে আনা হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে বন্দরের কাগজপত্র যাচাই বাছাই করবেন তারা।
সানফ্লাওয়ার তেল আমদানির ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা  কনটেইনারটির নম্বর ছিল সিডিএইইউ- ৯১৪৫৭৬৯/১৯৩৮৪৪)। প্রতি ড্রামের ওজন ছিল ১৮৫ কেজি। এর মধ্যে যে ড্রামে কোকেন পাওয়া গেছে তার ওজন ধারণা করা হচ্ছে ৬১ কেজি। অতীতে একই কায়দায় এভাবে তেলের সঙ্গে কোকেন পাচার হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে খান জাহান আলীর চালান দেখতে কাজ করা হবে আগামীকাল থেকে।
কমিটির সদস্যদের কারও কারও ধারণা, এই ঘটনার সঙ্গে বিদেশের একটি সিন্ডিকেটও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কেননা, জাল করা কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, চীন থেকে কন্টেইনারটি খালি পাঠানো হয় বলিভিয়ার মন্টিকন বন্দরে। তারপর বলিভিয়ার ‘ইমপোর্ট এক্মপোর্ট ইএল ভাইভেন এসআরএল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান চালানটি রপ্তানি করে। আর পণ্যের ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট ছিল উরুগুয়ের ‘সাউথ ফ্রেইট লজিস্টিক’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান। সবমিলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি একেবারেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ।
এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান হোসাইন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে দেশের বাইরের একটি চক্র জড়িত এটা নিশ্চিত। তারা রুট হিসেবে ব্যবহার করতে চট্টগ্রাম বন্দরকে বেছে নিয়েছে। আমাদের কমিটি যেখান থেকে চালানটি এসেছে ও যাদের মাধ্যমে তা আনা হয়েছে সেগুলো বের করার চেষ্টা করবে।
চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল বলেন, জাতিসংঘ দল আসলে প্রথমেই তারা খুঁজবে কোন দেশ থেকে চালানটি এসেছে। তারপর ওরা দেখবে কোন কোন বন্দর দিয়ে সেটি আনা হয়েছে। জাহাজটিতে এর আগে এসব পণ্য আনা হয়েছে কিনা। এরপর সবশেষে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা যাচাই করবে।
তিনি আরও বলেন, বুঝা যাচ্ছে দেশের বাইরের অনেকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। খান জাহান আলীর কর্মকর্তা সোহেল যাদের নাম বলেছে তাদের অনেকে লন্ডনে আছেন। তাদের অবস্থান চিহ্নিত করা গেলে ঘটনা অনেকখানি খোলাসা হবে।
সানফ্লাওয়ার তেল ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা ১০৭টি কন্টেইনারের একটিতে গত ২৭শে জুন তরল কোকেনের অস্তিত্ব মিলে। ঢাকার বিসিএসআইআর ও বাংলাদেশ ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর পর তারা কোকেন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ৮ই জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও নৌবাহিনীর ল্যাবের প্রাথমিক পরীক্ষায় কোন তরল কোকেন না থাকার কথা জানিয়েছিলেন কর্মকর্তারা।

Monday, June 29, 2015

কোকেন পাচার নিয়ে বিশ্বব্যাপী তোলপাড় জাতিসংঘ আসছে by মিজানুর রহমান ও মহিউদ্দীন জুয়েল

চট্টগ্রামে তেলের সঙ্গে তরল কোকেনের চালান ধরা পড়ায় দুনিয়ার দৃষ্টি এখন বাংলাদেশে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এরই মধ্যে ঘটনাটির বিষয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে। আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) নড়েচড়ে বসেছে। সরকারের তরফে জাতিসংঘকে এ ঘটনার তদন্তে সহযোগিতার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। সরকারের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হোসাইন আহম্মদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে এ নিয়ে জাতিসংঘকে চিঠি দেয়া হবে। সেখানে আন্তর্জাতিকভাবে ঘটনাটি তদন্তের কথা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশজুড়ে তোলপাড় হওয়া এই ঘটনার পর গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এনবিআর। এরপর বিকালে এক বৈঠকে চলতি সপ্তাহের সোম ও মঙ্গলবারের মধ্যে চিঠিটি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আন্তর্জাতিক তদন্তের বিষয়ে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র। বলা হয়েছে, এ ধরনের অপরাধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এমনিতে আকৃষ্ট হয়। বিশেষ করে জাতিসংঘের। তারা স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে থাকে। সরকার চাইলে তারা তদন্তেও সহযোগিতা করে।
এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজীবুর রহমান মানবজমিনকে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তারা সতর্ক ছিল বলে এত বড় চালান আটক করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকারত। সরকার তার নিজস্ব ক্ষমতা দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছে। প্রয়োজনে তদন্তে বৈদেশিক সহায়তা নেয়া হবে। তবে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আগে সিদ্ধান্ত হবে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি)’র সঙ্গে যোগাযোগ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন অপরাধের বিষয়ে খোঁজখবর রাখে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করে থাকে। এ ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক কোন যোগাযোগ হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এনবিআরের কারও সঙ্গে হয়েছে বলে আমার জানা নেই।
এদিকে ধরা পড়া কোকেনের চালান বাংলাদেশে ব্যবহারের জন্য এসেছে এমনটি মনে করেন না মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করা বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। কারণ হিসাবে তারা বলেন, যেহেতু বাংলাদেশে কোকেনের বাজার এখনও ততোটা সয়লাভ হয়নি। তারা মনে করেন এখানে রুট হিসেবে বাংলাদেশকে মাফিয়ারা ব্যবহার করতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করেন তারা। পুরো বিষয়টি এনবিআর মনিটরিং করছে জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, এ জন্য আন্তর্জাতিকভাবে তদন্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, আগামী সপ্তাহে এই বিষয়ে তদন্ত করতে দুটি বিদেশী টিম চট্টগ্রাম বন্দরে আসার বিষয়টি এক প্রকার নিশ্চিত হয়েছে। দুই দলেই মোট ৫ সদস্য করে ১০ জন পৃথকভাবে বন্দর পরিদর্শন করবেন বলে ফোনে জানিয়েছেন তাদেরকে। তবে এই বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল মানবজমিনকে বলেন, আন্তর্জাতিক তদন্ত হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হচ্ছে। বিদেশী কয়েকজন গোয়েন্দা সদস্য আসার কথা শুনেছি। তদন্তের স্বার্থে এখনি কিছু বলা যাচ্ছে না। এদিকে এই ঘটনায় আমদানিকারক খান জাহান আলী লিমিটেডের বিরুদ্ধে গতকাল বিকালে বন্দর থানায় মামলা করেছে পুলিশ। এতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। যদিও তিনি এই ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেছেন। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় সোহেল নামের তার প্রতিষ্ঠানের অপর এক কর্মকর্তা এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে মানবজমিনকে জানান বন্দর থানার ওসি মহিউদ্দিন সেলিম।
লন্ডনে বসে ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ!
চট্টগ্রাম বন্দরে সূর্যমুখী তেলের ড্রামে কোকেন আমদানির ঘটনায় লন্ডনপ্রবাসী ফজলু নামের এক ব্যক্তির জড়িত থাকার নাম বেরিয়ে আসছে ঘুরেফিরে। এই ঘটনায় গত ২১ দিন আগে গ্রেপ্তার হওয়া খান জাহান আলী লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রাইম হ্যাচারির কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ওই সময় তিনি লন্ডনে থাকা এক ব্যক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে ভোজ্য তেল আমদানির কথা জানান। গত শনিবার পরীক্ষাগারে কোকেন পাওয়ার ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর পুলিশ জনৈক ব্যক্তিটির নাম ফজলু বলে জানতে পারেন।
সম্পর্কে তিনি গ্রেপ্তার হওয়া সোহেলের খালাতো বোনের জামাই। তার মাধ্যমেই বলিভিয়া থেকে সে এই চালানটি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে নিয়ে এসেছিল বলে পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিল। গতকাল এই বিষয়ে জানতে চাইলে নগর গোয়েন্দা পুলিশ ও শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ফজলুকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে মত দেন।
তারা জানান, তাকে ধরা গেলে এই ঘটনার গোপন রহস্য বেরিয়ে আসবে। যদিও গ্রেপ্তার হওয়া সোহেলও অনেক কিছু জানেন। তার কথায় ইতিমধ্যে কোকেন পাচার হওয়ার চাঞ্চল্যকর বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ধারণা করা হচ্ছে, সোহেলের খালাতো বোনের জামাই ফজলু একজন আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী। কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরকে রুট হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছে সে। এই কাজে তার সঙ্গে চীন ও সিঙ্গাপুরের  একটি চক্র জড়িত রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, একটি বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ৬ই জুন ভোজ্য তেলের বড় এই চালানটির ঘটনা ফাঁস হয়। এর আগে চালানটি ছাড়িয়ে নিতে আমদানিকারক খান জাহান আলী লিমিটেডকে জানানো হলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক নূর মোহাম্মদ এর কোন দায়ভার নিতে রাজি হননি। তখন তিনি বলেছিলেন তার প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে কেউ এই কাজটি করেছে।
এতে সন্দেহ আরও বাড়ে। শেষমেশ চালানটির রপ্তানিকারক বলিভিয়ার সান্তা ক্রুজ কোম্পানি থেকে খাতুনগঞ্জের নবী মার্কেটের খান জাহান আলীর প্যাড ব্যবহার করে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সোহেল সান ফ্লাওয়ার তেলের চালানটি আমদানি করেন বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
এরপর কৌশলে গত ৬ই জুন রাতে অভিযান চালিয়ে সোহেলকে আটক করে। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে বন্দরের সিসিটি গিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের সহযোগিতায় কনটেইনারটি জব্দ করা হয়। গত ৮ই জুন কাস্টমস, শুল্ক গোয়েন্দা, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও পুলিশের উপস্থিতিতে কনটেইনারটি খোলা হয়।
যদিও তখন সেখানে থাকা ১০৭টি ড্রাম থেকে নমুনা সংগ্রহ করে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েও কোকেন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিলেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান। পরে সেগুলো ঢাকায় পাঠানোর পর গত শনিবার ৯৬ নম্বর ড্রামে তা ধরা পড়ে।
বর্তমান বাজার দর অনুসারে প্রতি কেজি কোকেনের দাম ৫০ কোটি টাকা। সেই হিসেবে ড্রামে থাকা এক তৃতীয়াংশ কোকেনের পরিমাণ প্রায় ৬১ কেজি।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান বলেন, বাংলাদেশে কোকেনের বাজার তেমন নেই। তবে বিদেশী কোন চক্র এই দেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। এইজন্য চট্টগ্রাম বন্দরকে কৌশলে কাজে লাগাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে। এই ঘটনায় দেশের বাইরের অনেকে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা। তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার তানভীর আরাফাত মানবজমিনকে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল লন্ডন প্রবাসী এক ব্যক্তির নাম বলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সে-ই মূল হোতা। সম্পর্কে সোহেলের আত্মীয়। অপরাধীরা ভেবেছে তরল কোকেন পরীক্ষা করা যায় না বাংলাদেশে। আর সেই কারণে পাউডারের পরিবর্তে তরল করে তা পাচারের পন্থা বেছে নিয়েছে।

Friday, June 26, 2015

চট্টগ্রাম রেলওয়েতে টেন্ডার নিয়ে জোড়া খুন, তদন্তে ধীরগতি by মহিউদ্দীন জুয়েল

২০১৩ সালের ২৪শে জুন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামের সিআরবিতে টেন্ডার নিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগের গোলাগুলিতে শিশুসহ মারা গিয়েছিলেন দু’জন। গতকাল এ ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হলেও এখনও আলোর মুখ দেখেনি পুলিশের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট।
ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে প্রকৃত আসামিরা। ঢুকরে কাঁদছেন নিহত মানুষগুলোর স্বজনরা। দেশব্যাপী আলোচিত এ ঘটনা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টির পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তৎকালীন সময়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করলেও একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের লোকজন হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপার চেষ্টা চলছে। থানা পুলিশ থেকে মামলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে যাওয়ার পরও প্রতিবেদন জমা নিয়ে চলছে গড়িমসি। অভিযোগ উঠেছে প্রকৃত আসামিদের রক্ষা করারও।
নিহতদের পারিবারিক সূত্র জানায়, ৪৮ লাখ টেন্ডার নিয়ে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে প্রাণ যায় সাজু পালিত ও শিশু আরমান নামের এক শিশুর। এদের মধ্যে সাজু পালিত যুবলীগ করতেন। ঘটনার পরপরই নগরীর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ৮৭ জনকে আসামি করে থানায় মামলা  করেন।
মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছিল তাদের মধ্যে জামিনে আছেন যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমন, নগর ছাত্রলীগ নেতা রিটু দাশ বাবুলসহ একাধিক নেতাকর্মী।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে পুলিশ ও নিহতদের পারিবারিক থেকে দায়ের করা মোট দুটি মামলাই এখন তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালতে। কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক জাহেদুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, মামলা চলছে। চলবে। মাত্র নথিগুলো যোগাড় করা হলো। দেখা যাক কি হয়।
এই ব্যাপারে জানতে চাইলে সাজু পালিতের পরিবার জানান, তার মা মিনতি পালিতও বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু সেই মামলারও কোন খবর নেই। কারণ আসামিদের প্রত্যেকে ক্ষমতাসীন দলের কর্মী হওয়ায় এই ব্যাপারে কোন তদন্ত হবে না বলে তাদেরকে রাজনৈতিক মহল থেকে জানানো হয়েছে। শিশু আরমানের পরিবার জানায়, রেলওয়ের কাজ বাগাতে গিয়ে গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ। ঘটনার সময় যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর ও ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনের অনুসারীদের মধ্যে দেখা দেয় উত্তেজনাও। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কমপক্ষে ২০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়।
সেখানেই মাথায় গুলি লেগে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারায় মাদরাসা ছাত্র দেলোয়ার হোসেন আরমান। এই সময় গুলিবিদ্ধ যুবলীগ কর্মী সাজু পালিতকে চমেক হাসপাতালে নেয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
শিশু আরমানের মা আছিয়া বেগম বলেন, শবেবরাতের রাতের হালুয়া রুটি খেতে চেয়েছিল আদরের সন্তান আরমান। বয়স ছিল ৭ বছর। কিন্তুচট্টগ্রাম রেলওয়ের সিআরবি কার্যালয়ে সরকারদলীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের গোলাগুলিতে অকালে প্রাণ দিতে হলো তাকে। পুত্র সন্তান হারানোর বেদনা এখনো ভুলতে পারছি না। কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না বুকের ধন আর বেঁচে নেই। তাকে মরতে হয়েছে। শিশু আরমানের ফুফু রুমা আক্তার বলেন, মা আছিয়া বেগমের এখনো কান্না থামছে না। গত দুই বছরে এই ঘটনার কি তদন্ত হয়েছে পুলিশ তাদের কখনও জিজ্ঞেস করেনি। আসেনি বাড়িতেও।

‘টাকা দিবি, নইলে গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দেবো’ by মহিউদ্দীন জুয়েল

টাকা দিবি। নইলে গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দেবো। তুই তো মাদক ব্যবসা করিস। আমাদের কাছে খবর আছে। আগে সিএনজিতে উঠ। তারপর কোথায় যাই দেখবি।’ এভাবে হুমকি দিয়েই জোর করে জিয়াউল করিমকে একটি সিএনজিতে উঠিয়ে নেয় চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের এসআই মাহবুবুর রহমানসহ তার এক সহযোগী। এরপর সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে কর্মরত ওই ব্যক্তিকে কয়েক ঘণ্টা ঘুরিয়ে নেয়া যাওয়া হয় শহরের স্টেশন রোডের এক আবাসিক হোটেলে। সেখানে একটি কক্ষে রাতভর নির্যাতনের পর চাঁদা দাবি করা হয়।
প্রাণে বাঁচতে ওই ব্যক্তি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে দেয়ার কথা বলে পুলিশকে খবর দেন। শেষমেশ ধরা পড়ার পর জানা যায়, এসআই মাহবুব মাদকাসক্ত থাকার কারণে মাঝে চাকরিচ্যুত হয়েছিল। পুনরায় সুস্থ হয়ে আবার যোগদানের পর অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি জানার পর গতকাল দুপুরে কোতোয়ালি থানায় গেলে কথা হয় ভুক্তভোগী জিয়াউল করিম নামের সোনালী ওই লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তার সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, আমি রাত ১টার সময় নগরীর সুগন্ধা এলাকা থেকে বের হয়ে হালিশহরের বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজি খুঁজছিলাম।
ঠিক সেই সময় টাইগার পাস এলাকায় সিএনজিতে উঠতে গিয়ে আমাকে ঘিরে ধরে এসআই মাহবুব ও ফরিদ নামের ওই ব্যক্তি। একপর্যায়ে জোর করে সিএনজিতে উঠিয়ে নিয়ে তাকে মাদক ব্যবসায়ী বলে ফাঁসিয়ে মামলা দেয়ার হুমকি জানায়। এতে ভীষণ ভয় পেয়ে জিয়া বাকবিতণ্ডা শুরু করলে তারা কোমরে থাকা পিস্তল দেখিয়ে চিৎকার না করার জন্য বলে।
রাত ৩টার সময় সিএনজিটি ঘুরিয়ে তাকে নিয়ে আসা হয় স্টেশন রোডের মার্টিন হোটেলে। সেখানে একটি কক্ষে চড় থাপ্পড় মেরে প্রথমে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে আপসে ৫০,০০০ টাকা দেয়ার কথা হলে সকালে তাদের নিয়ে জিয়া জুবলি রোডের ডাচ্‌-বাংলা রোডে যায়।
কথা বলার একপর্যায়ে সে কৌশলে তার এক বন্ধুর কাছ থেকে কোতোয়ালি থানার ডিউটি অফিসারের নম্বর নিয়ে তাকে ফোন করে ঘটনার বিস্তারিত জানান। এর মধ্যে কয়েক দফা জিয়া এসআই মাহবুবকে জানায়, ব্যাংকে টাকা না থাকায় তার বন্ধু নিয়ে আসছে। তাই কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। সকাল সাড়ে ১১টায় কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল কৌশলে মাহবুব ও তার সহযোগী ফরিদকে হাতেনাতে আটক করে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে কোতয়ালি থানার ওসি মোহম্মদ জসীম উদ্দিন ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানোর অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাটি আসলে কি তা আমরা খতিয়ে দেখছি। এখানে মাহবুব কেন তাকে নিয়ে পুরো শহর ঘুরলো তাও আমরা জানার চেষ্টা করছি। অন্যদিকে ব্যাংকে তার সঙ্গে জিয়ার কি কাজ ছিল সেটাও তদন্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এসআই মাহাবুব শিল্প পুলিশে আছে। তারাই বিষয়টি দেখবে। মন্ডল স্যার (পুলিশ কমিশনার) এই নিয়ে তাদের ডিরেক্টরকে ফোন করেছেন। সে এখন আমাদের হেফাজতেই আছে।
তবে নগর পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মাহাবুব মাদকাসক্ত হওয়ায় এর আগে তার চাকরি চলে যায়। পরে সুস্থ শেষে বরখাস্ত কাটিয়ে সে আবার যোগদান করলে শুরু করে চাঁদাবাজির ঘটনা। 
ভুক্তভোগী জিয়াউল বলেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আমি আগে থেকে চিনতাম না। তাকে হ্যান্ডকাপ বেঁধে নিয়ে আসা হয় থানায়। আমি লিখিত অভিযোগ দায়ের করছি। রাতেই মামলার বিবরনে সব জানাবো পুলিশকে।
তিনি বলেন, টাকা না পেয়ে ওই পুলিশ সদস্য হিংস্র হয়ে উঠেছিল। হোটেলে আমাকে নাজেহাল করে তার এক সহযোগীসহ।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে কতিপয় পুলিশ সদস্যের অপকর্মের ঘটনায় বিব্রত পুরো প্রশাসন। এই নিয়ে একাধিকবার বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনা হওয়ার পর কিছুতেই কমছে না সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা। গত ১১ই জুন এক ব্যবসায়ীকে পরিকল্পনা অনুযায়ী ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে বরখাস্ত হন ৫ পুলিশ সদস্য। ঘটনাটি ঘটেছিল নগরীর পাঁচলাইশ থানার কেবি ফজলুল কাদের সড়কে ল্যানসেট হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি অফিসে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক নাসিম আহমেদ এই ঘটনায় শহরের পাঁচলাইশ থানায় জিডি করেন।
জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার অফিস থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা লুট করে নিয়েছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই (সহকারী উপপরিদর্শক) জহির উদ্দিন। জহির উদ্দিনের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ দল ওই অফিসে গিয়ে তার কাছে ইয়াবা আছে বলে জানায়। একপর্যায়ে অস্ত্র আছে বলে গ্রেপ্তার করার হুমকি দেয়। ঘটনা থেকে বাঁচতে নিরাপরাধ নাসিম ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের চাহিদামতো ৩ লাখ টাকা তুলে দেয়। এই বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী সৈয়দ নাসিম আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের মধ্যে অনেকে পুলিশের লোক ছিল। ওরা যখন জানতে পারে আমার কাছে ফুটেজ আছে তখন দ্রুত আমার অফিসে আসে। এরপর ক্ষমা চায়।
কেবল এই ঘটনাই নয়, গত ২১শে জুন কক্সবাজার থেকে ২৪ কোটি টাকার ইয়াবা নিয়ে ফেনীতে গিয়ে ধরা পড়ে স্পেশাল ব্রাঞ্চের আরেক পুলিশ এএসআই মাহফুজুর রহমান। ঢাকায় কর্মরত থাকা এই সদস্যকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কয়েকজন এসআই-কনস্টেবল ইয়াবা দিয়ে তা বিক্রি করতে সহায়তা করছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

Sunday, June 21, 2015

সাড়ে ৩০০০ কোটি টাকার নতুন উড়াল সেতু নিয়ে প্রশ্ন by মহিউদ্দীন জুয়েল

যানজট নিরসনের জন্য তৈরি করা হলেও আদৌ চট্টগ্রামে কোন কাজে আসছে না কোটি টাকার ফ্লাইওভারগুলো। বরং উল্টো বেড়েছে দুর্ভোগ। ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে। একের পর এক ফ্লাইওভার নির্মাণের পর সর্বশেষ সাড়ে ৩০০০ কোটি টাকার আরেকটি উড়াল সেতুর কাজ শুরু হওয়ায় এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগর বিশেষজ্ঞরা।
তারা জানিয়েছেন, নগরকে যানজট মুক্ত করতে দুটি ফ্লাইওভার ইতিমধ্যে নির্মাণ করা হলেও সেগুলোর কোন সুফল পাচ্ছেন না নগরবাসী। সঠিক কোন পরিকল্পনা না থাকায় ফ্লাইওভারগুলোর কারণে অনেক জায়গায় যানজট বেড়েছে আগের চেয়ে বেশি। কেবল তাই নয়, গত কয়েক বছর ধরে এসব উড়াল সেতুর নির্মাণের জন্য নাকাল হতে হচ্ছে ৬০ লাখ নগরীর মানুষকে। এমন অবস্থায় নতুন করে ফ্লাইওভার তৈরির ব্যাপারে মতামত যাচাইয়ের কথা বলেছেন অনেকে। সবক’টি সেতুই নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা সিডিএ।
সরজমিন দেখা যায়, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার ও দেওয়ানহাট উড়াল সেতুর কারণে ওই এলাকায় যানজটের কোন পরিবর্তন হয়নি। এই রমজান মওসুমে তা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই দুটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে আরও দুটি ফ্লাইওভারের কাজ চলছে। এর একটি প্রায় শেষের দিকে। সেটি হলো ৫০  কোটি টাকার কদমতলী ফ্লাইওভারের কাজ। নতুন করে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করে মুরাদপুরে নির্মাণ করা হচ্ছে আক্তারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারটি দ্রুত নির্মাণ করতে গিয়ে এর বেশ কয়েকটি বড় পিলার ধসে পড়ে নিহতের ঘটনায় জনমনে এখনও উদ্বেগ রয়েছে। কেবল তাই নয়, সেখানকার বেশ কয়েকটি গার্ডারে আবার বড় ধরনের ফাটল তৈরি হওয়ার পর চলাচলে আশংকা প্রকাশ করেছেন গাড়ি চালকরাও। নতুন ফ্লাইওভার নির্মাণের সময় বন্দর ও ইপিজেড এলাকায় প্রয়োজনীয় লুপ রাখার পরামর্শ দেন অনেকে। না হলে তা কোন কাজে আসার সুযোগ নেই বলে অভিমত তাদের।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র জানায়, এক সময় ৫০০ কোটি টাকা খরচ করে মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত আক্তারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার নির্মাণের কথা ছিলো। পরবর্তীতে সেগুলোর ব্যয় আরও ৩ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়। এই বিষয়ে জানতে চাইলে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম মানবজমিনের সঙ্গে আলাপকালে ফ্লাইওভারগুলো একসময় নগরবাসীর উপকারে আসবে বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে যেভাবে যানজট বাড়ছে তাতে উড়াল সেতুর কোন বিকল্প নেই। পুরো শহরকে এই কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। বিশেষ করে বন্দর ও ইপিজেড এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণ করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে।
আবদুচ ছালাম এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, যত দ্রুত সম্ভব ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ শেষ করা যায়। তিনি প্ল্যান করেই নগরকে উড়াল সেতুর আওতায় নিয়ে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে তার এই কথায় ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান বলেন, পুরো শহরকে ঢেকে ফেলা হয়েছে। ফ্লাইওভারগুলোর কারণে ঢাকা পড়েছে এই নগরীর সৌন্দর্য্য। যানজটতো নিরসন হয়নি, বরং সেখানে গিয়ে দেখা যাবে আশপাশে গাড়িচালকদের দুর্ভোগ। মানুষের ভোগান্তি।  
নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি আশিক ইমরান বলেন, আমি মনে করি সুষ্ঠু সায়েন্টিফিক ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ছাড়া এগুলোকে কাজে লাগানোর কোন সুযোগ নেই। এক হিসেবে বলা যায়, অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম বন্দরের একটি সূত্র জানায়, বন্দরের অর্থায়নে মুরাদপুরে নির্মিত নতুন ফ্লাইওভারটি শেষ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু তহবিলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় সিডিএ’র চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে গেলে বন্দরকে এই মুহূর্তে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হবে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

Friday, June 12, 2015

‘প্রাণে বাঁচতে এএসআই জহিরের হাতে তুলে দিই তিন লাখ টাকা’ by মহিউদ্দীন জুয়েল

উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া। টার্গেট অনুযায়ী ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর হুমকি দেয়া হয় নাসিম আহমেদ নামের ওই ব্যবসায়ীকে। বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে চট্টগ্রাম নগর গোয়ন্দা পুলিশের ৫ সদস্যকে। সাময়িক বরখাস্তরা হলেন- এসআই আমিরুল ইসলাম, এএসআই জহির উদ্দিন, কনস্টেবল শাহ আলম, গোলাম সামদানি ও সোহেল ওমর। ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর পাঁচলাইশ থানার কেবি ফজলুল কাদের সড়কে ল্যানসেট হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি অফিসে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক নাসিম আহমেদ এ ঘটনায় শহরের পাঁচলাইশ থানায় জিডি করেন।
জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার অফিস থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা লুট করে নিয়েছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই জহির উদ্দিন। সোমবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। জহির উদ্দিনের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ দল ওই অফিসে গিয়ে তার কাছে ইয়াবা আছে বলে জানায়। একপর্যায়ে অস্ত্র আছে বলে গ্রেপ্তার করার হুমকি দেয়। ঘটনা থেকে বাঁচতে নিরাপরাধ নাসিম ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের চাহিদামতো ৩ লাখ টাকা তুলে দেয়।
পরে এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তার অফিসে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে থানায় জিডি করেন নাসিম। জিডিতে আরও বলা হয়, ডিবি পরিচয় দিয়ে অজ্ঞাতনামা ১০ জন লোক আমার অফিসে ঢুকে আমাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায়। তারা আমার টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন দিয়ে দেয়ার জন্য বলে। এই কাজে ছিলেন পুলিশের জহির উদ্দিন, সোর্স আবু তাহেরসহ আরও বেশ কয়েকজন। বাইরে গাড়ি ছিল। কোমরে পুলিশের ব্যবহৃত পিস্তলও ছিল।
নগর পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নিয়ম বহির্ভূতভাবে এ ধরনের অপারেশন চালিয়েছে পুলিশের ওই কর্মকর্তা জহির। যা ঊর্ধ্বতন মহলের কেউ জানতো না। গতকাল ভিডিও ফুটেজ শনাক্তের পর পুলিশ বিভাগ ৫ জনকে এ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার করে। ঘটনার অনুসন্ধানে তারা জানিয়েছে মূলত পারিবারিক বিরোধ থেকেই একপক্ষকে সমর্থন দিতে জহির ব্যবসায়ী নাসিমের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। তার উদ্দেশ্য ছিল ভয়-ভীতি প্রদর্শন।
জিজ্ঞাসাবাদে ব্যবসায়ী সৈয়দ নাসিম আহমেদ পুলিশকে জানিয়েছেন, সম্প্রতি ছোটবোন সৈয়দা শারমিন আহমেদের স্বামী ডা. ফজলে রাব্বির বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেন তিনি। সেই মামলা তুলে নিতে পুলিশের ওই ব্যক্তিকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ভাড়া করেন ফজলে রাব্বি। আগামী ১৪ই জুন এ মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার কামারুজ্জামান এ ব্যাপারে মানবজমিনকে বলেন, সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে কয়েকজনকে। যেহেতু অভিযোগ উঠেছে তাই খতিয়ে দেখে তদন্ত করে তারপর বলা যাবে। তবে ভিডিও ফুটেজ সত্যি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে পুলিশ বিভাগ।
জানতে চাইলে জিডির তদন্ত কর্মকর্তা কায়সার বলেন, ঘটনা সত্যি। তবে এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে চাচ্ছি না। আমরা সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। পুলিশ বিভাগ ঘটনাটি নিয়ে বৈঠক করেছে।
ব্যবসায়ী সৈয়দ নাসিম আহমেদ বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের মধ্যে অনেকে পুলিশের লোক ছিল। ওরা যখন জানতে পারে আমার কাছে ফুটেজ আছে তখথন দ্রুত আমার অফিসে আসে। এরপর ক্ষমা চায়।
তিনি আরও বলেন, আমি পুলিশের জহিরের হাতে ৩ লাখ টাকা তুলে দেই। সে আমাকে বলেছিল যাতে কাউকে কিচ্ছু না বলি। বললে নাকি মেরে ফেলবে। আমি তারপরও গতকাল আদালতে গিয়েছি।

Thursday, May 28, 2015

মনির বান্ধবীর খোঁজে পুলিশ by মহিউদ্দীন জুয়েল

চট্টগ্রামে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইলিং করতে গিয়ে ধরা পড়া তরুণী মনির সহযোগী আরেক সুন্দরী কাজলকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, শহরের অভিজাত এলাকায় বাসাভাড়া নিয়ে কাজল ও মনি দুই বান্ধবী মিলে প্রতারণার ফাঁদ পেতে আসছিল।
গতকাল সকালে মনিকে চট্টগ্রাম আদালতে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। এর আগে থানা হেফাজতে তার কাছ থেকে বেরিয়ে আসে আরও নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। মনির সঙ্গে ধরা পড়া রনি ও লিটন নামের অপর দুই ব্যক্তি পুলিশকে জানায়, সারা দেশের বিভিন্ন লোকজনকে এভাবে ফোনে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গোপন ক্যামেরায় বিবস্ত্র করার ছবি ভিডিও করতো তারা। এই কাজের জন্য মনি পেতো সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা।
সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে হালিশহর এলাকায় ধনাঢ্য খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ীকে ডেকে এনে ব্ল্যাকমেইলিং করে মনি। এর আগের মাসে খুলশী এলাকার ওয়্যারলেস গেইট এলাকার একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে নানা ধরনের অপকর্ম করে আসছিলো তারা দুইজন। সুন্দরী কাজল ধরা পড়লে এ ব্যাপারে আরও নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খুলশী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চক্রবর্তী মানবজমিনকে বলেন, মনিকে আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা তার আরেক সহযোগী কাজলকে খুঁজছি। সোমবার মনিকে গ্রেপ্তারের পর সে পুলিশকে নানা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় কাজলের খোঁজে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ফোন করে বাসায় ডেকে এনে আপত্তিকর ছবি তুলতা সুন্দরী মনি। কখনো নিজের নাম গোপন করে, আবার কখনো ছদ্ম নামে।
চট্টগ্রাম সহ সারা দেশের অন্তত ১০০ ব্যক্তিকে এভাবে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে আসছে মনি। তার সঙ্গে রয়েছে আরও ১০ জনের একটি সিন্ডিকেট। নগরীর হালিশহর ও খুলশী এলাকায় দীর্ঘদিন এমন অপকর্মের ফাঁদ পাতে সে। সর্বশেষ গত রোববার গভীর রাতে এক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সে। এরপর বেরিয়ে আসে নানা চাঞ্চল্যকর কাহিনী।
শান্তিবাগ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই সময় তার সঙ্গে সিন্ডিকেট চক্রের দুই সদস্য রনি ও লিটন নামের আরও দুই যুবক গ্রেপ্তার হয়। ২৩ বছরের মনি আক্তার সব সময় তার বয়স দিয়ে পুরুষদের আকর্ষণ করতে চাইতো।
সুযোগ পেলেই বিছানায় নিয়ে যাওয়ার অফার করতো। তবে গত রোববার শাহাদাত নামের এক ব্যক্তিকে কম টাকায় প্লট বিক্রির লোভ দেখিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে কাজল নামের সেই রমণী। সেই কাজলও মনির সঙ্গে সিন্ডিকেটে কাজ করতো। প্রথমে শাহাদাতকে প্রতারক মনির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।
মনি কথা বলার ছলে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে শাহাদাতকে কাপড় খুলতে বাধ্য করে। একই সঙ্গে তার সহকর্মীরা মনির সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলতে থাকে। শাহাদাত এই ঘটনা থেকে বাঁচার আকুতি জানালে তারা দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
শাহাদাত বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে তারা প্রাথমিকভাবে ২০,০০০ টাকা পাঠায় বিকাশের মাধ্যমে। কিন্তু মনি ও তার চক্রের সদস্যরা তাকে ওই বাড়িতে আটকে রাখে। এই ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা করার পর পুলিশ তদন্তে নামে। তারা কৌশলে মনির সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা পরিশোধ করার কথা জানায়। টাকার লোভে রনি নামের প্রতারক চক্রের আরেক সদস্য বড়পুল এলাকায় তাসফিয়া কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এলে পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর রনির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মনির বাসা থেকে শাহাদাতকে উদ্ধার করে মনি ও লিটনকে  গ্রেপ্তার করা হয়।

চট্টগ্রামে প্রেমের জন্য জোড়া খুন by মহিউদ্দীন জুয়েল

ফারজানা নামের এক মেয়েকে ভালবাসতাম। তার বাসায় বিয়ের জন্য পীড়াপীড়ি করছিল লোকজন। তাই প্রেমিকাকে বিয়ে করতে গিয়ে টাকা সংগ্রহের জন্য খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী ও তার মেয়েকে খুন করি। তবে খুনের পরিকল্পনা ছিল না। চুরি দেখতে পাওয়ায় দুইজনকে শেষ করে দেই।
চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর ডাবল মার্ডার হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার বেলাল নামের এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে এমনই তথ্য। সে খুন হওয়া মা নাসিমা বেগমের স্বামী ও তার ৯ বছরের মেয়ে রিয়া আক্তারের পিতা শাহ আলমের খালাতো ভাই বলে পুলিশকে জানিয়েছে।
সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী চট্টগ্রামের ডাবল মার্ডার হত্যাকাণ্ডের কোন ক্লু খুঁজে পাচ্ছিলো না পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকা থেকে ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্ত বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকালে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে তাকে হাজির করা হলে এই সময় সে এসব কথা জানায়।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, চলতি মাসের গত ৭ই মে সকাল সোয়া ৯টায় সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়াস্থ ৬ষ্ঠ তলা বিল্ডিংয়ের ৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া মাংস ব্যবসায়ী শাহ আলমের স্ত্রী ও মেয়েকে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়। এই সময় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ সর্বমোট ২ লাখ ৭১ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায় খুনি। ওই ঘটনায় সদরঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
 গ্রেপ্তার বেলালের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার পুরো নাম বেলাল হোসেন (১৯)। পিতা মো. মন মিয়া, মাতা- হোসনেয়ারা বেগম, গ্রাম কোরবানপুর (বাজারের বাড়ী), থানা-মুরাদনগর, জেলা-কুমিল্লা। বর্তমান ঠিকানা, সাহেব পাড়া, দুলাল জমিদারের ভাড়াঘর, থানা-সদরঘাট, চট্টগ্রাম।
জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল স্বীকার করে, মামলার বাদী শাহ আলম তার আপন খালাত ভাই। সেই সুবাধে সে প্রায়ই তার বাসায় আসা-যাওয়া করতো। ঘটনার ২দিন আগে বাদী শাহ আলম তার মাংসের দোকানের টিউবওয়েল মেরামতের জন্য বললে সে টিউবওয়েল মেরামতের একপর্যায়ে গোপনে মাংসের দোকানের ১টি ছুরি পাশের ডাস্টবিনে লুকিয়ে রাখে।
এক সময় আসামি বেলাল হোসেন শাহ আলমের মাংসের দোকানে কাজ করতো। ঘটনার দিন গত ৭ই মে সকালে সে তার বাসা থেকে বের হয়ে লুকানো ছুরি নিয়ে শাহ আলমের বাসার সামনে অপেক্ষা করতে থাকে। বাদীর ২ ছেলে হৃদয় হোসেন (১২) এবং রিয়াদ হোসেন (১১) স্কুলে চলে যাওয়ার পর সে শাহ আলমের বাসায় যায়। তখন শাহ আলমের স্ত্রী নাছিমা বেগম রান্নাঘরে অবস্থান করছিল। মেয়ে রিয়া আক্তার ফাল্গুনী (১০) পাশের রুমে ঘুমাচ্ছিল। বেলাল হোসেনকে দেখে শাহ আলমের স্ত্রী নাছিমা বেগম (৩৭) বাসায় আসার কারণ জিজ্ঞাসা করার একপর্যায়ে শাহ আলমের স্ত্রী বেলাল হোসেনের দিকে এগিয়ে আসলে তাৎক্ষণিকভাবে ছুরি দিয়ে তার পেটে আঘাত করে।
নাছিমা বেগম তাকে ধরার চেষ্টা করলে আরও কয়েকটি ছুরি দিয়ে আঘাত করলে নাছিমা বেগম মেঝেতে পড়ে যান। তখন তার গলায় ছুরি চালিয়ে জবাই করে বেলাল। শব্দ শুনে মেয়ে রিয়া আক্তার ফাল্গুনী এগিয়ে আসলে তাকেও ছুরি দিয়ে ঘাই  মেরে বাথরুমে ফেলে জবাই করে। জবাই করা ছুরি পাশেই ফেলে রাখে। পরবর্তীতে স্টিলের আলমারি খুলে নগদ ৬০,০০০ টাকা, কিছু স্বর্ণ এবং শাহ আলমের স্ত্রী’র ২টি মোবাইল ফোন নিয়ে দ্রুত বাসা ত্যাগ করে সাত তলা মাঠে গিয়ে টাকা, স্বর্ণ গোছগাছ করে সেলুনে গিয়ে চুল, দাড়ি কাটে। তখন তার এক বন্ধু তাকে টেলিফোনে জানায় তার ভাবী এবং ভাতিজিকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। তখন সে আবার ঘটনাস্থলে এসে অনেক লোকের মাঝে পরিস্থিতি দেখে যায়। কিছুক্ষণ পরে শাহ আলম তাকে আসতে বললে সে পুনরায় এসে লাশ নামানোর কাজে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন ২টির ১টি তার বান্ধবী ফারজানার কাছে রাখতে দেয়, অন্যটি তার পরিচিত মো. আশরাফুল আলম ভূঁইয়ার নিকট রাখে।
স্বর্ণগুলো বাকলিয়ার একটি দোকানে ৩৯,০০০ টাকায় বিক্রয় করে। ঐ টাকায় গত ৯ই মে সে ১টি টেলিভিশন, ডিভিডি প্লেয়ার, ২টি সাউন্ড বক্স রাউজান ইলেক্ট্রনিক্স দোকান থেকে ক্রয় করে। ধরা পড়ার পর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সবকিছু উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার কুসুম দেওয়ান মানবজমিনকে বলেন, আসামি স্বীকার করেছে। তাকে কৌশলে ধরা হয়েছে। সে খুনের ঘটনা ঘটিয়ে আবার লাশের দাফনেও অংশ নেয়।
তিনি আরও বলেন, প্রেমের জন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছে বেলাল। তাকে আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) আদালতে চালান দেয়া হবে। সে শাহ আলমের পূর্ব পরিচিত।

Wednesday, May 27, 2015

মনির ফাঁদে ১০০ ব্যবসায়ী by মহিউদ্দীন জুয়েল

ফোন করে বাসায় ডেকে এনে আপত্তিকর ছবি তুলতো সুন্দরী মনি। তারপর সেই ছবি তুলে মক্তিপণ আদায় করতো। ব্যবসায়ীরাই তার বড় টার্গেট ছিল।
চট্টগ্রামসহ সারা দেশের অন্তত ১০০ ব্যক্তিকে এভাবে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে আসছে মণি। তার সঙ্গে রয়েছে আরও ১০ জনের একটি সিন্ডিকেট। নগরীর হালিশহর ও খুলশী এলাকায় দীর্ঘদিন এমন অপকর্মের ফাঁদ পাতে সে। সর্বশেষ গত রোববার গভীর রাতে এক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সে। এরপর বেরিয়ে আসে নানা চাঞ্চল্যকর কাহিনী।
পুলিশ জানায়, শান্তিবাগ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার সঙ্গে সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য রনি ও লিটন নামের আরও দুই যুবক গ্রেপ্তার হন। ২৩ বছরের মণি আক্তার সব সময় তার বয়স দিয়ে পুরুষদের আকর্ষণ করতে চাইতো।
সুযোগ পেলেই বিছানায় নিয়ে যাওয়ার অফার করতো। তবে গত রোববার শাহাদাত নামের এক ব্যক্তিকে কম টাকায় প্লট বিক্রির লোভ দেখিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে কাজল নামের এক ব্যক্তি। সেই কাজলও মণির সঙ্গে সিন্ডিকেটে কাজ করতো। প্রথমে শাহাদাতকে প্রতারক মণির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।
মণি কথা বলার ছলে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে শাহাদাতকে কাপড় খুলতে বাধ্য করে। একইসঙ্গে তার সহকর্মীরা মণির সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলতে থাকে। শাহাদাত এ ঘটনা থেকে বাঁচার আকুতি জানালে তারা দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
শাহাদাত বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে তারা প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার টাকা পাঠায় বিকাশের মাধ্যমে। কিন্তু মণি ও তার চক্রের সদস্যরা তাকে ওই বাড়িতে আটকে রাখে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা করার পর পুলিশ তদন্তে নামে। তারা কৌশলে মণির সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা পরিশোধ করার কথা জানায়।
টাকার লোভে রনি নামের প্রতারক চক্রের আরেক সদস্য বড়পুল এলাকায় তাসফিয়া কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এলে পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর রনির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মণির বাসা থেকে শাহাদাতকে উদ্ধার করে মণি ও লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ৩ জন জানায়, এ ঘটনার সঙ্গে এরশাদ ও মামুনসহ আরও বেশ কয়েকজন জড়িত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানবজমিনের খুলশী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চক্রবর্তী বলেন, মণি পুরুষদের ব্ল্যাকমেইলিং করতে ওস্তাদ। সে তার রূপের মোহে অনেক মানুষকে নিঃস্ব করেছে বলে জেনেছি। স্বীকার করেছে টাকার বিনিময়ে ছেলেদের বাসায় ডেকে এনে কাপড়চোপড় খুলে আপত্তিকর ছবি তুলতো।
তিনি আরও বলেন, আমরা ধারণা করছি মণির সঙ্গে আরও অনেক সদস্য কাজ করছে। যেখানে অনেক উঠতি মেয়েও থাকতে পারে। পুরো চট্টগ্রাম শহরে তাদের বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে। অপকর্মের কাজে তারা ইয়াবা ও ভিডিও ক্যামেরা ব্যবহার করে।
প্রতারণার শিকার শাহাদাত বলেন, মানসম্মানটা উদ্ধার করতে পেরেছি তাতেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। তা না হলে ব্ল্যাকমেইলিং করে ওরা আমাকে সারা জীবন ধ্বংস করে দিতো টাকার জন্য। আমি জমি কেনার ফাঁদে পা দিয়ে এ ঘটনার শিকার হয়েছি। মণি ও তার সহযোগীরা আমার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন সেট, মানিব্যাগ, ৫ হাজার টাকা ও ব্যাংকের দুটি ক্রেডিট কার্ড হাতিয়ে নিয়েছে।
ঘটনার পরপরই মণিকে খুলশী থানায় নিয়ে আসা হয়। এ সময় সে চিৎকার করে পুলিশ ও সাংবাদিকদের অশ্লীল গালি দিয়ে বলে, তোরা আমার কিছুই করতে পারবি না। সব পুরুষ মানুষ আমার চেনা আছে। সুযোগ পেলেই তারা বিছানায় যেতে চায়। আমাকে ছাড়িয়ে নিতে লিডারদের খবর দিয়েছি। ওরা এসে আমাকে গাড়িতে করে নিয়ে যাবে। এ সময় তাকে পুলিশের উপরও রাগ ঝাড়তে দেখা যায়।

Sunday, May 10, 2015

চট্টগ্রামে দুই কোটি টাকার লোভে ব্যাংকের প্রহরী খুন by মহিউদ্দীন জুয়েল

চট্টগ্রামে প্রহরীকে খুন করে আল আরাফাহ্‌ ব্যাংকের ভল্টে থাকা দুই কোটি টাকা লুট করার পরিকল্পনা ছিল সন্ত্রাসীদের। শহরের মুরাদপুরের ব্যাংক ভবনের দ্বিতীয় তলার পশ্চিম পাশের গ্রিল কেটে ডাকাতির জন্য ওই তিনজন ভেতরে ঢুকেছিল বলে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে জানিয়েছেন। কেবল তা-ই নয়, সন্ত্রাসীরা ডাকাতি করার আগে ওই ব্যাংকে ১৫-২০ দিন ধরে আসা-যাওয়া করেছিল বলে তাদের ধারণা। ঘটনার দিন রাতে তারা বেশ কয়েকবার ভল্ট ভাঙার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনার আলামত দেখে এমনি ধারণা করছেন পুলিশ সদস্যরা।
এ ঘটনায় গতকাল ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার আলী নেওয়াজ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। তবে সর্বশেষ কেউ গ্রেপ্তার হয়নি বলে জানা গেছে। মামলায় ৪ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে আসামি করা হয়েছে।
আল-আরাফাহ্‌ ব্যাংকের মুরাদপুর শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তারা পেশাদার সন্ত্রাসী। বিশেষ করে গ্রিলকাটা চক্রের অন্যতম সদস্য। এ ঘটনায় আশেপাশের অনেক ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মনে ভয় ঢুকে গেছে। প্রতিদিনের লেনদেনের জন্য ওই ব্যাংকের কোষাগারে দুই কোটি টাকার বেশি জমা ছিল। সরকারি ছুটির দিন হওয়াতে তাই টাকা লুটের জন্য বৃহস্পতিবার রাতেই তারা এ ঘটনা ঘটায়।
মামলার বাদী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার আলী নেওয়াজের ভাষ্য, ব্যাংকের ক্যাশ ভল্টে থাকা বিপুল পরিমাণ টাকা লুট করতে তারা ডাকাতি করতে এসেছিল। এই ঘটনায় সব কর্মকর্তা আতঙ্কে রয়েছেন।
আলামত দেখে বোঝা যায়, ওইদিন গভীর রাতেই মুরাদপুর মোড়ের ছয়তলা ভবন হোসেন টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় ব্যাংকটিতে হানা দেয় সন্ত্রাসীরা। এই সময় তারা নিরাপত্তাকর্মী ইব্রাহিম (৩৫)কে হত্যা করে। তবে হত্যার আগে তার মুখ বেঁধে ফেলে গামছা দিয়ে। এরপর ধারালো ছোরা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে যায়।
ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জ শাহেদ হোসেন বলেন, অনেক চেষ্টা করেও ক্যাশ ভল্ট ভেঙে টাকা লুট করতে না পারায় চলে যায় সন্ত্রাসীরা। আমরা ব্যাংকের নিরাপত্তা জোরদার করেছি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, ঘটনাটি বর্তমানে পুলিশ, সিআইডি ও ডিবির একাধিক টিম তদন্ত করছে। ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া সন্ত্রাসীদের হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি বঁটি ও একটি ছুরি পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত রাতের ডিউটি ছিল খুন হওয়া ইব্রাহিমের।
কিন্তু ডিউটি শেষ করে তার কোন হদিস পাওয়া না যাওয়ায় ইব্রাহিমের স্ত্রী ব্যাংক ম্যানেজারকে ফোন করেন। এই সময় তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় সন্দেহ বাড়ে। পরে ব্যাংক ম্যানেজার ভবনের মালিককে ফোন দিয়ে ঘটনা জানতে পারেন। হত্যার পর ইব্রাহিমের মুখে লুঙ্গি, হাত শার্ট দিয়ে বাঁধা ও শরীর কাঁথাচাপা অবস্থায় দেখা যায়। ১৪ বছর ধরে তিনি রাতের বেলায় ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় এভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত বছর তিনি ওই শাখায় যোগদান করেন।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এস এম তানভীর আরাফাত মানবজমিনকে বলেন, ভল্টে থাকা কয়েক কোটি টাকার বেশি লুট করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। প্রতিদিনই ওই ব্যাংকে কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয় বলে এক কর্মকর্তা আমাদের জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ঘটনাটিকে ডাকাতি বলেই ধরে নেয়া হচ্ছে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার বলেন, আমাদের কাছে যে আলামত রয়েছে তাতে রাত ২টা ২০ মিনিটে এই ঘটনাটি ঘটেছে। যারা এই ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত তারা বেশ কয়েকবার বিভিন্ন ছুঁতোয় ওই ব্যাংকে এসে গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে যায়।
তিনি আরও বলেন, আমরা ৩ জনের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। সিসি ক্যামেরায় যাদের দেখা গেছে তাদের স্পষ্ট বোঝা যায় গ্রিলকাটার বিষয়ে ওরা খুবই চতুর। শহরের দুর্ধর্ষ গ্রিলকাটা চক্রের বেশ কয়েকজনের তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে। তাদের কেউ এই ঘটনায় জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখছি।