Thursday, June 19, 2014

ব্রাজিল সুপারমডেল কুইন সেক্সী

২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ এখনও অর্ধেক পথ পাড়ি দেয়নি। এরই মধ্যে জমে উঠেছে ফুটবলযুদ্ধ। বিশ্বকাপের জোয়ারে মাতোয়ারা বিশ্ব। খেলার মাঠ মাতিয়ে চলেছেন খেলোয়াড়রা। আর গ্যালারিতে ভক্তরা। নিজ দলের সমর্থন প্রকাশে রং আর শিল্পের ছোঁয়া। দলের জার্সি, পতাকা তো আছেই। পাশাপাশি মুখে, শরীরে রং- বেরংয়ের পতাকা আঁকা। খেলার ফাঁকে ক্যামেরাও বার বার ঘুরে যায় ওই সব ভক্তদের দিকে। আর সেখানে রমণীদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। উৎসাহী নারী ভক্তদের সমারোহ প্রতি খেলাতেই দেখা যায়। তবে সে তালিকাই এখনও ব্রাজিলের রমণীরাই শীর্ষে। তাদেরকে বলা হচ্ছে ব্রাজিল কুইন। খেলার মাঠে তো আছেই। ব্রাজিলের রাস্তাঘাটেও তাদের সরব উপস্থিতি। নারী ভক্তদের দল ভারি হয়েছে যখন সেখানে যোগ দিয়েছেন দুই সুপার মডেল গিজেল বুন্ডচেন ও আলেসান্দ্রা অ্যাম্ব্রোসিও। দুজনকেই দেখা গেছে ব্রাজিলের পতাকার রঙের পোশাক পরে রাস্তায় বের হতে। আলেসান্দ্রা ব্রাজিল টি-শার্ট আর হ্যাট পরিহিত ছবি পোস্ট করেছেন ইন্সটাগ্রামে। এদিকে গিজেল বুন্ডচেন এ মুহূর্তে ব্রাজিল না থাকলেও আমেরিকাতে থেকেই নিজ দেশের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন ঠিকই। হলুদ রঙের টিশার্ট আর সবুজ রঙের প্যান্ট পরে বের হন অনুশীলন করতে। সুপারমডেলরাতো আছেনই। আছেন খেলোয়াড়দের স্ত্রী-বান্ধবীরা। কেউ গ্যালারিতে কেউবা গ্যালারির বাইরে থেকেই নজর কাড়ছেন। আর তাদের পাশাপাশি বরাবরের মতো এবারও ফুটবলের সমান আকর্ষণ কাড়ছেন গ্যালারিতে উপস্থিত রমণী ভক্তরা।

দেশে বর্তমানে জঙ্গলি শাসন চলছে: খালেদা জিয়া

দেশে বর্তমানে জঙ্গলি শাসন চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার রাতে পল্লবী ও রুপনগর থানা বিএনপি এবং সকল অঙ্গসংগঠন আয়োজিত বিহারী ক্যাম্পের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। বেগম খালেদা জিয়া বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র ও সরকার বলে কিছু নেই। অত্যাচারিরা দেশ শাসন করছে। দেশে বিচার বিভাগের কোন স্বাধীনতা নেই, সরকার যা বলে বিচার বিভাগ সেই ভাবেই বিচার কাজ করে। খালেদা জিয়া বলেন, বিহারী ক্যাম্পের ঘটনার মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে অতীতের গাড়িতে আগুন লাগিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতারা, আর মামলা দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনদের অত্যাচার ও অন্যায়ের বিচার এই দুনিয়াতেই হবে এবং আখিরাতেও হবে। তবে আখিরাতের শাস্তিটা তাদের জন্য বেশী হবে। কারণ আখিরাতের আগুনে তারা যখন জ্বলবে তখন বলবে আমরা কি ভুলটাই না করেছি। তিনি বলেন, সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। আমরা যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করি তাহলে অন্যায়ের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে।
কালশীর অগ্নিকান্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিহারীর এই ঘটনার সাথে কারা জড়িত এবং এই ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে তা আমরা সবই জানি। সময় হলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি অবিলম্বে কালশীর ঘটনার বিচার বিভাগীর তদন্ত কমিটি গঠন করে দল-মতের উদ্ধে উঠে দোষিদের শাস্তির ব্যবস্থা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ক্ষতিগ্রস্থদের উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, আপনাদের শান্তনা দেওয়ার মত ভাষা আমাদের জানা নেই। কিন্তু আপনারা তখনি শান্তনা পাবেন যখন অপরাধিদের শাস্তি দেওয়া হবে। দেশের অপহরণ, গুম ও খুনের মধ্যে দিয়ে বিদেশী মহলের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। এ সময় বহারী ক্যাম্পের নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের ৬ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন খালেদা জিয়া।
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া আগুনে পুড়ে নিহত ইয়াসিনের পরিবারকে ২ লাখ টাকা, পুলিশের গুলিতে নিহত মো. আজাদের স্ত্রী সুলতানাকে ১ লাখ টাকা ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের ৩ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর বিএনপি পক্ষ থেকে নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্থ পবিবারদের মাঝে কম্বল ও কাপড় বিতরণ করা হয়। সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে মৃত পরিবারের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইয়াসিন ও তার পিতা ইসলাম, মো. শওকতের পিতা মাহতাব, নিহত মো. আজাদের পিতা আব্দুল সাত্তার।
ঘড় পোড়া পরিবারের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মো. আনোয়ারের পিতা ফজলু রহমান, ময়নার পিতা আব্দুর রহমান, আহমেদের পিতা খুরশীদ আনোয়ার, সাহিদার পিতা হারুন, ভলুর পিতা হাবীব, বেচেনের স্বামী জাহাঙ্গীর, নাদিমের পিতা নাবি হাসান, ইব্রাহিমের পিতা রহিম, জাফরের পিতা আকবর আলী।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুবহানের পিতা রাজন, শাকিলের পিতা মো. ওমর, জাবেদের পিতা আব্বাস খান, ছোটকির স্বামী হায়দার, লাইলুনের স্বামী রাসেদ, সাহিদের পিতা মো. ইসরাফিল, রানার পিতা বাবু, গুড্ডুর পিতা মাকসুদ আলী, বাবরের পিতা আজগর আলী, সামসাদরের পিতা ইদ্রিস, খুরশীদা বেগমের স্বামী আসলাম, মুন্নীর স্বামী গাফফার, বেবীর স্বামী ইউসুফ, মুন্নীর স্বামী জাহাঙ্গীর, কালীমের পিতা নাবী হাসান।
আহতের পরিবারের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সরদারের পিতা ইসমাইল, জসুর পিতা ইসমাইল, মুন্নীর পিতা ইসমাইল, ফারজানার পিতা ইয়াসিন, আসলামের পিতা আলতাফ হোসেন। মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত পরিবারের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বদরুদ্দিনের পিতা আজহারুদ্দিন, আরজুর পিতা বদরুদ্দিন, সাব্বিরের পিতা মো. গোলাম, জুয়েল, আরিফ, নাসির, মো. আজাদ। বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, ব্যাবিরস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

এমপির সহযোগীদের দায়ী করে বিহারিদের স্মারকলিপি

মিরপুরের কুর্মিটোলা বিহারি ক্যাম্পে হামলা, সংঘর্ষ ও ১০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ীদের বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে বিহারিরা। স্মারকলিপিতে তারা বলেছে, পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী পল্লবী থানা যুবলীগের এক নেতার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী কুর্মিটোলা বিহারি পল্লীতে অতর্কিত হামলা চালায়। পল্লীর জায়গা দখল করতেই প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে এ হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার না করে নিরীহ বিহারিদের গ্রেফতার করছে।
স্মারকলিপি দেয়ার সময় স্বরষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিহারিদের আশ্বস্ত করে বলেন, তদন্ত করে যাদের নাম আসবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দাদের ওপর কোনো প্রকার পুলিশি হয়রানি হবে না। বিহারিদের পাসপোর্ট বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট পেতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার বেনজির আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বুধবার পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে বিহারিরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শতাধিক নারী-পুরুষ কুর্মিটোলা বিহারি ক্যাম্পসংলগ্ন কালসী-ডিওএইচএস সংযোগ সড়ক বাঁশ দিয়ে অবরোধ করেন। ফলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্মারকলিপি দেয়ার আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন সংগঠনের নেতা ও সদস্যরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা। এদিকে একই দাবিতে বিকালে সিপিবি ও বাসদ মানববন্ধন করে।
উর্দু স্পিকিং পিপলস ইয়ুথ রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেন্টের ব্যানারে ওই মানববন্ধনে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান বলেন, স্বাধীন দেশে এভাবে পুড়িয়ে মারার ঘটনা ন্যক্কারজনক। ঘুমন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারল আবার পুলিশ তাদের ওপরেই গুলি চালাল। এর পেছনে কোনো রহস্য আছে। সঠিক তদন্ত করে নেপথ্যের নায়কদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানান তিনি।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, স্বাধীন দেশে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। উর্দু স্পিকিং পিপলস ইয়ুথ রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেন্ট (ইউএসপিওয়াইআরএম) মহাসচিব মোঃ সাইদ আলী বাবলু বলেন, জায়গা দখল করতেই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি সাদাকাত খান ফাক্কুর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হিরা, সাংবাদিক আবু সাইদ খান প্রমুখ।
কুর্মিটোলা ক্যাম্পে বিক্ষোভ : বুধবার কুর্মিটোলা ক্যাম্পের বাসিন্দারা রাস্তায় শুয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভে অংশ নেয়া রওশন আরা যুগান্তরকে বলেন, ‘গারিব হোনা বহুত গুনাহ হ্যায়রে বাপু, বেবিকি মাকান (বেবির ঘর) জ্বলগেয়া, কেইসে দুনিয়া অ্যাগায়া, ইয়ে দুনিয়া গারিব কিলিয়ে নেহি। হামারা জুলুম (অপরাধ) ক্যায়াহে? কিঁউ হামরা আদমীকো আগমে জ্বলা দিয়া, পুলিশ পাকড়াও কারকে লেগায়া।’
পল্লবী থানার ওসি জিয়াউজ্জামান জানান, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে এন্টি পারসোনেল কার (এপিসি) জলকামানসহ অতিরিক্ত নিরাপত্তা পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে। যে কোনো অরাজকতা বন্ধে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। শবেবরাতের রাতে আতশবাজি ফাটানোকে কেন্দ্র করে শনিবার কুর্মিটোলা বিহারি ক্যাম্পে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একই পরিবারের ৯ জনসহ ১০ জন মারা যান।
সিপিবি ও বাসদের মানববন্ধন : বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বিহারি ক্যাম্পে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বিহারির নতুন প্রজন্ম এই বাংলাদেশের নাগরিক। অথচ তাদের পাসপোর্ট দেয়া হচ্ছে না। তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। স্বাধীন দেশের সবাই সমান অধিকার পাওয়ার দাবিদার। বাসদের সাধারণ সম্পদাক খলিকুজ্জামান বলেন, যাদের ওপর হামলা হয়েছে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে তারা এখন এ দেশের মানুষ।

কালশীর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করলেন খালেদা

কালশীর বিহারি ক্যাম্পের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত অপরাদীদের শাস্তির দাবি জানালেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে মিরপুরে হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত বিহারি পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ দাবি জানান।
বেগম খালেদা জিয়া বলেন, গণতন্ত্র নির্বাসিত হয়ে দেশে আজ জঙ্গি শাসন চলছে। তিনি বলেন, সারাদেশ কারাগারে পরিণত হয়েছে। বিচারকরা দলীয় সিদ্ধান্তে অপরাধীদের শাস্তি দিচ্ছে। এ কারণে আওয়ামী লীগের গুণ্ডাপান্ডা ও খুনের আসামিরা জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছে।
এসময় ।
তিনি মিরপুরে বিহারি ক্যাম্পে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের স্বজনদেরকে অনুদান প্রদান করেন। এদের মধ্যে ইয়াসিনের পরিবারকে ২ লাখ, মো. আজহারের পরিবারকে ১ লাখ এবং অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্তদের একত্রে ৩ লাখ টাকা দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন রাজধানীর পল্লবীর কালশিতে আতশবাজি পোড়ানোকে কেন্দ্র করে আটকেপড়া পাকিস্তানিদের ক্যাম্পের (বিহারি ক্যাম্পে) বাসিন্দাদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিহারি ক্যাম্পে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে একই পরিবারের সাতজনসহ ৯ জন নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। এ সময় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিতে মারা  যান আরো একজন।
এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস ও তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জে সাত খুন: ৩২ দিনের রিমান্ড শেষে সাঈদের স্বীকারোক্তি- নূর হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ভারত

(র‍্যাব–১১–এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয় l প্রথম আলো) নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মাদ গতকাল বুধবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন৷ পুলিশ একে একে ছয় দফায় ৩২ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি সাত খুনের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করলেন৷ গতকাল সকাল আটটার দিকে কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে তাঁকে নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কে এম মহিউদ্দিনের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে সাত খুনের ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা দুটি মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে বেলা সাড়ে তিনটায় তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
এদিকে সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ভারত৷ গতকাল চিঠির মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়ে তাঁর সম্পর্কে আরও তথ্য চাওয়া হয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা তারেক সাঈদ আদালতে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ বিবরণ দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এর আগে র‌্যাবের অন্য দুই সাবেক কর্মকর্তা মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানা সাত খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
সাঈদকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারের পর প্রথমে পাঁচ দিন, প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় দ্বিতীয় দফায় আটদিন, একই মামলায় তৃতীয় দফায় পাঁচ দিন, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ দুজনকে হত্যার মামলায় চতুর্থ দফায় পাঁচ দিন, ৯ জুন পঞ্চম দফায় পাঁচ দিন এবং সর্বশেষ ষষ্ঠ দফায় ১৪ জুন চার দিনের রিমান্ডে নেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
নূর হোসেন সম্পর্কে তথ্য চেয়েছে ভারত
কূটনৈতিক প্রতিবেদক ও কলকাতা প্রতিনিধি জানান, ইন্টারপোলের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার (রেড এলার্ট নোটিশ) ভিত্তিতে কলকাতায় গ্রেপ্তার করা হয় নূর হোসেনকে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, ভারত নূর হোসেনের ব্যাপারে আরও কিছু তথ্য চেয়েছে। সরকার এখন সেসব তথ্য সংগ্রহ করছে। নূর হোসেনকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, নূর হোসেনকে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনার ব্যাপারে ইতিমধ্যেই দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর ব্যাপারে ভারত গতকাল আরও তথ্য চেয়েছে। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে গতকাল একটি চিঠি পাঠিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব তথ্য পাঠানোর অনুরোধ জানায়।
তবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার নূর হোসেনের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে কলকাতার উপ হাই কমিশনকে কিছু জানায়নি৷ জানতে চাইলে কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ হাই কমিশনার আবিদা ইসলাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণত বাংলাদেশের কোনো নাগরিক পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হলে তা জানানোর কথা রাজ্য সরকারের। কিন্তু নূর হোসেন গ্রেপ্তারের ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি৷
ঢাকায় ভারতীয় এক কূটনীতিক গতকাল বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ প্রতিবেদককে জানান, নূর হোসেন বাংলাদেশ থেকে পালানোর পর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ইন্টারপোল। ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়ার পর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন রাজ্যকে বিষয়টি অবহিত করে। এরই ভিত্তিতে কলকাতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে নূর হোসেনকে।
পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নূর হোসেনের মতো পলাতক অপরাধীদের ফেরানোর জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে বহিঃসমর্পণ চুক্তিই হচ্ছে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে ভালো পথ। তাই এ চুক্তির আওতায় তাঁকে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে তা ভারতের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে চুক্তিটি সই হওয়ার পর এখনো এর আওতায় দুই দেশের কোনো অপরাধীকে হস্তান্তর করা হয়নি।
নূর হোসেনকে ফেরত আনার দাবি: কলকাতায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার নূর হোসেনকে দ্রুত দেশে ফেরত আনার দাবিতে কাল নারায়ণগঞ্জের আদালতপাড়া এলাকায় আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন আইনজীবী নেতা জাকির হোসেন, মশিউর রহমান প্রমুখ।
সাখাওয়াত হোসেন সমাবেশে বলেন, নূর হোসেন দেশে এলে সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সাংসদ গডফাদারদের নাম বলে দিতে পারেন। এ কারণে তাঁকে দেশে ফেরত আনার ব্যাপারের সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। তিনি অবিলম্বে নূর হোসেনকে কলকাতা থেকে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।

এতিমখানার অবহেলায় হাত হারালো শিশু সুমন

শিশুটির বয়স মাত্র ১২। এ বয়সে তার হেসেখেলে বেড়ানোর কথা। আর দশটা শিশুর মতো পড়াশোনা করে বড় হয়ে ‘কী হতে চাই’ স্বপ্নে বিভোর হওয়ার কথা। কিন্তু নিজের ডান হাত খুইয়ে এখন সে হাসপাতালের বিছানায়।

>>ডান হাত হারানো শিশু সুমন কাজী। ছবি: আলীমুজ্জামান রনি
তবে নিজের দোষে নয়, এতিমখানার স্বাস্থ্য সহকারী ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় পিতৃহারা শিশু সুমন কাজীর ডান হাতটি কনুই থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে। সম্প্রতি মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুর শহরতলির কোমরপুরে অবস্থিত মুসলিম মিশন এতিমখানায়।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের দড়জা গ্রামের ছোবরন নেছা (সুমনের মা) স্বামী হারানোর পর চার মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে চরম অভাব-অনটনে পড়েন। তিনি জানান, স্বামী কৃষক রহমান পাঁচ বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এত বড় সংসারের ভার সামলাতে না পেরে তিনি ছোট ছেলে সুমনকে ফরিদপুর মুসলিম মিশন এতিমখানায় ভর্তি করেন। সুমন বর্তমানে মিশনের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।

ফরিদপুর ট্রমা সেন্টারে চিকিত্সাধীন সুমন প্রথম আলোকে জানায়, ১২ জুন দুপুরে জোহরের নামাজের জন্য ওজু করতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যায় সে। এতে তার ডান হাত ভেঙে যায়। পরে মিশনের স্বাস্থ্য সহকারী সুকুমার প্রামাণিক সুমনের চিকিত্সা করেন। তিনি এক্সরে বা কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই সুমনের ভেঙে যাওয়া হাতের অংশ শক্ত করে বেঁধে প্লাস্টার করে দেন। এর পর থেকে সুমনের হাতের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। ওই দিন রাতে এবং পরদিন অর্থাত্ ১৩ জুন সকালে হাতে তীব্র ব্যথার কথা সুকুমার প্রামাণিককে জানায় সুমন। কিন্তু সুকুমার তাকে কোনো চিকিত্সা না দিয়ে বকা দিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেন। সুমন বলে, ‘এজন্য ভয়ে আমি কাউকে কিছু বলিনি।’

ঘটনার তিন দিন পর গত ১৫ জুন সুমন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের চিকিত্সকেরা সুমনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন চিকিত্সার পরও সুমনের অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় চিকিত্সকেরা ১৭ জুন অস্ত্রোপচার করে তার ডান হাতটি কনুই থেকে কেটে ফেলেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ আ স ম জাহাঙ্গীর চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার তিন-চার দিন পর যখন সুমনকে মেডিকেল হাসপাতালে আনা হয়, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তার হাতের ভাঙা অংশে গ্যাংগ্রিন হয়ে যায়। ফলে হাত কেটে ফেলা ছাড়া অন্য উপায় ছিল না। হাতটি রেখে দিলে কিডনি বিকল হয়ে শিশুটির মৃত্যুও ঘটতে পারত।’

সুমনের বোন সাবিনা বেগম অভিযোগ করেন, ‘হাত ভেঙে যাওয়া খুবই সাধারণ দুর্ঘটনা। সঠিক চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হলে কিছুতেই আমার ভাইয়ের হাত কাটতে হতো না। মিশনের লোকজনের অবহেলার কারণে আমার ভাইয়ের জীবনটা নষ্ট হয়ে গেল।’

সুমনের মা ছোবরন নেছা অভিযোগ করেন, ‘ছেলের অসুস্থতার কথা শুনে ঘটনার তিন দিন পর ১৪ জুন মিশনে ছেলেকে দেখতে গেলে আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। অনেক অনুরোধ করলেও শোনেনি। শেষমেশ ফিরে যেতে হয়েছে। আমার ছেলের জীবনটা শেষ করার পর আমাকে ফোন করে ডেকে আনা হয়েছে। আমি এ অবহেলার সাথে জড়িতদের শাস্তি চাই।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মুসলিম মিশনের স্বাস্থ্য সহকারী সুকুমার প্রামাণিক বলেন, ‘আমি এমবিবিএস চিকিত্সক নই। শুধু কম্পাউন্ডার হিসেবে ট্রেনিং নিয়েছি। সুমনের হাত ভেঙে গেলে আমি তুলা ব্যান্ডেজ করে হাতটি ঝুলিয়ে রাখার ব্যবস্থা করি, যাতে সে ব্যথা না পায়। এ ছাড়া সুমনকে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক দেখাতে আমি মিশনের অভ্যন্তরীণ তত্ত্বাবধায়ক ওমর ফারুককে পরামর্শ দিই।’

তবে দাবি নাকচ করে মুসলিম মিশনের অভ্যন্তরীণ তত্ত্বাবধায়ক ওমর ফারুক বলেন, ‘সুকুমার আমাকে কোনো পরামর্শ দেননি।’ তিনি বলেন, ‘মিশনে যে হাসপাতাল রয়েছে, সেখানে এমবিবিএস পাস করা কোনো চিকিত্সক নেই। স্বাস্থ্য সহকারী সুকুমারের শুধু প্রাথমিক চিকিত্সা দিয়ে চিকিত্সার জন্য রোগীদের বাইরের হাসপাতালে নেওয়ার কথা। কিন্তু সে ব্যান্ডেজ করে আমাদের জানায়, কোনো সমস্যা নেই। পরে শিশুটির হাত কালো হয়ে গেলে ১৫ জুন আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

ফরিদপুর মুসলিম মিশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ সামাদ বলেন, ‘১২ তারিখে ঘটনা ঘটলেও আমি জানতে পারি ১৪ জুন রাতে। আমি জানার পর অবহেলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। সুকুমার ভুল করেছে। তাঁর উচিত ছিল শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানো। তা না করে সে শিশুটির ভাঙা হাত টান করে বেঁধে দিয়েছে। আমাদের দুঃখ, আমরা শিশুটির হাত রক্ষা করতে পারিনি। এ জন্য সুকুমারকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সে এর জবাবও দিয়েছে। আগামী শনিবার মুসলিম মিশনের ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

গোলাম আযমের সঙ্গে জড়িয়ে জামায়াতের ভাগ্য by সাজেদুল হক

সরকারি বক্তব্যেই তৈরি হয়েছে বিভ্রম। যদিও বিভ্রম কেন তৈরি করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন এবং দলটির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা একেবারেই আলাদা। সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিবেচনায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির মতের ভিত্তিতে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হয় হাইকোর্টে। এ রায়ের বিরুদ্ধে দলটির দায়ের করা আপিল এখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। এ মামলার সঙ্গে জামায়াতের যুদ্ধাপরাধ মামলার কোন সম্পর্ক না থাকলেও আরেকটি মামলার সঙ্গে জামায়াতের ভাগ্য বহুলাংশেই জড়িয়ে গেছে। জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের ফাঁসি চেয়ে আপিল বিভাগে গত ১২ই আগস্ট আপিল দায়ের করে সরকার। ওই আপিলে দল হিসেবে জামায়াত নিষিদ্ধের আবেদনও জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে জামায়াতের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে। গোলাম আযমের যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ে জামায়াতকে একটি ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের আলোকে জামায়াতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়েছে সরকার। সংবিধানের এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন ব্যক্তির হাজিরা কিংবা কোন দলিলপত্র উদ্ঘাটন বা দাখিল করিবার আদেশসহ আপিল বিভাগের নিকট বিচারাধীন যে কোন মামলা বা বিষয়ে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের জন্য যেরূপ প্রয়োজনীয় হতে পারে, উক্ত বিভাগ সেরূপ নির্দেশ, আদেশ, ডিক্রি বা রিট জারি করিতে পারিবেন।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হকের বক্তব্যের জামায়াতের বিচারের ইস্যুটি সম্প্রতি নতুন করে সামনে এসেছে। জামায়াতের বিচার এবং আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে সরকারকে আপিল দায়েরের সুযোগ দিতে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইনে সংশোধন আনা হয়। তখন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে অপরাধী সংগঠনেরও বিচারের ব্যবস্থা করা হয়। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে প্রসিকিউশনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দেয়। যদিও সম্প্রতি আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক সাংবাদিকদের জানান, ট্রাইব্যুনালস আইনে জামায়াতের বিচার সম্ভব নয়। এজন্য আইন সংশোধন করতে হবে। কারণ আইনে সংগঠনের শাস্তি কি হবে এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর চারদিকে তোলপাড় তৈরি হয়। সরকার ও জামায়াতের সমঝোতার গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। পরে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানান। তিনিও মত দেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে একসঙ্গে দুই মামলা চলতে পারে না। তবে আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিবন্ধন মামলার সঙ্গে জামায়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা চলতে কোনই আইনি বাধা নেই। বরং গোলাম আযমের মামলায় সরকার পক্ষের করা আবেদনের সঙ্গে জামায়াতের যুদ্ধাপরাধ মামলার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এ মামলাতেই জামায়াত নিষিদ্ধের মতো ইস্যুতে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আপিল বিভাগে বর্তমানে জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের আপিল শুনানি চলছে। জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলটির আরেক নেতা আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদ- এরইমধ্যে কার্যকর হয়েছে। গোলাম আযমের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের পাশাপাশি তিনিও খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করেছেন। মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের আপিল নিষ্পত্তির পর গোলাম আযমের আপিল শুনানি হতে পারে। জামায়াত নিষিদ্ধের মতো ইস্যুর চূড়ান্ত সুরাহা হতে পারে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগেই।

মেসি-ওজিলদের মহানুভবতা

বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির দল এবার বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর ভালোবাসা জয় করতে সক্ষম হয়েছে অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখিয়ে। মেসি পরাজয়ের দায় স্বীকার করে ভবিষ্যতে তাঁর দল বিশ্বকাপ জয় করবে বলে আশাহত আর্জেন্টাইনবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে ২৪ বছর পর দলকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার পেছনে তাঁর ভূমিকাই ছিল মুখ্য। ফাইনালে জয়ী হতে না পারা আর্জেন্টাইন দলটি তাদের প্রাইজমানির একটি অংশ বুয়েনস এইরেসের গারাহান হাসপাতালের শিশু ক্যানসার কেন্দ্রে দান করে যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে, তা অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আর্জেন্টাইন দল বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়ে প্রাইজমানি পেয়েছিল ১৮৬ কোটি টাকা এবং এর মধ্য থেকে এক কোটি ছয় লাখ ৪৪ হাজার টাকা দান করেছে ওই হাসপাতালে। মেসি নিজের প্রাইজমানি দিয়েছেন তাঁর গড়া মেসি ফাউন্ডেশনকে, যার লক্ষ্য হলো, 
স্বপ্ন সফল করতে সব শিশুকে সমান সুযোগ দিতে হবে’। এ জন্য আর্জেন্টাইন দল ও তার অধিনায়ক অভিনন্দন পেতে পারেন। এদিকে এবারের বিশ্বকাপজয়ী জার্মান দলের মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে প্রাইজমানি হিেসবে দুই লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড পেয়েছেন, তার পুরোটাই ব্যয় করবেন ব্রাজিলের ২৩টি দুস্থ শিশুর কল্যাণে। এবারের বিশ্বকাপে জার্মান দলের খেলোয়াড় ছিলেন ২৩ জন। ২৩ নম্বরটিকে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করেন এই খেলোয়াড়। মেসুত ওজিল বলেন, এটা আর কিছু নয়। এক মাস ধরে ব্রাজিলে তিনি যে চমৎকার আতিথেয়তা পেয়েছেন, তারই প্রতিদান। আমরা তাঁকেও অভিনন্দন জানাই। মেসি-ওজিলরা প্রমাণ করলেন যে তাঁরা কেবল খেলার মাঠেই সেরা নন, মানবতার সেবায়ও অনন্য ভূমিকা রাখতে পারেন। খেলোয়াড়সহ আমাদের দেশের কীর্তিমানেরা তাঁদের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তার হাত বাড়ালে অনেক দুস্থ শিশু ও অসহায় মানুষ বাঁচার অবলম্বন খুঁজে পেতে পারে।

ব্যাপক খোলামেলা হয়ে আসছেন মালাইকা

বলিউডের শীর্ষ আইটেম গার্ল-এর তকমা অনেক আগেই নিজের নামের পাশে জড়িয়েছেন মালাইকা অরোরা খান। এরই মধ্যে একাধিক আইটেম গানে পারফর্ম করে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। সর্বশেষ ‘দাবাং ২’-এর একটি গানে পারফর্ম করতে দেখা গিয়েছিল তাকে। তবে তার পর থেকে অনেকটাই আড়ালে থেকেছেন মালাইকা। গত দেড় বছরে নতুন কোন গানেও পাওয়া যায়নি তাকে। একমাত্র ছোট পর্দার নাচের প্রতিযোগিতায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত হওয়া ছাড়া এ সময়ে তার মিডিয়া উপস্থিতি ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। পারিবারিক ও ব্যবসাজনিত কারণেই ছিল মালাইকার এ লম্বা বিরতি। তবে তার ভক্তদের জন্য সুখবর হচ্ছে শিগগিরই বলিউডে ফিরছেন তিনি। আর এবার ফিরছেন দেবর সোহেল খান পরিচালিত ছবির মাধ্যমে। ‘জয় হো’র পর এরই মধ্যে নতুন ছবির পরিকল্পনা শেষ করেছেন সোহেল। নাম ঠিক না হওয়া এ নতুন ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন সালমান খান। অভিনয় করবেন সোহেল খানও। ছবির জন্য সালমানের বিপরীতে একজন নতুন অভিনেত্রীর খোঁজ এখন করছেন সোহেল। এ ছবির আইটেম গানের মাধ্যমেই আবারও দর্শকদের মধ্যে ফিরছেন মালাইকা। এখানে ব্যাপক খোলামেলা হয়েই ক্যামেরাবন্দি হবেন তিনি। এরই মধ্যে এ বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। এদিকে ‘মুন্নি বাদনাম হুয়ি’র পর অসংখ্য আইটেম গানের প্রস্তাব এসেছিল তার কাছে। কিন্তু সব প্রস্তাবই ফিরিয়ে দেন তিনি। ঘন ঘন আইটেম গানে কাজ করতে চান না বলেই এত দিন এক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি মালাইকাকে। তার পারফর্ম করতে যাওয়া এবারের আইটেম গানটির কোরিওগ্রাফিরও করবেন তিনি। এরই মধ্যে ছবির সবক’টি মিউজিক ট্র্যাক তৈরি হয়েছে। আইটেম গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সুনিধি চৌহান। আসছে রোজার ঈদের পরপরই এর শুটিং শুরু হবে। দীর্ঘ সময় পর আইটেম গানে ফেরা প্রসঙ্গে মালাইকা বলেন, সোহেল খানের এ প্রস্তাবটি আসলে আমার অনেক ভাল লেগেছে। সম্পূর্ণ জঙ্গলের আবহে এ গানটির শুটিং হবে। বরাবরের মতো আবেদনময়ী মালাইকাকেই এর মাধ্যমে আবিষ্কার করা যাবে। আশা করছি ভাল কিছু হবে।

শেষ ভরসায় অপু বিশ্বাস নিজেকে সাজিয়েছেন নতুনরূপে

টানা ৫-৬ বছর বেশ রমরমা কেটেছে অপু বিশ্বাসের ক্যারিয়ার। তখন অপু বিশ্বাস মানেই হিট সুপার হিট। শাকিব খানের সাম্রাজ্যের পুরো সময়টাতেই অপু বিশ্বাস রানী। কম সময়ে রেকর্ডসংখ্যক ছবিতে অভিনয়, বড় সাফল্য খুব কম নায়িকার ভাগ্যেই জুটেছে। শাকিব খানের পাশাপাশি মান্না এবং কাজী মারুফের সঙ্গেও সফল হয়েছেন অপু। তবে শাকিব খানের সঙ্গে ঘন ঘন পর্দায় আসার পাশাপাশি দুর্বল গল্পের নিম্নমানের ছবির কারণে অপু বিশ্বাসের ক্যারিয়ারে বিপর্যয় দেখা যায়। কেবল শাকিব খানকেন্দ্রিক হয়ে যাওয়ার কারণে অন্য নায়কদের সঙ্গে অভিনয় করে ক্যারিয়ারের ডালপালা ছড়াতে পারেননি তিনি। শাকিব খান বিভিন্ন নায়িকার সঙ্গে অভিনয় করে বিপর্যয় কাটাতে সমর্থ হলেও অপু বিশ্বাস পারছেন না। শাকিব খানই তার একমাত্র সহায়-সম্বল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ফলে এবারের ঈদে অপু বিশ্বাসের শেষ ভরসা হয়ে আসছে শাকিব খানের সঙ্গেই ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’। শাকিব খান প্রযোজিত এ ছবিতে ববি থাকলেও অপুর গুরুত্ব কম থাকছে না। তার পরও শেষ ভরসা বলতে ব্যবসায়ীরা নিকট অতীতে শাকিব খানের সঙ্গে অপুর বেশ কিছু ছবির বড় ব্যর্থতাকে ইঙ্গিত করছেন। তবে ঈদ উৎসব আর শাকিব খান প্রযোজিত ছবি বলে কথা। অপু বিশ্বাস নিজেকে সাজিয়েছেন নতুনরূপে। কারণ, সাফল্য তার পেতেই হবে। ফিরে পেতে হবে নির্মাতাদের বিশ্বাস আর দর্শক ভালবাসা। ‘হিরো দ্য সুপার স্টার’ দিয়েই সবকিছু সামলে নেবেন বলে বিশ্বাস করছেন অপু বিশ্বাস।

আফগানিস্তানে ইরাকের পুনরাবৃত্তি হবে না

হামিদ কারজাই
আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, তাঁর দেশে ইরাকের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না৷ তাই তাঁর দেশে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট কোনো গ্রুপের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও নেই৷ গতকাল বুধবার বিবিসিতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে হামিদ কারজাই এ কথা বলেন৷ ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ আফগানিস্তান থেকে ন্যাটোর সেনা প্রত্যাহার করা হবে৷ এরপর দেশটিতে সহিংসতা বেড়ে যেতে পারে বলে কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন৷ ইরাকের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন৷ এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিদায়ী আফগান প্রেসিডেন্ট বলেন, আফগানিস্তানে আল-কায়েদার আর কোনো অস্তিত্ব নেই৷ তাই এখানে ইরাকের মতো পরিস্থিতি কখনোই হবে না৷
১৪ জুন অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেয় আফগানিস্তানের জনগণ৷ ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের আগস্টে উত্তরসূরির হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন হামিদ কারজাই৷ এর মধ্য দিয়ে তাঁর ১৩ বছরের শাসনের অবসান হবে৷ ২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালানোর পর দেশটির ক্ষমতায় আসেন তিনি৷ পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট যিনি হবেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনা শুরু করতে তাঁকে ভীষণ বেগ পেতে হবে৷ এবার দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ ও বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ আশরাফ গনি৷ আফগান প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন৷ চিঠি চালাচালি এবং নিয়মিত বৈঠকও হচ্ছে তাঁদের সঙ্গে৷ তিনি বলেন, চূড়ান্ত শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর দেশে অব্যাহত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন৷

জঙ্গিদের দখলে বৃহত্তম তেল শোধনাগার

জঙ্গিরা ইরাকের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারে গতকাল বুধবার ভোরে হামলা চালিয়েছে৷ তারা মর্টার ও মেশিনগান নিয়ে দুই দিক থেকে আক্রমণ চালায়৷ রাজধানী বাগদাদ থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার উত্তরে সালাহউদ্দিন প্রদেশের বাইজি নামক স্থানে৷ খবর এএফপি ও রয়টার্সের৷ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নর্থ অয়েল কোম্পানির একজন জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক বলেন, ওই শোধনাগারের কয়েকটি ভবনে সুন্নিপন্থী আইএসআইএস জঙ্গিরা হামলা চালায়৷ এ সময় তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়৷ পরিশোধিত তেলভর্তি কয়েকটি ট্যাংকে তখন আগুন ধরে যায়৷ স্থানীয় কর্মীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান৷ শোধনাগারিটর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ ইতিমধ্যে সেটির ৭৫ শতাংশ জঙ্গিদের দখলে চলে গেছে৷ এদিকে জঙ্গিরা মসুলসহ কয়েকটি শহর ইতিমধ্যে দখল করে নিয়েছে৷ রাজধানী বাগদাদের দিকে অগ্রসর হতে থাকা বিদ্রোহীদের প্রতিহত করতে সরকারি বাহিনী একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে৷
পশ্চিমাঞ্চলীয় আনবার প্রদেশের রামাদি শহরেও লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে৷ ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি সুন্নি ও কুর্দি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধমে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান৷ এ ছাড়া তিনি শিয়া মুসলিম মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের ব্যাপারে প্রকাশ্যে অনুমোদন দিয়েছেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে৷ তিনি অভিযোগ করেন, সৌদি সরকার ইরাকের সুন্নি জঙ্গিদের মদদ দিচ্ছে৷ ইরাকের সরকারি বাহিনী উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর তাল আফার পুনর্দখলের দাবি করেছে৷ জঙ্গিরা সোমবার শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল৷ তাদের দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে সামরিক বাহিনীর চার কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী মালিকি৷ এদিকে বাগদাদের শিয়া-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিয়মিত বোমা হামলা হচ্ছে৷ বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কায় বিত্তশালীরা খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন দ্রব্য মজুত করতে শুরু করেছে৷
জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি: জঙ্গিদের উত্থান এবং বাগদাদের দিকে অগ্রসরের ঘটনায় ইরাকে ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে জাতিসংঘ৷ বাগদাদে নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত নিকোলায় ম্লাদেনভ ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন৷ ইরাক সংকটের প্রভাবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন৷ এদিকে ইরাকে কর্মরত মার্কিন দূতাবাসকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২৭৫ জন সেনা মোতায়েন করেছে৷ মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল জন কির্বি বলেন, ইরাকি সেনারা শিয়া স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় বাগদাদের আশপাশে সুন্নি জঙ্গিদের মোকাবিলা করছে৷ তারা রাজধানীর প্রতিরক্ষার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী৷
‘ইরাকে গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে’: ইরাক গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি রয়েছে বলে গতকাল হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি অারব৷ দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স সউদ আল-ফয়সাল জেদ্দা শহরে ইসলামি দেশগুলোর প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে বলেন, ইরাকে অস্থিতিশীলতার পরিণামে আঞ্চলিক অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে৷ দেশটির এই সংকটের জন্য নুরি আল-মালিকি সরকারের ‘জাতিগত বিভক্তি নীতিই’ দায়ী৷
ইরাকে শিয়া পবিত্র স্থানগুলো রক্ষা করবে ইরান: ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি গতকাল ইরাক সীমান্তবর্তী খোররামাবাদ শহরে এক বক্তব্যে বলেন, ইরাকে শিয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র স্থান ও উপাসনালয় রক্ষায় যা যা করতে হয়, সবই করবে ইরান৷ প্রিয় কারবালা, নাজাফ, কাধিমিয়া ও সামারার সুরক্ষায় ইরান প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে৷

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শিবিরে ‘ভীতিকর অবস্থা’

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে উদ্বাস্তু শিবিরগুলোর ‘ভীতিকর অবস্থা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের একজন শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক৷ দুই বছর আগে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় গৃহহীন হাজার হাজার রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন৷ খবর এএফপির৷ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ২০১২ সালে বৌদ্ধ-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সহিংসতায় প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ গৃহহীন হন৷ ওসব গৃহহীন মানুষ এখন রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে করুণ অবস্থায় বসবাস করছে৷ এদের বেশির ভাগই সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্য৷ ভয়াবহ ওই সহিংসতায় অন্তত ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল যাদের বেিশর ভাগই রোহিঙ্গা মুসলমান৷ অনেকে তখন প্রাণ ভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে৷ জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব কায়ুং-ওহা কাং বলেন, ‘রাখাইনের উদ্বাস্তু শিবিরগুলোতে আমি মানবিক দুর্ভোগের যে চিত্র দেখেছি, তা আগে কখনো দেখিনি৷ সেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুরা ভীতিকর পরিবেশে বাস করছে৷ তাদের চলাফেরায় প্রচণ্ড কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে৷ স্বাধীনভাবে তাদের চলাফেরার সুযোগ নেই৷ ওই শিবিরগুলোর মতো অবস্থা রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতেও৷
 জাতিসংঘের শীর্ষ পর্যায়ের এই কর্মকর্তা গত সপ্তাহে মিয়ানমার সফর করেন৷ মিয়ানমারে গতকাল বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি জানান, রাখাইন রাজ্যের উদ্বাস্তু শিবিরগুলোর বেশির ভাগ মানুষ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি ও স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন মৌলিক সুবিধা যা পাচ্ছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য৷ হাজার হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চালানো ফ্রান্সভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসকে (এমএসএফ) গত মার্চে রাখাইন থেকে বহিষ্কার করে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ৷ এ ছাড়া গত মাসে দেশটির বৌদ্ধ চরমপন্থীরা মুসলমানদের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন বিদেশি ত্রাণ সংস্থার কার্যালয়ে হামলা চালায়৷ এতে সংস্থাগুলো তাদের কর্মীদের প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়৷ পরিস্থিতি শান্ত হলেও মাত্র ৬০ শতাংশ সংস্থা সেখানে ফিরেছে বলে জাতিসংঘ জানায়৷ ত্রাণ সংস্থাগুলোর হামলাকারী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা কাং৷ তিনি বলেন, প্রচণ্ড কড়াকড়ির কারণে রাখাইনের হাজার হাজার লোক মাছ ধরা, চাষাবাদ করা বা গ্রাম্য বাজারগুলোতে যেতে পারে না৷

‘ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশ নদীতে ফেলতে বলি’ by বিল্লাল হোসেন রবিন

অবশেষে ৩২ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন র‌্যাব ১১-এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদ। জবানবন্দিতে ঘটনার দায় স্বীকার করলেও তিনি বলেছেন, নূর হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে আরিফ ও রানা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি যখন ঘটনা জানতে পারেন তখন তার আর কিছুই করার ছিল না। তারেক বলেন, সাত জনের খুনের পর তিনি ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশ নদীতে ফেলে দেয়ার নির্দেশ দেন।

গতকাল সকাল ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কেএম মহিউদ্দিনের খাসকামরায় সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা দু’টি মামলায় তারেক সাঈদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। জবানবন্দি শেষে বিচারক তারেক সাঈদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে একই আদালতে গত ৪ঠা জুন আরিফ হোসেন ও ৫ই জুন এমএম রানা হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
সকাল ৮টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন থেকে তারেক সাঈদকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনা হয়। পরে তাকে নেয়া হয় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কেএম মহিউদ্দিনের আদালতে। সেখানে তাকে প্রথমে জবানবন্দি দেয়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনার সুযোগ দেয়া হয়। সকাল ১১টা থেকে জবানবন্দি দেয়া শুরু করেন তারেক সাঈদ। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি বলেন, সাতজনকে অপহরণের বিষয়টি তিনি জানলেও সকলকে হত্যার বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি। অপহরণের পর তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে তেমনটাই তাকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু রাতের বেলায় সাতজনকে হত্যার পর বিষয়টি জানানো হয়। আর এ কাজটি করেন মেজর আরিফ ও নূর হোসেনসহ র‌্যাবের কিছু সদস্য। কিন্তু সাতজনকে মারার পর আমি অনেকটাই হতবিহ্বল হয়ে পড়ি। সাতজনকে হত্যার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য লাশ নদীতে ফেলে দেয়ার কথা বলি আরিফকে।
সাত খুনের ঘটনায় দু’টি মামলা হয়। প্রথমে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহযোগীকে হত্যার ঘটনায় নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির দায়ের করা হত্যা মামলায় প্রথমে জবানবন্দি দেন তারেক সাঈদ। পরে তারেক সাঈদ সেভেন মার্ডারের ঘটনায় নিহত এডভোকেট চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক হত্যার ঘটনায় চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় পালের দায়ের করা মামলায় জবানবন্দি দেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের খাসখামরায় তারেক সাঈদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। এতে সে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিকাল সাড়ে তিনটায় তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন বিচারক। সূত্র জানায়, তারেক পুরো ঘটনারই বর্ণনা দিয়েছেন তার জবানবন্দিতে। দুই কর্মকর্তা মেজর আরিফ ও কমান্ডার রানা জবানবন্দি দিলেও তারেক সময়ক্ষেপণ করছিলেন। ভারতের কলকাতায় ঘটনার মূল হোতা নূর হোসেন গ্রেপ্তারের পর অনেকটা নাটকীয়ভাবেই স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হন তারেক সাঈদ।
তারেক যা বলেন: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডারের ঘটনায় সাতজনকে অপহরণ করা হলেও র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ জানতো ৪ জনের কথা। কিন্তু সাতজনকে হত্যার পর বিষয়টি যখন তারেক সাঈদকে জানানো হয় তখন তিনি আঁতকে ওঠেন। কারণ মেজর (অব.) আরিফ হোসেন কোন সাক্ষী রাখতে চাননি। ফলে ৭ জনকেই হত্যা করা হয়। হত্যা ও লাশ গুমের স্থান বেছে নেয়া হয় নরসিংদী জেলাকে। কিন্তু নরসিংদীর র‌্যাব ক্যাম্প রাজি না হওয়ায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের চেক পোস্ট থাকায় তারেক সাঈদ একটি ট্রাক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। ওই ট্রাকে করে যাতে অপহৃতদের পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে নিয়ে আসা যায়। কিন্তু মেজর আরিফ হোসেন নিজেই সাতজনকে মাইক্রোবাসে করেই নারায়ণগঞ্জের দিকে রওনা দেন। পথিমধ্যে গাড়িতেই মুখম-ল পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে একে একে সাতজনতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর নূর হোসেনকে ফোন দিয়ে আরিফ হোসেন বলেন, কাঁচপুর ব্রিজের নিচে পশ্চিম পাড়ের পাথর-বালু ব্যবসা স্থল থেকে সব লোক সরিয়ে দিয়ে ফাঁকা করার জন্য। পরে নূর হোসেনের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর লাশ নিয়ে কাঁচপুর ব্রিজের নিচে যাওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২৭শে এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, সিরাজুল ইসলাম লিটন, তাজুল ইসলাম, স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। পরদিন ২৮শে এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় নাসিক কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে অপহৃত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম। ৩০শে এপ্রিল বিকালে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১লা মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে অপহরণের পর হত্যায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ স্পষ্ট হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৫ই মে লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেনকে সেনাবাহিনী থেকে এবং নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের সাবেক প্রধান লে. কমান্ডার এম. এম. রানাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ১৬ই মে রাতে ক্যান্টনমেন্ট থেকে লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও মেজর (অব.) আরিফ হোসেনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৭ই মে তাদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ২২শে মে তারেক সাঈদ ও আরিফ হোসেনকে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাসহ ৫ জনকে অপহরণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৩০শে মে তারেক সাঈদ ও আরিফকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত তাদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে ৪ঠা জুন আরিফ হোসেন ও এম.এম. রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ৫ই মে চন্দন সরকার হত্যা মামলায় তারেক সাঈদকে ৪র্থ দফায় ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ৯ই মে নজরুল ইসলামসহ ৫ জনকে অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৫ম দফায় তারেক সাঈদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে ১১ই মে চন্দন সরকার হত্যা মামলায় ৬ষ্ঠ দফায় তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
নূর হোসেনের তথ্য চেয়েছে ভারত
বিশেষ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে তার বিষয়ে আরও কিছু তথ্য চেয়েছে ভারত। এসব তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নূর হোসেন সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য চেয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি (নোট ভারবাল) পাওয়া গেছে। এতে নূর হোসেনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি রয়েছে। গত ১৪ই জুন নূর হোসেন গ্রেপ্তারের চার দিন পর তার সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে জানালো ভারত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার পর পরই কাজ শুরু করে দিয়েছে সরকার। নারায়ণগঞ্জের এসপি অফিস ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে নূর হোসেন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, নূর হোসেনকে নিয়ে চাহিত তথ্য সংগ্রহে কাজ চলছে। আশা করা যায়, দুয়েক দিনের মধ্যে তাদের চিঠি’র জবাব দেয়া যাবে। নূর হোসেনকে ফেরত আনতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। তাকে ফিরিয়ে আনতে কোন ধরনের বিলম্ব হচ্ছে না। এর আগে গত ২৭শে এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহৃত হওয়ার পর নূর হোসেনের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠলে তিনি তা অস্বীকার করেন। পালিয়ে যান ভারতে। নূর হোসেন সীমান্ত অতিক্রম করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সহায়তা চায় পুলিশ, সীমান্তেও জারি করা হয় সতর্কতা। এর মধ্যেই গত ১৪ই জুন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কলকাতার নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বাগুইহাটির একটি বাড়ি থেকে নূর হোসেনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ এবং অস্ত্র বহনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাসহ অভিযোগ দায়ের করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। গত ১৫ই জুন তাকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডেও নেয়া হয়। এমন অবস্থার মধ্যেই বাংলাদেশ-ভারত চিঠি চালাচালি হচ্ছে।

বেনগাজি হামলার নায়ক খাত্তালা আটক

বেনগাজি হামলার সন্দেহভাজন মূল নায়ক আকমেদ আবু খাত্তালাকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৫ জুন লিবিয়ায় এক গোপন অভিযান চালিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনী তাকে আটক করে বলে মঙ্গলবার পেন্টাগন জানিয়েছে। এ ঘটনায় মার্কিন সেনাবাহিনীর ভূমিকার ব্যাপক প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিবিসি।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার অন্যতম শহর বেহগাজির মার্কিন দূতাবাসে ওই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছিল। হামলায় লিবিয়ার মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস স্টিভেন্সসহ চার আমেরিকান নিহত হয়েছিলেন। এ হামলার ঘটনায় তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। মঙ্গলবার পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি রিয়ার এডমিরাল জন কিরবে এক লিখিত বিবৃতিতে জানান, কোনো রকম বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে এবং অভিযান শেষে সব মার্কিন সেনা নিরাপদে লিবিয়া ছেড়েছে। এই সেনা অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ না করে তিনি কেবল বলেন, রোববার বিকালে বেনগাজি শহরের কাছে ওই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আবু খাত্তালাকে বর্তমানে লিবিয়ার বাইরে এক নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নাম উল্লেখ করেননি। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমানে তাকে একটি মার্কিন জাহাজে আটক করে রাখা হয়েছে। এদিকে আহমেদ আবু খাত্তালাকে গ্রেফতার করার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মার্কিন সেনাবাহিনী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং গোয়েন্দা বাহিনীর ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, আমেরিকানরা যখনই কোনো হামলার মুখে পড়বে সেই হামলাকারীকে আমরা খুঁজে বের করবোই, যত সময়ই লাগুক না কেন।

‘দুই দিন পর আমাকে নাও দেখতে পারেন’ -ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি

নারায়ণগঞ্জের মতোই সারাদেশের অবস্থা উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি বলেছেন যতদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে গডফাদারদের লালন পালন করা হবে ততদিন দেশে এ পরিস্থিতি চলবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন আজকে আমাকে দেখছেন ২ দিন পর নাও দেখতে পারেন। বুধবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব গভর্নেন্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর উদ্যোগে নগর পরিস্থিতি: নারায়ণগঞ্জের নগর শাসন পুনর্ভাবনা শীর্ষক গবেষণার আলোকে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইভি বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী আমার পাশে ছিলেন, এখনও আছেন। তারা আছেন বলেই আমি এখনও বেঁচে আছি। তিনি বলেন কাঙ্খিত উন্নয়নের জন্য যে সাপোর্ট দরকার তা আমার নেই। দেশের অ™ভুত এই পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও আমি আমার শহরবাসীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এজন্য আমি কেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল না হয়ে যে লোকাল রিসোর্স আছে তাই দিয়ে যথাসম্ভব সেবা দিতে চাই। তিনি ফেনী, লক্ষীপুর ও যশোরের শার্শার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন আসুন পরিস্থিতি উত্তরণ করে নারায়ণগঞ্জকে মডেল হিসেবে ধরে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। নগরের উন্নয়ন না হওয়ার জন্য রাজউককে দায়ী করে বলেন আমাদের জবাবদিহিতা আছে কিন্তু তাদের নেই। নারায়ণগঞ্জের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তিনি লেজুড়বৃত্তির রাজনীতিকে দায়ী করেন। আইভি বলেন নারায়ণগঞ্জের কাঙ্খিত উন্নয়নে অবৈধ জমি দখল, কেন্দ্রীয় নীতিমালা না থাকা, রাজউকের অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং গডফাদারদের দৌরাত্ম্যই বাধা। তিনি বলেন গডফাদাররাই ঠিক করে দেন কে কাউন্সিলর হবে, এজন্য কাঙ্খিত মানের নেতৃত্ব পাওয়া যায় না। বিকালে ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত ওই গোলটেবিল বৈঠকে বিআইডিজির নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমানের সভাপতিত্বে গবেষণার উপর আলোকপাত করেন গবেষণা সমন্বয়কারী ড. ফেরদৌস জাহান, গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন বিআইডিজির গবেষণা সহযোগী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও কাজী নিয়াজ আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন প্রমুখ। ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতির পেছনে তীব্র রাজনৈতিক সংস্পর্শ, উন্নয়নের সঙ্গে বাসযোগ্যতা বিবেচনা না করা, জবাবদিহিতার পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, নগর কাউন্সিলরদের কাঙ্খিত মান না থাকা ও রাজনৈতিক অপরাধ প্রবণতা দায়ী। তিনি বলেন, অপরাধপ্রবণ রাজনৈতিক শাসনের জন্য আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজে আসে না। আর এই অপরাধপ্রবণ রাজনৈতিক শাসনের জন্য একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা দায়ী। তিনি বলেন এখন নাগরিক আন্দোলনের ওপর হুমকি আসছে। কেউ একজন বলছেন আমি নাগরিক আন্দোলনকে কঠিন করে দেব। কিন্তু আমরা কোন হুমকিতে ভয় পাই না।

কত আর বঞ্চিত হব?

১৯৭২ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন যথাক্রমে ১. আদমজী জুট মিলস লিমিটেড ২. হাফিজ জুট মিলস লিমিটেড ৩. স্টার জুট মিলস লিমিটেড এবং ৪. আমিন জুট মিলস লিমিটেডে আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে চাকরি করেছি। ৫৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় গত ১ মে ২০১০ আমিন জুট মিলস লিমিটেডের পত্র সূত্র নং-এজেএস/প্রশাসন/৬/২১/১৪০৪ মোতাবেক সরকারি বিধি অনুযায়ী ৩০ জুন ২০১০ তারিখে মিলের চাকরি থেকে আমি অবসর নিই৷ বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের প্রবিধান অনুযায়ী ১ অক্টোবর ২০১১ তারিখের আগেই উল্লিখিত সব মিল থেকে আমার ‘না দাবিপত্র’ আমিন জুট মিলস লিমিটেড, ষোলশহর, চট্টগ্রাম এসেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আমার কর্মজীবনের চূড়ান্ত পাওনাদি (গ্র্যাচুয়িটি বিল) পাওয়ার জন্য ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত বহুবার আমিন জুট মিলস লিমিটেডের প্রকল্প প্রধানের কাছে আবেদন করেছি৷ অতীব দুঃখের বিষয়, মিল কর্তৃপক্ষ আমার পাওনাদি এখন পর্যন্ত পরিশোধ করেনি। উল্লেখ্য, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মিল কর্তৃপক্ষ আমার গ্র্যাচুয়িটি বিলের টাকাগুলো যথাসময়ে পরিশোধ করলে ওই টাকা সেই মুহূর্তে যেকোনো ব্যাংকে জমা রাখলে প্রতি মাসের ওই টাকার লভ্যাংশে আমার পরিবারের জীবন-জীবিকা সুন্দরভাবে চলত। সুদীর্ঘ ৩৮ বছর পাটকলে আমার চাকরি করা কি অভিশাপ?
আমিন জুট মিলস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত পত্র সূত্র নং এজেএস/৬/২১/১১৭২ মোতাবেক ৯ অক্টোবর আমার চূড়ান্ত পাওনাদি পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের চেয়ারম্যানের কাছে গত ২৮ জানুয়ারি ২০১৩ এবং ফেব্রুয়ারি ২০১৪ আবেদন করি। দুঃখজনক হলেও সত্য, অদ্যাবধি আমার গ্র্যাচুয়িটি বিলের টাকা পাইনি। এমনকি ওই টাকা পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, অর্থাভাবে আমি ও আমার পরিবার অর্ধাহারে-অনাহারে দিন যাপন করছি, আমার স্ত্রী ডায়াবেটিক রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং আমার এক ছেলের লেখাপড়া বন্ধ৷ এ অবস্থায় আমার ৩৮ বছর কর্মজীবনের চূড়ান্ত পাওনাদি পাওয়ার আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শিল্পমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আবেদন করছি।
কাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
বায়েজিদ বোস্তামী, চট্টগ্রাম।

জাতীয় বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে

বাংলাদেশের নয় কোটির বেশি পূর্ণবয়স্ক নাগরিকের পরিচয়সহ প্রাথমিক তথ্যাবলিসংবলিত জাতীয় তথ্যভান্ডারের মালিকানা কার্যত বেহাত হয়ে আছে। কিন্তু এটা নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দৃশ্যত মাথাব্যথা নেই। এটা যে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয়—এ উপলব্ধিই সম্ভবত তাদের নেই। নইলে এটা কী করে সম্ভব হতে পারে যে ভোটার তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তা চাবি বা পার্সওয়ার্ড খোদ নির্বাচন কমিশনের হাতে নেই? আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমস ফর অ্যানহ্যান্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস (আইডিয়া) নামে এক প্রকল্পে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আর ‘টাইগার আইটি’ নামের একটি বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করছে জাতীয় ভোটার তথ্যভান্ডার! প্রকল্পের কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশনের স্থায়ী কর্মকর্তা নন, আর টাইগার আইটি তো নিতান্তই এক বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এটা কীভাবে হতে পারে যে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন অনুবিভাগ এদের হাতে জাতীয় ভোটার তথ্যভান্ডারের পাসওয়ার্ড দিয়ে রেখেছে বছরের পর বছর ধরে? আর এটাই বা কীভাবে হতে পারে যে অন্যদের পাসওয়ার্ড দিয়ে নির্বাচন কমিশন নিজের কাছে পাসওয়ার্ড রাখার প্রয়োজন বোধ করবে না? ২০১০ সালের এক চুক্তির ভিত্তিতে ভোটার তথ্যভান্ডারের কিছু কারিগরি অবকাঠামোগত কাজের প্রয়োজনে টাইগার আইটি নামের প্রতিষ্ঠানটিকে ভোটার তথ্যভান্ডারের পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তাদের ২০১২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ভোটার তথ্যভান্ডার নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করার কথা; কিন্তু দুই বছর পেরোতে চলল, এখনো তারা তা হস্তান্তর করেনি। আইডিয়া প্রকল্পের অনেক কর্মকর্তার সঙ্গে টাইগার আইটি প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্ক আছে বলে খবরে প্রকাশ।
অর্থাৎ এই দুই পক্ষ মিলে ভোটার তথ্যভান্ডারের পাসওয়ার্ড কুক্ষিগত করে রেখেছে, নির্বাচন কমিশন যা উদ্ধারের তাগিদ বোধ করেনি। এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটা ব্যাপার। এ দেশের জাতীয় ভোটার তথ্যভান্ডার শুধু বেহাত নয়, সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়ে গেছে। পুরো তথ্যভান্ডারটি চুরি হয়ে যেতে পারে; ওই পাসওয়ার্ডই তৃতীয় কোনো পক্ষের হাতে চলে যেতে পারে, তখন পুরো তথ্যভান্ডারটি সম্পূর্ণভাবে মুছেও দিতে পারে কেউ। তেমনটি ঘটলে নতুন করে তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার বিপুল ব্যয় ও সময়সাপেক্ষ কাজ চাপবে জাতির মাথায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সরকারের আরও অনেক প্রতিষ্ঠান এটা কাজে লাগাতে পারে। সর্বোপরি এ রকম জাতীয় তথ্যভান্ডার পৃথিবীর সব দেশে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয় অতি উচ্চ মানের কারিগরি প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সাহায্যে। আমাদের দেশে এ ব্যাপারে এমন অবহেলা অত্যন্ত বিপর্যয়কর হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের উচিত আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে প্রকল্পের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জাতীয় ভোটার তথ্যভান্ডারের পাসওয়ার্ড নিয়ে তা পরিবর্তন করা এবং শুধু নিজেদের কাছেই তা সংরক্ষণ করা।