Thursday, September 10, 2015

নেপথ্যে পরকীয়া by রুদ্র মিজান

পরকীয়া প্রেমকে কেন্দ্র করে শুধু সংসারই ভাঙছে না। কখনও কখনও ঘটছে খুন-খারাবির ঘটনাও। সম্প্রতি সংঘটিত হত্যাকা-গুলোর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পরকীয়া। সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, নিজস্ব সমাজ-সংস্কৃতিকে লালন করে এরমধ্য থেকেই এগিয়ে যেতে হবে। যে কোন নারী বা পুরুষের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হতে পারে। নিজ স্বামী বা স্ত্রী থাকার পর এ ধরণের ভালোবাসায় না জড়ানোই উত্তম বলে জানান তারা। এজন্য ভিনদেশী অপসংস্কৃতি অনুসরণ, নৈতিক স্খলন ও মাদকাসক্ততা থেকে দূরে থাকার আহবান জানিয়েছেন তারা। সেইসঙ্গে কোনভাবেই স্বামী-স্ত্রী সংসার করতে না চাইলে সামাজিকভাবে চাপ দিয়ে সংসার করানোও উচিত না বলে মন্তব্য করেন সমাজবিজ্ঞানীরা। এক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে বলে মনে করেন তারা।
গত ২৬শে জুন রাতে কর্মস্থল বসুন্ধরা সিটি থেকে রিকশায় বাসায় ফেরার পথে সার্কুলার রোডে হত্যা করা হয় ওবায়দুলকে। কোয়ালিটি আইসক্রিমের সাব জিরো ব্র্যান্ডের ব্যবস্থাপক ওবায়দুল হকের বাড়ি চট্টামে। তিনি প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ভাগ্নে। এই হত্যাকা-ের নেপথ্যে ছিলো তার স্ত্রীর পরকীয়া। কিলিং মিশনে অংশ গ্রহণকারী মাহমুদুল হাসান মিঠু ও তানভীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ওবায়দুল হত্যার নেপথ্যের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্ত ও সিসিটিভির ফুটেজ ধরে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা ডিবির কাছে স্বীকার করেছে, ওবায়দুলের স্ত্রী তাসমিন খাদিজা সোনিয়ার সঙ্গে প্রেম রয়েছে তাদের মামা সাইফুল্লাহ রুবেলের। তারা দুজনেই ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তাদের মধ্যে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওবায়দুলের সঙ্গে বিয়ের পরও রুবেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক চলছিলো। সুযোগ পেলেই রুবেল-সোনিয়ার দেখা সাক্ষাত হতো। একসময় দুজনেই ঘর ভেঙে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেন। এজন্য ওবায়দুলকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন এই জুটি। স্বামীকে হত্যার জন্য প্রেমিক রুবেলের হাতে নগদ ৬০ হাজার টাকা তোলে দেন সোনিয়া। এরপরেই ভাগ্নেদের দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকান্ড ঘটায় রুবেল।
১৯শে জুন কদমতলীর নিজ বাসায় বটি দিয়ে কুপিয়ে স্বামী আবু জাফরকে হত্যা করেন স্ত্রী নূরজাহান। এই হত্যাকা-ের পেছনেও ছিলো পরকীয়া। এ বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে নূরজাহান। হত্যাকা-ের কারণ অনুসন্ধান করে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৭ বছর সিঙ্গাপুরে ছিলেন আবু জাফর। ওই সময়ে একই বাড়িতে ভাড়াটে ছিলেন রতন নামক যুবক। একই জেলার বাসিন্দা রতন। তার বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জের ইসলামপুরে হওয়ায় রতনের সঙ্গে সহজেই সখ্যতা গড়ে ওঠে নূরজাহানের। দেশে আসার পর বিষয়টি জেনে যান আবু জাফর। এরপর প্রায় প্রতিদিনই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। এমনকি নূরজাহান নিজে স্বামী আবু জাফরের গায়ে হাত তোলেন বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন। এ অবস্থায় একসময় আবু জাফরও অন্য নারীর প্রেমে জড়িয়ে যান। ওই সময়ে রায়েরবাগের মিরাজনগরের প্রবাসী আবদুল লতিফের স্ত্রী হালিমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। বিষয়টি জানাজানি হলে লতিফের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে তিন সন্তানের জননী হালিমার। এ নিয়ে নূরজাহানের সঙ্গে প্রতিদিনই কলহ হতো আবু জাফরের। এসব ঘটনার জের ধরেই নিজ হাতে তাকে হত্যা করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। আবু জাফরের পরকীয়া এবং ওই প্রেমিকাকে বিয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি বিভক্তি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই এই হত্যাকা- ঘটানো হয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান। রাজধানীর কদমতলীর মেরাজনগরের বি ব্লকের ১৩৬২ নম্বর বাড়িটি আবু জাফরের।
একইভাবে নিজ স্ত্রীর হাতে খুন না হলেও স্ত্রীর প্রেমিকের হাতে জীবন দিতে হয়েছে মিরপুরের গিয়াস উদ্দিন মাতব্বররকে। দুই সন্তানের জননী লাভলী আক্তার লীনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠেছিলো একাদশ শ্রেণীর ছাত্র তানভীর আহমেদের। কাজীর কাছে নিজ বিয়ের কথা গোপন রেখে তানভীরকে বিয়েও করে লীনা। গত বছরের ১৯শে অক্টোবর রাতে মিরপুর ১০-এর সি ব্লকে গিয়াসকে হত্যা করে তার স্ত্রী লীনার প্রেমিক  ও বন্ধুরা। রাত সাড়ে ১০টার পর গিয়াস বাসায় ঢুকতেই তাকে স্টাম্প দিয়ে আঘাত করে তানভীর। এরপর এলোপাতাড়ি তাকে আঘাত করে তানভীর ও তার দুই বন্ধু। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করলে গিয়াস মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর বিএন কলেজের ছাত্র তানভীর জানিয়েছিলো, লিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক জানার পর লীনাকে মারধর করতেন গিয়াস। এতে গিয়াসের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে লীনা। তাকে লীনা প্রায়ই বলতো, তাদের ভালবাসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে গিয়াস। তাকে ডিভোর্স দিলেও সে শান্তিতে থাকতে দেবে না তাদের। এ জন্য গিয়াসকে মেরে ফেলতে হবে। শেষ পর্যন্ত নিজ স্ত্রীর নির্দেশেই হত্যা করা হয় গিয়াস উদ্দিন মাতব্বরকে।
এসব বিষয়ে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের ক্রিমোনলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জিয়া রহমান বলেন, এটি সামাজিক একটা অবক্ষয়। এজন্য প্রয়োজন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গভীর ভালোবাসা। সেইসঙ্গে সচেতনতা, নৈতিকতার চর্চা, মানবিক মূল্যবোধ, পারিবারিক দৃঢ় বন্ধন প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের সমাজ একটা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতির দিকে যাচ্ছে। সমাজ যতো আধুনিক হবে মানুষের মধ্যে ততো দ্বন্দ্ব বাড়বে। আধুনিক বিশ্বের সব ধরণের উপাদান প্রভাব বিস্তার করছে সমাজে। পরকীয়ার ক্ষেত্রে কিছু টিভি সিরিয়াল নৈতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। এজন্য সচেতনতার সঙ্গে অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থাকতে হবে। যা কিছু ভালো তাই গ্রহণ করতে হবে বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে স্থবির ঢাকা: ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ

রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থেকে চরম অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয় নগরবাসীকে। বহু মানুষকে ভরদুপুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয় পায়ে হেঁটে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধানমণ্ডির ২৭ নম্বর রোডে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বিক্ষোভে নামেন। বিক্ষোভে আসাদগেট থেকে শুক্রাবাদ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে, বেলা ১১টায় উত্তরার নর্থ টাওয়ারের সামনে উত্তরা ইউনিভার্সিটি ও শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ আর্টসের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। এতে করে এয়ারপোর্ট-টঙ্গী রোডে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রামপুরা সেতুর ওপর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির (ইডব্লিউইউ) মূল ফটকের সামনে কয়েকশ শিক্ষার্থী অবস্থান নিলে এই রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বসন্ধুরা আবাসিক এলাকা সামনে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়ায় কুড়িল বিশ্বরোডে গণপরিবহন চলাচল ব্যাহত হয়। বেলা সোয়া ১০টার দিকে মহাখালী-গুলশান-১ রোডে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। বিমানবন্দর সড়কের খিলক্ষেত, কুড়িল বিশ্বরোড, এমইএস ও কাকলীতে শত শত মানুষকে গাড়ির প্রতীক্ষায় থাকতে দেখা যায়। অনেকে হেঁটেই গন্তব্যে রওয়ানা দেন। এই ভোগান্তির কারণে সামাজিক  যোগাযোগের মাধ্যমে অনেকে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।
ভ্যাট বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে
ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই কর্মসূচি পালিত হয়েছে চট্টগ্রাম এবং সিলেটেও। রাজধানীর অন্তত চারটি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। আগের দিন রামপুরায় পুলিশি হামলার শিকার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে মেরুল বাড্ডার প্রগতি সরণীর দুই পাশ আটকে দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা সেখানে অবস্থান করে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছেন। ওই কর্মসূচিতে আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যোগ দিয়েছেন। এদিকে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুলশান ১ নম্বর সার্কেল থেকে মহাখালীগামী রাস্তা আটকে দেয়। ধানমন্ডি এলাকায় রাস্তা অবরোধ করায় গুরুত্বপূর্ন ওই সড়কে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। রামপুরায় সড়ক বন্ধ থাকায় ওই এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। প্রধান দুই সড়কের যানের চাপ অন্য রাস্তায় পড়ায় যানজট দেখা দিয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন অংশে।

খালেদা জিয়ার মামলা : পরবর্তী শুনানি ১৭ সেপ্টেম্বর

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুই মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর। বৃহস্পতিবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার জব্দ তালিকার তিন সাক্ষীকে আসামিপক্ষের জেরা ও নতুন একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর পরবর্তী এ দিন ধার্য করেছেন আদালত। আদালতে হাজির ছিলেন মামলা দু’টির প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলা দু’টির বিচারিক কার্যক্রম চলছে রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালতে।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার জব্দ তালিকার তিন সাক্ষীকে জেরা ও একজন নতুন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয় বৃহস্পতিবার। গত ৩ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য দেয়া ওই তিন সাক্ষী হচ্ছেন- পূবালী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এইচ এম ইসমাইল, জনতা ব্যাংকের সাত মসজিদ শাখার জিএম শেখ মকবুল ও ফাহমিদা রহমান। তাদেরকে খালেদা জিয়ার পক্ষে আব্দুর রেজ্জাক খান ও অন্য আসামিদের পক্ষে আমিনুল ইসলাম জেরা শেষ করেন। পরে জব্দ তালিকার সাক্ষী সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম ড. মো. হাফিজুর রহমান সাক্ষ্য দেন। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে আসামিপক্ষের জেরা ও পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি আরো জানান, মামলাটির জব্দ তালিকার অন্য ছয়জন সাক্ষীও সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির ছিলেন। তারা হচ্ছেন- সোনালী ব্যাংকের এজিএম মো. আমিরউদ্দিন ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার পরিতোষ চন্দ্র দে, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নওশাদ মোহাম্মদ, কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার অলোক কান্তি চক্রবর্তী ও রিলেশনশিপ ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম এবং সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম আব্দুল গফুর। আগামী ধার্য তারিখে আগের সাক্ষীদের জেরা শেষ হলে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে। সকাল দশটা ৩৫ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা এগারটার পরে আদালতে হাজির হন খালেদা জিয়া। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় এ পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন আটজন সাক্ষী। বাকি চারজন হচ্ছেন মামলার বাদি দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদ, মামলার রেকর্ডিং অফিসার মাহফুজুল হক ভূঁইয়া এবং জব্দ তালিকার পাঁচ সাক্ষী সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ইনসান উদ্দিন আহমেদ, ক্যাশ অফিসার শাহজাহান খান। তাদেরকে আসামিপক্ষের জেরা শেষ হয়েছে।
অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ বিধিসম্মত বলে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে এ মামলার জেরা-সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাতে সময়ের আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এ আবেদন নথিভূক্ত রেখেছেন আদালত। মামলাটিতে এ পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন বাদি ও প্রথম সাক্ষী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদ। তাকে আসামিপক্ষের জেরা বাকি রয়েছে।
সূত্র : এ১ নিউজ।

ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আজও বিক্ষোভ, বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ: ভ্যাট প্রত্যাহার করা হবে না -অর্থমন্ত্রী

আফতাব নগর এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি’র উপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীর ধানমন্ডি, আফতাব নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
‘ভ্যাট দেবো না গুলি কর’ এই স্লোগ‍ানে রাজধানীর আফতাব নগরে ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের সামনের সড়কে বিক্ষোভ করছেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। কিন্তু তাদের কর্মসূচি সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা ছিলো।
কাকন বিশ্বাস নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ভ্যাট প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত ভ্যাট প্রত্যাহার না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়বো না।
বিক্ষোভ করার সময় শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন রকমের লেখা প্লেকার্ড-ফেস্টুন দেখা যায়। এতে লেখা রয়েছে, ‘ভ্যাট দেবো না গুলি কর’।
বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এ দিকে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি’র উপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকাতেও বিক্ষোভ করছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ ও মিরপুর রোডের বিভিন্ন পয়েন্টে রাস্তায় ব্যারিকেট দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন।
এ ঘটনায় ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ধানমন্ডি থানার ওসি নূরে আজম ও ইন্সপেক্টর তদন্ত হেলাল উদ্দিন উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।
ধানমন্ডি এলাকায় বিক্ষোভ
ওসি নূরে আজম জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। তরা ধানমন্ডি ১৫ নম্বর এলাকা থেকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকার মূল সড়কে অবস্থান নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।
এ দিকে, বেলা ১২টায় মহাখালীতে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের সামনে পুলিশি বেস্টনির মধ্যে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, কাকলিতে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে বনানী-কাকলি এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসব ঘটনায় ওই সকল এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
শিক্ষকদের নিয়ে বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ, ভ্যাট প্রত্যাহার করা হবে না : অর্থমন্ত্রী
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিউশন ফির ওপর আরোপিত সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়ে দিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ ছাড়া শিক্ষকদের নিয়ে মন্তব্যের জন্য অর্থমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ। তবে তিনি বলেন, বক্তব্য না বুঝেই শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় সিলেট সার্কিট হাউসে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
টিউশন ফির ওপর আরোপিত সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আজ সকাল থেকে রাজধানীর ধানমণ্ডি সাতমসজিদ রোড, কারওয়ান বাজার, উত্তরা, রামপুরাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সারা দেশে মোট ১৬৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠান এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছে।

‘বাংলাদেশের মানুষ বার্ধক্য মোকাবেলায় প্রস্তুত নয়’

বাংলাদেশে প্রবীণ হিতৈষী সংঘ বলছে দেশে ষাটোর্ধ প্রবীণদের সংখ্যা রয়েছে এক কোটি ত্রিশ লাখ। ২০৫০ সাল নাগাদ এদের সংখ্যা তিন গুন ছাড়িয়ে যাবে কিন্তু বার্ধক্য মোকাবেলায় এদেশের সাধারণ মানুষজন এখনো প্রস্তুত নয় বলছে। প্রবীণ হিতৈষী সংঘের মহাসচিব এ এস এম আতিকুর রহমান বলছেন, “ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশে প্রবীণদের এক ধরনের সম্মান থাকলেও এটি দয়াদাক্ষিণ্য দেখানোর মতো কিন্তু এই সম্মান অধিকার ভিত্তিক নয়” মি রহমান বলছেন, পরিবারের বাইরে বাংলাদেশে তাদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে তেমন কোনও সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই। তার মতে সারা বিশ্বব্যাপী বার্ধক্য নিয়ে কেউ কাজ করতে চায়না। ব্যক্তি নিজেও তার বার্ধক্যকে দেখাতে চায়না বা গ্রহণ করে না। সেটি মোকাবেলার জন্যে বেশিরভাগ মানুষ প্রস্তুতও নয়। বিশ্বে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর বসবাস উপযোগী দেশের একটি সূচক তৈরি করেছে হেলপএজ ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা যাতে শীর্ষস্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। ছিয়ানব্বইটি দেশের এই তালিকার সবচাইতে নিচে রয়েছে আফগানিস্তান। ভারতের অবস্থান ৭১ আর বাংলাদেশের অবস্থান ৬৭। সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে প্রবীণদের সঙ্গে আচরণবিধির ব্যাপারে আরো চিন্তাভাবনা করার জন্য রাজনীতিবিদদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে।
সুত্রঃ বিবসি

ঢাবি ১ম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা: প্রতি আসনের বিপরীতে ৩৮ জনের লড়াই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণীতে ভর্তির জন্য এবার আসনপ্রতি লড়বে ৩৮জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। এবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি ইউনিটের ৬ হাজার ৬৮৫টি আসনের বিপরীতে মোট ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৪ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেছেন। আজ বৃহষ্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনপত্র গ্রহণ প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। পরে প্রশাসনিক ভবনস্থ কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ক-ইউনিটের ১ হাজার ৬৬০টি আসনের বিপরীতে ৭২ হাজার ১৬১ জন (আসন প্রতি প্রায় ৪৪ জন), খ-ইউনিটের ২ হাজার ২৮০টি আসনের বিপরীতে ৩১ হাজার ৪২১ জন (আসন প্রতি প্রায় ১৪ জন) আবেদন করেছেন।
গ-ইউনিটের ১ হাজার ১৭০টি আসনের বিপরীতে ৪৩ হাজার ৮৫৭ জন (আসন প্রতি প্রায় ৩৮ জন), ঘ-ইউনিটের ১ হাজার ৪৪০টি আসনের বিপরীতে ৯৪ হাজার ৭৯৮ জন (আসন প্রতি প্রায় ৬৬ জন) এবং চ-ইউনিটের ১৩৫টি আসনের বিপরীতে ১২ হাজার ১৬৭ জন (আসন প্রতি ৯০ জন) আবেদন করেছেন।
অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার লক্ষ্যে পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা টেলিযোগাযোগ করা যায় এরূপ ইলেকট্রনিক ডিভাইস অথবা যন্ত্র সর্ম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। পরীক্ষায় অসুদপায় অবলম্বন ঠেকাতে এবার ভ্রাম্যমান আদালত পরীক্ষার সময় দায়িত্ব পালন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভর্তি পরীক্ষার ফি জমা দেয়ার সময়সীমা আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা থেকে পরীক্ষার দিন সকাল ৯টা পর্যন্ত। গত ২৪ আগস্ট থেকে অনলাইনে ভর্তির আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (http://admission.eis.du.ac.bd) জানা যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো আব্দুল আজিজ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, খ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৯ অক্টোবর শুক্রবার, চ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান) ১০ অক্টোবর শনিবার, গ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর শুক্রবার, চ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (অঙ্কন) ১৭ অক্টোবর শনিবার, ক-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ৩০ অক্টোবর শুক্রবার এবং ঘ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ৬ নভেম্বর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দাবি: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্থমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেয়ায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্থমন্ত্রীকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। অন্যথায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ফেডারেশনের এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়।
এ দিকে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের দুই শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সম্পর্কে দেয়া অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানান।
ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল ঘোষণা এবং ঘোষিত অষ্টম জাতীয় বেতনকাঠামো পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান। তারা বলেন, সপ্তম বেতনকাঠামোতে সচিবদের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন গ্রেড অধ্যাপকদের অবস্থান ছিল সর্বোচ্চ গ্রেড-১-এ। শুধু মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিব গ্রেড-১-এ থাকলেও একটি অতিরিক্ত ভাতা পেতেন।
তারা আরো বলেন, সদ্য ঘোষিত অষ্টম বেতন স্কেলে গ্রেড-১-এর ওপরে আরো দু’টি বিশেষ ধাপ থাকায় এবং সিলেকশন গ্রেড বাতিল করায় অধ্যাপকেরা আর কোনো দিনই গ্রেড-১ প্রাপ্ত হবেন না। প্রকারান্তরে শিক্ষকদের চার ধাপ অবনমন করা হয়েছে। ঘোষিত বেতনকাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের চার দফা দাবির কোনোটিই গ্রহণ করা হয়নি, এমনকি দাবি পূরণের বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনাও দেয়া হয়নি।
শিক্ষক নেতৃদ্বয় বলেন, অর্থমন্ত্রী মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে শিক্ষকদের বিষয়ে বলেছেন, শিক্ষকদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে। এ ছাড়া তিনি শিক্ষকদের সম্পর্কে আরো কিছু বিরূপ মন্তব্য করেছেন, যা শুধু অনভিপ্রেতই নয় অসংলগ্নও বটে। অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে অন্যান্যের ক্ষেত্রেও অযাচিত, বিরূপ ও হাস্যকর মন্তব্য করে বর্তমান সরকারের ইমেজ ক্ষুণœ করেছেন। অতীতে তিনি স্বৈরাচার সরকারের মন্ত্রী ছিলেন এবং এখনো তার স্বৈরাচারী মনোভাবের পরিবর্তন হয়নি বিধায় তিনি এ রকম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছেন।
তারা বলেন, শিক্ষকদের সম্পর্কে তার এহেন মন্তব্য বাংলাদেশের শিক্ষা পরিবারের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি সদস্যের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। এই অবস্থায় তারা অর্থমন্ত্রীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান। অন্যথায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
নেতৃদ্বয় প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনভাতা ও মর্যাদাগত বৈষম্যের বিষয়টি নিরসনে প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং তাদের সাথে আলোচনা-পর্যালোচনা করে অনতিবিলম্বে ঈপ্সিত সব দাবিদাওয়া পূরণ করবে। অন্যথায় শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণে লাগাতার কর্মবিরতিসহ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলে জানিয়ে দেন।
অন্য দিকে দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষকেরা মন্ত্রীর বক্তব্যের পর দাবি আদায় হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ফেডারেশনের মহাসচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল সেখানে এক সাক্ষাৎকারে নয়া দিগন্তকে বলেন, অর্থমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, তার কাছ থেকে এ ধরনের অসংলগ্ন বক্তব্য প্রত্যাশা করিনি। তিনি বলেন, আমরা আশা করি অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্য তুলে নেবেন।
দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে এ জাতীয় বক্তব্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, তিনি যদি থাকেন আমাদের ভয় দাবি আদায় না-ও হতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন সভায় বসে তাদের পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে বলেও এ সময় তিনি জানান। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়ে অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।
মাস্টার্সের ছাত্র অর্ণব ঘোষ নয়া দিগন্তকে বলেন, শিক্ষকেরা জাতি গঠনের কারিগর। অর্থমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য অনাকাক্সিক্ষত। এখনই তিনি যদি সংযত না হন তাহলে সরকার এবং তার নিজের জন্যও বিষয়টি বিব্রতকর হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিকদের পূর্বঘোষিত চার দফা দাবি হলো : অবিলম্বে স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন এবং এ জন্য বেতন কমিশন গঠন, সব বৈষম্য দূরীকরণপূর্বক সিলেকশন গ্রেড অধ্যাপকদের বেতনভাতা সিনিয়র সচিবের সমতুল্য করা এবং অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকদের বেতনকাঠামো ক্রমানুসারে নির্ধারণ করা, রাষ্ট্রীয় ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে পদমর্যাদাগত অবস্থান নিশ্চিত করা এবং প্রযোজ্য েেত্র সরকারি কর্মকর্তাদের অনুরূপ গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধা শিকদের েেত্রও নিশ্চিত করা।
অর্থমন্ত্রীর স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আহ্বান ঢাবি শিক্ষক সমিতির
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। গতকাল রাতে শিক্ষক সমিতির কার্যকর পরিষদের এক জরুরি সভা শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জ্ঞানের অভাব ও পদোন্নতির কোনো নীতিমালা নেই’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের এ রকম অবিবেচনাপ্রসূত ও অসংলগ্ন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
আরো জানানো হয়, মন্ত্রী হিসেবে নেয়া শপথে তিনি বলেছিলেন, ‘অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে কারো প্রতি কোনো আচরণ করবেন না।’ অথচ তার বর্ণনা ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে এ ধরনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মন্ত্রী হিসেবে নেয়া তার শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে শিক্ষকেরা মনে করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মন্ত্রী হিসেবে থাকার সব নৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার হারিয়েছেন। তাই শিক্ষকেরা তাকে অবিলম্বে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাবি সংবাদদাতা জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা কর্মবিরতির পালন করেছেন। গত মঙ্গলবার রাতে জাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাহী কমিটির এক সভায় সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকেরা দুই সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করেছেন।
জাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতির ফলে কোনো বিভাগেই কাস বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
অনেক শিক্ষার্থীই সকালে কাস করতে এসে ফিরে যান।
জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন সকাল সাড়ে ৮টায় নতুন কলা ভবনে কাস করতে এস জানতে পারেন ‘কোনো কাস হবে না’। তিনি বলেন, ‘আজ চারটি কাস হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু একটিও হবে না।’
‘বছর শেষ হতে যাচ্ছে; কিন্তু আমাদের মাত্র ৪০ শতাংশ কাস হয়েছে। এখন এভাবে কাস না হলে নিশ্চত সেশনজটে পড়ব’Ñ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
জানা যায়, এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ বিভাগে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কাস হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের গ্রেড-৩-এ রাখা হয়েছে। অন্য দিকে, সচিবদের রাখা হয়েছে গেড-১-এ। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকেরা আন্দোলনে নামেন।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে রাবি শিক্ষকদের মানববন্ধন
রাবি সংবাদদাতা জানান, মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। গতকাল বেলা ১১টায় সিনেট ভবনের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মহা: রেজাউল করিমের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বেতন কাঠামোর বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাকদের জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এই ন্যায্য আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন, তা রীতিমতো শিষ্টাচারবহির্ভূত।
এ সময় মানববন্ধনে রাবির সাবেক প্রভিসি প্রফেসর নুরুল্লাহ, ইবির সাবেক ভিসি রফিকুল ইসলাম, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা, সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান মজুমদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রণব কুমার পান্ডে, প্রফেসর ড. এনামুল হক, প্রফেসর শাতিল সিরাজসহ দুই শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ এবং র‌্যালি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। প্রশাসনিক ভবনের সামনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মো: আবুল মনছুরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ড. কাজী এস এম খসরুল আলম কুদ্দুসীর সঞ্চালনায় ওই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. অরুণ কুমার দেব, প্রফেসর ড. জিনবোধি ভিু, প্রফেসর বেনু কুমার দে, প্রফেসর ড. সেলিনা আকতার, প্রফেসর ড. ইকবাল শাহীন খান, প্রফেসর মো: জাকির হোসেন, এ কে এম তফজল হক, এ বি এম আবু নোমান, সুকান্ত ভট্টাচার্য প্রমুখ।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে কাস-পরীক্ষা বর্জন করে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান সাক্ষরিত বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
এ সময় তারা কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিবাদ জানাবেন।
বলা হয়, ‘অর্থমন্ত্রীকে অবিলম্বে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষকেরা। অন্যথায় তাকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে বহিষ্কার করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শিক্ষক সমিতি অনির্দিষ্টকালের জন্য কাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছে। শিক্ষক সমিতির এক জরুরি সাধারণ সভায় ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ দিকে গত মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে নিন্দা প্রকাশ করেছে বাকৃবি শিক্ষক সমিতি।
জানা যায়, মন্ত্রিপরিষদে জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদিত হলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চার দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের হঠকারী বক্তব্যের আলোকে দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যায়ের ভেটেরিনারি অনুষদের মাইক্রোবায়োলজি গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সাধারণ সভার আয়োজন করে বাকৃবি শিক্ষক সমিতি। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দকার শরীফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ ইকবালের সঞ্চালনায় ওই সভায় গতকাল বেলা দেড়টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের কাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জরুরি ওই সভায় ১৩২ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দকার শরীফুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমাদের দাবি না মানায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরে কোনো ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত কাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।’
টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কালো পতাকা উত্তোলন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ব্যানারে এই মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইএসআরএম বিভাগের প্রফেসর ও ডিন ও প্রক্টর ড. সিরাজুল ইসলাম প্রশাসনিক ভবনের সামনে কালো পতাকা উত্তোলন করেন। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স অনুষদের ডিন ও প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম, সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মতিউর রহমান, গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. পিনাকী দে, অপরাধতত্ত্ব ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নুরজাহান খাতুন, সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাদিফুর রহমান, বিজিই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আশরাফ হোসাইন তালুকদার ও প্রভাষক আলী নেওয়াজ বাহার প্রমুখ।
পাবনা সংবাদদাতা জানান, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা মৌন মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকেরা। বেলা ১১টায় কাসবর্জন করে কালো ব্যাজ ধারণ করে মৌন মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করা হয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নেন শিক্ষকেরা। এ সময় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আওয়াল কবির জয়, ছাত্র উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ প্রমুখ।

‘ঘরের শক্রু বিভীষণ’ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো অপশক্তি পরাশক্তি না, ঘরের শক্রু বিভীষণ অপশক্তি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। দেশের বাইরের না, দেশের অভ্যন্তরেরই কিছু অপশক্তি কারো কারো ব্যক্তি সাথে আঘাত লাগায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তারা অপপ্রচার চালায়। এ প্রসঙ্গে তিনি নাম উল্লেখ না করেই বিএনপি চেয়ারপর্সন বেগম খালেদা জিয়া ও গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মো: ইউনুসের প্রতি ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, বিশেষ করে স্বাধীনতাবিরোধী যারা সেই জামায়াতে ইসলামীসহ এরা অর্থ দিয়ে লবিষ্ট রেখে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার বিদেশে পরিচালিত করছে। যেখানে বিএনপি-জামায়াত মিলে অর্থ দিয়ে লবিষ্ট দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট এবং বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাংলাদেশের সবকিছু নষ্ট করবার জন্য উঠেপড়ে লেগে গেছে।
জিএসপির মাধ্যমে বাংলাদেশ বেশি সুবিধা পেতোনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে তারা বন্ধ করে দিয়েছে এটা বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকারক। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে বহু খেলা তারা খেলতে চেয়েছে। ওই ‘৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৭ম নৌবহরও পাঠিয়েছিল। তারপরও বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় কিন্তু ঠেকাতে পারেনি। এখন জামায়াত-বিএনপি বা ব্যাংকের সাবেক এমডি মিলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা এবং বহু অপকর্ম তারা করেছে, আমাদের অগ্রযাত্রা কিন্তু বন্ধ করতে পারেনি।
সংসদে প্রশ্নোত্তরে আজ সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা হাজী মো: সেলিমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। যুদ্ধরাষ্ট্র বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে না দেয়ার পিছনে কোনো অপশক্তির হাত আছে কিনা হাজী সেলিম জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী এভাবে তার জবাব দেন।
ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। হাজী সেলিম এ কে এম রহমত উল্লাহর পক্ষে তার একটি লিখিত প্রশ্ন সংসদে উত্থাপন করেন।
হাজী মো: সেলিমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে পরাশক্তি নয়, বরং কিছু অপশক্তি দেশের বাইরের না, দেশের অভ্যন্তরেরই কারো কারো ব্যক্তি স্বাথে আঘাত লাগায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তারা অপপ্রচার চালায়। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে এই বাংলাদেশে এক সময় যিনি প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন, বিরোধী দলের নেতাও ছিলেন যদি এখন তিনি এই ধরনের কোনো পদে নেই কিন্তু একটি দলের নেতা। সেই দলের নেতা আমেরিকা সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে জিএসপি যাতে বন্ধ হয় তার আবেদনও করেছিলেন। তিনি এক আর্টিকেল ওয়াশিংটনে কোনো এক অখ্যাত পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলেন যাতে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি নষ্ট হয়। কোনো কোনো ব্যক্তি হয়তো একটা পদের জন্য যেমন একটা ব্যাংকের সামান্য একটা এমডির পদ মামলা করে সেই পদ তিনি হারানোর পর তিনি এতোই ক্ষিপ্ত হয়ে যান, সেখানে সরকারের বিরুদ্ধে গর্ভমেন্টের বিরুদ্ধে সমানে অপপ্রচার চালায়। বিশেষ করে স্বাধীনতা বিরোধী যারা সেই জামায়াতে ইসলামীসহ এরা অর্থ দিয়ে লবিষ্ট রেখে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার বিদেশে পরিচালিত করছে। যেখানে বিএনপি-জামায়াত মিলে অর্থ দিয়ে লবিষ্ট দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট এবং বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাংলাদেশের সবকিছু নষ্ট করবার জন্য উঠেপড়ে লেগে গেছে। কাজেই কথায় বলে ঘরের শক্রু বিভীষণ। দেশের কথা যে চিন্তা করে না, মানুষের কথা চিন্তা করে না, আমাদের শ্রমজীবী মানুষের কথা চিন্তা করে না তাদের দলীয় স্বার্থ ব্যক্তি স্বার্থটাই বেশি বড় হয়ে দেখা দেয়। তারাই কিন্তু এই ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে আমরা সব থেকে থেকে বেশি আকারে কিন্তু গার্মেন্টস বা এপারলস জনিসগুলো আমরা রপ্তানি করতাম। এখানে কিন্তু কোনো জিএসপি সুবিধা ছিল না। যেখানে সব সময় আমরা আমেরিকাকে ট্যাক্স দিয়েছি। প্রতি বছর সাড়ে ৮ শ’ মিলিয়ন ডলার ট্যাক্স দিয়ে থাকি। আর জিএসপি সুবিধা যেগুলোতে আমরা পেতাম সেগুলোও রপ্তানি পরিমাণ কিন্তু খুবই কম। ২৫ মিলিয়নের মতো সুবিধা পাওয়া যেত। এর বেশি আমরা জিএসপির মাধ্যমে পেতাম না। তবে তারা বন্ধ করে দিয়েছে এটা বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকারক। তারপরও আমি বলবো, বাংলাদেশ নতুন নতুন বাজার খুঁজে পাচ্ছে। আমাদের রপ্তানি আরো বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতোকিছুর পরও আমরা কিন্তু আমাদের রপ্তানির টার্গেট পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের থামিয়ে রাখতে পারেনি। আমরা থেমে যায়নি। আমাদের অগ্রগতি আমরা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। কাজেই অপশক্তি পরাশক্তি না, ঘরের শক্রু বিভীষণ অপশক্তি তারাই বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি, রায়ও কার্যকর করছি। তাদেরও অপপ্রচার আছে। এই অপপ্রচারে কাজ হবে না। উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, বিনিয়োগও বৃদ্ধি পাবে রপ্তানিও বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এটা মনে রাখা উচিত যেই বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আসার আগে ছিল মাত্র ২৫ মিলিয়ন ডলার যা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আমরা শুরু করি। প্রায় দুই বিলিয়নের মতো বিনিয়োগ এখানে তাদের আছে। কাজেই বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে বহু খেলা তারা খেলতে চেয়েছে। ওই ‘৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৭ম নৌবহরও পাঠিয়েছিল। তা এসেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষে। তারপরও বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে, বিজয় অর্জন করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় কিন্তু ঠেকাতে পারেনি। কাজেই এখন জামায়াত বিএনপি বা ব্যাংকের সাবেক এমডি মিলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা বহু অপকর্ম তারা করেছে, আমাদের অগ্রযাত্রা কিন্তু বন্ধ করতে পারেনি। অহেতুক কারণে পদ্মাসেতুর জন্য ওয়াল্ড ব্যাংক থেকে টাকা ধার নেব আমরা সেটাও কিন্তু বন্ধ করেছিল। কিন্তু পদ্মা সেতু নির্মাণ বন্ধ রাখতে পারেনি। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে করতে পেরেছি। আমরা ছোট একটা দেশ হতে পারি। কিন্তু এই দেশ রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। বাংলাদেশের মানুষ কারো কাছে মাথা নোয়াবে না। ওই ধরণের দালাল ছাড়া ওই ধরণের কিছু যাদের কোনো দেশপ্রেম নেই, দেশের প্রতি কোনো কর্তব্য বোধ নেই, যারা শুধু লুটপাট, দুর্নীতি মানুষ খুন হত্যা ক্যু ষড়যন্ত্র এতেই যারা জড়িত তারা বাংলাদেশের বহু ক্ষতি করেছে । ভবিষ্যতে আর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ বাংলাদেশের জনগণ এখন সচেতন।
কামাল আহমেদ মজুমদারের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরা করেছি। অনেক বড় হোমরা চোমরাও টেলিফোন করেছিল যুদ্ধপরাধীদের বিচারের রায় যেন কার্যকর না হয়। সেজন্য হয়তো ভালো কাজে ফোন না পেলেও একাজে কিন্তু ফোনও পেয়েছি, কথাও বলেছি। তবে আমি জতির পিতার মেয়ে, আমি মা বাবা ভাই সবই হারিযেছি। সব হারিয়ে শুধু বাংলাদেশের মানুষের জন্যই আমার রাজনীতি । বাংলাদেশের মানুষের মাথা হেট হোক অন্তত আমার জীবন থাকতে আমি হতে দেব না। ন্যায় অন্যায় বোধ অবশ্যই আমার আছে। যারা অন্যায় করেছে '৭১ সালে ৭৫ সালে অন্যায় করেছে তাদের বিচার বাংলার মাটিতে আমরা করেছি, চলছে এবং চলতে থাকবে। যাই আসুক না কেন, জীবনের মায়া আমি করি না। জীবনে পরোয়া করে আমি চলি না। আমি জীবনকে বাজি রেখেই এই বাংলার মাটিতে রাজনীতি করে যাচ্ছি। ষড়যন্ত্রকারী যারা তাদের বিচার অবশ্যই বাংলার মাটিতে হবে।
এ কে এম রহমতউল্লাহ জিএসপি সুবিধা-সম্পর্কিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবার বিশ্বের ১২২টি দেশকে জিএসপি সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশকে দেয়নি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক ছাড়া অন্যান্য পণ্যে জিএসপি সুবিধার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার ছিল। বাংলাদেশ কৃর্তক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানিকৃত পণ্যের ৯০ শতাংশ এর বেশি হচ্ছে টেক্সটাইল ও এ্যাপারেল পণ্য।
এ দেশে তৈরি পোশাক ও চিংড়ি খাত এবং ইপিজেডভুক্ত শিল্প কারখানায় শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এমন অভিযোগ করে গত ২৭জুন ২০১৩ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে।
জিএসপি সুবিধা পুনঃবহাল করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারকে বিভিন্ন শর্ত-সংবলিত ‘বাংলাদেশ অ্যাকশন প্ল্যান-২০১৩’ বাস্তবায়নের পরামর্শ দেয়। প্রধানমন্ত্রী উক্ত অ্যাকশন প্ল্যানের শর্তগুলোও তুলে ধরেন। উক্ত প্ল্যানের শর্তের মধ্যে রয়েছে, পরিকল্পনায় আইনগত ও নীতিগত ব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক পুর্নগঠন, রপ্তানিযোগ্য সকল তৈরি পোশাক কারখানা ভবনের ফায়ার, ইলেকট্রক্যিাল ও স্ট্রাকচারাল-বিষয়ক যাচাই, প্রশাসনিক পদক্ষেপ, শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার, দু’টি এনজিও’র কার্যক্রম পুনঃচালু করা, জনসাধারণের প্রবেশযোগ্য ডাটাবেজ প্রতিষ্ঠা, শ্রম ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন ত্বরান্বিত করা, হটলাইন প্রতিষ্ঠা করা, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদেও নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়নে বিশেষ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন, চিংড়ী সেক্টওে শ্রম অধিকার ও নিরাপদ কর্র্মপরিবেশ রক্ষা করা।
এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন গৃহীত পদক্ষেপ তুলে তিনি বলেন, গত ১৫ নভেম্বর ২০১৩, ১৫ এপ্রিল ২০১৪, ১৬ নভেম্বও ২০১৪ তারিখে উক্ত এ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের অগ্রগতি ‘ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ(ইউএসটিআর)’ বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার উক্ত অগ্রগতি রিভিউপূর্বক অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং চলমান কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি সময়ে সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে অবহিত করা হচ্ছে এবং অ্যাকশন প্ল্যানের অধিকাংশ বিষয় বাস্তবায়ন হয়েছে’ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অবশিষ্ট বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ কওে ‘চিপ ইন্সপেক্টর অব ফ্যাক্টরিজ এন্ড এস্টাবলিশমেন্ট’ অফিস পুনৎগঠনসহ ২২৫ জন পরিদর্র্শক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। চালু রপ্তানিমুখী প্রায় ৩ হাজার ৬৮৫টি গার্মেন্টস কারখানার মধ্যে এ্যালায়েন্স, এ্যাকোর্ড ও জাতীয় টিমের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৩৭৫টি গার্মেন্টস কারখানার অগ্নি, বৈদ্যুতিক ও স্ট্রাকচারাল বিষয় পরিদর্শন করানো হয়েছে। তার মধ্যে ৩৪টি কারখানা ক্রটিপূর্ণ পাওয়ায় ‘রিভিউ প্যানেল’-এর সুপারিশ অনুযায়ী উক্ত কারখানাগুলো বন্ধ কওে দেয়া হয়েছে। অবিলম্বে সকল কারখানার অগ্নি, ও বৈদ্যুতিক ও ভবনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রাথমিক পরিদর্শন কার্র্যক্রম শেষ হবে।’
এ লক্ষ্যে ‘গত ৭জুলাই ২০১৪ তারিখে ইপিজেড শ্রম আইন-২০১৪ এর খসড়া মন্ত্রিপরিষদে নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ আইনও বিধিগত কার্র্যক্রম শেষে উক্ত খসড়া আইন বিল আকারে অবিলম্বে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত এ্যাকশন প্লান বাস্তবায়নের মাধ্যমে জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি, ষড়যন্ত্রকারীরাও বসে নেই : আ’লীগ নেতৃবৃন্দ

ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি, আর ষড়যন্ত্রকারীরাও বসে নেই। শত্রুপক্ষ আমাদের যাতে আঘাত করতে না পারে সে জন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বুধবার ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তরা এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের সভাপতিত্বে বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু। এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, জগনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি ড. মিজানুর রহমান প্রমুখ।
আমির হোসেন আমু বলেন, ১৯৭৫’র ১৫ আগস্ট প্রতি বিপ্লব করে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর মনে করেছিল, বঙ্গবন্ধুর রক্ত আর কথা বলবে না। শুধু তাই নয়, এই হত্যার বিচার যেন না হয়, সেজন্য ঘৃণীত ইনডেমনিটি অ্যাক্ট করেছিল তারা। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে আমরা স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করেছি। তবে কোনো শত্রুপক্ষ আমাদের যাতে আঘাত করতে না সে জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, আজ আয়লানকে দেখে বিশ্ব বিবেক লজ্জিত হয়, স্তম্ভিত হয়। কিন্তু পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট যখন শিশু রাসেল, সুকান্ত, বাবুকে হত্যা করা হয় তখন খুনিরা বিশ্ববিবেককেও স্তব্ধ করে রেখেছিলো।
বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া শুধু ষড়যন্ত্র আর ধ্বংসের রাজনীতি করেন, তাই তার ডাকে আজ আর মানুষ আসে না। একই সময় আওয়ামী লীগ ন্যায় ও সত্যের পথে থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাই আওয়ামী লীগের বিস্তার ঘটছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আরো বরণীয় হচ্ছে আর খালেদা জিয়া পরিত্যাক্ত হচ্ছেন।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা এই দেশে বিরোধ করতে চাই না। অনেক হানাহানি হয়েছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে চাই। মুক্তিযুদ্ধের সময় যেভাবে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, আমরা চাই জাতি আবারও সেইভাবে ঐক্যবদ্ধ হোক। বঙ্গবন্ধু ছিলেন ঐক্যের প্রতীক। আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে এবার দেশের ৯০ ভাগ মানুষ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যদায় পালন করেছে। আশা করি এমন সময় আসবে যখন প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এক সাথে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে।
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত আছে। যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল, তারা আবার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে টাকা দিয়ে বিদেশি প্রভূদের ওপর ভরসা করেছেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে জঙ্গিদের মদদ দিয়েছেন, এখন সরকারের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের তৎপরতা শুরু করেছেন। এ ব্যাপারে আমাদের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে সজাগ ও সতর্ক থেকে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।
বঙ্গবন্ধুর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের ৪০দিনব্যাপী কর্মসূচির আজ ছিল সমাপনি দিন। এর আগে গত ১ আগস্ট টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

দেশে দেওয়ানি মামলা ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৪৫৭

আইন বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, দেশে সর্বমোট বিচারাধীন দেওয়ানী মামলার সংখ্যা ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৪৫৭টি। এর মধ্যে ৩০ জুন ২০১৫ পর্যন্ত সুপ্রিম কোটের আপিল বিভাগে বিচারাধীন দেওয়ানি মামলার সংখ্যা ১২ হাজার ৬৬৯টি, হাইকোট বিভাগে বিচারাধীন দেওয়ানি মামলার সংখ্যা ৮৬ হাজার ৪টি, জেলা জজ আদালত সমুহে বিচারাধীন দেওয়ানী মামলার সংখ্যা ১১ লাখ ১৯ হাজার ৮১২টি। এছাড়া অপির্ত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ মামলার সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৮২টি।
সংসদে প্রশ্নোত্তরে আজ মঙ্গলবার এম আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের (চট্টগ্রাম-১১) এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
আইন মন্ত্রী জানান, ভূমি সংক্রান্ত মামলাগুলো দেশে বিদ্যমান দেওয়ানী আদালত সমুহে নিস্পত্তি হচ্ছে। জমি জরিপ সংক্রান্ত বিরোধী নিস্পত্তির জন্য ৪২টি জেলায় ল্যান্ড সার্ভে? ট্রাইব্যুনার রয়েছে। এছাড়া ল্যান্ড সার্ভে আপীলাত ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধী আছে। ভূমি সংক্রান্ত মামলা নিস্পত্তির জন্য পৃথক ভূমি ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা আপাতত; সরকারের নেই।
দেশে প্রচলিত আইন ১০৫৭টি
দিদারুল আলমের (চট্টগ্রাম-৪) এক প্রশ্নের জবাবে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রচলিত আইনের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫৭টি।
জন প্রশাসন ক্যাডারে নারী কর্মকর্তা ২৯৮ জন
বেগম পিনু খানে এক প্রশ্নের জবাবে জন প্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জানান, জন প্রশাসন ক্যাডারে নারী কর্মকর্তার সংখ্যা ২৯৮জন। জন প্রশাসনে সচিব হিসেবে ৪জন, যুগ্ম সচিব্ হিসেবে ১০৮ জন এবং উপসচিব হিসেবে ১৮৬জন নারী কর্মরত আছেন। জেলা প্রশাসকদের মধ্যে ৩জন নারী কর্মরত আছেন। নারী পুরুষ নির্বিশেষে পদোন্নতি ও পদায়ন একটি স্বাভাবিক রুটিন কাজ। এই সংখ্যা হ্রাস/বৃদ্ধি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ১ সে্েপ্টম্বর ২০১৫ পর্যন্ত মাতৃকালীন ছুটি, লিয়েন ও প্রশিক্ষন ইত্যাদি কারণে ৪১ জন নারী কর্মকর্তা ওএসডি আছেন।
বিএনপির আমলে ৪২ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামুলক অবসর প্রদান
নুরজাহান বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জানান, বিগত বিএনপি সরকারের সময় ৪২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে ৫ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা হয়েছে।

‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র টিকতে পারে না’ -জাতিসংঘের বিশেষ দূত

বাংলাদেশে নাগরিক সমাজের মত প্রকাশের স্থান সংকুচিত হয়ে আসা এবং নিবর্তনমূলক আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা সফররত জাতিসংঘের বিশেষ দূত হেইনার বিলেনফেন্ড। উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে বাংলাদেশ  কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি এখানে ১০ দিন ধরে আছি। অনেকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমার মনে হয়, এখন এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। তা না হলে নাগরিক সমাজের কর্মকাণ্ডে আইনি এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক, অনলাইন কর্মী এবং অন্যদের মুক্ত ও ভয়হীন মত প্রকাশের অধিকার ছাড়া গণতন্ত্র টিকতে পারে না। জাতিসংঘের ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়্যার হেইনার বিলেনফেন্ড গত ৩১শে আগস্ট থেকে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। গতকাল ছিল তার সমাপনী সংবাদ সম্মেলন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লউঞ্জে তিনি তার সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রবার্ট ওয়াটকিন্স উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘ দূত বলেন, বাংলাদেশ ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম এবং বিশ্বাসের লেকজনের একসঙ্গে বসবাস এবং সমাজিক যোগাযোগের বিষয়টি বংশপরম্পরায় চলে আসছে। এটি ঐতিহাসিকই বলা যায়। এদেশের সংবিধানেও ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়টি রয়েছে। আমি মনে করি এর চর্চা সর্বক্ষেত্রে সমান হওয়া দরকার। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা সরজমিন ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতাও বর্ণনা করেন তিনি। জানান, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক-বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। ঢাকায় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিভিন্ন ধর্ম, বিশ্বাস এবং কূটনৈতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। জাতিসংঘের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা হয়েছে তার। আগামী বছরের শুরুতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে বাংলাদেশে তার সফর নিয়ে তিনি একটি প্রতিবেদন দাখিল করবেন। বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে হেইনার বিলেনফেন্ড বলেন, মানবাধিকার সংস্থার কর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা বাংলাদেশে অনেকদিন ধরেই চলছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু সমপ্রদায়, ‘আদিবাসী’ জনগণ ও সুশীল সমাজের সঙ্গে আলাপচারিতায়, আমি এক ধরনের উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি আরও ভাল করে জেনেছি। এ নিরাপত্তাহীনতার ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক, আইনি ও সামাজিক মাত্রা রয়েছে, যা বিভিন্নভাবে ব্যক্তিবিশেষ ও গোষ্ঠীকে প্রভাবিত করতে পারে। তার ভাষায়, ‘সমপত্তি দাবি, বিশেষ করে ভূমি সম্বন্ধীয় ক্ষেত্রে দু’টি বিষয় কাজ করে। এখানে নিজ বা নিজ সমপ্রদায়ের শারীরিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ও ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় চরমপন্থার বিষয় রয়েছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যায় সংখ্যালঘু সমপ্রদায় বিশেষ করে হিন্দু সমপ্রদায়ের হার হ্রাসের বিষয়ে তিনি বলেন, আরও অনেক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে যাতে করে তারা আরও নিরাপত্তা বোধ করতে পারে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ২৩ শতাংশ, যা বর্তমানে ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মনে হচ্ছে একে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ওতপ্রোতভাবে একে-অপরের সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইন্টারনেট অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্লগারদের সুরক্ষা দিতে হবে। নিয়ন্ত্রণমূলক আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা যা বর্তমানে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিরোধীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে তা যদি ধর্ম নিরপেক্ষ গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্যও গ্রহণ করা হয় তবুও অসাবধানতাবসত হলেও তা মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যখন চরমপন্থি ও ধর্মীয় অবস্থান সমাজে প্রকাশিত হতে থাকে তখন পুরো পরিবেশ পরিবর্তিত হয়ে যায়। তবে তার পর্যবেক্ষণ- কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা কেবল সংখ্যালঘুদের অধিকার তা নয়। বরং এটি সকল মানুষের অধিকার। তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার মূল নীতিকে ধারণ করা বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামও রয়েছে। এর ফলে একটি অসপষ্টতা তৈরি হয় যা সরাসরি দেশের মানবাধিকারের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায়ও এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা একটি প্রতিশ্রুতির প্রতিনিধিত্ব করে। একে সংবিধানে সংযুক্ত করা হয়েছে ধর্মীয় বৈচিত্র্যতাকে উন্মুক্ত ও মুক্ত পরিবেশ প্রদানের জন্য। যা হবে ভয় ও বৈষম্য থেকে মুক্ত। ধর্ম নিরপেক্ষতার এমন সুষ্ঠু বোঝাপড়ার জন্য শিক্ষা, নাগরিক সমাজ, উন্নয়ন ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপ ও বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। জাতিসংঘের এ বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার ধর্মীয় ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা উন্নয়নে সরকারের প্রচেষ্টার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ভয়ে থাকা ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীগুলোর জন্য। জাতিসংঘের এ মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ নিজ পর্যবেক্ষণে বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার মূল নীতি নিয়ে আপস করার এক ধরনের উদ্বেগজনক চর্চা তৈরি হয়েছে, যা আপাতদৃষ্টিতে ধর্মীয় জঙ্গিদের রাগান্বিত না করতেই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতাকে সুরক্ষা করতে নেয়া কিছু পদক্ষেপ বরং উল্টো ফলাফল বয়ে আনবে বলে দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে এসব গণতন্ত্রের মতো ধর্মনিরপেক্ষতার অনেক মূল নীতির পরিবেশকেই সংকুচিত করে ফেলবে। তিনি বলেন, উদাহরণস্বরূপ, সামপ্রতিক ব্লগার হত্যাকাণ্ডে সরকারি কর্মকর্তাদের বেশ কয়েকটি বিবৃতি ছিল অসপষ্ট। সহিংস কর্মকাণ্ড ও হুমকির নিন্দা জানানোর পাশাপাশি, সরকারি প্রতিনিধিরা ধর্মের সমালোচনাকারী ব্যক্তিদেরও তিরস্কার করেছেন। তাদেরকে ‘বেশি বাড়াবাড়ি’ না করতেও বলেছেন। সরকারের নিজেদেরই উচিত রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ধর্মকে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা। সংবিধানে উল্লেখ থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকারের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিদ্যমান আচরণ ও চর্চাকে সমন্বয় করার আহ্বান জানান তিনি।

রামপুরায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল

ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে বেসরকারি ইস্টওয়েস্ট
বিশ্ববিদ্যালয়ের আজ বুধবার রামপুরা ব্রিজের পাশে সড়ক
অবরোধ করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে এবং রাবার
বুলেট ছুড়ে সরিয়ে দেয়। পরে ওই রাবার বুলেট নিয়েই
আবার বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
রাজধানীর রামপুরায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষক ও বাড্ডা থানার ওসিসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।
বেসরকারি ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর ভ্যাট বাতিলের দাবিতে আজ বুধবার দুপুরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রামপুরা ব্রিজের উপর অবস্থান নিলে এ সংঘর্ষ হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের উপর শুধু লাঠিচার্জই নয়, গুলি বর্ষণও করেছে। তবে পুলিশ গুলি বর্ষণের কথা অস্বীকার করেছে।
সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রামপুরা প্রগতি স্মরণীতে সব ধরনের যানবাহন চলাচলা বন্ধ ছিল। এতে করে ওই এলাকা ও তার আশাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, সরকার শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’র উপর প্রথমে ১০ ভাগ ও পরে সাড়ে ৭ ভাগ ভ্যাট আরোপ করেছে যা বহন করা শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই ফি প্রত্যহারের দাবিতে বুধবার দুপুরে শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। এমন সময় পুলিশ এসে বিনা উস্কানিতে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও গুলিবর্ষণ করেছে। এ সময় একজন শিক্ষকসহ প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে ভার্সিটির মেডিকেল সেন্টার ও স্থানীয় হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রথমে পুলিশের হামলায় শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হলেও পরবর্তীদের ধাপে ধাপে তারা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। বিকেলে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে পুনরায় ব্রিজের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের শ্লোগান দিতে থাকে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিহাবউদ্দিন আহমেদ বলেন, যতদিন পর্যন্ত টিউশন ফির উপর সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট বাতিল না হবে ততদিন পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। এছাড়া পুলিশের গুলিতে যে সব শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছে তাদের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন ও যারা গুলি করেছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একইসাথে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে মিডিয়ার সামনে বলতে হবে ‘দুনিয়াতে সবচেয়ে বড় রাবিশ আমি’।
এদিকে হামলা ও গুলির কথা অস্বীকার করে গুলশান জোনের ডিসি মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘ভ্যাট বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রামপুরা ব্রিজের উপর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলো। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন হওয়ায় তাদের সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয়। কিন্তু তারা পুলিশের কথা না শোনায় তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। তাদের ওপর লাঠিচার্জ কিংবা গুলি ছোড়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
রাত সাড়ে ৭টার দিকে যোগাযোগ করা হলে বাড্ডা থানার এসআই নির্মল জানান, শিক্ষার্থীরা ব্রিজের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। পুলিশ তাদের চার পাশে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
পুলিশের হামলার নিন্দা ছাত্রদলের
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আজ এক বিবৃতিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আকরামুল হাসান এ প্রতিবাদ জানান।
নেতৃদ্বয় বলেন, দেশটা এখন মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে। এক দেশে ২ নীতি বিদ্যমান। সরকারের লোকজন ইচ্ছামত টাকা-পয়সা লুটপাট করে এখন সেই টাকা নিরীহ জনগণের পকেট থেকে উঠাতে ব্যস্ত। না হলে উচ্চশিক্ষাকে যেখানে সরকারের প্রণোদনা দেয়া উচিত, সেখানে কি করে করারোপ করা হতে পারে?
তারা বলেন, সেই অন্যায্য দাবি বাতিলে ছাত্ররা যখন অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ করছে তখন তাদের উপর পুলিশের আক্রমণ, গুলিবর্ষণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই সরকারের ওপর জনরোষ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। তারা প্রশাসনের লাঠির ওপর ভরসা করে ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে। তাই তো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করতেও দ্বিধাবোধ করছে না।
নেতৃদ্বয় ছাত্রদের ওপর এমন অমানবিক হামলার যথাযথ বিচার এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানান।
অপর এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ইয়াসিন আলীকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নেতৃদ্বয় অবিলম্বে ইয়াসিন আলীর মুক্তি দাবি করেন এবং তার নামে করা সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

পুলিশের কারণে ন্যায়বিচার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে : সুলতানা কামাল

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, আমাদের দেশে পুলিশের কারণে ন্যায়বিচার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক সময় পুলিশ ঠিকমত মামলা নেয় না, ঠিকমত তদন্ত করে না, চার্জশিটে অহেতুক অনেকের নাম দিয়ে দেয়। এটা অন্যায়। আমরা আইনজীবীরা সামাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে শপথ নিয়েছি।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ অনেক সময় ক্রসফায়ারকে সঠিক বলে মনে করে । তাহলে ন্যায়বিচার কী করে প্রতিষ্ঠা হবে। তিনি সব আইনজীবীর প্রতি মানবাধিকারের অঙ্গিকার থেকে কাজ করার আহবান জানান। তিনি বলেন, যে অসীম ত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, স্বাধীনতা ৪৪ পর আজো অনেক কিছুই আমরা অর্জন করতে পারিনি। তবে এই ৪৪ বছরও বেশি কিছু নয়। এখন থেকেই আমাদের সামনে এগুনোর কাজটি শুরু করতে পারি। বুধবার বিকালে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে ‘বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নে জেলা বারের ভাবনা ও করণীয় নির্ধারণ : প্রেক্ষিত কিশোরগঞ্জ জেলা বার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন। জেলা মানবাধিকার আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট গাজী মাহমুদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জেন্ডার এন্ড সোশ্যাল জাস্টিস ইউনিটের সিনিয়র সমন্বয়কারি অ্যাডভোকেট তৌফিক আল মান্নান। এরপর আলোচনায় অংশ নেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ মাহবুব-উল-ইসলাম, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো. আওলাদ হোসেন ভূঁইয়া, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুস ছালাম খান, জেলা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক, স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট এমএ আফজাল, বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মিয়া মো. ফেরদৌস, জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শহীদুল আলম, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র উপ-পরিচালক অ্যাডভোকেট সানাইয়া ফাহীম আনসারী, অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন সিদ্দিকী প্রমুখ।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে একসাথে কাজ করার আহ্বান খালেদা জিয়ার

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে চলমান সংগ্রামে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, চলমান আন্দোলন সংগ্রামে যারা রাজপথে ছিলেন তাদেরকে নেত্বতে আসতে হবে। যারা দলের জন্য ঠিক মত সময় দিতে পারেন না তারা নতুনদেরকে নেতত্ব ও সাহস যোগাবেন।
তিনি আরো বলেন, চলমান আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ও পুলিশের গুলিতে শিশুরাও রেহায় পাইনি। শিশুরা কী অন্যায় করেছে যে তাদেরকেও গুলি করতে হবে।
২০ দলের চলমান অন্দোলন ও সংগ্রামে চাঁদপুর জেলা ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিএনপির আহবায়ক ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনা সম্পাদক লান্য়ন হারুনুর রশিদের নেত্বতে বুধবার উপজেলার সদ্য কারামুক্ত বিএনপি ও অংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ করেন।
এসময় হারুনুর রশিদ জানান, সন্ত্রাসী ও পুলিশের গুলিতে ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিএনপির ইউনিয়ন সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও ৮ নম্বর ওয়াডের তাঁতীদলের সহ-সভাপতি আরিফ হোসেন এবং ৯ নম্বর যুবদলের সভাপতি বাবুল হোসেন এই তিন পরিবার এবং পুলিশের গুলিতে আহত শিশু আবু তাহেরকেও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।