Friday, June 30, 2017

হ্যালি বেরির কাছে অস্কার কিছুই না!

অস্কারে বর্ণবৈষম্য নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। বিতর্ক সামাল দিতে এবারের অস্কার পুরস্কারে কিছুটা ব্যালেন্সও কি করল তারা! ফলাফল তো তা-ই বলে। এবার অস্কারে সেরা অভিনয়শিল্পী ও সেরা সহ-অভিনয়শিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন দুজন সাদা ও দুজন কালো মানুষ।
কিন্তু তাতেও মন ভরেনি হ্যালি বেরির। ২০০২ সালে মনস্টারস বল সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর অস্কার পাওয়া প্রথম ও একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পী তিনি। নিজের অস্কার উৎসর্গ করেছিলেন কালোদের প্রতি। কিন্তু ১৫ বছর পর তাঁর মনে হচ্ছে, এই পুরস্কারের কোনো মানে নেই। ২০০২ সাল থেকে এ পর্যন্ত আর কোনো কালো মেয়েই সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেননি। এবার ভায়োলা ডেভিস পেয়েছেন সেরা সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কার।
টিন ভোগ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে  হ্যালি বেরি বলেন, অস্কার–দৌড়ে এখনো বৈচিত্র্যের অভাব একটি বড় ব্যাপার। তিনি মনে করেন, তাঁর অস্কার বক্তৃতাও তেমন প্রভাব ফেলেনি। হ্যালি বলেন, ‘এই বক্তৃতার কোনো মানে নেই। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটি অনেক কিছু, কিন্তু পরে দেখলাম কিছুই না।’ হ্যালি আরও বলেন, ‘আমি  ছবি বানানো শুরু করতে চাই। প্রযোজনাও করতে চাই। আমি কালোদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করতে চাই।’

ড্রাইভিং সিটে ভোট রাজনীতি by এম এম মাসুদ

আখেরে অবস্থান বদলালেন অর্থমন্ত্রী। নিজের বিরুদ্ধে নিজেই দাঁড়ালেন। আর এর মাধ্যমে ভোট রাজনীতির কাছে হেরে গেল তার জিদ। ভ্যাট আর আবগারি শুল্ক ইস্যুতে নিজের অনড় অবস্থানের কথাই বারবার ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বলেছিলেন, কোনো পরিবর্তন হবে না। তার এ অবস্থান দলের ভেতরে-বাইরে বিপুল সমালোচনা তৈরি করেছিল। সব মহল থেকেই প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। অবশ্য কেউ কেউ তার পাশেও ছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাজেটে পরিবর্তন আনলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। বুধবার অর্থবিল পাসের পর গতকাল বাজেটও পাস হয়ে গেছে সংসদে।
অর্থমন্ত্রী এটিকে বলেছিলেন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ বাজেট। বাজেটের খোলনলচে বদলে যাওয়ার পরও তিনি একই কথা বলছেন। এই হিসাব অবশ্য বোঝা দায়। কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাজেটে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে- ভোট রাজনীতি এখন ড্রাইভিং সিটে। মূলত নির্বাচন বিবেচনাতেই দুই বছর পর্যন্ত নতুন ভ্যাট আইন স্থগিত করা হয়েছে। অর্থাৎ ভোটের আগ পর্যন্ত নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হবে না। আবগারি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব শুধু নাকচই হয়নি, আগের হার থেকেও বেশ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। অনেকে সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছেন। বলছেন, জনগণের পালস বুঝতে সক্ষম হয়েছে সরকার। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভ্যাট আইন কার্যকর স্থগিত হয়ে যাওয়ায় বাজেট বাস্তবায়ন এখন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। হিসাব মেলানো হবে কঠিন। নির্বাচনের পর গঠিত সরকারকেই এখন ভ্যাট আইনের ঝক্কি-ঝামেলা মোকাবিলা করতে হবে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এমনিতেই এত বড় আকারের বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না। এর মধ্যে আবার কর আদায়ের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত অর্থবিল পাসের সময় দুটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটা ইতিবাচক দিক। তবে এটা নিশ্চিত, এতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে না। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল সেটাও পূরণ হতো না। সব মিলিয়ে বাজেটে ঘাটতি ও ঋণের পরিমাণ বাড়বে। রাজস্ব আহরণ ঠিক রাখতে ভ্যাট ও আয়কর জাল সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়ে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দুই বছর পর যখন থেকে এই আইন কার্যকর করা হবে, তখন আগে থেকে ঠিক করে নিতে হবে একক হারে এটা বাস্তবায়ন হবে কিনা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, নতুন ভ্যাট আইনের কার্যকারিতা আরো দুই বছরের জন্য স্থগিত করায় আগামীতে নতুন সরকারের জন্য এই আইন বাস্তবায়ন চালেঞ্জ হবে। একই সঙ্গে এটা একটা বাজে নজির হয়ে থাকলো। আবদুল মজিদ বলেন, ভ্যাট আইন দুই বছরের জন্য স্থগিত করার মানে হলো, এতে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে বর্তমান সরকার। অর্থাৎ এ সরকারের আমলে ভ্যাট আইন নিয়ে আর কোনো টুঁ-শব্দটি করা লাগবে না। দুই বছর পর নতুন যে সরকার আসবে তারাই তখন এটি বাস্তবায়ন করবে। এটাই ভোটের রাজনীতি। আর নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে কোনো বেগ পেতে হবে না। তিনি বলেন, এর আগে বিএনপি সরকারের আমলে যখন ভ্যাট আইন সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বাস্তবায়ন করেন ওই সময়টা ছিল সরকারের প্রথম বছর। কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু শেষ সময় হলে আন্দোলন হওয়ার সম্ভবনা থাকতো বলে মনে করেন তিনি। সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আগের ভ্যাট আইনে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধাগ্রস্ত হবে সরকার। এছাড়া এতে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় কম হতে পারে। ব্যাংক ঋণ নেয়ার হার বাড়বে। তিনি বলেন, নতুন ভ্যাট আইনে শাস্তির ব্যবস্থা ছিল। স্থগিত হওয়ায় সেটা আর হবে না। তবে স্থগিত হওয়ায় আগামী নির্বাচনের পর যে নতুন সরকার আসবে তাদের জন্য এই আইন বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তিনি বলেন, আগেই ভাবা উচিত ছিল ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা হবে কি হবে না। আর ভবিষ্যতের জন্য বাজে নজির হয়ে থাকলো এটি। কারণ, নতুন সরকার এসেও চিন্তাভাবনা করবে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করবে কি করবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন ভ্যাট আইন স্থগিত ও ব্যাংকের আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক হার কমানো, এসবের মাঝে নিশ্চয় রাজনৈতিক বিবেচনা আছে। কিভাবে দেশের জনগণের মন জয় করা যায়, তার একটি মেসেজ রয়েছে এতে। তাছাড়া দিনশেষে ভ্যাটের চাপটা পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। ভ্যাট আইন স্থগিত করায় সাধারণ জনগণ উপকৃত হবে। এছাড়া নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে আগে থেকেই কোনো প্রস্তুতি ছিল না। থাকলে এরকম পরিস্থিতিতে সরকারকে পড়তে হতো না।  
এদিকে এক গণমাধ্যমকে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের জ্যেষ্ঠ গবেষক নাজনীন আহমেদ বলেন, রাজনীতির কাছে অর্থমন্ত্রী হেরেছেন। বাজেটে চমক বলতে ভ্যাট আইনটিই ছিল। নাজনীন আহমেদ মনে করেন, ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে এ পরিবর্তন অর্থনীতির জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। ভোটের জন্য এমনটা করার প্রয়োজন হলে সরকার তা আগেই ভাবতে পারতো। তাহলে এখন রাজনীতির কাছে অর্থমন্ত্রীর পরাজয় হতো না। অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, পরবর্তী বাজেট হবে নির্বাচনী বাজেট। কিন্তু এখন এ বাজেটটিই হয়ে গেল নির্বাচনী বাজেট।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় এলোমেলো ভাব বাজেট কাঠামোয় থেকে যাবে। বাজেটে রাজস্ব আদায়ে আয়কর থেকে ৩৬ শতাংশ ও ভ্যাট থেকে ৩৩ শতাংশ লক্ষ্য রাখা হয়েছিল। এ জায়গায় এখন একটা চাপ তৈরি হবে। বাস্তবায়ন না হওয়ায় এখন ঘাটতির চাপ পড়বে। এখন সরকারকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থায়ন করতে হবে। যা অর্থনীতির জন্য দুর্বলতা তৈরি করবে। বাজেটের ঘাটতিজনিত প্রক্রিয়ার সমন্বয় এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল। গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এ বাজেট কি কর্মসংস্থানমুখী? কর্মসংস্থান না হলে এটা হবে বেশি দুশ্চিন্তার বিষয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন ভ্যাট আইন ২০১৭ সালের ১লা জুলাই থেকে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া ছিল। কিন্তু বছরজুড়েই ব্যবসায়ীরা প্রবলভাবে এর বিরোধিতা করে আসছিলেন। তারপরও নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েই বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুই বছরের জন্য স্থগিতই রাখতে হলো নতুন ভ্যাট আইন।

বদলে গেছে আড্ডার বিষয় by শামীমুল হক

বদলে গেছে আড্ডার বিষয়। চা স্টল, গ্রামীণ বাজারের রেস্টুরেন্ট কিংবা গ্রামের মোড়ে মোড়ে আলোচনা এখন নির্বাচন নিয়ে। ঈদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এ বিষয়কে আরো উসকে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঈদকে পুঁজি করে ছুটে বেড়িয়েছেন নির্বাচনী আসনের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। ভোটারদের সঙ্গে কোলাকুলি করেছেন। কেউ কেউ জড়িয়ে ধরেছেন। আবার কেউ কেউ শক্রতা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করেছেন। সবার উদ্দেশ্য একটাই- নির্বাচনী প্রচারণা। ভোটারের মন জয় করা। দৃষ্টি কাড়া। এ অবস্থায় এবারের ঈদ যেন হয়ে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণার ঈদ। ঈদ উপলক্ষে দূরদূরান্ত থেকে সবাই গ্রামে ছুটে যান। একে অপরের সঙ্গে দেখা, পুরনো স্মৃতি নিয়ে আলোচনা হয়ে উঠে আড্ডার মধ্যমণি। কিন্তু এবার সেই জায়গা দখল করেছে নির্বাচন। আগামী বছর ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে এটা গ্রামেগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অনেকেই ভোট দিতে যাননি। নির্বাচন নিয়েও রয়েছে নানা কথা। সেই সব বিষয়ও আলোচনায় ঠাঁই করে নিচ্ছে। মঙ্গলবার শাহবাজপুর বাজারের এক আড্ডায় নির্বাচন প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হচ্ছিল। আলাউদ্দিন নামের একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা এখনও রয়ে গেছে। সরকার ২০১৪ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন না দিলেও নিজেরা ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন দেয়া এটা সন্দেহের। মহব্বত আলী নামের একজন তার কথার রেশ ধরে বলেন, এমনটি আর হবে না। এবার বিএনপি খালি মাঠে গোল দিতে দেবে না। বারৈউরা বাজারের এক চা স্টলে নির্বাচন নিয়ে তুমুল বিতর্ক। একজন বলছেন, আগামী নির্বাচনও শেখ হাসিনার অধীনেই হবে। মন্ত্রীরা এমন কথা জোর দিয়ে বলছেন। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, সহায়ক সরকার ছাড়া দেশে নির্বাচন হবে না। এ অবস্থায় নির্বাচন ঘনিয়ে এলে দেশ ফের সংকটে পড়বে। আবারও দুই দল মুখোমুখি হবে রাজপথে। অন্যজন বলছেন, না এবার যে ভাবেই হউক বিএনপি নির্বাচনে যাবে। আর একবার বিএনপি নির্বাচনে গেলে চিত্র পাল্টে যাবে। শাহজাদাপুর ইউপি চেয়ারম্যন রফিকুল ইসলাম খোকনের কার্যালয়েও ঈদ উপলক্ষে জমজমাট আড্ডা। এর প্রধান ইস্যু নির্বাচন। নির্বাচনী প্রচারণায় বেরুলে সব সম্ভাব্য প্রার্থীই যাচ্ছেন চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে। সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। নিজের জন্য দোয়া কামনা করছেন প্রার্থীরা। এ ব্যাপারে রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, নির্বাচনের এখনও বছর দেড়েক বাকি। তারপরও ঈদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন। ভোটারদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এটা ভালো  দিক। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন যে সবার অংশগ্রহণে হবে এটাই তার নমুনা। বিএনপি যতই বলুক নির্বাচনে যাবে না। অবস্থা দেখে কিন্তু তা মনে হয় না। আর ভোটারদেরও আশা সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। সরাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আইয়ুব খান বলেন, এবারের ঈদে বাড়তি আকর্ষণ ছিল নির্বাচনী প্রচারণা। মনে হচ্ছে যেন নির্বাচন সামনে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ এমনটাই বুঝা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এখন সর্বত্র আলোচনার বিষয় নির্বাচন। সরাইল বিশ্বরোড মোড়ের ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান বলেন, বহুদিন পর এবার দুই দলের নেতাদের একে অপরের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে দেখলাম। এমন দৃশ্য বাংলাদেশে অনেক দিন দেখা যায়নি। এ দৃশ্যই বলে দিচ্ছে এবার নির্বাচন হবে অন্যরকম। দেশের সাধারণ মানুষ যেরকম নির্বাচন চান সেরকম নির্বাচন। যে নির্বাচনে সকল দল অংশ নেবে। কেন্দ্রে ভোট দেবে বিনা বাধায়। যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে। কেন্দ্র দখল হবে না। এমন নির্বাচনের অপেক্ষায় আছি আমরা। তিনি বলেন, আশা করি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমাদের এ চাওয়া পূরণ করবেন। সরাইল সকাল বাজারের ব্যবসায়ী মমিন বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা দোয়া নিতে আসছেন। হাত মিলাচ্ছেন। কোলাকুলি করছেন। খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে কদিন পরই যেন নির্বাচন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাহবাজপুর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবর্ধনা দেয়া হয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপপরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীকে। সেখানেও বক্তব্যে উঠে আসে নির্বাচন প্রসঙ্গ। বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি নিয়ে ঘরে ঘরে যেতে হবে। বর্তমান সরকার জনবান্ধব সরকার। এ সরকারের আমলে রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মাথা পিছু আয় বেড়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এসব জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব নিতে হবে আওয়ামী লীগে নেতা-কর্মীদের। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী দৌড়ঝাঁপ করছেন। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে রয়েছেন উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম শিউলি আজাদ। নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে নেমেছেন বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু। ঈদকে কেন্দ্র করে আরো  কয়েকজন মাঠে নেমেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা মঈন উদ্দিন মঈন, ফরহাদ রহমান মাক্কি। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও বসে নেই। বিএনপির যারা আলোচনায় রয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুস সাত্তার উকিল, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শেখ মোহাম্মদ শামীম। সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি, উপজেলা চেয়ারম্যন অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টার, ড. আজিজুর রহমান। আর জাতীয় পার্টি থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা। ইসলামী ঐক্যজোটের হাসনাত আমিনীকে ঘিরে তার কর্মী-সমর্থকরাও বসে নেই। এর মধ্যে কেউ কেউ ঈদে বিতরণ করেছেন উপহার সামগ্রী। বুধবার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের সবক’টি গ্রামে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন শিউলি আজাদ। তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের খোঁজ খবর নিয়েছেন। দুয়েকটি পথসভাও করেছেন। শাহজাদাপুর ইউনিয়নে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে শিউলি আজাদ বলেন, ধারাবাহিক সরকার থাকলে দেশের যে পরিবর্তন হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা দেখিয়ে দিয়েছেন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আরো একবার আপনারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনুন। দেখবেন বাংলাদেশ বিশ্বে স্বয়ংসম্পূর্ণ এক দেশ হিসাবে স্থান করে নিয়েছে। এমনিতেই শেখ হাসিনার সরকার দেশকে পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত করে এনেছে। জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার। শিক্ষাখাতকে গুরুত্ব দিয়ে নিরক্ষরতার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনছে। এ ছাড়া বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী শেখ শামীম লালপুর, শরীফপুর, তালশহর ও তারুয়া ইউনিয়নের ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। সরাইল সদর, কালিকচ্ছ, নোয়াগাঁও ও আশপাশের ইউনিয়ন চষে বেড়িয়েছেন অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ওদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারও মাঠে নেমেছেন। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তারপরও আমরা এলাকায় কাজ করছি। ভোটারদের কাছে সরকারের দুঃশাসন, লুটপাটের চিত্র তুলে ধরছি।

ট্রাম্প কী কাশ্মীর প্রশ্নে মধ্যস্থতা করতে যাচ্ছেন? by হামিদ মীর

বিষয়টা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র  মোদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঈদ উপহার প্রদানের মতো। মার্কিন প্রশাসন ২৬শে জুন যখন হিজবুল মুজাহিদীন প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিনকে বিশেষ বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করলো, তখন উপমহাদেশের মুসলমানেরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করছিল। কিছুক্ষণ পর ওয়াশিংটনে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ট্রাম্প। ভারতীয় মিডিয়া এই ঘোষণাকে ‘ভারতের জন্য বড় একটি’ জয় হিসেবে তুলে ধরে। পাকিস্তানি মিডিয়া একে ‘মোদিকে খুশি করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যায় কাজ’ হিসেবে অভিহিত করে। ওই রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নীরব থাকলেও দুই  দেশের মিডিয়া যুদ্ধ, বিশেষ করে টিভি চ্যানেলগুলোর মধ্যে বাদানুবাদ এমন উগ্র জাতীয়তাবাদে পরিণত হয় যে, তা কর্মকর্তাদের মধ্যকার কূটনৈতিক বিরোধের চেয়েও খারাপ হয়ে দাঁড়ায়।
নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ওই রাতে দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিসম্পন্ন দুই  দেশের মধ্যকার বাড়তে থাকা উত্তেজনাই ফুটিয়ে তুলেছিল ওই মিডিয়া যুদ্ধ। প্রশ্ন হলো, কেন অনেক ভারতীয় সৈয়দ সালাহউদ্দিনকে ‘সন্ত্রাসী’ বিবেচনা করে আর  বেশিরভাগ পাকিস্তানি তাকে ‘স্বাধীনতা  যোদ্ধা’ বিবেচনা করে? ধারণা সব সময় বাস্তব না হলেও প্রায়ই তা বাস্তবতার  চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রায়ই অতিরঞ্জিত হওয়ার কারণ বাস্তব তথ্য ও অভিমতের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকে। ভারতের বোঝা প্রয়োজন, পাকিস্তানে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাইয়িদ এবং জৈশ-ই-মোহাম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে যে দৃষ্টিতে দেখা হয়, সৈয়দ সালাহউদ্দিনকে বিবেচনা করা হয় ভিন্নভাবে। অনেক পাকিস্তানি জম্মু ও কাশ্মীরে হাফিজ সাইয়িদ ও মাসুদ আজহারের ‘হস্তক্ষেপ’ পছন্দ করে না। কারণ এ দুজন কাশ্মীরি নন। কিন্তু সৈয়দ সালাহউদ্দিনের ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা মনে করে, তিনি শ্রীনগর থেকে আসা শিক্ষিত কাশ্মীরি, তিনি ১৯৮৭ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে ভোট কারচুপির পর বন্দুক হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
হিজবুল মুজাহিদীনের (এইচ এম) মধ্যে পীর সাহেব নামে তিনি পরিচিত। সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধান পারভেজ মোশাররফও তাকে এমনই বিবেচনা করেন। সালাহউদ্দিন ১৯৮৭ সালে মুসলিম ইউনাইটেড ফ্রন্টের (এমইউএফ) হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। ন্যাশনাল কনফারেন্স অভিযোগ করে, পিডিএফ-প্রধান মুফতি  মোহাম্মদ সাইয়িদ নীরবে সৈয়দ সালাহউদ্দিনকে (তিনি সৈয়দ ইউসুফ শাহ নামে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন) সমর্থন করছেন।
নির্বাচনে সালাহউদ্দিন হেরে যান। পরে তিনি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনেন। তাকে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়। ১৯৮৯ সালে তিনি এইচএমে যোগ দেন। এই দলটি আসলে শুরু করেছিলেন সাবেক স্কুলশিক্ষক মাস্টার আহসান দার। সীমান্ত অতিক্রম করে তিনি আফগানিস্তানে প্রবেশ করেন। খোশত এলাকায় গিয়ে পীর সাহেব আলবদর প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যোগ দেন। এই ক্যাম্পটি একসময় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হিজব-ই-ইসলামী প্রধান গুলবুদ্দিন  হেকমতিয়ার। প্রথমদিকে এইচ এম ক্যাডাররা পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নয়, বরং আফগানিস্তানের আল-বদর ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিতেন। সাবেক সোভিয়েত  সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে অস্ত্র সরবরাহ করতো। পীর সাহেব ১৯৯১ সালে এইচএমের প্রধান কমান্ডার হন। অস্বীকার করার উপায় নেই, ১৯৯৫ সালে বেনজির ভুট্টো তালেবান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দিতে শুরু করলে পাকিস্তান এস্টাবলিশমেন্টের সঙ্গে ব্যবধান বাড়তে থাকে হেকমতিয়ারের। হিজব-ই-ইসলামী এবং এইচএম- উভয়ের সঙ্গে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আর ওই সময় জামায়াতে ইসলামী ছিল বিরোধীদলীয় নেতা নওয়াজ শরিফের ঘনিষ্ঠ মিত্র। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝিতে পীর সাহেব ঘোষণা করেন, তিনি তার সংগঠনকে জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতা থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। এইচএম আর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকবে না। আর জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণ ‘সশস্ত্র প্রতিরোধ’ আন্দোলন শুরু করবে। এই পদক্ষেপ হিজবুল মুজাহিদীনের মধ্যে ভাঙনের সৃষ্টি করে। জামায়াত ও  হেকমতিয়ারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কিছু জঙ্গি স্থানীয় পশতু বখত জামিন খানের কমান্ডে আলবদর মুজাহিদীন প্রতিষ্ঠা করে।
জামায়াতের কাছ থেকে সম্পর্কচ্যুত হওয়াটা ছিল পীর সাহেবের একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ। তিনি পাকিস্তানের সব রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে আরো বেশি সমর্থন লাভ করতে চেয়েছিলেন। তিনি এরপর প্রধান প্রধান সব রাজনৈতিক দলের  নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেন। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে তার সঙ্গে আমার প্রথম বৈঠকের কথা মনে আছে। আমার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি স্রেফ সিংয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করছি। তিনি যদি মুক্তিযোদ্ধা হয়ে থাকেন, তবে আমিও তা। তিনি সন্ত্রাসী হয়ে থাকলে, আমিও তা।’ পীর সাহেব জম্মু ও কাশ্মীরের সশস্ত্র সংগ্রামকে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করার মাধ্যমে পাকিস্তানের অনেক উদার রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীর মনোযোগ আকর্ষণ করেন। বস্তুত, তিনি ইউনাইটেড জিহাদ কাউন্সিলের কাঠামোর মধ্যে লস্কর-ই- তৈয়বা এবং জৈশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে  যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে তিনি কখনো হাফিজ সাইয়িদ ও মাসুদ আজহারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলেননি। তারপর নওয়াজ শরিফ সরকারের সঙ্গে তার মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়। ১৯৯৯ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি বাসে করে লাহোরে গেলে এইচএমের অন্যতম কমান্ডার আবদুল মজিদ দার ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলন করে ‘কাশ্মীরিদের সঙ্গে গাদ্দারি’ করার জন্য নওয়াজ শরিফকে অভিযুক্ত করেন। এর কিছুদিন পরই ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে মোশাররফ উৎখাত করেন নওয়াজ শরিফকে।
ইতিহাসের চাকাটি কিভাবে বৃত্ত পূরণ করলো, তা দেখতে পাওয়াটা খুবই আগ্রহ-উদ্দীপক ঘটনা। আমেরিকান বার্তাবাহক মনসুর ইজাজের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন পীর সাহেবের সঙ্গে  যোগাযোগ করে। ইজাজের সঙ্গে তার প্রথম বৈঠকটি নির্ধারণ করে দেন সাবেক আইএসআই অপারেটর খালিদ খাজা। পীর সাহেবের মতে, ক্লিনটন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইজাজ একটি বার্তা তাকে পৌঁছে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বৈঠকে ইজাজের মা যোগ দেন। তিনি ছিলেন মোশাররফের মায়ের পুরনো বান্ধবী। পীর সাহেবের কাছে শান্তিচুক্তি প্রদানের আগে ইজাজ দিল্লি ও শ্রীনগরের অনেক কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার জন্য মোশাররফও পীর সাহেবের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তারপর ২০০০ সালের জুলাই মাসে আইএসআই প্রধান জেনারেল মেহমুদ আহমদ শান্তিচুক্তিতে রাজি করান আবদুল মজিদ দারকে। ক্লিনটন প্রশাসন নীরব থাকে, তবে মনসুর ইজাজ নিশ্চিতভাবেই তৃতীয় পক্ষের হয়ে কাজ করছিলেন। পাকিস্তান ঠিক যা চাইছিল, তা-ই ঘটে। বাজপেয়ির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার হিজবুল মুজাহিদীনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। তবে দলটির মধ্যেই বিদ্রোহ  দেখা দেয়। নিয়ন্ত্রণ রেখা জুড়ে থাকা অনেক হিজব কমান্ডার পীর সাহেবের কাছে বার্তা পাঠিয়ে বলতে থাকেন, ভারত এটাকে ‘স্বাধীনতা আন্দোলনের’ মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করতে ব্যবহার করবে। কিন্তু যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হয়নি। ফলে আলোচনার মাঝপথেই পীর সাহেব তা থেকে সরে আসেন।
২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে। কাশ্মীরের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। আবদুল মজিদ দার নিজেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখতে পান। কিছু দিন পর তিনি গুপ্তহত্যার শিকার হন। এখন প্রশ্ন হলো, হিজবুল মুজাহিদীন যদি সন্ত্রাসী সংগঠনই হবে, তবে কেন বিজেপি সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে গেল? সাবেক ‘র’-প্রধান এ এস দৌলতের বই ‘কাশ্মীর- দি বাজপেয়ি ইয়ার্স’-এ সালাহউদ্দিনের ব্যাপারে আরো অনেক কাহিনী দেখা যায়। এক ঘটনায় দেখা যায়, সালাহউদ্দিন তার ছেলেকে  মেডিকেল কলেজে ভর্তি করার কাজে সহায়তা করার জন্য আইবি অফিসার  কে এম সিংয়ের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ফারুক আবদুল্লাহ রাজি হয়েছিলেন। তিনি পীর সাহেবকে ভক্তি করতেন। তার ছেলে ভর্তি হয়েছিল, পীর সাহেব  কে এম সিংকে ডেকে বলেছিলেন, ‘তোমার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’ এ এস  দৌলত তার বইয়ে যে দাবি করেছেন,  সে ব্যাপারে আমি জানতে চাইলে পীর সাহেব তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এই তথ্য বিকৃতি করেছে।
সালাহউদ্দিন যে ভণ্ড তা প্রমাণ করার জন্য পীর সাহেবের অনেক বিরোধী এই বইটি ব্যবহার করেন। এমন  প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন তাকে বিশেষ সন্ত্রাসী ঘোষণায় তা তার জন্য বেশ ভালো ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। মোদি ও সৈয়দ সালাহউদ্দিন উভয়কেই খুশি করেছেন ট্রাম্প। পীর সাহেব এমনটাই  চেয়েছিলেন। কাশ্মীরিদের স্বার্থের ব্যাপারে কেউ তার আন্তরিকতা নিয়ে সংশয় পোষণ করতে পারে না। মোদি ও পীর সাহেব উভয়কেই ঈদ উপহার দিলেন ট্রাম্প। সম্ভবত হিজবুল মুজাহিদীন কেবল জম্মু ও কাশ্মীরেই নয়, পাকিস্তানেও মার্কিনবিরোধী ভাবাবেগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। এইচএম কমান্ডার বুরহান মুজাফফর ওয়ানির প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ৮ই জুলাই। ট্রাম্প কাশ্মীর উপত্যকায় ভারতীয় পতাকার পাশাপাশি আমেরিকান পতাকাও  পোড়ানোর সুযোগ করে দিলেন। তবে এটা কাশ্মীর আন্দোলনে জোরালো বিবৃতি দিতে নওয়াজ শরিফের ওপর আরো চাপই সৃষ্টি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সৈয়দ সালাহউদ্দিনকে বিশ্ব সন্ত্রাসী ঘোষণায় তার ওপর কী প্রভাব পড়বে? তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারবেন না বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সম্পদ রাখতে পারবেন না।
বস্তুত এটা ভারতের জন্য একটি কূটনৈতিক জয়। একইভাবে এটা পীর সাহেবের জন্য কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে আগ্রহী নন বা সেখানে সম্পদও জমাতে চান না। ওসামা বিন লাদেনের সহযোগী তার গুরু হেকমতিয়ারকেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিশ্ব সন্ত্রাসী  ঘোষণা করেছিল। তিনি জাতিসংঘেরও কালো তালিকাভুক্ত ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। বৃটিশ গার্ডিয়ান পত্রিকায় হেকমতিয়ার সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘আফগান শান্তিচুক্তিতে কাবুলের কসাইকে ক্ষমা করা হয়েছে।’ হেকমতিয়ার গত ৪ঠা  মে কাবুলে ফিরেছেন। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ণ সমর্থন ছিল। পাকিস্তানে অনেকে সৈয়দ সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণাটিকে দিল্লির সঙ্গে আলোচনা শুরুর জন্য হিজবুল মুজাহিদীনের ওপরই নয়, সেই সঙ্গে পাকিস্তানের ওপরও একটি কৌশলী চাপ বলে মনে করেন। কেউই অস্বীকার করে না, কাশ্মীর বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান নিহিত রয়েছে সংলাপে। কিন্তু মনে হচ্ছে, ভারতীয় ও পাকিস্তানি মিডিয়া তা না চাইলে সেটা হওয়ার নয়। তারা আরো দীর্ঘ সময় একে অপরকে অভিযুক্ত করে যাবে। এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরে চরমপন্থিদের হুমকি নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। কারণ আইএসআইএস কাশ্মীরি পাথর-নিক্ষেপকারীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের  চেষ্টা করছে। তবে একদিন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আলোচনায় বসে সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে কথা বলবে।
নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ট্রাম্প ভারত-পাকিস্তান ‘দ্বিপক্ষীয়’ সম্পর্কে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছেন। এটা সম্ভবত কাশ্মীর বিরোধে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার শুরু।
[লেখক: পাকিস্তানের শীর্ষ স্থানীয় সাংবাদিক, জিও নিউজের ডেইলি শো ‘ক্যাপিটাল টক’-এর উপস্থাপক]
মূল: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। অনূদিত নিবন্ধটি নেয়া হয়েছে সাউথ এশিয়ান মনিটর থেকে।

কেন এখনো সিঙ্গেল টাবু!

অন্য ধারার অভিনয়ে চিরকালই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন টাবু। একের পর এক জুটি বেঁধেছেন বিভিন্ন নায়কের সঙ্গে। পেয়েছেন দর্শকের প্রশংসা। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এখনো সিঙ্গল। কিন্তু কেন তিনি সিঙ্গেল? এই নিয়ে এতদিন পরে মুখ খুলে বিস্ফোরক উত্তর দিলেন অভিনেত্রী। মুম্বই মিররকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কাজলের স্বামী অজয় দেবগণের জন্য নাকি তিনি আজও সিঙ্গেল! তবে টাবুর সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক ছিল অজয়ের? সে কারণেই কি আজও একা রয়েছেন তিনি? আসল ঘটনাটি ঠিক কী? আসলে টাবু ও অজয় দীর্ঘ ২৫ বছরের বন্ধু। ছোটবেলায় টাবুর তুতো ভাই সমীরের প্রতিবেশী ছিলেন অজয়। সে সময় থেকেই টাবুর সঙ্গেও আলাপ তার। নায়িকা জানিয়েছেন, সে সময় তার ভাই সমীর এবং অজয় নাকি সব সময় তার ওপর নজরদারি করতেন। তিনি কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে কথা বলছেন সব খোঁজ রাখতেন দু’জন। এমনকি কোনো ছেলে যদি তার সঙ্গে শুধুমাত্র কথা বলতেন, তা হলেই তারা তাকে পেটানোর হুমকি দিতেন। আর সে কারণেই হয়তো আজও তিনি সিঙ্গল থেকে গেলেন! টাবুর কথায়, অজয় যা করেছে তার জন্য নিশ্চয়ই এখন অনুতাপ করে। আমি ওকে একদিন বলেছিলাম, আমার জন্য যেন ভালো  ছেলে খুঁজে দেয়। ‘বিজয়পথ’, ‘হকিকত’, ‘দৃশ্যম’, ‘ফিতুর’, ‘তক্ষক’-এর পর ফের ‘গোলমাল এগেন’-এ এক সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করবেন টাবু ও অজয়। তবে টাবুর এ হেন ‘অভিযোগের’ জবাবে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি অজয়।

ভারতে গরুর গোশত নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে মুসলিম ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা

ভারতে বিজেপিশাসিত ঝাড়খন্ডে আজ উন্মত্ত জনতা এক মুসলিম ব্যক্তিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ঝাড়খন্ডের রামগড় জেলায় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ উগ্রহিন্দুত্ববাদী জনতার হাতে আলিমুদ্দিন (৪২) ওরফে আসগার আলী নিহত হন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একটি মারুতি গাড়িতে করে গরুর গোশত নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে মারমুখী জনতা। প্রকাশ্য দিবালোকে ওই দুর্বৃত্তরা মারুতি গাড়িটি ভাঙচুর করে সেটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পুলিশ আহত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে গত ৩ দিনে রাজ্যটিতে এ ধরণের দ্বিতীয় ঘটনা ঘটল।
গত ২৭ জুন ঝাড়খণ্ডে মৃত গরু উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে উসমান আনসারি নামে এক মুসলিম ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই উসমানের বাসায় আগুন ধরিয়ে দেয় উন্মত্ত জনতা।
হামলাকারী জনতার দাবি, আনসারির বাড়ির বাইরে থেকে এক মরা গরু উদ্ধার হয়েছে। এদিকে, আজ রামগড়ের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা থাকায় এলাকায় পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ড পুলিশের মুখপাত্র এবং এডিজি (অপারেশনস) আর কে মল্লিক বলেন, ওই ঘটনায় পুলিশ এফআইআর দায়ের করছে। উদ্ধার হওয়া গোশতের নমুনা ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এরপরেই বোঝা যাবে তার কাছে কীসের গোশত ছিল।
সূত্র : ওয়েবসাইট

আল জাজিরার পাশে মানবজমিন

খুব সম্ভবত, ইতিহাসের এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সাক্ষী হচ্ছি আমরা। তার আগে একটু পেছনে তাকিয়ে দেখা যাক। চিন্তা আর বিবেকের স্বাধীনতার লড়াইয়ের ইতিহাস বহু পুরনো। সপ্তদশ শতকে ইংরেজ কবি জন মিল্টন বৃটিশ রাজার সঙ্গে এ নিয়ে লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছিলেন। অ্যারিওজিটিকায় তার দৃপ্ত উচ্চারণ ছিল- ‘দাও আমায়, জ্ঞানের স্বাধীনতা দাও, কথা কইবার স্বাধীনতা দাও, মুক্তভাবে বিতর্ক করার স্বাধীনতা দাও। সবার উপরে আমাকে দাও মুক্তি।’
কিন্তু সেই মুক্তি যে কতদূর- মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি তা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। কাতার ইস্যুতে মুসলিম দুনিয়া এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ সৌদি আরবের পক্ষে। সৌদি জোটের অবরোধের কারণে কাতার এখন অনেকটাই কোণঠাসা। এ পরিস্থিতিতে দেশটির প্রতি ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে সৌদি জোট। যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে- আল জাজিরা টিভি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়ার শর্ত। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক-কূটনৈতিক সংকটের সুরাহায় এমন দাবি আর উত্থাপিত হয়েছে কি-না কে জানে।
আল জাজিরার শুরুর ইতিহাস ছিল চমকপ্রদ। দুই দশক আগে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানায় যাত্রা শুরুর সময়ই এই চ্যানেল ঘোষণা করেছিলো, সম্পাদকীয় নীতির ক্ষেত্রে তারা থাকবে স্বাধীন। বহু ক্ষেত্রেই হয়তো তাদের ঘোষণা বাস্তবে সত্য হয়নি। তবে যাদের কোনো কণ্ঠ ছিল না এমন অনেকের পক্ষেই সোচ্চার হয়ে সংবাদ মাধ্যমের ইতিহাসে নিজের জায়গা নিশ্চিত করে আল জাজিরা। নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর পক্ষে দাঁড়িয়ে প্রশংসা কুড়ায় সাধারণ মানুষের। আল জাজিরাই প্রথম ফিলিস্তিনের ওপর নিপীড়নের লাইভ সম্প্রচার শুরু করে। তবে ওসামা বিন লাদেনের টেপ প্রচার করে সমালোচনার মুখেও পড়ে টিভি নেটওয়ার্কটি।
আল জাজিরার ওপর সৌদি জোটের রাগ অবশ্য বহু পুরনো। এখন জানা যাচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান মার্কিন সামরিক বাহিনীকে আল জাজিরা চ্যানেলের অফিসে বোমা মারার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ চলার সময় ও ইরাক যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে মার্কিন কূটনীতিকদের কাছে এ আহ্বান জানান তিনি। উইকিলিকসের ফাঁস করা একটি মার্কিন কূটনীতিক তারবার্তায় এমন ইঙ্গিত মিলেছে। ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় আল জাজিরা রীতিমতো প্রতিষ্ঠিত। এ আন্দোলনে সবচেয়ে বড় উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করেছে চ্যানেলটি। অনেক আরব শাসকই এ ব্যাপারে ভীত ছিলেন। মুসলিম ব্রাদার হুডের মতো সংগঠনের প্রতি আল জাজিরার এক ধরনের সমর্থন রয়েছে। যে সংগঠনটির ব্যাপারে আবার ভীতি রয়েছে পুরো আরব বিশ্বেই।
অবশ্য আল জাজিরা যখন চাপে রয়েছে তখন ‘মুক্তবিশ্ব’ প্রতিষ্ঠানটির পাশে দাঁড়িয়েছে। ৮০টির মতো সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও এ নিয়ে মুখ খুলেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মত প্রকাশ ও বাকস্বাধীনতা বিষয়ক দূত ডেভিড কায়ি বলেছেন, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি বন্ধের শর্ত মিডিয়ার স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ভয়াবহ হুমকি। ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জগতে সংবাদমাধ্যমে যে একমুখী কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হতো, আল-জাজিরা সেই অচলায়তন ভেঙে নিয়ে ভিন্নধারায় খবর পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় হতে থাকে। ইসলামী শরীয়াকে আলোচনায় নিয়ে আসে সংবাদমাধ্যমটি। যেটা আরব দুনিয়ার অন্যান্য মিডিয়ায় আগে কখনও আলোচিত হয়নি। আল জাজিরার পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করেছে সংবাদমাধ্যমগুলোর জোট ডিজিটাল কনটেন্ট নেক্সট। বিবিসি, গার্ডিয়ান, নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো শীর্ষ সংবাদমাধ্যম এ জোটের অন্তর্ভুক্ত। ডিজিটাল কনটেন্ট নেক্সটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকের স্বাধীনতাকে সমর্থন করি। সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরুদ্ধ করা এর পরিপন্থি। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক সম্পাদকীয় ভাষ্যে বলা হয়েছে, পুরনো ধারার একমুখী আরবীয় স্বরের বিপরীতে আল জাজিরা ভিন্ন স্বর নিয়ে হাজির হওয়া এক মিডিয়া। আর নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সম্পাদনা পরিষদের মতামতে বলা হয়েছে, আল জাজিরা বন্ধের পাঁয়তারা একটি জোরালো কণ্ঠস্বরকে দমন করার প্রচেষ্টা। এই পরিস্থিতিতে মানবজমিন তার সুস্পষ্ট সমর্থন ঘোষণা করছে আল জাজিরার প্রতি। আসুন আমরা আল জাজিরার পাশে দাঁড়িয়ে আওয়াজ তুলি, মুক্ত দুনিয়া রুখে দাঁড়াও।
এটা খোলাসা করা প্রয়োজন, আল জাজিরার সম্পাদকীয় নীতির বহু কিছুই আমরা সমর্থন করি না। কিন্তু কোনো সংবাদমাধ্যমকে হত্যা করার নীতিও আমরা সমর্থন করি না। বরং আমরা স্মরণ করি ভলতেয়ারের উক্তি বলে পরিচিতি পাওয়া সেই বিখ্যাত উক্তিটি- ‘আমি তোমার মতের সঙ্গে একমত না হতে পারি, কিন্তু তোমার মত প্রকাশের অধিকার রক্ষায় আমি জীবন দিতেও প্রস্তুত।’ সবার উপরে বলি, ‘সাংবাদিকতা পাপ নয়।’

পকেটমার চার বোনের রাজত্ব by প্রতীক ওমর

যে কোনো পেশার মানুষ যদি নিবেদিত হয়, পেশার প্রতি অবহেলা না করে তাহলে তারা এক সময় প্রতিষ্ঠিত হবেই। এটাই স্বাভাবিক। পকেটকাটা পেশায় এরকম দৃষ্টান্ত রাখলেন বগুড়ার সেই পকেটমার পল্লীর আপন চার বোন। শহরের উত্তর চেলোপাড়ার তাজের মেয়ে বললেই সেখানকার মাটিসুদ্ধ তাদের চেনে। দুলি বেগম, রেখা বেগম, সূর্য বেগম এবং রাজ কুমারী। একসময় তারা যাযাবর জীবনযাপন করলেও বর্তমানে তারা কোটি কোটি টাকার মালিক। জায়গাজমি বিল্ডিংবাড়িও আছে। উত্তর চেলোপাড়ায় চার বোনের জায়গা জমি এবং বিল্ডিংবাড়ি এক সঙ্গেই। এদের মধ্যে দুলি বেগমের বাড়ি দুটি। বাকিগুলোর একটি করে হলেও নিজ এরিয়ায় একাধিক জায়গা কেনা আছে তাদের। সুযোগমতো সে জায়গাগুলোতেও হয়তো বিল্ডিংবাড়ি উঠে যাবে। বর্তমানে এই চার বোনের রাজত্ব চলছে উত্তর  চেলোপাড়া জুড়ে। এই চার বোনের বয়স ২৫ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। ছোট থেকেই পকেটকাটা পেশার সঙ্গে যুক্ত হয় তারা। এক সময় হয়ে উঠে এই পেশার অন্যতম পরিচিত জন হিসেবে।
বিয়ে হয় পর্যায় ক্রমে নান্টু, রশিদ, মজনু এবং পাতারুর সাথে। এরা দেশ বিখ্যাত পকেটমার। এদের মধ্যে নান্টু এবং পাতারু বেশি অভিজ্ঞ। এরা বেশির ভাগ সময় দেশের বাইরে ভারতে পকেটমারের কাজ করে। তিন চার মাস পরপর এলাকায় আসে সংক্ষিপ্ত সফরে। দুলি বেগমরা বর্তমানে পকেটমারের সঙ্গে জড়িত না থাকলেও নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি এরা বর্তমানে দাদন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এই দাদন ব্যবসাই রাতারাতি এই চার বোনকে রাজত্ব এনে দিয়েছে। আগের পর্বে উল্লেখ করেছিলাম এই পল্লীর নারীরা মাথায় করে বাড়ি বাড়ি ফেরি করে চুরি ফিতাসহ মেয়েদের প্রসাধনী বিক্রি করে থাকে। এই সব ব্যবসায়ী নারীদের তারা চড়া সুদে টাকা লোন দিয়ে থাকে। নিম্ন শ্রেণির এই সব মানুষের পাশাপাশি সাধারণ অনেক মানুষও এই চার বোনের সুদের টাকার কাছে হার মেনেছে।
স্থানীয় কিছু মানুষের সাথে কৌশলে কথা বলে জানা যায়, যেসব ব্যক্তি সুদের টাকা নিয়ে তাদের ফেরত দিতে পারেনি এক সময় আসল এবং সুদ মিলে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ হয়ে যায় তখন জোর করে তাদের জায়গা জমি দলিল করে নেয়। টাকা দিতে না পেরে এই সব মানুষ বাধ্য হয়েই তাদের কাছে জমি দলিল করে দেন। দুলি বেগমের নির্মাণাধীন নতুন বাড়ির জায়গাটিও এভাবেই দলিল করে নেয়া।
দুলি বেগমেরা চার বোন ছাড়াও এদের মতো আরো বেশ কিছু পকেটমার পরিবার এখানে জায়গা জমি কিনে ইটের বাড়ি করেছে। আয়ের অন্য কোনো পথ না থাকলেও এখানকার সেই পকেটমাররা রাজার হালেই চলছে। এদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপরাধের শতশত অভিযোগ থাকলেও প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দরা কেউ তাদের সঙ্গে পেরে উঠতে পারছেন না। সাধারণ মানুষ অনেকটাই জিম্মি হয়ে পড়েছে তাদের কাছে।
বগুড়া সদরের নারুলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, ওই চার বোন এক সময় বগুড়ার কুখ্যাত পকেটমার ছিল। এখন তারা সরাসরি এই পেশায় জড়িত না থাকলেও দাদন ব্যবসা করে তারা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। উত্তর চেলোপাড়ায় তারা বিল্ডিংবাড়িও তৈরি করেছে।