Friday, July 15, 2016

ব্রেক্সিটের চাপ নিয়ে যাত্রা শুরু থেরেসা মের

থেরেসা মে
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার প্রক্রিয়া (ব্রেক্সিট) শুরুর আসন্ন চাপ মাথায় নিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম পুরো একটি দিন অতিবাহিত করেছেন থেরেসা মে। তাঁর নিয়োগ ইইউ ছাড়ার প্রশ্নে গণভোট নিয়ে তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাজ্যে চলমান অস্থিরতার আপাতত অবসান ঘটাবে বলে মনে করছেন জোটের নেতারা। এদিকে বিশ্লেষকেরা বলছেন, নিজে ইইউ জোটে থাকার পক্ষপাতী হলেও ব্রেক্সিটের পক্ষের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে থেরেসা মে যুক্তরাজ্যকে সুষ্ঠুভাবে জোট থেকে বের করার ব্যাপারে তাঁর অঙ্গীকারকেই তুলে ধরেছেন। থেরেসা মের মন্ত্রিসভায় বেফাঁস মন্তব্যের জন্য পরিচিত লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ শুধু যুক্তরাজ্য নয়, প্রতিবেশী ফ্রান্সসহ পুরো ইউরোপকে বিস্মিত করেছে। এ মন্ত্রিসভায় বিদায়ী ক্যামেরন সরকারের বিচারমন্ত্রী মাইকেল গোভের বিদায়ও আলোচ্য বিষয় হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভায় আরও নেই শিক্ষামন্ত্রী নিকি মরগান ও সংস্কৃতিমন্ত্রী জন উইটেংডেল। সদ্য বিদায়ী মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ডের দপ্তর পরিবর্তন করে তাঁকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্রেক্সিটের পক্ষের প্রচারণাকারী বরিস জনসনের নিয়োগ বিস্ময় ছড়িয়েছে। ক্যামেরনের পদত্যাগ ঘোষণার পর কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ে মের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন বেফাঁস মন্তব্যের জন্য পরিচিত জনসন।
বিগত সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন মের মন্ত্রিসভায় স্বপদে রয়ে গেলেন। আর এত দিন নিজের কাছে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব মে তুলে দিয়েছেন সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী অ্যামবার রুডের হাতে। গণভোটে যুক্তরাজ্যের ইইউতে থেকে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তবে মন্ত্রিপরিষদে ব্রেক্সিটের পক্ষের দুজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এই দুজনের মধ্যে ইইউ ত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য গঠিত ব্রেক্সিট মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডেভিড ডেভিস। আর লিয়াম ফক্স দায়িত্ব পেয়েছেন এই জোটের বাইরে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার। ক্যামেরন মন্ত্রিসভার পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সদস্য সাজিদ জাভেদকে বাণিজ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বের স্থানীয় সরকারবিষয়ক মন্ত্রণালয় দিয়েছেন মে। অথচ সাজিদ জাভেদকে দলের উঠতি নেতা, এমনকি ভবিষ্যৎ প্রধান হিসেবে দেখছিলেন অনেকে। এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রধান মার্টিন শুলজ থেরেসা মের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, মের পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভা আগের ‘বিপজ্জনক রকম দুষ্টচক্রকেই’ অব্যাহত রাখবে, যা যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ উভয়ের ক্ষতি করবে। শুলজ বলেন, ক্যামেরনের আমলের মতোই জাতীয় স্বার্থরক্ষার চেয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটানোই এ মন্ত্রিসভা গঠনের লক্ষ্য।

টেরেসাই হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী

লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে টেরেসা মে।
মার্গারেট থ্যাচারের পর তিনিই যুক্তরাজ্যের
প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। এএফপি
টেরেসা মেই হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। ডেভিড ক্যামেরনের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড় থেকে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রিয়া লিডসম গতকাল সোমবার সরে দাঁড়ানোর ফলে টেরেসার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেল। এদিকে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বলেছেন, আগামীকাল বুধবারই পার্লামেন্টে প্রশ্নোত্তর পর্বের পর রানির কাছে পদত্যাগপত্র পেশ করবেন তিনি। টেরেসা মে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে মার্গারেট থ্যাচারের পর দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করতে চলেছেন। গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের পক্ষে রায় যাওয়ার পরপরই পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। সেপ্টেম্বরে তাঁর বিদায় নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নতুন নেতা নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় ক্যামেরন বুধবারই বিদায় নিচ্ছেন। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর টেরেসা মে একটি ‘উন্নততর যুক্তরাজ্য’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের ইইউ ত্যাগের বিষয়টি সফলতার দিকে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।  
ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়ার পক্ষে প্রচার চালানো অ্যান্ড্রিয়া লিডসম গতকাল সোমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বলেন, টেরেসা মে দলের ৬০ শতাংশ এমপির সমর্থন পেয়েছেন। আর তাঁর নিজের রয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ এমপির সমর্থন। তাই দলীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও ইইউ ছেড়ে আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে টেরেসা মেই অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থানে রয়েছেন। টেরেসা মে ইইউতে থাকার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। কনজারভেটিভ পার্টির ইইউবিরোধী অনেকের দাবি ছিল, গণভোটের ফলের পরিপ্রেক্ষিতে ইইউ ত্যাগের পক্ষের কারোই প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত। লিডসম সরে দাঁড়ানোর ফলে ইইউবিরোধী প্রচারণা যাঁরা চালিয়েছেন, তাঁদের কেউ আর জবাবদিহির স্থানে অবশিষ্ট রইলেন না। ইইউবিরোধী অন্যতম নেতা কনজারভেটিভ পার্টির বরিস জনসন শুরুতেই নাটকীয়ভাবে সরে যান। আরেক নেতা বিচারবিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল গোভ এমপিদের ভোটাভুটিতে বাদ পড়েন। আর আজীবন ইইউবিরোধী ইউকে ইন্ডিপেনডেন্ট পার্টির (ইউকিপ) নেতা নাইজেল ফারাজ বিদায় নিয়েছেন নেতৃত্ব থেকে ইস্তফা দিয়ে। তাই প্রশ্ন উঠেছে, ইইউ ত্যাগ করলে যুক্তরাজ্য লাভবান হবে বলে যেসব ওয়াদা করা হয়েছিল, তা সত্য প্রমাণিত না হলে কে জবাব দেবেন?
লেবার পার্টিতে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত পথে যাত্রা শুরু করেছে। সম্প্রতি ছায়া মন্ত্রিসভার পদ থেকে সরে দাঁড়ানো অ্যাঞ্জেলা ইগল দলের ২০ শতাংশ এমপির সমর্থন নিয়ে দলনেতা জেরেমি করবিনের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ফলে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া লেবার দলকে পুনরায় শুরু করতে হবে। জেরেমি করবিন ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে আবার প্রার্থী হবেন। তৃণমূলে তাঁর যে বিপুল সমর্থন, তাতে তিনি পুনরায় নেতা নির্বাচিত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। টেরেসা মে বয়স ৫৯ বছর
যুক্তরাজ্যের ইইউয়ে থাকার পক্ষে প্রচার চালালেও অভিবাসী প্রশ্নে কঠোর
পড়াশোনা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে
১৯৯৭ সাল থেকে এমপি
৬ বছর ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কট্টর ইসলামপন্থী বক্তাদের বিষয়ে কঠোর মনোভাবাপন্ন
সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে কাজ করেছেন
সূত্র: এএফপি

সাংবাদিকতা, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র

বিদেশে যখন আমি সাংবাদিকতা পড়ছিলাম, তখন আমার শিক্ষক বলেছিলেন, নিউজ স্টোরি বা সংবাদ প্রতিবেদন হওয়া উচিত স্কার্টের মতো। মানে, তা এতটা বড় হবে যাতে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে সব তথ্য দেওয়া যায়, আবার তা যেন আকর্ষণীয়ও হয়। বছরের পর বছর ধরে নিউজের স্টোরি অংশটা ফুলেফেঁপে উঠেছে, যার সঙ্গে অনিবার্যভাবেই অনেক উপাদান যুক্ত হবে। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা যখন এক এক করে মারা যাচ্ছেন, তখন আমাদের সামনে যে প্রশ্নের উদয় হয়েছে তা হলো, ভবিষ্যতে কোন ধরনের সাংবাদিকতা থাকবে। অবশ্যই ব্যাপারটা শুধু ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সবাই একই প্রশ্ন করছেন, কোন লক্ষ্মণরেখা সাংবাদিকদের অতিক্রম করা উচিত নয়? অথবা সাংবাদিকদের জন্য কোনো লক্ষ্মণরেখা আদৌ থাকা উচিত কি না?
ব্যক্তি নাগরিকেরা ক্রমবর্ধমান হারে একটি প্রশ্ন করে যাচ্ছেন, সাংবাদিকেরা কেন তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলাবেন। আর সাংবাদিকেরা আত্মরক্ষা করেন এ কথা বলে যে তাঁরা যদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেন, তাহলে তো ঝোলা থেকে বিড়াল বেরোবে না। আর সরকার বলে সেই গৎবাঁধা কথা: কিছু কিছু জিনিস জনস্বার্থে উন্মোচন করা ঠিক নয়। এভাবে অনেক বড় বড় কেলেঙ্কারির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়। মনে আছে, সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতিকে ডিঙিয়ে যখন অন্য একজনকে প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন আমি এর বিরুদ্ধে লিখলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আমার সমালোচনা করেছিলেন, বিচারপতিদের ‘অঙ্গীকার’ নিয়ে বয়ান দেওয়া সাংবাদিকদের কাজ নয়। তিনি অবশ্য বলেননি, সেই ‘অঙ্গীকার’ আসলে কী জিনিস। আমি বুঝি বিচারপতিরা সংবিধানের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ, কোনো ব্যক্তির প্রতি নয়, তা সেই ব্যক্তি যত বড়ই হোন না কেন। আসলে, ইন্দিরা গান্ধী চাইছিলেন, বিচারপতিরা যেন তাঁর কথা মেনে চলেন, অর্থাৎ তাঁর প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকেন। সে কারণেই তিনি তিন জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে ডিঙিয়ে বিচারপতি রায়কে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এমনকি তিনি সেই তিনজনকে আগে থেকে তা জানানোরও সৌজন্য দেখাননি। তাঁরা সবাই অল ইন্ডিয়া রেডিওতে সে খবর শুনেছিলেন।
এ ধরনের রাজনৈতিক দাদাগিরি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। কারণ, গণতন্ত্রের কাঠামো আসলে ক্ষমতার বিভাজন ও সীমাবদ্ধতার ওপর নির্ভরশীল। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সব অঙ্গ স্বাধীনভাবে কাজ করে, কিন্তু সেটাও এমনভাবে হওয়া উচিত যাতে সার্বভৌমত্ব জনগণের হাতেই থাকে। হ্যাঁ, শাসকেরা কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে যান বা নিকৃষ্টতম মোগল শাসকের মতো আচরণ করেন, সেটা ভিন্ন বিষয়। কথা হচ্ছে, গণতন্ত্র যাতে জনগণের স্বার্থে কাজ করে, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিচারকদের। আর বিচার বিভাগ সবার ওপরে, নাকি নির্বাহী বিভাগ—সেটা এক চলমান বিতর্ক। সাংবাদিকদের কাজ রাষ্ট্রের এই অঙ্গগুলো ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখা। এটা তাঁদের দায়িত্ব। তাঁরা যদি তা করার সাহস না দেখান, তাহলে তা খুব দুর্ভাগ্যজনক হবে। আমার মনে আছে, ৪১ বছর আগে ভারতে যখন জরুরি অবস্থা জারি করা হয়, তখন কীভাবে পুরো গণমাধ্যম ধসে পড়েছিল। শুরুতে সম্পাদকসহ সাংবাদিকেরা প্রেসক্লাবে জড়ো হয়ে প্রেস সেনসরশিপের প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তাঁরা এত ভীত হয়ে পড়েন যে ইন্দিরা গান্ধীর ছেলে সঞ্জয় গান্ধীর নির্দেশও পালন করতে শুরু করেন।
প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার একজন সদস্য হিসেবে আমি সংস্থাটির চেয়ারম্যান বিচারপতি আয়ারকে বলেছিলাম, কাউন্সিলের বৈঠক ডাকা হোক। আমি তখনো জানতাম না, ভয় ইতিমধ্যে তাঁকেও জি হুজুর বানিয়ে দিয়েছে। তিনি বললেন, বৈঠক ডেকে লাভ হবে না, কারণ এর খবর তো প্রচার হবে না। আমার যুক্তি ছিল, আমরা যদি প্রতিবাদ না করি তাহলে ভবিষ্যতে আর্কাইভ খুললে লোকে জানতে পারবে, প্রেস কাউন্সিল বা সাংবাদিকেরা এই লজ্জাকর জরুরি অবস্থার প্রতিবাদ করেননি। জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করার পর শ্বেতপত্র প্রকাশিত হলে আমি জানতে পারি, তিনি তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ভি সি শুক্লাকে চিঠি লিখেছিলেন, কীভাবে তিনি কুলদীপ নায়ারের প্রেস কাউন্সিলের বৈঠক ডাকার চেষ্টা রহিত করেছিলেন। একইভাবে, বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের স্বাধীনতার প্রশ্নটি আমার মনে ঘুরেফিরে আসে। আমি দেখছি, আমরা সাংবাদিকেরা যথাযথ মান অর্জন করতে পারিনি। ডিজিটাল প্রযুক্তি এসেও লাভ হয়নি। ওই ছোট ছোট নিউজ স্টোরিও কাজের কিছু নয়। বস্তুত ব্যাপারটা এত খারাপ পর্যায়ে গেছে যে সংবাদ কলামও এখন কেনা যাচ্ছে। এটা তো এখন ওপেন সিক্রেট যে কিছু কিছু স্টোরি আসলে টাকা দিয়ে করানো হয়। কিছু কিছু শীর্ষ সংবাদপত্র তো পত্রিকার জায়গা যারতার কাছে বিক্রি করে। তাদের কাছে ব্যাপারটা স্রেফ রোজগারের, আর কিছুর নয়।
আমরা কত উঁচুতে উঠেছিলাম, আর সেখান থেকে কোথায় নেমেছি? একসময় আমরা মুন্ধ্রা ইনস্যুরেন্সের মতো দুর্নীতির ঘটনা জনসমক্ষে আনতে পারতাম, তখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন টি টি কৃষ্ণাচারী। জওহরলাল নেহরু তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলেন। জনগণের দুঃখ-দুর্দশার ব্যাপারে ভারত উদাসীন। যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম একসময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নিরীহ ভুক্তভোগী মানুষের জন্য দাঁড়াত। যেমন সানডে টাইমস-এর কথাই বলা যায়, আমি এ পত্রিকার স্ট্রিংগার হিসেবে কাজ করেছি। তারা থ্যালিডোমাইড ওষুধের কারণে বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য যা করেছিল, তার জন্য মানুষ এখনো কৃতজ্ঞচিত্তে তাদের স্মরণ করে। মানুষের চাপের কারণে ওষুধ কোম্পানি ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়। আমরা কি আজ সে মানে আবার যেতে পারব? আমাদের সাংবাদিকদের সততাই তো প্রশ্নের মুখে পড়েছে, সেই উচ্চমানের কথা আর না-ই বললাম।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন।
কুলদীপ নায়ার: ভারতীয় সাংবাদিক।

অকেজো ইনডোর স্টেডিয়াম

সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরি করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের জলবায়ুতে সম্পূর্ণ অনুপযোগী। শীতপ্রধান দেশ আয়ারল্যান্ডের একটি স্টেডিয়ামের অনুকরণে তৈরি করায় গ্রীষ্মপ্রধান বাংলাদেশে তা অচল। গরমের মধ্যে খেলোয়াড়দের অনুশীলনের কষ্ট এবং অর্থের অপচয়ের খেসারত অবশ্যই দায়ী ব্যক্তিদের দিতে হবে। গরমকালে এর ভেতরের তাপমাত্রা থাকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাধারণভাবে বাইরের চেয়ে ভেতরের তাপমাত্রা থাকে ৫ ডিগ্রি বেশি। কারণ, এখানে বায়ুপ্রবাহের এবং শীতলীকরণের ব্যবস্থা নেই। আস্ত একটি ফুটবল মাঠের সমান এই ইনডোর স্টেডিয়ামের নকশা প্রণয়নের সময় এর বাস্তব উপযোগিতার দিকটি একেবারেই চিন্তা করা হয়নি। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, নির্মাণের আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও বিকেএসপির কয়েকজন কর্মকর্তা সরকারি খরচে ‘ধারণা নিতে’ আয়ারল্যান্ড সফর করেন। সেই রাজকীয় ধারণা অর্জনের ফল এখন হাতেনাতে ভোগ করছে বিকেএসপির খেলোয়াড়েরা।
স্পষ্টতই এটা শুধু আহাম্মকিই নয়, শাস্তিযোগ্য গাফিলতি। বাংলাদেশের মিরপুরেও ইনডোর স্টেডিয়াম আছে, প্রতিবেশী ভারতেও আছে। তা ছাড়া, অবাধ তথ্য ও জ্ঞান বিনিময়ের যুগে ‘ধারণা অর্জনে’ বিদেশ সফর অপ্রয়োজনীয়। তারপরও তাঁরা গেলেন এবং ফিরে এসে যে ধারণা প্রসব করলেন, তাতে যে কারোরই আক্কেল গুড়ুম হবে। যে প্রকৌশলীরা এর নকশা করেছেন, যে ঠিকাদার নির্মাণের দায়িত্বে, যে কর্মকর্তারা তদারকির দায়িত্বে ছিলেন, এই বিপত্তির দায় তাঁদের অবশ্যই নিতে হবে। উল্লেখ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে কিছু সংস্কারে রাজি হয়েছে। কিন্তু তাতেই দায় খালাস হয়ে যায় না। বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করা প্রয়োজন। ঢাকার উড়ালসড়কসহ একাধিক সরকারিভাবে নির্মিত স্থাপনায় বিদেশের অনুকরণ করতে গিয়ে মারাত্মক কারিগরি ভুলের ঘটনা স্মরণে রেখে বলতে হচ্ছে, ‘সত্যিই সেলুকাস! কী বিচিত্র এই দেশ!’ এসব ঘটনা সরকারি কর্মকর্তাদের যোগ্যতা ও নিষ্ঠা সম্পর্কে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি করে।

সিংহাসন ছাড়ছেন জাপান সম্রাট আকিহিতো

সিংহাসন ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাপানের সম্রাট আকিহিতো। স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি সিংহাসন ছাড়বেন। জাপানি গণমাধ্যম এনএইচকের বরাত দিয়ে বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। তবে কেন সিংহাসন ছাড়বেন এ ব্যাপারে এখনও নিজে কিছু জানাননি ৮২ বছর বয়সী এই সম্রাট। গত ২৭ বছর ধরে জাপানের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত আছেন তিনি। এই সময়ের মধ্যেই গড়ে উঠেছে আধুনিক জাপান। অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে দেশটিতে।
আকিহিতো সিংহাসন ছাড়লে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন বর্তমান ক্রাউন প্রিন্স নারুহিতো (৫৬)। সম্রাট আকিহিতো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালের শাসক সম্রাট হিরোহিতোর উত্তরসূরি। মৃদুভাষী সম্রাট আকিহিতো এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে জাপানের সম্পর্কোন্নয়নের পক্ষপাতী হিসেবে পরিচিত। তিনি একাধিকবার বলেছেন, জাপানের মানুষের যুদ্ধের বীভৎসতা ভুলে যাওয়া উচিত নয়। জাপানি রাজপরিবারে সম্রাট আকিহিতো হলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি সাধারণ কোনো পরিবারের কন্যাকে বিয়ে করেছেন। সাম্রাজ্ঞী মিচিকোকে বিয়ে করে তিনি রাজপরিবারকে জনসাধারণের আরও কাছে নিতে চেয়েছেন। আকিহিতো রাজপরিবারকে ‘মধ্যবিত্ত শাসক’ পরিবার হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৩৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর জন্ম নেন সম্রাট আকিহিতো। ১৯৮৯ সাল থেকে জাপানের সম্রাট তিনি। পৃথিবীতে সম্রাট পদটি একমাত্র জাপানেই রয়েছে।

তেরেসা মে সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি

ব্রিটেনের লৌহমানবীখ্যাত মার্গারেট থ্যাচারের পর ব্রিটিশ মুলুকের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গতকাল (বুধবার) দায়িত্ব নিয়েছেন নব্যনির্বাচিত সর্বোচ্চ টরি নেতা ও দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা মে। তার জীবন পঞ্জিকা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন। তেরেসা মে ১৯৫৬ সালের ১ অক্টোবর সাসেক্সের ইস্টবোর্নে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন একজন ধর্মযাজক। পূর্ব অক্সফোর্ডের হুইটলি অঞ্চলের এক চার্চের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পিতার সান্নিধ্যে থাকা অবস্থাতেই অক্সফোর্ডশায়ার থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন তেরেসা মে। এরপর রোমান ক্যাথলিকদের দ্বারা পরিচালিত বেগব্রোকের সেইন্ট জুলিয়ানা কনভার্ট গার্লস স্কুলে অধ্যয়ন করেন তিনি। পরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় শ্রেণীতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে চাকরি করেন তিনি। পরের দুই বছর তিনি অর্থনৈতিক পরামর্শক এবং আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাসোসিয়েশন ফর পেমেন্ট ক্লিয়ারিং সার্ভিসেস নামক একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে।
এরপরই ধীরে ধীরে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন তেরেসা মে। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত লন্ডন বোর অব মার্টনে পালন করেন কাউন্সিলরের দায়িত্ব। সেখানে তিনি শিক্ষা ও আবাসন সংক্রান্ত মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা লাভ করেন। নর্থ ওয়েস্ট ডারহামে থেকে ১৯৯২ সালে নির্বাচনে তিনি পরাজয়বরণ করেন কিন্তু ১৯৯৪ সালেই লেবার পার্টির মনোনয়ন নিয়ে মেইডেনল্যান্ডের এমপি নির্বাচিত হন। কনজারভেটিভদের দলে ভেড়ার পর ১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি দলটির শিক্ষা, প্রতিবন্ধী ও নারীবিষয়ক ছায়ামুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রকৃতপক্ষে ১৯৯৭ সালেই তিনি ছায়ামন্ত্রিসভার সদস্যপদ লাভ করেন। পরে ২০০২ সালের জুলাই মাসে কনজারভেটিভ পার্টির প্রথম নারী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় তাকে। ২০১২ সালের ১২ মে তার ওপর ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পণ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ক্যামেরনের প্রথম মেয়াদের মন্ত্রিসভায় তেরেসাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি নারী ও সমতাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও নিয়োজিত করা হয়। এই পদায়নের মাধ্যমে ব্রিটেনের ইতিহাসে শীর্ষপদধারী চতুর্থ নারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। তার আগে নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মার্গারেট থ্যাচার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মার্গারেট চেকেট এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শীর্ষ নারী হলেন জ্যাকি স্মিথ। তবে দেশটির ৬০ বছরের ইতিহাসে তিনিই সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
যে কারণে তিনি ব্রিটেনের জনপ্রশাসন ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব আরোপ করেছেন এবং ঢেলে সাজিয়েছেন দেশটির আইনশৃংখলা বাহিনী, মাদকনীতি, অভিবাসী ব্যবস্থাপনা, পারিবারিক অভিবাসন এবং বিতাড়ন প্রক্রিয়ার নিয়মাবলী। সমকামী বিবাহের স্বীকৃতির পক্ষেও সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। ব্রিটেনের ইতিহাসে প্রথম কোনো এমপি হিসেবে ২০১২ সালে প্রকাশ্যে সমকামী বিবাহের প্রতি সমর্থন জানান তিনি। সে সময় তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যদি দু’জন ব্যক্তি পরস্পরের প্রতি দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করতে চায় এবং পরস্পরের প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় তাহলে তাদের বিবাহ করার অধিকার থাকা উচিত এবং এই অধিকার সবার জন্যই প্রযোজ্য।’ ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন বিনিয়োগকারী ও ব্যাংকারকে বিয়ে করেছেন। তার স্বামী ফিলিপ মে ১৯৮০ সাল থেকে ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনালে কর্মরত। তাদের কোনো সন্তান-সন্তনি নেই এবং তা নিয়ে হতাশাবোধও আছে তাদের মধ্যে। ২০০৬ সালে সমাজের অনুপ্রেরণাদায়ী নারী হিসেবে পুরস্কার লাভ করেছেন এই নারী। সুবক্তা হিসেবে তেরেসা মের ব্যাপক পরিচিতি। লৈঙ্গিক সমতা বিষয়ে সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গেও তিনি দীর্ঘদিন থেকে জড়িত।

দক্ষিণ চীন সাগর রুলিং নিয়ে বৈশ্বিক সংঘাতের শংকা

পুরনো একটি মানচিত্র নিয়ে এশিয়া কি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছতে পারে? মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের হেগের এক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছেন যে, উনিশশ’ চল্লিশের দশকে দক্ষিণ চীন সাগরের বিশাল এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে চীন যে ‘নাইন ড্যাশ লাইন’ মানচিত্র এঁকেছিল তার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এ রায়টি বেইজিংয়ের জন্য ছিল ‘নাড়িভুঁড়ি বের করে আনা’র মতো। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের ব্যস্ত রুট এবং সম্পদে ভরপুর বিতর্কিত জলসীমায় তাদের একক ও ঐতিহাসিক অধিকার রয়েছে। ওয়াশিংটনে এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত চুই টাঙ্কুই বলেছেন, ‘এতে নিশ্চিতভাবেই সংঘাত ঘনীভূত এমনকি মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হতে পারে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, রায়টি ফিলিপাইনের পক্ষে এতটা জোরালোভাবে এসেছে যে চীনের দর-কষাকষির জায়গাও কমে এসেছে। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের আইন বিভাগের অধ্যাপক ওয়াং জিয়ানগাইয়ু বলেন, ‘এতে চীনের মতো বিরাট দেশের জাতীয়তাবাদী মনোভাব আরও তুঙ্গে উঠবে। কার্যত এতে চীনের বহু মধ্যপন্থী লোকও রাতারাতি যুদ্ধবাজে পরিণত হবেন।’ ইউনিভার্সিটি অব সিডনির যুক্তরাষ্ট্র গবেষণা কেন্দ্রের রিসার্চ ফেলো অ্যাশলে টাউনশেন্ড বলেন, রায়টি যদি ফিলিপাইনের পক্ষে কম শক্তিশালী বিজয়ের হতো তবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশটি এ ইস্যুতে আলোচনার সুযোগ পেত। কিন্তু আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায়টি বেইজিংয়ের বিপক্ষে দ্ব্যর্থহীন এবং এর জবাবে চীন বিশ্বের চোখে তার সুনাম বজায় রাখার জন্য কম উদ্বিগ্ন হবে এবং আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গকারী হিসেবে কম ঝামেলার তকমাকে পাত্তা দেবে না। আইএচএসের এশিয়াবিষয়ক প্রিন্সিপাল অ্যান্টন আলিফান্দি বলেন, বড় যে দুশ্চিন্তা দেখা যাচ্ছে তা হচ্ছে চীন, যুক্তরাষ্ট্র্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মতো বড় শক্তিগুলোর মধ্যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় যুদ্ধের সম্ভাবনা।
তিনি বলেন, চীন উত্তেজনাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাইবে না যাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাঘাত করে এবং চীনকে হারাতে প্রয়োজনীয় সবকিছুই করে। তবে তিনি বলেন, এ ধরনের বিপদের ঝুঁকির ভুল হিসাবের সম্ভাবনা রয়েছে। কানো পক্ষ যদি যুদ্ধংদেহী নীতি অনুসরণ করে এবং মনে করে যে, অন্যপক্ষ পিছু হটবে তবে পরিস্থিতি দ্রুত নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। টাউনশেন্ড বলেন, যে নৌপথটি দিয়ে বছরে ৫ লাখ কোটি ডলারের পণ্য পরিবাহিত হয় সেখানে বৈশ্বিক সংঘাত বাধিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কারও স্বার্থই রক্ষা হবে না। এর মানে এই নয় যে, ঝুঁকি কম বলে যুক্তি দেয়া যায়, ঝুঁকি বেশ উচ্চমাত্রার। তিনি বলেন, বিনা উসকানিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি সম্পর্কে চীন পুরোপুরি অবহিত। সাংহাইয়ের ফুডান ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন ইন্সটিটিউটের সহযোগী ডিন অধ্যাপক শেন ডিঙ্গলি বলেন, বিতর্কিত জলসীমায় সামরিক নৌবন্দর বানানো চীনের আচরণে সম্ভবত কোনো পরিবর্তন আসবে না। তিনি বলেন, রায়ের পর ফিলিপাইন সংযত আচরণ করছে এবং কোনো আগ্রাসী বিবৃতি দেয়নি। আলোচনার মাধ্যমে ভালো কিছু হতে পারে। তবে টাউনশেন্ড বলছেন, রায়টি গলাধঃকরণ করা চীনের জন্য একটি তিক্ত পিল।

চট্টগ্রামে তিন দিনব্যাপী ভূমি উন্নয়ন কর মেলা শুরু

চট্টগ্রামে ৩ দিনব্যাপী ভূমি উন্নয়ন কর মেলা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য
রাখছেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন -যুগান্তর
চট্টগ্রামে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ব্যতিক্রমধর্মী ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) মেলা ২০১৬। নগরীর চান্দগাঁও সার্কেল ভূমি অফিসে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত। বুধবার সকাল ১০টায় এ মেলার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। দেশে এই প্রথম ভূমি উন্নয়ন কর তথা খাজনা প্রদানে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও হয়রানি কমানোর লক্ষ্যে এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হল চট্টগ্রামে
 চট্টগ্রামের মতো সারা দেশে ভূমি অফিসে এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হলে ভূমি মালিকরা যেমন সচেতন হবেন তেমনি নিজের জমির কর-খাজনা দিয়ে মালিকানা ধরে রাখতে হয়রানিও কমবে। জেলা প্রশাসক বলেন, ভূমি অফিসকে দালাল ও হয়রানিমুক্ত করতে এ ধরনের মেলা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এদিকে এ মেলার উদ্যোক্তা চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রহুল আমিন যুগান্তরকে বলেন, ‘বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, ভূমি মালিকরা যুগ যুগ ধরে ভূমি অফিসে আসেন না। দেন না কর-খাজনা। যে কারণে নিজের জমিটি নিয়ে সৃষ্টি হয় অনেক জটিলতা। একজনের জমি অন্যজনের নামে নামজারি হয়ে যায়। এতে করে পরবর্তী সময়ে হয়রানির শিকার হতে হয় ভূমি মালিকদের। এর সুযোগ নেন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।

বন্ধুভাবাপন্ন বেলজিয়ান কোচে মজেছেন মামুনুল

‘কোচ টম সেন্টফিট অত্যন্ত বন্ধুভাবাপন্ন। বল নিয়ে এবং বল ছাড়া ট্রেনিং করিয়েছেন। আমরা খুবই ভালো অনুভব করেছি’, বললেন জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। জাতীয় ফুটবল দলকে দু’দিনে তিন সেশন অনুশীলন করিয়েছেন সেন্টফিট। বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে পাঁচ দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্পের দ্বিতীয় দিন ছিল। নতুন বেলজিয়ান কোচ নিয়ে মামুনুলের কথা, ‘ফুটবলারদের সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছেন কোচ। খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলছেন। ভালো-মন্দ সবকিছু জেনে নিচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশে অনেক বিদেশী কোচের অধীনে অনুশীলন করেছি। হয়তো শুধু খেলার পদ্ধতিটাই পরিবর্তন হয়। বাকি সব একই তাদের। লাতিন কোচরা একটু ভিন্ন। দৌড় (রান) পছন্দ করেন তারা। অ্যাথলেটদের রানিং করানোর মতো। তাদের বাকি সব কিন্তু একই। ইউরোপীয় কোচদের মতো।’
মামুনুল যোগ করেন, ‘সেন্টফিট বন্ধুভাবাপন্ন। বলেন, যদি কারও ব্যথা থাকে সে যেন সরাসরি তাকে বলে। তিনি বিশ্রাম দেবেন। কিন্তু কেউ যদি ব্যথা নিয়ে অনুশীলন করে পরে বলে যে ব্যথা নিয়ে ট্রেনিং করেছি, তাহলে সেটি হবে শৃংখলাবিরোধী।’ কোচের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে মামুনুল বলেন, ‘কোচ বলে দিয়েছেন, তিন টাচেও গোল করা যায়। যত তাড়াতাড়ি ফিনিশ করা যায়, ততই মঙ্গল। এতদিন আমরা একজন স্ট্রাইকার নিয়ে খেলতাম। কোচ যেভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন তাতে তার সিস্টেমে ট্যাকটিক্যালি আগের মতোই রয়েছে। ফরমেশনে কিছু এদিক-ওদিক হতে পারে।’ সাবেক কোচ ক্রুইফ সেন্টফিটের মধ্যে পার্থক্য কী? মামুনুল বলেন, ‘ক্রুইফের সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিতে সময় লেগেছিল প্রায় ছয় মাসের মতো। তাকে ভয় পেতাম আমরা। একটা সময় সেই সম্পর্কটা বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাবা হিসেবে তিনি শাসন করতেন। আমার নিজের বাবার সঙ্গে যেভাবে কথা বলতাম সেভাবে তার সঙ্গেও কথা হতো। শুধু আমি নই, দলের সবার সঙ্গেই তার সম্পর্ক এমনই ছিল। নতুন কোচকে যতটুকু দেখেছি, তিনি বন্ধুবৎসল। যেভাবে আমাদের বলেন, সেভাবে যদি করতে না পারি তবে আমাদের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থাকবে বলে মনে হচ্ছে।’ মামুনুলের কথা, ‘আমাদের পরবর্তী ম্যাচ ভুটানের সঙ্গে। আমি মনে করি, একটাই ম্যাচ পরিবর্তন করে দিতে পারে দেশের ফুটবলের চেহারা। আমরা কোয়ালিফাই করতে পারলে ফুটবল বেঁচে থাকবে। আমরা ফুটবলাররাও বেঁচে থাকব।’