Saturday, November 14, 2015
প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ১২৮
অবশ্য এর আগে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিহতের সংখ্যা দেড় শতাধিক বলে জানিয়েছিল।
ভয়াবহ এ হামলার ঘটনায় দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম প্যারিসে কারফিউ জারি করা হলো, বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সীমান্ত।
হামলার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আট হামলাকারীর সবাই নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এক ভিডিওতে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অংশ দখলে করে কথিত খিলাফত ঘোষণাকারী জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট-আইএস।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ বলেছেন, আইএস ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে।
এদিকে ফ্রান্সে এ হামলা ঘ্টনার পর আতংকে আছে বাংলাদেশীসহ দেশটিতে অবস্থানরত মুসলিম সম্প্রদায়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, শহরের একটি কনসার্ট হলে শতাধিক লোককে জিম্মি করে রাখা হলে সেখানে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় সেখানে আত্মঘাতী হামলায় শতাধিক লোক নিহত হন।
শহরের কয়েকটি এলাকা এবং একটি স্টেডিয়ামেও প্রায় একই সময় হামলার ঘটনা ঘটে। একটি এশীয় রেস্তোরাঁর সামনে অন্তত দশজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
জার্মানির বিপক্ষে ফ্রান্স ফুটবল দলের প্রীতি ম্যাচ চলার সময় স্টেড দ্য ফ্রান্স নামের স্টেডিয়ামেও হামলা হয়। ওই সময় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ওঁলাদ স্টেডিয়ামে খেলা দেখছিলেন।
বোমা হামলাগুলো আত্মঘাতী ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা জবাবে আট হামলাকারীর সবাই নিহত হয়েছে।
এদিকে হামলার পর পুলিশকে সহায়তা করতে সারাদেশে অতিরিক্ত ১৫ শতাধিক সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
হামলার পর বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পর্যটন নগরীটিতে সব বাসিন্দাদের যা যার ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। বাতিল হয়েছে পুলিশের ছুটি, হাসপাতালগুলোতে কর্মীদের নিরবচ্ছিন্ন কাজে রাখা হয়েছে।
মেট্রো রেলের পাশাপাশি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে দূরপাল্লার রেল ও বিমান চলাচল স্বাভাবিক থাকছে।
প্যারিসে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মর্কেলসহ বিশ্ব নেতারা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর বড় হুমকি by এম সাখাওয়াত হোসেন
লক্ষণীয় বিষয় হলো শুদ্ধস্বরের স্বত্বাধিকারীর ওপর হামলায় চাপাতির সঙ্গে পিস্তল-জাতীয় অস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে খবরে প্রকাশিত। তবে কী ধরনের অস্ত্র ছিল তা জানা যায়নি। শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে হামলায় কেউ মারা যাননি, তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছানো গিয়েছিল। তেমনটা ফয়সলের বেলায় হয়নি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, একাধিক ব্যক্তি দ্বারা পরিচালিত হামলায় ফয়সলের মৃত্যু নিশ্চিত করেই হামলাকারীরা স্থান ত্যাগ করে। এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। ফয়সলের হত্যা এবং টুটুলের হত্যাচেষ্টার পেছনে অভিজিৎ হত্যার যে কারণ প্রচার করা হয়েছে, তা একই সূত্রে গাঁথা। অর্থাৎ এই প্রকাশনা সংস্থা থেকে অভিজিতের বই প্রকাশ হওয়ার কারণ দেখিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে টুইট করেছে আনসার আল ইসলাম নামক কট্টরপন্থী সংগঠন। এর আগে অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম দায় স্বীকার করেছিল। সেই সূত্র ধরেই জামিনে থাকা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসিমউদ্দিন রহমানী নামক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আনসার আল ইসলাম ছাড়া আর কোনো সংগঠন এখন পর্যন্ত হালের এই দুই প্রকাশকের ওপরে হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানা যায়নি। অপর দিকে অভিজিৎ হত্যার দায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ছাড়া অন্য কোনো গোপন সংগঠন স্বীকার করেনি। কিন্তু আনসার আল ইসলামের এক টুইট বার্তায় ওই হত্যা এবং তার আগের হত্যাগুলোর দায় স্বীকার করা হয়েছে। তবে হোসেনি দালানে হামলা এবং দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে দায়েশ নামে পরিচিত ‘ইসলামি স্টেট’ জড়িত থাকার তথ্য কয়েকবার নিশ্চিত করেছে সাইট (SITE) নামক বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস নিয়ে গবেষণা করা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর কারণ হয়তো এর আগে সরকার জঙ্গি দমন করে যে কৃতিত্ব প্রচার করেছে, তা যে হিতে বিপরীত হয়েছে তা অনুমান করার পর থেকেই মনে হয় হঠাৎ দুই বিদেশি হত্যার সঙ্গে এ দেশে আইএস অথবা অন্য কোনো জঙ্গি সংগঠন নেই বলে পূর্বতন অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এর এই অবস্থান পরিবর্তনের মাঝেই এ দুটি হামলা সংঘটিত হয়েছে এবং তদন্তকারী সংস্থা এবং পুলিশের তরফ থেকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ পর্যন্ত আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকেই সন্দেহ করছে এবং আনসার আল ইসলামের দায় স্বীকারকে আমলে নিচ্ছে না।
আনসার আল ইসলাম নামক সংগঠন সংগঠিত হয়েছিল ইরাকের সুন্নি অঞ্চল আল-কায়েদার সম্পৃক্ততায়, সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে, ইরাকের বায়রা প্রদেশে। এদের দর্শন ছিল আল-কায়েদার ‘সালাফিইজম’। ওই সময় এদের নিয়ন্ত্রণে ছিল হালাবজার কাছাকাছি কিছু অঞ্চল। এর নেতৃত্বে প্রথমে ছিলেন আবু আবদুল্লাহ-আল সাফি। পরে ইসলাম মুভমেন্ট অব কুর্দিস্তান আনসার এর সঙ্গে যুক্ত হলে নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক আক্রমণের যেসব অজুহাত দাঁড় করেছিল, তার মধ্যে এই সংগঠনের সঙ্গে সাদ্দামের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছিল, যা পরবর্তী সময়ে প্রমাণিত হয়নি। ২০০৩ সালে মার্কিন বাহিনী ইরাক দখল করলে এই দখলদারির বিরুদ্ধে যুদ্ধের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে পরিচিতি অর্জন করে। এই সংগঠন আরও পরে যেমনটা বলেছে, আনসার আল ইসলামের সঙ্গে মোল্লা ক্রেকারের নেতৃত্বে যখন ইসলামিক মুভমেন্ট অব কুর্দিস্তান যোগ দেয় তখন নেতৃত্ব চলে যায় তাঁর হাতে। এরপর থেকেই সরাসরি আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হয় এই সংগঠন। অনেক পথ পার হয়ে সিরিয়ায় পা জমায় আনসার আল ইসলাম। বর্তমানে সিরিয়ায় আসাদবিরোধী কট্টরপন্থী দল আল-নুসরা ইসলামিক ফ্রন্টের সঙ্গে যোগ দিয়ে যুদ্ধরত রয়েছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন শেখ আবু হাশিমি আল ইব্রাহিম এবং এখন আল-কায়েদার ধ্বজাধারী।
হালে সংঘটিত এই দুই হামলায় আনসার আল ইসলামের দায় স্বীকার করা গৃহীত হলে এই দুই হত্যা ও হত্যাচেষ্টার পেছনে এই সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক আল-কায়েদার সম্পৃক্ততার কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করা হবে, যা হয়তো সরকারের জন্য শুভ হবে না মনে করেই এর অস্তিত্ব স্বীকার করছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক টাইমস-এর মে ৪, ২০১৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে অভিজিৎ, ওয়ািশকুর রহমান, আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যার দায় উপমহাদেশে সংগঠিত আল-কায়েদা (একিউআইএস) স্বীকার করে একটি ভিডিওবার্তা ‘সাইট’-এর কাছে পাঠিয়েছিল।
বিচ্ছিন্নতাবোধ থেকেই জন্ম নেয় ক্ষোভের। বর্তমান বিশ্বে এই ক্ষোভকে কাজে লাগানো হয় এবং হয়েছে দেশীয় ও বিদেশি স্বার্থসিদ্ধ করতে। স্বাধীন দেশের নাগরিকেরা আতঙ্কের মধ্য বসবাস করতে চান না। একই সঙ্গে কেউ যেন স্বাধীনতার গণ্ডি পার না করেন, সেদিকেও সমাজ এবং রাষ্ট্রের মঙ্গলের জন্য লক্ষ রাখা উচিত অপর দিকে বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন ২ নভেম্বর, ২০১৫ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আনসার আল ইসলামের এক টুইট বার্তায় ওই সংগঠনের তরফ থেকে মুফতি আবদুল্লাহ আশরাফ এক লম্বা বিবৃতিতে একধরনের নীতিনির্ধারণের মতো বলেছেন যে তাঁদের টার্গেট শুধু ওই ব্যক্তিরা, যারা ইসলামের নবী (সা.) এবং ধর্ম নিয়ে নেতিবাচক লেখা এবং যেকোনোভাবে সম্পৃক্ত, শুধু তারাই। এই টুইটের তারিখ উল্লেখ রয়েছে অক্টোবর ১, ২০১৫ সাল। লক্ষণীয় যে এর এক মাসের মাথায় দুই প্রকাশনায় হামলা হয়েছে। কাজেই এই দায় স্বীকারকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উড়িয়ে দেবে, এমনটা ভাবা যায় না।
একদিকে আল-কায়েদার সম্পৃক্ততা, অপর দিকে শিয়া ইমামবাড়ায় হামলা এবং দুই বিদেশি নাগরিককে হত্যার পেছনে আইএসের সম্পৃক্ততার কথা সাইট নামক সংস্থাটি কয়েকবার উল্লেখ করেছে। ওই দাবিও নাকচ করা হয়েছে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফ থেকে। লক্ষণীয় বিষয় হলো যে আল-কায়েদায় এবং আইএসের সঙ্গে ভাবগত মতপার্থক্য তেমন না থাকলেও বর্তমানে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। এমনটাই সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবস্থান বিশ্লেষণে প্রতীয়মান। যদি এই দুই সংগঠনের দায় স্বীকারকে তাত্ত্বিকভাবে গ্রহণ করা যায়, তাহলেও প্রতীয়মান হবে যে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত এই দুই কট্টরপন্থী সন্ত্রাসী সংগঠন বলে পরিচিত উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশে একধরনের প্রতিযোগিতায় রয়েছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য মোটেও শুভকর নয়। এখানেই শঙ্কার জায়গা। বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এসব তথ্য উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার থেকে নেওয়া। আমাদের দেশের গোয়েন্দা এবং তদন্তকারী সংস্থার কাছে আনসার আল ইসলাম এবং আইএসের ওপর আরও বিস্তারিত তথ্য রয়েছে বলে বিশ্বাস রাখতে চাই, যা আমাদের জানার কথা নয়। তবে আমার কাছে অভিজিৎ হত্যার পর আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের স্বীকারোক্তি বিভ্রান্তিকর বলে মনে হয়। নির্মোহ তদন্তে অনেক বিষয়ই পরিষ্কার হতে পারে।
যে ঘটনাগুলো ঘটছে, সেগুলো অবশ্যই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলে আমি মনে করি। এ ধরনের ঘটনা যেকোনো রাষ্ট্রকে দুর্বল করে। যেকোনো সন্ত্রাসী তা বামপন্থী হোক, ডানপন্থী হোক অথবা ধর্মীয় আঁধারেই হোক, রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার প্রয়াসেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে। সমাজে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। তবে হাতেগোনা কয়েকটি দেশ ছাড়া বিশ্বের সব দেশেই রাজনীতির সঙ্গে পরোক্ষ হলেও ওই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মের প্রভাব থাকবেই। তবে সেই প্রভাব রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কতখানি থাকবে, তার সিদ্ধান্ত ওই দেশের জনগণকেই নিতে হয়।
বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও বর্তমানে যে সমস্যার মুখোমুখি আমরা রয়েছি, তা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। এমন নজির বিশ্বে নেই। এমনিতেই আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজনৈতিক প্রভাবে পরিচালিত হয়, সেখানে এ ধরনের অত্যন্ত ‘হাই-টেক’ চিন্তা ‘লো-টেক’ কার্য সম্পাদনকে প্রতিহত করা এবং প্রতিরোধ করার মতো প্রশিক্ষণ ও তদন্তের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ইংরেজিতে বলে, ভায়োলেন্স ইনক্রিজেস ভায়োলেন্স। কাজেই বন্দুকের শক্তিই একমাত্র সমাধান নয়। সমাধানের জন্য চাই ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অধিকার এবং সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ।
আমি ফয়সলের পিতা শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আবুল কাসেম ফজলুল হক, যাঁর সঙ্গে আমার যৎসামান্য পরিচয় রয়েছে, তাঁর একটি উক্তির প্রতিধ্বনি করতে চাই। তিনি বলেছিলেন যে একদিকে যেমন ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে যে রাজনীতি হচ্ছে, অপর দিকে ধর্ম নিয়ে যাঁরা রাজনীতি করছেন, উভয়েরই শুভবুদ্ধির উদয় হোক। আমাদের বিজ্ঞজনেরা ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে এমনভাবে কথা বলেন, যা সাধারণ মানুষ বোঝেও না।
উপসংহারে বলতে চাই যে তদন্ত চলাকালে দোষারোপের রাজনীতি থেকে বিরত থাকা উচিত। অন্তত প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত না করা পর্যন্ত। অপর দিকে সমাজপতি এবং রাজনীতিবিদদের ভাবতে হবে কেন একটি সমজাতিক (Homogeneous) রাষ্ট্রে কিছুসংখ্যক মানুষ সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতাবোধ (Alienated) করবেন। তাঁদের ক্ষোভ কোথায়? এবং রাষ্ট্র কী ব্যবস্থা নিতে পারে? বিচ্ছিন্নতাবোধ থেকেই জন্ম নেয় ক্ষোভের। বর্তমান বিশ্বে এই ক্ষোভকে কাজে লাগানো হয় এবং হয়েছে দেশীয় ও বিদেশি স্বার্থসিদ্ধ করতে। স্বাধীন দেশের নাগরিকেরা আতঙ্কের মধ্য বসবাস করতে চান না। একই সঙ্গে কেউ যেন স্বাধীনতার গণ্ডি পার না করেন, সেদিকেও সমাজ এবং রাষ্ট্রের মঙ্গলের জন্য লক্ষ রাখা উচিত।
এম সাখাওয়াত হোসেন: অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলাম লেখক৷
hhintlbd@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্যারিসে একযোগে হামলা, নিহত ১৬০
হামলাকারীরা কালাশনিকভ রাইফেল ব্যবহার করে বলে জানা গেছে।
![]() |
| হামলায় আহত একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাচ্ছে পুলিশ |
![]() |
| হামলার কথা শোনার পর স্টেডিয়ামের দর্শকরা ছুটাছুটি করতে থাকেন |
![]() |
| আতঙ্কিত এক তরুণীকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীকে |
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রূপপুর প্রকল্পে ১,৩৫০ কোটি ডলার ব্যয় কি যৌক্তিক? by মইনুল ইসলাম
প্রাক্কলিত নির্মাণব্যয় ১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারের মধ্যে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে দেবে রাশিয়া, বাকি ১৫০ কোটি ডলার বাংলাদেশ ব্যয় করবে। রাশিয়ার ঋণের সুদের হার হবে ৪ শতাংশ, যা ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৮ বছরে বাংলাদেশকে সুদাসলে পরিশোধ করতে হবে। রাশিয়ার রোসাটম নামের যে প্রতিষ্ঠানটি এই প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছে, তারা প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে আনুমানিক ৬০ বছর আয়ু হবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের। নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর এক বছর রোসাটম প্ল্যান্টটি পরিচালনা করবে। খুবই উদ্বেগজনক হলো, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার যখন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট প্রকল্প গ্রহণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩০০ কোটি ডলার থেকে ৪০০ কোটি ডলার।
ওপরের তথ্যগুলো অর্থনীতির একজন ছাত্র হিসেবে আমার কাছে মোটেও স্বস্তিদায়ক মনে হয়নি। আমি পরমাণুবিজ্ঞানী না হলেও প্রকল্প মূল্যায়নের (প্রজেক্ট ইভ্যালুয়েশন) উচ্চতর কোর্সগুলোর সঙ্গে পরিচিতির কারণে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা নিরূপণের মাপকাঠি সম্পর্কে অবহিত। সে জন্যই আমার আশঙ্কা হচ্ছে, যেসব তথ্য দেওয়া হয়েছে তার ভিত্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট নির্মাণ দেশের জন্য ভবিষ্যতে একটি বিপজ্জনক ফাঁদে পরিণত হতে যাচ্ছে। তাই এই প্রকল্প থেকে সুযোগ থাকলে এখনো বাংলাদেশের সরে আসা সমীচীন হবে।
বাংলাদেশের মতো একটি অতি ঘনবসতিপূর্ণ দেশে পাবনার রূপপুরে, মানে দেশের মাঝখানে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট নিরাপদ কি না, সেটি এমনিতেই একটি বিতর্কিত বিষয়। বাংলাদেশে ২০০৯-১০ সালে ওই ইস্যুকে ঘিরে পরমাণুবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং প্রযুক্তি বিশারদদের মধ্যে জমজমাট বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, যেগুলো খুব আগ্রহ নিয়ে পড়লেও বিতর্কে অংশগ্রহণ করিনি অনধিকার চর্চা হবে ভেবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী গত ৭০ বছরে সংঘটিত পারমাণবিক প্রকল্পের ভয়াবহ কয়েকটি দুর্ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের থ্রি মাইলস আইল্যান্ড, ইউক্রেনের চেরনোবিল ও জাপানের ফুকুশিমার খবর পত্রপত্রিকায় পড়েই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়তাম এই ভেবে যে চেরনোবিল যদি ইউক্রেনের বিরল বসতি অঞ্চলে অবস্থিত না হয়ে বাংলাদেশের রূপপুরে অবস্থিত হতো, তাহলে ওই নিউক্লিয়ার মেল্টডাউনের ফলে চেরনোবিলের চারপাশের আনুমানিক ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের নানাবিধ ক্ষতির পরিবর্তে বাংলাদেশে নিঃসন্দেহে ক্ষতি হতো এর চেয়ে অনেক বেশি! (যেহেতু তেজস্ক্রিয়তার কারণে সৃষ্ট প্রাণঘাতী রোগগুলো সঙ্গে সঙ্গে হয় না, তাই মানুষের মৃত্যুসংখ্যা নিরূপণ কঠিন হয়।)
আমরা অনেকেই এখন ভুলে গেছি যে ওই মেল্টডাউনের ২৯ বছর পরেও চেরনোবিলের চারদিকের কয়েক হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাকে এখনো মানব বসতির অযোগ্য ঘোষণা করে ওই এলাকাকে বিরানভূমি (ওয়েস্টল্যান্ড) করে রাখতে হয়েছে, প্রাণঘাতী তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি এখনো অতি বিপজ্জনক থাকায় ওই এলাকায় প্রটেক্টিভ আবরণ ছাড়া আজও কোনো মানবসন্তানের যাওয়া বিপজ্জনক। পারমাণবিক দুর্ঘটনা নিরোধের ব্যবস্থা যতই অত্যাধুনিক হোক না কেন, তা যে সুনামির মতো প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতে প্রায় অকার্যকর প্রমাণিত হতে পারে, তার নজির সৃষ্টি হয়েছে জাপানের ফুকুশিমায়। ওই দুর্ঘটনা ভয়াবহ পরিণতি সৃষ্টি করার আগেই তার অভিঘাতকে সীমিত করা গেছে, কিন্তু এর সুদূরপ্রসারী ক্ষতির আশঙ্কা এখনো জাপানকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছে।
বাংলাদেশের যমুনা নদীর তলদেশ দিয়ে ‘যমুনা ফল্ট’ নামের একটি ‘টেকটোনিক ফল্ট’ রয়েছে, তাই বাংলাদেশের মাঝামাঝি অঞ্চলকে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমাদের অনেকেরই হয়তো জানা নেই যে খোদ যমুনা নদীর জন্মই হয়েছে প্রায় ৪০০ বছর আগে সংঘটিত এ অঞ্চলের মহা-ভূমিকম্পের কারণে, যার ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান প্রবাহ পুরোনো খাতের পরিবর্তে জামালপুর থেকে বর্তমান যমুনা নদীর খাতে প্রবাহিত হচ্ছে। পুরোনো ধারাটি ক্ষীণকায় হয়ে জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ হয়ে ভৈরবে এসে মেঘনা নদীতে মিলিত হয়েছে। ওই ধরনের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প হলে রূপপুর পারমাণবিক রি-অ্যাক্টরের যে ÿক্ষতি হবে না এবং লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটাবে না, তার গ্যারান্টি কী? এই মহাপ্রলয়ের ঝুঁকি কেন নিচ্ছি আমরা? এত বিশাল বিপদের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের সরকার কেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে, তা বোঝা মুশকিল। অবশ্য, স্বীকার করতে কুণ্ঠিত নই যে বিষয়টা বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও পরিবেশবিদের এখতিয়ারভুক্ত বিধায় আমার মতামতকে এ ক্ষেত্রে অপাঙ্ক্তেয় বিবেচনা করলে নীতিপ্রণেতাদের দোষ দেওয়া যাবে না।
কিন্তু আমার আপত্তি প্রকল্পের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কারণে। প্রকল্প শুরু হওয়ার আগেই ৩০০–৪০০ কোটি ডলারের প্রকল্পকে যেভাবে ১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারের প্রকল্পে রূপান্তরিত করে ফেলা হলো, তাতে প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত ২,০০০ কোটি ডলারের ‘সাদা হাতি’-তে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। আর ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের যে প্রাক্কলিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলা হচ্ছে, তা-ও অর্জনযোগ্য না হওয়ার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বাস্তবে যদি বিষয়টা এ রকম হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে রূপপুরে বিদ্যুতের ইউনিট-প্রতি উৎপাদন খরচ বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যান্য বিকল্প প্রযুক্তির তুলনায় অনেক কম হবে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তার ভিত্তি দুর্বল হতে বাধ্য। গত ২৯ অক্টোবর ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকায় একজন লেখক উল্লেখ করেছেন যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-প্রতি বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ নাকি মাত্র তিন টাকা কুড়ি পয়সা পড়বে। ১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার প্রকল্প ব্যয় ধরে যে এই উৎপাদন খরচ হিসাব করা হয়নি, সেটা নিশ্চিত।
আমার অভিমত, এই মহাগুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হিসাবটা আবারও ভালোভাবে যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশের খ্যাতনামা স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। তাঁর বিশেষজ্ঞ জ্ঞান, দক্ষতা এবং সততা প্রশ্নাতীত। তাই তাঁর ওপর আমাদের ভরসাও বেশি। কিন্তু আমার কেন জানি সন্দেহ হচ্ছে যে নয়-দশ বছরে ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করে প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা হচ্ছে, তা দেশের জন্য একটা ‘মহা-অপচয়’ হতে চলেছে, যা মহা-বিপর্যয়করও হতে পারে। আবার, প্রকল্পের শেষে গিয়ে যদি দেখা যায় যে প্রকল্পের প্রকৃত খরচ ২,০০০ কোটি ডলার বা ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তাহলে তো ব্যাপারটা পুরো অর্থনীতির জন্য বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। আমরা হয়তো বেঁচে থাকব না, কিন্তু এ দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের সবাইকে অভিশাপ দেবে। কারণ, সুদাসলে ঋণটা তাদেরই পরিশোধ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে দুর্নীতির অজুহাতে হাত গুটিয়ে নিয়েছিল, তখন বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রস্তাব যাঁরা দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে আমিও ছিলাম। অনেক দেশি-বিদেশি পণ্ডিত ও পরামর্শক ওই পদক্ষেপকে অগ্রহণযোগ্য দুঃসাহস আখ্যা দিয়েছিলেন, কিন্তু আমাদের অবস্থানই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। এবারও ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আমার আশঙ্কাটি জাতিকে জানাচ্ছি, যদিও ইতিমধ্যে বেশ কিছু অর্থ রূপপুর প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য ব্যয় হয়ে গেছে, তবু এটুকু ক্ষতি স্বীকার করতে হলেও এই প্রকল্প থেকে বাংলাদেশের সরে আসাই সমীচীন হবে। পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ অনেক কম পড়ে, সেটা মোটামুটি আমাদের জানা আছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো জনাকীর্ণ দেশের জন্য এই প্রযুক্তি তেমন লাগসই (অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজি) নয়, তা-ও বোঝা প্রয়োজন। আর, ১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারের এই বিশাল অর্থের অন্য কোনো অধিকতর উপযোগী ব্যবহারের ক্ষেত্র কি আমাদের নেই?
রূপপুরের প্রকল্প এলাকাটি পাকিস্তান আমলেই পরমাণু প্রকল্পের জন্য সরকার অধিগ্রহণ করেছিল, ৪৭ বছর ধরে সেটা খালি পড়ে রয়েছে। এত দিন আমাদের সামর্থ্য ছিল না এত বড় প্রকল্প গ্রহণের। এখন ইনশা আল্লাহ অর্থনীতি ক্রমেই শক্তিশালী হওয়ায় আমরা এত বড় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার সাহস পাচ্ছি। কিন্তু আমার বিবেচনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের চেয়ে আরও অনেক বেশি প্রয়োজনীয় একটি প্রকল্প আমাদের অগ্রাধিকার দাবি করছে। আমার মতে, গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পটি দেশের জন্য অনেক বেশি গুরুত্ববহ, যেটা বহু বছর ধরে ঝুলে আছে অর্থায়ন করা যাচ্ছে না বিধায়। বিশেষত, ফারাক্কা বাঁধের বিপর্যয়কর অভিঘাতগুলো বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পুরো এলাকাকে যে ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে, তা মোকাবিলা করার জন্য গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফারাক্কার পানি শুষ্ক মৌসুমে এতই অকিঞ্চিৎকর হয়ে পড়েছে যে ফারাক্কা বাঁধের ভাটিতে গঙ্গা-পদ্মার প্রবাহ থেকে জন্ম নেওয়া দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীগুলো মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে, যার ফলে ওগুলো ক্রমেই ভরাট হয়ে যাচ্ছে, ওগুলোর পানির লবণাক্ততা বাড়ছে এবং যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরায় বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করছে। গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প এসব নেতিবাচক অভিঘাত নিরসন করবে বলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস। ওই প্রকল্পে বেশ কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনেরও সম্ভাবনা আছে। আর, রূপপুর প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জায়গায় একটি বৃহদাকার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পও গড়ে তোলা যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি বিষয়গুলো আরেকবার ভেবে দেখবেন?
মইনুল ইসলাম: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ফের ঢুকছে মানবদেহে by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
এদিকে, বিভিন্ন হাসপাতালে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, স্যালাইন প্যাক ও নিডোর প্রতিদিন বিক্রি হয় ঢাকার নিমতলীর ভাঙারি দোকানে। এগুলো রি-সাইক্লেনিং হয়ে পুনরায় বাজারে আসে বলে দোকানিরা জানিয়েছেন। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বহু দিন থেকেই মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে অবৈধভাবে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম আনা হচ্ছে। চীনসহ বিভিন্ন দেশের হাসপাতালে ব্যবহূত নিডেল, সিরিঞ্জ ও ইনফিউশন সেট (স্যালাইন সেট, নিডেল, সিরিঞ্জ) রিপ্যাকিং হয়ে বাংলাদেশে আসছে। এগুলো আনা হচ্ছে বিন্টস্টার প্যাক ও রিবন প্যাকে। এসব সুই-সিরিঞ্জে ‘জীবাণুমুক্ত’ লেখা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এগুলো ‘জীবাণুযুক্ত’।
‘আমদানিকৃত মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট ইনফিউশন সেটস ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন ব্যতীত খালাস প্রদান’ শিরোনামে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০১২ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইনফিউশন সেট আমদানির কোন প্রকার অনুমতি বা ছাড়পত্র দেয়নি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। কিন্তু সিআইসেল (কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স) থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে দেশের ১৫৮ জন আমদানিকারক ৫৯৮টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ৯৩ কোটি ৯৯ লাখ ১০ হাজার ২০৪ টাকার ইনফিউশন সেট আমদানি এবং খালাস করে নিয়েছেন। এতে রাজস্বের পরিমাণ ১৬ কোটি টাকা ৩৬ লাখ ১৩ হাজার ৬৫৪ টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মেডিক্যাল বা সার্জিক্যাল পণ্য কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। এসব পণ্য ব্যবহারে হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, এইচআইভি এইডসসহ সুই দ্বারা সংক্রমিত হয় এমন যে কোন রোগ হতে পারে। এ ধরনের রোগের আক্রমণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেট শুধু একবার ব্যবহারের জন্যই তৈরি হয়ে থাকে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ইনফিউশন সেট আমদানি নীতি আদেশ অনুসারে একটি নিয়ন্ত্রিত পণ্য। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এসব পণ্যের উৎপাদনকারী দেশ, পণ্যের গুণাবলী, দাম, উৎপাদনকারীর রেকর্ড ইত্যাদি যাচাই-বাছাই করে তা আমদানির অনুমোদন দিয়ে থাকে। এসব পণ্য মানবদেহে সরাসরি ব্যবহৃত হয় বিধায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনে উল্লিখিত উৎপাদক ব্র্যান্ডের বাইরে নিম্নমানের পণ্য আমদানি করা হলে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদনবিহীনভাবে বিভিন্ন শুল্ক ভবন দিয়ে আমদানি ও খালাস করা ইনফিউশন সেট ব্যবহার মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি হলে দেশে মানব স্বাস্থ্যের প্রতি তা হুমকিস্বরূপ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনা ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম আটক সংক্রান্ত শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর একাধিক প্রতিবেদন রয়েছে। এর একটিতে বলা হয়েছে, দেশী কিছু প্রতিষ্ঠান আমদানির শর্ত পূরণ না করে কুরিয়ার সার্ভিস বা বিভিন্ন অবৈধপথে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি করে থাকে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকির কারণ। ৫ই মার্চ ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা ৯৮ কেজি ওষুধ আটক করা হয়। এর মধ্যে ছিল ক্যানেসটেন ক্রিম, জেনিক্যাল অরলিস্টে, ইমিগ্রান, ফুসটাম জেলসহ বিভিন্ন ওষুধ। ভুয়া এলসির মাধ্যমে যার মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র ৯৮ ডলার। প্রকৃতপক্ষে এসব ওষুধের দাম ছিল প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা। ২৬শে ফেব্রুয়ারি ডিএইচএল কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ‘হেলথ প্রোডাক্ট’ ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা দুই কার্টন ওষুধ জব্দ করা হয়। ওষুধের মধ্যে ছিল স্যাবলি ৫০০ এমজি, লেসকল ফ্লুভাসটিন, ডিমকর্ন এমআর, মাইকেলিক ইনজেকশন, গোনাল এফ ৭৫ আইইউ জাতীয় ওষুধ। এ ছাড়া ১৯শে মার্চ ‘ফ্রি মেডিসিন স্যাম্পল’ ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা ওষুধের চালান আটক করা হয়। যার মধ্যে ছিল ৬৫ লাখ টাকার পলিক্যাপ ও অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ। আর ৪ঠা মে জব্দ করা হয় ৪৭২ কেজি ব্যথানাশক ওষুধ, যা আমদানি করা হয়েছিল গার্মেন্ট পণ্য ঘোষণা দিয়ে।
শুল্ক গোয়েন্দার অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের গত ২রা অক্টোবর ঢাকার মেসার্স মাই কেয়ার করপোরেশন নামের একটি কোম্পানি মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তান থেকে ‘সান ব্লোকড ক্রীম’ নামের ১৭ হাজার ৩৯০ পিস ওষুধ আমদানি করেছে। যা কাস্টম আইন লঙ্ঘিত করেছে। এর মূল্য এক কোটি ১০ লাখ টাকা।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এই প্রসঙ্গে মানবজমিনকে বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এধরনের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে। ওষুধের সঙ্গে ফার্মেসি মালিক, ওষুধ ব্যবসায়ী, ওষুধ প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাসহ অনেকে জড়িত থাকতে পারে। ওষুধ খালাসের সঙ্গে কাস্টমস কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে অবৈধভাবে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম আনা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক সহকারী পরিচালক নাম না প্রকাশ করার শর্তে মানবজমিনকে বলেন, বাংলাদেশ ডিসপোজেবল নিডেল ও সিরিঞ্জ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফলে এগুলো আমদানির অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। যে কোন ওষুধের সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থ জড়িত। ওষুধ আমদানি করতে হলে ওষুধ প্রশাসনের লিখিত অনুমোদন ও ছাড়পত্র নিতে হবে। এর বাইরে ওষুধ আমদানি করার সুযোগ নেই। সুই-সিরিঞ্জসহ ইনফিউশন সেট আমদানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল ডিভাইস। এর জন্য অবশ্যই পূর্বানুমতি নিতে হবে। ব্যবহৃত সুই-সিরিঞ্জ রিপ্যাক করে আমদানির কোন সুযোগ নেই। এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন হাসপাতালে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ,স্যালাইন প্যাক ও নিডোর বিক্রি হয় ঢাকার নিমতলীর ভাঙারি দোকানে। সাম্প্রতি নিমতলীর কয়েকটি দোকানে দোকানীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, আগে এই পুরানো সিরিঞ্জ পুনরায় ব্যবহার হলেও এখন আর হয় না। কয়েকটি দোকানে নিজে ক্রেতা সেজে জিজ্ঞাসা করলে তারা বললেন, আপনার কাছে বিক্রি করবো না। এগুলো ইসলামবাগে বিক্রি হবে। ওখানে সব সময়ে এগুলো বিক্রি করা হয় বলে তারা দাবি করেন। নবাব কাটারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটু দক্ষিণে মাজেদ সরদার রোডের মুনমুন দোকানের কাদের মিয়া জানান, আগে এগুলো পুনরায় ফার্মেসিতে বিক্রি হলেও এখন আর হয় না। এগুলো এখন ইসলামবাগের ক্লাবঘাটে রি-সাইক্লেনিং হয়। অর্থাৎ’ পুনরায় দানা তৈরির মাধ্যমে আবার বাজারে আসে। তখন বুঝা যাবে না, এটা পুরানো সিরিঞ্জ কি না। তার দোকানের অবস্থান ওই রোডের ৬৫/১, বাসার পাশেই।
এ প্রসঙ্গে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক আবুল খায়ের চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, চোরাইপথে কেউ মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ওষুধ আমদানির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পেলে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এরকম ভুয়া ওষুধ আনার অপরাধে ৪টি কুরিয়ার সার্ভিসকে বন্ধও করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জরুরি প্রয়োজন হয়ে পড়লে ওষুধ প্রশাসনের কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ মান রক্ষা করে শর্তসাপেক্ষে আমদানির অনুমোদন দেয়া যায়।
এ বিষয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম সাদী মানবজমিনকে বলেন, চোরাইপথে আমদানি করা ওষুধ ব্যবহারে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম চোরাচালান এবং মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। বিষয়টি ওষুধ প্রশাসন ভালো মতো দেখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ এই বিষয়ে মানবজমিনকে বলেন, একই সুই-সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহারের ফলে হেপাটাইটিস, এইডস, কিডনি, ক্যানসারসহ যে কোন রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে। এসব ব্যবহারকারীর শরীরে ইনফেকশন হবে। তার মৃত্যুঝুঁকিও অনেক বেশি। তাছাড়া অবৈধভাবে আমদানি করা কোন ওষুধ বা চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারেও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তো আছেই। তাই এগুলো সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। আইনের আওতায় আনতে হবে। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এগুলোর গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অ্যামনেস্টির বিবৃতি
প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সংগঠনের বিরুদ্ধে আরোপিত অভিযোগ যা বাংলাদেশী মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে, তা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করে, যা ডাহা মিথ্যা এবং যা সরকারের মানবাধিকার রেকর্ডকে কোন রকম খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার প্রতি ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার অংশ হিসাবেই এই বিষয়টিকে দেখতে হবে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি স্বাধীন সংগঠন যা কোন মানুষের পরিচিতি এবং তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নির্বিশেষে, ন্যায়বিচারের জন্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষদের জন্য এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রচারাভিযান চালায়।
ধারাবাহিকভাবে আওয়ামিলীগ এবং বিএনপি সরকারের সময় এবং সমানভাবে জাতীয় পার্টির সরকার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষেদের অধিকার রক্ষা করার যখন প্রয়োজন হয়েছে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নির্বিশেষে সংগঠনটি তখন তা করেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যে কোন পরিস্থিতির অধীনে সব ক্ষেত্রেই নিঃশর্তভাবে মৃত্যুদন্ডের বিরোধীতা করে। মৃত্যুদন্ড বিলোপের জন্য ডাক দেয়ার মানে এই নয় যে অপরাধের শাস্তি হবে না। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িতদের অবশ্যই ন্যায্য বিচারের মধ্যে দিয়ে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং তা মৃত্যুদন্ডের আশ্রয় ছাড়াই তা করতে হবে।
প্রসঙ্গত, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একটি বিবৃতি সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই বিবৃতির প্রতিবাদ জানিয়ে, সংস্থাটিকে ক্ষমা চাইতে বলেছে। গত রোববার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যে বিবৃতি দিয়েছে তা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। টাকার বিনিময়ে অ্যামনেস্টি এমন বিবৃতি দিতে পারে বলেও ইংগিত করেন প্রধানমন্ত্রী।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চীনে এক সন্তান নীতি বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে by মিনঝিন পেই
![]() |
| এক সন্তান নীতি থেকে সরে আসল চীন |
নির্জলা সংখ্যার হিসাবই যদি করি, তাহলে বলতে হয়, চীনের এই এক সন্তান নীতির মানবীয় ফলাফল মাও সেতুংয়ের লাফিয়ে চলা নীতির চেয়েও ভয়াবহ, মাওয়ের সেই নীতির কারণে চীনে ১৯৫৯-৬১ সাল পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে। এমনকি সেটা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের চেয়েও ভয়াবহ ছিল। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কারণে চীনে যে বড় বড় রাজনৈতিক সহিংসতা হয়েছে, তাতে ১৯৬৬-৭৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি মানুষ মারা গেছে।
চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালে যে তথ্য অবমুক্ত করেছে, তাতে দেখা যায়, ১৯৭১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত চীনে ৩৩ কোটি ৬০ লাখ গর্ভপাত হয়েছে, যেটা যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। এটা তো নিবন্ধিত কেন্দ্রগুলোতে যে গর্ভপাত হয়েছে, তার হিসাব (যদিও ১৯৭৯ সালের আগ পর্যন্ত এক সন্তান নীতি গৃহীত হয়নি, সে সময় পরিবার পরিকল্পনার ব্যবস্থা চালু ছিল)।
সরকারের যে সংস্থা এই এক সন্তান নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল, সেই ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং কমিশনের তথ্য হচ্ছে, এই সংখ্যাটা আরও বেশি হবে। সে সময় প্রতিবছর ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি সার্জিক্যাল গর্ভপাত হয়েছে, তবে এর মধ্যে কিন্তু অনিবন্ধিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধের মাধ্যমে হওয়া গর্ভপাতের হিসাব নেই।
এ কথা অবশ্যই বলতে হবে, এই গর্ভপাতের মধ্যে কী পরিমাণ এক সন্তান নীতির কারণে হয়েছে, তা নির্ণয় করা অসম্ভব। কিন্তু কথার কথা ধরুন, ভারতে তো গর্ভপাত বৈধ, সেখানে চীনের মতো পরিবার পরিকল্পনাপদ্ধতি ছিল না। কিন্তু সেখানকার পরিসংখ্যান তো অনেক কম, যদিও সেটা ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বার্ষিক ৬ লাখ ৩০ হাজারের মতো এত কম নয়। সম্ভবত, এই সংখ্যাটা বছরে ৬০ লাখের কাছাকাছি।
ভারত ও চীনের মধ্যে দৃশ্যত অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকলেও দেশ দুটির জনসংখ্যা প্রায় সমান। ফলে এটা ধারণা করা অযৌক্তিক নয় যে চীনে—৬৫ লাখ নিবন্ধিত সার্জিক্যাল গর্ভপাত ও বিপুল পরিমাণ অনিবন্ধিত গর্ভপাত—সংঘটিত গর্ভপাতের অর্ধেকের কারণ হচ্ছে এই এক সন্তান নীতি। এতে বোঝা যায়, যে ৩৫ বছর ওই নীতি চালু ছিল, সে সময় চীনে ২০ কোটির বেশি গর্ভপাত হয়েছে। কিন্তু জোর করে গর্ভপাত আসলে ছিল শুধু একটা শুরু। কথা হচ্ছে, এই পরিসংখ্যান মর্মান্তিক হলেও সেটা দিয়ে মানুষের ভোগান্তি ও অর্থনৈতিক কুফল পরিমাপ করা যায় না।
এই নীতি ভঙ্গকারী অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁদের পরিবারের ওপর স্থানীয় কর্মকর্তারা যে জুলুম চালিয়েছেন, তার খবর গণমাধ্যমে বেরিয়েছে। এই বর্বরতা ছিল অদৃষ্টপূর্ব, মা জিয়ানের উপন্যাস দ্য ডার্ক রোড-এ তার বিবরণ রয়েছে। ২০১২ সালে একটি ঘটনা জানাজানি হয়ে যায়, সে সময় শানচি প্রদেশের স্থানীয় কর্মকর্তারা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে জোর করে গর্ভপাত করিয়েছিলেন।
আবার যাঁরা এক সন্তান নীতি লঙ্ঘন করতেন, তাঁদের তো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হতোই, তার পাশাপাশি তাঁদের বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা দিতে হতো। এসব মানুষের বেশির ভাগই দেশটির দরিদ্রতম। সাময়িক হিসাব থেকে দেখা যায়, চীনা সরকার প্রতিবছর এই জরিমানা বাবদ ৩০০ কোটি ডলার আদায় করে। আর স্থানীয় কর্মকর্তারা খোলাখুলিভাবে লঙ্ঘনকারীদের কঠোর শাস্তির হুমকি দেন, এর মধ্যে রয়েছে ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দেওয়া, খামারের প্রাণী আত্মসাৎ করা প্রভৃতি।
এই এক সন্তান নীতির জনসংখ্যাগত ফলাফলও বিপর্যয়কর হয়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, চীনের বৃদ্ধদের নির্ভরশীলতার বর্তমান অনুপাত হচ্ছে ১৩ শতাংশ। এক সন্তান নীতির যুগের মানুষেরা বুড়ো হলে এই অনুপাত আকাশছোঁয়া হয়ে যাবে, এই নীতির কারণে বছরে ১ কোটি মানুষ অবসরে যাবে। চীনে একসময় অনেক শ্রমিক থাকায় তাদের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছিল, কিন্তু শ্রমিকের সংখ্যা কমে গেলে প্রবৃদ্ধির চাকাও শ্লথ হয়ে যাবে।
একইভাবে আশঙ্কার ব্যাপার হচ্ছে, চীনের লৈঙ্গিক ভারসাম্যহীনতা। এক সন্তান নীতিতে পরিবারগুলো চায়, সন্তানটি যেন ছেলে হয়। ফলে চীনারা সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ হওয়ার পর বেছে বেছে গর্ভপাত করেছে, নারী ভ্রূণ নষ্ট করেছে। ২০১৩ সালের হিসাব অনুসারে, চীনে শূন্য থেকে ২৪ বছর বয়সী ছেলেদের সংখ্যা একই বয়সী মেয়েদের চেয়ে ২ কোটি ৩০ লাখ বেশি। তার মানে হলো, আগামী দিনে ২ কোটি তরুণ বিয়ে করার মতো মেয়ে পাবে না।
চীনের এক সন্তান নীতির সবচেয়ে গুরুতর শিক্ষা হচ্ছে এই সাধারণ সত্য যে তারা এই নীতিটি দীর্ঘদিন ধরে চালাতে পেরেছে। বস্তুত চীনই পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যেখানে সরকার মানুষের সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত জোর করে দাবিয়ে রাখতে পেরেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে, একদলীয় শাসন এবং বিশাল ও শক্তিশালী এক আমলাতন্ত্র।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কাজ করার সক্ষমতা দেখে বাইরের পর্যবেক্ষকদের তাক লেগে যেত। অন্তত তাদের অতি আধুনিক শহর ও দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণের সক্ষমতা দেখে তারা বিস্মিত না হয়ে পারে না। কিন্তু এই পার্টি নৃশংস ও ধ্বংসাত্মক লক্ষ্য অর্জনে যে বল প্রয়োগ করত ও তার কারণে বিপর্যয় সৃষ্টি হতো, সেটা তারা খেয়াল করত কদাচিৎ।
সময় এসেছে, এই পরিণতির কথা স্বীকার করতে হবে। স্বীকার করতে হবে বিশেষ করে এই কারণে যে, চীনা কর্তৃপক্ষ জনগণের পুনর্জননের অধিকার সীমিত করার নীতি থেকে সরে আসেনি। তারা এক সন্তানের নীতির জায়গায় দুই সন্তানের নীতি গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে যে বোধ–বুদ্ধিহীনভাবে বল প্রয়োগ করতে হয়, চীনা সরকার ও বাইরের পর্যবেক্ষকদের সে বিষয়টিতে জোর দিতে হবে, যাতে তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, চীনে বা অন্য কোথাও।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন; স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
মিনঝিন পেই: ক্লেয়ারমন্ট ম্যাককেনা কলেজের সরকার বিভাগের অধ্যাপক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শারজায় শব্দের জন্য ভালোবাসা by আনিসুল হক
![]() |
| শারজা আন্তর্জাতিক বইমেলার সাবলীল আয়োজন |
প্রথমে বলে নিই আয়োজনটা কত বড়! এটা ঘটছে একটা ছাদের নিচে, শারজার এক্সপো সেন্টারে। সেই ছাদ আবার কমপক্ষে ১০ তলা উঁচু। তারই নিচে গোটা চারেক সেমিনার রুম, একটা বিশাল বলরুম, কয়েকটা থিয়েটার হল আর নানা অঞ্চলে ভাগ করে বইয়ের সারি সারি স্টল আর প্যাভিলিয়ন। গোটা চত্বরই শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। ১ হাজার ৫০০ স্টল বসেছে, সারা পৃথিবী থেকে প্রকাশক, পুস্তক বিক্রেতারা এসেছেন। বড় বড় প্যাভিলিয়নও আছে, যেমন সবচেয়ে সুন্দর প্যাভিলিয়নটা দেখলাম সৌদি আরবের, আর অনেক টেলিভিশন চ্যানেলের। কত ভাষার বই যে আছে, ইংরেজি বই আছে সারি সারি, আরবি তো থাকবেই, অন্তত ৩০টা স্টল আছে ভারতের, আছে ভারতীয় নানা বই, ইংরেজি বই, দক্ষিণী নানা ভাষার বই, শুধু একটা ভাষার একটা বইও নেই—বাংলা। আমাকে ওরা দাওয়াত করেছে লেখক হিসেবে, আরব বিশ্বের বাইরের এই রকম ৫৫ জন লেখক এসেছেন অতিথি হয়ে, সারা পৃথিবী থেকে। ম্যানবুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক বেন ওক্রি থেকে শুরু করে কত দেশের কত লেখক। আর আছেন আরব দেশগুলোর লেখক-লেখিকারা। আমাকে ওরা বলেছিল, তুমি তোমার কোন বইটাকে তুলে ধরতে চাও, আমি দিল্লি থেকে প্রকাশিত ফ্রিডম’স মাদার-এর কথা বললাম, ফ্রিডম’স মাদার এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে, এখন বুঝছি, ভুল হয়ে গেছে, আমার উচিত ছিল সময় প্রকাশনীর মা বইটার কথা বলা, তাহলে অন্তত একটা বাংলা বই থাকতে পারত এখানে। একজন বাংলাদেশি সেলসম্যান একটা আরবি প্রকাশনায় কাজ করছেন, হবিগঞ্জে বাড়ি, বললেন, গত বছর একটা বাংলাদেশি বইয়ের দোকানের আসার কথা ছিল, ওরা বাংলাদেশের পতাকাও উড়িয়েছিল, পরে আর তারা আসেনি।
১১ দিনের বইমেলায় দর্শক আসেন ১৫ লাখ। মনে হয়, পুরো শারজা শহরই চলে আসে মেলায়। কত কী যে ঘটে! ইতালি থেকে এসেছে উড়ন্ত নাচিয়েদের দল, তারা প্রদর্শন করেছে ইতিহাস-ভিত্তিক নৃত্যনাট্য। একটা হলরুমে ঢুকে দেখি সার্কাস হচ্ছে, বাচ্চাদের জন্য, বাচ্চারা জোকারদের কাণ্ড দেখে হেসে গড়িয়ে পড়ছে, অনেক কর্মশালা হয় শিশুদের নিয়েই। সভা হচ্ছে, সেমিনার হচ্ছে, আরব বিশ্বের প্রকাশকদের সম্মেলন হচ্ছে। নারী-পুরুষ পাশাপাশি কাজ করছেন, কোনো জড়তা নেই। কোথাও কোনো ত্রুটি নেই। বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গে মারহাবা লাউঞ্জ থেকে একজন এসে আমাকে ইমিগ্রেশন পার করে আনলেন, তুলে দিলেন গাড়িতে। গাড়ি নিয়ে এল হোটেলে। সেখানে উদ্যোক্তারা অপেক্ষা করছে বইমেলার অতিথিদের জন্য। যখন চাইব, তখনই ওদের গাড়ি নিয়ে যাবে বইমেলায়। বইমেলায় লেখকদের জন্য আলাদা লাউঞ্জ, যেটা সব সাহিত্য উৎসবেই থাকে। ওদের মিডিয়া লাউঞ্জ গমগম করছে, এমনটা আমি দেখেছি বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে, কোপেনহেগেনে, কিন্তু সে তো বিশ্ব সম্মেলন, আর এটা তো শারজা বইমেলা। সবগুলো খবরের কাগজে বড় বড় ছবি, বড় বড় খবর, বইমেলাকে ঘিরে।
এর পেছনে আছে শারজার সুলতানের উৎসাহ—ড. শেখ সুলতান বিন মোহাম্মদ কাশমি। তিনি নিজেও লেখক। এই বইমেলার স্লোগান—ফর লাভ অব রিটেন ওয়ার্ড, লিখিত শব্দের ভালোবাসার জন্য। ইন্সপায়ারিং ক্রিয়েটিভিটি। সৃজনশীলতাকে উৎসাহ দেওয়া। তারা চায় নতুন প্রজন্ম বই পড়ুক। আজকের পাঠক, আগামীকালের নেতা। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বইগুলোকে এনে দেওয়া পাঠকদের সামনে—যাতে তারা সস্তায় বই পায়—এই হচ্ছে এই বইমেলার উদ্দেশ্য। এত বড় একটা আয়োজন, কত মানুষ আসছে-যাচ্ছে, ছাদের নিচেই কত হাজার হাজার মানুষ, কিন্তু কোনো যানজট নেই, কোথাও ধাক্কাধাক্কি নেই, সুপরিচ্ছন্ন শৌচাগার, কোথাও এক টুকরা কাগজ পড়ে নেই। আবার অতিথিদের জাদুঘর দেখানো, কিংবা শহর ঘুরে দেখানোর কাজটাও চলছে আপন গতিতে। তাই তো সুযোগ ঘটে গেল কবি কহলিল জিব্রানের নিজের হাতে আঁকা ছবির প্রদর্শনী দেখার। এই প্রদর্শনীটা চলছে শারজা আর্ট মিউজিয়ামে। যেমন ঘুরে ঘুরে দেখলাম শারজা ইসলামিক সভ্যতা জাদুঘর। বিশেষভাবে মনোযোগ কাড়ল বিজ্ঞানচর্চায় মুসলিমদের অবদান। গণিতে, জ্যামিতিতে, রসায়নে, মহাকাশ গবেষণায় মুসলিমদের অবদানের নানা নমুনা প্রদর্শিত হচ্ছে। গ্রিকদের কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞান আরবিতে অনুবাদ করেছিলেন মুসলিমরা, সেখান থেকে তা গেছে আবার ইউরোপে। এই জাদুঘরের দেয়ালে লেখা আছে, বিজ্ঞানচর্চায় মুসলিমদের এত ভালো করার কারণ ছিল মুসলিমরা অন্য বিশ্বাসে বিশ্বাসীদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের অর্জনকেও সম্মানের চোখে দেখেছিলেন।
স্বাগতিকদের ব্যবহার আর আন্তরিকতা মুগ্ধ করার মতো। মি. আনিস, আপনার কী লাগবে। সব সময় সাদা লম্বা পোশাক পরা ছেলেরা কিংবা কালো পোশাক পরা মেয়েরা হাসিমুখে এগিয়ে আসছেন। না না, আমার কিছু লাগবে না বলেও সামলানো যায় না পরিস্থিতি। আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হলো, আমাদের অধিবেশনে মঞ্চে বসে কানে আলাদা মাইক্রোফোন লাগানো, প্রশ্নকর্তা প্রশ্ন করছেন আরবিতে, হেডফোনে আমি সেটার অনুবাদ শুনছি ইংরেজিতে, আমি উত্তর দিচ্ছি ইংরেজিতে, যাঁরা তা আরবিতে শুনতে চান, কানে হেডফোন লাগিয়ে নিচ্ছেন।
সব ভালো। শুধু বাংলার অনুপস্থিতি ছাড়া। ভারতের এতগুলো স্টল, তাতেও কোনো বাংলা বই দেখলাম না। বাংলাদেশ সরকার তো একটা স্টল দিতে পারত! এ বিষয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তবে প্রাথমিক উদ্যোগটা বুঝি আমাদের দূতাবাসকেই নিতে হবে।
বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেখা তো হয়ই। তাঁদের একটাই কথা, স্যার, আমরা কিন্তু এখানে জিম্মির মতো আছি। কারণ, বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে আমাদের নিয়োগকারীরা আমাদের কম বেতনে প্রায় বন্দী করে রেখেছে। আরেক জায়গায় যে যাব, তার তো উপায় নেই, কারণ ভিসা নেই। আরব আমিরাতে বাংলাদেশিরা যাতে ভিসা পান, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে।
বাংলাদেশিরা আমার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটেন, চট্টগ্রামের জহির, জাহাঙ্গীর, মাসুদ—তাঁরা উপহার এনে দেন আমার হাতে, আমার অনুষ্ঠানে বসে আলোচনা শোনেন। আমার মায়া লাগে। আমি তো ফিরে যাব কদিন পরেই। এঁরা থাকবেন এই মরুর দেশে। বছরে–দুই বছরে একবার সুযোগ পাবেন দেশে যাওয়ার। কিন্তু তাঁরা আটকে আছেন জিম্মির মতো। কারণ, ভিসা দেওয়া বন্ধ। এঁরা কী রকম পরম আত্মীয়ের মতো ব্যবহার করছেন আমার সঙ্গে। প্রবাসে বাঙালিমাত্রই সজ্জন। ওদের ভালোবাসাভরা চোখগুলো দেখলে আবেগ এসে যায়!
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একটি শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন জরুরি by আমিরুল আলম খান
জনগণের প্রত্যাশাগুলো কী কী? তাঁরা চান সন্তানেরা যেন উপযুক্ত শিক্ষা পায়, তারা যেন প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে, যেন তারা উপযুক্ত পেশায় নিয়োজিত হতে পারে। শিক্ষকদের কাছ থেকে এই হলো তাঁদের প্রত্যাশা। কিন্তু অভিযোগ, কোনো কোনো শিক্ষক সে দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন না। এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করাও যাবে না। তবে সমাজকেও বুঝতে হবে, শিক্ষক কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা নন। যে সামাজিক পরিবেশে একজন শিক্ষক বেড়ে উঠেছেন এবং বসবাস করছেন, সেই সামাজিক পরিবেশের প্রভাব অন্যান্য পেশাজীবীর মতোই তাঁদের ওপরও পড়ে। সমাজ যখন দুর্বৃত্তায়িত, শিক্ষকও তখন তার শিকার। তাকে আলাদাভাবে দোষারোপ করা অনুচিত। কিন্তু আজ এখানে ভিন্ন একটি বিষয়ে কিছু বলা প্রয়োজন বোধ করছি। আলোচনা করতে চাইছি বাংলাদেশে শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের সুযোগসুবিধা নিয়ে।
বাংলাদেশে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের মোটা দাগে চার ভাগে ভাগ করা যায়, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষক পদে যোগদানে যাঁরা ইচ্ছুক, তাঁদের এই পেশায় প্রবেশের আগেই (প্রি-সার্ভিস) শিক্ষকতা-বিষয়ক পড়াশোনা বাধ্যতামূলক নয়, বা দেশে তেমন ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়নি। ব্রিটিশ যুগে আজকের বাংলাদেশে ৪৪টা গুরু ট্রেনিং স্কুল ছিল। পরবর্তী সময়ে সেগুলোকে করা হয়েছে প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই)। ঠিক এই মুহূর্তে দেশে ৫৯টি পিটিআই আছে। সেখানে চাকরিতে যোগদানের পর এক বছর মেয়াদি (ইন-সার্ভিস) সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন কোর্স করানো হয়। এখন তার অবসান ঘটিয়ে ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন নামে দেড় বছরের একটি কোর্স সেখানে চালু করা হচ্ছে, যা দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষকতার জন্য শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ একজন স্নাতক আবেদন করতে পারেন। সেই সঙ্গে ব্যাচেলর অব এডুকেশন ডিগ্রি থাকলে ভালো হয়। অন্যথায়, চাকরিতে প্রবেশের পর তিনি এই ডিগ্রি অর্জন করে নিজেকে একজন যোগ্য শিক্ষক হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।
কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা আছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকসহ (সম্মান) মাস্টার্স ডিগ্রি। সেখানে প্রার্থীকে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়। সব পর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেণি/সমমানের গ্রেড থাকতে হবে। একটির বেশি তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণি/সমমান থাকলে চলবে না। তিনি একজন বিষয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। বেসরকারি কলেজের জন্য শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু কোনো উচ্চতর ডিগ্রি, যেমন এমএস/এমফিল বা পিএইচডি তাঁকে তেমন কোনো অগ্রাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হতে সাহায্য করে না।
সবচেয়ে অবাক বিষয়, শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে যাঁরা গ্রহণ করবেন, কলেজ পর্যায়ে হলে তাঁদের শিক্ষা বিষয়ে কোনো ডিগ্রি—ব্যাচেলর অব এডুকেশন (বিএড), মাস্টার অব এডুকেশন (এমএড) প্রয়োজন হয় না। চাকরিতে প্রবেশের পরও শিক্ষা বিষয়ে কোনো ডিগ্রিই বাংলাদেশের কলেজশিক্ষকদের জন্য আবশ্যকীয় নয়। এমনকি, কারও যদি শিক্ষা বিষয়ে কোনো ডিগ্রি থাকেও, তার কোনো মূল্য নেই কলেজশিক্ষায়। বর্তমান দুনিয়ায় শিক্ষায় ডিগ্রি (ডিগ্রি ইন এডুকেশন) ছাড়া শিক্ষকতা করা বোধ হয় কেবল বাংলাদেশেই সম্ভব! বেসরকারি কলেজশিক্ষকদের সারা জীবনে মাত্র একবার পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগ আছে, প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক হওয়ার। এরপর তিনি উপাধ্যক্ষ/অধ্যক্ষ হতে পারেন। কিন্তু আর কোনো সোপান তাঁদের নেই।
আর সরকারি কলেজশিক্ষকদের পদোন্নতির শর্ত হচ্ছে চার মাসের বুনিয়াদি ট্রেনিং আর বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। পদ শূন্য সাপেক্ষে পদোন্নতি পাওয়া যায় কোনো বিষয়ভিত্তিক নতুন জ্ঞান যাচাই বা পেশাগত ট্রেনিং বা গবেষণাপত্র প্রকাশ ছাড়াই। পদোন্নতির কোনো স্তরেই এসবের প্রয়োজন হয় না। তাহলে একজন পেশাজীবী শিক্ষক হিসেবে তিনি কীভাবে তাঁর সঠিক দায়িত্ব পালন করবেন? কীভাবে তিনি নিজেকে আরও যোগ্য শিক্ষক হিসেবে গড়ে তুলবেন?
প্রশ্ন হচ্ছে এই দায় কার? রাষ্ট্রেরই এই দায় বলে আমি মনে করি। কেন শিক্ষকতায় পেডাগজি (শিক্ষাবিজ্ঞান) জানা আবশ্যকীয় করা হবে না? এ প্রশ্নের কোনো জবাব নেই। আমি মনে করি, কলেজশিক্ষকদের পেডাগজি বাধ্যতামূলক করা উচিত। চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিএড/এমএড ডিগ্রিকে অগ্রাধিকার দেওয়া, বিশেষ ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা, পদোন্নতির ক্ষেত্রে তা বিবেচনা করা উচিত। এবং অন্যদের প্রথম দুই বছরের মধ্যে বিএড ডিগ্রি অর্জন করা বাধ্যতামূলক করা জরুরি।
কিন্তু প্রশ্ন হলো এ জন্য বাংলাদেশে কতটুকু সুবিধা গড়ে তোলা হয়েছে? সত্যি কথা বলতে কি, এ ক্ষেত্রে আমাদের কোনো প্রস্তুতিই নেই। ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ছাড়া দেশে মাত্র ১৪টি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে এই ডিগ্রি প্রদানের মানসম্মত ব্যবস্থা আছে। দেশে বেসরকারি শ দেড়েক প্রতিষ্ঠান বিএড কোর্স করালেও তার মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবাই ডিগ্রি বিক্রির বাণিজ্যে মেতেছে বলে অভিযোগ আছে।
এটা খুবই আশ্চর্যের বিষয় যে দেশে কোনো পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হয়নি। এমনকি এমন কোনো দাবিও শিক্ষকদের তরফ থেকে কখনো করা হয়েছে বলে আমার অন্তত জানা নেই। কলেজশিক্ষকদের শতকরা ৯০ ভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পর শিক্ষাবিজ্ঞানে ডিগ্রি একান্তই অপ্রয়োজনীয় মনে করেন।
এই অবস্থার অবশ্যই অবসান হওয়া জরুরি। আজ যখন সর্বস্তরের শিক্ষক তাঁদের মর্যাদা রক্ষায় রাস্তায় যৌক্তিক আন্দোলন করছেন, তখন তাঁদের এ দাবিও তোলা জরুরি যে তাঁদের পেশাগত মান উন্নয়নের জন্য বিএডসহ উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে। এ জন্য দেশে একটি স্বতন্ত্র শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে। দেশ-বিদেশে তাঁদের শিক্ষা-বিষয়ক উচ্চতর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, শিক্ষাভ্রমণ, গবেষণা করার সুযোগ দিতে হবে। তাঁদের জন্য অবশ্যই মানসম্মত জার্নাল প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশ–বিদেশে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। বিভিন্ন স্তরে পদোন্নতির জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক গবেষণাপত্র প্রকাশ বাধ্যতামূলক করতে হবে। চাকরির দৈর্ঘ্য (লেংথ অব সার্ভিস) ধরে পদোন্নতি প্রথার অবসান করতে হবে।
শিক্ষকতায় যোগদানে আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবীরা সুযোগ পেতেন। এখন সেখানে দলবাজদের প্রাধান্য। মেধা নাকি সেখানে মূল্যহীন। বঞ্চনা এখন তার নতুন উপসর্গ। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেশ–বিদেশে নানা সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে। নানা গবেষণায় নিয়োজিত থাকেন তাঁরা। পদোন্নতির জন্য গবেষণা এবং পাবলিকেশন বাধ্যতামূলক। তারপরও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নানা সমস্যায় জর্জরিত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগের সুনাম ধরে রাখতে পারছে না। শুধু ডিগ্রি প্রদান নয়, বিশ্ববিদ্যালয়কে অবশ্যই গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।
আমরা জানি, এসব কাজ রাতারাতি হবে না। কিন্তু সরকার এবং শিক্ষক সমাজকে এসব বিষয়ে এখনই উদ্যোগী হয়ে আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন সাধন করতে হবে। অন্যথায় আজকের দিনে দ্রুত বিকাশমান পৃথিবীর সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আমরা পিছিয়ে পড়ব। একটি শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এখন সময়ের দাবি। সেখানে শিক্ষা-বিষয়ক গবেষণা হবে, ভালো শিক্ষক তৈরির জন্য শিক্ষা দেওয়া হবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে সম্প্রতি থাইল্যান্ড নতুন উদ্যোগ নিয়ে প্রমাণ করতে চাইছে, শিক্ষায় বিনিয়োগের চেয়ে লাভজনক বিনিয়োগ দ্বিতীয়টি নেই। আমাদেরও তা উপলব্ধি করতে হবে।
আমিরুল আলম খান: শিক্ষাবিদ।
amirulkhan7@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘তোমাকে হারাব বলেই জেতাব তাকে’ by মলয় ভৌমিক
![]() |
| ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কর্মসূচি |
বাংলাদেশে এই প্রথম দলীয় পরিচয় ও প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভা বিষয়টি অনুমোদন করে। পৌরসভা নির্বাচন করতে হবে ডিসেম্বরের মধ্যে, আর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হওয়ার কথা মার্চে। হাতে সময় কম থাকায় পৌরসভা নির্বাচন আইনটি অধ্যাদেশ আকারে জারি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন মেয়াদ শেষ হওয়া ২৪৫টি পৌরসভার নির্বাচন চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করতে চায়।
এই প্রথম দলীয় পরিচয়ে ও প্রতীকে স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আইনকানুন ও প্রক্রিয়াগত পরিবর্তনের ফলে এই নির্বাচনে কিছু বাড়তি মাত্রা যুক্ত হলেও ভোটারদের অভিজ্ঞতায় তা বড় কোনো ধাক্কা দেবে না বলেই মনে হয়। কেননা, সাম্প্রতিক সময়ে এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনও দলীয় রূপে হাজির হয়েছে এবং ভোটাররা এতে অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে বাড়তি চাপ পড়বে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর। নির্বাচনের গায়ে আনুষ্ঠানিক দলীয় লেবেল থাকায় এর ঘটন-অঘটন এবং জয়-পরাজয়ের দায় নিতে হবে সরাসরি রাজনৈতিক দলগুলোকেই। হেরে গেলে ‘এ তো স্থানীয় সরকার নির্বাচন, এখানে দলের প্রতীক নেই’, এসব বলে আর পার পাওয়া যাবে না। নির্বাচনে কারচুপি হলে সে ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে একই কথা। নতুন এই ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনকেও সামাল দিতে হবে বাড়তি ঝক্কি। অবশ্য সব মিলিয়ে কথার মারপ্যাঁচে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা এ ব্যবস্থায় কমে আসবে এবং দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রচর্চার সুযোগ সৃষ্টি হবে। অবশ্য দলগুলো যদি এ ব্যাপারে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল তথা জোটের জন্য বেশ কটি বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে। ক্ষমতাসীন দল ও জোট অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও তাদের চ্যালেঞ্জগুলো একেবারে ফেলনা হবে বলে মনে হয় না।
১৪ দল, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন। প্রার্থী মনোনয়নের চূড়ান্ত ক্ষমতা দলের কোন পর্যায়ের হাতে থাকবে, সেটাও বড় প্রশ্ন। এ ক্ষেত্রে পুরোনো খেলার পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অর্থাৎ যে স্থানে যেসব মন্ত্রী, সাংসদ বা কেন্দ্রীয় নেতার প্রভাব বেশি, সেসব স্থানে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীরাই মনোনয়ন পাবেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় ও দলটি দ্বিতীয় মেয়াদে গদিনিশন হওয়ায় দলের অভ্যন্তরে নানা স্বার্থের টানাপোড়েন এবং একে কেন্দ্র করে উপদলীয় কোন্দল ব্যাপকভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। দলে ত্যাগীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এখন প্রায় পর্যুদস্ত। সামনে চলে এসেছে স্বার্থলোভী ও মোসাহেবেরা, দুর্দিনে যাদের কেউ মাঠে দেখেনি। কোথাও কোথাও অন্য দল, এমনকি বিএনপি-জামায়াতের লোকেরাও দলে শামিল হয়েছে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এরা প্রধানত মন্ত্রী-সাংসদ-প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে বেশি প্রিয়ভাজন হওয়ার কারণেই সৃষ্টি হয়েছে এ অবস্থা, যা মনোনয়নের ক্ষেত্রে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। এবং এই জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে নির্বাচনের ফলাফলের ওপর সরাসরি এর প্রভাব পড়বে বলেই মনে হয়।
দেশের বড় দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রচর্চায় অনীহা থাকায় এবং ভোগ-লোভ-দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন ইত্যাদি রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রধান অঙ্গ হয়ে ওঠায় ইদানীং নির্বাচনী মাঠে একটা পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। সাধারণের মধ্যে উৎসাহ কমে যাচ্ছে নির্বাচনের প্রতি। ভোটারদের এই নেতিবাচক মনোভাবের চাপটা কিন্তু ক্ষমতাসীনদের গায়েই বেশি লাগার সম্ভাবনা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত না হলে তার দায়ও গিয়ে পড়বে ক্ষমতাসীন দলের ওপর। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলগুলোর হাতে ‘ইস্যুহীন মাঠে’ একটি মোক্ষম ইস্যু তুলে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এত দিনের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা অনেক বেশি সক্রিয় থাকায় সাধারণভাবে এতে বড় কোনো অঘটন ঘটে না। এ রকম অবস্থায় ২৪৫টি পৌরসভার অধিকাংশ মেয়র পদে যদি ক্ষমতাসীন দল বা জোট জয়ী না হয়, তাহলে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের সরকারে থাকার বিষয়টি নৈতিক দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। বিএনপি-জামায়াত জোটের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবির বিষয়টি যৌক্তিক হয়ে সামনে চলে আসবে। এ ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ে ও প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় বিরোধীদের যুক্তি খণ্ডন করা কঠিন হয়ে পড়বে। এমনকি আন্তর্জাতিক মহলের চাপও বাড়বে ক্ষমতাসীনদের ওপর।
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে নাজুক অবস্থানে আছে বিএনপি-জামায়াত জোট। বড় দল হিসেবে বিএনপি এখন ‘নির্বাচনে গেলেও বিপদ, না গেলেও বিপদ’, এমন একটা দুধারি তলোয়ারের নিচে ঘাড় পেতে দিয়েছে। এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ভুল তারা এবার করবে না বলেই মনে হয়। মাঠপর্যায়ে তাদের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
বিএনপি কীভাবে নির্বাচন করবে, এ প্রশ্নের কোনো জুতসই উত্তর কর্মী দূরে থাক, তাঁদের নেতাদের কাছ থেকেই কিন্তু মিলছে না। বিরাট সমর্থক গোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও সাংগঠনিক বিবেচনায় বিএনপির অস্তিত্ব নিয়েই এখন প্রশ্ন তোলা যায়। দল গোছানোর কথা বলে বিএনপির সিদ্ধান্ত প্রদানকারী শীর্ষ নেতৃত্ব এখন দেশের বাইরে। হেফাজতে ইসলামের ঢাকায় অবস্থানের ঘটনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বারবার আহ্বান সত্ত্বেও কর্মীদের মাঠে নামাতে না পারা, সহিংস অবস্থান নিয়েও ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়া, আন্দোলনের নামে চলতি বছরের গোড়ায় লাগাতার তিন মাস অগ্নিসন্ত্রাসের দায় নিয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া, নেতা-কর্মীদের ব্যাপক হারে মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়া এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জামায়াত প্রশ্নে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে না পারায় এমনিতেই দলটির অবস্থা বিপর্যয়ের মুখে। এখন আবার এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর সাম্প্রতিক পদত্যাগকে কেন্দ্র করে নানা গুঞ্জনের ধাক্কা।
দলের ইতিহাসে এসব হ্যাপার মধ্যে থেকে কেবল সমর্থক গোষ্ঠীর কল্যাণে দলটি নির্বাচনে কত দূর কী করতে পারবে, সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। এ ছাড়া নির্বাচনে অংশ নিলে দলটিকে আরও কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। প্রথমত, দলীয় ব্যানারে নির্বাচন হওয়ায়, ‘এই অবৈধ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়’, এমন নৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসার যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা বিএনপিকে দাঁড় করাতে হবে। দ্বিতীয়ত, নিবন্ধিত দল না হওয়ায় এই নির্বাচনে জামায়াতের অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে অনেকটা জামায়াতনির্ভর বিএনপি তাই জামায়াত প্রশ্নে কতটা সফল কৌশল গ্রহণ করতে পারে, তার ওপর নির্ভর করবে এই নির্বাচনে তাদের জয়-পরাজয়। তৃতীয়ত, দলটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ফলাফলের ক্ষেত্রে সম্মানজনক অবস্থান ধরে রাখতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে।
এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান হয়ে উঠতে পারে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে ওঠা নতুন একটি বিষয়। দেশের বড় দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রচর্চায় অনীহা থাকায় এবং ভোগ-লোভ-দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন ইত্যাদি রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রধান অঙ্গ হয়ে ওঠায় ইদানীং নির্বাচনী মাঠে একটা পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। সাধারণের মধ্যে উৎসাহ কমে যাচ্ছে নির্বাচনের প্রতি। ভোটারদের এই নেতিবাচক মনোভাবের চাপটা কিন্তু ক্ষমতাসীনদের গায়েই বেশি লাগার সম্ভাবনা। কাজেই নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ‘তোমাকে হারানোর জন্য তাকে জেতাব’, ভোটারদের এই মানসিকতা আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনেও কাজ করতে পারে। বিগত সময়ে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এ প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। মানুষ রাজনীতিবিমুখ ও নির্বাচনের ব্যাপারে বীতশ্রদ্ধ হলেই এমনটা ঘটে থাকে। এত দিন একই দলের বঞ্চিত ও হতাশ নেতা-কর্মীদের মধ্যে এই প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। কিন্তু এখন অনেক সাধারণ ভোটারও এই দলভুক্ত হচ্ছে এবং তাঁদের আপাত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে নির্বাচনে নেতিবাচক ভোট প্রদানের মাধ্যমে। কেবল দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রচর্চা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনই এ অবস্থার অবসান ঘটাতে পারে। না হলে ‘তোমাকে হারানোর জন্য তাকে জেতাব’, এটাই হয়তো ভবিষ্যতে হয়ে উঠবে আমাদের রাজনীতির ‘নয়া ডিসকোর্স’।
মলয় ভৌমিক: অধ্যাপক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, নাট্যকার।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সফল উন্নয়নের জন্য দরকার স্বাধীন গণমাধ্যম -বিশেষ সাক্ষাৎকারে : ডেভিড কাপলান by কুন্তল রায়
![]() |
| ডেভিড ই কাপলান |
প্রথম আলো : সাংবাদিকদের নিয়ে বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক তৈরিতে কেন উদ্যোগী হলেন? তাঁদের নিয়ে নিয়মিত সম্মেলন আয়োজন করার কারণটাই-বা কী?
ডেভিড কাপলান : গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ও সম্মেলন শুরু করার পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ আছে। বিশ্বায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লবের পর সাংবাদিকতায় বিশাল পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বের নানা প্রান্তের সাংবাদিকদের মধ্যে যোগাযোগ এখন অনেক সহজ। শীতল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রের সীমানা ভেঙে গেছে, পূর্ব ইউরোপে ও সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্রগুলোতে স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থসাহায্য হয়েছে। ওই সময় থেকে বিশেষজ্ঞরা বলতে শুরু করলেন, উন্নয়নের জন্য যেমন কৃষি ও শিল্প খাতে উন্নয়ন দরকার, তেমনি স্বাধীন গণমাধ্যম দরকার। এটা সফল উন্নয়নের একটি তত্ত্ব। বৈজ্ঞানিক গবেষণার মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত যে স্বাধীন গণমাধ্যমের সঙ্গে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত শিক্ষা ও সামাজিক সেবা, দুর্নীতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ হ্রাসের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এখানেও বিনিয়োগ করতে হবে, যেমনটা অন্য সব ক্ষেত্রে করা হয়। ধীরে ধীরে হলেও পশ্চিমা সমাজ এটা শিখেছে। এমনকি চীনে যেখানে সাংবাদিকদের খারাপভাবে মূল্যায়ন করা হয়, সেখানেও এখন প্রচুর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হচ্ছে।
প্রথম আলো : এর কারণ কী বলে মনে করেন?
ডেভিড কাপলান : কারণ, সেখানে সরকারের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মনে করেন, দুর্নীতি রুখতে গেলে তাঁদের শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যম দরকার। ভারত, পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশেও গণমাধ্যম শক্তিশালী হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে স্বাধীন গণমাধ্যম বিকাশের এই শক্তি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ২০০১ সালে আমাদের সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্র্যান্ট হিউস্টন ও নিলস মুলভাড ইউরোপিয়ান সাংবাদিকদের জন্য একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন। তখন হিউস্টন বললেন, পরেরবার আমরা পুরো বিশ্বকে আমন্ত্রণ জানাই না কেন? আমরা তখন নিশ্চিত ছিলাম না সেই সম্মেলনে আদৌ কেউ আসবেন কি না, কারণ সাংবাদিকেরা ‘একাকী নেকড়ে’ হিসেবে পরিচিত এবং একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী। অথচ ২০০৩ সালে দেখা গেল, ৩০টি দেশ থেকে ৩০০ জন সাংবাদিক এসেছেন। তখন আমরা আবিষ্কার করলাম, এই বিশাল পৃথিবীতে আমরা একা নই। এরপর থেকে আমরা তিন মহাদেশের সাতটি শহরে নয়টি সম্মেলন করেছি এবং প্রায় ছয় হাজারের মতো সাংবাদিককে একত্র করে বিশাল একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি। এবার নরওয়ের লিলহ্যামারে আমাদের নবম সম্মেলনে ১২১টি দেশ থেকে প্রায় ৯৫০ জন সাংবাদিক এসেছেন। আমাদের লক্ষ্যই হলো, সারা বিশ্বে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিস্তার করা, এ জন্য উৎসাহিত করা, অনুসন্ধানের সর্বাধুনিক কৌশল ও পদ্ধতিগুলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং সাংবাদিকদের একটি নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম দেওয়া।
প্রথম আলো : সারা বিশ্বে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রসার কেন জরুরি মনে করছেন?
ডেভিড কাপলান : অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হলো জবাবদিহি, ক্ষমতার প্রহরী (ওয়াচডগ ইন পাওয়ার) ও গবেষণা দক্ষতার পদ্ধতিগত ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজে আসলেই কী হচ্ছে, তা তুলে আনা। সব সুস্থ সমাজে ওয়াচডগ সাংবাদিকতা এবং স্বাধীন ও প্রগতিশীল গণমাধ্যম থাকা দরকার, যারা ক্ষমতাসীনদের কঠিন প্রশ্ন করতে পারবে: কীভাবে টাকা খরচ হচ্ছে, কীভাবে ক্ষমতার ব্যবহার হচ্ছে, রাজনৈতিক পদ্ধতি কতখানি কার্যকর প্রভৃতি। সারা বিশ্ব ধীরে ধীরে, কখনো কষ্ট করে হলেও বুঝছে, একটি দেশের উন্নয়নের জন্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা দরকার। উন্নয়নের জন্য যেমন ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কৃষি উন্নয়ন বা ভালো শিক্ষাব্যবস্থা দরকার, তেমনি স্বাধীন গণমাধ্যম দরকার। জাতিসংঘও এটা উপলব্ধি করতে পেরেছে তাদের সাম্প্রতিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় তা উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশের মতো একটি রাষ্ট্রকে যদি বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে পাল্লা দিতে হয়, তাহলে তাদের এমন গণমাধ্যম থাকতে হবে, যারা অস্বস্তিকর প্রশ্ন তোলে। উন্নয়নের জন্য যে দাম দিতে হয়, এটা তারই অংশ। এ জন্যই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা জরুরি।
প্রথম আলো : বিশ্বজুড়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিস্তারে বাধাগুলো কী কী?
ডেভিড কাপলান : যদি আমি বাংলাদেশের সঙ্গে নিজের দেশের (যুক্তরাষ্ট্র) তুলনা করি, আমাদের কাজ করা আপনাদের তুলনায় বেশ সহজ। উন্নত বিশ্বে আমরা মামলার মুখোমুখি হই, হুমকি পাই, রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক কারণে রিপোর্ট ছাপাতে সমস্যার মুখোমুখি হই। তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য যে সময় দরকার, তা নিয়ে সব সময় যুদ্ধ চলে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আর বাংলাদেশের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কেউ আপনাকে একটি রিপোর্টের জন্য তিন মাস সময় দিতে চাইবে না। তবে আমাদের একটি ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। আমাদের বার্তাকক্ষগুলো এখন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা উৎসাহিত করে, আমাদের এমন পাঠক বা দর্শক আছেন, যাঁরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পড়তে বা দেখতে পছন্দ করেন এবং আমাদের এমন সরকারি কর্মকর্তা আছেন, যাঁরা মনে করেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সমাজে বৈধ ভূমিকা আছে। যদি তাঁরা এ জন্য বিব্রতও হন, তাঁরা এটাকে গণতন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন।
প্রথম আলো : উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তো পরিস্থিতি ভিন্ন?
ডেভিড কাপলান : আপনি যদি উন্নয়নশীল বিশ্বের দিকে তাকান, দেখবেন সেখানে নানা ধরনের সমস্যা। সেখানে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা অনেক নাজুক, সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর হাত অনেক লম্বা, সরকারি কর্মকর্তারা মনে করেন তাঁরা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন-হয়রানি তো আছেই। সেখানে বিজ্ঞাপনের বাজার অনুন্নত আর বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকার গণমাধ্যমকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থনৈতিক সংকট তো আছেই, আছে সম্পদের অভাব, উন্নত প্রশিক্ষণের অভাব। অনেক দেশে সাংবাদিকতার কোর্সগুলো হয়তো গত শতাব্দীর। সবকিছু ঠেলেই আমাদের সামনে এগোতে হচ্ছে।
প্রথম আলো : বিশ্বজুড়ে যেভাবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এগোচ্ছে, তা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ডেভিড কাপলান : আমার দৃষ্টিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হচ্ছে একটা ‘ভালো ভাইরাস’, যা বিশ্বজুড়ে ছড়ানোর মধ্য দিয়ে শক্তি অর্জন করছে। কারণ, মানুষ এটাই চায়। মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি আর সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আধুনিক গবেষণা পদ্ধতি, সঠিক রিপোর্টিং ও পদ্ধতিগত অনুসন্ধানী কৌশল ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। সরকারগুলো আমাদের পছন্দ করে না, মামলা-হয়রানি-শারীরিক আঘাত—এত সব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আমরা বড় হচ্ছি। কেন? বিশ্বের সাংবাদিক সম্প্রদায়ের দিকে তাকান। তাঁরা অর্থ বা খ্যাতির জন্য সাংবাদিকতা করেন না। তাঁরা শুধু যে সমাজ বা রাষ্ট্রে বাস করছেন, তাকে আরেকটু বেশি বাসযোগ্য করতে চান। বেশির ভাগ মানুষের সমাজে তেমন কোনো ক্ষমতা নেই, আর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা একটা ছোট্ট উপায়, যাতে একজন ব্যক্তি সমাজে পরিবর্তন আনতে পারেন। তাই শত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এগিয়ে চলেছে।
প্রথম আলো : বাংলাদেশের সাংবাদিকদের প্রতি আপনার কোনো পরামর্শ বা বক্তব্য...
ডেভিড কাপলান : আমাদের বাংলাদেশি সহকর্মীদের আমরা বৈশ্বিক এ নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই। সারা বিশ্বের সাংবাদিকদের নিয়ে আমাদের এই সংগঠন। এখানে যুক্ত হলে তাঁরা তথ্যপ্রযুক্তির সর্বাধুনিক ব্যবহারের মাধ্যমে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পদ্ধতি জানতে পারবেন, দেশি-বিদেশি সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি ও রক্ষা করতে পারবেন এবং একে-অন্যের সহযোগিতা নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট তৈরি করতে পারবেন। আমরা মূলত এমন একটি নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে বিশ্বের সাংবাদিক সম্প্রদায় একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। বর্তমান বিশ্বে সংবাদ খুব দ্রুত দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যায়। সকালে আপনি যে খাবার খাচ্ছেন, বিকেলে আপনার শিশুটি যে খেলনা দিয়ে খেলছে, রাতে আপনি যে ওষুধটি খাচ্ছেন—সবই অন্য এক দেশ থেকে আসে। তাই গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী রিপোর্টিং করতে গেলে আপনাকে সীমানা পেরোতে হবে। বহু আগে থেকেই খারাপ লোকেরা আন্তর্জাতিক হয়ে গেছে। তারা চোখের নিমেষে এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থ, মানুষ ও নিষিদ্ধ বস্তু পাচার করছে, পুলিশ তাদের ধরতে পারছে না, অথচ সাংবাদিকেরা তাদের ঠিকই খুঁজে বের করছেন। এ জন্য বাংলাদেশি সহকর্মীদের আমাদের আরও বেশি করে দরকার, বৈশ্বিক এই আন্দোলনে যেন তাঁরাও ভালোভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন।
প্রথম আলো : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ডেভিড কাপলান : আপনাকেও ধন্যবাদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এমপির বাসা থেকে গ্রেপ্তার নাদিয়ার খুনি হাবিব
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী সহকারী শফিকুল ইসলাম তপন জানান, অনুমান আড়াইটার দিকে আকুয়া খালেরপাড় নামক স্থানে হাবিব যখন নাদিরাকে নিয়ে প্রাইভেটকারে যাচ্ছিল তখন রাস্তার পাশে থাকা লোকজন মেয়ের কান্না শুনতে পায়। তাদের সন্দেহ হলে গাড়িটি আটক করে চালকের আসনে বসা হলুদ গেঞ্জি পরা ড্রাইভার হাবিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মেয়েটি কাঁদছে কেন। হাবিব জানায়, তার ছোট বোন বাসায় যেতে দেরি হচ্ছে বলে কাঁদছে। গাড়ির পিছনের সিটে বসা মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় তার ভাই হয়। বাসায় যেতে দেরি হচ্ছে বলে সে কাঁদছে। গাড়িটি ছেড়ে দিলে বাইপাস সড়কে মুক্তাগাছার দিকে চলে যায়। এ সময় তপন প্রাইভেটকারের নম্বরটি লিখে রাখেন। ঘণ্টা-দেড় ঘণ্টা পরে টেলিভিশনে খবর দেখতে পান ধান ক্ষেতে স্কুলছাত্রী লাশ পাওয়া গেছে। লাশ দেখে নিশ্চিত হন ঘণ্টা দেড়েক আগে আটক সেই মেয়েটি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে জানান। ডিবি পুলিশ তপনকে সঙ্গে নিয়ে হাবিবকে শনাক্ত করে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের সানকিপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের সংসদ অনোয়ারুল আবেদিন তুহিনের নিজ বাসায় অভিযান চালিয়ে গাড়ির ড্রাইভার হাবিবুর রহমান হাবিবকে (২২) আটক করে। এ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের হোতা ড্রাইভার হাবিব জাতীয় সংসদের স্টিকারযুক্ত এমপির প্রাইভেটকারটি ব্যবহার করে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমারত হোসেন গাজী এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্কুলছাত্রী নাদিরাকে স্কুল থেকে ফেরার পথে ফুঁসলিয়ে একটি গাড়িতে তুলে। পরে গাড়িতেই নাদিরার শ্বাসনালীতে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে ও গলা কাটার চেষ্টা করে হাাবিব। এ সময় তার মৃত্যু নিশ্চিত করে শহরতলির বাদে কল্পা এলাকায় একটি ধানক্ষেতের পাশে মরদেহ ফেলে যায়। পুলিশ জানায় গলায় ৩টি কমরের ডান পাশে ১৩টি ধারালো অস্ত্রের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নাদিরাকে ড্রাইভার হাবিব বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকমের কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু সে তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এবং জানাজানি হবার ভয়ে তাকে হত্যা করা হয়। নিহত নাদিরা ঘাতক ড্রাইভার হাবিবের ফুফাতো বোন। এ ঘটনায় নাদিরার বাবা ইউনুস আলী বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, আরও কেউ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা এ ব্যাপারে আটককৃত হাবিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সত্তরোর্ধ্ব লন্ডনি নাসিরের সঙ্গে অষ্টাদশী শিরিনের বিয়ে, সিলেটে তোলপাড়
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রেসিডেন্ট দলের সিদ্ধান্তে চলবেন: -চ্যানেল নিউজ এশিয়াকে সাক্ষাৎকারে সু চি
আর ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য মিয়ানমারের বর্তমান প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন ও তাঁর সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। খবর রয়টার্সের।
নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা এবং বিজয়ী দল হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার অপেক্ষায় এখন এনএলডি। অপেক্ষার এই ক্ষণ যতই ফুরিয়ে আসছে, ততই ক্ষমতায় যাওয়ার পর নিজ ভূমিকা সম্পর্কে খোলাখুলি বক্তব্য দিচ্ছেন গণতন্ত্রকামী নেত্রী সু চি। এরই মধ্যে নোবেল বিজয়ী এই নেত্রী বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হতে না পারলেও তাঁর ওপরেই থাকবেন তিনি।
আর এবার আরও স্পষ্টভাবে সু চি জানিয়ে দিলেন, তাঁর দল যাকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করুক না কেন, তাতে কিছু আসে-যায় না; রাষ্ট্রক্ষমতা তিনিই চালাবেন। গত মঙ্গলবার তাঁর বাসভবনে সিঙ্গাপুরভিত্তিক টেলিভিশন ‘চ্যানেল নিউজ এশিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সু চি বলেছেন, ‘সব সিদ্ধান্ত আমিই নিয়ে থাকি। কেননা, আমি জয়ী দলের নেতা। কেবল সাংবিধানিক প্রয়োজন পূরণে এমন একজনকে প্রেসিডেন্ট করা হবে, যাঁকে আমরা পছন্দ করব।’
‘তাঁর কোনো কর্তৃত্ব থাকবে না। দলের সিদ্ধান্ত মেনেই তিনি কাজ করবেন।’ বললেন সু চি। সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্টকে সেটাই করতে বলা হবে, যা প্রকৃতই তিনি পারবেন।’
প্রেসিডেন্টের কোনো কর্তৃত্ব না থাকার ব্যাপারে সু চি যুক্তি দেন, ‘এটাই একমাত্র যৌক্তিক উপায়। কেননা, যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশে বিজয়ী দলের নেতাই সরকারে নেতৃত্ব দেন। এই সংবিধান যদি এটা সমর্থন না করে, তবে প্রচলিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংগতি রেখে আমরা যাতে এগোতে পারি, সে জন্য আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এ রকম মন্তব্য কর্তৃত্ববাদীতুল্য কি না, এ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নে এনএলডি নেত্রীর জবাব, ‘জনগণই এনএলডির শক্তি হওয়ায় তারা এমন পথ থেকে পিছু হটবে না। তা ছাড়া, যে সরকার জনসমর্থনের ওপর নির্ভরশীল, তারা কখনো কর্তৃত্ববাদী হতে পারে না।’ বর্তমান বিরোধীদলীয় এই নেত্রী সামরিক বাহিনী ও অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় রেখে চলার কথাও ব্যক্ত করেন সাক্ষাৎকারে।
মিয়ানমারের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সন্তানেরা বিদেশি নাগরিক হওয়ায় অং সান সু চি দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। তবে দুজন ভাইস প্রেসিডেন্টের একজন হতে তাঁর বাধা নেই।
এনএলডি বলেছে, তারা পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ২৫০-এর বেশি আসন পাবে। এই কক্ষ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ২২১ আসনের চেয়ে এটা ঢের বেশি। গত বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের ঘোষিত ২৯৯টি আসনের মধ্যে দলটি পেয়েছে ২৫৬ আসন। উচ্চকক্ষ ও আঞ্চলিক পরিষদগুলোতেও এগিয়ে আছে দলটি।
বারাক ওবামার অভিনন্দন: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের ক্ষেত্রে মিয়ানমারে সফলভাবে ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠান করায় গতকাল বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
থেইন সেইনের মুখপাত্র ই এইচতুত এ প্রসঙ্গে তাঁর ফেসবুক পাতায় বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা এক অবাধ ও নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠান করায় প্রেসিডেন্ট ও পুরো সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
November
(600)
-
▼
Nov 14
(15)
- প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ১২৮
- অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর বড় হুমকি by এম সাখাওয়াত...
- প্যারিসে একযোগে হামলা, নিহত ১৬০
- রূপপুর প্রকল্পে ১,৩৫০ কোটি ডলার ব্যয় কি যৌক্তিক? ...
- ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ফের ঢুকছে মানবদেহে by ফরিদ উদ্দিন ...
- প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অ্যামনেস্টির...
- চীনে এক সন্তান নীতি বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে by মিনঝি...
- শারজায় শব্দের জন্য ভালোবাসা by আনিসুল হক
- একটি শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন জরুরি by আমিরুল ...
- ‘তোমাকে হারাব বলেই জেতাব তাকে’ by মলয় ভৌমিক
- সফল উন্নয়নের জন্য দরকার স্বাধীন গণমাধ্যম -বিশেষ স...
- এমপির বাসা থেকে গ্রেপ্তার নাদিয়ার খুনি হাবিব
- সত্তরোর্ধ্ব লন্ডনি নাসিরের সঙ্গে অষ্টাদশী শিরিনের ...
- প্রেসিডেন্ট দলের সিদ্ধান্তে চলবেন: -চ্যানেল নিউজ এ...
- পুতিন–কন্যার উত্থান!
-
▼
Nov 14
(15)
-
▼
November
(600)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

















