Thursday, January 23, 2014
নারীর প্রতি সহিংসতা- ‘যোগ্যতমের উদবর্তন’ by উম্মে মুসলিমা
যে সমাজ নির্ধারণ করে পুরুষই প্রধান, বাহুবলে বীর, বুদ্ধিতে প্রখর, শারীরিক উচ্চতা ও ওজনে অধিক, অকুতোভয়—তারা ভাবতেই পারে, তাদের চেয়ে দুর্বলদের দমন তাদের কর্তব্য। কাব্য করে বলা হয়ে থাকে, নারী হরিণবিশেষ, ‘আপনা মাংসে হরিণা বৈরী’। এখনো পুরুষসমাজ নারীকে মাংসপিণ্ড হিসেবে দেখতে পছন্দ করে। অথচ নারী তাঁর আপন মহিমায় দিন দিন উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হচ্ছেন। শত প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে নারী স্বাক্ষর রাখছেন অনেক চ্যালেঞ্জিং পেশায়। এ যুগ খনা বা জোয়ান অব আর্কের যুগ না হলেও একবিংশ শতাব্দীতে সাহসী, বুদ্ধিমান নারী অনেক নিগ্রহ, অনেক সমালোচনার শিকার। হাতে গোনা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ কটা বাদে নারীর প্রতি মনোভাব অন্য সব দেশে কমবেশি একই রকম।
আমাদের দেশে যখন কোনো কোনো নারী সাংবাদিক তাবড় তাবড় মহাজনকে বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নবাণে ঘায়েল করেন বা কোনো তথ্য উদ্ঘাটনে পুরুষ সহকর্মীদের সমান বা তাঁদের চেয়ে ভালো করেন, তখন তাঁদের সম্পর্কে বলা হয়, ‘আরে, ওর ভেতর কোনো মেয়েসুলভ আচরণ দেখেছ?’ কিংবা ‘ভাবখানা সবজান্তা, জানে তো ঘণ্টা!’ আরও অনেক বাজে কথা রটিয়ে দেওয়া হয়। এসব মাৎসর্য ছাড়া আর কিছুই নয়।
নারী কেন ঘরে বসে সেলাই-ফোঁড়াই করেন না, কেন কেবল সন্তান মানুষ করেন না, নারীর প্রতি নির্যাতনের জন্য নারী নিজেই দায়ী। অনেকে বলবেন, নারীর ওপর নারীও তো সহিংস হয়ে ওঠেন। তাহলে আর কেবল পুরুষতান্ত্রিকতার দোষ কেন? পুরুষতন্ত্র অর্থে এখানে ক্ষমতাবানদের কথাই বলা হয়; তিনি নারীও হতে পারেন। নারীর প্রতি সহিংসতারও অনেক রূপ। শুধু শারীরিক নির্যাতন নয়, নারীকে মানসিক নির্যাতনেও প্রাণ দিতে হয়।
দুর্বলদের উপহাস করে সবলেরা একধরনের অশ্লীল আনন্দ উপভোগ করে। নতুন জামাইকে নিয়ে শালা-শালিরা যেসব কাণ্ড করে, সেখানে মজাটাই মুখ্য। কিন্তু নতুন বউকে সহ্য করতে হয় বিভিন্নজনের খোঁটা। কারণ, বউটা একে একা, তার ওপর অসহায়। তা ছাড়া শ্বশুরবাড়ির ছোট-বড় সবাই তাঁর অভিভাবক।
গ্রামগঞ্জে একটা কথা প্রচলিত, ‘গরিবের সুন্দরী বউ’। গরিবের সুন্দরী বউ রাখারও উপায় নেই। সুন্দর পালনের অধিকার কেবল ধনীদের। সিন্ডারেলা দুঃখী, দরিদ্র, গুণী মেয়ে, কিন্তু সুন্দরী না হলে যতই জুতোর মাপ সঠিক হোক, রাজপুত্র হতাশ হয়েই প্রাসাদে ফিরে আসত।
বড় বড় মাছ ছোট মাছদের খেয়ে ফেলে। মনুষ্যসমাজেও এ রকম নৈরাজ্যকর কালের উদ্ভব হলে তাকে বলে মাৎস্যন্যায়। নারীর জীবনে চিরকালই মাৎস্যন্যায়। পুরুষসমাজ নারীকে ভাবতে শিখিয়েছে যে নারী যত কোমল, তিনি তত গ্রহণীয়। এর মূল কথা হলো, নারী কোমল ও দুর্বল হলে তাঁকে নিপীড়ন করা সহজ হয়। তাই মেয়েরা যখন পেশিবহুল খেলা বা প্রতিরক্ষামূলক পেশায় নিয়োজিত হন, তাঁদের বিয়ে দেওয়া বা হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই মেয়েদের পেশা নির্ধারণ করে দেন মা-বাবা, যাতে তাঁদের মেয়েরা সারা জীবন মার খেতে পারেন।
তবে শিক্ষিত মানুষজনের মধ্যে নারী নির্যাতনের প্রবণতা একটু কম। এ শিক্ষিতেরও সংজ্ঞা আছে। যাঁরা স্বশিক্ষিত নন, তাঁরা যত উচ্চশিক্ষিতই হোন না কেন, নিজেদের পরিবর্তন করতে পারেন না। প্রকৃতির কাছে মানুষ চিরদিনের শিক্ষার্থী।
একসময় আমাদের প্রপিতামহী-প্রমাতামহীরা ছিলেন প্রায় অসূর্যম্পশ্যা। এ রকম রূপকথাও প্রচলিত: একজন কন্যাদায়গ্রস্ত দরিদ্র বাবার কুটিরে আশ্রয় নিলেন একজন রাজার ছেলে। রাজার ছেলে গৃহস্বামীর আতিথ্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে যা ইচ্ছে চাওয়ার অনুমতি দিলেন। গৃহস্বামী বললেন, তাঁর ঘরে একজন অন্ধ, কালা, বোবা ও খঞ্জ বিবাহযোগ্য মেয়ে রয়েছেন। যদি অনুগ্রহ করে রাজপুত্র তাঁকে বিয়ে করেন, তাহলেই তিনি কৃতার্থ হবেন।
রাজপুত্র বড় মনের মানুষ, তাই দ্বিধা সত্ত্বেও রাজি হলেন। বিয়ে হয়ে গেলে রাজপুত্র দেখলেন, এক অপূর্ব সুন্দরী মেয়ে তাঁর বধূ। তিনি অন্ধ-কালা-বোবা-খঞ্জ কিছুই নন। শ্বশুরমশাইকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তাঁর মেয়ে কোনো পরপুরুষকে চাক্ষুষ করেননি, তাই তিনি অন্ধ, কোনো পরপুরুষের কথা শোনেননি, তাই তিনি কালা, কোনো পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলেননি, তাই তিনি বোবা আর বাড়ি ছাড়া কোথাও যাননি তাই তিনি খঞ্জ।
রাজপুত্র ধন্য হয়ে গেলেন এমন সর্বগুণসম্পন্না স্ত্রী পেয়ে। তো, সেসব দিন নেই। সময়ের প্রয়োজনে অনেক কিছু বদলাচ্ছে। পরিবর্তনকে অনেকে দ্রুত গ্রহণ করছেন, অনেকে একটু দেরিতে, অনেকে করছেনই না। যাঁরা পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে পারছেন না, তাঁদের দ্বারাই সংঘটিত হচ্ছে যত অনাচার।
বলা হয়, সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। নারী-পুরুষ উভয়েই মানুষ। নারীর শারীরিক পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ অবস্থান্তর—এসবই প্রাকৃতিক। এটি কোনো অধস্তনতার পরিচয় বহন করে না বা এতে তাঁকে দুর্বল ভাবার কারণ নেই। পুরুষ পেশিবহুল। ভারী কাজ করার ক্ষমতা রাখে। নারীর ক্ষমতা অন্তরীণ। সন্তান ধারণ, জন্মদান ও লালনের ক্ষমতাকে যাঁরা বড় করে দেখেন, তাঁরা নারীর বাহ্যিক গড়নকে নিজেদের শরীরের সঙ্গে তুলনায় আনা বোকামি ভাবেন। তাহলে যাঁরা সন্তান জন্ম দেন না বা পারেন না, তাঁরা কী ক্ষমতাহীন? তাহলে খনা বা জোয়ান অব আর্কের প্রজ্ঞাকে কী নামে অভিহিত করি? পাহাড়ি বা আদিবাসী সমাজে নারীরাই বেশি কর্মঠ। তার পরও কেবল নারী হওয়ার অযোগ্যতাতেই তাঁরা দমিত।
এককালে কায়িক পরিশ্রম দিয়ে মানুষের শক্তি-সামর্থ্য বিচার করা হতো। কিন্তু এখন অসির চেয়ে মসির মতো পেশির চেয়ে মস্তিষ্কের শক্তি বেশি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে দিনকে দিন। নারী-পুরুষনির্বিশেষে যোগ্যতা প্রমাণের সমান সুযোগ খুঁজে নিতে হবে। এখন সময় বুদ্ধিবৃত্তিতে যে বেশি যোগ্য, সে-ই ‘যোগ্যতমের উদ্বর্তন’।
উম্মে মুসলিমা: কথাসাহিত্যিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাষ্ট্র ও রাজনীতি- বিএনপির ঘাড়ে সিন্দবাদের বুড়ো by আবদুল মান্নান
About: mid tip
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পালাবদল- সংঘাতের কেন্দ্রে এশিয়ার নতুন নেতারা by পঙ্কজ মিশ্র

এশিয়াজুড়েই এই পালাবদলের রাজনৈতিক সম্ভাবনা ব্যাপক। ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সময় এর প্রথম দেখা মিলেছিল। সেখানে রেজা শাহ পাহলভির আমলে মহাসমারোহে দ্বিগুণ গতিতে নগরায়ণ করতে গিয়ে কৃষকেরা উচ্ছেদ হন। এই বিক্ষুব্ধ শ্রেণীটিকেই নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসে ইসলামি বিপ্লবীরা এবং তাঁরাই হন এদের প্রধান অনুগত ভিত্তি।
হাল আমলে জনসংখ্যার গঠনের রদবদলের সুফল নিয়ে ক্ষমতাসীন হয় তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি)। এর নেতা রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান প্রায় এক দশক অপ্রতিহত অবস্থানে দেশ শাসন করেন। থাইল্যান্ডের টেলিকম বিলিয়নিয়ার থাকসিন সিনাওয়াত্রার উত্থানের গল্পটাও এ রকমই। তিনি এর আগে উপেক্ষিত দুটি গোষ্ঠী: ব্যাংককের শহুরে গরিব আর উত্তর থাইল্যান্ডের বঞ্চিত গ্রামবাসীকে একতালে আলোড়িত করেন।
শহর এলাকা থেকে নতুন ধরনের মোহজাগানো রাজনীতিকের উত্থান ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ায়ও। তিনি হলেন জাকার্তার গভর্নর জোকো উইদোদো। ভারতের নয়াদিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের উত্থানের চালিকাশক্তিও এই শহুরে নিম্নবর্গ। নতুন নেতাদের ব্যতিক্রমী অতীত পেশাদার রাজনীতিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ভোটারদের কাছে টেনেছে। জনপ্রিয়তার সুবাদে তাঁরাও পুরোনো পৃষ্ঠপোষকতার নেটওয়ার্ক এবং জাত, ধর্ম ও আঞ্চলিকতাকে তেল-তোয়াজ করা এড়িয়ে যেতে পেরেছেন। এশিয়াজুড়ে সাবেকি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক এলিটদের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে; কখনো কখনো তাঁরা উৎখাতও হয়ে যাচ্ছেন। একেবারে নতুন সামাজিক যোগাযোগজাল, এনজিও-ধরনের তৎপরতা এবং মিডিয়াবান্ধব ঘষামাজা ইমেজ ও প্রতীক—যেমন কেজরিওয়ালের বেলায় গান্ধী টুপি—রাজনীতির বিকল্প পথ গড়ে নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদ, ক্ষমতার দালাল ও ব্যবসায়ীদের গড়ে তোলা ভারসাম্য ভেঙে দিচ্ছে শহুরে শ্রমিক এবং চাকরিজীবী মধ্যবিত্ত শ্রেণী।
এশিয়াজুড়ে ঘটে চলা এই নতুন ঘটনা যতই ‘অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র’ অথবা ‘আমজনতা’ আবিষ্কারে উল্লসিত হোক না কেন, এ ফাটানো পরিবর্তনের অন্য দিকটির দিকে অনেকেরই নজর নেই। এটা জন্ম দিচ্ছে সংঘাতেরও বিস্ফোরণ। সর্বক্ষেত্রে অর্থনীতির গতি ধীর হয়ে আসা এই সংঘাতের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যেমন বলা যায়, আমজনতার বিদ্রোহ এলিট মহলের তরফে পাল্টা-বিদ্রোহ উসকে দিচ্ছে। সাবেকি এলিটরা নিজের অবস্থান আপসে আপ ছেড়ে দেবে না। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বাইরে থেকে থাই রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে মধ্যবিত্তের ক্রোধ দেশটাকে অবশ এবং অর্থনীতিকে করে দিচ্ছে অবশ। যে এরদোয়ান একসময় তুরস্কের ওপর প্রায় ওসমানিয়া সাম্রাজ্যকালীন অধিরাজ হয়ে উঠেছিলেন, তাঁকে এখন বিরোধী জোটের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এই বিরোধী জোট গঠিত হয়েছে মধ্যবিত্ত ও ব্যবসায়ী এবং সামরিক ও আমলাতান্ত্রিক এলিটদের নিয়ে। ঠিক এ ধরনেরই একটা জোট থাকসিনকে নির্বাসিত করেছিল এবং এখন তাঁর বোনের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
দিল্লিতে কেজরিওয়ালের অপ্রত্যাশিত অর্জন সুনিশ্চিত হয়েছিল মধ্যবিত্ত এবং শহুরে গরিব ভোটারদের ঐক্যের মধ্য দিয়ে। কিন্তু এ জোট কেজরিওয়ালের দিল্লির দপ্তরকে বেশি দিন শান্তিতে থাকতে দেবে বলে মনে হয় না। কারণ, মধ্যবিত্তরা চায় স্বচ্ছ ও দক্ষ সরকারি সেবা, অন্যদিকে সুবিধাবঞ্চিতরা চায় মৌলিক সামাজিক অধিকারের বাস্তবায়ন। দেখা যাচ্ছে, সংখ্যায় বৃহত্তর গরিব শ্রেণীই কেজরিওয়ালের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোর লক্ষ্য।
ব্যাংককে থাকসিনের বোনের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদ দেখায় যে, দুই ধরনের গণতন্ত্রের মধ্যকার সংঘাতে একটি দেশ কেমন অচল হয়ে যেতে পারে। এই গণতন্ত্রগুলোর একটি গঠিত হয়েছে আগেকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে, যারা চায় যে রাজনীতিবিদেরা তাদের ওপর ভর্তুকি, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ-সুবিধার ঝরনা ঝরান। অন্য পক্ষটি শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে ঘিরে পাক খাচ্ছে। এরা জনমনকে খুশি করার কাজকারবার ঘৃণা করে, উঠে আসা সামাজিক শ্রেণীগুলোর রাজনৈতিক ভূমিকাকে ভয় পায়। এ ভয় থেকেই তাদের দৃষ্টিতে অদক্ষ সরকারের পতনের জন্য তারা মরিয়া।
ভারতে সাবেকি রাজনৈতিক আনুগত্য জাত-বর্ণের সংহতি এবং অন্যান্য ধরনের পরিচয় ও পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি দিয়ে কাটাকুটি হয়ে যাচ্ছে। দলিত, সাম্প্রদায়িক, আঞ্চলিক ও শ্রেণীসংঘাত যখন পরস্পরকে দুর্বল করায় ব্যস্ত, তখন দিল্লির মতো জায়গায় দুর্নীতি ও সুশাসনের মতো স্থানীয় ইস্যু সবকিছু ছাপিয়ে ওঠে। আর তাই কেজরিওয়ালকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জাত-সম্প্রদায়ের সনাতন ক্ষমতাকেন্দ্রগুলোর কাছে ধরনা দিতে হয়নি। তিনি সরাসরি সবার জন্য নাগরিক অধিকারের দাবি তুলেছেন। তবে অচিরেই তাঁর বামমনা সহকর্মী, মধ্যবিত্ত থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবক কর্মী এবং নিচুতলার ভোটারদের মধ্যে বেসুরো মতাদর্শিক মতভেদ তৈরি হতে পারে।
গত সপ্তাহে কেজরিওয়াল আগের সরকারের আমলের মাল্টিব্র্যান্ড সুপারশপে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাতিল করেছেন। এটা খুদে দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের খুশি করলেও আরও সচ্ছল ভোটারদের মনঃপূত হবে না। যেসব করপোরেশন সাততাড়াতাড়ি তাঁর রাজনৈতিক গতিধারার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে, এটা তাদেরও নাখোশ করবে। যেসব কায়েমি রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষক আম আদমির রাজনৈতিক উত্থানে বেকায়দায় পড়ে গেছে, তারাও চাল দেওয়া শুরু করেছে। ইতিমধ্যে তারা জম্মু ও কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর উপস্থিতির মতো বিতর্কিত ইস্যুতে কেজরিওয়ালকে কথা বলার জন্য চাপ দিচ্ছে। নির্বাচিত রাজনীতিবিদেরা যতটা হানিমুন-সময় পান, সেটাও কেজরিওয়াল পাচ্ছেন না। জনতুষ্টিবাদী সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাপারে এঁদের আক্রমণের শিকার কেজরিওয়াল হরহামেশাই হচ্ছেন।
কার্যকর বামপন্থী দল না থাকার সুবিধা কেজরিওয়াল সাময়িকভাবে পাচ্ছেন। ভারতের কোনো বামপন্থী দলই সর্বভারতীয় স্তরে সামাজিক ক্ষোভ-বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক সংঘাতের ফায়দা নিতে সক্ষম নয়। এমনকি মৌলিক পরিবর্তনকামী রাজনীতিবিদেরাও নিজেদের সব আদর্শের প্রতি নিরপেক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করছেন। শাসকের বিরুদ্ধে শাসিতদের চালনা করে কেজরিওয়াল খুব আকর্ষণীয় ও সহজ রাজনৈতিক কর্মসূচি হাজির করেছেন।
অস্পষ্টতা কিংবা সবাইকে খুশি করার চেষ্টা রাজনীতির এক অনস্বীকার্য সম্পদ। কিন্তু সারা দেশের আগে অন্তত দিল্লিতে হলেও কেজরিওয়ালকে বিভক্ত রাজনৈতিক দৃশ্যপটের সঙ্গে বোঝাপড়া করে নিতেই হবে; যেখানে গ্রামীণ গরিব, শহরে অভিবাসিত পল্লির মানুষ এবং মধ্যবিত্তরা পরস্পরের সঙ্গে গা-ঘেঁষাঘেঁষি উত্তেজনার মধ্যে বাস করছে। আর এ চাপ ঘনীভূত হচ্ছে শ্রেণী ও বর্ণগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা অনিবার্য ও ক্রমবর্ধমান সংঘাতের পটভূমিতে।
গালফ নিউজ থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ ফারুক ওয়াসিফ
পঙ্কজ মিশ্র: ভারতীয় লেখক ও ঔপন্যাসিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কালের পুরাণ- শেখ হাসিনার যোগ-বিয়োগ by সোহরাব হাসান
About: mid tip
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অঘটন-উত্তর বোধোদয়, নাকি রাজনীতি?
১. নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রশ্নবিদ্ধ। সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন স্পষ্ট করেই বলেছেন যে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের, অন্য কারও নয় (‘নির্বাচন কমিশন দায় এড়াতে পারে না’, প্রথম আলো, ১১ জানুয়ারি)। বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক। অতীতে সচিবের দায়িত্ব পালনের কারণে বেসামরিক নিরাপত্তা বাহিনীর কাজের ধরন, রীতিনীতি, প্রটোকল তাঁর অজানা থাকার কথা নয়। কমিশনারদের মধ্যে একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তাও আছেন, যাঁর ব্রিগেড পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সুতরাং, জাতীয় নির্বাচনের মতো একটা বিশাল আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা প্রয়োজনীয় অনুশীলন করেননি এমনটা ভাবা দুষ্কর। যেকোনো নির্বাচন আয়োজনের আগে সেই নির্বাচনে সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ধারণের একটি বিষয় থাকে। স্বভাবতই তাই প্রশ্ন উঠছে যে কমিশন কি সেসব ঝুঁকি নির্ধারণ করেছিল, নাকি সেগুলো উপেক্ষা করেছে? নাকি ঝুঁকি নির্ধারণের পর তা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে? কমিশনের তরফ থেকে সংখ্যালঘুদের বিপদ এবং তা মোকাবিলার বিষয়ে কী ধরনের প্রস্তুতি বা নির্দেশনা ছিল? আর, প্রশাসনের ওপরই বা কমিশন কতটা নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল?
২. মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব যেহেতু পুলিশের, সেহেতু তাদের ভূমিকাও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। জানা দরকার যে নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচনোত্তর সময়ে পুলিশের প্রতি কী ধরনের নির্দেশনা ছিল? সংখ্যালঘুদের বসতিগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না থেকে থাকলে কেন ছিল না? পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে মোতায়েনের সময় তাদের অপারেশনাল গাইডলাইন কি দেওয়া হয়েছিল? কে বা কারা এসব নির্দেশনা দিয়েছিলেন? অপারেশনের নিয়ন্ত্রণ কার কাছে ছিল? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নাকি নির্বাচন কমিশনের কাছে? নাকি পুলিশ নিজেদের মতো স্বাধীনভাবে তা পরিচালনা করেছে? সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল কি না? এসব নির্দেশনা নথিভুক্ত থাকার কথা। সেগুলো পর্যালোচনা করলেই জানা সম্ভব যে তাদের প্রতি এমন কোনো নির্দেশনা ছিল কি না যে নির্বাচনবিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সামাল দিতে হবে, অথবা প্রার্থী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দেওয়াই তাদের প্রধান কাজ। বিরোধী জোটের নির্বাচন বর্জন এবং প্রতিরোধের ঘোষণা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছিল এ কথা সত্য। কিন্তু সেই কারণে সমাজে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকা জনগোষ্ঠী, যাদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিদেশিরাও আগাম সর্তকবার্তা দিয়েছে, তারা কীভাবে উপেক্ষিত হলো তা বোঝা মুশকিল।
৩. এরপর মাঠ প্রশাসনের ভূমিকাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিশেষ করে যেসব জেলায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। উদাহরণ হিসেবে সাতক্ষীরা, যশোর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও রংপুরের কথা বলা যায়, যেসব জেলায় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর থেকেই জামায়াত-শিবির একধরনের অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। নির্বাচনের মতো বড় আয়োজনের প্রাক্কালে জেলা পর্যায়ে একাধিক প্রশাসনিক প্রস্তুতি সভা হয়ে থাকে। সময়ে সময়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি নামক একটি কমিটিরও সভা হয়ে থাকে। সেসব সভায় সংখ্যালঘুদের ঝুঁকি এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে কী আলোচনা হয়েছিল? নাকি তা উপেক্ষিত থেকেছে? কেন্দ্রীয়ভাবে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে কী ধরনের নির্দেশনা ছিল? এসব নির্দেশনা কোত্থেকে এসেছে? নির্বাচন কমিশন নাকি অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের কাছ থেকে?
৪. নির্বাচনকালীন সরকারের যেসব প্রকাশ্য কার্যকলাপ দৃশ্যমান ছিল, সেগুলো নাটকীয়তায় সরেস হলেও গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসকে কলুষিত করেছে সন্দেহ নেই। নিরাপত্তা বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর হাসপাতাল ব্যবহূত হয়েছে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে। র্যাবের গাড়িতে করে জেনারেল এরশাদকে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য দেখে অনেকেই বলতে শুরু করেছিলেন যে কারও হার্ট অ্যাটাক হলে অ্যাম্বুলেন্সের বদলে র্যাবকে ফোন করা উচিত, তাহলেই দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া যাবে। নিরাপত্তার নামে বিরোধীদলীয় নেত্রীকে কার্যত গৃহবন্দী করা, হরেদরে বিরোধী রাজনীতিকদের গ্রেপ্তার, এগুলো সামাল দিতে সরকার যতটা তৎপর ছিল, তাতে করে ঝুঁকিতে থাকা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর দিকে তাদের নজর দেওয়ার সময় কোথায়? সে কারণেই যেসব এলাকায় এসব সহিংসতা হয়েছে, সেসব জায়গার স্থানীয় রাজনীতিক এবং সরকারের পরিকল্পনা কিছু ছিল কি না সেটাও বিশেষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। বৈশ্বিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর উদ্বেগ এবং দাবির মুখে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এবং বিএনপির নেতা এম কে আনোয়ার ২০১২ সালের ডিসেম্বরেই অঙ্গীকার করেছিলেন যে ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীগুলোর ঝুঁকি মোকাবিলায় তাঁরা একযোগে কাজ করবেন। নির্বাচনকালীন সরকারের ধরন নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের তোড়ে সেই সহযোগিতা ভেসে গেলেও সরকার তার দায়িত্ব এড়াতে পারে না। নির্বাচনী সহিংসতার ক্ষেত্রে ৫ জানুয়ারির একতরফা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন নতুন রেকর্ড করেছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে জানা যাচ্ছে।
কামাল আহমেদ: প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি, লন্ডন।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্কুলে পুলিশ ক্যাম্প
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিএনপির ঘাড়ে সিন্দবাদের বুড়ো
আবদুল মান্নান: সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নারীর প্রতি সহিংসতা- ‘যোগ্যতমের উদবর্তন’ by উম্মে মুসলিমা
About: mid tip
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্বায়নের কাল- অঘটন-উত্তর বোধোদয়, নাকি রাজনীতি? by কামাল আহমেদ

সাংবাদিকদের কলম অথবা ক্যামেরায় দেশের নানা জায়গায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার যেসব চিত্র উঠে এসেছে, তাতে কোথাও তো এসব ক্ষমতাধর রাজনীতিক, আমলা, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাউকে নিপীড়িত-নির্যাতিতের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। অথচ, এখন তাঁরাই ডজন ডজন ক্যামেরার সামনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোকে সাহায্য দেওয়ার আয়োজন করছেন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুষছেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় বেশ কিছু সরেজমিন প্রতিবেদন দেখছি। আর দেখছি মানববন্ধন, লংমার্চ এবং বক্তৃতা-বিবৃতি, যেগুলোর সবই অঘটনোত্তর প্রতিক্রিয়া।
অনেক দিন থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য নির্বাচনকালীন মৌসুম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের ওপর হামলার বিষয়টি চরমে পৌঁছায় ২০০১ সালে। এর পর একমাত্র ব্যতিক্রম ২০০৯। এ ধরনের একটি সর্বজনবিদিত ঝুঁকি প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় রাজনীতিকদের উপেক্ষা করার কারণ নেই। অথচ সে রকমটিই ঘটেছে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে এসব বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তেমন একটা চোখে পড়ছে না। হামলাকারী দুর্বৃত্তদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হলেও নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠানের, তাদের ব্যর্থতা কিংবা গাফিলতি অথবা সম্ভাব্য কোনো রাজনৈতিক দুরভিসন্ধির বিষয়গুলো অনুসন্ধানে কারও কোনো আগ্রহ আছে বলে মনে হয় না। প্রধান দুই দল বা জোট বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করতে যতটা আগ্রহী, তার কারণ অনুসন্ধান, অপরাধীদের বিচার এবং ভবিষ্যতে তার পুনরাবৃত্তি রোধের শিক্ষা গ্রহণে ততটাই উদাসীন। সুতরাং, এসব হামলার বিষয়ে ইউরোপীয় জনপ্রতিনিধিরা কিংবা বহির্বিশ্ব থেকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের যেসব আহ্বান জানানো হয়েছে, সেগুলো কেউ কানে তুলছেন না। রাজনৈতিক কারণ না থাকলে এ ধরনের তদন্তে সরকারের অনাগ্রহের কোনো কারণ থাকার কথা নয়। নাগরিক গোষ্ঠীগুলোর গণতদন্ত কমিশনের মতো বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণেও তো কোনো বাধা দেখি না।
তদন্তে মাঠপর্যায়ে হামলাগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি বৃহত্তর পরিসরে অন্য যেসব বিষয় নজর দেওয়া প্রয়োজন সেগুলো হলো—নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, প্রশাসন, অন্তর্বর্তী সরকার এবং মানবাধিকার কমিশনের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা।
১. নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রশ্নবিদ্ধ। সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন স্পষ্ট করেই বলেছেন যে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের, অন্য কারও নয় (‘নির্বাচন কমিশন দায় এড়াতে পারে না’, প্রথম আলো, ১১ জানুয়ারি)। বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক। অতীতে সচিবের দায়িত্ব পালনের কারণে বেসামরিক নিরাপত্তা বাহিনীর কাজের ধরন, রীতিনীতি, প্রটোকল তাঁর অজানা থাকার কথা নয়। কমিশনারদের মধ্যে একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তাও আছেন, যাঁর ব্রিগেড পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সুতরাং, জাতীয় নির্বাচনের মতো একটা বিশাল আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা প্রয়োজনীয় অনুশীলন করেননি এমনটা ভাবা দুষ্কর। যেকোনো নির্বাচন আয়োজনের আগে সেই নির্বাচনে সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ধারণের একটি বিষয় থাকে। স্বভাবতই তাই প্রশ্ন উঠছে যে কমিশন কি সেসব ঝুঁকি নির্ধারণ করেছিল, নাকি সেগুলো উপেক্ষা করেছে? নাকি ঝুঁকি নির্ধারণের পর তা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে? কমিশনের তরফ থেকে সংখ্যালঘুদের বিপদ এবং তা মোকাবিলার বিষয়ে কী ধরনের প্রস্তুতি বা নির্দেশনা ছিল? আর, প্রশাসনের ওপরই বা কমিশন কতটা নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল?
২. মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব যেহেতু পুলিশের, সেহেতু তাদের ভূমিকাও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। জানা দরকার যে নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচনোত্তর সময়ে পুলিশের প্রতি কী ধরনের নির্দেশনা ছিল? সংখ্যালঘুদের বসতিগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না থেকে থাকলে কেন ছিল না? পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে মোতায়েনের সময় তাদের অপারেশনাল গাইডলাইন কি দেওয়া হয়েছিল? কে বা কারা এসব নির্দেশনা দিয়েছিলেন? অপারেশনের নিয়ন্ত্রণ কার কাছে ছিল? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নাকি নির্বাচন কমিশনের কাছে? নাকি পুলিশ নিজেদের মতো স্বাধীনভাবে তা পরিচালনা করেছে? সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল কি না? এসব নির্দেশনা নথিভুক্ত থাকার কথা। সেগুলো পর্যালোচনা করলেই জানা সম্ভব যে তাদের প্রতি এমন কোনো নির্দেশনা ছিল কি না যে নির্বাচনবিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সামাল দিতে হবে, অথবা প্রার্থী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দেওয়াই তাদের প্রধান কাজ। বিরোধী জোটের নির্বাচন বর্জন এবং প্রতিরোধের ঘোষণা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছিল এ কথা সত্য। কিন্তু সেই কারণে সমাজে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকা জনগোষ্ঠী, যাদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিদেশিরাও আগাম সর্তকবার্তা দিয়েছে, তারা কীভাবে উপেক্ষিত হলো তা বোঝা মুশকিল।
৩. এরপর মাঠ প্রশাসনের ভূমিকাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিশেষ করে যেসব জেলায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। উদাহরণ হিসেবে সাতক্ষীরা, যশোর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও রংপুরের কথা বলা যায়, যেসব জেলায় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর থেকেই জামায়াত-শিবির একধরনের অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। নির্বাচনের মতো বড় আয়োজনের প্রাক্কালে জেলা পর্যায়ে একাধিক প্রশাসনিক প্রস্তুতি সভা হয়ে থাকে। সময়ে সময়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি নামক একটি কমিটিরও সভা হয়ে থাকে। সেসব সভায় সংখ্যালঘুদের ঝুঁকি এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে কী আলোচনা হয়েছিল? নাকি তা উপেক্ষিত থেকেছে? কেন্দ্রীয়ভাবে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে কী ধরনের নির্দেশনা ছিল? এসব নির্দেশনা কোত্থেকে এসেছে? নির্বাচন কমিশন নাকি অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের কাছ থেকে?
৪. নির্বাচনকালীন সরকারের যেসব প্রকাশ্য কার্যকলাপ দৃশ্যমান ছিল, সেগুলো নাটকীয়তায় সরেস হলেও গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসকে কলুষিত করেছে সন্দেহ নেই। নিরাপত্তা বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর হাসপাতাল ব্যবহূত হয়েছে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে। র্যাবের গাড়িতে করে জেনারেল এরশাদকে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য দেখে অনেকেই বলতে শুরু করেছিলেন যে কারও হার্ট অ্যাটাক হলে অ্যাম্বুলেন্সের বদলে র্যাবকে ফোন করা উচিত, তাহলেই দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া যাবে। নিরাপত্তার নামে বিরোধীদলীয় নেত্রীকে কার্যত গৃহবন্দী করা, হরেদরে বিরোধী রাজনীতিকদের গ্রেপ্তার, এগুলো সামাল দিতে সরকার যতটা তৎপর ছিল, তাতে করে ঝুঁকিতে থাকা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর দিকে তাদের নজর দেওয়ার সময় কোথায়? সে কারণেই যেসব এলাকায় এসব সহিংসতা হয়েছে, সেসব জায়গার স্থানীয় রাজনীতিক এবং সরকারের পরিকল্পনা কিছু ছিল কি না সেটাও বিশেষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। বৈশ্বিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর উদ্বেগ এবং দাবির মুখে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এবং বিএনপির নেতা এম কে আনোয়ার ২০১২ সালের ডিসেম্বরেই অঙ্গীকার করেছিলেন যে ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীগুলোর ঝুঁকি মোকাবিলায় তাঁরা একযোগে কাজ করবেন। নির্বাচনকালীন সরকারের ধরন নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের তোড়ে সেই সহযোগিতা ভেসে গেলেও সরকার তার দায়িত্ব এড়াতে পারে না।
নির্বাচনী সহিংসতার ক্ষেত্রে ৫ জানুয়ারির একতরফা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন নতুন রেকর্ড করেছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে জানা যাচ্ছে। আর এই সহিংসতার একটা বড় ক্ষত বহন করছে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। এ ক্ষেত্রে হতাহত ব্যক্তিদের পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উদ্যোগী হতে পারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। কমিশনের চেয়ারম্যান ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করে নির্যাতনের শিকার লোকজনের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। নিঃসন্দেহে এটা ভালো উদাহরণ। রাষ্ট্রের অন্তত একটি প্রতিষ্ঠান কিছুটা হলেও নৈতিক দায় স্বীকার করেছে। কিন্তু এটা যথেষ্ট নয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইনে কমিশনকে যে ক্ষমতা দেওয়া আছে তার সদ্ব্যবহার করে তাদের উচিত হবে অচিরেই একটি ব্যাপকভিত্তিক তদন্ত শুরু করা। সময় চলে গেলে অনেক স্মৃতিই ফিকে হয়ে যাবে, সাক্ষী হারিয়ে যাবেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ নষ্ট হবে। আইন তাদের যে ক্ষমতা দিয়েছে, সেই ক্ষমতার বলে নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের নথিপত্র তলব করার এখতিয়ার মানবাধিকার কমিশনের রয়েছে। সুতরাং, সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে রাষ্ট্র কেন ব্যর্থ হলো, তার কারণ উদ্ঘাটনের জন্য আশা করি কমিশন আরেকটু সাহসী হবে। মাঠ পর্যায়ের অপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়দায়িত্ব নির্ধারণে বৃহত্তর তদন্ত ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি রোধের জন্যই বেশি প্রয়োজন। শুধু ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন, পরিবার এবং সম্পদের ওপর হামলা হবে, রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হবে, অথচ দায়িত্বহীনতার জন্য কারও শাস্তি হবে না—এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান প্রয়োজন।
কামাল আহমেদ: প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি, লন্ডন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দিল্লির আম আদমি দলের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবেন এরশাদ
এরশাদ বলেন, রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দেশের ভাবমূর্তির বিরাট ক্ষতি হয়েছে। জনশক্তি রপ্তানি, তৈরী পোশাক শিল্প খাত, বিদেশী বিনিয়োগ, বাংলাদেশের উপর বহিঃর্বিশ্বের আস্থাÑ ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমরা হুমকির মুখে পড়েছি। বিগত সরকার আমলের ব্যাপক অগ্রগতি ও উন্নয়ন কর্মকান্ডের পরেও রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য জনগণের মধ্যে চরম হতাশার সৃষ্টি হয়। আমার বিশ্বাস অচিরেই সেই হতাশা কেটে যাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে আমার প্রথম এবং প্রধান কাজ হবে একটি আধুনিক মুসলিম প্রধান গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সু-মহান ভাবমূর্তি বিশ্ব দরবারে পেঁৗঁছে দেওয়া। বাংলাদেশ এমন একটি মুসলিম প্রধান দেশ যার প্রতিবেশী কোন মুসলিম দেশ নেই। আমাদের দেশ এগিয়ে চলছে একটি স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে। আমরা শিক্ষা, দীক্ষা ও সংস্কৃতিতে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছি। আমরা অসম্প্রাদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ একটি জাতি। বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের এই ঐতিহ্য তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির বিশাল বাজার ছিল মধ্যপ্রাচ্যে। সেই বাজার প্রায় হারিয়ে গেছে। আমার শাসনামলে মধ্যপ্রাচ্যের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় ছিল। সেখানে আমার ব্যাক্তিগত সম্পর্কও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরো জোরদার করতে ভূমিকা রেখেছে। আমার বিশ্বাস এবং আস্থাÑ সেই সম্পর্ককে আবার ফিরিয়ে আনতে পারবো। তার ফলে জনশক্তির বাজার ফিরে পাবো।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত এবং হানাহানির কারণে আমাদের অনেক অর্জন চাপা পড়ে যাচ্ছে। দেশে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে আমাদের প্রবৃদ্ধির হার ৬ থেকে এতোদিনে দুই অংকের কোটায় পৌঁছে যেতো। বাংলাদেশকে আর তলাবিহীন ঝুড়ি বলার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের অবস্থান নেক্সটÑইলাভেন থেকে ফ্রন্টিয়ার- ফাইভ এ উন্নিত হয়েছে। তৈরী পোশাক রপ্তানির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। শান্তি মিশনে আমাদের সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্নতা এসেছে। খাদ্য রপ্তানিও হচ্ছে। মানুষের মাথা-পিছু আয় বেড়েছে। দারিদ্রের হার কমেছে। এখন কোনো মানুষকে আর না খেয়ে থাকতে হয়না। শিক্ষার হার ও মান বেড়েছে। এইসব অগ্রসরমান বিষয়গুলো জাতীয়ভাবে যেমন প্রচারে আসছেনা তেমনিÑ বহিঃর্বিশ্বেও জানছে না। অপরদিকে অপপ্রচার ও সংঘাতের রাজনীতির কারণে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আস্থা হারাচ্ছে। দেশের বৃহৎ রপ্তানিখাত তৈরী পোশাক শিল্প এখন সংকটের মুখে। এই মুহুর্তে এফডিআই ক্রমহ্রাসমান অবস্থায় চলছে। এখানে আমার একান্ত চেষ্টা থাকবেÑ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে এফডিআই বৃদ্ধি করা। বিদেশী বিনিয়োগের দিক থেকে আমরা মধ্যপ্রাচ্যকে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারি। সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিশেষ ইপিজেড প্রতিষ্ঠার জন্য আমার প্রস্তাব থাকবে।
তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু মৃত্যুর হার রোধ, জনস্বাস্থ্য, স্যানিটেশন ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে দেশটি বিশ্ব দরবারে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল সেই দেশকে এখন রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে ইমেজ সংকটে ভুগতে হচ্ছে। কিছু পশ্চিমা মিডিয়া বাংলাদেশের নেতিবাচক বিষয়ের উপরে অধিকতর আলোকপাত করে আমাদের ইমেজ ক্ষুণœ করছে। কোন কোন মহল বাংলাদেশ জঙ্গি রাষ্ট্র হয়ে যাচ্ছে বলেও অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছেÑ যা কখনই এদেশে হবেনা। অপপ্রচারের কবলে পড়েও দেশের ভাবমূর্তি অনেক ক্ষুণœ হয়েছে।
এরশাদ বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়ে নিজে কোন ব্যাক্তিগত সুযোগ-সুবিধা চাচ্ছিনা। আমার সরকারী বাড়ি-গাড়িরও প্রয়োজন নেই। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে যেটুকু সুযোগ-সুবিধা আমার প্রাপ্য সেটুকু ভোগ করেই আমি বিশেষ দূতের দায়িত্ব পালন করে যেতে চাই। আমি বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক মন-মানসিকতা, উদার ধর্মীয় মনোভাব বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে চাই। আমি বিশ্ববাসীকে জানাতে চাই- বাংলাদেশ একটি জঙ্গিবাদমুক্ত, সাম্প্রদায়িকতামুক্ত এবং রাজনৈতিক হানাহানিমুক্ত একটি দেশ। আমি মনে করি, বাংলাদেশকে একটি আধুনিক মুসলিম প্রধান গণতান্ত্রিক এবং শান্তি প্রিয়, নিরাপদ, ও সহনশীল জাতিগোষ্ঠির দেশ হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করতে পারলে আমাদের জনশক্তি রপ্তানি বাড়বে, এফডিআই বাড়বে এবং দেশের অথনৈতিক প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। আমি সৈনিক হিসেবে দেশের স্বার্থে সবসময় যুদ্ধ করতে প্রস্তুত ছিলাম এবং এখনও দেশের অর্থনৈতিক ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে আমার দায়িত্ব পালন করে যেতে পারবো। আমি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছি। এখন আর আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। দেশ-জাতির কল্যাণ এবং মঙ্গল সাধনই আমার জীবনের একান্ত কাম্য ও লক্ষ্য।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবেন এরশাদ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাষ্ট্র ও রাজনীতি- বিএনপির ঘাড়ে সিন্দবাদের বুড়ো by আবদুল মান্নান

বিএনপি-জামায়াতের বর্তমান সম্পর্ক অনেকটা দুজন দুজনার মতো। অবশ্য এর আগে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন, বিএনপি-জামায়াত একই মায়ের পেটের দুই ভাই। এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে সাম্প্রতিক কালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির যে রাজনৈতিক বিপর্যয়, তার প্রধান কারণ জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর দেশ ও সম্পদ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড, যা দেড় বছর ধরে চলে আসছে। আন্দোলনের নামে তাদের মানুষ পুড়িয়ে মারার মতো ভয়ানক অমানবিক কর্মকাণ্ড বিএনপির অনেক গোঁড়া সমর্থককেও বিএনপিবিমুখ করেছে।
কদিন আগে দায়িত্বশীল বিএনপি ঘরানার এক সরকারি কর্মকর্তা আমাকে বলেছেন, জামায়াতের খপ্পরে পড়ে বিএনপি নিজের পাকা ধানে মই দিয়েছে। নির্বাচনের আগে অনেকে তাদের ধারণা দিয়েছিল, নির্বাচনে অংশ নিলে ভালো করবে, এমনকি হয়তো সরকারও গঠন করতে পারে। কিন্তু জামায়াত নির্বাচনে যাওয়া থেকে বিএনপিকে বিরত রাখতে পেরেছে। কারণ, বিএনপির ‘আন্দোলন’ আর জামায়াতের ‘আন্দোলন’ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে। বিএনপি চাইছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দশম সংসদ নির্বাচন আর জামায়াতের উদ্দেশ্য ছিল যেকোনো উপায়ে মহাজোট সরকারকে উৎখাত করে বিএনপির সঙ্গে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে বানচাল করা। এই দুটি দলই আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকে সঠিকভাবে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।
আওয়ামী লীগের অনেক অক্ষমতা আর দুর্বলতা আছে, কিন্তু আওয়ামী লীগের এখনো একটি রাজনৈতিক চরিত্র আছে আর আছেন তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা। অনেকেই আওয়ামী লীগের মতাদর্শের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন, কিন্তু এই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, বিএনপির তেমন রাজনৈতিক মতাদর্শ নেই। তারা বুঝতে পারে না, সাধারণ মানুষ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি সচেতন। লক্ষ করলে, বেগম জিয়ার চারপাশে, যাঁরা তাঁকে সব সময় ঘিরে থাকেন, তাঁরা প্রায় সবাই সাবেক সামরিক-বেসামরিক আমলা। তাঁরা গুলশানের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষের আলো-আঁধারে বিদেশিদের সঙ্গে কথা বলতে পছন্দ করেন। কিছু ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। বিএনপির এই নেতারা মিডিয়ার সামনে এলে, আধো ইংরেজি আধো বাংলায়, যা জনমানুষের কাছে দুর্ভেদ্য, তেমন ভাষায় কথা বলেন। আর সরকার অফেন্সিভে গেলে আত্মগোপন করেন। নির্বাচনের আগে তাঁরা ভিডিওবার্তার সাহায্যে আন্দোলন পরিচালনা করার নতুন সংস্কৃতি চালু করেছেন। শুধু দেশের ভেতর থেকেই আন্দোলনের এমন আহ্বান আসছে, তা-ই নয়, দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকেও আন্দোলনের এমন বার্তা পাঠাচ্ছেন। যে রাজনৈতিক দল এমন নেতাদের ওপর ভর করে সরকারবিরোধী রাজনীতি করতে চায়, তারা বোকার স্বর্গে বাস করে।
রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সমালোচকেরা তাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ উত্থাপন করেন, কিন্তু তারা যে একটি সন্ত্রাসী দল, তেমন অভিযোগ একটাও নেই। মিছিল করে যাওয়ার সময় তারা দু-চারটি গাড়িতে আগুন দেয়, পুলিশের সঙ্গে মারদাঙ্গায় লিপ্ত হয় অথবা কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ছাত্রশিবিরের মতো বলা যাবে না তারা গণহারে প্রতিপক্ষের রগ কাটে, গলা কেটে মানুষ হত্যা করে অথবা নির্বিচারে সংখ্যালঘু আর আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বাড়ি বা গ্রামে আগুন দেয়।
এযাবৎ ছাত্রশিবির যত সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে, তার অধিকাংশই ছিল ছাত্রদলের সঙ্গে। আমার আগের কর্মক্ষেত্রে জিয়া পরিষদের সভাপতি ড. এনামুল হকের ছেলে মুসাকে তো ওরা পিটিয়েই মেরে ফেলেছিল। ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আবদুল হামিদ ছাত্রদল ছেড়ে এরশাদের ছাত্রসমাজে যোগ দিয়েছিল। তাঁর হাতের কবজি কেটে কিরিচের মাথায় গেঁথে শিবির ভরদুপুরে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছিল। তাঁর অপরাধ ছিল, তিনি শিবিরের রাজনীতির একজন বড় বিরুদ্ধবাদী ছিলেন। ড. কাজী আহম্মদ নবী মনেপ্রাণে জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী। তাঁর একমাত্র ছেলে মুসফিক প্রগতিশীল রাজনীতিতে নতুন দীক্ষা নিয়েছেন। এক গুলিতেই তাঁকে শেষ করে দিল শিবিরের সন্ত্রাসীরা। হেলালি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। ছাত্রদলের নেতা। তাঁকে ১০ জনে টেবিলের ওপর চেপে ধরে চোখ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। সময়মতো শিক্ষকেরা সেখানে হাজির না হলে হেলালি এখন অন্ধ হয়ে হয়তো বেঁচে থাকতেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়নে সংসদ নির্বাচন করেছেন। ১৯৯৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আর রাজশাহী মেডিকেল কলেজে যখন শিবির ছাত্রদলের ওপর হামলা করে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছিল, তখন ক্ষমতায় বেগম জিয়া। তিনি কিন্তু তাঁর দলের আহত সদস্যদের একবারও দেখতে যাননি, গিয়েছিলেন সে সময়কার সংসদে বিরোধী দলের নেত্রী শেখ হাসিনা। দুই নেত্রীর মধ্যে এটাই তফাত।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বেগম জিয়ার অনেক সমর্থক আর উপদেষ্টা তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। সংবাদপত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি শক্তিশালী দেশের এক কূটনীতিককে বাংলাদেশে তাঁদের রাজনৈতিক চালের বিপর্যয়ের কারণে নিজ দেশ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ২০০৬ সালেও ঠিক তেমনটি ঘটেছিল। বিদেশিরা এখন বলছে, বেগম জিয়াকে জামায়াতের সংস্পর্শ ছাড়তে হবে। এত দিনে তারা উপলব্ধি করেছে, জামায়াত একটি সন্ত্রাসী সংগঠন, কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এই দেশগুলোই দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছিল, ‘জামায়াত একটি উদারপন্থী রাজনৈতিক দল’। কিন্তু তারা বললেই তো আর বেগম জিয়া বা বিএনপি জামায়াতকে ছাড়তে পারবে না। অদৃশ্য কারণে বিএনপির রাজনীতি জামায়াতের কাছে বাঁধা রয়েছে বলে বিশ্বাস।
সোমবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি তাদের প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জনসভা করল। প্রথমে শোনা গিয়েছিল, এটি ১৮ দলের জনসভা। পরে জানা গেল, এটি বিএনপির জনসভা। জামায়াতকে নাকি সভায় আসতে নিষেধও করা হয়েছিল। জামায়াত এসেছিল, কিন্তু ব্যানার ছাড়া। সঙ্গে ছিলেন হেফাজতের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী। মঞ্চেও জামায়াতের নেতারা ছাড়া শরিক দলগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রামেও অনুরূপ একটি সমাবেশ হয়েছিল এবং সেখানে মঞ্চে জামায়াতের নেতারা বক্তব্য দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক মঞ্চে জামায়াতকে দেখে আর মঞ্চে ওঠেননি। নিচে বসে তাঁর ছাত্রদের বলেছেন, এখনো যদি বিএনপির বোধোদয় না হয়, তাহলে তাদের ভবিষ্যতে ভালো তো কিছু দেখি না।
বেগম জিয়ার সব উপদেষ্টা হিসেবে সামরিক-বেসামরিক আমলা ছাড়াও আছেন বেশ কিছু আইনজীবী নতুবা বাস্তব জীবন-জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু বুদ্ধিজীবী আর সুশীল ব্যক্তি। একজন আইনজীবী সেদিন জানান, সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলে শতভাগ লাভ বিএনপির। কারণ, জামায়াতের সবাই কাতারবন্দী হয়ে বিএনপিতে যোগ দেবে। এই না হলে উপদেষ্টা। তিনি বুঝতে পারেননি অথবা বুঝতে চাননি, জামায়াত হচ্ছে একটি ভাইরাস। দেহে প্রবেশ করলে দেহটাকে ধ্বংস করে দেবে। জামায়াত যদি বিএনপির সঙ্গে একীভূত হয়, তাহলে বিএনপিও যে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হয়ে উঠবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
কোনো কোনো বিএনপি-সমর্থক পেশাজীবী বিএনপিকে বাহবা দিচ্ছেন এই বলে, তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নাকি মানুষ ৫ জানুয়ারি ভোট দিতে যাননি। তাঁরাও বিএনপির ৫ শতাংশ ভোট-তত্ত্বে বিশ্বাস করেন। ৫ জানুয়ারি অনেক কেন্দ্রে ভোট কম পড়েছে সত্য, কিন্তু তা স্রেফ বেগম জিয়া বা বিএনপির আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঘটেছে, তা বিশ্বাস করা চরম আহাম্মকি। যে মাত্রায় সহিংসতা নির্বাচনের আগের কয়েক দিন হয়েছে, তাতে স্বাভাবিকভাবে মানুষ ভোট দিতে যাবে, তা তো আশা করা যায় না। বেগম জিয়ার এসব সর্বনাশা সমর্থক গোষ্ঠী তাঁকে মনে করিয়ে দেয়নি, নির্বাচনের আগের রাতে যদি ২০০ স্কুল, মাদ্রাসা আর কলেজ ভোটকেন্দ্র হওয়ার ‘অপরাধে’ জামায়াত-বিএনপির দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেয়, তাহলে সেসব কেন্দ্রে কোন ভরসায় ভোটাররা ভোট দিতে যাবেন? ২০০৮ সালের নির্বাচনে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এককভাবে ৪২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। নির্দয়ভাবে এখান থেকে ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভোট ছাঁটাই করলেও আওয়ামী লীগের একেবারে ‘দলকানা’ ভোটার ৩২ থেকে ৩৫ শতাংশ। নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা সারা দেশে এই ভয়াবহ তাণ্ডব না চালালে আওয়ামী লীগ কমপক্ষে এই ভোটগুলো তো পেত।
যদি নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ৪০ শতাংশ হিসাব বিশ্বাস না করেন, তাই বলে ৫ শতাংশ বিশ্বাস করতে হবে কেন? বিএনপির কাঁধ থেকে জামায়াত নামের সিন্দবাদের সেই দৈত্য বা বুড়োটাকে তারা নামাবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এককভাবে তাদের। কিন্তু দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে হলে দেশে একাধিক সুস্থধারার রাজনৈতিক দল প্রয়োজন। তেমনই একটি দল হিসেবে বিএনপি নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে। তাদের উপলব্ধি করতে হবে, এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগকে পাঁচ বছরের আগে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষমতা তাদের নেই। আওয়ামী লীগ অন্য চিন্তা করলে ভিন্ন কথা। বাস্তববাদী হওয়া মঙ্গল।
আবদুল মান্নান: সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওষুধের বিষক্রিয়ায় সুনন্দার মৃত্যু
![]() |
| সুনন্দা পুশকার |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নেপালের ‘কামলারি’ ক্রীতদাসীরা
![]() |
| মনিজা চৌধুরী |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিরিয়ায় অনাহার, নির্যাতনে ১১ হাজার বন্দীর মৃত্যু
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘দৃশ্যত বাংলাদেশের নেতারা গণতন্ত্রচর্চায় আগ্রহী নন’

হাউস অব কমন্সে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন অ্যালান ডানকান। লন্ডনের এনফিল্ড এলাকার এমপি নিক ডি বোয়া কমন্স সভায় জানতে চান, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে কী প্রভাব পড়বে বলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মনে করেন? জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৃটিশ সরকার সতর্কতার সঙ্গে সেখানকার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কোনো প্রকল্পও বাতিল হয়নি।
সম্পূরক প্রশ্নে নিক ডি বোয়া জানতে চান, মন্ত্রী তাঁর সঙ্গে একমত হবেন কি না যে, তাঁর মন্ত্রণালয়ের ব্যয় করা অর্থের অনেকটাই সদ্ব্যবহার হলেও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে যে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, তা কার্যত অপচয় হয়েছে। কেননা, দৃশ্যত দেশটির নেতারা গণতন্ত্রচর্চায় আগ্রহী নন। জবাবে ডানকান বলেন, এ কথা সত্য, বাংলাদেশের রাজনীতি এমন একটা অবস্থায় পৌঁছেছে, যেটা প্রত্যাশিত নয়। তবে আমাদের অর্থের অপচয় হয়েছে এমন নয়। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলকেই অর্থ দিইনি। পার্লামেন্টারি কমিটিগুলো বিশেষ করে সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত কমিটির সঙ্গে কাজ করেছি। যার উদ্দেশ্য ছিল সরকারের কাজকর্মে পার্লামেন্টের নজরদারির ব্যবস্থা জোরদার করা। আর এ কাজটি এনজিওর মাধ্যমে করা হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘দৃশ্যত বাংলাদেশের নেতারা গণতন্ত্রচর্চায় আগ্রহী নন’
About: mid tip
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংলাপ কবে জানতে চায় কানাডা

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংলাপ কবে জানতে চায় কানাডা
About: mid tip
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ by সাজেদুল হক

এ অবস্থায় নিজেদের রাজনীতি রিভিউ করছে বিরোধী জোট। জামায়াত এবং অন্যান্য ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন পরিবর্তন নিয়ে চলছে আলোচনা। মূলত ভোটের পাটিগণিতের হিসাবেই ১৯৯৯ সালের ৩০শে নভেম্বর চারদলীয় জোট গঠন করা হয়। বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত এবং ইসলামী ঐক্যজোট নিয়ে এ জোট গঠিত হয়েছিল। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি পরে জোট থেকে বেরিয়ে গেলেও নাজিউর রহমান মঞ্জুরের নেতৃত্বে দলের একটি অংশ জোটে থেকে যায়। ২০০১ সালে এ জোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে জোটের ভরাডুবি ঘটে। এর পরও এ জোটে আরও কয়েকটি দলকে নিয়ে গঠন করা হয় ১৮ দলীয় জোট। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনও করে জোটবদ্ধভাবে। এ আন্দোলনের দাবির যৌক্তিকতা বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলো স্বীকার করলেও আন্দোলনে সহিংসতারও সমান তালে নিন্দা জানান তারা। মিডিয়া এবং পর্যবেক্ষকদের অনেকে এ সহিংসতার জন্য জামায়াতকেই দায়ী করেন। যদিও চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহার এ জন্য সরকারকেই দায়ী করেছেন। তিনি লিখেছেন, গণ-আন্দোলন অহিংস নাকি সহিংস হবে তার ট্রিগার সব সময়ই সরকারেরই হাতে থাকে। রাজনৈতিক বিরোধ সহিংস বলপ্রয়োগের মধ্য দিয়ে দমন এবং তার পালটা প্রতিক্রিয়া থেকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের সরকারি আচরণ থেকেই এখনকার সহিংসতার জন্ম। এ পরিস্থিতিতে একতরফা গণ-আন্দোলনের ধরন বিশেষত সহিংসতাকে নিন্দা করার একটাই অর্থ : ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে দাঁড়ানো, সাফাই গাওয়া। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টের প্রস্তাবেও সহিংসতায় জড়িত সংগঠন নিষিদ্ধের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জামায়াত-হেফাজতের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানানো হয়। যদিও ওই প্রস্তাবের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক আগাম নির্বাচন। সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংসদের জামায়াত এবং হেফাজতকে একসঙ্গে ব্র্যাকেটবন্দি করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, এটা কৌতূহল উদ্দীপক যে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাবে জামায়াত-হেফাজতকে একই কাতারে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু হেফাজত কোন ধরনের সহিংসতায় জড়িত থাকার কথা আমি শুনিনি এবং বিরোধী দলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার কথাও শোনা যায়নি। কিছু আদর্শগত মিল থাকা সত্ত্বেও জামায়াত ও হেফাজত রাজনৈতিক মিত্র নয়। তাদের একসঙ্গে উল্লেখ করা হয়তো ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তথ্যগত ভুল।
নির্বাচন পরবর্তি সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপিকে সংলাপের পূর্ব-শর্ত হিসেবে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের কথা বলেছেন। অন্যদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ককে বর্ণনা করেছেন, কৌশলগত হিসেবে। এ অবস্থায় বিএনপির সঙ্গে জামায়াত ও অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলোর সম্পর্ক নিয়ে চলছে নতুন পর্যালোচনা। জামায়াতের পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত একজন সাবেক সচিবের মতে, জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ বিএনপির জন্য ক্ষতির কারণই হবে। যদিও অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন, বিএনপি সবসময়ই একটি মধ্যপন্থী দল হিসেবে পরিচিত। এছাড়া জামায়াতের প্রায় সব শীর্ষ নেতাই যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত। এ অবস্থায় জোটের বাইরে যুগপৎ আন্দোলনই বিএনপির জন্য সুফল বয়ে আনবে। যদিও ইসলামপন্থীদের ভোট ব্যাংকের বিষয়টিও বিএনপিকে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ by সাজেদুল হক
About: mid tip
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রসঙ্গ: মানবাধিকার by মনির হায়দার

দেশবাসীর সুখ-শান্তি আর উন্নতির জন্য আমাদের খাদেমগণ তো কম চেষ্টা করছেন না। দিন-রাত কি অক্লান্ত পরিশ্রমই না তারা করে চলেছেন। শুধু কি কাজ? কণ্ঠকেও কোন বিশ্রাম দিচ্ছেন না বেচারারা। জনতার উদ্দেশে বিরামহীনভাবে বলে চলেছেন নানা রকম টক-ঝাল-মিষ্টি কথা। তাতে বিশেষ উপকার হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমগুলোরও। তুলনামূলক অল্প চেষ্টাতেই মিলে যাচ্ছে দারুণ সব খবর। প্রজাকুলও সহজেই জানতে পারছে জনসেবকদের নানা রকম বৈচিত্র্যময় ভাবনা ও স্বপ্ন-কল্পনার সমৃদ্ধ সম্ভার সম্পর্কে। সুতরাং জনসাধারণের কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা ছাড়া অন্য কিছুই কাম্য হতে পারে না।
রাষ্ট্রীয় কোষাগারের খরচ বাঁচাতে এবং ভোটারদের ভোগান্তির হাত থেকে রেহাই দিতে আমাদের শাসক মহল তাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতার প্রমাণ রেখেছে গত ৫ই জানুয়ারির ভোটকাণ্ডে। ১৫৩ আসনের ভোটারদের তো ঘর থেকে বের হওয়ার কষ্টটুকুও করতে হয়নি। সম্পূর্ণ বিনা পরিশ্রমে এসব নির্বাচনী এলাকার জনগণ পেয়ে গেছেন এক-একজন প্রভাবশালী এমপি। বাকি ১৪৭ আসনেরও বেশির ভাগ ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার কষ্ট থেকে বেঁচে যান সরকার মহাশয়ের বদান্যতায়। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের খরচ বাঁচানো কিংবা ভোটারকুলকে কষ্টের হাত থেকে রক্ষা করাই শুধু নয়, বরং অভিনব এ রাজনৈতিক চমকের মধ্য দিয়ে জাতি হিসেবে আমরা অনেকগুলো বিশ্বরেকর্ড অর্জনেও সক্ষম হয়েছি। সুতরাং এমন একটি জনদরদি শাসককুলের প্রতি অকাতরে কৃতজ্ঞতাই কেবল জানানো যায়।
দেশবাসীর নিরাপত্তা এবং আরাম-নিদ্রার জন্যও কি আমাদের রাজন্যবর্গের চেষ্টার কোন কমতি আছে? শহরে-গ্রামে সহিংসতা দমনের জন্য নেয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। দেশীয় পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে যৌথবাহিনী। এ বাহিনীর সুপ্রশিক্ষিত সদস্যরা রাতের ঘুটঘুটে আঁধার চিরে সহিংসতাকারীর খোঁজে চষে বেড়াচ্ছেন শহর-বন্দর-গ্রাম। কোথাও কোন সহিংসতাকারীর টিকি দৃশ্যমান হওয়া মাত্রই গর্জে উঠছে যৌথবাহিনীর রাইফেল। মুহূর্তেই এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যাচ্ছে শত্রুর শরীর। আর বন্দুকযুদ্ধের গল্প তো সবারই জানা। সব যুদ্ধই জনগণকে দেখিয়ে করতে হবে এমন কোন কথা নেই। গুলির শব্দ শোনা গেলেই তো হলো। বাঙালির এ আরেক সমস্যা। সব কিছু নিজের চোখে দেখতে চায়। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই কি তা সম্ভব? কোন হামলা মামলার প্রধান আসামি কিংবা অন্য আসামিদের লাশ কোথাও পাওয়া গেলে কিংবা আদৌ না পাওয়া গেলে সেটার সঙ্গে মানবাধিকারের কি সম্পর্ক? সীতাকুণ্ডের গ্রামে ১৪ বছর বয়েসী কিশোরের লাশ পাওয়া নিয়ে এত হইচইয়ের কি আছে? বয়সটাই বড় বিবেচ্য! সে তো শিবিরকর্মী। মানবাধিকারের অজুহাতে তাকেও ছেড়ে দিতে হবে? শিবির মানেই যে জঙ্গি, তা কি কারও অজানা আছে? রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সড়ক-অবরোধের মতো গুরুতর অপরাধ কি ক্ষমা করা যায়? এ ধরনের অপরাধীরা যদি যৌথবাহিনীর হাতে ধরা না দেয়, তাহলে তাদের স্ত্রী-সন্তান কিংবা পিতা-মাতাকে আটক করে কারাগারে পাঠানো কি অন্যায়? তাদের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়ার মধ্যে মানবতার বিসর্জন কোথায়? এসবই ফালতু কথা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ টাইপের কিছু ভুঁইফোড় সংগঠনের ভূমিকাও খুবই বিরক্তিকর। কয়েক দিন পরপরই অদ্ভুত ধরনের সব মানবাধিকার রিপোর্ট প্রকাশের মাধ্যমে এ দেশের সহজ-সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালায়। আমাদের উচিত সমস্বরে এসব কাজের নিন্দা জানানো। কেবল মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান একাই হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সমালোচনা করবেন, তার কি এতই দায় ঠেকেছে? সরকারের ইমেজ রক্ষার চেষ্টায় এমনিতেই শুদ্ধভাষী এই বেচারাকে দিন-রাত মহাব্যস্ত থাকতে হয়। এসব মহৎ কাজে প্রজাকুলেরও দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করা উচিত। জনগণের প্রতি সরকার বাহাদুর যথেষ্ট দয়াশীল বলেই তো দেশের বেশির ভাগ মানুষ এখনও বেঁচে আছে। সকাল-দুপুর-রাতে খাওয়া-দাওয়া করছে, শঙ্কা-আতঙ্কের মধ্যেও বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
মতপ্রকাশের অধিকার নিয়েও আজকাল কিছু লোকের চেঁচামেচি ক্রমেই সহ্যের সীমা ছাড়াচ্ছে। সদাশয় সরকার মতপ্রকাশের জন্যই তো এতগুলো টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স দিয়েছে। তাতে সবার মত সমানভাবে প্রকাশ করতে হবে এমন কোন কথা নেই। ক্ষমতাসীনদের মতটা ঠিকমতো প্রকাশের ক্ষেত্রে তো কেউ অবহেলা করছে না। তাহলে আর এতে কথা কেন? এখনও তো সব টিভিতেই টকশো হচ্ছে। সব সময়ই দর্শকদের চাহিদা বা পছন্দ অনুযায়ী অতিথি-আলোচক আনতে হবে এমনকি কোন দাসখত দেয়া হয়েছে? বশ্যতা মানতে না চাওয়ার কারণে দু’-চারটি টিভি চ্যানেল কিংবা সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হলে তাতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হলো কোথায়? খামোখা এসব মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কিংবা মানবাধিকারের ধুয়া তুলে সরকারের ইচ্ছাপূরণের পথে অন্তরায় সৃষ্টির চেষ্টা কি বরদাশত করা ঠিক?
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রসঙ্গ: মানবাধিকার by মনির হায়দার
About: mid tip
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশ সঙ্কটে ভারতের হস্তক্ষেপ করা উচিত

গতকাল ভারতের ইংরেজি দৈনিক দি এশিয়ান এজ পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে তিনি অবশ্য চলতি অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় বের করতে ভারতীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। টাইম ম্যাগাজিনের সাবেক দক্ষিণ এশীয় সংবাদদাতা মীনাক্ষী লিখেছেন, ভারত নিজেকে যখন আঞ্চলিক, এমনকি বিশ্ব নেতৃত্বের দাবিদার মনে করে তখন তার উচিত বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করা এবং একটি রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়তে সহায়তা প্রদান করা। সহিংসতা ও আটকাভিযান বন্ধ, রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূর এবং একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার ও বিরাধী দলকে আহবান জানাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নেয়া কোন যৌথ উদ্যোগে ভারতের উচিত হবে অংশগ্রহণ করা।
মীনাক্ষী মন্তব্য করেন, প্রধান বিরোধী দলের বয়কট করা এক অসাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী পদে শেখ হাসিনা টানা দ্বিতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন। তবে প্রচলিত রাজনীতির পথ বন্ধ করে দেয়ায় বাংলাদেশে ইসলামি জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটতে পারে। তিনি লিখেছেন, আওয়ামী লীগ দাবি করেছে যে, হিন্দুদের ৭০০-র বেশি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকরা হামলা করেছে। কিন্তু এই অভিযোগ জামায়াত ও বিএনপি উভয়ে নাকচ করেছে। তারা এসব ঘটনার স্বাধীনভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
ওই নিবন্ধে সুপারিশ করা হয়- ভারতের উচিত হবে আরও বেশি ঘনিষ্ঠভাবে বাংলাদেশ বিষয়ে সম্পৃক্ত হওয়া। ভারত ঘোষণা দিয়েছে যে, ‘বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অবশ্যই এগিয়ে নিতে হবে’। কিন্তু যদি বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ফৌজদারি অপরাধের মামলা মোকাবিলা কিংবা পালিয়ে বেড়াতে হয় তাহলে একথার বাস্তবায়ন বর্তমান বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে দুরূহ হবে। সরকারের এই কর্তৃত্ববাদী মনোভাবটাই বাংলাদেশে নতুন করে সহিংসতা বৃদ্ধি ও অচলাবস্থার রেসিপি হিসেবে দেখা দিতে পারে। এটা চলতে থাকলে এমনকি হয়তো ভারতের যেটা সবচেয়ে বেশি ভয়, সেই ইসলামি জঙ্গিত্বের বৃদ্ধি ঘটতে পারে। রাজনীতি বিষয়ে বাংলাদেশীদের বিমুখ করা হয়েছে। তারা এখন মত প্রকাশের অন্য উপায়ের দিকে ঝুঁকেছে।
উল্লেখ্য, নিবন্ধে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও নাশকতার জন্য বিএনপি ও জামায়াতকে দায়ী করার পাশাপাশি উল্লেখ করা হয় যে, ‘শাসক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও সহিংস ঘটনা ঘটাতে সমর্থ রয়েছে। দৃশ্যত রাষ্ট্র যন্ত্রের প্রশ্রয়ে তারা বিরোধী দলের সদস্যদের প্রহার করেছে। দুষ্কৃতকারী ও বিরোধী কর্মীদের মধ্যে তফাৎ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ সরকার পাইকারি হারে জ্যেষ্ঠ নেতাদেরসহ বিরোধী দলের বিপুল সংখ্যক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক জামায়াতকর্মী পলাতক রয়েছে। সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী নির্বিচারে গুলি করেছে।
ওই নিবন্ধে এই পর্যায়ে মন্তব্য করা হয় যে, ভারত দীর্ঘকাল ধরে ভারতের কাছে হুমকি বিবেচিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে মদতদান বন্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছিল বাংলাদেশের কাছে। আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের এই অনুরোধে সাড়া দিয়েছিল। এই বিষয়ে বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের রেকর্ড দুর্বল। সে কারণে ভারতের বিদেশ নীতিনির্ধারণী মহলের কেউ কেউ অধিকতর ধর্মনিরেপক্ষ আওয়ামী লীগকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন- যা চলতি সঙ্কটের প্রতি ভারতের দৃশ্যমান ঔদাসীন্য অনুধাবনে সহায়ক হতে পারে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশ সঙ্কটে ভারতের হস্তক্ষেপ করা উচিত
About: mid tip
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনৈতিক মামলা- ফেরারি লাখো মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার যশোর থেকে জানান, নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে যশোরে বিএনপি-জামায়াতসহ জোটভুক্ত শরিক দলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের বেশির ভাগ পুলিশি আতঙ্কে ঘরছাড়া। ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২০০০ নেতাকর্মী কারাগারে আটক আছেন। গাড়ি পোড়ানো, সড়ক অবরোধ, যানবাহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, পুলিশি কাজে বাধা, বিজিবির গাড়িতে হামলা, বিআরটিসির বাসে অগ্নিসংযোগ, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা, ভোটকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, ভোটকেন্দ্রে বোমা হামলা, অস্ত্র প্রদর্শন, ভোটের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, মারপিট, স্কুলে অগ্নিসংযোগ, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নির্যাতন, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, সংখ্যালঘু নারীদের ওপর নির্যাতন, ধর্ষণসহ হাজারো অভিযোগে যশোরের বিভিন্ন থানায় গত ৬ মাসে বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নামে ৫৮২টি মামলা রেকর্ড করেছে পুলিশ। এর বেশির ভাগই রাজনৈতিক বিবেচনায় করা হয়েছে বলে দাবি বিএনপি-জামায়াতের। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার নেতাকর্মীকে। কোর্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসব মামলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে মনিরামপুর থানায়। এই থানায় গত ৬ মাসে মোট ২৩৭টি মামলা রেকর্ড করেছে পুলিশ। এর মধ্যে গত ৫ তারিখের নির্বাচনের দিনই মামলা হয়েছে ৬১টি। এসব মামলায় ৩৫ হাজারের বেশি মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এই থানায় আরও ১০ হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ইতিমধ্যে পুলিশ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দায়েরকৃত মামলায় বিএনপি জামায়াতের প্রায় ২ হাজার কর্মী-সমর্থককে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। যাদের অনেকে ইতিমধ্যে জামিনে বের হয়েছেন। কিন্তু ফের পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে তারাও ঘরছাড়া। গত ৬ মাসে বিরোধী দলের সরকারবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন- সংগ্রাম চলাকালে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় ৬৫টি, মনিরামপুর থানায় ২৩৭টি, কেশবপুর থানায় ৩২টি, অভয়নগর থানায় ৩৯টি, বাঘারপাড়া থানায় ৩৫টি, চৌগাছায় ৪১টি, ঝিকরগাছায় ৪৮টি, শার্শায় ৪৭টি ও বেনাপোল পোর্ট থানায় ৩৮টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। দায়েরকৃত এসব মামলার অধিকাংশের বাদী পুলিশ বা সরকারি দলের নেতাকর্মীরা। মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৬ মাসে যশোরের বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ বিএনপি-জামায়াত ও শিবিরের প্রায় ২০০০ নেতাকর্মীকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
অভয়নগরের চাপাতলার মালোপাড়া আর মনিরামপুরের হাজরাঈলের ঋষিপাড়ায় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৫ দিনে এই দুই উপজেলার কমপক্ষে ৫০০০ মানুষ ঘরছাড়া। পুলিশ সুপার জয়দেব ভদ্র স্বীকার করেছেন চাপাতলা মালোপাড়ায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংস ঘটনায় পুলিশ বাদী মামলায় ৩৯ জন এজাহারনামীয় আসামির পাশাপাশি অজ্ঞাত ২শ’ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এ পর্যন্ত ওই মামলার এজাহারভুক্ত মাত্র ২ জন আসামিকে আটক করেছে। অপরদিকে সন্দেহজনক হিসেবে আটক করেছে আরও ৫৪ জনকে। তাদের মধ্যে বাহাদুর নামে একজন চা বিক্রেতাও রয়েছেন।
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, রাজশাহীতে সামপ্রতিক ঘটনায় তিন সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করে নগরীর বিভিন্ন থানায় অর্ধশতাধিক মামলা হয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনকালীন সহিংসতায় রাজশাহী জেলার বাঘা, পবা এবং নগরীর মতিহার, শাহ্মখদম থানায় পৃথক ১৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। এদিকে দফায় দফায় হামলা-পাল্টা হামলা ও গ্রেপ্তার অভিযানে আতঙ্কে রয়েছে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা। অনেকে আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন।
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বাঘা থানার সভাপতি নুরুজ্জামান খান মানিক বলেন, নির্বাচন চলাকালে ও নির্বাচনের পরদিন বাঘার মানিগ্রাম ইউনিয়নের তুলশীপুর ও গঙ্গারামপুরের মহসীন আলী, রমজান আলী, মজি সরকার, এরশাদ আলী, রেজাউল হক, মতিউর রহমান মতি, কুরবান আলী, রাহেদ আলীসহ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর শতাধিক আম ও মেহগনি গাছ কেটে ফেলা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই আওয়ামী লীগ কর্মীরা এ হামলা চালায়। এরপরও পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তার না করে নিরীহ গ্রামবাসীদের ধরতে গ্রামে গ্রামে অভিযান চালাচ্ছে। ফলে গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাসিন্দারা এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। এখনও তারা এলাকায় ফিরতে পারছেন না। তাদের নেতাকর্মীরা জামিনে মুক্ত হয়ে এসেও স্বস্তিতে থাকতে পারছে না। তাদের অন্য কোন মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, নগরীর মতিহার, বোয়ালিয়া, শাহমখদুম ও রাজপাড়া থানায় শুধু গত ডিসেম্বর মাসেই ১০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার আছে ১০৮ জন। এজাহারভুক্ত আসামিসহ ১৮ দলের দেড় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত বছরের ২৬শে ডিসেম্বর রাজশাহী নগরীর লোকনাথ স্কুলের মার্কেট এলাকায় ১৮ দলের মিছিল শেষে পুলিশের একটি ভ্যানে ককটেল হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে গুরুতর আহত হয়ে বোয়ালিয়া থানার পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ চন্দ্র মারা যান। ওই রাতেই বোয়ালিয়া মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন, জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফা ও মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরসহ ৮৭ জনের নাম উল্লেখসহ ১৮ দলের চার শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর পর থেকে ১৮ দলের শীর্ষ নেতারা গা-ঢাকা দেন।
গত সোমবার রাজশাহীতে পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় এক মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন। গতকাল মঙ্গলবার জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কামরুল মনির আদালত থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ, রায়পুর, সদর, রামগতি ও কমলনগরসহ ৫টি উপজেলায় গত তিন মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ১০৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৭৮টি ও জামায়াতের ২৮টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাত আসামিসহ প্রায় ৪০ হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। মামলার ভয় ও গ্রেপ্তার এড়াতে দলীয় নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে রয়েছেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হারুনুর রশিদ ব্যাপারী বলেন, গত তিন মাসে পুলিশ, র্যাব ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বিএনপির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা ৭৮টি মামলা করা হয়েছে।
আসামি করা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার নেতাকর্মীকে। গুম খুনসহ এসব মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে নেতাকর্মীরা কৌশল করে একটু সরে আছেন। জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মহসিন কবির মুরাদ জানান, গত তিন মাসে আমাদের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা-হামলা দিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না। আন্দোলন চলবে। পুলিশ সুপার মো. আবুল ফয়েজ বলেন, নাশকতা ও সহিংসতার ঘটনায় কয়েকটি মামলা হয়েছে। বেশ কয়েজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধায় রাজনৈতিক মামলার আসামি প্রায় ১ লাখ মানুষ। তার মধ্যে আসামি হয়েছেন বিএনপি, জামায়াত, শিবির, নেতাকর্মীরা। আর সাত উপজেলায় মামলা হয়েছে অন্তত ১ শতাধিক। পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে সুন্দরগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলার হাজারো মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কারাগারে আছেন ২ শতাধিক। গত বছর গাইবান্ধায় রাজনৈতিক সহিংসতা হয় ব্যাপক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে জামায়াত বিএনপি অধ্যুষিত পলাশবাড়ী ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। রাজনৈতিক সহিংসতায় পলাশবাড়ীতে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, রাস্তা কেটে ফেলা, ঘরবাড়ি ও মোটরযানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা হয়েছে সর্বাধিক।
২৮শে ফেব্রুয়ারি সাইদীর রায় ঘোষণার পর গাইবান্ধার জামায়াত শিবির অধ্যুষিত এলাকা সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী পর্যায়ে পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্তরা বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় ৩২টি মামলা করা হয়। মামলায় আসামি করা হয় ১২০০ জনকে। আর অজ্ঞাত দেখানো হয় ৬০ হাজার মানুষকে। এই মামলায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২শ’ ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আসামিদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নামও আছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন বলেন, পুলিশের হাতে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি না হয় সেজন্য দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের জামায়াত-শিবির বানিয়ে গ্রেপ্তার করার ষড়যন্ত্র আওযামী লীগ কোনভাবেই মেনে নেবে না। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার নামে পুলিশ অযথা নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে লাভবান হচ্ছেন। অথচ প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে না। এ অবস্থায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছেন সুন্দরঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ মানুষ । ধরপাকড়ের ভয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে গা-ঢাকা দিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। উপস্থিতি কমে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। অপরদিকে গোবিন্দগঞ্জে ১৫টি, সাদুল্লাপুরে ১১টি, সাঘাটায় ১৪টি, ফুলছড়িসহ সাত উপজেলায় কমপক্ষে আড়াই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে বিএনপি সভাপতি আনিসুজ্জামান খান বাবু বলেন । তিনি বলেন, মামলার কারণে দুই উপজেলার ৬০ হাজার মানুষ ঘরছাড়া । তবে কেউ কেউ এখনও কারাগারে আছেন, কেউ আদালতে জামিনে মুক্ত হয়েছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনৈতিক মামলা- ফেরারি লাখো মানুষ
About: mid tip
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিরাপত্তা ও শিক্ষা দুটোই জরুরি বিষয়- স্কুলে পুলিশ ক্যাম্প
গত বছর ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন বছরের শুরুতে নতুন উদ্যমে পাঠদান শুরুর বিষয়টিই ছিল প্রত্যাশিত। শিক্ষার্থীরা নতুন বইও পেয়েছে, কিন্তু স্কুল বন্ধ থাকায় এই স্কুলটি শিক্ষার্থীদের জীবনে গত বছরের ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন ক্ষতি। স্কুলটিকে পুলিশ ক্যাম্প বানানোর পেছনে বাস্তব কারণ রয়েছে। ভোটের দিন বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হওয়া স্কুলটি। আর ভোটের পর সেই একই গোষ্ঠীর হামলার শিকার হয় কাছাকাছি এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের দোকান ও বাড়িঘর। এ নিয়ে সংঘাত-সহিংসতায় একজনের প্রাণহানিও ঘটেছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয় স্কুলটিতে। শিক্ষা না নিরাপত্তা—এ বিবেচনায় সম্ভবত নিরাপত্তার বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চয় গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনও তো এভাবে দিনের পর দিন নষ্ট করার সুযোগ নেই। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষার দিকটিকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এখন প্রতিযোগিতামূলক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই ক্লাস বন্ধ থাকায় এই বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়বে। স্কুলটি খোলা রেখে কীভাবে সে অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা যায় বা বিকল্প হিসেবে কোথায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা যায়, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের মনোযোগ প্রত্যাশা করছি। আর সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার ভার শুধু প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ছেড়ে না দিয়ে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়কেও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিরাপত্তা ও শিক্ষা দুটোই জরুরি বিষয়- স্কুলে পুলিশ ক্যাম্প
About: mid tip
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পালাবদল- সংঘাতের কেন্দ্রে এশিয়ার নতুন নেতারা by পঙ্কজ মিশ্র
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দায়মোচন- বিএনপির নাজুক গোড়ালি by ফারুক ওয়াসিফ

বিএনপির সাংগঠনিক ও মতাদর্শিক দুর্বলতার সুযোগ জামায়াতও নিয়েছে, আওয়ামী লীগও নিয়েছে। বিএনপি জামায়াত হয়ে গেছে বলে আওয়ামী লীগ যতই রব তোলে, বিএনপি যেন ততই জামায়াতের ওপর নির্ভরশীল হয়। বিএনপির দুর্বলতা হলো জামায়াত। বিভিন্ন নির্বাচনের ফল প্রমাণ করে, জামায়াত ছাড়াই বিএনপি এককভাবে আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি জনসমর্থন ভোগ করে। তার পরও জামায়াতকে তাদের লাগবে কেন? যুক্তরাষ্ট্র ‘মডারেট মুসলিম দলকে’ চায় বলে? সাংগঠনিক ও আদর্শিক টনিকের দরকারে? ইসলামি ভোট পাওয়ার আশায়? কার্যত, এগুলো বিএনপির জন্য হিতে বিপরীত। এসব কারণেই বিপুল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও দলটি বারবার নাজুক অবস্থায় পড়ে। এ যেন কবিতার ভাষায়, এ শুধু জানালার লোভে বেচে দিলাম ঘর-দরজা।
যে দলটি একাত্তরে তাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত নয়, কোনো দিন ক্ষমা চাওয়ার চিন্তাও যারা করেনি, তাদের আগ বাড়িয়ে কে ক্ষমা করবে, কে ছাড় দেবে? কিন্তু খালেদা জিয়া এখনো ‘কৌশলগত কারণে’ জামায়াতকে ছাড়ছেন না। অথচ দেখা যাচ্ছে, ‘কৌশল’ নিয়েছে নীতির জায়গা আর লেজুড় জামায়াত হয়েছে বিএনপির ভরকেন্দ্র। এটাই হলো লেজ হয়ে দেহ নাড়ানোর উদ্ভট কেচ্ছা। বিএনপিকে এখন ভাবতে হবে, জামায়াতের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির সরকারে এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল আন্দোলন থেকে তারা আসলে কী অর্জন করেছিল। বিএনপির প্রতিপক্ষ মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে যে বিএনপি-জামায়াত সরকারে থাকা মানে জঙ্গিবাদের উত্থান; গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র; বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন মানে আগুনে মানুষের মৃত্যু। এই অভিযোগ খণ্ডনে ব্যর্থ বিএনপির ‘হূদয় খুঁড়ে’ সন্ধান করা উচিত, কোথায় কোথায় তারা ভুল করেছিল।
২.
ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণী আকারে ও প্রভাবে অনেক বেড়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আধুনিকতায় দীক্ষিত বিরাট তরুণ জনগোষ্ঠী। এদের বেশির ভাগের জীবনের কল্পনার সঙ্গে জামায়াত-যুদ্ধাপরাধী-হেফাজতের জীবনদর্শন মেলে না। মুক্তিযুদ্ধ এদের কাছে কেবল ইতিহাস নয়, আত্মপরিচয়ের সূত্র, বিশ্বায়িত দুনিয়ায় বলার মতো গর্ব। গত ১০ বছরে বাংলাদেশে এই মধ্যবিত্ত শ্রেণী ও তার তরুণ শাখা-প্রশাখার প্রভাব অনেক বেড়েছে। এদের কাছে টানার মতো, কোটি কোটি নতুন ভোটারকে আশাবাদী ও আশ্বস্ত করার জন্য কী করেছে বিএনপি?
মিসরের ঘটনাবলি দেখায়, তরুণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ওপর শক্ত প্রভাব ছাড়া নির্বাচন-জয় সম্ভব, ক্ষমতা ধরে রাখা বা আঘাত মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এবং এই প্রভাব লাগবে মধ্যবিত্ত দুর্গ তথা রাজধানীতে। গ্রাম-মফস্বলে বিএনপি-জামায়াতের প্রতিপত্তি যতটাই বেশি, রাজধানীতে ততটাই কম। ঔপনিবেশিক আমলে রাজধানীই ছিল সব ক্ষমতার কেন্দ্র আর প্রান্তিক এলাকাগুলো ছিল বিদ্রোহ-বিক্ষোভের ঘাঁটি। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় কেন্দ্রীয় ক্ষমতা সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। তার পরও সেসব বিদ্রোহের পরাজয় অবধারিত ছিল, কারণ রাজধানীকে কাবু করতে না পারা, কারণ মধ্যবিত্তমহল ছিল ক্ষমতাসীনদের পক্ষে। বাংলাদেশেও মধ্যবিত্তদের প্রধান আবাস ঢাকা। সেই ঢাকাকে আলোড়িত করতে না পারাও বিএনপিকে ব্যর্থ করেছে।
এটা নিছক সাংগঠনিক ব্যর্থতা নয়, এর সঙ্গে আদর্শিক দুর্বলতাও সরাসরি জড়িত। অতীতের ব্যাপারে বিএনপির বয়ান পরিষ্কার নয়। যুদ্ধাপরাধের বিচার ও একাত্তরের মুক্তিসংগ্রাম প্রশ্নে ধরি মাছ না ছুঁই পানি খেলা বিএনপির প্রতি সন্দেহ বাড়িয়েছে। অনেকেই তাদের গত আমলের মতো যুদ্ধাপরাধীদের জয়জয়কারের দুঃসহ পুনরাবৃত্তির ভয়ে ভীত। তাদের নাশকতাপন্থী কর্মসূচি মনে করায় জেএমবি নামক ত্রাসের কথা। বিএনপিকে উঠে দাঁড়াতে হলে এই অসাধু উত্তরাধিকার ছাড়তেই হবে।
বাংলাদেশ আর কোনোভাবেই ২০১৩ সালের আগে ফিরে যাবে না। যেতে পারবে না। এ কথা বলার যথেষ্ট ভিত্তি তৈরি হয়েছে সমাজে ও রাষ্ট্রে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের পক্ষে গড়ে ওঠা জনমতকে উপেক্ষা করা হবে দলটির জন্য আত্মঘাতী। উন্নয়ন ও শান্তির স্বার্থে ‘পুরোনো কাসুন্দি’ না ঘাঁটার ওকালতি কেউ কেউ করে থাকেন। কিন্তু অমীমাংসিত অতীত স্মৃতি হতে অস্বীকার করে। তা মানুষের মনে জ্যান্ত হয়ে পাওনা দাবি করে। আওয়ামী লীগ এবং তার দেশি-বিদেশি শরিকেরা একাত্তরের সেই পাওনাই যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবির আকারে ফিরিয়ে এনেছে এবং সেয়ানার মতো কাজেও লাগিয়েছে। জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের অঘোষিত আঁতাত ছাপিয়ে উঠেছে একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে আবারও পরাজিত করার ডাক।
এটা এমন এক অবস্থান, যার বিরোধিতা করার নৈতিক ভিত্তি বিএনপির নেই। ১৯৯২-৯৩ সালেও জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে আন্দোলনের চাপে এ রকম অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। তখন, এমনকি সংসদীয় আলোচনায় বিএনপি বিচারের পক্ষে মৌখিক সম্মতি জানাতে বাধ্যও হয়েছিল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিশ্বাসযোগ্যভাবে এগিয়ে নেওয়ার অকপট অঙ্গীকার এবং জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার মুহূর্ত আবারও হাজির। মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে তাদের ঘোলাটে অতীতকে শুধরে নেওয়ার এই সুযোগকে কাজে লাগানোর ওপরই নির্ভর করবে দলটির ভবিষ্যৎ। আওয়ামী লীগের দেশি-বিদেশি জোটের কাছে পরাজয়ের অসুবিধাকে এভাবেই বিএনপি সুবিধায় পরিণত করতে পারে। মুসলিম লীগ হওয়া থেকে রক্ষারও এটাই উপায়।
মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামী লীগের জন্য মেডুসার মাথা, যতই কাটা হোক নতুন করে গজাবেই। মুক্তিযুদ্ধ; তার ইতিহাস, তার আত্মত্যাগ, তার বীরত্ব ও অশ্রুগাথা বাংলাদেশের জনগণের পরম সম্পদ। বিপুল রাজনৈতিক শক্তি এর মধ্যে মজুত রয়েছে। আন্তরিকভাবে যে চাইবে, সেই এই খনি থেকে শক্তি ও সমর্থন পাবে। তা না করা বিএনপির গোড়ার গলদ বা একিলিসের গোড়ালি। গ্রিক পুরাণকথার একিলিসকে তার মা মন্ত্রপূত পানিতে চুবিয়ে অমরত্ব দিতে চেয়েছিলেন। তাহলেও ছোট্ট একটি জায়গায় পানি লাগে না। পায়ের গোড়ালির যে জায়গাটি ধরে শিশু একিলিসকে মা পানিতে চুবিয়েছিলেন, সেই জায়গাটি অরক্ষিতই রয়ে গেল। একিলিসের মৃত্যু হয় সেই গোড়ালিতেই তিরবিদ্ধ হয়ে। জামায়াত হলো বিএনপির একিলিসের গোড়ালি।
মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার দাবি করার অধিকার বিএনপিরও রয়েছে। কিন্তু সেটা ততক্ষণ পর্যন্ত বৈধতা পাবে না, যতক্ষণ না একাত্তরকে তারাও তাদের রাজনীতির ভিত্তিমূলে স্থাপন করবে। একাত্তর সম্পর্কে বিমনা থাকলে বিএনপির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বুলি দাম পাবে না। একাত্তর প্রশ্নে রাজনীতি ও সমাজে সমঝোতা হতে পারে বাকি সব সমঝোতার পূর্বশর্ত।
জামায়াত যে কারণে বিচার না মানতে বাধ্য, বিএনপির তো তেমন নিরুপায় দশা ছিল না! ঐতিহাসিক ভুলের খেসারত হিসেবে বিএনপি যে ‘কলঙ্কের’ বোঝা বইছে, সেই বোঝা এখন নামাতে হবে। যুদ্ধাপরাধের বিচার কোনো না-কোনো দিন হতোই। হতেই হতো। রাষ্ট্র হিসেবে শত্রু-মিত্র নির্ধারণ এবং তার সাপেক্ষে আত্মপরিচয়ের পুনর্গঠনও বকেয়া হয়ে আছে। এই কাজে বিএনপি যদি এগিয়ে না আসতে পারে, তাহলে বিএনপি হয়তো আবারও ক্ষমতায় যাবে, কিন্তু তার রাজনীতি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারবে না। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বিএনপিকে বদলাতে হবে। অদূরভবিষ্যতে কোনো পরাশক্তির আধিপত্যের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী জাগরণ যদি অনিবার্য হয়ে পড়ে, তা ধারণের কী প্রস্তুতি আছে বিএনপির? কেবল ইসলাম দিয়ে এই শূন্যতা পূরণ করতে চাওয়া মানে সাম্প্রদায়িক ও অগণতান্ত্রিক শক্তির খপ্পরে পড়া। এভাবে যে হবে না, পাকিস্তান তার উদাহরণ।
বাংলাদেশের মানুষ মধ্যপন্থী। মধ্যেই থাকে ভরকেন্দ্র। বিএনপি ক্রমাগত ডানে সরলে মধ্যপন্থী বাংলাদেশে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। নিজের স্বার্থে এবং দেশের স্বার্থে বিএনপির সংশোধন জরুরি। দলটির সমর্থকদের রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার এই দায় বিএনপি অস্বীকার করতে পারে না।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1403)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
January
(1176)
-
▼
Jan 23
(33)
- নারীর প্রতি সহিংসতা- ‘যোগ্যতমের উদবর্তন’ by উম্মে ...
- রাষ্ট্র ও রাজনীতি- বিএনপির ঘাড়ে সিন্দবাদের বুড়ো by...
- পালাবদল- সংঘাতের কেন্দ্রে এশিয়ার নতুন নেতারা by পঙ...
- কালের পুরাণ- শেখ হাসিনার যোগ-বিয়োগ by সোহরাব হাসান
- অঘটন-উত্তর বোধোদয়, নাকি রাজনীতি?
- স্কুলে পুলিশ ক্যাম্প
- বিএনপির ঘাড়ে সিন্দবাদের বুড়ো
- নারীর প্রতি সহিংসতা- ‘যোগ্যতমের উদবর্তন’ by উম্মে ...
- বিশ্বায়নের কাল- অঘটন-উত্তর বোধোদয়, নাকি রাজনীতি? b...
- দিল্লির আম আদমি দলের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ
- প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবেন এরশাদ
- প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবেন এরশাদ
- রাষ্ট্র ও রাজনীতি- বিএনপির ঘাড়ে সিন্দবাদের বুড়ো by...
- ওষুধের বিষক্রিয়ায় সুনন্দার মৃত্যু
- নেপালের ‘কামলারি’ ক্রীতদাসীরা
- সিরিয়ায় অনাহার, নির্যাতনে ১১ হাজার বন্দীর মৃত্যু
- ‘দৃশ্যত বাংলাদেশের নেতারা গণতন্ত্রচর্চায় আগ্রহী নন’
- ‘দৃশ্যত বাংলাদেশের নেতারা গণতন্ত্রচর্চায় আগ্রহী নন’
- সংলাপ কবে জানতে চায় কানাডা
- সংলাপ কবে জানতে চায় কানাডা
- রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ by সাজেদুল হক
- রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ by সাজেদুল হক
- প্রসঙ্গ: মানবাধিকার by মনির হায়দার
- প্রসঙ্গ: মানবাধিকার by মনির হায়দার
- বাংলাদেশ সঙ্কটে ভারতের হস্তক্ষেপ করা উচিত
- বাংলাদেশ সঙ্কটে ভারতের হস্তক্ষেপ করা উচিত
- রাজনৈতিক মামলা- ফেরারি লাখো মানুষ
- রাজনৈতিক মামলা- ফেরারি লাখো মানুষ
- নিরাপত্তা ও শিক্ষা দুটোই জরুরি বিষয়- স্কুলে পুলিশ ...
- নিরাপত্তা ও শিক্ষা দুটোই জরুরি বিষয়- স্কুলে পুলিশ ...
- পালাবদল- সংঘাতের কেন্দ্রে এশিয়ার নতুন নেতারা by পঙ...
- দায়মোচন- বিএনপির নাজুক গোড়ালি by ফারুক ওয়াসিফ
- দায়মোচন- বিএনপির নাজুক গোড়ালি by ফারুক ওয়াসিফ
-
▼
Jan 23
(33)
-
▼
January
(1176)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

