Wednesday, June 1, 2016

শীর্ষ ঋণখেলাপিরা অসহযোগিতা করলে ব্যাংক দেউলিয়া হবে

বিআইবিএম সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ
ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী -যুগান্তর
যাচাই-বাছাই না করে ঋণ বিতরণ করলে সে ঋণ খেলাপি হবে বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ১০ ঋণগ্রহীতা যদি কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে তবে বেশিরভাগ ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। সে কারণে খেলাপি ঋণের ব্যাপারে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তারা। মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ঋণ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি, চাহিদা, সরবরাহ ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান’ শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিআইবিএমের পরিচালক অধ্যাপক ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জি, এবি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর শামীম আহমেদ চৌধুরী, প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ কামাল খান চৌধুরী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জিল্লুর রহমান। এবি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর শামীম আহমেদ চৌধুরী বলেন, গ্রাহকের কাছ থেকে পাওয়া ঋণের চাহিদাপত্র যথাযথ মূল্যায়ন না করে ব্যাংক যদি নিজেই এগিয়ে গিয়ে ঋণ প্রদান করে তাহলে সে ঋণ অবশ্যই খেলাপি হবে। খেলাপি হওয়া ঋণ উদ্ধারের প্রক্রিয়াটি অনেক দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল। অনেক সময়ই প্রাথমিক পর্যায়ে আদালত কোনো আদেশ দিলে উচ্চ আদালত তার ওপর স্টে অর্ডার দেন। সে অর্ডারের সুযোগ নিয়ে বছরের পর বছর ঋণখেলাপিরা পার পেয়ে যাচ্ছে।
ব্যাংকারদের মনে রাখা দরকার, সঞ্চয়কারীদের আমানত দিয়ে আপনি ঋণ দিচ্ছেন। সে ঋণ লাভসহ ব্যাংকে অবশ্যই ফিরে আসার সম্ভাব্যতা যাচাই করে ঋণ দিতে হবে। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, সোনালী ব্যাংকের কেলেংকারির জন্য আমাদের প্রত্যেকটি ব্যাংকের মাথা নতজানু হয়ে গেছে। ব্যাংকগুলোকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের দৈন্যতা আছে। সবাই সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ সমস্যা থেকে উত্তরণ করতে হবে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। অবলোপন করা ঋণসহ খেলাপির পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের বিপরীতে নিরপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) রাখতে গিয়ে অনেক ব্যাংকই হিমশিম খাচ্ছে। ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ১০ ঋণগ্রহীতার সম্পদ একত্র করলে ঋণের সমপরিমাণ হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। শীর্ষ ঋণগ্রহীতাদের সম্পদ অনুসন্ধান করে প্রকৃত মূল্য বের করার জন্য তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহবান জানান।

মুস্তাফিজের ওপর সব আলো

দুই মাস পর কাল বিসিবিতে এলেন মুস্তাফিজুর রহমান।
ভক্তদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়ছেন কাটার মাস্টার -যুগান্তর
গায়ের টি-শার্টের নীল রঙের মতোই শিশুর সারল্যমাখা হাসি। ক্লান্তি হয়তো খানিকটা কেড়ে নিয়েছে চিরচেনা চপলতা। বাইশ গজে যার হাত থেকে ছুটে যায় আগুনের গোলা, যার ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে আন্দ্রে রাসেল পড়ে যান মাটিতে, তিনি আইপিএল জয় করে ফিরলেন। ফিরে দেখলেন তাকে ঘিরে উন্মাদনা অত্যাশ্চর্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত পরশু রাতে ঢাকায় নেমে মিরপুরে মামার বাড়িতে ওঠেন। কাল ঘণ্টাকয়েক ভীষণ ব্যস্ততায় কাটে তার বিসিবিতে। সংবাদকর্মীদের অপেক্ষায় রেখে ‘দ্য ফিজ’ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সারেন।
আইপিএলে হায়দরাবাদকে শিরোপা এনে দিয়ে প্রশংসায় ও পুরস্কারে প্লাবিত হয়ে তার ফেরা। কার জন্য কী এনেছেন, সেটা তিনিই জানেন। মিডিয়া জেনেছে, এই বাঁ-হাতি কাটার মাস্টার ঈষৎ ইনজুরি নিয়েও এসেছেন নিজের সঙ্গে। সেই চোটের মাত্রা নিরূপণে কয়েক ঘণ্টা ব্যয় করতে হল তাকে বিসিবির ফিজিও এবং চিকিৎসকের কক্ষে। সেখান থেকে বেরিয়ে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে গেলেন এমআরআই করাতে। রিপোর্ট পাওয়ার পর বোঝা যাবে, ঠিক কতদিন বিশ্রাম পেলে চোটমুক্ত হবেন কাটার-মাস্টার। আপাতত ছুটে গেছেন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে। আপনজনদের আলিঙ্গনে আবদ্ধ হতে। ক’টা দিন গ্রামের সবুজ-শ্যামলিমায় নিজেকে সমর্পিত করে মাটির ঘ্রাণ নেবেন। আর মনের সুখে বাইক নিয়ে চষে বেড়াবেন। ওদিকে তার অপেক্ষায় প্রিয় পায়রাগুলো! এদিকে কাল মিরপুরে মুস্তাফিজের জন্য অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের চোখে পড়ল এক ‘রিয়েলিটি শো’।
মুস্তাফিজকে নিয়ে যখন হুড়োহুড়ি, পাশ দিয়ে তখন হেঁটে যাচ্ছেন জাতীয় দলে তার এক তারকা সতীর্থ। সেদিকে কারও ভ্রূক্ষেপ নেই। অথছ তার তরকাদ্যুতি আজও দেদীপ্যমান। হয়তো মনের কোনো কোণে সেই মুহূর্তে হাহাকার উঠেছিল। হয়তো তিনি ভেবেছিলেন, এখন সূর্য অস্ত যায়নি। এখনও নামেনি সন্ধ্যা! এখনই এই অবহেলা! আরেক তারকা ক্রিকেটারকে দেখা গেল পরিচিত সাংবাদিককে ডেকে গল্প জুড়ে দিলেন। নিজে রইলেন আড়ালে। অবাক কাণ্ড! এখনও ক্রিকেট আড়াল করেনি তাকে। সেই তিনিই ভিড়ের মাঝেও একা! আর সব আলো মুস্তাফিজের ওপর। এক স্বল্পভাষী, লাজুক তরুণ। যার হাতে বিষাক্ত স্লোয়ার, কাটার, ইয়র্কার। পৃথিবী সব সময় উদিত সূর্যের পূজারি! কিন্তু যে সূর্য এখনও অস্তই যায়নি, তার আলো ঢেকে দেয়া কেন?

প্রথমবার একসঙ্গে আফজাল হোসেন ও মেহজাবিন

বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেতা আফজাল হোসেন। ইদানীং নির্মাণ নিয়ে ব্যস্ত থাকাতে অভিনয়ে খানিকটা কম দেখা গেলেও উৎসবকে কেন্দ্র করে পর্দায় তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। আসছে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ‘ষড়ঋতু’ নামের একটি নাটকে প্রথমবারের মতো মেহজাবিন ও আফজাল হোসেন একসঙ্গে জুটি হয়ে অভিনয় করলেন। নাটকটি পরিচালনা করছেন ইমরাউল রাফাত। এ প্রসেঙ্গে আফজাল হোসেন বলেন, ‘নাটকটির গল্প দারুণ লেগেছে।
মূলত গল্পের প্রয়োজনেই নাটকটিতে অভিনয় করলাম।’ মেহজাবিন বলেন, ‘আমি এমনিতেই আফজাল ভাইয়ার অভিনয়ের ভক্ত। এবার তার সঙ্গেই জুটি হয়ে অভিনয় করলাম। তাই অন্যরকম ফিলিংস কাজ করছে। আশা করি আমাদের এ জুটি দর্শকদের কিছুটা হলেও মনের তৃষ্ণা মেটাবে।’ মূলত নাটকটি একটি আধ্যাত্মিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যাতে প্রেম-ভালোবাসা, জীবনের টানাপড়েন ইত্যাদি বিষয় স্পষ্টভাবে ফুটে উছেছে। আসছে ঈদে নাটকটি এনটিভিতে প্রচার হবে বলে নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে।