Thursday, August 19, 2010

পরম নামে ডাকি -নির্লিপ্ত নয়ন

সময় কি রূপকথার সেই আগুনমুখা একচক্ষু দৈত্য, চোখের পলকে মুহূর্তকে শুধু স্মৃতি করে দেয়! গল্পগাথার মতো বহুবর্ণিল স্মৃতির মহাফিলে কত না দৃশ্যের সার্কারামা রোজ ওঠে আর নামে। খুব দ্রুতই পুরোনো হয়ে যায় দিনপঞ্জির রাত্রিদিন। এই তো তিনি আমাদের দিকে সুতীক্ষ চাহনিতে তাকালেন, ওই তো শেষ বিকেলে হাঁটতে হাঁটতে সুরে-বেসুরে ধরলেন ‘মেঘের পরে মেঘ জমেছে...’। সবকিছু কি আজ স্মৃতি বলে মেনে নিতে হবে? জানি, একচক্ষু দৈত্য দেবে না কোনো উত্তর। বনশ্রীবালা, চুক্কুলি, নোলক, সাঁঝমালা কিংবা যমুনাপারের আবছা—তাঁর নাটকের এই চরিত্ররা কী করে এখন, স্রষ্টার জন্মদিনে বইয়ের কালো অক্ষরের ভেতর থেকে তারা কি কাঁদছে? তারা কি নীরবে আনন্দ-প্রদীপ ভাসাচ্ছে তাদের স্রষ্টার জন্মোৎসবের ক্ষণে? উত্তর নাই।
‘উত্তর নাই’ বাক্যাংশটিও সেলিম আল দীন রচিত কথানাট্য প্রাচ্য থেকে ধার করা। নাটকে নোলকের সর্পদংশনের পর মুহূর্তের বর্ণনায় বাক্যটি ব্যবহার করেছিলেন তিনি। আর আমরা যাঁরা আজ নিজের ভেতরে স্মৃতির দংশন অনুভব করছি, তাঁরা ই-বা কী করব এখন? হঠাৎ হঠাৎ আমাদের নচ্ছার মন যখন অচলায়তন নাটকের পঞ্চকের মতো করে চারপাশের বন্ধ দেয়ালগুলো ভাঙতে চাই; মনে পড়ে, কেই বা বলবে আর ‘হাসতে হাসতে দেয়াল ভাঙো দাদাঠাকুর’। আমাদের যে দাদাঠাকুর নেই, আমাদের যে আচার্য নেই। সেলিম আল দীন আমাদের আচার্য। আজ তাঁর ৬১তম জন্মদিনে সব স্মৃতি যেন বা ফিরে আসছে একচক্ষু দৈত্যের হাত ঘুরে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হরীতকী-মহুয়াগাছের সারি পেছনে ফেলে আমরা যাঁরা তাঁর সঙ্গে প্রতিদিন হাঁটতাম; লাল ইটের সরু রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে হয়তো কোথাও হঠাৎই দাঁড়িয়ে যেতেন তিনি। পথ থেকে অনামা লতাগুল্ম কুড়িয়ে নিয়ে গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে বলতেন, ‘দেখেছিস, দেখেছিস...এই গাছের নাম জানিস...দুপুরবেলা সূর্যের আলো পড়ার পর গাছের পাতার রং কেমন হয় দেখেছিস কখনো...এসব না জানলে তো সাহিত্য লিখতে পারবি না, বাবা।’
তাঁর কথার অবসরে অনেকেই সেদিন মুখটিপে হেসেছি আমরা। এসব কী বলেন স্যার, লিখতে গেলে এও চিনতে হবে নাকি! অনেক পূর্ণিমা রাতে তন্ময় হয়ে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থেকেছেন আকাশে। তাঁর গলায় সে সময় রবিঠাকুর ও গীতবিতান। উন্মুক্ত মাঠের ভেতের সেই চাঁদ-ভাসানো রাতে দুরন্ত শিশুর মতো ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি আর হতচকিত আমরা বিস্ময় নিয়ে দেখছি কাণ্ড! সেদিন বুঝিনি, কিন্তু আজ মনে হয়, পাঠশালায় নিয়মিত বেতের বাড়ি খাওয়া আমাদের তিনি যেন এভাবেই দাদাঠাকুরের সেই দর্ভকপল্লিতে নিয়ে যেতেন। বলতেন, ‘দ্যাখ, চোখ মেলে চারপাশটা দেখে নে শালার পুত।’ আজ যখন ইট-কাষ্ঠঘেরা নাগরিক অচলায়তনে হাঁসফাঁস করতে করতে পঞ্চকের কণ্ঠ বাজিয়ে বলতে ইচ্ছে হয়, ‘ওরে ওরে ওরে আমার মন মেতেছে...’, তখন দাদাঠাকুরকে কোথায় পাই? লেখার টেবিলভর্তি কাগজের স্তূপ ঠেলে হোমার, মধুসূদন, জীবনানন্দ কিংবা রবীন্দ্রনাথের মহাভুবন প্রসঙ্গে তিনি কী কথা বলবেন আবার? নিজের সদ্য লেখা শোনাতে শোনাতে কিছুটা গৌরবে কি হেসে উঠবেন শিশুর সারল্যে? আমাদের কাঁচা হাতে লেখা দুর্বল কোনো কবিতা পড়ে কেউ কি আর কখনো বলবে, ‘এটা আমার ছাত্রের লেখা...এই শব্দ প্রয়োগটা কিন্তু ভালো হয়েছে।’
এক উন্মূল জীবন ডিঙিয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ার সৌভাগ্যে বাংলা ভাষার অন্যতম এই শ্রেষ্ঠ নাট্যকারকে কাছাকাছি পেয়েছিলাম কিছুদিন। কিন্তু আমাদের মনে তো সেদিন পঞ্চকের মতো বন্ধন মুক্তির রং জাগেনি, তাই দাদাঠাকুরকে হয়তো চিনতেও পারিনি ঠিকঠাক।
চেনা-অচেনার দোলাচল নিয়ে আজও যখন তাঁর ঘুম-জাগরণের সি/৪৭-এর সেই ঘরে যাওয়া হয়, দেখি, দাদাঠাকুর ছবি হয়ে তাকিয়ে আছেন! অথচ এই ঘরেই তো একদিন ‘ঊষা উৎসব’-এর সিসিথাপ্পা ঢোল বাজিয়েছে, পুত্র নাটকের আবছা ও মাইটাল সিরাজ ঝগড়ায় মশগুল হয়েছে—আমরা মুখোমুখি বসে শুনেছি সেসব। ২০০৭ সালের ১৭ আগস্ট জীবদ্দশায় নিজের শেষ জন্মতিথি উদ্যাপনের ক্ষণে কবি শামসুর রাহমানের প্রয়াণের সংবাদে এই ঘরেই তো বিষণ্ন, স্তব্ধ হয়ে গেছেন তিনি। শামসুর রাহমানের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন আর কবির লেখা কখনো আমার মাকে কবিতাটি কতবার না আওড়েছিলেন সেদিন। সময়ের নিষ্ঠুর একচক্ষু দৈত্যের চোরাটানে সবকিছুই কি স্মৃতি হয়ে গেল আজ!
অনেক দিন হরীতকী-মহুয়া আর শোনপাংশুদের দলে মিশে দর্ভকপল্লিতে যাওয়া হয়নি। অনেক দিন তাঁর ‘অত্যাচারের’ আঁচ থেকে মাথামুণ্ডুসহ বেঁচে গিয়ে, আকাশের দিকে তাকিয়ে আর গুনতে হয় না এই শুকতারা ওই সপ্তর্ষি...তবু কেন এ ছিন্ন লেখায় তাঁর জন্য আজ সাজাই তরণী, প্রভাতের ওপারে দাঁড়িয়ে তাঁরে কেন পরম নামে ডাকি? ‘ওরে ভোলামন, নিরঞ্জনকে চিনতে হলে একবার তাকাও আপনাতে...’ হরগজ নাটকের গানে এ কথা বলেছিলেন একদিন। আজ আপনার দিকে তাকাতেই দেখি, আমাদের চারদিকে সময়-দৈত্য এবং তার পিঠের ওপর ক্রমাগত বড় হচ্ছে অচলায়তনের দেয়াল। সেই দেয়ালের পাষাণভার হাসতে হাসতে কে আর ভাঙবে আজ? গানে গানে কে আর বলবে দাদাঠাকুর, ‘আমি নদীর কাছে গিয়েছিলাম/ নদী তোমার কী নাম/ ভাঙা কিনারার ধু-ধু চরে মেলে না উত্তর।’

মাহে রমজানে কোরআন তিলাওয়াত -সিয়াম সাধনার মাস ধর্ম by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাহে রমজান আল-কোরআন নাজিলের মাস। এ জন্য রমজান মাসে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও অনুশীলনের ফজিলত অপরিসীম। ঐচ্ছিক ইবাদতসমূহের মধ্যে কোরআন তিলাওয়াত সর্বোৎকৃষ্ট। মাহে রমজানে আল-কোরআন তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল-কোরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে তা শিক্ষা দেয়, সেই সর্বোত্তম।’ (বুখারি)
নবী করিম (সা.) নিজেও রমজান মাসে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করতেন। প্রতিবছর মাহে রমজানে ফেরেশতা জিব্রাইল (আ.) বারবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আল-কোরআন পুনরাবৃত্তি করতেন। এ সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, ‘রমজান মাসের প্রতি রাতে ফেরেশতা জিব্রাইল (আ.) রাসুলে করিম (সা.)-এর খেদমতে হাজির হতেন এবং তাঁরা উভয়ই কোরআন মজিদ তিলাওয়াত করে একে অপরকে শোনাতেন।’ (বুখারি)
কোরআন মজিদ সব ধরনের জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভান্ডার। এ বিষয়ে জ্ঞানার্জনের জন্য অর্থ বুঝে কোরআন তিলাওয়াত করা দরকার। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘যদি কেউ আল্লাহ তাআলার সঙ্গে বাক্যালাপ করার ইচ্ছা করে, তাহলে সে যেন আল-কোরআন তিলাওয়াত করে।’ মহানবী (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি অক্ষর পাঠ করে, সে একটি নেকি পায়, আর প্রতিটি নেকি ১০টি নেকির সমান।’ (তিরমিজি) তিনি আরও বলেছেন, ‘অন্তরের কলুষতা পরিষ্কার করার উপায় হলো বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করা এবং কোরআন তিলাওয়াত করা।’ (মিশকাত)
মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআন মজিদ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ আসমানি কিতাব এবং মুসলমানদের অনুসৃত প্রধান ধর্মগ্রন্থ। পবিত্র রমজান মাসের বিশেষ মহিমান্বিত রজনী ‘লাইলাতুল কদর’-এ কোরআন শরিফ সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়। এ সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, ‘রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে আল-কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৫) যখনই পবিত্র কোরআনের কোনো আয়াত বা সূরা অবতীর্ণ হতো তখনই তা লিখে রাখার জন্য নবী করিম (সা.) নির্দেশ দিতেন এবং নিজেও তা মুখস্থ করে নিতেন আর সাহাবিদের মুখস্থ করে রাখতে আদেশ দিতেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা রাত্রিকালে আল্লাহর আয়াত আবৃত্তি করে।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১১৩)
বস্তুত রমজান মাসে অবতীর্ণ হওয়ার প্রারম্ভ থেকে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অপরিবর্তিত ও পূর্ণাঙ্গ সুসংরক্ষিত থাকা কোরআন মজিদের অনন্য বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কোরআন হলো নূর বা হেদায়েতপ্রাপ্তির আলোকবর্তিকা। যে যত বেশি কোরআনের আলোয় আলোকিত হবে, সে তত বেশি সফলকাম হবে। আল-কোরআন এমন এক বিশ্বসম্পদ, যা থেকে সারা দুনিয়ার মানুষ হেদায়েত পেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নফল ইবাদতের মধ্যে কোরআন তিলাওয়াত শ্রেষ্ঠ ইবাদত। তোমরা কোরআন মজিদ তিলাওয়াত করো, কারণ কিয়ামতের দিন তা স্বীয় পাঠকদের জন্য সুপারিশ করবে।’
রমজান মাসের সঙ্গে আল্লাহর কালামসমূহের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এ জন্যই ওলামায়ে কিরাম, বুজর্গানে দ্বীন এবং আধ্যাত্মিক সাধকেরা এই মাসটিতে অধিক মাত্রায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করে থাকেন। সাহাবায়ে কিরামগণ রমজান মাসে আত্মসংযম অর্জনে সিয়াম সাধনার সঙ্গে সঙ্গে নূরে ইলাহি অন্তরে পয়দা করার জন্য অত্যধিক পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করতেন। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত ওসমান (রা.) প্রতিদিন একবার কোরআন শরিফ খতম দিতেন। প্রখ্যাত মুফাসসির ও মুহাদ্দিস কাতাদাহ (রা.) প্রতি সাত রাতে একবার কোরআন শরিফ খতম করতেন। উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) মাহে রমজানে সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করতেন। মুসলিম উম্মাহর বিখ্যাত পথিকৃৎ হজরত ইমাম আবু হানিফা (র.) দিনে এক খতম, রাতে এক খতম, তারাবি নামাজে এক খতম আর আউয়াবিন নামাজে এক খতম—এভাবে প্রতি রমজানে ৬২ খতম কোরআন তিলাওয়াত করতেন। বরকত, রহমত ও কল্যাণের বারতা নিয়ে যখন মাহে রমজান হাজির হতো, হজরত ইমাম শাফিঈ (র.) তখন দিনে ও রাতে দুই খতম করে পুরো রমজানে ৬০ খতম কোরআন তিলাওয়াত করতেন। (আইম্মায়ে আরবাআহ্, পৃ. ১৬৫)
মাহে রমজানে সাহাবায়ে কিরামগণ কোরআন শরিফ মুখস্থ করে স্মৃতিপটে সংরক্ষণ করার জন্য রাত-দিন যে অক্লান্ত পরিশ্রম ও কঠোর সাধনা করেছেন তা ইসলামের অনুসারীদের কোরআন শরিফ বোঝার জন্য অনুকরণীয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতকারীর জন্য শ্রেষ্ঠ পুরস্কারের কথা ঘোষণা করে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল-কোরআনে সুদক্ষ ব্যক্তিরা সম্মানিত ফেরেশতাদের সঙ্গী। আর যে ব্যক্তি কোরআন তিলাওয়াত করতে গিয়ে এর উচ্চারণ করা তার পক্ষে কঠিন হওয়ার কারণে বারবার চেষ্টা করে, সেই ব্যক্তি দ্বিগুণ সওয়াব লাভ করবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
রমজান মাসকে সঠিক ও বিশুদ্ধভাবে কোরআন তিলাওয়াতের মাস হিসেবে ধরে নিতে হবে। আল-কোরআন তিলাওয়াত করে তা মুখস্থ করা ও এর নির্দেশানুযায়ী জীবনযাপন করার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) ফরমান, ‘যে ব্যক্তি কোরআন তিলাওয়াত করে এবং তদানুসারে আমল করে, কিয়ামতের দিন তার পিতামাতাকে এমন এক উজ্জ্বল মুকুট পরানো হবে, যা দুনিয়ায় কোনো ঘরের মধ্যে অবস্থানরত সূর্যালোকের চেয়ে অধিক উজ্জ্বলতর হবে।’ (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ) নবী করিম (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন তিলাওয়াত করে এবং তা মুখস্থ করে ফেলে, আর এতে বর্ণিত হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম মেনে চলে, আল্লাহ তাআলা তাকে বেহেশতে সমাসীন করবেন এবং আত্মীয়স্বজনের মধ্য থেকে ১০ ব্যক্তির জন্য তার সুপারিশ কবুল করবেন, যাদের প্রত্যেকের জন্যই দোজখ নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল।’ (তিরমিজি)
অতএব, আল-কোরআনের অন্তর্নিহিত মর্মবাণী বুঝতে মাহে রমজানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত অন্যান্য মাসের চেয়ে বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন, যদিও সবার পক্ষে কোরআন শরিফ হিফ্জ করা সম্ভবপর নয়, তথাপি সাধ্যমতো গুরুত্বপূর্ণ সূরাসমূহ বা তার অংশবিশেষ অর্থ বুঝে শুদ্ধভাবে মুখস্থ করার চেষ্টা করা প্রত্যেকের জন্য কর্তব্য। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে মাহে রমজানের মতো অন্যান্য সময়ও যথোপযুক্ত আদব, মোহাব্বত ও ভক্তিসহকারে প্রত্যহ কোরআন শরিফ শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করা এবং এর মর্ম উপলব্ধি করার প্রতি সচেষ্ট হওয়ার তাওফিক দান করুন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

মন্ত্রী বনাম সংসদীয় কমিটি -বিমানকে রাহুমুক্ত করতে হবে

জাতীয় পতাকাবাহী আকাশ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের খবরের শিরোনাম হওয়া নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা বাহুল্য, সংস্থাটির সুনামের চেয়ে দুর্নামের পাল্লাই ভারী হচ্ছে। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বারবার বিমান অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির শিকার হয়ে যাত্রী হারিয়েছে, লোকসান দিয়েছে, এমনকি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়েছে। গত মঙ্গলবারের প্রথম আলোয় উড়োজাহাজ ভাড়া করা নিয়ে সংসদীয় কমিটি বনাম মন্ত্রীর দ্বন্দ্বের খবরে বিমানের দুর্নীতির যে নতুন চিত্র প্রকাশিত হয়েছে, তা আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না।
গত বছর হজযাত্রী পরিবহনের সময় নাইজেরিয়ার কাবো এয়ারলাইনস থেকে একটি পুরোনো ত্রুটিপূর্ণ উড়োজাহাজ ভাড়া করা হয়। অথচ সে সময় বিমানের নিজস্ব উড়োজাহাজ ছিল। ওই অবস্থায় বড়জোর একটি উড়োজাহাজ ভাড়া করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ভাড়া করা হয় তিনটি। এর মধ্যে কাবোর উড়োজাহাজটি হজফ্লাইট শেষে আরও ছয় মাস বেশি চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, উড়োজাহাজের ভাড়া বাবদ কাবোকে সাত মাসে প্রায় ৮১ কোটি টাকা দেওয়া হয় এবং এ থেকে ৪১ কোটি টাকার কমিশন তথা ঘুষ নিয়েছে বিমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মহল।
কাবো এয়ারলাইনসের গর্হিত আচরণের জন্য একে কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য বিমান পরিচালনা পর্ষদে প্রস্তাবও উঠেছিল। তা ছাড়া ওই উড়োজাহাজটি ২০ বছরেরও বেশি পুরোনো হওয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন-অযোগ্য ছিল। উপরন্তু উড়োজাহাজটির চালকদের লাইসেন্স নিয়ে সমস্যা থাকায় সৌদি কর্তৃপক্ষ তাঁদের একবার আটকও করেছিল। তার পরও বিশেষ বিবেচনায় একে চালানোর অনুমতি না দেওয়ায় বিমান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির কয়েকজন সদস্য বিমানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন।
সংসদীয় কমিটি স্পষ্টতই নাইজেরীয় কাবো এয়ারলাইনসের প্রতি পক্ষপাত দেখিয়েছে। অনিয়মকে জায়েজ করার জন্য কমিটির কিছু সদস্য কেন চাপাচাপি করলেন, তা উদ্ঘাটিত হওয়া দরকার।
সংসদীয় কমিটি শুধু কাবোর বিষয়েই আগ্রহী নয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জমিতে হোটেল করার জন্য একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার ব্যাপারেও মন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধে লিপ্ত হয়েছে। মন্ত্রী অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া বিমানবন্দরসংলগ্ন ১৩০ একর জমি উদ্ধার করে সরকারকে দিতে চান, কিন্তু সংসদীয় কমিটি চায়, পুরোটা না হলেও অন্তত ২৫ একর জমি হোটেল ও গলফ ক্লাব করার জন্য ইজারাদারদের হাতেই থাকুক। এ বিষয়টিরও সুষ্ঠু নিষ্পত্তি হওয়া দরকার। আগের অনিয়মের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি এ দুটি অনিয়ম প্রমাণ করে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস স্বার্থান্বেষী মহলের দুর্নীতির রাহুগ্রাসে বিপন্ন। এদের হাত থেকে বিমানকে রক্ষা এবং সংস্থাটিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

‘কার্লোস দ্য জ্যাকল’কে ভেনেজুয়েলায় ফিরিয়ে আনার দাবি

খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ভেনেজুয়েলার সন্ত্রাসী ‘কার্লোস দ্য জ্যাকল’কে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দেশটির কমিউনিস্ট পার্টি। বর্তমানে তিনি ফ্রান্সের একটি কারাগারে আটক আছেন।
কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র পেদ্রো ইউসে বলেন, প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের প্রশাসনের উচিত ফ্রান্সের প্রশাসনকে বলে কার্লোসকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা।
ভেনেজুয়েলার বংশোদ্ভূত কার্লোসের আসল নাম ইলিচ রামিরেজ সানচেজ। এক সংবাদ সম্মেলনে পেদ্রো দাবি করেন, সানচেজের শরীর এমনিতেই নাজুক। তিনি কারাগারে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না।
পেদ্রো ইউসের দাবির ব্যাপারে শাভেজের প্রশাসন কিংবা ফ্রান্স কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বহু খুনের মামলায় অভিযুক্ত সানচেজ প্যারিসে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
সানচেজ একজন ‘বিপ্লবী যোদ্ধা’ ছিলেন উল্লেখ করে শাভেজ বলেন, তিনি প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনে যোগ দিয়েছিলেন।

আর্থিক সহায়তার নেপথ্যে কারা, খতিয়ে দেখছে কানাডা

গত সপ্তাহে তামিল টাইগার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০ উদ্বাস্তুকে কানাডায় প্রবেশে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী ভিক টোস স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, তামিল ওই উদ্বাস্তুরা মালবাহী জাহাজ ‘সান সি’র কর্মকর্তাদের ভ্রমণ বাবদ জনপ্রতি ৪৮ হাজার ডলার করে দিয়েছে।
গত সোমবার গ্লোব ও মেইল পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী বলেন, কানাডায় তামিল সম্প্রদায়ের তিন লাখ সদস্য আছে। তারাই ওই উদ্বাস্তুদের অনুপ্রবেশে আর্থিক সহায়তা দিতে পারে। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলম (এলটিটিই) তাদের সংগঠনকে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা পথে সংগঠিত করতে পারে। অর্থ লেনদেনে যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেককে কানাডার রাজকীয় পুলিশ বাহিনী অবশ্যই খুঁজে বের করবে।
এদিকে কানাডার তামিল কংগ্রেসের মুখপাত্র ডেভিড পুপালাপিল্লাই বলেছেন, ওই উদ্বাস্তুরা এলটিটিইর সদস্য নয়। তিনি বলেন, টাইগার-অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে।

সরাসরি আলোচনায় পূর্বশর্ত মানব না: নেতানিয়াহু

ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনায় কোনো পূর্বশর্ত মানবে না ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু গত সোমবার এ কথা জানিয়েছেন। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার গাজা থেকে ছোড়া ফিলিস্তিনি জঙ্গিদের মর্টারের গোলা নিক্ষেপে দুই ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর গাজায় ইসরায়েলি ট্যাংক প্রবেশ করেছে বলে দাবি করেছে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী জঙ্গি সংগঠন হামাস।
বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু গত সোমবার ঐতিহাসিক সফরে গ্রিস পৌঁছান। ইসরায়েলের কোনো প্রধানমন্ত্রীর এটাই প্রথম গ্রিস সফর। সেখানে পৌঁছে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি আশা করছেন, কোনো ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু হবে। আলোচনায় কোনো পূর্বশর্ত জুড়ে দেওয়া হলে সেটা তিনি মানবেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, ফিলিস্তিনিরা সরাসরি আলোচনায় পূর্বশর্ত জুড়ে দিয়ে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট করেছে। তিনি আশা করছেন, সামনের আলোচনায় তাঁরা যেসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে চান তার সবই আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসবেন।
ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে পশ্চিম তীর ও গাজায় ইহুদি বসতি নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। এই দাবিতে ২০০৮ সাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, রাশিয়া, জাতিসংষ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনার একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়। শিগগিরই এই চারটি দেশ ও সংস্থা দুই পক্ষকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে একটি বিবৃতি দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনিদের প্রধান আলোচক সায়েব এরাকাত অবশ্য বলেছেন, নেতানিয়াহুর সরকার শান্তি আলোচনা শুরুর বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বদলে অন্য কোনো স্বার্থ আছে এ সরকারের।

পাকিস্তানে বিদেশি দূতাবাসে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত বিদেশি দূতাবাস ও শিয়া ধর্মীয় নেতাদের ওপর এবং রাজধানীসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে। স্থানীয় জানদুল্লা তালেবান জঙ্গিগোষ্ঠী ও অন্যান্য নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী এই হামলার পরিকল্পনা করছে। গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানের উর্দু ভাষার দৈনিক আজ কাল এ তথ্য জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান এই হামলা পরিচালনার জন্য আবু আদিল মুজাহিদকে দায়িত্ব দিয়েছে। ইসলামাবাদ ছাড়াও রাওয়ালপিণ্ডি, লাহোর, ওকারা ও করাচির মতো বড় বড় শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, রাজনৈতিক জনসভা, জেলা ও বিভাগীয় পুলিশ কার্যালয় এই জঙ্গি হামলার তালিকায় রয়েছে।

ভারত-সীমান্তে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে চীন

ভারতসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন দূরপাল্লার সিএসএস-৫ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে চীন। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এ খবর জানিয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে স্বল্প সময়ে বিমান হামলা চালানোর প্রস্তুতিসংক্রান্ত একটি পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করছে দেশটি।
এ ব্যাপারে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে পেশ করা একটি প্রতিবেদনে পেন্টাগন উল্লেখ করেছে, ভারত ও চীনের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হলেও চীন-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা রয়েছে। চীনের সেনারা সীমান্ত এলাকায় আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে টহল দেয়। তবে একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় অস্বাভাবিক সেনা বৃদ্ধির কোনো আলামত দেখেনি যুক্তরাষ্ট্র।
ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ওপর চীনের দাবির বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, আস্থা গঠন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করছে বেইজিং ও নয়াদিল্লি। দুই দেশই বিষয়টি নিয়ে খুব সতর্কভাবে এগোচ্ছে।
বার্ষিক এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে চীনের প্রতিরক্ষা বাহিনী পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম মাঝারি পাল্লার সিসিএস-৩ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর জায়গায় উচ্চপ্রযুক্তির দূরপাল্লার সিএসএস-৫ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে, পাশাপাশি ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় সড়ক ও রেলপথ নির্মাণসহ ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করেছে।
চীনের দাবি, ভারতের অরুণাচল প্রদেশ তাদের অংশ। এই দাবি জোরদার করতে ২০০৯ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ভারতের জন্য ছাড় করা ২৯০ কোটি ডলারের একটি ঋণ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে বেইজিং। তাদের বক্তব্য ছিল, ওই ঋণের একটি অংশ অরুণাচলের উন্নয়নে ব্যবহার করবে ভারত।

রাশিয়ায় রুমানিয়ার কূটনীতিক আটক

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে রাশিয়ায় গত সোমবার রুমানিয়ার এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে আটক করা হয়েছে। দেশটির ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গ্যাব্রিয়েল গ্রেকু নামের রুমানিয়ার ওই কূটনীতিক গত সোমবার রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় গোয়েন্দাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতিসহ তাঁকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ঘটনায় তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। তবে মস্কোয় রুমানিয়ার দূতাবাস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি গ্যাব্রিয়েল গ্রেকু ন্যাটোর সদস্য দেশ রুমানিয়ার পক্ষে গোয়েন্দাগিরি করতেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে রুমানিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনায় রাশিয়া গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর দুই দশক ধরে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলো গুপ্তচরবৃত্তির জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করে আসছে।

বাগদাদে সেনা নিয়োগ কেন্দ্রে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৬০

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের কেন্দ্রস্থলে একটি সেনা নিয়োগ কেন্দ্রে গতকাল মঙ্গলবার আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৬০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ১২৫ জন। কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
এমন একসময়ে হামলাটি চালানো হলো যুক্তরাষ্ট্র যখন চলতি মাসের শেষ দিকে ইরাকে যুদ্ধ অভিযান শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
২০০৬-০৭ সাল ছিল সবচেয়ে গোলযোগপূর্ণ সময়। এরপর সহিংসতার মাত্রা কমে আসে। তবে গত জুলাইয়ে বেসামরিক লোকজনের হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। মঙ্গলবার সকাল প্রায় সাড়ে সাতটার দিকে সর্বশেষ এই হামলার ঘটনা ঘটে। আত্মঘাতী হামলাকারী নিয়োগ কেন্দ্রের সামনে লাইনে দাঁড়ানো লোকজনের মধ্যে গিয়ে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
রক্তে রঞ্জিত ঘটনাস্থলে বিচ্ছিন্ন হাত-পা পড়ে থাকতে দেখেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। দুজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, ঘটনাস্থলে একটি গাড়ি বোমাও বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, শুধু একজন আত্মঘাতী হামলাকারী এই হামলা চালিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কমপক্ষে তিনজন সেনা সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া আরও আটজন সেনা আহত হয়েছেন।
ইরাকি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল কাশিম আল-মুসাভি বলেন, শুধু একজন আত্মঘাতী হামলাকারী এই হামলা চালিয়েছে। জড়ো হওয়া লোকজনের মধ্যে গিয়ে হামলাকারী তার শরীরে লুকানো বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটায়।
শহরের প্রধান বাস স্টেশনের কাছে একটি ব্যস্ত এলাকায় এই সেনা নিয়োগ কেন্দ্রটির অবস্থান। সকালে ওই এলাকার রাস্তাগুলো লোকজনে পরিপূর্ণ ছিল। এ কারণে হামলাকারী খুব সহজেই ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

গ্রাউন্ড জিরোর কাছে মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতায় রিড

মার্কিন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাট নেতা হ্যারি রিড গ্রাউন্ড জিরো এলাকায় মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দেওয়া মতকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন সেখানে মসজিদ বানাতে দেওয়া ঠিক হবে না। তাঁর মতে, ওই জায়গার পরিবর্তে অন্য কোথাও মসজিদ নির্মাণ করা যেতে পারে। হ্যারি রিডের মুখপাত্র জিম ম্যানলি গত সোমবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নেভাদার সিনেট নির্বাচনে রিডের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা রয়েছে। তাঁর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী শ্যারন অ্যাঙ্গলও গ্রাউন্ড জিরোতে মসজিদ নির্মাণের বিপক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার উদ্দেশে তাঁরা এ ইস্যুতে কড়া বক্তব্য রাখছেন।
রিডের মুখপাত্র জিম ম্যানলি বলেন, সিনেটর রিড সবার ধর্মকর্ম করার সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের পাশেই মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনাকে তিনি সমর্থন করেন না।
রিডের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী শ্যারন অ্যাঙ্গলও আরও এক ধাপ বাড়িয়ে বলেছেন, সেখানে মসজিদ নির্মাণের সমর্থনে কথা বলে প্রেসিডেন্ট ওবামা আমেরিকান জনগণের ইচ্ছাকে ‘অবজ্ঞা’ করেছেন।
গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে মুসলিম নেতাদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার পার্টিতে ওবামা বলেন, গ্রাউন্ড জিরোতে মসজিদ বানানোর অধিকার মুসলমানদের রয়েছে।

মধুচন্দ্রিমার দিন শেষ, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

ব্রিটেনের জোট সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হচ্ছে আজ বুধবার। ক্ষমতা গ্রহণের পর বেশ কিছু পরিবর্তনমূলক পদক্ষেপ নিলেও ব্যয় সংকোচন নিয়ে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের নিয়ে কনজারভেটিভ নেতা ডেভিড ক্যামেরন যখন সরকার গঠন করেন, তখন অনেক বিশ্লেষকই মন্তব্য করেছিলেন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে জোট সরকারকে খুঁড়িয়ে চলতে হবে। দ্রুত সরকারের পতন হবে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।
ক্ষমতা গ্রহণ করে ব্রিটেনের রেকর্ড ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার দ্রুত ও ব্যাপক ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্ত নেয়। এ ছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জনকল্যাণ ও পুলিশ বাহিনীর সংস্কারে মৌলিক নীতিমালা প্রণয়ন করে সরকার।
২০১৫ সালের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে ব্রিটিশ সেনা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমাও ঘোষণা করে জোট সরকার।
এদিকে ব্যয় হ্রাস নিয়ে জোট সরকারের প্রতি ভোটারদের মনোভাব কঠোর হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সম্প্রতি ডেইলি মেইল পত্রিকার জন্য করা এক জনমত জরিপে দেখা যায়, ৫৭ শতাংশ মানুষই সরকারের কার্যক্রমকে ‘হতাশাব্যঞ্জক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। গত মাসে জরিপ কোম্পানি ইউগভের প্রেসিডেন্ট পিটার কেলনার ঘোষণা করেন, মধুচন্দ্রিমা শেষ হয়ে গেছে।
এরই মধ্যে ট্রেড ইউনিয়নগুলোও ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনার বিরোধিতা করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ডানপন্থী ডেইলি মেইল পত্রিকায় বলা হয়েছে, অনেকেই যা আশঙ্কা করেছিলেন, তার চেয়ে অনেক ভালো ছিল ডেভিড ক্যামেরনের ১০০ দিন। কিন্তু আসল পরীক্ষা সামনে।

ভেনিজুয়েলায় সংবাদপত্রে সহিংস ছবি প্রকাশ নিষিদ্ধ ঘোষণা

ভেনিজুয়েলার আদালত দেশটির শীর্ষস্থানীয় একটি পত্রিকাকে রক্তাক্ত ও সহিংস ছবি প্রকাশ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। মর্গের লাশের ছবি প্রকাশ করায় পত্রিকাটিকে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন আদালত।
দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী পুরোনো এল নাসিওনাল নামে পত্রিকাটিতে প্রকাশিত সহিংসতাপূর্ণ ছবির নেতিবাচক প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরদের রক্ষা করতেই আদালত এ আদেশ দিয়েছেন। তবে বিরোধীরা বলছেন, পত্রিকাটি প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের কড়া সমালোচক হওয়ায় এ ধরনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সেন্সরশিপ বলে অ্যাখ্যায়িত করেছেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়, শিশু-কিশোরদের শুভ চেতনাকে ধ্বংস করতে পারে এমন তথ্য, ছবি ও প্রচারণা সংবাদপত্রে প্রকাশ করা যাবে না। এর মধ্যে রয়েছে রক্তাক্ত ও অস্ত্রের ছবি, ভীতিকর বার্তা, শারীরিক আগ্রাসনমূলক ছবি এবং যুদ্ধে হত্যা ও মৃত্যু-সম্পর্কিত তথ্য।
দেশ জুড়ে সহিংস অপরাধ রোধে ভেনিজুয়েলা সরকারের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে পত্রিকাটি প্রথম পৃষ্ঠায় রাজধানী কারাকাসের একটি মর্গের লাশের ছবি ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরপর আদালত এ আদেশ জারি করেন। আদালত পত্রিকাটির সম্পাদক মিগুয়েল হেনরিক ওতেরোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মর্গের ছবি প্রকাশ করায় পত্রিকাটিকে তাদের আয়ের দুই শতাংশ জরিমানা দিতে হতে পারে।
আদেশের প্রতিক্রিয়ায় সম্পাদক ওতেরো বলেন, আদালতের এ আদেশ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংবাদ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহিংস ছবি প্রকাশ করা থেকে বিরত রাখতে চাপ প্রয়োগ করবেন। আদেশ না মানলে পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভারতীয় ঋণের টাকায় ড্রেজার কেনা হচ্ছে

নৌপথের নাব্যতা বাড়াতে ১৭টি নদী খনন যন্ত্র বা ড্রেজার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারতের ১০০ কোটি ডলারের ঋণ-সহায়তা থেকে ড্রেজার কেনার জন্য প্রায় সাত কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার বরাদ্দ দেওয়া হবে।
নৌ-যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় গতকাল মঙ্গলবার ড্রেজার কেনার এই সিদ্ধান্তসহ সাতটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে, যার অর্থমূল্য চার হাজার ২২৮ কোটি টাকা।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত একনেকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
একনেকের বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ আমদানি-রপ্তানির জন্য একটি প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হলে ভারতে রপ্তানির সুযোগও রাখা হয়েছে এ প্রকল্পে।
সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ১৪টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। গতকালের বৈঠকে এর মধ্যে দুটি প্রকল্প প্রথমবারের অনুমোদন দেওয়া হলো।
একনেকের বৈঠকে ড্রেজার ক্রয়সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রকল্পের আওতায় ৬৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা হবে ছয়টি ড্রেজার।
এসব ড্রেজারের একটি ব্যবহার করা হবে মংলা বন্দরের নাব্যতা বাড়ানোর কাজে। অপর তিনটি ড্রেজার ব্যবহার করবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। আর বাকি দুটি দেওয়া হবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (বিডব্লিউডিবি)।
অপর প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৩০৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১টি ড্রেজার ও নদী খননের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনা হবে। এগুলো কেনা হবে ২০১২ সালের জুন মাসের মধ্যে। এ অর্থের পুরোটাই জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার। প্রতিবছর ২১৬ লাখ ঘনমিটার পর্যন্ত নদী খনন ও সংরক্ষণের কাজে এসব ড্রেজার কাজে লাগবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দেশের প্রায় ৩১০টি নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, বন্যানিয়ন্ত্রণ ও সেচব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য সরকারের বড় ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি এরই মধ্যে তিনটি বৈঠক করেছে।
বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ড্রেজার ব্যবহার ও খননকাজের জন্য বিশদ পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, সরকার নদী খননের জন্য ইতিমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প প্রস্তুত করেছে। এর মধ্যে একটি প্রকল্পের জন্য ব্যয় হবে ১২ হাজার কোটি টাকা। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দাতাদের কাছে ইতিমধ্যে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
একনেকের বৈঠকে বাংলাদেশ (ভেড়ামারা) ও ভারত (বহরমপুর) মধ্যে ৪০০ কেভি গ্রিড বাস্তবায়নের জন্য এক হাজার ৭৯ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৭০০ কোটি টাকা দেবে। বাকি টাকা জোগান দেবে সরকার। ২০১২ সালের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।
প্রকল্প দলিল অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রথম বছরের ২৫০ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় বছর থেকে পরবর্তী ৩৪ বছর পর্যন্ত ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা যাবে।
একনেকের বৈঠকে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন প্রমুখ।

শান্তি আলোচনায় ভারতের মাওবাদীদের নতুন শর্ত

তিন মাসের সংঘর্ষ বিরতির শর্তে সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিলেন ভারতের মাওবাদী নেতা কিষেণজি রাও। মাওবাদী দলের সামরিক শাখার প্রধান আরও বলেন, সরকারের শান্তি আলোচনায় এটা শেষ সুযোগ।
সরকার এর আগে আলোচনায় বসার জন্য একতরফাভাবে বিদ্রোহীদের ৭২ ঘণ্টা যুদ্ধ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মাওবাদী বিদ্রোহকে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মাওবাদীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেন, তাদের (মাওবাদীদের) সহিংস কার্যক্রম অবশ্যই ৭২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে হবে। এ সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান চালাবে না। তিনি বলেন, এরপর কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশের মুখ্য মন্ত্রীদের মাধ্যমে শান্তি আলোচনায় মাওবাদীদের আমন্ত্রণ জানাবে।
কিন্তু কিষেণজি রাও আজ বিবিসিকে বলেন, সরকারের দেওয়া এ প্রস্তাব গ্রহণ করা সম্ভব নয়। উভয়পক্ষকে অবশ্যই একই সময়ে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, উন্মুক্ত আলোচনার পরই সরকারকে মধ্যস্থতাকারীদের নাম চূড়ান্ত করতে হবে।
কিষেণজি রাও আরও বলেন, মাওবাদী নেতা চেরুকুরি রাজকুমারকে হত্যার জন্য পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের শাস্তি দেওয়া উচিত। চেরুকুরি রাজকুমার আজাদ নামে পরিচিত।
পুলিশ বলেছে, আজাদ গত জুলাইয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের আদিলাবাদ জেলায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। সে ওই প্রদেশে মাওবাদীদের মুখপাত্র ও দ্বিতীয় পর্যায়ের নেতা ছিল।

লেনদেনে চাঙা ভাব, সাধারণ সূচক দাঁড়িয়েছে ৬৭১৯ পয়েন্টে

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ সাধারণ সূচকের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা গেছে। এর পাশাপাশি মোট লেনদেনেও ছিল চাঙা ভাব। আজ বেলা দেড়টায় লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ সূচক ৮৬ দশমিক তিন ছয় পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭১৯ পয়েন্টে। গতকাল মঙ্গলবার সাধারণ মূল্যসূচক বেড়েছিল ১০ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট। এ ছাড়া আজ মোট দুই হাজার ১৭৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়। যা গতকালের চেয়ে ২৫০ কোটি টাকা বেশি।
আজ শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। লেনদেন হওয়া মোট ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫৭টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ৯১টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো বিএসআরএম স্টিলস, তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো, সামিট পাওয়ার ও প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো ইস্টার্ন হাউজিং, পূরবী জেনারেল ইনস্যুরেন্স, সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্স, হিল প্লান্টেশন ও বাংলাদেশ ল্যাম্পস।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো—থেরাপিউটিকস, সোনালি আঁশ, ফাইন ফুডস, সাফকো স্পিনিং ও তৃতীয় আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের উদ্যোগে আমদানি-রপ্তানিবিষয়ক কর্মশালা

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের উদ্যোগে সম্প্রতি আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা’বিষয়ক এক কর্মশালা। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের করপোরেট গ্রাহকেরা এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা ও নির্দেশনাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। সিসিআইঅ্যান্ডই, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি বিভাগ ও বাংলাদেশ কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কর্মশালাটি পরিচালনা করেন।
কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের লিগ্যাল, কমপ্লায়েন্স ও অ্যাসুয়েরেন্স বিভাগের প্রধান চৌধুরী এম এ কিউ সারওয়ার এবং ট্রানজেকশন ব্যাংকিংয়ের প্রধান তানভীর হায়দার চৌধুরীসহ ব্যাংকের অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিএমডব্লিউর ৫,৩০৮টি গাড়ি তুলে নেবে চীন

জ্বালানি ট্যাংকে সমস্যার কারণে চীনের বাজার থেকে বিএমডব্লিউ-৫ সিরিজের পাঁচ হাজার ৩০৮টি জিটি গাড়ি তুলে নিতে বলা হয়েছে। চীনের মাননিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ আজ বুধবার চায়না অটোমোটিভ ট্রেডিং লিমিটেডের আমদানি করা এ গাড়িগুলো তুলে নিতে বলেছে।
জ্বালানি ট্যাংকের সমস্যার কারণে কোনো প্রকার সতর্ক-সংকেত ছাড়াই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং এ কারণে পুনরায় ইঞ্জিন চালু না-ও হতে পারে। চীনের মাননিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়।
কোম্পানির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে এই গাড়ির মালিক এবং ব্যবহারকারীরা বিনা মূল্য তাঁদের গাড়ি পরীক্ষা করাতে পারবেন।

হিটেই বাদ মাহফিজরা

সর্বশেষ জাতীয় সাঁতারে ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলে হাতঘড়িতে ২৪.৮৯ সেকেন্ড সময় নিয়েছিলেন মাহফিজুর রহমান (সাগর)। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠানরত যুব অলিম্পিকে বিকেএসপির তরুণ ইলেকট্রনিক্স বোর্ডে টাইমিং করেছেন ২৫.১২ সেকেন্ড। ৫০ জনের মধ্যে তাঁর অবস্থান ২০তম। তবে ৩ নম্বর হিটে আটজনের মধ্যে প্রথম হয়েছেন মাহফিজ।
৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ের হিটে সাতজনের মধ্যে শেষে ছিলেন সোনিয়া আক্তার। ২৫ জনের মধ্যে হয়েছেন ২০তম। জুয়েল আহমেদ ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে ৪০ জনের মধ্যে হন ২৫তম।

মোহামেডানে এসব কী হচ্ছে

মোহামেডানের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক পদ থেকে দিন কয়েক আগে পদত্যাগ করেছেন মোসাদ্দেক আলী (ফালু)। আজ আহ্বায়ক কমিটির সভায় একজন ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনোনীত হওয়ার কথা, যিনি নতুন নেতা হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির হাল ধরবেন। এ নিয়ে গোটা ক্লাবে চলছে নানা মেরুকরণ।
ঠিক এই সভার আগে কাল সন্ধ্যায় আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব লোকমান হোসেন ভুঁইয়া অভিযোগ করেছেন, ‘ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে কুতুবউদ্দিন আহমেদের (বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব) বিরুদ্ধাচরণ না করতে মুঠোফোনে আমাকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে দুবার। শফিকুল ইসলাম মানিককে মোহামেডানের কোচ না করলেও সমস্যা হবে বলে বলা হয়েছে মুঠোফোনে। এ ঘটনার পর মতিঝিল থানায় আমি জিডি করেছি।

বুড়োরাই জ্বললেন ফার্গুসনের হয়ে

দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ের বয়স তিরিশ ছাড়িয়ে গেছে বা ছুঁই ছুঁই করছে। কয়েকজন তো পঁয়ত্রিশ-ছত্রিশে গিয়ে ঠেকেছেন। এহেন পল স্কোলস, রায়ান গিগস, মাইকেল ওয়েনদের ওপর আবারও ভরসা রেখে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। বলা হচ্ছিল, ‘বৃদ্ধ’ ফার্গুসন আবার একটা ‘বুড়োদের দল’ গড়েছেন।
ফার্গুসনকে কোনো জবাব দিতে হলো না। পরশু ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেই ‘বুড়ো’রাই জ্বলে উঠে জবাব দিয়ে দিলেন। প্রিমিয়ারে ফেরা নিউক্যাসলের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে দুটি গোল ‘ত্রিশের দলের’ দিমিতার বারবেতভ ও রায়ান গিগসের। মাঝখানে দ্বিতীয় গোলটি করেছেন ২৬ বছর বয়সী ড্যারেন ফ্লেচার। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিও পেয়েছেন আরেক ‘বুড়ো’—৩৫ বছরের পল স্কোলস।
ম্যাচ শেষে সবার প্রশংসায় ভিজলেন ‘ফুরিয়ে যাওয়া’ স্কোলস। ১৭ বছর ধরে ম্যানইউয়ের হয়ে ৪৪৫টি ম্যাচ খেলে প্রায় ক্লাবের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন এই মিডফিল্ডার। তাঁর প্রশংসা করতে গিয়ে ফার্গুসনের কণ্ঠেও বয়সের প্রসঙ্গ, ‘পাসিং আর কল্পনাশক্তির দুর্দান্ত ক্ষমতা ওর। এই বয়সে পৌঁছানো কারও সম্পর্কে এ কথা বলতে পারা মানে, তার মধ্যে বিশেষ কিছু আছে।’
ম্যাচের তরুণ গোলদাতা, স্কটিশ ড্যারেন ফ্লেচারও বলছেন ‘অবিশ্বাস্য’ খেলেছেন এদিন স্কোলস। কিন্তু অভিজ্ঞতা স্কোলসকে বিনয়ীই করেছে। তিনি বলছেন, দল যে জয় দিয়ে শুরু করতে পেরেছে, সেটাই বড় কথা।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানইউয়ের এই জয়ের শুরুটা হয়েছিল আরেক ‘অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকের’ পা থেকে। শুরু থেকে নিউক্যাসলকে চেপে ধরা ম্যানইউয়ের হয়ে ৩৩ মিনিটে গজ ছয়েক দূর থেকে বাঁকানো শটে প্রথম গোল করলেন বারবেতভ। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আরও অন্তত দুটো গোল করতে পারতেন এই বুলগেরিয়ান স্ট্রাইকার। ফার্গুসনই বলছেন, বারবেতভের চার গোল করা উচিত ছিল। তা করতে না পারলেও তাঁর প্রশংসা কম হচ্ছে না।
ম্যানইউকে বেশি সময় দেওয়ার জন্য দলের আরও অনেকের মতো মে মাসে জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়ে নিয়েছেন বারবেতভ। আগামী মাসে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ইউরোর বাছাইপর্ব খেলা শুরু করবে তাঁর জাতীয় দল। এমন সময়ে জাতীয় দল ছাড়ায় একটু আফসোস করতে পারতেন বারবেতভ।
কিন্তু আফসোস নেই তাঁর কণ্ঠে। বলছেন, তরুণদের জন্য জায়গা ছেড়ে এসেছেন। এখন দর্শক হয়ে উপভোগ করতে চান জাতীয় দলের খেলা। দর্শক হয়ে নিজের জাতীয় দল ওয়েলসের খেলা উপভোগ করতে থাকা গিগস ৮৫ মিনিটে শেষ পেরেক ঠুকেছেন নিউক্যাসলের কফিনে। আর তার আগে ৪১ মিনিটে ওয়েইন রুনির পাস থেকে দলের দ্বিতীয় গোল করেছেন ফ্লেচার।
ম্যাচে রুনির ‘অবদান’ ওই একটা পাসই। এ ছাড়া জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে গত ছয় মাসের মতোই নিষ্প্রভ ছিলেন এই ইংলিশ তারকা। অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধে রুনির বদলি হিসেবে নামা নবাগত মেক্সিকান হাভিয়ের হার্নান্দেজও রুনির পারফরম্যান্সকে ছাড়িয়ে যেতে পারলেন না!

ভারোত্তোলকদের আপাতত ঠাঁই জিমনেসিয়ামে

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পুরোনো সভাকক্ষ থেকে ‘বিতাড়িত’ ভারোত্তোলন দল কাল অস্থায়ী একটা ঠিকানায় অনুশীলন করতে পেরেছে। এটি এনএসসির জিমনেসিয়াম। এই জিমনেসিয়ামের অবস্থা খুবই অস্বাস্থ্যকর আর সেখানে ভ্যাপসা গরম।
জিমনেসিয়ামের একপাশে কারাতের অনুশীলন, আরেক পাশে তায়কোয়ান্দোর। মাঝখানে সামান্য জায়গায় অনুশীলন সারতে হলো ভারোত্তোলন দলকে।
পুরোনো সভাকক্ষে অনেক দিন ধরে অনুশীলন করে আসছিলেন ভারোত্তোলকেরা। ওই কক্ষ এনএসসি এখন নিয়ে নেওয়ায় হামিদুল, মোল্লা সাবিরারা ক্ষুব্ধ। কোথায় অনুশীলন করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না তাঁরা। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) হস্তক্ষেপে আপাতত অস্থায়ী ঠিকানা পাওয়া গিয়েছে।
বিওএর প্রশিক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান (মানু) স্বাক্ষরিত চিঠি পেয়ে কাল জিমনেসিয়ামে অনুশীলন শুরু করেন কোচ কাজল দত্ত। এখানে মাত্র দিন দুয়েক অনুশীলন করা যাবে। এরপর ফেডারেশনের পুরোনো জিমনেসিয়ামে ফিরে যেতে হবে ভারোত্তোলকদের। জিমনেসিয়ামের বিকল শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র সচল, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা—এই কাজগুলো করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এনএসসি। ভারোত্তোলক মোল্লা সাবিরা বললেন, ‘অতটুকু জায়গায় কি ভালোভাবে অনুশীলন করা যায়? এখানে থাকলে সবচেয়ে ভালো হতো।’
সিঙ্গাপুরে শুরু হওয়া যুব অলিম্পিকে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে গিয়েছেন ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ। ভারোত্তোলকদের বিতাড়নের খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ মহিউদ্দিন কাল টেলিফোনে এ প্রতিবেদককে বললেন, ‘কমনওয়েলথে ভারোত্তোলনে পদক জয়ের একটা সম্ভাবনা আছে আমাদের। কিন্তু এভাবে অনুশীলনে ব্যাঘাত ঘটলে সেটা দুরাশাই থেকে যাবে। এনএসসি এমন সিদ্ধান্ত নিতে থাকলে দেশে খেলাধুলাই আর থাকবে না।’

এভার্টের জন্য সম্মাননা

টেনিস কোর্টে প্রথম গ্ল্যামারের দেখা মিলেছিল তাঁর কল্যাণে। ছবিটি দেখুন, ৫৫ বছর বয়সী ক্রিস এভার্টের চোখ-মুখ থেকে এখনো ঠিকরে বেরোয় আভিজাত্য। টেনিসের সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়দের একজন সম্মাননা কম পাননি। এবার তাঁকে ‘হল অব ফেমে’ অন্তর্ভুক্ত করে সম্মানিত হলো রজার্স কাপ, আগে যেটির নাম ছিল কানাডা ওপেন। ১৮টি গ্র্যান্ড স্লাম, টানা ১৩ বছর কমপক্ষে একটি করে গ্র্যান্ড স্লাম জয়, একক ম্যাচ জয়ের শতকরা হারে পৃথিবীর যে কারও চেয়ে এগিয়ে; এমন অনেক কীর্তি কথা বলে তাঁর হয়ে। এমন অসাধারণ ক্যারিয়ারের মালিক ক্রিস এভার্ট টেনিসের যেকোনো সম্মাননাই পেতে পারেন—বিশেষ যুক্তি খোঁজার দরকার নেই। যে রজার্স কাপের ‘হল অব ফেমে’ ক্রিস এভার্টকে অন্তর্ভুক্ত করা হলো, সেটিতেও দারুণ রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের এই কিংবদন্তির। এখানে যে চারটি শিরোপা জিতেছেন, প্রতিটি ফাইনাল জিতেছেন সরাসরি সেটে। ২০০৬ সালে রজার্স কাপের ‘হল অব ফেম’ চালুর বছরই অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন এভার্টের ‘চির প্রতিদ্বন্দ্বী’ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা। এই শুভলগ্নে এভার্টকে তাই প্রিয় বন্ধুর স্মৃতিচারণাও করতে হলো।

মাহে রমজানে নামাজের ফজিলত -সিয়াম সাধনার মাস ধর্ম by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ যাতে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগি করে পরম শান্তি ও চরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারে সে জন্য আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দাদের ওপর নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতসহ বিভিন্ন প্রকার ইবাদত বিধিবদ্ধ করেছেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের যেসব পন্থা রয়েছে, তন্মধ্যে নামাজ অন্যতম। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ হচ্ছে নামাজ। ‘নামাজ’ ফারসি শব্দ, আরবিতে নামাজকে ‘সালাত’ বলা হয়। এর আভিধানিক অর্থ সম্পর্ক ও সান্নিধ্য। ইসলামের পরিভাষায় এই সালাত আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের মধ্যে যোগাযোগ ও সান্নিধ্যের এমন এক বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তোলে, যা অন্য কোনো ইবাদতের বিনিময়ে অর্জন করা সম্ভব নয়। কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত—ইসলামের এ পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে নামাজের গুরুত্ব সর্বাধিক। মাহে রমজান অফুরন্ত রহমত, বরকত, মাগফিরাত, নাজাত ও ফজিলতপূর্ণ মাস। তাই পবিত্র রমজান মাসে পাঞ্জেগানা নামাজসহ তারাবিহ, তাহাজ্জুদ, সুন্নত ও নফল নামাজ আদায়ের গুরুত্ব আরও অনেক বেশি। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ৮২ বার প্রত্যক্ষভাবে নামাজ আদায়ের জন্য নির্দেশ প্রদান করে বলেছেন, ‘আর তোমরা নামাজ কায়েম করো বা নামাজকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করো।’ (সূরা আল-মুযযাম্মিল, আয়াত-২০)
ইসলামে নামাজের ধর্মীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। নামাজ আদায়ের মাধ্যমেই আল্লাহর প্রতি দাসত্ব ও আনুগত্য প্রকাশ পায় এবং স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিরাজে গমন করে বেহেশত, দোজখ, আরশ, কুরসি ইত্যাদি পরিভ্রমণ করে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। অতঃপর সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে উম্মতে মুহাম্মদির জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজস্বরূপ গ্রহণ করে দুনিয়ায় ফিরে সাহাবিদের কাছে আদ্যোপান্ত ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। তখন সাহাবায়ে কিরাম আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে ‘আমরাও যদি মিরাজ গমন করতাম!’ এ সময় নবী করিম (সা.) ইরশাদ করলেন, ‘নামাজ মুমিনদের জন্য মিরাজস্বরূপ।’ (ইবনে মাজা)
রোজাদার মুমিন ব্যক্তি সঠিক সময় নামাজ আদায় করলে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে এবং আল্লাহর অতি প্রিয় বান্দারূপে পরিগণিত হয়। আর নামাজের মাধ্যমে আল্লাহকে অত্যধিক স্মরণ করা যায়। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘আর আমার স্মরণার্থে তুমি নামাজ সম্পাদন করো।’ (সূরা ত্বাহা, আয়াত-১৪) নামাজ মানুষকে যাবতীয় পাপকাজ থেকে দূরে রাখে। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও দুষ্কর্ম থেকে (নামাজিকে) বিরত রাখে।’ (সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত-৪৫) নামাজ মানুষকে দোজখের আগুন থেকে মুক্তি দেয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যে ঈমানদারগণ ভীত মনে মনোনিবেশসহকারে নামাজ আদায় করেছে, তারাই (দোজখ থেকে) মুক্তির অধিকারী হয়েছে।’ (সূরা আল-মুমিন, আয়াত-২১) এ সম্পর্কে হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজের হিফাজত করে তার জন্য এটা কিয়ামতের দিন জ্যোতি, দলিল ও মুক্তির কারণ হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ ও বায়হাকি)
ইসলামের অনুসারী তথা মুসলমানের প্রথম ও প্রধান বিষয় হলো ঈমান। আর ঈমানের বিশেষ পরিচয় হলো নামাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক বস্তুর একটি চিহ্ন (পরিচয়) আছে এবং ঈমানের বিশেষ পরিচয় হলো নামাজ।’ এ নামাজের মাধ্যমে রোজাদার ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে। কেননা নামাজই হলো জান্নাতের চাবিকাঠি। নামাজ আদায় করলে ধর্ম ঠিক থাকে; আর না করলে ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়। তাই মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘নামাজ হলো দীনের (ধর্মের) স্তম্ভ। যে ব্যক্তি নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, সে দীনকে (ধর্ম) প্রতিষ্ঠিত রাখে। আর যে ব্যক্তি তা পরিহার করে সে দীনকে (ইসলাম) ধ্বংস করে।’
যখন মুয়াজ্জিন মসজিদে আজান দিতে থাকেন তখন মুসল্লিরা সব কাজকর্ম স্থগিত রেখে নামাজের জন্য মসজিদ অভিমুখে গমন করেন এবং সব মুসল্লি একত্র হয়ে জামাতে নামাজ আদায় করেন। এভাবে রোজাদাররা মসজিদে নামাজ পড়তে এলে তাঁদের পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে ওঠে। যখন সব মুসল্লি আল্লাহকে হাজির ও নাজির জেনে বিনীতভাবে জামাতে নামাজ আদায় করেন তখন সবাই একসঙ্গে নিয়ত করেন, একই সঙ্গে রুকু-সিজদা করেন এবং একই সঙ্গে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করেন। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা বা হইচই শোনা যায় না। এভাবে রোজাদার ব্যক্তি জামাতে ইমামের পেছনে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে শৃঙ্খলাবোধ শিক্ষালাভ করে তা সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করে থাকেন।
দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে, সাপ্তাহিক জুমার নামাজে, মাহে রমজানে তারাবি ও কদরের নামাজে এবং দুই ঈদের নামাজে যখন সব মুসল্লি সমবেত হন তখন পারস্পরিক খোঁজখবর নিতে পারেন এবং তাঁদের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান হয়। সে জন্য রোজাদাররা মসজিদে সমবেত হয়ে সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, পারস্পরিক হূদ্যতা ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতে পারেন। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ প্রদান করেছেন, ‘আর তুমি তোমার পরিবার-পরিজনকে নামাজের আদেশ করো এবং ধৈর্যসহকারে নামাজে স্থির থাকো।’ (সূরা ত্বাহা, আয়াত-১৩২) এ মর্মে রাসুলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাবের সঙ্গে সওয়াব প্রাপ্তির আশায় রোজা রাখেন, তারাবি নামাজ পড়েন এবং কদরের রাতে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত করেন, তার জীবনের আগের সব গুনাহ মাফ করা হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সবাই অজু করে পাক-পবিত্র হন এবং নামাজের মধ্যে ওঠা-বসার মাধ্যমে শারীরিক পরিশ্রম হয়ে থাকে। এতে নামাজিদের দেহ সতেজ ও সবল হয় এবং মন প্রফুল্ল থাকে। মসজিদে বহু লোক একত্রে জামাতে নামাজ আদায় করার ফলে একে অপরের সঙ্গে অভাব-অনটন ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। এতে একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হন এবং পারস্পরিক সাহায্যের হাত সম্প্রসারিত করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে সঠিক নিয়মে বিশুদ্ধভাবে ও নিয়মিত নামাজ প্রতিষ্ঠায় রোজাদার মানুষ মুত্তাকি বা আল্লাহভীরু হতে পারেন। যে রোজাদার ব্যক্তি যথাযথভাবে নামাজ আদায় করবেন, তা তাঁর জন্য কিয়ামতের দিন আলো, দলিল ও মুক্তির কারণ হবে এবং তিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন। সর্বোপরি মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি খুশি হবেন। অতএব, আল্লাহ তাআলা আমাদের পবিত্র মাহে রমজানে সঠিকভাবে নামাজ প্রতিষ্ঠা করার তাওফিক দিন এবং নামাজের পার্থিব ও পারলৌকিক কল্যাণসমূহ প্রদান করুন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
dr.munimkhan@yahoo.com

রাজনৈতিক সরকার কী গণতান্ত্রিক সরকার by সৈয়দ আবুল মকসুদ

কয়েক মাস পরেই বাংলাদেশের বয়স চল্লিশে পড়বে। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে অভ্যুদয়ের পর থেকে এক দীর্ঘ সময় পার হয়েছে। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর হতে পারত জাতীয় জীবনের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের আরম্ভ। বাহাত্তর হতে পারত ‘বিচিত্র জীবনচর্চার বেগে চঞ্চল’ একটি বছর। প্রথম নির্বাচনের বছর তিয়াত্তর হওয়া উচিত ছিল ‘জাগ্রত চিত্তবৃত্তির তাড়নায় এক নতুন অধ্যায়’ রচনার বছর।
শেষ বাক্য দুটির ঊর্ধ্ব-কমার ভেতরের কথাগুলো রবীন্দ্রনাথের। কথাগুলো তিনি বাংলাদেশকে উদ্দেশ করে বলেননি। তাঁর মৃত্যুর পুরো ৩০ বছর পরে বাংলাদেশ যে একটি রাষ্ট্র হবে, তা ছিল তাঁর কল্পনার অতীত এবং সেই রাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত অগ্রিম তাঁকেই রচনা করে যেতে হবে—তাও তিনি ঘুণাক্ষরেও জানতেন না। বিধাতা জানতেন। কবির ধ্যানের বাংলা ছিল ‘সোনার বাংলা’। বাস্তবে এ বাংলা সোনারও নয়, পিতলেরও নয়—সবুজ শস্যের। যে শস্য ফলায় পাঁজরের ও চোয়ালের হাড় বের হওয়া কৃষক, ধবধবে পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা পলিটিশিয়ান ও ভদ্রলোকেরা নন। অথবা আরও বাহারি লেবাস পরা ধর্মীয় নেতারাও নন।
কানা-খোঁড়া যা হোক, এক ধরনের গণতন্ত্র কাগজেপত্রে আছে বলেই আমাদের রাজনীতিবিদেরা পলিটিকস করার সুযোগ পাচ্ছেন। কোনো রকমে এই অবস্থাটা টিকিয়ে রাখা তাঁদের এবং তাঁদের বিদেশি মাস্টারদের স্বার্থেই প্রয়োজন। গণতন্ত্রটা বেশি কার্যকর হয়ে উঠলে পলিটিকসটা জমবে না, রাজনীতির চরিত্র যাবে পাল্টে। তাতে রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অর্থবহ হয়ে উঠবে, অল্পসংখ্যক রাজনীতিকের পলিটিকস করা কঠিন হয়ে যাবে। রাষ্ট্রের স্থায়ী কর্তা আমলাদেরও তাতে মুশকিল। এখন যে রাজনীতি, তা রাজনীতিক-আমলা-ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। এই গণতন্ত্রে জনগণ গৌণ—সিন্ডিকেটের সদস্যরাই আসল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল আসল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, সিন্ডিকেটের গণতন্ত্র নয়।
স্বাধীনতার আগে আইয়ুব-মোনায়েমের আমলে সামরিক-বেসামরিক আমলাতান্ত্রিক সরকার আমরা দেখেছি। জনগণের জন্য তা ছিল অভিশাপ। সরকার ছিল জনগণের মাথার ওপর একটি পাথরের মতো। আমরা সেই পাথর সরাতে চেয়েছিলাম এবং আমাদের পছন্দমতো মানুষের সরকার গঠন করতে চেয়েছিলাম। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছি। গণতন্ত্রের সংগ্রাম দরখাস্ত চালাচালির সংগ্রাম নয়, চায়ের কাপ ও স্যান্ডউইচ খেতে খেতে আলাপ-আলোচনার ব্যাপার নয়। গণতন্ত্রের জন্য জনগণকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। জনগণের মূল্য দেওয়া মানে পাঁচ কেজি ধান দেওয়া নয়। রক্ত দেওয়া। সে রক্তও প্যাথলজির ডিসপোজেবল সিরিঞ্জে দেওয়া দুই চামচ রক্ত নয়। গণতন্ত্রের জন্য ঘড়ায় ঘড়ায় বা কলসে কলসে রক্ত দিতে হয়েছে।
সত্তরের নির্বাচনের পর থেকেই আমরা প্রত্যাশা করেছি, জনগণ একটি গণতান্ত্রিক সরকার পেতে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে আমাদের সেই প্রত্যাশা আরও সুদৃঢ় হয়। মানুষের সেদিন সামান্য দাবি ছিল, একটি গণতান্ত্রিক সরকার—অর্থাৎ রাজনৈতিক সরকার, আমলাতান্ত্রিক সরকার আর নয়, সামরিক সরকার তো মোটেই নয়। জনগণের দুর্ভাগ্য, স্বাধীনতার পরে একটি অসামরিক রাজনৈতিক সরকারই পাওয়া গেল বটে, কিন্তু তাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হলো না। গণতান্ত্রিক সরকারের মধ্যে যে গতিশীলতা থাকে, আমাদের সরকারে সেই গতিশীলতা ছিল না।
স্বাধীনতার পরে একটি সামন্তবাদী রাজনৈতিক ধারা আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলাম। ওই ধারার রাজনীতিতে দলের সব নেতার সমমর্যাদার ভিত্তিতে বসে আলোচনার সুযোগ নেই। দলের শীর্ষ নেতা যিনি আছেন, তাঁকে হুজুর হুজুর করার একটা রেওয়াজ অনেক কাল থেকেই। তিনি বেঠিক বললেও তাঁর সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করা চলবে না। নেতার কথা হাসিমুখে অথবা মাথা নত করে মেনে নিতে হবে। দলের ভেতরে কয়েকজনে মিলে আরেকটি নতুন মত তৈরির সুযোগ নেই। নতুন মত তৈরি মানে নেতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বা ষড়যন্ত্র করা নয়। নতুন মত নিয়ে বিতর্কে দলের সবাই যোগ দেবেন। যুক্তির পাল্লা যেদিকে ভারী, সেই পক্ষ বিজয়ী হবে। সেটাই গণতান্ত্রিক রীতি।
আমাদের রাজনীতিতে তেমনটি কল্পনাও করা যায় না। নেতার সঙ্গে দ্বিমত করা দেশদ্রোহিতার শামিল। তারপর তাঁর দলে থাকাই কঠিন এবং থাকলেও কোণঠাসা হয়ে থাকতে হয়। তা ছাড়া নেতাও জানেন, তাঁর কথা মেনে নেওয়া হবেই। ফলে তাঁর বিরোধিতার মুখোমুখি হওয়ার ভয় নেই। তাঁর একটি অন্যায় আবদার বা স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত দলের সিদ্ধান্ত হিসেবেই চালানো হয়। যেমন—কোনো ভবন, প্রতিষ্ঠান বা ব্রিজের নামকরণ হবে—সেখানে সবার মত নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সংসদে আলোচনারও প্রয়োজন নেই। দলের সভায় বা মন্ত্রিসভার বৈঠকে একজন স্তাবক তাঁর নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করে ধা করে একটা প্রস্তাব করলেন। ব্যস। তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত হয়ে গেল। পাঁচ-দশটা নাম থেকে একটি নাম বেছে নেওয়াই তো গণতান্ত্রিক রীতি।
ভালো ও কার্যকর গণতন্ত্রের রাস্তাটা একেবারেই সোজা নয়। গণতান্ত্রিক শাসনের জন্য মানুষের মন তৈরি করতে হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হয়। যে জনগণ দীর্ঘকাল সামন্তবাদী শাসন-শোষণের মধ্যে ছিল, তাকে বোঝাতে হবে গণতন্ত্র কী। তা বোঝানোর দায়িত্ব রাজনীতিকদের ও উচ্চশিক্ষিত সমাজের মানুষদের, যাঁদের আমরা বুদ্ধিজীবী বলে ডাকি। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে আমার ও আমার বয়সী আরও কারও কারও একটি ধারণা হয়েছিল যে স্বাধীনতার পরে রাষ্ট্রে নতুন চিন্তার সূচনা হবে। সব শ্রেণীর মানুষ যখন স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নিয়েছে, উদার গণতন্ত্রী যেমন আছেন, তেমনি কট্টর বামও আছেন—সুতরাং সব মানুষের গ্রহণযোগ্য একটি মধ্যপন্থার চিন্তাধারার উন্মেষ ঘটবে। কিন্তু চরমভাবে হতাশ হলাম। স্বাধীন দেশে নতুন চিন্তা তো দূরের কথা, দেশ ও সমাজ নিয়ে, জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করাটাই বন্ধ হয়ে গেল। যেসব অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পাকিস্তান আমলে পূর্ব বাংলা নিয়ে ভেবেছেন, তাঁরা একেবারে চুপ হয়ে গেলেন। কেউ সরকারকে তোয়াজ করতে লাগলেন, কেউ ঘরের ভেতরে বসে সরকারের বিরুদ্ধে গুজগুজ করতে থাকলেন। তরুণদের ভেতর থেকেও তীক্ষ সৎ ও নিবেদিত তেমন কেউ বের হলেন না। অবশ্য তরুণেরা বেঁচে থাকার সংগ্রামে এতটা গলদঘর্ম হতে থাকলেন যে চিন্তা করার জন্য যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও নিরুপদ্রব অবকাশ প্রয়োজন, তা তাঁদের ছিল না। ফলে একটি নতুন রাষ্ট্র শুধু হাত-পা ও শরীরটা নিয়ে যাত্রা শুরু করল, তার মাথা ও মগজটা থাকল না।
পশ্চিমের উন্নত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিক সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা খুব বড়। রাষ্ট্রের সমস্যা সমাধানে রাজনীতিকেরাই যথেষ্ট নন। সব সমস্যা তাঁদের চোখে পড়েও না। সেই সমস্যা তাঁদের চোখে ধরিয়ে দেন নাগরিক সমাজের নেতারা। যেসব দেশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও থিংক ট্যাংক থেকে ব্যাপক গবেষণা হয়, সেসব গবেষণা সরকারি আনুকূল্যেও হয়, তবে বেসরকারি পর্যায়েই হয় বেশি। সুতরাং স্বাধীন মতামত প্রকাশের সুযোগ বেশি। সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষপাতহীন বিচার-বিশ্লেষণ হলে, সরকারের ভুল নীতি নিয়ে গবেষণা হলে অনেক সমস্যার জট খুলে যায়।
গত ৩৫ বছরে আমাদের দেশে ব্যাপক ‘উন্নয়ন’ হয়েছে। আমরা নিজের অর্থে এই উন্নয়ন করতে পারিনি। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি ও দাতা দেশগুলোর সহায়তায় আমরা রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা প্রভৃতি করেছি, সরকারি কর্মকর্তাদের অফিস কক্ষ সাজিয়েছি, সড়ক যোগাযোগের উন্নতি করতে গিয়ে রেলকে ধ্বংস করেছি। গ্রামীণ দারিদ্র্য দূর করতে গিয়ে এনজিও কর্মকাণ্ডের এমন প্রসার ঘটেছে যে মহানগরগুলোর বাইরে গোটা দেশে সরকারের ভূমিকা আজ গৌণ। গ্রামীণ অর্থনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করছে এনজিওরা। ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান বহুজাতিক বীজ ও ফোন কোম্পানির সহযোগী হয়ে উঠেছে। দরিদ্র ও নিম্নমধ্য শ্রেণীর কষ্টার্জিত অর্থ আজ বিদেশে চলে যাচ্ছে। একটি স্বাধীন দেশ তার নিজের তেল, গ্যাস, কয়লা নিজে খুঁড়ে বের করতে পারে না। রাজনীতিকেরা অতি আনন্দের সঙ্গে তা বিদেশিদের হাতে তুলে দেন। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অথবা দয়াপরবশ হয়ে কি তুলে দেন? বিদেশিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করলে আগামী পাঁচ পুরুষ আর তাদের কোনো রোজগার করার প্রয়োজন হবে না।
আমাদের দেশ আছে, দেশের মাটি আছে কিন্তু ক্রমাগত আমাদের রাষ্ট্র—আমাদের সরকার অনুপস্থিত হয়ে পড়ছে। অন্তত জনগণ সরকারের অস্তিত্ব অনুভব করতে পারছে না। যেদিকে তাকায়, সেদিকেই তারা দেখে দয়াময় এনজিও। শুধু ঋণ বিতরণের এনজিও নয়, বুদ্ধি বিতরণের এনজিও আজ অগণিত। বৈদেশিক টাকায় গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য কনসালটেন্সি ফার্ম, থিংক ট্যাংক ও নানা নামে নানা রকম প্রতিষ্ঠান। শিক্ষাবিদ, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক-বেসামরিক আমলা, কূটনীতিক, সাংবাদিকেরা এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা বাংলাদেশকে বিশ্ব পুঁজিবাদী-ব্যবস্থার সঙ্গে কাঁটায় কাঁটায় মিলিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর ও অঙ্গীকারবদ্ধ। তাঁদের প্রধান সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষক রাজনীতিকেরা।
কিছুকাল ধরে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোয় প্রবল টক শোর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। দেশে স্বাধীন ও সৃষ্টিশীল চিন্তার বিস্তার ঘটলে টক শোর নামে এসব আবোল-তাবোল প্রলাপের আসর বসার সুযোগ থাকত না। টক শোগুলোয় কোনো চিন্তামূলক বা সৃষ্টিশীল বিতর্ক হয় না। সারা দিন কনসালটেন্সি আর সূর্যটি ডুবলেই অসহনীয় যানজটের মধ্যেও কারা ছুটছেন উত্তাল গতিতে এই চ্যানেল থেকে সেই চ্যানেলে? যে আমলা সারা জীবন জনগণের জন্য এক ছটাক কাজ করেননি, তিনি মালকোঁচা মেরে টক শোতে যাচ্ছেন যেন সরকার অথবা কোনো বিদেশি সেনাবাহিনীর সঙ্গে কুস্তি লড়বেন। মধ্যরাতে গর্জে উঠছে টেলিভিশনের পর্দা। দর্শকের চোখ কপালে। লোকটির সাহস কী রে বাবা! এ নৈরাজ্যের শেষ কবে?
গণতন্ত্রে নাগরিক সমাজের নেতাদের কথার মূল্য খুব বেশি। সব দেশেই বুদ্ধিমান শাসকেরা তাঁদের কথার মূল্য দেন। ক্ষমতা থেকে দূরে থেকেও তাঁরা ক্ষমতাসীনদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু আমাদের দেশের অবস্থা আলাদা। আমাদের নাগরিক সমাজের নেতারা রাজনৈতিক ক্ষমতার স্বাদ পেতে চান। কিন্তু ব্যয়বহুল নির্বাচন করার মতো অত টাকা তাঁদের নেই। তাই রাজনীতির সদর দরজাটা তাঁদের জন্য বন্ধ। তাঁরা খিড়কির দরজার খোঁজে থাকেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি ভালো খিড়কির দরজা। সেই দরজার কাছে যাওয়ার আগে সরকার ও জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য টক শো, গোলটেবিল, সেমিনার, ওয়ার্কশপে অংশ নেওয়া অপরিহার্য। সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এসব উপসর্গ অনুকূল নয়।
শক্ত স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। আইয়ুব খান ছিলেন সামরিক একনায়ক। দেশের কোথাও তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তি ছিল না। ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রয়োজনে তিনি একটি পোষা স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি বাহিনী তৈরি করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, স্বাধীনতার পরে রাজনৈতিক সরকারও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের শাসক দলের লেজুড়বৃত্তিতে বাধ্য করে। সেখানেই গণতন্ত্রের অর্ধেক শেষ হয়ে গেল। শীর্ষ পর্যায়ে রাজনীতিক ও আমলাদের মিতালি ছিল; টেস্ট রিলিফের গম প্রভৃতির কারণে তৃণমূল পর্যায়েও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও দলীয় মাস্তানদের এক ক্রীড়াচক্র গড়ে ওঠে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন ও পেশাজীবী সংগঠনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটা গণতন্ত্রের অংশ। স্বাধীনতার পরে শিল্পশ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষের ইউনিয়নের নেতাদের শাসক দলের চামচা বানানো হয়। ট্রেড ইউনিয়ন এখন সম্পূর্ণ ধ্বংস। অথচ ৩৯ বছরে শ্রমিকনেতাদের অনেকের অবস্থা একজন মাঝারি শিল্পপতির চেয়ে ভালো। সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে চাঁদাবাজি তো আছেই, তার ওপর মালিক ও সরকার পক্ষের এনাম ও সুবিধাদি তাঁরা যা পাচ্ছেন, তার পরিমাণ আমাদের ধারণার বাইরে। স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন ছাড়া গণতন্ত্র অচল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সরকার ট্রেড ইউনিয়ন ও পেশাজীবী সংগঠনকে সহ্য করতে পারে না।
বাহাত্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অনন্য সুযোগটি হাতছাড়া করেছিল রাজনৈতিক সরকার। বিরোধী দলকে মাথা তুলতে দেয়নি। মূল্য তাকেই দিতে হয়েছে। ১৯৭৫ থেকে ’৯৫ পর্যন্ত ১৫ বছর ছিল সামরিক ও আধাসামরিক সরকার এবং পাঁচ বছর ছিল খালেদা জিয়ার নির্বাচিত মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক সরকার। তাকে গণতান্ত্রিক সরকার বলা যাবে না। মোশতাক সরকার, জিয়া সরকার, সাত্তার সরকার, এরশাদ সরকার ও খালেদা সরকারের মধ্যে নীতিগত পার্থক্য বিশেষ ছিল না। তাঁরা সবাই ছিলেন সাম্প্রদায়িক ও পাকিস্তানি ভাবাদর্শের অনুসারী। এর মধ্যে উত্থান ঘটে জামায়াত প্রভৃতি মৌলবাদী শক্তির। তারা সরকারের পূর্ণ পৃষ্ঠপোষকতা ও আনুকূল্য পায়। দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির সঙ্গে মৌলবাদী রাজনীতি যোগ হয়ে যা দাঁড়ায় তা হলো, দেশে রাজনীতিটাই থাকল, কিন্তু গণতন্ত্রটা গেল নষ্ট হয়ে। অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগ ’৯৬ সালে ক্ষমতা পেল, কিন্তু তাঁরা মৌলবাদীদের সঙ্গে সহাবস্থানের নীতিই গ্রহণ করেন। তা ছাড়া বিরোধী দলকে তাঁরা সহ্যই করতে পারতেন না। সুতরাং নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার পেলাম, গণতান্ত্রিক সরকার পাওয়া গেল না।
অত্যাচার ও শোষণ করে বলেই আমরা পাকিস্তানিদের তাড়িয়ে ছিলাম। অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি ছিল আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু স্বাধীনতার পরে আমাদের রাজনৈতিক সরকার স্বাধীনতার আগের প্রতিষ্ঠিত শিল্পকারখানাও ধ্বংস করতে থাকে। নতুন প্রতিষ্ঠার তো প্রশ্নই নেই। চোরাচালান বাড়ে এবং পাট ও বস্ত্রশিল্প ধ্বংস হতে থাকে। বাঙালি শ্রমিকদের মতো দুর্দশাগ্রস্ত শ্রমিক পৃথিবীর আর কোনো দেশে আছে বলে আমার জানা নেই। আশির দশক থেকে নতুন খাত পোশাকশিল্প দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু গত দুই নির্বাচনের ফলাফল দেখে মনে হচ্ছে, মালিকেরা শিল্পপতি হয়েছেন জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য নয়, রাজনীতিতে অংশ নিতে। সংসদের ৩০০ আসনের প্রায় ২০০ সদস্য শিল্পপতি-ব্যবসায়ী। অর্থাৎ অর্থনীতির জন্য রাজনীতি, গণতন্ত্রের জন্য রাজনীতি নয়। কৃষকের দুর্দশা সম্পর্কে কিছু না বলাই ভালো।
রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জনগণ চেয়েছিল গণতান্ত্রিক সরকার। তাঁরা আমাদের উপহার দিয়েছেন রাজনৈতিক সরকার। টেকসই গণতন্ত্রের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হয়। আমাদের রাজনৈতিক সরকার সব প্রতিষ্ঠানকে চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলেছে গত দুই দশকে। শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতাসীন দলের ছাতার ছায়ায় তৈরি করছে দক্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ বাহিনী। ভালো ছাত্ররা আজ অসহায়। তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তাতে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎও অন্ধকার। আমাদের অপরাধপ্রবণ সমাজে রাজনৈতিক সরকারের কারণে পুরোনো অপরাধের সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন অপরাধ: টেন্ডারবাজি, ভর্তি-বাণিজ্য, হল দখল ও আরও নানা রকমের বাজি ও বাণিজ্য।
গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় বিরোধী দলকে স্বাগত জানায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সরকার বিরোধী দলকে নির্মূল করতে চায়। গণতন্ত্রে বিরোধী দলকে নির্মূল করা মানে গণতন্ত্রের একটি ঠ্যাং কেটে ফেলা। এক পা নিয়ে সরকার কিছুদূর যেতে পারবে, কিন্তু একপর্যায়ে মুখ থুবড়ে পড়বে।
গণতন্ত্র কোনো নিয়ন্ত্রণের বস্তু নয়। গণতন্ত্রকে বনগরুর মতো স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে বা চলতে দেওয়া ভালো। তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে আথালে বা গোয়ালে আটকে রাখলে সে যেমন আরাম পায় না, গেরস্তেরও গুঁতা খাওয়ার আশঙ্কা থাকে। পঞ্চাশের দশক থেকে বহু রাষ্ট্রনায়ক গণতন্ত্রের গলায় দড়ি দিয়ে বাঁধতে গিয়ে তার গুঁতা খেয়ে জীবন পর্যন্ত দিয়েছেন। আমরা শুধু নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার চাই না, গণতান্ত্রিক সরকার চাই। বাহাত্তরের মতো ২০০৯-এ একটি সুযোগ এসেছে। এবারের সুযোগ হারালে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক

দায়িত্বহীন জাহাজভাঙা শিল্প -ক্রমাগত আইন অমান্য ছাড় পাচ্ছে কিসের বলে

জাহাজভাঙা শিল্পের মালিকদের ক্রমাগত আইন লঙ্ঘন করে যাওয়ার প্রবণতাটি বিস্ময়কর। ১২০টি শিপইয়ার্ডের একটিরও পরিবেশ ছাড়পত্র নেই, নেই শ্রমিকদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থা। অথচ উচ্চ আদালত ২০০৯ সালে এ দুটি বিষয়কেই বাধ্যতামূলক করেছিলেন। নির্দেশ দুটি পালিত না হওয়ায় ক্রমাগত চট্টগ্রাম ও সীতাকুণ্ডের সমুদ্রতীরের পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, শ্রমিকেরা একের পর এক প্রাণ হারাচ্ছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, তাঁরাই বা এটা কীভাবে পারছেন আর সরকারই বা কেন এত বড় আইন লঙ্ঘনকে ছাড় দিয়ে চলছে?
বিশ্বের অনেক দেশেই পরিবেশের স্বার্থে জাহাজভাঙা শিল্প নিষিদ্ধ। ইউরোপ-আমেরিকাসহ সেসব দেশের বাতিল জাহাজের গন্তব্য হয় বাংলাদেশের মতো কয়েকটি দেশ। এটাই তাদের বাতিল ও বিষাক্ত জাহাজের কবল থেকে রেহাই পাওয়ার লাভজনক পথ। এসব জাহাজ কেবল বিপুল বর্জ্য নিয়েই আসে না, সঙ্গে নিয়ে আসে বিষাক্ত রাসায়নিক। জাহাজ কেটে লোহা বের করার প্রক্রিয়ায় এসব বর্জ্য ও রাসায়নিক সাগর, মাটি ও বায়ুকে ভয়ানকভাবে দূষিত করে। অন্যদিকে, জাহাজ কাটতে গিয়ে বিস্ফোরক ও গ্যাসের শিকার হয়ে শ্রমিকদের মৃত্যু হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ কেন উন্নত বিশ্বের বাতিল জাহাজ ও বর্জ্যের ভাগাড় হবে? কেন এ শিল্পের মালিকদের মুনাফার খেসারত দেবে বাংলাদেশের পরিবেশ ও মানুষ? জাহাজগুলোকে বর্জ্যমুক্ত করা এবং পরিবেশের ক্ষতির কিছুটা দায় তাই বাতিল জাহাজের বিদেশি বিক্রেতাদেরও নিতে হবে।
এ কথাও ঠিক যে এই শিল্পের মাধ্যমেই বাংলাদেশের লোহা ও ইস্পাতের চাহিদা মিটে থাকে। সে কারণে শিল্পটি বন্ধ করে দেওয়ার বদলে একে যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণ করাই যুক্তিযুক্ত। এ কারণেই উচ্চ আদালতের নির্দেশ, এ কারণেই পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার বিধান। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ২০১০ আইনের পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সঙ্গে বাতিল জাহাজ আমদানি করার সময় রপ্তানিকারক দেশ থেকেই সেসবের বর্জ্য পরিশোধনের নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু নির্দেশ পালন তো দূরের কথা, নতুন করে অনুমোদন ছাড়াই আরও ৫২টি ইয়ার্ড চালু হয়। চরম আইন লঙ্ঘনের কাহিনিতে সরকার তথা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কি কেবল যাত্রাপালার বিবেকের মতো নীতিকথা আউড়ে যাওয়া? শিল্পমালিকদের অন্যায়টি স্পষ্ট, সরকারের দায়ও কিন্তু কম নয়।
পরিবেশ ও মানুষের কম ক্ষতি করেও এই শিল্প লাভজনকভাবেই চলতে পারে। আইনের প্রয়োগ ও পরিবেশসম্মত নীতিমালার কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তা করা সম্ভব। শিল্পোদ্যোক্তাদের বুঝতে হবে, মানুষ ও পরিবেশের সঙ্গে খোলাখুলি শত্রুতা করে বেশিদিন তাঁরা এ শিল্প চালাতে পারবেন না। বরং নিয়মনীতি মানার মাধ্যমেই তাঁরা দীর্ঘ মেয়াদে লাভবান হবেন।

কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধে চারজন নিহত

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধে এক ভারতীয় সেনা ও সন্দেহভাজন তিন জঙ্গি নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার পুলিশ এ কথা জানায়।
পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, গত শনিবার কাশ্মীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা রাজৌরিতে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে ওই তিনজন বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। গতকাল সোমবার ভোরে ওই বন্দুকযুদ্ধ শেষ হয়। এতে এক ভারতীয় সেনা ও সন্দেহভাজন তিন জঙ্গি নিহত হয়। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর একজন মেজরসহ তিনজন আহত হয়।
নিহত জঙ্গিরা পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত রোববার কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহকে জুতা ছুড়ে মারার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আবদুল আহাদ জানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তই কাম্য

ভোলা-৩ আসনের সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরীর লাইসেন্স করা পিস্তলের গুলিতে আওয়ামী লীগের কর্মী ইব্রাহিম আহমেদের মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাতে সংসদ ভবন চত্বরে সাংসদের গাড়িতে থাকা পিস্তল নাড়াচাড়া করার সময়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে গাড়ির চালক কামাল হোসেন থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। অন্যদিকে নিহত ইব্রাহিম আহমেদের স্ত্রীর অভিযোগ, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও তিনি কারও নাম বলেননি। মহানগর পুলিশ কমিশনার একে দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেছেন, ঘটনার ধারাবাহিকতায় তদন্ত এগিয়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনা বা হত্যা—কোনোটিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না।
ঘটনাটি অনেকগুলো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বলা হয়েছে, ঘটনার সময় সাংসদ গাড়িতে ছিলেন না। আইন অনুযায়ী লাইসেন্স করা পিস্তল সব সময় তাঁর কাছেই থাকার কথা। তিনি পিস্তলটি গাড়িতে ফেলে গেলেন কেন? আর গাড়িতে পড়ে থাকা পিস্তল নিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীই বা নাড়াচাড়া করবেন কেন? তিনি কি পিস্তল চালাতে পারতেন? ঘটনাস্থলে অন্য কেউ কি ছিলেন না? নিহত ইব্রাহিমের ভাইয়ের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের কারণেও তিনি খুন হয়ে থাকতে পারেন। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইব্রাহিম সম্ভাব্য কমিশনার পদপ্রার্থী ছিলেন। সে ক্ষেত্রে কারা তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন? নিছক দুর্ঘটনা হলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাঁর মরদেহ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যাবে কেন?
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে বৈকি। থানায় গাড়িচালকের মামলা দায়ের নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মামলাটি হওয়ার কথা নিহত ইব্রাহিমের আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে। তাঁর স্ত্রী অভিযোগ দায়ের করতে গেলে আগেই মামলা হয়েছে, এই অজুহাতে তা গ্রহণ করেনি পুলিশ। এ ক্ষেত্রে তাদের যুক্তিও গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার ন্যায়বিচার পাওয়া না-পাওয়া নির্ভর করে সুষ্ঠু তদন্তের ওপর। ঘটনার যিনি শিকার হয়েছেন, তিনি ক্ষমতাসীন দলের একজন সক্রিয় কর্মী এবং সাংসদের ঘনিষ্ঠ। তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকা অস্বাভাবিক নয়। বিষয়টিকে মোটেও হালকা করে দেখা ঠিক হবে না। পুলিশ বলেছে, তদন্ত এগিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত আদৌ চলছে কি না, কিংবা কীভাবে তদন্ত এগোচ্ছে, তা জানার অধিকার নিহত ইব্রাহিমের স্বজন তথা দেশবাসীর আছে। কারা তাঁর মরদেহ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে গেল, তাও খুঁজে বের করতে হবে।
ইব্রাহিমের মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত হতে হবে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাব যাতে তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে। অতীতে অনেক ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেছে। অযথা হয়রানির শিকার হয়েছেন নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষ। এ ক্ষেত্রে তার পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়।

ইন্দোনেশিয়ায় ধর্মীয় সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইয়োধইয়োনো দেশবাসীকে ধর্মীয় সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার দেশটির স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। দেশটিতে খ্রিস্টান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর কট্টর মুসলমানদের আক্রমণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রেসিডেন্ট ইয়োধইয়োনো বলেন, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে সত্যিকারের সহাবস্থানের চর্চা করতে হবে। একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়তে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে একে অন্যের ধর্মচর্চার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।
সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি এলাকায় খ্রিস্টান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুর ওপর কট্টরপন্থী মুসলমানেরা আক্রমণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে।

নামিবিয়ায় দ. আফ্রিকার দেশগুলোর বার্ষিক সম্মেলন শুরু

নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোয়েকে গতকাল সোমবার আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোর সংগঠন সাউদার্ন আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটির (এসএডিসি) দুদিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। ১৫টি সদস্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা এতে যোগ দিয়েছেন। ওই অঞ্চলে সংগঠনটি একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে যখন কঠোর সমালোচনা চলছে, তখন এই সম্মেলন শুরু হলো।
সম্মেলনে জিম্বাবুইয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন। দেশটির রাজনীতিতে এসএডিসির মধ্যস্থতার ব্যাপারে মূল ভূমিকা রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার। সে দেশে প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে ও প্রধানমন্ত্রী মরগান চেঙ্গারাইয়ের ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নেওয়া সরকারের অগ্রগতির ব্যাপারে তিনি ব্রিফ করবেন।

জাতিগত সহিংসতায় কিরগিজদের সহায়তা করেছে সেনারা

কিরগিজস্তানে জাতিগত সহিংসতার সময় সেনাবাহিনীর একটি অংশ আদিবাসী কিরগিজদের সহযোগিতা করেছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গতকাল সোমবার তাদের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সহিংসতায় উজবেকদের ওপর হামলার সময় কিরগিজদের সহযোগিতা করেছে সেনাবাহিনীর একাংশ। সংস্থাটি নিরাপত্তা বাহিনীর এই বিতর্কিত ভূমিকার তদন্ত দাবি করেছে।
কিরগিজস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে গত জুনে জাতিগত ওই সহিংসতায় অন্তত ৩৭১ জন নিহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে হিমশিম খেতে হয়েছে। এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে।
নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, সহিংসতার সময় দাঙ্গাকারীরা ছদ্মবেশে সেনাবাহিনীর গাড়িতে চড়ে অস্থায়ী ব্যারিকেড অপসারণ করেছে। দাঙ্গাকারীরা যাতে এলাকায় ঢুকতে না পারে, সে জন্য রাস্তায় রাস্তায় এসব ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এগুলো অপসারণ করার পর দাঙ্গাকারীরা সহজেই এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং নৃশংস কর্মকাণ্ড চালায়।
৯১ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, ইচ্ছাকৃত হোক অথবা অনিচ্ছাকৃত হোক, সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী দাঙ্গাকারীদের হামলা চালাতে সুযোগ করে দিয়েছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাংবাদিকদের জন্য পেনশন ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গের সরকার এবার সরকারি তালিকাভুক্ত (অ্যাক্রিডিটেড) সাংবাদিকদের জন্য পেনশন ঘোষণা করেছেন। ৬০ বছর অতিক্রান্ত অবসরে যাওয়া সাংবাদিকেরা প্রতি মাসে দুই হাজার রুপি করে এই পেনশন পাবেন।
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অসীম দাসগুপ্ত গত রোববার ভারতের স্বাধীনতা দিবসে কলকাতা প্রেসক্লাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা ঘোষণা করেন।
অসীম দাসগুপ্ত বলেন, পরবর্তী সময়ে পেনশনের অর্থ বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার একটি প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গের সরকার গত ২৭ জুলাই থেকে রাজ্যের সর্বত্র সরকারি বাস, ট্রাম ও ফেরিতে সাংবাদিকদের বিনা ভাড়ায় চলার সুযোগ দিয়েছে। যেসব সাংবাদিকের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড আছে, তাঁরাই পাবেন এই পেনশন এবং বিনা ভাড়ায় বাস-ট্রাম ও ফেরিতে চলার সুযোগ।
এর আগে রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা ভারতের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী সাংবাদিকদের অর্ধেক ভাড়ায় ট্রেনে চলার সুযোগ দিয়েছেন।

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সরাসরি আলোচনার বিষয়ে অগ্রগতি

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সরাসরি আলোচনা আবার শুরু করার প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর গত রোববার ফিলিস্তিনি মুখপাত্র এ কথা জানান।
পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরে মার্কিন সহকারী দূত ডেভিড হেইলের সঙ্গে বৈঠকের পর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনা বলেন, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার ব্যাপারে অগ্রগতি হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়ার সমন্বয়ে গঠিত কূটনৈতিক গ্রুপের কথা উল্লেখ করে আবু রুদেইনা বলেন, ‘এ ব্যাপারে বিবৃতি দিয়ে ফিলিস্তিন সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।’
আবু রুদেইনা বলেন, দুই পক্ষই একটি খসড়া বিবৃতির বিষয়ে আলোচনা করেছে। বিবৃতিতে সরাসরি আলোচনা আবার শুরু করতে উভয় পক্ষকে আমন্ত্রণ জানাবে।
ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাশা এ বিবৃতিটি মস্কোতে গত মার্চ মাসে প্রদত্ত ঘোষণার অনুরূপ হবে। মস্কোর বিবৃতিতে দুই বছরের একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার লক্ষ্যে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন বন্ধের এবং দুই পক্ষকে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা আবার শুরু করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক মাসের চাপের বিরোধিতা করে ফিলিস্তিনিরা যুক্তি দেখাচ্ছিল যে তাঁর (নেতানিয়াহু) ডানপন্থী সরকার পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড থেকে সরে যাওয়ার ব্যাপারে আন্তরিক নয়।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে মাত্র ছয় দিনের যুদ্ধে তারা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডটি দখল করে নেয়। এর আগে ফিলিস্তিনের এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে চাইলেও ফিলিস্তিন রমজান মাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তা আরও জানান, সরাসরি আলোচনা ওয়াশিংটন বা মিসরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের তৃতীয় পরমাণু প্রকল্পের কাজ শুরু আগামী বছর

ইরান আগামী বছরের প্রথম দিকেই তাদের তৃতীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রকল্প নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। দেশটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা গত রোববার এ কথা জানিয়েছেন।
ইরানের পরমাণু গবেষণাবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা আলী আকবর সালেহি জানান, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ১০টি প্রকল্পের জন্য স্থান নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে একটি প্রকল্পের কাজ আগামী বছরের প্রথম দিকে চালু হবে।’ ইরানের ১২ জন ভাইস প্রেসিডেন্টের মধ্যে একজন সালেহি।
ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পটি মধ্যাঞ্চলীয় শহর নাতাঞ্জে অবস্থিত। এ ছাড়া রাজধানী তেহরান থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ফোরডো পাহাড়ের মধ্যে দ্বিতীয় প্রকল্পটি নির্মাণের কাজ চলছে।
সালেহি এর আগে জানিয়েছিলেন, নতুন কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা তৈরি করা হলে সেটি এমন জায়গায় স্থাপন করা হবে, যেখানে বিমান হামলা চালানো যেতে না পারে। তবে তৃতীয় প্রকল্পটি কোথায় স্থাপন করা হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি তিনি।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প বন্ধ করতে প্রয়োজনে বিমান হামলার বিষয়টি কখনো নাকচ করে দেয়নি তাদের অন্যতম শত্রু দেশ যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল।
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ, ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে। তাদের পরমাণু প্রকল্প বন্ধ করতে বাধ্য করার জন্য গত জুনে ইরানের ওপর চতুর্থবারের মতো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জাতিসংঘ।

থাইল্যান্ডে আরও তিনটি প্রদেশ থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার

থাই সরকার গতকাল সোমবার জানিয়েছে, দেশটির আরও তিনটি প্রদেশ থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তবে রাজধানী ব্যাংককে জরুরি অবস্থা বহাল থাকবে। রাজধানীতে বিরোধী দলের ব্যাপক বিক্ষোভ অবসানের প্রায় তিন মাস পর এসব প্রদেশ থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হলো।
সরকারের মুখপাত্র পনিতান ওয়াত্তানায়াগোর্ন জানান, প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়া থাইল্যান্ডের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চিয়াংমাই, চিয়াং রাই ও উবন রতচাথানি প্রদেশ থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডের ৭৬টি প্রদেশের সাতটিতেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। এ আইনের আওতায় পাঁচজনের অধিক লোক একত্র হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও দ. কোরিয়ার ফের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু

উত্তর কোরিয়ার পাল্টা হুমকি সত্ত্বেও দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র গতকাল সোমবার নতুন করে আবারও সামরিক মহড়া শুরু করেছে। সিউলের দক্ষিণে সিওংয়ে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বাইরে উলচি ফ্রিডম গার্ডিয়ান (ইউএফজি) নামের এ মহড়ায় দুই দেশের সেনারা অংশ নিয়েছে।
১১ দিনব্যাপী এ সামরিক মহড়া হচ্ছে গত মার্চ মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজডুবির প্রেক্ষাপটে সিউলের ধারাবাহিক সামরিক মহড়ার অংশ। এদিকে গত রোববার উত্তর কোরিয়া হুঁশিয়ার করে বলেছে, তাদের সেনা ও জনগণ যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে এ মহড়ার কঠোর ও পাল্টা জবাব দেবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০ হাজার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ৫৬ হাজার সেনা অংশ নিয়েছে। গত মার্চ মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার এক হাজার ২০০ টনের একটি যুদ্ধজাহাজডুবিতে ৪৬ জন নাবিক মারা যায়। এ ঘটনার পর কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এ ঘটনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক তদন্ত দল এক প্রতিবেদনে জানায়, উত্তর কোরিয়ার টর্পেডোর আঘাতে দক্ষিণ কোরিয়ার এ যুদ্ধজাহাজডুবির ঘটনা ঘটে। এদিকে উত্তর কোরিয়া বরাবরই জাহাজডুবির ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করে আসছে।

পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ান

ইসরায়েলের পরমাণু কর্মসূচি আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের আওতায় আনার জন্য ওয়াশিংটন ও অন্যান্য পরমাণু অস্ত্রধর দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আরব দেশগুলো। আরব লিগের এক চিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়। গত রোববার কূটনীতিকেরা এ কথা জানান। আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সম্মেলনের আগে এই চিঠি দিল আরব দেশগুলো।
এক মাস আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আরব দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইসরায়েলকে কোণঠাসা করতে তারা যেন ১৫০ সদস্যের এই সংস্থাকে ব্যবহার না করে। আসন্ন আইএইএ সম্মেলনে ইসরায়েলকে কোণঠাসা হওয়ার হাত থেকে ঠেকাতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বারাক ওবামা।
৮ আগস্ট আরব লিগের মহাসচিব আমর মুসা স্বাক্ষরিত চিঠিটি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের কাছে পাঠানো হয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অন্য চার স্থায়ী সদস্য রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাছেও চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়।
চিঠিতে ইসরায়েলকে পরমাণু অস্ত্রবিস্তার রোধ চুক্তিতে (এনপিটি) সই করানোর জন্য চাপ প্রয়োগে সমর্থন চাওয়া হয়েছে। এনপিটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, ‘ইসরায়েল ছাড়া এই অঞ্চলের সব দেশ এনপিটিতে স্বাক্ষর করেছে।’ এটা মোটামুটি নিশ্চিত যে ইসরায়েলের কাছে পরমাণু বোমা রয়েছে। কিন্তু দেশটি এ ব্যাপারে কোনো ধরনের আলোচনায় বসতে রাজি নয়।
বারাক ওবামা অবশ্য এ ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এ ধরনের কোণঠাসা করার উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

এবার প্রেমিক জুটিকে পাথর ছুড়ে হত্যা করল তালেবান

আফগানিস্তানের কুন্দুজ প্রদেশের মুল্লা কুলি গ্রামে পাথর ছুড়ে এক প্রেমিক জুটিকে হত্যা করেছে তালেবান জঙ্গিরা। তালেবানের ভাষ্যমতে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থাকার দায়ে তাঁদের এ শাস্তি দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও সরকারি সূত্র গতকাল সোমবার এ তথ্য দিয়েছে।
কুন্দুজ প্রদেশের ইমাম সাহিব জেলার গভর্নর মোহাম্মদ আইয়ুব জানিয়েছেন, তালেবান-নিয়ন্ত্রিত মুল্লা কুলি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর বয়স ২৩ এবং পুরুষ লোকটির বয়স ২৮ বছর।
আবদুস সাত্তার নামের ওই গ্রামের এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, রোববার বিকেলে শতাধিক তালেবান জঙ্গি ওই জুটিকে একটি খোলা ময়দানে দাঁড় করায়।
একপর্যায়ে তাঁদের পাথর ছুড়ে হত্যার সমন পাঠ করে শোনানো হয়। তাঁদের পিঠমোড়া করে বেঁধে পাথর ছুড়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, এক তালেবান মুখপাত্র জানান, পুরুষ লোকটি বিবাহিত। নিজের স্ত্রী রেখে তিনি ওই নারীটির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এ বিষয়টি তিনি ও ওই নারী স্বীকার করেছেন। তাই শরিয়া আইন অনুযায়ী তাঁদের পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়।
এর আগে, এ মাসের গোড়ার দিকে, বাদিস প্রদেশে এক বিধবা অন্তঃসত্ত্বা নারীকে প্রকাশ্যে দোররা মেরে হত্যা করে তালেবান জঙ্গিরা।

ভারতে ৩০০ টন বিস্ফোরকবোঝাই ট্রাক উধাও



ভারতে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে ৩১টি ট্রাকে বোঝাই ৩০০ টন বিস্ফোরক। রাজস্থানের ঢোলপুরের সরকারি কারখানা ‘রাজস্থান এক্সপ্লোসিভ কেমিক্যালস লিমিটেড’ (আর ই সি এল) থেকে এই বিস্ফোরকবোঝাই ট্রাকগুলো মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার একটি বেসরকারি সংস্থা ‘গণেশ এক্সপ্লোসিভ’ কোম্পানিতে পাঠানো হয়েছিল।
কিন্তু পরে আর খোঁজ মেলেনি ওই বিস্ফোরকবোঝাই ট্রাকগুলোর।
আরইসিএলের মহাব্যবস্থাপক ওয়াই সি উপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেছেন, শুধু লাইসেন্স রয়েছে এমন সংস্থাকেই তারা এই বিস্ফোরক সরবরাহ করে। তাই সেই লক্ষ্যেই ওই কোম্পানির বৈধ ট্রাকেই পাঠানো হয়েছিল বিস্ফোরক। এরপর কারখানা ওইগুলো দিয়ে কী করে, তা আমাদের জানার কথা নয়।
জানা যায়, ওই কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেছে গত মার্চ মাসে। ওই একই সময় কারখানার লাইসেন্সের মেয়াদও শেষ হয়ে যায়।

অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন তাঁরা

তাঁরা সম্ভবত কখনো কল্পনাও করেননি নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে এভাবে ফিরে আসতে পারবেন। কিন্তু ভাগ্যের জোরে তাঁরা বেঁচে গেছেন। তাঁরা হলেন রাজ কুমার নায়ক, তাঁর স্ত্রী প্রতিভা এবং তাঁদের তিন বছরের মেয়ে রিজুল।
রাজ কুমার ইন্দো তিব্বাতিয়ান বর্ডার পুলিশের (আইটিবিপি) ২৪ ব্যাটালিয়নের একজন প্রকৌশলী। মাত্র এক মাস আগে তাঁকে বদলি করা হয়েছে ভারতের কাশ্মীর রাজ্যের লেহ অঞ্চলে।
৫ আগস্ট রাতে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় আকস্মিকভাবে তলিয়ে যায় লেহ অঞ্চল। মারা যায় অনেক মানুষ। আকস্মিক ওই বন্যা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে এসেছেন রাজ কুমার আর তাঁর স্ত্রী-কন্যা। তবে স্বামী-স্ত্রী দুজনই আহত হয়েছেন।
ভয়াবহ সেই রাতের বর্ণনা দিচ্ছিলেন রাজ কুমার। তিনি বলেন, ‘প্রায় মধ্যরাত, আরেকটা সকালের জন্য আমরা অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ দেখলাম ব্যাটালিয়নে আমার বাসার ছাদ দিয়ে পানি পড়ছে। এরপর প্রতিভা রান্নাঘরের দিকে গিয়েই দেখতে পেল, একটা গাড়ি আমাদের বাসার দিকে ছুটে আসছে। প্রথমে ও মনে করেছিল সম্ভবত এটা কোনো মাতাল চালকের কাজ। কিন্তু একটু পরই বুঝতে পারল ঘটনা আসলে তা নয়, গাড়িটা ভেসে আসছে পানির তোড়ে।’
এর পরের কাহিনি প্রতিভাই বললেন। তিনি জানান, তাঁরা তিনজনই দ্রুত ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। প্রতিভা বলেন, ‘আমার স্বামী এক হাতে রিজুলকে অন্য হাতে আমাকে ধরলেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই স্বামীর হাত থেকে আমি ছুটে গেলাম। এরপর আমি ভেসে চললাম পানির স্রোতের মুখে।’ প্রতিভা ওই রাতে বেঁচে গিয়েছেন, ধসেপড়া মাটির ওপর কোনো রকমে নাকটা বের করে রেখে। পরদিন সকাল ছয়টার দিকে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রামবাসী। এরপর তাঁকে নিয়ে আসা হয় আইটিবিপির মেডিকেল ক্যাম্পে। সেখানে তিনি খুঁজে পান স্বামী-সন্তানকে।
সবচেয়ে অলৌকিক রিজুলের বেঁচে যাওয়ার ঘটনা। রাজ কুমার প্রিয় সন্তানকে শক্ত হাতে ধরে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু বেশিক্ষণ আঁকড়ে রাখতে পারেননি। একপর্যায়ে তাঁর হাত থেকে ছুটে যায় রিজুল। এরপর পানির স্রোতের মুখে সে গিয়ে ঢোকে আইটিবিপির অফিসার্স মেসের কক্ষের সোফার নিচে।
রাজ কুমার বলেন, ‘পরদিন সকালে সোফার নিচ থেকেই রিজুলকে উদ্ধার করেন আইটিবিপির কর্মকর্তারা। তখন তার চোখ বন্ধ। শরীরের তাপমাত্রা অসম্ভব রকম কম। কিন্তু সৌভাগ্যবশত সে বেঁচে যায়।’ রাজ কুমার নিজে আত্মরক্ষা করেছিলেন একটি রাতের বেশির ভাগ সময় একটি খুঁটি আঁকড়ে ধরে।