Wednesday, February 24, 2016
মার্কিন বিমানবাহী রণতরির প্রাধান্য ফুরিয়ে আসছে!
![]() |
| মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ l ছবি: এএফপি |
মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বের যেখানেই মোতায়েন করা হোক, রণতরিগুলো সাধারণত থাকে আশপাশের সমুদ্রসীমায়। শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াইয়ে ইস্পাতনির্মিত এসব অতিকায় দানবের জুড়ি মেলা ভার। চীন, ইরান ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো কখনোই মার্কিন বিমানবাহী রণতরিবহরের সমকক্ষ কিছু গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতে পারেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সমরশক্তির সবচেয়ে বড় এই উৎসকে রুখতে তারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ঢেলে নিজেদের বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করেছে। এর মাধ্যমে গড়ে ওঠা অত্যাধুনিক কিছু সমরাস্ত্র ও কৌশল মার্কিন বিমানবাহী রণতরিগুলোর নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলেছে বলে ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে মন্তব্য করা হয়েছে।
সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি (সিএনএএস) নামের প্রতিষ্ঠানটি গত সোমবার তাদের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ‘রেড অ্যালার্ট: দ্য গ্রোয়িং থ্রেট টু ইউএস এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ারস’ (চরম সতর্কতা: মার্কিন বিমানবাহী রণতরিগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকি) শীর্ষক এই প্রতিবেদনে মূলত দুটি বিষয়ের ওপরে আলোকপাত করা হয়েছে। এক. প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা; দুই. ‘অ্যান্টি-অ্যাকসেস/এরিয়া ডিনায়াল’ (এ২/এডি) নামের একটি পরিভাষা, যা প্রতিরক্ষাবিষয়ক মহলে এখন ক্রমবর্ধমানভাবে আলোচিত হচ্ছে। এ২/এডি-এর মূল কথা হচ্ছে, যুদ্ধক্ষেত্রের একটা নির্দিষ্ট এলাকায় শত্রুপক্ষকে ঢুকতে না দেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
প্রতিবেদনে দূরপাল্লার জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির বিষয়ে চীনের মনোযোগ দেওয়ার ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির সঙ্গে রয়েছে দেশটির ভূমিভিত্তিক ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। এসবের সমন্বয়ে চীন মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য একটি ‘ক্রমবর্ধমান হুমকি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চীন একা নয়, ইউরোপের বাল্টিক এলাকায় রাশিয়াও এ২/এডি কৌশল-ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। সেখানকার কালিনিনগ্রাদে রুশ নৌঘাঁটিতে স্পর্শকাতর আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক ও জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এ ছাড়া সিরিয়ার আশপাশেও রাশিয়া এ২/এডি কৌশল গড়ে তুলেছে বলে ন্যাটোর কমান্ডারদের দাবি।
অন্যান্য দেশ ড্রোন, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমানের মতো নিত্যনতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে এ২/এডি ব্যবস্থা গড়ে তোলায় মনোনিবেশ করেছে বলে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর জন্য দিনে দিনে ঝুঁকি বাড়ছে। সিএনএএসের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ করে মার্কিন বিমানবাহী রণতরিগুলো থেকে দূরের লক্ষ্যে আঘাত হানার সক্ষমতা কমানোর কারণে ঝুঁকি বেড়েছে। রণতরিগুলোতে বেশি বেশি বিমান অভিযান চালানোর ব্যবস্থা যুক্ত করা হলেও সেগুলো অধিকতর স্বল্পপাল্লার।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এবারও কি ব্যর্থ হতে চলেছে সিরিয়ার যুদ্ধবিরতি?
![]() |
| সিরিয়ার সেনাবাহিনী আয়োজিত একটি আধাসামরিক প্রশিক্ষণে কসরত দেখাচ্ছেন এক স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধা। রাজধানী দামেস্কের উত্তরে আল-কাতাইফা এলাকায় এ প্রশিক্ষণ হয় -এএফপি |
সিরিয়া সরকার ও বিদ্রোহীরা শর্তসাপেক্ষে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। তবে অনেকেই এ চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। খবর এএফপির।
খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দীর্ঘ সময় টেলিফোনে কথা বলে এই চুক্তিতে এসেছেন। তাঁদের কথোপকথনের পর দুই দেশের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে চুক্তির কথা জানানো হয়। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এই মতৈক্যকে ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আশার সংকেত’ বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওবামা-পুতিনের এই ‘টেলিফোন চুক্তি’ আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে।
গতকাল সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার সঙ্গে একাত্মতা প্রদর্শন করে সামরিক অভিযান স্থগিত করতে রাজি আছে। তবে আইএস এবং আল নুসরার মতো সন্ত্রাসীদের ওপর অভিযান চলবে। সিরিয়া বলেছে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় রাশিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
অন্যদিকে বিদ্রোহীরা বলেছে, বাশার সরকার অবরুদ্ধ এলাকায় মানবিক ত্রাণ সহায়তা পাঠানো ও বিদ্রোহী বন্দীদের মুক্তি দেওয়াসহ বেশ কিছু শর্ত মানতে রাজি হলেই কেবল তারা অস্ত্রবিরতিতে রাজি আছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জশ আর্নেস্ট বলেছেন, ওবামা ও পুতিনের এই যুদ্ধবিরতির উদ্যোগকে তাঁরা একটা ‘সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন। তাঁরা আশা করছেন, সিরিয়ার সরকারি ও বিদ্রোহী উভয় পক্ষই এর মাধ্যমে উপকৃত হবে। দামেস্ককে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর জন্য প্রেসিডেন্ট পুতিন ‘প্রয়োজনীয়’ সব চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রও আসাদবিরোধীদের চুক্তি মানানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবে।
কিন্তু বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই চুক্তি হালে পানি পাবে না। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক নোয়াহ্ বোসে টুইট বার্তায় লিখেছেন, এই যুদ্ধবিরতি জঙ্গিগোষ্ঠী আল-নুসরার ওপর হামলা অব্যাহত রাখাকে বৈধতা দিয়েছে। এই বিষয়টিই চুক্তিটিকে শেষ করে দেবে। এর ফলে রাশিয়া এবং আসাদ বাহিনী যেখানে সেখানে হামলা চালিয়ে তাকে আল-নুসরার ওপর হামলা বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাবে।
বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো ১২ ফেব্রুয়ারি এক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে একমত হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই সময়সীমা পার হয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় এখন শনিবার থেকে চুক্তি কার্যকর হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া ঠিক করে।
যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সিরিয়ার সংঘর্ষে যেসব পক্ষ যুদ্ধবিরতি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে এবং শর্ত মেনে নিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেই এ বিরতি প্রযোজ্য হবে।’ তবে আইএস, আল-নুসরা ফ্রন্ট এবং জাতিসংঘের চিহ্নিত অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠন এর আওতায় পড়বে না। তাদের ওপর সিরিয়া, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর বিমান হামলা চলবে।
জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল ইয়ান এলিয়াসন বলছেন, লড়াই বন্ধের প্রক্রিয়ায় যদি আল-নুসরা বা আইএসনিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো না পড়ে, তাহলে যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা চ্যালেঞ্জের বিষয় হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভিয়েতনামের ভুতুড়ে শহর
![]() |
| ব্যাং গ্রামের একটি সমাধি তৈরির কাজ চলছে। ছবি: এএফপি |
হিউ শহরে ভিয়েতনামের সাবেক সম্রাটদের সমাধি রয়েছে। রয়েছে স্থানীয় লোকজনের পূর্বপুরুষের সমাধি। এসব সমাধি অনেক অর্থ ঢেলে জাঁকালভাবে সাজানো হয়েছে। এখন তা ইউনেসকোর ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ এই ভুতুড়ে নগর। মূলত প্রাচুর্যময় এসব সমাধির জন্যই শহরটি ভুতুড়ে বলে নাম কুড়িয়েছে।
শহরটি ১৮০২ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনামের রাজধানী ছিল। এখানে দেশটির সাবেক শাসকদের দর্শনীয় সমাধি রয়েছে। হিউ শহরের পাশের একটি গ্রামের নাম ব্যাং। এই গ্রামের জেলেরা সমাধি তৈরির ক্ষেত্রে দেশটির ২১ শতকের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। লোকজন তাদের পরিবার ও স্বজনদের চিরনিদ্রার স্থানের জন্য ৭০ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় করে থাকে। অথচ ভিয়েতনামের মানুষদের মাথাপিছু বার্ষিক আয় দুই হাজার ডলার।
![]() |
| এ সমাধিক্ষেত্রটি ২৫০ হেক্টর এলাকাজুড়ে তৈরি করা হয়েছে। ছবি: এএফপি |
ওই গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত জেলে দ্যাং থিয়েন এএফপিকে গর্বভরে বলেন, ‘আমাদের সমাধিক্ষেত্রগুলো অদ্বিতীয়।’ তিনি সাংবাদিকদের তাঁর পরিবারের একটি বড় ৪০০ বর্গমিটার আকারের একটি সমাধি দেখিয়ে গর্বভরে ওই কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এভাবে সমাধি তৈরি করা হলে শিশুরা পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধা জানাতে পারে। সমাধিগুলোর ভালোভাবে যত্ন নেওয়া হলে পরিবারের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে। এটা চিরকাল থাকবে।’
অবারিত সৃজনশীলতা
১৯৯৪ সালে বিপুল অর্থ ঢেলে শত শত বছরের এসব সমাধি যখন সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়, ওই সময় থিয়েন পরিবারও স্বজনদের সমাধি দৃষ্টিনন্দন করে সাজাতে শুরু করে। এসব সমাধির ছয় মিটার উঁচু স্তম্ভ এমনিতেই বর্ণালি ড্রাগনের মূর্তি আর কারুকাজে আবৃত, এতে আবার যোগ হয়েছে বাড়তি সৌন্দর্য। কিছু সমাধিক্ষেত্রের আয়তন ২৫০ হেক্টরের মতো। পাশেই রয়েছে সাদা বালির সৈকত।
![]() |
| সমাধিতে এমন নান্দনিক স্তম্ভও তৈরি করা হয়। ছবি: এএফপি |
বৌদ্ধমন্দিরের নির্মাণশৈলীর অনুকরণে তৈরি এসব সমাধি স্তম্ভে রোমান সভ্যতার নান্দনিক ছোঁয়াও রয়েছে।
প্রথাগতভাবে ভিয়েতনামের মানুষের কাছে ড্রাগনের ভাস্কর্য বেশ জনপ্রিয়। কিছু সমাধি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুকরণে, কিছু খ্রিষ্টীয় অনুকরণে এবং কিছু ইসলামি অনুকরণে তৈরি। কিছু সমাধি গড়ে তোলার বিষয়টি আগাম, যেখানে কোনো মরদেহ নেই। ভবিষ্যতের জন্য এগুলো তৈরি করা হয়েছে।
অর্থ আসে বিদেশ থেকে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা হোয়াং খেং এএফপিকে বলেন, এই গ্রামের মানুষ যাঁরা বিদেশে থাকেন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী, তাঁদের পাঠানো অর্থে সমাধিগুলো সাজানো হয়। তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থেই এখানকার গ্রামবাসী সচ্ছল হচ্ছে। ওই অর্থ সমাধি ও গ্রামের মন্দির নির্মাণে বিনিয়োগ করা হয়।’
![]() |
| ভিয়েতনামের ব্যাং গ্রামের একটি সমাধি। ছবি: এএফপি |
বিদেশ থেকে স্বজনদের পাঠানো অর্থেই ব্যাং গ্রামের মানুষের মধ্যে সমাধি বানানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়। অনেকে সমাধি গড়তে গিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
পুলিশ কর্মকর্তা খেং বলেন, প্রতিবছরই লম্বা-চওড়া বড় সমাধি তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্য ও রীতিনীতি অনুযায়ী একটি বড়সড় সমাধি পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে ভালো ধারণা দেয়।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তিন মিয়া কোথায় নানা প্রশ্ন by শামীমুল হক ও নূরুল ইসলাম মনি
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু জাকারিয়া শুভ, ইসমাঈল, তাজেল ও মনিরদের বাড়ি থেকে দেখা যায় বাচ্চুদের বাড়ি। বাচ্চুর বাড়ি পেরিয়েই যেতে হয় তাদের বাড়িতে। সরজমিন সুন্দ্রাটিকি গ্রামে গেলে তালুকদার পঞ্চায়েতের প্রধান আবদুল খালেক তালুকদার বলেন, গত ৪ঠা জানুয়ারি রশিদপুর বাজারে আমার ভাতিজা কাজলের ওপর হামলা করে আবদুল আলী বাগালের লোকজন। বরই গাছের ডাল কাটার জের ধরেই এ হামলা হয়। পরে গ্রামবাসী এক হয়ে বলেন, বাজারে হামলা এটা মেনে নেয়া যায় না। এটা অন্যায়। এর প্রতিবাদ করতে হবে। পরদিন ৫ই জানুয়ারি গ্রামের লোকজন বাজারে গেলে আবদুল আলী বাগালের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে বাচ্চুর ভাই উস্তার মিয়া আহত হন। এরপর থেকে বাচ্চু মিয়ারা আমাদের ‘দেখে নেবে’ বলে হুমকি দিয়ে আসছিল। কিন্তু আমাদের এতবড় ক্ষতি করবে কখনো ভাবিনি। আবদুল আলী বাগালের সঙ্গে মিশে ওরা আমার বংশ নির্বংশ করতে শিশুদের হত্যা করেছে। ওদিকে হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু জাকারিয়া শুভর পিতা ওয়াহিদ মিয়া বলেন, প্রকাশ্যে বাচ্চুর সিএনজিতে করে ওদের চার জনকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনা গ্রামের আহাদ দেখেছে। এ কথা তাকে জিজ্ঞেস করার পর জানায়, এই শিশুদের নয়, অন্য শিশুদের সে এনেছিল। শুক্রবার অপহরণের পর থেকে সে বাড়িতেই ছিল। কোথাও তেমন একটা যেতে দেখা যায়নি। বুধবার লাশ উদ্ধারের পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এটা রহস্যজনক। গতকাল বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে গেলে দেখা যায় বউ-ঝিরা আতঙ্কিত। বাড়িতে প্রবেশ মুখে ভাঙা একটি ঘর। এ ঘরে কিছু বালি রাখা হয়েছে। এটাকেই গ্যারেজ হিসেবে বলা হচ্ছে। আসলে গ্যারেজ বলতে বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে কিছু নেই। পশ্চিম পাশে একটি একতলা ভবন। ওই ভবনে গেলেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন বাচ্চুর মা আয়েশা খাতুন। সত্তরোর্ধ্ব এ বৃদ্ধা বলেন, ‘বাবারে আমার তিন পোলাই নিখোঁজ। তাদের তোমরা খুঁইজ্জা দেও। তিনি বলেন, আমার পুলা এমন কাজ করতে পারে না। বুধবার সন্ধ্যায় বাচ্চু বাড়িতেই ছিল। এ সময় ২ জন লোক আসে বাড়িতে। একজন এসে বাচ্চুকে বলে ‘তোমাকে স্যার ডাকে’। বাচ্চু বেরিয়ে যায়। পেছনে পেছনে আমিও যাই। মসজিদের কাছে একটি মোটরসাইকেল রাখা ছিল। ওই মোটরসাইকেলে করে আমার বাচ্চুরে নিয়ে গেছে। আমি চিৎকার করে বলেছি, আমার ছেলেরে তোমরা কোথায় নিয়ে যাও? আমারে বলে যাও। তারা শুধু বলেছে ‘আমরা প্রশাসনের লোক।’ এরপর থেকে আমার ছেলের কোনো সন্ধান নেই। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, বাচ্চু যদি কোনো অন্যায় অপরাধ করে তাহলে তার বিচার হউক, ফাঁসি হউক। কিন্তু এভাবে নিখোঁজ রাখলে তার সন্তানরা বড় হয়ে তাদের বাবা সম্পর্কে কিছুই জানতে পারবে না। তিনি বলেন, টিভিতে সবাইরে দেখায়, আমার যাদুরে দেখায় না। কই গেলিরে আমার যাদু। মরার আগে বুঝি তর চেহারা আমি দেখতাম না। বাচ্চুর এক ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় ছেলে নাজমুল মাদরাসায় পড়ে। মেয়ে দুটি ছোট। একজন সাদিয়া বয়স ৪ বছর। অন্যজন নাদিয়া। বয়স ৩ বছর। বাচ্চুর মা আয়েশা বলেন, পরদিন বৃহস্পতিবার আমার অন্য দুই ছেলে বাবুল ও উস্তার আত্মসমর্পণ করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। আজ পর্যন্ত তাদেরও কোনো খোঁজ পাইনি। আমি আমার সন্তানদের ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাই। ওদের শাস্তি দিন। তারপরও আমাদের জানতে দিন আমার সন্তানরা আপনাদের হেফাজতে আছে। বাচ্চুর স্ত্রী রিনা বেগম বলেন, নিহত শিশু শুভর পিতা যখন শুক্রবার ফোন করে জানতে চান তার সিএনজিতে করে শুভদের আনা হয়েছে কিনা- এরপর থেকে আমার স্বামী বাচ্চু একেবারে মনমরা হয়ে গেছে। শুধু কাঁদতেন। রোববার আবদুল আলী বাগালের ছেলে রুবেল এসে সান্ত্বনা দিয়ে গেছে। বলেছে, আব্বা বলেছে, লেপ-তোষক নিয়া প্রয়োজনে জেলখানায় থাকুম। চিন্তা কইরো না। এখন শুনতাছি ওরা জবানবন্দি দিছে তার গাড়ি দিয়া নিহত চার শিশুকে আনা হয়েছে। ওইদিন বাহুবল থেকে আসার পথে আমার ছেলে নাজমুল, ভাগিনা ছায়েদ ও মুহাদ্দেসরে উঠাইয়া আনছে। সিএনজির পেছনে ৪ জন মহিলা ছিল। তাই ওদের সামনে করে নিয়ে এসেছে। গ্রামের ওয়াহিদ ফোন করে এব্যাপারে জানতে চাইলে বাচ্চু বলেছে এসব কথা। তারপরও তারা বিশ্বাস করেনি। এছাড়া সন্ধ্যার পর ওই বাড়ি থেকে ফুলবানু ও আলাবানু এসে আমাদের বাড়িতে দেখে গেছে ছেলেরা আছে কিনা। তারপরও আমাদের কেন সন্দেহ করা হচ্ছে বলতে পারছি না। বাবুলের স্ত্রী পারুল বেগম বলেন, বুধবার থেকে আমাদের বাড়িতে খাবার বন্ধ। বৃহস্পতিবার বাবুল ও উস্তার ভাই হবিগঞ্জে আত্মসমর্পণ করার কথা বলে চলে যায়। কিন্তু এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ নেই। কোথায় আছে তারা তাও জানি না। পুলিশ আমাদের বাড়িতে এসে তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে। ওদের সব ছবি নিয়ে গেছে। তিনটি সিএনজি গাড়ি নিয়ে গেছে। এছাড়া, রুবেল ও জুয়েল জবানবন্দিতে বলেছে, আমাদের গ্যারেজে এনে রাখা হয়। অথচ নিজ চোখে দেখে যান আমাদের বাড়িতে কোনো গ্যারেজ আছে কিনা? আবদুল আলী বাগাল ও তার ছেলেরা আমার স্বামী ও তার ভাইদের ফাঁসাতে চাইছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ আপনাদের কাছে থাকলে প্রকাশ করুন। অন্তত আমরা জানতে পারবো তারা আপনাদের হেফাজতে আছে। দোষী হলে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করুন।
ওদিকে নিহত মনিরের পিতা আবদাল মিয়া বলেছেন, আমাদের বাড়ির সবাই কোথাও যেতে হলে বাচ্চুর সিএনজি অটোরিকশায় যেতো। আমাদের ছেলেমেয়েরাও বাচ্চুর সঙ্গে পরিচিত। তাই রাস্তায় পেয়ে যখন বাচ্চু তাদের ডেকেছে তারা সহজেই ওই সিএনজি অটোরিকশায় ওঠে গেছে। তারপর সুযোগ বুঝে তাদের কাজ শেষ করেছে। ওরা পাষণ্ড। ওদের ফাঁসি চাই। আজ ঘরে গেলে শুনতে পাই আমার মনির ‘বাবা’ বলে ডাকছে। তিনি বলেন, বাচ্চুকে পেলেই আসল ঘটনা জানা যাবে। কারা কিভাবে অপহরণ করেছে। কোথায়, কখন মারা হয়েছে- সবই বাচ্চু জানে। আমরাও বাচ্চু ও তার দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করার দাবি জানাচ্ছি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং বিভিন্ন তারিখ by সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম (বীর প্রতীক)
আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু দ্বিমুখী। প্রথমে, পিলখানায় সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে লিখব। আজ বুধবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। আগামীকাল ২৫ ফেব্রুয়ারি। সাত বছর আগে, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে ঢাকা মহানগরের পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস তথা বিডিআর সদর দফতরে একটি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। অনেকের কাছে এটা একটি বিছিন্ন ঘটনা, আবার অনেকের কাছে অপ্রকাশ্যভাবে এই ঘটনার সাথে অতীতের যোগসূত্র আছে। তাই আমি প্রস্তাব করছি, পাঠক যেন নিজেই কষ্ট করে চিন্তা করেন। দেশ নিয়ে চিন্তা করলে দেশপ্রেম গভীর হয়। দ্বিতীয়ত, এই চিন্তায় সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশের ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তারিখের মধ্য থেকে কয়েকটি মাত্র গুরুত্বপূর্ণ তারিখের কথা পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করব। পিলখানার ঘটনা কতটুকু পরিকল্পিত অথবা কতটুকু কাকতালীয়, সেই প্রসঙ্গে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করার সপক্ষে দালিলিক প্রমাণ (ইংরেজি পরিভাষায় : ডকুমেন্টারি এভিডেন্স) আমাদের মতো সাধারণ নাগরিকের হাতে মজুদ নেই; মজুদ থাকার কথাও নয়। কিন্তু আমার মতো সাধারণ লাখ লাখ নাগরিক মানসিক অশান্তি ও অস্বস্তিতে আছে এই মর্মে যে, পিলখানার ঘটনার পেছনে দেশের ভেতরে বা দেশের বাইরের কে বা কারা জড়িত বা জড়িত না, সেটা সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে জনগণের কাছে উপস্থাপিত হয়নি। জনগণের মনে আরো একটি অস্বস্তি কাজ করে এই মর্মে যে, ঘটনাটির তদন্ত আদৌ নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল কি না? বলে রাখা প্রয়োজন যে, কলামের দ্বিতীয় অংশে তারিখগুলো উপস্থাপন করতে গিয়ে আমি বাংলাদেশের অন্যতম সাবেক প্রধান বিচারপতি এবং অন্যতম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান লিখিত বা সঙ্কলিত একটি বই যার নাম- ‘বাংলাদেশের তারিখ’ (প্রকাশ ১৯৯৮) থেকে নিবিড় সহায়তা নিয়েছি। আশা করি, সম্মানিত পাঠকদের মধ্যে যারা চিন্তাশীল তরুণ, তারা একটি তারিখের সাথে আরেকটি তারিখ মিলিয়ে মিলিয়ে নিজের মতো করে, নিজের মনের ভেতরে, উপসংহার টানবেন।
নৃশংসতায় ও সংখ্যায় অতুলনীয়
পিলখানা হত্যাকাণ্ড ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য হত্যাকাণ্ড। যুদ্ধের ময়দানে, এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর আক্রমণ পরিচালনা করে। এতে হতাহত হতে বাধ্য। ছোট, মাঝারি বা বড় অপারেশনে বিভিন্ন মাত্রার হতাহতের ঘটনা ঘটে। এখন থেকে আনুমানিক ১৫৫ বছর আগে ক্রিমিয়ার যুদ্ধে একটি অপারেশনে আক্রমণকারী ব্রিটিশ লাইট-ব্রিগেডের চার ভাগের তিন ভাগ হতাহত হয়েছিল। আমাদের মুক্তিযুদ্ধকালে কামালপুর যুদ্ধে বা সালদা নদীর যুদ্ধে বা আখাউড়ার যুদ্ধে উভয় পক্ষের হতাহতের সংখ্যা উচ্চ মাত্রায় ছিল। কিন্তু ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার মাধ্যমে নিষ্ঠুরতার সব রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। পিলখানা কোনো যুদ্ধক্ষেত্র ছিল না, কর্মকর্তারা নিরস্ত্র ছিলেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ তারিখে অথবা ১৯৭৭-এর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বগুড়া ও ঢাকায় সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু দিনদুপুরে, প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে ৫৭ জন কর্মকর্তাকে হত্যা করার জন্য যেই কলঙ্কময় দুঃসাহস ওই দিনের পিলখানার বিডিয়ার সৈন্যরা প্রদর্শন করেছিল, সেটা অকল্পনীয়। তৎকালীণ সেনাবাহিনীর উচ্চতম কর্তৃপক্ষ অথবা বাংলাদেশের উচ্চতম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তাদের জীবন বাঁচানোর জন্য (তথা বিদ্রোহ দমনের জন্য) সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়েছিল কি না, সেটি একটি প্রশ্নসাপেক্ষ বিষয়। আমি কোনো জরিপের ফলাফল উদ্ধৃৃত করে বলতে পারব না, কিন্তু লাখ লাখ মানুষের মানসপটে প্রোথিত ধারণা হলো, সময়োচিত পদক্ষেপ কোনো মহলই নেয়নি। কেন করেনি তার জন্য কিছু ব্যাখ্যা এ দিকে-ও দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সম্প্রতি ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারলাম, ওই সময়ের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ নতুন করে বই লিখছেন, যেই বইয়ে তিনি ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারির নৃশংস ঘটনাবলির প্রসঙ্গে তার দায়ভার ব্যাখ্যা করবেন। আমি একজন সাবেক সেনাকর্মকর্তা হিসেবে ওই দিন বিদ্রোহীদের হাতে শহীদ হওয়া সব সেনাকর্মকর্তা ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং জুনিয়র কমিশন্ড অফিসারের রূহের মাগফেরাত কামনা করছি। ওই ৫৭ সেনাকর্মকর্তার মধ্যে কয়েকজনই ছিল আমার হাতের ক্যাডেট।
উল্লেখ্য, আমি ১০ মে ১৯৯৩ তারিখ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৫ পর্যন্ত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির কমান্ড্যান্ট ছিলাম। একজন কমান্ড্যান্টের কাছে তার হাতের ক্যাডেটরা অতি প্রিয় ও স্নেহভাজন হয়।
মোটিভ ছাড়া হত্যাকাণ্ড হয় কি?
পৃথিবীতে দেশে দেশে এবং যুগে যুগে ক্ষমতার জন্য, পিতা-পুত্র, মাতা-পুত্র, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-ভাই, এই বংশ বনাম ওই বংশ, বিভিন্ন মাত্রার যুদ্ধ করেছে বা দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত কেউ বা ক্ষমতায় যেতে আগ্রহী কেউ তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে অপসারণ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র করে অথবা দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। বাংলাদেশে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিডিআরে কর্মরত কর্মকর্তারা কারো জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল কি না অথবা কারো জন্য হুমকি ছিল কি না সেটা তাৎক্ষণিক ও নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু যেকোনো হত্যাকাণ্ডের পেছনে যেহেতু উদ্দেশ্য (মোটিভ) থাকতে বাধ্য, তাই পিলখান হত্যাকাণ্ডের পেছনে কার পক্ষ থেকে কী মোটিভ থাকতে পারে, সেটা একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয়। রাশিয়ার বিখ্যাত সাবেক স্বৈরশাসক জোসেফ স্টালিনের শাসনামলের একটি ঘটনা উল্লেখ করছি- ১৯১৮ সালে যখন কমিউনিস্ট বিপ্লব সফল হয় তখন সাবেক ‘জার’-এর সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা তুখাচেভসকি কমিউনিস্ট সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তুখাচেভসকি মেধাবী-কর্মঠ কর্মকর্তা ছিলেন এবং নিজ গুণে তরতর করে ওপরের দিকে প্রমোশন পান। ১৯৩৫ সালে তিনি ‘মার্শাল অব দ্য সোভিয়েত ইউনিয়ন’ র্যাংক-এ ঊন্নীত হন। কিন্তু জোসেফ স্টালিন মেধাবীদের প্রতি সন্দেহপ্রবণ এবং বৈরী ছিলেন। কারণ স্টালিন মনে করতেন যে, মেধাবীরা তাদের মেধা ব্যবহার করে স্টালিনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে। তাই স্টালিন একটি সাজানো তদন্ত করিয়ে মার্শাল মিখাইল তুখাচেভসকি এবং আরো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। অভিযোগ হলো যে, এরা সোভিয়েত রাশিয়ার স্বার্থ লঙ্ঘন করে জার্মানির অনুকূলে কিছু কাজ করছেন। এই কর্মকর্তাদের ধরে তাদের ওপর অত্যাচার করে, তাদের মুখ দিয়ে সাজানো স্বীকৃতি আদায় করে আরো হাজার হাজার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ফাঁসানো হয়। এরপর তাদের একাধিক নিয়মে রুশ সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের পর অর্ধেকর বেশির কোনো খোঁজখবর পৃথিবী পায়নি। একটি মুদ্রিত সূত্র মোতাবেক, যাদের বহিষ্কার করা হয়েছিল তাদের সংখ্যা নিম্নরূপ : মোট পাঁচজন মার্শালের মধ্যে তিনজন, পনেরোজন আর্মি-কমান্ডারের মধ্যে ১৩ জন, ৯ জন অ্যাডমিরালের মধ্যে আটজন, মোট ৫৪ জন আর্মি কোর-কমান্ডারের মধ্যে ৫০ জন, ১৮৬ জন ডিভিশন-কমান্ডারের মধ্যে ১৫৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। মুদ্রিত সূত্রের মূল্যায়ন মোতাবেক, জার্মানির হিটলার মনে করেছিল- এত জ্যেষ্ঠ, দক্ষ, মেধাবী কর্মকর্তা যখন গায়েব হয়ে গেছে, তাহলে নিশ্চই সোভিয়েত আর্মি দুর্বল হয়ে গেছে; অতএব, সোভিয়েত রাশিয়াকে আক্রমণ করা যেতেই পারে। হিটলার রাশিয়া আক্রমণ করেছিল। জুনিয়ররা জ্যেষ্ঠ হয়ে জার্মানিকে প্রতিরোধ করতে সময় দিয়েছিল।
১৯৭৪-এর কয়েকটি তারিখ
১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ : ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের অন্যতম সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য ও বৈদেশিকমন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান কর্তৃক মন্ত্রিপরিষদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র পেশ করেন এবং তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ : বাণিজ্যমন্ত্রী পদে খন্দকার মোশতাক আহমেদ স্থলাভিষিক্ত। ২৩-২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ : প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কর্তৃক পকিস্তানের লাহোর মহানগরীতে ওআইসি সম্মেলনে অংশগ্রহণ। ২৭ জুন ১৯৭৪ : তিন দিনের সফরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকায় আসেন। ২৫ সেপ্টম্বর ১৯৭৪ : প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক, জাতিসঙ্ঘে প্রথমবারের মতো বাংলা ভাষায় ভাষণ দেন। ২৮ ডিসেম্বর ১৯৭৪ : সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি। ধর্মঘট-লকআউট ইত্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষণা; মৌলিক অধিকার স্থগিত।
১৯৭৫-এর কয়েকটি তারিখ
২ জানুয়ারি ১৯৭৫ : পুলিশের সাথে এক সংঘর্ষে (?) পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি প্রধান সিরাজ সিকদার নিহত হন। ৩ জানুয়ারি ১৯৭৫ : সরকার চোরাচালানি-কালোবাজারিদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার লক্ষ্যে জরুরি ক্ষমতা আইন ১৯৭৫ ঘোষণা করে। ৬ জানুয়ারি ১৯৭৫ : সরকারি জরুরি ক্ষমতা আইন ১৯৭৫-এর আদেশ বলে জনসভা, জনসমাগম ও সব ধর্মঘট নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ২১ জানুয়ারি ১৯৭৫ : আওয়ামী লীগ সংসদীয় কমিটির সমাপনী সভায় জাতীয় সমস্যা সমাধানের জন্য যেকোনো পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে ব্যাপক ক্ষমতা দেয়া হয়। ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ : জাতীয় সংসদে প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতি ও একদলীয় বা একমাত্র রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী গৃহীত। সংশোধনী বলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বঙ্গবন্ধু প্রেসিডেন্ট পদে আসীন। ২৬ জানুয়ারি ১৯৭৫ : মুক্তিযুদ্ধকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু কর্তৃক নতুনভাবে বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত হয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ। মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের অন্যতম মন্ত্রী মনসুর আলী প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হয়ে দায়িত্বভার নেন। ২৭ জানুয়ারি ১৯৭৫ : জাসদপন্থী দৈনিক ‘গণকণ্ঠ’-এর কার্যালয় পুলিশ ‘সিজ’ করে। ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫ : বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামে নতুন জাতীয় রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন; বঙ্গবন্ধু দলের চেয়ারম্যান। অন্য সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা। ১৬ জুন ১৯৭৫ : সংবাদপত্র অর্ডিনেন্স ঘোষিত। শুধু চারটি দৈনিক যথা : বাংলাদেশ অবজারভার, বাংলাদেশ টাইমস, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক বাংলা এবং সারা দেশে শুধু ১২২টি ম্যাগাজিনের প্রকাশনা অব্যাহত থাকবে; অন্য সব পত্রিকা ও ম্যাগাজিন প্রকাশনা বন্ধ। ১২ আগস্ট ১৯৭৫ : প্রধানমন্ত্রী মনসুর আলী যশোর ক্যান্টনমেন্টে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সামরিক বাহিনীকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ : অতি ভোরে সামরিক বাহিনীর একটি ক্ষুদ্র অংশ পরিচালিত ক্যু-দ্য-তার ফলে বঙ্গবন্ধু নিহত তথা শহীদ হন। বঙ্গবন্ধু ক্যাবিনেটের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন; দেশে সামরিক আইন জারি করেন; বিগত তথা বঙ্গবন্ধু সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ক্যাবিনেটের দশজন মন্ত্রী ও ছয়জন প্রতিমন্ত্রী পুনর্বহাল; খন্দকার মোশতাকের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। ১৭ আগস্ট ১৯৭৫ : সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনসুর আলীর সাথে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ। ২০ আগস্ট ১৯৭৫ : বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ। ২৪ আগস্ট ১৯৭৫ : মেজর জেনারেল সফিউল্লাহর স্থলে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান নতুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত। ১ সেপ্টম্বর ১৯৭৫ : বাকশাল পদ্ধতি রহিত। ৫ অক্টোবর ১৯৭৫ : জাতীয় রক্ষীবাহিনী তথা সংক্ষেপে জেআরবি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে একীভূত করার জন্য আদেশ জারি। ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ : অতি প্রত্যুষে, তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ বীর উত্তমের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি অংশের ক্যু-দ্য-তা সংঘটিত; সেনাবাহিনীপ্রধান জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে গৃহবন্দী করা হয়; কেন্দ্রীয় কারাগারে চার জাতীয় নেতা নিহত। ৫ নভেম্বর ১৯৭৫ : ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ সেনাবাহিনী প্রধান হন। ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ : প্রধান বিচারপতি এ এস এম সায়েম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ : তারিখ শুরু হওয়ার সাথে সাথে জাসদপন্থী গোপন সৈনিক সংস্থার উদ্যোগে সৈনিক বিপ্লøব শুরু। রাতের অন্ধকারে ঢাকা সেনানিবাসের বিভিন্ন স্থানে বিপ্লবী সৈনিকদের হাতে বা জাসদপন্থী বিদ্রোহী সৈনিকদের হাতে মহিলা ডাক্তারসহ ১১ জন সেনাকর্মকর্তা নিহত। ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ : সৈনিক জনতার বিপ্লব; মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম আবার সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নেন।
১৯৭৬-এর কয়েকটি তারিখ
৩ মার্চ ১৯৭৬ : বাঙালি জাতীয়তার পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তা আখ্যায়িত করার নির্দেশ। ২২ মার্চ ১৯৭৬ : নির্বাচনী এলাকার সীমা নির্ধারণের খসড়া প্রণীত। ২৮ মে ১৯৭৬ : সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের পৃথকীকরণ প্রসঙ্গে আদেশ জারি। ২৮ জুন ১৯৭৬ : নির্বাচনী এলাকার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ। ৩০ জুন ১৯৭৬ : সংবাদপত্র ডিক্লারেশন বাতিল আদেশ রহিত ঘোষণা। ২৮ জুলাই ১৯৭৬ : রাজনৈতিক বিধি জারি। ৩০ জুলাই ১৯৭৬ : ঘরোয়া রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু। ৪ আগস্ট ১৯৭৬ : রাজনৈতিক দল গঠনের বিস্তারিত নিতিমালা প্রকাশ। ১৩ সেপ্টম্বর ১৯৭৬ : ফারাক্কা বাঁধের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে সরকারি শ্বেতপত্র প্রকাশ। ১ নভেম্বর ১৯৭৬ : যশোরে যদুনাথপুর বেতনা নদীতে স্বেচ্ছাশ্রমে, খাল খননকাজ উদ্বোধন করেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। ৪ নভেম্বর ১৯৭৬ : রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের অনুমোদন লাভ। ২৯ নভেম্বর ১৯৭৬ : প্রেসিডেন্ট সায়েম প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বরাবরে হস্তান্তর করেন।
১৯৭৭-১৯৭৮-এর কয়েকটি তারিখ
২২ এপ্রিল ১৯৭৭ : জাতীর উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট জিয়ার ভাষণ। কয়েকটি ঘোষণা : ৩০ মে ১৯৭৭: গণভোট, ডিসেম্বর ১৯৭৮ নির্বাচন। ৩০ এপ্রিল ১৯৭৭ : জাতির উদ্দেশে জিয়াউর রহমান সমৃদ্ধির ১৯ দফা নীতি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ২৫ সেপ্টম্বর ১৯৭৭ : দীর্ঘ ১৩ বছর পর ঢাকা পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত। ২৮ সেপ্টম্বর ১৯৭৭ : ছিনতাই করা একটি জাপানি বিমানের ১৫৬ জন আরোহীসহ ঢাকা তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণ। ২৯ সেপ্টম্বর ১৯৭৭ : নয়াদিল্লিতে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি অনুস্বাক্ষরিত। ৩০ সেপ্টম্বর ১৯৭৭ : বগুড়া সেনানিবাসে সৈনিক বিদ্রোহ বা গোলযোগ। ১ অক্টোবর ১৯৭৭ : বিমান ছিনতাই ঘটনা : পারস্পরিকভাবে শর্ত পূরণ। ২ অক্টোবর ১৯৭৭ : ঢাকা সেনানিবাসে সৈন্যদের মধ্যে গুলিবিনিময়। ঢাকা মহানগরির বিভিন্ন এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ। ঢাকা বিমানবন্দরে কর্তব্যরত অবস্থায় বিমানবাহিনীর ১১ জন কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর ১০ ব্যক্তি নিহত। সেনাবাহিনীর ৪০ জন আহত। ২ অক্টোবর ১৯৭৭ : চিনতাই নাটকের অবসান। ১৭ অক্টোবর ১৯৭৭ : বগুড়া ও ঢাকার ঘটনা তদন্তে বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি গঠনের নির্দেশ। ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৭ : জাতির উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট জিয়ার ৯৫ মিনিটব্যাপী ভাষণ, নয়া রাজনৈতিক ফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত। ৯ এপ্রিল ১৯৭৮ : জিয়াউর রহমান নতুন রাজনৈতিক দলে যোগদানের কথা ঘোষণা করেন। ২২ এপ্রিল ১৯৭৮ : ১ মে থেকে রাজনৈতিক সভা করার অনুমতি দান। ১ মে ১৯৭৮ : জিয়াউর রহমানকে চেয়ারম্যান করে ৬-দলের জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠিত। ৩ জুন ১৯৭৮ : বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বিপুল ভোটে জিয়াউর রহমানের জয়লাভ। ১ সেপ্টম্বর ১৯৭৮ : প্রেসিডেন্ট জিয়া নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করেন।
১৯৭৯ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত কয়েকটি তারিখ
১৯ এপ্রিল ১৯৭৯ : চট্টগ্রাম মহানগরে প্রেসিডেন্ট বিপ্লব উদ্যান উদ্বোধন করেন। ২৭ নভেম্বর ১৯৭৯ : ১৯৭৪ সালে ঘোষিত জরুরি অবস্থার অবসান; স্থগিত মৌলিক অধিকার পুনর্বহাল। ২ জানুয়ারি ১৯৮০ : মন্ত্রিপরিষদ থেকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে অব্যাহতি দান। ১৭ মে ১৯৮১ : আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা কমবেশি ছয় বছর পর বাংলাদেশে ফেরত আসেন। ৩০ মে ১৯৮১ : চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অবস্থানকালে অতি প্রত্যুষে, বিদ্রোহী সেনাসদস্যদের গুলিতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হন তথা শাহাদতবরণ করেন। ১২ জুন ১৯৮১ : শেখ হাসিনার কাছে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি হস্তান্তর। ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ : রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার দুর্নীতিবাজ মন্ত্রিসভা বাতিল ঘোষণা। ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ : ১৮ সদস্যবিশিষ্ট নয়া মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ। ২৪ মার্চ ১৯৮২ : বাংলাদেশ সেনাবাহিনীপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে, ক্যু-দ্য-তা সংঘটিত; নির্বাচিত সরকার অপসারিত; সারা দেশে সামরিক আইন জারি; রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ; জেনারেল এরশাদের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ। ২৭ মাচ ১৯৮২ : রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিচারপতি এ এফ এম আহসানউদ্দিন চৌধুরীর শপথ গ্রহণ। ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ : প্রেসিডেন্ট আহসানউদ্দিন চৌধুরীর পদত্যাগ ও জেনারেল এরশাদ কর্তৃক প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ। ১ জানুয়ারি ১৯৮৬ : নয়া রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় পার্টি’ গঠিত। ৭ মে ১৯৮৬ : তৃতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত। ৪ সেপ্টম্বর ১৯৮৬ : সেনাবাহিনী থেকে প্রেসিডেন্ট এরশাদের অবসর গ্রহণ। ২৭ নভেম্বর ১৯৯০ : দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা। সব সংবাদপত্রের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ। সরাকারি আদেশ অমান্য করা শুরু ব্যাপকভাবে। ৪ ডিসেম্বর ১৯৯০ : গণ-অভ্যুত্থান। ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ : রাষ্ট্রপতি এরশাদের পদত্যাগ; প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। ১২ আগস্ট ১৯৯১ : সংবিধান সংশোধনী প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য ১৫ সেপ্টম্বর ১৯৯১ তারিখটি নির্ধারিত হয়। ১৫ সেপ্টম্বর ১৯৯১ : গণভোট অনুষ্ঠিত। হ্যাঁ ভোট=৮৪.৪২ ভাগ। অর্থাৎ ১৯৭৫-এর জানুয়ারি থেকে চলে আসা প্রেসিডেন্সিয়াল বা রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকারের বদলে পার্লামেন্টারি বা সংসদীয় পদ্ধতির সরকার বহাল করার জন্য বাংলাদেশ সংবিধানে প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী দেশে গণভোট বা রেফারেন্ডাম অনুষ্ঠিত করা হয়েছিল।
উপসংহার
এবারের কলামটিতে আমি আবেদন করেছি, চিন্তাশীল তরুণেরা যেন চিন্তা করেন। চিন্তা করা একটি কঠিন কাজ, যদি অভ্যাস না থাকে। নিজে চিন্তা করে কোনো উপসংহারে পৌঁছলে তা মানুষের মনে স্থিতিশীল হয় বেশি।
লেখক : মেজর জেনারেল (অব.); চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
www.generalibrahim.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1347)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ▼ 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...






