Monday, September 27, 2010

নদীর ডাকে সাড়া দিতে হবে by আশরাফুল হক, তুহিন ওয়াদুদ, মারুফ রহমান, শিরিন আখতার ও শাহমান মৈশান |

বিশ্বে ষষ্ঠ এবং বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব নদী দিবস। ২০০৫ সাল থেকে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রোববার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, সংগঠন ও গোষ্ঠীর উদ্যোগে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। ওই বছর দিবসটি জাতিসংঘের স্বীকৃতি পায়। এর আগ পর্যন্ত খ্যাতিমান ‘রিভার হিরো’ ও কানাডীয় নদী আন্দোলনের জনক মার্ক অ্যাঞ্জেলোর উদ্যোগে আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে নদী দিবস পালিত হয়েছে। দিনটি পালনে এবার বাংলাদেশও শামিল হয়েছে। নদীবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ ‘রিভারাইন পিপল’-এর পক্ষ থেকে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটির সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান ও কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। বিশ্ব নদী দিবসের মূল ওয়েবসাইটেও স্থান পেয়েছে এ কর্মসূচি।
সন্দেহ নেই, নদীর প্রতি আমাদের সব সময়ই দায়িত্বশীল থাকা জরুরি। নদী যেমন নিরন্তর তার সিঞ্চনে ও সম্পদে আমাদের উপকার করে যাচ্ছে, তেমনি আমাদেরও উচিত মাস কিংবা মৌসুম ভেদে নদীর ব্যাপারে সচেতন থাকা। কিন্তু বহুমাত্রিক ব্যস্ততার এই যুগে নদীর প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে আলাদা দিবস পালনের প্রয়োজনীয়তা কেউ অস্বীকারও করবে না। বাংলাদেশের জন্য তা আরও প্রাসঙ্গিক। কারণ, প্রাকৃতিকভাবে ‘নদীমাতৃক’ হলেও সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে আমরা নিজেদের নদীবৈরী জনগোষ্ঠী হিসেবে ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ দেশের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নদীগুলো আঞ্চলিক রাজনীতি এবং বহুজাতিক পুঁজির সর্বনাশা সম্প্রসারণেরও শিকার হয়েছে।
আমরা জানি, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা অববাহিকার প্রতিটি নদী কোনো না কোনোভাবে হিমালয়ের সঙ্গে যুক্ত। সেখানকার হিমবাহ ও বৃষ্টিপাতই এ দেশের শত শত নদীর চূড়ান্ত উৎস। সুউচ্চ ওই জলজ-রাজ্যে শুরু হয়েছে বাঁধের উৎপাত। ইন্টারন্যাশনাল রিভারসের একটি সমীক্ষায় আমরা দেখেছি, হিমালয় অঞ্চলে ৫৫২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়িত হলে আমাদের নদীর চূড়ান্ত সর্বনাশই হবে। রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের চোখরাঙানি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে একপর্যায়ে হিমালয়ের বরফ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি হারে গলে যেতে পারে। এতে ভাটি অঞ্চল বাংলাদেশ প্রথম দিকে যেমন বন্যা ও নদীভাঙনে নাকাল হবে, পরের দিকে পড়বে পানিশূন্যতায়। সুদূর উজানে কেবল নয়, সীমান্ত ঘেঁষেও আমাদের ঘিরে ধরছে বাঁধের শেকল। পদ্মা, তিস্তা, ধরলা, মহানন্দা, গোমতী, মুহুরী, মনু, খোয়াই—কোনো নদীর আসন্ন উজানে বাঁধ নেই? সুরমা-কুশিয়ারার উজানে টিপাইমুখ-তোড়জোড় তো সর্বজনবিদিত। ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রত্যাহারের দৈত্যকায় আয়োজনের কথাও বহুল শ্রুত। অস্বীকার করা যাবে না দেশের অভ্যন্তরের অপরিকল্পিত সেতু ও বাঁধের বিরূপ প্রভাবের কথাও।
শুধু কি বাঁধ? নদীতে নদীতে দখল-দূষণও কদর্য চেহারা নিয়েছে। ঢাকার বুড়িগঙ্গা-শীতলক্ষ্যা, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী-হালদা, সিলেটের সুরমা-কুশিয়ারা, নাটোরের নারদ, নেত্রকোনার মগড়া, বরিশালের কীর্তনখোলা, ফরিদপুরের কুমার, ময়মনসিংহের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা, বগুড়ার করতোয়া, যশোরের কপোতাক্ষ, খুলনার ময়ূরের মতো নগরসংলগ্ন নদ-নদীগুলো যেন অভিশপ্ত।
নদীর এ দুর্গতির জন্য কর্তৃপক্ষীয় অমনোযোগিতার পাশাপাশি নাগরিক অসচেতনতাও কম দায়ী নয়। আমরা যেভাবে সভ্যতা, কৃষি, যোগাযোগ, জীববৈচিত্র্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে নদীর কাছে ঋণী, আর কোনো দেশ ততটা নয়। আবার নদীর প্রতি আমাদের ঔদাসীন্যেরও জুড়ি মেলা কঠিন। আশার কথা, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সাম্প্রতিক কালে নদীবিষয়ক সক্রিয়তা বেড়েছে। বেড়েছে গণমাধ্যমের মনোযোগও। এখন যদি নাগরিকেরা তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়, মুমূর্ষু নদীগুলোকে স্বচ্ছতোয়া স্রোতস্বিনীতে রূপান্তর অসম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রেই বিশ্ব নদী দিবস ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্ব নদী দিবস ২০১০-এর জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য নেই। বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল আলাদা প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করতে পারবে। রিভারাইন পিপলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জন্য আমরা এই প্রতিপাদ্য তুলে ধরতে চাই—‘নদী আমাদের ডাকছে, সাড়া দিতে হবে’।
আমরা বিশ্বাস করি, নদী আমাদের ডাকছে; এখন সাড়া দিতে হবে। সাড়া নানাভাবে দেওয়া যায়। সচল নদী আমাদের অধিকার, ওই অধিকার নিশ্চিত করতে নদীর ডাকে সাড়া দিয়ে, নদীর জন্য কাজ করে যাওয়ার বিকল্প নেই। আজকের দিনে, সেপ্টেম্বরের শেষ রোববার, নদীর কল্যাণের জন্য প্রতীকী হলেও অন্তত কিছু কাজ আমরা করতে পারি। নদীবিষয়ক সাহিত্য, প্রবন্ধ লিখে কিংবা পড়ে, নদীবিষয়ক চলচ্চিত্র দেখে, নদীর ছবি তুলে কিংবা চিত্র এঁকে, নদীতে বেড়াতে গিয়ে, নদীর কথা আলোচনা করে দিনটি পালন করা যেতে পারে। অনুজ ও বিদ্যার্থীদের নদী রক্ষার শপথ করানো যেতে পারে। আজকে মা-বাবা তাঁর সন্তানকে নদী-সংবেদনশীল হিসেবে গড়ে তোলার শপথ নিতে পারেন। আর কিছু না হোক, প্রিয় নদীটির কথা ভেবে এ দিবস পালনের আহ্বান জানাই।
রিভারাইন পিপলের পক্ষে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকার স্টামফোর্ড, সিলেটের শাহজালাল ও রংপুরের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে বিশ্ব নদী দিবসের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে; আগ্রহী ব্যক্তিরা সেখানে যোগ দিতে পারেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে রিভারাইন পিপলের ফেসবুক গ্রুপে (http://www.facebook.com/group.php?gid=33915816544)।
লেখকেরা: নদীবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রিভারাইন পিপলের সঙ্গে যুক্ত।

বাংলাদেশে তেজি হলেও বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের ব্যাপক দরপতন

বাংলাদেশের মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় টাকার দরপতন অব্যাহত রয়েছে। কয়েকটি বড় বাণিজ্যিক ব্যাংক অব্যাহতভাবে বাজার থেকে ডলার কেনার কারণেই মূলত বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার তেজি হয়ে ওঠে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে গত সপ্তাহের শুরুতে প্রতি ডলার লেনদেন হয় ৬৯ টাকা ৬৩ পয়সায়, যা মঙ্গলবার ৬৯ টাকা ৭০ পয়সার মনস্তাত্ত্বিক বাধা পেরিয়ে যায়। বুধবার প্রতি মার্কিন ডলার ৬৯ টাকা ৭৫ পয়সায় লেনদেন হয়। তবে সপ্তাহের শেষ লেনদেন দিবস গত বৃহস্পতিবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে সরাসরি কেনাবেচায় প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার সর্বোচ্চ ৬৯ টাকা ৮০ পয়সায় উঠে যায়, যা আগের সপ্তাহের শেষে ছিল ৬৯ টাকা ৬৫ পয়সা।
তবে বিশ্ব মুদ্রাবাজারে গত সপ্তাহে (১৮ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন ডলারের ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার-নীতি নিয়ে খবর প্রকাশের আগে পর্যন্ত প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলার দুর্বল হয়ে পড়ে। গত সোমবার অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার ইতিবাচক বক্তব্যে সেই দেশের মুদ্রা ডলার মার্কিন ডলারের বিপরীতে গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যায়।
গত মঙ্গলবার ইউরো অঞ্চলের ঋণ-সম্পর্কিত বন্ড বিক্রিতে বেশ সাড়া সৃষ্টি হওয়ায় আয়ারল্যান্ড, গ্রিস ও স্পেনের ঋণ না পাওয়ার যে শঙ্কা ছিল, তা অনেকটা কেটে যায়। ফলে গত বুধবার ইউরোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের দর পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ও জাপানি ইয়েনের বিপরীতে আগের সপ্তাহের পতনের ধারাবাহিকতায় একেবারে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকে তাদের অর্থনীতিকে মন্দা থেকে উত্তরণের জন্য আরও প্রণোদনার খবর প্রকাশিত হওয়ায় ডলারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বাজার থেকে ট্রেজারি সিকিউরিটিজ কিনে নিয়ে ডলারের জোগান বাড়ালে মার্কিন অর্থনীতির বিভিন্ন বন্ডের অন্তর্নিহিত সুদের হার পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই ডলারের দরপতন ঘটেছে বলে বাজার বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন।
এদিকে সপ্তাহের শেষ দিকে সুইস ফ্রাঁর বিপরীতেও মার্কিন ডলার গত আড়াই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। এ সময় প্রতি ডলার শূন্য দশমিক ৯৮ সুইস ফ্রাঁতে কেনাবেচা হয়।
শুক্রবার জার্মানির আইএফও সূচকের গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যাওয়ায় ডলারের বিপরীতে ইউরো আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বদৌলতে প্রতি ইউরো ১ দশমিক ৩৪৯০ ডলারে লেনদেন হয়। একই দিন জাপানি ইয়েনের বিপরীতেও মার্কিন ডলার এক সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। এ সময় প্রতি ডলার ৮৪ দশমিক ১২ ইয়েনে লেনদেন হয়, যা গত সপ্তাহ শেষে ছিল ৮৫ দশমিক ৮১ ইয়েন।
চীনের উৎপাদন খাতের আশাপ্রদ খবর, যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হওয়ায় এবং বিশ্বব্যাপী ব্যাংক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর নতুন নীতিমালা গ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগকারীরা আলোচ্য সপ্তাহে অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। যে কারণে সপ্তাহের শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলারের ব্যাপকহারে দরপতন ঘটতে থাকে।
আগের সপ্তাহে জাপান সরকার তাদের মুদ্রা ইয়েনের শক্তি হ্রাসে আশু কোনো পদক্ষেপ নেবে না—এমন ধারণা বাজারে ছড়িয়ে পড়ায় ইয়েনের বিপরীতে ডলারের দর হ্রাস পেয়ে ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। তখন প্রতি ডলার ৮২ দশমিক ৮৭ ইয়েনে নেমে আসে।
যা হোক, সপ্তাহ শেষে প্রতি ইউরো ১ দশমিক ৩০৩৪ ডলারে, প্রতি পাউন্ড স্টার্লিং ১ দশমিক ৫৬৩৬ ডলারে এবং প্রতি ডলার ৮৫ দশমিক ৮১ ইয়েনে লেনদেন হয়েছে।

বিদেশগামী শ্রমশক্তির দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণকেন্দ্র হবে সৈয়দপুরে

উত্তরাঞ্চলের বিদেশগামী শ্রমশক্তির দক্ষতা বাড়াতে সৈয়দপুরে একটি শ্রমিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
সৈয়দপুরের বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, বিসিক শিল্পনগরী এবং রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাগুলো পরিদর্শনকালে নবগঠিত রংপুর বিভাগের কমিশনার জসীম উদ্দিন আহমেদ গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
বিভাগীয় কমিশনার ওই দিন সৈয়দপুরে বিসিক শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন-কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে তিনি উদ্যোক্তাদের পণ্যের মান আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেন। এর আগে তিনি সৈয়দপুরে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন করেন।
এ সময় বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান, সৈয়দপুর উপজেলার চেয়ারম্যান এস এম ওবায়দুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবিনা আলম ও বণিক সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী।
জসীম উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিদেশে পাঠানো শ্রমশক্তির বেশির ভাগই অদক্ষ। তাঁদের দক্ষতা বাড়িয়ে বিদেশে পাঠানো হলে দেশে আরও বেশি পরিমাণে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী-আয় আসবে। সেই লক্ষ্যে বিদেশগামী শ্রমিকদের জন্য সৈয়দপুরে সরকারিভাবে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সৈয়দপুরে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকসহ বিসিক শিল্পনগরীর সম্প্রসারণ করে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দুই মাসে পণ্য রপ্তানির আয় বেড়েছে ২৮.৮ শতাংশ

বিশ্বমন্দার প্রভাব কাটিয়ে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি এখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এরই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ওপর।
চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৯ শতাংশ বেড়েছে। আর আলোচ্য সময়ে পণ্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১৬ শতাংশ বেড়েছে।
এ সময়ে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত নিট ও ওভেন পোশাকের পাশাপাশি হিমায়িত খাদ্য, কাঁচা পাট, পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, হোম টেক্সটাইলসহ কয়েকটি পণ্যের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে, যা রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্যানুসারে, ২০১০-১১ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে ৩৬১ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা এই সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১১ কোটি সাড়ে ৭২ লাখ ডলার বেশি।
অন্যদিকে গত ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ২৮০ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য।
আলোচ্য সময়ে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ও আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে রপ্তানি আয় বেশি হওয়া—উভয় ক্ষেত্রেই এগিয়ে আছে নিট পোশাক, ওভেন পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, কৃষিপণ্যের মধ্যে তামাক, কাঁচা শাকসবজি, মসলা ও ফলমূল, প্লাস্টিক পণ্য, সিরামিক পণ্য, রাসায়নিক পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প, রাসায়নিক সার প্রভৃতি।
তবে টেরিটাওয়েল, চামড়া, পাটজাত পণ্য, পাটসুতা, হোম টেক্সটাইল, বাইসাইকেল, ইলেকট্রনিকস প্রভৃতি পণ্যের রপ্তানি আয় আগের বছরের চেয়ে বাড়লেও তা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কমেছে।
প্রথম দুই মাসে চা, পেট্রোলিয়াম উপজাত, ওষুধ, প্রকৌশল প্রভৃতি পণ্যের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার পাশাপাশি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।
চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে পরিমাণগত দিক থেকে রপ্তানি আয়ের শীর্ষে রয়েছে নিট পোশাক খাত। দ্বিতীয় স্থানে আছে ওভেন পোশাক খাত। এ সময়ে নিট পোশাকের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১ দশমিক ০৯ এবং ওভেন পোশাকে ১৭ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়েছে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্ট মাসে ১৫৮ কোটি ৯৩ লাখ ডলারের নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ১২০ কোটি ডলারের তুলনায় ৩১ দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি।
আর আলোচ্য সময়ে ১৩১ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের ১০১ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের চেয়ে ৩০ দশমিক ০৫ শতাংশ বেশি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নয় কোটি ১৩ লাখ ডলারের হিমায়িত খাদ্য, দুই কোটি ৬৪ লাখ ডলারের কাঁচা পাট, ১২ কোটি ৩০ ডলারের পাটজাত পণ্য, চার কোটি ৭৩ লাখ ডলারের চামড়া, আট কোটি ৫৮ লাখ ডলারের হোম টেক্সটাইল এবং চার কোটি ৪৩ লাখ ডলারের পাদুকা রপ্তানি হয়েছে।
আবার সার্বিকভাবে শুধু চলতি বছরের আগস্টে রপ্তানি আয় গত বছরের আগস্টের তুলনায় ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়েছে।
চলতি বছরের আগস্টে ১৭৯ কোটি ৫১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের বছরের আগস্টে ১৩৬ কোটি ৭৭ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।

থাইল্যান্ডে ২০১১ সালের শুরুতে নির্বাচন: আপিসিত

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়া বলেছেন, বিরোধী লাল শার্টরা শান্তিপূর্ণ আচরণ করলে তিনি ২০১১ সালের গোড়ার দিকে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারেন। কেননা নির্বাচনের পূর্বশর্ত হচ্ছে শান্তি ও স্থিতিশীলতা।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক একটি পরামর্শ প্রতিষ্ঠানের (থিংক ট্যাংক) সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এ কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে থাই প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে নিউইয়র্কে আছেন।
আপিসিত বলেন, আগাম নির্বাচনের বিষয়টি এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে বিরোধীদের আচরণের ওপর।

হাইতিতে ঝড়ে পাঁচজনের মৃত্যু

হাইতির রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্সে গত শুক্রবার ঝড়ে কমপক্ষে পাঁচজন মারা গেছে, আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। এতে অনেক আশ্রয়শিবির ধ্বংস হয়েছে, গাছপালা উপড়ে গেছে এবং বিদ্যুৎব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বেসরকারি সুরক্ষা কর্মকর্তা নাদিয়া লোচার্ড বলেন, ঝড়ে যে পাঁচজন মারা গেছে, তাদের মধ্যে দুজন তরুণী ও ৯৩ বছরের এক বৃদ্ধ রয়েছেন। এর আগে গত ১২ জানুয়ারি হাইতিতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে লাখ লাখ লোক গৃহহীন হয়ে পড়ে।
নাদিয়া লোচার্ড বলেন, ‘এই ঝড়ে কয়েক হাজার আশ্রয়শিবির ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব শিবিরের অনেক তাঁবু ঝোড়ো বাতাসে উড়ে গেছে।

ইরাকের নির্বাচনে বিজয়ী জোট মালিকির সরকারে যোগ দেবে না

ইরাকের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী জোট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকির নেতৃত্বাধীন নতুন কোনো সরকারে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। গত শুক্রবার রাতে ওই জোটের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।
গত ৭ মার্চের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইয়াদ আলাবির নেতৃত্বাধীন ইরাকিয়া জোট সামান্য ব্যবধানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মালিকির নেতৃত্বাধীন জোটকে পরাজিত করে।
আলাবির ব্লকের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাকিয়া মনে করে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মালিকির নেতৃত্বাধীন সরকারের মতো আরেকটি সরকার গঠন হতে পারে না। তাই ইরাকিয়া তাঁর নেতৃত্বাধীন কোনো সরকারে যোগ দেবে না।
নির্বাচনে সাধারণভাবে ধর্মনিরপেক্ষ জোট ইরাকিয়া ৯১টি আসনে জয়লাভ করে। সুন্নিপ্রধান এলাকায় এই জোটের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। মালিকির শিয়াপন্থী স্টেট অব ল অ্যালায়েন্সের চেয়ে ইরাকিয়া ব্লক দুটি আসন বেশি পায়। দেশটির পার্লামেন্টের আসনসংখ্যা ৩২৫।
নির্বাচনে কোনো জোটই সরকার গঠনের মতো আসন পেতে ব্যর্থ হয়। নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত নতুন সরকার গঠন করা সম্ভব হয়নি।

সুইডেনে পাকিস্তানি বিমানের জরুরি অবতরণ

বোমা বিস্ফোরণের হুমকি পাওয়ার পর পাকিস্তানের একটি যাত্রীবাহী বিমান গতকাল শনিবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের আরলান্ডা বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি বিমানটি উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
জানা যায়, এক ব্যক্তি বিস্ফোরক বহন করছেন, এমন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানটি জরুরি অবতরণ করানো হয়। বোয়িং-৭৭৭ বিমানটি ২৭৩ জন যাত্রী নিয়ে কানাডার টরন্টো থেকে করাচি যাচ্ছিল। স্টকহোমের আরলান্ডা বিমানবন্দরের একজন মুখপাত্র জানান, প্রথমে বিমানের পাইলট জরুরি অবতরণের অনুমতি চেয়ে ওই বিমানবন্দরে অনুরোধ পাঠান। অনুমতি পাওয়ার পর বিমানটি জরুরি অবতরণ করান তিনি।
স্টকহোম পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক। মুখপাত্র আরও জানান, নোফ্লাই তালিকায় আটক ব্যক্তির নাম নেই এবং কানাডার নিরাপত্তা-তল্লাশির ভেতর দিয়েই তিনি বিমানে এসেছেন।

জাপানকে ক্ষমা চাইতে বলেছে চীন, টোকিওর প্রত্যাখ্যান

মাছ ধরা ট্রলারের ক্যাপ্টেনকে আটকের ঘটনায় জাপানকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে গতকাল শনিবার দাবি করেছে চীন। তবে জাপান তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
চীনা ক্যাপ্টেনকে গত শুক্রবার মুক্তি দেয় জাপান। এরপর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ক্যাপ্টেনকে আটক করে জাপান চীনের সার্বভৌমত্ব এবং চীনা নাগরিকের মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। এ ঘটনার জন্য জাপানকে অবশ্যই চীনের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’
তবে চীনের এ দাবি নাকচ করে দিয়েছে জাপান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা জানি না, চীন কীভাবে এ কথা বলছে। এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি।’
৭ সেপ্টেম্বর পূর্ব চীন সাগরের একটি বিরোধপূর্ণ এলাকায় জাপানের নৌবাহিনী ক্যাপ্টেন, ক্রুসহ চীনের একটি ট্রলার আটক করে। পরে ক্রুদের ও ট্রলারটি ছেড়ে দেওয়া হলেও ক্যাপ্টেনকে আটকে রাখে জাপান। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছে।

চিলির দুর্ঘটনাকবলিত খনি কোম্পানির সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

চিলির যে খনিতে ৩৩ জন শ্রমিক ৫০ দিন ধরে আটকা পড়ে আছেন, সেই খনি কোম্পানির সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন সে দেশের একটি আদালত।
চিলি সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন সে দেশের কর্মকর্তারা। আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য সরকারের যে খরচ হচ্ছে, সেটি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার আদালতের প্রতি ওই অনুরোধ জানায়।
তবে সানইস্ট কোম্পানির মালিকানাধীন ওই রুপা ও স্বর্ণের খনিটি দুর্ঘটনার আগে থেকেই অর্থসংকটে জর্জরিত ছিল। এখন আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য লাখ লাখ ডলার খরচ হচ্ছে। ফলে কোম্পানিটির দেনার পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে। বর্তমানে কোম্পানিটির ঋণের পরিমাণ প্রায় এক কোটি মার্কিন ডলার। পাওনাদারেরা এরই মধ্যে কোম্পানিটিকে দেউলিয়া ঘোষণা করার জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

পাকিস্তানে তিন অভিযুক্ত খালাস

২০০৮ সালে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ডেনিশ দূতাবাসে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত তিন ব্যক্তিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে ইসলামাবাদের একটি আদালত গতকাল এ রায় দেন।
আদালতের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মোহাম্মদ তায়েব নামের একজন আইনজীবী বলেছেন, ‘আদালত অভিযুক্ত তিন ব্যক্তিকে খালাস দিয়েছেন। অথচ আমরা আদালতে ৩২ জন প্রত্যক্ষদর্শীকে হাজির করেছিলাম। তাঁদের মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলে ওই তিনজনকে হামলাকারীদের হামলা চালাতে নির্দেশ দিতে দেখেছেন। পরে থানায়ও অভিযুক্ত তিন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। কিন্তু তার পরও বিচারক পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কথা বলেছেন।’

লেবার পার্টির নতুন নেতা হলেন এড মিলিব্যান্ড

ব্রিটেনের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। গতকাল শনিবার ম্যানচেস্টারে দলের সম্মেলনে নতুন নেতার নাম ঘোষণা করেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি।
এড মিলিব্যান্ড তাঁর ভাই ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ডসহ চারজন প্রার্থীকে পরাজিত করেন। নেতৃত্বের লড়াইয়ে অন্য প্রার্থীরা ছিলেন ডায়ান অ্যাবট, এড বলস আর অ্যান্ডি বারনাম। লড়াইয়ে এড বলস তৃতীয়, অ্যান্ডি বারনাম চতুর্থ ও ডায়ান অ্যাবট পঞ্চম স্থানে ছিলেন।
বড় ভাই ডেভিডের বিরুদ্ধে এডের বিজয়ের ব্যবধান সামান্যই। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডেভিড মিলিব্যান্ড গোড়া থেকেই এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ১ শতাংশের কিছু বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হতে হয়।
গর্ডন ব্রাউনের পদত্যাগের পর লেবার পার্টির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। দলের ভারপ্রাপ্ত নেতা হ্যারিয়েট হারম্যান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগ্রহ দেখাননি।
বিবিসির রাজনৈতিক সম্পাদক নিক রবিনসন বলেন, লেবার পার্টির এমপি এবং দলীয় সদস্যদের ভোটে ডেভিড মিলিব্যান্ড এগিয়ে থাকলেও ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যদের মধ্যে এড মিলিব্যান্ড এগিয়ে ছিলেন।
এড মিলিব্যান্ড গর্ডন ব্রাউন সরকারের জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন।
কনজারভেটিভ পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির জোট সরকার সরকারি খাতে যে কাটছাঁট করতে চলেছে, তা মোকাবিলা করাই লেবার পার্টির নতুন নেতার প্রধান কাজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচিত হওয়ার পর দেওয়া ভাষণে এড মিলিব্যান্ড তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের ধন্যবাদ জানান। পূর্বসূরি গর্ডন ব্রাউন ও টনি ব্লেয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এড মিলিব্যান্ড বলেন, দেশবাসীর প্রতি তাঁর বার্তা একটিই যে, লেবার পার্টি দেশবাসীর আস্থা হারিয়েছিল এবং সে কারণেই তাঁদের মধ্যে এখন পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম নেতৃত্ব নিয়েছে এবং তারা জানে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে হবে।

তাজিকিস্তানে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে মৌলবাদ

মায়ের সঙ্গে বাইরে কোথাও গেলে সবার সামনে বিব্রত বোধ করেন তাঁর ২১ বছর বয়সী ছেলে। কারণ ইসলামি রীতি অনুযায়ী মা শিরাবরণ পরেন না, যা হিজাব নামে পরিচিত। নিজের ছেলের সম্পর্কে এ কথা বলেছেন শইরা শাতমানোভা (৫৩) নামে তাজিকিস্তানের এক নারী।
শাতমানোভা পেশায় একজন সেবিকা। সোভিয়েত-যুগের চালচলনে অভ্যস্ত হওয়ায় হিজাব পরার অভ্যাস নেই তাঁর। কিন্তু হিজাব না পরার কারণেতাঁকে অনেকে বিরূপ দৃষ্টিতে দেখেন। নিজ দেশে এখন নিজেকে পরবাসী মনে হয় শাতমানোভার।
শুধু শাতমানোভাই নন, তাজিকিস্তানের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ইসলামের নামে কট্টরপন্থী ধ্যান-ধারণা তুলে ধরার প্রবণতা ৭৫ লাখ লোকের দেশটিকে জঙ্গিদের অভয়ারণ্যে পরিণত করতে পারে।
শাতমানোভা বলেন, ‘আমি নারীর হিজাব পরার বিপক্ষে নই। যখন হিজাব পরা নারী ও তাঁদের স্বামীরা আমার মতো নারীর বিরুদ্ধাচরণ করেন, তখন আমার খুব খারাপ লাগে। যা এখন ঘটে চলেছে, আমি কেবল এর বিরুদ্ধে বলব।’
মধ্য এশিয়ার এই দেশটিতে টানা দারিদ্র্য বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, ধর্মের নামে মানুষের ওপর সোভিয়েত-ধাঁচের জোর-জুলুম দেশের বিভিন্ন অংশে ইসলামি মৌলবাদের বিস্তার ঘটাচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হলেও তাজিকিস্তানের বেশির ভাগ মানুষ মুসলিম। দেশের সীমান্ত ঘেঁষে রয়েছে রাশিয়া, ইরান, আফগানিস্তান, কিরগিজস্তান ও চীন।
নারীদের মধ্যে জাতীয় পোশাক এড়িয়ে হিজাব পরার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি এর সমালোচনা করেন দেশের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাখমন। তিনি বিদেশের ধর্মীয় বিদ্যালয় থেকে শিশুদের ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানান অভিভাবকদের। রাখমন বলেন, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে তারা ‘সন্ত্রাসী’ হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, আফগানিস্তানে তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে মধ্য এশীয় যেসব জঙ্গি লড়াই করেছে, তাজিকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযোগটাকে তারা কাজে লাগাতে পারে। জাতিগত বিভেদ শেকড় গাড়তে পারে ফারগানা উপত্যকায়। সেখানে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তিনটি দেশ পরস্পর বিরোধে লিপ্ত। কিরগিজস্তানে এপ্রিলের বিদ্রোহের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এর পর থেকে তারা গোলযোগপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত এপ্রিলে সেখানে ব্যাপক সংঘর্ষে প্রায় ৪০০ জন নিহত হয়।
তাজিকিস্তানে সম্প্রতি বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ২৩ জন সেনা নিহত হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশকেকভিত্তিক মধ্য এশিয়ার প্রকল্প পরিচালক পল কুইন জাজ বলেন, কোন দেশে নাশকতামূলক চেষ্টা বুঝতে সহায়তা করে ওই দেশের সরকার কত দুর্বল।

বিশাল আকরিক খনির জন্য দরপত্র ছেড়েছে আফগান সরকার

আফগানিস্তান সরকার সে দেশে নতুন আবিষ্কৃত আকরিক খনির জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। দেশটির খনিমন্ত্রী ওয়াহিদুল্লাহ শাহরানি গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ দরপত্র আহ্বান করেন। আফগানিস্তানের বামিয়ান প্রদেশে অবস্থিত এ খনিতে অন্তত ২০০ কোটি টন আকরিক রয়েছে। ইস্পাত তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে আকরিক।
হাজিগাক নামের এ খনি পৃথিবীর অন্যতম বড় আকরিক খনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। বছরে এ খনিসম্পদ থেকে সরাসরি সরকারিভাবে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার ও পরোক্ষভাবে দেড় শ কোটি ডলার আয় করা সম্ভব।
আফগানিস্তানের খনিমন্ত্রী বলেছেন, ‘হাজিগাক আকরিক খনির জন্য আজ (গতকাল) থেকে দরপত্র গ্রহণ উন্মুক্ত করা হলো।’ সরকারি ওয়েবসাইটসহ অর্থনীতি ও খনিবিষয়ক প্রভাবশালী সব সাময়িকীতে এ দরপত্রসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আফগানিস্তান সরকার গত বছর আকরিক খনি নিয়ে প্রথম দরপত্র আহ্বান করেছিল। সেই সময় একটি বড় প্রতিষ্ঠান এ আহ্বানে সাড়াও দিয়েছিল। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন খনিমন্ত্রীর পদচ্যুতির পর এ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। ওয়াহিদুল্লাহ শাহরানি দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হলো।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিকেরা চলতি বছরের শুরুতে আফগানিস্তানে একটি জরিপ চালিয়েছেন। এ সময় তাঁরা সেখানে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদের সন্ধান পান। এসবের মধ্যে রয়েছে লিথিয়াম, লৌহ, সোনা, ও কোবাল্ট।

জ্বালানি পেলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে ইরান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, তেহরানে মেডিকেল পরমাণু চুল্লির জন্য জ্বালানি সরবরাহ করা হলে তারা উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করবে। বার্তা সংস্থা আইএসএনএ গতকাল শনিবার এ কথা জানিয়েছে।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘বিশ্বশক্তি আমাদের জ্বালানি সরবরাহ করলে আমরা ইউরেনিয়াম ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণের কাজ বন্ধের চিন্তা করতে পারি।’
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহসংক্রান্ত আলোচনায় অচলাবস্থা সৃষ্টির পর গত ফেব্রুয়ারিতে আহমাদিনেজাদ দেশের পরমাণুপ্রধানকে ইউরেনিয়াম ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণের কাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেন।
আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘ইউরেনিয়াম ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণের জন্য আমরা প্রথম দিকে নতুন প্লান্ট স্থাপন করতে চাইনি। আইন অনুযায়ী আইএইএর সদস্যদেশেরই আমাদের জ্বালানি সরবরাহ করার কথা। আমরা সংস্থাকে আমাদের চাহিদা জানিয়েছিলাম। কিন্তু সদস্যদেশগুলো বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক খেলা শুরু করে।’ ইরান এর আগে সাড়ে তিন শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু তারা বলছে, রাজধানীর ওই পরমাণু চুল্লির জন্য ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম লাগবে।
গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে ইরানের কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে তাঁদের আলোচনা সফল হলে তাঁরা উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ বন্ধ করবেন।
ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। তাদের ধারণা, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ইরান বরাবর দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যেই তারা এ কাজ করছে।
পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন। কাজেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরেনিয়াম ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ করে ইরান পরমাণু বোমা তৈরির আরও কাছে পৌঁছে গেছে।
আহমাদিনেজাদ বলেন, চাপাচাপিতে কোনো কাজ হয় না, বরং বিরোধ বাড়ে। কিন্তু আলোচনায় ফল পাওয়া যায়। মুলা ঝুলানোর রাজনীতির আমল শেষ হয়ে গেছে।
ইরানি প্রেসিডেন্ট জানান, আগামী অক্টোবরে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য এবং জার্মানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে। তিনি বলেন, ‘আলোচনার জন্য আমরা প্রস্তুত। ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে।’
তবে আহমাদিনেজাদ জানিয়ে দেন, চাপের কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না। তিনি বলেন, তারা যদি মনে করে, আলোচনার নামে ইরানি জাতির অধিকার পদদলিত করতে পারবে, তাহলে তারা অবশ্যই ভুল করবে।

আহমাদিনেজাদের বক্তব্য আক্রমণাত্মক: ওবামা

জাতিসংঘে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের বক্তব্যকে আক্রমণাত্মক ও ঘৃণ্য বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনও আহমাদিনেজাদের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ভাষণে ৯/১১ হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেন আহমাদিনেজাদ। তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন পশ্চিমা কূটনীতিকেরা।
গত শুক্রবার বিবিসির ফারসি ভাষার একটি অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেন, ‘আহমাদিনেজাদ যেখানে দাঁড়িয়ে এ বক্তব্য দিলেন, তার চেয়ে মাত্র কিছুটা উত্তরে গ্রাউন্ড জিরো। নাইন ইলেভেনের হামলায় হতাহতের বেশির ভাগই ঘটেছিল এখানে। অনেক প্রিয়জনকে হারিয়েছিল মানুষ। ওই ঘটনাকে এই যুগের ট্র্যাজেডির শুরু হিসেবেই দেখে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ। আর সেখানেই দাঁড়িয়ে তিনি এমন মন্তব্য করলেন, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
ওবামার পর জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনও আহমাদিনেজাদের বক্তব্যের নিন্দা করেছেন। গত শুক্রবার তিনি বলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) একটি প্রতিনিধিদলের নেতা ৯/১১ হামলা নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র (ডব্লিউটিসি) ও সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগনে বিমান হামলায় নিহত হয়েছিল প্রায় তিন হাজার মানুষ। এই হামলার জন্য জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদাকেই দায়ী করে মার্কিন সরকার।
জাতিসংঘে ভাষণে আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘মার্কিন সরকারের একটি অংশ এই হামলার পেছনে ইন্ধন জুগিয়েছিল। নাজুক অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও ইহুদি রাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য তারা এ হামলার ষড়যন্ত্র করে।’ ইহুদি রাষ্ট্র বলতে তিনি ইসরায়েলকে বুঝিয়েছেন।
তবে নিজের বক্তব্যে অনড় আহমাদিনেজাদ। আবারও ৯/১১ হামলার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের দাবি তুলে গত শুক্রবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি রায় দিইনি, কিন্তু আপনাদের কি মনে হয় না, জাতিসংঘের অধীনে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের সময় এসেছে? আল-কায়েদা কী, কোথায় তাদের অস্তিত্ব এবং ঘটনার পেছনে কারা ইন্ধন জুগিয়েছে, কারা সমর্থন দিয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে সেই কমিটি। বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আসা দরকার।’
তবে আহমাদিনেজাদের বক্তব্যের নিন্দা জানালেও ইরানি জনগণ সম্পর্কে ওবামা বলেন, ৯/১১ নিয়ে ইরানের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি তাদের প্রেসিডেন্টের থেকে ভিন্ন। ওবামা বলেন, তারাও মোমবাতি জ্বালিয়ে রাতভর প্রার্থনা করেছিল। এ থেকে আবারও এটা প্রমাণিত হয়, ইরানের নেতাদের সঙ্গে দেশের জনগণের চিন্তাচেতনায় ফারাক কত বিস্তৃত।
কাজ শেষ করেই আফাগানিস্তান ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র: বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওবামা জানান, হুট করে আফগানিস্তান ছাড়বে না মার্কিন সেনাবাহিনী, কাজ শেষ করে তবেই তারা ফিরবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আফগানরা নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব যত দিন না নিতে সক্ষম হবে, তত দিন আমাদের সেনাসদস্যরা সেখানে থাকবেন। এখন আমরা দেখছি, আফগান সেনা ও পুলিশ প্রশিক্ষিত হয়ে উঠছে। অবকাঠামো এবং মানুষের জীবনযাপনে অগ্রগতির উদ্দেশ্যে আমরা কার্যকর বেসামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছি।

চীনের এক-সন্তাননীতি সফল না ব্যর্থ?

১৯৬০ থেকে সত্তরের দশকে বেড়ে উঠেছি আমি। তখনকার চীনা সমাজে যে কেউ ইচ্ছেমতো সন্তান নিতে পারতেন। ছয়-সাতজন সন্তানও নিয়েছেন কেউ কেউ। আমার মা-বাবাও চার সন্তান নিয়েছেন। কিন্তু এক-সন্তাননীতি চালু করার পর এই ধারা আর থাকেনি। তাই মা-বাবা আমাকে প্রায়ই রসিকতা করে বলতেন, ‘তুমি হলে আইনের বাইরের লোক। এক-সন্তাননীতির আমলে জন্মালে তুমি বাঁচতে পারতে না।’ কথাগুলো ওয়েলিয়াং নাইয়ের। চীনে বিবিসির সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করছেন তিনি।
চেয়ারম্যান মাওয়ের (মাও সেতুং) সময়কার কথা বলেছিলেন ওয়েলিয়াং নাই। ১৯৪৯ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত চীন শাসন করেছেন তিনি। মাও দ্রুতবর্ধনশীল জনগোষ্ঠীকে চীনের মহাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে ‘উৎপাদনশীল শক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করতেন। কেউ জনসংখ্যা বাড়ার লাগাম টেনে ধরার কথা বললে তাঁর ওপর চটে যেতেন। কিন্তু তাঁর উত্তরসূরি দেং জিয়াওপিং ক্ষমতায় এসেই পুরো চিত্র পাল্টে দিলেন। তাঁর মতে, ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য জনসংখ্যাই মূল সমস্যা।
১৯৮০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো দলটির সব সদস্য ও তরুণ কমিউনিস্ট-কর্মীর কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠায়। চিঠিতে তাঁদের এক সন্তান নিতে আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, এখান থেকেই চীনের বহুল বিতর্কিত এক-সন্তাননীতির সূচনা। গতকাল শনিবার ছিল সেই আলোচিত-সমালোচিত নীতির ৩০ বছর পূর্তি।
অনেক ত্যাগের মধ্য দিয়ে চীনারা তিন দশক ধরে এই নীতির বাস্তবায়ন করে আসছে। তবে ওয়েলিয়াং নাই ও তাঁর পরের প্রজন্মের ওপর দিয়ে খড়্গটা গেছে সবচেয়ে বেশি। ওয়েলিয়াং নাই বলেন, ‘আমার শৈশবের এক বন্ধু দ্বিতীয় সন্তান নিয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে বিষয়টি গোপন রেখেছে। দ্বিতীয় সন্তান তাঁকে সব সময় “চাচা” বলে ডাকে। কখনো ওই সন্তানের মুখে “বাবা” ডাক শুনতে পায়নি আমার বন্ধু।’
চীনা কর্মকর্তারা বলেছেন, এক-সন্তাননীতি অব্যাহত থাকবে। কেননা, এ নীতির ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ কমেছে। তাঁরা বলেন, গত ৩০ বছরে ৪০ কোটি লোক কম জন্মেছে। তবে এ নিয়ে একটি নতুন চ্যালেঞ্জেরও সম্মুখীন হয়েছে চীন। প্রশ্ন উঠেছে, কেবল এক-সন্তাননীতির কারণেই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে কি না?
সম্প্রতি সাউদার্ন উইকেন্ড পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চীনে এক-সন্তাননীতি এখনো দরকার আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শানজি প্রদেশের ইয়েচেং কাউন্টিতে ২৫ বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে দুই-সন্তাননীতি চালু রয়েছে। কিন্তু এর পরও সেখানকার জন্মহার চীনের গড় জন্মহারের চেয়ে কম।
চায়নিজ একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্স গত মাসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, চীন সরকারের উচিত এক-সন্তাননীতি প্রত্যাহার করে নেওয়া। কেননা, অনেক চীনা বিশেষ করে শহরাঞ্চলের লোকজন এমনিতেই কম সন্তানের পক্ষে।
এক-সন্তাননীতির কারণে চীনে একটি সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করতে যাচ্ছে। তা হলো, ভবিষ্যতে চীনা পুরুষেরা বিয়ে করার ক্ষেত্রে পাত্রীসংকটে পড়বেন। কেননা, নারীরা তাঁদের গর্ভস্থ সন্তান মেয়ে হলেই সেই ভ্রূণ নষ্ট করে ফেলছেন। এতে নারী ও পুরুষের সংখ্যার মধ্যে বড় রকমের বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে।
বহুল বিতর্কিত এক-সন্তাননীতি চীন সরকার কবে নাগাদ তুলে নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আগামী মাসেই ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলন বসবে। সেখানে এ নীতির ওপর পর্যালোচনা করা হবে। সম্মেলনে আগামী পাঁচ বছরের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

দ্রুতই সেরে উঠছেন মেসি

প্রথমে শোনা গিয়েছিল চোট সারতে ২৫ থেকে ৪৫ দিন লাগবে। পরে গত সোমবার জানানো হয়, চোটমুক্ত হতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। বাস্তবতা হলো, প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত সেরে উঠছেন লিওনেল মেসি। গত শুক্রবারই যোগ দিয়েছেন অনুশীলনে। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই মাঠে ফিরবেন বার্সেলোনা তারকা।
চোট-শঙ্কার সঙ্গে কেটে গেছে আরও একটি শঙ্কা। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মেসির জাপান সফরে আর কোনো আপত্তি নেই বার্সেলোনার। একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে আগামী মাসে জাপান সফর করবে আর্জেন্টিনা। চোট সত্ত্বেও জাপান সফরের দলে মেসিকে রেখেছেন আর্জেন্টিনার অন্তর্বর্তী কোচ সার্জিও বাতিস্তা। চোটের কথা ভেবে প্রথমে মেসিকে ছাড়তে আপত্তির কথা জানালেও বার্সেলোনা কোচ পেপ গার্দিওলা এখন বলছেন, ‘আমি আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছি। আমি এখন বলছি, মেসি জাতীয় দলের সঙ্গে থাকবে এবং আমি মনে করি, ও ভালোই করবে।’

জয় উপহার পায় বার্সা!

ইংলিশ মিডিয়াকে কাবু করতে তাঁর সময় লেগেছিল মাত্র এক দিন। যে তিন বছর ইংল্যান্ডের ক্লাব ফুটবলে ছিলেন, বাক্যবাণে বিঁধেছেন সবাইকে। অ্যালেক্স ফার্গুসন, রাফা বেনিতেজ, আর্সেন ওয়েঙ্গারদের সঙ্গে জমত বেশ। এরপর ইতালিয়ান ফুটবলেও সোচ্চার ছিল তাঁর কণ্ঠ। লিগ আয়োজক থেকে শুরু করে নিজ ক্লাব ইন্টার মিলানও রেহাই পায়নি সমালোচনার কশাঘাত থেকে। রিয়াল মাদ্রিদে সেদিক দিয়ে খুব একটা মজা হোসে মরিনহো পাচ্ছেন না!
পাবেন কী করে, তাঁর সঙ্গে কথা দিয়ে পাল্লা দেয় এমন কাউকে যে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। অবশ্য তাতে তিনি হাত গুটিয়ে বসে নেই। স্পেনে পা রাখার পর থেকেই এক নম্বর শত্রু বার্সেলোনার দিকে তোপ দাগিয়ে চলেছেন। মরিনহোর নতুন মন্তব্য, লা লিগার বাকি ১৮টি দল নাকি বার্সাকে জয় উপহার দেয়!
পরাজয় নিশ্চিত ধরে নিয়ে বার্সার বিপক্ষে জয়ের চেষ্টা দলগুলো করে না বলেই মন্তব্য করেছেন মরিনহো, ‘দলগুলো যদি বার্সাকে এভাবে ম্যাচ উপহার দিতেই থাকে আমাদের জন্য কাজটা তো কঠিন হয়ে যায়। লিগ জিততে চাইলে আমাদের তাই অনেক বেশি পয়েন্ট হাতে রেখে এগিয়ে থাকতে হবে। আর কোনো কোনো দল যদি এভাবে আগেই হার মেনে নিয়ে দ্বিতীয় সারির দল নামায়, আমাদের তো পয়েন্ট হাতে রাখতে হবে আরও বেশি।’
মরিনহোর সমালোচনার শূলে আসলে স্পোর্টিং গিজন। আগের ম্যাচে ন্যু ক্যাম্পে গিজন ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিল বার্সার। শেষ পর্যন্ত এক গোলে জিতে তিন পয়েন্ট পেয়েছে বার্সা। ওই ম্যাচে গিজন বিশ্রামে রেখেছিল তাদের কজন মূল খেলোয়াড়কে। এতেই চটেছেন মরিনহো।
মরিনহো উষ্মা প্রকাশ করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে স্বার্থপর বলায়, ‘ফরোয়ার্ডকে তো স্বার্থপরই হতে হবে। এটা ইতিবাচক অহংবোধ। যে স্ট্রাইকার অনেক গোল করে তার মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য থাকেই। তবে ক্রিস্টিয়ানোর ব্যাপারে বলব, এসপানিওলের বিপক্ষে আমরা যখন ৩-০ গোলে জয়ের প্রান্তে ছিলাম, তখন ও আমাদের রক্ষণে নেমে এসেছিল কর্নার ঠেকাতে। এতেই বোঝা যায় ও কতটা দল-অন্তঃপ্রাণ।’

ব্রেট লি ঢাকায়

ক্রিকেটার ব্রেট লিকে বাংলাদেশ আগেও দেখেছে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন ক্রিকেট দলের সঙ্গে। কিন্তু ধীরে ধীরে ক্রিকেট থেকে যেভাবে ব্রেট লি সরে যাচ্ছেন, তাতে ক্রিকেটার লিকে আর ঢাকায় দেখতে পাওয়া কঠিন। তার পরও গতকাল ঢাকায় আবার দেখা গেল একসময়ে দুনিয়ার দ্রুততম এই বোলারকে।
ক্রিকেট নয়, সংগীতও নয়; লি এবার এলেন একটি বাণিজ্যিক সংস্থার প্রচারণায়। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান বালাজি গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান উত্তরা ফুডস অ্যান্ড ফিডস প্রাইভেট লিমিটেডের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির একটি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান হবে আজ; সেখানে ভারতীয় কয়েকজন চলচ্চিত্র তারকার সঙ্গে টেনিস তারকা সানিয়া মির্জারও উপস্থিত থাকার কথা। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষেই কাল নগরের একটি হোটেলে হওয়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলীয় পেসার লি।

আবার তেভেজের চেলসি-বধ

সেই কার্লোস তেভেজ। সেই ম্যানচেস্টার সিটি। এবং আবারও জয়। গত মৌসুমে চেলসি দুবার হোঁচট খেয়েছিল ম্যান সিটিতে। এই মৌসুমেও দুর্দান্ত গতিতে ছুটতে থাকা কার্লো আনচেলত্তির দল ১-০ গোলে হেরে গেল তাঁরই স্বদেশি কোচ রবার্তো মানচিনির সিটির কাছে। গত মৌসুমেও সিটি চেলসিকে দুবার হারিয়েছিল তেভেজের গোলেই।
তেভেজদের জয়ের দিনে প্রিমিয়ার লিগে হেরে বসেছে আর্সেনাল। ওদিকে বুন্দেসলিগায় একই দিনে নিজেদের মাঠে মেইঞ্জের কাছে হেরেছে বায়ার্ন মিউনিখ।
আগের পাঁচ ম্যাচে চেলসির ২১ গোল। ৫৯ মিনিটে সেই চেলসিকেই নিস্তব্ধ করে দিয়ে স্বাগতিক গ্যালারি উল্লাসে মাতিয়ে তোলেন তেভেজ। পাল্টা-আক্রমণে মাঝমাঠ থেকে একাই বল টেনে এনে কোনাকুনি শটে জড়িয়ে দেন জালে।
আর্সেনালকে তাদের মাঠে এসে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে গেছে ওয়েস্ট ব্রম; পয়েন্ট তালিকায় ম্যানচেস্টার সিটির ঠিক পরেই, ৫ নম্বরে উঠে এসেছে তারা। নিজেদের মাঠে কোনোক্রমে হার এড়িয়েছে লিভারপুল; সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র (২-২) নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। এই নিয়ে লিগে ছয় ম্যাচে লিভারপুলের থলিতে জমা পড়ল ছয়টি মাত্র পয়েন্ট!
এমন দিনে জার্মানিতে ইতিহাস গড়ার পথে একটা অসাধারণ ধাপ পেরিয়েছে মেইঞ্জ। বুন্দেসলিগায় চলতি মৌসুমের ছয় ম্যাচের ছয়টিই জিতল তাঁরা বায়ার্ন মিউনিখকে হারানোর ভেতর দিয়ে। রেকর্ড করতে আর চাই মাত্র দুটি জয়!

ব্রাদার্সে বিদেশি ফুটবলারের হাট

দুটি আফ্রিকান দল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচ খেলছে মনে করে ভুল করতে পারতেন অনেকে। আসলে ব্যাপারটা তা ছিল না। দুটি দল আফ্রিকান হলেও ম্যাচ খেলার উদ্দেশ্যটা ভিন্ন। মাঠের পাশে বসে থাকা কর্মকর্তাদের নোট বুকে নাম তোলার প্রতিযোগিতায় দারুণ ব্যস্ত তাঁরা!
গোপীবাগে ব্রাদার্স মাঠে কাল বিকেলের ছবি। ২১ জন বিদেশি ফুটবলার দুই ভাগে ভাগ হয়ে খেলছেন। ১৯ জনই আফ্রিকান, দুজন ব্রাজিলিয়ান। বাঁশি হাতে রেফারির ভূমিকায় ব্রাদার্স কোচ খন্দকার ওয়াসিম ইকবাল। টিপটিপ বৃষ্টির মধ্যে খেলা চলছে, এখান থেকেই ব্রাদার্স বেছে নেবে এ মৌসুমে তাদের বিদেশি খেলোয়াড়—ব্রাদার্সের গোটা টেন্ট বেশ উত্তেজিত।
আর্থিক সংকটে জেরবার ব্রাদার্স গত মৌসুমে উন্মুক্ত ট্রায়াল ডেকে স্থানীয় খেলোয়াড় বাছাই করেছিল। এবার বিদেশি ফুটবলাদের ট্রায়াল—ব্রাদার্স এখন ‘ট্রায়াল ক্লাব’ হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে। একসঙ্গে একই দিনে এত বিদেশি ফুটবলারের ট্রায়াল নেওয়ার দৃষ্টান্ত বাংলাদেশে এই প্রথম। কর্মকর্তারা তো এর জন্য ‘কৃতিত্ব’ই দাবি করেছেন।
সব দলের অনুশীলনেই ৪-৫ জন করে বিদেশি (মূলত আফ্রিকান) ফুটবলার পরীক্ষা দিচ্ছেন। তারকায় ঠাসা নবাগত দল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে ২৯ সেপ্টেম্বর যোগ দিচ্ছেন চার সার্বিয়ান। কিন্তু ব্রাদার্সের ‘রেকর্ড’ ভাঙার প্রতিযোগিতায় আর কোনো ক্লাব নামবে বলে মনে হচ্ছে না।
শুধু ২১ জন নন, আরও আট বিদেশি আসার কথার জানালেন এক কর্মকর্তা। ম্যানেজার আমের খান অবশ্য বললেন, ‘ওই আটজনকে আনার প্রক্রিয়া শেষ হলেও সম্ভবত তাদের আনার প্রয়োজন হবে না। এই ২১ জনের মধ্যেই পছন্দ হয়ে যাবে আশা করি।’
২১ জনের ৭ জন করে ক্যামেরুন ও ঘানার। ৫ জন নাইজেরিয়ার, ২ জন ব্রাজিলের। এবার ৫ জন বিদেশি নেওয়ার সুযোগ আছে প্রতি দলের। পছন্দ হওয়া খেলোয়াড়দের চুক্তিবদ্ধ করবে ক্লাব এবং শুধু তাঁদেরই বিমান খরচ দেওয়া হবে। অন্যদের জন্য আসার খরচটা খেলোয়াড়দের নিজস্ব বিনিয়োগই। থাকা-খাওয়ার খরচ আমন্ত্রিত ক্লাবের।
ট্রায়াল দেখে বিদেশি ফুটবলার নেওয়ার রীতি চালু হয়েছে কয়েক বছর আগে। একসময় বিদেশে গিয়ে খেলোয়াড় পছন্দ করতেন ক্লাব কর্মকর্তারা। এখন ফিফা এজেন্ট আছে, তারাই খেলোয়াড় সরবরাহ করে। কিন্তু ট্রায়াল দিতে আসা খেলোয়াড়েরা ভালোমানের হলে তো ট্রায়াল দিতেন না—এমন অভিমত আছে ফুটবল অঙ্গনে।
ব্রাদার্সের বিদেশি খেলোয়াড় বাছাইয়ে তিন নির্বাচকের অন্যতম জাতীয় দলের সাবেক কোচ হাসানুজ্জান খান (বাবলু) গোটা ব্যাপারটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, ‘এত খেলোয়াড় থেকে আমরা পছন্দ করে নিচ্ছি, এটা ক্লাবের জন্য বড় সুবিধা। প্রথম দিনে একজন ব্রাজিলিয়ানসহ তিনজনকে ভালোই মনে হয়েছে আমার।’
এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করলেন আরেক নির্বাচক শহিদউদ্দিন আহমেদ সেলিম। তাঁর কথা, ‘এটা অভিনব পদ্ধতি। ঝাঁকে ঝাঁকে বিদেশি ফুটবলার আসছে, ট্রায়াল দিচ্ছে—বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের জন্য খুবই ভালো খবর এটা। এতে লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে।’ আরও দু-এক দিন ট্রায়াল দেখে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানালেন আরেক নির্বাচক আবু নোমান (নান্নু)। কোচ ওয়াসিম ইকবালও আরও ট্রায়াল দেখার কথা বললেন, তবে প্রথম দিনে তাঁরও পছন্দ হয়েছে তিন-চারজনকে।
নতুন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সোজা হয়ে উঠে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে ব্রাদার্স। ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মাসুম আলী বলছিলেন, ‘এবার আমরা ভালো করার আশা রাখি।’ সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদের (মহি) দাবি, ‘ব্রাদার্স এবার ব্রাদার্সের মতোই মাঠে থাকবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই করছি আমরা।’ বিদেশি খেলোয়াড়দের অভিনব ট্রায়ালটা তো তারই অংশ।

বেকহামের ম্যাচে হারল গ্যালাক্সি

মাঠে আগেও দুই দিন নেমেছেন। কিন্তু বদলি হিসেবে নেমে দুই ম্যাচে মাঠে কাটিয়ে ছিলেন মোটে (২০+৩৭) ৫৭ মিনিট। তবে এবার আর পরীক্ষামূলক বদলি হিসেবে নেমে মাঠে কয়েক মিনিটের ছোটাছুটি নয়, শুরুর একাদশের সঙ্গী হয়ে পুরো ৯০ মিনিটই খেলে ফেললেন ডেভিড বেকহাম।
লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সির হয়ে সর্বশেষ পুরো ম্যাচ খেলেছিলেন আগের মৌসুমে মেজর লিগ সকারের ফাইনালে। তার পর থেকেই অ্যাকিলিস ইনজুরির সঙ্গে সংগ্রাম আর মাঠের বাইরে বসে ফেরার প্রতীক্ষা। নিন্দুকদের মুখে ছাই দিয়ে সেই বেকহাম আবার গ্যালাক্সির হয়ে পূর্ণ ম্যাচ খেললেন পরশু। ‘৯০ মিনিট খেলাটা ছিল দারুণ ব্যাপার’—ম্যাচের পুরোটা সময় খেলতে পেরে বেকহাম খুবই খুশি।
বেকহাম খুশি বটে; তবে সেই খুশির উল্টো পিঠেই একটা হতাশা। ম্যাচে তাঁর দল এলএ গ্যালাক্সি যে ০-২ গোলে হেরে গেছে রেড বুলসের কাছে! এই রেড বুলসেই নাম লিখিয়েছেন থিয়েরি অঁরি। ফলে শুক্রবারের ম্যাচটি গ্যালাক্সি-রেড বুলস লড়াইয়ের চেয়েও বেশি করে প্রতিষ্ঠা পায় বেকহাম বনাম অঁরির লড়াই হিসেবে।
দুঃখের বিষয়, বেকহাম-অঁরির সম্মুখযুদ্ধ উপভোগ করা থেকে বঞ্চিত হয়েছে গ্যালারিতে উপস্থিত ২৭ হাজার দর্শক। কারণ ম্যাচে বেকহামের পুনর্জন্ম হলেও চোটের কারণে অঁরি ছিলেন মাঠের বাইরে।
দল হারলেও বেকহাম মাঠে ঠিকই চেনাতে পেরেছেন নিজেকে। মৌসুমে প্রথম পূর্ণ ম্যাচ খেলতে নেমেই প্রমাণ করেছেন—এখনো ফুরিয়ে যাননি। গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন, বাঁক খাওয়ানো ফ্রি-কিকে হতভম্ব করেছেন প্রতিপক্ষকে। তবে নেতিবাচক ঘটনাও আছে। প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে গুরুতর ট্যাকল করে দেখেছেন হলুদ কার্ড।

ক্ষমা চাইবেন না ইজাজ বাট

পাকিস্তান-ইংল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে জড়িত ছিল—পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান ইজাজ বাটের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর কাছ থেকে নিঃশর্ত ক্ষমা দাবি করেছিল ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। এমনকি ক্ষমা না চাইলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল ইসিবি। তবে নিজের অবস্থানে অনড় আছেন ইজাজ বাট। পিসিবি-প্রধানের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতের অন্যতম ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।
ইজাজ বাটের এ মন্তব্যে ইংলিশ ক্রিকেটারদের মানহানির অভিযোগ এনে পিসিবির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু এমন কোনো মন্তব্যই ইজাজ বাট করেননি বলে দাবি করলেন পিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার নাদিম সারওয়ার। পাকিস্তানি সংবাদপত্র জংকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, পিসিবির চেয়ারম্যান কী বলেছেন সেটা সবার মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত ছিল। তিনি সরাসরি কারও বিরুদ্ধেই ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ করেননি। সুতরাং, ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসছে না।