Sunday, May 26, 2019

ইরান-আমেরিকা উত্তেজনা: ইমরান খানের হুঁশিয়ারি

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। একইসঙ্গে তিনি সম্ভাব্য যুদ্ধের ঝুঁকি সম্পর্কে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের নতুন করে আর কোনো যুদ্ধের ভার বহন করার ক্ষমতা নেই। ফলে দুপক্ষকেই সর্বোচ্চ সংযমের পরিচয় দিতে হবে।
ইমরান খানের কার্যালয় থেকে গত শুক্রবার দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেকোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে যুদ্ধ কোনো সমাধান হতে পারে না। তিনি বলেন, সম্ভাব্য এ যুদ্ধ কারো স্বার্থ রক্ষা করবে না। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরতে হবে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ দুদিনব্যাপী পাকিস্তান সফরের পর ইমরান খান এ বক্তব্য দিলেন। সফরের সময় জাওয়াদ জারিফ পাক প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সফরে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন বলদর্পিতা মোকাবেলার উপায় নিয়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
পারস্য উপসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী

দায়মুক্তি চান নেতানিয়াহু; তেল আবিবে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তেল আবিবে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। গতকালের বিক্ষোভে প্রায় এক লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে বলে কোনো কোনো সূত্র দাবি করেছে।
নেতানিয়াহু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নিজের জন্য দায়মুক্তির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি সুপ্রিমকোর্টের ক্ষমতা খর্বের ষড়যন্ত্র করছেন বলে খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর এই বিক্ষোভ হলো।
বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, নেতানিয়াহু হচ্ছেন দুর্নীতিবাজ প্রধানমন্ত্রী। তিনি এখানে এক ব্যক্তির শাসন চালুর চেষ্টা করছেন। তবে তাকে এ সুযোগ দেওয়া হবে না।
গত এপ্রিলে পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন নেতানিয়াহু। নতুন মেয়াদ শুরুর পর এই প্রথম তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হলো। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে তিনটি মামলা চলছে। এসব মামলা থেকে রেহাই পেতেই দেশটির পার্লামেন্টকে কাজে লাগিয়ে তিনি সুপ্রিমকোর্টের ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা করছেন বলে বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন।
আগামী অক্টোবরে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে হাজির হতে হবে। অভিযোগ রয়েছে, নেতানিয়াহু নিজে ঘুষ নেওয়ার পাশাপাশি অন্যকেও ঘুষ দিয়েছেন।

সৌদি বিচার প্রক্রিয়া: জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়, অতঃপর শিরশ্ছেদ

সৌদি আরবে সরকারবিরোধী অথবা সংখ্যালঘু নিরাপরাধ ব্যক্তিদের কাছে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের মধ্য দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ভয়াবহ বাস্তবতা উঠে এসেছে সিএনএন-এর এক অনুসন্ধানে। ক’দিন আগে রিয়াদের পক্ষ থেকে যে ৩৭ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে ২৫ জনের বিচার কার্যক্রমের নথি হাতে পেয়েছে ওই মার্কিন সংবাদমাধ্যম। নথিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে। সরকারবিরোধী প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ১৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী গড়ে তোলার কথিত অপরাধে। শিরশ্ছেদের শিকার ওই ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিয়া মুসলিম।
গত ২৩ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সৌদি আরব ৩৭ জন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। রিয়াদ, মক্কা, মদিনা, সংখ্যালঘু শিয়া অধ্যুষিত পূর্বাঞ্চল প্রদেশ ও প্রধানত সুন্নি অধ্যুষিত অঞ্চল কাসিমে এ শিরশ্ছেদ করা হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর একজনকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। অন্যদের প্রতি সতর্কবাণী হিসেবে এ দৃশ্য প্রদর্শন করা হয়। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএর খবর অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদে জড়ানো, চরমপন্থী মতাদর্শ পোষণ, দুর্নীতি এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য সন্ত্রাসী সেল গঠনের কারণে তাদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে।
২০১৬ সালে শুরু হওয়া তিনটি বিচারিক নথিতে ওই ৩৭ জনের মধ্যে ২৫ জনের তথ্য পেয়েছে সিএনএন। আদালতের নথি বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিরেশ্ছেদর শিকার হওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানিয়েছিলেন। জবানবন্দিতে তারা দাবি করেছিলে, নির্যাতনাকারীরাই তাদের স্বীকারোক্তি লিখে দিয়েছিল। কেউ কেউ জিজ্ঞাসাবাদ কালে নির্যাতনের প্রমাণ তুলে ধরেন। দণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন মুনির আল-আদম নামের ২৭ বছর বয়সী একজন। তিনি শারীরিকভাবে অন্ধ ও বধির। প্রাণভিক্ষার আবেদনে তিনি বলেন, ‘স্বীকারোক্তির লেখা আমার নয়। আমি কোনো স্বীকারোক্তি লিখিনি। এই অপবাদ জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তা নিজ হাতে লিখেছেন।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, শিরশ্ছেদ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। সর্বকনিষ্ঠের নাম আব্দুল কারিম আল-হাওয়াজ। তাঁর বিরুদ্ধে ১৬ বছর বয়সে সহিংস বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। আল-হাওয়াজের মৃত্যুদণ্ডাদেশের খবরে কড়া সমালোচনা করে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে তাঁর মুক্তিতে সৌদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। আরেক অপ্রাপ্তবয়স্কের নাম মুজতবা আল-সুয়েকাত। বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ২০১২ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। মুজতবা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টার্ন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতে চেয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার উদ্দেশে দাম্মাম বিমানবন্দরে এলে তিনি গ্রেপ্তার হন।
অবশ্য বিচার নিয়ে এসব নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি দেশটির সরকার। তবে এক সরকারি কর্মকর্তা শিরশ্ছেদের দিন সিএনএনকে বলেন, অনেক আগে থেকেই সৌদি আরব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। যারা সন্ত্রাস ছড়ায়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় এবং আমাদের মূল্যবোধ নষ্ট করে, তাদের কোনো ছাড় নেই। যাদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল এবং তাঁরা সেখানে দোষী সাব্যস্ত হন।’
সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএর তথ্য অনুযায়ী, এই ৩৭ জনকে নিয়ে সৌদি আরবে এ বছর অন্তত ১০০ জনের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাব অনুযায়ী গত বছর শিরশ্ছেদ করা হয় ১৪৯ জনের।

এখন জানা গেল তিনি টাউট

ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে থেকে এক ভুয়া নারী আইনজীবীকে গত ১২ মে রোববার আটক করেছে ‘টাউট উচ্ছেদ কমিটি’। আটক হওয়া ভুয়া নারী আইনজীবীর নাম মোসাম্মৎ মৌ। যিনি আদালত পাড়ায় সুফিয়া খানম রিমি নামে পরিচিত। আইনজীবী হয়েছেন জানিয়ে গত ডিসেম্বরে আইনজীবী সহকর্মীদের পাঁচ কেজি মিষ্টি খাইয়েছেন। ৭ বছর ধরে নিয়মিত আদালতে প্র্যাকটিস করছেন মোসাম্মৎ মৌ। অনেক বিচার প্রার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষাধিক টাকা। চিত্রনায়ক ফারুক, শাকিব খান, সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে রয়েছে তার নানা রকমের ছবি। তিনি সুফিয়া খানম নামে একজনের পরিচয়পত্র নম্বর ব্যবহার করে ঢাকা আইনজীবী সমিতির জাল পরিচয়পত্র বানিয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে ভুয়া আইনজীবী হয়েও সর্বশেষ ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ইলেকশন কমিটিতে ছিলেন মৌ। তিনি কিভাবে ইলেকশন কমিটির সদস্য হলেন এ বিষয়ে সঠিক উত্তর দিতে পারেননি কেউই।
সর্বশেষ ঢাকা বারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্বে থাকা মোখলেছুর রহমান বাদল মানবজমিনকে বলেন, মৌকে আমি চিনতাম। তবে সে যে ভুয়া আইনজীবী সেটা জানতাম না। আর এবারের নির্বাচনে সে আমাদের কোন কমিটিতে ছিল না।
মোসাম্মৎ মৌ নির্বাচনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কমিশনের বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত ছিল বলে দাবি করেছেন টাউট উচ্ছেদ কমিটির অন্যতম সদস্য ও ঢাকা বার আইনজীবী সমিতির সদস্য এডভোকেট ইব্রাহিম খলিল। তিনি বলেন, পুরো নির্বাচনে মৌ ইলেকশন কমিটির পক্ষে কাজ করেছে। নির্বাচনের দিন ৮ং বুথে সারাদিন ছিল সে। তার কোনো আইনের ডিগ্রি নেই। অথচ সাত বছর ধরে আইনজীবী   পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির আইডি কার্ডও জাল করেছেন। টাউট মৌয়ের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ঢাকা বার অফিস সূত্র মতে, গত ১ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ২১ জন টাউটকে আটক করেছে টাউট উচ্ছেদ কমিটি। ২০১৬ সালে ৮ জন, ২০১৭ সালে ৩১ জন, ২০১৮ সালে ১৯ জন টাউট আটক করে এই কমিটি। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টও টাউট মুক্ত নয়। বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির তিন বছর পর লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হতে হয়।
চলতি সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট বার ৭ জন টাউটকে আটক করেছে। এর মধ্যে তানজিমা তাসকিন আদুরীকে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে শুনানি অবস্থায় আটক করে সুপ্রিম কোর্ট বারের কেস ম্যানেজমেন্ট কমিটি।  গত বৃহস্পতিবার আটক করা হয়েছে চারজনকে। মোসাম্মত সাবিনা নামে এক নারী মুহুরিকে (ক্লার্ক) ‘আমি টাউট’ লেখা সাদা ব্যাজ পরিয়ে পুরো বার ভবন ঘুরানো হয়। এছাড়া আবুল বাশার ও মো. ইমদাদুল হক নামের দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর টাউট প্রমাণিত হওয়ায় উত্তেজিত আইনজীবীদের অনেকে মারধর করেছেন। সুবোধ চক্রবর্তী। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী পরিচয়ে কাজ করছিলেন ঢাকার আদালত পাড়ায়। বিচার প্রার্থীদের কাছ থেকে মামলা নিয়ে অর্থ উপার্জন করেছেন প্রচুর। অবশেষে জানা যায় তিনি আইনজীবী নন। ভুয়া পরিচয়ে গত পাঁচ দশক আইন পেশায় রয়েছেন। ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাঁড়াশি অভিযানে গত ২৯ এপ্রিল ধরা পড়ে তিনি এখন কারাগারে।
ভুয়া আইনজীবীরা আইনের পরিভাষায় টাউট নামে পরিচিত। আইনের ডিগ্রি নেই অথচ আইনজীবী পরিচয় দিচ্ছেন এমন লোকদের আইনজীবীরা টাউট নামে ডাকেন। পুরান ঢাকার আদালত পাড়াকেন্দ্রিক ভুয়া আইনজীবী ও টাউটদের আনাগোনা বেশি। ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ও ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত বিশাল এলাকা নিয়ে হওয়াতে এখানে টাউটরা সহজে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যান। কে আইনজীবী আর কে টাউট তা সনাক্ত করা কঠিন হলেও ঢাকা বার ‘টাউট উচ্ছেদ কমিটি’ নামে টাউটদের পাকড়াও করে আসছে। আদালত পাড়ায় গেলেই দেখা মেলে টাউটদের থেকে সতর্ক থাকতে নানা বিজ্ঞপ্তি। ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নতুন ভবনের সামনে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি টানিয়েছে ঢাকা বার ও মহানগর বার। এতে বলা হয়েছে কেউ এলএলবি পাস বা ইন্টিমেশন জমা না দিয়ে আদালত অঙ্গনে পোশাক পরে ঘোরাফেরা করলে টাউট হিসিবে চিহ্নিত হবেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সমিতি। মহানগর বারের সাধারণ সম্পাদক টাউটদের থেকে সতর্ক থাকতে বিচার প্রার্থীদের প্রতি আহবান জানিয়ে আলাদা বিজ্ঞপ্তি টানিয়েছেন।

নেতাদের আবেগে আটকে গেল রাহুল মমতার পদত্যাগ by পরিতোষ পাল

লোকসভা নির্বাচনে নিজ দলের বিপর্যয়ে চরম ধাক্কা খান কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এরফলে মুষড়ে পড়েন। এ অবস্থায় রাহুল গান্ধী কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন।
আর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দলের দায়িত্বে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দুজনের ক্ষেত্রেই তা হতে দেননি দলের নেতারা। রাহুলের পেছনেও এসে দাঁড়িয়েছে দল, মমতার পাশেও এসে দাঁড়িয়েছেন দলীয় নেতারা। নির্বাচনের ফল নিয়ে দিল্লিতে বৈঠকে বসেছিল কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি। আর কলকাতায় কালীঘাটের বাড়িতে নির্বাচনী ফল পর্যালোচনা বৈঠকে বসেছিলেন মমতা। নির্বাচনে পরাজয়ের দায় মাথায় নিয়ে শনিবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রাহুল গান্ধী সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেবার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। দলের সব নেতারা তা খারিজ করে দিয়েছেন। দল শেষ পর্যন্ত আস্থা রেখেছে রাহুল গান্ধীর উপরেই। তাকে আরও বেশি ক্ষমতা দেয়া হয়েছে দলকে শক্তিশালী করতে। এ অবস্থায় নেতাদের আবেগে আটকে গেলো রাহুল ও মমতার পদত্যাগ।
এদিকে, লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দলের সাফল্য-ব্যর্থতা পর্যালোচনায় শনিবার বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি তার হতাশা ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে সে কথা জানিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেছেন, পাঁচ মাস আমাকে কাজ করতে দেয়া হয়নি। তিন মাস ধরে নির্বাচন চলছে। তার আগে দুমাস ধরে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছিল কমিশন। অপমানিত বোধ করছি। এই পরিবেশে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থাকতে চাই না, দলের সভানেত্রী থাকতে চাই। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, চেয়ার আমার কাছে কিছু নয়। আগেও অনেকবার ছেড়ে এসেছি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার মানসিকতা নেই। বৈঠকে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেবার কথা দলকে সারাদিন ধরে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তবে দল কিছুতেই তা মেনে নেয়নি বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন।
সেইসঙ্গে মমতা এদিন প্রকাশ্যেই বলেছেন, একটাই শর্তে মুখ্যমন্ত্রী থাকতে রাজি, যদি সবাই একজোট হয়ে কাজ করে। এদিন দলের মধ্যেই বিশ্বাসঘাতক রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মমতা। তৃণমূল কংগ্রেসের কেউ কেউ বিজেপির কাছ থেকে টাকা চেয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মমতার গলায় ছিল হতাশার সুর। তিনি বলেছেন, যারা আমাদের ভোট দেননি তারা নিশ্চয়ই অপছন্দ করেন। এটা আমার বিবেকে লেগেছে। হতাশার সঙ্গে তিনি বলেন, উন্নয়নের কোনো মূল্য নেই। মানুষের কাজ একটু বেশি করে ফেলেছিলাম মনে হচ্ছে। মমতার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে কোনো কাজ করতে দেয়া হয়নি। রাজ্যে এমার্জেন্সির মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। সে সঙ্গে তিনি কিছুতেই সাম্প্রদায়িক ও টাকার এই নির্বাচনকে মেনে নিতে পারছেন না বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র টাকার কাছে বিকিয়ে গেলে সেই গণতন্ত্র বিপর্যস্ত হয়ে যায়। এ রকম আগে কখনও হয়নি। মমতা বলেছেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদ মানি না। সহনশীলতা থাকা উচিত। রাজনীতির সঙ্গে ধর্ম মিশবে না। তিনি আরও বলেছেন, হিন্দু, মুসলিম, শিখদের মধ্যে ভোট ভাগাভাগি মানব না, তাতে একা থাকতে হলেও থাকব।
তিনি নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ করে বলেছেন, বিজেপি নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করেছে। সংবাদ মাধ্যমও বিজেপির হয়ে কাজ করেছে। মমতার কথায়, নির্বাচন কমিশনই এই নির্বাচনের ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’। ‘ওপেন গেম’ খেলেছে ওরা। সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে বিজেপি জিতেছে বলে দাবি করেছেন মমতা।
এদিন দলীয় পর্যালোচনা বৈঠকে বিজেপির কাছে তৃণমূল কংগ্রেসকে কেন এত বেশি আসন খোয়াতে হলো, কোথায় কী ত্রুটি হয়েছিল এবং এই ক্ষয় মেরামত হবে কীভাবে, সব নিয়েই এই আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। দলীয় সংগঠনেরও এদিন তিনি বেশ কিছু রদবদল করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, আমি এখনও বিশ্বাস করি, ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইতে নেতৃত্ব দেবে বাংলা। মানুষ ওদের বিশ্বাস করবে না। আমি ভবিষ্যৎবাণী করছি না। কিন্তু মানুষের আসলটা বুঝতে একটু সময় লাগবে। উল্লেখ্য, এবারের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মতো তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গে বিজেপির বিপুল উত্থান হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটের হার বাড়লেও আসন সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এবার তারা পেয়েছে মাত্র ২২টি আসন। সেখানে ভোটের হারে যেমন তেমনি আসন সংখ্যাতেও বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের কাছাকাছি চলে এসেছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিধানসভার ১২৯টিতেই তৃণমূল বিজেপির কাছে পিছিয়ে পড়েছে।
অন্য দিকে, লোকসভার নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাহুলের ইস্তফা নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। এদিনের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, মনমোহন সিংহসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেছেন, রাহুল গান্ধী দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সর্বসম্মতিভাবে সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে ওয়ার্কি কমিটি। তিনি জানিয়েছেন, কমিটির সবাই সহমত প্রকাশ করে বলেছেন, চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে রাহুলের নেতৃত্ব দরকার। যুবক, কৃষক, মহিলা ও পিছিয়ে পড়া, সংখ্যালঘু, শোষিতদের সমস্যার সমাধানে তাকে এগিয়ে যেতে হবে। কংগ্রেস সভাপতি সংগঠনের আমূল পরিবর্তন ও বিস্তৃত করুন। এদিনে সাংবাদিক বৈঠকেও কংগ্রেস নেতারা রাহুলের পক্ষ নিয়ে একের পর এক ওকালতি করে গেছেন। গুলাম নবি আজাদ বলেছেন, হারজিত থাকে। কিন্তু সামনে থেকে লড়াই করেছেন রাহুল। তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। মানুষের মনে বিশ্বাস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
হারের দায় স্বীকার করে ইস্তফা দিতে চান তিনি। কিন্তু এই প্রথম দেখলাম, সর্বসম্মতভাবে নেতারা আপত্তি করলেন। রাহুলকে বলেছি, আপনার নেতৃত্বে সবাই কাজ করবেন। আমরা অনুরোধ করছি, নিজের মতো করে আপনি বদল করতে পারেন। আরেক বলিষ্ঠ নেতা একে অ্যান্টনি বলেছেন, কংগ্রেসের বিপর্যয় হয়েছে- এমনটা নয়। প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করবে দল। কমিটিতে শুধু সাধারণ নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের তুলনায় কংগ্রেস ৮টি আসন বাড়াতে পারলেও কংগ্রেসের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে নানা কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে না পারায়।
রাহুলের ‘চৈকিদার চোর হ্যায়’ স্লোগানও ফ্লপ করেছে। কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলসহ ১৭টি রাজ্যে পুরোপুরি ধরাশায়ী হয়েছে কংগ্রেস। যে ছত্তিসগড়, রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশে বিধানসভার জয় কংগ্রেসকে লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করার বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছিল, সেই তিন রাজ্যেই মোদি ঝড়ে উড়ে গেছে রাহুলের ক্যারিশমা। ছত্তিসগড়ে ২টি, মধ্যপ্রদেশে ১টি এবং রাজস্থানে তো কোনো আসনই পায়নি কংগ্রেস। উল্লেখযোগ্য ফল বলতে তামিলনাডু ও পাঞ্জাব, যেখানে কংগ্রেস আটটি করে আসন পেয়েছে। তবে ফল প্রকাশের পরই নাকি রাহুল ইস্তফা দেয়ার কথা ভেবেছিলেন। মা সোনিয়াসহ দলের নেতারা তাঁকে বুঝিয়েছেন। আর শনিবার গোটা দল তার পেছনে দাঁড়িয়েছে।
সরকার গঠনের দাবি জানালেন মোদি
ভারতে নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) নেতা নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি। গতকাল রাতে রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্র্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করে দেশের বৃহত্তম জোটের নেতা হিসেবে সরকার গঠন করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে কবে নাগাদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি শপথ নেবেন তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২৮ কিংবা ৩০শে মে সরকার গঠন হতে পারে। এদিন সন্ধ্যাতেই সংসদের সেন্ট্রাল হলে বিজেপিসহ এনডিএ-র সব শরিক দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এনডিএ-এর সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করেছেন নরেন্দ্র মোদিকে। বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি আমিত শাহ নরেন্দ্র মোদির নাম প্রস্তাব করেছিলেন। তারপরেই সকলে মোদিকে সমর্থন করেছেন। এবারের নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট রেকর্ড ৩৫৪টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জানা গেছে, মোদি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার আগে এনডিএ-র শরিক দলের নেতারা আলাদাভাবে রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করে মোদির প্রতি তাদের সমর্থনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন। এদিকে এদিন বিকালেই নির্বাচন কমিশনের তিন কমিশনার রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দিয়েছেন লোকসভার ৫৪২টি আসনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা। সেইসঙ্গে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ধারা অনুযায়ী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নামের যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে তারও অনুলিপি তুলে দিয়েছেন।
এদিকে, সপ্তদশ লোকসভা এবং নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করতে ভারতের ষোড়শ লোকসভা ইতিমধ্যেই ভেঙে দেয়া হয়েছে। গতকাল রাষ্ট্রপতি ভবনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সুপারিশ অনুযায়ী ষোড়শ লোকসভা ভেঙে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, শুক্রবার ভারতের মন্ত্রিসভা লোকসভা ভেঙে দেবার যে সুপারিশ পাঠিয়েছেন তাকে রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন। সেইসঙ্গে আরো জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের পদত্যাগপত্রও গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন। অন্যদিকে জানা গেছে, প্রোটেম স্পিকার নির্বাচিত হতে চলেছেন বেরিলি থেকে নির্বাচিত প্রবীণ সংসদ সদস্য সন্তোষ কুমার গাঙ্গোয়ার। তিনিই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে আইন আছে মামলা নেই by জিয়া চৌধুরী

খাদ্যে ভেজাল নিয়ে দেশজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় বিশেষ করে রমজান মাসে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে তোড়জোড় শুরু হয়। বিভিন্ন সরকারি ও সেবা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে একের পর এক বের হতে থাকে ভেজাল খাবার উৎপাদন কারখানার হদিস, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করা হয় লাখ লাখ টাকা। এত কিছুর পরও থামানো যাচ্ছে না খাদ্যে ভেজাল। তবে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ভেজাল কারবারিদের বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য ও পেনাল কোডের নিয়মিত আইনে মামলা না হওয়া বড় বাধা বলে মনে করছেন পরিবেশ ও নিরাপদ খাদ্য আন্দোলনের কর্মীরা। তারা বলছেন, প্রচলিত আইনে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা গেলে খাদ্যে ভেজাল দেয়া অনেকটা বন্ধ করা সম্ভব।
ভেজাল খাবার উৎপাদক, বিপণনকারী এমনকি মিথ্যা তথ্য দিয়ে কোন খাবারের বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করলে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা করতে  পারবেন যে কোন নাগরিক। এছাড়া, খাবারের মান নিয়ন্ত্রক ও তদারকি সংস্থাগুলোও অপরাধ আমলে নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শেষে মামলা করতে পারবে। তবে, দেশের অন্তত ২৫টি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওইসব জেলায় নিরাপদ খাদ্য আইন কার্যকরের পর থেকে উল্লেখ করার মত কোন মামলাই হয়নি। দেশের ৬৪টি জেলার কমপক্ষে ৪০টি জেলায় নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ আমলে নিয়ে কোন মামলা হয়নি। কেবল ঢাকা ও চট্টগ্রামের মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতের অধীনে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেটদের খাদ্য আদালতে সবমিলিয়ে শ’খানেক মামলা হয়েছে। নানা জটিলতায় এই তিনটি আদালতেও চলমান মামলাগুলো সঠিক গতিতে এগোচ্ছে না।
এদিকে, নিরাপদ খাদ্য আইনে সব জেলা ও মহানগরে একটি বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত গঠনের কথা থাকলেও বেশিরভাগ জেলায় এর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সাধারণ মানুষও মামলা দায়ের প্রক্রিয়া ও আদালত বিষয়ে অবগত নয়। মূলত নিরাপদ খাদ্য আইন কার্যকরের পর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিক প্রচারণার অভাবে আইনের বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে উঠেনি বলে জানান আদালত সংশ্লিষ্টরা। রাষ্ট্রের যে কোন নাগরিক চাইলে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা করতে পারবেন সেটাও তেমনভাবে প্রচার করা হয়নি। গত এক সপ্তাহে ঢাকার বাইরের বেশ কয়েকটি জেলায় নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা দায়েরের তথ্য খোঁজা শুরু করেন এই প্রতিবেদক। রাজশাহী, যশোর, বগুড়া, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, বরগুনা, মানিকগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, চাঁদপুর, ফেনী, কুমিল্লা ও বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নিরাপদ খাদ্য আইনে কোন মামলা হয়নি। আদালত সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে খাদ্য পরিদর্শকরা খাবারের মান যাচাই করে অপরাধ আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে আদালতে অভিযোগ করার এখতিয়ার রাখেন।
যেসব এলাকায় খাদ্য পরিদর্শক নেই সেসব জেলায় স্যানিটারি পরিদর্শকরাও চাইলে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা করতে পারবেন। এছাড়া, নগর মহানগর এলাকায় সিটি করপোরশেন ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষও চাইলে ভেজাল খাদ্য উৎপাদক ও বিপণনকারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন। কিন্তু ২০১৫ সালের ১৬ই জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপণের মাধ্যমে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩’ কার্যকরের পর থেকে বেশিরভাগ জেলায় ও মহানগরে মামলা দায়েরে উদ্যোগী হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আদালত সূত্র জানায়, তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়াতেই আগ্রহ মামলা দায়েরকারী কর্মকর্তাদের।
তাছাড়া, সাধারণ মানুষকে নিরাপদ খাদ্য আইনের বিষয়ে সচেতন করতে না পারায় বিভিন্ন জেলায় কোন ধরনের মামলা হয়নি। খাদ্যে ভেজাল ঠেকাতে আইনের পাশাপাশি বিচারের জন্য ‘বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত’ গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি জেলার প্রথম আমলি আদালত ও মহানগরে নির্দিষ্ট একটি আদালতকে ‘বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত’ হিসেবে ঠিক করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আইন-আদালত করার তিন বছরেও রাজশাহীতে এই আদালতে একটি মামলাও দায়ের হয়নি। গত ২৭শে এপ্রিল রাজশাহীতে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’ এর প্রয়োগ ও করণীয়’ শীর্ষক এক কর্মশালায় রাজশাহীর জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলম বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইন কার্যকরের পর রাজশাহীতে এ আইনে একটি মামলাও দায়ের হয়নি। তার মানে আমরা নিরাপদ খাদ্য পাচ্ছি অথবা ভেজাল খাবারই খাচ্ছি-বিষয়টি এমন নয়। তিনি বলেন, এই আইনের আশ্রয় নেয়ার ক্ষেত্রে ভোক্তাদের সচেতনতার অভাব রয়েছে।
মূলত ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর প্রণয়ণ করা হয় ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’। ২০১৫ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি আইনটি কার্যকর করা হয়। এরপর ওই বছরের ৩০শে জুন এক প্রজ্ঞাপনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার বিভাগ রাজশাহীর জন্য ১ নম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও মহানগর এলাকার জন্য ২ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে ‘বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত’ হিসেবে নির্ধারণ করে। কিন্তু আইন কার্যকরের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এসব আদালতে একটি মামলাও দায়ের করা হয়নি। ওই কর্মশালায় জেলার সিভিল সার্জন ডা. কাজী মিজানুর রহমান বলেন, জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষায় আইনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিভিল সার্জন হিসেবে নতুন যোগ দেয়ায় নিজেই আইনটি সম্পর্কে জানতেন না।
এমনকি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে স্যানিটারি ইন্সপেক্টররা এ আইনের মামলার বাদী হবেন, এ বিষয়টিও তিনি জানতেন না। এমন পরিস্থিতির সূত্র ধরে অন্তত পাঁচটি জেলার স্যানেটারি ইন্সপেক্টরদের সাথে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। নিরাপদ খাদ্য আইন ও মামলা করার প্রক্রিয়া সর্ম্পকে এসব কর্মকর্তাও কিছু জানেন না বলে স্বীকার করেন। তবে কেউ কেউ জানান, প্রয়োজনীয় লোকবল ও প্রচারণার অভাবে জেলা শহরগুলো আইনের ব্যবহার করতে পারছেন না স্যানেটারি ইন্সপেক্টররা।
ঢাকার মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতের অধীনে তিনজন স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকার তিনটি ‘বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত’ পরিচালনা করছেন। গত বৃহস্পতিবার এসব আদালতে গিয়ে জানা যায়, নিরাপদ খাদ্য আইনে সবমিলিয়ে ৭২টি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মামলার সংখ্যা ১১টি, বাকি ৬১টি মামলা চলছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খাদ্য আদালতে। এখানকার ৩০টি মামলা আবার উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। সবশেষ ২৪শে এপ্রিল রাজধানীর বাগিচা রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। তবে, এখানকার একজন পাবলিক অ্যানালিস্টের পদ গত দুই বছর ধরে শূন্য থাকায় তেমন কোন মামলা হচ্ছে না বলেও আদালত সূত্রে জানা গেছে।
সিটি করপোরেশনের কর্মী মো. সেলিম বলেন, পাবলিক অ্যানালিস্ট পরীক্ষা করে ভেজাল বা বিশুদ্ধতার বিষয়ে রিপোর্ট দেন। ল্যাবের পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে পরে মামলা করা হয়। সবশেষ গোলাম সারওয়ার নামে একজন পাবলিক অ্যানালিস্ট এই পদে চাকরি থেকে অবসর নেন। তারপর ওই পদে আর কেউ যোগ দেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন কর্মকর্তা জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এই পদে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের অধীনে পাবলিক অ্যানালিস্ট না থাকায় গত দেড়-দুই বছরে তেমন কোন মামলা হয়নি। বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত-১ এর স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী পাভেল সুইট গত বৃহস্পতিবার মানবজমিনকে জানান, সচেতনতার অভাবে অনেক মানুষ নিরাপদ খাদ্য আইনের ব্যবহার করতে পারছেন না।
এজন্য আদালতগুলোতে মামলার হারও অনেক কম। সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা গেলে মামলার সংখ্যাও বাড়বে। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইন ছাড়াও দণ্ডবিধির ২৭২, ২৭৩, ২৭৪ ও ২৭৫ ধারাও যে কোন থানায় বা আদালতে মামলা করা যাবে। অথচ পেনাল কোডের এই ধারার বিষয়ে অনেকেই অবগত নন। আদালত সূত্রে আরো জানা গেছে, আশুলিয়ার একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্য জব্দ করে সিটি করপোরেশনের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের শরণাপন্ন হন থানা পুলিশের একজন সদস্য। তবে আশুলিয়া এলাকা ঢাকা মহানগরের অধীনে না হওয়ায় মামলা করতে বলা হয় ঢাকার মূখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে। মূলত, খাদ্য আদালতের কার্যক্রম সম্বন্ধে তেমন কোন ধারণা না থাকায় তদারকি সংস্থা ও সাধারণ মানুষ এভাবে বিভ্রান্ত হচ্ছে। এজন্য ব্যাপক প্রচারণার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ আদালতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানকার আদালতেও নিরাপদ খাদ্য আইনে কোন মামলা হয়নি।
তবে, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও জনসচেতনতার বিষয়টি আমলে নিয়ে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের কার্যক্রম এরইমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন বলে জানান আদালত সংশ্লিষ্ট একজন। এদিকে, নিয়মিত মামলা না হওয়ায় খাবারে ভেজাল কারবারীরা সামান্য জরিমানা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতেই পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে মত পরিবেশবিদদের। দীর্ঘমেয়াদী বিচার ব্যবস্থায় অসাধু ব্যবসায়ীদের মামলার মুখোমুখি করা গেলে খাদ্যে ভেজাল কমে আসবে বলে জানান পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান। তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত চলুক সে বিষয়ে কোন আপত্তি নেই। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম কমাতে নিরাপদ খাদ্য আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনে মামলা করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে বছরে একবার জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যান এসব অসাধু ব্যবসায়ী।
বিএসটিআই, ভোক্তা অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর সবাইকে আরো সেচ্চার হতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, সংস্থাগুলো মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করে কিছুটা সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছে। নিরাপদ খাদ্যের অধিকার বাস্তবায়নে এগুলোর প্রয়োজন রয়েছে। সমস্যার নিরসনে একেবারে গোড়া থেকে কাজ করতে হবে। খাদ্য উৎপাদন ও বিপনন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায় অবধি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ভেজাল খাদ্য বন্ধে শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানা করার প্রক্রিয়াটি তেমন কাজে দেবে না বলে মনে করেন তিনি।
যেসব আদালতে মামলা করা যাবে
রাষ্ট্রের যে কোন নাগরিক তার জেলার মূখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের এক নম্বর আমলী আদালতে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা করতে পারবেন। এছাড়া মহানগর এলাকার জন্য মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতগুলো নির্দিষ্ট ‘বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত’ গঠন করা হয়েছে। মহানগর এলাকার বাসিন্দারা এসব আদালতে মামলা করতে পারবেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপণে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার জন্য ৪ নম্বর মহানগর হাকিম আদালত, রাজশাহীতে দুই নম্বর মহানগর হাকিম আদালত, সিলেটে তিন নম্বর মহানগর হাকিম আদালত ও বরিশালের এক নম্বর মহানগর হাকিম আদালতে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা করা যাবে। এছাড়া, ঢাকার দুই সিটি করপোরশেন এলাকার বাসিন্দারা তিনটি বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা করতে পারবেন।

বাংলাদেশ দলের নিউক্লিয়াস

বাংলাদেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সেমিফাইনালে খেলার। ইতিহাসে প্রথমবার যদি তারা এটা অর্জন করতে চায়, তাহলে অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে ব্যাটে ও বলে আগুন ঝরাতে হবে। কারণ পুরো টিমের ‘৩০ থেকে ৪০ ভাগ শক্তি’ তার মধ্যে। তিনি ‘আমাদের টিমের নিউক্লিয়াস’- এ মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান। বার্তা সংস্থা এএফপির উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী সাকিব আল হাসান একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে রয়েছেন। তিনি ৫৭০০-এরও বেশি রান করেছেন। আর নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন ২৪৯ উইকেট।
এএফপি আরো লিখেছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় অবসর নিয়েছেন জ্যাক ক্যালিস। তার পরে বিশেষজ্ঞ বোলার অথবা ব্যাটসম্যান হিসেবে টিমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার মতো বিশ্বে একমাত্র ক্রিকেটার সাকিব। তিনি আক্রমণাত্মক মিডল-অর্ডারের ব্যাটসম্যান। কম রান দেয়া বামহাতি স্পিনার।
তিনি নিজের ১৯৯তম আন্তর্জাতিক একদিনের ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ সময়ে তিনি ক্রিকেট বিশ্বে অলরাউন্ডারদের একটি নির্বাচিত গ্রুপে যোগ দেয়া থেকে মাত্র একটি উইকেটে পিছিয়ে আছেন। ওই গ্রুপে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস ও পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি। তারা একদিনের ক্রিকেটে ৫০০০ রান সম্পন্ন করেছেন এবং ব্যাগভর্তি করেছেন ২৫০ উইকেট।
সাকিব আল হাসান বাংলাদেশ দলের সাবেক স্কিপার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি বাংলাদেশ দলের সফলতার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তিনি সব সময়ই বাংলাদেশ দলকে অতিরিক্ত একজন বোলার অথবা ব্যাটসম্যানের সুবিধা দিয়ে থাকেন।
কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তার মনোমালিন্যও ঘটেছে। এপ্রিল মাসে যখন বিশ্বকাপ ক্রিকেট স্কোয়াডের অফিসিয়াল ছবি ধারণ করা হয়, তখন সেই ছবিতে তিনি ছিলেন না। ওই ছবি ধারণ করার আগেই তিনি ঢাকায় শেরে বাংলা স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান বলেন, এটা হতাশাজনক। আমি কি বলতে পারি? তিনি (সাকিব) প্রশিক্ষণের জন্যও আসেননি। কিন্তু আমরা আশা করেছিলাম তিনি ফটোসেশনের সময় উপস্থিত থাকবেন।
তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাগ্যের ক্ষেত্রে সাকিব গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে কারো কোনো দ্বিমত নেই। তাই সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান বলেন, সাকিব হলেন আমাদের দলের নিউক্লিয়াস। এই বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ কতদূর যাবে তা বেশির ভাগই নির্ভর করছে তার পারফরমেন্সের ওপর। প্রতিটি খেলায়, প্রতিটি টুর্নামেন্টে তার ব্যাটিং, বোলিং এমনকি ফিল্ডিং- সবকিছুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বিশ্বকাপে যোগ করবেন তার পূর্বকার বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলার গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। তিনি এর আগে তিনবার বিশ্বকাপ খেলেছেন। তার মধ্যে ২০১১ সালে অধিনায়ক ছিলেন। সেবার তিনি ইংল্যান্ডের মতো শক্তিধর টিমের বিরুদ্ধে বিজয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা অবসরে যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। যদি তাই হয় তাহলে একদিনের বাংলাদেশ মিশনে স্বমহিমায় ফিরতে পারেন শাকিব। কিন্তু তার আগে তাকে তার দলের হয়ে ব্যাটে ও বলে জ্বলে উঠতে হবে।

দ্বিতীয় মেঘনা, গোমতী সেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্বিতীয় মেঘনা সেতু এবং দ্বিতীয় গোমতী সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতু দু‘টি উদ্বোধন করেন। একই সময় প্রধানমন্ত্রী কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা ফ্লাইওভার, কালিয়াকৈর, দেওহাটা, মির্জাপুর ও ঘারিন্দা আন্ডারপাস এবং কাড্ডা-১, সাসেক সংযোগ সড়ক প্রকল্পের আওতায় জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কে বিমাইল সেতুরও উদ্বোধন করেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী একেএম মোজাম্মেল হক এবং কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইজুমি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব প্রকল্পসমূহের ভিডিও উপস্থাপনার মাধ্যমে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। জাপানী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওবায়সি করপোরেশন, শিমঝু করপোরেশন, জেএফএফ করপোরেশন ও আইএইচআই ইনফ্রা সিস্টেম্‌স কোম্পানী লি. ২০১৬ সালের জানুয়ারীতে দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতীর সঙ্গে দ্বিতীয় কাঁচপুর ব্রিজের কাজ শুরু করে। এই তিনটি সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে, ৮ হাজার ৪শ’ ৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপানের জাইকা ৬ হাজার ৪শ’ ৩০ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু করে এবং ২০১৯ সালের জুনে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।
পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের উদ্বোধন: এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার ঢাকা-কক্সবাজার রুটে দ্রুততগামী পর্যটন ট্রেন চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তিনি গতকাল ঢাকা-পঞ্চগড়-ঢাকা রুটে আন্তঃনগর ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ ট্রেন এর উদ্বোধনকালে বলেন, আমরা মনে করি, যেহেতু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে রেলপথ নির্মাণের কাজ চলছে কাজেই আমরা ঢাকা-কক্সবাজার রুটে একটি দ্রুতগামী ট্রেন চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করতে সক্ষম হব। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেমি ননস্টপ ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ ট্রেনের উদ্বোধন করেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন পঞ্চগড় রেল স্টেশন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জেল হোসেন বাংলাদেশ রেলওয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ডের ওপর অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করেন।
আগামী বাজেট হবে ৫ লাখ কোটি টাকার বেশি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী ১৩ জুন সরকার আগামী অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবে, যার আকার হবে ৫ লাখ কোটি টাকার বেশি। তিনি গতকাল তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের জন্য দেয়া এক ইফতার মাহফিলে এ ঘোষণা দেন। শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করেছিল তখন বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, আমরা যখন প্রথম সরকার গঠন করি তখন উন্নয়ন বাজেটের আকার ছিল ১৮/১৯ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমান অর্থবছরে আমরা ২ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট প্রণয়ন করেছি।
দেশের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিয়ে একটি সুন্দর জীবন-যাপন করতে পারে আমরা তার জন্য সকল ব্যবস্থা করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় প্রতিটি মানুষ তার মৌলিক অধিকার নিয়ে বাঁচুক। একটি মানুষও গৃহহীন ও চিকিৎসাহীন না থাকুক এবং শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হোক। জাতিকে আবারও সেবা করার জন্য তাঁর সরকারকে পুননির্বাচিত করায় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা আবারো বলেন, ক্ষমতা তাঁর কাছে উপভোগ করার বিষয় নয়, বরং জাতিকে সেবা করার একটি সুযোগ। তিনি বলেন, এই আদর্শ অনুসরণ করে আমি দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি এবং এর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেয়া এবং প্রতিটি মানুষকে একটি সুন্দর জীবন উপহার দেয়া। তিনি বলেন, আমরা দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে এবং চরম দারিদ্র্যের হার নামিয়ে এনেছি। চলতি অর্থবছরে আর কোন চরম দরিদ্র থাকবে না, ইনশাআল্লাহ। ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা অংশ নেন।

অলিকে সামনে রেখে জামায়াতের নতুন মিশন? by সালমান তারেক শাকিল

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির ইস্যুটিকে সামনে রেখে হঠাৎই সক্রিয় হয়ে উঠেছেন ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তার এই উদ্যোগে সামনে থেকে অবস্থান নিয়েছে জামায়াত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরে এসে দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। প্রশ্ন উঠেছে—কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে সামনে রেখে জামায়াত কি কোনও নতুন মিশনে নেমেছে?
এলডিপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো দাবি করছে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘সাংগঠনিকভাবে ব্যর্থ’ হওয়ায় অলি আহমদকে সামনে আনা হয়েছে। এর পেছনে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দেশের সহযোগিতা ও পরামর্শ রয়েছে তাদের প্রতি। তবে, গুরুত্বপূর্ণ ওই দেশ দু’টির নাম জানাতে রাজি হননি কেউই।
এলডিপির একজন সিনিয়র নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, মির্জা ফখরুল নির্বাচনের দিন টেলিভিশনে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন একাধিকবার বঙ্গবন্ধুর কথা, বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির কথা উচ্চারণ করেছেন। মির্জা ফখরুল সাংগঠনিকভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণেই অলি আহমদকে সামনে আনা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অনেকের সমর্থন আছে আমাদের ওপর।
বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক পক্ষ মনে করে, প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশের আপত্তি ও দেশের ভেতরে নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর একটি বড় অংশের বিরোধিতার কারণে দলটির উচ্চপর্যায়ের একটি বড় অংশ চায় বিএনপিকে ছেড়ে যাক জামায়াত। আর বিষয়টি টের পেয়ে অলি আহমদকে সামনে আসার পরামর্শ দিয়েছে জামায়াত। ইস্যু হিসেবে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি’র বিষয়টিকে নির্বাচন করেছে। এক্ষেত্রে বিএনপির যে অংশটি জামায়াতকে বাদ দিতে তৎপর, সেই মির্জা ফখরুলবলয়কে কোণঠাসা করার কাজটি সহজ হয়।
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এলডিপির প্রধান অলি আহমদ নিয়মিত জামায়াতের বিরোধিতা করে এলেও একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দলটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন এই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই। ওই মাসের ২ তারিখে অলি আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘জামায়াতের যারা এদেশে আছেন, তারা এদেশের নাগরিক হন, তাহলে রাজনীতি করার অধিকার তাদের আছে। তাদের রাজনীতি করতে দিতে হবে।’ এরপর গত ১৫ মে এলডিপি আয়োজিত গোলটেবিলে আলোচনায় অংশ নেন  জামায়াতের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার। গত ১৭ মে শুক্রবার অলি আহমদের ইফতারে অংশ নেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান ও নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম।
জানতে চাইলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পবিত্র রমজান উপলক্ষে বছরে একবার আমরা বন্ধুপ্রতিম দলগুলোর আমন্ত্রণে ইফতারে অংশ নেই।’
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, অলি আহমদ হঠাৎ করে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েই বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করছেন। এর জবাবও বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিনে অলি আহমদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খান প্রতি-উত্তর দিয়েছেন।
জামায়াত নেতা ডা. শফিকুর রহমান মনে করেন, ‘অলি আহমদ যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা একেবারেই তার ব্যক্তিগত।’ তিনি বলেন, ‘তিনি কী বক্তব্য রাখবেন, কী ভালো মনে করবেন, তা তো তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’
এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলছেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েই কর্নেল (অব.) অলি আহমদ কথা বলছেন। তিনি শুরু থেকেই এ বিষয়ে কথা বলছেন। আমরা বিষয়টিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে ভাবছি। এক্ষেত্রে জামায়াত ২০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবেই আছে।’
‘খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিলেও বিএনপির সহযোগিতা বা সমর্থন কতটা, যখন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল চিকিৎসা নিতে ব্যাংককে, ওই সময়ে অলি আহমদ কথা বলছেন, বিষয়টি কিভাবে দেখছে এলডিপি’—এমন প্রশ্নের জবাবে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘মির্জা ফখরুল বিদেশে, সেটা তো আমাদের দেখার বিষয় না। অলি আহমদ মনে করেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সমন্বিতভাবে দাবি করা উচিত। এটা প্রাথমিক পর্যায়। ধীরে-ধীরে এটাকে ঈদের পর কার্যকরভাবে সামনে আনা হবে।’
জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুর রহমান মনে করেন, ‘খালেদা জিয়ার বিষয়ে প্রথমে বিএনপিকেই ভাবতে হবে। তিনি জোটের নেত্রী, এটা ঠিক। কিন্তু মূল কনসার্ন বিএনপি। তারা কী করে, এটাই মূল বিষয়।’
বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির কেউ-কেউ বলছেন, গত বছরের শেষ দিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর থেকে গুরুত্ব কমতে থাকে ২০ দলীয় জোটের। একইসঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বিএনপির চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়ে দৃশ্যত নিষ্ক্রিয়। কোনও-কোনও অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে কথা বললেও তা মূলত বিএনপির চাপেই বলেন। এ কারণে অলি আহমদকে সামনে এনে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে চাইছে জামায়াত।
জাতীয়তাবাদী ঘরানার কয়েকটি দলের নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি নিয়ে অলি আহমদ সক্রিয় হয়েছেন জামায়াতকে সঙ্গে রেখে। যদিও এলডিপির সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব ছিল যোজন-যোজন। সবমিলিয়ে এমন এক সময়ে জামায়াতের সঙ্গে অলি আহমদের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে, যখন দলটির সেক্রেটারি মাত্র কিছুদিন আগে ঘুরে এসেছেন কয়েকটি দেশ। সাধারণত, সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাদের ওপর বাড়তি চাপ ছিল। তবে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে অনেক উদারতা মিলেছে বলেও মনে করেন কেউ-কেউ।
গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান প্রথমে মালয়েশিয়া, এরপর ফিলিপাইন, লন্ডন ও তুরস্ক সফর করেছেন। লন্ডনে তার সঙ্গে দেখা হয়েছে পাকিস্তান জামায়াতের নায়েবে আমির খুরিশদ আহমেদের। এরপর তুরস্কে দেখা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দা ‘উতোলো’র সঙ্গে।
জামায়াতের ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে জামায়াতের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেন, ‘এবার প্রায় ২ সপ্তাহের মতো দেশের বাইরে ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি লন্ডনে ব্যক্তিগত সফরে এসেছিলেন। তিনি একজন রাজনীতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্ব। এ কারণে অনেকের সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। রাজনৈতিক সফর হলে তো আমরা কর্মিসভা করতাম বড় করে। লন্ডনে তার অনেক বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন আছেন। অনেকদিন পর তিনি বেড়াতে এসেছিলেন।’
জামায়াতের অসমর্থিত একটি সূত্র জানায়, সেক্রেটারি জেনারেলের এবারের সফরটি ব্যক্তিগত ছিল। তিনি এর আগে ভারত ও মিয়ানমারেও গেছেন।
এলডিপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এর আগে অলি আহমেদও ভারত ও মিয়ানমারে গেছেন। গত মার্চে তিনি ভারতে অন্তত ১৫ দিন অবস্থান করেন এবং তার এই সফরটি গোপন রাখা হয়েছে। সফরকালে তিনি ভারতের একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
এদিকে, একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ফিলিপাইনে ডা. শফিক তার এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন প্রায় সাতদিন। তুরস্কে তিনি কতক্ষণ অবস্থান করেছেন, তার কোনও তথ্য দেয়নি ইউরোপ জামায়াতের কোনও সূত্র। এই প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেন, ‘ধারণা করি, ডা. শফিকুর রহমান হয়তো লন্ডন আসা-যাওয়ার মধ্যে তুরস্কে যাত্রাবিরতি ছিল।’ তবে, তাও তিনি নিশ্চিত নন বলেও জানান আবু বকর মোল্লা।
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ‘তুরস্কের আহমেদ দা’ উতোলোর সঙ্গে আমাদের সেক্রেটারি জেনারেলের সাক্ষাৎ হয়েছে কিনা, এক্সাক্টলি বলতে পারবো না। তিনি খুব প্রভাবশালী নেতা।’
বিদেশ সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে অনেকটাই সহাস্যে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘বাইরের দেশ সাধারণত দেখা হয় না। দেশ দেখার সুযোগ পেয়ে এবার গিয়েছিলাম দেশের বাইরে। মালয়েশিয়া গিয়েছিলাম। লন্ডনে আমার অনেক আত্মীয়-স্বজন আছেন, তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে।’
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল জানান, এর আগেও জোটগত রাজনীতির ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে জামায়াত। ১৯৯৯ সালে চারদলীয় জোট হওয়ার পর ২০১২ সালের এপ্রিলে জোটের পরিসর বেড়ে ১৮ দলীয় জোট হয়।। এই বৃদ্ধিতে মূল কারিগর ছিলেন প্রয়াত শফিউল আলম প্রধান, যাকে নেপথ্যে থেকে সহযোগিতা করে জামায়াত। ওই সময় জাগপা, লেবার পার্টি, এনডিপি, এনপিপিসহ কয়েকটি দল যোগ দিয়েছিল জোটে।

টাইগারদের জার্সি বিক্রিতে সিন্ডিকেট by দীন ইসলাম

সিন্ডিকেটের কব্জায় এখন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি। সিন্ডিকেটের নির্ধারিত দাম ১১৫০ টাকা। যদিও জার্সির মান অনুযায়ী মূল্য ৩০০ টাকার বেশি নয়। রয়্যালটি আদায়ের নামে বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের এমন হঠকারি সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে সিন্ডিকেটটি। হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। উচ্চমূল্যে এসব জার্সি অঞ্জনস, জেন্টল পার্ক, স্পোর্টস এন্ড স্পোর্টস ও রবিন স্পোর্টস ছাড়া কেউ তৈরি বা বিক্রি করতে পারছেন না। করতে গেলেই নানা হয়রানির মুখে পড়ছেন। এরই মধ্যে গুলিস্তানে ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের দোকানে দোকানে অভিযান চালানো হচ্ছে। ফলে ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রির সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার ব্যবসায়ী সঙ্কটের মুখে পড়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফেকচারার্স এন্ড ইম্পোটার্স এসোসিয়েশন। সিন্ডিকেটের জন্য তারা দুষছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তাদের। তারা বলছেন, অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসজাশে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি চলে গেছে একটি সিন্ডিকেটের কব্জায়। যার কারণে দেশের সাধারণ মানুষকে এখন ৩০০ টাকার তৈরি করা জার্সি কিনতে হবে সিন্ডিকেটের নির্ধারিত ১১৫০ টাকায়। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলকে বিষয়টি সর্ম্পকে জানিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফেকচারার্স এন্ড ইম্পোটার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, বিশ্বকাপ এলে আমরা কিছুটা ব্যবসা করতে পারি। এজন্য আমরা মুখিয়ে থাকি। এবারই প্রথম সিন্ডিকেট করে জার্সি তৈরি ও বিক্রির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
আমাদের দোকানে দোকানে অভিযান চালিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সাধারণ ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সিন্ডিকেটমুক্ত বাংলাদেশের জার্সি চাই। আশা করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল আমাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২১শে মে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯ এর বাংলাদেশের গৌরবান্বিত জার্সি চার সিন্ডিকেটের দখল থেকে মুক্ত করার আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফেকচারার্স এন্ড ইম্পোটার্স এসোসিয়েশন। চিঠিতে বলা হয়, আপনার অকৃত্রিম ভালোবাসা, অনুপ্রেরণা এবং সহযোগিতার হাত ধরে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন অনেক দূর এগিয়েছে। অভাবনীয় সাফল্য এসেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। বাংলাদেশের ক্রিকেট দল এখন বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯ এর আসরে অংশ নিতে প্রস্তুত। দেশের মানুষ সব সময় প্রস্তুত লাল সবুজের পতাকা গায়ে জড়িয়ে গৌরব ভাগিদার হয়ে খেলা দেখার। কিন্তু সিন্ডিকেটের চার প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠান এই জার্সি তৈরি বা বিক্রি করতে পারবে না। এরই মধ্যে বিষয়টি সর্ম্পকে সাধারণ ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, এবার সাধারণ ক্রীড়ানুরাগীদের পক্ষে এত উচ্চ মূল্যে বিশ্বকাপে লাল সবুজের জার্সি জড়ানো সম্ভব হবে না। এজন্য বিষয়টি তদন্তপূর্বক বিসিবি’র অসাধু কর্মকর্তার হঠকারি সিদ্ধান্ত বাতিল এবং জার্সি তৈরি ও বিক্রয়ের সিন্ডিকেট চক্র ভেঙ্গে দেয়ার নির্দেশ দিতে অনুরোধ করা হল।
এদিকে পোশাক প্রস্তুত ও বিক্রির প্রতিষ্ঠান অঞ্জনসে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সাইজের বাংলাদেশি জার্সি তারা ১১৫০ টাকার বিক্রি করছে। বিকাশ অ্যাপস দিয়ে অঞ্জনসে শপিং করলে ২০% ক্যাশব্যাকের অফার থাকলেও জার্সি বিক্রির ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। বিকাশ অ্যাপস দিয়ে জার্সির পেমেন্ট দিতে গেলে অঞ্জনস-এর বিক্রয় কর্মীরা বলছেন, জার্সি বিক্রির টাকা ক্যাশ বা কার্ড দিয়ে দিতে পারবেন। বিকাশ অ্যাপ দিয়ে দেয়া যাবে না। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফেকচারার্স এন্ড ইম্পোটার্স এসোসিয়েশনের আবেদনটি তারা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। এটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে ব্যবস্থা নেবেন তারা। বাংলাদেশ দলের জার্সি বিক্রিতে সিন্ডিকেটের বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল মুঠোফোনে মানবজমিনকে বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি মনোপলি না করে তা যেন সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে তা নিশ্চিত করা উচিত। মনে রাখতে হবে সাধারণ মানুষ যত বেশি জার্সি কিনে খেলা দেখবেন তত বেশি ক্রিকেট উম্মাদনা তৈরি হবে।

মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রয়োজন বৃহত্তর ঐক্য -নাগরিক নিরাপত্তা জোট

দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকার দায় এড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও মনে করেন তারা। গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নাগরিক নিরাপত্তা জোট’ নামে একটি উদ্যোগের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন বক্তারা। ‘আইনের শাসন, নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন’ নামের আয়োজনে বিশিষ্টজনেরা মানবাধিকার ও নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নাগরিক নিরাপত্তায় বৃহত্তর ঐক্য প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মানবাধিকার কর্মী ড. হামিদা হোসেন, নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, নাগরিক কমিটির সদস্য এবিএম শামসুল হুদা, মানবাধিকারকর্মী জিয়া তারিক আলী, জাকির হোসেন ও শরীফ জামিলসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সম্মেলনে সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে এবিএম শামসুল হুদা মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। দেশে গত চার মাসে খুন, ধর্ষণ ও গুমের ঘটনার পরিসংখ্যান টেনে নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে শঙ্কার কথা জানান বক্তারা। এতে বলা হয়, সামপ্রতিক সময়ে দেশে প্রতিনিয়ত নানা অন্যায়-অবিচার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন, মত প্রকাশ ও মুক্ত চিন্তার অধিকারের ওপর আঘাত, নারী ও শিশু নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণের মতো জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। রাষ্ট্রে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতার অভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা নাগরিকের মানবাধিকার লঙ্ঘনকে আরো বেশি সংকটাপন্ন করে তুলছে বলেও সম্মেলনে জানান বক্তারা।
বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে এবং গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে না পারলে কোন উন্নয়নই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এমন পরিস্থিতিতে সমাজে অন্যায়, অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জনগণের ভেতরে নিরাপত্তাহীনতা ও একটি ভয়ের সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছে, যা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন বাংলাদেশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হলেও এমন পরিস্থিতি চলমান থাকলে বাংলাদেশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে পড়বে। অবস্থার উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক দলীয়করণের বিষয়ে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন বিশিষ্টজনরা। গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১১৮ জন নাগরিক নিহত হয়েছে বলে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়। একই সময়ে অন্তত ৩৫৪ জন নারী ও ২৩৪ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত চার মাসে খুন হয়েছে ১৪৪টি শিশু। এছাড়া, অন্তত ছয়জনের গুম হওয়ার অভিযোগ আছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিস্থিতি মহামারি আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে নাগরিকের নিরাপত্তায় বৃহৎ ঐক্য গড়া প্রয়োজন বলে জানান বক্তারা। অনুষ্ঠানে খুশি কবির বলেন, অনেকগুলো সামাজিক আন্দোলনের সংগঠন মিলে এ জোট গঠন করা হয়েছে। বাকি সংগঠনগুলোকেও এ জোটে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রাজনৈতিক দলের ভূমিকায় শূন্যতা তৈরি হওয়ায় নাগরিকদের নিজেদেরই এগিয়ে আসতে হবে বলেও মন্তব্য করেন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তা হচ্ছে না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে মুক্তচিন্তা ও বাক?স্বাধীনতা ব্যাহত হচ্ছে। মানুষ উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না। কোনো জবাবদিহি নেই। মানুষের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিতে দলীয়করণ বন্ধ করে সব প্রতিষ্ঠানকে ঢেলে সাজানোর সুপারিশ তুলে ধরেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।
নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশি কবির বলেন, সারা দেশে ভীতির সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়েছে। গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ করতে হবে। সবাই মিলে কর্মসূচি নিতে হবে। মানবাধিকার কর্মী হামিদা হোসেন বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন।
কিন্তু বর্তমানে সেরকম পরিস্থিতি যাচ্ছে না। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন খুশি কবির। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় দেখা যাচ্ছে আদালতের নির্দেশনাও মানা হচ্ছে না। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় শাস্তি নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, নাগরিকদের মত প্রকাশের অধিকার সুরক্ষা, আদিবাসী ও অনগ্রসর অধিকারের স্বীকৃতি, ধর্মীয় সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা, বৈষম্যবিরোধী আইন অনুমোদন, দুদক ও নির্বাচন কমিশনসহ সব কমিশনকে শক্তিশালী করাসহ ১১টি নির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরে ‘নাগরিক নিরাপত্তা জোট’ নামে নতুন এই জোটের লিখিত বক্তব্যে পাঁচটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দেশব্যাপী প্রতিবাদ ও মানববন্ধন, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বরাবার স্মারকলিপি পেশ, বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় ও যৌথভাবে প্রতিবাদ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা এবং তরুণ জনগোষ্ঠীকে মানবাধিকার রক্ষায় ও জঙ্গিবাদ দমনে সম্পৃক্ত করতে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ঈদ সামনে রেখে চলছে লক্করঝক্কড় গাড়ি মেরামত by রিপন আনসারী

ঈদকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জের প্রতিটি ওয়ার্কসপে পুরোদমে চলছে লক্করঝক্কড় যানবাহন মেরামতের ধুম। বহু বছরের পুরনো এসব গাড়িগুলোর গায়ে রং-চং লাগিয়ে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে। ওয়ার্কসপ থেকে মেরামত শেষে গাড়িগুলো রাস্তায় নামানোর পর দেখে বোঝার উপায় নেই গাড়িগুলো লক্করঝক্কড় ছিল। ঈদে ফিটনেসবিহীন এই সব গাড়ি রাস্তায় নামার কারণে সড়ক দুর্ঘটনার আশংকা করছেন যাত্রীরা। আর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয়েছে।
সরজমিন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ঘেঁষা মানিকগঞ্জের উচুটিয়া এলাকাসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি মেরামতের ওয়ার্কসপে গিয়ে দেখা গেল লক্করঝক্কড় বাস মেরামতের হিড়িক পড়ে গেছে। ফিটনেসবিহীন ভাঙাচোরা গাড়িগুলো জোড়াতালি দেয়া হচ্ছে ওয়ার্কসপে। মিস্ত্রিরা পুরাতন গাড়ি মেরামতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। কোনো গাড়ির ইঞ্জিন, সড়ক দুর্ঘটনায় দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া, ব্রেকে সমস্যা কিংবা সিটগুলো ছেঁড়া। আবার কোনো গাড়ির বডিতে রং-চং নেই। ঈদের সময় বহু বছরের পুরাতন এসব গাড়িগুলো মেরামত করে নতুন সাজে রোডে নামানোর জন্য আনা হয়েছে ওয়ার্কসপে। ২৫-২৬ রোজার মধ্যে লক্করঝক্কড় এসব গাড়িতে রং- চং মাখিয়ে নতুন সাজে রোডে নামানো হবে। দেখে বোঝার উপায় নেই গাড়িগুলো ফিটনেসবিহীন।
রাব্বি ওয়ার্কসপে গিয়ে দেখা গেল রং মিস্ত্রি উজ্জ্বল পুরনো গাড়িগুলোর বডিতে রং-চংয়ের কাজ করছেন। কাজের ফাঁকে উজ্জ্বল জানালেন, পুরাতন গাড়ি ঈদের সামনে রং করে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে। যাতে যাত্রীরা আকৃষ্ট হয়। সময় মতো ডেলিভারি দেয়ার জন্য দিন-রাত গাড়িতে রংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।
রাব্বি মটরসের পরিচালক সানোয়ার মিয়া জানালেন, এবারের ঈদে গাড়ির কাজ কম হচ্ছে। আর বর্তমানে যেসব গাড়ি আমরা মেরামত করছি সেগুলোর বেশির ভাগই রোড পারমিট নেই। ঈদের দুই চার দিন আগে রং চং শেষ করে গাড়িগুলো মানিকদের কাছে ডেলিভারি দিতে হবে।
বাসের চালক কুদ্দুস মিয়া জানালেন, ঈদের সময় প্রত্যেক যাত্রীই চায় রং-চং করা সুন্দর গাড়িতে উঠতে। তাই বাসের ভেতরের সিট ও বডিতে রংয়ের কাজ করার জন্য আনা হয়েছে। ঈদের সময় গাড়ির ফিটনেস না থাকলে পুলিশ ও সার্জেন্টরা বিরক্ত করে। তাই গাড়ি চিকচাক্য করা হচ্ছে। আর সারা বছরের চাইতে ঈদের সময় কিছু বাড়তি টাকা কামানো যায়।
পাশেই সেকেন্দর ওয়ার্কসপ। সেখানে লক্করঝক্কড় কয়েকটি গাড়ি মেরামতের কাজ চলছে বেশ জোরেশোরে। কেউ বাসে রং করছে, কেউ ইঞ্জিন খুলে বসেছে আবার কেউ সিট ও বডির কাজ করছেন। এভাবেই এখানকার কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এই ওয়ার্কসপের পুরান গাড়ি মেরামতের কারিগর আলম মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানালেন, ঈদের সময় পুরাতন গাড়ির কাজ সবচেয়ে বেশি থাকে। ইঞ্জিনে ত্রুটি, বডিতে রং-চং নেই, সিট কভার নষ্টসহ নানা সমস্যা নিয়ে মালিকরা তাদের গাড়িগুলো গ্যারেজে নিয়ে আসেন। আমরা সেগুলো মেরামত করে নতুন সাজে সাজিয়ে দিলে বোঝার উপায় নেই গাড়ি পুরাতন ছিল।
ওয়ার্কসপের মালিক সেকেন্দর আলী জানালেন, মাথায় এখন টেনশন পুরনো গাড়িগুলো মেরামত শেষে ২৫-২৬ রোজার মধ্যে কীভাবে ডেলিভারি দেয়া যায়। তাই রাত-দিন কাজ করা হচ্ছে। নতুন-পুরাতন সহ সব ধরনের গাড়ি মেরামতের কাজ আমাদের এখানে করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বাসযাত্রীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, রং-চং মেখে গাড়িগুলো রোডে নামানোর ফলে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। আসলে এই গাড়িগুলো হচ্ছে উপরে ফিটফাট এবং ভেতরে সদরঘাট। লক্করঝক্কড় বাসের পাশাপাশি মহাসড়কে টেম্পো, সিএসজি চলাচল আবারো বেড়ে গেছে। এসব গাড়ি মহাসড়কে চলাচলে বন্ধ না হলে ঈদে দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি থাকলে ঈদে পুরনো ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো চলাচলে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন।
দেখা যায়, ঈদের আগের তিন-চারদিন সময় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের চাপের বিপরীতে যানবাহন সংকট হয়ে পড়ার সেই সুযোগ কাজে লাগায় একশ্রেণির পরিবহন ব্যবসায়ীরা। রাস্তায় তখন ভালো-মন্দ গাড়ির বাছ বিচার না করে মানুষজন হাতের কাছে যা পায় সেসব গাড়িতেই উঠে যাত্রা শুরু করেন। উপরে রং-চং লাগিয়ে লক্করঝক্কড় গাড়িগুলো সড়কে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে কোথাও না কোথাও বিকল হয়ে পড়ে। ফলে রং-চং মাখা এই সব গাড়ির কারণে ঈদে ঘরমুখো মানুষজন রাস্তায় রাস্তায় ভোগান্তির শিকার হন। সেই সঙ্গে ঘটে দুর্ঘটনাও। মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি যাতে রাস্তায় চলাচল করতে না পারে সে জন্য আমরা প্রতিনিয়তই ব্যবস্থা নিচ্ছি। এখন থেকে সে ব্যাপারে আমরা জোরালো ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। যাতে ঈদের সামনে এসব গাড়ি রোডে চলতে না পারে। এছাড়া মহাসড়কে যাতে তিন চাকার গাড়িগুলো চলাচল করতে না পারে সে দিকেও আমাদের নজরদারি থাকবে। জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে কাজ করে যাবে।

নরসিংদীতে অভাবের তাড়নায় দুই কন্যাকে হত্যা করেছে বাবা

নরসিংদী শহরের কাউরিয়াপাড়া নতুন লঞ্চঘাটের টয়লেটে নুসরাত জাহান তাইন (১০) ও তানিশা তাইয়েবা (৪) নামের দুই কন্যা শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে তাদের বাবা শফিকুল ইসলাম। এমন তথ্য জানিয়েছেন নরসিংদী পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান তিনি। ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, নিহত দুই শিশুর বাবা শফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম আগে থেকেই মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। গতকাল ওই বাবা তার দুই মেয়েকে নিয়ে মনোহরদী থেকে শিবপুরে ডাক্তার দেখাতে যায়। ডাক্তার না থাকায় নরসিংদী সদরে ঘুরতে আসে মেয়েদের নিয়ে। পরে বড় মেয়ের আবদার অনুযায়ী নরসিংদী কাউরিয়াপাড়া নতুন লঞ্চ ঘাট দেখতে আসে তারা।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, তার কথাবার্তায় নানা রকমের অসঙ্গতি লক্ষ্য করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে ওই বাবা জানিয়েছেন, পারিবারিক দারিদ্র্য, মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দিতে না পারা, আবদার অনুযায়ী মেয়েদের নতুন জামা দিতে না পারা সবকিছু মিলিয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে প্রথমে ছোট মেয়েকে লঞ্চ ঘাটের একটি টয়লেটে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে বড় মেয়েকে একই টয়লেটে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। হত্যার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’জনকে নিজের সন্তান দাবি করলেও কথাবার্তায় সন্দেহ হলে তাকে আটক করা হয়। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। নিহতদের মৃতদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে। এর আগে গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে নরসিংদী কাউরিয়াপাড়া নতুন লঞ্চ ঘাটের টয়লেটের ভিতর থেকে দুই কন্যাশিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহত দুই কন্যাশিশু মনোহরদী উপজেলার পূর্ব চালাকচর গ্রামের শফিকুল ইসলামের কন্যা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের পিতা শফিকুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

বেলজিয়ামের সংসদ নির্বাচনে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী শায়লা

ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এমপি প্রার্থী হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শারমিন শায়লা। আজ রবিবার (২৬ মে) দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশটির ওয়ার্কার্স পার্টির (পিভিডিএ) পক্ষ থেকে নির্বাচন করবেন শায়লা। এর আগে অক্টোবরে এনটওয়ারপ থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি।
সাংবাদিকদের শায়লা বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিরা বেলজিয়ামসহ সমগ্র ইউরোপে সম্মানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হোক এটাই আমার চাওয়া। একসময় এখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হতেন। অনেক সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা সেসব পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। আমি এমপি পদে নির্বাচিত হলে, সবার আগে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে অন্যদের পরিচিত করাতে একনিষ্ঠভাবে কাজ করবো। সেই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন দাবি আদায়ে সবরকম সহযোগিতা করবো।’
বেলজিয়ামের পিভিডিএ পার্টির তরুণ রাজনীতিক হিসেবে শায়লা ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি ইউরোপে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন তার কর্ম ও প্রচেষ্টা দিয়ে।
শায়লার বাড়ি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার দেওপাশা গ্রামে। তার স্বামী মো. জাহিদুল ইসলাম জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা এম রফিকুল ইসলামের ভাই। তার বাবার বাড়ি বরিশাল জেলার কর্ণকাঠি এলাকায়।
শায়লা বরিশাল সরস্বতী গার্লস হাইস্কুল থেকে ১৯৯৫ সালে এসএসসি, ১৯৯৭ সালে এইচএসসি ও ১৯৯৯ সালে ঢাকার বাঙলা কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৫ সালে পরিবারের সঙ্গে বেলজিয়াম যান। ২০১০ সালে বেলজিয়ামের ওয়ার্কার্স পার্টিতে (পিভিডিএ) যোগ দেন তিনি।

সংখ্যালঘুদের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে: মোদি

ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর নরেন্দ্র মোদিকেই সংসদীয় নেতা নির্বাচন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। শনিবার নির্বাচিত হওয়ার পর এনডিএ থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতি দেওয়া ভাষণে মোদি বলেছেন, ভোট-ব্যাংক রাজনীতিতে যারা বিশ্বাস করে তাদের কারণে সংখ্যালঘুরা দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে বাস করছেন। আমাদের এই প্রবণতার ইতি ঘটাতে হবে এবং সবাইকে সঙ্গে নিতে হবে। আমাদেরকে তাদের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর জানিয়েছে।
এনডিএ জোটের বৈঠকে মোদিকে নেতা নির্বাচিত করার পর তা মেনে নিয়ে ৭৫ মিনিটের ভাষণ দেন মোদি। ভাষণে জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ‘মন থেকে সংখ্যালঘুদের নিয়ে কাল্পনিক আতঙ্ক’ মুছে ফেলতে বলেছেন। ভাষণে মোদি কংগ্রেসসহ বিরোধী দলকে ইঙ্গিত করে সংখ্যালঘুদের প্রসঙ্গে তুলে আনলেও এই প্রথমবার তিনি স্বীকার করলেন যে, এক্ষেত্রে অসমতা রয়েছে।
নতুন সরকারের নীতি কী হবে তা তুলে ধরতে গিয়ে মোদি জানান, তার সরকারের স্লোগান হবে ‘সবার জন্য উন্নয়ন’। সরকারের দর্শনে এই নতুন নীতি অন্তর্ভূক্ত করা হবে। তিনি বলেন, সবার সাথে, সবার উন্নয়ন এবং এখন আমাদের মন্ত্র হলো সবার বিশ্বাস।
ভাষণে মোদি ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতার লড়াইয়ের কথা স্মরণ করেন। বলেছেন, ওই সময় সব সম্প্রদায়ের মানুষ স্বাধীনতার লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেছে। একই ধরনের আন্দোলন আমাদের শুরু করতে হবে ভালো শাসনের জন্য। মোদি বলেন, যারা আমাদের বিশ্বাস করে আমার তাদের সঙ্গে থাকব এবং তাদেরও সঙ্গে থাকব যাদের বিশ্বাস আমাদের জয় করতে হবে।
এর আগে শনিবার লোকসভার সেন্ট্রাল হলে এনডিএ জোটের বৈঠকে তাকে এ দায়িত্বের জন্য নির্বাচিত করা হয়। অমিত শাহ ছাড়াও মুরলীমনোহর জোশী এবং লালকৃষ্ণ আদভানী-র মতো বর্ষীয়ান বিজেপি নেতারা এ বৈঠকে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন জনতা দল (ইউনাইটেড) নেতা নীতীশকুমার, লোক জনশক্তি পার্টির প্রধান রামবিলাস পাসওয়ান, শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে-সহ বিজেপি-র শরিক দলগুলোর শীর্ষনেতারা।
পার্লামেন্টারি পার্টির নেতা নির্বাচিত করার পর মোদিকে ফুলেল শুভেচ্ছা বিজেপি ও এনডিএ জোটের অন্য শরিক দলগুলোর নেতারা। এরপর তাকে অভিনন্দন জানিয়ে ভাষণ দেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। একইসঙ্গে তিনি শরিক দলগুলোকেও পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। অমিত শাহের পর বক্তব্য রাখেন  মোদি। তিনি বলেন, এনডিএ জোট বিপুল গণরায় পেয়েছে। এটি আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিলো। জাতীয় উচ্চাশা আর আঞ্চলিক প্রেরণা, এই দুই নিয়েই এগোতে হবে আমাদের। কোনও একটিকে উপেক্ষা করলে চলবে না। এটাই আমাদের নতুন স্লোগান।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম এত বেশি ভোট পড়েছে। এনডিএ এখন একটা বিশ্বাসযোগ্য আন্দোলনের নাম। এই দেশের মাতৃশক্তি আমার রক্ষাকবচ। আগে নারী ভোটদাতাদের সংখ্যা পুরুষ ভোটদাতাদের চেয়ে চার-পাঁচ শতাংশ কম থাকতো। এই নির্বাচনে পুরুষ এবং নারী ভোটদাতার সংখ্যা প্রায় সমান। আগামী দিনে নারীরা পুরুষদের ছাড়িয়ে এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, এই দেশ পরিশ্রমের, আত্মমর্যাদার পূজা করে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। কোটি কোটি মানুষের সংকল্প অনেক বড় কাজ করতে প্রেরণা দেয়। ভারতের জনগণের সংকল্পের প্রমাণ প্রতিভাত হয়েছে নির্বাচনের ফলাফলে।
মোদি বলেন, এই নির্বাচনে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা কোনও জায়গা করে নিতে পারেনি। এই নির্বাচন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রায় দিয়েছে। এই নির্বাচন ছিল ইতিবাচক, এই গণরায় সব অর্থেই ইতিবাচক। তিনি আরও বলেন, যদি কোনও ভুল হয়, তবে তা মেনে নিয়ে শুধরে নিয়ে চলতে হবে। সমতা আর মমতা, এই দুই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে। বিশ্বের দরবারে ভারতকে আরও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই আমার লক্ষ্য। বিজেপি-র সব সদস্য, এনডিএ জোটের শরিক দলের সব নির্বাচিত সদস্য আমাকে পার্লামেন্টারি পার্টির নেতা নির্বাচিত করায় আমি কৃতজ্ঞ।
এদিকে নতুন সরকার গঠন নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মোদি। বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি ১৬ তম লোকসভা ভেঙে দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।

সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের নিচে মোটরসাইকেল, নিহত ৩

ট্রাকের নিচে দুর্ঘটনা কবলিত মোটরসাইকেল
মিরসরাইয়ের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের নিচে ঢুকে মোটরসাইকেল আরোহীর তিন যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৫ মে) রাত ৯টার দিকে উপজেলা সদরের ডাকবাংলোর কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, মিরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে রাকিবুল ইসলাম (১৮), ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বাসিন্দা মাহবুবুল হকের ছেলে মো. রিফাত (২২) ও পূর্ব খৈয়াছরা এলাকার সফিউল আলমের ছেলে তারেক হোসেন (২১)।
মিরসরাই থানার এস আই নুরুল আলম বলেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাকটি মেরামত করার সময় দ্রুতগতিতে আসা মোটরসাইকেলটি মিরসরাই বাইপাস পার হওয়ার পথে ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এ সময় ভেতরে ঢুকে যায় মোটরসাইকেলটি। এতে ঘটনাস্থলে দুইজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার সময় অপরজনের মৃত্যু হয়। তারা তিনজনই ওই মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন।

নিখোঁজ বাবাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি আদিবা-মীমের

নিখোঁজদের ফেরত চেয়ে স্বজনদের মানববন্ধন
সাত বছর বয়সী শিশু লামিয়া আক্তার মীম। শিশুটির আড়াই বছর বয়সের সময় তার বাবা কাওসার হোসেন নিখোঁজ হন। সাত বছর বয়সী আরেক শিশু আদিবা ইসলাম হৃদি পারভেজের বাবা পারভেজ হোসেন যখন নিখোঁজ হন, তখন শিশুটির বয়স মাত্র দেড় বছর। এই দুই শিশু তাদের নিখোঁজ বাবাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছে সরকারের কাছে। শনিবার (২৫ মে)  সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গুম হওয়া সন্তানদের মায়েদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধন অনুষ্ঠানে তারা এই আকুতি জানায়।
মানববন্ধনে শিশু লামিয়া আক্তার মীমের মা মিনু আক্তার জানান, তার স্বামী কাওসার হোসেন গাড়ি চালক। তিনি ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন। সন্তান নিয়ে কোনোভাবে টিউশিনি করে সংসার চালাচ্ছেন মিনু আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি কোনোভাবে সংসার চালিয়ে নিচ্ছি। এ রকম আর কত দিন চালাতে পারবো, জানি না। আমার স্বামীকে আমি ফেরত চাই।’
কাওসার যখন নিখোঁজ হন, শিশু মীমের বয়স মাত্র আড়াই বছর। এখন যত বড় হচ্ছে, ততই বাবার কথা চায় সে। মানববন্ধনে মীম বলে, ‘আমার বাবাকে ঈদের আগে ফেরত চাই।’
মিনু আক্তার জানান, কাওসারের গ্রামের বাড়ি বরিশালের বিমানবন্দর এলাকায়। প্রায় সাত বছর ধরে নিখোঁজ থাকায় তারা এখন অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে সময় পারছেন।তাদের বিশ্বাস কাওসার একদিন ফিরে আসবেন।
নিখোঁজ-বাবার-ছবি-বুকে-শিশু-আদিবা
নিখোঁজ বাবার ছবি বুকে শিশু আদিবা
বাবার ছবিই বাবার পরিচয়
এদিকে, আরেক শিশু আদিবা ইসলাম হৃদি পারভেজ। বয়স ৭ বছর। নিখোঁজ বাবা পারভেজ হোসেনের ছবি বুকে নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছে। শিশুটি তার মা ফারজানা আক্তারের সঙ্গে মানববন্ধনে এসেছে। বাবা যখন গুম হন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র দেড় বছর। বাবাকে বাবা ডাকার আগেই তার সামনে থেকে বাবা হারিয়ে যান।  
শিশুটির মা ফারজানা আক্তার বলেন, ‘২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে চার যুবকের সঙ্গে পারভেজ হোসেনওক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন পর্যন্ত আর খোঁজ মেলেনি।  পারভেজ যখন গুম হন, তখন হৃদির বয়স ছিল মাত্র দেড় বছর। তখন হৃদি কিছুই বুঝতো না। এখন ধীরে ধীরে বুঝতে পারছে, সবার মতো তার বাবা নেই। তবে ওর বাবার কী হয়েছে, কেন সে নেই, তা আমি তাকে বলতে পারছি না।’
কাঁদতে কাঁদতে ফারজানা আক্তার বলেন, ‘সাত বছর ধরে হৃদি তার বাবাকে নিয়ে প্রশ্ন করে যাচ্ছে। এসব প্রশ্নের কোনও জবাব দিতে পারছি না।’
পারভেজ বংশাল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন উল্লেখ করে ফারজানা প্রশ্ন ছুড়ে দেন—‘রাজনীতি করা কি অপরাধ? তাহলে দেশে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক। আমাদের সন্তানদের বাবাদের ফেরত দিন, তারা আর রাজনীতি করবেন না।’
হৃদি এখন তার মায়ের সঙ্গে যাত্রাবাড়ির মাত্যুয়াইলে নানাবাড়িতে থাকেন। নানাবাড়ির পাশের একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। নিখোঁজ পারভেজের বাবা ছেলের শোকে  মারা যান দুই বছর আগে। বর্তমানে তার মাও শয্যাশায়ী বলেও জানান ফারজানা আক্তার।
আমাদের গুম পরিবারের সদস্য হিসেবে চেনে মানুষ
মানববন্ধনে এসেছেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া সাজেদুল ইসলামের বোন আফরোজা ইসলাম। সম্বনয় করেছেন মানববন্ধনের। তিনি বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান ফিরে এসেছেন। আমরাও মনে করি, আমাদের স্বজনদেরও এভাবে ফেরত দেওয়া হবে।’
আমরা প্রতিদিন মারা যাই
২০১৩ সালে মিরপুর পল্লবী থেকে নিখোঁজ হন বিএনপিকর্মী সেলিম রেজা পিন্টু। তার বোন মুন্নী মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বলেন, ‘৫ বছর ছয়মাস ধরে মানুষের দ্বারে-দ্বারে ঘুরছি। কত মানুষের কাছে গেছি, প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, তাও আমাদের ভাইকে ফেরত পাইনি। আমাদের বাবা-মা খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। তারা হয়তো বাঁচবেন না। আমরা এই বেঁচে থেকে মরে আছি। আমরা প্রতিদিনই মারা যাই।’ তিনি বলেন, ‘হয় আমাদের গুম করুণ, না হয় আমাদের ভাইদের ফেরত দিন।’
মানববন্ধনে-ণিখোঁজ-বাবার-ছবি-বুকে-শিশু-মীম
নিখোঁজ বাবার ছবি বুকে শিশু মীম
শ্রমিক নেতা মাইকেল চাকমার বোনের কান্না
ইউপিডিএফ-এর  অন্যতম সংগঠক ও ইউনাইটেড ওয়াকার্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইকেল চাকমা গত ৯ এপ্রিল কাঁচপুর থেকে নিখোঁজ হন। তার বড়বোন সুভদ্র চাকমা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে কথা বলার আগে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। মাইকেল পাহাড়ি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করে থাকেন। 
স্বজনদের সঙ্গে যারা মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেছেন
নিখোঁজ ও গুম হওয়া মানুষের ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে আয়োজিত এই মানববন্ধনে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা ছিলেন। এর মধ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘গুম-খুনের জন্য দায়ীরা আপনার পাশেই আছে। আপনি তাদের বলুন, তারা যেন দ্রুত নিখোঁদের ফেরত দেয়।’
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হলে অবস্থা এমনই হবে।’
সরকারের উদ্দেশে মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, ‘এসব ঘটনা তদন্তে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করুন। তারা  একটি গ্রহণযোগ্য তদন্ত করুক। যেন আমরা সবাই আস্থা রাখতে পারি। তারা তদন্ত করে দেখুক, আসলে তাদের ভাগ্যে কী জুটেছে।’
এখনও যারা নিখোঁজ
মানববন্ধনে অন্তত ২০ জন নিখোঁজের স্বজন, সন্তান, স্ত্রী ও পরিবার অংশ নেন। যারা নিখোঁজ রয়েছেন, তারা হলেন, ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গুম হওয়া ঢাকার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমন। একই বছরের ২৮ নভেম্বর নিখোঁজ হন খালিদ হাসান সোহেল। ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর নিখোঁঝ হন আদনান চৌধুরী। এছাড়া ২০১৩ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হন, জাহিদুল করিম তানভীর, আবদুল কাদের ভূঁইয়া মাসুম, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আসাদুজ্জামান রানা, আল আমিন, এমএ আদনান, কাউসার, সেলিম রেজা পিন্টু, খালিদ হাসান সোহেল, সম্রাট মোল্লা, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন, মো. সোহেল, মো. সোহেল চঞ্চল, নিজাম উদ্দিন মুন্না, তরিকুল ইসলাম ঝন্টু ও মাহবুব হাসান সুজন
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

৭২তম কান উৎসবের বিজয়ী তালিকা

কান উৎসবের চূড়ান্ত আসর
কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭২তম আসরের পর্দা নামলো। গত ১৪ মে শুরু হয়ে শনিবার (২৫ মে) শেষ হয় ১২ দিনের এই আয়োজন। একনজরে এবারের আসরের বিজয়ী তালিকা দেখে নিন।
মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ
পাম দ’র: প্যারাসাইট (বং জুন-হো, দক্ষিণ কোরিয়া)
গ্র্যাঁ প্রিঁ: আটলান্টিক (মাতি দিওপ, সেনেগাল-ফ্রান্স)
সেরা পরিচালক: জ্যঁ-পিয়ের ও লুক দারদেন (ইয়াং আহমেদ, বেলজিয়াম)
জুরি প্রাইজ: লে মিজারেবলস (লাজ লি, মালি-ফ্রান্স) ও বাকুরাউ (ক্লেবার মেনদোনসা ফিলো ও জুলিয়ানো দোরনেলেস, ব্রাজিল)
সেরা অভিনেতা: আন্তোনিও ব্যান্দেরাস (পেইন অ্যান্ড গ্লোরি, স্পেন)
সেরা অভিনেত্রী: এমিলি বিচাম (লিটল জো, যুক্তরাজ্য)
সেরা চিত্রনাট্যকার: সেলিন সিয়ামা (পোর্ট্রেট অব অ্যা লেডি অন ফায়ার, ফ্রান্স)
স্পেশাল মেনশন: ইট মাস্ট বি হ্যাভেন (ইলিয়া সুলেমান, ফিলিস্তিন)
সম্মানসূচক পাম দ’র: আলা দ্যুলো
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি: দ্য ডিস্ট্যান্স বিটউইন আস অ্যান্ড দ্য স্কাই (ভাসিলিস কেকাতোস, গ্রিস)
স্পেশাল মেনশন (স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি): মনস্টার গড (অগাস্তিনা স্যান মার্টিন, আর্জেন্টিনা)
আঁ সাঁর্তে রিগার
সেরা চলচ্চিত্র: দ্য ইনভিজিবল লাইফ অব ইউরিজিসি গুজমাও (করিম আইনুজ, ব্রাজিল)
জুরি প্রাইজ: ফায়ার উইল কাম (অলিভার লাচে, ফ্রান্স)
সেরা অভিনয়: চিয়ারা মাস্ত্রোইয়ান্নি (অন অ্যা ম্যাজিক্যাল নাইট, ফ্রান্স)
সেরা পরিচালক: কান্তেমির বালাগভ (বিনপোল, রাশিয়া)
স্পেশাল জুরি প্রাইজ: লিবার্টি (আলবের্ত চেরা, স্পেন)
বিচারকদের মুগ্ধতা: অ্যা ব্রাদার’স লাভ (মনিয়া শকরি, কানাডা) ও দ্য ক্লাইম্ব (মাইকেল অ্যাঞ্জেলো কভিনো, যুক্তরাষ্ট্র)
জুরি স্পেশাল মেনশন: জোয়ান অব আর্ক (ব্রুনো দুমো, ফ্রান্স)
ক্যামেরা দ’র
সিজার ডায়াজ (আওয়ার মাদারস, বেলজিয়াম-গুয়াতেমালা)
সিনেফঁদাসো
প্রথম পুরস্কার: মানো আ মানো (লুই কোরভয়জিয়ের, সিনেফ্যাব্রিক, ফ্রান্স)
দ্বিতীয় পুরস্কার: হিউ (রিচার্ড ভ্যান, ক্যাল আর্টস, যুক্তরাষ্ট্র)
তৃতীয় পুরস্কার: অ্যামবিয়েন্স (উইসাম আল জাফারি, দার আল-কালিমা ইউনিভার্সিটি কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড কালচার, ফিলিস্তিন) ও দ্য লিটল সৌল (বারবারা রুপিক, পিডব্লিউএসএফটিভিট, পোল্যান্ড)
মঞ্চে ৭২তম কান বিজীরা
মঞ্চে ৭২তম কান বিজীরা
মুক্ত পুরস্কারের তালিকা
ফিপরেস্কি
মূল প্রতিযোগিতা: ইট মাস্ট বি হ্যাভেন (ইলিয়া সুলেমান, ফিলিস্তিন)
আঁ সাঁর্তে রিগার: বিনপোল (কান্তেমির বালাগভ, রাশিয়া)
প্যারালাল সেকশন (ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট): দ্য লাইটহাউস (রবার্ট এগারস, যুক্তরাষ্ট্র)
ইকুমেনিকাল প্রাইজ
ইকুমেনিকাল জুরি প্রাইজ: অ্যা হিডেন লাইফ (টেরেন্স মালিক, যুক্তরাষ্ট্র)
ক্রিটিকস উইক
নেসপ্রেসো গ্র্যান্ড প্রাইজ: আই লস্ট মাই বডি (জেরেমি ক্ল্যাপা, ফ্রান্স)
সেরা চিত্রনাট্য (এসএসিডি অ্যাওয়ার্ড): আওয়ার মাদারস (সিজার ডায়াজ, বেলজিয়াম-গুয়াতেমালা)
গ্যান ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড: ভাইভারিয়াম (লরক্যান ফিনেগান, আয়ারল্যান্ড)
লুই রোদোরার ফাউন্ডেশন রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড: ইঙ্গভার সিগারোসন (অ্যা হোয়াইট, হোয়াইট ডে, আইসল্যান্ড)
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (লেইকা সিনে ডিসকভারি প্রাইজ): শি রানস (শি ইয়াঙ, চীন)
ক্যানাল প্লাস অ্যাওয়ার্ড: উইদাউথ ব্যাড ইনটেনশন (আন্দ্রেয়াস হোজেনিন, ডেনমার্ক)
ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট
ইউরোপা সিনেমাস লেবেল অ্যাওয়ার্ড (সেরা ইউরোপীয় চলচ্চিত্র): অ্যালিস অ্যান্ড দ্য মেয়র (নিকোলাস পারিজার, ফ্রান্স)
এসএসিডি অ্যাওয়ার্ড (সেরা ফরাসি ভাষার ছবি): অ্যান ইজি গার্ল (রেবেকা জোলোতস্কি)
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র: স্টে অ্যাওয়েক, বি রেডি (ফাম, থিন আন, ভিয়েতনাম)
ক্যারোস দ’র: জন কার্পেন্টার
ভালকান অ্যাওয়ার্ড (কারিগরি শিল্পী)
ভালকান অ্যাওয়ার্ড: ফ্লোরা ভলপেলিয়ের (সম্পাদনা, ল্যঁ মিজারেবলস) ও জুলিয়েন পুপার (সেট-লাইট ডিজাইন, ল্যঁ মিজারেবলস)
স্পেশাল মেনশন: ক্লেয়ার ম্যাতো (চিত্রগ্রহণ, আটলান্টিক ও পোর্ট্রেট অব অ্যা লেডি অন ফায়ার)
শিল্প নির্দেশনা মেনশন: লি হা-জান (প্যারাসাইট)
কুইয়ার পাম (সমকামি ছবি)
কুইয়ার পাম অ্যাওয়ার্ড: পোর্ট্রেট অব অ্যা লেডি অন ফায়ার (সেলিন সিয়ামা, ফ্রান্স)
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের কুইয়ার পাম: দ্য ডিস্ট্যান্স বিটউইন আস অ্যান্ড দ্য স্কাই (ভাসিলিস কেকাতোস, গ্রিস)
পাম ডগ (সেরা কুকুর শিল্পী)
পাম ডগ অ্যাওয়ার্ড: ব্র্যান্ডি (ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন...হলিউড)
গ্রাঁ জুরি প্রাইজ: লিটল জো ছবির কুকুররা
লই দ’র (দ্য গোল্ডেন আই): ফর সামা (ওয়াদ আল-কাতিব ও এডওয়ার্ড ওয়াটস) ও দ্য করডিলেরা অব ড্রিমস (পাত্রিসিও গুজমান, চিলি)
কান সাউন্ডট্র্যাক অ্যাওয়ার্ড: পেইন অ্যান্ড গ্লোরি (আলবার্তো ইগলেসিয়াস)
প্রিঁ ফ্রাঁসোয়া শ্যালে অ্যাওয়ার্ড: অ্যা হিডেন লাইফ (টেরেন্স মালিক, যুক্তরাষ্ট্র)