Tuesday, August 5, 2014
মৃদুল জীবিত ফিরেছেন, কিন্তু... by বিশ্বজিৎ চৌধুরী
চট্টগ্রামের মৃদুলের অপহরণ ঘটনা প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জের নজরুল ইসলাম ও চন্দন সরকারের কথা ওঠার কারণ উভয় ক্ষেত্রেই অপহরণকারী হিসেবে অভিযোগের আঙুল উঠেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) দিকে। নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় নজরুলের স্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনেরই আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেন র্যাবকে দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। র্যাবের তিন কর্মকর্তা অবশেষে এ ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্তির কথা স্বীকার করেছেন। ভারতে আটক নূর হোসেনকেও ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে মৃদুল চৌধুরী অপহরণ ঘটনার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এ রহস্যের কোনো সুরাহা হয়নি। পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দায়সারা, তারা যেন ঘটনাটিকে এখানেই ধামাচাপা দেওয়ার পক্ষে।তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘মৃদুল চৌধুরী অপহরণের ঘটনার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’ তবে তিনি স্বীকার করেছেন, মৃদুল যে অপহৃত হয়েছিলেন, সেটা নিয়ে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই।
মৃদুলের অপহরণের ঘটনাটি যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে তাঁকে কারা অপহরণ করেছিল, এই প্রশ্নের মীমাংসা করা নিশ্চয় পুলিশেরই দায়িত্ব। অপহরণকারীদের শনাক্ত করতে পেরেছেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে মৃদুল চৌধুরী নিজে বলেছেন, ‘ছয় দিন আমার চোখ ও হাত বাঁধা ছিল। আমি অপহরণকারীদের চিনতে পারি নাই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপহরণকারীদের চিহ্নিত করা হোক।’ এর চেয়ে নিরাপদ উত্তর আর কী হতে পারে? ।
২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে র্যাব-২-এর কর্মকর্তা মেজর রকিবুল আমিনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ৮০ ভরি স্বর্ণ লুটের মামলা করেছিলেন মৃদুল চৌধুরী। সিআইডি এ মামলার তদন্ত করছে। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অপহৃত হন তিনি। যতই তিনি এখন বলুন অপহরণকারীদের শনাক্ত করতে পারেননি, মুক্ত হওয়ার পর বিচারিক জবানবন্দিতে কিন্তু স্বীকার করেছিলেন, র্যাবের বিরুদ্ধে ৮০ ভরি স্বর্ণ লুটের মামলা করায় অপহরণকারীরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তদন্ত প্রক্রিয়া তো এ পথেই এগোতে পারত। কিন্তু তদন্ত কমিটির প্রধান বলছেন, ‘মেজর রকিবুল আমিনের বক্তব্য আমরা নিয়েছি। এ ছাড়া র্যাব-২-এর পরিচালকের সঙ্গেও কথা বলেছি। তদন্তে তাঁদের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কী প্রক্রিয়ায় কথা বললে স্বীকারোক্তি আদায় করা যায়, তা ভালো জানে পুলিশ। কিন্তু সাধারণের জন্য প্রযোজ্য সেই প্রক্রিয়া এই ‘বিশেষ’ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যদি নেওয়া না হয়, তাহলে এই তদন্ত অর্থহীন।
প্রসঙ্গক্রমে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার তালসরা দরবার শরিফের ঘটনাটি স্মরণ করা যেতে পারে। ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে র্যাব-৭-এর তৎকালীন অধিনায়ক লে. কর্নেল জুলফিকার আলী মজুমদারের নেতৃত্বে কালো ও সাদাপোশাক পরা ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তল্লাশির জন্য ঢুকেছিল তালসরা দরবার শরিফে। পীর আহম্মদ ছফা শাহ্কে দোতলার একটি কক্ষে এবং তাঁর স্ত্রী ও মেয়েদের নিচতলার একটি কক্ষে আটকে রেখে তল্লাশি চালান র্যাবের সশস্ত্র সদস্যরা। একপর্যায়ে আহম্মদ ছফার কাছ থেকে জোর করে চাবি নিয়ে স্টিলের আলমারি খুলে ছয়টি ট্রাভেল ব্যাগে রাখা দুই কোটি সাত হাজার টাকা নিয়ে বাইরে অপেক্ষমাণ গাড়িতে তোলেন তাঁরা। মসজিদ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য এ টাকা গচ্ছিত ছিল। অথচ শত শত গ্রামবাসীর সামনেই এ টাকা নিয়ে চলে যান র্যাবের সদস্যরা।
২০১২ সালের মার্চে ডাকাতির মামলা দায়ের করেছিলেন দরবার শরিফের গাড়ির চালক ইদ্রিস আলী। এর আগেই অবশ্য লুটের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল র্যাব। কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রচলিত আইনে মামলা করার সুপারিশ করা হয়। তালসরা দরবার থেকে লুট করা টাকায় মাত্র ২০ দিনের মধ্যে ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট এবং ফরিদপুরে গ্রামের বাড়িতে আবাদি জমি কিনেছিলেন লে. কর্নেল জুলফিকার আলী মজুমদার। এই তথ্য মিলেছে খোদ র্যাবের তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে। তদন্তে তৎকালীন অধিনায়কসহ র্যাবের চারজন সদস্য ও দুই সোর্সের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পায় কমিটি।
এ ঘটনায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। কিন্তু উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়েছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা আন্তরিক হলে বা সতর্ক থাকলে বিচার-প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতো। দরবার শরিফের দুই কোটি সাত হাজার টাকা ফেরত পাওয়া যায়নি। একইভাবে অপহৃত মৃদুল চৌধুরী জান ফিরে পেলেও মাল পাননি। অর্থাৎ, তাঁর ৪০ ভরি স্বর্ণ-রহস্যেরও কিনারা হয়নি এখনো।
সম্প্রতি র্যাব ভেঙে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি চিঠি দিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ (এইচআরডব্লিউ)। এই সংগঠনের চিঠিতে র্যাবের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ তুলে বলা হয়, ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে পরবর্তী সেনানিয়ন্ত্রিত সরকার এবং আওয়ামী লীগ সরকারও এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে র্যাবকে দায়মুক্তি দিয়ে এসেছে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান দুজনই র্যাব বিলুপ্ত করে দেওয়ার এই দাবিকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন।
র্যাবের প্রয়োজন আছে কী নেই, সেই বিতর্কে যাব না। তবে র্যাবের সদস্যদের দ্বারা কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তার যথাযথ বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে তো কোনো বিতর্ক থাকতে পারে না। বিচার ত্বরান্বিত করার মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার ব্যাপারে ভুক্তভোগীদের আশ্বস্ত করা সরকারের অবশ্যকর্তব্য।
বিশ্বজিৎ চৌধুরী: কবি, লেখক ও সাংবাদিক।
bishwabd@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা ইসরায়েলের

গাজায় গত ৮ জুলাই থেকে ইসরায়েলের বর্বর হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজার ৮৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে নয় হাজারের বেশি। তাদের অধিকাংশ বেসামরিক নাগরিক। এর মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে। এ ছাড়া লাখো ফিলিস্তিনি হয়েছে বাস্তুচ্যুত।
ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তা লে. কর্নেল পিটার লেরনার সাংবাদিকদের বলেছেন, আজ ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগেই তাদের সেনাদের প্রত্যাহার করা হবে।
ইসরায়েলের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গাজায় সর্বশেষ সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল হামাসের সুড়ঙ্গ ধ্বংস করা। তেল আবিবের সে উদ্দেশ্য ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে।
এর আগেও গাজায় কয়েক দফায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ ঘোষণাই ভেস্তে যায়। যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জন্য হামাস ও ইসরায়েল পরস্পরকে দোষারোপ করে আসছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে সর্বশেষ গত সোমবার মিসরের রাজধানী কায়রোতে আলোচনা হয়। এতে হামাসের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের অন্য দলগুলোও যোগ দেয়। সেখানে অনুপস্থিত ছিল ইসরায়েল।
পরে ইসরায়েলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, মিসরের প্রস্তাব অনুযায়ী ৭২ ঘণ্টার শর্তহীন যুদ্ধবিরতির খসড়া গ্রহণ করবে ইসরায়েল।
গাজার নিয়ন্ত্রক হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি বলেছেন, ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তাঁরাও গ্রহণ করেছেন।
মিসরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মিসর। তারা ৭২ ঘণ্টা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে এর আগেও একই ধরনের একটি উদ্যোগ নিয়েছিল মিসর। ওই প্রস্তাব ইসরায়েল গ্রহণ করলেও প্রত্যাখ্যান করে হামাস।
নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সব পক্ষের প্রতিনিধিরা বিস্তারিত আলোচনা করতে পরে কায়রোতে বসবেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নয়মাসের অন্তঃসত্ত্বার সাঁতরে নদী পার!

>>নয় মাসের গর্ভবতী অবস্থায় এক কিলোমিটার নদী পার হন এই নারী। তাঁকে সাঁতরাতে সহায়তা করেন তাঁর বাবা ও ভাইয়েরা: ছবি বিবিসি হিন্দির সৌজন্যে
প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষ্ণ নদীবেষ্টিত দ্বীপগ্রাম নীলাকান্তরায়াঙ্গাড়ে গ্রামের ওই প্রসূতির নাম জেল্লাবা। বয়স ২২ বছর।
ওই গ্রাম থেকে শহরে আসতে কৃষ্ণ নামের একটি নদী পার হতে হয়। নদী পারাপারের জন্য একটি মাত্র ভেলা ছিল। তা-ও খরস্রোতের কারণে বন্ধ হয়ে যায়।
এ অবস্থায় বাবা, ভাই ও চাচাতো ভাইদের সহায়তায় সাঁতরে নদী পার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জেল্লাবা। ভেসে থাকার জন্য তাঁরা বোতল, পাতিল ও লাউ-কুমড়ার শুকনো খোলের সাহায্য নেন।
নদী পার হওয়ার পর জেল্লাবা বলেন, ‘আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার বাচ্চার নিরাপদ প্রসব চেয়েছিলাম।’ জেল্লাবার এই দুঃসাহসকে স্থানীয় চিকিত্সক ও গ্রামবাসী বিস্ময়কর বলে উল্লেখ করেছেন।
গত বুধবার যখন জেল্লাবা পার হচ্ছিলেন, তখন নদীতে ১২-১৪ ফুট উঁচু ঢেউ ছিল। এ সময় একজন অভিজ্ঞ সাঁতারুও নদীতে সাঁতার কাটতে ভয় পায়। তিনি বলেন, ‘আমি ভয়ে ছিলাম। কিন্তু সন্তানের জন্য নদী পাড়ি দিতে প্রতিজ্ঞ ছিলাম।’ জেল্লাবা যখন সাঁতার কাটছিলেন তখন তাঁর বাবা, ভাই ও চাচাতো ভাইয়েরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
জেল্লাবা বলছিলেন, ‘আমার ভাই আমার সামনে ছিল, তার পরে আমি। আমার ভাই এবং চাচাতো ভাইয়েরা আমার চারপাশে শুকনো ফাঁপা কুমড়ো এবং বোতল দিয়ে গার্ড তৈরি করে দেয়। এ জন্য আমি ভেসে ছিলাম।’
জেল্লাবার ভাই লক্ষ্মণ বলেন, কুমড়ো এবং বোতলগুলোকে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রেখেছিলাম। নদীটির এপাড় থেকে ওপাড়ের দূরত্ব আধা কিলোমিটারের কিছু বেশি। কিন্তু মাঝনদীতে ছিল প্রলয়ংকরী ঢেউ। বিশাল ঢেউ আমাদের ছিটকে সরিয়ে দিচ্ছিল। এ জন্য আমাদের প্রায় এক কিলোমিটার সাঁতরাতে হয়েছে।’
জেল্লাবা যখন কাছের কেক্কারা নামের একটি গ্রামের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পৌঁছান, তখন চিকিত্সকেরা তাঁকে পরীক্ষা করে দেখেন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। এখন তিনি তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছেন। ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিত্সক বীণা বলেছেন, তিনি খুব ভালো আছেন। তিনি সাহসিকতা ও সংকল্পের উদাহরণ হয়ে থাকবেন। ২০-২৫ দিন পর তাঁর সন্তান প্রসব হবে বলে চিকিত্সকেরা মনে করছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজা ইস্যুতে ব্যারনেস ওয়ারসির পদত্যাগ

ডেভিড ক্যামেরনের মন্ত্রিসভায় ওয়ারসি প্রথম মুসলিম নারী সদস্য। তিনি ব্রিটেনের কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে ওয়ারসি আইন পেশায় নিযুক্ত ছিলেন।
আজ এক টুইটার বার্তায় ওয়ারসি লেখেন, ‘গভীর দুঃখ নিয়ে আজ আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। গাজায় সরকারের যে নীতি, সেটি আমি আর সমর্থন করতে পারছি না।’
মন্ত্রিসভার সদস্য নন, কনজারভেটিভ পার্টির এমন বেশ কয়েকজন সাংসদ ডেভিড ক্যামেরনকে ইসরায়েলের প্রতি আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলের যে কর্মকাণ্ড, তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
অস্বস্তি: লেডি ওয়ারসি পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, ‘সরকারের নীতি নৈতিকভাবে অসমর্থনযোগ্য, ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এবং দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের যে সুনাম, তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।’
লেডি ওয়ারসি বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য ‘এত সহজ’ ছিল না। কিন্তু গাজা ইস্যুতে যেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল, তাতে করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দারুণ অস্বস্তির সৃষ্টি হয়েছিল।
লেডি ওয়ারসি আরও বলেছেন, ‘এর আগে যে সিদ্ধান্তগুলো আমি নিয়েছি বা সমর্থন করেছি, সেগুলোর সঙ্গে আমি একমত। কিন্তু এ দফায় আমি একমত ছিলাম বলে মনে করি না।’
লন্ডনের মেয়র বরিস জনসন লেডি ওয়ারসির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
উপপ্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ বলেছেন, ‘এখানে গোপনীয়তার কোনো সুযোগ নেই। গাজা ইস্যুতে সরকারের ভেতরেই ভিন্নমত রয়েছে। এ বিষয়ে লেডি ওয়ারসির জোরালো মতামত রয়েছে।’
তবে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ছুটিতে থাকায় এখনো পর্যন্ত তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত লেডি ওয়ারসি গাজাসংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন এর আগেই। গত ২১ জুলাই এক টুইটার-বার্তায় তিনি লেখেন, নির্দোষ সাধারণ মানুষের ওপর হামলা এখনই বন্ধ হওয়া উচিত। এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি হওয়া দরকার। দুপক্ষের নেতৃত্বকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিন দিন পর তিনি লেখেন, ‘শিশুহত্যা সমর্থন করা থেকে কি মানুষ বিরত থাকতে পারে না? আমাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি যা-ই হোক না কেন, এটাকে ন্যায্য বলা যায় না। এটা নিশ্চিতভাবেই খুবই দুঃখজনক।’
গতকালই প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, গাজায় জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলের সামনে বোমা হামলার ঘটনার নিন্দা করে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন যা বলেছেন, তা ঠিক। তবে বান ওই হামলাকে ‘নৈতিকভাবে চূড়ান্ত অবমাননাকর এবং অপরাধ’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সঙ্গে ডেভিড ক্যামেরন একমত কি না, সে ব্যাপারে কিছু বলেননি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রজন্ম ধ্বংসের মিশনে ইসরাইল -ফিলিস্তিনিদের নির্বংশ করার মাস্টারপ্লান

ইসরাইলের এবারের অপারেশনে প্রজন্ম ধ্বংসের এই পরিকল্পনা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রোববার তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়েপ এরদোগান এমন আশংকা প্রকাশ করেছেন। ইস্তাম্বুলের এক নির্বাচনী জনসভায় লক্ষাধিক লোকের সামনে এরদোগান বলেন, ‘সব অপরাধ মাথায় নিয়ে হিটলার যেমন বর্ণমুক্ত (ইহুদিমুক্ত) রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল ইসরাইলও এখন সেই লক্ষ্যে ধাবিত হচ্ছে। তারা নারীদের হত্যা করছে যাতে ফিলিস্তিনি শিশুর জন্ম দিতে না পারে, তারা শিশুদের হত্যা করছে যাতে তারা বড় হতে না পার, তারা পুরুষদের হত্যা করছে যাতে তারা নিজেদের দেশ রক্ষা করতে না পারে।’
এদিকে গাজার সার্বিক পরিস্থিতি ‘অসহনীয়’ এবং বিষয়টিতে সরকারের অবশ্যই দৃষ্টি দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হামন্ড।
ইরাইলের লাগাতার সেনা অভিযানে গাজায় সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে পার্লামেন্টে লেবার পার্টির নেতা এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের অবস্থানের সমালোচনার পর এমন মন্তব্য করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের সমালোচনা না করে প্রধানমন্ত্রী ‘ভুল’ করছেন বলে মন্তব্য করেছিলেন মিলিব্যান্ড। রোববার পররাষ্ট্র্রমন্ত্রী হামন্ড যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সানডে টেলিগ্রাফ’ পত্রিকাকে বলেন, ‘গাজায় অন্তহীন সহিংতার আভাস দেখা যাচ্ছে। গাজা নিয়ে প্রতিদিন টেলিভিশনের পর্দায় যা দেখানো হচ্ছে তা জনগণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে, তারা নিশ্চয়ই এ নিয়ে অনেক বিরক্ত। ব্রিটিশ জনগণ নিশ্চয় বুঝতে পারছে যে, গাজার সাধারণ মানুষ অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্যে আছে, যেদিকে অবশ্যই দৃষ্টি দেয়া উচিত।’ হামন্ড আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষের সেই অনুভূতির সঙ্গে আমিও একমত। হত্যাযজ্ঞ বন্ধে অচিরেই গাজায় নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গাজায় ২৭ দিন ধরে চালানো ইসরাইলের ত্রিমুখী সেনা অভিযানে ১,৭৪০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই সাধারণ নাগরিক। ইসরাইল গাজায় ‘বেসামরিক জনগণ ও স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু’ করে যুদ্ধাপরাধ করছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো হুশিয়ার করেছে। গাজা অভিযানকে কেন্দ্র করে ইহুদি রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে নেদ্যারল্যান্ডসের ‘দ্য হেগ’ এ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলাও হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রতিবেশীদের অভিযোগে আবারও বিবারের বাড়ি বদল

প্রতিবেশীদের অভিযোগ পেয়ে এক সপ্তাহে ছয়-ছয়বার বিবারের বেভারলি হিলসের বাড়িতে হানা দিয়েছে পুলিশ। আর এ জন্য বেভারলি হিলসের বাড়ি ছেড়ে দিয়ে নতুন বাড়িতে ওঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২০ বছর বয়সী কানাডীয় এ পপগায়ক। সম্প্রতি এক খবরে এমনটিই জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ফিমেলফার্স্ট ডটকম।
বিবার বেভারলি হিলসের বাড়িতে উঠেছিলেন চলতি বছরের শুরুর দিকে। কেবল জুলাই মাসেই এক সপ্তাহের মধ্যে ছয়বার বিবারের বাড়িতে গিয়ে পার্টি বন্ধ করতে বলেছে পুলিশ। পুলিশি ঝামেলার কারণে বাড়িটি ছেড়ে দিয়ে বেভারলি হিলসেই কিংবা লস অ্যাঞ্জেলেসের দ্য সেঞ্চুরি কমপ্লেক্সে বিলাসবহুল কোনো অ্যাপার্টমেন্টে ওঠার চিন্তা-ভাবনা করছেন বিবার। সেপ্টেম্বর মাসের শেষনাগাদ নতুন বাড়িতে উঠতে চান এই ‘বেবি’ তারকা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিয়ের আগেই হানিমুন!

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘হাইজ্যাকড’! by মহিউদ্দিন আহমদ

বাংলাদেশে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত পেশাদার কূটনীতিবিদ মার্শিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট গত ১৮ জুলাই সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির শুনানিতে বলেছেন, বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠনে জরুরি ভিত্তিতে সংলাপ দরকার। গ্রামীণ ব্যাংক, মানবাধিকার, শ্রমিক অধিকার নিয়েও তিনি এই শুনানিতে মার্কিন সরকারের নীতি তুলে ধরেছেন। তিনি বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক ইতিবাচক কথাও বলেছেন। কিন্তু সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী-নেতা এমন খেপেছেন যে প্রকাশ্যে বার্নিকাটকে তুলাধোনা করা শুরু করেছেন। তাঁদের মধ্যে একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী কূটনৈতিক শিষ্টাচারও মানছেন না। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আইনকানুনে মার্কিন সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটি ‘কনফার্ম’ করলেই প্রেসিডেন্ট ওবামার এই মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে, তারপরই তিনি বাংলাদেশে আসতে পারবেন।
বার্নিকাট যে কথাগুলো বলেছেন, তার প্রায় সব তো সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও বাংলাদেশ সফরে এসে আড়াই বছর আগে প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য নেতা–মন্ত্রীকে বলে গিয়েছেন, বলে গিয়েছেন সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট রবার্ট ব্লেক এবং এখন বলছেন তাঁর উত্তরসূরি নিশা দেশাই বিসওয়াল। তো বার্নিকাট কী অপরাধটি করলেন? তিনি তো তাঁর সরকারের কথাই বলবেন। সেই কথা আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য, শ্রুতিমধুর না-ও হতে পারে।
আমাদের মন্ত্রীরা ঝাড়ছেন বার্নিকাটকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জিএসপি-সুবিধা আবার চালু করার জন্য তদবিরও করে চলেছেন। অনুনয়-বিনয়ও চলছে। আবার ঢাকায় ফিরে এসে তিনি রাজনৈতিক কারণে জিএসপি–সুবিধা বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগও করেছেন। তো সরকারের কি কোনো ‘ইউনিফর্ম’ নীতি নেই? একেক মন্ত্রী একেক কথা বলে যাবেন? তাঁরা কি এমনটি করতে পারেন? আমাদের মন্ত্রীদের জানা দরকার, পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীরই কথা বলা উচিত। তা ছাড়া সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে কেউ প্রকাশ্যে আরেকটি দেশের বিরুদ্ধে নিন্দাসূচক কিছু বলতে পারেন না। মনে আছে, আফগানিস্তানে যখন হামিদ কারজাই প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন, সেই অনুষ্ঠানে উজবেকিস্তানে আমাদের রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত থেকে এই নতুন সরকারকে সমর্থন জানালেন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে। কিন্তু হামিদ কারজাই সরকারকে প্রকাশ্যে নিন্দা জানালেন খালেদা জিয়ার মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী। নিজামীদের সমর্থন-দোয়া সব সময় তালেবানের পক্ষেই ছিল। সুতরাং কারজাইকে পছন্দ করবে না জামায়াত, তা স্বাভাবিক। কিন্তু প্রকাশ্যে সমালোচনা?
সে সময়ে দৈনিক জনকণ্ঠে কূটনৈতিক রীতিনীতি এবং শিষ্টাচার সম্পর্কে কিছু সবক দিয়েছিলাম সরকারকে। তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খান আমার ওই লেখার তারিফ করে বলেছিলেন, পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে মন্ত্রীদের সংযত করতে লেখাটি তাঁর কাজে লেগেছিল। সবার জানা উচিত, যা বলার কূটনৈতিক ভাষায় ও চ্যানেলেই তা বলতে হবে। আমরা আমেরিকা ও ইউরোপ নই যে রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুমকি-হুংকার দিতে পারি।
তারপর বার্নিকাট বা আমেরিকাকে যদি এতই অপছন্দ হয়, তাদের রাষ্ট্রদূতকে আমাদের দেশে আসতে না দিলেই হয়। আমাদের কিছু নেতা-মন্ত্রীর জানা নেই যে কোনো একজনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠাতে হলে এই মনোনীত ব্যক্তির পক্ষেÿ ওই দেশের পূর্ব অনুমতি লাগে। প্রধানমন্ত্রীর অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ জিয়াউদ্দিন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন আমাদের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে, তাঁর সম্পর্কে এই সিদ্ধান্তের কথা তো জানি চার মাস আগে। কিন্তু সরকারি ঘোষণার দেরিটা হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জিয়াউদ্দিন সম্পর্কে ‘ক্লিয়ারেন্স’ দিতে এত সময় নিয়েছে। ৩৫ বছর আগে একবার, পাঁচ বছর আগে আরেকবার, আবার সৌদি আরব আমাদের দুজন মনোনীত রাষ্ট্রদূতকে ‘ক্লিয়ারেন্স’ দেয়নি বলে তাঁরা সৌদি আরবে আমাদের রাষ্ট্রদূত হতে পারেননি। পরে তাঁদের অন্য জায়গায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আমরাও অন্য দুজনকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দিই। তখন আর তারা আপত্তি তোলেনি।
তো যদি মেরুদণ্ড শক্ত থাকে, আমরাও বার্নিকাটকে ‘এগ্রেমো’ না দিলেই পারি। অথবা আমেরিকার নীতির প্রতিবাদে আমরা ওয়াশিংটনে আমাদের জিয়াউদ্দিনকে না পাঠালেও পারি। রাষ্ট্রদূত না পাঠিয়ে ওই ‘পোস্ট’ খালি রাখাও একধরনের কূটনৈতিক প্রতিবাদ।
বাংলাদেশে প্রথম সৌদি রাষ্ট্রদূত ফুয়াদ আল খতিব যখন বাড়াবাড়ি শুরু করলেন, তখন তাঁর প্রত্যাহার চাইলেন জেনারেল এরশাদের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ আর এস দোহা।সৌদি সরকার আমাদের দাবির মুখে তাঁকে নীরবে প্রত্যাহার করে নিল ঠিকই, কিন্তু প্রতিবাদে তারাও এক বছর কোনো রাষ্ট্রদূত পাঠাল না। অনেক চেষ্টা-তদবির এবং দীর্ঘ বিরতির পর আবদুল লতিফ আল মায়মানি দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্রদূত হিসেবে ঢাকায় এলেন।
দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং সম্পর্কোন্নয়ন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তো নেতা-মন্ত্রীদের এমন আস্ফালনে সম্পর্কের কি উন্নতি ঘটছে না অবনতি, এর দায় তো পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহন করতে হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু পশ্চিমা দেশের সমর্থন নিয়ে ইসরায়েল গাজায় হামলা চালিয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে যাচ্ছে। ইরাক নিরাপত্তা পরিষদের মাত্র দুটো সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করেছিল বলে দেশটিতে অবৈধ হামলা চালায়, দেশটিকে গুঁড়িয়ে দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর তার বিপরীতে নিরাপত্তা পরিষদের ৬৭টি সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল, কিন্তু তার পরও সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে ইসরায়েলকে আগের চেয়ে বেশি বেপরোয়া সন্ত্রাসী করে তুলেছে এই একই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের এমন গণহত্যায় চুপ থাকে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়। কিন্তু এসব কারণে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তীব্র ক্ষোভ জানাতে পারি। কিন্তু বার্নিকাটের বিরুদ্ধে আক্রোশ জাহির করা তো যৌক্তিক নয়।
দ্বিতীয় ঘটনাটি হচ্ছে, কয়েক দিন আগে ১৪ দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গাজার মানুষজনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে সেখানে তারা প্রতিনিধিদল পাঠাবে। তাদের এই অনুভূতি বাংলাদেশের জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব মানুষেরই। কিন্তু প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে। কিন্তু এত বড় বড় নেতা বুঝলেন না যে গাজায় কোনো মানুষই এখন নিরাপদ নয়। গাজার মানুষজন এই জায়গা থেকে ওই জায়গায়, এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে ছুটছে প্রাণ বাঁচাতে। ২০০৮ থেকে অবরুদ্ধ গাজায় কেউ ঢুকতে পারছে না, এখান থেকে কেউ বেরও হতে পারছে না, জাতিসংঘের কথাও শুনছে না ইসরায়েলের হামলাকারীরা। এমনকি সেখানে ওষুধপথ্য যেতে দিচ্ছে না তারা। এ ধরেনর অনিরাপদ জায়গা থেকে আমাদের দূতাবাসগুলোর একটি রুটিন দায়িত্ব থাকে আমাদের লোকজনকে নিরাপদ জায়গায় নেওয়া বা দেশে ফেরত পাঠানো। লিবিয়া ও ইরাকে আমরা এমনটিই করেছি। ভারতসহ অনেক দেশ এমন করছে।
এসবের বিপরীতে এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলা হয়েছে গাজায় ১৪ দলের প্রতিনিধিদল পাঠানোর ব্যবস্থা করতে। তাঁরা নেতা, বড় বড় নেতা, দিন-দুনিয়া সম্পর্কে তাঁদের সাধারণ ধারণা ‘কমনসেন্স’ও আছে বলে তো মনে হয় না। অবাক লাগছে যে ১৪ দলের এই সভায় মাহমুদ আলী এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে এমন একটি সিদ্ধান্ত কীভাবে গৃহীত হতে পারল? বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি সমস্যা, অভিজ্ঞ কূটনীতিক হলেও মন্ত্রী হিসেবে তিনি জুনিয়র। সে জন্য বোধ হয় তিনি সিনিয়রদের সামনে স্পষ্ট কথা বলতে পারছেন না।
তৃতীয় এবং শেষ ঘটনাটি হচ্ছে, ১ আগস্ট থেকে শোকের মাস শুরু হয়েছে। এই মাসের শুরুর অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, জাতিসংঘের উচিত বঙ্গবন্ধুর পলাতক হত্যাকারীদের ধরে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো। তো জাতিসংঘ যে এমন দায়িত্বও পালন করে, তা এই নেতার কাছেই জানলাম।
এই নেতা এখন মন্ত্রী নন, তবে আগে ছিলেন। এখনো তিনি জাতীয় সংসদের ভেতরে-বাইরে প্রায়ই হুমকি দিয়ে থাকেন। এই নেতাকে বলি, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয় কয়েক বছর আগে, পাঁচজনের ক্ষেত্রে রায় কার্যকরও হয়েছে। অন্য পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ধরে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য আমরা এত বছরেও জাতিসংঘকে কোনো অনুরোধ করিনি; কারণ, এটা জাতিসংঘের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। জাতিসংঘের নিজস্ব কোনো পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আর্মি, নেভি এমন ফোর্স নেই যে তারা বিভিন্ন দেশে এদের খুঁজে বেড়াবে, ধরবে আর বাংলাদেশের কাছে সোপর্দ করবে। সেই দায়িত্ব কিছুটা ‘ইন্টারপোল’-এর। কিন্তু ইন্টারপোলও এমন সব ক্ষেত্রে সব সময় সফল হয় না। যেমন হচ্ছে না কলকাতা থেকে নূর হোসেনকে আনতে। সরকারি দলের নেতাদের এমন সব কথায় পলাতক হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টা হালকা হয়ে যায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনেক বছর ধরেই পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন হয় না। এই জন্য সরকারের বিভিন্ন জায়গায় অনেক ‘সেল’ এবং ‘সেন্টার’ আছে। তার পরও সবশেষে বলি, বিদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টা দয়া করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে করতে দিন।
মহিউদ্দিন আহমদ: সাবেক পররাষ্ট্রসচিব, কলাম লেখক।
mohiudddinahmed1944¦yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আগের চেয়ে শক্তিশালী হামাস!
![]() |
| গাজার রাফায় জাতিসংঘ পরিচালিত বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় আহত এক শিশুকে নিয়ে হাসপাতালের দিকে ছুটছেন এক ফিলিস্তিনি। গতকাল ওই বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়। এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ধর্মপুত্রকে’ মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলেন মোদি
![]() |
| কাঠমান্ডুতে হোটেলে জিৎ বাহাদুরের পরিবারের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়তে হবে
![]() |
| বিমানবন্দরে গতকাল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা। এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৫৩ সেকেন্ডেই ডুবে যায় পিনাক-৬

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অন্ধবন্ধনের রহস্য

গত ২৮ দিনে ইসরায়েলের বর্বর হামলায় এক হাজার ৮২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে নয় হাজারের বেশি। তাদের অধিকাংশ বেসামরিক নাগরিক। এর মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে। এ ছাড়া লাখো ফিলিস্তিনি হয়েছে বাস্তুচ্যুত।
প্রায় একতরফা এই হামলায় ফিলিস্তিনিদের হতাহতের সংখ্যা পাহাড়চূড়া স্পর্শ করায় বিশ্বব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ইসরায়েল। ইউরোপ, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা—সর্বত্র নিন্দার ঝড়। গাজাবাসীর সমর্থনে এবং ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবিতে দেশে দেশে চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। এমনকি অথর্ব জাতিসংঘও হাঁকডাক মারছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চুপ।
গাজায় হতাহতের ঘটনায় ওয়াশিংটন নরম সুরে ‘উদ্বিগ্ন’। ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের অজুহাতে গাজায় স্থল ও আকাশ পথে চালানো নৃশংস সামরিক অভিযানের সমর্থনে ওয়াশিংটনের কণ্ঠ ঝাঁজালো। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েলের পরম বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলবিরোধী যেকোনো প্রস্তাবে ভেটো দিতে তারা একপায়ে খাড়া।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত তেল আবিবকে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি সহায়তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। শুধু তা-ই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের এই মিত্রটিকে নিয়মিত সর্বাধুনিক অস্ত্রও সরবরাহ করে আসছে মার্কিন প্রশাসন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস ওয়াশিংটনে ইহুদি নেতাদের বলেছেন, ‘ইসরায়েলের সমর্থন পেয়েছে আমেরিকা। আমাদের মধ্যে সব সময় সত্যিকারের বিশেষ সম্পর্ক আছে।’
ইসরায়েল প্রশ্নে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকারসহ অনেক আইনপ্রণেতার মুখেও একই সুর। কংগ্রেসম্যান কেভিন ম্যাকার্থি তো বলেই দিয়েছেন, ‘ইসরায়েলে যদি একটি রকেট পড়ে, তাহলে তা আমেরিকায়ও পড়ে।’
বিভিন্ন বিষয়ে মার্কিন সিনেটরদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু একটি ক্ষেত্রে। ইসরায়েল প্রশ্নে সব সিনেটররা এক জোট। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার এই অন্ধবন্ধনের রহস্য-জট খুলতে গিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি কয়েকটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের মধ্যকার নীতি ও মূল্যবোধের মিল, ভূ-রাজনীতি, ভোটব্যাংক, ওয়াশিংটনে ইসরায়েলপন্থী শক্তিশালী লবি প্রভৃতি।
স্বাধীনতা ঘোষণার মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু প্রথম দিকে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ ছিল না। ১৯৫৬ সালে মিসরে ইসরায়েলের আগ্রাসন সমর্থন করেনি যুক্তরাষ্ট্র। ষাটের দশক পর্যন্ত তেল আবিবের কাছে অস্ত্রের বড় কোনো চালান বিক্রিতে অস্বীকৃতি জানায় ওয়াশিংটন।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির অধ্যাপক মাইকেল বারনেটের মতে, সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধপূর্ণ মনোভাবের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন-তেল আবিবের মধ্যকার সম্পর্কের মোড় ঘুরে যায়। ১৯৬৭ সালের পর দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে।
অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অকুণ্ঠ সমর্থনের কারণেই দশকের পর দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে কাঙ্ক্ষিত শান্তিপ্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আশকারায় ইসরায়েলের একগুঁয়েমি ও নিপীড়নবাদী আগ্রাসী মনোভাব অঞ্চলটিকে সব সময় উত্তপ্ত করে রেখেছে।
১৯৪৮ সাল থেকে অধিকাংশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেল আবিবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিশেষ সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। তবে ইহুদিদের আন্তর্জাতিক সংগঠন র্যাবাইনিকল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম গারশন মনে করেন, এই সম্পর্কের সূত্রপাত ঘটেছে ১৬৫৪ সালে। তখন ইহুদিরা আমেরিকায় আসে এবং বিপ্লবে সমর্থন দেয়।
গারশন বলেন, অনেক মার্কিন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ইহুদি রাষ্ট্রটি তাঁদের আদর্শ ও মূল্যবোধ গ্রহণ করছে। মার্কিন খ্রিষ্টানরা ইসরায়েলকে বড় ধরনের সমর্থন দিয়ে থাকে। তাদের যুক্তি, পবিত্র ভূমি ইহুদি ধর্মেরই অংশ।
নিউইয়র্ক ডিভিনিটি স্কুলের প্রেসিডেন্ট পাস্তর পল দে ভিরিজের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলই একমাত্র দেশ, যেখানে খ্রিষ্টানরা নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা করতে পারে। এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ‘ইসরায়েলের প্রতি আমাদের অনেক দায়িত্ব।’
অনেক মার্কিন আইনপ্রণেতা তাঁদের ভোটব্যাংকের কথা বিবেচনা করে ইসরায়েলের প্রতি তাঁদের অন্ধ সমর্থন প্রকাশ্যেই অব্যাহত রাখেন। এসব হিসাব-নিকাশের বাইরে, ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের শক্তিশালী লবি রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনকে তেল আবিবের পক্ষে নিতে তারা সদা তত্পর।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুদ্ধবিরতির নামে প্রহসন -ইসরাইলের নৃশংস হামলা অব্যাহত
গাজায় জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্রে হামলা মারাত্মক অপরাধ- বান কি-মুন
শ’ শ’ লাশ!

গাজায় এখন ধ্বংসস্তূপের ভিতরে লাশ। হাসপাতালের মর্গে লাশ। সেখানেও আর জায়গা হচ্ছে না। লাশ রাখা হচ্ছে ফ্রিজে। একটা দু’টা নয়- শ’ শ’ লাশ। রাস্তায় পড়ে আছে লাশ। কোল্ড স্টোরেজে যে ভাবে আলুর বস্তা রাখা হয় তারচেয়েও এলোমেলো ফেলে রাখা হয়েছে লাশ। মাটি আর সইতে পারছে না এত লাশ। তার বুক আজ হু হু করে কাঁদছে। এত্ত লাশ দেখে কাঁদছে ভিনধর্মী সাধারণ মানুষের অন্তরাত্মা। শিশুর লাশ। সদ্যজাত শিশুর লাশ। সবেমাত্র ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর লাশ। এখন তার গা থেকে মুছে যায় নি গর্ভধারিণী মায়ের রক্তের ছাপ। এসব শিশুর লাশ বুকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কাঁদছেন পিতা-মাতা। অথবা তারা দু’জনেই হয়েছেন অতীত। বিধ্বস্ত কংক্রিটের মাঝ থেকে উঁকি দিয়ে আছে মৃত শিশুর মুখ। পড়ে আছে যুবকের লাশ। যুবতীর লাশ। বৃদ্ধ-বৃদ্ধার লাশ। স্বামীর লাশ। স্ত্রীর লাশ। চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। এতটুকু গাজায় লাশের সংখ্যা ২০০০ ছুঁই ছুঁই। দৃষ্টিসীমা যতদূর যায় ততদূর শুধু লাশ আর লাশ। ধ্বংসস্তূপ সরালেই লাশ। রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকর্মীরা সে লাশ দেখে, রক্তপাত দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। আর যা-ই হোক তারা তো রক্তমাংসের মানুষ। তাদের অন্তরাত্মা কাঁছছে। এত লাশ দেখে, এত নির্মম মৃত্যু দেখে তারা দিশাহারা। ইসরাইল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুনের এই শুদ্ধ উচ্চারণেই কি এতগুলো মৃতের, তার স্বজনের ফরিয়াদ শেষ হয়ে যাবে! এর বিচার কে করবে! ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হাত এখন ফিলিস্তিনের গাজাবাসীর রক্তে রঞ্জিত। তিনি যে পরিমাণ মানুষ হত্যা করছেন ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন কি তার চেয়েও বেশি কুর্দিকে হত্যা করেছিলেন? যদি সে জন্য সাদ্দাম হোসেনের বিচার হয়, তার ফাঁসি হয়- তাহলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কি পুরস্কার পাওয়া উচিত? তার কি বিচার হবে! কে করবে বিচার! উল্টো তাকে ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের অস্ত্র পুরস্কার তুলে দেয়া হচ্ছে। আর যা-ই হোক তার তো আত্মরক্ষার অধিকার আছে! লিবিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফি কত মানুষ হত্যা করেছিলেন? তার বিরুদ্ধে যত দ্রুত ন্যাটো পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরাইলের বেলায় কেন তারা বেমালুম বেহুঁশ। তাদের হুঁশ ফেরাবে কে! কোথায় জাতিসংঘ! বিবৃতির মধ্যে কেন আজ তারা বন্দি! কোথায় নিরাপত্তা পরিষদ! এত্ত লাশেও কি কারও মন ভরছে না! আর কত! আর কত লাশ হলে বিশ্ববিবেক জাগ্রত হবে! মানবতার সংজ্ঞা আজ কি নতুন করে লিখতে হবে গুণীজনদের! গাজায় চারদিকে শুধু বিধ্বস্ত ভবনের হাহাকার। দূরে দাঁড়িয়ে আছে শুধু একটি মিনার। ওখানে মসজিদ ছিল। তারই সাক্ষ্য বহন করছে সে। কতগুলো মসজিদ ধ্বংস করেছে ইসরাইল! একটি, দু’টি, তিনটি! না, কমপক্ষে ৬টি। এসব মসজিদে মিনার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শুধু। আল্লাহর দরবারে তাদের ফরিয়াদ কি পৌঁছায় না! কোথায় হামলা করে নি ইসরাইল! হাসপাতাল, জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্র, মসজিদ, লোকালয়- কোথায় করে নি হামলা! রাস্তার কালো পিচে লেগে আছে তরতাজা রক্ত। বহমান নদীর মতো বয়ে চলেছে তা। আর কত রক্ত! আর কত লাশ! এত লাশ এতটুকু গাজা ঠাঁই দেবে কোথায়!
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওই অস্ত্রটির প্রয়োগ যেন না হয় by সৈয়দ আবুল মকসুদ

অনাদিকাল থেকেই পৃথিবীতে যুদ্ধবিগ্রহ হচ্ছে। এক গোত্রের সঙ্গে আরেক গোত্রের, এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের, এক জাতির সঙ্গে আরেক জাতির। যুদ্ধে শত্রু বা প্রতিপক্ষকে যতভাবে পরাস্ত করা যায়, সে চেষ্টা উভয় পক্ষই করে এবং সেটাই স্বাভাবিক। তা না করলে বরং আত্মসমর্পণ করা হয়। যুদ্ধের মধ্যে নারীর প্রতি সহিংসতাও চিরকালই হয়, যদিও তা কোনো যুদ্ধনীতিই সমর্থন করে না। যে পক্ষই করুক, তা মানবতাবিরোধী অপরাধ। জঘন্য যুদ্ধাপরাধ। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে দখলদার জাপানি সৈন্যদের জোরপূর্বক যৌনসঙ্গী হতে বাধ্য করা হয়েছিল যেসব কোরীয় নারীকে, যাদের নামকরণ হয়েছিল ‘কমফোর্ট উইমেন’, তাদের বিচারের দাবি এখনো দুই কোরিয়াই করে যাচ্ছে। নির্যাতিতা কমফোর্ট উইমেনের কেউ কেউ এখনো বেঁচে আছেন, তাঁদের বয়স ৯০-এর ওপরে। জাপান সরকার ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছে, বারবার ক্ষমা চেয়েছে, কিন্তু কোরিয়ার নারীসমাজ ক্ষমা করেনি। কারণ, নারীর প্রতি যৌন সহিংসতার ক্ষমা হয় না।
২০ জুলাই ইসরায়েলের সরকারি রেডিওতে জেরুজালেমের বার ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্যের অধ্যাপক মোরদেচাই কেদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর উদ্দেশে বলেন, ‘অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ অনেক হয়েছে।এবার বরং গাজায় ঢুকে নারীদের ধর্ষণ করতে শুরু করুক আমাদের সেনারা। কোনো হামাস সদস্যের মা-বোন-স্ত্রীকে যেন বাদ না দেওয়া হয়। জঙ্গিদের ভয় দেখানোর একটাই পথ আছে। যারা আমাদের সেনাদের অপহরণ ও হত্যা করছে, তাদের মা-বোন-কন্যাদের ধর্ষণ করা হলেই তারা চুপ করে যাবে।’ [ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎস]
নারীর বিরুদ্ধে একুশ শতকের এই জঘন্যতম মন্তব্যে সঞ্চালক ওশি হাদার বিব্রতবোধ করেন। তিনি ওই নরপশু মোরদেচাই কেদারকে বলেন, আপনার এমন পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে না আমাদের সেনারা। নির্লজ্জ অধ্যাপক বলেন, তারা কী করবে না করবে সেটা তাদের ব্যাপার। তিনি শুধু হামাসকে শায়েস্তা করার পথ বাতলে দিচ্ছেন।
ইসরায়েলে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ নিশ্চয়ই আছেন।তাঁরা সংখ্যায় অল্প। প্রতিবাদ হয়েছে তাঁর এই বক্তব্যের। নারী সুরক্ষা সংগঠনগুলোও রাস্তায় নেমেছে।তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করেনি। করেনি, কারণ ওই নরপশুর কথায় নেতানিয়াহু সরকার ও ইসরায়েলের শাসকশ্রেণির মনোভাবেরই প্রকাশ ঘটেছে। যুদ্ধ আর কয়েক দিন চললে গাজায় ফিলিস্তিনি মেয়েদের গণধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যা অনিবার্য। তখন ওবামা-ওলাঁদ-ক্যামেরন-ম্যার্কেল বলবেন, আত্মসম্মান রক্ষা ও আত্মতৃপ্তির জন্য ফিলিস্তিনি মেয়েদের ধর্ষণ করার অধিকার ইসরায়েলি সেনাদের রয়েছে। ওরা সব মেয়েকে নয়, বেছে বেছে শুধু হামাস সমর্থকদেরই ধর্ষণ ও হত্যা করেছে।
গত ৮ জুলাই থেকে ইসরায়েল গাজায় আগ্রাসন চালাচ্ছে। কোনো আন্তর্জাতিক আইনই ইসরায়েলের জন্য প্রযোজ্য নয়। শুরু থেকেই গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে অতি আধুনিক মারণাস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। সেগুলোর মধ্যে ছাদবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ফসফরাস বোমা, ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ বোমা, ডিআইএমই (ডেন্স ইন্টারমেটাল এক্সপ্লোসিভ) প্রভৃতি। গাজায় কর্মরত নরওয়ের অসলো বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ডাক্তার এরিক ফস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ক্যানসার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক বোমাও নিক্ষেপ করা হয়েছে। ওই বোমার সিসার আঘাতের ক্ষত থেকে নিরাময়ের অযোগ্য ক্যানসার হয়ে আহত ব্যক্তিরা মারা যাবে। আহতদের মধ্যে রয়েছে শত শত শিশু-কিশোর।
এত রকমের রাসায়নিক মারণাস্ত্র ব্যবহারের পরও, দেড় হাজারের বেশি হত্যার পরও, হাজার হাজার আহত হওয়ার পরও ইসরায়েলি অধ্যাপকের মনে হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের শায়েস্তা করতে ও নির্মূল করতে যথেষ্ট করা হয়নি।নারীর বিরুদ্ধে প্রয়োগের প্রাচীনতম ও ক্ষুদ্রতম অস্ত্রটির কথাই তার মনে পড়েছে।সে অস্ত্র ইসরায়েলি সৈন্যদের লিঙ্গ।তা প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি ফিলিস্তিনি শিশুকন্যা, কিশোরী, যুবতী, প্রৌঢ়া ও বৃদ্ধার ওপর।তিন হাজার বছর আগে হজরত মুসা (আ.)-এর জীবৎকালে মানুষের সমাজে যতটা পৈশাচিকতা ছিল, আজ তাঁর আত্মা দেখতে পাচ্ছে তাঁর অনুসারীদের পৈশাচিকতা তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি।
পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ, সিআইএ, মোসাদ সম্পর্কে যাঁদের সামান্যতম ধারণা আছে, তাঁরা যা অনুমান করেছিলেন তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে।যে ছোট্ট ঘটনার অজুহাতে এই নারকীয়তা, ইসরায়েলের পুলিশ ২৬ জুলাই স্বীকার করেছে, তিন ইসরায়েলি কিশোর অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় হামাসের কেউ জড়িত ছিল না।আগ্রাসনের তিন সপ্তাহ পর ইসরায়েলি পুলিশের মুখপাত্র মিকি রোজেনফিল্ড স্বীকার করেন, যারা তিন কিশোরকে হত্যা করেছে তাদের সঙ্গে হামাসের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ ১২ জুন পশ্চিম তীর থেকে কিশোরদের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে হামাস জড়িত বলে ব্যাপক অভিযোগ তোলা হয়।
সীমাহীন হিংসা ও সর্বৈব বর্বরতার মধ্যেও লক্ষ করি অহিংসা ও সহমর্মিতা দুনিয়া থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। মনুষ্যত্বের মৃত্যু নেই। গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের অনেকে শহরের সেন্ট প্রোফাইরাস চার্চ প্রাঙ্গণে ছুটে যান আশ্রয়ের জন্য। গির্জার খ্রিষ্টান স্বেচ্ছাসেবকেরা তাদের ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে স্বাগত জানান। ওই গির্জায় আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় পাঁচ শ মুসলমান।গির্জায় থাকা-খাওয়ায় তাঁদের বিশেষ সমস্যা হয়নি।তাঁরা পবিত্র রমজান মাসের রোজাও রেখেছেন এবং নামাজও পড়েছেন গির্জাতেই।বাস্তুচ্যুতদের একজন বলেন, গির্জার যাজক ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী তাঁদের মুসলিম অতিথিদের ধর্মকর্মের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। স্থানীয় খ্রিষ্টানরা রোজা না রাখলেও দিনের বেলা প্রকাশ্যে খাওয়া-দাওয়া এড়িয়ে চলেছেন।
ঘটনাটি ছোট নয়। ধর্মোন্মত্ততার পৃথিবীতে এই দৃষ্টান্তের মূল্য বিরাট। মাহমুদ খালাফ নামের এক শরণার্থী ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘খ্রিষ্টানরা আমাদের ভাই হয়ে গেছেন। গত রাতে গির্জার ভেতরেই জামাতে আমরা তারাবির নামাজ আদায় করেছি।’
তরুণ পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ইসরায়েলের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের যে যুদ্ধ তা ইহুদি-মুসলমানের লড়াই নয়। জায়নবাদীদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের মানুষের জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম। বৃহত্তর ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে দেড় হাজার বছর খ্রিষ্টান, ইহুদি ও মুসলমানরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করেছে। ইহুদি ও খ্রিষ্টধর্ম যে দুই মহান ধর্মমত, তা কোনো মুসলমান অস্বীকার করে না। জায়নবাদ প্রভাবিত পশ্চিমা প্রচারমাধ্যম যেভাবে সংবাদ পরিবেশন করে, তাতে সাধারণ পাঠকের ধারণা জন্মে, অতি সাধু রাষ্ট্র ইসরায়েল ফিলিস্তিনের মুসলমান সন্ত্রাসীদের সঙ্গে লড়াই করছে। ব্রিটেন-আমেরিকার চক্রান্তে জায়নবাদীরা যে ফিলিস্তিনিদের ভূমি জবরদখল করেছে, সে কথা মানুষ ভুলে থাকে।
যে অজুহাতেই গাজায় গণহত্যা শুরু হোক, এবারের আগ্রাসন অতি সুপরিকল্পিত।দেড় হাজার মারা যাওয়ার পরও আমেরিকা ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠাচ্ছে। যদি গোলাবারুদে ঘাটতি দেখা দেয়! পৃথিবীর কোনো দেশেই ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব নেই। আরব নেতাদের ভূমিকা সুবিধাবাদীর।কুলের চেয়ে শ্যামই তাদের পছন্দ। তাদের পায়ের নিচে মাটি না থাকলেও, শ্যাম আমেরিকার আনুকূল্য থাকলেই হলো।গাজার গণহত্যায় তাদের ভূমিকা কাপুরুষের।
পশ্চিমা শাসকেরা নীরবতা অবলম্বন করলেও তাঁদের দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা নীরব নন। জনমত জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকার ৫১ শতাংশ মানুষ ইসরায়েলি অত্যাচারের বিরুদ্ধে। প্যারিসে ২৫ হাজার লোকের প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে। সিডনিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছে। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ ও দল-মতনির্বিশেষে তাতে অংশ নিয়েছে যুবসমাজ। বরং জামায়াত-শিবির-হেফাজতিরাই চুপচাপ।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শক্ত ভাষায় বারবার গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।তাঁর বক্তব্য প্রশংসনীয়। বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া প্রতিবাদ করেছেন এবং ত্রাণ তৎপরতার জন্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতকে পাঁচ লাখ টাকাও দিয়েছেন।গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সব কর্মকর্তা–কর্মচারী দুই দিনের বেতন দুই লাখ টাকা দিয়েছেন।আমাদের মিডিয়ার ভূমিকা বলিষ্ঠ।
বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার গাজার পাশে আছে তারা মুসলমান বলে নয়, নির্যাতিত বলে। গাজা ও ফিলিস্তিনের কিছু ছেলেমেয়ে আমাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী। দেশে থাকলে তাদের অনেকেই হয়তো মারা যেত। কেউ কেউ হারিয়েছে প্রিয়জন। তাদের মনের অবস্থা অনুমেয়।ওদের কোনো ঈদ নেই। তাই ঈদের দিন মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-আদিবাসী ছাত্র–যুবকদের নিয়ে আমি শহীদ মিনারে সমাবেশ করে সংহতি প্রকাশের কর্মসূচি নিয়েছিলাম। অনিবার্য কারণে কর্মসূচিটি হতে পারেনি। তবে ফিলিস্তিনিদের দুঃখের আমরা সমব্যথী, তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকতার কোনো সম্পর্ক নেই।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
August
(332)
-
▼
Aug 05
(15)
- মৃদুল জীবিত ফিরেছেন, কিন্তু... by বিশ্বজিৎ চৌধুরী
- সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা ইসরায়েলের
- নয়মাসের অন্তঃসত্ত্বার সাঁতরে নদী পার!
- গাজা ইস্যুতে ব্যারনেস ওয়ারসির পদত্যাগ
- প্রজন্ম ধ্বংসের মিশনে ইসরাইল -ফিলিস্তিনিদের নির্বং...
- প্রতিবেশীদের অভিযোগে আবারও বিবারের বাড়ি বদল
- বিয়ের আগেই হানিমুন!
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘হাইজ্যাকড’! by মহিউদ্দিন আহমদ
- আগের চেয়ে শক্তিশালী হামাস!
- ‘ধর্মপুত্রকে’ মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলেন মোদি
- দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়তে হবে
- ৫৩ সেকেন্ডেই ডুবে যায় পিনাক-৬
- যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অন্ধবন্ধনের রহস্য
- যুদ্ধবিরতির নামে প্রহসন -ইসরাইলের নৃশংস হামলা অব্যাহত
- ওই অস্ত্রটির প্রয়োগ যেন না হয় by সৈয়দ আবুল মকসুদ
-
▼
Aug 05
(15)
-
▼
August
(332)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


