Wednesday, November 1, 2017

চীনের ৭ কাণ্ডারি by অধ্যাপক বো ঝিইয়ু

অক্টোবরের ২৫ তারিখ চীনা কম্যুনিস্ট পার্টির ১৯তম কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ পলিটব্যুরো স্থায়ী কমিটির ৭ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। যেমনটা ধারণা করা হয়েছিল, পূর্বতন পলিটব্যুরো স্থায়ী কমিটির চারজন অবসর নিয়েছেন বয়সজনিত কারণে। এরা হলেন- ঝাং দেজিয়াং, ইউ ঝেংশেং, লিউ ইউনশান ও ঝাং গাওলি। এছাড়া, অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে অবসর নিয়েছেন ওয়াং কিশান। তিনিও সম্ভবত বয়সজনিত কারণে অবসর নিয়েছেন। অর্থাৎ, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং ছাড়া সাত সদস্যবিশিষ্ট স্থায়ী কমিটির বাকি সকল সদস্যই বিদায় নিয়েছেন।
দেখে নেয়া যাক নবগঠিত স্থায়ী কমিটির সাত সদস্যের পরিচিতি, যারা অন্তত আগামী ৫ বছর চীনকে পরিচালনা করবেন।
১. শি জিনপিং: প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (৬৪) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নতুন স্থায়ী কমিটির এক নম্বর সদস্য। পাশাপাশি দেশের ক্ষমতাধর কেন্দ্রীয় সামরিক কমিটির চেয়ারম্যান। ক্ষমতাসীন কম্যুনিস্ট পার্টির প্রধান ও পিপল’স লিবারেশন আর্মির সর্বাধিনায়ক শি জিনপিং দলের ১৯তম অধিবেশনে নিজের ক্ষমতা আরো সুসংহত করেছেন। ‘নবযুগে চীনা ধাঁচের সমাজতন্ত্র নিয়ে শি জিনপিং-এর ভাবনা’ শিরোনামে তার ভাবনা দলীয় সংবিধানে সংযুক্ত করা হয়েছে। মার্ক্সবাদ, লেনিনবাদ, মাও সেতুং ভাবনা, দেং শিয়াওপিং তত্ত্ব, (জিয়াং জেমিন-এর) থিওরি অব থ্রি রিপ্রেজেন্টস ও হু জিনতাওর উন্নয়নের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি এখন শি জিনপিং-এর এই ভাবনাও দলের সংবিধানে শোভা পাবে। একে দলের জন্য অবশ্য অনুসরণীয় দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দলীয় কংগ্রেস চলাকালে প্রেসিডেন্টকে ‘মহান নেতা’, ‘মাঝি’ ও নবযুগে চীনা ধাঁচের সমাজতন্ত্রের রূপকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। শি জিনপিং-এর নেতৃত্বে কম্যুনিস্ট পার্টি চীনকে এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
২. লি কেকিয়াং: প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং (৬২) স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় নেতৃত্বস্থানীয় সদস্য হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। চীনা কম্যুনিস্ট ইয়ুথ লীগের সঙ্গে কেকিয়াং-এর সম্পর্ক বেশ জোরালো। গত ৫ বছরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার বোঝাপড়া ছিল দারুণ। প্রেসিডেন্টের ঘরোয়া ও বৈদেশিক নীতির কড়া সমর্থক তিনি। আইন ও অর্থনীতিতে উচ্চতর পড়াশোনা আছে তার। প্রাদেশিক ও জাতীয় নেতা হিসেবে অভিজ্ঞতার পাল্লাও কেকিয়াং-এর ভারি। রাষ্ট্র পরিষদের (মন্ত্রিসভা) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার অবস্থান বহাল থাকবে, এমনটাই আশা করা হচ্ছে।
৩. লি ঝাংশু: কম্যুনিস্ট পার্টির সাধারণ কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে তিনি ২০১২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ৬৭ বছর বয়সী ঝাংশু যখন স্থায়ী কমিটিতে জায়গা করে নেন, তখন তাকে দেখা হচ্ছিল প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র হিসেবে। হেবেই অঞ্চলের বাসিন্দা ঝাংশু আশির দশকে পার্শ্ববর্তী কাউন্টির দলীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শি জিনপিং-এর সঙ্গে কাজ করেন। প্রেসিডেন্টের নিজ প্রদেশ শাংক্ষি প্রদেশে ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পদে দায়িত্বরত ছিলেন তিনি। ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত হেইলোংজিয়াং-এর গভর্নর ও পরের দুই বছর গুইঝো প্রদেশের দলীয় সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওর আমলে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ কার্যালয়ের পরিচালকের পদ থেকে লিং জিহুয়াকে ২০১২ সালে সরে যেতে হয়। তখন সেখানে নির্বাহী উপ-পরিচালক হিসেবে লি ঝাংশুকে বেইজিং-এ নিয়ে আসে দল। এক মাস পরেই তিনি পরিচালকের দায়িত্ব পান।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে তিনি নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। দেশের অভ্যন্তরে সকল পরিদর্শন সফর ও বিদেশ সফরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছিলেন তিনি। এমনকি প্রেসিডেন্টের পক্ষেও তিনি একাধিক বিদেশ সফর করেন। ২০১৮ সালের মার্চে দলীয় বিভিন্ন পদে রদবদল হবে। তখন তিনি ন্যাশনাল পিপল’স কংগ্রেস স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান পদে ঝাং দেইজাং-এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন।
৪. ওয়াং ইয়াংঃ উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ওয়াং ইয়াং দায়িত্ব পালন করছেন ২০১৩ সালের মার্চ থেকে। ২০০৭ সালের অক্টোবর থেকে তিনি পলিটব্যুরোর সদস্য। ৬২ বছর বয়সী ইয়াং এবার অবশেষে স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন। ২০১২ সাল থেকেই তার স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ওয়াং চীনা রাজনীতিতে উপরে উঠেছেন নিজের যোগ্যতা দিয়ে। আনহুই প্রদেশের টংলিং শহরের মেয়র হিসেবে ১৯৮৮ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে ওয়াং বিভিন্ন খাতে সাহসী সংস্কার নিয়ে আসেন। তাকে একজন সংস্কারবাদী হিসেবে দেখা হয় দলে। প্রাদেশিক ও জাতীয় নেতা হিসেবে তার অভিজ্ঞতার পাল্লা ব্যাপক। আনহুই প্রদেশের ভাইস গভর্নর, চোংকিং ও গুয়াংডং প্রদেশের দলীয় সম্পাদক ছিলেন তিনি। রাষ্ট্র পরিষদে (মন্ত্রিসভা) উপ-মহাসচিব ছিলেন একসময়। এখন আছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। আগামী বছরের মার্চে তিনি চাইনিজ পিপল’স পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে ইয়ু ঝেংশেং-এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন।
৫. ওয়াং হানিং: কেন্দ্রীয় পলিসি রিসার্চ কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে তিনি ২০০২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২ সাল থেকে পলিটব্যুরোর সদস্য। এবারই তিনি স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন। শিক্ষাবিদ থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ওয়াং হানিং-এর বয়স ৬২। আশির দশকের পর থেকে দলের আদর্শিক উন্নয়নে তার ব্যাপক অবদান রয়েছে। ‘নব কর্তৃত্ববাদ’ নামে একটি বইয়ের লেখক তিনি। চীনের মতো দেশে কেন্দ্রীভূত রাজনীতির যৌক্তিকতা তিনি সেখানে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি তিন দলীয় সম্পাদক তথা প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন, হু জিনতাও ও শি জিনপিং-এর অধীনে কাজ করেছেন। নব্বইয়ের দশকের শেষ থেকে তিনি প্রেসিডেন্টদের বৈদেশিক সফরে সঙ্গী ছিলেন। কেন্দ্রীয় পার্টি স্কুলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি লিউ ইউনশানের জায়গায় আসতে পারেন। এছাড়া থাকবেন পদাধিকারবলে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সচিবালয়ের দায়িত্বে। মূলত, সরকারি প্রচার ও কর্মী সংক্রান্ত ইস্যুই তার দায়িত্বে থাকবে। বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট লি ইয়ুয়ানচাও-এর স্থলে ২০১৮ সালের মার্চে সম্ভাব্য যে ৫ জনের একজন দায়িত্ব পাবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে, তার মধ্যে তিনি একজন।
৬. ঝাও লেজি: কেন্দ্রীয় সংগঠন বিভাগের পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্বে আছেন ২০১২ সাল থেকে। ৬০ বছর বয়সী লেজিও স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য। তার পিতা-মাতা শাংক্ষি প্রদেশের বাসিন্দা হলেও লেজির জন্ম ও বেড়ে ওঠা কিংঘাই প্রদেশে। ১৯৭৫ সালে ১৮ বছর বয়সে দলে যোগদান করেন তিনি। দুই বছর পর তিনি পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন নিয়ে পড়াশুনা করেন। তিনি তখন ছিলেন একাধারে শ্রমিক, কিষাণ, সৈন্য ও ছাত্র। পরে সফলতার সিঁড়িতে তরতর করে উপরের দিকে উঠতে থাকেন তিনি। ১৯৯৯ সালে তিনি হয়ে যান চীনের নবীনতম গভর্নর। অর্থাৎ ৪২ বছর বয়সে তিনি ছিলেন কিংঘাই প্রদেশের গভর্নর। ৪ বছর পর একই প্রদেশের দলীয় সম্পাদক হন তিনি। তিনি ছিলেন তখন চীনের সবচেয়ে কমবয়সী দলীয় প্রাদেশিক সম্পাদক।
দলের কোন অংশের প্রতি তার আনুগত্য তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। তবে তিনি বিশ্বস্ততার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করেছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় সংগঠন বিভাগের নির্বাহী উপ-পরিচালক ও নিজের সহপাঠী চেন শির সঙ্গে কাজ করেছেন। গত পাঁচ বছর ধরে তাদের কাজ ছিল সংগঠনের বিভিন্ন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রেসিডেন্টের অনুগতদের বসানো। কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা পরিদর্শন কমিশনের প্রধান হিসেবে তিনি ওয়াং কিশানের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এছাড়া আগামী বছরের মার্চে তিনি একটি নতুন জাতীয় সুপারভাইজরি কমিশনেরও প্রধান হতে পারেন তিনি।
৭. হ্যান ঝেং: ২০১২ সাল থেকে তিনি সাংহাই প্রদেশের দলীয় সম্পাদক। ৬৩ বছর বয়সী হ্যান ১৯ তম স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য। ১৯৮৯ সালের পর থেকে এ নিয়ে সাংহাই-এর সাত জন দলীয় সম্পাদক দলের স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেলেন। ঝেনজিয়াং প্রদেশ তার পূর্বপুরুষের আবাসস্থল। তবে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সাংহাই-এ। আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত প্রশিক্ষণ নেই তার। দলের সাংহাই শাখায় তার পদোন্নতি ছিল মূলত দলের যুব শাখার মাধ্যমে। তিনি সরাসরি অনেক প্রাদেশিক দলীয় সম্পাদকের অধীনে কাজ করেছেন। ১৯৪৯ সালের পর সাংহাই-এর ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি সাংহাই শহরের মেয়র হিসেবে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। চীনের বাণিজ্যিক কেন্দ্রস্থল সাংহাই শহরের মেয়র থাকাকালে তিনি প্রায়ই তৎকালীন দলীয় প্রধানদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন। সাংহাই এ ব্যাপক প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকায় আগামী মার্চের রদবদলে হ্যানকে উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, কম্যুনিস্ট পার্টি যদি ‘৬৮-এর নিয়ম’ অনুসরণ করে (অর্থাৎ ৬৮ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী নেতাদের স্থায়ী কমিটি থেকে অবসর নিতে হবে। ৬৭ বা তার চেয়ে কম বয়সীরা থাকতে পারে), তাহলে ২০২২ সালে আগামী দলীয় কংগ্রেসে শি জিনপিং, লি ঝাংশু ও হ্যান ঝেংকে অবসর নিতে হবে। সেক্ষেত্রে লি কেকিয়াং, ওয়াং ইয়াং, ঝাও লেজি ও ওয়াং হানিং আরো ৫ বছর মেয়াদে স্থায়ী কমিটিতে থেকে যেতে পারেন। কিন্তু এ-ও মনে রাখা প্রয়োজন, দলীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শি জিনপিং এই নিয়মের ব্যতিক্রমও থাকতে পারেন। যদিও সাধারণ নিয়ম হলো দলীয় সাধারণ সম্পাদক দুই মেয়াদের বেশি থাকবেন না। তাই গুঞ্জন আছে চীনে যে শি জিনপিং নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তৃতীয় মেয়াদেও দলের সেক্রেটারি তথা দেশের প্রেসিডেন্ট পদে থেকে যাবেন। বর্তমান স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্যই ২০তম দলীয় কংগ্রেসে শি জিনপিং-এর উত্তরাধিকারী হওয়ার মতো অল্প বয়সী নন। অর্থাৎ, বর্তমান কমিটিতে প্রেসিডেন্টের কোনো সম্ভাব্য উত্তরসূরি নেই। অন্তত তিন জনের নাম সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও, তাদের কাউকেই স্থায়ী কমিটিতে আনেননি শি জিনপিং।
(অধ্যাপক বো ঝিইয়ু চীনের অভিজাত রাজনীতির বিষয়ে বিশ্বের একজন নেতৃত্বস্থানীয় বিশেষজ্ঞ। তিনি বো ঝিইয়ু চায়না ইন্সটিটিউট নামে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট। এই প্রতিষ্ঠান বহু রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বহুজাতিক কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহীদের পরামর্শ সেবা দিয়ে থাকে। তার সাম্প্রতিক বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক’ ও ‘শি জিনপিং-এর অধীনে চীনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি।’ দ্য ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত তার এই নিবন্ধটি অনুবাদ করেছেন মাহমুদ ফেরদৌস।)

ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেলো বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা প্যারিসের ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে সোমবার এই স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউনেস্কোর সদর দপ্তর বাংলাদেশের স্থপতি  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণটি মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকা সংরক্ষণ করে থাকে। মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারের অন্তর্ভুক্ত প্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকা বিশ্ব প্রেক্ষাপটে গুরুত্ববহ।
ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারের লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা এবং বিশ্ববাসী যাতে ঐতিহ্য সম্পর্কে সহজে জানতে পারে তা নিশ্চিত করা। ইউনেস্কো জানায়, মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ডের ইন্টারন্যাশনাল এডভাইজারি কমিটি গত ২৪ থেকে ২৭শে অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিবার্ষিক বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণটি বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান ও সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ৪২৭টি দলিল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারের অন্তর্ভুক্ত প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে সংগ্রহে থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গতকাল বলেন, বিশ্ববাসী এখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে পারবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা ও মুক্তিকামী বাঙালি জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেন। এই ভাষণের পর সমগ্র বাঙালি জাতি সক্রিয়ভাবে মুক্তির সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। মুক্তিবাহিনীতে যোগদানকারী অগণিত মুক্তিযোদ্ধার জন্য এটি ছিল অনুপ্রেরণার এক সীমাহীন উৎস। আজও দেশব্যাপী বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে বাজানো বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এদেশের মানুষের হৃদয়-মনকে আন্দোলিত করে। এই ভাষণ এদেশের জনগণকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তা অনুপ্রাণিত করবে। এদিকে ইউনেস্কোর এ ঘোষণায় সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই ঐতিহাসিক ভাষণ সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করেছিল। জাতির পিতার ভাষণে সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির দীর্ঘদিনের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ভাষণে মুক্তিকামী বাঙালির সমস্ত আশা, আকাঙ্ক্ষা প্রতিধ্বনিত হয়েছিল।
প্রমাণিত হলো ৭ই মার্চের ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ
ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ছিল প্রত্যাশিত। আমরা বিশ্বাস করতাম, একদিন না একদিন এই ভাষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে। আজ ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতি আমাদের সেই বিশ্বাসকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো ৭ই মার্চের ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ১৮ মিনিটের ভাষণ ছিল অলিখিত, ভিত্তি ছিল বিশ্বাস। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ একটি নিরস্ত্র জাতিকে স্বাধীনতার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি সারাজীবন যা বিশ্বাস করতেন, সেই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই ওই ভাষণ দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ডে’র স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। গতকাল সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন।

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক দাতাদের দ্বিধা by রিফাত আহমাদ

মিয়ানমারের রাখাইনে পূর্বে রোহিঙ্গা মুসলিমদের দখলে থাকা জমি বিভাজন (রি-জোন) ও পুনর্বণ্টনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকারি কর্মকর্তারা। তাদের এই পদক্ষেপ সরকারের রোহিঙ্গা পুনর্বাসন পরিকল্পনার পথে বাধা। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মিয়ানমার সরকারের ভেতর রোহিঙ্গা পুনর্বাসন পরিকল্পনার পুরোপুরি সমর্থন নেই।
গত বছরের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত রাখাইনে প্রায় ৩০০ গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে কমপক্ষে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। রাখাইনকে পুনরায় সাজাতে এর মানচিত্রে কিছু পরিবর্তন আনা হবে।
রাখাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মাওং সুয়ি নিক্কেই এশিয়ান রিভিউকে এ বিষয়ে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সরকারি বিভাগগুলো রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিমদের পরিত্যক্ত জমি বনায়ন, কৃষি ও নতুন গ্রাম গড়ার জন্যে ব্যবহার করবে। রাখাইন ও অন্যান্য অঞ্চলে শিবির তৈরি করবে সরকার। তবে, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সেখানে ফেরত যেতে দেয়া হবে না। সরকারি সমীক্ষণকারীরা রাখাইনের উত্তরাঞ্চলের মানচিত্র নতুন করে আঁকছে। সুয়ি জানান, এ প্রক্রিয়া শেষ হতে আরো কয়েক মাস লাগবে। তিনি বলেন, আমাদের জিএডি জমি সম্বন্ধীয় তথ্য সংগ্রহ করবে। এটা একটা জাতীয় পরিকল্পনা। এ প্রক্রিয়া অনুসারে, এই ভূখণ্ডকে গ্রাম, ধান ক্ষেত, বন ইত্যাদি ভাগে ভাগ করা হবে। আমরা আপাতত নতুন মানচিত্র তৈরির জন্য জরিপ চালিয়ে যাচ্ছি। এই জরিপ, জমিগুলোর ব্যবহার মালিকানার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে। তিনি জানান, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন এসব জমিতে করা হতে পারে। তাদের হয়তো এখানে চাষ করতেও দেয়া হতে পারে। তবে তাদের এসব জমির মালিকানা ফিরিয়ে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, এসব তাদের জমি নয়। তারা এই জমির আসল মালিক নন। আসল মালিক হচ্ছে এই দেশ। আমাদের পূর্বপুরুষরা। আমরা কখনোই এসব জমি বিলিয়ে দেবো না। রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা হবে। কিন্তু অবশ্যই তা কিভাবে করা হবে সেসব আমাদের জাতীয় নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। সুয়ির মন্তব্য ও মিয়ানমারের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান জ্যেষ্ঠ জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের মন্তব্যের মধ্যে ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে। তাদের উভয়ের মন্তব্য অনুসারে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে থাকার অধিকার নেই। কিন্তু অন্যদিকে বেসামরিক সরকার তাদেরকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাদের নিজের জমি ও বাড়ি ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সরকারের দুই পক্ষের এই দুই ধরনের মনোভাব ও পরিকল্পনা প্রকট আকারে বিভ্রান্তিকর।
সেপ্টেম্বরে মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক মন্ত্রী উইন মেয়াত আয়ে বলেন, মিয়ানমারের আইনানুসারে, কোনো পুড়ে যাওয়া জমি সরকারি ব্যবস্থাপনার অধীনে চলে যায়। পরবর্তীতে অক্টোবরে নিক্কেই এশিয়ান রিভিউকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা চাইলে তাদের নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন। মধ্য-অক্টোবরে দেশটির কার্যত নেত্রী, স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচি বলেন, তিনি রাখাইনের পুনর্নির্মাণ ও রোহিঙ্গাদের ফিরে আসার বিষয়টি দেখাশোনার জন্য একটি মিশ্র সংগঠন গঠন করেছেন। অন্যদিকে, সরকারি কর্মকর্তারা বিশেষ করে সামরিক জান্তা-চালিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রাখাইনে আদর্শ গ্রাম (মডেল ভিলেজ) নির্মাণের কথা বলছেন। ত্রাণ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই আদর্শ গ্রাম হতে পারে সম্ভাব্য স্থায়ী শিবির। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের পলায়ন থামাতে ও মিয়ানমারে তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করা নিয়ে ২৪শে অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে ওই চুক্তিতে তাদের বসতি স্থাপন ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। রাখাইন রাজ্যের উন্নয়ন বিষয়ক কর্মকাণ্ডে পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োজিত এক জাতিসংঘ কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, এটি আমাদের ভীতিকে আরো বাড়িয়েই দিচ্ছে। হয়তো গুটিকয়েক রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। তাদের হয়তো নামমাত্র ‘পটেমকিনে’ (ভুয়া গ্রাম) থাকার ব্যবস্থা করা হবে। আর এতেই শেষ।
রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলছে। এর পেছনে বেশকিছু কারণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। সমপ্রতি রাখাইনের আঞ্চলিক সরকার রোহিঙ্গাদের ফেলে যাওয়া জমি, গৃহপালিত পশু ও চাষ করা ফসলাদি সম্পর্কে যে ঘোষণা দিয়েছে সেটি ওইসব প্রভাবকের একটি। আঞ্চলিক সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, তারা রোহিঙ্গাদের ফেলে যাওয়া গবাদিপশু বিক্রি করে দেবে; তাদের বুনে যাওয়া ধান ও অন্যান্য ফসল কেটে সরকারি গুদামে মজুদ করবে ও স্থানীয়দের মধ্যে (যাদের বেশিরভাগই বৌদ্ধ) বিলিয়ে দেবে। এসবের চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে রাখাইনের পুনর্নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা প্রদান করা নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয়। একটি দাতা দেশের এক কূটনীতিক বলেন, তাদের উন্নয়নে সহায়তা করাটা অনেকটা জাতি নিধনের জন্য পুরস্কার দেয়ার মতো হয়ে যায়। বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার মধ্যে বিশ্ব ব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্র সরকার রাখাইনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও শরণার্থীদের ফেরত যাওয়া নিয়ে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
রাখাইনে সামরিক বাহিনীর নির্যাতন চালানোর প্রতিবেদন ও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পলায়ন বিশ্বের শীর্ষ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ও দাতা দেশগুলোর মধ্যে এক ধরনের গভীর বিভাজনের সৃষ্টি করেছে। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে মিয়ানয়ারকে দেয়া ত্রাণ সহায়তা ও ঋণের বিষয়। উদাহরণ হিসেবে বিশ্ব ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডকে ধরা যায়। মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারকে সহায়তা প্রদান প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ২০ কোটি ডলারের এক বাজেট আগস্টে চূড়ান্ত করে বিশ্ব ব্যাংক। পাশাপাশি রাখাইনে জরুরি সহায়তা প্রোগ্রামের জন্যও একটি প্রস্তাব রাখা হয়। তবে বর্তমানে ওই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে উল্লিখিত উভয় প্রোগ্রামের প্রস্তাবই বাতিল করে দেয়া নিয়ে বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে। অং সান সুচি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর ও কার্যত নেত্রীর দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও দাতা প্রতিষ্ঠান ও দেশগুলো মিয়ানমারের আধা-গণতান্ত্রিক সিস্টেমে সামরিক জান্তাদের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। দাতা সংস্থাগুলোর কাছে এখন মুখ্য চিন্তার বিষয় হচ্ছে, তাদের সহায়তা সামরিক জান্তাদের সুবিধার্থে ব্যবহৃত হবে কি না! এছাড়া রাখাইনে পাঠানো কোনো সহায়তা সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কাও রয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বিভিন্ন পশ্চিমা ও মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো যে আহ্বান জানাচ্ছে তা এই বিতর্ক আরো উস্কে দিচ্ছে। এইরকম কোনো নিষেধাজ্ঞা রাখাইনে সহায়তা প্রদানের বিষয়টি শুধু জটিলই করে তুলবে না, পাশাপাশি মিয়ানমারে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও কঠিন করে তুলবে। কেননা, মাত্র এক বছর আগেই দেশটির সামরিক জান্তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক আইন সংস্থা ফিলসবুরি শ পিটম্যানের সঙ্গে কাজ করা বাণিজ্য বিষয়ক অ্যাটর্নি ও নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞ এরন হুটম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার দেখাচ্ছে যে মিয়ানমারের ব্যবহারের জন্য তাদের ঝুলিতে শাস্তি ও পুরস্কার উভয়ই আছে। কিন্তু তারা মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করা ছাড়া সেখানকার সামরিক নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার ও রোহিঙ্গাদের সাহায্য করার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা কি ব্যবস্থা নিবেন তার একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সম্ভবত তারা সামরিক নেতাদের ওপর বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন। যেমন, ভিসা সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা। এতে করে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটবে। কিন্তু একই সঙ্গে এটি মানবিক সহায়তার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণলায়ের কর্মকর্তাদের দেখা যাচ্ছে, তারা সরকারের পরিকল্পিত ব্যবস্থাগুলো নিয়ে কথা বলছেন। তাদের এসব কথা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, একই সঙ্গে জনগণকে মানবিক সহায়তার বিষয়টি নিশ্চিত করা ও এটাও পরীক্ষা করে দেখা যে, এসব নিষেধাজ্ঞার হুমকি সামরিক বাহিনীর আচরণে কোনো পরিবর্তন আনে কিনা।
রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন থামাতে ও তাদের নিরাপদভাবে ফিরিয়ে আনতে মিয়ানমারকে চাপ দেয়ার জন্য এবং এই সংকটের সমাধান করতে আরো জোর প্রচেষ্টা চালানোর জন্য এ সপ্তাহে বৃটেন ও ফ্রান্স জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে চীন এখনো নীরব ভূমিকা পালন করছে। তাই সন্দেহ থেকে যায়, নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও, চীন তার সমর্থন করবে কি-না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, কানাডা ও অন্যান্য প্রভাবশালী দেশগুলোকে সামরিক বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চাপ দিবে। জাতিসংঘের ব্ল্যাকলিস্টকে টেনে হুটম্যান বলেন, যদি বহুপাক্ষিক না-ও হয় তাহলে আমরা সম্ভবত একপাক্ষিক ইউএস এসডিএন-এর প্রয়োগ দেখবো। উল্লেখ্য, ব্ল্যাকলিস্ট কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্বত্বার ওপর অবরোধ আরোপ করে আসছে। ওই তালিকায় যোগ হওয়া ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা নিষিদ্ধ।
(নিক্কেই এশিয়ান রিভিউয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুবাদ।)

ট্রাম্পের মুয়েলার পরীক্ষা

নিজের নির্বাচনী প্রচার শিবিরের সাবেক চেয়ারম্যান পল ম্যানাপোর্ট যখন সোমবার এফবিআই অফিসে আত্মসমর্পণ করতে ঢুকলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তখন হামলে পড়লেন টুইটারে। পুরো ঘটনার গুরুত্ব উড়িয়ে দিয়ে তিনি লিখলেন, ‘(রাশিয়ার) সঙ্গে কোনো যোগসূত্র নেই।’ ট্রাম্পের এই ছোট টুইট যখন তার ৪ কোটি ১০ লাখ অনুসারীর কাছে পৌঁছালো, তখন বের হলো আরেক বিস্ফোরক খবর। জানা গেল, তারই এক তরুণ পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা কয়েক মাস ধরে চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ানদের  সংযোগ করিয়ে দিতে। এই রাশিয়ানরা ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের ব্যাপারে সংবেদনশীল তথ্য দেয়ার প্রস্তাবের পরই এই চেষ্টা চালায় ওই তরুণ উপদেষ্টা। মার্কিন শীর্ষ সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণীর শুরুটা ছিল এমনই।
এতে আরো বলা হয়, স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলারের আনা প্রথম অভিযোগসমূহে নির্দিষ্ট করে ট্রাম্পের কথা বলা হয়নি।
কিন্তু সামগ্রিকভাবে দেখলে, এটি প্রেসিডেন্টের ওপর এক চরম রাজনৈতিক আঘাত। মাসকয়েক ধরে তিনি বলে আসছেন, মুয়েলারের তদন্ত প্রকৃতপক্ষে ডেমোক্রেট আর গণমাধ্যমের উদ্ভাবিত এক ‘বানোয়াট তথ্যে’র ভিত্তিতে রচিত ‘প্রতিহিংসা চরিতার্থ’ করা বৈ কিছু নয়। কিন্তু মুয়েলার প্রমাণ করলেন, পুরো অভিযোগের সারবত্তা রয়েছে।
পল ম্যানাপোর্টের বিরুদ্ধে গঠিত অভিযোগের নথিপত্র থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, প্রেসিডেন্টের প্রাক্তন এই প্রধান সহযোগী গত বছরও কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার স্বার্থপন্থি গোষ্ঠীর এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। অপরদিকে ট্রাম্পের তরুণ পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা জর্জ পাপাডোপৌলোসের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ট্রাম্প শিবির থেকে অন্তত দুই জন হিলারি ক্লিনটন সম্পর্কে স্পর্শকাতর তথ্য পেতে মস্কোর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এর আগে প্রেসিডেন্টের পুত্র ট্রাম্প জুনিয়রও এক রাশিয়ান আইনজীবীর সঙ্গে এই একই উদ্দেশে বৈঠক করেছিলেন।
মুয়েলারের এই পদক্ষেপের কারণে প্রেসিডেন্টের জন্য তদন্ত নতুন এক বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই সপ্তাহে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ, কর-হ্রাসের আইন প্রণয়ন ও শিগগির শুরু হতে যাওয়া ১২ দিনব্যাপী এশিয়া সফরের ওপর মনোনিবেশ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরিস্থিতি এত গুরুতর যে, সেসব ইস্যুতে তিনি তেমন সময়ই দিতে পারবেন না।
কুখ্যাত ইরান-কন্ট্রা অস্ত্রপাচার কেলেঙ্কারি তদন্তে স্বতন্ত্র সহযোগী আইনি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জন কিউ. ব্যারেট এ নিয়ে বলেছেন, ‘দিনটি নিশ্চিতভাবেই বেশ ঘটনাবহুল। অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে গেছে।’
এদিকে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে সোমবার সকাল থেকেই পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত গুরুগম্ভীর। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর এই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্টের প্রাক্তন নির্বাচনী প্রচার প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও প্রেসিডেন্টের সহযোগীরা স্বস্তিতে ছিলেন। কারণ, ম্যানাপোর্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হতে পারে, এমনটা তাদের অনুমেয়ই ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও প্রস্তুত ছিলেন। টুইটে লিখেন, যেসব অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো পল ম্যানাপোর্ট তার প্রচার শিবিরের দায়িত্ব নেয়ার আগেই ঘটেছে। কিন্তু তাদের এই সাময়িক স্বস্তি দুশ্চিন্তায় রূপ নিতে সময় নেয়নি।
কারণ, এরপরই পাপাডোপৌলোসের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার খবর হোয়াইট হাউসকে রীতিমতো স্তব্ধ করে দেয়। এরপর থেকে ট্রাম্প সারা দিন আর কিছুই প্রকাশ্যে বলেননি, যেটি তার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বেশ বেমানান। এরপর তার উপদেষ্টারাই পরিস্থিতি সামলানোর কাজে নেমে পড়েন। তারা যুক্তি দেখান যে, ম্যানাপোর্ট যা করেছেন, তার সঙ্গে ট্রাম্প শিবিরের কোনো সংশ্রব ছিল না। পাপাডোপৌলোসের ব্যাপারে তারা বলেন, তিনি অত বড় কোনো পদে ছিলেন না। তিনি ছিলেন স্রেফ একজন স্বেচ্ছাসেবী। ট্রাম্প সহযোগীদের আরো যুক্তি হলো, পাপাডোপৌলোস যেসব বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করেছেন, তা সফল হয়নি। তাছাড়া তিনি এফবিআই’র কাছে মিথ্যে সাক্ষী দেয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। প্রচার শিবিরের সঙ্গে যার কোনো সম্পর্ক নেই।
হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্স বলেন, ‘আজকে যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তদন্ত দলের পক্ষ থেকে, তার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের, তার নির্বাচনী শিবির বা কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা প্রথম দিন থেকে দেখেছি যে, ট্রাম্প ও রাশিয়ার যোগসূত্রের কোনো প্রমাণ নেই। আজকে অভিযোগ গঠনের যে খবর বেরিয়েছে তাতেও কিছুই প্রমাণ হয়নি।’
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী জ্যা সেকুলো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বা তার আইনি দল এসব নিয়ে চিন্তিত নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত, যেমনটা আমি শুরু থেকে ছিলাম। রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের কোনো অযাচিত যোগাযোগ ছিল না। বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার কোনো চেষ্টা হয়নি। আমি বা কেউই এ নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নই।’
কিন্তু অন্য আইনজীবী ও সাবেক কৌঁসুলিরা বলছেন, পাপাডোপৌলোসের স্বীকারোক্তি ও ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বৈঠকের কারণে এসব অগ্রাহ্যতার কোনো মূল্য নেই। জন কিউ. ব্যারেট বলেন, ‘পাপাডোপৌলোস যা করেছেন সেটাই তো যোগাযোগ। ট্রাম্প জুনিয়র হিলারির ব্যাপারে তথ্য পেতে রাশিয়ান আইনজীবীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন, সেটাই তো যোগাযোগ।’
স্পেশাল কাউন্সেল মুয়েলার এই অভিযোগ গঠন করায় প্রেসিডেন্টের পক্ষে এই তদন্ত উড়িয়ে দিয়ে ডেমোক্রেটদের দায়ী করা কঠিন হয়ে পড়লো। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হোয়াইট হাউসের আইনি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রবার্ট এফ. বর বলেন, ‘এ সপ্তাহান্তে মুয়েলারের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করে টুইটারে ঝড় তুলেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এখন তার সেসব বলার মতো মুখ নেই। মুয়েলার যেসব অভিযোগ গঠন করেছেন, তা ‘রাজনীতিরও ঊর্ধ্বে।’
কিন্তু পুরো ঘটনার মাত্রা এত বেশি যে ট্রাম্প হয়তো তদন্ত থামিয়ে দিতে উদ্ধত হতে পারেন। যেমন, তিনি হয়তো মুয়েলারকে বরখাস্ত কিংবা ম্যানাপোর্ট সহ অভিযুক্ত অন্যদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করতে পারেন। রক্ষণশীল অ্যাক্টিভিস্টরা সোমবার আওয়াজ তোলেন, মুয়েলারকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেয়া উচিত। কারণ, ম্যানাপোর্টের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তা ট্রাম্প শিবিরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত নয়। অর্থাৎ, এসব মুয়েলারের কর্তৃত্ববহির্ভূত।
প্রেসিডেন্টের খণ্ডকালীন উপদেষ্টা রজার স্টোন জুনিয়র রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ডেইলি কলারকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের উচিত হবে না মুয়েলারকে বরখাস্ত করা। কিন্তু তিনি তার উদ্দেশ্য অন্যভাবেও হাসিল করতে পারেন। যেমন- হিলারি ক্লিনটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন ছিলেন, তখন রাশিয়ান এক কোম্পানিকে আমেরিকার ইউরেনিয়াম খাতে জড়িত হতে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে তদন্ত করার নির্দেশ দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট।’ মুয়েলার ছিলেন তখন এফবিআই’র পরিচালক। এই তদন্ত শুরু হলে মুয়েলারকে নিয়েও টানাহেঁচড়া শুরু হবে। তখন ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের দ্বন্দ্বের অভিযোগ তুলে মুয়েলারকে রাশিয়া তদন্ত থেকে পদত্যাগ করতে বলা হবে। রজার স্টোন বলেন, এটিই ট্রাম্পের ‘টিকে থাকার একমাত্র সুযোগ।’
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র হাকাবি স্যান্ডার্স ও ট্রাম্পের আইনজীবী সেকুলো এমন ইঙ্গিত উড়িয়ে দিচ্ছেন যে, ট্রাম্প হয়তো মুয়েলারকে বরখাস্ত করার চেষ্টা করতে পারেন। স্যান্ডার্স বলেছেন, ‘স্পেশাল কাউন্সেল ইস্যুতে কোনো পরিবর্তন আনার উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা আমাদের নেই।’ ম্যানাপোর্ট বা তদন্তে অভিযুক্ত অন্যদেরকে ট্রাম্প ক্ষমা করে দিতে পারেন, এমন সম্ভাবনাও তারা দেখছেন না বলে জানান। তবে অতীতে প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ‘তদন্তের সীমা’ অতিক্রম করলে তিনি মুয়েলারকে বরখাস্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তিনি প্রকাশ্যে এ-ও বলেছেন যে, নিজের আত্মীয়-স্বজন, সহযোগী এমনকি নিজেকেও ক্ষমা করার ‘সম্পূর্ণ এখতিয়ার’ তার রয়েছে।
এদিকে ডেমোক্রেটরা সোমবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ট্রাম্পের উচিত হবে না মুয়েলারের তদন্ত বাধাগ্রস্ত করা। সিনেটে ডেমোক্রেট দলীয় সর্বোচ্চ নেতা চাক শুমার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট কোনো অবস্থাতেই স্পেশাল কাউন্সেলের তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। যদি তিনি করেন, কংগ্রেসকে অবশ্যই দলমতের ঊর্ধ্বে দ্রুততা ও স্পষ্টতার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে যাতে তদন্ত অব্যাহত থাকে।’ ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেট সিনেটর ডিয়েন ফেইন্সটেইন বলেছেন, অভিযোগ গঠন থেকে প্রমাণ হয় মুয়েলার তার কাজ ঠিকভাবেই করছেন।
এছাড়া মুয়েলার অনেকটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাকে খাটো করে দেখা যাবে না। যেমন- এক নথিতে তার দল পাপাডোপৌলোসকে বর্ণনা করেছে ‘সক্রিয় সহযোগী’ হিসেবে। এটি ট্রাম্প শিবিরের অনেকেরই মাথাব্যথার কারণ হতে যথেষ্ট। কারণ, পাপাডোপৌলোস তিন মাস ধরে কৌঁসুলিদের সঙ্গে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তার বিবৃতি থেকে দেখা যাচ্ছে, রাশিয়ান কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার আগে তিনি প্রচার শিবিরের অনেক উপদেষ্টার সঙ্গে আগে পরামর্শ করে নিয়েছিলেন।
সাবেক কৌঁসুলিরা বলছেন, ম্যানাপোর্ট ও তার দীর্ঘদিনের সহযোগী ও ট্রাম্পের উপদেষ্টা রিক গেটসের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ এত গুরুতর যে, এটি হয়ে থাকতে পারে তাদের একজনকে বা উভয়কেই তদন্ত দলের সঙ্গে সহযোগিতা করতে রাজি করানোর চেষ্টা। হোয়াইট হাউসের এক আইনজীবী গত সপ্তাহে বলেছিলেন যে, ম্যানাপোর্ট যদি তদন্ত দলের সঙ্গে কথা না বলেন, তাহলে প্রেসিডেন্টের কোনো ভয় নেই। কিন্তু মুয়েলার ও তার কৌঁসুলি দল দৃশ্যত ম্যানাপোর্টের মুখ থেকে কথা বের করার চেষ্টাই করছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে শপথ নিয়ে মিথ্যা বলার অভিযোগ তদন্ত চলাকালে ডেপুটি স্বতন্ত্র আইনি উপদেষ্টা ছিলেন সলোমন উইসেনবার্গ। ওই তদন্ত শেষে বিল ক্লিনটনকে প্রতিনিধি পরিষদ অভিশংসিতও করেছিল। উইসেনবার্গ এই ইস্যুতে বলেন, ‘তারা প্রকাণ্ড এক কাজ করে দেখিয়েছে। তারা খুব দ্রুততা, নিষ্ঠুরতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে কাজ করেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘মুয়েলারের দল আসলে বার্তা দিচ্ছে যে, আমরা এখানে থাকতে এসেছি, আমাদের সঙ্গে ঝামেলা করার চেষ্টা করো না।’

শীর্ষ ব্যক্তিদের বাসভবনে বিমান হামলার ছক, পাইলটসহ গ্রেপ্তার ৪

নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের একজন পাইলটসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের দাবি তারা সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের বাসভবনে বিমান নিয়ে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তারা মিরপুরের দারুসসালাম এলাকায় গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর একটি বাড়িতে অভিযানে নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহর সহযোগী এবং জেএমবি সদস্য। সোমবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের দারুসসালাম এলাকা থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফার্স্ট অফিসার সাব্বির এমাম সাব্বির, তার মা সুলতানা পারভীন, মো. আরিফুর রহমান আসিফ ও মো. আলম নামের ৪ জনকে আটক করা হয়। গতকাল বিকালে রাজধানীর কাওরানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইং প্রধান মুফতি মাহমুদ খান এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, সাব্বির এমাম সাব্বিরের মতো একজন দুর্ধর্ষ ব্যক্তি বাংলাদেশ বিমানের মতো সংবেদনশীল স্থানে চাকরিরত ছিলেন। এ ধরনের একজন উগ্রবাদী জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব ভবিষ্যতের আরো একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে দেশকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।
র‌্যাবের দাবি, সাব্বির ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি হতে বিমান চালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রিজেন্ট এয়ারওয়েজে চাকরি করেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি স্পেন থেকে বিমান চালনায় বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ২০১৪ সাল থেকে অদ্যাবধি সাব্বির বাংলাদেশ বিমানের পাইলট হিসেবে চাকরিরত ছিলেন। মুফতি মাহমুদ খান বলেন, সাব্বির বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং-৭৩৭ পরিচালনা করে থাকেন। সবশেষ তিনি গত সোমবার (৩০শে অক্টোবর) ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা (১৯:৫০-২৩:০০) ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। সাব্বির তুরস্ক থেকেও বিমান চালনার উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইং প্রধান বলেন, সাব্বির দুবাই, কাতার, মাসকাট, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ছাড়াও আরো অনেক দেশে বাংলাদেশ বিমানের পাইলট হিসেবে কাজ করেছেন। মুফতি মাহমুদ খান বলেন, নিহত জঙ্গি আবদুল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল সাব্বিরের। এ ছাড়া সাব্বির জঙ্গি সারোয়ার জাহানের কাছ থেকে বয়াত গ্রহণ করেন। গুলশান হামলার আগে ও পরে নিহত জঙ্গি আবদুল্লাহ, সাব্বির ও সারোয়ার জাহান একত্রে নাশকতার পরিকল্পনা করেন। সবশেষ পরিকল্পনা হিসেবে সাব্বির বিমান চালিয়ে সরকারের শীর্ষপর্যায়ের ব্যক্তির বাসভবনে আঘাত করা অথবা বিমানযাত্রীদের জিম্মি করে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করে। এমনকি সাব্বির জঙ্গি নেতা আবদুল্লাহকে এমন কথাও দিয়েছিল যে, চাকরির ভাতা বাবদ সে ১০ লাখ টাকা পাবে- তা সংগঠনে দান করে দেবে। র‌্যাব জানায়, গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর থেকে ৮ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিরপুর দারুসসালাম এলাকায় কমলপ্রভা নামের বাড়ির পঞ্চম তলায় জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে নিজেদের বোমার বিস্ফোরণে জেএমবির সদস্য মীর আকরামুল করিম আবদুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী, দুই ছেলে এবং তার দুই সহযোগী নিহত হয়। এ ঘটনার পরও আব্দুল্লাহর অন্যান্য সহযোগী সক্রিয় ছিল। বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে র‌্যাবের গোয়েন্দা দল ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৬শে অক্টোবর র‌্যাব-৪ এর অভিযানে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লাহ থেকে আব্দুল্লাহর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেএমবি সদস্য মো. বিল্লাল হোসেন (২৩) কে গ্রেপ্তার করে। পরে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরবর্তী সময়ে র‌্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতায় আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটিত হয়। সামগ্রিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে র‌্যাব-৪ এর এক দল সোমবার রাত ২টা থেকে গতকাল সকাল ১১টা পর্যন্ত মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিমানের পাইলটসহ ৪ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, বিমানের পাইলট সাব্বির গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিমান চালিয়ে রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির বাসভবনে হামলা পরিকল্পনা বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করেছে। এও স্বীকার করেছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সে এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান রেকি করেছে। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যানবাহন নিয়ে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা উদ্বুদ্ধ হয়ে থাকতে পারে। নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহ ও সাব্বির তাদের সহযোগীদের দেশে গাড়ি হামলা চালানোর জন্য এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। আর বিমান হামলার বিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই র‌্যাব স্পর্শকাতর এই তথ্যটি প্রকাশ করছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন: সময় লাগবে ৯ বছরেরও বেশি, তাও নানা অনিশ্চয়তা

মিয়ানমারের অবস্থানগত কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এ পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার বলছে, প্রতিদিন তারা আনুমানিক ৩০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিতে পারে। তবে, তাতে শর্ত রয়েছে। সব রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে না তারা। মিয়ানমারে বসবাস থাকার প্রমাণ উপস্থাপন করাটা অন্যতম পূর্বশর্ত।
প্রতিদিন ৩০০ জন করে ফেরত নিলে, বাংলাদেশে বর্তমানে অবস্থানরত আনুমানিক দশ লাখ রোহিঙ্গার ফেরত যেতে সময় লাগবে ৯ বছরের কিছু বেশি সময়।
আর, সেই হিসাবে গেল দু’মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৬ লাখ রোহিঙ্গার ফিরতে লাগবে প্রায় সাড়ে ৫ বছর। তবে, মিয়ানমার যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সবাইকে ফেরত নেবে না সেটা তাদের জটিল অবস্থানে একপ্রকার স্পষ্ট। সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্যেও একই ইঙ্গিত মিলেছে। 
দেশটির শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ মিন্ট কাইং বলেছেন, তারা শনাক্ত করে, মিয়ানমারে যাদের বসবাস ছিল এবং এমন প্রমাণ যারা দেখাতে পারবে শুধু তাদের ফেরত নেয়া হবে। এক্ষেত্রে ১৯৯৩ সালে সম্পাদিত চুক্তির অংশবিশেষ সংশোধনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। জবাবে মিয়ানমার বলছে, চারটি মূলনীতিতে কোনো পরিবর্তন করা হবে না। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্য ইরাবতীর খবরে এসব কথা বলা হয়েছে। খবরে আরো বলা হয়, প্রতিদিন ৩০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে পারে মিয়ানমার। তাও দুটি চেকপোস্ট দিয়ে নেয়া হবে। প্রতিটি চেকপোস্ট দিয়ে দিনে ১৫০ জন করে রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়া হতে পারে। তবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ১৯৯৩ সালে সম্পাদিত শরণার্থী প্রত্যাবর্তনবিষয়ক চুক্তির প্রধান চারটি মূলনীতি অবলম্বন করা হবে এক্ষেত্রে তাতে শনাক্ত করা হবে রোহিঙ্গাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য। এর পরই তারা মিয়ানমারে ওই চেকপোস্ট দিয়ে প্রবেশের অনুমতি পেতে পারে।
মি. কাইং বলেছেন, যেহেতু আমাদের তাদের (রোহিঙ্গা) বিষয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করতে হবে, তাদের তথ্যের বিষয়ে নিরেটভাবে যাচাই করা হবে, তাই আমরা দিনে একটি চেকপোস্ট দিয়ে মাত্র ১৫০ জন শরণার্থীকে ফেরত নিতে পারবো।
যদি তার কথাই সরকারের মূল পরিকল্পনা হয় তাহলে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দীর্ঘ সময় লাগবে। যদি তারা এবার আসা ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে এভাবে ফেরত নেয় তাহলে তাতে সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ৫ বছর। কিন্তু টানা ২০০০ দিনের (সাড়ে পাচ বছর) প্রতিদিনই মিয়ানমার তাদের ফেরত নেবে কিনা তা স্থির নয়। কারণ, সরকারি ছুটি আছে। থাকতে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ফলে ফেরত নেয়ার কার্যক্রম বিঘ্নিত হতে পারে। সময় লাগতে পারে অনেক বেশি। তাছাড়া বাংলাদেশে আসা সব রোহিঙ্গাকে তারা ফেরত নেবে এমন বার্তা জোরালো ভাবে আসেনি মিয়ানমারের তরফে। ইউ মিন্ট কাইং সে আভাসই দিয়েছেন। তারা চারটি মূলনীতির অধীনে ‘শরণার্থী’দের যাচাই করে দেখবেন- এরপর তাদের মিয়ানমারে ঢোকার অনুমতি দেয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে।
এই চারটি মূলনীতিতে বলা হয়েছে- এক. যারা ফিরে যাবেন মিয়ানমারে তাদের মিয়ানমারের অধিবাসী এটা প্রমাণ করতে হবে। দুই. স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হতে হবে অবশ্যই স্বেচ্ছায়। তিন. আশ্রয় শিবিরে যেসব শিশু জন্মগ্রহণ করেছে তাদের পিতামাতাদের অবশ্যই মিয়ানমারে বসবাস করা অধিবাসী হতে হবে। চার. যেসব শরণার্থী তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে তাদের এ বিষয়ে বাংলাদেশি আদালত থেকে নিশ্চিতকরণ করাতে হবে। মি. কাইং বলেছেন, ‘শরণার্থী’ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় বাড়তি কিছু পদক্ষেপ যুক্ত হতে পারে। তার মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসের ঝুঁকি। যদি দেখা যায়, চেকপোস্ট দিয়ে প্রত্যাবর্তনকারীদের সঙ্গে কোনো ‘সন্ত্রাসী’ প্রবেশ করছে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো জানান, ‘শরণার্থী’ প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য সমঝোতামূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসনবিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিমন হেনশ-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সরকারি কর্মকর্তা ও মানবাধিকার বিষয়ক এজেন্সিগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। এতে বাংলাদেশে ব্যাপকহারে রোহিঙ্গা প্রবেশের বিষয় ও তাদের অবস্থার উন্নয়নের বিষয় থাকবে। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনস চালুর পরিপ্রেক্ষিতে কমপক্ষে ৬ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এ ঘটনাকে জাতি নিধন বলে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা অভিযোগ করেছেন, নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা সাধারণ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে। তারা পুড়িয়ে দিচ্ছে বাড়ির পর বাড়ি। গ্রামের পর গ্রাম। গণধর্ষণ করছে রোহিঙ্গা নারী, শিশু, কিশোরী, যুবতীদের। ২৫শে আগস্ট পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা)। এতে কমপক্ষে ১১ পুলিশ, সেনা সদস্য নিহত হন। এরপর সেনাবাহিনী ক্লিয়ারেন্স অপারেশনস শুরু করে। এ বিষয়ে কাইং বলেছেন, ‘শরণার্থীদের’ সংখ্যার বিষয়ে আমাদের একমত হতেই হবে এমন কথা নেই। তারা (হতে পারে জাতিসংঘ বা অন্য কেউ) ‘শরণার্থীর’ সংখ্যা যা-ই বলুক না কেন আমরা তা মানবো না। তাদের যদি আবাসিক প্রমাণ না থাকে তাহলে আমরা তাদের গ্রহণ করবো না। মিয়ানমার সরকারের এমন সব বক্তব্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। যদি কাইংয়ের কথামতো অগ্রসর হয় সরকার তাহলে এটা ধরে নেয়া যায়, তারা সব রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে না। বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা নিয়ে তাই প্রশ্নের সৃষ্টি করা হয়েছে।