Wednesday, October 21, 2026

ড্রোনের পর এবার ছোট পারমাণবিক চুল্লি তৈরিতে নামছে তুরস্কের বায়কার

মিডল ইস্ট আই, ইস্তাম্বুল, তুরস্ক, প্রকাশ ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ঃ তুরস্কের ড্রোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বায়কার ছোট মডুলার পারমাণবিক চুল্লির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। সাংবাদিকদের এমনটাই জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী আলপারসলান বায়রাকতার।

তুরস্ক সরকার ২০৫০ সালের মধ্যে মোট ১২টি প্রচলিত পারমাণবিক চুল্লির (এমএমআর) মাধ্যমে তাদের বিদ্যুতের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ উৎপাদন করার পরিকল্পনা করছে।

এ ছাড়া সরকার নতুন ধরনের পারমাণবিক প্রযুক্তি, ছোট মডুলার পারমাণবিক চুল্লি থেকে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

বায়রাকতার বলেন, বায়কার এসএমআর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। তারা ৪০ মেগাওয়াটের ইউনিট তৈরির চেষ্টা করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আঙ্কারা পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে একটি নতুন খসড়া আইন তৈরি করছে, যা এই খাতকে নিয়ন্ত্রণ করবে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের পর বেসরকারি সংস্থাগুলোকে প্রোটোটাইপ তৈরি করার অনুমতি দেওয়া হবে।

বায়রাকতার আরও উল্লেখ করেন, এই খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে।

বায়কারের চেয়ারম্যান সেলচুক বায়রাকতার (আলপারসলানের সঙ্গে যাঁর কোনো পারিবারিক সম্পর্ক নেই) সেপ্টেম্বরে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার নতুন যুগে পারমাণবিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সেলচুক বলেন, এ ক্ষেত্রে তুরস্ক এখনো তার প্রাপ্য অবস্থানে পৌঁছায়নি।

বায়কারের চেয়ারম্যান বলেন, প্রশ্ন হলো, ‘তুরস্ক কীভাবে তার নিজস্ব জাতীয় পারমাণবিক শক্তি সক্ষমতা অর্জন করবে এবং স্বাধীনভাবে এই প্রযুক্তির বিকাশ করবে। যখন আমরা ভাবি যে পারমাণবিক প্রযুক্তির রোডম্যাপ (পথনকশা) কী হওয়া উচিত, তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হাজার হাজার প্রকৌশলীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া।’

বায়কার হলো তুরস্কের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা। তাদের ফ্ল্যাগশিপ সামরিক ড্রোন, বায়রাকতার টিবি২ বেশ কয়েকটি দেশে রপ্তানি করা হয়েছে। সিরিয়া, আজারবাইজান, ইউক্রেন ও লিবিয়ার সংঘাতে এই ড্রোন উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।

এসএমআর এখনো পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি, যা যথেষ্ট বিনিয়োগের দাবি রাখে।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, তাঁর মন্ত্রণালয় বিকল্প এসএমআর প্রযুক্তিগুলো খতিয়ে দেখছে। সম্প্রতি থোরিয়ামে চালিত পারমাণবিক চুল্লি প্রস্তুতকারক একটি সংস্থা কোপেনহেগেন অ্যাটমিক্স পরিদর্শন করার জন্য ডেনমার্কে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে।

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তুরস্কের উল্লেখযোগ্য থোরিয়াম মজুত রয়েছে, যা ভবিষ্যতের জ্বালানি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-04%2Fhq7o63ix%2Fbaykar.jpg?rect=11%2C0%2C675%2C450&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
তুরস্কের ড্রোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বায়কার এবার ছোট পারমাণবিক চুল্লি তৈরির প্রতিযোগিতায় নামছে। ছবি: রয়টার্স

গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়ে শীর্ষ দশে এক মুসলিম-প্রধান দেশ

প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও আধুনিক শিল্প খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের মাধ্যমে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) ব্যয়ে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তুরস্ক। বিশ্ব বৌদ্ধিক সম্পত্তি সংস্থা (WIPO)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত বৈশ্বিক তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে নবম স্থানে অবস্থান করছে দেশটি।

ক্রয়ক্ষমতা সমতা (পিপিপি) অনুযায়ী প্রস্তুত করা এই আন্তর্জাতিক তালিকায় দেখা যায়, ২০২৪ সালে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে তুরস্কের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈশ্বিক মোট গবেষণা ব্যয়ের প্রায় ১.৫ শতাংশ একাই অবদান রাখছে দেশটি। নিজস্ব সামরিক শিল্প, মহাকাশ গবেষণা, অটোমোবাইল, জৈবপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উচ্চপ্রযুক্তির খাতে আঙ্কারার ধারাবাহিক অগ্রাধিকার ও কৌশলগত অর্থায়নের ফলে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী গবেষণা ও উন্নয়নে মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২.৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তালিকায় প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে বিশ্বের এক নম্বর গবেষণা ব্যয়কারী দেশ হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছে চীন। ২০২৪ সালে বেইজিংয়ের গবেষণায় ব্যয় হয়েছে ৭৮৫.৯ বিলিয়ন ডলার, যা বৈশ্বিক ব্যয়ের ২৭.৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, ৭৮১.৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মোট ১৮৬.০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে জাপান, ১৩৬.৪ বিলিয়ন ডলার নিয়ে চতুর্থ দক্ষিণ কোরিয়া এবং ১৩২.২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ জার্মানি।

তালিকায় যথাক্রমে ৮৬.৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে ষষ্ঠ যুক্তরাজ্য, ৭৫.৭ বিলিয়ন ডলার নিয়ে সপ্তম ভারত এবং ৬৫.৮ বিলিয়ন ডলার নিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। তুরস্কের পর তালিকার দশম স্থানে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল, যাদের বার্ষিক গবেষণা ব্যয় ৩৮.৪ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদদের মতে, পশ্চিমা আধিপত্য ও এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও গবেষণা ও প্রযুক্তিতে তুরস্কের এই বিশাল বরাদ্দ মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্যও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ গড়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়ে শীর্ষ দশে এক মুসলিম-প্রধান দেশ
ছবি: এআই

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

হরমুজ প্রণালির আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ফার্সের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ড্রোনটি প্রতিহত ও ধ্বংস করে আইআরজিসি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪তম এমকিউ-৯ ড্রোন, যা তারা ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে ইরানি বাহিনী।

মার্কিন এমকিউ-৯ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি অত্যন্ত অত্যাধুনিক এবং ভারী সশস্ত্র ড্রোন। জেনারেল অ্যাটমিকস অ্যারোনটিক্যাল সিস্টেমস কর্তৃক নির্মিত এই ড্রোনটি মূলত নজরদারি এবং সুনির্দিষ্ট স্থানে নিখুঁত হামলা চালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো, ড্রোনটি একটানা প্রায় ২৭ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ৫০,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়তে পারে। ড্রোনটিতে হেলফায়ার মিসাইল এবং লেজার-গাইডেড বোমার মতো মারাত্মক অস্ত্র বহন করা যায়। একটি এমকিউ-৯ ড্রোনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ থেকে ৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকা)।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তেহরান। একই সময়ে কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। পরে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন।

পরবর্তী সময়ে জুনে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন। ছবি: গেটি ইমেজেস
মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন। ছবি: গেটি ইমেজেস

Tuesday, October 20, 2026

এল-সাইদের ধর্মবিশ্বাসে আক্রমণ রিপাবলিকানদের, উত্তপ্ত টাউন হল

সিএনএনঃ যুক্তরাষ্ট্রে মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে মুসলিম ব্রাদারহুড ইস্যুটি উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদকে ইসলামি সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বার্থের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন রিপাবলিকানরা। অন্যদিকে, এল-সাইদের দাবি, তাকে অন্যায়ভাবে সেই ‘দ্বৈত আনুগত্যের’ অভিযোগে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, যে অভিযোগের মুখে একসময় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি ও বারাক ওবামাকেও পড়তে হয়েছিল।

এ সপ্তাহান্তে এল-সাইদ মুসলিম ব্রাদারহুডের নিন্দা করেন। ১৯২৮ সালে মিসরে প্রতিষ্ঠিত এই ইসলামপন্থি রাজনৈতিক আন্দোলনকে নিয়ে প্রথমে এক ভোটারের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় এবং পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। এর আগে রিপাবলিকানরা সংগঠনটির সঙ্গে তার পরিবারের সম্পর্ক এবং এ বিষয়ে তার অতীতের মন্তব্যগুলো সামনে আনার চেষ্টা করছিলেন।

রোববার মিশিগানের ফ্লিন্টে একটি নির্বাচনী সমাবেশের পর সাংবাদিকদের এল-সাইদ বলেন, ‘তারা কেন এটিকে তাদের প্রচারের শেষ যুক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চায়, সে বিষয়ে আমি কথা বলতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘তারা মানুষের মধ্যে একধরনের পরোক্ষ দ্বৈত আনুগত্যের ধারণা তৈরি করতে চায়। আমাদের রাজনীতিতে এই ধারণার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে—কেউ হয়তো একটু ভিন্নভাবে প্রার্থনা করেন, তাই তার দ্বৈত আনুগত্য রয়েছে। জন এফ. কেনেডি প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় তার সঙ্গেও একই কাজ করা হয়েছিল। তিনি ক্যাথলিক হওয়ায় তার নাকি দ্বৈত আনুগত্য রয়েছে—এমন ধারণা ছড়ানো হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ওবামার ক্ষেত্রেও একই কাজ করা হয়েছিল, শুধু তার বাবা মুসলিম বংশোদ্ভূত ছিলেন বলে, যদিও তার বাবা খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী ছিলেন।’

এল-সাইদ আরো বলেন, ‘এটি নতুন কিছু নয়। মানুষের জীবনের প্রকৃত সমস্যাগুলো নিয়ে বলার মতো কোনো বক্তব্য না থাকলে তারা এ কাজই করে।’

এল-সাইদকে লক্ষ্য করে রিপাবলিকানদের আক্রমণ

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াইগুলোর একটির শেষ কয়েক সপ্তাহে রিপাবলিকানরা ক্রমেই এল-সাইদের মুসলিম ধর্মবিশ্বাসকে সামনে আনছেন। শুক্রবার রাতে এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এল-সাইদকে ‘মোহাম্মদ’ বলে উল্লেখ করেন এবং মিথ্যাভাবে দাবি করেন, ডেমোক্র্যাট এই সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা একজন ‘জিহাদি’। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যে এ ধরনের মন্তব্য নিয়মিত হয়ে উঠেছে।

এল-সাইদের রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য মাইক রজার্স রোববার বলেন, তিনি ‘কখনো তাকে সন্ত্রাসী বলেননি’। তিনি আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের হয়ে কথা বলি না।’

তবে রজার্সের অভিযোগ, এল-সায়েদ মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করেছেন। মুসলিম ব্রাদারহুড একটি ইসলামপন্থি আন্দোলন, যার বিভিন্ন শাখা বিশ্বের নানা দেশে রয়েছে। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মিসরে, যেখানে একসময় তারা উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা ভোগ করেছে। সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে সহিংস পদ্ধতি ব্যবহারের বিরোধিতা করে। তবে অতীতে সংগঠনটির কয়েকটি শাখার সঙ্গে হামলার সম্পর্ক থাকার অভিযোগ উঠেছে।

গত নভেম্বরে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। এর মাধ্যমে মুসলিম ব্রাদারহুডের নির্দিষ্ট কিছু শাখা বা উপবিভাগকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন কিংবা বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সাংবাদিক ডানা বাশকে রজার্স বলেন, ‘আপনারা জানেন, তিনি নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরতে চান। বিষয়টি তা নয়। এটি আপনি কীভাবে চিন্তা করেন, তা নিয়ে; আপনি কীভাবে প্রার্থনা করেন, তা নিয়ে নয়। এটি আপনার মতাদর্শ এবং সেটি কতটা বিপজ্জনক, তা নিয়ে।’

টাউন হলের সভায় এল-সাইদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

এল-সাইদকে মুসলিম ব্রাদারহুড ও ইসলামি চরমপন্থার সঙ্গে যুক্ত করার রিপাবলিকানদের চেষ্টা এ সপ্তাহান্তে মিশিগানের ক্যারো শহরে একটি টাউন হল সভায় প্রকাশ্য রূপ নেয়। সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি বারবার এল-সাইদের কাছে মুসলিম ব্রাদারহুড সম্পর্কে জানতে চান। তার বক্তব্য ছিল, প্রার্থীকে এখনো সংগঠনটির প্রত্যাখ্যান করতে শোনা যায়নি।

জনতার মধ্য থেকে ওই ব্যক্তি চিৎকার করে বলেন, ‘আবদুল, আপনি কি মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করবেন?’ আন্দোলনটির সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করার পর এল-সাইদ ওই ব্যক্তির সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, ওই ব্যক্তি পরোক্ষভাবে ধরে নিয়েছেন যে তার ‘দ্বৈত আনুগত্য’ রয়েছে।

এল-সাইদ বলেন, ‘আপনি ধরে নিচ্ছেন… আমি মুসলিম বলেই কোনোভাবে এমন কিছুর প্রতি আমার আনুগত্য থাকবে, যা আমাদের সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ পরে তিনি আরো বলেন, ‘আমার কাছে ওই সংবিধানই পথনির্দেশক আলো।’ বাক্যবিনিময়ের পর ওই ব্যক্তি সভাস্থল ছেড়ে চলে যান। এ সময় উপস্থিত জনতা এল-সায়েদের পক্ষে উল্লাস করে।

পরিবারের অতীত নিয়ে প্রশ্ন

এল-সাইদকে লক্ষ্য করে রিপাবলিকানদের আক্রমণের মধ্যে তার সৎবোনের পুরোনো কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট নতুন করে সামনে এসেছে। এর মধ্যে ২০১২ সালের একটি পোস্টও রয়েছে। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, সত্তরের দশকের শুরুর দিকে কলেজে পড়ার সময় মুসলিম ব্রাদারহুডে তার মায়ের সক্রিয়তা নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার ‘অসাধারণ একটি আলোচনা’ হয়েছে।

এল-সাইদ বলেছেন, সত্তরের দশকে মিসরে তার মা কী করতেন, তা তিনি জানেন না। তার ব্যাখ্যা, মা-বাবার বিচ্ছেদের সময় তার বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। এরপর বহু বছর তিনি মায়ের সঙ্গে দেখা করেননি। মিশিগানে মূলত তার বাবা ও সৎমায়ের কাছেই তিনি বড় হয়েছেন।

২০১২ সালে এল-সাইদ তৎকালীন মিসরীয় প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সমর্থন করে একটি খোলা চিঠিতেও স্বাক্ষর করেছিলেন। ওই বছরের শুরুতে মিসরের কর্তৃত্ববাদী সরকার উৎখাতের পর মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থনে মুরসি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এর এক বছর আগে তিনি ‘হাফিংটন পোস্টে’ একটি মতামত নিবন্ধ লিখেছিলেন। সেখানে মিসরের তরুণ আরব বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মিসরে গণতন্ত্রকে সমর্থন করলে দেশটি মুসলিম ব্রাদারহুডের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে—এমন উদ্বেগকে গুরুত্বহীন হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

সম্প্রতি এক বিতর্কে রজার্স উল্লেখ করেন, এল-সাইদের মা ইসলামিক আমেরিকান রিলিফ এজেন্সিতে কাজ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ২০০৪ সালে সংস্থাটিকে সন্ত্রাসবাদে সহায়তাকারী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল।

এল-সাইদ প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি আমার মাকে আক্রমণ করছেন?’ রজার্স বলেন, ‘আমি ওই সংস্থার বিরুদ্ধে কথা বলছিলাম, যার বিরুদ্ধে আল-কায়েদার কাছে অর্থ পাঠানোর অভিযোগে মামলা হয়েছিল। দেখুন, তিনি আপনার মা। আমার মা একটি ছোট বাণিজ্য চেম্বারে কাজ করতেন। এ বিষয়ে আমি যেকোনো দিন আমার মাকে সামনে আনতে পারি।’

জবাবে এল-সাইদ বলেন, তিনি একজন ‘বাবা ও চিকিৎসক’। তিনি চান, ‘রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব দূর হোক, মানুষের পকেটে অর্থ থাকুক এবং সবার জন্য মেডিকেয়ার চালু হোক।’ তার অভিযোগ, রজার্স ‘নিজের কর্মকাণ্ডের রেকর্ড ছাড়া অন্য যেকোনো বিষয়কে সামনে আনতে চান’।

সন্ত্রাসী নজরদারি তালিকায় আত্মীয়ের নাম ওঠার বিষয়েও বক্তব্য

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এল-সাইদ তার স্ত্রীর বোন মারিয়াম জুকাকুকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সন্ত্রাসী নজরদারি ডেটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও কথা বলেছেন। ২০১৬ সালে একটি দলগত মামলার অংশ হিসেবে জুকাকু এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

জুকাকুকে কেন ওই তালিকায় রাখা হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। তিনি একসময় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়িতে শিক্ষাদান করেন এবং লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর সন্ত্রাসী নজরদারি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। স্ত্রীর বোনের নাম ওই তালিকায় থাকার বিষয়ে ফক্স নিউজের প্রশ্নের জবাবে এল-সাইদ বলেন, ‘তিনি কোনো অন্যায় করেননি। তাকে ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, এরপর তিনি মামলা করেন এবং তালিকা থেকে তার নাম বাদ পড়ে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখানে এমন একটি ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে মানুষকে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগেই দোষী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, তাদের নাম ভিন্ন ধরনের। মাইক রজার্সের মতো লোকেরা যে কাঠামো তৈরি করেছেন, তার কারণেই এমনটা হচ্ছে।’

(এরিক ব্র্যাডনার এর প্রতিবেদনটিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন জেফ জেলেনি ও আলিনা ফায়াজ।)

এল-সাইদের ধর্মবিশ্বাসে আক্রমণ রিপাবলিকানদের, উত্তপ্ত টাউন হল
আবদুল এল-সাইদ

উত্তর প্রদেশে মুসলিমদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও বুলডোজার অভিযান বেড়েছে

২০২৭ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজ্যটিতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ‘সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন’ প্রকাশিত ‘ইলেকশন ওয়াচ উত্তর প্রদেশ ২০২৭’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রথম সংস্করণে এ চিত্র উঠে এসেছে।

চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই মাসের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই মাসে সন্দেহজনক ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘৃণামূলক অপরাধে অন্তত চারজন মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুরুষদের একটি দল তার খালার বোরকা পরা নিয়ে আপত্তি তোলার পর এ ঘটনা ঘটে।

অন্য একটি ঘটনায় ‘লাভ জিহাদ’-এর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সামনে এনে এক স্কুলশিক্ষককে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এ নিয়ে ২০২৬ সালে উত্তর প্রদেশে ঘৃণামূলক অপরাধে নিহত মুসলিমের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। অথচ, পুরো ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭। এ ছাড়া গত ৫ আগস্ট শামলিতে পুলিশের গুলিতে এক মুসলিম নিহত হন।

গ্রেপ্তারের আগে বিচারবহির্ভূত বা ‘হাফ এনকাউন্টার’-এর নামে পুলিশের গুলিতে মুসলিমদের আহত হওয়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এতে বলা হয়, উত্তর প্রদেশের ৭৫টি জেলার মধ্যে ২৭টিতে এ ধরনের ঘটনায় অন্তত ৭০ জন মুসলিম গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫২ জনের বিরুদ্ধে গরু জবাই বা চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এ ছাড়া অন্তত ১৫২ জন মুসলিমকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজন নারী রয়েছেন। অনলাইনে মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করায় জেলবন্দি হওয়া পুরুষেরাও এই তালিকায় রয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১২ বছর বয়সী এক বালক ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে অস্বীকার করায় মারধরের শিকার হয়েছে। তবে নথিভুক্ত ১৪টি মারধরের ঘটনার একটিতেও হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্যেরও নিন্দা জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, নির্দিষ্ট দুই মাসে চিহ্নিত ২১টি ঘৃণাভাষণের মধ্যে ১০টির সঙ্গেই উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জড়িত ছিলেন।

এ ছাড়া রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ও অন্য এক মন্ত্রীর বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়টি পৃথক ঘটনায় অন্তত ৩৪টি মুসলিমের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি উত্তর প্রদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ডিগ্রি প্রদানের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এ ছাড়া ১০টি জেলায় অন্তত ১২ বার বিরোধী দলের রাজনীতিবিদদের গৃহবন্দী রাখা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা কিংবা ভাঙচুরের শিকার এলাকাগুলো পরিদর্শন করা থেকে তাদের বিরত রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ এবং নির্বাচনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের ঘটনার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রামাণ্য দলিল তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তর প্রদেশে মুসলিমদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও বুলডোজার অভিযান বেড়েছে
ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া নিজের বাড়ির সামনে মুসলিম অধিকারকর্মী জাভেদ মোহাম্মদ

নেতানিয়াহুর সঙ্গে গোপন সফরে বৈঠক হেগসেথের, জানাল অ্যাক্সিওস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অঘোষিত সফরে ইসরায়েল গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সোমবারের এই বৈঠকের খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। এ বিষয়ে অবগত দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি খবর প্রকাশ করেছে।

তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে বৈঠকের খবর নিশ্চিত করতে পারেনি। হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় গিয়েছিলেন। এই কমান্ডের দায়িত্বের মধ্যে পশ্চিম এশিয়া, উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা ও এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চল রয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পেন্টাগন। ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসও রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।

আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে হেগসেথের সফরের খবর এলো। এর একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানান। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম নির্বাচন। ওই হামলার পর ইসরায়েল গাজা, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যা পুরো পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা বাড়ায়।

জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে। তবে বিরোধী দলগুলোর পক্ষেও সরকার গঠন করা কঠিন হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সোমবার এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানান। ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম টু-ওয়ে-কে তিনি বলেন, তিনি ইসরায়েলের নির্বাচনে জড়াতে চান না। তার মনোযোগ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে।

ভ্যান্স বলেন, তিনি নেতানিয়াহুর বিরোধিতাও করছেন না, আবার সমর্থনও জানাচ্ছেন না। এর আগে চলতি বছর হাঙ্গেরির নির্বাচনে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

সূত্র: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, প্রতিক্রিয়া জানাল চীন

দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সাবিনা শোলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতিকে সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে চীন। অনুমতি ছাড়াই চীনের জলসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মার্কিন জাহাজটির বিরুদ্ধে এ বক্তব্য দেয় দেশটির নৌবাহিনী। খবর রয়টার্সের।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় থিয়েটার কমান্ডের নৌবাহিনী জানায়, তারা মার্কিন উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস চার্লস্টনকে অনুসরণ ও নজরদারিতে রাখতে বাহিনী পাঠিয়েছে। বেইজিংয়ের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ চীনের সার্বভৌম অধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও ক্ষতিকর।

গত মাসে, একই জায়গার কাছে জ্বালানি ভরার অভিযানে থাকা একটি ফিলিপিনো নৌকাকে চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনীর একটি জাহাজ ধাক্কা দেয় ।

সাবিনা শোল ও পুরো স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। ফিলিপাইনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও আছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

সূত্র : রয়টার্স

দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ফিলিপাইন-অধিকৃত থিতু দ্বীপ। ছবি: রয়টার্স
দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ফিলিপাইন-অধিকৃত থিতু দ্বীপ। ছবি: রয়টার্স

মক্কা-মদিনা ছাড়া সৌদির আকাশসীমাকে অনিরাপদ ঘোষণা হুতিদের

সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা ছাড়া বাকি আকাশসীমাকে অনিরাপদ ঘোষণা করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে দেশটির তেল স্থাপনাগুলো থেকে কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের দূরে থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন সংবাদ সংস্থা সাবার এক প্রতিবেদনে সামরিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ‘মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আকাশসীমা অনিরাপদ।’ সতর্কবার্তা উপেক্ষা করলে সংশ্লিষ্টদের কোনো অজুহাত গ্রহণ করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সূত্রটি।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর শেয়ারহোল্ডারদেরও শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে হুতিরা। সামরিক সূত্রটি বলেছে, ‘ক্ষতি এড়াতে আরামকোর শেয়ারহোল্ডারদের অনেক দেরি হওয়ার আগেই শেয়ার তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।’ তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি গোষ্ঠীটি।

এর আগে সৌদি আরবের নাজরান শহরের একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো ধরনের প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় ছয়জন আহত হওয়ার কথা জানায় দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহর লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।

অক্টোবরের শুরু থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা উত্তেজনা বেড়েছে। হুতিদের সক্ষমতা লক্ষ্য করে বড় পরিসরে অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে জোটটি। পাল্টা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতিরা।

সূত্র : মিডলইস্ট মনিটর

সৌদির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইয়েমেনের হুতিরা। পুরোনো ছবি: এএফপি
সৌদির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইয়েমেনের হুতিরা। পুরোনো ছবি: এএফপি

ইরানে হামলা হলে ইসরায়েলকে ‘বিরানভূমি’ করার হুমকি আইআরজিসির

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো হলে ইসরায়েলকে ‘বিরানভূমিতে’ পরিণত করার হুমকি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে ইসরায়েলিদের মিসরের সিনাই উপদ্বীপে সরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইরানের এই সামরিক বাহিনী। সিনাই উপদ্বীপ মিসরের ভূখণ্ডের অংশ। খবর গালফ নিউজের।

রোববার (১৮ অক্টোবর) আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বির বরাত দিয়ে এ বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা ইংলিশের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে এ হুমকির কথা জানানো হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও বক্তব্যটি প্রকাশিত হয়েছে।

মোহেব্বির বক্তব্যে বলা হয়, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় যেকোনো হামলা হলে দেশটির তরুণ বিজ্ঞানীরা দ্রুত তা মেরামত করবেন। তবে এর জবাবে অধিকৃত ভূখণ্ডকে চিরতরে ‘বিরানভূমিতে’ পরিণত করা হবে এবং সেখানকার বাসিন্দাদের সিনাই উপদ্বীপে সরিয়ে দেওয়া হবে। কী ঘটতে যাচ্ছে, তা বিশ্ব দেখবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তবে বক্তব্যে ইসরায়েলের কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনার নাম উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি পাল্টা হামলার কোনো সময়সীমাও জানানো হয়নি। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সেখানে হামলা হয়েছে এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এতে নেই।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনা ও পরিবহনব্যবস্থা ক্রমেই হামলার ঝুঁকিতে পড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলেও।

১৫ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো উপসাগরীয় দেশগুলোর ৮৪টি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো স্থাপনায় অন্তত ১৩৫টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোও রয়েছে। কাতারের রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেন্দ্র এবং সৌদি আরবের তেল পরিবহন পাইপলাইনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এদিকে সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনেও বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। ১৩ অক্টোবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে প্রণালিটির আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং নৌ চলাচল সীমিত করার ইরানি প্রচেষ্টার কথা উঠে আসে। সূত্র: গালফ নিউজ

আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি। ছবি: গালফ নিউজ
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি। ছবি: গালফ নিউজ

মিসরকে সিনাই হারানোর হুমকি ইসরায়েলি মন্ত্রীর

মিসর ইসরায়েলে হামলা চালালে দেশটিকে সিনাই উপদ্বীপ হারাতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ। তার একটি সাক্ষাৎকারের বরাতে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইসরায়েলি প্ল্যাটফর্ম ‘আলি এক্সপ্রেস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির আশ্বাস নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন স্মোত্রিচ। সিসি সম্প্রতি বলেছেন, মিসরের ইসরায়েলের ভূখণ্ডের ওপর কোনো দাবি নেই এবং দেশটি ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় না।

তবে সিসির এসব বক্তব্যে আস্থা নেই বলে জানান স্মোত্রিচ। তার মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর ঘোষিত উদ্দেশ্যের চেয়ে তাদের সামরিক সক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

স্মোত্রিচ বলেন, “তারা যদি বুঝতে পারে যে পরবর্তীবার হামলা চালালে সিনাই আর থাকবে না, সেটিই হবে নিশ্চয়তা।”

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি রিলিজিয়াস জায়নিজম পার্টির প্রধান স্মোত্রিচ আরও বলেন, ৭ অক্টোবরের ঘটনা থেকে ইসরায়েলের শিক্ষা নেওয়া উচিত। শত্রুরা কী করতে চায়, শুধু তার ওপর নির্ভর না করে তারা কী করতে সক্ষম, সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি দাবি করেন, মিসরের সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, তাই দেশটির সম্ভাব্য হুমকিকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

স্মোত্রিচের এ বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা ও ভূখণ্ড নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মিসরের সঙ্গে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের শান্তিচুক্তি থাকলেও দুই দেশের সামরিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার মধ্যে এ ধরনের মন্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, সিনাই উপদ্বীপ মিসরের সার্বভৌম ভূখণ্ড। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল অঞ্চলটি দখল করলেও ১৯৭৯ সালের মিসর-ইসরায়েল শান্তিচুক্তির পর ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করে নেয় এবং ১৯৮২ সালে পুরো সিনাই মিসরের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

চিত্র:Sinai-peninsula-map.jpg
সিনাই উপদ্বীপের মানচিত্র যাতে আন্তর্জাতিক সীমানাও দেখানো আছে।

মসজিদে জরিমানা, বাড়িঘর উচ্ছেদ—ইসরাইলি নির্বাচনে উগ্রপন্থি বেন-গভিরের হাতিয়ার

ইসরাইলে নির্বাচনের আগে মসজিদে জরিমানা এবং আরবদের বাড়িঘর উচ্ছেদের ঘটনাকে নির্বাচনি প্রচারে ব্যবহার করছেন দেশটির উগ্রপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর তাল শেভার একটি মসজিদে লাউডস্পিকারের শব্দ নিয়ে জরিমানা করার ঘটনা তুলে ধরে সোমবার নির্বাচনি প্রচারে গর্ব করে জানান তিনি। খবর আনাদোলুর।

আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরাইলি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আরব দলগুলো বেন-গভিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে, তিনি ইসরাইলের আরব সম্প্রদায়ের ওপর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে নির্বাচনি স্বার্থে ব্যবহার করছেন এবং এর মাধ্যমে আরব ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন।

এ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে। এর মধ্যেই রোববার তাল শেভার আবু আনজা এলাকায় অবস্থিত আল-রাহমা মসজিদে অভিযান চালায় ইসরাইলি পুলিশ। মসজিদের লাউডস্পিকারে অতিরিক্ত শব্দের অভিযোগে জরিমানা করা হয়। দেশটির পুলিশ জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভিরের কর্তৃত্বাধীন।

সোমবার টেলিগ্রামে মসজিদটির ছবি প্রকাশ করে বেন-গভির বলেন, পুলিশ সদস্যরা সেখানে গিয়ে শব্দের মাত্রা পরিমাপ করেছেন এবং ‘অগ্রহণযোগ্য শব্দ’ সৃষ্টির দায়ে জরিমানা করেছেন।

তিনি দাবি করেন, শুধু তাল শেভাতেই নয়, সারা দেশে মসজিদগুলোর শব্দদূষণসংক্রান্ত বিধি প্রয়োগ করছে পুলিশ। দায়িত্ব নেওয়ার আগে কয়েক দশক ধরে বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বেন-গভির বলেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি সন্তোষজনক না হলেও তারা সঠিক পথে এগোচ্ছেন।

গত কয়েক সপ্তাহে ইসরাইলে আরবদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও নির্বাচনি প্রচারে তুলে ধরেছেন বেন-গভির।

মসজিদে জরিমানা, বাড়িঘর উচ্ছেদ—ইসরাইলি নির্বাচনে উগ্রপন্থি বেন-গভিরের হাতিয়ার
ছবি: সংগৃহীত।

হুথিদের হামলার জেরে আন্তর্জাতিক সম্মেলন স্থগিত করল সৌদি আরব

আল-জাজিরাঃ ইরান সমর্থিত হুথি বাহিনীর একের পর এক হামলার মধ্যে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর রিয়াদে ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (এফআইআই) সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। মঙ্গলবার আয়োজকেরা জানান, সম্মেলনটি আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে। নতুন তারিখ শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

এবারের সম্মেলনটি ছিল আয়োজনের দশম আসর। সৌদি আরবের অর্থনীতি তেলনির্ভরতা থেকে বের করে পর্যটন, খেলাধুলা ও প্রযুক্তির মতো খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বিপুল বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যেও সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সুইজারল্যান্ডের দাভোস সম্মেলনের আদলে একে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘মরুভূমির দাভোস’ বলা হয়।

মঙ্গলবার সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে এফআইআই ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মাহা বিনতে মিশারি আল সৌদ বলেন, অংশীদার, সদস্য, বক্তা ও প্রতিনিধিদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সম্মেলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের দশম এবং বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। আমরা চাই, সম্মেলনটি যেন প্রত্যাশিত পরিসর, অসাধারণ মান ও স্মরণীয় প্রভাব নিশ্চিত করতে পারে। আমাদের অংশীদারদের প্রাপ্য আয়োজন উপহার দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

এবারের সম্মেলনে গুগল ও অ্যালফাবেটের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা রুথ পোরাট, গোল্ডম্যান স্যাকসের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড সলোমন এবং ব্ল্যাকরকের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লরেন্স ফিঙ্কের অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

সৌদিতে হুথিদের হামলা বেড়েছে

ইয়েমেনের পশ্চিমা সমর্থিত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘাত বেড়েছে। আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন এবং কয়েক শ মানুষ আহত হয়েছেন।

রিয়াদে সরকারি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ

হুথিদের বারবার হামলার মুখে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। একজন কর্মী ও দুজন পরামর্শকের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

রিয়াদের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ৯৯ তলাবিশিষ্ট কিংডম সেন্টার থেকেও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মীদের সেখানে না যেতে বলা হয়েছে। ভবনটিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে।

রাজধানীর একটি সরকারি সংস্থার এক কর্মী রোববার বার্তা পান। এতে বলা হয়, ‘সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, চলতি সপ্তাহে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দূর থেকে কাজ করা হবে।’

বার্তায় আরো বলা হয়, ‘সবাইকে স্বাভাবিকভাবে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’

এ ছাড়া কিং আবদুল্লাহ ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে।

হুথিদের হামলায় সৌদি আরবে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিল কর্তৃপক্ষ।

হুথিদের হামলার জেরে আন্তর্জাতিক সম্মেলন স্থগিত করল সৌদি আরব
ছবি: রয়টার্স

ফ্রান্সের দাঙ্গা গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের বহিঃপ্রকাশ

সিএনএনঃ ফ্রান্সজুড়ে শুরু হওয়া সহিংস দাঙ্গা দেশটির গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটকে সামনে এনেছে। কয়েক শ কোটি ডলারের সম্পদহানি ও লুটপাটের পর সরকার পড়েছে চাপের মুখে। একদিকে শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা ও কর্মসংস্থানের সংকট নিয়ে তরুণদের ক্ষোভ, অন্যদিকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা, ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ ও দুর্বল অর্থনীতি—সব মিলিয়ে অস্থির পরিস্থিতির মুখে পড়েছে দেশটি। আগামী বসন্তে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এ সংকট আরো ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সোমবার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেন, ‘খোলাখুলি বলতে গেলে, আমরা এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি।’ তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে তার এ বক্তব্যও যথেষ্ট নয় বলে মনে করা হচ্ছে। সপ্তাহান্তের দাঙ্গায় দেশটির বড় বড় শহরে ব্যাপক লুটপাট ও ভাঙচুর হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ।

প্যারিস, মার্সেই, বোর্দোসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। দুই বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কা সামলে টিকে থাকা লিমোজ শহরের সিটি হলও আগুনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনটির ঘড়ি-টাওয়ারের চূড়া ধসে পড়েছে।

সপ্তাহান্তের সহিংসতায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে স্কুলশিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল। জরাজীর্ণ স্কুল, শিক্ষকের ঘাটতি ও চাকরির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এসব বিক্ষোভে অংশ নেন। ওই আন্দোলনে ৬ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শতাধিক স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আগামী সপ্তাহান্তেও নতুন করে বিক্ষোভের কর্মসূচি রয়েছে। নভেম্বরে ধর্মঘটের পরিকল্পনা করছে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো। ফলে আগামী বসন্তে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ফ্রান্সে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। জনমত জরিপে উগ্র ডানপন্থি প্রার্থী মেরিন লো পেন এগিয়ে রয়েছেন।

রাজনৈতিক অচলাবস্থায় বাড়ছে বিভাজন

রোববার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সহিংসতার নিন্দা করেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরেননি তিনি। বরং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সতর্ক করেন। এরপর উপসাগরীয় দেশগুলোতে তিন দিনের সফরে ফ্রান্স ছাড়েন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুও বিরোধীদের ওপর দায় চাপিয়েছেন। উগ্র বামপন্থি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলঁশো সরকারের পুলিশি কৌশলের সমালোচনা করে বলেন, সরকারই ‘বিশৃঙ্খলার দরজা খুলে দিয়েছে’। এর জবাবে লেকর্নু বলেন, ‘সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে যারা সহিংসতা চালাচ্ছে, তাদের পক্ষে যুক্তি দেওয়া যায় না। এটি আপনাদের রাজনৈতিক দায়।’

উগ্র ডানপন্থি ন্যাশনাল র‌্যালি দলের প্রার্থী মেরিন লো পেন এ পরিস্থিতিতে অভিবাসন ইস্যু সামনে এনেছেন। তিনি সহিংসতার জন্য ফ্রান্সের দরিদ্র শহরতলি এলাকার অপরাধপ্রবণ তরুণদের দায়ী করেন। এসব এলাকায় দেশটির অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশের বসবাস।

লো পেন বলেন, ‘আমাদের দেশ সহিংসতা ও অসহায়ত্বের এক চক্রে আটকে পড়েছে।’ মাখোঁর আমলের বিশৃঙ্খলার মধ্যে কেবল তার কঠোর অবস্থানই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

ন্যাশনাল র‌্যালি দলের সভাপতি জর্ডান বারদেলাও পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ‘অ্যান্টিফা মিলিশিয়া, উগ্র বামপন্থি গোষ্ঠী ও ব্ল্যাক ব্লক গোষ্ঠীকে’ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন। ব্ল্যাক ব্লক গোষ্ঠীর সদস্যরা বিক্ষোভের সময় পরিচয় গোপন রাখতে সাধারণত একই ধরনের কালো পোশাক ও মুখোশ পরেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সের রাজনৈতিক বিভাজন দেশটির সংকটকে আরও গভীর করছে। ২০২৪ সালে আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন মাখোঁ। কিন্তু সেই নির্বাচন উল্টো পার্লামেন্টে অচলাবস্থা তৈরি করে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এ বিভাজন সহজে কাটবে না।

দেশটির রাজনৈতিক মধ্যপন্থা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর সুযোগ নিচ্ছে ন্যাশনাল র‌্যালি এবং মেলঁশোর উগ্র বামপন্থি দল ফ্রান্স আনবোড। জনসাধারণের ক্ষোভকে পুঁজি করে দল দুটি সমর্থন বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে মাখোঁর একের পর এক প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে বাজেট পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের আধুনিক ফরাসি ইতিহাসের অধ্যাপক রবার্ট জারেটস্কি আটলান্টিক সাময়িকীতে এক নিবন্ধে লিখেছেন, মধ্যপন্থি প্রার্থীদের সংখ্যা বেশি এবং তাদের বেশির ভাগেরই সমর্থক তুলনামূলক কম। শেষ পর্যন্ত এতে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে এমন দুই প্রার্থীর একজনের জয়ের পথ তৈরি হতে পারে, যাদের ফ্রান্সের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সরকারি ঋণ ও অর্থনৈতিক পতনের শঙ্কা

বর্তমান সংকট ফ্রান্সের আগে থেকেই বিভক্ত সমাজকে আরও মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সপ্তাহান্তের সহিংসতায় ক্ষোভ ও হতাশার পাশাপাশি দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে একধরনের নেতিবাচক মনোভাবও বাড়ছে।

সম্প্রতি ইপসোস-বিভিএর এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের ৮৫ শতাংশ মনে করেন, ফ্রান্সের অবনতি হচ্ছে। আর ৯৮ শতাংশই দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্ট।

পরবর্তী সরকার যে দলই গঠন করুক, স্থিতিশীল জোট গঠন করতে পারলেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তাদের হাতে বিকল্প কম থাকবে।

ফ্রান্সের অর্থনীতি কার্যত স্থবির হয়ে আছে। প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক গ্রীষ্মে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে।

পর্যটন এখনো ফ্রান্সের আয়ের অন্যতম বড় উৎস। তবে গত দুই দিনে দেশটির রাস্তায় সহিংসতার যেসব ভিডিও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তা পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করতে পারে।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সিদ্ধান্তহীনতা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। সুদের হার বাড়ার মধ্যে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিনিয়োগ প্রায় ১ শতাংশ কমেছে।

তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ সরকারি ঋণ নিয়ে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের গবেষকেরা জুলাইয়ে বলেন, ‘ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সের সরকারি ঋণের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে দেশটির ঋণ আরও বাড়বে বলে আমরা মনে করছি।’

বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছর মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের মাধ্যমে রেকর্ড ৩৪ হাজার কোটি ইউরো ঋণ নিতে হবে ফ্রান্সকে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় সরকারি ঋণের অনুপাত বেড়ে ১১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় হার দ্বিগুণ।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগও বেড়েছে। সোমবার ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার বেড়ে ৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছায়।

মেলঁশোর একটি প্রস্তাবও বন্ডবাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তিনি ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকা দেশটির সরকারি বন্ডের সুদ স্থগিত করা বা সেগুলোর ঋণ বাতিলের পরিকল্পনার কথা বলেছেন।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের মতে, ২০২৭ সালের নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও রাজনৈতিক বিভাজন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পরবর্তী সরকার সরকারি অর্থব্যবস্থার সমস্যাগুলো সমাধান না করে বারবার পিছিয়ে দিতে পারে। এতে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ম্যাক্রোঁর প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার দূরত্ব

ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বদের একজন জেনারেল শার্ল দ্য গল একবার বলেছিলেন, ‘মহত্ত্ব ছাড়া ফ্রান্স, ফ্রান্স হতে পারে না।’

দেশের আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও স্বাধীনতা নিয়ে তার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ছিল।

তবে দীর্ঘদিন প্রেসিডেন্ট থাকার সময় এক সহযোগীকে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যত দিন পারি, মঞ্চের নাটক চালিয়ে যাব। এরপর কী হবে, সে বিষয়ে কোনো ভ্রমে থেকো না। সবকিছু আবার আগের জায়গায় ফিরে যাবে।’

১৯৬৮ সালের দাঙ্গার এক বছর পর পদত্যাগ করেছিলেন দ্য গল। ওই দাঙ্গায় ফ্রান্স কেঁপে উঠেছিল। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেই সময়ের ঘটনার তুলনা টানছেন কিছু বিশ্লেষক।

ম্যাক্রোঁ প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় তাকে ফ্রান্সের অবনতি নিয়ে প্রচলিত হতাশাবাদী ধারণার বিকল্প হিসেবে দেখা হয়েছিল। ফরাসি ভাষায় এ ধারণাকে বলা হয় ‘দেক্লিনিসম’। ২০১৬ সালে প্রকাশিত লারুস অভিধানেও শব্দটি স্থান পেয়েছে।

তখন এক ভাষ্যকার লিখেছিলেন, ম্যাক্রোঁ ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ও গঠনমূলক বার্তা দেন। তার বক্তব্যে এমন এক ফ্রান্সের ছবি উঠে আসে, যেখানে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিন্তু এক দশক পর পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। বিভিন্ন জনমত জরিপ অনুযায়ী, ম্যাক্রোঁর প্রতি সমর্থন এখন ১৫ থেকে ১৭ শতাংশের মধ্যে। অন্যদিকে সংকটে জর্জরিত রাষ্ট্রের কাছে আরো বেশি প্রত্যাশা করছে সাধারণ মানুষ, যদিও সেই প্রত্যাশা পূরণের সামর্থ্য সরকারের ক্রমেই কমছে। ফ্রান্সের অবনতি নিয়ে হতাশাবাদী ধারণাও জনপরিসরে জোরালোভাবে ফিরে এসেছে।

ফ্রান্সের দাঙ্গা গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের বহিঃপ্রকাশ
ফ্রান্সের প্যারিসের প্লেস দে লা রিপাবলিকের কাছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য করছেন ট্রাম্প: জেলেনস্কি

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত রোববার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিযোগ করেন। দুই নেতার মধ্যে বিরোধ আরও গভীর হওয়ার মধ্যেই তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, ইউক্রেনকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি। জেলেনস্কির মতে, এসব পদক্ষেপ রাশিয়ার যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্যও কমিয়ে দিতে পারে।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টা ওয়াশিংটন করছে—এমনটা তিনি বিশ্বাস করতে চান না। তবে তিনি বলেন, ‘কিন্তু পরিস্থিতি দেখে তা-ই মনে হচ্ছে।’

গত সপ্তাহজুড়ে দুই নেতার মধ্যে নজিরবিহীন কঠোর ভাষায় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এসেছে। জেলেনস্কি বলেন, স্বৈরশাসকদের প্রতি ট্রাম্পের সহজাত অনুরাগ রয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের মনোভাবের দিকেই ইঙ্গিত করেন তিনি। অন্যদিকে ট্রাম্প ইউক্রেনের জনগণকে জেলেনস্কিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি টেলিভিশনের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে জেলেনস্কির বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যুদ্ধ চলাকালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলে তিনি তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কয়েক মাস ধরে এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার পর এবারই প্রথম তিনি প্রকাশ্যে এমন ইঙ্গিত দিলেন।

তবে যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনাকে তিনি গুরুত্বহীন করে দেখান। রাশিয়া বারবার এমন যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যার মাধ্যমে ইউক্রেনের জনগণ ভোট দিতে পারবেন। এ ছাড়া যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজনের বিরোধিতা করেন ইউক্রেনের বিপুলসংখ্যক নাগরিক।

ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে বাগ্‌যুদ্ধ শুরু হয় গত ৯ অক্টোবর। ওই দিন ট্রাম্প ঘোষণা দেন, জ্বালানির দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কিনবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। তবে এই চুক্তির ফলে রাশিয়ার অর্থনীতিতে কয়েক শ কোটি ডলার প্রবেশ করতে পারে।

এরপর ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা বন্ধ করার দাবি জানান। যুদ্ধের ক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর চাপ তৈরির অন্যতম হাতিয়ার এসব শোধনাগার। ট্রাম্পের যুক্তি, ইউক্রেন হামলা বন্ধ করলে রাশিয়ার তেল আবারও বিশ্ববাজারে আসতে পারবে।

গত রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সংঘাতের আগ্রাসী পক্ষ রাশিয়ার প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানান। শান্তিচুক্তির আলোচনায় ক্রেমলিনকে উৎসাহিত করতে কেন বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জেলেনস্কির সমালোচনা করেন। ট্রাম্প লেখেন, জেলেনস্কি ‘এই যুদ্ধ শেষ করতে চান না, সম্ভবত কখনোই চাননি’।

সোমবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, আগামী মাসে চীনের শেনজেনে পুতিন, ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈঠক হতে পারে। তার এ বক্তব্যে ইউক্রেনে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। দেশটির আশঙ্কা, ট্রাম্প পুতিনকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করছেন। শেষ পর্যন্ত দুই নেতা মিলে ইউক্রেনের ওপর নিজেদের স্বার্থবিরোধী কোনো সমঝোতা চাপিয়ে দিতে পারেন বলেও আশঙ্কা করছে কিয়েভ।

ইউক্রেনের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপদ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য সীমিত করছে ওয়াশিংটন। সম্মুখসারির সামরিক অভিযান পরিচালনায় এ নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে কিয়েভ। এসব তথ্যের মাধ্যমে রাশিয়ার ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, গত সপ্তাহে দুই দফায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা পাননি। জেলেনস্কি বলেন, রোববার রাতেও একই ঘটনা ঘটেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার আগে ‘আমাদের অংশীদারদের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা’ পাওয়া যায়নি।

তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বিষয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, গত সপ্তাহে আগাম সতর্কবার্তা না পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে ‘তাদের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার সফটওয়্যারজনিত সমস্যার’ কারণে। তবে রোববার রাতের ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত নিশ্চিত করেছেন, স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টার দিকে কিয়েভে প্রথম দফায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার আগে কোনো আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। তবে সোমবার রাত তিনটার দিকে দ্বিতীয় দফা হামলার আগে সতর্কবার্তা এসেছিল।

ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে ১৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ২৭০টি ড্রোন ছুড়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা ২৪০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে কয়টি ভূপাতিত করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার হার প্রকাশ না করার নতুন নীতি নিয়েছে কিয়েভ। এর পেছনে একটি বড় কারণ হলো, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের ঘাটতি।

রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ইউক্রেনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এসব প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ইউক্রেনের মজুত কমে আসছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরো তীব্র হয়েছে। ব্লুমবার্গকে জেলেনস্কি বলেন, প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে দেরি করছে ওয়াশিংটন।

প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি কিয়েভে হামলার ধরনেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পর্যাপ্ত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসার সময় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পাল্টা হামলার বিকট শব্দ শোনা যেত। এখন বেশির ভাগ সময় শোনা যায় লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার বিস্ফোরণ। সেগুলো ঠেকানোর মতো প্রতিরোধ গড়ে তোলা যাচ্ছে না।

রোববার রাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রথম দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভের কেন্দ্রজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ ছড়িয়ে পড়ে। হামলা শেষ হওয়ার পর সেই বিকট শব্দ থেমে যায়। চারপাশে নেমে আসে অস্বাভাবিক নীরবতা।

কিয়েভের কেন্দ্রের একটি এলাকায় হামলার কয়েক সেকেন্ড পর একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গান ভেসে আসে। রাতের নীরবতা ভেঙে শোনা যাচ্ছিল, ‘আমি কীভাবে তোমাকে ভালো না বেসে পারি, আমার কিয়েভ’।

১৯৬২ সালে প্রকাশিত ইউক্রেনের রাজধানীকে নিয়ে লেখা এই গীতিময় গানটি এখন হামলার মধ্যেও কিয়েভের মানুষের প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য করছেন ট্রাম্প: জেলেনস্কি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাশা কি অতিরিক্ত বেশি

জাকারি বি. উলফ এর বিশ্লেষণঃ যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা বড় ধরনের সাফল্য বা ‘ব্লু ওয়েভ’-এর আশায় বুক বাঁধছেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপের ফল তাদের সেই প্রত্যাশা আরো বাড়িয়েছে। এমনকি কয়েক মাস আগেও যেসব ঘাঁটিতে ডেমোক্র্যাটদের জয় প্রায় অকল্পনীয় মনে হতো, সেসব অঙ্গরাজ্যেও এখন জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন দলটির নেতারা।

তবে প্রত্যাশার পারদ এতটাই চড়েছে যে নির্বাচনের দিন ডেমোক্র্যাটরা বড় ধরনের সাফল্য না পেলে দলটির ভেতরে হতাশা এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে নিতে না পারলে ডেমোক্র্যাটদের জন্য তা প্রত্যাশার তুলনায় কম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সিএনএনের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডেভিড অ্যাক্সেলরড সোমবার কেসি হান্টের উপস্থাপনায় ‘দ্য অ্যারেনা’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমার মনে হয়, যথেষ্টসংখ্যক অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটরা এমন অবস্থানে আছে, যেখান থেকে তারা খুব ভালো ফল করতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারলেও আমি অবাক হব না।’

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের সিনেটে ৫৩টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি অ্যাক্সেলরড। তার ভাষায়, ‘ঢেউ কতটা বড় হবে, তার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।’ অর্থাৎ, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে কোনো না কোনো মাত্রায় জনসমর্থনের ঢেউ আসবে—এমন প্রত্যাশা ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে।

পরাজয়কেও যখন জয় হিসেবে দেখানো হয়

২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সুপ্রিম কোর্ট গর্ভপাতের সাংবিধানিক সুরক্ষা বাতিল করার পর ডেমোক্র্যাটরা তুলনামূলক ভালো ফলের আশা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত দলটি প্রতিনিধি পরিষদের মাত্র ৯টি আসন হারায় এবং পরিষদের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে চলে যায়। তারপরও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ডেমোক্র্যাটরা ফলটিকে প্রত্যাশার তুলনায় ভালো হিসেবে তুলে ধরেন।

নির্বাচনের পরদিন বাইডেন বলেছিলেন, ‘সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বিশাল লাল ঢেউয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তা ঘটেনি।’ তিনি ফলাফলকে ‘গণতন্ত্রের জন্য ভালো দিন’ বলেও উল্লেখ করেন। যদিও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে তাঁর আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ কঠিন হয়ে পড়ে।

এর আগে ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদের ৪১টি আসন হারিয়ে পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারায়। তবে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারাকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন। তার দাবি ছিল, রিপাবলিকানরা ঐতিহাসিক নজিরের তুলনায় অনেক ভালো করেছে।

এবারের নির্বাচনে যা-ই ঘটুক, ট্রাম্প ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকুক বা না থাকুক, তিনি ফলাফলকে নিজের পক্ষে ব্যাখ্যা করে কোনো না কোনোভাবে জয় দাবি করার চেষ্টা করতে পারেন।

জনমত জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

এবারের নির্বাচন নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আশাবাদ বাড়ছে। এবিসি নিউজ ও ওয়াশিংটন পোস্টের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে নভেম্বরে কোন দলকে ভোট দেবেন—এ প্রশ্নে রিপাবলিকানদের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন ডেমোক্র্যাটরা।

সিনেট নির্বাচনেও আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস ও টেক্সাসের মতো রিপাবলিকান-অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থানে রয়েছেন।

মিশিগান ও জর্জিয়ার মতো রাজনৈতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যেও লড়াই বেশ হাড্ডাহাড্ডি। এসব রাজ্যে নিজেদের হাতে থাকা আসন ধরে রাখতে ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনী গতি ও জনসমর্থনের ওপর ভরসা করছেন।

নির্বাচনের পর জনমত জরিপের যথার্থতা নিয়ে যে পর্যালোচনা হবে, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে—এবার জরিপকারীরা ডেমোক্র্যাটদের বাড়তি উদ্দীপনা যথাযথভাবে পরিমাপ করতে পেরেছিলেন, নাকি সেই উদ্দীপনাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছেন।

ইতিহাস কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদের আসন হারায়। গত ১০০ বছরে মাত্র দুবার প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে আসন হারায়নি।

এর একটি ঘটনা ২০০২ সালে, প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনামলে। ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর আগে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে রিপাবলিকানরা সুবিধা পেয়েছিল।

অন্য ঘটনাটি ১৯৯৮ সালে, যখন ডটকম ব্যবসার প্রসারে অর্থনীতি চাঙা ছিল এবং প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের অভিশংসন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়েছিল।

সাধারণত কতটি আসন হারায় ক্ষমতাসীন দল?

এর নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। কয়েকটি আসন হারালেও রাজনৈতিকভাবে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।

২০২২ সালে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের ৯টি আসন হারিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। এটি ছিল স্পষ্ট পরাজয়, যদিও ওই বছর রিপাবলিকানদের বড় ব্যবধানে জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

তবে কোনো কোনো নির্বাচনে আসনের বড় ধরনের রদবদল ঘটে। ১৯৯৪ সালে ক্লিনটনের প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ৫৪টি আসন হারায়। ওই ঘটনা ‘রিপাবলিকান বিপ্লব’ নামে পরিচিত।

২০১০ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে ‘টি পার্টি বিপ্লব’-এর সময় ডেমোক্র্যাটরা ৬৩টি আসন হারায়। ওবামা ওই ফলকে ‘প্রচণ্ড আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। দুই নির্বাচনেই ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারায়।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০১৮ সালে রিপাবলিকানরা ৪১টি আসন হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারায়।

সিনেটের আসনবিন্যাস রিপাবলিকানদের অনুকূলে

প্রতিনিধি পরিষদের তুলনায় সিনেটের নির্বাচনী মানচিত্র রিপাবলিকানদের জন্য বেশি সুবিধাজনক।

২০১৮ সালে সিনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল। সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর হওয়ায় প্রতি নির্বাচনে সাধারণত এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়।

২০২৬ সালে সিনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে সিএনএনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের তালিকায় রয়েছে ১০টি। সিনেটে ৫১টি আসন পেতে ডেমোক্র্যাটদের এই ১০টির মধ্যে আটটিতে জয় পেতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ এই আসনগুলোর মধ্যে জর্জিয়া, মিশিগান ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের আসন বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের দখলে। অন্যদিকে আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও টেক্সাসের আসন রিপাবলিকানদের হাতে।

প্রতিনিধি পরিষদে ঝুঁকিতে বেশি রিপাবলিকান আসন

এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের আসন পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী এলাকার সীমানা দলীয় সুবিধা অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের সংখ্যা কমেছে।

নির্দলীয় কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের হিসাবে, প্রতিনিধি পরিষদের মাত্র ২১টি আসনকে ‘টস-আপ’ বা অনিশ্চিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি রিপাবলিকানদের এবং ছয়টি ডেমোক্র্যাটদের দখলে।

কুকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আরও ১০টি আসনে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছেন—এসব আসন ডেমোক্র্যাটদের জন্য নিশ্চিত, সম্ভাবনাময় অথবা এগিয়ে থাকার অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া একজন আইনপ্রণেতা রিপাবলিকান দল ছেড়ে স্বতন্ত্র হয়েছেন।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা আটটি আসনে রিপাবলিকানরা এগিয়ে রয়েছেন বা জয়ের সম্ভাবনায় রয়েছেন।

এর অর্থ, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের হয়তো অনিশ্চিত আসনগুলোর মধ্যে মাত্র একটি বা কয়েকটিতে জয় পেলেই চলবে। তবে এসব আসনের বড় অংশে রিপাবলিকানরা জয়ী হলে তারা দাবি করতে পারবে, ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাশিত নির্বাচনী ঢেউ বাস্তবে আসেনি।

সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের ফল এক রকম হয় না

দুই কক্ষের নির্বাচনী ফল সব সময় একই দিকে যায় না। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং বাইডেনের মেয়াদে ২০২২ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে এত আসন হারিয়েছিল যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। অথচ দুই নির্বাচনেই সিনেটে দলটি আসন বাড়াতে সক্ষম হয়।

২০১৮ সালে রিপাবলিকানরা সিনেটে চারটি আসন এবং ডেমোক্র্যাটরা দুটি আসন জেতে। ফলে ট্রাম্পের দল সিনেটে দুই আসন বাড়ায়, যদিও তখন তাঁর জনসমর্থনের হার বেশ কম ছিল।

২০২২ সালে বাইডেনের বিরুদ্ধে জনমত থাকা সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে একটি আসন বাড়াতে সক্ষম হয়।

একই নির্বাচনে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ বদলানোর নজির কম

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়মিত বিরতিতে বদলেছে। ফলে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনেই কোনো না কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

তবে গত ১০০ বছরে মাত্র দুবার একই নির্বাচনী চক্রে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ বদলেছে। ১৯৯৪ সালের রিপাবলিকান বিপ্লব এবং ২০০৬ সালে ইরাক যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের প্রেক্ষাপটে ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী ঢেউ ছিল সেই দুটি ঘটনা।

লাল অঙ্গরাজ্যেও কি জিততে পারেন ডেমোক্র্যাটরা?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপরও তার প্রভাব পড়ছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তাই এমন কিছু অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যেখানে আগে তাদের জয় কঠিন বলে মনে করা হতো।

তবে প্রতিটি নির্বাচনী লড়াইয়ের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনায় সিনেটের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার জনপ্রিয় সাবেক গভর্নর। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন অসফ ইতিমধ্যে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

টেক্সাসে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল। তার বিরুদ্ধে একাধিক বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি তুলনামূলকভাবে অজনপ্রিয়।

কানসাসে প্রায় ১০০ বছর ধরে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। সেখানে ডেমোক্র্যাট হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মধ্যপন্থী একজন যাজককে ঘিরে দলটি আশাবাদী।

কানসাস ও টেক্সাসেও কি সত্যিই ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা আছে?

দুই অঙ্গরাজ্যেই জনমত জরিপে সিনেট ও গভর্নর নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

টেক্সাসের একটি সিনেট আসন নিজেদের দখলে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা বহুদিন ধরেই আশাবাদ দেখিয়ে আসছেন। কিন্তু ১৯৮৮ সালের পর সেখানে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয় পাননি। ওই বছরই জন্মগ্রহণ করেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী টালারিকো।

কানসাসেও ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী অজনপ্রিয় রিপাবলিকান প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু ভোটের দিন তিনি হেরে যান।

তাই এসব অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন আবার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

যদি সত্যিই ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে বড় ধরনের নির্বাচনী ঢেউ আসে, তাহলে আরো বেশি রিপাবলিকান-অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠতে পারে। এর মধ্যে সাউথ ক্যারোলাইনাও রয়েছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ সিনেটর ডারলিন গ্রাহামকে হারানোর চেষ্টা করছেন। চলতি বছর তার ভাই লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর ওই আসনে ডারলিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ট্রাম্পও অ্যানি অ্যান্ড্রুজকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন।

প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে কতটি আসন প্রয়োজন?

কংগ্রেসের দুই কক্ষেই বর্তমানে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান খুব কম। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিটি কক্ষে নিট চারটি করে আসন বাড়াতে হবে।

প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ইতিহাসের সবচেয়ে সংকীর্ণ। নির্বাচনের আগে পরিষদে রিপাবলিকান সদস্য ২১৮ জন। ৪৩৫ সদস্যের পরিষদে এটি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ন্যূনতম সীমা। ক্যালিফোর্নিয়ার স্বতন্ত্র সদস্য কেভিন কাইলি প্রশাসনিক বিষয়ে রিপাবলিকানদের সঙ্গে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সদস্য ২১৪ জন এবং দুই দলের একটি করে আসন শূন্য রয়েছে।

এ অবস্থায় ডেমোক্র্যাটরা কয়েকটি আসন বাড়াতে না পারলে তা দলটির জন্য বড় হতাশার কারণ হবে।

সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকান সদস্য ৫৩ জন। ডেমোক্র্যাট ৪৫ জন এবং তাদের সঙ্গে কার্যত যুক্ত দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর রয়েছেন।

১০০ সদস্যের সিনেটে নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের ৫১টি আসন প্রয়োজন। কারণ সিনেটের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সমান ভোট হলে সিদ্ধান্তমূলক ভোট দিতে পারেন।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের কী হবে?

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই মধ্যবর্তী নির্বাচনে আসন হারানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। ইতিহাসে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে কিছু আসন হারায়—এ কথা তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন।

একই সঙ্গে ট্রাম্প দ্রুত ও ব্যাপকভাবে নিজের নীতিগুলো বাস্তবায়ন করছেন। তার প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে এমন ধারণা পাওয়া যায়, মেয়াদের দ্বিতীয়ার্ধে কংগ্রেসের বিরোধিতা বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি আগেভাগে যতটা সম্ভব কাজ এগিয়ে নিতে চাইছেন।

ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের যেকোনো একটির নিয়ন্ত্রণ পেলেও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নজরদারি অনেক বাড়বে। তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা, তথ্য প্রকাশ্যে আনা এবং জনমত প্রভাবিত করার সুযোগ পাবে তারা।

বাজেটের ওপরও ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। কংগ্রেস অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার পরও ট্রাম্প সেই অর্থ ব্যয় না করার নজির দেখিয়েছেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ব্যয়সংক্রান্ত বিলের মাধ্যমে ট্রাম্পের অর্থ ব্যয়ের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা সম্ভব হবে। শুধু একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে এ ক্ষমতা তুলনামূলক সীমিত থাকবে।

তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থাকবে। কোনো বাস্তবসম্মত নির্বাচনী পরিস্থিতিতেই কোনো দল ফিলিবাস্টার অতিক্রম করার মতো সুপারমেজরিটি পাবে না। ফলে ব্যয়সংক্রান্ত বিল পাস করতে শেষ পর্যন্ত দুই দলের সমর্থন এবং হোয়াইট হাউসের সম্মতি প্রয়োজন হতে পারে।

রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প সরকার পরিচালনার অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যেতে দিয়েছেন। অর্থাৎ, নিজের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও তিনি অর্থায়ন নিয়ে অচলাবস্থা এড়াতে সব সময় আগ্রহী ছিলেন না।

ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলোকে ভবিষ্যতের বাজেটসংক্রান্ত বিরোধ থেকে সুরক্ষিত রাখতেও রিপাবলিকানরা পদক্ষেপ নিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে, চলতি বছরের শুরুতে তারা ফিলিবাস্টার এড়িয়ে বাজেট পুনর্মিলন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থাকে (আইসিই) ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য কয়েক বছর মেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানতেন, ইতিহাসের নজির অনুযায়ী মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের নির্বাচনী ঢেউ আসতে পারে। > সিএনএন

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাশা কি অতিরিক্ত বেশি

ইয়েমেনে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৩ সেনা নিহত

আল-জাজিরাঃ ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে পশ্চিমা সমর্থিত ‘সরকারি বাহিনী’র একটি সামরিক প্রশিক্ষণশিবিরে ইরান সমর্থিত হুথি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০০ জন।

সোমবার দেশটির শাবওয়া প্রদেশের আল-আলম সামরিক শিবিরে এ হামলা চালানো হয়। সেখানে নতুন নিয়োগ পাওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ চলছিল।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

পশ্চিমা সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, সোমবার প্রশিক্ষণ চলাকালে শিবিরটিতে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান সমর্থিত হুথি বাহিনী। হামলার পর পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের কর্মকর্তারা এবং চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো প্রথমে ১৮ জন নিহত ও ৩০ জনের বেশি আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল। পরে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩ জন নিহত ও ২০০ জন আহত।

সংঘাতের তীব্রতা বাড়ছে

ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটল। সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা কমে এসেছিল। তবে চলতি বছর ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের আঞ্চলিক প্রভাব নতুন করে সংঘাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

গত মাসে লোহিত সাগরের উপকূলে সরকারি বাহিনীর অনুগত সেনাদের কাছ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা দখল করে নেয় হুথিরা। এরপর সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত হুথি বাহিনীর নামের আরবি অর্থ ‘আল্লাহর সাহায্যকারী’।

হুথিদের অগ্রযাত্রার জবাবে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট পশ্চিমা সমর্থিত সরকারি বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করে। পরে তারা ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে একটি অভিযান চালু করে। এর লক্ষ্য হুথিদের দখলে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করা। এসব এলাকার মধ্যে রাজধানী সানাও রয়েছে। ২০১৪ সালে রাজধানীটি দখল করে নেয় ইরান সমর্থিত হুথি বাহিনী।

এদিকে সৌদি আরবের ওপরও হামলা বাড়িয়েছে হুথিরা। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনাও রয়েছে।

সোমবার সৌদি কর্তৃপক্ষ রাজধানী রিয়াদের বাসিন্দাদের মোবাইলফোনে সতর্কবার্তা পাঠায়। এতে ‘শত্রুপক্ষের আকাশপথে হামলার হুমকি’ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়।

নতুন নিয়োগ পাওয়া সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি জানান, শাবওয়ায় নিহত ব্যক্তিরা নতুন নিয়োগ পাওয়া সদস্য ছিলেন। এ হামলার জবাবে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

আল-আলিমি বলেন, ‘নতুন নিয়োগ পাওয়া সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বোঝা যায়, চাপের মুখে পড়লে হুথি মিলিশিয়া সন্ত্রাসী হামলার পথ বেছে নেয়।’

সানা থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক ইউসুফ মাওরি জানান, হুথিরা এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, সৌদি আরব-সমর্থিত একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়েছে। ওই ঘাঁটিতে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী অবস্থান করছিল।

ইউসুফ মাওরি বলেন, হুথিরা জানিয়েছে, তারা এ ধরনের ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত রাখবে। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, সৌদি আরব-সমর্থিত সামরিক উপস্থিতি রয়েছে—এমন যেকোনো স্থানকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এর আগে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছিল, তারা তাইজ শহরের দক্ষিণে আল-আকরৌদ, আল-শাকাব ও আল-সারারি এলাকায় হুথিদের সমাবেশ, যানবাহন ও অস্ত্রের ওপর হামলা চালিয়েছে। জ্বালানির সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে ভুগছে তাইজ শহর।

ইয়েমেনে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৩ সেনা নিহত
ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলে সাত বছরে ষষ্ঠ নির্বাচন, কপাল পুড়তে পারে নেতানিয়াহুর

ইসরাইলের আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে আবারও ক্ষমতায় ফেরা কঠিন হয়ে উঠতে পারে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য। তার নেতৃত্বাধীন জোট ও ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। দুর্নীতির মামলায় বিচার চলার মধ্যেই নির্বাচনে লড়ছেন ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহু। গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক যুদ্ধ এবং লেবানন ও ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের পর এটিই দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন।

ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির হিসাবে, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রায় ৭৩ লাখ নাগরিক এবার ভোট দেওয়ার যোগ্য। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার সময়ও যারা লাইনে থাকবেন, তারা ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচনের দিন দেশটিতে সরকারি ছুটি থাকবে।

নেসেটে প্রবেশের জন্য কোনো দলকে জাতীয় ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ পেতে হয়। পার্লামেন্টের মেয়াদ চার বছর। তবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের কোনো সীমা নেই।

ইসরাইলে ভোটাররা কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে নয়, রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। দেশটির কোনো দলই এখন পর্যন্ত এককভাবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেই কোনো দল সরকার গঠন করতে পারে না। নির্বাচনের পর দলগুলোকে জোট গঠন করে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে হয়। এ জন্য প্রথমে ২৮ দিন সময় দেওয়া হয়। প্রয়োজনে আরো ১৪ দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে কোনো পক্ষ সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচন আয়োজন করতে হয়।

জাতীয় নির্বাচনে প্রতিটি দলের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন করা হয়। কোনো দল ৩০ শতাংশ ভোট পেলে সাধারণত প্রায় ৩০ শতাংশ আসন পায়। তবে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের সীমা অতিক্রম করতে না পারা দলগুলোর ভোট আসন বণ্টনের হিসাব থেকে বাদ পড়ে। এ কারণে ছোট দলগুলো প্রায়ই নির্বাচনের আগে একীভূত হয় বা জোট গঠন করে।

ভোটাধিকার নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ

এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য প্রায় ৭৩ লাখ ইসরাইলি নাগরিক। তবে দেশটির সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা সব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ভোট দিতে পারেন না।

গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসকারী প্রায় ৩০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ফিলিস্তিনি এমন একটি সরকারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না, যে সরকার তাদের সীমান্ত, চলাচল ও আইনি অবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

ইহুদি ইসরাইলি নাগরিকদের পাশাপাশি প্রায় ১২ লাখ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলি নাগরিকও ভোট দিতে পারেন। অধিকৃত পশ্চিম তীর ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসকারী ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ইসরাইলি বসতির বাসিন্দারাও ভোট দিতে পারেন। তারা এমন পার্লামেন্ট নির্বাচন করেন, যে পার্লামেন্ট তাদের বসবাসের এলাকার ওপর আইন প্রণয়ন করে।

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের অধিকাংশ ফিলিস্তিনির ইসরাইলি নাগরিকত্ব নেই; তাদের রয়েছে বসবাসের অনুমতি। তারা জেরুজালেমের নগর পরিষদের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন, কিন্তু নেসেট নির্বাচনে পারেন না।

এর ফলে অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি বৈষম্য দেখা যায়। সেখানে কোনো ইসরাইলি বসতির বাসিন্দা ভোট দিতে পারেন, অথচ কাছাকাছি বসবাসকারী ফিলিস্তিনি পরিবার একই সামরিক কর্তৃপক্ষের অধীনে থেকেও সেই অধিকার পায় না।

বিদেশে বসবাসকারী অধিকাংশ ইসরাইলি নাগরিকও ভোট দিতে পারেন না। কারণ, দেশটিতে সাধারণভাবে ডাকযোগে বা অনুপস্থিত অবস্থায় ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। নির্বাচনের দিন ভোটারকে শারীরিকভাবে ইসরাইলে থাকতে হয়। তবে কূটনীতিক ও রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে বিদেশে দায়িত্ব পালনকারীরা ব্যতিক্রম। তারা ২০ অক্টোবর ইসরাইলি মিশনগুলোতে ভোট দেন।

নির্বাচনে যেসব বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে

এবারের নির্বাচনে ইসরাইলিদের সামনে রয়েছে একাধিক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ইস্যু। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা, অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ থেকে অব্যাহতি, বিচারব্যবস্থার সংস্কার, যুদ্ধ ও নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়। ঘটনার তিন বছর পরও সরকার এ বিষয়ে তদন্তের জন্য রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেনি। ওই হামলার পর গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু হয়। এতে অন্তত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অবরুদ্ধ উপত্যকাটির অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টিও বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। এই সুবিধার সমর্থকেরা বলেন, এর মাধ্যমে পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ রক্ষা করা হয়।

তবে সমালোচকদের যুক্তি, এতে অন্য নাগরিকদের ওপর সামরিক দায়িত্বের অসম বোঝা চাপানো হয়।

বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কমানোর জন্য নেতানিয়াহুর উদ্যোগ যুদ্ধ শুরুর আগে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। সমালোচকেরা এটিকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বলে মনে করেন। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, আদালত নিজের ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

যুদ্ধ ও নিরাপত্তার বিষয়টিও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণ মানুষ স্থিতিশীলতা চান। তবে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নেতানিয়াহু ‘পূর্ণ বিজয়ের’ প্রতিশ্রুতি দিলেও হামাস ও হিজবুল্লাহ এখনো সক্রিয় রয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয়ও বড় ইস্যু। পণ্যের উচ্চমূল্যের সঙ্গে সাধারণ মানুষের তুলনামূলক কম মজুরি আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাজেট দ্বিগুণ হয়েছে। এতে সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ আরো বেড়েছে।

বিদায়ী সরকারের আসনসংখ্যা

জুলাইয়ে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সময় নেতানিয়াহুর জোটের হাতে নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে ৬০টি ছিল। জোটে লিকুদের ৩২টি, শাসের ১১টি, রিলিজিয়াস জায়োনিজমের সাতটি, ইতামার বেন গভিরের ওতজমা ইয়েহুদিতের ছয়টি এবং নিউ হোপের চারটি আসন ছিল। শাস ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সরকার ছেড়ে গেলেও জোটে থেকে যায়। আর নিউ হোপ এবারের নির্বাচনে লিকুদের সঙ্গে একীভূত হবে।

বিরোধী দলগুলোর হাতে ছিল ৫৯টি আসন। এর মধ্যে ইয়েশ আতিদের ২৪টি, ব্লু অ্যান্ড হোয়াইটের আটটি, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সাতটি, ইসরাইল বেইতেনুর ছয়টি, হাদাশ-তাআল ও রা'আমের পাঁচটি করে এবং লেবার পার্টির চারটি আসন ছিল। নোআমের একটি আসন কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।

কারা নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী

দুর্নীতির অভিযোগে বিচার চললেও আবার নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার নেতৃত্বাধীন উগ্রডানপন্থী জোটের বিপরীতে রয়েছে ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন চারটি বড় বিরোধী দলের জোট। এসব দলের নেতারা নির্বাচনের আগে একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ না করার এবং ভোটের পর সরকার গঠনে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন।

সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে বিরোধীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পদের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার নতুন দল ইয়াশার জনমত জরিপে লিকুদের সঙ্গে সমানে সমানে লড়ছে।

বিরোধী জোটে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন টুগেদার তালিকা, আভিগদর লিবারম্যানের ইসরাইল বেইতেনু এবং ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস পার্টি।

নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন উগ্রডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মোতরিচ, অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের দলগুলো এবং আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী রা'আম ও জয়েন্ট লিস্ট।

গত মাসে ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি রা'আম ও জয়েন্ট লিস্টকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার পক্ষে ভোট দিয়েছিল। তবে ২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেন। আদালতের মতে, দল দুটিকে বাদ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি মানদণ্ড পূরণ করার মতো প্রমাণ ছিল না।

জয়েন্ট লিস্টের অন্যতম দল বালাদের নেতা এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলি নাগরিক সামি আবু শাহাদেহ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। আদালত ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অধিকাংশ বিচারক তাঁর অযোগ্যতার সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে পারেন।

নির্বাচনের পর আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের অধিকাংশ নেতা এসব দলের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

সাত বছরে ষষ্ঠ নির্বাচন

আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন ২০১৯ সালের পর ইসরাইলের ষষ্ঠ জাতীয় নির্বাচন। তবে ৩৮ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম নেসেটের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার শুরু ২০১৯ সালের এপ্রিলে। ওই সময় নেতানিয়াহুর লিকুদ ও বেনি গান্টজের ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টি ৩৫টি করে আসন পেয়েছিল। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় নির্বাচনেও অচলাবস্থা তৈরি হয়। ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট ৩৩টি এবং লিকুদ ৩২টি আসন পায়। দুই নির্বাচনেই কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে পারেনি।

২০২০ সালের মার্চে তৃতীয় নির্বাচনে লিকুদ ৩৬টি এবং ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট ৩৩টি আসন পায়। এরপর নেতানিয়াহু ও গান্টজের নেতৃত্বে ঐক্য সরকার গঠিত হলেও এক বছরের মধ্যে তা ভেঙে পড়ে।

২০২১ সালের মার্চে লিকুদ ৩০টি এবং ইয়েশ আতিদ ১৭টি আসন পায়। এরপর নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে আট দলের জোট সরকার গঠিত হয়। ওই জোটে আরব দল রা'আমও ছিল। এর মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহুর টানা ১২ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। তবে সেই সরকারও এক বছর টিকেছিল।

২০২২ সালের নভেম্বরে আবার ক্ষমতায় ফেরেন নেতানিয়াহু। ওই নির্বাচনে লিকুদ ৩২টি এবং ইয়েশ আতিদ ২৪টি আসন পায়। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে গঠিত সরকারকে ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থি সরকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে কোনো জোটকেই ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে দেখা যাচ্ছে না।

ইসরাইলের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু

১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর দেশটিতে মোট ১৪ জন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় ছিলেন নেতানিয়াহু। তিন দফায় তার প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ মোট ১৯ বছর—১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯, ২০০৯ থেকে ২০২১ এবং ২০২২ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত।

তার কাছাকাছি রয়েছেন ডেভিড বেন-গুরিয়ন। তিনি ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৪ সাল এবং পরে ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে যে ফলই আসুক, নতুন সরকার শপথ নেওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

prime minister

নেতানিয়াহুর সমর্থক-বিরোধী দুই পক্ষই ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করতে চায়

আল-জাজিরাঃ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমর্থক ও বিরোধী—দুই পক্ষই ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, জাতিগত নিধন এবং গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে তাদের বিতাড়নের পক্ষে। ইসরাইলের রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর বিরোধিতা করলেও তার অনুসৃত নীতির বিরোধিতা করছে না কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইহুদিবাদী দল। এমন অভিযোগ করেছেন ফিলিস্তিনের বালাদ পার্টির চেয়ারম্যান সামি আবু শাহাদেহ।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামি আবু শাহাদেহ বলেন, নেতানিয়াহুর সমর্থক ও বিরোধী—দুই শিবিরই স্পষ্টভাবে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, জাতিগত নিধন এবং গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে তাদের বিতাড়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই রাজনৈতিক বক্তব্যের বিরোধিতা করছে—এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইহুদিবাদী দল নেই। এমনকি যারা নেতানিয়াহুর বিরোধিতা করছে, তাদেরও তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সমস্যা রয়েছে। কিন্তু তারা নেতানিয়াহুর নীতির বিরোধিতা করছে না।’

আসন্ন ইসরাইলের নির্বাচন সামনে রেখেও দেশটির রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী ও ভিন্নধর্মী কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই বলে মন্তব্য করেন সামি আবু শাহাদেহ। তার মতে, নেতানিয়াহুর সমর্থক ও বিরোধী—দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।

তিনি বলেন, ‘দুই পক্ষই আরব-ফিলিস্তিনি সংখ্যালঘুদের ছাড়া সরকার গঠনের জোট তৈরি করতে পারছে না। এ কারণেই আমরা পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দুই পক্ষই বর্ণবাদী। তারা সহিংসতা ব্যবহারে প্রস্তুত।’

ইসরাইলের নির্বাচনে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব-ফিলিস্তিনি সংখ্যালঘুরা নির্ধারক ভূমিকা নিতে পারেন। তবে এ অবস্থান তাদের আরো বিপদের মুখে ফেলছে বলে মনে করেন বালাদ পার্টির চেয়ারম্যান।

সামি আবু শাহাদেহ বলেন, নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ইরানের সঙ্গে নতুন করে কোনো যুদ্ধ শুরু না হলে নির্বাচনের আগের সপ্তাহটি খুব কঠিন যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

নেতানিয়াহুর সমর্থক-বিরোধী দুই পক্ষই ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করতে চায়
ফাইল ছবি

বাসররাতের পরই মারা গেলেন ৭৫ বছরের সাংরুরাম

সাংরুরামের বয়স ৭৫ বছর। দীর্ঘ সময় নিঃসঙ্গ থাকার পর তাকে সঙ্গ দেয়ার জন্য বিয়ে করেন নিজের চেয়ে অর্ধেকেরও কম বয়সী এক যুবতীকে। কিন্তু তার কপালে সুখ সইলো না। বিয়ের পরদিন সকালেই তিনি মারা গেলেন। এ ঘটনা ঘটেছে উত্তর প্রদেশের জাউনপুর জেলার কুছমুছ গ্রামে। ওই ব্যক্তি তার প্রথম স্ত্রীকে হারান এক বছর আগে। তারপর থেকে নিঃসঙ্গ দিন পার করছিলেন। তার কোনো ছেলেমেয়েও নেই। কৃষিকাজ করে জীবন নির্বাহ করছিলেন তিনি। তার আত্মীয়রা বলেন, সম্প্রতি তিনি দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এর বিরুদ্ধে পরামর্শ দেন আত্মীয়রা। তাদের সে কথায় কান দেননি তিনি। গত ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৫ তিনি বিয়ে করেন ৩৫ বছর বয়সী মানভাবতীকে। মানভার জালালপুর এলাকার এক যুবতী। তারা কোর্টে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেন। পরে স্থানীয় একটি মন্দিরে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করেন।

বিয়ের পর মানভাবতী বলেন, তার স্বামী তাকে বাড়িঘরের দায়িত্ব নিতে বলেছেন। আর তিনি পালন করবেন ছেলেমেয়ে দেখাশোনার দায়িত্ব। বিয়ের রাতে তারা অনেক সময় ধরে গল্প করেন। কিন্তু সকালে সাংরুরামের স্বাস্থের হঠাৎ করে মারাত্মক অবনতি হয়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার আকস্মিক এই মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে নানা জল্পনা দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, প্রকৃতি তার শোধ নিয়েছে। অন্যরা সন্দেহ করছেন অন্য কিছু। মৃতের এক ভাইপো বসবাস করেন দিল্লিতে। তিনি মৃতের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া স্থগিত রাখতে বলেছেন। তারা বলেছেন, তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে তাদের উপস্থিতি জরুরি। 

mzamin

ট্রাম্পের পোস্টের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করল রাশিয়া

ইরানকে সহায়তায় রাশিয়া খুব বেশি কিছু করছে না বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে মস্কো। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, ইরানের লড়াই ন্যায়সংগত। খবর ইউরো নিউজের।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লাভরভ বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, ইরানের লক্ষ্য রাশিয়ার মতোই ন্যায়সংগত।’

এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের ওপর উসকানিহীন সামরিক অভিযান চালানোর অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে তেহরানকে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে রাশিয়া তাদের সামর্থ্যের তুলনায় খুব সামান্যই করছে।

ট্রাম্প লেখেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে সহায়তায় রাশিয়া খুব সামান্যই করছে, যদি আদৌ কিছু করে থাকে। তারা যা করতে পারত, তার তুলনায় এই সহায়তা খুবই কম। আমি চাই, পরিস্থিতি এমনই থাকুক।’

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে আলোচনার পথ খোলা রাখতে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানোর পক্ষে যুক্তি দেখান ট্রাম্প। তার আশঙ্কা, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে মস্কো আলোচনার টেবিল থেকে সরে যেতে পারে।

তিনি লেখেন, ‘আমি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধের অবসানে শান্তি আলোচনা করছি। এমন কিছু করতে চাই না, যা নির্বুদ্ধিতার কারণে রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।’

তেহরান সফরে লাভরভ বলেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে রাশিয়া এখনো সহায়তা করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

লাভরভ বলেন, ‘এই কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট সংকট কাটিয়ে উঠতে পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে পেতে সহায়তা করার বিষয়ে আমরা আবারও আমাদের দেশের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছি।’

সংঘাত নিরসনে কূটনীতির পথে এগোনোর বিষয়ে তেহরানের আগ্রহকে স্বাগত জানান তিনি। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত শুরুর আগের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। এর মধ্যে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং নতুন করে সামরিক হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার বিষয়ও রয়েছে।

লাভরভের দাবি, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টা ঠেকাতে কাজ করেছে মস্কো। পাশাপাশি ওষুধ ও নিয়মিত খাদ্য সরবরাহসহ ইরানকে মানবিক সহায়তাও দিচ্ছে রাশিয়া।

কূটনৈতিক সমর্থনের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানান লাভরভ। তিনি বলেন, ‘কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ খাতের চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই।’

ট্রুথ সোশ্যালে একই পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ট্রাম্পের দাবি, ইউক্রেনের হামলার কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন; এর জন্য রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ কিংবা ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দায়ী নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক কম দামে ডিজেল সরবরাহে রাশিয়ার সম্মতির প্রশংসাও করেন তিনি।

জেলেনস্কির যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আগ্রহ কম বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তার দাবি, ইউক্রেন এর আগে আরও অনুকূল সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ হারিয়েছে।

সম্প্রতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার একটি প্যাকেজ স্থগিত এবং রুশ ডিজেলের ওপর কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন। ইউক্রেন যুদ্ধ চলতে থাকার মধ্যেই এসব পদক্ষেপ রাশিয়ার আয় বাড়াতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তি আলোচনা সচল রাখা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এ নীতি নেওয়া হয়েছে।

সূত্র : ইউরো নিউজ

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: এপি
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: এপি

ডেমোক্র্যাটরা জিতলে ফ্রান্সের মতো জ্বলবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রেও ফ্রান্সের মতো বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানসাস অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের পক্ষে প্রচারে গিয়ে স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অভিবাসন ও মুসলিমবিরোধী বক্তব্যও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খবর রয়টার্সের।

ইরান যুদ্ধ ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের মধ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন ধরে রাখতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রচার তৎপরতার অংশ ছিল এই সমাবেশ। ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কানসাসে মার্শালের আসনটি এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘কানসাস, আমি তোমাদের ভালোবাসি। তবে আমি এখানে রজার মার্শাল নামের একজনের জন্য এসেছি।’

নিজের প্রচার বক্তব্যে নতুন করে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। তার দাবি, রিপাবলিকানরা জয়ী না হলে যুক্তরাষ্ট্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে সরকারি সেবা ব্যাহত হওয়ার প্রতিবাদে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ফ্রান্সে বড় বিক্ষোভ হয়েছে। একপর্যায়ে তা সহিংসতা ও লুটপাটে রূপ নেয়। কয়েক বছরের মধ্যে দেশটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ অস্থিরতার ঘটনা হিসেবে এসব বিক্ষোভকে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রেও পণ্য ও সেবার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প। তা সত্ত্বেও সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমরা এই দেশকে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে দেব না। ফ্রান্সে যখন গির্জার চূড়া জ্বলতে দেখবেন, চারদিকে আগুন জ্বলতে দেখবেন, তখন মনে রাখবেন; উগ্র ডেমোক্র্যাটরা আমেরিকার জন্যও এটাই চায়।’

ট্রাম্প ব্যঙ্গ করে ডেমোক্র্যাটদের ‘ডুমোক্র্যাটস’ বলে উল্লেখ করেন। অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে তার অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে আসছেন। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এ ধরনের বক্তব্য সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক মনোভাবকে স্বাভাবিক করে তোলে।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কানসাসে ১৬ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। রক্ষণশীল এই অঙ্গরাজ্যে গত ৯৪ বছরে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে জয়ী হননি।

তবে প্রথম মেয়াদের সিনেটর রজার মার্শাল এবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও মেথডিস্ট মেগাচার্চের যাজক অ্যাডাম হ্যামিলটনের সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন। হ্যামিলটন ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরোধিতা করছেন এবং প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বকে খামখেয়ালিপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

হ্যামিলটন সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি চান, শ্বেতাঙ্গ হিসেবে জন্ম নেওয়ার জন্য তোমরা অনুতপ্ত হও।’

সমাবেশে মার্শালও ‘উগ্র ইসলাম’ ঠেকানোর মতো সাংস্কৃতিক ইস্যুকে সামনে আনেন। সমকামীদের অধিকার ও প্রাইড প্যারেডের প্রতি সমর্থন থাকায় হ্যামিলটনকে কানসাসের জন্য ‘অতিরিক্ত উদারপন্থি’ বলে আখ্যা দেন তিনি।

মার্শাল বলেন, ‘আমাদের এমন একজনকে দরকার, যিনি গরু ও ষাঁড় সামলাতে জানেন।’

কানসাসের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে দলটিকে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

সূত্র : রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

বৃন্দাবনের জন্মদিনে খুশির আবেগঘন পোস্ট

নাট্যকার, অভিনয়শিল্পী বৃন্দাবন দাসের জন্মদিন (৭ ডিসেম্বর)। পারিবারিক ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি। ছবিতে বৃন্দাবন ও খুশি দম্পতির সঙ্গে দুই পুত্র সৌম্য জ্যোতি ও দিব্য জ্যোতিকে দেখা গেছে।

আবেগঘন পোস্টে খুশি লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন বৃন্দাবন। যে মানুষ, একটা লাল চায়ে একটা টোস্ট বিস্কুট পেলেই খুশি হয়ে যায়, অন‍্যের খারাপ সংবাদে চুপ হয়ে যায়, দেশের গান শুনলে যে অঝোরে কেঁদে ফেলে, শরীরের সুস্থতা ছাড়া যে ভবিষ্যতে কোনো সঞ্চয়ের চিন্তা করে না, যে কখনো কারও অমঙ্গলের কথা ভুলেও ভাবে না, এমন প্রাণের মানুষের অনেক অনেক কাল বেঁচে থাকা উচিত। তুমি সুস্থ থাকো।’

এর আগে আরেক পোস্টে খুশি লিখেছেন, ‘জীবনের সব অবজ্ঞা, অপবাদ এবং বঞ্চিত হবার গল্প পেছনে ফেলে, এখনও হাসো তুমি, হাসি আমি। এমন করেই যেন সামনের দিনগুলো পার করতে পারি। সুস্থ থেকো দিব্য, সৌম্যর জন্য। সুস্থ থেকো বাংলা নাটকের জন্য। আরও অনেক দিন বেঁচে থাকো। হাজারো বৈরিতায় তুমি, আমি কোনো স্বপনের হাত ধরে থিতু হয়ে বসতে পারিনি।’

খুশি লিখেছেন, ‘সামনের দিনগুলোতে পানের বাটা সামনের রেখে যেন থিতু হয়ে বসে দুদণ্ড নিদানকালের গল্প করতে পারি। হিসাব করে দেখতে পারি, কাদের, কোন শঠতা আমাদের একটুও শান্তি করে বসতে দেয়নি। তুমি নাই, কিন্তু তোমার জন্মতারিখটা বারবার ফিরে আসছে—এমন দিন যেন আমার দেখতে না হয়। ভালোবাসা।’

বৃন্দাবন দাসের জন্ম পাবনায়, ঢাকায় আসেন ১৯৯৫ সালে। যুক্ত হন মঞ্চনাটকে। আরণ্যক নাট্যদলে অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক লিখতে শুরু করেন বৃন্দাবন। ১৯৯৭ সালে লেখেন প্রথম নাটক ‘বন্ধুবরেষু’। নির্মাতা ছিলেন সাইদুল আনাম টুটুল। নাটকটি দেখা গিয়েছিল একুশে টিভিতে। আড়াই দশক ধরে নাটক লিখছেন বৃন্দাবন দাস।

মূলত গ্রামকেন্দ্রিক নাটক লিখে জনপ্রিয় হয়েছেন এই নাট্যকার। ‘সাকিন সারিসুরি’, ‘আলতা সুন্দরী’, ‘ঘরকুটুম’, ‘গরু চোর’, ‘ঢোলের বাদ্য’, ‘পত্র মিতালী’, ‘কবুলিয়তনামা’—এমন জনপ্রিয় নাটকের নাট্যকার বৃন্দাবন। অভিনয় করেও প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।

দুই পুত্র সৌম্য ও দিব্যর সঙ্গে বৃন্দাবন দাস ও শাহনাজ খুশি দম্পতি
দুই পুত্র সৌম্য ও দিব্যর সঙ্গে বৃন্দাবন দাস ও শাহনাজ খুশি দম্পতি। খুশির ফেসবুক থেকে

Monday, October 19, 2026

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কে এই মেহরদাদ আখলাঘি

আল–জাজিরাঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে, এমন আশঙ্কার মধ্যেই ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচি। ৬৮ বছর বয়সী এই সামরিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞকে গতকাল রোববার ইরানের পার্লামেন্ট নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথভাবে আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই ইরানের পার্লামেন্ট অধিবেশন অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে আখলাঘির মনোনয়নের পক্ষে ২৩৭ আইনপ্রণেতা ভোট দেন, আর বিপক্ষে ভোট দেন ১৫ জন।

ফেব্রুয়ারির যুদ্ধের প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ ইরানের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর পর থেকে মজিদ ইবনে-রেজা সাময়িকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এখন তিনি উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে কাজ করবেন।

আখলাঘির প্রযুক্তিগত দক্ষতা


ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আখলাঘির মূল দক্ষতা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কঠিন জ্বালানিচালিত রকেট ইঞ্জিন, অ্যারোস্পেস প্রযুক্তি ও সামরিক পণ্য উৎপাদনে। এর আগে তিনি শাহিদ বাঘেরি ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপ, অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশন ও ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আখলাঘি ও তাঁর পরিচালিত এই সংস্থাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ছাড়া তিনি জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকায়ও রয়েছেন।

ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট পত্রিকা ‘তাসনিম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে ইরানের বেশ কিছু বড় ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র উন্নয়ন প্রকল্পে আখলাঘি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ইরানের বিখ্যাত ‘সেজিল’ ও ‘জুলফিকার’ সিরিজের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘আলমাস’ ক্ষেপণাস্ত্র ও গাইডেড বোমা ‘ইয়াসিন’-এর মতো নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্র তৈরিতে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল।

এ ছাড়া সেমনানের ইমাম খোমেনি স্পেস সেন্টারের মহাকাশ যান ও গবেষণা রকেটের অবকাঠামো উন্নয়নেও আখলাঘি কাজ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের সামরিক শিল্প অবকাঠামো পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণের মূল দায়িত্ব এখন আখলাঘির ওপর।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও এ–সম্পর্কিত সংস্থাগুলোতে আখলাঘির ৪২ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাগুলো আগেই দেশের শীর্ষ সামরিক কর্তৃপক্ষ, প্রেসিডেন্ট এবং পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির অনুমোদন পেয়েছে।

পার্লামেন্টে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কোনো দেশের ওপর আগ্রাসনকারী প্রথম পক্ষ হবে না। তবে যেকোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে দেশের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষায় শেষনিশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করবে।’

কৌশলগত লক্ষ্য ও মার্কিন হুমকি

চলতি মাসের শুরুতে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আখলাঘির এই মনোনয়ন মূলত কৌশলগত অস্ত্র, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির গুণগত ও সংখ্যাগত বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তারই প্রতিফলন।

যুক্তরাষ্ট্র বারবার দাবি করে আসছে, তারা ইরানের সামরিক উৎপাদন সক্ষমতার বেশির ভাগ ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, মার্কিন বা ইসরায়েলি বোমার নাগালের বাইরেও তাদের পর্যাপ্ত আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বহাল রয়েছে এবং যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে সেগুলো আরও উন্নত করা হচ্ছে।

আখলাঘির হুঁশিয়ারি

গতকাল প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দেন আখলাঘি। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা (মাদার অব অল বোম্বস) ফেলার হুমকির জবাবে আখলাঘি বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি এবং সম্পূর্ণ নিশ্চিন্তে আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’

আখলাঘি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এখন চিন্তা করতে হবে, কীভাবে তিনি এই অঞ্চল থেকে তাঁর বাহিনীকে বহাল তবিয়তে ফিরিয়ে নেবেন। তিনি যদি এখানে একটি বোমাও ফেলেন, তবে তাঁর কতজন সেনাকে কফিনে করে ফেরত নিতে হবে, তা তিনি নিজেই দেখতে পাবেন।

আখলাঘি বলেন, যুদ্ধ চলাকালে ও যুদ্ধ–পরবর্তী সামরিক প্রয়োজন ভালোভাবে বোঝার জন্য তিনি আইআরজিসির প্রধান জেনারেল আহমেদ ওয়াহিদিসহ শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে ইতিমধ্যে বৈঠক করেছেন। তাঁর অগ্রাধিকার থাকবে সামরিক শিল্পের দ্রুত বিকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উদীয়মান প্রযুক্তির সংযোজন এবং সশস্ত্র বাহিনীর কল্যাণ ও আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতা বাড়ানো।

 ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচি
ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচি। ছবি: প্রেসটিভির ভিডিও থেকে নেওয়া