Wednesday, September 9, 2026
মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্মৃতিসৌধ চুয়াডাঙ্গার আট কবর
সংগ্রহকারী: রাবেয়া আক্তার, দশম শ্রেণি, খ শাখা, এম এ বারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গা
বর্ণনাকারী: মো. আলী আজগর ফটিক, রেলপাড়া, চুয়াডাঙ্গা, বয়স: আনুমানিক ৫৯ বছর
সংগ্রহকারী ও বর্ণনাকারীর সম্পর্ক: নাতনি–নানা
১৯৭১ সালে ভারতের বিহার রাজ্যের চাকুলিয়ায় প্রথম ব্যাচে গেরিলা ট্রেনিং করি আমি। মাত্র ৪২ দিনের মাথায় গেরিলা ট্রেনিং শেষ করি আমরা। যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে পড়ি।
আমরা ছিলাম আলমডাঙ্গার ৮ নম্বর সেক্টরের অধীন। কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা ও ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল এই সেক্টর।
আমি এই যুদ্ধে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন গ্রাম, যেমন সাতগাড়ি, দিঘড়ি, মেছরদাড়ি, কুলচারা, ডোমবার চর ইত্যাদি গ্রামে হেঁটে রাতদিন পার করেছি।
একদিন শুনলাম, গ্রামে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণ হবে। তখন তাড়াতাড়ি বাড়ি যাই। গিয়ে দেখি, আমার মা ভাতের চুলায় লাকড়ি দিচ্ছেন। এ অবস্থায় মাসহ আমরা তিন ভাইবোন অনেক কষ্টে মাঠঘাট পেরিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার দলটা নামক জায়গার একটা স্কুলে গিয়ে আশ্রয় নিই।
ওখানে আমার বড় বোন অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে। পাশের বাড়ির কুয়া থেকে পানি উঠিয়ে তার মাথায় ঢেলে সুস্থ করে তুলি। এর পরের দিনগুলো ছিল অনেক কষ্টের। আমাদের চোখের সামনে অনেক গ্রাম, মাঠ, ঘরবাড়ি আগুনে পুড়িয়ে শেষ করেছিল পাকিস্তানি সেনারা।
অনেক মা-বোনের ওপর নির্যাতন করে পাকিস্তানি শোষকেরা। অনেক যুবক, বৃদ্ধের দুই হাত বেঁধে গুলি করে মেরেছিল পাকিস্তানি সেনারা।
পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা সহ্য করতে না পেরে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। সে সময় যোগ দিই বিভিন্ন অপারেশনে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা থানার অন্তর্গত নাটুকা রতনপুরে।
১৯৭১ সালের ৫ আগস্ট সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি। ওই যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ২৪ জনকে খতম করি আমরা। আমাদের মধ্যে শহীদ হন আটজন।
এই আটজন শহীদ হলেন—
* হাসান জামান (গোকুলখালী, চুয়াডাঙ্গা)
* খালেদ সাইফুদ্দিন তারেক (পোড়াদহ, কুষ্টিয়া)
* রওশন আলম (আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা)
* আলাউল ইসলাম খোকন (চুয়াডাঙ্গা শহর)
* আবুল কাশেম (চুয়াডাঙ্গা শহর)
* রবিউল ইসলাম (মোমিনপুর, চুয়াডাঙ্গা)
* কিয়ামুদ্দিন (আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা)
* আফাজ উদ্দিন (দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা)
পরে চুয়াডাঙ্গার জগন্নাথপুর গ্রামের মানুষ রাস্তার পাশে দুটি কবরে চারজন করে আটজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার লাশ দাফন করেন। কালক্রমে এই আট মুক্তিযোদ্ধার কবরকে ঘিরেই স্থানটির নামকরণ হয় ‘আট কবর’।
এখানে পরবর্তী সময়ে একটি মুক্তমঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। পাশেই তৈরি হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রহশালা। বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের রাজধানী মুজিবনগর এখান থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে।
১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলে দীর্ঘ ৯ মাস। ৯টি মাস ছিল আমাদের জন্য বড় কষ্টের। কত মানুষ স্বজন হারিয়েছেন, কত যে বিচিত্র মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে!
অনেক যুদ্ধ, অনেক জীবন, অনেক রক্ত, অনেক মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে পেয়েছি আমরা এক টুকরা লাল–সবুজের পতাকা আর স্বাধীন ভূখণ্ড, যার নাম বাংলাদেশ।
এখনো সেসব দিন চোখের সামনে ভেসে ওঠে, যা কোনো দিন ভোলার মতো নয়।
![]() |
| মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্মৃতিসৌধ চুয়াডাঙ্গার আট কবর। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Tuesday, September 8, 2026
টানা এক সপ্তাহ পপকর্ন খেলে কী হয়, জানেন?
এ ছাড়া পপকর্নে পাবেন কিছুটা আমিষ। এতে আরও আছে ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম, জিংক, কপারসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পপকর্ন থেকে আপনি পাবেন প্রচুর আঁশ।
তবে বিপত্তি বাধে পপকর্ন তৈরির সময় তাতে যোগ করা কিছু অস্বাস্থ্যকর উপাদানের কারণে। তাই আপনি একটানা এক সপ্তাহ পপকর্ন খেলে কী ঘটতে পারে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কোন পপকর্ন খাচ্ছেন এবং কতটা খাচ্ছেন, তার ওপর।
পুষ্টি ও তুষ্টি
এক সপ্তাহ একটানা পপকর্ন খেলে এর আঁশের কারণে আপনার কোষ্টকাঠিন্যের ঝুঁকি কম থাকবে। আপনার অন্ত্রে বসবাসকারী উপকারী জীবাণুরাও পুষ্টি পাবে এই আঁশ থেকে। তাই আপনার পেটের পীড়ায় ভোগার ঝুঁকি কমবে।
পপকর্ন আঁশসমৃদ্ধ হওয়ায় তা খেলে আপনার পেট ভরা থাকবে বেশ কিছুটা সময়। এ ছাড়া পপকর্ন সুস্বাদু এবং মুচমুচে হওয়ায় এই স্ন্যাক খেলে তৃপ্তি পাবেন সহজে। তাই আপনার পক্ষে অন্যান্য উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।
সব মিলিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হবে আপনার জন্য। এ ছাড়া পপকর্নের অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের উপকারও পাবেন।
তাই স্বাস্থ্যকর তেল, যেমন জলপাই তেল বা অ্যাভোক্যাডো তেল দিয়ে বানানো পপকর্ন, যাতে অন্য কোনো অস্বাস্থ্যকর উপাদান নেই, তা একটানা এক সপ্তাহ খেলে ক্ষতি নেই।
যদি থাকে অস্বাস্থ্যকর তেল
তবে যদি এমন পপকর্ন খান, যাতে অস্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে আপনি পড়বেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। কক্ষ তাপমাত্রায় জমাট বেঁধে যায়, এমন তেল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ এবং স্ট্রোকের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ে এমন তেলের খাবার খেলে।
এমনটা অবশ্য নয় যে আপনি এক সপ্তাহ পপকর্ন খেলেই আপনি এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হবেন বা ঝুঁকি বাড়বে। তবে একটানা অস্বাস্থ্যকর তেল খাওয়া হলে দীর্ঘ মেয়াদে এ ধরনের রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
আরও যা
* চিনি বা অতিরিক্ত লবণ দেওয়া টপিং দেওয়া থাকলে সেই পপকর্নের কারণেও আপনার দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
* কৃত্রিম রং বা রাসায়নিক মিশ্রিত পপকর্নেও বাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
* মাইক্রোওয়েভ ওভেনে সরাসরি প্যাকেট বসিয়ে যে পপকর্ন তৈরি করা হয়, তা ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ, এতে প্লাস্টিকের মতো অনমনীয় উপাদান থাকতে পারে। এসব উপাদান সহজে ভাঙে না এবং খাবারে মিশে ঢুকে যেতে পারে আমাদের দেহে।
* তবে স্বাস্থ্যকরভাবে তৈরি করা পপকর্নও অতিরিক্ত খেলে আপনি রোজকার প্রয়োজনীয় খাবারে রুচি বা আগ্রহ হারাতে পারেন। ফলে অন্যান্য বহু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
![]() |
| সুস্বাদু স্ন্যাক হিসেবে পপকর্ন দারুণ জনপ্রিয়। ছবি: পেক্সেলস |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হরমুজে এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ, চলেছে মাত্র ৭৭টি
জাহাজ চলাচল ও সামুদ্রিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সর্বশেষ সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা পণ্যবোঝাই জাহাজের সংখ্যা ৪৫ থেকে কমে ৩৩টিতে নেমে এসেছে।
কেপলার আরও জানিয়েছে, গত ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা মোট ২৮টি জাহাজের মধ্যে ২১টিই ইরানের নির্ধারণ করে দেওয়া পথ (রুট) ধরে চলাচল করেছে। এসব জাহাজ হরমুজের প্রচলিত নৌপথ এড়িয়ে গেছে।
অন্যদিকে গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) হরমুজ পাড়ি দেওয়া আটটি জাহাজের মধ্যে সাতটিই ইরানের নির্ধারিত পথ ধরে চলেছে বলে জানিয়েছে কেপলার।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া এবং হরমুজ পাড়ি দিতে জাহাজগুলোর ইরানের ঠিক করে দেওয়া নৌপথ ব্যবহারের ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামগ্রিক বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
এ পরিস্থিতিতে কেপলার বলছে, এখন দেখার বিষয় হলো—হরমুজ প্রণালি ঘিরে গত সপ্তাহের শেষ দিকে দেখা দেওয়া এ প্রবণতা স্থায়ী হয় কিনা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর পর থেকেই তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ সাধারণত এ পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। এটার প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বাজারে। বেড়ে গেছে দাম।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালির বাইরে একটি নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ ঘোষণা করবে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র যেখান থেকে নৌ অবরোধ শুরু করেছে, সেখান থেকে এই নতুন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল শুরু হবে। অঞ্চলটি উপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়ানো থাকবে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির নাম পাল্টে ফেলার কথা ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর, প্রণালিটির নাম পাল্টে নিজের নামে, অর্থাৎ ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
![]() |
| ওমানের মুসান্দাম থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত জাহাজগুলো এভাবেই চোখে পড়ে। ১৫ জুন ২০২৬ ছবি: রয়টার্স |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরান যুদ্ধে জড়ালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপদ কেন বাড়তে পারে
লেবাননভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল মায়াদিনের ‘দ্য গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডঅফ’ অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় মারানদি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নির্বিঘ্ন করার প্রচেষ্টায় দক্ষিণ কোরিয়া যুক্ত হলে ওই অঞ্চলে দেশটির সম্পদ ও স্থাপনা ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে পড়বে। ইরান সেগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করবে।
তিনি আরও বলেন, লক্ষ্যবস্তু সব সময় সামরিক স্থাপনাই হবে, এমনটা না–ও হতে পারে। সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
মারানদি বলেন, ‘তাই ইরানের সামনে কোরীয়রা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ইরান তাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে সক্ষম।’
হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল পুনরায় অবাধ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়া সেখানে নিজেদের নৌবাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পেয়েছে। হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ।
এ বিষয়ে গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বলা হয়, সামরিক সহায়তার বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ, যুদ্ধবহির্ভূত ভূমিকা এবং অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনার মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত। তবে প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিউল ওই অঞ্চলে সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদন নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিবেচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পি-৮ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান এবং রসদ সরবরাহে সহায়তার জন্য একটি জাহাজ পাঠানো।
দক্ষিণ কোরিয়ার সম্প্রচারমাধ্যমগুলোও জানিয়েছে, নৌবাহিনীর একটি বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দলও এতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, সামরিক সদস্যদের নতুন কোথাও মোতায়েনের যেকোনো সিদ্ধান্ত দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদকে পর্যালোচনা করতে হবে। এরপর মন্ত্রিসভার একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে তা অনুমোদিত হতে হবে। সবশেষে জাতীয় পরিষদের অনুমোদন নিতে হবে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে বিভিন্ন প্রচেষ্টায় যোগ দিতে ওয়াশিংটন থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিউলের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং এই বিরোধকে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া জোটের বৃহত্তর টানাপোড়েনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
নিজেদের জ্বালানি সরবরাহের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া হরমুজ প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। গত বছর দেশটির আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬১ শতাংশ এবং ন্যাফথার ৫৪ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে এসেছে।
ন্যাফথা হলো পেট্রোলিয়াম শোধনের সময় পাওয়া একটি হালকা তরল হাইড্রোকার্বনজাত পদার্থ। এটি এক ধরনের জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এটি। বিশেষ করে পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে প্লাস্টিক, রাসায়নিক ও অন্যান্য পণ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ন্যাফথা ব্যবহার হয়।
মারানদি বলেন, (দক্ষিণ কোরিয়ার) সম্ভাব্য এই সহায়তা যুদ্ধে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে বলে মনে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার মতো সামরিক সক্ষমতা দক্ষিণ কোরিয়ার খুব বেশি নেই বলেও তাঁর মত।
মারানদি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার একটি-দুটি জাহাজ কী-ই বা করতে পারবে? এটা নিছকই বোকামি।’ তবে দক্ষিণ কোরিয়া যদি সত্যি ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে এর পরিণতি মারাত্মক হবে বলে সতর্ক করেছেন এই শিক্ষাবিদ। তিনি বলেন, ‘ইরান শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সরঞ্জাম বা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে না, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোও ইরান সহজেই ধ্বংস করতে সক্ষম।’
ওয়াশিংটনের চাপে দক্ষিণ কোরিয়া ২০১৯ সালে সোমালিয়া থেকে জলদস্যুবিরোধী নৌবাহিনীর একটি ইউনিটের মোতায়েন হরমুজ প্রণালির আশপাশের জলসীমা পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্চ মাসে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে ওই ইউনিটের দায়িত্বে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনতে হলে সংসদের অনুমোদন নিতে হবে।
![]() |
| দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ং থেকে একটি সামরিক শিবিরে মার্কিন সেনাবাহিনীর এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার। ২১ আগস্ট ২০২৬ ছবি: এএফপি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আয়শা ওয়াহাবের বিজয় আমেরিকার যে চেহারা তুলে ধরে by সালেহ উদ্দিন আহমদ
সম্প্রতি ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও অনেক সমালোচনা হচ্ছে। এসব নিয়ে আমিও অনেক সমালোচনামূলক কলাম লিখেছি।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রর সবই কি নেতিবাচক? সবকিছুই কি সমালোচনার বিষয়? যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ভালো ও ইতিবাচক দিকগুলো আমরা অনেক সময় এড়িয়ে যাই। নানাভাবে সমালোচিত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও আরেক যুক্তরাষ্ট্র আছে, যার উন্মুক্ত সুযোগ–সুবিধা অনেক আলোচনা থেকেই বাদ পড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র শুধু যুদ্ধ, আধিপত্য ও ট্রাম্পের খামখেয়ালি নীতির ধারক নয়। যুক্তরাষ্ট্র মানুষের স্বপ্ন গড়ারও দেশ। পৃথিবীর সব জায়গা থেকে মানুষ আসে এখানে স্বপ্ন গড়তে। কে কার ছেলে, কার মেয়ে, কোথা থেকে এসেছেন, এসব কোনো ব্যাপার নয়। যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ নিজ নিজ মেধা দিয়ে নিজের স্বপ্ন গড়ে তোলে।
একজন বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে এসে ফাস্ট ফুড রেস্টুরেন্ট ম্যাকডোনাল্ডে কাজ করেছেন প্রথম সাত বছর, এখন তিনি বারোটা ম্যাকডোনাল্ডের মালিক। যাঁরা পেশাজীবী নন, তাঁদের অনেকেই ট্যাক্সি চালিয়ে বা ছোটোখাটো কাজ করে বাড়ি-গাড়ি কিনে ছেলেমেয়েদেরকে ভালো কলেজে পড়াচ্ছেন। তবে সবাইকে যুক্তরাষ্ট্রে আইন মেনে আসতে হয় এবং আইন মেনে চলতে হয়।
বাংলাদেশিরা নিউইয়র্ক শহরের জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, পার্কচেস্টার এবং ব্রুকলিনের চার্লস ম্যাকডোনাল্ডে গড়ে তুলেছেন ছোট ছোট বাংলাদেশ, তাঁরা সবাই নিজেদের পরিশ্রম দিয়ে কুড়িয়ে নিচ্ছেন নিজেদের সাফল্য। পৃথিবীর কোন জায়গায় বাংলাদেশিরা পাবেন এই সুযোগ?
সুন্দর পিচাই ভারতের তামিলনাড়ুর এক মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। তাঁর বাড়িতে একমাত্র ইলেকট্রনিকস যন্ত্র ছিল, একটা পুরোনো সাদাকালো টেলিভিশন। যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া করে তিনি এখন গুগলের সিইও, তাঁর তিন বছরের পারিশ্রমিক প্যাকেজ ৬৯২ মিলিয়ন ডলার। অন্য দেশ থেকে আসা অসংখ্য পেশাজীবী মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন, যাঁদের সাফল্য চোখে পড়ার মতো।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে রাজনীতিতেও আজকাল বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসলমান অধিবাসী এবং তাঁদের সন্তানেরা দারুণভাবে উৎসাহিত এবং নিজেদের অবদান রাখছেন। তাঁদের অনেকেই মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দারুণ সাফল্য পাচ্ছেন।
বাংলাদেশি বংশধর রাজনীতিবিদেরাও পিছিয়ে নেই। হ্যানসেন ক্লার্ক প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, যিনি ২০১১ সালে মিশিগান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যপদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। নুসরাত জাহান চৌধুরী এখন একজন ফেডারেল বিচারপতি।
বিভিন্ন রাজ্যের সিনেটর হিসেবেও বেশ কয়জন নির্বাচিত হয়েছেন—শেখ রহমান (জর্জিয়া), নাবিলা ইসলাম (জর্জিয়া), সাদ্দাম সালিম (ভার্জিনিয়া) এবং আবুল খান (নিউ হ্যামশায়ার) তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
উগান্ডা থেকে আগত এক অভিবাসী পরিবারের সন্তান জোহরান মামদানিকে নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর নিউইয়র্ক শহরের নির্বাচিত মেয়র।
এটাই শুধু তাঁর পরিচয় নয়। মামদানি যে প্রগতিশীল রাজনীতির ধারক, তাঁকে অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য রাজ্যেও আরও অনেক প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন এবং তাঁদের বেশ কয়জনের সাফল্য নিশ্চিত।
তাঁদের মধ্যে একজন আবদুল আল-সাইয়েদ, এক মিসরীয় অভিবাসী দম্পতির সন্তান, যিনি মিশিগানে প্রাইমারি নির্বাচনে জয়লাভ করে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর প্রার্থী হয়েছেন। তিনি জনমত জরিপে বর্তমানে তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন।
নভেম্বরে যদি তিনি সিনেটর নির্বাচিত হতে পারেন, তাহলে আবদুল আল-সাইয়েদই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলমান সিনেটর।
আজকে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের আরেকজন মুসলমান রাজনীতিবিদকে নিয়ে কথা বলব, তাঁর নাম ড. আয়শা ওয়াহাব। তিনি এক আফগান শরণার্থী দম্পতির মেয়ে, যিনি ছোটকালে মা-বাবা হারিয়ে এক ফস্টার কেয়ারে (সরকারি তত্ত্বাবধানে পালিত হওয়ার ব্যবস্থা) বড় হয়েছেন। আজ তিনি যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের একজন সম্মানিত সদস্য।
সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার এক ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য পদত্যাগ করাতে যে আসনটি খালি হয়, সেখানে বিশেষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আয়শা ওয়াহাব কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর জয় সহজ ছিল না। তাঁকে পরাজিত করার জন্য ইসরায়েলি লবি আইপাক চার মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।
কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪ কংগ্রেস এলাকা সান ফ্রান্সিসকোর জনগণ আয়শা ওয়াহাবকে বিপুলভাবে নির্বাচিত করেন তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে। এটা শুধু আয়শা ওয়াহাবের জয় নয়; যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনীতির এক বিরাট জয় এবং ইসরায়েলি লবি যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি যে হারে সমর্থন হারাচ্ছে, তার একটা বড় উদহারণ।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর অভিবাসী ও তাঁদের ছেলেমেয়েরা যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন এবং প্রাথমিক নির্বাচন করে বড় দলগুলোর মনোনয়ন পাচ্ছেন। তাঁদের সাফল্য গর্ব করার মতো।
আফগানিস্তানে এখন মেয়েদের চলাফেরা অনেক সীমাবদ্ধ, লেখাপড়ার সুযোগ আরও সীমিত। আয়শা ওয়াহাব যদি আফগানিস্তানে বড় হতেন, তাহলে আজ আয়শার মেধা ও স্বপ্ন কোনোটাই বিকশিত হওয়ার সুযোগ হতো না।
১৯৮৭ সালে নিউইয়র্কে আয়শা ওয়াহাবের জন্ম। তাঁর বাবা-মা ছিলেন আফগান শরণার্থী। আয়শার খুব অল্প বয়সেই তাঁর বাবা আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান এবং এর কিছুকাল পরেই তাঁর মা মারা যান। এরপর আয়শা ও তাঁর বোনকে ফস্টার কেয়ারে নেওয়া হয়; পরবর্তী সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আফগান পরিবার তাঁদেরকে দত্তক নেয়।
আয়শা ওয়াহাব ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করেন এবং পরে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সমাজকর্মে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। নির্বাচনী রাজনীতিতে আসার আগে আয়শা প্রযুক্তি খাত, অলাভজনক সংস্থা এবং সামাজিক ও জনস্বার্থমূলক প্রচারণায় কাজ করেছেন।
তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকায় অবস্থিত হেওয়ার্ডে স্থানীয় রাজনীতি এবং সাশ্রয়ী আবাসনবিষয়ক প্রচারণায় ক্রমে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১৮ সালে তিনি হেওয়ার্ড সিটি কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার আগপর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন।
সাম্প্রতিক কংগ্রেস নির্বাচনে ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধ নিয়ে আয়শার মতামত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। এপ্রিল মাসে প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এক ফোরামে তিনি বলেছিলেন যে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর যা ঘটছে, তাকে তিনি ‘গণহত্যা’ হিসেবেই বিবেচনা করেন।
তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হার্নান্দেজ অবশ্য তাঁর সঙ্গে একমত হননি। হার্নান্দেজও ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য, তাঁকে নির্বাচিত করার জন্য ইসরায়েলি লবি আইপাক বিপুল অর্থ ব্যয় করে। আইপাকের এই অর্থব্যয় বিফলে গেল, আয়শা ওয়াহাবই নির্বাচনে জয়লাভ করলেন।
এই জয় ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরে প্রগতিশীল ও ইসরায়েলি সমর্থক অংশের মধ্যকার বৃহত্তর দ্বন্দ্বেরই প্রতিফলন। এইবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অনেক ইসরায়েলপন্থী প্রার্থী কুপোকাত হয়েছেন। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ এখন দুই–তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, গাজা যুদ্ধে ইসরায়েল গণহত্যা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিত ইসরায়েলে অস্ত্রশস্ত্র ও আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীলেরা, বিশেষ করে মুসলমান রাজনীতিবিদেরা মার্কিন জনমতের সুযোগ নিয়ে এইবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অনেক ভালো করতে পারবেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা আশা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকেও বাহবা দিতে হয়—ইলহাম ওমর, রাশিদা তালিব, লতিফ সাইমন, গাজালা হাশমি, জোহরান মামদানি, আবদুল আল-সাইয়েদ, আয়শা ওয়াহাবের মতো অপরিচিত নামের মুসলমান প্রার্থীদের ভোট দিয়ে তাঁরা নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করছেন, বিশেষভাবে ইসরায়েলি লবি ও রিপাবলিকান পার্টি যখন মুসলমানদের বিরুদ্ধে অনবরত বিষোদ্গার করছে। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই তা সম্ভব, এই যেন আরেক যুক্তরাষ্ট্র!
* সালেহ উদ্দিন আহমদ। শিক্ষক, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ই-মেইল: salehpublic711@gmail.com
![]() |
| ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সেনেটর আয়েশা ওয়াহাব। এএফপি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না: কাতার
আজ আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হিলি ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে আল-আনসারি ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মতো হুমকির মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে এ অঞ্চলের জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের হামলাকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে উপসাগরীয় দেশগুলো সেই হামলার ধাক্কা সফলভাবে সামাল দেওয়ায় তাদের প্রশংসা করেন আল-আনসারি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট যথেষ্ট নয়।
হিলি ফোরামে আল-আনসারি বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের উপলব্ধি করতে হবে, এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু তা যথেষ্ট নয়।’
আল-আনসারি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনই সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। হ্যাঁ, আমাদের অংশীদারদের প্রয়োজন আছে। হ্যাঁ, আমাদের মিত্রদের প্রয়োজন আছে। কিন্তু আমাদের নিরাপত্তার জন্য শুধু তাদের ওপর নির্ভর করতে পারি না।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে কাতার গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশটি ইরানের ব্যাপক হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে কয়েক দফায় বড় ধরনের হামলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি কাতারে অবস্থিত। পুরো যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং এ অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে ইরান।
ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে বাধা দিচ্ছে। অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে পাল্টা অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত মাসে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি তেহরান সফর করেন।
| কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থীদের জয়, ইউরোপ কি পালাবদলের পথে
জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টে গত রোববারের নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় পায় এএফডি। সেই ফলের প্রভাব লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিট থেকে প্যারিসের এলিসি প্রাসাদ পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। ইউরোপের গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য কোনো আঞ্চলিক নির্বাচনের ফলকে এতটা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখার নজির খুব কম।
কারণ, এটি ইউরোপের অন্য কোনো দেশ নয়—জার্মানি। নাৎসিবাদের বিপর্যয়কর ইতিহাসের পর দেশটি বরাবরই কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষমতার বাইরে রাখার চেষ্টা করেছে। এবারের ফল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এক দশক ধরে ইউরোপে কট্টর ডানপন্থীদের সমর্থন ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তারা ধীরে ধীরে ক্ষমতার কেন্দ্রের আরও কাছে পৌঁছে গেছে। এই নির্বাচন সেই ধারার সর্বশেষ ধাপ।
আগামী বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এএফডির বড় সাফল্য সামনে কট্টর ডানপন্থীদের আরও জয়ের আগাম বার্তা হতে পারে। একই সঙ্গে কীভাবে এমন জয় পাওয়া যায়, তার একটি দৃষ্টান্তও তৈরি করেছে দলটি।
এএফডির জনতুষ্টিবাদী ও অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনের জাতীয়তাবাদী নেতাদের বক্তব্যের মিল রয়েছে। এসব দেশের ভোটারদের মধ্যেও জার্মান ভোটারদের মতোই অনেক ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে।
আগামী বসন্তে ফ্রান্সের ভোটাররা নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। আগামী আগস্টের মধ্যে স্পেনে এবং আগামী বছরের শেষ নাগাদ ইতালিতে নির্বাচন হওয়ার কথা। তিন দেশেই কট্টর ডানপন্থী প্রার্থীদের সমর্থন বাড়ছে। ভোটারদের অনেকে অর্থনীতির দীর্ঘদিনের সমস্যার জন্য ক্ষমতাসীনদের দায়ী করছেন। এতে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের অবস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।
রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপের ইউরোপবিষয়ক বিশ্লেষক মুজতবা রহমান বলেন, ‘উন্নত ইউরোপ একধরনের জটিল রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারগুলো মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের সমাধান করতে পারছে না। ভোটারদের চাহিদাও পূরণ করতে পারছে না।’
দ্রব্যমূল্য ও বেকারত্বের প্রভাব
জার্মানিতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও উচ্চ বেকারত্ব এএফডির জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ভোট পেয়েছে এএফডি।
তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এএফডি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে সামান্য পিছিয়ে থাকতে পারে। তাই যে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে দলটি শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনে ব্যর্থ হতে পারে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো আগেই জানিয়েছে, তারা এএফডির সঙ্গে জোটে সরকার গঠন করবে না। দলটির কয়েকজন নেতা নাৎসি স্লোগান ব্যবহার করেছেন এবং হলোকাস্টের গুরুত্ব খাটো করে দেখিয়েছেন। জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা এএফডিকে ‘সন্দেহভাজন’ উগ্রপন্থী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর একটি কারণ হলো, দলটি অভিবাসী পরিবারের জার্মান নাগরিকদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে তুলে ধরে।
তারপরও এএফডির এই ফল চ্যান্সেলর মের্ৎসকে বিপদে ফেলতে পারে। নিজের দলের সদস্যরা এই পরাজয়ের জন্য তাঁকে দায়ী করলে তাঁর নেতৃত্ব আরও দুর্বল হবে। এমনিতেই ইউরোপে জার্মানির নেতৃত্ব আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে।
মের্ৎসের অবস্থান এতটাই নড়বড়ে হয়ে গেছে যে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা প্রকাশ্যেই তাঁর ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। জার্মানির রাজনীতিতে একসময় এমন পরিস্থিতি প্রায় অকল্পনীয় ছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রশাসনে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মুজতবা রহমান বলেন, ‘এটি ইউরোপের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। একজন চ্যান্সেলর যখন নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হিমশিম খান এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে বাধ্য হন, তখন জার্মানি দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে ইউরোপের সমস্যাগুলো মোকাবিলার সামর্থ্যও শেষ পর্যন্ত কমে যায়।’
কট্টর ডানপন্থীদের নিয়ে দুই ধরনের ধারণা
নির্বাচনের ফল ইউরোপীয়দের মধ্যকার একটি বড় বিভাজনও সামনে এনেছে। এক পক্ষ কট্টর ডানপন্থীদের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মানুষ মনে করেন, কট্টর ডানপন্থীরাই গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারে।
প্রথম পক্ষের আশঙ্কা, কট্টর ডানপন্থীরা ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা দুর্বল করে দেবে। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করবে। অন্য পক্ষ মনে করে, সাধারণ মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন একটি অভিজাত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কট্টর ডানপন্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তাদের অভিযোগ, এই অভিজাতরা জাতীয় পরিচয় দুর্বল করেছে এবং মানুষের জীবিকা বিপদের মুখে ফেলেছে।
ফ্রান্সে লো পেনের সম্ভাবনা
ফ্রান্স নিয়ে মধ্যপন্থীদেরও উদ্বেগ কম নয়। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ আগামী বসন্তে দায়িত্ব ছাড়বেন। দেশটির প্রধান কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালির প্রার্থী মারিন লো পেন প্রথম দফার জনমত জরিপে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি দ্বিতীয় দফার জরিপেও তিনি প্রথম হয়েছেন।
লো পেন ১৪ বছর ধরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করছেন। এবার তিনি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ক্ষমতার বেশি কাছে পৌঁছে গেছেন।
মুজতবা রহমানের মতে, প্যারিসে কট্টর ডানপন্থী সরকার গঠিত হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এমনভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে, যা অন্য কোনো দেশের নির্বাচনের ফলে হওয়ার আশঙ্কা নেই। কারণ, ফ্রান্স একটি বড় দেশ। তার পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং ইউরোপীয় প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোর একটি এটি।
ফ্রান্সে কট্টর ডানপন্থীরা ক্ষমতায় এলে তথাকথিত ‘কর্দোঁ সানিতের’ নীতিরও অবসান ঘটতে পারে। এই নীতির কারণে ফ্রান্স ও জার্মানির মূলধারার দলগুলো এত দিন কট্টর ডানপন্থীদের সঙ্গে জোট বা সরকার গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়ে এসেছে।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ফরাসি ও ইউরোপীয় রাজনীতির অধ্যাপক ফিলিপ মারলিয়ের বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দুই দেশেই যে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য টিকে ছিল, তা এখন ভেঙে পড়ার মুখে।’
স্পেন ও যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি
বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্পেনের পরবর্তী জোট সরকারে কট্টর ডানপন্থী ভক্স পার্টি জায়গা করে নিতে পারে। বিভিন্ন দুর্নীতির কেলেঙ্কারি ও অভিবাসনসংকটের কারণে বর্তমানে ক্ষমতাসীন সমাজতন্ত্রীদের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা কট্টর ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সুবিধা করতে পারছিল না ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। এ পরিস্থিতিতে জনসমর্থন হারানো প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে তাই গত জুলাইয়ে সরিয়ে দেয় দলটি।
তবে কট্টর ডানপন্থীদের অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না, বিষয়টি এমনও নয়। রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয় নেতা নাইজেল ফারাজকে ঘিরে একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠছে। এতে দলটির সাফল্যের গতি হঠাৎ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এই সুযোগে নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার অপ্রত্যাশিতভাবে পরিস্থিতি সামলানোর কিছুটা সময় পেয়েছে।
হাঙ্গেরিতে অরবানের পরাজয়
গত এপ্রিলে হাঙ্গেরির কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর অরবান ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর নির্বাচনে পরাজিত হন। ব্যাপকভাবে এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে তাঁর সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত, অর্থনীতির প্রতি উদাসীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বিরোধে জড়িয়েছে।
অরবানের ফিদেস পার্টির পরাজয় ইউরোপের মূলধারার রাজনীতিকদের আশাবাদী করেছে। তাঁরা মনে করছেন, কট্টর ডানপন্থীরাও নির্বাচনে পরাজিত হতে পারে।
কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের রাজনীতির অধ্যাপক টিমোথি বেল বলেন, এএফডির সাফল্য নিয়ে মূলধারার রাজনীতিকদের কতটা উদ্বিগ্ন হওয়া প্রয়োজন, তা দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। দলটি ক্ষমতায় গেলে তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক আচরণ করে কি না এবং দক্ষতার সঙ্গে সরকার চালাতে পারে কি না—সেটিই হবে দেখার বিষয়।
মেলোনির কৌশল
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জনতুষ্টিবাদী দলের শিকড় নব্য ফ্যাসিবাদে। তবে ক্ষমতায় এসে তিনি ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বিষয়ে নিজের অবস্থান অনেকটা নরম করেছেন। তাঁর সরকার সম্প্রতি ইতালীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে একটানা সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারের রেকর্ড গড়েছে।
আগামী গ্রীষ্মের নির্বাচনে সেই মেয়াদ আরও বাড়ানোর মতো অবস্থানে রয়েছেন মেলোনি। কিন্তু তাঁর চেয়েও ডানপন্থী নেতা রবার্তো ভান্নাচ্চির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এতে অভিবাসনের মতো বিষয়ে মেলোনি আবারও কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন।
গত জুলাইয়ের শেষ দিকে মরক্কো থেকে হঠাৎ বিপুলসংখ্যক অভিবাসী স্পেনের একটি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। এ ঘটনার পর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের কঠোর সমালোচনা করেন মেলোনি।
ফারাজকে আরও ডান দিক থেকে চ্যালেঞ্জ
যুক্তরাজ্যে নাইজেল ফারাজও একই ধরনের চাপে পড়তে পারেন। তাঁর দলের অসন্তুষ্ট সদস্য রুপার্ট লো দল ছেড়ে আরও ডানপন্থী একটি নতুন দল গঠন করেছেন। দলটি ফারাজের সমর্থকদের একটি অংশকে নিজেদের দিকে টেনে নিচ্ছে।
অধ্যাপক টিমোথি বেলের মতে, আরও ডানপন্থী দলের প্রতিযোগিতা এবং রিফর্ম ইউকের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একের পর এক প্রশ্নের কারণে ফারাজের সরকার গঠনের মতো যথেষ্ট ভোট জোগাড় করা কঠিন হবে।
ফ্রান্সে মধ্যপন্থীদের বিভক্তিই লো পেনের সুযোগ
ফ্রান্সে মারিন লো পেনের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ তুলনামূলকভাবে বেশি বাস্তবসম্মত। জনমত জরিপে তাঁর সমর্থন শীর্ষস্থানীয় মধ্যপন্থী প্রার্থী এদুয়ার ফিলিপ কিংবা শীর্ষস্থানীয় কট্টর বামপন্থী প্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলঁশনের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি।
ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এদুয়ার ফিলিপ বা অন্য কেউ মধ্য-ডান ও মধ্য-বামপন্থীদের কাছ থেকে যথেষ্ট সমর্থন সংগ্রহ করতে পারবেন কি না। তাঁদের মধ্য থেকে মূলধারার সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন প্রার্থী উঠে এলে দ্বিতীয় দফার ভোটে তিনি লো পেনকে হারানোর সুযোগ পাবেন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
কিন্তু ফ্রান্সের মধ্যপন্থীরা এখনকার মতো বিভক্ত থাকলে মেলঁশনের দ্বিতীয় দফায় ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন লো পেন।
ফ্রান্সের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এটি দুঃস্বপ্নের মতো পরিস্থিতি। লড়াই এমনটি হলে লো পেনই হবেন জয়ের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী।
ট্রাম্পের প্রভাব কতটা
ইউরোপের অন্য কট্টর ডানপন্থী নেতাদের মতো লো পেনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। তারপরও বিশ্লেষকেরা বলছেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড লো পেনসহ ইউরোপের অন্য জনতুষ্টিবাদী প্রার্থীদের ওপর প্রভাব ফেলে থাকতে পারে।
ইউরোপে ট্রাম্প এখনো ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়। যুক্তরাষ্ট্রেও তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত কমছে।
মুজতবা রহমান বলেন, ইউরোপের চাপে থাকা মধ্যপন্থীরা আশা করছেন, ভোটাররা যুক্তরাষ্ট্রের অস্থিরতা থেকে শিক্ষা নেবেন। সেই শিক্ষা হলো, মূলধারার বাইরের দল নিয়ে পরীক্ষা করতে গেলে ভুল করার ঝুঁকি থাকে।
![]() |
| জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনের পর ম্যাগডেবার্গে এএফডির নির্বাচনী অনুষ্ঠানে দলটির নেতা অ্যালিস ভাইডেল। ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ছবি: এএফপি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য
হোয়াইট হলের সূত্রের বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি নিয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নির্দেশনা দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। এখন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য সেটা মেনে চলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইসিজের ওই নির্দেশনায় ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারত্বকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশকে বসতি স্থাপনের বিরোধিতা করে পদক্ষেপ নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও আরোপ করা হয়েছিল।
ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য এখন যুক্তরাজ্য সরকারের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর ব্যবসায়িক খাতে যেকোনো ধরনের বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের জন্য নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ফ্রান্সেসকা আলবানিজ সোমবার বলেন, সব দেশেরই বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তারা এ পরিস্থিতিকে (বসতি স্থাপন) বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না। এটি শুধু পছন্দের বিষয় নয়। এটি টিকিয়ে রাখতে কোনো সহযোগিতাও করা যাবে না।
ফ্রান্সেসকা আলবানিজ আরও বলেন, অবৈধ বসতির সঙ্গে বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতির ক্ষেত্রে একটি ‘প্রকৃত পরিবর্তনের’ অংশ হতে হবে। মূল লক্ষ্য হতে হবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা।
লেবার মুসলিম নেটওয়ার্ক (এলএমএন) ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অব জাস্টিস ফর প্যালেস্টিনিয়ানস (আইসিজেপি) গত সপ্তাহে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্রিটিশ নাগরিক বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে যাতে অর্থনৈতিক আর আর্থিক কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের ‘পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করা উচিত। সেই সঙ্গে অবৈধ বসতির অর্থনীতিকে সহায়তা করে এমন কোনো কাজ করতে দেওয়াও ঠিক হবে না।
এতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের শুধু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রতি সম্মান দেখালেই চলবে না, বরং জেনেভা সনদের আওতায় যেকোনো পরিস্থিতিতে এর প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।
জেরুজালেমের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলিদের নতুন ই-ওয়ান বসতি স্থাপনের প্রকল্প নিয়ে বেশ আলোচনা–সমালোচনা চলছে। এ প্রকল্প অধিকৃত পশ্চিম তীরকে কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত করতে চলেছে বলে মত বিশ্লেষকদের। ঠিক এমন একটি সময়ে যুক্তরাজ্য সরকারের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি সামনে এল।
সম্ভাব্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এরই মধ্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাজ্য যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কাজ করে, তাহলে ইসরায়েলও দেশটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ছে
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দেন, বিরোধপূর্ণ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ যুক্তরাজ্যের নয়; বরং আর্জেন্টিনার।
ইয়ার নেতানিয়াহু ইসরায়েলের কোনো মন্ত্রী নন, প্রভাবশালী রাজনীতিবিদও নন। তারপরও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ইয়ারের মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর যুক্তরাজ্যের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থান আবার ভেবে দেখতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার জিবি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, আর্জেন্টিনা যদি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে আক্রমণ করে বসে, সেই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যকে সমর্থন করবেন না তিনি। ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যখন ইরানের ভূখণ্ডে হামলা শুরু করেছিল, তখন আপনাদের দেশ আমাকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেনি।’
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে সম্প্রতি কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, দ্বীপপুঞ্জে তাঁর দেশের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত’ হয়েছে। মিলেই বলেন, তাঁর দেশ সর্বশক্তি দিয়ে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
জাতির উদ্দেশে গত শুক্রবার সকালে দেওয়া ভাষণে হাভিয়ের মিলেই বলেন, যেসব তেল কোম্পানি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের চারপাশে খনন করতে চাইবে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। বর্তমানে আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে সেখানে ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ বইছে।
এর আগে গত এপ্রিলে ফাঁস হওয়া পেন্টাগনের একটি মেমো থেকে জানা যায়, লন্ডনের সঙ্গে দর–কষাকষিতে ফকল্যান্ডকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে ওয়াশিংটন।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া
এমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির বিরুদ্ধে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।
এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড গত সপ্তাহের শেষের দিকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি মাত্র একটি বৈঠক থেকে বের হলাম। যাঁরা গাজায় গিয়েছেন এবং এখনো সেখানে সরাসরি কাজে যুক্ত আছেন; তাঁদের সঙ্গে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললাম। সত্যি বলতে, সেখানে যা ঘটছে সেটা ভয়াবহ।’
দৃঢ় কণ্ঠে এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড আরও বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সরকারকে, যেমনটা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগের চেয়ে জোরালোভাবে কাজ করতে হবে।’
প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েলও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে মিলিব্যান্ডের সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলা হয়, ‘রাজনৈতিক দর্শকদের জন্য ভিডিও বানানোর সময় সত্যের দাম কমই থাকে।’
ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই পোস্ট শেয়ার করে লেখেন, ‘ব্রিটিশরা পাগল হয়ে গেছে। যুক্তরাজ্য সরকারের ইহুদিবিদ্বেষ সীমা ছাড়িয়েছে এবং তারা কোনো সত্য মানছে না।’
উল্লেখ্য, এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড নিজেও একজন ইহুদি। মিলিব্যান্ডের মা ও বাবা হলোকাস্টে (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদিদের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞ) পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন।
![]() |
| নতুন বসতি ‘মালে আরুগোত’–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একটি ইসরায়েলি পরিবারের সদস্যরা। পশ্চিম তীরের গুশ এতজিয়নে, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ছবি: রয়টার্স |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে পেন্টাগনের অস্বীকৃতি
লিবি ক্লিনার নামে এক বিধবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইরানবিরোধী অভিযানে নিহত তার স্বামী মেজর অ্যালেক্স ক্লিনারের মৃত্যুর পর অতিরিক্ত কিছু সুবিধার জন্য তিনি যোগ্য নন বলে তাকে জানানো হয়েছিল। ৩৩ বছর বয়সী অ্যালেক্স মার্চে পশ্চিম ইরাকে একটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ছয় সদস্যের একজন ছিলেন। বিমানটি ইরানে মার্কিন হামলায় সহায়তা করছিল।
ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ছয় মাসের বেশি সময়ে ১৮ মার্কিন সেনা নিহত এবং ৭৮০ জন আহত হয়েছেন।
ক্লিনার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ‘আমার স্বামী যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন। এরপর আমাকে বলা হলো, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ নয় বলে আমরা একটি সুবিধা হারাচ্ছি।’
তবে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর মার্কিন বিমানবাহিনী বিষয়টি পরিষ্কার করে। কর্মকর্তারা জানান, অ্যালেক্স ক্লিনারের শেষ বেতন-ভাতায় ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বের জন্য অতিরিক্ত অর্থ এবং যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট কর ছাড় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেন, শুরুতে ক্লিনারকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তার শেষ বেতন-ভাতায় মাসে ২২৫ ডলারের ‘কমব্যাট পে’ও ছিল। এটি পাওয়ার জন্য কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা প্রয়োজন হয় না। তবে বেতনভাতায় অর্থটি ভুলভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল।
ক্লিনার বলেন, শোকাহত একটি পরিবারের জন্য সরকারি বিভিন্ন শ্রেণিবিন্যাস, পরিভাষা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজের অধিকার বুঝে নেওয়া কতটা কঠিন, এই অভিজ্ঞতা তা স্পষ্ট করেছে।
তার মতে, কোনো ‘গোল্ড স্টার পরিবারকে’ সরকারি পরিভাষার বিশেষজ্ঞ হয়ে জানতে হবে না তারা কী সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। স্বামীর মৃত্যুর পর তার পরিবার দেখভাল করা হবে এমন বিশ্বাস নিয়েই অ্যালেক্স দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বেতন-ভাতা নিয়ে বিভ্রান্তি
মার্কিন সেনা সদস্যদের বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা নির্ভর করে তাদের দায়িত্ব, কোথায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং কী ধরনের কাজ করছেন এসব বিষয়ের ওপর। ফলে বছরে একাধিকবার তাদের বেতন-ভাতায় পরিবর্তন আসতে পারে। এতে ভুল তথ্য বা হিসাবের জটিলতা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে।
ক্লিনার বলেন, এমন কঠিন সময়ে প্রতিটি শোকাহত পরিবার যেন শুরু থেকেই তাদের প্রাপ্য সুবিধা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, নিহত সেনাদের পরিবারের জন্য বিষয়টি কোনো ‘ফুটনোট’ নয়; তাদের সেবা ও আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান দেখানোর অংশ হিসেবেই বিষয়টি সঠিকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, সরকার ক্লিনারের পরিবারকে যতটা সম্ভব সহায়তা করতে চায় এবং তিনি যে সব সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, সেগুলো নিশ্চিত করা হবে।
‘এটা যুদ্ধ নয়’ বলছেন ভ্যান্স
ক্লিনারের ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স আবারও ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করতে আপত্তি জানান। তার দাবি, সেখানে বর্তমানে ‘সক্রিয় গোলাগুলি’ চলছে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য এর আগে বারবার ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানকে ‘যুদ্ধ’ বলেছেন। পরে তিনিও ভ্যান্সের বক্তব্যের সমর্থনে বলেন, মার্কিন হামলা বিচ্ছিন্নভাবে চলছে।
ট্রাম্প বলেন, অনেকেই একে যুদ্ধ বলেন না। তিনি একে ‘সামরিক সংঘাত’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি তুলনামূলকভাবে ছোট ঘটনা বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে নিহত ও আহত মার্কিন সেনাদের পরিবার পেন্টাগনের বিরুদ্ধে সংঘাতে আহতদের প্রকৃত মাত্রা কম করে দেখানোর অভিযোগও তুলেছে। আহত সেনাদের যুদ্ধাহত হিসেবে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে মার্কিন সেনাবাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডকে সেনাদের আহত হওয়ার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। বিশেষ করে আহত সেনারা দ্রুত দায়িত্বে ফিরতে পারলে তাদের বিষয়ে তথ্য প্রকাশে সামরিক বাহিনী সাধারণত ধীরগতিতে এগোয়।
এরই মধ্যে ইরানে নিহত কয়েকজন মার্কিন সেনার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ট্রাম্প। নিহত লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহানের মা শারি ফিহান জানান, ট্রাম্প তার সঙ্গে একজন সন্তানহারা মায়ের মতো করে কথা বলেছেন এবং তার পরিবারের বিপর্যয় নিজের চোখে দেখেছেন।
সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ
![]() |
| নিহত মার্কিন সেনাদের কফিনের পাশে অন্য সেনারা। ছবি : পেন্টাগন |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনায় আবারও হামলা
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির বরাতে দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানা গেছে, সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) জিজানে সৌদি আরামকোর তেল অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়। এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলছে।
ইয়েমেন সীমান্তের সবচেয়ে কাছের শিল্পনগরী জিজান অতীতেও ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে। তবে সর্বশেষ হামলার দায় এখনো হুথিরা স্বীকার করেনি।
জিজানে প্রতিদিন ৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন একটি বড় শোধনাগার রয়েছে। এর সঙ্গে আরও কয়েকটি শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোও রয়েছে।
সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসের গত মাসে বলেছিলেন, আগের হামলায় কোম্পানিটির তেল উৎপাদনে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল। তবে এতে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি।
সর্বশেষ হামলাটি গত মাসের হামলার কাছাকাছি মাত্রার ছিল বলে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সৌদি আরামকো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে হামলার খবরের মধ্যে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়ায়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি কমে যাওয়ায় জিজান থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়েছিল। তবে হুথিরা আবার হামলা শুরু করার পর সেই পরিমাণ ব্যাপকভাবে কমে যায়।
কেপ্লারের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে জিজান থেকে কোনো পরিশোধিত তেলজাত পণ্য পরিবহন করা হয়নি।
সৌদি আরব ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। সে সময় হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করলে রিয়াদ তাদের বিরুদ্ধে আরব জোটের নেতৃত্ব দেয়।
তবে ২০২২ সালের এপ্রিলে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর জুলাই পর্যন্ত বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়নি। এরপর আবারও ইয়েমেনে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে।
তেহরানের কাছ থেকে উৎসাহ পাচ্ছে বলে মনে করা হুথিরা সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ ঘোষণার পর নতুন করে হামলা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তারা।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দেব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সপ্তাহান্তে উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূল বরাবর স্থল অভিযান শুরু করে। বাব আল-মান্দেবের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা হিসেবেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইয়েমেনের স্থানীয় বাসিন্দারা ঐতিহাসিক মোখা বন্দর ও তাইজ শহরের আশপাশে সংঘর্ষের খবর জানিয়েছেন। এতে হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন।
চ্যাথাম হাউসের গবেষক ফারেয়া আল-মুসলিমি বলেন, হুথিদের নতুন অভিযান গত ছয় বছরের মধ্যে ইয়েমেনে সবচেয়ে তীব্র লড়াইয়ের সূচনা করেছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীও পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে।
তার মতে, ‘আমরা আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরে এসেছি। স্থল, আকাশ ও সমুদ্রে সংঘাত চলছে। সৌদিরা সরাসরি সংঘাত এড়াতে সবকিছু করছে, তবে তারাও এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির আগে হুথিরা নিয়মিত সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাত। বেশির ভাগ হামলা সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঠেকিয়ে দিলেও কিছু হামলা জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোয় ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছিল।
সূত্র : দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
![]() |
| সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনায় হামলার দৃশ্য। পুরোনো ছবি : সোশ্যাল মিডিয়া |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ধনেপাতা কেন খাবেন, কীভাবে খাবেন by রাফিয়া আলম
ধনেপাতা এমনিতে শীত মৌসুমের ফসল। তবে এখন বছরজুড়েই পাওয়া যায়। সারা বছর যে ধনেপাতা পাওয়া যায়, তার স্বাদ ও ঘ্রাণ একটু আলাদা হলেও পুষ্টি উপাদান ঠিকঠাকই থাকে। যে মৌসুমেই খাওয়া হোক, কীভাবে খাওয়া হচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
যা পাবেন
ধনেপাতায় রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, কপার আর জিংক। আরও আছে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় আঁশ ও কিছুটা আমিষ। এর জলীয় অংশও আমাদের দেহের কাজে আসে।
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ঠিক রাখতে ও ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে ধনেপাতা সহায়ক। এ ছাড়া ধনেপাতার স্বাদটাই এমন যে তা আমাদের লালার নিঃসরণ বাড়ায়। অর্থাৎ আমাদের হজমপ্রক্রিয়ায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে ধনেপাতা।
যেভাবে খাওয়া হয়
অনেক ধরনের পদেই ব্যবহার করা হয় ধনেপাতা। মাছের তরকারিতে যেমন চুলা থেকে নামিয়ে নেওয়ার আগে ছড়িয়ে দেওয়া হয় ধনেপাতা। কেউ দেন ডালে। দেওয়া যায় লাউ রান্নার সময়ও। নানা পদের তরকারিতেই দেওয়া যায় সুস্বাদু এ পাতা।
কেউ তৈরি করেন ধনেপাতার ভর্তা কিংবা চাটনি। লবণ, রসুন, কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, শর্ষের তেল প্রভৃতি উপকরণ দেওয়া এমন পদ রসনার তৃপ্তি মেটায়।
কেউ কেউ আবার শুঁটকি বা অন্যান্য উপকরণের ভর্তায় যোগ করেন ধনেপাতা। কেউ ধনেপাতা ছড়িয়ে নেন চটপটি বা ফুচকায়। কেউ ছোলা বা মুড়ি মাখানোর সময়ও যোগ করেন এ পাতা।
কেউ আবার ধনেপাতা যোগ করেন সালাদে। বিভিন্ন ধরনের টকফলের সঙ্গে ধনেপাতা যোগ করে খাওয়া যেতে পারে। কেউ আবার পানীয়ও ব্যবহার করেন ধনেপাতা।
যেভাবে খেলে যে সুবিধা
* ভর্তা বা চাটনির মতো পদে ধনেপাতার পরিমাণটা অন্যান্য পদের চেয়ে বেশি থাকে। তাই ধনেপাতার এ ধরনের পদ থেকে বেশ খানিকটা পুষ্টি পাবেন। অন্যান্য পদে ধনেপাতার পরিমাণ কম থাকায় পুষ্টি উপাদানও থাকে কম পরিমাণে।
* সব পুষ্টি উপাদান ঠিকঠাক পেতে হলে ধনেপাতা এমনভাবে খাওয়া ভালো, যাতে তা চুলার তাপে দেওয়ার প্রয়োজন না হয়। তাপে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়।
* টকফলের সঙ্গে ধনেপাতা যোগ করা হলে দুয়ে মিলে ভিটামিন সির পরিমাণটা বাড়ে।
* ভর্তা বা চাটনিতে ধনেপাতার ডাঁটার অংশও থাকে, তাই তাতে আঁশ পাবেন বেশি।
* অসুস্থ অবস্থায় যখন রুচি থাকে না কিংবা খাবার খেতে গেলে গন্ধ লাগে, তখন ধনেপাতার চাটনি বা ভর্তা দিয়ে ভাত, মাছ-মাংস বা তরকারি খাওয়া যায় সহজে।
![]() |
| ধনেপাতার পুষ্টি উপাদান ঠিকঠাক পেতে চাইলে চুলার তাপে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Monday, September 7, 2026
টাকা উপার্জনের জন্য দেশ ছেড়েছিলেন পিয়া বিপাশা, এখন কেমন আছেন
বিনোদন অঙ্গনে কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় নাম লেখান পিয়া বিপাশা। প্রতিযোগিতার সেরা দশে পৌঁছানোর পর হঠাৎ ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ শুরু করেন। পরের বছর ২০১৩ সালে ‘দ্বিতীয় মাত্র’ নাটকে তাহসান খানের বিপরীতে অভিনয় করেন। ছোটবেলায় রূপকথার বই পড়তে পছন্দ করতেন। বই পড়ার সময় গল্পের নায়িকার চরিত্রে নিজেকে কল্পনাও করতেন। বড় পর্দায়ও অভিনয় করেছিলেন। ‘রুদ্র: দ্য গ্যাংস্টার’ নামের সেই ছবি মুক্তি পায়। এরপর ‘রাজনীতি’ ছবিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয়ের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠেনি। পরে সেই ছবিতে পিয়া বিপাশার পরিবর্তে অপু বিশ্বাস অভিনয় করেন।
এখন আর অভিনয় টানে না পিয়া বিপাশাকে। যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন পণ্য প্রতিষ্ঠানের প্রচারণায় নিজেকে যুক্ত করেছেন। এসব থেকে ভালো আয় হয় তাঁর, এমনটাই জানালেন তিনি। পিয়া বিপাশা বলেন, ‘বাংলাদেশে ভালো লাগত না। আশপাশের মানুষও কেমন জানি ছিল। এ–ও দেখতাম, লবিং ছাড়া কাজ হতো না। ভালো একটা সিনেমা করার কথা ছিল। কিন্তু সেটা আর হয়নি। এরপর আমার মিডিয়ায় কাজ করার ইচ্ছাই নষ্ট হয়ে যায়। আমি আসলে কাজ করতে চেয়েছিলাম টাকা কামানোর জন্য। কাজ না করতে পারলে টাকা কামাব কী করে। তাই সিদ্ধান্ত নিই অন্য কিছু করার।’
বাংলাদেশ ছাড়ার আগে পিয়া বিপাশার সংসারে বিচ্ছেদ ঘটে। সেই সংসারে একটি কন্যাসন্তানও আছে। সেসব মনে করে নিউইয়র্ক থেকে এই মডেল ও অভিনয়শিল্পী বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি বিনোদন অঙ্গনে কাজ করেছিলাম, টাকা রোজগার করতে। কারণ, আমার একটা মেয়ে ছিল। সেই মেয়েকে নিয়ে টিকে থাকার বিষয় ছিল। পরে দেখলাম, যেভাবে কাজ হয়, আমাকে দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম, আমেরিকায় চলে আসার। পাঁচ বছর আগে চলে আসি। আমেরিকায় এসে বাংলাদেশের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিই। ইনস্টাগ্রাম তিন বছর ধরে বন্ধ ছিল। বছরখানেক ধরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছি। তাই ইনস্টাগ্রাম চালু করেছি। অনেক টাকাও আয় করছি।’
পিয়া বিপাশা জানালেন, মাঝখানে প্রাপ্তবয়স্কদের একটি প্ল্যাটফর্মে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন। সেখান থেকে পাঁচ মাসে ২ লাখ ১৭ হাজার ডলার আয় করেছেন। পিয়া বলেন, ‘আমি ওই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার পর অনেকে না বুঝে সমালোচনা করেছে। উল্টাপাল্টা কথা বলেছে। কেউ কেউ পর্নো তারকা বলেছে। এগুলো শুনলে মাথা ঠিক থাকে? বাংলাদেশের অনেক শিল্পীরাও আমাকে নিয়ে আজেবাজে কথা বলে দেখি। মানুষের আজেবাজে কথা শুনতে শুনতে আমি হতাশ হয়ে পড়ি। এরপর সেখান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি।’
টাকা আয় করতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন, সে ক্ষেত্রে কতটা সফল, এমন প্রসঙ্গ উঠতেই পিয়া বিপাশা বলেন, ‘সত্যি বলতে এখন আমার এমন অবস্থা, টাকা ইনকাম না করলেও হয়। যতটুকুই করি, আমার মেয়ে ও হাজব্যান্ড ওরাই বলে। ওরা দুজনে চায় যে আমি কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। বাসায় আমার একটা কুকুর আছে, বিড়াল আছে। আমি ভোর সাড়ে পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠি, এরপর জিমে যাই, নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করি। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকি।
আমার এখন আর কোনো স্বপ্ন নেই। যা চেয়েছি, গত পাঁচ বছরে সবই পেয়েছি। টাকাপয়সা, সুন্দর জীবন, প্রতিষ্ঠিত হওয়া, ভালো স্বামী—সবই আমার হয়েছে। টাকা নিয়ে এখন কোনো চিন্তা নেই আমার—যা আয় করি, তা ব্যয় করার সময় পাই না। অন্যদিকে আমার জামাই বেশ হিসেবি। সে শুধু নতুন নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে চায়।’
পিয়া বিপাশা নিয়মিত তাঁর ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক পেজে স্থিরচিত্র ও ভিডিও পোস্ট করেন। এসব নিয়ে সমালোচনায়ও পড়েন। তবে তাতে কোনো ভ্রুক্ষেপ করেন না। পিয়া বিপাশা বলেন, ‘আমি এখানে ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে কাজ করছি। মডেলিং করছি। বিভিন্ন ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছি। ব্যান্ডের ওরা যোগাযোগ করে। আমি ছবি তুলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করি। সেখান থেকে আমি নিয়মিত টাকা পাই। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ছবিগুলো কখনো আমার স্বামী তুলে দেয়, কখনো মেয়েও তুলে দেয়। সম্প্রতি আমি ক্যামেরা কিনেছি। লাইটিং ও এডিটিংয়ের কৌশল শিখেছি। আমার বাসায় স্টুডিও আছে। বেশির ভাগ ছবি স্টুডিওতে ওরাই তুলে দেয়। আবার কখনো ফটোগ্রাফার তুলে দেয়। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার পর উল্টাপাল্টা মন্তব্য করার কারণে মন্তব্যের ঘর বন্ধ করে রেখেছি চার থেকে পাঁচ বছর। ফেসবুক পেজের মন্তব্যের ঘরও বন্ধ করে রেখেছি। কারণ, মানুষ আজেবাজে মন্তব্য করে। তারা বলে, কী কাপড় পরি, এসব কেমন পোজ, এসব...। তবে আমার হাজব্যান্ড অনেক খুশি। সে চায়, আমি খোলামেলা জামা পরি, এটা তার ভালো লাগে।’
পিয়া বিপাশা জানান, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে বিভিন্ন পণ্যের যেসব পোস্ট করেন, তার জন্য বেশ ভালো সম্মানী পান। তাঁর দাবি, এই সম্মানী কখনো দুই হাজার ডলার, আবার কখনো তিন হাজার ডলারের মধ্যে।
![]() |
| পিয়া বিপাশা। ছবি : পিয়ার ফেসবুক পেজ থেকে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিডনিতে হাউসফুল ‘দাগি’, দর্শকদের চোখে পানি by কাউসার খান
সিনেমাটির অস্ট্রেলিয়ান পরিবেশক পথ প্রোডাকশনসের শাওন অরিজিৎ প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম সপ্তাহের সব শোর টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। দর্শকদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আমরা অতিরিক্ত শোর ব্যবস্থা করেছি। এখন ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২০টি শো প্রদর্শিত হবে।’ আরেক পরিবেশক ঈগল এন্টারটেইনমেন্টের সাব্বির চৌধুরী যোগ করেন, ‘নিউজিল্যান্ডেও শিগগিরই সিনেমাটি মুক্তি পাবে। দর্শকদের প্রতি আমাদের আহ্বান, হলে আসুন, এই সিনেমা আপনাকে মুগ্ধ করবেই।’
সিডনিপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদ সালাউদ্দিন সাগর অভিনেতা নিশোর প্রশংসা করে বলেন, ‘দুই বছর পর নিশো যে এমন অভিনয় করবেন, তা ভাবতেই পারিনি।’ সিডনির একটি সিনেমা হলে কাজ করেন বাংলাদশি আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘সার্বিক বিবেচনায় প্রথমে বাংলাদেশি সিনেমা নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল আমাদের। কিন্তু “দাগি” সব ধারণা পাল্টে দিল। এই সাফল্য আমাদের অবাক করার মতো।’
বুধবার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ আলফা আই এন্টারটেইনমেন্টের প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল সিডনি পৌঁছেছেন। কথা হলো তাঁর সঙ্গে। তাঁর ভাষ্যে, ‘নিশো, তমা মির্জাসহ সব শিল্পীই অসাধারণ অভিনয় করেছেন। দর্শকদের এই সাড়া আমাদের পরিশ্রমকে সার্থক করেছে। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়ও সিনেমাটি মুক্তি পাবে।’
আলোচিত এ সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল, শহীদুজ্জামান সেলিম প্রমুখ শিল্পী। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে এসভিএফ আলফা আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড এবং সহপ্রযোজনায় আছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি।
![]() |
| ‘দাগি’তে ফিরেছে ‘সুড়ঙ্গ’ জুটি নিশো– তমা। কোলাজ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Sunday, September 6, 2026
ফ্যাক্টচেক করবে এআই, ৬ তরুণের উদ্যোগ by ফারদীন–ই–হাসান ফুয়াদ
তরুণদের মাথায় চিন্তা খেলে গেল, কীভাবে ফ্যাক্টচেকিংয়র এই কাজটিকে সহজ করা যায়। সেখান থেকেই এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ভিত্তিক ফ্যাক্টচেকিংয়ের ভাবনা। তৈরি হলো ‘খোঁজ’। এআইভিত্তিক ফ্যাক্টচেকিং ওয়েবসাইটটিতে ব্যবহারকারী নিজেই যেকোনো তথ্য যাচাই করে নিতে পারবেন। কোনো মানুষের সাহায্য লাগবে না। তথ্য যাচাইয়ের সম্পূর্ণ কাজটিই করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।
কীভাবে কাজ করে খোঁজ?
খোঁজ এআইভিত্তিক ফ্যাক্টচেকিং ওয়েবসাইট। খোঁজ-এ কোনো কিছু যাচাই করতে দেওয়া হলে প্রথমে এটি ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, নিউজ আর্কাইভ এবং মাল্টিমিডিয়া উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর উৎসগুলোর নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করে। প্রাসঙ্গিকতা ও ভাষাগত মিল পরীক্ষা করে টেক্সট এবং ছবি বিশ্লেষণ করে ফলাফল দেয়। নির্ভরযোগ্য উৎস উল্লেখ করে খোঁজ জানায় দাবিটি সত্য, বিভ্রান্তিকর, নাকি সম্পূর্ণ ভুল। ফলাফলের সঙ্গে একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেয় খোঁজ, সেখানে উল্লেখ থাকে কোন কোন উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা হয়েছে। ব্যবহারকারী চাইলে নিজেও উৎসগুলোতে গিয়ে তথ্যটি ফের যাচাই করতে পারবেন।
খোঁজের প্রতিষ্ঠাতা ও লিড ডেভেলপার মাহাথির আহমেদ। তিনি খোঁজের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়ার অ্যালগরিদমিক ভিত্তি তৈরি করেছেন। এ বছর মে মাসে শুরু করেন খোঁজ তৈরির কাজ। তাঁর দলে রয়েছেন আরও পাঁচজন—সাগর চন্দ্র, তানিয়া আক্তার, আবু কাউছার, আকিফ বিন সাঈদ ও নুসরাত জাহান। ব্যবহারকারীদের জন্য খোঁজের ব্যবহার সহজ করার কাজটি করেছেন সাগর চন্দ্র। তানিয়া করছেন ফ্যাক্টচেকিং প্রক্রিয়ার গুণমান উন্নয়ন। খোঁজের ‘মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’ বিভাগের পূর্ণ তথ্যভান্ডার তৈরি ও ডিজিটাল আর্কাইভিংয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন আকিফ। গবেষণা দলের সদস্য হিসেবে নুসরাত উৎস যাচাইয়ের প্রাথমিক ধাপগুলোতে নির্ভুলতা নিশ্চিতের কাজ করেছেন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আবু কাউছার ছিলেন প্রকল্পটির পরামর্শক। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ যাত্রা শুরু করে খোঁজ। এরই মধ্যে কয়েজকজন ফ্যাক্টচেকার ও সাংবাদিক এটি ব্যবহার করেছেন বলে জানান তাঁরা। নির্মাতাদের দাবি, এটি ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক ফলাফল দেয়। কোনো তথ্য যাচাই করতে না পারলেও খোঁজ সেটি জানিয়ে দেয়, কিন্তু ভুল তথ্য দেখায় না।
খোঁজ বর্তমানে ওয়েবসাইটভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এটিকে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) হিসেবে আনার কাজ চলছে। তাঁদের প্রত্যাশা, অ্যাপে ব্যবহারকারীর সংখ্যা আরও বাড়বে। খোঁজ থেকে কোনো মুনাফা করতে চান না নির্মাতারা। তাঁরা চান মানুষ যাতে মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়। তাঁরা বলেন, ‘ব্যবসা নয়, মানুষের ডিজিটাল লিটারেসি বাড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
মুক্তিযুদ্ধ কর্নার
দলের দুই সদস্য মাহাথির ও আকিফ আগে থেকেই বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত। ছোটদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সচেতন করতে গড়ে তুলেছিলেন ‘স্মাইল বাংলাদেশ’। অতিমারির পর সংগঠনটি আর চালিয়ে যেতে পারেননি। সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে গুজব ছড়ানো শুরু হলে দুজন আলোচনা করেন কীভাবে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্তি থেকে বাঁচানো যায়। সেই চিন্তা থেকেই খোঁজ-এ যুক্ত করেন ‘মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’। এই বিভাগে মুক্তিযুদ্ধ–সম্পর্কিত জিজ্ঞাসার উত্তর পাওয়া যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে মুক্তিযুদ্ধের দলিল-দস্তাবেজ এবং গবেষণামূলক গ্রন্থ থেকে এসব উত্তর দেয় খোঁজ। আকিফ জানান, তাঁরা মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের তথ্যভান্ডার বড় করার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে কিছু বিদেশি গবেষণাপত্র যুক্ত করেছেন। ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংগৃহীত তথ্যও এই তথ্যভান্ডারে যুক্ত করতে চান তাঁরা।
বাংলা এলএলএমের স্বপ্ন
খোঁজ তৈরির আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে মাহাথির তৈরি করেছিলেন বাংলা চ্যাটবট ‘কথাকুঞ্জ’। সেই সূত্রেই সামাজিক মাধ্যমে আবু কাউছার ও মাহাথিরের সঙ্গে পরিচয়। খোঁজ তৈরির কাজে পরামর্শক ছিলেন কাউছার। মাহাথিরের স্বপ্ন আরও বড় কিছু করা। তিনি বলেন, ‘আমি স্বপ্ন দেখি একদিন বাংলা ভাষার এলএলএম (লার্জ ল্যাংগুয়েজ মডেল) তৈরি হবে। হয়তো আমরাই করব! আমি চাই, সেটা যেন রবীন্দ্রনাথের একটা কবিতা সুন্দর করে বুঝিয়ে দিতে পারে। কিংবা জীবনানন্দের মেটাফরগুলো (উপমা) ব্যাখ্যা করতে পারে।’
খোঁজ নিয়ে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্ট ওয়াচের সহকারী সম্পাদক শুভাশীষ দাস রায় বলেন, সারা বিশ্বেই এআইভিত্তিক ফ্যাক্টচেকিং নিয়ে কাজ হচ্ছে। খোঁজ খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এটির উন্নতির অনেক জায়গা রয়েছে। যেমন মতামত এবং ফ্যাক্টকে আলাদা করতে পারা শেখানো যেতে পারে। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়েই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে এ সমস্যাটি হচ্ছে, তথ্য যাচাইয়ের যুক্তিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে ঠিকঠাকভাবে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।
![]() |
| তথ্য যাচাইয়ের সম্পূর্ণ কাজটিই করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। গ্রাফিকস: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চুপ থাকি বলে এই না যে আমি দেখছি না: তমা
তমা মির্জা দেশ টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে তাঁর সমসাময়িক-ব্যক্তিগত নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। কাজের জায়গার রাজনীতি নিয়ে বেশ সোজাসাপটা উত্তর তমার। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইন্ডাস্ট্রির মধ্যেই একটা মানুষের সফলতা আমরা দেখতে পারি না। তাঁকে টেনে নামানোর চেষ্টা করি। আমরাই পলিটিকস করি। আমি চুপ থাকি বলে এই না যে আমি দেখছি না।’
ব্যাপারটা তমার কাছের মানুষেরাও জানেন।’ অভিনেত্রীর ভাষ্য, তিনি একটু নরম স্বভাবের। অত কথা বলতে তিনি পছন্দও করেন না। সে কারণে কিছু ভালো না লাগলে চুপ হয়ে যান তমা মির্জা। অনেক কিছু দেখেও কোনো প্রতিক্রিয়া জানান না। তমার ভাষ্যে, ‘সেটা দেখে হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেন, ও হয়তো বুঝতেসে না, ও হয়তো এটা বোঝে নাই বা ও এটা জানে না।’
যদিও বিয়ে প্রসঙ্গে তমার কথা, ‘আশপাশে তো কিছুই দেখছি না।’ একটা সময় গুঞ্জন উঠেছিল, পরিচালক রায়হান রাফীর সঙ্গে প্রেম চলছে তমা মির্জার। যদিও পরবর্তী সময়ে সেই সম্পর্ক আর এগোয়নি। তমা বা রায়হান রাফীকে এ নিয়ে কথা বলতেও দেখা যায়নি। তমা সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, একাধিক ছবির বিষয়ে কথা হয়ে আছে। কোন সিনেমার কাজ আগে শুরু করবেন, সেটি এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে দারুণ কিছু হওয়ার প্রত্যাশায় অভিনেত্রী।
চার বছর আগে প্রবাসী ব্যবসায়ীর সঙ্গে সংসারের ইতি টানেন তমা মির্জা। ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’তে নিজেকে ভেঙে নতুন করে তৈরি করেছেন তমা। এরপর অভিনয় করেন ‘৭ নাম্বার ফ্লোর’–এ। ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমায় তমার অভিনয় বেশ আলোচিত হয়েছে।
![]() |
| তমা মির্জা। ছবি : তমার ফেসবুক থেকে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Saturday, September 5, 2026
মুসলিমদের কি ধর্মীয় স্বাধীনতা নেই—ভারতে মসজিদ ধ্বংসের তীব্র নিন্দা ওয়াইসির
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াইসি প্রশ্ন তোলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা কি মুসলমানদের জন্য আর প্রযোজ্য নয়? কেন আমাদের উপাসনালয়গুলো ক্রমাগত তুচ্ছ কারণে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়?
ওয়াইসি বলেন, “মসজিদ কমিটি এর অস্তিত্ব প্রমাণ করতে ১৯১১ সাল পর্যন্ত পুরোনো নথি উপস্থাপন করেছিল। সেখানে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে নামাজ আদায় করা হয়েছে। এটিই ‘ওয়াকফ বাই ইউজার’-এর প্রকৃত সংজ্ঞা, যা এখনো আইনের অধীনে ওয়াকফ হিসেবে সুরক্ষিত।”
সরকারের ওই সম্পত্তির ওপর দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ওয়াইসি। এ ক্ষেত্রে তিনি তামাদি আইন এবং স্থাবর সম্পত্তির দখলসংক্রান্ত বিধানের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “তামাদি আইন সাধারণত সরকারকে কোনো স্থাবর সম্পত্তির দখল দাবি করার জন্য সীমাহীন সময় অপেক্ষা করে এক সকালে ঘুম থেকে উঠে সেই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করার সুযোগ দেয় না।”
দীর্ঘদিনের দখলকে সম্পত্তিটির আইনগত অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলেও যুক্তি দেন তিনি।
এআইএমআইএম প্রধান বলেন, “এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্রকাশ্য, ধারাবাহিক ও সর্বসাধারণের সামনে দখল ছিল না কি? রাষ্ট্র এমন ভান করতে পারে না যে এই দখল গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের যুক্তি মেনে নিলেও ‘অ্যাডভার্স পজেশন’ বা দীর্ঘদিনের বিরোধী দখলের নীতি এখানে প্রযোজ্য হবে।”
ওয়াইসি আরও দাবি করেন, কালেক্টরেট প্রতিষ্ঠার আগেই মসজিদটি সেখানে ছিল।
তিনি বলেন, “মসজিদ আগে এসেছে, কালেক্টরেট পরে।” এরপর তিনি বলেন, “কিছু মানুষের কাছে হয়তো মসজিদ দেখাটাই কষ্টের কারণ। সেটা তাদের সমস্যা, আমাদের নয়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রয়োজনে চোখ ফিরিয়ে নিন। শুধু আপনাদের মনে খচখচ করছে বলে আমাদের মসজিদ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিতে পারেন না। আমার ধর্মীয় স্বাধীনতা আপনার দয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়।”
সাহারানপুর কালেক্টরেটে মসজিদটি ভেঙে ফেলার কাজ শুরুর পর ওয়াইসি এসব মন্তব্য করেন। একটি আদালতের আদেশে মসজিদটি অপসারণের সিদ্ধান্ত বহাল থাকার পরই এর ধ্বংসকাজ শুরু হয়।
গত ৪ সেপ্টেম্বর জেলা জজের আদালত মসজিদ কমিটির করা আপিল খারিজ করে এবং সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আগের আদেশ বহাল রাখেন। এর আগে ১৭ জুলাই সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত মসজিদটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি, সরকারি জমিতে কথিত অবৈধ দখল ও অপব্যবহারের অভিযোগে প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছিল।
সাহারানপুরের ডিআইজি অভিষেক সিং বলেন, সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত মসজিদটিকে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত বলে রায় দিয়েছিল এবং পরবর্তী আপিলও খারিজ হয়ে যায়।
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কৌশলগত বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি গুজব ছড়ানো ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি করা হচ্ছে।
মসজিদটি ভেঙে ফেলার ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ইকরা হাসান অভিযোগ করেছেন, সাহারানপুর যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তাকে কাইরানায় গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদও মসজিদটি ভেঙে ফেলার সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, মসজিদটি ১৯১১ সালেরও আগে থেকে সেখানে ছিল। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ওয়াকফ বোর্ডকে মামলার পক্ষ করা হয়নি এবং বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে।
সূত্র: ডেকান ক্রনিকল

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরাইলের নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভিরকে থামাবে কে
অন্যকে অপমান ও হেয়প্রতিপন্ন করাকে তিনি যেন তার কর্মকাণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলেছেন। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাজায় ইসরাইলের অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করতে গিয়ে আটক হওয়া কর্মীদের তিনি উপহাস করছেন।
কারাগারকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই তার বক্তব্য সীমাবদ্ধ নয়। গাজায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস হামলায় উৎসাহ দিয়েছেন, অবৈধ ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদেরও পক্ষে কথা বলেছেন।
বেন-গভিরের উসকানিমূলক বক্তব্যের উদ্দেশ্য মানুষকে চমকে দেওয়া। তবে এর চেয়েও বড় বিপদ সম্ভবত তখনই তৈরি হয়, যখন এসব বক্তব্য আর কাউকে বিস্মিত করে না।
একসময় ইসরাইলি সরকারের জন্য অতিরিক্ত কট্টরপন্থি বলে বিবেচিত এই রাজনীতিক এখন ফিলিস্তিনিদের জীবনের ওপর বিপুল ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন। আর তিনি একের পর এক সীমারেখা অতিক্রম করে চলেছেন। ফলে প্রশ্নটি এখন আর শুধু—বেন-গভির কতদূর যেতে চান, এরমধ্যে আটকে নেই, বরং প্রশ্ন হলো—তার আশপাশের মানুষজন তাকে কতদূর যেতে দিতে প্রস্তুত?
![]() |
| ইতামার বেন-গভির |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে তাড়ানোর ছক ইসরাইলের
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনের আগে দেয়া বক্তব্যে বেন-গভির বলেন, প্রথম বছরে গাজা থেকে আড়াই লাখ ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেয়া হবে। এরপর ছয় বছরে উপত্যকার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার বাকি অংশকেও সরিয়ে নেয়া হবে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত দাবি করে বেন-গভির বলেন, কয়েকটি দেশ গাজার ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি দেশগুলোর নাম জানাননি।
গার্ডিয়ান বলছে, ইসরাইলি মন্ত্রীর প্রস্তাবটি ২০ পৃষ্ঠার একটি নথিতে রয়েছে, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘গাজা উপত্যকা থেকে স্বেচ্ছায় অভিবাসনের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’। যদিও এতে ‘স্বেচ্ছায়’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটিকে জবরদস্তিমূলক পরিকল্পনা হিসেবে দেখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বেন-গভিরের বক্তব্যের আগে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজও জানিয়েছিলেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদন চাইছে তেল আবিব।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের ‘যেকোনো উপায়ে’ দেশত্যাগে সহায়তা করা হবে।
এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার বলেন, গাজায় ইসরাইল দখল করা এলাকা থেকে তারা সরে যাবে না। তার দাবি, বর্তমানে গাজার ৬০ শতাংশ এলাকা ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে।
দেশটির ডেপুটি চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল তামির ইয়াদাইয়ের হিসাবে, নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পরিমাণ ৬৫ শতাংশ।
জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে বেসামরিক জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আগামী অক্টোবরে ইসরাইলের নির্বাচন সামনে রেখে বেন-গভিরের দল জিউইশ পাওয়ার প্রায় সাতটি আসন পেতে পারে বলে জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

About: Mids
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘অকল্পনীয় শোকে’ কাঁদছে ইরানের পুরো শহর
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত বালুচ-অধ্যুষিত শহরটিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন বিয়ের অনুষ্ঠান মাত্র শুরু হয়েছিল। বর-কনের স্বজন ও বন্ধুরা অপেক্ষা করছিলেন, আর মেহেদি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আরও অতিথি আসার কথা ছিল। এর মধ্যেই বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়িটির একাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ, বিয়ের ফুলের মালা ও সাজসজ্জার সামগ্রী। কোথাও পড়ে আছে রক্তমাখা জুতা। স্থানীয়দের প্রকাশ করা এসব ভিডিওতে হামলার পরের ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক আলি মাল্লাহি একজন জেলে। নিজের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে সেখানে অতিথিদের জড়ো করা হয়েছিল। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে এক ভিডিওতে মাল্লাহি বলেন, হামলায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি না হওয়ায় তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানান।
হামলার পর কুহেস্তাকজুড়ে নেমে এসেছে শোক। স্থানীয় এক নাপিত আহমাদ বলেন, ক্ষয়ক্ষতি শুধু বিয়ের বাড়িতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আশপাশের বহু বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিস্ফোরণের সময় ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষে প্রতিবেশীরাও আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের শহর ছোট। আমরা সবাই একে অন্যকে চিনি, ভাইয়ের মতো। আমরা সবাই শোকাহত।’ আরেক পর্যায়ে তার কণ্ঠে উঠে আসে ক্ষোভ ও হতাশা। তিনি বলেন, ‘আমরা কাঁধে কফিন বহন করছি না, আমরা বহন করছি দক্ষিণাঞ্চলের জন্য অপেক্ষা করা অন্ধকার ভবিষ্যৎ।’
বালুচ মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ইন্টারনেট বন্ধ থাকা এবং বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে। ফলে ঘটনার স্বাধীন তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে যাচ্ছেন।
বালুচিস্তানের মানবাধিকারকর্মী ফারজিন কাদখোদায়ি বলেন, নিহতরা ছিলেন বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সাধারণ বেসামরিক মানুষ। আনন্দের একটি দিনে তাদের মৃত্যু পরিবারগুলোর জন্য ‘অকল্পনীয় শোক’ বয়ে এনেছে।
মাকরান উপকূলের ৩৫ বছর বয়সী জেলে চাকর বালুচ বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগী। আমরা উপকূলের মানুষ। বছরের পর বছর সমুদ্রে যাই, জীবিকার জন্য সংগ্রাম করি এবং শুধু বেঁচে থাকতে চাই।’
সিরিকের এক বালুচ বাসিন্দার প্রশ্ন আরও তীব্র- ‘আমি কার কাছে জবাব চাইব? এই যুদ্ধে যারা আমাদের ওপর হামলা করেছে, সেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে? নাকি যে শাসকগোষ্ঠী এই যুদ্ধকে আমাদের দোরগোড়ায় নিয়ে এসেছে, তাদের কাছে?’

About: Mids
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইয়েমেনের তায়েজে ফের লড়াই, দু’দিনে প্রায় ১৮০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত
ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সম্মুখসারির এলাকায় এখনো কিছু পরিবার আটকা রয়েছে এবং তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা প্রয়োজন। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো খাবার ও আশ্রয়ের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র সংকট নিয়ে নতুন এলাকায় পৌঁছাচ্ছে। সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুতর বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এখনো ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে জরুরি ত্রাণের মজুতও ‘গুরুতরভাবে কমে গেছে’। ফলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে সংস্থাগুলোর।

About: Mids
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লিবিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন পরিকল্পনা
গত সেপ্টেম্বর থেকে প্রথমে রোমে এবং পরে বিভিন্ন রাজধানীতে গোপনে যে পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি হচ্ছে, তার মূল বিষয় হলো নির্বাহী প্রেসিডেন্ট কাঠামোর পুনর্গঠন। এর আওতায় পূর্ব লিবিয়ার স্থলবাহিনীর কমান্ডার খলিফা হাফতারের উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সাদ্দাম হাফতারকে পুনর্গঠিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের নেতৃত্বে বসানোর কথা রয়েছে। একই সঙ্গে আবদুল হামিদ দাবাইবাহকে প্রধানমন্ত্রী পদে রাখা হবে। গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ তৈরি করার পরিবর্তে এই কাঠামো রাষ্ট্রের বিভক্তিকে একটি স্থায়ী বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিচ্ছে।
এর মাধ্যমে পশ্চিমে দাবাইবাহ প্রশাসন এবং পূর্বে হাফতার পরিবারের নেটওয়ার্ককে কার্যত একটি বংশানুক্রমিক দ্বৈত ক্ষমতাকাঠামোয় প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে।
এ ধরনের উদ্যোগের পথ তৈরি করতে ওয়াশিংটন প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপকে কাজে লাগিয়েছে। এপ্রিলে বৌলসের মধ্যস্থতায় ১৯০ বিলিয়ন দিনারের একটি রেকর্ড পরিমাণ ঐক্যবদ্ধ বাজেট চুক্তি হয়- ২০১৪ সালের পর লিবিয়ায় এটাই ছিল এ ধরনের প্রথম চুক্তি। একই সময়ে আফ্রিকমের ফ্লিন্টলক মহড়ার আওতায় সির্তেতে যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে পূর্ব ও পশ্চিম লিবিয়ার বাহিনীর পাশাপাশি ইতালি এবং এক ডজনেরও বেশি আফ্রিকান দেশ অংশ নেয়। তবে এই লিখিত না থাকা লেনদেনভিত্তিক নকশাকে জাতীয় সমঝোতা হিসেবে বিবেচনা করা সংকটটির প্রকৃত চরিত্রকে ভুলভাবে বোঝা।
সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো কাঠামো তৈরি করা কিংবা দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী হয়ে ওঠা মিলিশিয়া নেটওয়ার্কগুলো ভেঙে দেওয়ার পরিবর্তে এই ব্যবস্থা একটি অভিজাত দ্বৈত ক্ষমতাকাঠামোকেই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। সাময়িক আর্থিক বণ্টন এবং তদারকির মাধ্যমে পরিচালিত ঐক্যবদ্ধ সামরিক মহড়াকে কাজে লাগিয়ে ওপর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। এতে প্রকৃত রাষ্ট্র গঠন না করে ক্ষমতাসীন দুই পরিবারের মধ্যে একটি ভঙ্গুর সমঝোতাকেই রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে লিবিয়ার তেল ও গ্যাসসম্পদ থেকে পাওয়া অর্থ জনগণের বদলে একটি শক্তিশালী স্বার্থগোষ্ঠীর হাতেই যেতে থাকবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বৌলসের উদ্যোগটি কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই পরিচালিত একটি অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক তৎপরতা। বহিরাগত মধ্যস্থতার আইনি ভিত্তি প্রদানকারী জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মৌলিক প্রস্তাবগুলো উপেক্ষা করায় ওয়াশিংটনের এই তাৎক্ষণিক উদ্যোগ স্থানীয় পক্ষগুলোকে সমঝোতায় আবদ্ধ করার মতো প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন থেকে বঞ্চিত।
এ ছাড়া পরিকল্পনাটিতে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থাও নেই। এটি বর্তমান মার্কিন রাজনৈতিক সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল। প্রস্তাবিত দুই থেকে তিন বছরের অন্তর্বর্তী সময় শেষে নবনিযুক্ত নির্বাহী নেতারা ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে কী করা হবে, সে বিষয়েও কোনো প্রটোকল নেই। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো মধ্যস্থতাকারী না থাকলে, যিনি পক্ষগুলোকে সমঝোতা মানতে বাধ্য করতে পারেন, এই উদ্যোগ একটি বিপজ্জনক ক্ষমতার ফাঁদে পরিণত হতে পারে। ফলে বাইরের শক্তিগুলোর অগ্রাধিকার বদলে গেলেই লিবিয়া আবারও সংঘাতের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। এই দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগটি জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন চলমান মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গেও সরাসরি সাংঘর্ষিক। জাতিসংঘের লিবিয়া সহায়তা মিশন বা ইউএনএসএমআইএলের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জাতিসংঘের ধাপে ধাপে এগোনো প্রক্রিয়াটি নিঃসন্দেহে ধীরগতির এবং এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি।
তবে এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেটের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে এবং স্বীকৃত, যদিও ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ, অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিনিধি পরিষদ এবং স্টেটের উচ্চ পরিষদ।
ওয়াশিংটন এসব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে পাশ কাটিয়ে অভিজাতদের মধ্যে দ্রুত একটি সমঝোতার পথ বেছে নেয়ার চেষ্টা করছে। এতে ইউএনএসএমআইএল বছরের পর বছর ধরে যে নাজুক প্রাতিষ্ঠানিক ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে, তা পুরোপুরি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে ইরান যুদ্ধ
এমন এক প্রেক্ষাপটে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পরিবর্তে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে ওয়াশিংটন। আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন তথাকথিত ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ ঘোষণা করে। এর আওতায় ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে তেল থেকে পাওয়া রাজস্বের প্রবাহ সহজতর করে এমন ৬০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করা অন্যান্য দেশকেও ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’র হুমকি দেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তেহরানের তেল রপ্তানির ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। এদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যুদ্ধের গুরুত্ব কম করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু করে। এখন জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী জনমত নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সংযম দেখানোরও স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং মার্কিন নেতারা বলছেন, আরও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা খোলা রয়েছে। ভ্যান্স চলতি সপ্তাহে বলেছেন, যা কিছু ঘটতে পারে, সবই বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামরিক, কূটনৈতিক ও গোপন চাপও রয়েছে। ফলে আগামী দুই মাস ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত কঠিন সময় হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়িয়ে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে চাইবে, অন্যদিকে ইরানের নিজস্ব হিসাব-নিকাশ রয়েছে। তেহরান সামরিকভাবে জবাব দিতে পারে, যা নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা ওয়াশিংটন এড়াতে চাইছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষে তাদের অল্প ব্যবধানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না।
এর আগে যুদ্ধ আবার বড় আকারে ছড়িয়ে পড়লে আরও বেশি মানুষ ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন। তাই নভেম্বর পর্যন্ত লড়াই নিয়ন্ত্রণে রাখা ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা যুদ্ধকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া থেকে ঠেকাতে পারে। আগস্টের শেষ দিকে রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা যায়, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধকে সমর্থন করেন। বিপরীতে ৬৩ শতাংশ এর বিরোধিতা করেন। রয়টার্স/ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্পের অনুমোদনের হারও ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৩ শতাংশে নেমেছে।

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লংমার্চে বাধা এলে ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে :-নাহিদ ইসলাম
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এ লংমার্চ আপামর জনতার। সরকার যদি লংমার্চে বাধা দেয় তাহলে সব বাধা উপেক্ষা করে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে এবং ১১ দলের ৬ দফা দাবি এক দফা রূপ নেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঐতিহাসিক এক দফার জন্য সারাদেশের মানুষ লংমার্চ টু ঢাকায় এসে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিভাগে লংমার্চে যাচ্ছি নতুন করে যারা স্বৈরাচার হচ্ছে, সেই পথ বন্ধ করার জন্য।’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমাদের এই লংমার্চ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে। যারা সিন্ডিকেট করে তেল-বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে—তাদের বিরুদ্ধে। এই লংমার্চ যারা ৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের সঙ্গে প্রতারণা করেছে তাদের বিরুদ্ধে।’
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বানে আজ এতো ভোরে যেভাবে নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের আর কোনো রাজনৈতিক দল এতো ভোরে রাজপথে আসতে পারবে না।’ তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ‘প্রয়োজনে তারেক রহমান সাহেব একটা সমাবেশ এতো ভোরে আহ্বান করে দেখতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজ-মাস্তানদের ভোট দিলে দেশ ভালো চলবে না তার দৃষ্টান্ত বর্তমান সরকার। শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায় করা হবে, ইনশাআল্লাহ।’
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক বলেন, ‘সরকার জাতির সাথে প্রতারণা করেছে। ক্ষমতার মসনদে বসে যদি জাতিকে ভুলপথে পরিচালিত করার চেষ্টা করে তাহলে টেনে নামাতে আমাদের হাত এক চুলও কাঁপবে না।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যর্থ হয়েছে। দিনে দিনে দুর্ভোগ বাড়ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। জনগণকে দেয়া সব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। সরকারকে সংসদে ভুল স্বীকার করে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে চাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের এই লংমার্চ। যারা গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি এই লংমার্চ তাদের বিরুদ্ধে।
তিনি দেশবাসীকে লংমার্চে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘লংমার্চে বাধা আসলে ছয় দফা থেকে একদফা দাবিতে আন্দোলন দুর্বার গতিতে শুরু হবে।’

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে :-নারায়ণগঞ্জে লংমার্চে শফিকুর রহমান
পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা রাজপথে নেমেছি গণভোট বাস্তবায়ন করার জন্য। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করার জন্য। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনের জন্য। এই সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে, ভাঁওতাবাজি করছে। জনগণ তাদেরকে ক্ষমা করবে না।’
১১ দলীয় জোট জনগণের পাশে আছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস, এই চেষ্টা আল্লাহ কবুল করবেন। আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়বো। আপনারা বিজয়ের শেষ হাসি হেসে ঘরে ফিরবেন।’
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের লংমার্চ সফল হবে। তেল ও গ্যাসের দাম না কমালে এই সরকারকে গদি ছাড়তে হবে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য আমরা কঠিন মুহূর্তেও প্রস্তুত আছি। সরকার প্রধানকে বলবো—এই জাতির পালস বুঝার চেষ্টা করেন, শেখ হাসিনা ৩ বার মানুষের ভোট নিয়ে খেলেছেন, তাই তাকে এই দেশের মানুষ ছক্কা মেরে বিদায় করেছে। ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে প্রতারণা করলে এই দেশের মানুষ লাল কার্ড দেখাবে।’
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদ ও এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল আমিন এমপি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, জুলাই গণহত্যার বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানি সংকট নিরসনসহ ছয় দফা দাবি সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রামমুখি লংমার্চ করছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পর্তুগিজ এক জলদস্যু যেভাবে হয়েছিলেন সন্দ্বীপের রাজা by ইফতেখার উদ্দিন
চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ। একসময় পর্তুগিজ ও আরাকানি জলদস্যুদের দুর্গ ছিল মেঘনা নদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপ। দ্বীপটি প্রায় এক দশক শাসন করেছেন সেবাস্তিয়ান গঞ্জালেজ তিবাউ নামের এক পর্তুগিজ জলদস্যু। সন্দ্বীপের ফিরিঙ্গি এই ‘রাজা’র বিষয় নিয়ে জানা যাক।
জোয়াকিম জোসেফ এ ক্যাম্পোস-এর ‘হিস্ট্রি অব দ্য পর্তুগিজ ইন বেঙ্গল’ গ্রন্থে তিবাউর উত্থান নিয়ে একটি অধ্যায় আছে। সেখানে তিবাউর পরিচয় লেখা হয়েছে—তিবাউ অখ্যাত বংশোদ্ভূত এক পর্তুগিজ, যার জন্ম হয়েছিল ‘সান্তো আন্তোনিও দে তোজালে’। তিনি ১৬০৫ সালে ভারতবর্ষে এসেছেন। এরপর খুব দ্রুত বাংলায় চলে আসেন।
ঐতিহাসিক বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ভারতে এসে প্রথমে সৈনিকের জীবন বেছে নেন তিবাউ। গোয়ায় একটি বাহিনীতে সৈনিকের কাজ নিয়েছিলেন তিনি। তবে তিনি খুব দ্রুত সৈনিকের পেশা ছাড়েন, বেছে নেন বণিকের জীবন। একটি জাহাজ কিনে লবণের ব্যবসা শুরু করেন। এই লবণ ব্যবসার সূত্রে ১৬০৭ সালে ‘দেয়াং’ এলাকায় গিয়ে তাঁকে ভয়াবহ বিপদের মুখোমুখি হতে হয়, যা তাঁর পরবর্তী জীবনের গতিপথ পাল্টে দেয়।
এখানে উল্লেখ করা দরকার, দেয়াং এলাকাটি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত, তখন এটি আরাকানের অংশ ছিল। ইতিহাসবিদ যদুনাথ সরকার লিখেছেন, তখন আরাকান রাজ্যে ফিরিঙ্গিদের দুটি প্রধান পল্লীর একটি ছিল ‘ডিয়াঙ্গা’ (দেয়াং)।
দেয়াং এলাকায় আরাকানরাজের নির্দেশে পর্তুগিজদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল ১৬০৭ সালে। সেই ঘটনায় বহু পর্তুগিজ প্রাণ হারালেও তিবাউ প্রাণে বেঁচে যান। তাঁর মতো বেঁচে যাওয়া আরও কিছু পর্তুগিজকে নিয়ে তিনি ‘গঙ্গার মুখে’ বসতি স্থাপন করেন এবং জীবিকা হিসেবে বেঁচে নেন জলদস্যুতার পথ। আরাকান রাজার ওপর প্রতিশোধের অংশ হিসেবে ওই রাজ্যের বিভিন্ন উপকূলে লুট করে তিবাউর দলটি তৎকালীন ‘বকলার’ (বরিশাল) বন্দরে নিয়ে যেত। বকলার ‘রাজা’ পর্তুগিজদের বন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সেবাস্তিয়ান গঞ্জালেজ তিবাউ সন্দ্বীপ দখল করেন ১৬০৯ সালে। এর আগেও অবশ্য পর্তুগিজদের নিয়ন্ত্রণ দ্বীপটিতে ছিল। পর্তুগিজ যোদ্ধা ‘ডমিঙ্গো কারভালহো’ এবং ‘ম্যানোয়েল দা মাত্তোস’ দ্বীপটি শাসন করেছেন। ১৬০৫ সালে কারভালহোর মৃত্যু হয়।
গবেষক ও ইতিহাসবিদ রিলা মুখার্জি লিখেছেন, ১৬০৭ সালে দেয়াংয়ে পর্তুগিজদের ওপর আরাকানরাজের নির্দেশে আক্রমণ হলে ম্যানোয়েল দা মাত্তোস পর্তুগিজদের সহায়তায় সন্দ্বীপ থেকে সেখানে যান। দেয়াংয়ের আক্রমণে মাত্তোস প্রাণ হারান। মাত্তোসের অনুপস্থিতিতে দ্বীপের দায়িত্ব ছিল পেরো গোমেজ নামের একজনের হাতে। গোমেজ ব্যর্থ প্রশাসক হওয়ায় তাঁর অদক্ষতার সুযোগে সন্দ্বীপে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই গোমেজের অধীনস্থ কর্মকর্তা ফতেহ খান দ্বীপটি দখলে নিয়ে নিজেকে শাসক ঘোষণা করেন।
ফতেহ খানের বাহিনীকে ১৬০৯ সালে পরাজিত করে সন্দ্বীপের দখল নেন তিবাউ। বেশ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে সেটি হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। প্রায় ৪০টি পালতোলা জাহাজ ও ৮০০ সৈন্য নিয়ে ফতেহ খান তিবাউর দলের ওপর আক্রমণ করেন। তবে নৌ চালনার দক্ষতায় সংখ্যায় কম হলেও জয়ী হয় তিবাউর দল। যুদ্ধে নিহত হন ফতেহ খান। তাঁর অনুসারীদের কেউ নিহত, কেউ বন্দী হন তিবাউর দলের হাতে।
তিবাউর সন্দ্বীপ অভিযানে সামরিক সহায়তা দিয়েছিলেন বকলার শাসক ‘রাজা’ প্রতাপাদিত্য। দ্বীপের রাজস্ব ভাগাভাগি করবেন, এই শর্তে তিবাউকে ২০০ অশ্বারোহীর পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজও দেন তিনি। সন্দ্বীপ দখলের পর তিবাউর দল আরাকানি জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করতে শুরু করে। লুট করা মালামাল রাজা প্রতাপাদিত্যের বন্দরগুলোতে বিক্রি করা হতো। এরই ধারাবাহিকতায় ধনসম্পদের সঙ্গে সামরিক শক্তি বাড়তে থাকে তিবাউর।
তিবাউ সন্দ্বীপের রাজস্বের অর্ধেক প্রতাপাদিত্যকে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে তা রাখেননি। বরং প্রতাপাদিত্যের দখলে থাকা দক্ষিণ শাহবাজপুর (ভোলা) দখলে নেন। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে প্রতাপাদিত্যের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয় তাঁর। তিবাউর বাহিনীতে তখন এক হাজারের বেশি পর্তুগিজ, দুই হাজার স্থানীয় সৈন্য, ২০০ অশ্বারোহী। এর সঙ্গে বেড়েছে যুদ্ধজাহাজ, বাণিজ্যিক নৌকা ও সমরাস্ত্র, যা বেশ আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল তিবাউকে।
তিবাউ ছিলেন স্বাধীন রাজা। গোয়া থেকে পরিচালিত প্রাতিষ্ঠানিক পর্তুগিজ শাসন ‘এস্তাদো দা ইন্ডিয়ার’ অধীন ছিলেন না তিনি। গোয়ার নিয়ন্ত্রণহীন এ ধরনের অঞ্চলকে ইতিহাসবিদেরা পর্তুগিজদের ‘ছায়া সাম্রাজ্য’ কিংবা ‘অনানুষ্ঠানিক সাম্রাজ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
গোয়ার নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও বেশ কিছু সময় এস্তাদো দা ইন্ডিয়ার সহায়তা তিবাউ চেয়েছেন। ১৬১৫ সালের দিকে গোয়ার একটি সরকারি বহরের সঙ্গে লেম্রো নদী বেয়ে আরাকানের রাজধানী ‘ম্রাউক ইউ’ আক্রমণ করে তিবাউর দল। এ সময় নদীতে নোঙর করা আরাকানের ও বিদেশি বেশ কিছু জাহাজ ধ্বংস করে দলটি। তবে ডাচদের সহায়তায় তাদের বাহিনীকে পরাজয় বরণ করতে হয়।
১৬১৭ সাল পর্যন্ত সন্দ্বীপের তিবাউর শাসন অব্যাহত ছিল। ১৬১৭ সালে আরাকানরাজ মিন রাজাগির ছেলে ও উত্তরসূরি মিন খামাউং তাঁকে পরাজিত করেন।
সপ্তদশ শতকের এই সময়টাতে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও কৌশলগত কারণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল সন্দ্বীপ। সন্দ্বীপ তখন লবণ উৎপাদনের জন্য বেশ খ্যাত। এই দ্বীপে উৎপাদিত লবণ বাইরের অঞ্চলগুলোতে রপ্তানি হতো। চাল, শস্য উৎপাদনের পাশাপাশি সুতির কাপড় উৎপাদনের জন্যও পরিচিত ছিল দ্বীপটি। এ ছাড়া এই সন্দ্বীপে নৌযান মেরামত কেন্দ্রও ছিল।
![]() |
| শিল্পীর তুলিতে আঁকা বাংলায় পর্তুগীজ জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1857)
-
▼
September
(64)
-
►
Sep 08
(10)
- টানা এক সপ্তাহ পপকর্ন খেলে কী হয়, জানেন?
- হরমুজে এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ, চলেছ...
- ইরান যুদ্ধে জড়ালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপদ কেন বাড়তে পারে
- আয়শা ওয়াহাবের বিজয় আমেরিকার যে চেহারা তুলে ধরে by ...
- শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ...
- জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থীদের জয়, ইউরোপ কি পালাবদলে...
- ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে য...
- ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের পরিবারকে ক্ষতিপূর...
- সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনায় আবারও হামলা
- ধনেপাতা কেন খাবেন, কীভাবে খাবেন by রাফিয়া আলম
-
►
Sep 05
(14)
- মুসলিমদের কি ধর্মীয় স্বাধীনতা নেই—ভারতে মসজিদ ধ্বং...
- ইসরাইলের নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভিরকে থামাবে কে
- গাজা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে তাড়ানোর ছক ইসরাইলের
- ‘অকল্পনীয় শোকে’ কাঁদছে ইরানের পুরো শহর
- ইয়েমেনের তায়েজে ফের লড়াই, দু’দিনে প্রায় ১৮০০ পরিবা...
- লিবিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন পরিকল্পনা
- মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে ...
- লংমার্চে বাধা এলে ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে :-নাহি...
- সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে :-নারায়ণগঞ্জে লংম...
- পর্তুগিজ এক জলদস্যু যেভাবে হয়েছিলেন সন্দ্বীপের রাজ...
-
►
Sep 08
(10)
-
▼
September
(64)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...















