Saturday, April 1, 2017

পাকিস্তানে আটক দুই ভারতীয়

পাকিস্তানে আদমশুমারি চলার মধ্যেই দুজন ভারতীয়কে আটক করা হয়েছে। করাচিতে ধরা পড়া ওই দুজন বেআইনিভাবে পাকিস্তানে বসবাস করছিলেন বলে দাবি করেছেন সিন্ধুর প্রাদেশিক কমিশনার আবদুল আলিম মেমন। সিন্ধুর আটটি জেলায় প্রথম দফায় তথ্য সংগ্রহ শেষ হয়েছে। সে ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এক খবর, তাদের কাছে বৈধ নথিপত্র ছিল না বলে দাবি করে মেমন বলেন, একজন গ্রেফতার হয়েছে করাচির গুলবার্গ টাউন থেকে। তার কাছ থেকে একটি ডায়েরি পেয়েছি আমরা। দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আইন প্রনয়নকারী এজেন্সির হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। গত প্রায় দু দশকে প্রথম পাকিস্তানে সেনসাস শুরু হয়েছে গত ১৫ মার্চে। এজন্য ২ লাখের বেশি সেনা জওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে তথ্য সংগ্রহে নেমেছেন প্রশাসনের লোকজন।

দেশকে গোরস্থানে পরিণত করাই যেন আ’লীগের লক্ষ্য : খালেদা জিয়া

দেশকে গোরস্থানে পরিণত করাই যেন আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম নুরুকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেয়ার ১২ ঘণ্টা পর লাশ পাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন। দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত খালেদা জিয়ার এ বিবৃতি বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশকে গোরস্থানে পরিণত করাই যেন আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য। দেশের শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মৃত্যু বিভীষিকা ওঁৎ পেতে আছে। দেশের মানুষ আজ রক্তহিম করা ভীতি এবং উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন যাপন করছে।’ তিনি বলেন, বুধবার রাতে ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম নুরুকে পুলিশের গ্রেফতার ও তা অস্বীকারের পর বৃহস্পতিবার তাকে হত্যা করে লাশ রাউজান উপজেলার কর্ণফুলী নদীর তীরে খেলাঘাট কৈয়াপাড়া এলাকায় ফেলে রাখা হয়। এ মর্মন্তুদ ও পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। খালেদা জিয়া বলেন, চারদিকে সংশয়-ভয়জনিত আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। রক্তাক্ত সহিংসতা আওয়ামী দুঃশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এ সরকারের ক্রোধের প্রধান টার্গেট হচ্ছে যুবক ও তরুণরা।
ফ্যাসিস্টদের ভয়াবহ ভ্রƒকুটি উপেক্ষা করে প্রতিবাদী তরুণরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। আর সেজন্যই দেশবিরোধী নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত সরকারের বিরুদ্ধে তারুণ্যের দ্রোহকে নির্মূল করার জন্যই আওয়ামী সরকার জাতীয়তাবাদী শক্তির ছাত্র ও যুবকদের হত্যা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের এ ধারাবাহিক প্রাণঘাতী নৃশংসতার করুণ শিকার হয়েছে নুরুল আলম নুরু। ছাত্রনেতা নুরুল আলম নুরু হারানো গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার জন্যই তাকে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে। যে সরকার বাক, চিন্তা, মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে পারে সেই সরকার নিজেদেরকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার স্বার্থে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে হত্যা করতে দ্বিধা করে না। বর্তমান সরকার ক্ষমতার মোহে অন্ধ ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকার নিজেই দুর্বিনীত অনাচার সৃষ্টি করে দেশকে এক মহাদুর্যোগের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। তবে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী রক্তাক্ত পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে লাশের স্তূপ বানিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা টের পাচ্ছে না অপকীর্তি ও অনাচারের জন্য তাদের দিকে মহাদুর্দিন এগিয়ে আসছে। বর্তমান আওয়ামী সরকারের অপশাসনে দেশের সামগ্রিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতি এখন কুৎসিত রূপ ধারণ করেছে। ক্ষমতাসীনদের নির্দেশেই আইনশৃংখলা বাহিনী নুরুল আলম নুরুকে হত্যা করেছে। এ পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে বর্তমান সরকার রেহাই দিলেও সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন তাদেরকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ত্রাস সৃষ্টি করে ক্ষমতার দাপটে জনগণকে ভয় পাইয়ে দেয়ার অপকৌশল করে কোনো লাভ হবে না।

গাজীপুরে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ : এএসপিসহ আহত ১০

ছাত্রসংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দু’পক্ষের মারামারিতে সদর সার্কেলের এএসপি শাখাওয়াত হোসেন, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা অনিক সরকারসহ ১৩জনকে আটক করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানায়, আজ শনিবার দুপুরে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা ছাত্রীনিবাস উদ্বোধন করেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠান শেষে তিনি চলে যাবার প্রাক্কালে ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী মন্ত্রীর গাড়ি আটকিয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি করে শ্লোগান দিতে থাকে। এসময় ছাত্রলীগের অপর অংশের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এতে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। বিক্ষুব্ধরা কলেজ ক্যাম্পাসে অধ্যক্ষের কার্যালয় এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।
এসময় ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষে সদর সার্কেলের এএসপি শাখাওয়াত হোসেন, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন সৌরভ, পুলিশ পরিদর্শক শাখাওয়াত হোসেনসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। এক পর্যায়ে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রলীগ এক অংশ মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ সেখান থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা অনিক সরকারসহ কমপক্ষে ১৩জনকে আটক করে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখ জানান, মন্ত্রীর গাড়ি অবরুদ্ধ, মারামারি এবং ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশসহ আহতের ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। মারামারির বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর জেরিনা সুলতানা জানান, পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্ররা কলেজ ক্যম্পাসে ভাঙচুর করেছে। তবে তিনি ক্যামেরার সামনে সাংবাদিকের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

বীরের মর্যাদায় সমাহিত আজাদ

লে. কর্নেল আজাদ তার প্রিয় কর্মস্থল র‌্যাব সদর দফতরে এলেন দুপুর পৌনে ২টায়। তখন সদর দফতরের সামনের খোলা চত্বর কানায় কানায় পূর্ণ। গাড়ি বারান্দার নিচে, সামরিক কায়দায় অভিবাদন জানাতে প্রস্তুত সশস্ত্র র‌্যাব সদস্যরা। পাশের অস্থায়ী ছাউনির নিচে কয়েকশ’ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা দাঁড়িয়ে। আজাদকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স সদর দফতর চত্বরে ঢুকতেই এক জওয়ান সুউচ্চ কণ্ঠে দীর্ঘ আওয়াজে বলে উঠলেন সাবধান। স্যার আসছেন। এভাবেই দীর্ঘদিনের কর্মস্থল র‌্যাব সদর দফতরে ফিরলেন গোয়েন্দাপ্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ। তবে এবার এলেন চিরদিনের মতো বিদায় নিতে। শ্বেতশুভ্র কফিনে মোড়ানো লাশ হয়ে এলেন প্রিয় কর্মস্থলে। কর্নেল আজাদকে বহনকারী বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স র‌্যাব সদর দফতরে ঢোকে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে। কিন্তু সকাল থেকেই তাকে সামরিক কায়দায় শ্রদ্ধা জানানোর প্রস্তুতি চলছিল।
বেলা আড়াইটার দিকে র‌্যাব সদর দফতরে একে একে উপস্থিত হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ড. কামাল উদ্দীন আহমেদ, আইজিপি শহীদুল হক, অতিরিক্ত আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ও র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বেলা ২টা ৪৭ মিনিটে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) কর্নেল আনোয়ার লতিফ খানের নেতৃত্বে র‌্যাবের বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক আজাদের কফিন নামিয়ে আনেন। এরপর পর্যায়ক্রমে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ কফিনে ফুল দিতে গিয়ে আবেগ সংবরণ করতে পারেননি। তার দু’চোখ অশ্রুশিক্ত হয়ে ওঠে। কর্নেল আজাদকে বহনকারী কফিনটি সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের পতাকায় মোড়ানো ছিল। কফিনে সশস্ত্র সালাম জানায় র‌্যাবের একটি সশস্ত্র দল। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। র‌্যাব সদর দফতরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সামরিক রীতি অনুযায়ী কর্নেল আজাদের কফিনের ওপর তার নেমব্যাচ, র‌্যাংক ব্যাচ, মেডেল ও টুপি রাখা হয়। এরপর কফিন নিয়ে যাওয়া হয় বনানীর সামরিক কবরস্থানে। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন তার কোর্সমেট, স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা। কবরস্থান সংলগ্ন খোলা চত্বরে সামরিক কায়দায় বিশেষভাবে সজ্জিত একটি কামানবাহী গাড়িতে কফিনটি রাখা হয়। সেনা রেওয়াজ অনুযায়ী কফিনসহ গাড়িটি টেনে নিয়ে যান তার কোর্সমেটরা। এ সময় তারা সবাই শোকের প্রতীক হিসেবে সেরিমোনিয়াল পোশাকের সঙ্গে কালো কাপড়ের আর্ম ব্যান্ড পরেন। কবরে নামানোর আগে আরেক দফা সামরিক কায়দায় সালাম জানায় চৌকস সেনা সদস্যদের সুসজ্জিত একটি দল। তারা পর পর তিনবার ফাঁকা গুলি (হলি ফায়ার) ছোড়েন। এ সময় একসঙ্গে কয়েকটি চাইনিজ রাইফেলের ফায়ারিংয়ের আওয়াজে কবরস্থানের নিস্তব্ধতা ভেঙে খান খান হয়ে যায়। ফায়ারিং শেষ হলে বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। দাফনের প্রথমভাগে অংশ নেন পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এরপর তার সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও গণমাধ্যকর্মীরা দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। দাফন শেষে সেনাবাহিনী প্রধানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মতিউর রহমান কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর মেজর জেনারেল মতিউর রহমান প্রয়াত কর্নেল আজাদের স্ত্রী সুরাইয়া সুলতানার হাতে সেনাবাহিনীর পতাকা তুলে দেন। একইসঙ্গে র‌্যাবের পতাকা তুলে দেন র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। এরপর র‌্যাব, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ঢাকাস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সমিতির পক্ষ থেকে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সবাই তার আত্মার শান্তি কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে দোয়া করেন। প্রসঙ্গত, গত ২৫ মার্চ সিলেটের শিববাড়ির আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে অংশ নেন লে. কর্নেল আজাদ।
শেষ বিকালের দিকে একটি পরিত্যক্ত বোমা বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর আহত হন। গুরুতর অবস্থায় রাতে হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকা সিএমএইচে আনা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৬ মার্চ রাত ৮টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এরপর তাকে ঢাকার সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। র‌্যাব সদর দফতর থেকে রাত ১টায় তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে গণমাধ্যমে বার্তা পাঠানো হয়। এদিকে শুক্রবার দাফন শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ কতটা ভারি হতে পারে আজ তিনি তা উপলব্ধি করতে পারছেন। কর্নেল আজাদকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। কর্নেল আজাদের দীর্ঘদিনের সহকর্মী র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান যুগান্তরকে বলেন, গত সপ্তাহেই কর্নেল আজাদ ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। আজাদ তাকে বলেন, ‘স্যার আপনি তো বিদেশে যাচ্ছেন। বাইরে থেকে এসে দেখবেন আমি চলে গেছি। দোয়া করবেন স্যার। আমি ২৭ মার্চ বিজিবিতে জয়েন করব।’ ব্রিগেডিয়ার জিয়া অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, ‘অসময়ে আজাদের এমন চলে যাওয়া তিনি কিছুতেই মানতে পারছেন না।’ বনানীর সামরিক কবরস্থানে দাফনের আগে জুমার নামাজের পর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সেনাপ্রধানসহ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা আজাদকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
স্পি­ন্টারের আঘাতেই মৃত্যু : মস্তিষ্কে বোমার স্পি­ন্টারের আঘাতেই লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডাক্তার সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, আবুল কালাম আজাদের বাম চোখে স্পি­ন্টার ঢুকে মস্তিষ্কে গিয়ে আঘাত করে। এতে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের সময় প্রায় ২ মিলিমিটারের একটি স্পি­ন্টার বের করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার বাম চোখটি সম্পূর্ণ ড্যামেজ হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া তার শরীরের আর কোনো স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এদিকে আজাদের অকাল মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যুগান্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট জানান, র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান আবুল কালাম আজাদের পৈতৃক বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার মনাকসা ইউনিয়নের সহাপাড়া গ্রামে। তার শ্বশুরবাড়িও একই এলাকায়। এলাকার এই কৃতীসন্তানের এমন অকাল মৃত্যুতে কাঁদছেন তার স্বজন ও শুভান্যুধায়ীরা। কর্নেল আজাদের চাচা আফসার আলী জানান, শিবগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত ডা. মইন উদ্দিন আহাম্মেদ মন্টুর ছোট মেয়ের সঙ্গে আজাদের বিয়ে হয়। বাবা রেজাউল করিমের সরকারি চাকরির সুবাদে ঢাকাতেই বড় হয়েছেন আবুল কালাম আজাদ ও তার ছোট ভাই ইউসুফ হিমেল। বাবা মারা যাওয়ার পর মা সায়েদা খানমকে নিজের কাছেই রেখেছিলেন তিনি। তবে শ্বশুরবাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ হওয়ায় মাঝেমধ্যেই তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে মনকসায় বেড়াতে যেতেন। মেধাবী এই সেনা কর্মকর্তার এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার স্বজনরা। তার শ্যালক স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতা ডা. শিমুল জানান, কর্নেল আজাদের বড় ছেলে জারিফ ঢাকা ক্যান্টমেন্টে অবস্থিত বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের (বিআইএস) ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। মেয়ে জারার বয়স আট বছর। সে একই স্কুলে পড়ছে ক্লাস ওয়ানে। এছাড়া আরেক ছেলে জাবিরের বয়স এখন মাত্র ২ বছর তিন মাস। ব্যক্তি জীবনে অত্যন্ত সদালাপী ও সরল জীবন যাপনে অভ্যস্ত কর্নেল আজাদ বন্ধু সহকর্মী ছাড়াও গণমাধ্যমকর্মী, বিশেষ করে ঢাকার অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদকের কাছে অত্যন্ত আপনজন ছিলেন। যে কোনো অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে সহায়তা চাইলে তিনি হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাহয্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন।
এ কারণে শুক্রবার বিভিন্ন গণমাধ্যমের অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদকরা বনানীর সামরিক কবরস্থানে ভিড় করেন। এটিএন নিউজের জেষ্ঠ অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক ইমরান হোসেন সুমন কান্নাজড়িত কণ্ঠে যুগান্তরকে বলেন, সদা হাস্যোজ্জ্বল আজাদ ভাই নেই, এটা ভাবতেই পারছি না। দৈনিক কালের কণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম বলেন, আজাদ ভাইকে সব সময়ই আপন বড় ভাইয়ের মতোই পাশে পেয়েছি। যখনই কোনো দরকার হয়েছে তিনি অতি আপনজনের মতো পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা জানায়, ৩৪তম বিএমএ লং কোর্সের মাধ্যমে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি ৬ বেঙ্গল রেজিমেন্টের ক্যাডেট হিসেবে প্রশিক্ষণ শেষ করেন। এরপর ২০০৫ সালে উচ্চতর প্যারাট্রু–পার প্রশিক্ষণ নিয়ে সেনাবাহিনীর প্যারাকমান্ডো হিসেবে নাম লেখান আজাদ। ২০১১ সালে মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা হিসেবে প্রথম কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবে পোস্টিং পান। তিনি ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে উপ-অধিনায়ক ও অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালের অক্টোবরে পান গোয়েন্দা শাখার প্রধানের দায়িত্ব। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন বিশেষ করে জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ ও হিজবুত তাহরিরের সদস্যদের গ্রেফতারে লে. কর্নেল আজাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। জঙ্গিবাদ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তিনি বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম) পুরস্কারে ভূষিত হন।

বড়হাটে দিনভর মুহুর্মুহু গুলি বিস্ফোরণ

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ শেষ হওয়ার পর একই উপজেলার বড়হাটে অপর আস্তানায় ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শুরু করেছে সোয়াত। শুক্রবার সকাল ৯টা ৫২ মিনিট থেকে এ অভিযান শুরু হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযানটি স্থগিত করা হয়। এর আগে দিনভর আস্তানার ভেতর থেকে মুহুর্মুহু গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এ সময় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, বড়হাটের এ আস্তানায় ৪-৫ জন প্রশিক্ষিত জঙ্গি রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আফগান ফেরত বোমা বিশেষজ্ঞ। তবে তার পুরো পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সোয়াতের অপারেশন চলাকালে ওই আস্তানায় ক্যামেরাসংবলিত ড্রোন দিয়ে সার্চ করা হয়েছে। ড্রোন দিয়ে তোলা ছবিগুলো পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এর আগে সিলেটের শিববাড়ীর আতিয়া মহলে এবং নাসিরপুরের আস্তানায় অভিযান চালানোর সময়ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম আস্তানার কাছে সাংবাদিকদের জানান, অন্ধকার থাকায় অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। আজ সকালে আবহাওয়া ভালো থাকলে পুনরায় অভিযান শুরু হবে।
আস্তানায় প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা এখান থেকে শুনেছেন ভেতরে বিস্ফোরণ হয়েছে। বেশকিছু বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে জঙ্গিরা। সোয়াতের টিম যখনই প্রবেশ করার চেষ্টা করেছে তখনই তারা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক রয়েছে বলে ধারণা করছি।’ এ অপারেশনটি একটু জটিল জানিয়ে তিনি বলেন, জঙ্গিরা যে বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে সেই বাড়িটিতে অনেক কামরা রয়েছে। আরও একটি নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে। এ কারণে একটু সময় লাগছে। ভেতরে কতজন রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একাধিক ব্যক্তির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সিটিটিসির একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ধারণা করছি ভেতরে একজন বোমা বিশেষজ্ঞ আফগান ফেরত জঙ্গি রয়েছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গি আস্তানায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। তার চেহারা দেখতে বিদেশীদের মতো। সে নব্য জেএমবির একজন শীর্ষ নেতা বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনও এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, ওই আফগান ফেরত জঙ্গি সীতাকুণ্ডের আস্তানায় বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকতে পারে। তবে এসব বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে আরও একটু সময় লাগবে। ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জঙ্গিরা আত্মঘাতী হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, এখনও বোঝা যাচ্ছে না। সকাল থেকে মুহুর্মুহু গুলি : বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় সকাল থেকে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শোনা গেছে। কখনও কখনও বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে জঙ্গি আস্তানার আশপাশে অবস্থান নেয় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) বিশেষায়িত টিম সোয়াত। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর ৯টা ৫২ মিনিট থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে গোলাগুলি। এরপর থেমে থেমে কিছুক্ষণ গুলির শব্দ পাওয়া যায়। সকাল সোয়া ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন সদস্যকে ইলেকট্রিক করাত, রশি, দা, কুড়াল নিয়ে জঙ্গি আস্তানার দিকে যেতে দেখা গেছে। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
এর ২৫ মিনিট পর ১২টা ৩৫ মিনিটে আবারও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এর ৫ মিনিট পর দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে আবারও মুহুর্মুহু গুলির শব্দ পাওয়া যায়। গোলাগুলি চলাকালীন দুপুর ১২টা ৫২ মিনিটে আবার দুটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এরপর দুপুর সোয়া ১টার দিকে গোলাগুলি বন্ধ হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আবারও গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। গোলাগুলি শুরুর ২ মিনিট পর বিকট শব্দে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এরপর বিকাল ৫টা ৫ মিনিটে আবারও বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। পরে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার পর আবারও গোলাগুলি শুরু হয়। বড়হাটের বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে তারা জঙ্গি আস্তানার কাছ থেকে বিকট শব্দে বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তারপর তারা থেমে থেমে গুলির শব্দ শুনেছেন। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যেও গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। পুলিশ বলছে, বড়হাট এলাকার আবুশাহ দাখিল মাদ্রাসা গলির দোতলা একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানাটির অবস্থান। মঙ্গলবার রাত থেকে জঙ্গি আস্তানাটি শনাক্ত করে ঘিরে রাখে পুলিশ। বুধবার ওই আস্তানা থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়া হয়। ওই জঙ্গি আস্তানা থেকে ১০০ গজ দূরে দোতলা একটি বাড়ির মালিক মুক্তিযোদ্ধা শেখ আনসার আলী। তিনি যুগান্তরকে বলেন, তারা খুবই আতংকের মধ্যে আছেন। ৩ দিন ধরে ওই আস্তানা থেকে তারা গোলাগুলি এবং বিস্ফোরণের শব্দ পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ওই বাড়ির একজন ভাড়াটিয়ার সঙ্গে ২০ দিন আগে তার কথা হয়েছে। তবে তার নাম তিনি জানেন না। এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান তিনি। তখন প্রাণ-আরএফএল কোম্পানিতে চাকরি করেন বলে জানিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। তার বয়স ৪০ বছর হবে। জটিল হওয়ায় অভিযানের নাম ম্যাক্সিমাস : সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম। অভিযান চলাকালে জঙ্গি আস্তানার বাইরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বড়হাট এলাকায় জঙ্গি আস্তানার অবস্থা বেশ জটিল। বাড়ির ভেতর একাধিক কামরায় চার থেকে পাঁচ জঙ্গি রয়েছে। তার মধ্যে একজন বোম্ব এক্সপার্ট রয়েছে বলেও আমাদের ধারণা। ঘেরাওর সময় থেকেই একাধিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তারা। গুলিও করেছে। অভিযানের নাম ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ কেন জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, সার্বিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে এবং জটিলতার ব্যাপকতা বোঝাতে এ নাম রাখা হয়েছে। আস্তানার জানালার গ্লাস মজবুত : বড়হাটের জঙ্গি আস্তানার গ্লাসগুলো মজবুত বলে জানান সিসিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সোয়াতের ছোড়া গুলিতে কাচ ভাঙছে না। পুলিশ সদস্য আহত : দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে জঙ্গি আস্তানায় জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনার ৩ মিনিট পর এক পুলিশ সদস্যকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তখন তার গলা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। তিনি কনস্টেবল কয়সর উদ্দিন। তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রওশন উজ জামান যুগান্তরকে বলেন, জঙ্গি আস্তানার ভেতরে বিকট শব্দে জোড়া বিস্ফোরণের পর জানালার ভাঙা কাচ কয়সরের শরীরে লাগে। এতে তিনি সামান্য আহত হন। তিনি শংকামুক্ত। জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে মঙ্গলবার রাত থেকে মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকায় একটি বাড়ি এবং শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজার এলাকার নাসিরপুর গ্রামে আরও একটি বাড়ি ঘিরে রাখে পুলিশ ও সিটিটিসি। পরে সিসিটির সোয়াত টিম বুধবার বিকাল থেকে নাসিরপুরের আস্তানায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের নাম দেয়া হয় অপারেশন হিট ব্যাক। বৃহস্পতিবার বিকালে এ অভিযান শেষ হয়। এতে জঙ্গি আস্তানায় এক পুরুষ, দুই নারী এবং চার শিশু মারা যায়। পুলিশ বলছে, অভিযান শুরুর পরপরই আত্মঘাতী বিস্ফোরণে তাদের সবার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ওই অভিযানের পর শুক্রবার সকাল থেকে বড়হাট এলাকায় আস্তানায় অপারেশন ম্যাক্সিমাস শুরু করেন সোয়াত সদস্যরা।
‘এমন বীভৎস লাশের ময়নাতদন্ত আর করিনি’ : ‘লাশের ছিন্নভিন্ন অংশ দেখে আঁতকে উঠেছিলাম। সব লাশ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। আমার ১২ বছরের চিকিৎসা জীবনে এমন বীভৎস লাশের ময়নাতদন্ত আর করিনি। কোনো লাশের শরীরে অর্ধেক অংশ নেই, কোনো লাশের শুধু মাথা আছে। এখানে চারটি শিশু ছিল। শিশুদের বীভৎস লাশ দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারছিলাম না।’ মৌলভীবাজার সদরের খলিলপুর ইউনিয়নের নাসিরপুর গ্রামের একটি জঙ্গি আস্তানায় সোয়াতের অভিযানের পর উদ্ধার হওয়া ৭টি লাশের ময়নাতদন্ত শেষে এভাবেই বলছিলেন চিকিৎসক দলের প্রধান ডা. আবু ইমরান। শুক্রবার বিকালে ময়নাতদন্ত শেষ হয়। চিকিৎসকরা জানান, ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বোমা বিস্ফোরণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। লাশগুলোর সুরতহাল প্রস্তুতকারী পুলিশ কর্মকর্তা মৌলভীবাজার মডেল থানার এসআই আবদুল মালিকও লাশগুলো দেখে হতবাক হয়ে যান। শুক্রবার বিকালে তিনিও যুগান্তরকে বলেন, অনেক লাশের সুরতহাল করেছি। এমন সুরতহাল আর কখনোই করিনি। বৃহস্পতিবার রাতে সুরতহাল করার পর থেকে আমি খেতেও পারছি না। জানালার গ্রিলের মধ্যে ছিন্নভিন্ন লাশের বিভিন্ন অংশ দেখতে পেয়েছি। পরে এগুলো সংগ্রহ করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, সাতজনের মধ্যে চারজন শিশু, দু’জন নারী এবং একজন পুরুষ রয়েছে। এর মধ্যে দুই থেকে তিন মাস বয়সী শিশু রয়েছে। ওই শিশুটি ছেলে না মেয়ে তা বোঝার কোনো উপায় নেই। শিশুটির শুধু মাথার অংশটি পাওয়া গেছে। অন্য তিন শিশুর সবাই মেয়ে। তাদের একজনের বয়স ২ বছর। অন্য দুজনের বয়স ৭ এবং ১০। তাদের লাশেরও একই অবস্থা। দু’জন নারীর মধ্যে একজনের বয়স ২৫ এবং অপরজনের বয়স হবে ৩৫ বছর। একজন নারীর শরীরের অর্ধেক চিহ্নিত করা গেছে এবং অপরজনের শুধু মাথা ছিল। পুরুষের বয়স ৩৫ বছরের মতো হবে। তার পেটের অংশ ছিন্নভিন্ন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তার শরীরে সুইসাইডাল ভেস্ট বাঁধা ছিল। সব লাশের শরীরে তার ও স্পি­ন্টার ছিল। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পার্থ সারথী দত্ত কানুনগো যুগান্তরকে জানান, পুরুষের মুখে ছোট দাড়ি রয়েছে। বোমা বিস্ফোরণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। চারজনের একটি মেডিকেল টিম ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। টিমের প্রধান ছিলেন আবু ইমরান। অন্যরা হলেন অশোক ঘোষ, সুব্রত কুমার রায় ও পলাশ রায়।

দলীয় কোন্দলের মূল্যায়ন করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা

আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা বলেছেন, নির্বাচনের শতভাগ জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে প্রচার শুরু করে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থেকেছি। জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়েছি। নির্বাচনে জনগণ যে রায় দিয়েছেন তা মেনে নিয়েছি। এ নির্বাচন নিয়ে আমার আর কোনো কথা নেই। ক্ষমতায় থাকার পরও দলীয় কোন্দলেই কি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর এমন পরাজয়- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না, কারও নাম এখন বলব না। নির্বাচনী প্রচারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অসংখ্য নেতা কুমিল্লায় এসেছেন। তারা এ শহরে দীর্ঘদিন অবস্থানও করেছেন। তারা সব দেখেছেন, বুঝেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারাই এসব মূল্যায়ন করবেন। এক প্রশ্নের জবাবে আঞ্জুম সুলতানা সীমা বলেন, আমি ২০০০ সালে তৎকালীন কুমিল্লা পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হই। ২০১১ সাল পর্যন্ত কুমিল্লা পৌরসভার কাউন্সিলর দায়িত্ব পালন করেছি। ২০০৩-০৫ সাল পর্যন্ত পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবেও কাজ করেছি। ২০০৯ সালে কুমিল্লা সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি।
সর্বশেষ ২০১২ সালে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৭, ৮ ও ৯নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছি। ওই নির্বাচনে কাউন্সিলরদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলাম। সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়রও ছিলাম। অর্থাৎ জনগণের ভোটে টানা ১৭ বছর জনপ্রতিনিধি ছিলাম। সুতরাং আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল করেনি। নেত্রী সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। এ মুহূর্তে আপনি জনপ্রতিনিধি নন, আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী- এমন প্রশ্নের জবাবে সীমা বলেন, আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের মেয়ে। জনগণের জন্য আগেও কাজ করেছি। সামনের দিনগুলোতেও কাজ করব। তিনি বলেন, এখন প্রশাসনিক কোনো পদে না থাকায় আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করার অনেক সময় পাব। ওই সময়ে দলের জন্য কাজ করব। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামনের দিনগুলোয় সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে কেন তিস্তাচুক্তি দরকার?

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে তা হলো- তিস্তা নদী থেকে প্রায় ৪৮ ভাগ পানি বাংলাদেশকে ছেড়ে দেয়া। যদিও বাংলাদেশি দৈনিক ডেইলি স্টারের রিপোর্ট অনুযায়ী এবারের সফরে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি কোনো এজেন্ডায় নেই। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনা (জিবিএম) নদী ব্যবস্থার বাইরে ভারত-বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম আন্তঃসীমান্ত নদী হলো তিস্তা। জিবিএম এলাকার মোট ক্যাচমেন্ট এলাকা হচ্ছে প্রায় ১.৭৫ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার। ভারতীয় রাজ্য সিকিমে তিস্তার উৎপত্তি। নদীটির দৈর্ঘ্য ৪১৪ কিমি.। এর মধ্যে ১৫১ কিমি. সিকিমে,  পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে গেছে ১৪২ কিমি. এবং বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে আরো ১২১ কিমি.। বাংলাদেশে নদীটি মূলত পাঁচটি উত্তরাঞ্চলীয় জেলাকে প্রভাবিত করেছে। এগুলো হচ্ছে- গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী এবং রংপুর। তিস্তা বিষয়ে ২০০৩ সালের এশিয়া ফাউন্ডেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ফ্ল্যাড প্লেইন এলাকা হিসেবে বাংলাদেশের মোট আবাদি জমির প্রায় ১৪ ভাগ কাভার করেছে তিস্তা। এবং তা দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ৭.৩ শতাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি জীবিকার ব্যবস্থা করেছে।
বিরোধের উৎপত্তি কোথায়?
ঐতিহাসিকভাবে এই নদী নিয়ে বিরোধের শেকড় খুঁজে পাওয়া যেতে পারে বাউন্ডারি কমিশনের রিপোর্টে। ১৯৪৭ সালে স্যার সিরিল  রেডক্লিফ-এর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎকালীন পূর্ববঙ্গের সীমানা চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে এটি গঠিত হয়েছিল। বাউন্ডারি কমিশনের কাছে দেয়া রিপোর্টে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ি জেলা দাবি করেছিল। আর তাদের যুক্তি ছল এই জেলাগুলো তিস্তা নদী ব্যবস্থার অন্তর্গত এলাকায় অবস্থিত। এটা ভাবা হয়েছিল যে, ওই দুটি জেলা করতলগত হলে তিস্তা নদীর ওপরে ভবিষ্যতে জলবিদ্যুৎ স্থাপন করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ববঙ্গের স্বার্থ সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হবে। কিন্তু ভারতীয় কংগ্রেস এবং হিন্দু মহাসভার সদস্যরা এর বিরোধিতা করেছিলেন। তারা তাদের উভয়ের প্রতিবেদনে দুই জেলার ওপর তাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। চূড়ান্ত ঘোষণায় যাতে আঞ্চলিক জনসংখ্যাতাত্ত্বিক গঠন, প্রশাসনিক বিবেচনা এবং অন্যান্য বিষয় (রেলপথ, নদীপথ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায়) গুরুত্ব পায় তা আশা করা হয়েছিল। বাউন্ডারি কমিশন তিস্তা ক্যাচমেন্টের উল্লেখযোগ্য অংশ ভারতকে দিয়েছিল। দার্জিলিং জলপাইগুড়ির উল্লেখযোগ্য এলাকা ভারতকে দিয়ে দেয়ার প্রধান কারণ ছিল, এই দুটি জেলাই ছিল অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। সেই সময় দার্জিলিং-এর মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ২.৪২ ভাগ এবং জলপাইগুড়ির ২৩.০২ ভাগ। সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ তাদের স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে ‘অন্যান্য বিষয়’ বিবেচনায় নিয়েছিল।
পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অংশ থাকার দিনগুলোতে পানি ভাগাভাগি নিয়ে ভারত ও পূর্বপাকিস্তানের মধ্যে কোনো গুরুতর আলোচনা হয়নি। পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সার্বভৌম অভ্যুদয়ের পরে ভারত ও বাংলাদেশ তাদের আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা শুরু করে। ১৯৭২ সালে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয়। তারা তাদের আলোচনার গোড়ার বছরগুলোতে উভয় দেশের পানি বিষয়ক আমলাদের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ ছিল, গঙ্গার পানি ভাগাভাগি কেমন হবে তা নিয়ে। সেই সঙ্গে আরো ছিল ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ এবং ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা থেকে পানির হিস্যা বণ্টন। যদিও দুই দেশের মধ্যে তিস্তার পানি বণ্টন আলোচনায় এসেছে কিন্তু  সে আলোচনায় গতি লাভ করেছে ১৯৯৬ সালে গঙ্গা পানি চুক্তি সম্পাদনের পরে।
১৯৮৩ সালের একটি অ্যাডহক চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ তিস্তার পানি প্রবাহের ৩৬ শতাংশ এবং ভারত ৩৯ শতাংশ এবং বাদবাকি ২৫ শতাংশ অবণ্টিত  অবস্থায় ছিল। গঙ্গা চুক্তির পরে অন্যান্য নদীর পানি পর্যালোচনা করতে জয়েন্ট কমিটি অব এক্সপার্ট গঠিত হলো। ২০০০ সালে তিস্তা বিষয়ে বাংলাদেশ তার অবস্থানের খসড়া পেশ করেছিল। ২০১০ সালে এর চূড়ান্ত খসড়া ভারত ও বাংলাদেশ সরকার গ্রহণ করেছিল। ২০১১ সালে ভারতের প্রধামন্ত্রী মনমোহন সিং বংলাদেশ সফরকালে দুদেশের  মধ্যে চুক্তির বিষয়ে মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী তিনি তখন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে জোটবদ্ধ ছিলেন, তিনি চুক্তির বিরোধিতা করেন। এমনকি নরেন্দ্র মোদির সরকারও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার চুক্তির বিষয়টি মেনে নেয়। কিন্তু মমতা মেনে নেননি। ২০১৫ সালে মোদির ঢাকার সফরকালে দুদেশের স্থল সীমান্ত চুক্তির দলিল বিনিময়কালে ব্যানার্জী তার সফরসঙ্গী হয়েছিলেন। কিন্তু তিস্তা নদীর বণ্টন বিষয়ে তিনি নীরবতা পালন করেন।
চলমান ইস্যু
ভারতের সংবিধানের ২৫৩ অনুচ্ছেদ কেন্দ্রীয় সরকারকে যদিও যেকোনো আন্তঃসীমান্ত নদীর প্রশ্নে চুক্তিতে পৌঁছাতে ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু ক্যাচমেন্ট এলাকার সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার একতরফা তা করতে পারে না।
এখন ভারত  ও বাংলাদেশের মধ্যে পানির হিস্যা বণ্টনের শতকরা হিসাব নিয়ে মমতা ব্যানার্জীর মনে বিভ্রান্তি জন্মেছে। তিস্তা বিষয়ক নতুন চুক্তি গ্রহণ করতে না পারার দিক থেকে এটা অন্যতম কারণ। এই সমঝোতা বলছে, বাংলাদেশ ৪৮ ভাগ পানি পাবে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, রূপক ভট্টাচার্য লিখেছেন, মমতা ব্যানার্জী ২০১১ সালে বিশ্বাস করেছিলেন যে, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ২৫ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশ পাবে ৩৩ হাজার কিউসেক। মমতা বলেছেন, বাংলাদেশকে এত বেশি পরিমাণ পানি দিলে তাঁর রাজ্যের পাঁচটি জেলার সেচ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এগুলো হচ্ছে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ ও উত্তর দিনাজপুর এবং দার্জিলিং। এগুলো তাঁর রাজ্যের দরিদ্রতম এলাকাগুলোর অন্যতম।
২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পানিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্রর নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছিল। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট আকারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে তা পেশ করেছিলেন। এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। তবে এই বিষয়ে রুদ্র’র একাডেমিক লেখালেখি ইতিমধ্যে সুবিদিত। ২০০৩ সালে দি ইকোলজিস্ট এশিয়ায় প্রকাশিত নিবন্ধে জলপাইগুড়ি জেলায় তিস্তা বাঁধপ্রকল্প এবং দার্জিলিং জেলায় ন্যাশনাল হাইড্রো পাওয়ার করপোরেশনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো বৃহৎ প্রকল্পের বিষয়ে তার মনোভাব সমালোচনামূলক। তিনি লিখেছেন, ‘চরপড়া একটি বড় সমস্যা। এবং প্রকল্পগুলোর যে সামর্থ্য স্থির করা হয়েছিল তা উদ্বেগজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। এবং তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গোটা প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রিজার্ভার থেকে পানি উধাও হয়ে যাচ্ছে। খালগুলো থেকে পানি নিঃশেষিত হচ্ছে। এরফলে প্রকল্প পরিকল্পনার সময় কমান্ড এলাকায় যে ধরনের পানি থাকার কথা ছিল, তা থেকে প্রান্তিক ভূমি বঞ্চিত হচ্ছে। ড্যামগুলোকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা বন্যার প্রকোপ কমাবে। কিন্তু ভরা মৌসুমে বাড়তি পানি ছেড়ে দিয়ে বিরাট বন্যা তৈরি করা হচ্ছে।’ রুদ্র তার নিবন্ধে প্রস্তাবিত বহুমুখী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে তিস্তার উপরে চাপ কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তার কথায়, ‘এটা করা হলে সেচ কাজে নদীর পানি বেশি ব্যবহার  করা সম্ভব হবে।’
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তা নদীর পানি ভাগাভাগির বিষয়ে এটা অনুমান করা হচ্ছে যে, বর্ষা মৌসুমে সম্ভবত ৬৫/৩৫ কিংবা ৬০/৪০ ভাগ এবং শুকনো (যখন পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল খরা দেখা দেয়) মৌসুমে ৭০/৩০ অনুপাতে ভাগ করা হবে। অনুপাতের এ ভিত্তি অবশ্য বাংলাদেশের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ তিস্তা থেকে তাদের প্রয়োজন পড়ে মূলত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলে সব থেকে শুষ্ক পরিস্থিতিতে। তবে তিস্তায় মার্চ এবং এপ্রিলের মধ্যে পরিস্থিতি সবথেকে খারাপ রূপ নেয়, যখন তিস্তার পানি প্রবাহ প্রায়শ পাঁচ হাজার কিউসেক থেকে এক হাজার কিউসেকে নেমে আসে।
উভয় দেশের সরকারের জন্য তিস্তা বিষয়ে একটি সফল সমাধানে পৌঁছানোকে রাজনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয় মনে করা হয়।
২৯শে মার্চের দি ওয়্যারের সৌজন্যে।

দেশে ফিরেছেন ফখরুল, রোববার সংবাদ সম্মেলন

দেশের চলমান নানা ইস্যু নিয়ে আগামীকাল রোববার সংবাদ সম্মেলেন করবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বেলা ১১টায়র রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য ও জাসাসের সহসভাপতি শায়রুল কবির খান যুগান্তরকে এ তথ্য জানান। এর আগে সিঙ্গাপুরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বিমানের  ফ্লাইটে স্ত্রী রাহাত আরাকে নিয়ে দেশে ফিরেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, গত ২৬ মার্চ রাতে ফখরুল সিঙ্গাপুর যান। সেখানে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়মিত শারীরিক চেকআপ সারেন, ঘাড়ের ক্যারোটিভ আর্টারি ও লিভার জটিলতার চিকিৎসা নেন।
গত বছর কারাগারে বন্দি থাকাবস্থায় মির্জা ফখরুলের ঘাড়ের ক্যারোটিভ আর্টারিতে ব্লক ধরা পড়ে। পরে সুপ্রিম কোর্ট তার অসুস্থতা বিবেচনায় করে তাকে জামিন দেন। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুরে কয়েকদফা চিকিৎসার জন্য যান। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে ছয় মাস পর পর তাকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য যেতে হয়। সর্বশেষ গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিঙ্গাপুরে যান। ওই সময়ে তিনি সিঙ্গাপুরে র‌্যাফেলস হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

মুন্সীগঞ্জে আ’লীগ কর্মী হত্যার প্রতিবাদে থানা ঘেরাও

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আওয়ামী লীগ কর্মী আলেক হত্যার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং থানা ঘেরাও করেছে এলাকার শত শত নারী-পুরুষ। শনিবার সকাল ৯টায় উপজেলার শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়নের সেলামতি গ্রামের ৪/৫ শতাধিক নারী-পুরুষ এ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা মিছিল করে ৩ কিলোমিটার পায়ে হেটে শ্রীনগর এসে আলেক হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে থানা ঘেরাও করে। এ সময় শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) কাজী শরিফুল ইসলাম আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা থানা থেকে চলে যায়। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সেলামতি বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন কাঠের পুল এলাকায় সন্ত্রাসীরা আলেক বেপারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় তার চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
এ সময় মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ধানমন্ডি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যৃ হয়। এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে নিহত আলেক বেপারীর স্ত্রী ইয়াছমীন বেগম বাদি হয়ে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা এমএ কাইয়ুম রতন মিয়াকে হুকুমের আসামি করে ৮ জনের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এ বই বাঙালির ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ

আমরা আজকে এখানে সমবেত হয়েছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লিখিত কারাগারে তার যে স্মৃতিকথা, যে বইটি আমরা বের করলাম সম্প্রতি, সেটাকে কেন্দ্র করেই। এটি তার দ্বিতীয় বই, এর আগে আমরা বের করেছি ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’। কারাগারের এ বইটি আপনারা যদি নিজেরা দেখেন, এখানে তার বেশ কয়েকটা লেখা- অনেকগুলো খাতা। তার মধ্যে একটি খাতা যেটা বহু বছর পর খুঁজে পাওয়া গেছে, আমার একটি লেখায় আমি সেগুলো তুলে ধরেছি। তারপরও আমি আপনাদের একটু দেখাতে চাই যে, আপনারা দেখতে পারেন, এ খাতাটা প্রথম এই যে পাতাটা রয়েছে এখানে দেখুন, সম্পূর্ণ পুরনো একটা খাতার মলাট। আর এ মলাটের ওপর একটা কথা লেখা আছে, আসলে এ বইটা ছিল বাজেয়াপ্ত। জেলখানায় এ খাতাটা বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং সেই তথ্যটা পেয়েছিলাম এসবির রিপোর্ট থেকে। ’৯৬ সালে যখন সরকার গঠন করি তখন এসবির রিপোর্টগুলো নিয়ে এসে সেগুলো ফটোকপি করে রেখে দিই এবং সেখান থেকে জাতির পিতার জীবনের অনেক তথ্য জানতে পারি।
সেখানেই জানতে পারলাম, দু’খানা খাতা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তো দ্বিতীয়বার যখন সরকারে এলাম তখন আমি এসবিকে বললাম, এখানে এসবির যিনি বসে আছেন তাকে, দায়িত্ব দিয়ে বলেছিলাম, এ খাতাটা আমাকে খুঁজে বের করে দিতে হবে এবং ওখানকার কর্মকর্তারা সবাই কষ্ট করেছে এবং ২০১৪ সালে এসে সেই খাতাটা আমি পেলাম, যে খাতাটায় বঙ্গবন্ধু নিজেই কিন্তু নাম দিয়ে গেছেন। তিনি এ খাতায় লিখেছিলেন, ‘থালাবাটি কম্বল জেলখানার সম্বল’; কিন্তু খাতাটা যে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল সেখানে মলাটের ওপর লেখা ছিল, ‘ঈৎরঃরপরংস ড়ভ ঔধরষ অফসরহরংঃৎধঃরড়হ’ এবং সেই কারণে এটাকে বাজেয়াপ্ত করা হয়। তো এত বছর পরে এই খাতাটা পাওয়া যায়। আর বাকি যে খাতাগুলো, আমার লেখার মধ্যে আমি লিখেছি কীভাবে এগুলো আমরা পেয়েছি। আমার মায়ের কথা বারবার মনে পড়ে। কারণ আমার মা সব সময় যখনই বাবা গ্রেফতার হতেন তিনি লেখার জন্য খাতা দিতেন এবং পড়ার যে বইগুলো দিতেন সেগুলো আবার তিনি সব সময় সংগ্রহ ও সংরক্ষিত করতেন এবং বারবার উৎসাহ দিতেন লেখার জন্য। আর এ খাতাগুলো অত্যন্ত সযত্নে রেখে দিতেন। কাজেই সেই খাতাগুলো ফিরে পাওয়া একটা অদ্ভুত ব্যাপার ছিল। কারণ ’৭১ সালে খাতাগুলো উদ্ধার করি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই বাড়ি সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখলে ছিল এবং কীভাবে উদ্ধার করেছি আমার ভূমিকায় আমি তা লিখেছি, আর পুনরাবৃত্তি করতে চাই না। আবার ’৭৫ সালে বাবা, মা, ভাই, বোন সবই হারিয়েছি। ওই বাড়িতে এমন একজন কেউ ছিল না যে কেউ কিছু বলতে পারে। আর আমরা দুই বোন ছিলাম বিদেশে। দীর্ঘ ছয় বছর পর ফিরে আসি। প্রথমে তো আমাকে ওই বাড়িতে ঢুকতেই দেয়া হয়নি। তারপর যখন আমি যেতে পারি তখন অন্য কোনোকিছুই না, প্রথম এলে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম। এরপর যখন আমার একটু হুঁশ হল, আমার শুধু মনে হচ্ছিল মায়ের হাতে রাখা ওই খাতাগুলো কীভাবে উদ্ধার করা যায় এবং আমি কিন্তু ওই বাড়ি থেকে ওই সময় শুধু ওই খাতা কয়টাই নিয়ে এসেছিলাম, আর কিছু নেয়ার মতো ছিলও না, মনও ছিল না। কারণ চারদিকে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ, সেই অবস্থার মধ্যে আমাকে দেখতে হয়েছে ধুলাবালি মাখা সব জালের মধ্য দিয়ে, তখন এ খাতাগুলো নিয়ে আসি।
এখানে আরেকটি খাতা আপনারা দেখবেন ১৯৬৮ সালের, ওটা হচ্ছে তার শেষ লেখা। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১৮ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং এরপরই আগরতলা মামলা হয়। ৫ মাস পর তিনি এ খাতাটা পান। কারণ মামলা শুরু হওয়ার পর খাতাটা তার হাতে দেয়া হয়েছিল। তো সেখানে খুব অল্পই লেখা আছে। কিন্তু ওই খাতাটা নিয়েই আমার একটা স্মৃতি রয়ে গেছে, সেটুকুই শুধু আপনাদের কাছে আমি আজকে বলতে চাই। জানুয়ারি মাসের পর থেকে আমরা জানতাম না তিনি কোথায় আছেন, কীভাবে আছেন, বেঁচে আছেন কিনা- কিছুই জানতে পারিনি। কোনো খবর আমরা জানতাম না; কিন্তু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। যখন মামলা শুরু হল, সেই কোর্টও ছিল ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে। তখনই প্রথম তার সঙ্গে দেখা হল। এরপর আমরা মাঝে মাঝে সাক্ষাৎকারের অনুমতি পেতাম। তাকে অফিসার মেসে রাখা হতো। সেই জায়গাটা এখন একটা মিউজিয়ামের মতো করে রাখা হয়েছে। আমাদের সেনাবাহিনী ওটাকে মিউজিয়াম হিসেবে রেখেছে। অনেকে ইচ্ছে করলে যেতে পারেন। এটা হল শুধু একটা খাট, আর বাকি দুটো চেয়ার। আমি যখন যেতাম, তো একদিন খাটে বসে হঠাৎ দেখি বালিশের নিচে একটা খাতা। তো আমার কী মনে হল, আমি আস্তে খাতাটা বের করে পড়তে শুরু করলাম। আমি যখন পড়তে শুরু করলাম তখন আব্বা আর মা পাশাপাশি চেয়ারে বসা, আব্বা এ জিনিসটা লক্ষ্য করলেন। তিনি উঠে এলেন। আস্তে আমাকে জড়িয়ে ধরে কোনো বকাও দিলেন না, কিচ্ছু বললেন না, শুধু হাত থেকে খাতাটা নিয়ে নিলেন। নিয়ে শুধু এটুকুই বললেন, এখন পড়বি না, আমার মৃত্যুর পরে পড়বি। আমার হাত থেকে তিনি খাতাটা নিয়ে রেখে দিলেন। ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর যখন এ খাতাগুলো হাতে পেলাম, সত্যি কথা বলতে কী,
এগুলো পড়া আমার জন্য খুব কষ্টের ছিল। আমার বান্ধবী ছিল বেবী, ও সব সময় আমার পাশে থাকত, সাহায্য করত; কিন্তু খাতাগুলো যখন পড়ব, কেন যেন কিছুতেই সেই সাহসই পেতাম না। আর বারবার বাবার সেই কথাটা মনে পড়ত। যাই হোক, আমরা এগুলো বই আকারে বের করতে পেরেছি এবং আজকে সবার হাতে তুলে দিতে পেরেছি। হয়তো ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বাংলাদেশে যদি থাকতাম, আমরা দুই বোনও বেঁচে থাকতাম না। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ। একজন মানুষ তার জীবনে সংগ্রাম করে দুটি দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। প্রথমটা হল পাকিস্তান, অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লে আপনারা দেখবেন সেই পাকিস্তান অর্জনের পেছনে তার কত অবদান রয়েছে। আর যখন তিনি উপলব্ধি করলেন, এ পাকিস্তানের অধীনে বাংলাদেশের মানুষ শোষিত-বঞ্চিত, বাংলাদেশের মানুষের কোনো অধিকার নেই; বাংলাদেশের মানুষের টিকে থাকা সম্ভব নয়; তখন তিনি বাঙালির মুক্তির জন্য সংগ্রাম করলেন। আমরা আমাদের জীবনে একটানা দুই বছরও বাবাকে কাছে পাইনি। তবে আমার মা অত্যন্ত সাহসী ছিলেন আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য তার ছিল বিরাট অবদান। তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনে কিছুই চাননি; কিন্তু সব সময় বাবার কাজে সহযোগিতা করেছেন এবং আমাদেরও সেভাবে গড়ে তুলেছেন। আপনারা এ বইয়ের একটি জায়গায় দেখবেন তিনি লিখেছেন (এটি আলাদা একটা খাতায় আমরা পেয়েছিলাম)- আমি একটু পড়ছি : ‘৮ ফেব্রুয়ারি দু’বছরের ছেলেটা এসে বলল, আব্বা বালি চল।
কী উত্তর ওকে আমি দেব। ওকে ভুলাতে চেষ্টা করলাম, ও তো বোঝে না আমি কারাবন্দি। ওকে বললাম, তোমার মার বাড়ি তুমি যাও, আমি আমার বাড়ি থাকি। আবার আমাকে দেখতে এসো। ও কি বুঝতে চায়? কী করে নিয়ে যাবে এই ছোট্ট ছেলেটা, ওর দুর্বল হাত দিয়ে মুক্ত করে এই পাষাণ প্রাচীর থেকে! দুঃখ আমার লেগেছে। শত হলেও আমি তো মানুষ, আর ওর জন্মদাতা। অন্য ছেলেমেয়েরা বুঝতে শিখেছে; কিন্তু রাসেল এখনও বুঝতে শেখে নাই। তাই মাঝে মাঝে আমাকে নিয়ে যেতে চায় বাড়িতে।’ ছোটবেলায় আব্বার সঙ্গে দেখা তো জেলখানায়ই হতো। যখন জামাল ছোট, এরপর রেহানা, তারপর রাসেল, আমি আর কামাল একটু বড় ছিলাম। আমরা জানতাম যে, আমার বাবা দেশের মানুষের জন্য কাজ করে। তাই, আমাদের কোনো আবদার কোনোকিছু বাবার কাছে ছিল না বরং যতটুকু সময় তিনি বাইরে থাকতেন- স্নেহ, ভালোবাসা দিয়ে এমনভাবে আমাদের ভরিয়ে দিতেন যে, আমরা না পাওয়ার বেদনাটা ভুলে যেতাম। এত আদর, এত ভালোবাসা কোনো সন্তান পায় তা আমরা জানি না। যা হোক, আমার জীবনের এটুকুই সার্থকতা যে, এত ঝড়-ঝঞ্ঝা, এত কিছুর পরও তার লেখাগুলোকে আমরা খুঁজে পেয়েছি এবং বাংলাদেশের মানুষকে তিনি ভালোবেসেছেন। তার জীবনের সবকিছু বাংলাদেশের মানুষকে ঘিরে। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, এ দেশের মানুষকে তিনি সব থেকে বেশি ভালোবাসেন। ডেভিড ফ্রস্ট যখন জিজ্ঞেস করেছেন, আপনার কোয়ালিফিকেশন কী? তিনি বলেছেন, আমার দেশের মানুষকে ভালোবাসা। যখন জিজ্ঞেস করেছেন, ডিসকোয়ালিফিকেশন কী? বললেন, দেশের মানুষকে আমি অতিরিক্ত বেশি ভালোবাসি। তাই, ভালোবাসা মানুষের প্রতীক। কারণ বাংলার মানুষকে একটা সুন্দর জীবন তিনি দিতে চেয়েছিলেন।
আর সেই বাংলার মানুষকে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, একটা রাষ্ট্র দিয়ে গেছেন, আত্মপরিচয়ের সুযোগ দিয়ে গেছেন; কিন্তু মানুষকে মানুষের মতো বাঁচার সুযোগ করে দেয়ার জন্য যখনই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তখনই তাকে আর সময় দেয়া হয়নি। স্বাধীনতার পর একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ- যে দেশটা ছিল একটা প্রদেশ। ঔপনিবেশিক শক্তির দ্বারা যে দেশটি শাসিত। এরপর পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শক্তি দ্বারা শাসিত সেই দেশের শাসনভার পেয়ে ’৭২ সালে অল্প সময়ের মধ্যে একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলা- এটা এত সহজ কাজ ছিল না; কিন্তু এখন আমার মাঝে মাঝে এটাই দুঃখ হয় যে, তখন তো কেউ সময় দেয়নি। অনেকেরই কত সমালোচনা- এটা হল না, ওটা হল না। ধৈর্য নেই, নানা ধরনের কথা, কত কিছু মনে হল যেন সেই সময় মানে তার বিরুদ্ধে সমালোচনা করতে করতে সেই স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি তাদের হাতকেই যেন শক্তিশালী করে দিল। আর এখনও আমার মাঝে মাঝে এটাই মনে হয় যে, এই যে তার বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা, নানা কথা লেখার মধ্য দিয়ে তার জীবনটাকে কেড়ে নেয়ার পথটা অর্থাৎ ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটানোর একটা যেন পটভূমি তৈরি করে দিয়েছিল অনেকেই। পরবর্তীকালে হয়তো তারা উপলব্ধি করতে পারছেন কী তারা হারিয়েছিলেন। আর এই বই পড়ার মধ্য দিয়ে- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’- এ দুটি বই পড়ার মধ্য দিয়ে অন্তত বুঝতে পারবেন, একটি মানুষ একটি দেশকে ভালোবেসে দেশের মানুষের জন্য কত ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন। জীবনের কোনোকিছু কোনো চাওয়া-পাওয়া রাখেননি। শুধু এ দেশের মানুষকে তিনি কিছু দিয়ে যেতে চেয়েছেন। রাষ্ট্র দিয়ে গেছেন, আত্মপরিচয়ের সুযোগ দিয়ে গেছেন, ঠিকানা দিয়ে গেছেন। সব সময় তিনি রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতা আবৃত্তি করতেন, ‘উদয়ের পথে শুনি কার বাণী, ভয় নাই ওরে ভয় নাই। নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।’ উদাত্ত কণ্ঠে এই কথা, এই উচ্চারণ করতেন সব সময়। আজকে সেটাই তার জীবনে বাস্তব হল। নিঃশেষে প্রাণটা দিয়ে গেলেন; কিন্তু তাকে যারা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল তারা তা পারল না। তিনি সেই ইতিহাসে আবারও ফিরে এসেছেন এবং এ বাংলার মাটিতে আবার ফিরে এসেছেন তার বাংলাদেশে, তার সোনার বাংলাদেশে। আর আমাদের, আমার একটাই কাজ, বাংলাদেশকে তার সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলা। সেটুকুই শুধু করে যেতে চাই, যতটুকু পারি। তার দুঃখী মানুষের মুখে যেন হাসি ফুটিয়ে যেতে পারি। যখনই একটু কাজ করি, যখন কোনো ভালো কাজ হয় তখন কেবল এটুকু মনে হয় যে, আমার আব্বা আজ বেঁচে নেই, তিনি থাকলে বহু আগেই তো বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ সত্যি উন্নত জীবন পেত; কিন্তু আজকে তিনি বেঁচে নাই। যদি একটু ভালো কাজ করি, নিশ্চয়ই তার আত্মা তো শান্তি পাবে।
তিনি নিশ্চয়ই দেখেন, নিশ্চয়ই জানেন, তিনি নিশ্চয়ই এটা উপলব্ধি করতে পারেন। কাজেই, আজকে আমি এটুকুই বলব যে, এই লেখার মধ্য দিয়ে অনেক কিছু জানতে পারবেন। তবে, এখানেই শেষ না, তার লেখা আরও আছে। সেগুলোও আমরা ধীরে ধীরে প্রকাশ করব এবং সেগুলোও মোটামুটি প্রস্তুত এবং যেহেতু ২০২০ সালে জন্মশতবার্ষিকী, এই জন্মশতবার্ষিকীর মধ্যেই এ লেখাগুলো সব আমরা প্রকাশ করব। সেই সঙ্গে এসবির যে রিপোর্ট- বহু নেতার বিরুদ্ধে এসবির রিপোর্ট আছে- কিন্তু আপনারা অবাক হবেন যে, একজন মানুষ তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪৮ খানার মতো ফাইল যেখানে ৩০-৪০ হাজার পাতা তার বিরুদ্ধেই লিখেছে। কিন্তু সেই বিরুদ্ধে লেখার মধ্য দিয়েই একদিকে যেমন তার জীবনীটা পাওয়া যায়, অপরদিকে বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের অনেক কথা এখানে জানা যায়। সেটাও আমরা তৈরি করেছি, সেটারও কাজ চলছে এবং আমরা এগুলো ডিক্লাসিফাইড করে দিয়েছি। আগে এটাকে আমরা ছাপাব, বের করব একটা ডকুমেন্ট হিসেবে। তবে অফিসিয়াল অনেক লেখা আমরা বাদ দিচ্ছি। কিন্তু মূল কথাগুলো, মূল জিনিসগুলো যাতে থাকে এবং কীভাবে তিনি কাজ করেছেন, কীভাবে রাজনৈতিক দলটা গড়ে তুলেছেন, কীভাবে সমগ্র বাংলাদেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন- সবকিছু সেখানে সুন্দরভাবে লেখা আছে। সেটাও আমরা প্রকাশ করতে চাচ্ছি। খুব শিগগিরই প্রকাশ করব। সেই সঙ্গে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা- এই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তার বিরুদ্ধে একশ’টা অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেখান থেকে দুটি অভিযোগ দিয়ে মামলা করা হয়। তার সব ডকুমেন্ট আমরা তৈরি করে ফেলেছি। সেগুলোও আমরা প্রকাশ করব। এটা বাংলাদেশের ইতিহাস যারা জানতে চাইবে, তারা হয়তো এ ডকুমেন্টগুলো পড়লেই জানতে পারবে। আর কীভাবে তিনি একটা দেশকে স্বাধীন করেছেন, এখানে সেই ছয় দফা দিয়ে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, আট দফা কী ছিল সেটা তার এ লেখার ভেতরে আছে। তাছাড়া অনেক তথ্য আপনারা এ লেখাগুলোর মধ্য থেকে পেতে পারবেন। আপনারা এ বইটা পড়লে দেখবেন তিনি অন্তত দুটি জায়গায় উল্লেখ করেছেন- একটা হচ্ছে, ’৬৬ সালের তার খাতায় লেখা যেখানে তিনি ’৬৬ সালের ২৪ জুলাই একবার লিখেছেন,
‘বিপদে মোরে রক্ষা কর এ নহে মোর প্রার্থনা,
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।’
আবার ’৬৭ সালে সেই ২৩-২৭ এপ্রিল তার যে লেখা খাতাটা, সেই খাতাটায়ও আবার একই কথার পুনরাবৃত্তি আছে,
‘বিপদে মোরে রক্ষা কর এ নহে মোর প্রার্থনা,
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।’ কাজেই, যে আত্মবিশ্বাস ও ভালোবাসা, যে দায়িত্ব নিয়ে তিনি এ দেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন কিন্তু দুর্ভাগ্য এখানে যে, তিনি দেশটাকে গড়ে দিয়ে যেতে পারলেন না। হয়তো একটু সময় পেলে পরে এ দেশটা বহু আগেই একটা উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হতে পারত। বিশ্বের বুকে একটা দৃষ্টান্ত হিসেবে দাঁড়াতে পারত। কিন্তু তিনি তো নিজের জীবনকে কষ্টের জীবন হিসেবেই বেছে নিয়েছেন। কষ্টের জীবন বেছে নিয়েছিলেন এ দেশের মানুষের মুক্তির জন্য, আর সেই মুক্তি তিনি দিয়ে গেছেন। এখন এটা রক্ষা করার দায়িত্ব এ দেশের মানুষের সবার। মানুষের শান্তি, মানুষের নিরাপত্তা, মানুষের উন্নতি, অর্থনৈতিক মুক্তি- সব কাজ আজকে সবাই মিলেই করতে হবে। আজকে যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে কোনো কাজ করতে যাই, তখন দেখি প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সবই তো করে দিয়ে গেছেন। এ দেশের প্রতিটি, একটা স্বাধীন দেশের উপযুক্ত সব প্রতিষ্ঠান গড়ে দিয়ে গেছেন। আইনগুলো করে দিয়ে গেছেন। শুধু বাস্তবায়ন করা, একে একে সেটা আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি আমাদের সাধ্যমতো। রেহানা আসতে পারেনি। আপনারা জানেন, কয়েকদিন আগেই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যেসব জঙ্গি হামলা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হল, রেহানার মেয়ে টিউলিপ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের মেম্বার, সে ওখানে আটকা ছিল। তার ছোট্ট শিশুকন্যাটা সেও ওখানে ছিল। রেহানা ওই খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পরদিন সকালেই রওনা হয়ে চলে গেছে। এ অনুষ্ঠানটায় ওর থাকার কথা ছিল। আমি আসার আগে ওর সঙ্গে ফোনে কথা বলে এসেছি। কারণ ও আমার পাশে থাকুক সেটাই সব সময় চেয়েছি। আমার এ কাজে যারা সাহায্য করেছিলেন সব সময়, একে একে সবাইকেই হারিয়ে ফেলেছি। ড. এনায়েত রহিম সাহেব জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ছিলেন। মূলত তাকে নিয়েই প্রথমে কাজটা শুরু করি। তিনি মারা গেলেন। বেবী আমার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বন্ধু, সব সময় ও আমার পাশে পাশে থাকত, আমরা দু’জন এক সঙ্গে মনের আনন্দে কাজ করতাম, সেও ছেড়ে চলে গেল। প্রফেসর সামসুল হুদা হারুন সাহেব, তিনি এনায়েত রহিম সাহেবের মৃত্যুর পর ট্রান্সলেশনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে আমাকে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইমার্জেন্সিতে গ্রেফতার করল, কারাগারে বসে শুনলাম তিনিও আর নেই, তিনিও চলে গেছেন। এভাবে একে একে সবাইকে হারালাম। শুধু শামসুজ্জামান সাহেব, জামান ভাই শুরু থেকে আমাদের সঙ্গে আছেন। সেই ২০০২ সালের পর থেকে তিনি সব সময় সাহায্য করেছেন, উপদেশ দিয়েছেন। আর সেই সঙ্গে আমাদের, এমনকি শাকিল মাঝখানে সেও সাহায্য করত, ও আপনারা জানেন সে মৃত্যুবরণ করেছে। এভাবে একে একে সবাইকে হারিয়ে মাঝে মাঝে মনে হয় যেন এভাবে সবাইকে কেন হারাচ্ছি জানি না। যা হোক, অবশেষে বইটা আমরা বের করতে পেরেছি। আর আপনাদের হাতে দিতে পেরেছি, জনগণের হাতে দিতে পেরেছি। কারণ জাতির পিতা তো আমার একার পিতা শুধু নয়। তিনি তো বাংলাদেশেরই, বাংলাদেশের জনগণের। তাই তার সবকিছু আমরা জনগণকে বিলিয়ে দিয়েছি। ওই বাড়ি থেকে শুরু করে সবকিছু জনগণকে ফিরিয়ে দিয়েছি।
এখন শুধু একটাই কাজ, দেশটাকে যদি সেভাবে গড়ে তুলে দিয়ে যেতে পারি সেটাই বড় কথা। কাজেই আমি আশা করি, এ বইয়ের মধ্য দিয়ে আপনারা আরও ভালোভাবে জানতে পারবেন, এ দেশকে জানতে পারবেন, মানুষগুলোকে জানতে পারবেন এবং আরেকটা কাজ আমি করেছি, এখানে অনেকের কথা তিনি লিখেছেন। কত ভালো ভালো কথা লিখেছেন; কিন্তু এর মধ্যে অনেকেই তো পরে বেইমানি করে চলে গেছেন। কিন্তু তিনি যার সম্পর্কে যেভাবে যত ভালো কথা লিখেছেন, আমি কিন্তু কোনো কথা বাদ দেইনি। একটি কথাও কাটিনি, ঠিক সেইভাবেই আছে এবং অনেকে হয়তো বেঁচে নেই, অনেকে বেঁচে আছেন। জানি না তারা এখন পড়লে নিজেরাই লজ্জা পাবেন কিনা। কিন্তু আমরা তিনি যাকে যেভাবে দেখেছেন, যেভাবে বর্ণনা দিয়েছেন, যেভাবে ভালো কথা লিখেছেন, সব ঠিক হুবহু ওইভাবে রেখে দিয়েছি। কারণ সব মানুষের সত্য কথাটা জানা উচিত। আর এত সাহস আমার নেই যে, আমরা তার লেখায় হাত দেব। কাজেই যেভাবে লিখেছেন সেইভাবে আমরা রাখার চেষ্টা করেছি। আমরা আশা করি, সবাই এ বইটি পড়বেন এবং এর মধ্য দিয়ে আপনারা কারও সমালোচনা করতে হলে করবেন, কারও কিছু বলার থাকলে বলবেন। আজকের দিনে বারবার আমার বাবা-মায়ের কথা মনে হচ্ছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে সেটুকুই চাই যে, ১৫ আগস্টে তাদের হারিয়েছি, আল্লাহ তাদের বেহেশত নসিব করুন। আর বাংলাদেশ তিনি দিয়ে গেছেন, বাংলাদেশ থাকবে, উন্নত হবে, সমৃদ্ধশালী হবে, তার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ আমরা গড়ে তুলব। গত ২৮ মার্চ ‘কারাগারের রোজনামচা’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ভাষণ

উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন দেশের সমৃদ্ধির গতিকে বেগবান করবে

সম্প্রতি দেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর জেলায় সফরে গিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দলের নির্বাচনী স্লোগান হবে- ‘এবারের সংগ্রাম উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের সংগ্রাম’ (যুগান্তর, ২৩ মার্চ)। তিনি তার বক্তব্যে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল ও সড়ক যোগাযোগের দুরবস্থার অবসান, উত্তরাঞ্চলের খনিজসম্পদ উত্তোলন এবং জাতীয় উন্নয়নে সেগুলোর ব্যবহার, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর বালাসী-বাহাদুরাবাদ এলাকায় সেতু নির্মাণ ও বাংলবান্ধা, বুড়িমারী, সোনাহাট, হিলিসহ উত্তরাঞ্চলের সব স্থল-শুল্কবন্দর উন্নয়নে অগ্রাধিকার প্রদানের জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন। যুগান্তের প্রতিবেদন মোতাবেক রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল ও সড়ক যোগাযোগের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে এইচএম এরশাদ বলেছেন, এখনও রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার মানুষ প্রয়োজন অনুপাতে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
এ অঞ্চল থেকে ঢাকা যেতে ট্রেনে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা সময় লাগে। তার শাসনামলে রংপুরে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু ছিল। এখন তা বন্ধ। শুধু একটি ট্রেন চালু আছে, ‘রংপুর এক্সপ্রেস’, তা-ও আবার সারা দিনে একবার ঢাকায় যায়। আবার ঢাকা থেকে একবার রংপুরে আসে। সেখানে বগি সংকট। বগিগুলো পুরনো। লাইট জ্বলে না। ফ্যান ঘুরে না। পানি থাকে না। দরজা-জানালা, বসার জায়গা-বেঞ্চ-চেয়ার ভাঙা, জরাজীর্ণ। সেই ট্রেন রংপুর থেকে ঢাকা পৌঁছতে সময় লাগে ১২ ঘণ্টা। শান্তাহার ঘুরে যেতে হয়। যদি রংপুর থেকে গাইবান্ধা ও বগুড়া হয়ে সরাসরি বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ঢাকা যাওয়া যেত, তাহলে রংপুর থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগত ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হতো না। এজন্য প্রয়োজন মতো রেললাইন স্থাপন করা প্রয়োজন; কিন্তু তা না করায় বঙ্গবন্ধু সেতুর সুবিধা থেকে এ অঞ্চলের মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সড়কপথের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, সড়কপথগুলো কম প্রশস্ত। তাই প্রায় সময় ঢাকা থেকে উত্তরের জেলাগুলোয় যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিন প্রাণহানি ঘটছে। শুধু তাই নয়, প্রায়ই ওই সড়কে যানজট লেগে থাকে। মানুষের কর্মঘণ্টা যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে। এজন্য ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ সড়কগুলো চার লেনে উন্নীত করা জরুরি। তাহলে এ অঞ্চলের শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর বালাসী-বাহাদুরাবাদ এলাকায় সেতু নির্মাণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এরশাদ বলেন, এ সেতুতে রেল ও সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা হলে উত্তরের মানুষের ঢাকায় যাতায়াতে সময় আরও কমে আসবে। উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন সরকার বেশ কয়েকটি বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফাস্ট-ট্রাকভুক্ত করেছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প, পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্প, দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার এবং রামু-ঘুমধুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (এমআরটি), পায়রাবন্দর নির্মাণ প্রকল্প, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোলফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট, মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প। এসব প্রকল্পের মধ্যে মাত্র একটি প্রকল্প (রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র) দেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। ‘উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য কোনো সরকার পরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ ও উন্নয়ন কাজে মনোযোগী না’ উল্লেখ করে এইচএম এরশাদ বলেন, দেশের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির পাথর উন্নত। এ পাথর দিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণকাজে ব্যয় করা গেলে নির্মাণ ব্যয় সাশ্রয় হবে; কিন্তু জানা গেছে, যান্ত্রিক সমস্যার কারণে দেড় বছর ধরে ওই খনির পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। ফলে ভারত থেকে পাথর আমদানি করে দেশের বিভিন্ন প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে। রংপুরের পীরগঞ্জের খালাসপীরে উন্নতমানের কয়লাখনি রয়েছে। এ নিয়ে পাকিস্তান আমলে এবং স্বাধীনতার পর বহুবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে; কিন্তু আজও তা উত্তোলনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পীরগঞ্জ থেকে কয়লা উত্তোলন করা হলে রংপুর অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলের মানুষগুলোর জীবনমানের উন্নয়ন হবে। প্রাচীনকাল থেকে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন কৃষি। অনেকের মতে, প্রাগৈতিহাসিককাল থেকেই উত্তরাঞ্চলে কৃষির গোড়াপত্তন হয়েছে এবং তা ক্রমান্বয়ে বিকশিত হয়েছে। প্রাচীনকালে এ অঞ্চলে উৎপন্ন কৃষিপণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ধান, পাট, মরিচ, হলুদ, আদা, রসুন, তুলা, রেশম, আখ, পান, সুপারি ও বিভিন্ন ফলমূল। মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে কৃষিপণ্য উৎপাদনের এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। এসব কৃষিপণ্যের দাম সস্তা হওয়ায় (উদাহরণস্বরূপ ১ মণ চালের দাম ১ আনা ৯ পাই) মোট জনসংখ্যার সিংহভাগ কৃষকের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্দশাগ্রস্ত ছিল। ইংরেজ শাসনামলে এ অঞ্চলে যোগ হয় নীল চাষ; কিন্তু এ নীল চাষ থেকে চাষীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হননি। ব্যবসা-বাণিজ্য মাড়োয়ারি, অন্যান্য বিদেশী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কিছুসংখ্যক মহাজনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় ব্যাপক জনগোষ্ঠী এতে লাভবান হয়নি।
কেননা পণ্যের স্থানীয় মূল্য কখনোই রফতানি মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি। পাকিস্তান আমলে উত্তরাঞ্চলসহ তৎকালীন পূর্ব পকিস্তানে কৃষি খাত ছিল স্থবির। বাংলাদেশ আমলে চাষাধীন জমির পরিমাণ বাড়লেও জমিতে বিরামহীনভাবে চাষাবাদ করায় ও কম উর্বর জমি চাষাবাদের আওতাভুক্ত হওয়ায় একর প্রতি গড়পড়তা ফলনও তেমন বাড়েনি। তাছাড়া উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও উন্নত বিপণন ব্যবস্থার অভাবে কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। ফলে তাদের অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না। দেশের উত্তরাঞ্চলটি যুগ যুগ ধরে শিল্প খাতে রয়ে গেছে অনুন্নত। ইংরেজ আমলের কথা বাদ দিলেও পাকিস্তান আমলে শিল্প খাতে যেটুকু অগ্রগতি হয়েছিল, তা ছিল ভারি শিল্প খাতে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকা ও দুটি বড় সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজগম্য না থাকায় সঙ্গত কারণে উত্তরাঞ্চলে বৃহৎ শিল্পের প্রসার ঘটেনি। বাংলাদেশ আমলেও এখানে বড় বা মাঝারি ধরনের শিল্পের তেমন প্রসার ঘটেনি। অবকাঠামোগত সুবিধার অভাব, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা, পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের অভাবে উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগে গ্যাসভিত্তিক শিল্প স্থাপনে শিল্পোদ্যোক্তারা বড় ও মাঝারি শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসছেন না। বিশেষ করে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় গ্যাসভিত্তিক ইউরিয়া সার কারখানা, সিরামিক শিল্প, ওষুধ শিল্প, তৈরি পোশাক শিল্প, অটো অ্যাসেম্বলি শিল্প ইত্যাদি গড়ে উঠতে পারছে না। ফলে বাড়ছে না এখানকার মানুষের কর্মসংস্থান, লাঘব হচ্ছে না তাদের আর্থিক দুরবস্থা। প্রাচীনকাল থেকে মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল উত্তরাঞ্চলের অধিবাসীদের অর্থনৈতিক দুরবস্থা স্বাধীনতা-পরবর্তী সাড়ে চার দশকে প্রায় অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। এর প্রমাণ পাওয়া যায় বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও বিশ্বখাদ্য সংস্থা কর্তৃক যৌথভাবে তৈরি এবং ২০১৪ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের পভার্টি ম্যাপ বা দারিদ্র্য মানচিত্র থেকে। দেশে যখন জাতীয় পর্যায়ে দারিদ্র্যের হার কম-বেশি ৩০ শতাংশ, তখন দেশের উত্তরাঞ্চলে রংপুর বিভাগে দারিদ্র্যের হার ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ। দেশের প্রশাসনিক বিভাগগুলোর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে রংপুর বিভাগে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি। আবার দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি রংপুর বিভাগের আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলায়। এ জেলায় দারিদ্র্যের হার ৬৩ দশমিক ৭ শতাংশ, অর্থাৎ জাতীয় দারিদ্র্য হারের দ্বিগুণ।
উত্তরাঞ্চলের আরেকটি বিভাগ রাজশাহীর অবস্থাও সুবিধাজনক নয়। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে যখন দারিদ্র্যের হার যথাক্রমে ২৬ ও ২৮ শতাংশ, তখন রাজশাহী বিভাগে দারিদ্র্যের হার ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত ইকোনমিক সেন্সাস ২০১৩-এর প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘The findings shwo that at the division level, large variation still persists in economic activities’, যার অর্থ দাঁড়ায় ইকোনমিক সেন্সাস রিপোর্ট ২০১৩ অনুযায়ী বিভাগীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বৈষম্য রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা বিভাগে যখন ‘ইকোনমিক ইউনিটের’ সংখ্যা ২৫,৯৯,৩৭২টি, তখন রংপুর বিভাগে এ সংখ্যা ১০,৮৮,২৫৫টি। ১৩,৮৪,৭৫৭টি ইকোনমিক ইউনিট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সার্বিক কৃষি খাত তিস্তার পানি প্রবাহের ওপর দারুণভাবে নির্ভরশীল। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০০ বছর আগে তিস্তা উত্তরাঞ্চলে বৃহত্তম নদী হিসেবে পরিচিত ছিল। করতোয়া, আত্রাই, যমুনেশ্বরী ইত্যাদি নদী তিস্তার বিপুল জলরাশি নিয়ে প্রবাহিত হতো। এক সময়ের উচ্ছলা যৌবনা তিস্তা এখন অপমৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদী নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে তিস্তার ভারত অংশে গজলডোবা ব্যারাজ নির্মাণ করা হয়েছে। পানি সরিয়ে সেচ কাজ এবং বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে পানির প্রবাহ ভীষণভাবে কমে গেছে। ফলে বাংলাদেশের ১২৫ কিলোমিটার তিস্তা অববাহিকায় সার্বিক কৃষি খাত ও জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। তাছাড়া শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ দারুণভাবে কমে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। সার্বিকভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। ভারত সরকার নানা অজুহাতে তিস্তার পানির ন্যায্য বণ্টনে চুক্তি সম্পাদনে এগিয়ে আসছে না। সবশেষে যা বলা দরকার তা হল, উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও মানুষকে দেশের উন্নয়নের মূল ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন দেশের উন্নয়নের গতিকে বেগবান করবে।
আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক
latifm43@gmail.com

রাউদার ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার আলামত

বাংলাদেশে পড়তে আসা মালদ্বীপের বাসিন্দা আত্মহত্যাকারী মডেল তারকা রাউদা আদিবের লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে আত্মহত্যার আলামত পাওয়া গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লাশের ময়নাতদন্তের অনুমতি দিলে গতকাল দুপুর ২টার দিকে রাউদা আদিবের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এতে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার বাইরে লাশের শরীরে কোনো আলামত পাওয়া যায় নি।
ময়নাতদন্তের টিম প্রধান ডাক্তার এনামুল হক গণাধ্যমকে জানিয়েছেন, লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রাথমিকভাবে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলেই মনে হচ্ছে। তবে ভিসেরা প্রতিবেদনের জন্য লাশের শরীর থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ভিসেরা প্রতিবেদন আসার পরেই রাউদার মৃত্যু নিয়ে তারা পরিষ্কার ধারণা পাবেন।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেয়ের লাশ দেখতে রামেক হাসপাতালের হিমঘরে যান বাবা ডা. মোহাম্মদ আদিব ও মা আমিনাথ মুহারমিমাথ। মেয়ের লাশ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মালদ্বীপের এই দম্পতি। পরে মেয়ের লাশের ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্তের কথা জানান বাবা ডা. মোহাম্মদ আদিব।
দুপুর ১টার দিকে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারপর ময়নাতদন্ত করেন ওই তিন চিকিৎসক। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান এনামুল হকের নেতৃত্বে রাউদার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্তকারী অন্য দুই ডাক্তার হলেন ফরেনসিক বিভাগের ডা. মনসুর রহমান  ও ডা. এমদাদুর রহমান।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পূর্ব) আমীর জাফর জানান, লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, আত্মহত্যা ছাড়া অন্য কোনো কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধরা পড়েনি। তারপরও ভিসেরা রিপোর্টের জন্য ঢাকায় কিছু আলামত পাঠানো হবে। তারপর মৃত্যুর আসল ঘটনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই উপ-কমিশনার বলেন, এখন পর্যন্ত তার পরিবার এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়েরের কথা বলেননি। তাই আপাতত অপমৃত্যুর মামলাই রুজু থাকছে শাহ মখদুম থানায়। তিনি বলেন, লাশ ঠিক কখন ঢাকায় কিংবা মালদ্বীপে পাঠানো হবে সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর আগে রাউদার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে গত বৃহস্পতিবার পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল আজিজ রিয়াদ জানান, কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. আবদুল মুকিত সরকারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া রাউদার মরদেহ উদ্ধারের ব্যাপারে বৃহস্পতিবার খোঁজ-খবর নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আইশাদ শান সাকির। ওইদিন বিকাল চারটার দিকে তিনি রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। এ সময় তিনি রাউদার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার সহপাঠী, শিক্ষক ও কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২৯ মার্চ) রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজছাত্রী হোস্টেলের বিদেশি ব্লকের ২০৯ নম্বর কক্ষে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় রাউদার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। এই মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ১৩তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন রাউদা। বিদেশি কোটায় ভর্তির পর গত বছরের ১৪ই  জানুয়ারি মহিলা হোস্টেলের দ্বিতীয় তলার ওই কক্ষে উঠেছিলেন রাউদা। ওই ব্লকে আরো ১৪ জন বিদেশি ছাত্রী থাকেন।

দুধ বেশি খেলে কি ক্ষতি

দিনে নিয়মিত এক গ্লাসের বেশি দুধ পান করলে নারীদের হাড় ভাঙার সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং পুরুষরা হৃদরোগে মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলেই ধারণা করছেন গবেষকরা। সুইডেনের বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বেশি দুধ পানের সঙ্গে নারী-পুরুষের এমন স্বাস্থ্য সমস্যার সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে। গবেষণা প্রতিবেদনটি ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান এ খবর দিয়েছে দুধের অনেক গুণ, এ কথাই আমরা জানি। দুধ ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম এবং ভিটামিন বি-১২সহ নানা পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ।
ব্রিটেনের সরকারি স্বাস্থ্য পরামর্শে বলা হয়ে থাকে, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে প্রায় ৭০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন হয় এবং দুধ এই ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। দেশটির ডেইরি কাউন্সিল বলছে, নিয়মিত দুধ পানে হাড়ের ক্ষয় রোগ দূর হয় এবং স্তন ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। দাঁতের চিকিৎসকরাও দিন ও রাতের আহারের ফাঁকে পানি ছাড়া দুধকেই আদর্শ পানীয় বলে উল্লেখ করে থাকেন। কিন্তু সুইডেনের একটা গবেষক দল সম্প্রতি দুধের এই ‘আদর্শ পানীয়ের’ প্রতি ‘অতিরিক্ত পক্ষপাত’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ১৩ থেকে ২২ বছর বয়সী ৬১ হাজার নারী এবং ৪৫ হাজার পুরুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, দিনে এক গ্লাসের বেশি দুধ খেলে নারীদের হাড় ভাঙার সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং পুরুষরা হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

রক্তপাত বন্ধ হবে দেড় মিনিটে, সাড়া ফেললেন দুই ভারতীয় বিজ্ঞানী

সেনাবাহিনীর জন্য কিছু করবেন, এই ইচ্ছাটা ছিল ছোটবেলা থেকেই। সেই ‘কিছু করার’ ইচ্ছাটার বাস্তব প্রয়োগ করতে গিয়ে একেবারে যেন ‘সঞ্জীবনী সুধা’ আবিষ্কার করে ফেললেন দুই ভারতীয় বিজ্ঞানী। আর তাঁদের এই নতুন আবিষ্কারে শুধু সেনাবাহিনী নয়, উপকৃত হবেন লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষও।
কী এমন জিনিষ আবিষ্কার করেছেন তাঁরা?
বেঙ্গালুরুর দুই বিজ্ঞানী এম এস সন্তোষ এবং দিবাকর এম বি-র দাবি, তাঁরা গবেষণাগারে তৈরি করে ফেলেছেন এমন এক ধরনের স্পঞ্জ, যা মুহূর্তেই রক্ত তঞ্চনে সক্ষম। ডিএপিজিএস (কার্বক্সাইল-লিঙ্কড গ্রাফিন স্পঞ্জ) নামক এই স্পঞ্জ গভীর ক্ষতস্থানে প্রয়োগ করলে ৯০ সেকেন্ডের মধ্যেই রক্তপাত কমে যাবে বলে দাবি করছেন তাঁরা।
সম্প্রতি জ্যোতি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সেন্টার ফর ইনকিউবেশন, ইনোভেশন, রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সির গবেষণাগারে সন্তোষ এবং দিবাকর তৈরি করেছেন এমনই ‘আজব’ স্পঞ্জ।সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সন্তোষ জানান, ‘‘যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ স্পঞ্জ তৈরি করেছি আমরা। যা খুব সহজেই রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করবে।’’ তবে তাঁদের এই আবিষ্কার যে গুরুতর আহতদেরও সাহায্য করবে তা মেনে নিচ্ছেন অনেক বিশেষজ্ঞই।
কী ভাবে রক্ত তঞ্চনে সাহায্য করে ডিএপিজিএস স্পঞ্জ?
ক্রস লিঙ্ক গ্রাফিন মেটিরিয়াল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই স্পঞ্জ। যাতে থাকে দ্রুত শুষে নেওয়ার ক্ষমতা। পাশাপাশি এই স্পঞ্জে থাকে মেডিক্যাল অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং বায়োকম্পাটিবল প্রোটিন। যা যে কোনও ধরনের সংক্রমণের হাত থেকে ক্ষতস্থানকে রক্ষা করে।দিবাকরের দাবি, ‘‘ডিএপিজিএস স্পঞ্জ শুধু ভাল আর দ্রুত কাজ করে তাই নয়, এর দামও বেশ সস্তা।’’
এই মুহূর্তে বাজারে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছে ডিএপিজিএস। দুই বিজ্ঞানী জানাচ্ছেন, এই স্পঞ্জের পেটেন্ট নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত মূলধন জোগাড় করে গবেষণা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও চলছে সমানতালে।
সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

জানালা দিয়ে ঝুলছেন পরিচারিকা, না বাঁচিয়ে পড়ে যাওয়ার ভিডিও করছেন মালিক

সাত তলার জানালা থেকে ঝুলে রয়েছেন এক মহিলা। যে কোনও মুহূর্তে হাত ফস্কে পড়ে যাবেন নীচে। আর জানালার অপরপ্রান্তে অর্থাৎ ঘরের ভিতর থেকে সে দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করছেন আর এক মহিলা। তাঁকে উদ্ধার না করে এই ঘটনার ভিডিও করতেই ব্যস্ত তিনি।
প্রথম মহিলা হলেন দ্বিতীয় মহিলার পরিচারিকা। প়ড়ে যাওয়ার সেই দৃশ্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেন তিনি। পরিচারিকাকে বাঁচানোর বদলে ভিডিও করা এবং সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার অভিযোগে তাঁকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার এই ঘটনাটি ঘটেছে কুয়েতে।প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, ওই মহিলা সাত তলার ব্যালকনি থেকে সুইসাইডের চেষ্টা করছিলেন। জানালা ধরে বাইরে ঝুলেও পড়েন। কিন্তু তার পরেই তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারেন। বাঁচতে চেয়ে সাহায্যের আবেদন করতে থাকেন। ঘটনার সময় ঘরের ভিতরে হাজির ছিলেন তাঁর মালিক। পরিচারিকা যখন জানালা ধরে ঝুলে রয়েছেন আর সাহায্যের আর্তি জানাচ্ছেন, তিনিও তখন ক্যামেরা বের করে ভিডিও করছিলেন। ১২ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতেই পরিচারিকাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাকে ধরুন, আমাকে ধরুন’। পরিচারিকার সাহায্যের উত্তরে মালিক তাঁকে শুধু বলেন, ‘ফিরে এসো’। কিন্তু হাত বাড়িয়ে তাঁকে বাঁচানোর কোনও চেষ্টাই তিনি করেননি। কিছু পরে হাত ফস্কে নীচে পড়ে যান পরিচারিকা। মাথায় ও কানে গুরুতর চোট পেয়েছেন তিনি।এই ঘটনাটি অবশ্য কেউই টের পেতেন না, যদি না মালিক ওই মহিলা ঘটা করে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেন। সেখান থেকে খবর পেয়েই পুলিশ ওই মহিলাকে আটক করেছে। ওই মালিকের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে সরব হয়েছে কুয়েতের মানবাধিকার কমিশনও।
পুলিশ সূত্রে খবর, কুয়েতে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৬ লক্ষেরও বেশি পরিচারিকার বাস। তাঁদের অনেকেই মালিকের বিরুদ্ধে কাজ করিয়ে টাকা না দেওয়া এবং মানসিক ও শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই পরিচারিকাও তেমনই কোনও কারণে সুইসাইড করতে গিয়েছিলেন কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

ঢাকায় ৫ দিন প্রাইভেটকার না নামানোর আহ্বান

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাজধানীতে শনিবার থেকে আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিন প্রাইভেটকার না নামানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণপ্লাজায় ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) সম্মেলনের নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার, আইপিইউ প্রধাসনসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ বিদেশী অতিথি অংশ নেবেন। ইতিমধ্যে ১ হাজার ১৫০ জন অতিথি চলে এসেছেন। তাই বিদেশী অতিথিদের চলাচল নির্বিঘ্ন ও সহজ করতে প্রয়োজন ছাড়া গাড়ি বের না করার অনুরোধ করছি।' সম্মেলনের নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, 'সম্মেলনের ভেন্যু জাতীয় সংসদ ভবন ও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।' এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'জঙ্গিবাদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো অতিথি সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না, এমন হয়নি। তারা আগ্রহ নিয়েই এখানে যোগ দিচ্ছেন।
তাদের নিরাপত্তায় আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।' এ সময় তিনি আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানান। শনিবার ঢাকায় শুরু হচ্ছে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৩৬তম সম্মেলন। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় পাঁচ দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এ সময় তিনি স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন এবং আইপিইউ ওয়েবটিভি উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন উপলক্ষে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বর্ণিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনের অন্যান্য ইভেন্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) অনুষ্ঠিত হবে।

এইচএসসির 'প্রশ্নপত্র'সহ আটক ২

আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্রসহ দু'জনকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উত্তর বিভাগ। শনিবার এক এসএমএস বার্তায় পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির মিডিয়া সেন্টরের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান। প্রসঙ্গত, এবারের সূচি অনুযায়ী ২ এপ্রিল থেকে এইচএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে ১৫ মে পর্যন্ত।
১৬ থেকে ২৫ মে হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। এবারও শুরুতে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশ এবং পরে রচনামূলক অংশের পরীক্ষা হবে। ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষার সময় ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল পরীক্ষার সময় আড়াই ঘণ্টা। যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা রয়েছে সেগুলোর ২৫ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষার সময় ২৫ মিনিট এবং সৃজনশীল অংশের জন্য দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

লম্বা দাড়ি ও বোরকা নিষিদ্ধ চীনের সিনজিয়াংয়ে

সিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিমদের লম্বা দাড়ি রাখা, প্রকাশ্য স্থানে বোরকা পরা নিষিদ্ধ করে নতুন আইন করেছে চীন। বলা হয়েছে, দেশটির সবচেয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় এ প্রদেশে ইসলামপন্থি উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আওতায় এমন আইন করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, অস্বাভাবিক লম্বা দাড়ি রাখা যাবে না। প্রকাশ্য স্থানগুলোতে পরা যাবে না বোরকা। যারা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেখেন না তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়েছে, সিনজিয়াং হলো উইঘুর সম্প্রদায়ের মুসলিমদের বসবাস। তারা দীর্ঘকাল সেখানে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এ জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে রক্তাক্ত সংঘাত হয়েছে। এ জন্য ইসলামপন্থি উগ্রবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দায়ী করে চীন সরকার। তবে মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো বলে, এর জন্য দায়ী অধিক হারে নিষ্পেষণমুলক নীতি। তারা আরো বলছেন, নতুন করে যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হচ্ছে তাতে উইঘুর সম্প্রদায়কে আরো বেশি কট্টরপন্থি করে তুলবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, নতুন করে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আইন করা হয়েছে তাতে শিশুরা সরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তি হতে পারবে না। এই বিধিনিষেধ অনুমোদন দিয়েছেন সিনজিয়াংয়ের আইন প্রণেতারা। পরে তা সরকারি ওয়েব সাইটে প্রকাশিত হয়েছে। এর আগেও চীনা কর্তৃপক্ষ এ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে তাদের পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ অন্যতম। উল্লেখ্য, উইঘুর মুসলিমরা আসলে জাতিগতভাবে তুর্কি মুসলিম। সিনজিয়াংয়ের মোট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ৪৫ ভাগই তারা।

বড়হাটে অভিযান শেষ, নারীসহ ৩ জঙ্গি নিহত

মৌলভীবাজার শহরের বড়হাটে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় চালানো 'অপারেশন ম্যাক্সিমাস'র সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে এক নারীসহ তিন জঙ্গি নিহত হয়েছে। অভিযান শেষে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এক ব্রিফিংয়ে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এ তথ্য দেন। ব্রিফিংয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, 'বড়হাটেও আমরা সফলভাবে অভিযান শেষ করতে পেরেছি। বাড়িটির ভেতরে একজন নারী ও দু'জন পুরুষের লাশ রয়েছে।' তিনি জানান, অভিযানে নিহতের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুরুষ দু'জনের মধ্যে একজন সিলেটে চেকপোস্টে বোমা হামলা করে পুলিশ সদস্য হত্যার নেতৃত্বে ছিল বলে আমরা ধারণা করছি। এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শুরু হয়।
অভিযানের শুরুতে সোয়াত টিম আস্তানা লক্ষ্য করে চার রাউন্ডের মতো গুলি ছোড়ে। তবে এ সময় জঙ্গি আস্তানা থেকে কোনো গুলি ছোড়ার শব্দ পাওয়া যায়নি। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আস্তানার ভেতরে প্রবেশ করে কিছু সময় পর বেরিয়ে আসে সোয়াত সদস্যরা। এর আগে সকাল ৯টার দিকে সোয়াত, র‌্যাবসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নেন। পরে সকাল ১০টার দিকে সিলেট রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি কামরুল হাসান সেখানে উপস্থিত হন। এরপর সোয়া ১০টার দিকে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে অন্যদের সঙ্গে যোগ দেন। এই অভিযানে ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে জঙ্গিদের অবস্থান শনাক্ত এবং গোলাবারুদ ও অস্ত্রের মজুদ সম্পর্কে ধারণা নেয়া হয়। উল্লেখ্য, গত বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকার একটি দোতলা বাড়ি এবং সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের নাসিরপুরের একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় আইনশৃংখলা বাহিনী। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকালে মৌলভীবাজারের নাসিরপুরে জঙ্গি আস্তানায় সোয়াতের 'অপরাশেন হিটব্যাক' শেষ হয়। এতে দুই নারী ও চার শিশুসহ সাতজন নিহত হয়।

‘মধ্যপ্রদেশে রোমিও বিরোধী অভিযান চালাবে সরকার, ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড’

মধ্য প্রদেশে যৌন নিপীড়কদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। এখানেই শেষ নয়, ধর্ষকদের ফাঁসি দেয়ার জন্য আইন করার কথাও বলেছেন তিনি। এ নিয়ে তিনি ধর্ষকদের বিরুদ্ধে তিনবার মৃত্যুদন্ডের পক্ষে কথা বললেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়, মাত্র এক সপ্তাহ আগে রোমিও (রাস্তার পাশে আপত্তিকর অবস্থায় থাকা প্রেমিক-প্রেমিকা) বিরোধী স্কোয়াড গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ। ঠিক তার পথই অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। তিনি বার বারই মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। নর্মদায় মাদকের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়ার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এসবই যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে তিনি নারীদের মন জয় করতে পারবেন। আগামী বছর ২০১৮ সালে সেখানে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে নারীদের এমন সন্তুষ্টি অর্জন তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি খুব ভালভাবেই জানেন যে, ধর্ষণের লজ্জাজনক স্থান হয়েছে উঠেছে মধ্যপ্রদেশ। ২০১৫ সালে সেখানে ৪৩৯১টি ধর্ষণ হয়েছে। এ জন্য এ প্রদেশকে কেউ কেউ তিরস্কার করে ভারতে ধর্ষণের রাজধানী বলে  আখ্যায়িত করেছেন। শিবরাজ চৌহান ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ঘোষণা শুক্রবার তৃতীয়বারের মতো দিয়েছেন। প্রথমবার যখন তিনি এ ঘোষণা দিয়েছিলেন তখন তিনি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। শুক্রবার তিনি সাব-ইন্সপেক্টরদের এক প্যারেড পরিদর্শন করছিলেন। ভুপালের ঠিক বাইরে ভৌরিতে তিনি পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমিতে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।  সেখানে তিনি বলেছেন, ধর্ষকদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়ার জন্য এবার বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে আমরা একটি বিল আনবো। এটা পাস হলেই তা সম্মতির জন্য পাঠিয়ে দেয়া হবে প্রেসিডেন্টের কাছে। তিনি আরও বলেন, রাজ্য ও দেশের জন্য প্রশম যে অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে তা হলো আইন শৃংখলা রক্ষা করা। এটা পুলিশের একটি বড় দায়িত্ব। রোমিওদের বিরুদ্ধেও আমরা অভিযান চালাবো। ওদিকে কর্মকর্মারা বলেছেন, ধর্ষকদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে ভারতীয় দন্ডবিধি (আইপিসি) সংশোধন করতে হবে। এটা শুধু রাজ্য সরকার করতে পারবে না। তারা আরো বলেছেন, নারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করা অবশ্যই কঠিন হবে।

সাভারে চাঁদাবাজিকালে এসআই আটক

সাভারে সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করার সময় ট্রাফিক পুলিশের এসআই দুলালসহ দু'জনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে সাভারের বাজার রোড এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে সাভার বাজার রোডের ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান আজাদের কাছে সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে দুলাল ও বারেক নামের দু'জন পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তারা সত্যিকার অর্থে সিআইডি পুলিশ কিনা এ বিষয়ে আমিনুরের মনে সন্দেহ হলে অন্য ব্যবসায়ীদের খবর দেন।
এ সময় দুলাল ও বারেককে চা পানে ব্যস্ত রাখেন তিনি। এক পর্যায়ে অন্যরা এসে তাদের কাছে সিআইডি পুলিশের পরিচয়পত্র দেখাতে বলেন। পরিচয়পত্র দেখাতে না পারায় তাদের দু'জনকে আটক করে সাভার থানা পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ তাদের নিয়ে যায়। সাভারে দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. আবুল হোসেন যুগান্তরকে জানান, এসআই দুলালকে সাভার থেকে গত ২৯ মার্চ ময়মনসিংহ পুলিশ রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। ছুটির সময় তিনি শনিবার সকালে প্রতারণার অভিযোগে আটক হয়েছেন। সাভার থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

গুজরাটে গরু জবাই করলেই ১৪ বছরের জামিন অযোগ্য জেল

ভারতের গুজরাটে গরু জবাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন করা হচ্ছে। শুক্রবার সেখানকার বিধানসভায় এ নিয়ে একটি বিলের ওপর ভোট দেন এমএলএ’রা। বিরোধী দলের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে এ বিলটি পাস হয়েছে। এর অধীনে কোনো ব্যক্তি গরু জবাই করলেই তাকে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের জেল দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। শাস্তি হবে জামিন অযোগ্য। এ একই সঙ্গে সর্বনিন্ম এক লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানা করার কথা বলা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়েছে, গুজরাট সরকার শুক্রবার ‘গুজরাট এনিম্যাল প্রিভেনশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০১৭’ নামের বিলটি পাস করে। বিলটি পাসের সময় বিরোধীরা পার্লামেন্টে উপস্থিত না থাকলেও দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন জাফরান রঙের পোশাক পরা বিপুল সংখ্যক সাধু। এ বিলটির খসড়াকারী দলের এক সরকারি শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, কেউ গরু জবাই করলে তাকে এ বিলের অধীনে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের জেল দেয়া হবে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ সিং জাদেজা বলেছেন, চৈত্রের এই নবরাত্রীর শুভক্ষণে বেশ কিছু সাধু-সন্ন্যাসীর পরামর্শে গুজরাট এনিমেল প্রটেকশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০১৭ সংশোধন করেছে। এটাই এদেশে সবচেয়ে কঠিন আইন। আমাদের ধর্ম, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষার জন্য এটা প্রয়োজন ছিল। উল্লেখ্য, এ বছরেই সেখানে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে হিন্দু ভোটারদের দলে টানার জন্য এ বিল করা হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। প্রদীপ সিং জাদেজা বলেন, গরুর এক ফোঁটা রক্তও হিন্দুদের অনুভূতিতে আঘাত করে। গরু হত্যাকে আমরা মানুষ হত্যার সমান বলে মনে করি। উল্লেখ্য, প্রথমে যখন এ বিলটির খসড়া জমা দেয়া হয় বিধানসভায় তখন গরু জবাইয়ের শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছিল সর্বোচ্চ ১০ বছর। কিন্তু রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার সেই শাস্তি বৃদ্ধি করে ১৪ বছর করার প্রস্তাব দেয়। সেটা শুক্রবার পার্লামেন্টে তোলা হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে জবাই করার জন্য গরু অন্যত্র সরিয়ে দেয়া, বিক্রি করা, জড়ো করে রাখা বা প্রদর্শন করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ এ আইনে। এমন অন্যায়ের জন্য ১০ বছর জেল দেয়ার কথা বলা হয়েছে এ আইনে।

৭০ ছাত্রীকে বিবস্ত্র হতে বাধ্য করলেন ওয়ার্ডেন

উত্তর প্রদেশে একে একে ৭০ জন ছাত্রীকে বিবস্ত্র হতে বাধ্য করলেন সরকারি একটি স্কুলের ইনচার্জ (ওয়ার্ডেন)। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দেয় তীব্র ক্ষোভ। ফলে বাধ্য হয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওই স্কুলের ইনচার্জ সুরেখা তোমার’কে বরখাস্ত করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়, ইনচার্জ গত ২৬শে মার্চ খাতাউলি’তে সরকার পরিচালিত কস্তুরবা গান্ধী জুনিয়র রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের টয়লেটে রক্ত দেখতে পান। তিনি ধরে নেন এটা ছাত্রীদের ঋতু¯্রাবের। তবে কেউ তা স্বীকার করে নি। ফলে সুরেখা একে একে ৭০ জন ছাত্রীকে বিবস্ত্র হতে বাধ্য করেন এবং তিনি বিষয়টি চেক করেন। ভীত শঙ্কিত এসব ছাত্রীর বয়স ১২ থেকে ১৪ বছর। তারা পড়াশোনা করে ৬ষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীতে। তবে নিজে যা করেছেন তার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেন সুরেখা। তিনি বলেন, আমি যা করেছি সেটা আমার অধিকার। কারণ, আমি পরিচ্ছন্নতা ও শৃংখলায় বিশ্বাস করি। এই স্কুলের ছাত্রী ও স্টাফরা আমার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তারা একজন ওয়ার্ডেনকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। এক ছাত্রী বলেছে, টয়লেটে রক্ত দেখতে পেয়ে ওয়ার্ডেন আমাদের সবাইকে ডেকে নেন। পরীক্ষা করেন আমাদের মধ্যে কে এর জন্য দায়ী। কিন্তু কেউই যখন তার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিল না তখন তিনি অপেক্ষাকৃত বড়দের চেয়ে ছোট মেয়েদের আলাদা করেন। এক পর্যায়ে আমাদের সবাইকে পোশাক খুলতে নির্দেশ দেন। অন্য এক ছাত্রী বলেছে, এ সময় অনেক মেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। অন্যরা প্রতিবাদ জানাতে থাকে।

নবীগঞ্জে জামায়াত নেতার ছেলেকে হত্যা

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় দুর্বৃত্তের হামলায় জামিল আহমদ (২৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন তার বাবা ও দুই ভাই। শুক্রবার দিনগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের মংলাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত দু'ভাইয়ের নাম মওদুদ আহমদ (২২) ও মাসুদ আহমদ (১৬)। বাবাসহ তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহতরা উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মস্তফা আহমদের ছেলে। নবীগঞ্জ থানার ওসি এস এম আতাউর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জের ধরে ঘটনাটি ঘটেছে। তবে স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার রাতে ৭/৮ জনের একদল মুখোশধারী ডাকাত মাওলানা মস্তফা আহমদের বাড়ির কলাপসিবল গেইটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
পরে তারা ঘরের দরজা ভেঙে গৃহকর্তা মাওলানা মস্তফা আহমদের শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। বিষয়টি টের পেয়ে তিন ছেলে বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদেরও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা মাওলানা মস্তফা ও তার তিন ছেলেকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জামিল আহমদকে মৃত ঘোষণা করেন। ওসি এস এম আতাউর রহমান আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মা আছিয়া বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। প্রসঙ্গত, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর একই বাড়িতে ডাকাতেরা হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নিয়ে যায়।

মৃত ব্যক্তির জীবিত হওয়ার খবরে আলোড়ন, অবশেষে দাফন

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সাহেবপাড়া জিয়েলগাড়ী গ্রামে এক মৃত ব্যক্তির জীবিত হওয়ার খবরে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার বাদ যোহর তার নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সাহেবপাড়া জিয়েলগাড়ী গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে জহুরুল ইসলাম (২৭) শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বাড়ির পিছনে রাখা পাটকাঠি আনার সময় বাম হাতের আঙ্গুলে কোনো কিছুর কামড় অনুভব করেন। তিনি চিৎকার করে ঘরে চলে যান। বাড়ির লোকজন সাপে কেটেছে বলে তাৎক্ষণিকভাবে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার ভোরে গ্রামের মসজিদের মাইকে জহুরুলের জানাজা সকাল ১০টায় হবে বলে ঘোষণা করা হয়। মৃত জহুরুলকে একনজর দেখতে আসা জনতার মধ্যে একজন লাশের হাত ধরে জীবিত আছে বলে ঘোষণা করে বসেন। বাড়ির লোকজন তখন ওঝা কবিরাজদের সংবাদ দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকে নারী-পুরুষ ওই বাড়ীতে ভিড় জমায়। তাকে দেখতে আসা এলাকার পল্লী চিকিৎসক ও এলাকার অনেকেই লাশের হাত ধরলে জীবিত মানুষের রক্ত চলাচল অনুভব করা যায় বলে জানায়। কিন্তু পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তার মৃত্যু হয়েছে। অবশেষে বাদ যোহর তার নামাযে জানাযা শেষে দাফন করা হয়েছে।

নড়াইলে ১৩ মাদকসেবী ও বিক্রেতার আত্মসমর্পণ

স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয়ে নড়াইলের কলোড়া ইউনিয়নের ১৩ মাদকসেবী ও বিক্রেতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আজ শনিবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আত্মসমর্পণ করেন তারা। পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। আত্মসমর্পণকারীদের বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। এছাড়া জেলা শহরের এক মাদকসেবী আছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নড়াইলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান ও আশরাফুল আলম, ডিবি পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান, কলোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্বাস আলী প্রমুখ। আত্মসমর্পণকৃত মাদকবিক্রেতারা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিল,
গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন ও বিক্রি করে আসছিল। মাদকের কুফল সম্পর্কে বুঝতে পেরে তারা আত্মসমর্পণ করেছে। ভবিষ্যতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চান। পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম বলেন, নড়াইল জেলাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে মাদকবিরোধী এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। জানা যায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নড়াইলে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। তিনমাসের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে নড়াইল পৌর এলাকা, সদরের শাহাবাদ ইউনিয়ন, লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়ন, কালিয়া উপজেলার ইলিয়াসাবাদ ইউনিয়ন ও নড়াগাতি থানার জয়নগর ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে পুলিশ প্রশাসন।

ভারত মোটেই ভালো কাজ করছে না : কড়া বার্তা চীনের

বিতর্কিত তিব্বতী ধর্মগুরু দালাই লামা অরুণাচল সফর নিয়ে ফের ভারতকে হুঁশিয়ারি দিল চীন! দালাই লামার এই সফরকে কেন্দ্র করে এই নিয়ে দুবার ভারতকে হুঁশিয়ারি দিল চীন। হুঁশিয়ারি, ভারত যেভাবে চীনের আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে দালাই লামাকে যেভাবে অরুণাচল সফরে যেতে দিচ্ছে তাতে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘মারাত্মক ক্ষতি’ হবে। শুধু তাই নয়, চীনের বক্তব্য ভারতের এই ব্যবহারে নাকি দুঃখজনক এবং উদ্বেগের। তবে ভারতকেই ঠিক করতে হবে, কী করবে এই বিষয়ে। ভারত-চীন সীমান্তের পূব দিক সম্পর্কে চীনের অবস্থান স্পষ্ট, অবিচল। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দালাই চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজকর্মে জড়িত।
এ ব্যাপারে তাদের কুখ্যাতির রেকর্ড আছে। ওদের আসল চরিত্র পরিষ্কার জানা থাকার কথা ভারতের। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওখানে দালাইকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের খুব ক্ষতি হবে এতে। ভারত-চীন সম্পর্ক নষ্ট করবে এ ধরনের সফর। আমরা ভারতকে আগের দেয়া রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে বলেছি। বলেছি, তারা যেন ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষতি না করে। আগামী ৪ থেকে ১৩ এপ্রিল অরুণাচল সফরে যাচ্ছেন দালাই লামা। আর সেই অরুণাচলকেই দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলে দাবি চীনের। আর তা নিয়ে অশান্তি তুঙ্গে। ৩৪৮৮ কিমি দীর্ঘ নিয়ন্ত্রণ রেখা ঘিরে ভারত-চীন বিরোধ রয়েছে।

চীনে বোরকার সাথে নিষেধাজ্ঞা লম্বা দাড়িতেও

চীনের অধিক মুসলমান বসবাসকারী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ জিনজিয়াংয়ে পুরুষের মুখে লম্বা দাড়ি ও নারীদের জন্য বোরকা পরার ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। শুক্রবার জারি করা এ বিধি-নিষেধের মধ্যে রয়েছে- ‘অস্বাভাবিক’ লম্বা দাড়ি রাখা যাবে না, জনসম্মুখে বোরকা পরা যাবে না ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে দেখতে অস্বীকৃতি জানানো যাবে না। জিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিম উইঘুর সম্প্রদায়ের লোকজনের বেশি বসবাস। এ মুসলিম সম্প্রদায়ের বহুদিনে অভিযোগ রয়েছে, তারা বৈষম্যের শিকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ অঞ্চলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য চীনা সরকার ইসলামি উগ্রবাদি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দায়ী করছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, অশান্তির মূলে রয়েছে রাষ্ট্রের দমনমূলক নীতি।
তারা বলছে, নতুন যে পদক্ষেপ নেয়া হলো তাতে দেখা যাবে শেষ পর্যন্ত উইঘুরদের কেউ কেউ চরমপন্থায় জড়িয়ে যাবে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জিনজিয়াংয়ে আগে থেকেই থাকলেও এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ আইনত অনুমোদন পেয়ে যাবে। নতুন আইনে আরও যেসব বিষয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকছে সেগুলো হলো- সন্তানদের সরকারি স্কুলে যেতে না দেয়ার বিষয়ে, পরিবার পরিকল্পনা নীতি না মানার বিষয়ে, ইচ্ছাকৃতভাবে আইনি কাগজপত্র নষ্ট করার বিষয়ে, কেবল ধর্মীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিয়ে করার বিষয়ে। জিনজিয়াংয়ের আইনপ্রণেতারা নতুন এ নিষেধাজ্ঞায় সম্মতি দিয়েছেন এবং তা ওই প্রদেশের ওয়েবসাইটে ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ এরআগে উইঘুরদের পাসপোর্ট দেয়ার উপরও কড়াকড়ি আরোপ করেছিল।