Wednesday, February 19, 2014

মাদক- তারুণ্য ও মাদকের নেশা by ব্রাদার রোনাল্ড ড্রাহোজাল

শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের অনেক মানুষের চিন্তার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে তারুণ্য। যদি তরুণ বয়সে আমরা একটি শক্ত ভিত্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাই, যার ওপর ভবিষ্যৎ জীবন গঠনের জন্য অনেক সুযোগ আসতে পারে, তাহলে জীবনটা সঠিক পথে চালিত হতে পারে।

মাদক- তারুণ্য ও মাদকের নেশা by ব্রাদার রোনাল্ড ড্রাহোজাল

শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের অনেক মানুষের চিন্তার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে তারুণ্য। যদি তরুণ বয়সে আমরা একটি শক্ত ভিত্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাই, যার ওপর ভবিষ্যৎ জীবন গঠনের জন্য অনেক সুযোগ আসতে পারে, তাহলে জীবনটা সঠিক পথে চালিত হতে পারে।
তরুণদের কখনো কখনো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। একটি উপদেশবার্তা রয়েছে এ রকম: ‘নিজেকে মূল্যায়ন করো, সুন্দর বাছাইগুলো সম্পন্ন করো।’ এসব পছন্দের মধ্যে জীবনের অনেক দিক অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত হবে—জাগতিক, আধ্যাত্মিক, আবেগবিষয়ক, সামাজিক, সততাবিষয়ক ইত্যাদি। জীবনের কঠিন পরিস্থিতিগুলোর জন্য অনেক সময় শিশু-কিশোরদের দায়ী করা হয়। কিন্তু কেন তারা এ অবস্থায় পড়েছে, সেটি আমরা চিন্তা করি না।

যারা নিজেদের অবস্থানের অপব্যবহার করে এবং ভুল আচরণ করে, তারা কেবল শিশুদের চেতনাই নষ্ট করে না; বরং শিশু-কিশোর-তরুণদের সামনে মূল্যবোধের নেতিবাচক আদর্শ গঠন করে। এতে তাদের গোটা জীবনই ভুল মূল্যবোধ ও নেতিবাচক পথে চালিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন অনেক ছেলেকে নিয়ে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে, যারা বেঁচে থাকার জন্য এবং জীবিকার জন্য বছরের পর বছর ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তা ও দেশের অন্যান্য স্থানে বাস করছে। যদি তারা ‘বাড়ির কাজ’ না করত, বা বিরক্ত করত, তাহলে তাদের মারধর করা হতো অথবা নানা রকম নির্যাতন করা হতো। আর কখনো কখনো বাড়ি ফিরেও মা-বাবার হাতে একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হতো তারা। তারা রাস্তায় গিয়ে ভিডিও গেম খেলার জন্য বরাদ্দ অর্থ দিয়ে নেশাদ্রব্য কিনে মাদক সেবন শুরু করত।

এখানে দৃষ্টান্তটি হলো, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ শিশুদের জীবনের মৌলিক ভিত্তি গড়তে সহায়তার নামে কেবল তাদের শিক্ষার বন্দোবস্ত করে ক্ষান্ত হচ্ছেন, কিন্তু তাদের সঠিক আচার-আচরণ ও অহিংস প্রতিক্রিয়া ও ক্রিয়া শেখাচ্ছেন না। এই শিশু-কিশোরেরা কখনো কখনো প্রান্তিক শিশু হয়ে রাস্তায় বসবাস করে, কখনো বেঁচে থাকে! এখানে শিশু সুরক্ষা আইন রয়েছে, কিন্তু তার যথাযথ প্রয়োগ নেই।

প্রবাদ আছে: ‘যন্ত্রণা নেই, অর্জনও নেই’। অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে মাদক কখনো কোনো সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। মাদক সেবন করে সমস্যার সমাধান করতে গেলে সেই সমস্যা কেবল আরও জটিল, কঠিন ও বিধ্বংসী রূপ নেয়। কোনো সমস্যা মোকাবিলার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে মা-বাবা, কোনো শিক্ষক বা নির্ভরযোগ্য অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সেটি নিয়ে আলোচনা করা, যাঁর সামর্থ্য রয়েছে সমস্যাটি সমাধানে প্রয়োজনীয় সাহায্য করার।

সুন্দর জীবনের পথে অত্যন্ত মূল্যবান সোপান হিসেবে আরেকটি স্লোগান রয়েছে: ‘অসৎ সঙ্গ পরিত্যাগ করো’। শিশু-কিশোরদের বেড়ে ওঠার অংশ হিসেবে তাদের সঙ্গে সমবয়সী বন্ধুবান্ধবের যোগাযোগ ঘরে-বাইরে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। পরিবার যদি সেই শিশু-কিশোরদের সতর্ক হতে সহায়তা না করে, তারা কখনো কখনো এমন কারও দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে, যাকে ভালো বন্ধু বলে মনে হলেও আসলে সে একটি ‘অসৎ সঙ্গ’। একজন সত্যিকারের বন্ধু অন্যকে সৎ সহায়তা ও ভাবনা বিনিময়ের মাধ্যমে বড় হয়ে উঠতে সাহায্য করে। আমাদের সজাগ থাকতে হবে নিজেদের আচার-আচরণ, ভাষা, প্রতিক্রিয়া ও বন্ধুদের সম্পর্কে। এ ছাড়া যেসব স্থানে আমরা যাতায়াত করি, তার ব্যাপারে সত্যিকারের ‘উপকারী বন্ধুর’ বক্তব্যও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আমার জীবনে মা-বাবা ছাড়া তিন-চারজন সত্যিকারের উপকারী বন্ধু ও শিক্ষক রয়েছেন, যাঁদের কাছ থেকে আমি শিখেছি অনেক মূল্যবোধ ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে। আমি এখনো তাঁদের স্মরণ করি এবং সবচেয়ে মূল্যবান ‘উপকারী বন্ধু’ বলে মনে করি।

তরুণ বয়সে অনেকেই খুব আদর্শবাদী এবং অপরের জন্যও কিছু করতে কঠোর মনোবল নিয়ে কাজ করতে চায়। কখনো কখনো তাদের কেউ বড় হয়। তখন তারা অন্যকে সহায়তার মতো তরুণ বয়সের বিভিন্ন আদর্শ ভুলে যেতে শুরু করে এবং স্বার্থকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে থাকে। তারা অভাবগ্রস্ত মানুষের সহায়তার পরিবর্তে খ্যাতি ও নামের মোহে আটকা পড়ে। আমি তরুণদের আদর্শবাদী লক্ষ্যে অবিচল থাকতে উৎসাহ জোগাতে চাই।

তরুণ ও বয়স্ক প্রজন্মের অনেক গুণাবলিই রয়েছে। এদের মধ্যে অন্যের জন্য সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক অবস্থা, মর্যাদা, লিঙ্গ, বয়স প্রভৃতি বিষয়ে অনুভব করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে। এর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে: উষ্ণতা, গ্রহণযোগ্যতা, সম্মান, আচরণ ইত্যাদি বিষয়ে সহানুভূতি দেখানো এবং কোনো কিছু আরোপ করা থেকে বিরত থেকে অন্যদের সহায়তা ও উৎসাহ প্রদান। এ জন্য অবশ্যই ক্ষুধার্তকে খাবার দিতে হবে, বস্ত্রহীনকে কাপড় দিতে হবে, অসুস্থকে সেবা দিতে হবে, আহতকে বাঁচাতে হবে, গৃহহীনকে আশ্রয় ও উষ্ণতা দিতে হবে, কর্মহীনকে কাজ দিতে হবে। বিদ্যালয় ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষা দিতে হবে সেই মানুষদের, যাদের সে রকম প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেবামূলক কাজের এই তালিকা বড় হতেই থাকবে এবং আমাদের সবাইকে অন্যের বিভিন্ন অভাব নিয়ে ‘চিন্তা, চিন্তা আর চিন্তা’ শুরু করতে হবে এবং সেগুলোকে বাস্তব কাজে রূপ দিতে হবে।

যেসব মূল্যবোধ ও নীতি কেউ তরুণ বয়সে গ্রহণ করতে পারে এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে চর্চা শুরু করে, সেগুলো তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি হয়ে যায় এবং সেই জীবনের সহযোগিতা নিয়ে তাদের পরিবার, সম্প্রদায়, দেশ এবং অন্যরা সমৃদ্ধ হয়। আমি শেষ করছি এ কথা দিয়ে: ‘যদি প্রথমেই সাফল্য না পাও, চেষ্টা করো, চেষ্টা করো এবং চেষ্টা করো বারবার এবং আগে হোক, পরে হোক, সফল তুমি হবেই।’

ইংরেজি থেকে অনূদিত

ব্রাদার রোনাল্ড ড্রাহোজাল: সিএসই, নির্বাহী পরিচালক, আপন।

স্থানীয় সরকার- উপজেলা নির্বাচন ও ইসির করণীয় by তোফায়েল আহমেদ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের নির্দেশনা (ধারা ৫৯) অনুযায়ী অত্যন্ত প্রাচীন ও কার্যকর ‘প্রশাসনিক একক’ হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার গঠন ও কার্যকর করা একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। এ বাধ্যবাধকতা জেলা ও বিভাগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনেকটা মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মতো। দাবি করার আগেই তফসিল ঘোষণা। এখনো জাতীয় রাজনীতির বেদনাদায়ক স্মৃতি সবাইকে তাড়িত করছে। বিশেষ করে, ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক নানামুখী সহিংসতায় চাপা পড়ে আছে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বিতর্কিত অনেক বিষয়। অতীতে সব সামরিক শাসক ‘বিরাজনীতিকরণ’-এর অন্যতম কৌশল হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনকে ব্যবহার করেছেন এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাঁরা সাময়িকভাবে মুখ রক্ষার মতো সফলতাও পেয়েছেন। স্থানীয় নির্বাচনের টোপ দিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ-উত্তেজনা প্রশমনের সাময়িক দম নেওয়ার ফুরসত সৃষ্টি করেছেন। জেনারেল আইয়ুব, জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদ—সবাই একই কৌশল ভিন্ন ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিত থেকে প্রয়োগ করেছেন।

এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলীয় সরকারগুলো কিছুটা ব্যতিক্রম। স্থানীয় সরকারকে নিয়ে তাদের রাজনীতির কৌশলটা কখনোই ‘বুদ্ধিদীপ্তভাবে রাজনৈতিক’  ছিল না। এবারেই প্রথমবারের মতো ক্ষমতাসীনেরা জাতীয় রাজনীতির দাবার ছকে স্থানীয় সরকারের একটি বাস্তব অবস্থান দেখতে পেয়েছেন। ক্ষমতাসীন মহাজোট দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন বর্জনকারী অপর জোটের রাজনীতি মোকাবিলায় এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ করেছে। তবে নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুসারে ‘সকল ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়ার’ তত্ত্বটি বোধ হয় এখানেও প্রযোজ্য। বিরোধী জোটও পাল্টা কৌশল হিসেবেই এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এতে এক-দেড় মাস আগের অংশগ্রহণবিহীন যে নির্বাচনী চিত্র, তা পুরোপুরি বদলে গিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন সরকার ও নির্বাচন কমিশন আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে বিষয়টি গ্রহণ করলে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু স্থানীয় নির্বাচনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

এ নির্বাচনের ইতিবাচকতা: এ নির্বাচন একদিকে জাতীয় রাজনীতির একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। প্রথমত, সব দলের অংশগ্রহণে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল, ভোটের হার ও প্রার্থীসংখ্যার বিচারে এ নির্বাচন রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ নিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে উপজেলা পরিষদের ধারাবাহিকতা এ নির্বাচনের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পর পর দুবার উপজেলা পরিষদ মেয়াদ পূর্ণ করতে পারলে এ পরিষদের কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা আসবে। ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতার বাইরের সব দলের স্থানীয় নেতৃত্বে সাংগঠনিকভাবে নিজেদের সংহত করার সুযোগ নিচ্ছে, পাচ্ছে এবং এ প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা জাতীয় রাজনীতিতেও গুণগত পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এ গুণগত পরিবর্তনের প্রধান দিক হবে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন এবং এ পরিষদের ধারাবাহিকতা রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের প্রশিক্ষিত নেতৃত্ব সৃষ্টিতে অবদান রাখবে। সে হিসাবে জাতীয় নেতৃত্বকাঠামোয় ইতিবাচক ও গঠনমূলক নেতৃত্বের বিকাশ সম্ভব হবে। ঢাকামুখী ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৃণমূল থেকে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।

গ্রামগঞ্জে জোটের বাতাস এখন প্রবল। প্রার্থী-সমর্থকদের উৎসাহ বিপুল। সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা গেলে এ নির্বাচনে নির্বাচকমণ্ডলীর অংশগ্রহণ ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ইতিমধ্যে বিরোধী দলগুলো গুম, খুন, ধরপাকড়ের অভিযোগ করেছে। সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে সরব ও সক্রিয় ভূমিকায় দেখতে চাইবে সবাই।

নির্বাচন কমিশন ও সরকার: ৪৮৭টি উপজেলার তিনটি পদের নির্বাচন পাঁচ-ছয় ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রথম ধাপে ৯৭টি উপজেলায় ১৯ ফেব্রুয়ারি, একটি উপজেলায় ২৪ ফেব্রুয়ারি; দ্বিতীয় ধাপে ১১৭টি উপজেলায় ২৭ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ৮৩টি উপজেলায় ১৫ মার্চ এবং চতুর্থ ধাপে ৯২টি আসনে ২৩ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে আরও দুই ধাপে মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সব উপজেলার নির্বাচন সম্পন্ন হবে। একাধিক ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সরকারের নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর চাপটা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। তাই আশা করা যায়, আচরণবিধি মেনে চলা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি কম। তবে সর্বোচ্চ সতর্কতার বিকল্প নেই। আশা করি, সরকার ও নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের করণীয় সম্পর্কে জাতি এখনো সন্দেহমুক্ত হতে পারছে না। নিচের কয়েকটি বিষয়ে তাদের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।

১. সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ নিরপেক্ষ করার জন্য এ পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপগুলো নিয়ে কমিশন সরব ও সক্রিয় নয়। তাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর ওপর প্রচার-প্রচারণা, ক্যাম্পেইন ইত্যাদি চোখে পড়ছে না, যা তাদের করা উচিত।

২. নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রতিটি উপজেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও একক প্রার্থী নির্ধারণের জন্য রাজনৈতিক দল থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য কোনো কোনো প্রার্থীকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার শামিল, যা সুস্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। আইন পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন উদ্যোগী হচ্ছে না।

৩. মন্ত্রী, সাংসদেরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিলে সেটি আচরণবিধির লঙ্ঘন কি না, সে বিষয়েও বক্তব্য নেই। কারণ, তাঁরা ‘প্রটোকল’ নিয়ে ওসি, ইউএনওসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান ও বিচরণ করছেন।

৪. নির্বাচন কমিশন কানে তুলা ও পিঠে কুলা বেঁধে প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামাগুলো বেমালুম হজম করে আছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামার তথ্য এখনো তারা ওয়েবসাইটে পুনরায় ফিরিয়ে দেয়নি। ইতিমধ্যে দেরিতে হলেও উপজেলা পরিষদের তথ্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। এ কাজটি আরও দ্রুততার সঙ্গে হওয়া উচিত। না করা হলে তা আদালতের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ভোটারের অধিকার হরণ হিসেবে গণ্য হবে।

৫. উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়েল অনুযায়ী, প্রার্থী কর্তৃক প্রদত্ত হলফনামার তিন কপি নির্বাচন কমিশনে জমা করা আবশ্যক। এর মধ্যে এক কপি নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে কপি করে নেওয়ার জন্য প্রদান করার বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রথম দফা নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা পেতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। তাই প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আয় ও সম্পদের তুলনামূলক চিত্র প্রস্তুত করে সময়মতো ভোটারদের মধ্যে বিতরণ করা দুরূহ হয়ে পড়ছে। শুধু সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা নয়, তথ্যভিত্তিক ভোটার ক্ষমতায়নেও নির্বাচন কমিশনকে নেতৃত্ব দিতে হবে।

৬. নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট যেকোনো তথ্য ভোটারদের সময়মতো না পৌঁছানো তথ্য অধিকার আইনেরও লঙ্ঘন। এ বিষয়ে জাতীয় তথ্য অধিকারবিষয়ক কমিশন এবং নির্বাচন কমিশনের আশু ব্যবস্থা গ্রহণ আশা করি। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এ বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নাগরিক সমাজ আশা করতে পারে।

ড. তোফায়েল আহমেদ: স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সদস্য, স্থানীয় সরকার কমিশন।

স্থানীয় সরকার- উপজেলা নির্বাচন ও ইসির করণীয় by তোফায়েল আহমেদ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের নির্দেশনা (ধারা ৫৯) অনুযায়ী অত্যন্ত প্রাচীন ও কার্যকর ‘প্রশাসনিক একক’ হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার গঠন ও কার্যকর করা একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। এ বাধ্যবাধকতা জেলা ও বিভাগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচন করুন- অপহরণ ও প্রত্যাবর্তন

চট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরী অপহূত হওয়ার ছয় দিন পর অবশেষে ফিরে এসেছেন—এটা স্বস্তির খবর। কিন্তু তাঁকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি সবার জন্য ভীষণভাবে উদ্বেগজনক।
প্রথমত বলা দরকার, মৃদুল চৌধুরী প্রাণ নিয়ে ফিরে আসতে পেরেছেন—এতে আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের কোনো কৃতিত্ব নেই। সকাল ১০টায় দোকানে যাওয়ার পথে প্রকাশ্য দিনের আলোয় তাঁকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় কিছু লোক, তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে। তারপর ছয় দিন ধরে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে গেছে, অত্যাচার করেছে। তাঁর অপহরণের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর কোনো হদিস বের করতে পারেনি। মৃদুল চৌধুরীর অপহরণের পর তাঁর ভাই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন; অপহরণের সঙ্গে র‌্যাব-পুলিশ জড়িত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। কিন্তু র‌্যাব ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ সে অভিযোগ অস্বীকার করেই দায় সারতে চেয়েছে। কারা তাঁকে অপহরণ করে কোথায় নিয়ে গিয়ে কী করল, সে বিষয়ে তদন্ত-অনুসন্ধান চালানো, তাঁকে উদ্ধার করা ও অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চালানো যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোরই দায়িত্ব—এটা কি বলার অপেক্ষা রাখে?

স্বর্ণ ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরী গত বছরের অক্টোবর মাসে ৮০ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে র‌্যাবের একজন মেজরসহ তিন ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা করেন। তাঁর অপহরণের সঙ্গে সেই মামলার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তার উত্তর পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রকাশ্য দিবালোকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে যারা তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, এ দেশের আইন প্রয়োগ ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যারা তাঁকে জিপে করে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে আনা-নেওয়া করেছে, তাঁর ওপর নির্যাতন চালিয়েছে—তারা কারা? কী উদ্দেশ্যে তারা এই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করেছিল আর কেনই বা অবশেষে তাঁকে ছেড়ে দিল? তারা যে র‌্যাব কিংবা পুলিশের কেউ নয়—এটুকু বলে দিলেই কি রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারীদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়?

পুরো ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে। সেই তাগিদ অনুভব করা উচিত সবার আগে র‌্যাব-পুলিশের, কেননা সন্দেহের তির তাদের দিকেই। এই সন্দেহ নিরসন করতে হবে আইন প্রয়োগ ব্যবস্থার ওপর জনসাধারণের আস্থা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে। ঘটনার সুষ্ঠু ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে অপহরণকারীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করার সামর্থ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর রয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি এবং সেই সামর্থ্যের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তৎপরতা প্রয়োজন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু সদস্য বিচ্ছিন্নভাবে এর সঙ্গে জড়িত হয়ে থাকলে তার দায় পুরো সংস্থার ঘাড়ে যাতে না বর্তায়, সেটা নিশ্চিত করতে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এটা করা দরকার।

পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচন করুন- অপহরণ ও প্রত্যাবর্তন

চট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরী অপহূত হওয়ার ছয় দিন পর অবশেষে ফিরে এসেছেন—এটা স্বস্তির খবর। কিন্তু তাঁকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি সবার জন্য ভীষণভাবে উদ্বেগজনক।

তপ্ত মরুভূমিতে একাকী ৪ বছরের শিশু...

সুবিশাল, তপ্ত মরুভূমিতে মাত্র ৪ বছর বয়সী একটি শিশু এদিক-সেদিক ঘুরছে। পিতামাতা, ভাইবোন বা অন্য কোন আত্মীয়-স্বজন তার সঙ্গে নেই। মারওয়ান নামে অবুঝ শিশুটির নিঃসঙ্গ মরুভূমি যাত্রার হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছেন জাতিসংঘের এক কর্মী।
যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত সিরিয়া থেকে পালানোর সময় পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সে। জর্ডান ও সিরিয়া সীমান্তের কাছে একা একটি শিশুকে দেখতে পান জাতিসংঘের কর্মীরা। তার হাতে ছিল কাপড়চোপড় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীতে ভর্তি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ। জর্ডানে অবস্থিত জাতিসংঘের হাই কমিশনার ফর রেফ্যিউজিস’র (ইউএনএইচসিআর) মুখপাত্র অ্যান্ড্রু হার্পার শিশুটিকে ক্যামেরাবন্দি করেছেন। এরপর জাতিসংঘের ত্রাণকর্মীরা ছোট্ট শিশুটিকে সীমান্ত পার হয়ে জর্ডানে ঢুকতে সাহায্য করেন। এরপরই মারওয়ানের পরিবারকে পাওয়া গেছে জানিয়ে একটি টুইট করেন হার্পার। দ্বিতীয় অপর একটি ছবি টুইটারে আপলোড করেন। তাতে জাতিসংঘের এক ত্রাণকর্মীকে সীমান্ত অতিক্রমে শিশুটিকে সাহায্য করতে দেখা যায়। জর্ডান সীমান্ত অতিক্রম করার অল্প সময় পর মারওয়ান নিরাপদে তার মা ও পরিবারের বাকি সদস্যদের সঙ্গে পুুনর্মিলিত হয়েছে বলে টুইট করেন হার্পার। এ খবর দিয়েছে মেইল অনলাইন। শিশুটি পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে কবে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে এক রিপোর্টার টুইটারে লেখেন পরিবারের সদস্যদের চেয়ে মাত্র ২০ কদম দূরে ছিল মারওয়ান। এক পর্যায়ে তারা তাকে হারিয়ে ফেলেন। মারওয়ানের ছবিটি সিরিয়া যুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া বা পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয় ভাগ্য-বঞ্চিত শিশুদের প্রতিচ্ছবি। হার্পার গত কয়েক দিনে সিরিয়া যুদ্ধের ভয়াবহ বাস্তবতায় শিশুদের মানবেতর পরিস্থিতি ক্যামেরাবন্দি করে ব্যাপক আলোচিত হয়েছেন।

তপ্ত মরুভূমিতে একাকী ৪ বছরের শিশু...

সুবিশাল, তপ্ত মরুভূমিতে মাত্র ৪ বছর বয়সী একটি শিশু এদিক-সেদিক ঘুরছে। পিতামাতা, ভাইবোন বা অন্য কোন আত্মীয়-স্বজন তার সঙ্গে নেই। মারওয়ান নামে অবুঝ শিশুটির নিঃসঙ্গ মরুভূমি যাত্রার হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছেন জাতিসংঘের এক কর্মী।

পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষে নিহত ৪

ব্যাংককে পুলিশের একটি ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির ওপর থাইল্যান্ডের
জাতীয় পতাকা হাতে একজন বিক্ষোভকারী। সরকারবিরোধীরা
সংঘর্ষের সময় পুলিশের এই গাড়িটি ভাঙচুর করে উল্টে ফেলে। ছবি: রয়টার্স
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে সরকারি ভবন থেকে বিক্ষোভকারীদের হটাতে গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক পুলিশসহ অন্তত চারজন নিহত ও ৬৪ জন আহত হয়েছেন। জরুরি অবস্থা অমান্য করার অভিযোগে রাজধানী ব্যাংককসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যাংকক পুলিশের প্রধান আদুল সিয়াংসিকাও বলেন, সংঘর্ষে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে পুলিশের এক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশের আরও ১৪ জন কর্মকর্তা আহত হন। বিক্ষোভকারীদের সরাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৫ হাজার সদস্য অভিযানে অংশ নেন। দ্য এরাওয়ান মেডিকেল সেন্টারের ওয়েবসাইটে বলা হয়, পুলিশের অভিযানকালে গুলিতে তিন বিক্ষোভকারী মারা গেছেন এবং ৬৪ জন আহত হয়েছেন। এদিকে ধানের খামারে ভর্তুকি প্রকল্পে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হচ্ছে থাই প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে। এতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে প্রধানমন্ত্রীর পদও হারাতে পারেন। দুর্নীতিবিরোধী একটি প্যানেল গতকাল এ ঘোষণা দেয়। তবে জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কমিশন এক বিবৃতিতে জানায়, প্রধানমন্ত্রী ইংলাক তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি অভিযোগের ওপর একটি শুনানিতে তাঁকে হাজিরা দিতে হবে। ওই ভর্তুকির মাধ্যমে কৃষকদের বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে ধান বিক্রির সুযোগ দেওয়া হয়। এতে সরকারি অর্থ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এনে ইংলাকের বিরোধীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে। ব্যাংককের উপকণ্ঠে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ভবনে প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার অস্থায়ী কার্যালয়সহ কয়েকটি সরকারি ভবনকে ঘিরে কৃষকেরা গত সোমবার থেকে অবস্থান করছেন। ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী গতকাল অভিযান চালায়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
এ সময় গুলি ও বিস্ফোরকের শব্দ পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এলাকা ছেড়ে যেতে বিক্ষোভকারীদের এক ঘণ্টা সময় দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু আন্দোলনকারীরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় ছিল। সরকারবিরোধীদের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘সরকার এখানে আর কাজ করতে পারবে না। আমাদের গ্রেপ্তার করে দমিয়ে রাখা যাবে না। জনগণের ইচ্ছা এখনো অনেক শক্তিশালী। সরকার ফাঁদে পড়েছে। তাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।’ ইংলাক সিনাওয়াত্রা সরকারের বিরুদ্ধে তিন মাস আগে গণ-আন্দোলন শুরুর পর এবারই প্রথম এত বেশি (প্রায় ১০০) জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। বিরোধীদের দাবি, ইংলাককে পদত্যাগ করে অনির্বাচিত ‘পিপলস কাউন্সিলের’ কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। কাউন্সিল নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের আগে চলমান দুর্নীতি ও জনগণের অর্থের অপব্যবহার রোধে বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবায়ন করবে। ইংলাকের ভাই ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে ২০০৬ সালে এক বিতর্কিত সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে থাইল্যান্ডে প্রায় নিয়মিত বিরতিতে গণবিক্ষোভ চলছে। সর্বশেষ বিক্ষোভ-আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষে ১২ জন প্রাণ হারান এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। রাজধানী ব্যাংককের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীরা একধরনের অচলাবস্থা তৈরি করেছেন। এএফপি, রয়টার্স

খুনিদের মৃত্যুদণ্ডের বদলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

রাজীব গান্ধী
ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে গতকাল মঙ্গলবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় ২৩ বছর আগে রাজীব গান্ধী নিহত হন। প্রধান বিচারপতি পি সদাশিবমের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট ওই তিন খুনিকে মৃত্যুদণ্ড মওকুপের পক্ষে যুক্তি দেন, তাঁদের প্রাণভিক্ষার আবেদনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে ভারতের একাধিক রাষ্ট্রপতি ১১ বছর সময় নিয়েছিলেন।
রায় ঘোষণা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাণভিক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ করছি।’ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত মাসে এক রায়ের মাধ্যমে ১৫ জন অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই দেন। এতে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। রাজীব গান্ধীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত তিন ব্যক্তি হলেন মুরুগান, সান্থান ও পেরারিভালান। তাঁরা তিনজনই শ্রীলঙ্কাভিত্তিক লিবারেশন টাইগার অব তামিল ইলমের (এলটিটিই) সদস্য। এই তিনজন ১৯৯১ সালের ২১ মে একজন নারী আত্মঘাতী হামলাকারীর মাধ্যমে রাজীবকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে এক নির্বাচনী জনসভায় রাজীব ওই হামলার শিকার হয়ে নিহত হন।
১৯৮৭ সালে শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় শান্তিরক্ষী পাঠানোর ঘটনায় রাজীবের ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে তামিল বিদ্রোহীরা ওই হামলা চালায়। অবশ্য ওই ঘটনার জন্য ২০০৬ সালে তারা ‘দুঃখ প্রকাশ’ করে। শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী ২০০৯ সালে তামিল বিদ্রোহীদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৮৪ সালের অক্টোবরে খুন হওয়ার পর তাঁর ছেলে রাজীব দেশটির সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি পাঁচ বছর পর নির্বাচনে পরাজিত হন। তাঁর স্ত্রী সোনিয়া গান্ধী বর্তমানে দেশটির ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর রাজীব-সোনিয়ার ছেলে রাহুল গান্ধীও কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তাঁকে সামনে রেখেই আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে দলটি প্রচারণা চালাচ্ছে। এএফপি ও বিবিসি।

নিহত ব্যক্তি আসলেই কি ওসামা ছিলেন?

ওসামা বিন লাদেন
পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন কমান্ডো অভিযানে আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার সত্যতা নিয়ে আবার বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ বিতর্ক উসকে দিয়েছে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর তৎকালীন প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল উইলিয়াম ম্যাকরাভেনের একটি ই-মেইল বার্তা। চলতি সপ্তাহে ওই ই-মেইল বার্তা প্রকাশ পেয়েছে। জুডিশিয়াল ওয়াচ নামের একটি রক্ষণশীল রাজনৈতিক গ্রুপ বার্তাটি প্রকাশ করেছে। তারা ওই অভিযানের ছবি প্রকাশে ওবামা প্রশাসনকে চাপ দিতে জোরেশোরে প্রচারণা শুরু করেছে। ২০১১ সালের ১৩ মের ওই ই-মেইল বার্তায় ম্যাকরাভেন বিশেষ ওই অভিযানে অংশ নেওয়া সব কমান্ডোর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁরা যেন অভিযানের সময় তোলা সব ছবি ধ্বংস করে ফেলেন। ম্যাকরাভেন লিখেছেন, ‘বিশেষ একটি বিষয়ের ওপর আমি জোর দিচ্ছি, তা হচ্ছে ছবিগুলো—বিশেষ করে ওসামার দেহাবশেষের সব ছবি সিআইএর কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এর পরও আপনাদের কাছে কিছু থাকলে, সেগুলো অবিলম্বে ধ্বংস করে ফেলুন অথবা সম্পাদনা করুন।’ জুডিশিয়াল ওয়াচ তথ্য অধিকার আইনের আওতায় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছে ২০১১ সালের ২ মে অ্যাবোটাবাদে মার্কিন অভিযানের সময় ধারণ করা ছবি এবং ভিডিওচিত্র চেয়ে একটি আবেদন করে।
এর ১১ দিনের মাথায় ওই ই-মেইল বার্তা প্রকাশিত হয়েছিল। ওই অভিযানে নিহত ব্যক্তি সত্যিই ওসামা ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে তারা। ওই অভিযানের পর মার্কিন প্রশাসন বলেছিল, তারা দুটি কারণে ওসামার মরদেহ সাগরে দাফন করেছে। প্রথমত, মুসলিম প্রথা অনুসারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মরদেহ দাফন করতে তারা কোনো দেশ পায়নি। দ্বিতীয়ত, ভূখণ্ডে দাফন করা হলে, সেই কবর তাঁর অনুসারীদের কাছে একটা তীর্থস্থানে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। পরে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ঘোষণা দিয়েছিলেন, একই কারণে তিনি অভিযানের ছবি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এসব ঘোষণার পর গুজব রটে, অভিযানে নিহত ব্যক্তি আসলে ওসামা নন। কিডনি জটিলতায় ওসামার আগেই মৃত্যু হয়েছিল। আর চলতি সপ্তাহে অ্যাডমিরাল ম্যাকরাভেনের ই-মেইল বার্তা প্রকাশের পর ওই গুজব আরও জোরালো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে বলেন, ওসামার নিহত হওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের পাশাপাশি একজন নারী তাঁকে শনাক্ত করেন। ওই নারী ওসামার স্ত্রী বলে ধারণা করা হয়। ডন।

বার্ধক্যে সামাজিক যোগাযোগ আয়ু বাড়ায়?

বার্ধক্যে সামাজিক যোগাযোগ আয়ু বাড়ায়?
সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করলে বার্ধক্যে সুস্থতার পাশাপাশি দীর্ঘায়ু অর্জন করা সম্ভব হয়। আর একাকিত্বের অনুভূতি একজন বয়স্ক মানুষের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি করে। নতুন এক গবেষণার ভিত্তিতে মার্কিন বিজ্ঞানীরা এসব তথ্য জানিয়েছেন। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জন ক্যাসিওপো বলেন, বার্ধক্যকালীন একাকিত্বের সমস্যাটির ব্যাপকতা মানুষের সুবিধাবঞ্চিত আর্থসামাজিক অবস্থার মতোই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অপরিচিত পরিবেশে বসবাস বয়স্ক মানুষের জন্য মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। পিটসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কার্ক এরিকসন বলেন, একা মানুষ সাধারণত শুয়ে-বসে সময় কাটাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে তাঁর স্বাস্থ্য স্বভাবতই নাজুক হয়ে পড়ে। নিয়মিত হাঁটার মতো অতি সাধারণ ব্যায়ামের ফলে হূদেরাগ বা আলঝেইমার ঝুঁকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে

৩৪তম বিসিএস ও জনপ্রশাসনের সংকট

মনে হতে পারে, একটি বিসিএস পরীক্ষার ফল ঝুলে থাকলে এমন কী ক্ষতি হয়? শুধু ক্ষতি নয়, আজ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি এর অংশগ্রহণকারীরা। আরও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছেন ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষা যাঁরা দিতে চান, তাঁরা। তাঁদের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিই জারি হয়নি। ৩৪তম বিসিএস মাঝপথে থমকে দাঁড়িয়ে এখন ধীর লয়ে চলতে শুরু করেছে। যত চেষ্টাই করা হোক, এটা নিষ্পত্তি করতে বেশ সময় লাগবে। আর এতে চাকরি পাওয়ার কথা প্রায় দুই হাজার জনের। বাকিরা ইতিমধ্যে কোথাও নোঙর ফেলতে না পারলে সরকারি চাকরির বয়সীমাও কারও কারও চলে যেতে পারে। অনিশ্চিত হয়ে পড়বে তাঁদের ভবিষ্যৎ। ৩৪তম বিসিএসে সমস্যাটি কেন হলো, একটু তলিয়ে দেখার দরকার। বরাবরের মতো গত বছরের ফেব্রুয়ারির সূচনায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। সে বছরের ২৪ মে অনুষ্ঠিত হয় প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় দুই লাখ। ৮ জুলাই প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে ১২ হাজার ৩৩ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। তবে এ পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো চিরাচরিত ঐতিহ্য অবজ্ঞা করে প্রিলিমিনারি পর্যায়েই কোটাপদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। এ কারণে অনেক কম নম্বর পেয়েও উত্তীর্ণ হন প্রাধিকার কোটার প্রার্থীরা। পক্ষান্তরে, অনেক বেশি নম্বর পেয়েও প্রাধিকারবহির্ভূত প্রার্থীদের বিরাট অংশ উত্তীর্ণ হতে পারেননি সে পর্যায়ে। প্রতিবাদ বিক্ষোভের মুখে প্রচলিত পদ্ধতিতে সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয়।
এবারে নাটকীয়ভাবে উত্তীর্ণ ৪৬ হাজার ২৫০ জন। আবার আদিবাসী কোটায় প্রথম দফায় উত্তীর্ণ ২৮০ জন পরবর্তীকালে উত্তীর্ণ না হওয়ায় উচ্চ আদালতে মামলা গড়ায়। আদালত তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পিএসসি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদে দেখা গেল, এ ২৮০ জনকে যুক্ত করে ২৪ মার্চ থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে। অর্থাৎ প্রিলিমিনারির ১০ মাস পর।  বিষয়টি পরিষ্কার যে এত বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ, খাতা দেখাসহ আনুষঙ্গিক কাজ খুবই জটিল ও সময়সাপেক্ষ। এসব দিক বিবেচনায় রেখে একেকটি বিসিএসে নয় থেকে এগারো হাজার প্রার্থীকে প্রিলিমিনারি মেধাতালিকা থেকে লিখিত পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের যোগফল নিয়ে মেধাতালিকা তৈরি হয়। তখন প্রাধিকার ও মেধা কোটা অনুসরণে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করা হয়। অথচ এবারে প্রাধিকার কোটার চাকরি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষাতেই ভাগ বসানো হলো। আর তা করতে গিয়েই আজকের হ-য-ব-র-ল অবস্থা। এত বিশালসংখ্যক প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষার আয়োজন, মূল্যায়নের ব্যবস্থাসহ এটি একটি মহাযজ্ঞের রূপ নিয়েছে। আর তা করতে গিয়ে সঠিক মেধা যাচাই করা যাবে কি না, এ সংশয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। উঁচু মানের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে অধিক মেধাবীদেরই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা উচিত, অন্যদের প্রিলিমিনারি পর্যায়েই বিদায় নেওয়ার কথা।
ভারতে কেন্দ্রীয় ও সর্বভারতীয় চাকরির সংখ্যা সাধারণত প্রতিবছর হাজারের নিচেই থাকে। কয়েক লাখ প্রতিযোগী অংশ নেন প্রিলিমিনারি পর্বে। লিখিত পরীক্ষার জন্য মেধা অনুসারে নেওয়া হয় শূন্য পদের ১১ থেকে ১২ গুণ প্রার্থী। আর লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শূন্য পদের শুধু দ্বিগুণ প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। এতে প্রতিযোগীদের প্রতি পরীক্ষকেরা অধিকতর সুবিচার করার সুযোগ পান। ইচ্ছা-অনিচ্ছার আশঙ্কা হ্রাস পায়। আর আমরা ধরে-বেঁধে কারও ইচ্ছা-অনিচ্ছার কাছেই সমর্পণ করি হাজার হাজার প্রতিযোগীকে। প্রাধিকার কোটা সম্পর্কে অনেক লেখালিখি হয়েছে। মোট পদের ৫৫ শতাংশ নিয়ে নিচ্ছে সে কোটা। উপজাতি, মহিলা আর কতিপয় পশ্চাৎপদ জেলার জন্য কিছু জেলা কোটা ছাড়া অন্য কোনো ধরনের কোটা সংরক্ষণের সাংবিধানিক কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। এ দেশের স্থপতিরা সংবিধানের প্রস্তাবনায় দেশের সব নাগরিকের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। সংবিধানের মৌলিক অধিকারসংক্রান্ত অধ্যায়ের ২৯ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের জন্য সব নাগরিকের সুযোগের সমতার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সে অনুচ্ছেদের ৩ উপ-অনুচ্ছেদে সমাজের যেকোনো অনগ্রসর অংশ যাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করতে পারে, তার বিশেষ বিধান করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তাহলে অন্য কোটাগুলোর আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি কী, তা বোধগম্য নয়।
তদুপরি, সেসব কোটা যে অনুপাতে রাখা আছে, তা প্রকৃত চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে বারংবার এটা দৃশ্যমান হচ্ছে। কোনো কোনো কোটায় উপযুক্ত প্রার্থীই পাওয়া যায় না। আর সেখানে প্রার্থী খুঁজতে উপযুক্ততা হ্রাস আমরা আর কতটা করব, তাও ভেবে দেখা দরকার। ৩৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে ঢালাও পাস এ ধরনের একটি অযাচিত প্রক্রিয়া বলে কেউ কেউ মনে করেন। মেধা ও যোগ্যতাকে অবজ্ঞা করে আমরা বেসামরিক প্রশাসনের মান ক্রমে নিম্নমুখী করে চলছি। কোটা আগেও ছিল, এখনো আছে আর ভবিষ্যতেও কিছু না কিছু থাকবে। তবে সেটা কি অনুপাতে হবে আর কাদের জন্য থাকবে, তা সুবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের দাবি রাখে। আর সে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত সংবিধানের সুস্পষ্ট নির্দেশনার আলোকে এবং প্রস্তাবনার চেতনায়। সংবিধানের প্রস্তাবনা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে আছে। আমরা আজ দেশে প্রতিনিয়ত স্বাধীনতার চেতনা আর সংবিধান সমুন্নত রাখার কথা শুনতে পাই। যাঁরা এগুলো বলেন, তাঁদের উচিত সরকারি চাকরিতে প্রবেশাধিকারে মেধাবীদের আড়াল করে রাখার প্রচেষ্টার অবসান ঘটানো। প্রাধিকার কোটা যাদের জন্য থাকার কথা, তা-ই থাকবে। আর তাও থাকবে বাস্তব চাহিদার অনুপাতে। এর অন্যথা করে দেশের বেসামরিক শাসনযন্ত্রটিকে ক্রমান্বয়ে দুর্বল করে দিলে চূড়ান্তভাবে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাই দুর্বল হবে। গণতন্ত্রের সুষ্ঠু বিকাশ ও দৃঢ় ভিত্তির জন্যও মেধাবী ও দক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এটা কিন্তু আমাদের ছিল। কিন্তু হেলায় তা আমরা ভেঙে ফেলছি। ৩৪তম বিসিএস নিয়ে এযাবৎ যা ঘটল, তা হয়তো বা একসময় নিষ্পত্তি হবে। অন্যদিকে ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে হাজার দেড়েক কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিও শিগগিরই জারি হবে বলে জনপ্রশাসনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য এ ধারাবাহিকতার আবশ্যকতা রয়েছে। কারও কারও আশঙ্কা,
সে ৩৫তম বিসিএসেও প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অর্ধলক্ষাধিক বা তার বেশি পরীক্ষার্থীকে পাস করিয়ে দেওয়া হতে পারে আগেরটির ধারাবাহিকতায়। এমনকি কোটাপদ্ধতি প্রিলিমিনারি থেকেই চালু করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এ আশঙ্কাগুলো যথার্থ না হোক, তা সবাই চান। তবে সংগত কারণেই অনেকেই শঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সরকার জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তাদের অতি ক্ষুদ্র দু-একটি ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপই নেই। সিভিল সার্ভিসে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতিতে স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটাতে একটি আইনের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে অনুভব করা হচ্ছে। সুশাসনের জন্য যেসব উন্নয়ন-সহযোগী কাজ করছে, তারাও এ ধরনের একটি আইনের জন্য বারবার দাবি রাখছে। এ ধরনের দাবির মুখে কখনো সিভিল সার্ভিস আইন আর কখনো বা পাবলিক সার্ভিস আইন নামে খসড়া তৈরি হয়েছে। আবার খসড়াগুলো তাদের স্বাভাবিক অবস্থান হিমাগারেই আছে। আর এগুলোতে নতুন বিতর্কও সামনে নিয়ে আসার ব্যবস্থা রয়েছে। উভয় খসড়ায় শীর্ষ পদগুলোতে ক্যাডারের বাইরে থেকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। এমনিতেই এ ধরনের কিছু সুযোগ সীমিত আকারে রয়েছে। তবে আইন করে ঢালাওভাবে তা দেওয়া হলে রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহারের আশঙ্কা ক্রমবর্ধমান হবে। এমনিতেই ক্যাডার পদে যোগদানে মেধাবীদের একটি অংশের অনীহা রয়েছে। এর কারণ অনেক। এর মধ্যে অপ্রতুল বেতন-ভাতা, ক্রমহ্রাসমান মর্যাদার কথা উল্লেখ করা যায়। তার পরও যাঁরা চান, তাঁদের অনেকেই আটকা পড়েন কোটার বেড়াজালে। তদুপরি, শীর্ষ পদগুলোতে বাইরে থেকে চুক্তিতে নিয়োগের পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করলে এ পথে মেধাবীদের আসতে আগ্রহই বা থাকবে কেন? মনে হচ্ছে আমরা জেনে-শুনে ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের সম্ভাবনাময় অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি জনপ্রশাসনকে বিপন্ন করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছি।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com

ধূসর তালিকার বাইরে বাংলাদেশ

মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের (এফএটিএফ) ধূসর বা ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা থেকে বাংলাদেশের বেরিয়ে আসা নিঃসন্দেহে সুসংবাদ। গত সোমবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ ঘটনাকে বাংলাদেশের বিরাট অর্জন বলে দাবি করেছেন। আমরা অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত না করেও যে কথাটি বলতে চাই তা হলো, আইন সংস্কার করাই যথেষ্ট নয়। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মিত ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কোনো দেশ কালো বা ধূসর তালিকায় থাকলে তাদের সঙ্গে বিদেশি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক লেনদেনে উৎসাহ দেখায় না, আবার লেনদেন করলেও বাড়তি মাশুল আদায় করে। ২০১০ সালে ভিয়েতনাম কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশও ধূসর তালিকাভুক্ত হয়। এই দফায় ভিয়েতনাম কালো তালিকাভুক্ত ও বাংলাদেশ ধূসর তালিকা থেকে মুক্ত হয়। বাংলাদেশের ধূসর তালিকার বাইরে আসার কারণ গত সাড়ে তিন বছরে মানি লন্ডারিং আইনগুলোর সংস্কার। এর আগে দেশে যেসব আইন ছিল, সেগুলো মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে যথেষ্ট ছিল না বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
গত সাড়ে তিন বছরে যেমন বেশ কিছু আইনের সংস্কার করা হয়েছে, তেমনি তিনটি নতুন আইন প্রণীত হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে এফএটিএফ আশ্বস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। কিন্তু ঝুঁকি একেবারে চলে গেছে, তা বলা যাবে না। যেখানে দক্ষিণ এশিয়ারই অন্যতম দেশ পাকিস্তান ও প্রতিবেশী মিয়ানমার এখনো কালো তালিকাভুক্ত। তবে আইনের সংস্কারের পাশাপাশি রেগুলেটরি সংস্থা, বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, দুদক, বিএসইসি ও সিআইডিকে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকলে অর্থ পাচার বন্ধ করা অসম্ভব নয়। সর্বোপরি আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীদের মধ্যে এ ধারণা দিতে হবে যে অর্থ পাচার করে পার পাওয়া যাবে না। বিগত সরকারের আমলে কয়েকটি অর্থ পাচারের ঘটনা উদ্ঘাটিত হলেও এতে সন্তুষ্টির কারণ নেই। কেননা, দেশি-বিদেশি অর্থ পাচারকারীরা সক্রিয় আছে। অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপই পারে বাংলাদেশকে স্থায়ীভাবে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে।