Sunday, October 26, 2025
আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন: জোটের সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান আনোয়ার ইব্রাহিমের
আজ রোববার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে শুরু হওয়া ৪৭তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে আনোয়ার ইব্রাহিম এ আহ্বান জানান। ২৮ অক্টোবর এ সম্মেলন শেষ হবে। এতে যোগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।
স্বাগত বক্তব্যে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ক্রমবর্ধমান অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে আসিয়ানের সদস্যদেশগুলোর জন্য ঐক্য, খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং অভিন্ন উদ্দেশ্য বজায় রাখা অপরিহার্য।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, নেতৃত্ব মানে রুটিনমাফিক কাজ করা নয়, এটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়। কী অগ্রাধিকার দিতে হবে, আসিয়ানের উদ্দেশ্য কীভাবে এগিয়ে নিতে হবে ও জনগণের আশা অনুযায়ী সঠিক পথ কীভাবে নির্ধারণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আনোয়ার আরও বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান সুরক্ষাবাদ নীতি এবং সরবরাহশৃঙ্খলে পরিবর্তন আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমাদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে হবে। অন্যথায় আসিয়ান স্থিতিশীল থাকতে পারবে না।’
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত, লাওসের প্রধানমন্ত্রী সোনেক্সেই সিফানদোন, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ও ব্রুনেইয়ের সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়াহ মুইজ্জাদ্দিন ওয়াদদৌল্লাহ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাসহ বিশ্বের আরও অনেক নেতা।
সম্মেলনে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ২০২৫ সাল আসিয়ানের জন্য নতুন পরীক্ষার বছর। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ক্রমে বাড়ছে। ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ব্যাঘাত অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা ও সম্মিলিত সংকল্পকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখছি, এ অঞ্চলজুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি শুধু আমাদের অর্থনীতি নয়; বরং সহযোগিতায় বিশ্বাস রাখার সম্মিলিত সংকল্পকেও পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।’
![]() |
| মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিউইয়র্কের মুসলিমরা যেভাবে গড়ে তুললেন মামদানিকে
নাইন–ইলেভেনের ঘটনার পর আরব ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন প্রতিশোধমূলক হামলার ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল নগরজুড়ে—এমনকি পুরো যুক্তরাষ্ট্রেও। আজকের নির্মম ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসের অভিযানের পূর্বাভাস যেন সেই সময়ই পাওয়া গিয়েছিল। অবৈধ অভিবাসনের অভিযোগে শত শত মুসলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তাঁদের অনেকে অমানবিক অবস্থায় আটক ছিলেন। মুসলিমদের নাগরিক অধিকারকে পদদলিত করা হয়েছিল।
২৪ বছর পর নিউইয়র্কের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এই নগর এখন সেখানকার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত করার জন্য প্রস্তুত। সেখানেই ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন জিতে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন। প্রশ্ন হলো, এত গভীর এই পরিবর্তনের পেছনে কী কাজ করেছে?
প্রশস্ত হাসির অধিকারী জোহরানের প্রায় অপ্রতিরোধ্য উত্থান ব্যাখ্যা করা যায় তাঁর অসাধারণ বাগ্মিতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে। মার্কিন রাজনীতিবিদ আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজসহ অনেকে তাঁকে বলেছেন, ‘এক প্রজন্মে একবার পাওয়া যায় এমন নেতা।’
মামদানির সাফল্যের গল্প কেবল ব্যক্তিগত নয়—এটি আরও বড় এক ইতিহাসের অংশ, যেখানে ৯/১১–এর পর কঠিন পরিস্থিতিতে পড়া তরুণ মুসলিম নিউইয়র্কবাসী সংগঠিত হয়ে নতুনভাবে নিজেদের গড়ে তুলেছেন।
ইসলামভীতির উত্থানের বিপরীতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজন থেকেই জন্ম নেয় এই তরুণ মুসলিমদের রাজনৈতিক জাগরণ। বছরের পর বছর ধরে তাঁরা শহরে রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলেছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। তাঁরা এমন এক নতুন ধারা গড়ে তুলেছেন, যা নতুন পরিচয়কে গ্রহণ করে, সীমাবদ্ধতাকেও অতিক্রম করে। এই আন্দোলন নীরবে ও ধারাবাহিকভাবে বেড়ে উঠেছে বহু বছর ধরে। জোহরান মামদানি আজ সেই আন্দোলনের সবচেয়ে সফল ও পরিপূর্ণ প্রতিফলন।
নিউইয়র্কের মুসলিমরা যেমন সংগঠিত হচ্ছেন, তেমনি তাঁদের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে এখন কোনো প্রার্থীই মুসলিম ভোটারদের উপেক্ষা করে জেতার আশা করতে পারেন না। আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় ১০ লাখ মুসলিম বসবাস করেন (ধর্মভিত্তিক কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই), যা শহরের ইহুদি জনগোষ্ঠীর প্রায় সমান।
আমেরিকান–ইসলামিক রিলেশন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে ১০ লাখ মুসলিমের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নিবন্ধিত ভোটার। যদিও ২০২১ সালের মেয়র নির্বাচনে মাত্র ১২ শতাংশ মুসলিম ভোট দিয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে।
নিউইয়র্ক মুসলিম ডেমোক্রেটিক ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মেয়র পদে দলীয় প্রাইমারিতে মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় ভোটারদের উপস্থিতি ২০২১ সালের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
গত মাসে প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুমো দাবি করেছিলেন, মুসলিম সম্প্রদায় সমাজতান্ত্রিক নয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মুসলিমরা এখন ডেমোক্রেটিক পার্টিকে মৌলিক নীতিগত প্রশ্নে বামধারার ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন।
নিউইয়র্ক মুসলিম ডেমোক্রেটিক ক্লাবের সভাপতি সামান ওয়াকাদ বলেন, ‘জোহরানকে খুবই ব্যতিক্রমধর্মী প্রার্থী হিসেবে দেখছেন মানুষ এবং তিনি তা–ই। কিন্তু এই নির্বাচনে তাঁর গুরুত্ব গড়ে উঠেছে গত দুই দশকে। বিশেষ করে ৯/১১–এর পর মুসলিমদের সংগঠিত রাজনৈতিক কাজের ভিত্তির ওপর।’
২০০১ সালের পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মুসলিমদের ওপর নজরদারি শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেন মার্কিন গোপন নথি ফাঁস করে আলোচিত হয়েছিলেন। তাঁর নথিতে এ ধরনের তথ্য উঠে এসেছে। ওই সময় নিউইয়র্কবাসীর মধ্যে মুসলিমদের রাজনীতিতে প্রভাব ছিল খুব কম।
ওই সময় সিটি কাউন্সিলে রবার্ট জ্যাকসন নামের একজন নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে সিটিতে জয়ী হওয়া জ্যাকসন পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে আগ্রহী তরুণ মুসলিমদের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত হন। ২০১৮ সালে জ্যাকসন প্রথম মুসলিম হিসেবে রাজ্যের সিনেটে নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালের মেয়র নির্বাচনের সময় মুসলিম নিউইয়র্কবাসী কাঠামোগত সমাধান খুঁজতে শুরু করেন। নিউইয়র্ক মুসলিম ডেমোক্রেটিক ক্লাব সেই বছর গঠিত হয়।
জোহরান মামদানির নিউইয়র্ক সিটির রাজনীতিতে উত্থান শুরু হয় নিউইয়র্ক মুসলিম ডেমোক্রেটিক ক্লাব থেকে। ক্লাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা আলী নাজমি একজন আইনজীবী। ২০১৫ সালে তিনি সিটি কাউন্সিল পদে প্রার্থী হন। নাজমির শৈশবের বন্ধু, র্যাপার হিমস তাঁকে সমর্থন করেছিলেন। মামদানিকে কুইন্সে নাজমির প্রচারণায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন হিমস।
২০১৭ সালে ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লুথারান পাস্তর ও ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সদস্য খাদের এল-ইয়াতিম সিটি কাউন্সিলে একটি আসনের জন্য প্রার্থী হন। মামদানি ছিলেন তাঁর প্রচার দলের পরিচালক। ২০১৮ সালে মামদানির নেতৃত্বে বামপন্থী রাজনৈতিক সাংবাদিক রস বার্কান স্টেট সিনেটে প্রার্থী হন।
নাজমি, এল-ইয়াতিম এবং বার্কান সবাই তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হেরে যান। নাজমি বলেছেন, ‘জোহরানের উত্থান হলো অনেক মানুষের পরাজয়ের ফলাফল।’
প্রচারের অর্থ সংগ্রহের পরিসংখ্যানও দেখা যায়, মামদানির ‘সাশ্রয়ী মূল্যের নিউইয়র্ক’ বার্তা মুসলিম সম্প্রদায়ের বাইরে কতটা প্রভাব ফেলছে। মার্কিন রাজনীতির বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওপেন সিক্রেটসের তথ্য অনুযায়ী, মামদানির প্রচার শিবির এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৬৮ লাখ মার্কিন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ দাতা ২৫০ ডলারের কম অনুদান দিয়েছেন। গড় অনুদান মাত্র ৯৮ ডলার।
তুলনামূলকভাবে, মামদানির প্রতিদ্বন্দ্বী কুমোর প্রচারে গড় অনুদান ৬১৫ ডলার। তিনি ১ কোটি ২৬ লাখ ডলার তুলতে পেরেছেন। মামদানির জন্য বড় শক্তি হলো তাঁর রাজনৈতিক ‘অ্যাকশন কমিটি’ বা ৮৭ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর দল। এই স্বেচ্ছাসেবীরা ভোটারদের দরজায় কড়া নাড়ছেন এবং সাশ্রয়ী খরচে নিউইয়র্কে টিকে থাকার বিষয় নিয়ে কথা বলছেন।
মামদানিকে আক্রমণ
মামদানিকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণ বাড়ছে। তাঁর মুসলিম ও এশীয় পরিচয়কে নিয়ে আক্রমণ করছেন কুমো। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। মামদানিকে আক্রমণ করে এ ধরনের ভিডিও পোস্টকে ভালোভাবে নেননি অনেকেই।
নিউইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র বিল ডে ব্লাজিও বলেছেন, কুমো মামদানিকে লক্ষ্য করে যে ভিডিও করেছেন, তা বর্ণবাদ। এ ধরনের ভিডিও চালাতে দেওয়া সরকারের উচিত নয়।
নিউইয়র্ক নগরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪ নভেম্বর। নির্বাচনের আগে মামদানিকে লক্ষ্য করে যে ব্যক্তিগত আক্রমণ হচ্ছে, তাতে অনেকেই বলছেন, কুমোর নির্বাচনী যোগ্যতা বাতিল করা উচিত।
| জোহরান মামদানি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলের ‘সাঁজোয়া বিস্ফোরক যানের’ ওপরই তাঁবু টানাল ফিলিস্তিনি পরিবার
১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর অনেক পরিবার গাজার দক্ষিণে নিজ শহর খান ইউনিসে ফিরতে শুরু করেছে। অনেকেই ফিরে এসে দেখছেন, আগে যেখানে পাড়া-মহল্লা ও বাড়িঘর ছিল, সেখানে এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ আর লোহার জঞ্জাল। এমনকি কোথাও কোথাও বিপজ্জনক অস্ত্রশস্ত্র পড়ে আছে।
গাজার বড় একটি অংশ এখনো ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দখলে। কোথাও স্থায়ীভাবে থাকার কোনো জায়গা নেই। এ অবস্থায় আয়মান কাদোরাহ ওই বিশাল সামরিক যন্ত্রের ওপরেই পরিবারের জন্য তাঁবু ফেলতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় ব্যক্তিরা এমন যন্ত্রকে ‘বিস্ফোরক রোবট’ বলেন। এসব বিস্ফোরক যান পুরো একটি আবাসিক এলাকা গুঁড়িয়ে দিতে ব্যবহৃত শক্তিশালী বোমা বহন করত।
গাজার বিভিন্ন শহরে রিমোট–নিয়ন্ত্রিত এসব ‘বিস্ফোরক রোবট’ মোতায়েন করেছিল ইসরায়েল। এগুলোর সাহায্যে বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা ব্যাপকভাবে গুঁড়িয়ে দিয়েছে তারা।
আয়মান কাদোরাহ এক মাস আগে খান ইউনিসে নিজের বাড়িতে ফেরেন। তিনি বলেন, তাঁর প্রতিবেশীর বাড়িতেও একটি বিস্ফোরকভর্তি যন্ত্র পাওয়া গেছে। একটি এফ-১৬ ক্ষেপণাস্ত্র দুই বাড়ির মাঝখানে তিন মিটার গভীর গর্ত তৈরি করেছে। আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র তাঁর বাড়ির পেছনে আঘাত হেনেছে।
আয়মান আল-জাজিরাকে বলেন, এমন অবিস্ফোরিত যন্ত্রগুলো ভয়াবহ বিপদের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে কোনো দাহ্য তরল এটির সংস্পর্শে এলে ভয়ানক ও আকাশচুম্বী অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।
আয়মানের দুশ্চিন্তা হয়, যন্ত্রগুলোর যেকোনোটি বিস্ফোরিত হলে পুরো পাড়া নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। ঝুঁকি কমাতে তিনি নিয়মিতভাবে এসব যন্ত্রের ওপর বালু ঢালেন।
গত সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানায়, আগস্টের শেষ তিন সপ্তাহে ইসরায়েল গাজায় শতাধিক বিস্ফোরক রোবটের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
জাতিসংঘের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ কেন্দ্র ইউএনওএসএটি জানায়, খান ইউনিস প্রশাসনিক অঞ্চলে ইসরায়েলি বোমায় ৪২ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু খান ইউনিস শহরেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১৯ হাজার।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, পুরো গাজায় ২ লাখ ২৭ হাজারের বেশি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু জীবন থেকে ফেরা বা বসবাস করার মতো কোনো জায়গা পাচ্ছেন না।
দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের মাইন অ্যাকশন সার্ভিসের প্রধান লুক ডেভিড আরভিং এসব বিস্ফোরক অস্ত্রের ঝুঁকিকে ‘অত্যন্ত উচ্চমাত্রার’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের সংস্থা এখন পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অন্তত ৫৬০টি যন্ত্র শনাক্ত করেছে। যদিও প্রকৃত সংখ্যা অজানা।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অবিস্ফোরিত অস্ত্রে ৩২৮ জন নিহত বা আহত হয়েছেন। তবে বাস্তব সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
আয়মানের সন্তানেরা এখন এমন পোশাক পরে, যেগুলো তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করেছেন। এসব পোশাকের কারণে তাদের ত্বকে মারাত্মক সংক্রমণ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সবকিছুর পরও আমরা এখানে থাকতে বাধ্য হচ্ছি। কারণ, এ ছাড়া আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।’
![]() |
| ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ধর্মনিরপেক্ষতার বদলে বহুত্ববাদ: ভাবের ঘরে চুরি by মহিউদ্দিন আহমদ
কটূক্তি, ধর্ম অবমাননা, অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া—এসব অভিযোগ তুলে হামলা-মামলা চলে আসছে অনেক দিন ধরে। নিকট অতীতে রামু, নাসিরনগর, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার ধুয়া তুলে দুর্বল সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর জুলুম হয়েছে। অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার নালিশ জানালেই হলো। পুলিশ বিদ্যুৎগতিতে তাকে ধরে নিয়ে যাবে। আদালতে রিমান্ড চাইবে। আদালত সঙ্গে সঙ্গেই দিয়ে দেবেন। এই ফর্মুলার নড়চড় হতে দেখছি না।
ধর্ম একটি স্পর্শকাতর বিষয়। সম্প্রতি একটি পুরোনো বাংলা ছবির সংলাপ শুনলাম। উত্তমকুমার বলছেন, ‘ভগবানে আমার বিশ্বাস নেই।’ এতে তো ধর্মপ্রাণ হিন্দুর অনুভূতিতে প্রচণ্ড আঘাত লাগার কথা; কিন্তু সে রকম কিছু হয়েছে বলে শুনিনি। উত্তমকুমারের জনপ্রিয়তায় একটুও ভাটা পড়েনি।
এ অঞ্চলে হিন্দু-মুসলমানের ঝগড়া বেশ পুরোনো। একসময় ভারতের মুসলমানরা মনে করলেন, তাঁরা একটি জাতি। হিন্দুদের সঙ্গে বসবাস করলে ইমান-আকিদা নিয়ে বাঁচা যাবে না। আলাদা দেশ চাই। তো আলাদা দেশ ‘পাকিস্তান’ হলো। দেখা গেল পাকিস্তানের এক অঞ্চলের মুসলমানের সঙ্গে আরেক অঞ্চলের মুসলমানের অনেক দ্বন্দ্ব। এক ছাদের নিচে বসে তার সুরাহা হবে না। তাই পাকিস্তান ভেঙে ‘বাংলাদেশ’ হলো। এখন দেখা যাচ্ছে, তাতেও সব সমস্যার সমাধান হয়নি। হিন্দু-মুসলমান ভাগটা রয়েই গেল।
একসময় এ দেশে ছিল পৃথক নির্বাচনব্যবস্থা। মুসলমানরা ভোট দিত মুসলমানকে আর হিন্দুরা দিত হিন্দুকে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের আগে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ হিন্দু নেতাদের বোঝাল, ‘আমাদের ভোট দিলে দেশে সাম্প্রদায়িকতা থাকবে না, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হবে।’
হিন্দু নেতারা বললেন, তাহলে আগে তোমরা অসাম্প্রদায়িক হও। আওয়ামী লীগ রাজি হলো। নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি হলো।
১৯৫৫ সালে আওয়ামী লীগ দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটা বাদ দিয়ে ‘অসাম্প্রদায়িক’ হওয়ার দাবি করল। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে পৃথক নির্বাচনব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে চালু হলো যুক্ত নির্বাচনব্যবস্থা। তবে কাগজে-কলমে অসাম্প্রদায়িক হলেও আচরণে আওয়ামী লীগ মুসলমানের দলই থেকে গেল।
১৯৭০ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে শেখ মুজিব ঘোষণা দিলেন, ‘কাউকে কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী আইন করতে দেওয়া হবে না।’ কার্যত হিন্দুরা হলেন আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক।
অনেক মুসলমান মনে করেন, হিন্দুরা সব ভারতের দালাল। কিছু হলেই তাঁরা দৌড় দেন ভারতের দিকে। ‘ভারতের দালাল’ কথাটা এ দেশে খুব খায়। পাকিস্তানি শাসকেরা মনে করতেন, বাঙালি মুসলমান খাঁটি মুসলমান নয়। নামে মুসলমান হলেও কার্যত তারা হিন্দু। তারা হিন্দু সংস্কৃতি লালন-পালন করে। শহীদ মিনার, পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন—এসব হচ্ছে হিন্দু সংস্কৃতি।
১৯৭১ সালে এ দেশে গণহত্যা হয়েছিল। প্রধান টার্গেট ছিল হিন্দু সম্প্রদায়। পাকিস্তানিদের হাতে যত মুসলমান মারা গেছে, পাকিস্তানিরা তাদের হিন্দু মনে করেই মেরেছে। যে এক কোটি লোক ভারতে শরণার্থী হয়েছিল, তাদের ৮০ ভাগই ছিল হিন্দু।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুসলমানের চোখে হিন্দুরা হিন্দুই থেকে গেল, বাঙালি হতে পারেনি। রেডিও-টেলিভিশনে আর সরকারি অনুষ্ঠানে একজন পুরুত ডেকে গীতা পাঠ করিয়ে সরকার দায়িত্ব সারল। বলল ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ হয়ে গেছে। ১৯৭২ সাল থেকেই দেশের নানা জায়গায় পূজামণ্ডপে হামলা আর প্রতিমা ভাঙচুর হতে থাকে।
১৯৭৫ সালের পর কাগজে–কলমে বাংলাদেশ হয়ে যায় মুসলমানের দেশ। রাষ্ট্রের অনানুষ্ঠানিক ইসলামীকরণ জিয়াউর রহমানের হাত দিয়ে শুরু, এরশাদের হাতে তার মোক্ষলাভ।
শেখ হাসিনা ২০ বছর ক্ষমতায় থেকে জিয়া-এরশাদের তৈরি স্থিতাবস্থা বজায় রাখলেন। হিন্দুদের প্রতি তাঁর দরদ ছিল না। তাঁর দরকার ছিল হিন্দু ভোট। মুসলমানের প্রতিও যে তাঁর দরদ ছিল, এমনটি বলা যাবে না।
আসলে তাঁর একমাত্র চাওয়া ছিল ক্ষমতার চূড়ায় থাকা। সে জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের অনুভূতি নিয়ে তিনি ডুগডুগি বাজিয়েছেন আর হিন্দুদের রেখে দিয়েছেন জিম্মি করে। ক্ষমতার ভিত টিকিয়ে রাখতে নির্ভর করেছেন ভারতের ওপর। সরকার চালিয়েছেন সামরিক-অসামরিক গোয়েন্দা আর সরকারি-বেসরকারি লাঠিয়াল দিয়ে।
এ দেশের হিন্দুদের আরও বিপদে ফেলে দিয়েছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার। ভারত সরকার ঘোষণা দিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে অমুসলিম কেউ ভারতে (২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যাঁরা গিয়েছেন) গেলে তাঁকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এর ফলে অনেকের কাছে মনে হতে পারে, বাংলাদেশের হিন্দুদের স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ভারতের নাগরিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়ে যায়।
মুসলমানদের বলতে সুবিধা হলো—তোমরা তো ভারতে এক পা দিয়েই রেখেছ। আমাদের নেতারা প্রায়ই জোরগলায় বলেন, এ দেশে সংখ্যালঘু নেই। সবাই বাংলাদেশি। কথাটা যে ফাঁকা আর ফাঁকি, সেটি বলার অবকাশ রাখে না। সমস্যাকে স্বীকার করে নিয়ে তার সমাধানের দিকে না গিয়ে তাঁরা সমস্যাটাকে অস্বীকার করে প্রকারান্তরে এটাকে জিইয়ে রেখেছেন। বাংলাদেশি মুসলমানের একটি বড় অংশের চোখে বাংলাদেশি হিন্দুরা হলো ‘আটকে পড়া ভারতীয়’।
সংখাগুরুর আধিপত্যবাদের বিপরীতে সংখ্যালঘু মনস্তত্ত্ব বলে একটি কথা আছে। এর পেছনে কাজ করে নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা। হিন্দুদের বাড়ি, জমি ও ব্যবসা দখলের মচ্ছব চলছে ১৯৪৭ সাল থেকে। যাঁদের বাড়িতে উঠতি বয়সী মেয়ে আছে, তাঁরা অনেকেই তাদের ভারতে পাঠিয়ে দেন এ দেশে তারা নিরাপদ নয় ভেবেই। অনেকে তাঁদের সঞ্চয়ও পাঠিয়ে দেন দেশের বাইরে। মুসলমানও টাকা পাচার করে। সে করে দুবাই, সিঙ্গাপুর, ইংল্যান্ড, কানাডা বা যুক্তরাষ্ট্রে। হিন্দু করে ভারতে। সে মনে করে, একদিন যদি সে এ দেশে থাকতে না পারে, সে তো যাবে ভারতেই। অতি অল্পসংখ্যক ভাগ্যবান যেতে পারবে পশ্চিমের দেশগুলোতে। এই সংখ্যালঘু মনস্তত্ত্ব বোঝা দরকার।
একই কথা প্রযোজ্য ভারতীয় মুসলমানের ক্ষেত্রে। তারা সবাই পাকিস্তানে যাবে না; কিন্তু তারা মনে করে, একটি শক্তিশালী পাকিস্তান হচ্ছে তাদের রক্ষাকবচ। সে জন্য অনেক ভারতীয় মুসলমানকে ‘পাকিস্তানি এজেন্ট’ গাল শুনতে হয়।
ইদানীং নেতারা গলদঘর্ম হচ্ছেন সংবিধান নিয়ে। কারও কারও মনে হয়েছে, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি রাখার দরকার নেই। সে জায়গায় বসাতে হবে ‘বহুত্ববাদ’। দুটির অর্থ যে দুই রকম, এটা তাঁদের মাথায় ঢোকে না। ধর্মনিরপেক্ষতা হচ্ছে রাষ্ট্র কোনো বিশেষ ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেবে না। রাষ্ট্রের চোখে সবাই সমান। ‘বহুত্ববাদ’ হচ্ছে বহু মতবাদের সহাবস্থান। একটি রাষ্ট্রধর্ম রেখে সত্যিকারের বহুত্ববাদ হয় না। যাঁরা বহুত্ববাদের কথা বলছেন; কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তাঁরা সমাজে সাম্প্রদায়িকতার বীজটা যত্ন করে রেখে দিতে চাইছেন। এটা ‘ভাবের ঘরে চুরি’ ছাড়া আর কিছু নয়।
* মহিউদ্দিন আহমদ, লেখক ও গবেষক
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| সম্প্রতি ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা করা হয়। প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সেই সোহেল রানা এখন আলবেনিয়ার কারাগারে by নজরুল ইসলাম
দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ আলবেনিয়ায় সোহেল রানা দাবি করেছেন, তিনি বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বজন। রাজনৈতিক কারণে তিনি বাংলাদেশ ছেড়েছেন। দেশে ফেরত পাঠানো হলে তাঁর মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সোহেল রানা এখন আলবেনিয়ার কারাগারে আছেন। তাঁকে দেশে ফেরত পাঠাতে আলবেনিয়ার পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে (এনসিবি) একাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা আমাদের সেসব চিঠির কোনো জবাব দেয়নি।’
* ঢাকায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে ৯টি মামলা।
* সোহেল রানা আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের পৃষ্ঠপোষক।
* ই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।
* সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক চিঠি।
আলবেনিয়ায় গ্রেপ্তার
ই-অরেঞ্জের মাধ্যমে প্রতারণা করে গ্রাহকের বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা হলে ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে যান। ভারত থেকে নেপালে যাওয়ার চেষ্টাকালে পরদিন তিনি পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে গ্রেপ্তার হন।
ভারতে অনুপ্রবেশের মামলায় সোহেল রানার দুই বছরের কারাদণ্ড ও ৪০ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়। তিনি পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে ছিলেন। ‘শারীরিক অসুস্থতা’ দেখিয়ে গত বছরের জানুয়ারিতে তিনি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে লাপাত্তা হন।
পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, সোহেল রানাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করা হয়েছিল। বেশ কয়েকবার চিঠি চালাচালিও করা হয়। কিন্তু কাজ হয়নি।
সোহেল রানা ভারত থেকে পালিয়ে পর্তুগাল হয়ে আলবেনিয়ায় গিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। আলবেনিয়ার পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবির কাছ থেকে এ তথ্য জানতে পারে বাংলাদেশ পুলিশ।
আশ্রয় পাওয়ার চেষ্টা
সোহেল রানার বাড়ি গোপালগঞ্জে। তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকায় মানি লন্ডারিং, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার ৯টি মামলা আছে। এ তথ্য জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে বলেন, ২০২২ সাল থেকে সোহেল রানার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি আছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) করা মানি লন্ডারিং আইনের একটি মামলায় এই রেড নোটিশ জারি হয়। এর ভিত্তিতেই ইন্টারপোলের সহযোগিতায় আলবেনিয়ার এনসিবি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
মাস ছয়েক আগে আলবেনিয়ার এমসিএন টিভি সোহেল রানার গ্রেপ্তারের ঘটনাটি নিয়ে একটি টক শো ও প্রতিবেদন দেখায়। বলা হয়, পর্তুগাল থেকে আলবেনিয়ার রিনাস বিমানবন্দরে আসার পর গত ১ ফেব্রুয়ারি সোহেল রানা গ্রেপ্তার হন। বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হত্যার অভিযোগে মামলা আছে। সোহেল রানা দাবি করেছেন, তিনি বাংলাদেশ পুলিশে উচ্চ পদে কাজ করেছেন। তিনি শেখ হাসিনার পরিবার থেকে এসেছেন।
এমসিএন টিভির টক শোতে সোহেল রানার আইনজীবী এডন মেক্সি বলেন, ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে—এমন দেশে কোনো বিদেশিকে ফেরত পাঠাতে পারে না আলবেনিয়া।
আলবেনিয়ায় গ্রেপ্তার হয়ে দেশটির কারাগারে সোহেল রানার থাকাসহ এই টক শোর বিষয়টি নিয়ে গত অক্টোবরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান।
পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, আলবেনীয় আইন অনুযায়ী, বাইরের কোনো নাগরিক যদি তাঁর নিজ দেশে হত্যা মামলার আসামি হন, তাহলে তিনি আলবেনিয়ার আদালতে মামলা করে আশ্রয় চাইতে পারেন। সোহেল রানা এই সুযোগ কাজে লাগাতে আলবেনিয়ার আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় তিনি দাবি করেছেন, গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকার গুলশান থানায় হত্যা মামলা হয়। তিনি দেশে ফিরলে এই মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। কথিত মামলার অভিযোগের ভুয়া হলফনামা তাঁর পক্ষে আলবেনিয়ার আদালতে জমা দেওয়া হয়। এরপর আলবেনিয়ার পক্ষ থেকে সোহেল রানার কথিত মামলার বিষয়ে তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবিতে চিঠি পাঠানো হয়।
পুলিশ সদর দপ্তর আলবেনিয়ার এনসিবিকে চিঠি দিয়ে বলেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ঢাকার গুলশানে কোনো হত্যা মামলা হয়নি। তিনি ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর দেশ থেকে পালান। পরদিন ভারতে গ্রেপ্তার হন।
সোহেল রানাকে দেশে ফেরত পাঠাতে আলবেনিয়ার এনসিবিকে একাধিক চিঠি দিয়ে কোনো জবাব না পাওয়া বিষয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, দেশটিতে কোনো বিদেশি গ্রেপ্তার হলে সে দেশের আইনে তাঁর অপরাধ অনুযায়ী বিচার হয়। সোহেল রানার বিচারের রায় এখন পর্যন্ত হয়নি। সে কারণে হয়তো তারা এখনো কিছু জানায়নি।
দেশে ফেরাতে আবেদন
২০২০ সালের দিকে দেশে ই-কমার্স খাতের দ্রুত বিস্তার ঘটে। পুলিশ কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে বলেন, সে সময়ই বনানী থানার তৎকালীন পরিদর্শক সোহেল রানা তাঁর স্ত্রী নাজনীন নাহার, বোন সোনিয়া মেহজাবিন, ভগ্নিপতি মাশুকুর রহমানকে নিয়ে গড়ে তোলেন ই-অরেঞ্জ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। নানা প্রলোভন দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়ে গ্রাহকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রমের লক্ষ্য ছিল প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। এক বছরের মাথায় গ্রাহকেরা বুঝতে পারেন, তাঁরা ই-অরেঞ্জের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
২০২১ সালের ১৮ আগস্ট ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় মামলা হয়। মামলার পর সোহেল রানার নাম আলোচনায় আসে। পরে তাঁর নামেও মামলা হয়। মামলার পর তিনি ভারতে পালিয়ে যান। তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার কথা জানায় পুলিশ।
অন্যদিকে মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন সোহেল রানার বোন সোনিয়া ও তাঁর স্বামী মাশুকুর। তবে সম্প্রতি তাঁরা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে। আর সোহেল রানার স্ত্রী নাজনীন পলাতক।
মানি লন্ডারিং আইনের মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২৫০ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ আয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সিআইডির মুখপাত্র ও বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, মানি লন্ডারিং আইনের মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে আনা দরকার। এ জন্য সিআইডির পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আবার ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।
![]() |
| সোহেল রানা |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুবরাজ সালমান এক দশকে যেভাবে সৌদি আরবকে পাল্টে দিলেন by আলী শিহাবি
দশকের পর দশক ধরে দেশটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন বয়স্ক শাসকেরা, তাঁরা দেশের পরিবর্তনের জন্য খুব বেশি কিছু করেননি। আমার সোজাসাপটা সিদ্ধান্ত ছিল—সৌদি আরবের প্রয়োজন এমন একজন শক্তিশালী সংস্কারক নেতা, যিনি পুরো ব্যবস্থা, সমাজ ও অর্থনীতিকে নতুন করে সাজাতে পারবেন।
২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় বসেন বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। তিনি দ্রুতই তাঁর ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) বড় পরিসরে সংস্কারের কর্মসূচি চালু করার ক্ষমতা দেন। গত আগস্টে এমবিএসের বয়স ৪০ পূর্ণ হয়েছে। ২০১৫ সালে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার পর এক দশক পূর্ণ হয়েছে। আজকের সৌদি আরব প্রায় অচেনা, মাত্র ১১ বছর আগে যে দেশ নিয়ে আমি লিখেছিলাম, তার সঙ্গে আজকের মিল খুবই সামান্য।
এমবিএসের সংস্কারে সৌদি আরব কতটা পথ অতিক্রম করতে পেরেছে, তা বোঝার জন্য একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি দিয়ে শুরু করাই ভালো। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে আমি রিয়াদে ব্যাংকার হিসেবে কাজ করতাম। তখন ধর্মীয় নেতাদের চাপে স্কুলে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ ছিল। শেষ পর্যন্ত আমি আমার ৯ বছর বয়সী মেয়েকে সৌদি আরব থেকে সরিয়ে দুবাই নিয়ে যাই, যাতে সে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাও করতে পারে। এ বেদনাদায়ক স্মৃতি পুরোনো ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্ট করে তোলে।
এক বিরাট রূপান্তর
২০১৭ সালে এমবিএস বিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য আবারও শারীরিক শিক্ষার ব্যবস্থা চালু করেন। যে কারণে একসময় আমার মেয়েকে সৌদি আরব থেকে সরিয়ে দুবাই নিতে হয়েছিল, সেটি এখন সৌদি পরিবারগুলোর কাছে একেবারেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অংশ। জনপরিসর এখন নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। একসময় ধর্মীয় পুলিশ রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষকে থামাতে, ধাওয়া করতে কিংবা গ্রেপ্তার করতে পারত। ২০১৬ সালে এমবিএস ধর্মীয় পুলিশের হাতে থেকে সেই ক্ষমতা কেড়ে নেন। এ সিদ্ধান্তের প্রায় সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাঘাটের পরিবেশ পাল্টে যায়। প্রায় চার দশক পর ২০১৮ সালে সিনেমা হল চালু করে দেওয়া হয়। এখন সিনেমা দেখতে যাওয়া বা কনসার্টে যাওয়া কোনো সৌদি নাগরিকদের জন্য অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়।
সৌদি আরবে ভ্রমণ একসময় মূলত হজযাত্রা ও ব্যবসায়িক কাজে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১৯ সালে ই-ভিসার মাধ্যমে পর্যটনের দরজা খুলে দেওয়া হয়। পর্যটন খাত এখন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের বড় উৎসে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালে সৌদি আরবে রেকর্ড তিন কোটি বিদেশি পর্যটক আসে। হোটেল, বিনোদন খাত ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের বৃহত্তর কৌশল নিয়েছে সৌদি আরব।
আমার দৃষ্টিতে সৌদি সমাজে নারীর ভূমিকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ২০১৯ সালে এমবিএস সরকারের নীতিতে পরিবর্তন আনেন। নারীদের আর কাজ করতে, ভ্রমণ করতে বা সামাজিকভাবে কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি লাগবে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি। এসব সংস্কারের ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা একেবারেই পাল্টে যায়। ফলে আইন, বিমান পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ, অর্থনীতি, বাণিজ্য, এমনকি সামরিক বাহিনীর মতো বহু খাতে প্রতিভাবান নারীদের উত্থান দেখা যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে সৌদি আরবে এখন নারীদের মধ্যে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার প্রায় ৩৫ শতাংশ। এক দশকেরও কম সময়ে এই হার দ্বিগুণ হয়েছে। এর স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে পারিবারিক আয় ও অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতায়। আজ আমি যখন বিমানবন্দর, ব্যাংক বা মন্ত্রণালয়ে হেঁটে যাই আর নারী-পুরুষকে নির্ভারভাবে একসঙ্গে কাজ করতে দেখি তখন মনে হয়, ২০১৪ সালে এটি কল্পনাও করা যেত না।
নতুন অর্থনৈতিক লক্ষ্য
এই এক দশকে অর্থনৈতিক সংস্কারও কম বৈপ্লবিক নয়। ২০১৬ সালে সৌদি সমাজকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্য নিয়ে এমবিএস ভিশন ২০৩০ চালু করেন। এটি শুরু হয় আর্থিক খাতে সংস্কার দিয়ে। দশকের পর দশক ধরে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানির ওপর দেওয়া ভর্তুকির কারণে সরকারি অর্থের ব্যাপক অপচয় হয়েছে, তাতে বাজেটের ওপর চাপ পড়েছে। ২০১৬ সালে সরকার জ্বালানি ও বিভিন্ন পরিষেবার মূল্য পুনর্নির্ধারণ শুরু করে এবং অসহায় পরিবারদের সরাসরি সহায়তা দিতে নগদ অর্থ প্রদান কর্মসূচি চালু করে। এরপর ২০১৮ সালে সৌদি আরব মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালু করে। ২০২০ সালে ভ্যাটের হারকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করে। রাজনৈতিকভাবে কষ্টদায়ক হলেও অর্থনৈতিক বিচারে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল এ সিদ্ধান্ত।
এ বুদ্ধিদীপ্ত ও কঠিন সিদ্ধান্তগুলো সৌদি আরবের জন্য নতুন সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। সৌদি আরব এখন পণ্য পরিবহন, সরবরাহ ও বিতরণ খাত, খনি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রযুক্তি, সৃজনশীল শিল্প ও উন্নত প্রযুক্তির পণ্য উৎপাদনে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করছে।
গত দশকে এমবিএস আরও কয়েকটি অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প হাতে নেন। এর মধ্যে রয়েছে নেওম বা উচ্চ প্রযুক্তির নগর, দিরিয়াহ বা আল সৌদের ঐতিহাসিক রাজধানীর পুনর্নির্মাণ ও উন্নয়ন; রেড সি প্রজেক্টস বা লোহিত সাগর ঘিরে একাধিক পর্যটনকেন্দ্র এবং কিদ্দিয়া, একটি বৃহৎ বিনোদন ও ক্রীড়া শহর।
এই প্রকল্পগুলো প্রায়ই অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপিত হয়। কিন্তু প্রকল্পগুলোর পেছনে যে কৌশলগত যুক্তি, সেটা কিন্তু স্পষ্ট—নতুন শিল্পক্ষেত্র তৈরি করা, পণ্য ও সেবার মানের সরবরাহ ও দক্ষতা বাড়ানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।
এমবিএস ও সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ
এই এক দশকে কিছু ভুল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা কেউই অস্বীকার করতে পারবে না। আবার সৌদি আরবে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ একেবারেই অমূলক নয়। তবে এক দশক পর হিসাব-নিকাশটা খুবই স্পষ্ট। ২০১৪ সালে আমি যে সৌদি আরব দেখেছিলাম, তার তুলনায় আজকের দেশটি অনেক নিরাপদ, গতিশীল, বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক।
আমার কাছে এক দশকের এ পরিবর্তনটা গভীরভাবে ব্যক্তিগত। একসময় আমি আমার মেয়েকে রিয়াদ থেকে দুবাই সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিলাম। কারণ, মেয়েদের খেলাধুলার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। আজ বাবা-মায়ের চোখের সামনে মেয়েরা স্কুল শেষে পার্কে দৌড়ায়, যা আগে কল্পনাতেও ছিল না। আমি একসময় সতর্ক করেছিলাম, সস্তা জ্বালানি ও সর্বত্র ভর্তুকির ওপর দাঁড়ানো অর্থনীতি ধীরে ধীরে ভেঙে পড়বে।
আজ শিল্পগুলো খরচ নিয়ন্ত্রণ করছে, কোম্পানিগুলো উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে, আর তরুণেরা নতুন ব্যবসা শুরু করেছেন। কয়েক বছরের মধ্যেই কিছু উদ্যোক্তা প্রযুক্তি খাতে ‘ইউনিকর্নে’ পরিণত হয়েছেন। আমি একসময় ভেবেছিলাম, সৌদি আরবের অর্থনীতি প্রাচীরের আড়ালে স্থবির হয়ে থাকবে। অথচ আজ ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকেরা, আর বিশ্বের সেরা ক্রীড়াবিদ, শিল্পী, প্রযুক্তিবিদেরা ঢুকছেন-বের হচ্ছেন সেসব শহরে, যেগুলোর আকাশসীমা মাসে মাসে বদলে যাচ্ছে।
৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমান আরও বহু দশক ক্ষমতায় থাকতে পারেন। তুরস্কের মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক, সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ এবং চীনের দেং শিয়াওপিং তাঁদের দেশকে রূপান্তর করেছিলেন। কারণ, তাঁরা সাহসের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এনেছিলেন এবং যথেষ্ট সময় ক্ষমতায় থেকে সেই পরিবর্তনকে স্থায়ী করেছিলেন। এমবিএস তাঁর পরিকল্পনার প্রথম ধাপ শেষ করেছেন। এখন মূল চ্যালেঞ্জ দ্বিতীয় ধাপে। সংস্কারগুলোকে এমনভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যাতে ভবিষ্যতের কোনো সরকার সহজে তা উল্টে দিতে না পারে।
* আলী শিহাবি, সৌদি লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
- দ্য টাইম ম্যাগাজিন থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
![]() |
| সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
October
(199)
-
▼
Oct 26
(6)
- আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন: জোটের সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থাকা...
- নিউইয়র্কের মুসলিমরা যেভাবে গড়ে তুললেন মামদানিকে
- ইসরায়েলের ‘সাঁজোয়া বিস্ফোরক যানের’ ওপরই তাঁবু টানা...
- ধর্মনিরপেক্ষতার বদলে বহুত্ববাদ: ভাবের ঘরে চুরি by ...
- সেই সোহেল রানা এখন আলবেনিয়ার কারাগারে by নজরুল ইসলাম
- যুবরাজ সালমান এক দশকে যেভাবে সৌদি আরবকে পাল্টে দিল...
-
▼
Oct 26
(6)
-
▼
October
(199)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




