Tuesday, September 22, 2026

পিসিওএস বা বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি কেন by ডা. শারমিন আব্বাসি

পিসিওএস কী

পিসিওএস হলো নারীদের হরমোনজনিত একটি সমস্যা। এটি মূলত প্রজননক্ষম নারীদের হয়ে থাকে।

এ অবস্থায় নারীদের ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট সিস্ট (পানি বা তরলপূর্ণ থলি) তৈরি হয় এবং শরীরে পুরুষ হরমোন অর্থাৎ টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়।

এর ফলে ঋতুচক্রে অনিয়ম, গর্ভধারণে সমস্যা, ত্বকে ব্রণ, অতিরিক্ত লোম গজানো ও ওজন বৃদ্ধির মতো সমস্যা হয়ে থাকে।
উপসর্গ

পিসিওএসের উপসর্গ নারীভেদে ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্য রয়েছে—

- অনিয়মিত বা বন্ধ মাসিক চক্র

- মুখ ও শরীরে অবাঞ্চিত লোম ও ব্রণ

- চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা চুল পড়া

- ওজন বৃদ্ধি

- গর্ভধারণে সমস্যা বা বন্ধ্যত্ব

- ক্লান্তি ও মেজাজের পরিবর্তন

- ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি

চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা

* পিসিওএসের নির্দিষ্ট ও স্থায়ী চিকিৎসা নেই। সঠিক জীবনধারা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

* পিসিওএস ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ সুষম খাদ্যগ্রহণ। প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টি, অতিরিক্ত চর্বি ও কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে স্বাস্থ্যকর সবজি, ফল, আঁশ ও আমিষ খাওয়া উচিত।

* প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ৫ থেকে ১০ শতাংশ ওজন কমাতে পারলেও অনেক উপসর্গের উন্নতি হয়।

* চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হরমোনাল ওষুধ, মেটফরমিন ইত্যাদি নেওয়া যেতে পারে।

* গর্ভধারণে সমস্যা থাকলে ফার্টিলিটি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

* পিসিওএসের মানসিক প্রভাব যেমন উদ্বেগ, হতাশা বা আত্মবিশ্বাস হ্রাসও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কাউন্সেলিং, সাপোর্ট গ্রুপে অংশগ্রহণ সহায়ক হতে পারে।

কেন সচেতনতা জরুরি

বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০ শতাংশ নারী এই রোগে আক্রান্ত। সময়মতো রোগ শনাক্ত না করা হলে পিসিওএস দীর্ঘ মেয়াদে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ, বন্ধ্যত্ব এমনকি জরায়ু ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

কিশোরী বয়স থেকে মাসিক চক্রের বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারার কাউন্সেলিং নিতে হবে।

এ বিষয়ে মা-বাবা ও পরিবারে সচেতনতা তৈরি করা দরকার। স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। স্কুল-কলেজে স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম রাখা উচিত।

* ডা. শারমিন আব্বাসি, সহযোগী অধ্যাপক ও বন্ধ্যত্ব বিশেষজ্ঞ, ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

প্রতিবছর সেপ্টেম্বরে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম সচেতনতা মাস
প্রতিবছর সেপ্টেম্বরে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম সচেতনতা মাস। ছবি: ফ্রিপিক

লক্ষ্যবস্তু ঠিক, বোমা তোলা হচ্ছিল যুদ্ধবিমানে—শেষ মুহূর্তে হুতিদের ওপর হামলা বন্ধ করলেন ট্রাম্প

গালফ নিউজঃ লক্ষ্যবস্তু ঠিক করা হয়েছিল। মার্কিন যুদ্ধবিমানে তোলা হচ্ছিল বোমা। ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা যেকোনো মুহূর্তে শুরু হতে পারে—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও অভিযান সম্পর্কে জানেন এমন ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এ খবর জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিধি বাড়ছে। এমন এক পরিস্থিতিতে অঞ্চলটিতে সংঘাতের আরেকটি ফ্রন্ট খোলার অনেকটা কাছাকাছি চলে গিয়েছিল ওয়াশিংটন।

ইরান–সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা সম্প্রতি সৌদি আরবে হামলা জোরদার করেছে। পাশাপাশি তারা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র সৌদি আরব সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের জন৵ ওয়াশিংটনের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে। একপর্যায়ে ট্রাম্প হুতিদের ওপর হামলার কথা বিবেচনা করছিলেন।

রাজধানী রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর বিষয়টি আরও জরুরি হয়ে ওঠে। একই সময়ে বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশে হুতিদের অগ্রযাত্রায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। এর এক দিন আগে ট্রাম্প তাঁর উপদেষ্টাদের জানিয়েছিলেন, তিনি হুতিদের ওপর মার্কিন হামলার পক্ষে নন। কিন্তু পরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিতে পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

অভিযান শুরুর প্রস্তুতি যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে, তখন কমান্ডাররা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা অনুমোদন করেছিলেন। নির্ধারিত অভিযানের জন্য নির্বাচিত যুদ্ধবিমানগুলোতে তখন বোমা তোলার কাজ চলছিল।

কিন্তু এই মুহূর্তে এসে গতকাল রোববার আবারও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন ট্রাম্প। আপাতত হুতিদের ওপর মার্কিন বিমান হামলা চালানো হবে না—এটাই সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হুতিরা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা করা থেকে বিরত রয়েছে।

১২ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ড সফরের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘হুতিরা আমাদের ফোন করে জানিয়েছে, তারা আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না। তারা চায় না যে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই।’

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্ট রশিদুল আল-আলিমি গতকাল রোববার ফোনে ট্রাম্পের কাছে মার্কিন সামরিক সহায়তার আবেদন জানান। এদের মধ্যে ইয়েমেনি ও পশ্চিমা—দুইটি সূত্র জানিয়েছে, ফোনালাপের সময় ট্রাম্প সহায়তার কোনো সরাসরি প্রতিশ্রুতি দেননি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে একটি বৈঠকে। ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে একটি বৈঠকে। ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ফাইল ছবি: রয়টার্স

আফসানা মিমি হয়ে সবার বন্ধু হতে চাইছেন ‘ছদ্মবেশী’ কেউ

প্রকাশ ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ঃ নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী আফসানা মিমি এখন আর অভিনয়ে নিয়মিত নন। মাঝেমধ্যে পরিচালনা করে থাকেন। সর্বশেষ এই অভিনয়শিল্পী ‘উৎসব’ সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান। দুই সপ্তাহের বেশি সময় তাঁর ছদ্মবেশে কেউ একজন বিনোদন অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে ফেসবুকে বন্ধু হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। পাঠাচ্ছেন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। মেসেঞ্জারে খুদে বার্তা পাঠাচ্ছেন। আফসানা করিম মিমি নামে সবাইকে বন্ধুত্বের আহ্বান জানানোর ব্যাপারটি নজরে এসেছে আফসানা মিমিরও।

বন্ধু-শুভাকাঙ্ক্ষী এবং স্বজনেরা আফসানা মিমির নামে চালু হওয়া ফেসবুক আইডির কথা জানিয়েছেন নন্দিত এই অভিনয়শিল্পীকে। নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আফসানা মিমি নিয়মিত অভিনয় না করলেও মাঝেমধ্যে পরিচালনা ও অভিনয়ও করেন।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিনোদন অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত কিছু ফেসবুক ব্যবহারকারী লক্ষ করেছেন, কেউ একজন আফসানা মিমির নামে ফেসবুকে বন্ধু হওয়ার আহ্বান পাঠাচ্ছেন। শুধু বন্ধু রিকোয়েস্ট নয়, মেসেঞ্জারের মাধ্যমে খুদে বার্তা পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি নজরে আসে আফসানা মিমির।

প্রথম আলোকে আফসানা মিমি বলেন, ‘এটা ভুয়া। আমি কোনো ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করি না। কে বা কারা এসব করছে, তা আমি জানি না।’ বন্ধুবান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্বজনেরাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, মিমির নামে চালু হওয়া আইডিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং কেউ না কেউ এটিকে ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয় তৈরি করছে।

ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত বা জনপ্রিয় ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু এ ধরনের ভুয়া আইডি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং কখনো কখনো মানহানির কারণও হয়ে দাঁড়ায়।

আফসানা মিমি
আফসানা মিমি। প্রথম আলো