Sunday, May 30, 2010

ছোট দেশ বলে কি মনমানসিকতাও ছোট হবে by সৈয়দ বদরুল আহ্সান

আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম অবশেষে স্বীকার করে নিয়েছেন যে জেনারেল জিয়াউর রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এটা খুবই আনন্দের কথা যে তিনি তাঁর আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হলো, জিয়া সম্বন্ধে ওই কটূক্তি না করলেই কি হতো না? এই কথা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না যে জিয়া যখন ২৭ মার্চ ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, তিনি গোটা বাঙালি জাতির মানসপটে একটি উদ্দীপনা ও চেতনার উদ্রেক করেন। ওই প্রথম আমরা জানতে পারি যে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর দ্বারা গণহত্যার সূচনার পর শত্রুকবলিত বাংলাদেশে প্রতিরোধ গড়ে উঠতে চলেছে। এবং এই প্রতিরোধের ফলেই বছর শেষে বাংলাদেশ তার স্বাধীনতা লাভ করেছিল। এই ইতিহাস নতুন করে তুলে ধরার আর বোধকরি প্রয়োজন নেই। আমাদের সকলেরই সবকিছু জানা আছে। বর্তমান বাংলাদেশে আমরা সবাই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছি না কেন, আমাদের সকলেরই মেনে নিতে হবে ১৯৭১ সালে প্রকৃতভাবে যা কিছু ঘটেছিল। কারা সেই যুদ্ধে আমাদের অণুপ্রাণিত করেছিলেন এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে জাতিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এবং এই সকল সাহসী মানুষের দলে ছিলেন জিয়াউর রহমান।
হ্যাঁ, এতে কোনো সন্দেহ নেই, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসন বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো ও তার ইতিহাসের ওপর প্রচুর আঘাত হেনেছে। বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসক হিসেবে যে ক্ষতি জিয়া করেছেন, আমাদের সকলের জীবনে সেই বাস্তবতা ভোলার নয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে আঘাত করেছেন দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সূচনা করে। তাঁর রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটাই মূল উদ্দেশ্য ছিল আর সেটা আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা করা এবং এ কাজটি করেছেন তিনি সেই পুরোনো রাজাকার ও পাকিস্তানি অনুচরদের সঙ্গে নিয়ে, যারা ১৯৭১ সালে বাঙালি নিধন অভিযানে পাকিস্তান রাষ্ট্রকে সাহায্য করেছিল। তিনি অত্যন্ত নৈতিকতাবিরোধী কাজ করেন, যখন তিনি সংবিধানে অন্তর্গত রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতিকে আঘাত করেন। এই বিষয়গুলোও আজ আমাদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যারা এই সত্যগুলো স্বীকার করতে পারে না, তাদের ইতিহাস-সংক্রান্ত জ্ঞান দুঃখজনকভাবে অতি নগণ্য। এবং ইতিহাসের আরেকটি সত্য হলো যে জিয়াউর রহমান এবং তাঁর মতো আরও অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশকে মুক্ত করার সংগ্রামের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করে ফেলেন। এবং এই সব কারণেই আমাদের অবাক হতে হয়, যখন আমরা দেখি যে একজন মন্ত্রী একজন সামরিক নেতার দেশাত্মবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম কিসের ভিত্তিতে জিয়াকে পাকিস্তানের গুপ্তচর বলে আখ্যায়িত করলেন, সেই বিষয়টির ব্যাপারে আমরা অবগত নই। তার চেয়েও বড় কথা, তিনি সরকারের একটি উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত রয়েছেন এবং এই আসনে থেকে তিনি কেন সাবেক একজন নেতার—হোক সে একজন সামরিক শাসক—এমন কঠোর সমালোচনা করে বসলেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তিনি কেন একজন মুক্তিযোদ্ধার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। তিনি কি জানতেন না যে এমন ধরনের মন্তব্য দেশ ও জাতিকে এক নতুন বিতর্কে জড়িয়ে ফেলবে? আরেকটি প্রশ্ন থেকে যায় এখানে—তিনি যে এ রকম মন্তব্য করবেন, এ বিষয়ে কি সরকারি দলের অন্যান্য নেতা আগে থেকেই অবগত ছিলেন?
দেশপ্রেম একটি গভীর বিষয়। আমাদের কারও কোনো অধিকার নেই কোনো ব্যক্তির দেশপ্রেম নিয়ে কটাক্ষ করার। আপনার সঙ্গে আমার রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, তবে এই মতপার্থক্যকে ভিত্তি করে আমরা একে অপরকে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য নিয়ে আক্রমণ করব, এ কেমন কথা? হ্যাঁ, যেই শ্রেণীর মানুষের দেশদ্রোহিতার ব্যাপারে আমাদের বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই, তারা হলো ওই সকল ব্যক্তি, যারা ১৯৭১-এ পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে এবং রাজাকার হিসেবে কাজ করেছে। ওই সকল মানুষ ছাড়া এ দেশের প্রত্যেক নাগরিক বাঙালি এবং বাংলাদেশের প্রতি তার আনুগত্য প্রশ্নাতীত। কিন্তু সেই নীতি, সেই বিশ্বাস আমরা আমাদের জীবনে কতটা ধরে রেখেছি? একটু ভেবে দেখুন। এই বাংলাদেশে এখনো এমন মানুষ আছেন, যাঁরা নির্দ্বিধায় বলে বেড়ান, ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এঁরা এত নির্বোধ কেন? নাকি আমরা ধরে নেব যে জাতির জনকের প্রতি তাঁদের ঘৃণা এতই প্রকট যে তাঁরা যেকোনোভাবেই হোক তাঁর চরিত্র হনন করতে বদ্ধপরিকর? বঙ্গবন্ধু তো ছিলেন নির্বাচিত নেতা। তিনি তো জীবনে কোনো দিন আপস করেননি এবং করেননি বলেই আমাদের এমন সুন্দর ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিতে পেরেছেন। ২৫ মার্চ তিনি তাঁর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে গেছেন—তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের যা যা করণীয়, দেশকে মুক্ত করার ব্যাপারে যা করা দরকার, সবই করে গেছেন। এবং যাঁরা ইতিহাসের এই দিকটা বোঝেন না অথবা বুঝতে চান না, কেবল তাঁরাই সেই আত্মসমর্পণের কথা বলেন। এতে করে কেবল তাঁদের আত্মসম্মানেই ভাটা পড়ে।
এ দেশে অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার বিষয়টি আমরা প্রায় নিয়মিতভাবে ভুলে যাই। ১৯৭৫-এর তথাকথিত সিপাহি-জনতা বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যখন জেনারেল খালেদ মোশাররফকে হত্যা করা হয়, তখন একশ্রেণীর মানুষ অত্যন্ত উল্লসিত হয়েছিলেন। তাদের ছোট চিন্তা এবং তাদের ঠুনকো দেশপ্রেম তাদের মনে এ ধারণা জন্মায় যে খালেদ মোশাররফ ছিলেন একজন ভারতীয় চর, যাঁর এমন করুণ মৃত্যু হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। এবং জিয়াউর রহমান যত দিন বেঁচে ছিলেন, তত দিন তিনি জাতিকে কখনো স্মরণ করিয়ে দেননি যে মোশাররফ ছিলেন একজন বড় মাপের মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধা। তাঁকে হত্যা করা ছিল একটি জাতির মূল্যবোধকে ধ্বংস করা। একইভাবে লক্ষ করে থাকবেন যে বাংলাদেশে এমন একশ্রেণীর মানুষ রয়েছে, যাদের নজরে আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন একজন ভারতপ্রেমী বাঙালি রাজনৈতিক নেতা। এই শ্রেণীর মানুষকে বোকা বললে ভুল হবে। প্রকৃত অর্থে এরাই হচ্ছে বাংলাদেশের শত্রু এই জন্য যে এরা সর্বদাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অর্জনগুলোকে ধ্বংস করার কাজে লিপ্ত রয়েছে। তাজউদ্দীন আহমদের বিরুদ্ধে শুধু এরাই ছিল না, তাঁকে সেই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আওয়ামী লীগের ভেতর থেকেই হেয় করার অনেক প্রচেষ্টা চালানো হয়। এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদেরাই বঙ্গবন্ধুকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন কীভাবে তাজউদ্দীন একচ্ছত্রভাবে নিজেকে মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন। আমাদের জাতীয় জীবনে একটি চরম দুঃখজনক ঘটনা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীনের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক বিরোধ। এবং যাঁরা সেদিন এ বিরোধটা ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তাঁরা বুঝলেন না বাংলাদেশের তাঁরা কী বিরাট একটি ক্ষতি করছেন। আমরা বঙ্গবন্ধুকে হারালাম, তাজউদ্দীনকে হারালাম, গোটা মুজিবনগর সরকারকে হারালাম।
কোনো ব্যক্তির কোনো নেতা বা নেত্রীর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে ভাবা দরকার যে এর ফলাফল কী হতে পারে। আমরা লক্ষ করছি, বছরের পর বছর যখন খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেন, তিনি প্রায় সব সময়ই অনায়াসে বলে ফেলেন যে এ দলটি বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে দিচ্ছে। আমরা এখনো পর্যন্ত উন্নত এবং আধুনিক দেশ ও জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারিনি বলে বেগম জিয়া ও তাঁর সহকর্মীরা এসব ঢালাও মন্তব্য করে পার পেয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন। বিশ্বের যেকোনো উন্নত সমাজে এ ধরনের মন্তব্য এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করত, যা অবশেষে উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়াত। আওয়ামী লীগ অথবা আওয়ামী লীগ সরকার দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে—এ কথা কে বিশ্বাস করবে? এ প্রশ্নের উত্তর খালেদা জিয়া ও বিএনপি একবারও কি দেওয়ার চেষ্টা করেছে? অন্যদিকে আবার এই সেদিন আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী অত্যন্ত সরলভাবে কিন্তু কঠোর ভাষায় আমাদের সবাইকে অপ্রস্তুত করে দিলেন এই বলে যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আহূত ২৭ জুনের হরতালের পেছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে। কোন তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এই গুরুতর অভিযোগটি করলেন, সেটা আর জানা গেল না। কোনো এক সময় স্বয়ং শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুললেন, চন্দ্রিমা উদ্যানের কবরে আসলেও কি জিয়াউর রহমানের মরদেহ সমাহিত করা হয়েছিল? এর কয়েক দিন পর শেখ সেলিম বিষয়টি আবারও উত্থাপন করলেন এই মন্তব্য করে যে সেই কবরে জেনারেল জিয়ার মরদেহ রয়েছে কি না তা যাচাই করতে হবে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে।
আমাদের দেশটা ছোট। আমাদের ছোট ছোট স্বপ্ন ও আশা। কিন্তু আমাদের মনমানসিকতাও ছোট ও ক্ষুদ্র হতে হবে এটা কে বলল? আমাদের ইতিহাসকে আমরা খণ্ডিত করে ফেলব এই কথা কে বলল? আমাদের দেশে রাজনীতি দুটি ক্ষেত্রে বা tribe-এ পরিণত হবে, সেটাই বা হবে কেন? বাংলাদেশ তো রুয়ান্ডা কিংবা বুরুন্ডি নয় যে এখানেও হুতু ও তুতসির ধ্বংসাত্মক দ্বন্দ্ব দিনের পর দিন, বছরের পর বছর আমাদের বর্তমানকে গুঁড়িয়ে দেবে এবং আমাদের ভবিষ্যৎকে বাক্সবন্দী করে রাখবে।
সৈয়দ বদরুল আহ্সান: সাংবাদিক।

পশ্চিমবঙ্গে ৮১ পৌরসভায় নির্বাচন কাল

কলকাতা ও বিধান নগরসহ পশ্চিমবঙ্গের ৮১টি পৌরসভার নির্বাচন কাল রোববার অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে কলকাতার ১৪১টি ওয়ার্ডে অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে পৌরসভা নির্বাচনের ইতিহাসে এই প্রথমবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আধাসামরিক বাহিনী চাওয়া হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এ নির্বাচনে বাম বিপর্যয় হলে তিন-চার মাসের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। এ ব্যাপারে নাকি মমতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের কথাও হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অনেকের মতে, এ নির্বাচনে বাম বিপর্যয় সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে বাম নেতাদের মূল্যায়ন—যতটা বলা হচ্ছে, ততটা খারাপ ফল হবে না। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, কলকাতা পৌরসভার ১৮১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭০-৭৫টি ওয়ার্ডে জিততে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। আর কংগ্রেস পেতে পারে তিন থেকে পাঁচটি আসন। অন্যদিকে সিপিআইএম তথা বামফ্রন্ট আসন পেতে পারে ৫৫-৬০টি।

দাঁত না মাজলে হূদরোগের ঝুঁকি

যারা নিয়মিত দাঁত মাজে না, মুখ থাকে অস্বাস্থ্যকর— তুলনামূলক-ভাবে তাদের হূদরোগ বেশি হয়। স্কটল্যান্ডের গবেষকদের একটি সমীক্ষার ফলাফলে এ কথা জানা যায়। গতকাল শুক্রবার চিকিৎসা সাময়িকী ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল-এ এই সমীক্ষাবিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা স্কটল্যান্ডের ১১ হাজার নাগরিকের ওপর এই সমীক্ষা চালান। এর মধ্যে প্রতি ১০ জনে সাতজন জানান, প্রতিদিন তাঁরা দুবার করে দাঁত মাজেন। ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের ভাষ্য, ছয় মাস পর পর তাঁরা দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যান। অন্যদের বারবার দাঁত মাজার ব্যাপারে তেমন আগ্রহ নেই। এসব ব্যক্তির দাঁতের যত্ন নেওয়া ব্যক্তিদের চেয়ে হূদরোগের বাড়তি ঝুঁকি ৭০ শতাংশ।

মাদকাসক্তি নিরাময়ে হেরোইন-চিকিৎসা

হেরোইন এমন এক মাদকদ্রব্য, যার আসক্তি ডেকে আনে ভয়াবহ পরিণাম। তবে এটা খুব কাজের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহূত হতে পারে। আর তা মাদকসেবীদের চিকিৎসায়ই। যুক্তরাজ্যের গবেষকেরা বলছেন, যেসব মাদকসেবীর আসক্তি চরমে পৌঁছেছে, তাদের শরীরে ওষুধ হিসেবে হেরোইন প্রবিষ্ট করালে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যেতে পারে। তবে এই চিকিৎসা চালাতে হবে নিবিড় তত্ত্বাবধানে। চিকিৎসা সাময়িকী দ্য ল্যানসেট এ বিষয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।
গবেষকেরা জানান, এ ওষুধের কার্যকরতা যাচাইয়ে ১২৭ জন মাদকসেবীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। আগে অনেক চেষ্টা করেও এদের মাদকাসক্তি দূর করা যায়নি। হেরোইন-পদ্ধতিতে চিকিৎসার ছয় মাস পর দেখা গেছে, তাদের হেরোইন সেবনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। এ চিকিৎসা যে মাদকসেবীদের নেশামুক্ত করার ব্যাপারে খুব কাজ দিতে পারে, এর জোরালো প্রমাণ রয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, চিকিৎসকদের এ পরামর্শ বিবেচনা করা হবে।
যেসব মাদকসেবীর ওপর এ পরীক্ষা চালানো হয়, তারা গড়ে ১৭ বছর ধরে মাদকাসক্ত। একেকজনের চিকিৎসা চলছে ১০ বছর ধরে। গবেষকেরা দক্ষিণ লন্ডন, ব্রাইটন ও ডার্লিংটনের ক্লিনিকে গিয়ে মাদকসেবীদের ওপর এই পরীক্ষা চালান।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, মাদক নিরাময়ে প্রচলিত চিকিৎসায় রোগীদের সাধারণত মেথাডনের মতো ওষুধ দেওয়া হয়। এতে পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ মাদকসেবী হেরোইনের আসক্তি থেকে মুক্ত হতে পারে না। কিন্তু তাদের যদি সুচের মাধ্যমে নির্দিষ্ট মাত্রার হেরোইন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়, তাহলে তা আশাব্যঞ্জক ফল বয়ে আনতে পারে। এ পরীক্ষা শুরুর ছয় সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি লক্ষ করা যায়

ছুটি কাটাতে শিকাগো গেছেন ওবামা দম্পতি

ছুটি কাটাতে গত বৃহস্পতিবার সপরিবারে নিজ শহর শিকাগোয় পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। স্থানীয় সময় রাত পৌনে আটটায় ওবামা পরিবারকে নিয়ে সোলজার ফিল্ডে অবতরণ করে এয়ারফোর্স ওয়ান।
প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে আছেন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা, দুই মেয়ে সাশা ও মালিয়া এবং তাঁর শাশুড়ি মারিয়ান রবিনসন।
শিকাগোতে পারিবারিক বাড়িতে অবস্থান করবেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। শিকাগোয় তাঁর সফরসূচি সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। তবে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নাটক দেখতে সস্ত্রীক থিয়েটারে যেতে পারেন ওবামা। এ ছাড়া হকি খেলা দেখতে মাঠে যেতে পারেন তিনি।
হোয়াইট হাউসে ফেরার আগে যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের স্মরণে অনুষ্ঠেয় এক সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। শিকাগোর ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এলমউডে আব্রাহাম লিঙ্কন জাতীয় সমাধিক্ষেত্রে ওই স্মরণসভা হবে

‘ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অন্যতম অংশীদার’

বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় ভারতকে অন্যতম কৌশলগত অংশীদার বলে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে অংশীদারের বিষয়টিকেও দেশটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নয়া জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপ-উপদেষ্টা বেন রোডস বলেন, ‘ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এই দেশটির সঙ্গে আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিনিময় করতে পারি। ভারতের সঙ্গে অংশীদারের মাধ্যমে ওই অঞ্চলসহ সারা বিশ্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমরা যৌথভাবে কাজ করতে পারি।

তেল ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের দাবি বিপির

মেক্সিকো উপসাগরে দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ এ পর্যন্ত ৯৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তেল বেরিয়ে আসা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম। এ কাজে তারা কিছুটা সফল হয়েছে বলেও দাবি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা। দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় গতকাল শুক্রবার দ্বিতীয়বারের মতো পরিদর্শনে যাওয়ার কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার।
তেলক্ষেত্রের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি) তেল বেরিয়ে আসা নিয়ন্ত্রণে কতটুকু সফল হচ্ছে, তা দেখতে গতকাল লুইজিয়ানা উপকূলের কাছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার কথা ওবামার।
এর আগে বিস্ফোরণের পরপরই এক বার সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমার দায়িত্ব হলো সমস্যাটি সমাধান করা।’
বিপি জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্র থেকে তেল বেরিয়ে আসা নিয়ন্ত্রণে তাদের ‘টপ কিল’ পদ্ধতি কিছুটা সফল হয়েছে। এ পদ্ধতিতে কাদা ও সিমেন্ট দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপের ছিদ্র বন্ধ করে দেওয়া হবে। এতে তেল বেরিয়ে আসা বন্ধ হবে। গত বুধবার ‘টপ কিল’ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হয়। তেল কোম্পানিটি জানায়, টপ কিল প্রক্রিয়া কতখানি সফল হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এপ্রিলে তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণের পর থেকে যে পরিমাণ তেল সাগরে মিশেছে, তা মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা। নতুন হিসাবে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ থেকে দৈনিক ১২ থেকে ১৯ হাজার ব্যারেল তেল সাগরে মিশেছে। এ হিসাবে এ পর্যন্ত এক কোটি ৮৬ লাখ থেকে দুই কোটি ৯৫ লাখ গ্যালন তেল সাগরে মিশেছে। আগে জানানো হয়েছিল, দৈনিক পাঁচ হাজার ব্যারেল তেল ছড়িয়ে পড়ছে।
এর আগে সবচেয়ে বেশি তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮৯ সালে। ওই সময় তেল কোম্পানি এক্সনের তেলবাহী জাহাজ ভ্যালডেজের দুর্ঘটনায় এক কোটি ১০ লাখ গ্যালন তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়েছিল।
গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিপি জানায়, তেলক্ষেত্র দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ ৯৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। মূলত ক্ষতিগ্রস্ত পাইপের মেরামতকাজ, তেল ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ, দ্বিতীয় একটি কূপ খনন এবং ক্ষতিপূরণ ও মার্কিন সরকারের ব্যয় মেটাতে এ অর্থ খরচ হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এখনই পুরো খরচের হিসাব করা সম্ভব নয়।

গাজায় ত্রাণবোঝাই জাহাজ ঢুকতে দেবে না ইসরায়েল

ফিলিস্তিনের গাজায় মানবিক সহায়তা হিসেবে ১০ হাজার টন পণ্যের নৌবহর প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। ফ্রিডম ফ্লোটিলা নামের নৌবহরে পানি শোধনাগার ইউনিটসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হোয়াইট হাউস সফরের এক সপ্তাহ পর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন।
ইসরায়েলি সামরিক সূত্র জানায়, শক্তি প্রয়োগ করে হলেও ওই নৌবহর গাজায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হবে। আজ শনিবার ওই নৌবহর গাজায় পৌঁছার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের একজন মুখপাত্র জানান, তিনি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তারা সাইপ্রাস, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন ও তুরস্কের দূতদের সতর্ক করে দিয়েছে। এসব দেশ থেকে নৌবহর গাজার দিকে যাত্রা শুরু করেছে।
২০০৭ সালের জুন থেকে গাজা অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের ভাষ্যমতে, গাজায় সামরিক সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দিতেই তাদের এই অবরোধ।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব রবার্ট গিবস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আগামী ৯ জুন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানাবেন বারাক ওবামা। তিনি ফিলিস্তিন-ইসরায়েল পরোক্ষ আলোচনার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট আব্বাসের সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি এই দুই দেশকে প্রত্যক্ষ আলোচনার দিকে এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে কাজ করতে পারে—তা নিয়ে কথা বলবেন।

এনপিটি কার্যকর করতে শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত খসড়া উত্থাপন

জাতিসংঘ পরমাণু সম্মেলনে শেষ মুহূর্তে অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) চূড়ান্ত খসড়া উপস্থাপন করা হয়েছে। মাসব্যাপী সম্মেলনের শেষ মুহূর্তে গত বৃহস্পতিবার নতুন খসড়া দলিল উত্থাপন করা হয়।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে খসড়া উপস্থাপন করেন সম্মেলনের সভাপতি ফিলিপাইনের লিব্রান কাবাকতুলান। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সামনে যে খসড়া হাজির করা হয়েছে, এর থেকে ভালো কিছু আর আশা করা যেতে পারে না।’
ইরান ও উত্তর কোরিয়ার সন্দেহভাজন পরমাণু কর্মসূচি কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং ইতিমধ্যে পরমাণু অস্ত্রধারী দেশগুলো কীভাবে চুক্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় যোগ দেবে, তা নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এই মতবিরোধের কারণে এক দশক ধরে এনপিটি নিয়ে অচলাবস্থা চলছে।
পরমাণু শক্তিধর দেশ এবং জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের নেতৃত্বে পরমাণু অস্ত্রহীন দেশগুলো গত বুধবার এ নিয়ে সম্মেলনে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এর আগে উত্থাপন করা এনপিটির খসড়ায় প্রায় ২০০ সংশোধনী আনে জোটনিরপেক্ষ দেশগুলো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পরমাণু অস্ত্রধর দেশগুলোকে নিরস্ত্রীকরণের জন্য একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া। তবে যথারীতি তা মেনে নিতে অস্বীকার করে ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।
এনপিটির চূড়ান্ত খসড়া গৃহীত হলেই পরমাণু অস্ত্র বিস্তারবিষয়ক সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে তা নয়, তবে এর মাধ্যমে সযোগিতার একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।
এ ছাড়া এর ফলে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নীতির জয় হবে। পূর্বসূরি জর্জ ডব্লিউ বুশের সংঘাতমূলক কৌশল থেকে সরে এসে ওবামার ঘোষিত পরিকল্পনায় বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে চূড়ান্ত খসড়ায়। খসড়ায় নিরস্ত্রীকরণের কার্যপদ্ধতি, পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য তা পর্যবেক্ষণ, বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরমাণু শক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি পরমাণুমুক্ত অঞ্চল সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।
২৮ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত খসড়ার মধ্যে ১১ পৃষ্ঠাজুড়ে আছে নিরস্ত্রীকরণবিষয়ক কর্মপরিকল্পনার বর্ণনা। শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় সম্মেলন শেষ হওয়ার আগে এই খসড়া অনুমোদনের জন্য নেতারা পাবেন মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময়।
এক পশ্চিমা কূটনীতিক সতর্কতার সঙ্গে বলেন, সবকিছুতে মতৈক্য না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে তিনিসহ অন্যরা মনে করছেন, সম্মেলন ইতিবাচক পথেই শেষ হতে যাচ্ছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী আসগর সাংবাদিকদের জানান, ২০২৫ সালের মধ্যে সব পরমাণু অস্ত্র ধ্বংসের সময়সীমার বিষয়টি খসড়ায় যোগ করা না হলে ইরান সেই খসড়া অনুমোদন দেবে না।

সময় বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে নাকচ

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার একটি প্রস্তাব গত বৃহস্পতিবার নাকচ করে দিয়েছে মার্কিন সিনেট। একই দিনে সিনেট আফগান যুদ্ধ ও ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হাইতিতে সহায়তাসহ কয়েকটি প্রকল্পের জন্য ছয় হাজার কোটি ডলার অনুমোদন দিয়েছে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর রুস ফেইনগোল্ড সেনা প্রত্যাহারে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার ব্যাপারে একটি প্রস্তাব সিনেটে উত্থাপন করেন। প্রস্তাবে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, ২০১১ সালের জুলাই পর্যন্ত আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করা হবে। তবে তা কবে শেষ হবে, সেটা উল্লেখ করা হয়নি। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ওবামার উচিত, সেনা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা মার্কিন ও আফগানিস্তানের জনগণকে জানানো। ফেইনগোল্ডের এ প্রস্তাবের বিপক্ষে ৮০ ও পক্ষে ১৮ ভোট পড়ে।
সশস্ত্র বাহিনী-সংক্রান্ত সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান কার্ল লেভিন বলেন, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময় বেঁধে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। এটা করা হলে তালেবান জঙ্গিরা সুযোগ নেবে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ডিক ডারবিন, প্যাটি মুরেসহ কয়েকজন রুস ফেইনগোল্ডের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।
সিনেট ৬৭-২৮ ভোটে আফগান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে তিন হাজার ৩০০ কোটি ডলার অনুমোদন দিয়েছে। গত ডিসেম্বরে আফগানিস্তানে আরও ৩০ হাজার সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছিলেন বারাক ওবামা। আফগান যুদ্ধে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার কোটি ডলার।

লাহোরে দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৮০

পাকিস্তানের লাহোরে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের সময় সংখ্যালঘু আহমদিয়া সম্প্রদায়ের দুটি মসজিদে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারীরা। এতে অন্তত ৮০ জন নিহত এবং সাত পুলিশ সদস্যসহ ১০৮ জন আহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, একে-৪৭, গ্রেনেড ও বোমা নিয়ে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়। দুজন সন্ত্রাসী মসজিদের ভেতর ঢুকে আত্মঘাতী হামলা চালায়।
পুলিশ জানায়, হামলার শিকার মসজিদ দুটি লাহোরের মডেল টাউন ও ঘনবসতিপূর্ণ ঘারহি শাহ এলাকায় অবস্থিত। মডেল টাউন এলাকার মসজিদ থেকে লাহোরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা সাজ্জাদ ভুট্টো জানান, ওই মসজিদে অন্তত ২৬ জনের বেশি নিহত হয়। আহত হয় কমপক্ষে ১০৮ জন। সেখানে উদ্ধার-তৎপরতা চলছে। একে-৪৭ রাইফেল ও গ্রেনেড নিয়ে সন্ত্রাসীরা এ মসজিদে হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মসজিদে ঢোকার সময় বন্দুকধারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে এবং গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ মসজিদটি ঘিরে রেখেছে। তবে কারা হামলা চালিয়েছে, সে সম্পর্কে পুলিশ এখনো কিছু জানতে পারেনি।
পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিয়ো নিউজ জানায়, মডেল টাউন মসজিদে হামলায় সাতজন সন্ত্রাসী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাঁচজন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা যায়। গত মার্চে এ মসজিদে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়েছিল। এতে ৫৫ জন নিহত হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘারহি শাহ মসজিদে বন্দুকধারীদের গুলি ও বোমায় অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছে। তবে স্থানীয় কর্মকর্তা সাজ্জাদ ভুট্টো বলেন, উভয় মসজিদ মিলে কমপক্ষে ৫০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেন। সব মিলিয়ে দুটি মসজিদে ভয়াবহ এ হামলায় ৮০ জন নিহত ও ১০৮ জন আহত হয়। হামলার সময় মসজিদ দুটিতে শত শত মুসল্লি ছিলেন।
বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা মুজহা আহমেদ জানান, সন্ত্রাসীরা মসজিদ লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং গ্রেনেড ছুড়ে মারে। তারা মসজিদ থেকে কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়। তাদের হামলায় মডেল টাউন মসজিদে ২৬ জন এবং ঘারহি শাহ মসজিদে ৫৪ জন নিহত হয়। তিনি নিহতের সংখ্যা ৬৪ বলে দাবি করেন।
চার পুলিশ নিহত: বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটার কাছে একটি স্যাটেলাইট শহরে গতকাল অজ্ঞাতনামা বন্দুকধারীরা গুলি করে চার পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিন জানান, হামলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা, দুজন কনস্টেবল ও একজন গাড়িচালক ঘটনাস্থলে নিহত হন।
আফগানিস্তান ও ইরান সীমান্ত-সংলগ্ন বেলুচিস্তানে সম্প্রতি সহিংতা বেড়ে গেছে। মার্চে এখানে সহিংসতায় ২৪ জনের বেশি মারা যান। এ ছাড়া সুন্নি ও শিয়াদের মধ্যে প্রায়ই সহিংস ঘটনা ঘটছে।

আবার গৃহযুদ্ধের পথে নেপাল!

নেপালে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়ে উঠেছে। নতুন সংবিধান প্রণয়নে গঠিত পার্লামেন্টের (কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি) মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসনে গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট রামবরণ যাদবের ডাকা জরুরি বৈঠক সফল হয়নি। এ পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার মধ্য রাতে এ সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এর বিলুপ্তি দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
নতুন সংবিধান রচনার দায়িত্ব নিয়ে ২০০৮ সালে কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলির যাত্রা শুরু হয়। দুই বছরের মধ্যে এ কাজ শেষ করার কথা ছিল। এর ভিত্তিতেই এ বছর নতুন করে নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু সংবিধান রচনার দায়িত্ব পালনে এ পরিষদ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। বিগত দুই বছরে পার্লামেন্টের নির্বাচিত সদস্যরা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাগিবতণ্ডায় জড়ালেও সংবিধান রচনায় মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেননি। এখন পরিষদে সবচেয়ে বেশি আসনের অধিকারী মাওবাদী পার্টি বলছে, প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল পদত্যাগ না করলে তারা পরিষদের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবে ভোট দেবে না। তারা চাইছে, ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নতুন একটি সরকার গঠিত হোক।
মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ড এ ব্যাপারে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) ও নেপালি কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কিন্তু তারা ক্ষমতা ছাড়তে রাজি নয়। এটিই বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণ।
নেপালের পত্রপত্রিকায় এরই মধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এ পরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণীত না হলে চার বছর পর আবার সেই পুরোনো গৃহযুদ্ধই ফিরে আসবে। এর আগে গৃহযুদ্ধে কমপক্ষে ১৬ হাজার লোক মারা যায়।
গতকাল নেপালি ভাষার নয়া পত্রিকার সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, ‘আজকের (গতকাল শুক্রবার) দিনটি আমাদের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য দিন হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। এ আশঙ্কা খুব জোরালো। আজ যদি পরিষদ বিলুপ্ত হয়, তাহলে তা হবে গৃহযুদ্ধের প্রতি উন্মুক্ত আহ্বান।

বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে যাবে ব্রাজিল

দীর্ঘ ১৪ বছর আগে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের নিজেদের দেশে নিয়ে যেতে পেরেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মাঝে কয়েকবার ব্রাজিলকে আমন্ত্রণও জানিয়েছে তারা। কিন্তু সময় হয়নি ব্রাজিলের। অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের। বিশ্বকাপের পরই যুক্তরাষ্ট্র সফরের সম্মতি দিয়েছে ব্রাজিল। ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১০ আগস্ট।
যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৪ বছর পর প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে খেলতে আসছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দলের কোচ বব ব্র্যাডলি বলছেন, ‘ব্রাজিলের মতো বিশ্বসেরা দলকে নিয়ে ম্যাচ আয়োজন করা যেকোনো দেশের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দলের অনেক কিছু শেখার আছে।’

ভারতকে হারিয়ে দিল জিম্বাবুয়ে

অধিনায়কত্বের অভিষেক দুজনেরই। ম্যাচের শুরুতে হাসলেন সুরেশ রায়না, শেষে এলটন চিগুম্বুরা। রায়না জিতেছিলেন টস, চিগুম্বুরা তো জিতলেন ম্যাচটাই। বুলাওয়েতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৬ বলে অপরাজিত ২৪ রান করে জিম্বাবুয়ের জয়ে ভূমিকা রেখেছেন অধিনায়ক নিজেও। পঞ্চম উইকেটে ক্রেইগ আরভিনের সঙ্গে ৩২ বলে তাঁর ৫৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ভারতের ২৮৫ রান জিম্বাবুয়ে টপকে গেছে ১০ বল হাতে রেখেই।
৬১ রানে ৩ উইকেট হারানো ভারতকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে রায়নার সঙ্গে রোহিত শর্মার ৬৭ রানের জুটি। তবে ভারত ২৮৫ পর্যন্ত যেতে পেরেছে পঞ্চম উইকেটে রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে রোহিতের ১৩২ রানের জুটিতে। রোহিত পেয়েছেন প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, প্রথম ফিফটির ৮৫ বলে, দ্বিতীয়টি ২৯ বলে। ভারতের তিন অভিষিক্ত পেসার বিনয় কুমার, অশোক দিন্দা ও উমেশ যাদবের বোলিংয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৮৮ রান তোলেন মাসাকাদজা ও ব্রেন্ডন টেলর। এই দুজনের সঙ্গে ল্যাম্বের বিদায়ের পর প্রথমে কভেন্ট্রি, পরে চিগুম্বুরাকে নিয়ে অভিষেক ম্যাচেই দলকে জয় এনে দেন শন আরভিনের ছোট ভাই ক্রেইগ। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত: ৫০ ওভারে ২৮৫/৫ (কার্তিক ২২, বিজয় ১১, কোহলি ০, রোহিত ১১৪, রায়না ৩৭, জাদেজা ৬১*, ইউসুফ ১১*; পোফু ২/৬৩, উতসেয়া ১/৪৬)। জিম্বাবুয়ে: ৪৮.২ ওভারে ২৮৯/৪ (মাসাকাদজা ৪৬, টেলর ৮১, ল্যাম্ব ২৭, আরভিন ৬৭*, কভেন্ট্রি ৩২, চিগুম্বুরা ২৪*; বিনয় ২/৫১, মিশ্র ১/৪৭, জাদেজা ১/৫১)।

মরিনহো-মোরাত্তি পাঁচালি

খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, সমর্থকেরা মিলে টানা এক সপ্তাহ ডুবে ছিলেন উৎসবে। তার পরও নাকি উৎসবটা মনের মতো হয়নি! আর জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে ইন্টার মিলানের চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের উৎসব না জমার কারণ নাকি কোচ হোসে মরিনহো! এমনটাই দাবি করেছেন খোদ ইন্টার মিলান সভাপতি মাসিমো মোরাত্তি।
কোনো ঘোরপ্যাঁচের মধ্যে যাননি মোরাত্তি, বলেছেন, শিরোপা জয়ের পর পরই মরিনহো ইন্টার মিলান ছেড়ে রিয়ালে চলে যাওয়ার বাতাস তুলেই উৎসব পণ্ড করে দিয়েছেন। শুধু কি তাই! মোরাত্তির অভিযোগ, ‘বাই-আউট শর্ত’ নিয়ে ঝামেলাটাও বাধিয়েছেন মরিনহো। ইন্টার মিলানের সঙ্গে কোচ মরিনহোর চুক্তির মেয়াদ ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত। শর্ত ছিল, মেয়াদ শেষের আগেই চলে যেতে চাইলে, ‘বাই-আউট শর্ত’-এর জন্য ১ কোটি ৬০ লাখ ইউরো ইন্টার কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করবেন মরিনহো। ইন্টার সভাপতি মরিনহোর ওপর বিরক্ত হয়ে বলেছেন, ‘একটি শর্ত রয়েছেই, সঙ্গে এই শিরোপা উৎসবে যিনি জল ঢেলে দিয়েছেন তিনি আর কেউ নন, মরিনহো।’
তবে ৪৫ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগ, সঙ্গে ইতালির ফুটবল ইতিহাসে প্রথম ‘ট্রেবল’ জেতানো কোচের অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণও করেছেন, ‘তবে এটাও পরিষ্কার, তিনি যা করেছেন তাতে চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকব। এই দলের মধ্যে বিশাল আনন্দ বইয়ে দিয়েছেন তিনি।’ শুক্রবারের মধ্যে, না হলে আর দু-একদিনের মধ্যেই মরিনহোকে নিয়ে রিয়াল-ইন্টার একটা সমঝোতায় পৌঁছাবে বলে আশায় ছিলেন মোরাত্তি।
ওদিকে রিয়ালের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ জানিয়ে দিয়েছেন রিয়ালের সঙ্গে মরিনহোর চুক্তি হয়েছে, এখন ইন্টারের সঙ্গে বাই-আউট শর্তের অর্থের ব্যাপারে তাঁকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ইতালির গণমাধ্যমের কাছে মরিনহো অবশ্য বলেছেন, মোরাত্তি তাঁকে কথা দিয়েছিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে পারলে বাই-আউট শর্তের টাকাটা কমানো হবে। তবে মোরাত্তি অস্বীকার করেছেন মরিনহোর দাবি, ‘আমি কখনোই এটি বলিনি।’ মরিনহোকে নিয়ে রিয়াল-ইন্টারের টানাপোড়েনটা এখন স্পষ্ট। রিয়াল মরিনহোকে পেতে বাড়তি কোনো টাকা দিতে নারাজ, আর ইন্টার টাকা না পেলে তাঁকে ছাড়বে না!

২২৫ রানের লক্ষ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬৩/৩

সিরিজ বাঁচাতে জয়ের বিকল্প নেই—এমন এক ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২২৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্রিস গেইল (১৬), ডেল রিচার্ডস (২৮) ও ড্যারেন ব্রাভোকে (১) হারিয়ে ১৩.১ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৬৩। শিবনারায়ণ চন্দরপল খেলছিলেন ১২ রান নিয়ে, রানের খাতা খোলার অপেক্ষায় ডোয়াইন ব্রাভো।
ডমিনিকায় টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানই ছুঁয়েছেন দুই অঙ্ক, কিন্তু ফিফটি করতে পেরেছেন একমাত্র এবি ডি ভিলিয়ার্স। ৮০ বলে ৭০ রান করে রানআউট হয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ডি ভিলিয়ার্স। ফর্মে থাকা আরেক ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা করেছেন ২৮ বলে ৩৪। ৩ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার কাইরন পোলার্ড। নিকিতা মিলারের ইনজুরিতে সুযোগ পাওয়া সুলিমান বেন ও ডোয়াইন ব্রাভো নিয়েছেন দুটি করে উইকেট

ন্যু ক্যাম্পেই যাচ্ছেন ফ্যাব্রিগাস

বিশ্বকাপের এই উত্তপ্ত সময়ে ক্লাব ফুটবলের খবরাখবর নিয়ে দৌড়ঝাঁপ না করলেও হতো! কিন্তু ঘটনার নায়ক যে সেস ফ্যাব্রিগাস। আর তাঁর সঙ্গে জড়ানো বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই ক্লাব বার্সেলোনা ও আর্সেনাল। ফুটবল-দুনিয়ায় বিশেষ তাৎপর্য বহন করা খবরটি হলো, আর্সেনাল ছেড়ে বার্সেলোনাতেই পাড়ি জমাচ্ছেন সেস ফ্যাব্রিগাস।
পুরোনো বন্ধুদের কাছে ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার নিজেই বলেছেন, আগামী গ্রীষ্মে বার্সেলোনাতেই যোগ দিচ্ছেন তিনি। যদিও পরক্ষণেই বলেছেন, এই মুহূর্তে তাঁর ভাবনা জুড়ে শুধুই বিশ্বকাপ, ‘আমি শান্তই আছি। অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বিশ্বকাপ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি শুধু সেটি নিয়েই ভাবছি এবং আমার চোটও আর নেই।’ বিশ্বকাপে নিজের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমি সব সময় জয়ের জন্যই খেলি। এখন একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দলের অংশ হওয়া এবং বিশ্বকাপে খেলা। স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন করতে আমি সবকিছু ঢেলেই করব।’
ভাবনায় যতই বিশ্বকাপ থাক, নিজের ঘরে ফেরার উত্তেজনা চাপা দিয়ে রাখা কঠিন। বার্সেলোনার সমর্থক, বার্সার একাডেমিতেই ফুটবলের হাতেখড়ি। সেই বার্সায় ফেরার পথে স্পেনের হয়ে ৪৮টি ম্যাচ খেলা এই মিডফিল্ডারও পারেননি সেটিকে চাপা দিয়ে রাখতে। ফ্যাব্রিগাস নিজেই বলেছেন, ‘আমি আর্সেনের (আর্সেন ওয়েঙ্গার) সঙ্গে কথা বলেছি। কারও সঙ্গে এটাই সম্ভবত আমার জীবনের সেরা কথোপকথন। আমি তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান করি। ব্যস, এর বেশি কিছু বলতে চাই না আমি

ইথিওপিয়ার নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী জোট

ইথিওপিয়ার গত রোববারের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির প্রধান বিরোধী জোট। নির্বাচনে বর্তমান প্রধামন্ত্রী মেলেস জেনাবির দল ইথিওপিয়ান পিপল্স রেভল্যুশনারি ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইপিআরডিএফ) জয়লাভ করেছে।
বিরোধী জোট মেদারিকের প্রধান নেতা মেরারা গুদিনা জানান, ‘নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে আমরা নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানাচ্ছি।’
নির্বাচনে ৫৩৬টি আসনের মধ্যে মেদারিক মাত্র একটি এবং ক্ষমতাসীন ইপিআরডিএফ ৪৯৯টি আসনে জয়লাভ করে।
এর আগে অন্য একটি বিরোধী দল ২৩ মের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছিল। ইউরোপীয় পর্যবেক্ষকেরা এর সমালোচনা করেছেন।