Wednesday, August 26, 2026

ইসরাইলকে স্বীকৃতির শর্তে সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করবেন ট্রাম্প

সৌদি আরবের সঙ্গে প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি সহায়তা চুক্তি চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার জন্য একটি বড় শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সৌদি আরব যদি ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করে, তাহলে এই চুক্তি কোনোভাবেই আলোর মুখ দেখবে না।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তি গত জুলাই মাসে চূড়ান্ত হয়েছিল। এর আওতায় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তি রপ্তানির সুযোগ পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের এপি১০০০ মডেলের পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের এই প্রকল্পে লাভবান হবে কানাডাভিত্তিক ক্যামেকো ও ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েস্টিংহাউস’।

কংগ্রেসের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চুক্তিটি সোমবার মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং এটি বুধবার সংশ্লিষ্ট কমিটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য কংগ্রেসের হাতে ৯০টি অধিবেশন দিবস সময় থাকবে। এই মেয়াদের মধ্যে কংগ্রেস যদি কোনো আপত্তি বা প্রস্তাব পাস না করে, তবে চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে। তবে কংগ্রেস এটিকে প্রত্যাখ্যান করলে ট্রাম্প তার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। আর ট্রাম্পের সেই ভেটোকে বাতিল করতে হলে কংগ্রেসে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে।

মার্কিন প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট—সৌদি আরব মার্কিন মধ্যস্থতায় আয়োজিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দিয়ে ইসরাইলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলেই কেবল চুক্তিটি বাস্তবায়িত হবে। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেই ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ও সৌদির সঙ্গে এই চুক্তির চেষ্টা হয়েছিল এবং সেখানেও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্তটি ছিল। ২০২৩ সালে সৌদি-ইসরাইল কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হলেও, ওই বছরের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর সব হিসাব বদলে যায়। বর্তমানে রিয়াদ তাদের অবস্থানে অনড় থেকে স্পষ্ট জানিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি ‘অপরিবর্তনীয় ও স্পষ্ট পথ’ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরাইলকে কোনো কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে চুক্তি ঘিরে বিতর্কের ঝড়

এদিকে চুক্তিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা ও পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে কাজ করা বিশ্লেষকরা এই চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাদের অভিযোগ, ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মার্কিন পারমাণবিক চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ছিল, যা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু সৌদির সঙ্গে প্রস্তাবিত নতুন এই চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর সরাসরি কোনো কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়নি, যা ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দিতে পারে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আইন অনুযায়ী চুক্তিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও বিস্তার রোধের সকল শর্তই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু নন-প্রলিফারেশন পলিসি এডুকেশন সেন্টারের প্রধান হেনরি সোকোলস্কি মনে করেন, কংগ্রেসে এটি জমা দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প একটি বিপজ্জনক পথ তৈরি করেছেন। এর ফলে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়া বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছাড়াই কংগ্রেস থেকে চুক্তিটি পাস হয়ে যাওয়ার একটি আইনি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ইসরাইলকে স্বীকৃতির শর্তে সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করবেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

নিউইয়র্কে মোহন ভগবতের অনুষ্ঠান চাই না : জোহরান মামদানি

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভগবতকে নিয়ে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত অনুষ্ঠান তিনি সমর্থন করেন না। আগামী ২৯ আগস্ট ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে ভগবতের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে অনুষ্ঠানটি ব্যক্তিগত হওয়ায় তা বাতিল করার ক্ষেত্রে নগর প্রশাসনের কোনো এখতিয়ার আছে কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মেয়র।

অনুষ্ঠানটিতে প্রায় ৫ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে কয়েকটি আন্তঃধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠন এরই মধ্যে অনুষ্ঠানটির সমালোচনা করেছে।

আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী প্রচারের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন মোহন ভগবত। কর্মসূচির আওতায় তিনি কানাডা ও যুক্তরাজ্যেও সফর করবেন।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না। জবাবে মামদানি বলেন, ‘আমি এই সমাবেশকে সমর্থন করি না। তবে এটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হওয়ায় তা বাতিল করার এখতিয়ার নগর প্রশাসনের আছে কি না, তা আমি জানি না।’

নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে নিজেকে প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান মেয়র হিসেবে উল্লেখ করে মামদানি বলেন, তার মায়ের পরিবারের সদস্যরা এখনো ভারতে বসবাস করছেন।

তিনি বলেন, পরিবার থেকে তিনি যে ভারতের ধারণা নিয়ে বড় হয়েছেন, সেটি ছিল একটি ‘বহুত্ববাদী সমাজ’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রের’ ধারণা। সেখানে ভারতের প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার ও অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পেত।

মামদানি বলেন, এর বিপরীতে ‘বর্জনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির’ ওপর ভিত্তি করে একটি আন্দোলনের উত্থান দেখতে পাওয়া তার জন্য ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’। ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিক হিসেবে এবং এমন একটি শহরের মেয়র হিসেবে, যেখানে বর্ণ, ধর্ম, বিশ্বাস বা দেশের পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়—তিনি এই দৃষ্টিভঙ্গির ‘তীব্র বিরোধী’ বলেও জানান।

হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস, ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল এবং ইন্টারফেইথ সেন্টার অব নিউইয়র্কসহ কয়েকটি সংগঠন ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ভগবতের উপস্থিতির বিরোধিতা করেছে। তারা অনুষ্ঠানটি বাতিলের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

পাবলিক পলিসি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এএইচইএডি ফোরাম ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ শিরোনামে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সংগঠনটি বলেছে, ২৯ আগস্টের এই আয়োজনের মূল বার্তা হলো—‘পুরো বিশ্ব একটি পরিবার’। কৃত্রিম বিভাজন ও পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ঐক্যের দিকে তাকানোর আহ্বানও জানিয়েছে তারা।

সব মিলিয়ে, আয়োজকদের সমর্থন পেলেও ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানটি নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর বিরোধিতার মুখে পড়েছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি স্পষ্টভাবে এর বিরোধিতা করলেও নগর প্রশাসন অনুষ্ঠানটি বন্ধ করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

নিউইয়র্কে মোহন ভগবতের অনুষ্ঠান চাই না : জোহরান মামদানি

মহাসাগরগুলোতে এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড

বিশ্বের মহাসাগরগুলো আগস্ট মাসে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ দৈনিক তাপমাত্রায় পৌঁছেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট মেরু অঞ্চল বাদে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ২১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছে। ইউরোনিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।

এটি ২০২৪ সালের মার্চে রেকর্ড হওয়া ২১ দশমিক ০৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আগের সর্বোচ্চ দৈনিক তাপমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে আগস্ট মাসের আগের রেকর্ড ২০ দশমিক ৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০২৩ সালে রেকর্ড হয়েছিল, সেটিও ভেঙে গেছে।

সাধারণত দক্ষিণ গোলার্ধের গ্রীষ্মের প্রভাবে মার্চ ও এপ্রিল মাসে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে থাকে। কিন্তু এবার আগস্টে এসে নতুন রেকর্ড হওয়ায় বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের দীর্ঘস্থায়ী উষ্ণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এ সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হচ্ছে। এর ফলে সমুদ্রে অতিরিক্ত তাপ যোগ হচ্ছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু এল নিনো দিয়ে এই রেকর্ড তাপমাত্রার ব্যাখ্যা করা যায় না। কয়েক দশক ধরে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনও সমুদ্রের দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণতার বড় কারণ।

পরিবেশবিজ্ঞানী ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, উষ্ণ সমুদ্র সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের ঝুঁকি ও তীব্রতা বাড়ায়। এতে প্রবালপ্রাচীর, সামুদ্রিক ঘাস ও অন্যান্য সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রজাতি নতুন এলাকায় চলে যাওয়ায় মৎস্য ও জলজ চাষও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

কোপার্নিকাসের তথ্য বলছে, ১৯৯০-এর দশকের শুরুর তুলনায় বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের দিনের সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।

সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির আরেকটি বড় প্রভাব হলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। পানি উত্তপ্ত হলে তা প্রসারিত হয়, ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে। পাশাপাশি উষ্ণ সমুদ্র বায়ুমণ্ডলে বেশি তাপ ও জলীয়বাষ্প সরবরাহ করতে পারে, যা কিছু অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও ঝড়ের তীব্রতা বাড়াতে পারে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইডের একটি বড় অংশ সমুদ্র শোষণ করে। কিন্তু পানি যত উষ্ণ হয়, কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের সক্ষমতা তত কমে। ফলে পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক কার্বন শোষক হিসেবে সমুদ্রের ভূমিকা ভবিষ্যতে দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: ইউরোনিউজ

সমুদ্রের তাপমাত্রা দিনে দিনে বাড়ছে। ছবি: এপি
সমুদ্রের তাপমাত্রা দিনে দিনে বাড়ছে। ছবি: এপি

হরমুজ প্রণালিতে ছয় মাসে ২০ নাবিক ও বন্দরকর্মী নিহত

৬৮ জাহাজে হামলাঃ ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় অন্তত ৬৮টি নৌযানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ নাবিক ও বন্দরকর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৫ জন। একজন এখনো নিখোঁজ। ইরাকি সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৬ দিনে একটি করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রায় অর্ধেকই ছিল তেলবাহী জাহাজকে ঘিরে। কনটেইনারবাহী জাহাজ আক্রান্ত হয় ২০ শতাংশ ঘটনায় এবং বাল্ক ক্যারিয়ার ১৫ শতাংশ ঘটনায়।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বা ইউকেএমটিও ৬৮টি ঘটনার মধ্যে ৪৭টিকে হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ঘটনাগুলোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ। এসব দেশের পতাকাবাহী ১৩টি জাহাজ বিভিন্ন ঘটনায় জড়িয়েছে। পানামা ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ১০টি করে জাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইরানের পতাকাবাহী চারটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের বড় অংশ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক সংঘাত ও নৌ-হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ

হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স

৯ মিনিটের এই সহজ শরীরচর্চায় বদলে ফেলুন জীবন by মমতাজ মোস্তফা

সকালে কয়েক দফা অ্যালার্মের পরও রিচার ঘুম ভাঙতে চায় না। আর ঘুম থেকে জেগে গেলেও বিছানায় আরও বেশ কিছুক্ষণ কেটে যায় ফোন স্ক্রল করে। আর সকালের ওয়ার্কআউট? সেটা আগামীকালের জন্য তোলা থাকে। যে আগামীকাল আসলে আর কখনোই আসে না।

একদিন রাতে ফোন স্ক্রল করতেই তার সামনে এল থ্রি ইনটু থ্রি ফিটনেস রুল নামে ছোট্ট একটি ভিডিও। তিন মিনিট তিন মিনিট করে তিন বারে মোট ৯ মিনিটের ছোট্ট একটি ওয়ার্কআউট।

একধরনের কৌতূহল থেকেই সেটা করে দেখার সিদ্ধান্ত নেন রিচা।

ফোনে তিন মিনিটের টাইমার সেট করে প্রথম ধাপের স্ট্রেচিং শুরু করেন রিচা, তার মনে হয় যেন অনেক পুরোনো জং ধরা একটা দরজা খোলার চেষ্টা করছেন। তারপর স্কোয়াট এবং লাঞ্জ করেন। সবশেষের ধাপ ছিল জাম্পিং জ্যাক। যখন টাইমার বিপ বাজে তখন রীতিমতো হাঁপাচ্ছিলেন রিচা, দরদর করে ঘাম ঝরতে থাকে। সবচেয়ে বড় কথা কফি না খেয়েই ঘুম ঘুম ভাব, অলসতা কেটে গিয়ে বেশ চনমনে লাগতে থাকে।

দ্বিতীয় দিন যথারীতি দেরিতে ঘুম ভাঙলে ভাবলেন আজ আর ওয়ার্কআউট করবেন না। কিন্তু যেই মনে পড়ল ওয়ার্কআউটটা মাত্র ৯ মিনিটের, আবার করে দেখার সিদ্ধান্ত নিলেন। এভাবে চতুর্থ দিনে তার মধ্যে শরীরচর্চাটি নিয়মিত করার ব্যাপারে একটা আগ্রহ তৈরি হলো। পছন্দের কিছু মিউজিক বাছাই করে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয়নার সামনে শরীরচর্চা করতে লাগলেন। দুই সপ্তাহ পরে রিচা কিছু ছোট ছোট পরিবর্তন লক্ষ্য করেন।

এনার্জি (শক্তি): রিচার নিজের কাছে নিজেকে বেশ ঝরঝরে, প্রাণবন্ত ও কর্মচঞ্চল মনে হয়। আগে যেখানে এক কাপ কফি ছাড়া ঘুম কাটিয়ে কাজে মনোনিবেশ করতে পারতেন না, এখন মাত্র ৯ মিনিটের এই শরীরচর্চা তাঁর কাজের উদ্দীপনা অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছিল।

ফোকাস বা মনোযোগ: কাজ শুরুর প্রথম থেকেই তাঁর চিন্তা ও মনোযোগ ঠিকঠাক কাজ করছিল। কাজের বিষয় ও পরিকল্পনা মাথার মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় তা এগিয়ে নেওয়া দ্রুত ও সহজ হয়।

মেজাজ: সকাল থেকেই মেজাজ ঠান্ডা রেখে কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল। অকারণে লোকজনের ওপর রেগে যাওয়া, মাথা গরম করে ফেলার প্রবণতা কম লক্ষ করা যাচ্ছিল।

ধারাবাহিকতা:
নিজের মধ্য অস্থিরতা অনেক কম মনে হচ্ছিল। কাজের সঙ্গে একাগ্রভাবে লেগে থাকা, একটার পর একটা ধারাবাহিকভাবে করে যাওয়া অনেকটা সহজ মনে হচ্ছিল। রিচা জানান ওজন কমানো বা ফিট দেখানো তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। কেবল অলসতার কারণে অপরাধবোধে না ভুগে কর্মোদ্দীপনা নিয়ে সুন্দরভাবে একটা দিন শুরু করতেই এই ওয়ার্কআউট শুরু করেন।

রিচা জানান, ফিটনেসের সবচেয়ে কঠিন অংশ শরীরচর্চা নয়, বরং শরীরচর্চা শুরু করা। যখন আমরা অনলাইনে ওয়ার্কআউট প্ল্যান দেখি, তখন সেগুলো বেশির ভাগ সময় ৪৫ মিনিট বা এক ঘণ্টার শরীরচর্চা বা যোগব্যায়াম হয়ে থাকে। এত দীর্ঘ সময়ের শারীরিক কর্মকাণ্ডের কথা ভেবে উৎসাহ হারিয়ে ফেলি। কিন্তু বিষয়টা যখন মাত্র তিন মিনিটের হয়, তখন তা আর অতটা ক্লান্তিকর মনে হয় না।

রিচা জানান, অভ্যাসের মধ্যে আসার পর এই ৯ মিনিটের সঙ্গে তিনি মাঝেমধ্যে পুশআপ যোগ করে শরীরচর্চাটাকে আরও বেশি সময় ধরেও চালিয়ে নেন। তাঁর মতে, থ্রি ইনটু থ্রি রুল একটা ছোট্ট নিয়ম কিন্তু একটা বিরাট পরিবর্তন। যা কেবল তার সকালটাই নয়, নিজেকে দেখার ধরনটাও বদলে দিয়েছে। তাই বাড়িতে, ভ্রমণে যেখানেই থাকুক না কেন, ৯ মিনিটের ছোট্ট এই শরীরচর্চা কখনোই বাদ দেন না রিচা।

পরিশেষ রিচা জানান, এটি সম্পূর্ণই তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ওপর ভিত্তি করে লেখা। কোনো চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য বা জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার আগে যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র: মিডিয়াম

ফোনে তিন মিনিটের টাইমার সেট করে প্রথম ধাপে স্ট্রেচিং শুরু করতে পারেন
ফোনে তিন মিনিটের টাইমার সেট করে প্রথম ধাপে স্ট্রেচিং শুরু করতে পারেন। ছবি: সুমন ইউসুফ

ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় মুখ খুলল চীন ও কাতার

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছে চীন ও কাতার। দুই দেশই বলেছে, একতরফা নিষেধাজ্ঞা সংকটের সমাধান নয়; বরং কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখা প্রয়োজন। ইরাকি সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আন্তর্জাতিক আইন বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো একতরফা নিষেধাজ্ঞা চীন সমর্থন করে না। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং বেইজিং নিজের বৈধ স্বার্থ রক্ষা করবে।

চীন বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রথম দফায় বড় কোনো চীনা ব্যাংককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করে কাতারও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, কাতার এখনো ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, উত্তেজনা আরও বাড়লে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, পুরো বিশ্বেই পড়বে।

গত ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এই অভিযানের লক্ষ্য ইরান এবং দেশটির অর্থনীতিকে সহায়তা করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ানো।

এই পদক্ষেপের আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ, তেল খাত ও অন্যান্য নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৬০ জন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান পরিবহন ও নৌপরিবহন খাতেও সম্ভাব্য গৌণ নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানো হয়েছে।

স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেন, যেসব দেশ বা কোম্পানি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবে, ভবিষ্যতে তারা মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারাতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে।

এদিকে ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, চীন, রাশিয়াসহ ইরানের মিত্র দেশগুলো ওয়াশিংটনের এই চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।

অন্যদিকে পাকিস্তানও সমান্তরালভাবে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরানে পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বৈঠকের পর দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালি আবার পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

আইআরজিসির পাহাড়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করছে। ছবি : এএফপি
আইআরজিসির পাহাড়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করছে। ছবি : এএফপি > হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। এসব জাহাজকে জরিমানা, আটক এমনকি জব্দও করা হতে পারে। খবর রয়টার্সের। সোমবার (২৪ আগস্ট) পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থা না মানা জাহাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি। ফলে ইরানের এ হুঁশিয়ারিতে এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজের মালিক ও ভাড়াকারীদের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। প্রণালিটি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ইরান সম্প্রতি পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ নামে নতুন একটি সংস্থা গঠন করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরসংক্রান্ত যাত্রার ক্ষেত্রে নিয়ম না মানা হিসেবে চিহ্নিত জাহাজগুলোর হালনাগাদ তালিকা অনুসরণ করতে হবে পণ্য মালিকদের।

মুসলিম বিশ্বের এক প্রশ্নবিদ্ধ রাষ্ট্র আরব আমিরাত by মাহমুদুর রহমান

২০০১ সালের নভেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়ার পর বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী যেসব দেশকে আকৃষ্ট করার প্রাথমিক তালিকা করেছিলাম, তার মধ্যে আরব আমিরাতের নাম বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম সম্পদশালী দেশ হিসেবে আমিরাতের কাছে আমার প্রত্যাশা ছিল যে, ৯০ শতাংশ মুসলমান জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশের কাছ থেকে বিনিয়োগের ডাক পেলে তারাও আশানুরূপ সাড়া দেবেন। তখনও মার্কিনঘেঁষা হিসেবেই উপসাগরীয় দেশটির পরিচিতি থাকলেও জায়নিস্ট অনুপ্রবেশ আজকের মতো এতখানি দৃশ্যমান এবং প্রমাণিত ছিল না। বিপরীতে ভূরাজনীতি নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা এবং পড়াশোনাও তখন অনেক কম ছিল। সে সময় দেশটির প্রভাবশালী রাজপুত্রদের একজন এবং যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী প্রিন্স মুবারক আল নাহিয়ান বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তিনি আমার আমন্ত্রণে ব্যক্তিগত বিমানে উড়ে বাংলাদেশে এলে আরেক বিপদে পড়ে গিয়েছিলাম। তার মতো মান্যবর অতিথির ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত কোনো গাড়ি তখনকার দরিদ্র বিনিয়োগ বোর্ডের ছিল না।

সেই সমস্যা কীভাবে সমাধান করেছিলাম, সেটা একেবারেই ব্যক্তিগত বিধায় সে প্রসঙ্গ আর বাড়াচ্ছি না। প্রিন্স মুবারক বাংলাদেশ সফরে এসে বেশ সন্তুষ্ট হয়েছিলেন, যার ফলে ওয়ারিদ টেলিকমের বাংলাদেশে আগমন ঘটেছিল। আমার সঙ্গে আলোচনায় টেলিকম ছাড়া অন্যান্য সম্ভাব্য লাভজনক সেক্টরেও মুবারক আল নাহিয়ানের ধাবি গ্রুপের বিনিয়োগের কথা থাকলেও ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলে সেসব আর বাস্তবায়ন হয়নি। বরং পরবর্তীকালে ওয়ারিদ টেলিকম তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ভারতের এয়ারটেলের কাছে বিক্রি করে বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। আমিও সরকারি দায়িত্ব ছেড়ে মিডিয়ায় প্রবেশ করলাম এবং সেই থেকে আমার বাঙালি মুসলমান আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে আওয়ামী সুশীল ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় হেজেমনির বিরুদ্ধে যথাসম্ভব লড়াই করাটাই বাকি জীবনের কর্তব্য ধরে নিয়েছি।

গত পঁচিশ বছরে মুসলিম বিশ্বে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মাত্রাটা কিছুটা বোঝানোর জন্য উপরের ঘটনা বর্ণনা করলাম। প্রসঙ্গক্রমে আমার আরো একটি পর্যবেক্ষণের কথা বলে রাখি। বিনিয়োগ বোর্ডে পাঁচ বছরের দায়িত্ব পালনকালে আমি তিনবার আরব আমিরাতে সরকারি সফরে গিয়েছিলাম। প্রথমবার আমার সঙ্গে একটি বিনিয়োগ প্রতিনিধি দল ছিল। দ্বিতীয়বার গিয়েছিলাম প্রিন্স মুবারক আল নাহিয়ানের বাংলাদেশ সফরের আগে তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত হতে। আর ২০০৬ সালের এপ্রিলে তৃতীয় ও শেষবার তারই আমন্ত্রণে নবনির্মিত আবুধাবি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার উদ্বোধনী একদিনের ক্রিকেট খেলা দেখতে।

আমিরাতের ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে তিনি সেই আয়োজনের প্রধান ব্যক্তি ছিলেন। আমার তিন সফরের অভিজ্ঞতায় একজন বাংলাদেশি এবং মুসলমান হিসেবে একটি বিষয় লক্ষ করে বেশ উদ্বিগ্ন বোধ করেছিলাম। আমার কাছে তখনই মনে হয়েছিল যে, আমিরাতের প্রধান দুই শহরের মধ্যে দুবাই ভারতীয়দের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং আবুধাবিতে পাকিস্তানের কিছুটা প্রভাব থাকলেও ভারতীয়করণ ক্রমেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ভারতের পাশাপাশি অন্তরালে যে ইসরাইল আমিরাতের প্রধান নিয়ন্ত্রক হওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে, সেটা অবশ্য একেবারেই টের পাইনি। তবে ক্ষমতাশালীদের সঙ্গে কথোপকথনে তাদের চিন্তাধারায় মুসলিম পরিচয়কে ছাপিয়ে পশ্চিমাদের প্রতি অন্ধ প্রীতি লক্ষ করেছিলাম। উম্মাহ নিয়ে আলোচনা উঠলে তাদের মধ্যে একধরনের দ্বিধাও যেন অনুভব করেছিলাম।

এবার বর্তমানে আসি। এটা নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই যে, সারা বিশ্বে সবচেয়ে উগ্র মুসলমানবিদ্বেষী দুই দেশের নাম ইসরাইল ও ভারত। উভয় দেশে ইসলামোফোবিয়া রাজনৈতিক ময়দান ছাড়িয়ে জনগণের বৃহৎ অংশের মধ্যে বিস্তৃত হয়েছে। কেউ যদি মনে করে থাকেন যে, নির্বাচনে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে কট্টরপন্থি নেতানিয়াহু এবং নরেন্দ্র মোদি অপসারিত হলেই ইসরাইল ও ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর চলমান জুলুমের অবসান ঘটবে এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে দেশ দুটির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ ফিরে আসবে, তাহলে তিনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আমি গণতন্ত্র প্রসঙ্গে বিভিন্ন লেখায় এবং বক্তব্যে একটি বিষয়ে সর্বদা জোর দিয়ে থাকি।

সেটা হলো, যেকোনো প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডের মধ্যে অবশ্যই সেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর চিন্তাচেতনার প্রতিফলন ঘটবে। অনেকেই হয়তো এই তর্ক তুলবেন যে, জনমতকে তো নেতাই প্রভাবিত করে থাকেন। আমি মনে করি এ কথাটি আংশিক সত্য। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নেতাকে নির্বাচনে জিততে হলে জনমত বুঝে চলতে হয়। সমাজে ব্যাপক জনপ্রিয় অভিমতের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো নেতার পক্ষে রাজনীতিতে সফল হওয়া কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ। মানুষের মন অল্প সময়ে পরিবর্তিত হয় না। এই যে ভারতে কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক সব নির্বাচনের আগে মুসলমানদের ওপর নিগ্রহের মাত্রা বেড়ে যায়, এর পেছনে জনতুষ্টি এবং নির্বাচনি হিসাবনিকাশ কাজ করে। ইসরাইলে এই অক্টোবরে সংসদের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সেখানে নেতানিয়াহুসহ সব সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর প্রচারের মূল বয়ান হলো, প্যালেস্টাইনের মুসলমান নারী, পুরুষ, শিশুকে কে কত সফল ও বর্বরভাবে নির্যাতন ও হত্যা করতে সক্ষম হবে। গণহত্যা চালিয়ে প্যালেস্টাইনকে নিশ্চিহ্ন করে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করতে যার পরিকল্পনা ইসরাইলি ভোটারদের কাছে সবচেয়ে কার্যকর মনে হবে, সেই আসন্ন নির্বাচনে জিতবে। সুতরাং, নেতানিয়াহু কিংবা মোদি অসুখ নয়, উপসর্গ মাত্র।

ভারত ও ইসরাইলের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের উন্মত্ত ধর্মান্ধতাই সেখানকার আসল রোগ। চরম বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, এমন ভয়ংকর ইসলামবিদ্বেষী ভারত এবং ইসরাইলের ঘনিষ্ঠতম মিত্র দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান কিন্তু ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় নয়। সেটা খোদ আরব ভূমিতেই। দেশটির নাম সংযুক্ত আরব আমিরাত। আমি জেনেবুঝেই বলছি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও ইউএই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) প্রকৃতপক্ষে ইসরাইল ও ভারতের অধিক বিশ্বস্ত বন্ধু। গণতন্ত্রহীন ইউএই জনমতের তোয়াক্কা না করে যতটা অন্ধভাবে ভারত ও ইসরাইলের সব অন্যায় সমর্থন করতে পারবে, গণতান্ত্রিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেটা সম্ভব নয়। গাজায় এই শতাব্দীর ভয়াবহতম গণহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে জায়নিস্ট ইসরাইলের প্রতি ‘ওয়াশিংটন এস্টাবলিশমেন্টের’ সমর্থন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ইতোমধ্যে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দেশটির তরুণ প্রজন্ম বর্ণবাদী জায়নিজমের বিপক্ষে সোচ্চার হয়েছে। এমনকি ইসরাইলের কট্টর সমর্থক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পর্যন্ত এই পরিবর্তনকে উপেক্ষা করতে পারছেন না। অথচ ইউএইতে ভিন্ন চিত্র।

ইরানের সঙ্গে ইসরাইলের চলমান যুদ্ধে তেমন কোনো রাখঢাক না রেখেই আমিরাত ইসরাইলের পক্ষাবলম্বন করেছে। যুদ্ধের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুসহ ইসরাইলের সামরিক কর্তারা আমিরাত সফর করে গেছেন। ইসরাইলি ‘আয়রন ডোম’ আমিরাতের আকাশ পাহারা দিচ্ছে। মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান আমিরাতের সব বিমান ঘাঁটি থেকে উড়ে গিয়ে ইরানের ওপর বোমা ফেলেছে, দেশটির সামরিক ঘাঁটি থেকে ইসরাইলি ও মার্কিন সৈন্যরা ইরান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ছে। বছরের শুরুতে ইরানের ওপর মার্কিন এবং ইসরাইলি অন্যায় আক্রমণ শুরু করতেও আরব আমিরাত ক্রমাগত উসকানি দিয়েছে। তারা মুসলিম রাষ্ট্র ইরানকে ধ্বংসের জন্য ওয়াশিংটনে ওকালতি করেছে।

একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের আসালুয়ে পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ইসরাইল ও আমিরাত যৌথভাবে হামলা চালালে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিরক্তি প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হঠকারী কাজ থেকে নিবৃত্ত থাকার নির্দেশ দেয়। হাজার বছরের শিয়া-সুন্নি বিভেদকে পুঁজি করে আরব দেশটির শাসক পরিবার মুসলিম উম্মাহ ধ্বংসের মরণ খেলায় মেতেছে। পাকিস্তান যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করায় চরম অসন্তুষ্ট হয়ে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ দেশটিকে এক মাসের মধ্যে ফেরত দিতে বাধ্য করেছে তথাকথিত মুসলিম উম্মাহভুক্ত ইউএই সরকার। পাকিস্তান সৌদি আরবের কাছ থেকে ধার করে আমিরাতের সেই আকস্মিক দাবি মিটিয়েছে। মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরেই এ-জাতীয় আত্মবিধ্বংসী রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকলে বাইরে থেকে উম্মাহর আর কোনো শত্রুর প্রয়োজন দেখি না। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ইসরাইল ইরানে আক্রমণ চালানোর মাত্র দুদিন আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তেল আবিব সফর করে ইসরাইলকে পিতৃভূমি এবং ভারতকে মাতৃভূমি ঘোষণা করে এসেছিলেন। ইসরাইল-ভারত-ইউএই ট্রয়কা সম্পর্কে মুসলিম বিশ্বের পুনর্মূল্যায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা এখন আফ্রিকার দরিদ্র ও সংঘাতময় দেশগুলোতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক মূলত আমাদের এখান থেকে জনশক্তি পাঠানো নিয়ে। বছরে গড়ে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স ইউএই থেকে বাংলাদেশ আয় করে যা মোট রেমিট্যান্সের ১০ শতাংশেরও কিছু বেশি। সে দেশে চাকরি এবং ব্যবসায় নিয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ, যেটা বিদেশিদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। দেশটিতে কর্মরত ভারতীয়দের সংখ্যা ৪০ লাখ এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী পাকিস্তানিদের সংখ্যা ১৫ লাখ। আমার ধারণা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইউএই সরকার পাকিস্তানি এবং বাংলাদেশি কর্মীদের সে দেশ থেকে সরিয়ে ভারতীয়দের অধিক হারে নিয়োগ দেবে। সুতরাং জনশক্তি রপ্তানির জন্য আমাদের অন্য দেশের সন্ধান এখন থেকেই করা উচিত।

পাঠকদের মধ্যে অনেকেই হয়তো জানেন না যে, কিছুদিন আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইউএই বাংলাদেশের পরিবর্তে ইসরাইলের মিত্র সাইপ্রাসের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ট্রয়কার অন্য সদস্য ভারত কেবল আমাদের বিপক্ষে ভোট দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি, সাইপ্রাসকে জেতানোর জন্য সরাসরি প্রচারও চালিয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর শেখ হাসিনা এবং তার লুটেরা ও খুনি দোসররাও প্রধানত ভারত ও আমিরাতে আশ্রয় নিয়েছে। গণহত্যাকারী সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদকে দুবাই থেকে ফেরত পাঠানোর বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধকে আরব আমিরাত সরকার উপেক্ষা করেছে। আমার ধারণা, এ বিষয়ে ভারত এবং ইউএই যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে এই দুই দেশ সম্পর্কে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান রেখে আজকের লেখা শেষ করছি। 

মুসলিম বিশ্বের এক প্রশ্নবিদ্ধ রাষ্ট্র আরব আমিরাত
মাহমুদুর রহমান

জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যালয় দখল করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল ইসরাইলি মন্ত্রী

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এ সময় কেন্দ্রটির কর্মীদের বের করে দেওয়া হয়। পরে এর প্রাঙ্গণে ইসরাইলের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উগ্রপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এ ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। অভিযান ও পতাকা উত্তোলনের পর তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাটিকে একইভাবে দেখছেন।

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের একটি সংস্থার পরিচালিত স্থাপনায় ইসরাইলি বাহিনীর প্রবেশ এবং কর্মীদের সেখান থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাকে গুরুতর বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের সংস্থার কার্যক্রমে এ ধরনের হস্তক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি প্রশ্ন উঠেছে।

ইউএনআরডব্লিউএ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকে। সংস্থাটির স্থাপনায় অভিযান চালানো এবং সেখানে ইসরাইলের পতাকা তোলার ঘটনা তাই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইসরাইলের উগ্রপন্থি রাজনীতিক বেন-গভির দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। পূর্ব জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএ-এর এই স্থাপনায় অভিযানকে তার প্রকাশ্য সমর্থন সেই অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

ইউএনআরডব্লিউএ ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের সংস্থার পরিচালিত স্থাপনায় এ ধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যালয় দখল করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল ইসরাইলি মন্ত্রী
ইতামার বেন-গভির। ছবি: আল-জাজিরা

হরমুজ এড়িয়ে ওমান উপসাগরে জাহাজে জাহাজে তেল স্থানান্তরের হিড়িক

হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে জ্বালানি পরিবহনে নতুন কৌশল নিচ্ছে জাহাজগুলো। ওমান উপসাগরে বেড়েছে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে সরাসরি তেল স্থানান্তর। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ট্যাংকারট্র্যাকার্স ডটকমের হিসাবে, সেখানে অন্তত ২০ দফায় এমন স্থানান্তর হয়েছে। এক দিনে এটি ওই এলাকায় ব্যস্ততম এসটিএস কার্যক্রমের অন্যতম।

এসটিএস বা ‘শিপ-টু-শিপ’ স্থানান্তরে সমুদ্রে একটি জাহাজ থেকে সরাসরি অন্য জাহাজে তেল বা জ্বালানি পণ্য সরিয়ে নেওয়া হয়। পণ্যের উৎস আড়াল করা, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ বন্দরে না গিয়েই পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্যাংকারট্র্যাকার্স ডটকম জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের চলাচল শনাক্ত করেছে। এর পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য। এসব পণ্যের উৎস ছিল অঞ্চলটির ‘প্রায় সব দেশ’। তবে ইরান এর বাইরে ছিল।

পরে আরো পাঁচটি এসটিএস স্থানান্তর শনাক্ত করার কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে একটি ঘটনায় ইরানের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) স্থানান্তরের তথ্যও পাওয়া গেছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় ওমান উপসাগর এখন জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে। প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে জাহাজগুলো বিকল্প পথে পণ্য সরানোর চেষ্টা করছে।

ফলে ওমান উপসাগরের সমুদ্রসীমায় জ্বালানি পরিবহনের এক নতুন চিত্র দেখা যাচ্ছে। বন্দরে না গিয়ে সমুদ্রেই এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তার মধ্যে এ ধরনের কার্যক্রম আরো বাড়ছে।

হরমুজ এড়িয়ে ওমান উপসাগরে জাহাজে জাহাজে তেল স্থানান্তরের হিড়িক
ছবি: আল-জাজিরা

হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেব, মুসলিমদের ঘাড়ধাক্কা: শুভেন্দু

ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রের নির্দেশ মেনে সীমান্ত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে যেকোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হবেন না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার জি ২৪ ঘণ্টার মেগা কনক্লেভে এসব কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেব আর মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ঘাড়ধাক্কা দেব।’

ক্ষমতায় আসার পর নিজের ‘টু-ডু লিস্টে’ থাকা কাজগুলোর একটি ক্রমানুযায়ী খতিয়ান তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তার সরকারের প্রথম লক্ষ্য দেশের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া। ইতিমধ্যে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এরপরই নাগরিকত্ব ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ঘাড়ধাক্কা দিয়ে দেশের বাইরে বের করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন তিনি।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দ না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ থাকত না। আমরা কেউ এত বড় বড় ভাষণ দিতে পারতাম না।

মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন। দুই বছর পর রাজ্যে বিএনএস চালু হয়েছে। কেন্দ্রের সব প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করাও সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিতে না পারলেও বর্তমান বিজেপি সরকার নতুন বিমানবন্দরের জন্য ২ হাজার একর জমি চিহ্নিত করেছে বলে জানান তিনি।

কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, চিকেন নেককে সুরক্ষিত রাখতে কেন্দ্র প্রাক্তন সরকারের কাছে সাতটি রাস্তা চেয়েছিল। সেই সাতটি রাস্তাই কেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কেন্দ্রের রেল প্রকল্পের জন্য হিলি, লালগড়, গোপীবল্লভপুর, এগরা, দাঁতন, দিঘা, জলেশ্বর, করিমপুর ও তেহট্টের জমি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার দাবি, পূর্বতন সরকারের আমলে প্রায় ৫০০টি রাস্তা ও সেতু তৈরির জন্য জমি আটকে রাখা হয়েছিল। সেই জমিও কেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনাসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ যুক্ত হয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী।

সরকারের চতুর্থ দায়িত্ব জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যের ১ কোটি ৪৫ লাখ নারী অন্নপূর্ণা যোজনার অনুদান পাচ্ছেন। আরও ২০ থেকে ৩০ লাখ নারীকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। স্বচ্ছতা যাচাই করেই এই অনুদান দেওয়া হবে।

স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নিয়োগ দুর্নীতির বাইরে রাখতে রামকৃষ্ণ মিশনের আচার্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। একইভাবে একজন সৎ আইএএস কর্মকর্তাকে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের শীর্ষ পদে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সরকারের পঞ্চম কাজ শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিকীকরণ। যুবকদের নিজেদের পায়ে দাঁড় করানোর জন্য এসব কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী।

সরকারের ষষ্ঠ কাজ হলো বাম ও তৃণমূল আমলে হওয়া দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা। এ জন্য মন্ত্রিগোষ্ঠীর মাধ্যমে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ভোট ঘোষণার ছয় মাস আগে পর্যন্ত এবং গত তিন মাসে পূর্ববর্তী সরকার যেসব ক্ষতি করে গেছে, সেগুলোও খতিয়ে দেখা বর্তমান সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু।

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার ১০০ দিনের মধ্যে এই ছয় দফা কর্মসূচির ‘সিক্সার’ বাস্তবায়নের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেব, মুসলিমদের ঘাড়ধাক্কা: শুভেন্দু

ইরান সেনাদের বড় অংশকে বেতন দিতে পারছে না: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ইরান তার সামরিক বাহিনীর বড় একটি অংশের সদস্যদের নিয়মিত বেতন দিতে পারছে না। একই সময়ে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী নজিরবিহীন মাত্রায় নির্যাতন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া ব্যক্তিরাও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের পরিস্থিতি এখন একটি গুরুতর মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। এদিকে ইরানের ওপর এ যাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এর আগে সোমবার দেওয়া আরেক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান সম্পূর্ণ ধ্বংস বা পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ইরান সেনাদের বড় অংশকে বেতন দিতে পারছে না: ট্রাম্প

কেউ আমার অভিনয় দেখতে না চাইলে কিছু করার নেই: অঞ্জন দত্ত

মুক্তি পেল অঞ্জন দত্ত অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দেরি হয়ে গেছে’। ৪৫ বছরের ক্যারিয়ারে অভিনয় ও পরিচালনা মিলিয়ে এটি তাঁর ৩১তম চলচ্চিত্র। মুক্তির দিন সকালেই এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে নিজের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা ও দর্শকদের প্রতি প্রত্যাশার কথা খোলামেলাভাবে তুলে ধরেন অঞ্জন।

অঞ্জন দত্ত লিখেছেন, ‘খুব বেছে বেছে কাজ নিয়েছি। চেষ্টা করেছি খুব সস্তার গান বা নিম্ন রুচির কিছু না করার। সব সময় পারিনি। তিনটি সিনেমা নিয়ে আজও আমি বিব্রত, লজ্জিত। নিজের বলে স্বীকার করে নিতে অসুবিধে হয়। রাজনীতি, বিতর্ক, ঝগড়া, বোকামি, মধ্য মেধা এড়িয়ে চলেছি। পরিস্থিতির রং যতই বেগুনি হোক। আমার বয়স ৭২। কৌতুকবোধ আমার বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল।’

পোস্টে তিনি লেখেন, শীত, সকাল-বিকেলের রোদ্দুর, ফুলঘাটের স্টিমার, হুগলি নদীর সূর্যাস্ত—এসব তাঁর মন ভালো করে দেয়। একই সঙ্গে কলকাতার প্রতি নস্টালজিয়াও উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। তিনি লিখেছেন, ‘কিন্তু এরই মধ্যে কার সিনেমা কতবার অলমোস্ট হাউসফুল হয়ে রমরমিয়ে ব্যবসা করছে, সেটা প্রমাণ করবে ফেসবুক। জেদি বাছুরের মতো দর্শক কিছুতেই সিনেমা হলে যেতে চাইছে না। পর্বতপ্রমাণ প্রচার করে, যেনতেন প্রকরণে তাদের টেনে, হিঁচড়ে হলে ঢোকানোর আপ্রাণ চেষ্টা চলছে, চলবে। আমিও সেই দলে আছি। কিন্তু আমার অভিনয় হলে গিয়ে কেউ দেখতে না চাইলে আমার কিছু করার নেই। যদি দু–একজন ভুল করে ঢুকে পড়ে, তাহলে তাদের মুখের কথা আমার একমাত্র সম্বল। তা ছাড়া আমরা এমন কোনো সিনেমা বানাচ্ছি না, যেটা না দেখলে জীবন ব্যর্থ হয়ে যাবে। আর একটা সিনেমার জন্য জীবন ব্যর্থ বা সার্থক হবেই বা কেন? আমরা তো কেউ যুগান্তকারী কিছু বানাচ্ছি না।’

সংবাদমাধ্যম ও চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রভাব নিয়েও স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, মিডিয়া বা সাংবাদিকদের লেখার ধার বা দাম এতটাই কম যে তারা গাদা গুচ্ছের লিখে গেলেও দর্শক হলমুখী হবে না। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা কয়েকজন চেষ্টা করে যাচ্ছি একটু ভালো সিনেমা করার। কারণ, এটা করেই আমাদের রোজগার। সাংবাদিক বা পডকাস্টের দলবল চেষ্টা করছে বাজার ঠান্ডা বা গরম করার। পোস্টারের ওপরে পোস্টার পড়ে যাচ্ছে। সবই বাসী খবর।’
দর্শকদের উদ্দেশে অঞ্জন লিখেছেন, ‘তবে এটাও ঠিক যে আপনারা অর্থাৎ দর্শকদের হাতে একদম সময় নেই বা আপনাদের পকেট গড়ের মাঠ, এ রকম আদৌ নয়। আপনারাও কিন্তু চাইলে কিছুক্ষণের জন্য নিজেদের টেলিফোনটা বন্ধ করে ফেলতে পারেন। সর্বক্ষণ ওটা নিয়ে গেম খেলা, একই রান্নার একই রেসিপি দেখা, কী করলে রোগা হবেন, হজম শক্তি বাড়বে, কোথায় ধস নামল, কে ছাদে উঠে নাচ্ছে, কে কী গোগ্রাসে খাচ্ছে, আগামী সপ্তাহে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে কি না, সেই নিয়ে কারুর বাতেলা শোনা এসব কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে একটু ভেবে দেখতে পারেন, আপনার পছন্দ হতে পারে এ রকম একটা সিনেমার হলে ঢুকবেন কি না। বিশাল কোনো ক্ষতি হবে না।’

দর্শকদের প্রতি একটি অনুরোধও রেখেছেন অঞ্জন। বলেন, ‘নিজের পছন্দটা ঠিক করতে হবে। আমি লিখছি বলে নয়। আমি একটা প্রস্তাব দিচ্ছি মাত্র। নিজের পছন্দ নির্ধারিত করার। যা চলছে তার মধ্যে কিসসু পছন্দ না হলে ফোনটা নিয়েই থাকুন। কোনো সমস্যা নেই। আমারও বেশির ভাগ সময় হলে যেতে ইচ্ছে করে না। কারণ, আমার কোনোটাই পছন্দ হচ্ছে না। কিন্তু যদি পছন্দ হয় বা ইচ্ছে করে, তাহলে ঢুকে পড়ুন।’
নতুন ছবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের সিনেমার নাম “দেরি হয়ে গেছে”। নামটা শুনে দেরি করে দেখব ভাবলে দেখতে পারবেন না, কারণ দেরি না করেই উঠে যাবে…মমতা শঙ্কর, আমার মতে, তার ইদানীংকালের শ্রেষ্ঠ অভিনয় করেছেন…আমি একটা রবীন্দ্রনাথের গান গেয়েছি শ্রাবণী সেনের সঙ্গে। গপ্পোটা মন্দ নয়।’
শেষে দর্শকদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ‘টেলিফোন বন্ধ করবেন না করবেন না?’

অঞ্জন দত্ত
অঞ্জন দত্ত। ছবি: ফেসবুক থেকে