Friday, December 25, 2015
গ্রেনেডের উপকরণ আসছে দেশের বাইরে থেকে by গোলাম মর্তুজা
![]() |
| নিষ্ক্রিয় করার পরে একটি গ্রেনেডের খোল দেখাচ্ছেন এক কর্মকর্তা। ছবি: প্রথম আলো |
ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, পানির ধাতব (জিআই) পাইপের খোল কেটে মূলত গ্রেনেডের খোল বা বডি তৈরি করছিল। এর ভেতরে বিস্ফোরক ঢুকিয়ে আনুষঙ্গিক বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ভরে তৈরি হচ্ছিল গ্রেনেড। ওই বাড়িতে যে পরিমাণ গ্রেনেড তৈরির সরঞ্জাম মজুত করা হয়েছে তা দিয়ে অন্তত দুশোটি গ্রেনেড তৈরি সম্ভব।
কয়েকজন উর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, মোটা দাগে গ্রেনেডের পাঁচটি অংশ। এগুলো হলো খোল, বিস্ফোরক, সার্কিট, প্রেশার রিলিজ সুইচ ও পিন। স্থানীয় বাজার থেকে সংগৃহীত পাইপ কেটে খোল তৈরি হয়। কয়েক ধরনের বিস্ফোরকও খোলা বাজারেও পাওয়া যায়। তবে এদের ব্যবহৃত বিস্ফোরকগুলো দেশের বাইরেও থেকে আনা বলে মনে হচ্ছে। তবে ব্যবহৃত সার্কিট ও প্রেশার রিলিজ সুইচগুলোও এ দেশে পাওয়া যায় না। সুইচ খোলার পিন এখন জঙ্গিরা নিজেরাই বানাচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানান। পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেডগুলোর পিন স্থানীয়ভাবেই ঝালাই করে তৈরি করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেন, এর আগে একই রকম গ্রেনেড উদ্ধারের পরে জঙ্গিরা জানিয়েছিল নিজেদের জঙ্গি নেটওয়ার্কে পাশের একটি দেশ থেকে তারা এসব সার্কিট ও প্রেশার রিলিজ সুইচ সংগ্রহ করছেন। আগে বিভিন্ন সময় উদ্ধার করা গ্রেনেডেও একই ধরনের সার্কিট ও প্রেশার রিলিজ সুইচ ব্যবহার করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, গতকাল মিরপুর থেকে উদ্ধার করা প্রতিটি গ্রেনেডে একটি করে নম্বর বসানো ছিল। এসব গ্রেনেড দিয়ে জঙ্গিরা রাজধানী ও এর আশপাশে গির্জায় ও মাজারে হামলার পরিকল্পনা করছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করলে সবকিছু জানা যাবে।
এই ঘটনায় আজ রাজধানীর শাহ আলী থানায় ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ৩৬।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লাহোরে শরিফকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন মোদি
শুক্রবার কাবুল থেকেই আচমকা ঘোষণা করলেন, সরাসরি দিল্লি নয়, ফিরবেন লাহোর হয়ে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের জন্মদিন শুক্রবার। শরিফকে এই বিশেষ দিনের শুভেচ্ছা জানাতেই লাহোর বিমানবন্দরের রানওয়ে ছোঁয় মোদির বিমান।
নওয়াজ শরিফের এ দিন ৬৬ বছর বয়স হলো। সকালেই মোদি ফোন করে নওয়াজকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। তার পর কাবুলে ঠাসা কর্মসূচি ছিল তার। আফগান পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় পাকিস্তানের উদ্দেশে নাম না করে কড়া বার্তাও দেন মোদি। আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক অনেকে চায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভাষণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নরেন্দ্র মোদর টুইট, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে কথা বললাম, তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালাম।’’ এই টুইটের এক মিনিট পরই আবার টুইট করেন মোদি। লেখেন, ‘‘আজ বিকেলে লাহোরে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দিল্লি ফেরার পথে আমি সেখানে নামব।’’
জন্মদিন উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গেই রয়েছেন নওয়াজ। ইসলামাবাদ ছেড়ে তিনি এ দিন পৈতৃক বাড়ি লাহোরে ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মোদির এটাই প্রথম পাকিস্তান সফর। শুধু তাই নয়, ১২ বছর পর কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পা রাখছেন পাকিস্তানের মাটিতে। ২০১৬-তে মোদির পাকিস্তান সফর নির্ধারিত হয়েছিল আগেই। তবে তার আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিমান পাক বিমানবন্দরের রানওয়েতে নামলেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। টুইটারে সুষমা লেখেন, ‘‘এই হলো প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক। প্রতিবেশীদের সঙ্গে এই রকমই সম্পর্ক হওয়া উচিত।’’
তবে কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। মোদি ভারতের পররাষ্টনীতিকে হাস্যকর করে তুলছেন বলে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মণীশ তিওয়ারি মন্তব্য করেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নৃশংসভাবে সাংবাদিককে হত্যা
পুলিশ বলছে, হাতুড়ি বা এ-জাতীয় ভারী বস্তু দিয়ে পিটিয়ে মসিউরকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মাদক ব্যবসা নিয়ে লেখালেখির কারণে তিনি খুন হয়ে থাকতে পারেন বলে পুলিশ ও সহকর্মীদের ধারণা। স্থানীয় সাংবাদিকেরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
৩২ বছর বয়সী মসিউর রহমান রংপুর শহরের পীরপুর এলাকার শামসুল হুদা মণ্ডলের ছেলে। তাঁর স্ত্রী ও দেড় বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। তিনি স্থানীয় যুগের আলো পত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। প্রায় দুই বছর আগে পত্রিকাটিতে যোগ দেন মসিউর। এর আগে ২০০৭ সালে দৈনিক পরিবেশ নামে আরেক স্থানীয় পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতা শুরু। তিনি উৎস রহমান নামে লিখতেন।
পুলিশ ও সহকর্মী সূত্রে জানা যায়, মসিউর একটি দাওয়াতের কথা বলে গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে পত্রিকা কার্যালয় থেকে মোটরসাইকেলযোগে বের হন। তিনি এক ঘণ্টার জন্য বেরোনোর কথা বললেও পরে আর ফেরেননি। কর্মস্থল ও পরিবারের পক্ষ থেকে রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান মেলেনি। পরে গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাছে শেখপাড়া এলাকায় মসিউরের লাশ পাওয়া যায়। গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধা লাশ দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। থানায় লাশটি শনাক্ত করেন স্ত্রী তহমিনা বেগম।
থানায় শোকে মুহ্যমান তহমিনা বলছিলেন, ‘আমার সন্তান আর কাকে বাবা বলে ডাকবে। আমি কাকে নিয়ে বাঁচব।’ নিহত সাংবাদিকের বাবা শামসুল হুদা বলেন, ‘মানুষ এভাবে মানুষকে খুন করতে পারে! আমার ছেলের মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।’
কী কারণে এই নৃশংস খুন, তা বুঝে উঠতে পারছে না পরিবারটি। সহকর্মীরাও অন্ধকারে। যুগের আলো পত্রিকার বার্তা সম্পাদক আবু তালেব বলেন, ‘কী কারণে মসিউরকে হত্যা করা হলো, তা ভেবে উঠতে পারছি না। তবে অতিসম্প্রতি তিনি মাদক-সংক্রান্ত কয়েকটি প্রতিবেদন করেছিলেন। এর পর থেকে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলেন মসিউর।’ প্রসঙ্গত, গতকালও যুগের আলো পত্রিকায় মাদক নিয়ে তাঁর লেখা একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
রংপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদের জিলানী বলেন, পুলিশ গাছে বাঁধা অবস্থায় মসিউরের লাশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গতকাল সন্ধ্যায় মসিউরের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রাত আটটায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এশার নামাজের পর পীরপুর জামে মসজিদে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছিল।
আন্দোলনে সাংবাদিকেরা: এদিকে সাংবাদিক মসিউর হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন রংপুরের সাংবাদিকেরা। গতকাল বিকেল চারটায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের প্রধান সড়কে সিটি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে মানববন্ধন করা হয়। এ সময় বক্তব্য দেন একুশে টিভির সাংবাদিক লিয়াকত আলী, এনটিভির মইনুল ইসলাম, যুগের আলোর আফজাল হোসেন প্রমুখ। বক্তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।
এ ছাড়া রংপুর জেলা ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন গতকাল থেকে তিন দিনব্যাপী কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি শুরু করেছে বলে সংগঠনের সভাপতি জাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন। আর রংপুরের সাংবাদিক সমাজ কাল শনিবার রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফ এ তথ্য জানিয়েছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বার্মিংহামের প্রাচীন কোরআন ‘প্রথম খলিফা আবু বকর (রাঃ) এর’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এক যে ছিল ফেসবুক by পিয়াস মজিদ
দুই. বন্ধুমহলে শর্মির নাম ‘সেলফিশর্মি’। অফিশিয়াল কিংবা পারিবারিক যে অনুষ্ঠানই হোক, সবার আগে তার সেলফি তোলা চাই। কদিন আগে বন্ধুরা মিলে কক্সবাজারে গেল ঘুরতে। ইরা, পিঙ্কি, মেঘলা—সবাই ঝিনুক কুড়াচ্ছিল সাগরবেলায়। সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ না করেই সমুদ্রের নানা বিভঙ্গে নিজেকে বন্দী করতে ব্যস্ত আমাদের শর্মি। ঢেউভীতি আছে তার। হঠাৎ এক জোর-ঢেউয়ের ধাক্কায় তাল না রাখতে পেরে কদিন আগে কেনা দামি মোবাইলটির সলিলসমাধি ঘটাল সে। এ নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ লক্ষ করা গেল না; বরং মোবাইলটির ডুবে-ভেসে ক্রমশ নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার দৃশ্যের সঙ্গে পারলে সে যেন একটা সেলফি তুলতে চায়—এমন অবস্থা। এহেন শর্মি এই হালকা শীতের প্রথম ভাগে অফিসের পিকনিকে এসে সম্পূর্ণ আশাহত। না না, আয়োজনের কোনো ঘাটতি বা অন্য কিছু নয়। হঠাৎ ফেসবুক বন্ধ হওয়ায় সে কোনো সেলফিই আপলোড দিতে পারছিল না। ঢাকা থেকে তারা যাচ্ছে সোনারগাঁ। অন্যদিন হলে বাসে উঠতে গিয়ে সেলফি দিত এফবিতে। বাসের সদ্য পাওয়া সিটটার সঙ্গে তাকে কেমন মানিয়েছে, সেটাও জানান দিত তার সাম্প্রতিকতম ছবি। বাসে বসে নাশতা খাওয়ার বাহারি ছবি, বাস থেকে নেমে পানামনগরের দালানকোঠা কিংবা লোকশিল্প জাদুঘরের ঐতিহ্যবাহী সংগ্রহ—কোনো কিছুই বাদ যেত না শর্মির সেলফি-আগ্রাসন থেকে। তবে এর মধ্যেও ছবি সে তুলছে। জমিয়ে রাখছে। ফেসবুক খুললেই অ্যালবাম আকারে সেলফিসমগ্র ঢালা হবে। কিন্তু একটা সিঙ্গেল ছবিকে ঘিরে আলাদাভাবে কোনো আলোচনা হবে না ভেবে ভীষণ বিষণ্ন শর্মি। ছবি তোলার গতিতে তাই আজ কিছুটা ক্ষান্তি দিয়ে শর্মি চারপাশের গাছপালা, নদী-নালা আর ওপরের আকাশটা ভালো করে দেখল। হঠাৎই তার মনে পড়ল, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কোনো এক ফটোগ্রাফিক সোসাইটির বিজ্ঞাপনে সাঁটা বিনয় মজুমদারের সেই কবিতা—‘আরও কিছু দৃশ্যাবলি দেখেছি জীবিতকালে যারা চিত্রায়িত হতে পারতো’। আজ সেলফি তোলার শ্লথ গতিতে শর্মি হঠাৎ ভাবার সুযোগ পেল, এত সুন্দর সকাল-দুপুরময়, নিসর্গ-মানুষময় পৃথিবীর কতটুকুই আসে সেলফি কিংবা যেকোনো আলোকচিত্রে! সেলফির মোহে পড়ে সে নিজের মনের ক্যামেরাটা এত দিন যেন নিজের অজান্তেই বন্ধ রেখেছিল। আজ ফেসবুক বন্ধ হওয়ার সুবাদে সেটা খোলার সুযোগ পেল যেন। সেলফি কিংবা ফেসবুক তো চলে গিয়েই ফিরে আসবে, কিন্তু এই যে নদীর জলের কাঁপন, পাখির কলতান, বাতাসের নাচন, সৌন্দর্যে ভরা এই মুহূর্তেরা তো আর ফিরে আসবে না। ফেসবুকের ছুটি কাটানোর সুযোগে এক অনন্য অনুভবের মুখোমুখি হয়ে আনশিডিউলি ভালোলাগায় ভরে গেল শর্মির মন।
তিন. স্ট্যাটাস সুমন। স্ট্যাটাস তো অনেকেই দেয় ফেসবুকে। তবে সুমনকে কেন এই বিশেষ বিশেষণে ভূষিত করা? কেউ কেউ আবার সুমনের স্ট্যাটাস দেওয়াকে ব্যঙ্গ করে ওর ওয়ালে লেখে, ‘আমার কোনো স্ট্যাটাস নেই, সুমনের আছে।’ কথাটা শুনে হাসি পেলেও সুমনের নামের আগে ‘স্ট্যাটাস’ শব্দ যোগ হওয়ার একটা বাস্তব ভিত্তি নিশ্চয়ই আছে। সুমনের সকালের আলো ফোটে ফেসবুকের পাতায়। ঘুম থেকে উঠেই সুমনের প্রথম স্ট্যাটাস, ‘শুভ সকাল। জীবনের আরেকটা সকাল তবে শুরু...’
এরপর হয়তো মা নাশতা খেতে ডাকছে। দ্বিতীয় স্ট্যাটাস, ‘যাই, নাশতা খাব—পরোটা, ভাজি, হালুয়া।’ আর ফেসবুক বন্ধুরা একটু ভাগ্যবান হলে প্রভাতি এই স্ট্যাটাসের সঙ্গে নাশতার চেহারা-ছবিও দেখে উঠতে পারেন। একটু পরে মুভি দেখতে শুরু করে সুমন। কিছুক্ষণ দেখার পর তার স্ট্যাটাস, ‘প্রেম কেন বিপন্ন ছবিটা দেখছি। নায়িকার এক্সপ্রেশন ভালো না। নায়কের ডায়ালগ মোটের ওপর। ছবির স্টোরিটা এককথায় বোগাস।’ তার এই স্ট্যাটাস নিয়ে ফিল্মবোদ্ধা বন্ধুরা কিছুক্ষণ বাদানুবাদে ব্যস্ত রইল। হঠাৎ সুমনের মনে হলো, একটু বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এই ইস্যুটাকে। নতুন কিছু দরকার। তাই স্ট্যাটাসে নতুন এক কমেন্ট দিল, ‘এনাফ ইজ এনাফ। এই বিষয়টা এখানেই শেষ হলো।’ কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হলো। চেক ইন দিল ফেসবুকে, ‘নাউ ইন তরঙ্গ বাস।’ পাবলিক বাসে যাত্রী-কন্ডাক্টর ভাড়া নিয়ে গন্ডগোল, সিটে বসা কিংবা দাঁড়ানো; এইসবের মাঝেই সিট না পাওয়া সুমন স্ট্যাটাস আকারে লিখে ফেলল নগর ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে এক নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানটিনে গিয়ে কফিতে চুমুক দিয়ে কাপযুক্ত সচিত্র স্ট্যাটাস, ‘কফিটা দারুণ ছিল কিন্তু!’
তারপর ক্লাসে বসে নতুন স্ট্যাটাস, ‘টিউটোরিয়াল-ক্লাস টেস্ট-নোট-ল্যাব ইত্যাদি ইত্যাদি...এই শিক্ষাব্যবস্থা নিয়া আমরা কী করিব?’ এবার তার স্ট্যাটাসে হামলে পড়ল শিক্ষানুরাগী বন্ধুবান্ধব। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরতি পথে পুরান ঢাকায় গিয়ে নান্নার মোরগ-পোলাও খেতে খেতে যথারীতি মোরগ-পোলাও এবং আনুষঙ্গিক খাবার নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দিল। স্ট্যাটাসে জনৈক ভোজনরসিক বন্ধুর কমেন্ট, ‘সুমন, মোরগ-পোলাও যখন খেয়েছিস, তখন বেচারাম দেউড়ি থেকে জনসন রোডে গিয়ে বিউটির ফালুদা খেয়ে আসলে মন্দ হতো না।’ তারপর আবার সুমনের স্ট্যাটাস—নতুন ও পুরান ঢাকার ফালুদার তুলনামূলক পর্যালোচনাবিষয়ক। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক ফালুদার ফলে কী পরিমাণ ফরমালিন থাকে, সে বিষয়ে একটা পরিসংখ্যানও দেওয়া গেল। যা হোক, খানাপিনার পর্ব পেরিয়ে বাসায় গিয়ে একটু ঘুম দিল। ঘুম থেকে জেগেই স্ট্যাটাস-বিরহের অনলে পুড়তে লাগল সুমন। পরমুহূর্তে স্ট্যাটাস, ‘দিবানিদ্রা স্বাস্থ্যের পক্ষে লাভজনক নাকি ক্ষতিকর? বন্ধুরা কী বলেন?’ এই স্ট্যাটাস দিতে দিতে ফোনে কথা হলো শিলুর সঙ্গে, ‘তুমি আছ তোমার স্ট্যাটাস আপডেট নিয়ে। শেষ কবে ঘুরতে বেরিয়েছি মনে পড়ে তোমার?’ শিলুর সঙ্গে আজ কোথাও ঘুরতে যাবে কি না, সেই মীমাংসা হওয়ার আগেই স্ট্যাটাস, ‘প্রেমে শুধু পড়লেই হয় না, প্রেমিকার সঙ্গে ঘুরতেও বের হতে হয়।’
স্ট্যাটাস দেখে রেগে শিলুর ফোন, ‘তোমার স্ট্যাটাস আমি বের করছি প্রেমিকপ্রবর। তোমার সঙ্গে এই আমার ব্রেকআপ ঘোষণা করলাম।’ বেচারা সুমনের ব্রেকআপ-পরবর্তী আপডেট, ‘প্রেম করলে ব্রেকআপ ডিক্লারেশন শোনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়।’ এই নিয়ে কিছুক্ষণ যুগপৎ প্রেম ও বিরহ-অভিজ্ঞ বন্ধুবান্ধবের কমেন্ট বিনিময় চলল আগের আপডেটে। তারপর শিলুর বিরহ ভুলতে সন্ধ্যায় দলবেঁধে ঘুরতে গেল মিউজিক ফেস্টে। গিয়ে দেশের সমৃদ্ধ সংগীত ভান্ডার নিয়ে স্ট্যাটাস দিল। তারপর এই ফেস্টিভ্যালের ভালোমন্দ নিয়ে নিজের অভিমত যুক্ত করে সংগীতানুরাগী বন্ধুমহলের ব্যাপক প্রশংসা কুড়াল স্ট্যাটাস সুমন। মিউজিক ফেস্ট থেকে রাত করে বাসায় ফিরল। মা বলল, ‘এই তোর আসার সময় হলো? নে, খেয়ে নে।’ সারা দিনের এত কিছুর পর মায়ের অনাবিল স্নেহঝরা মুখ বিষয়ে একটা নৈতিক স্ট্যাটাস দিতে না দিতেই বাবার হুংকার, ‘সুমন, পড়াশোনা কিছু করছিস? নাকি সারা দিন ফেসবুক আর ফেসবুক?’ বাবার প্রশ্নের সদুত্তর দিতে না পারার দুঃখে নৈশকালীন স্ট্যাটাস, ‘জেনারেশন গ্যাপটা খুব ভয়াবহ। আজকালকার বাবারা বুঝতেই পারে না ছেলের মন।’ যাক, বাবার উত্তর সরাসরি দেওয়া না গেলেও স্ট্যাটাসে তো এক হাত নেওয়া গেল। এরপর ঘুমাতে গিয়ে মশার কামড় খেতে খেতে দিনের শেষ স্ট্যাটাসটি পড়ল ফেসবুকে, ‘মশা জ্বালাচ্ছে বড়। ভালো না লাগলেও মশারি টাঙাতে হবে। নয়তো ডেঙ্গু হবে হয়তো। হায় মশা! হায় ডেঙ্গু!! হায় প্রিয় ঢাকা নগরীর পরিচ্ছন্নতা!!!’
স্ট্যাটাস দিতে দিতে ঘুমিয়ে গিয়ে সুমন স্বপ্ন দেখে কয়েক দিনের জন্য ফেসবুক বন্ধ থাকবে। ফেসবুক বন্ধ থাকলে দেশের কী অবস্থা হতে পারে, এই নিয়ে ঘুমের ঘোরেই একটা স্ট্যাটাসের খসড়া তৈরি করে ফেলল সে। ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠে ফেসবুকবিহীন কয়েক দিনের আশঙ্কাবিষয়ক স্বপ্নে পাওয়া স্ট্যাটাসটি দিতে গিয়ে দেখে কোনোভাবেই আর কাজ করছে না তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। নেট তো আছেই। তাহলে?
পাশের ঘর থেকে বাবার কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার উপক্রম। বাবা মাকে বলছে, ‘শুনছ সুমনের মা? খুব ভালো হলো। কয়েক দিনের জন্য ফেসবুক বন্ধ থাকবে। এইবার যদি তোমার ছেলের মতি ফেরে। সারা দিন খালি ফেসবুক আর ফেসবুক।’ ফেসবুকবিষয়ক বাবার এই বিকৃত বক্তব্য নিয়ে জেনারেশন গ্যাপকেন্দ্রিক একটা শাণিত স্ট্যাটাস দেবে ভাবতেই মনে পড়ল ফেসবুক আপাতত বন্ধ!
চার. বাহাত্তর ঘণ্টা পরে ফেসবুক আবার ফিরে এল। শায়লা, রিমন, শর্মি, সুমনের কী হলো, আমাদের জানা নেই। তবে আমাদের বন্ধু হিমেল সৌরভ এই নিয়ে একটা কবিতাই লিখে ফেলল। বলা বাহুল্য, কবিতাটিতে বহু পূর্বজ কবির প্রভাব থাকলেও বিষয়টা ইউনিক বলে তাকে একটা বাহবা দেওয়াই যায়। কবিতাটি সবার জন্য নিচে দিয়ে দিচ্ছি—
ফেসবুক
মানবের আশ্চর্য আবিষ্কার!
ডিজিটালি কদিন না থেকে
তুমি দিয়ে গেলে
অ্যানালগ বিরহের ধ্রুপদি ধারণা।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অবসরে যাচ্ছেন দাউদ ইব্রাহিম আসছেন আনিস!
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লটারিতে ৪ লাখ ইউরো জিতলেন শরণার্থী
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মেরুদণ্ড সোজা হতে কত দেরি পাঞ্জেরি? by ডক্টর তুহিন মালিক
দুই. নির্বাচন কমিশন যে কতটা উদার এটা কিন্তু কারো চোখে পড়ল না। সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তারা বেশি উদ্বিগ্ন বলে প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের জানায় ইসি। নিজেদের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারাটা চাট্টিখানি কথা নয়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ইসির ভাবমূর্তির ‘ভাব’ আর ‘মূর্তি’ যেভাবে হারিয়ে গেছে তা পুনরুদ্ধারের অযথা চেষ্টা না করে বরং সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ায় দোষটা কিসের? সুশীলসমাজ খামাখা বলে যে, ইসি একটা সাংবিধানিক পদ ও সংবিধান প্রদত্ত সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। নিজের সর্বময় ক্ষমতা প্রয়োগ না করে নির্বাচনী প্রতিযোগিতার অভিযুক্ত আরেকটি দলের সভানেত্রীর কাছে এহেন আত্মসমর্পণ স্পষ্টত সংবিধান লঙ্ঘন। অযথা ইসির কমিশনারদের সাংবিধানিক শপথের কথাগুলো মনে করিয়ে দিয়ে কেন এভাবে বিব্রত করা হচ্ছে? কমিশনাররা কোনো ধরনের রাগ, ভয়, লোভ, অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী না হয়ে নির্বাচন কমিশনারের মতো সাংবিধানিক একটি পদে দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়েছেন সত্য, কিন্তু তাই বলে এত দিন পর কেন ‘সাংবিধানিক দোহাই’ দেয়া হচ্ছে? তাও আবার সংবিধান লঙ্ঘনের মতো মৃত্যুদণ্ডতুল্য অপরাধের কথা এভাবে প্রকাশ্যে বলতে হবে? ওরে বাবা, দণ্ডহীনতার জন্য মৃত্যুদণ্ড? এ আবার কেমন আইন? পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করে এ দণ্ড যদিও আরোপ করা হয়ে থাকে, তবু এটা নিশ্চিতভাবেই নির্বাচন কমিশন বা সরকারি দলের জন্য প্রযোজ্য নয়, সেটা কি সুশীলরা জানে না?
তিন. সংবিধান না হয় ইসিকে সর্বময় ক্ষমতা অর্পণ করেছে, তাই বলে ইসিকে এত চাপ দিলেই কি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়ে যাবে? যার জন্য করি চুরি সেই বলে চোর। সরকারি দলের হানিফ সাহেব বলছেন, ‘নির্বাচন কমিশন বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল, সরকারি দলের প্রতি কঠোর।’ আর এ দিকে বিএনপিও বলছে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের দলীয় সংগঠন। অথচ নির্বাচন কমিশন এত কষ্ট করে মাঠপর্যায়ে যেসব তদন্ত চালাচ্ছে তার ফল যদি বিএনপির প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চলে যায় তার জন্য ইসি কেন দোষী হবে? সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের সামাল দেয়ার কথা মুখে বললেই হলো, সামাল দেয়া তো দূরের কথা একটু সালাম না দিয়ে দেখুন, অবস্থা কী দাঁড়ায়! তারপরও কেন বলা হচ্ছে, কমিশনের কাছে এত সর্বময় ক্ষমতা ও যথেষ্ট আইন থাকা সত্ত্বেও সেটার প্রয়োগ করা হচ্ছে না? ফেনী, চাঁদপুর, সিলেট, শরীয়তপুর, কুমিল্লাসহ অসংখ্য পৌরসভায় বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র নিয়মবহির্ভূতভাবে বাতিল কি ইসি নিজেদের স্বার্থে করেছে? সরকারি দলের লোকজনের চাপও যে তাদেরকেই সইতে হয়। এটার জন্য তো কেউ তাদের কোনো প্রশংসা করে না। আইনে আছে পৌরসভার নির্বাচন করতে হলে মনোনয়নপত্র জমার আগে উপজেলা থেকে পদত্যাগ করতে হবে। এই অপরাধে নির্বাচন কমিশন আমিনুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলেও আবুলকে তো বরখাস্ত করেছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতে পারলেও ভোট গ্রহণ, ভোট গণনা, ব্যালট ছিনতাই, নির্বাচনী সহিংসতা, প্রার্থী হতাহতের বিষয়ে কিভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে, সেটা নিয়ে এত আগে ভাবতে কে বলেছে? এত টেনশন কেন? নির্বাচনের সময় ঠিকই দেখতে পারবেন ৪ শতাংশ ভোট কী করে ৪০ শতাংশ হয়ে যায়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ-নিরপেক্ষ ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ বিটিভিতে ঠিকই দেখতে পাবেন আপনারা। এবার সাংবাদিকেরা ভোটারশূন্য ভোটকেন্দ্রে কুকুরের ছবি যাতে ছাপতে না পারেন তার জন্য ‘জনস্বার্থে’ ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে দেয়া হয়েছে। জনগণ ঘরে বসেই আরামে ভোটের সব খবরাখবর জানতে পারবে বিটিভি আর দলীয় নেতাদের চ্যানেলগুলোতে।
চার. নির্বাচন কমিশন তো ‘কঠোর’ ব্যবস্থা নিয়েছেই। সাতক্ষীরার কলারোয়ার রিটার্নিং অফিসারকে সাময়িক বরখাস্ত পর্যন্ত করা হয়েছে। অথচ বলা হচ্ছে ‘অনিয়ম প্রশ্রয় দেয়ায় এই কর্মকর্তাকে শাস্তি দিলেও অনিয়মের সুবিধাভোগী সরকারদলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’ নির্বাচন পরিচালনাবিধির ৯০ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে কমিশন তাৎক্ষণিক ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে বলা হলেও এটা যে করতেই হবে, সেটা কে বলল? রিটার্নিং অফিসারকে বরখাস্ত কি অনিয়মের প্রমাণ হতে পারে? এত আইন-কানুন দেখালে তো আর শান্তিমতো ‘দায়িত্ব পালন’ করা যাবে না। আর আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর তথ্যমন্ত্রীর মতো ভিআইপিদের বিরুদ্ধে উঠলেই কি আর ব্যবস্থা নেয়া যায়? জনগণ কি দেখে না ময়মনসিংহের ফুলপুরের রিটার্নিং অফিসার সুন্দর করে প্রতিবেদন লিখে দিলেন যে, ‘দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।’ শুধু দুদক একাই কেন দায়মুক্তির প্রতিষ্ঠান হবে? নির্বাচন কমিশনেরও অধিকার আছে দুদকের এই রেকর্ডে ভাগ বসানোর। তাই ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ চিন্তা না করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত মন্ত্রী-এমপিদের দায়মুক্তি দিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ক্ষমতাসীন দলের তিন এমপির আচরণবিধি লঙ্ঘনের অপরাধও ক্ষমা করে দিয়েছে ইসি। এর আগে তথ্য ও ধর্মমন্ত্রীকেও ‘মানবিক কারণে’ ক্ষমা করে দেয় তারা। অথচ তাদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান আছে। প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও আছে ইসির। আর চাঁদপুরের ছেংগারচরের রিটার্নিং অফিসার না হয় বিএনপি প্রার্থীর শিক্ষাসনদ ছিঁড়ে দিয়ে মনোনয়নপত্রকে বাতিল করেছে, তাতে এমন কী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তন হয়ে গেল? স্থানীয় নির্বাচনে কি ক্ষমতার বদল হয়?
পাঁচ. বর্তমান নির্বাচন কমিশন এবং প্রধানমন্ত্রীর অধীনে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি যদি যেত তাহলে এ রকমই যে অবস্থা হতো এটা কিন্তু ভাবা ঠিক নয়। জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতা পরিবর্তন হয় বলে এর চেয়ে আরো বেশি ভয়াবহ অবস্থা হতো বলে কেন অযথা ভয় দেখাচ্ছেন? তা ছাড়া এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে গত বছরের উপজেলা নির্বাচন এবং এ বছরের ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ইসির সমালোচনা করেই বা কে কী করতে পেরেছে? ইসি নিজেদের পর্যাপ্ত জনবলকে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের বদলে জনপ্রশাসনের লোকদের রিটার্নিং অফিসার বানিয়ে কি অপরাধ করেছে? জনপ্রশাসনের নিয়োগ, বদলি বা পদোন্নতিসহ চাকরির সব শর্ত সরকার নিয়ন্ত্রণ করলে ইসির কথা তারা শুনবেই বা কেন? পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কথা না শুনে কি ইসির কথা শুনবে? তা ছাড়া জনপ্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে শাস্তি দিতে চাইলেই তো আর শাস্তি দেয়া যাবে না। খুব বেশি হলে ইসি তাদেরকে প্রত্যাহার করতে পারবে। বড় শাস্তি দিতে হলে তো সরকারের সমর্থন লাগবে। আর সরকার নিজের ক্ষতি করে নিজের কর্মকর্তাকে শাস্তিই বা কেন দিতে যাবে? কাগজে কলমে নির্বাচন কমিশন পরাশক্তি হলেও বর্তমান ইসি যে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতোই সরকারের ‘চাকরি’ করে চলেছে, সেই কমিশনাররা বিশ্বাস করলেও আপনারা কেন বিশ্বাস করতে চাচ্ছেন না? এরশাদ সাহেব বলেছেন, সকাল ৯টার মধ্যেই ভোট শেষ হয়ে যাবে। বিএনপি জানতে চেয়েছে, এটা প্রধানমন্ত্রীর বার্তা কি না? এরশাদ সাহেব তো প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। তার মানে তিনি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তাবাহক। তার কথা তো আর ফেলনা হওয়ার নয়। বার্তাবাহক তো নিজে থেকে কোনো কথা বলতে পারেন না। আসলে এরশাদ সাহেব মনের দুঃখেই এই রকম কথা বলে থাকেন। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তাকে যেভাবে সিএমএইচে বন্দী করে গলফ খেলানো হলো সেই একই প্রক্রিয়ায় এবারের নির্বাচনেও ১৫০টি পৌরসভায় জাতীয় পার্টি প্রার্থী দেয়ার পরও ১০০টিতে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হলো। তাই এরশাদ সাহেবের শারীরিক ও মানসিক অবস্থাটাও বিবেচনাযোগ্য হওয়া উচিত।
ছয়. ইতোমধ্যেই দুই ডজনেরও বেশি পৌরসভায় প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী সস্ত্রীক হামলার শিকার হয়েছেন। নির্বাচনী সহিংসতায় মাটিরাঙ্গায় বিএনপি নেতাসহ একাধিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে। বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, চাপাতি, হাতুড়ি নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। সরকারদলীয়দের হাতেই মার খাচ্ছে দলীয় বিদ্রোহীরা। আবার বিদ্রোহীরাও সমানে পিটাচ্ছে দলীয় প্রার্থী-সমর্থকদের। কুষ্টিয়ায় আওয়ামী কোন্দলে দলীয় প্রার্থীকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়েছে। চৌদ্দগ্রামে আওয়ামী দুই পক্ষের সংঘর্ষে গাড়ি ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। সোনারগাঁওয়ে দলীয় সংঘর্ষে একজন মারা গেছে। অথচ পুলিশ এখনো নির্বিচারে বিএনপি-জামায়াতের লোকজনকেই গ্রেফতার করে যাচ্ছে। বিএনপি দলবল নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সেনা মোতায়েনের দাবি জানালে সিইসি তাৎক্ষণিকভাবে দাবি প্রত্যাখ্যান করলেন। সেনা মোতায়েন করা হলে দলীয় সেনাদের কী হবে? মাঠে সেনাবাহিনী নেমে গেলে কখন কী ঘটে যায়, এর দায়ই বা কে নিতে যাবে? ইসির মেরুদণ্ড নেই তো কী হয়েছে? শুধু নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ হলেই কি সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে? প্রশাসন-পুলিশ-র্যাব কি বিএনপির পক্ষে? ইসি কি একাই মেরুদণ্ডহীন? স্বয়ং দেশের রাষ্ট্রপতিও তো ক্ষমতাহীন। দেশ গণতন্ত্রহীন। অর্থনীতি বিনিয়োগহীন। র্যাব-পুলিশ বাধাহীন। মানুষ নিরাপত্তাহীন। সরকার ভোটবিহীন। বিরোধীরা আন্দোলনহীন। মজলুমরা বিচারহীন। দুর্নীতি সীমাহীন। সুশীলরা প্রতিবাদহীন। জনগণ গুরুত্বহীন। তাই সর্বক্ষেত্রেই এখন একই প্রত্যাশা, মেরুদণ্ড সোজা হতে কত দেরি পাঞ্জেরি?
লেখক : সুপ্রিম কোর্টের আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ
e-mail: drtuhinmalik@hotmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সন্ত্রাসী ও অপরাধীর মধ্যে পার্থক্য কী?
তাহলে ‘সন্ত্রাসী’ বা সাধারণ অপরাধী হলে কি কোনো লাভ আছে? আমার মনে হয়, এটা নির্ভর করে আপনার জীবনের মূল্য কতটা। ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত আইএস যোদ্ধা রেয়াদ খান ও রুহুল আমিন যে ড্রোন হামলায় নিহত হলেন, তাঁদের যে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল, তা মারাত্মক প্রমাণিত হয়েছে। তাঁদের মৃত্যু আসলে মৃত্যু নয়, হত্যাকাণ্ড, যেটা ডেভিড ক্যামেরনের মতে, ‘যুক্তরাজ্যের ব্যক্তির নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ও যথাযথ’ ছিল। তাঁরা ব্রিটেনে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিলেন। অন্য কথায় বললে, ডেভ তো আর লেস্টারে স্কুলছাত্রদের খুনিকে মারার জন্য ড্রোন হামলার আদেশ দিতেন না, বা লন্ডনের পূর্বাঞ্চলের কাউকে মারার জন্য তিনি হামলার নির্দেশ দিতেন না, এমনকি তাঁরা যদি ব্রিটেনে হামলার পরিকল্পনা করেও থাকেন। তারপরও এই অপরাধী/সন্ত্রাসী দ্বি-বিভাজন চলছেই। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের বিরোধীরা সর্বশেষ দাবি করেছেন, বাশার আইএসের চেয়েও বড় সন্ত্রাসী। কারণ, তিনি এই ইসলামি গোষ্ঠীর চেয়ে বেশি মানুষ হত্যা করেছেন (চ্যানেল ফোর–এর ভাষ্য অনুসারে, আইএসের চেয়ে ছয় গুণ বেশি মানুষ)। এতে বোঝা যায়, আপনার হাতে কত মানুষ মরল, তার সংখ্যা দিয়েই নির্ধারণ করা হবে আপনি সন্ত্রাসী নাকি অপরাধী। অথবা এর মাজেজা এ রকম হতে পারে যেকোনো ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীর খুনের আকাঙ্ক্ষা যদি ‘পরিমিত’ হয়, তাহলে তারা অত ভয়ংকর নয়, যাদের বন্দুকের নলে বেশি খাঁজ আছে, তাদের তুলনায়। কিন্তু পাঠক, ক্ষণিকের জন্য দাঁড়ান। বাশারের বিরোধীদের কথার যৌক্তিক সারসংক্ষেপ দাঁড় করালে আমাদের এই সিদ্ধান্তে আসতে হবে যে বুশ ও ব্লেয়ার আইএস ও বাশারের চেয়ে বেশি বেসামরিক মানুষ হত্যা করেছেন। ২০০৩ সালে অবৈধভাবে ইরাক আগ্রাসন করে তাঁরা এ কাজ করেছেন। তাহলে বুশ ও ব্লেয়ারকে কি অতি-সন্ত্রাসী আখ্যা দেবেন, নাকি শুধু অপরাধী হিসেবে? যদিও তাঁরা যুদ্ধাপরাধী হিসেবেও আখ্যায়িত হতে পারেন, যাঁদের হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে তোলা যেতে পারে। তাঁরা কিন্তু ড্রোন হামলার আশঙ্কা থেকে একেবারেই মুক্ত, আর তাঁদের কখনোই ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া হবে না।
দ্য ইনডিপেনডেন্ট থেকে নেওয়া
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন
রবার্ট ফিস্ক: দ্য ইনডিপেনডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় হোক
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শক্ত-সোজা মেরুদণ্ড! আছে? নাকি নেই? by গোলাম মাওলা রনি
২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এসে হঠাৎ করেই মেরুদণ্ডের কথা মনে হলো ভিন্ন একটি কারণে। দেশে এখন পৌর নির্বাচনের মওসুম চলছে। প্রায় পৌনে তিন শ’ পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে সারা দেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কয়েকটি পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত গিনেস বুকে রেকর্ড লাভের জন্য বিরাট কিছু করে ফেলার হম্বিতম্বি এবং তাদের অতীত ইতিহাসের জ্বালাময়ী দৃষ্টান্ত বিবেচনায় মনে হচ্ছে আমরা হয়তো নির্বাচন নামক যত রঙ, ঢঙ ও সঙ সৃষ্টি হয়েছে তা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান তো দূরের কথা, দেশের প্রথিতযশা নাট্যকার, অভিনেতা ও কলাকুশলীরাও করতে পারেননি। দেশের সবচেয়ে বড় কমতি, সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি, সবচেয়ে বড় প্রহসন, সবচেয়ে বড় উত্তেজনাকর দৃশ্য, সবচেয়ে সাঙ্ঘাতিক আপত্তিকর দৃশ্য এবং সবচেয়ে বড় কলিজা কাঁপানো ভয়ঙ্কর দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে লাল ইটের তৈরি ওই নির্বাচন কমিশন ভবন থেকেই।
বিগত ৩৫ বছরে বাংলাদেশে বহু অঘটন ঘটেছে। বহু অঘটনের নায়ক-নায়িকার কথা আমরা জানি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের লোকজনকে কেউ টেক্কা দিতে পারেনি। আজো সাদেক আলী মার্কা নির্বাচন, মাগুরা এবং ঢাকার তেজগাঁও মার্কা নির্বাচন, আজিজ মার্কা ব্যক্তিত্ব, মাহফুজ মার্কা নির্বাচন ও সাইদ মার্কা দুষ্টের দলের পালিয়ে যাওয়ার কীর্তি কাহিনী ও উপাখ্যানকে কেউ টেক্কা দিতে পারেনি। অতীতের সেসব সফলতার ধারাবাহিকতায় বর্তমান কমিশন আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে মেরুদণ্ডের শক্ত-সোজা এবং বাঁকা থেরাপির তত্ত্ব বাস্তবায়নের জন্য। আজ যদি কাউকে প্রশ্ন করা হয়- এই কাজ করার জন্য আপনার মেরুদণ্ড আছে কি? তবে লোকটি একটুও বিব্রত না হয়ে জনৈক বর্তমান নির্বাচন কমিশনারের মতো দাঁড়িয়ে যাবেন। তারপর বলবে- এই দেখুন! আমি দাঁড়িয়েছি- আমার মেরুদণ্ড আছে। ‘লোকটির কথা শুনিয়া যদি আপনার হাস্য করিবার হাজত চাপিয়া বসে তাহা হইলে মহাত্মন হয়তো মনে করিবেন- আপনি তাহার মেরুদণ্ড সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করিয়াছেন। এ অবস্থায় আপনার বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করিবার জন্য তিনি হয়তো আপনার হাতখানা টানিয়া লইয়া নিজের শিরদাঁড়ার ওপর রাখিবেন এবং আপনার হুকুম মোতাবেক মাথা সামনে-পেছনে, ডানে ও বামে নোয়াইয়া প্রমাণের চেষ্টা করিবেন- ওগুলো হুকুম মোতাবেক বাঁকা করা যায় এবং বাঁকা করিতে গিয়া মহাত্মনের শরীরে একটুও বেদনা অনুভব হয় না।’
আজকের শিরোনামটি মূলত বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কার্যাবলি পর্যালোচনার জন্যই নির্বাচন করা হয়েছে। বাংলাদেশে এযাবৎকালে যতবার নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে তার মধ্যে বর্তমান কমিশন সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে একটি অসহনীয় নাজুক ও বিব্রতকর সময় পার করছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন, পরবর্তীকালের উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন যে মন্দ নজির স্থাপন করেছে, তা হয়তো সাম্প্রতিককালে অনুষ্ঠিতব্য পৌর নির্বাচনের ফলাফল দ্বারা ষোলকলা পূর্ণ করবে। তাদের কথাবার্তা, আচার-আচরণ এবং কর্মের জন্যই দিনকে দিন নির্বাচন নিয়ে মানুষের অস্থিরতা, হতাশা ও আশঙ্কার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কতটুকু নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তা নিয়ে সর্বমহলেই কানাঘুষা শুরু হয়েছে। সবারই এক কথা- বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ডের শক্তির রিমোট কন্ট্রোলটি তাদের হাতে নেই। সাম্প্রতিককালে তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সহযোগিতা চাওয়ার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো বিরাট এক সিল-ছাপ্পর মেরে প্রমাণ করে দিলেন- ‘ইহা সত্য বটে। ইহাতে মিথ্যার লেশমাত্র নাই।’
বিরোধী দল জোরগলায় অভিযোগ তুলে বলেছে- বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি অথর্ব প্রতিষ্ঠান। সরকারি দলের প্রার্থীদের বিনা ভোটে জয় লাভ করিয়ে আনার জন্য যত ফন্দিফিকির ও ছলাকলার আয়োজন, সেগুলো ছাড়া কমিশন কর্তাদের অন্য কোনো যোগ্যতা নেই। তারা যে মেরুদণ্ডহীন এবং তাদের যে কোনোই ক্ষমতা নেই, তা আরেকবার প্রমাণিত হলো কমিশন কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চাওয়ার মাধ্যমে। জাতীয় পার্টির সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বেশ দৃঢ়তার সাথেই বলেছেন, এবারের নির্বাচনে সকাল ৯টার মধ্যেই ভোট গ্রহণ শেষ হয়ে যাবে। বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো কোনো কেন্দ্রে দুপুর পর্যন্ত ভোট চললেও বেশির ভাগ কেন্দ্রে সকাল ১০টার মধ্যেই ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছিল। অভিযোগ ছিল- ভোটের ফলাফল তৈরি করে আগের রাতেই রাখা হয়েছিল। ভোটের দিন বিকেলে সেই ফলাফলপত্রে স্বাক্ষর করা হয় এবং সে মতে ব্যালট বাক্স ভরা হয়।
বিরোধী দল যেমন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উত্থাপন করে চলেছে, তেমনি সরকারি দলও কিন্তু বসে নেই। তারাও এবার বিভিন্ন কারণে নির্বাচন কমিশনের ওপর নাখোশ। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চাওয়াকে এক ধরনের নির্বুদ্ধিতা এবং সরকারের জন্য বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেছেন সরকারি দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। একান্ত আলাপচারিতায় অনেকেই আক্ষেপ করে বলেছেন, পর্যাপ্ত মেধা, দক্ষতা, সাহস ও কৌশল জানা না থাকলে দালালিও করা যায় না। অথর্ব লোক যদি সরকারের দালালি শুরু করে তবে পতন হতে কোনো সরকারেরই খুব বেশি সময় লাগে না। বর্তমান কমিশন কর্তাদের অতি ভক্তি, খোলাখুলিভাবে সরকারের পক্ষাবলম্বন, বিদঘুটে ও কদর্য প্রক্রিয়ায় সরকারি ইচ্ছাকে বাস্তবায়ন করার অপচেষ্টার কারণে বর্তমানে সরকার দেশ-বিদেশে মারাত্মক ইমেজ সঙ্কটে পড়েছে। অথচ পরিকল্পনা সহকারে বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে কৌশলে কাজ করলে অনেক বদনাম এড়ানো যেত।
বাংলাদেশের নির্বাচন, রাজনীতি ও সামাজিক অবস্থা নিয়ে কাজ করেন, এমন লোকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বর্তমান কমিশনের পক্ষে ভালো কিছু করার আশা প্রকারান্তে দুঃস্বপ্ন বই অন্য কিছু নয়। তারা কোন আক্কেল বা বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চাইলেন, তাও বোঝা যাচ্ছে না। যদি বলা হয়, একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে রাজনৈতিক সহযোগিতা আশা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মতো অন্যান্য দলীয় প্রধানের কাছ থেকেও অনুরূপ সাহায্য-সহযোগিতা চাওয়া হবে এবং এটি কমিশনের একটি রুটিন ওয়ার্ক। কমিশন যদি এমন যুক্তি দেয়ার চেষ্টা করে, তাও শেষাবধি ধোপে টিকবে না। কমিশনের বোঝা উচিত, নির্বাচনকালীন সময়ে ছোট-বড় সব রাজনৈতিক দলকে কতগুলো সাধারণ সমস্যা মোকাবেলা করতে হয় এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়। পৌর নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশের বড় দু’টি দলই মারাত্মক বেকায়দায় পড়েছে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে। দলীয় সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশ অমান্য করে যেসব লোকজন পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য শত চেষ্টা-তদবির, হুমকি-ধমকি এবং বল প্রয়োগ করেও দলগুলো কোনো সফলতা অর্জন করতে পারেনি। যেখানে দলীয় প্রধান নিজ দলের গুটিকয়েক স্থানীয় নেতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, সেখানে তিনি বা তারা কী করে কমিশনকে সাহায্য করবেন, তা কারো বোধগম্য না হলেও শক্ত মেরুদণ্ডওয়ালারা ঠিক একের পর এক লোক হাসানো কাজকর্ম করেই যাচ্ছেন।
অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান হারে হ্রাস এবং ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধির সূত্র রয়েছে। অন্য দিকে হ্রাস-বৃদ্ধির দু’টি নিয়মও আছে। একটিকে বলা হয় গাণিতিক এবং অন্যটির নাম জ্যামিতিক। কোনো কিছুর বৃদ্ধি, উত্থান ও প্রবৃদ্ধি যেমন গাণিতিক হারে হতে পারে, তেমনি অস্বাভাবিক দ্রুততার সাথে বিস্ময়করভাবে অর্থাৎ জ্যামিতিক হারেও হতে পারে। অন্য দিকে পতন, ক্ষয়, ধ্বংস, নিঃশেষ ও রোগাক্রান্ত হওয়ার বেলায়ও গাণিতিক ও জ্যামিতিক নীতি প্রয়োজন। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেছেন- সমাজ ও সংসারের নৈতিক অধঃপতন এবং মন্দকাজের প্রবৃদ্ধি ঘটে জ্যামিতিক হারে। কোনো একটি মন্দকাজ, মন্দ তৎপরতা কিংবা নিকৃষ্ট উদাহরণ একবার প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে তা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে এবং সম্পূর্ণ শেষ পরিণতি ছাড়া ওই প্রবৃদ্ধি ঠেকানো যায় না।
বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য কয়েক লাখ ক্ষমতার বলয় রয়েছে। হাট, মাঠ, ঘাট, পথপ্রান্তর, গ্রাম-গ্রামান্তর, শহর জনপদ কিংবা মহানগরী- সব স্থানেই রয়েছে একাধিক ও বহুমুখী ক্ষমতার বলয়। এসব ক্ষমতার বলয়ের রয়েছে প্রধানত তিনটি বিভাগ। যথা- রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, সরকারদলীয় ক্ষমতা এবং স্থানীয় পরিবারকেন্দ্রিক ক্ষমতা। এ তিন শ্রেণীর ক্ষমতার আবার দু’টি প্রকারভেদ রয়েছে। যথা- বৈধ ক্ষমতা ও অবৈধ ক্ষমতা। যারা ক্ষমতাবান, তারা যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকতে চান। অন্য দিকে ক্ষমতা প্রত্যাশীরাও যেকোনো মূল্যে তা ছিনিয়ে নিতে চান। রাষ্ট্রীয় আইনকানুন, নিয়মনীতি এবং মানুষের সততা, দক্ষতা ও নীতিবোধ- কেবল ক্ষমতাবান ও ক্ষমতা প্রত্যাশীদের অবৈধ আকাক্সক্ষা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই নির্মূল করতে পারে না।
বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ক্ষমতার বলয়গুলোতে কেবলই মন্দ প্রকৃতির উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে অনেকটা জ্যামিতিক হারে। নিয়মনীতি মেনে যথাযথ পরিশ্রম করে ও মেধা খাটিয়ে কেউ আর ক্ষমতায় যেতে চায় না। অন্যের দয়া, মায়া, করুণা কিংবা প্রতিপক্ষকে হুমকি, ধমকি, হত্যা-গুম অথবা মিথ্যাচার, অনাচার, প্রতারণা, মুনাফেকি, অধর্ম ইত্যাদি নরাধম মার্কা কর্ম দ্বারা ক্ষমতায় টিকে থাকা অথবা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়াকে লোকজন জীবনের পরম পাওনা হিসেবে বিবেচনা করছে। এসব নোংরা কাজ করতে গিয়ে তারা পিতামাতা, আত্মীয়স্বজনের রক্তের সম্পর্ক, ধর্মীয় অমিয় বাণী এবং মানবিক গুণাবলি বিসর্জন দিচ্ছে। মানবিকতাকে নির্বাসনে পাঠিয়ে পাশবিকতাকে হাতিয়ার বানিয়ে নিচ্ছে। শালীনতা, নম্রতা ও ভদ্রতাকে বাদ দিয়ে অশ্লীলতা, উগ্রতা ও ইতরজাত আচরণগুলোকে অলঙ্কার বানিয়ে সদর্পে দম্ভ করে বেড়াচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে যদি এসব বাধা অতিক্রম করতে হয় তবে অবশ্যই কোমর, মেরুদণ্ড ও হাড়ে শক্তি সঞ্চয় করতে হবে।
একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য প্রত্যেক প্রার্থীকে তৃণমূলে ঘাম ঝরানো অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়। শুধু নির্বাচনকালীন সময় নয়, যুগ যুগ ধরে জনকল্যাণ করে নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হয়। মানুষের সমর্থন লাভ এবং ভোটের দিন ভোটপ্রাপ্তির মতো কঠিন কর্ম জগৎ সংসারে খুব কমই আছে। প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের পথে হাঁটার জন্য একজন প্রার্থীকে যে কারাভোগ করতে হয়, বলতে গেলে সে সবের কিছুই করতে হয় না সাদেক আলী বা মাগুরা মার্কা নির্বাচনের ক্ষেত্রে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর অবস্থা হয় ভিনি-ভিডি-ভিসির মতো অর্থাৎ আসলাম দেখলাম ও জয় করলাম। বর্তমান নির্বাচন কমিশন গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতিকে ভিনি-ভিডি-ভিসির পর্যায়ে নিয়ে গেছে। যেখান থেকে পুনরায় নির্বাচনকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য কমিশনকে মহাবীর আলেকজান্ডার অথবা জুলিয়াস সিজারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। বর্তমান কর্তাব্যক্তিরা সে কাজটি করতে পারবেন কি না তা বোঝার জন্য যে কেউ আলেকজান্ডার ও জুলিয়াস সিজারের চেহারা-সুরোতের দিকে তাকাতে পারেন এবং পরক্ষণেই কমিশনের গুণধর কর্তাদের বদনে দৃষ্টিপাত করতে পারেন!!!
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিষ্পাপ ফিলিস্তিনি শিশু হত্যা উদযাপন ইসরাইলিদের, নিন্দার ঝড়
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খালেদা কেন ইতিহাসকে অস্বীকার করছেন? by সোহরাব হাসান
—মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শহীদ মুনীর চৌধুরীর সন্তান আসিফ মুনীর
ইতিহাস বিকৃত করতে তাঁরাই মেতে ওঠেন, ইতিহাস নির্মাণে যাঁদের ন্যূনতম ভূমিকা থাকে না। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখতে না পারলেও স্বাধীন বাংলাদেশে স্বৈরাচারের পতন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর ভূমিকার পুরস্কারস্বরূপ জনগণ ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী করেছেন। জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপির বাঘা বাঘা সব নেতাকে এরশাদ ভাগিয়ে নিলেও একদা গৃহবধূ খালেদা জিয়া সাহস ও কর্মীদের ওপর ভর করে দলকে পুনর্গঠিত করে ক্ষমতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন আরও পাঁচ বছর পর, ১৯৯৬ সালে।
গত আড়াই দশকের রাজনৈতিক সমীকরণে দেখা যায়, স্বৈরাচারী এরশাদের দল জাতীয় পার্টি যেমন শেখ হাসিনার কাঁধে ভর করেছে, তেমনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াতে ইসলামী খালেদা জিয়ার ঘাড়ে চেপে বসেছে। তাই দুই নেত্রীর রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণে অনেক সময় মূল চরিত্রের চেয়ে পার্শ্বচরিত্রের ভূমিকা প্রাধান্য পেয়ে থাকে। গত সোমবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত সমাবেশে খালেদা জিয়া ‘আজকে বলা হয় এত লাখ লোক শহীদ হয়েছেন; এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা সেই পার্শ্বচরিত্রকে খুশি করার জন্য কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শহীদের সংখ্যা তো কেবল একটি সংখ্যা নয়। এর সঙ্গে সমগ্র জাতির স্পর্ধা ও ভালোবাসা জড়িত। এর সঙ্গে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দেওয়া লাখ লাখ শহীদের স্বজনদের আবেগ ও বেদনা জড়িত। এর সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের অহংকার জড়িত। আসিফ মুনীর যে অপমানের কথা বলেছেন, সেটি তাঁর একার নয়। প্রতিটি শহীদ পরিবারের কথা। একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের নেত্রী, যিনি তিন তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তিনি কী করে লাখ লাখ শহীদ পরিবারকে অপমান করলেন? ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কিংবা সরকারের ওপর খালেদা জিয়ার যত রাগই থাক না কেন, সেই রাগ ঝাড়তে শহীদদের টানতে পারেন না। ‘আজকাল এত লাখ বলা হয়’ বলেও তিনি শহীদদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতে পারেন না।
খালেদা জিয়া সেদিনের সমাবেশে আরও অনেক কথা বলেছেন। তিনি পৌরসভা নির্বাচনে সরকারি দলের জোরজবরদস্তির কথা বলেছেন। তিনি বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতনের কথা বলেছেন। সরকারের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছেন। এসব অভিযোগের সবটাই ভিত্তিহীন তা-ও বলব না। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ পদ্মা সেতু করতে পারবে না। তিনি ক্ষমতায় এসে দুটি পদ্মা সেতু করবেন। খুবই ভালো কথা। বাংলাদেশের মানুষ দুটি পদ্মা সেতু পাবে। এর চেয়ে আনন্দের খবর আর কী হতে পারে?
কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, বিএনপির নেত্রী আওয়ামী লীগের ওপর তাঁর রাগ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদ পরিবারের ওপর ঝাড়লেন কেন? খালেদা কারও নাম না নিয়ে বলেছেন, ‘তিনি স্বাধীনতা চাননি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন।’ এই তিনি কে, স্পষ্ট না করলেও বুঝতে অসুবিধা হয় না যে বিএনপির নেত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেই ইঙ্গিত করেছেন। শেখ মুজিব যদি স্বাধীনতা না চেয়ে থাকেন, স্বাধীনতাটা এল কীভাবে? একাত্তরের ১ থেকে ২৫ মার্চ বাংলাদেশ কার নির্দেশে চলেছে—শেখ মুজিব না পাকিস্তান বাহিনীর? জিয়াউর রহমান কার নামে ২৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন? একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় যে সরকারটি গঠিত হয়েছিল, সেটিই বা কার নেতৃত্বে?
খালেদা জিয়া সেদিন যেসব মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে সমাবেশ করেছিলেন, তাঁদের বর্তমান অবস্থান যাই হোক না কেন, তাঁরাও স্বীকার করবেন শেখ মুজিবের নামেই তাঁরা যুদ্ধ করেছেন। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চাইলে পাকিস্তানি শাসকেরা কেন তাঁকে কারাগারে রাখবে? কেন দেশদ্রোহের অভিযোগে ফাঁসির দণ্ড দেবে? সেই দণ্ড ইয়াহিয়া খান কার্যকর করতে পারেননি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায়। একাত্তরে জিয়াউর রহমান যে সেক্টর কমান্ডার ও পরে জেড ফোর্সের অধিনায়ক হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন, সেটিই বা কোন সরকারের অধীনে? বিএনপির চেয়ারপারসন যেভাবে এ কে খন্দকার ও শারমীন আহমদের বইয়ের ব্যাখ্যা করেছেন, সেটিও সঠিক নয়। ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু কোন প্রকৌশলীর সহায়তায় খুলনা থেকে আনা একটি ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেছিলেন, শারমীন আহমদের বইয়ে তার বিস্তারিত বিবরণ আছে। শুনে নয়, বইটি পড়েই তাঁর কথা বলা উচিত ছিল।
তাই খালেদা জিয়াকে বলব, আজকের রাজনৈতিক বিবাদে একাত্তরকে টেনে আনবেন না। শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁদের পরিবারকে অপমান এবং মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করবেন না। আপনার এসব বক্তব্য স্বাধীনতার বিরোধীদের খুশি করলেও ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ করেছে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের স্বজনদের। আপনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ৩২ বছর ধরে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কখনোই শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি। আজ কেন তুলছেন? সেদিনের সভায়ও আপনি বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার আপনারাও চান, তবে সেটি আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে। তাহলে ক্ষমতায় থাকতে কেন সেই বিচার করলেন না? আপনি আরও বলেছেন, আওয়ামী লীগও নাকি রাজাকারের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিল। তাহলে সেই রাজাকারের বিচার করলেন না কেন? আপনি দ্বিতীয়বার যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে সরকার গঠন করলেন। আর প্রথমবার জামায়াতের নেতা গোলাম আযমের বিচারের দাবিতে শহীদজননী জাহানারা ইমামসহ যে ২৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক গণ–আদালত গঠন করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন।
একাত্তরকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা কিংবা বাস্তববোধের প্রতিফলন হতে পারে না। যে কথাগুলো এত দিন পরাজিত পাকিস্তানের জেনারেল, আমলা, সেখানকার লেখক, বুদ্ধিজীবীরা বলতেন, সেই কথা বাংলাদেশের একজন রাজনৈতিক নেত্রী করতে পারেন না বলেই আমাদের মনে দৃঢ় প্রত্যয় ছিল। অথচ খালেদা জিয়া সেটাই করেছেন। তাও এই বিজয়ের মাসে। সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধের দায়ে বাংলাদেশে দুই রাজনীতিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের সরকার ও রাজনৈতিক মহল যেসব মন্তব্য করেছে, তা ছিল খুবই উসকানিমূলক। এর মাধ্যমে একাত্তরের পরাজিত পাকিস্তান নিজেদের অপরাধই শুধু আড়াল করছে না, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধটাকেও তারা অস্বীকার করছে।
কিন্তু বিএনপির মতো একটি জনপ্রিয় দলের নেত্রী কী করে তাদের কথায় সুর মেলালেন? তিনি বলেছেন, ‘আজকাল বলা হয় এত লাখ লোক শহীদ হয়েছেন।’ এটি কি আজকাল বলা হওয়ার বিষয়? মুক্তিযুদ্ধে কত মানুষ শহীদ, কত নারী ধর্ষিত হয়েছেন, কত মানুষ নির্যাতিত ও দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন, কত পরিবার সবকিছু হারিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের পর সে সবের একটি সরকারি ভাষ্য প্রকাশ করা হয়, যা আজ ইতিহাসের অংশ। কিন্তু এও সত্য যে নয় মাস ধরে পাকিস্তানিদের গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের যে অপরিমেয় ক্ষতি, তা কোনো পরিসংখ্যানেই তুলে আনা সম্ভব নয়। পরাজিত পাকিস্তান শুরু থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার আলবদরদের হাতে নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা কমিয়ে দেখাতে উঠেপড়ে লেগে যায়। খ্যাতনামা পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মির কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ সফরকালে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা যে ভাড়াটে লেখকদের দিয়ে মনগড়া ইতিহাস লেখাচ্ছে, তা অকপটে স্বীকার করেছেন। এদের মধ্যে কোনো কোনো গবেষক নাকি ডাবল এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেছেন। কিন্তু তাদের এই সব অপপ্রচারের জবাবে একটি কথাই বলব, মিথ্যে দিয়ে কখনো সত্যকে আড়াল করা যায় না, সত্যের জয় হবেই।
মুক্তিযুদ্ধের অনেক ঘটনা, অনেক কাহিনি এখনো অনুদ্ঘাটিত। অনেকে চুয়াল্লিশ বছর পরও হারিয়ে যাওয়া স্বজনের অপেক্ষায় আছেন। সেই স্বজনহারা মানুষদের কী বার্তা দিলেন খালেদা জিয়া?
ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির প্রধান ডা. এম এ হাসান বলেছেন, কিছু কিছু জাতীয় বিষয় আছে যা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে না। জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীতের মতো শহীদের সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তোলা যায় না। শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে খালেদা জিয়া নিজের মর্যাদা ও সততাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তাঁর মতে, শহীদের সংখ্যাটি কারও রান্নাঘরের আলোচনার বিষয় নয়, যে তার ওপর আপনি প্রশ্নচিহ্ন বসিয়ে দিতে পারেন। তাঁর এই মন্তব্য পাকিস্তান ও দালালদের স্বার্থ হাসিল করবে।
শহীদের সংখ্যা নিরূপণের সর্বজন স্বীকৃত পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে এম এ হাসান বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিজয়ী পক্ষ দাবি করেছে নাৎসি বাহিনী ৬০ লাখ ইহুদিকে হত্যা করেছে, নাৎসি বাহিনীর আইনজীবীরা এটিকে অতিরঞ্জিত বললেও তা গ্রাহ্য হয়নি। ইতিহাসের বিকৃতি রোধে ১৪টি ইউরোপীয় দেশ গণহত্যা অস্বীকার আইন অনুমোদন করে, যাতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা অস্বীকারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা হয়।
বাংলাদেশেও মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যাটিও নিরূিপত হয়েছে অনেক আগেই। এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তোলা বা প্রশ্ন করার সুযোগ নেই।
তাই মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপির নেত্রী যে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অযাচিত প্রশ্ন রেখেছেন, আশা করি, সেটি তিনি প্রত্যাহার করে নেবেন। অন্যথায় সমালোচেকরা ‘পাকিস্তানিেদর খুশি করতে তিনি এই মন্তব্য করেছেন’ বলে যে অভিযোগ এনেছেন, সেটাই সত্য বলে মানুষ ধরে নেবে।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আরো ৪ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করলো ইসরাইলি সেনারা
ইসরাইলের দাবি, এদের মধ্যে তিনজন ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বহু ঘটনায় নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের গুলি করে হত্যার পর মরদেহের পাশে একটি ছুরি রেখে দেয় ইসরাইলিরা। পরে প্রচার চালায় যে ইসরাইলিদের ওপর ছুরিকাঘাতের চেষ্টাকালে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
গত তিন মাস ধরে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১২৯ ফিলিস্তিনি নাগরিক ও ২২ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছে।
সূত্র : এপি, পিএনএন
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইনটেনসিভ কেয়ারে মুমূর্ষু গণতন্ত্র বাঁচবে তো? by নূরে আলম সিদ্দিকী
আসন্ন পৌর নির্বাচনটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাস এই চিরসত্যটি প্রতিভাত করেছে যে, মানুষ গণতন্ত্র-পিয়াসী। অন্যদিকে রাজনীতিকদের অন্তরের পুরো ক্যানভাস জুড়ে শীর্ষ-নেতৃত্বের স্তাবকতা, অর্চনা, বন্দনা ছাড়া অন্যকিছুর বালাই নেই। উভয় জোটেই আজ এটি নির্মম বাস্তবতা।
দেশের মোট ২৩৬টি পৌরসভায় প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দুই জোটে আতি, পাতি, মহারথীদের আমি বিদগ্ধ চিত্তে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, রাজনীতিতে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করার একমাত্র নিয়ামক শক্তি হলো সহনশীলতা; সহনশীলতা ছাড়া কখনোই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায় না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিটি রাজনৈতিক দল যার যার আঙ্গিকে দেশের কল্যাণে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রস্তুত করে, আবার জাতীয় স্বার্থে দলীয় আবর্ত থেকে বেরিয়ে এসে একাট্টা হয় এবং জাতীয় স্বার্থকে রক্ষা করে।
এই নির্বাচনে গণতন্ত্রের নিয়ামক শক্তি সহনশীলতা প্রদর্শন করতে পারলে দেশ এক মহাবিপর্যয়ের হাত থেকে অনেকখানি রক্ষা পাবে। শেখ হাসিনাকে প্রমাণ করতে হবে, তার সরকার তার একচ্ছত্র আধিপত্যের মধ্যেও নির্বাচন কমিশন পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে জাতিকে একটি গ্রহণযোগ্য(!) নির্বাচন দিতে সক্ষম হয়েছে। তার চারপাশে যারা সুদৃঢ় অবস্থান নিয়েছে তাদের অনেকেই বিধ্বস্ত বামের অপভ্রংশ। এই স্তাবক, তোষামোদকারী এবং আদর্শ-বিবর্জিত বামেরা শেখ হাসিনাকে কুমন্ত্রণা দিচ্ছে যে, কোনভাবেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেয়র পদ বিরোধী জোটকে দেয়া যাবে না। তাহলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি সোচ্চার ও শক্তিশালী হবে। তবে দেশবাসী মনে করে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে গণতন্ত্র প্রাথমিক ভিত্তি পাবে। তাতে তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি খুঁজে পাবে।
নির্বাচন কমিশনের অবস্থা এতটাই করুণ যে, তারা শক্ত ও নিরপেক্ষ থাকতে পারবেন- এটা কেউই বিশ্বাস করেন না। তিনি ইতিমধ্যেই তার পক্ষপাতিত্বের অসংখ্য দৃষ্টান্ত প্রতিস্থাপন করেছেন। সরকারি জোটের অনেকেই তাকে মেরুদণ্ডহীন আখ্যায়িত করেছেন। এমনকি ক্ষমতাসীন জোটের এরশাদ তাকে “ভাঁড়” বলেছেন। একটা উদাহরণ এখানে প্রাসঙ্গিক, বিরোধী জোট পৌর নির্বাচনের আগে ক্ষেত্রবিশেষে সামরিক বাহিনী প্রদানের দাবি তুলেছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেটাকে তো আমলে নেয়ই নি বরং জ্যোতিষীর মতো ভবিষ্যৎকে নির্বিঘ্নে অবলোকন করে বলেছেন, সেনা নিয়োগের প্রয়োজন নাই। ভাবখানা, তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করার অলৌকিক শক্তির অধিকারী। এটা পৌর নির্বাচন হতে পারে, কিন্তু এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও সফল করার সমস্ত দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার মানদণ্ড। একটু জটিল সিদ্ধান্ত আসলেই তিনি অপ্রতিরোধ্য শক্তির অধিকারী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চান লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে। এতে বিরোধী জোটের জন্য প্রমাণ করতে সহজ হয় যে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ও শক্তিধর তো নয়ই, বরং ক্ষমতাসীন জোটের কাছে একান্তভাবে নতজানু।
আমাকে ভুল বোঝার অবকাশ না রাখার লক্ষ্যে আমি জনান্তিকে জানিয়ে রাখি, একমাত্র সেনাবাহিনী সার্বভৌমত্বের প্রতীক এবং দলমতের ঊর্ধ্বে। দেশের মানুষেরও তাদের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে বিশ্বাস ও আস্থা প্রগাঢ়। আমি তাদের সঙ্গে একমত, যারা বলছেন, পুলিশসহ প্রশাসনের অংশ সবসময়ই সরকারের কাছে অনুগত থাকতে বাধ্য। অভিশংসন আইনের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। তবুও বিরোধী রাজনৈতিক জোটের কাছে আমার বক্তব্য কোনো অজুহাতেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না (৫ জানুয়ারির নির্বাচনটিকে আমি অদ্যাবধি সমর্থন করি না)। বিস্মৃত হবেন না, আজকে যে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও দুর্বিচার- সেটির প্রসূতিকাগার “হাওয়া ভবন”। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্টের নৃশংসতার দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল। যদিও এটি বাস্তব, দলছুট ও সুবিধাবাদীদের দ্বারা গড়ে ওঠা বিএনপির পক্ষে তাদের কোনো আন্দোলনের সঙ্গেই তারা জনসম্পৃক্ততা তৈরী করতে পারেন নি। তবুও পৌর নির্বাচনে তাদের কর্মীদের মধ্যে যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, রাজনীতির মাঠে টিকে থাকতে হলে সেটাকে তাদের ধরে রাখতে হবে। আমি পূর্বেও বলেছি যে, খালেদা জিয়াকে নিঃসংশয় চিত্তে ঘোষণা দিতে হবে যে, তিনি এবং তার পরিবার কোনভাবেই ক্ষমতায় আসীন হবেন না। নইলে তোতাপাখির মতো তিনি এবং তার স্তাবক, মোসাহেবরা গণতন্ত্র উদ্ধারে যে বক্তব্যটির চর্বিতচর্বণ করছেন, তা মানুষ শুনছে কিন্তু বিশ্বাস করছে না। অধিকার কখনো অনুনয়, বিনয় বা ভিক্ষা চেয়ে পাওয়া যায় না। বোমা বিস্ফোরণ বা মানুষ হত্যার মধ্য দিয়ে তো প্রশ্নই আসে না। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেগম খালেদা জিয়ার লক্ষ্য হওয়া উচিত, প্রতিটি সাংগঠনিক জেলা থেকে স্বেচ্ছাকারাবরণ ও নির্যাতন-নিগ্রহ মোকাবিলা করার মতো মৃত্যুভয়কে পরোয়া না করা অকুতোভয় অন্তত ৫০০ কর্মী খুঁজে বের করা। সেটি করতে না পারলে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের বিস্তৃত পথপরিক্রমণে- বিশেষ করে ৬ দফা প্রদানের পর বাঙালি জাতীয় চেতনার উৎস ছাত্রলীগকে সঙ্গে নিয়ে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার প্রশ্নে যে চেতনার গৌরবগাঁথায় বঙ্গবন্ধু তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বে সমগ্র জাতিকে একটি মিলনের মোহনায় এনে দাঁড় করিয়েছিলেন, সেখান থেকে রাজনীতিকদের অন্তত কিছু শিক্ষাগ্রহণ করা উচিত।
এই পৌর নির্বাচনটি সষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে দেশের মুমূর্ষু গণতন্ত্র কিছুটা অক্সিজেন পাবে। গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকারবিহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা সমাজে দুর্বিচার ও দুর্নীতিপরায়ণদের দৌরাত্ম্য বাড়ায় এবং সামাজিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি করে। দুই নেত্রী বিষয়টি যত দ্রুত অনুধাবন করবেন, জাতির জন্য ততই মঙ্গল।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জনমতকে উপেক্ষা করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টায় সরকার by ডয়চে ভেলে
এমন অনাচারের ফলে সমাজে নানা রকমের বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়৷ বেড়ে যায় গুম ও খুনের ঘটনা৷ সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়, এই গুম-খুনের অভিযোগ উঠতে থাকে রাষ্ট্রীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে৷ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল, দলের অঙ্গ সংগঠন, ছাত্র সংগঠন নানা রকমের অন্যায়-অনিয়ম, দুর্নীতি, ঠিকাদারি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে৷ অন্যদিকে দমন-নিপীড়নে বিরোধীদল দূর্বল হয়ে পড়ায়, এ সবের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ থাকে না৷ সামগ্রিকভাবে দেশে আইনের শাসন বলতে কিছু থাকে না৷ জনমানুষের জীবন হয়ে পড়ে চরম নিরাপত্তাহীন৷ ক্ষমতাসীনদের আচার-আচরণ-দাম্ভিকতায় মানুষ অতীষ্ট হয়ে ওঠে৷ কিছু অবকাঠামোগত দৃশ্যমান উন্নয়নের কথা বলে ক্ষমতাসীনরা তাঁদের যাবতীয় অপরাধ আড়াল করতে চান৷
গত সাত-আট বছরে মোটামোটিভাবে বাংলাদেশে এমনই একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে৷ এমন অবস্থায় সাধারণত প্রতিবাদ-প্রতিরোধের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন সমাজের অগ্রসর মানুষেরা৷ এর মধ্যে লেখক-শিল্পী-শিক্ষক-সাংবাদিক – অনেকেই থাকেন৷ তবে গণমাধ্যমই এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে শক্তিশালী নাগরিক সমাজের ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করছে৷
নাগরিক সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করার মোক্ষম পন্থা
দমনে-নিপীড়নে বিরোধী রাজনৈতিক দলকে নিয়ন্ত্রণে আনার পর, সরকারের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এই নাগরিক সমাজ৷ তাঁরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন৷ যেহেতু নাগরিক সমাজ বিবেকবান মানুষ হিসেবে পরিচিত থাকেন, সেহেতু তাঁদের প্রতিবাদের প্রভাব মানুষের উপর পড়ে৷ মানুষ সাহসী হয়ে উঠতে থাকে৷
বাংলাদেশে বর্তমানে বিরোধী দল বলতে কিছু নেই৷ দমনে-পীড়নে বিএনপি ছন্নছাড়া৷ এরশাদের জাতীয় পার্টি কোনো দলের পর্যায়েই পড়ে না৷ এদের ‘তোষামোদী দল বলা যেতে পারে৷ তাছাড়া সরকারের নেতিবাচক, খারাপ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কোনো প্রতিবাদ নেই৷ প্রতিবাদ একমাত্র আসছিল নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে৷ বিশেষ করে সরকারের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছিল সাংবাদিক, তথা গণমাধ্যম৷ এর মধ্যে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল টেলিভিশনের রাজনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠান ‘টকশো৷
তাই বিরোধী দল নিয়ন্ত্রণের পর, সরকারের দায়িত্ব হয়ে পড়ে গণমাধ্যম তথা নাগরিক সমাজ নিয়ন্ত্রণ, টকশো নিয়ন্ত্রণ৷ সরকার মনে করে, নাগরিক সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করার এটাই সবচেয়ে উত্তম পন্থা৷
বর্তমানে দেশে প্রতিটি মানুষের জীবনই নিরাপত্তাহীন৷ আর গণমাধ্যম কর্মীদের জীবন আরও বেশি নিরাপত্তাহীন৷ একের পর এক ব্লগারের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সেই নিরাপত্তাহীনতার কিছুটা প্রকাশ দেখা গেছে৷ বাস্তবে গণমাধ্যম কর্মীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর৷ ব্লগারদের উপর ক্ষিপ্ত সমাজের ছোট ধর্মীয় উন্মাদ একটি অংশ৷ সত্যি কথা বলতে কি, গণমাধ্যম কর্মীদের উপর এই ধর্মীয় উন্মাদরা তো ক্ষিপ্তই, তার চেয়ে বেশি ক্ষিপ্ত সরকার, সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী৷ ফলে তাদের বিপদ বহুবিধ৷ ব্লগার, প্রকাশকদের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার অন্যদের ভয় দেখাতে চেয়েছে যে, পরিণতি এমন হলে কিছু করার থাকবে না৷
এর সঙ্গে সাংবাদিক, সম্পাদকদের হত্যার হুমকি, গুমের হুমকি-প্রচেষ্টা তো আছেই৷ ফলে কিছু গণমাধ্যম কর্মী অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়ে গেছেন৷ গণমাধ্যম মালিকদের যেহেতু আরও অন্য ব্যবসা আছে, ফলে তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে-হচ্ছে ভিন্ন পন্থায়৷ কাউকে কাউকে অন্য ব্যবসায় সুবিধা দেয়া হয়েছে-হচ্ছে৷ আবার কারো অন্য ব্যবসায় সমস্যা তৈরি করে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে-হচ্ছে৷ যে সব গণমাধ্যম কর্মী এত প্রতিকৃলতার মধ্যেও সত্য লিখছিলেন, সত্য বলছিলেন, তাঁদেরও নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে নানা পন্থা অবলম্বণ করা হচ্ছে৷ এছাড়া দলীয় মাস্তানদের দিয়ে অনেকের চরিত্রহনন করানো হচ্ছে, মৌখিকভাবে মালিকদের চাপ দিয়ে টকশোতে অনেককে নিষিদ্ধ করানো হয়েছে, অনেকের লেখা পত্রিকাগুলো ছাপাও হচ্ছে না৷ এমনকি বিপদে পড়ার ভয়ে অনেক পত্রিকা নিজেরাই ‘সেন্সর করছে৷ প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের বিজ্ঞাপণ বন্ধ করিয়ে দিয়ে অন্যদের ভয় দেখানো গেছে৷ এখানেই শেষ নয়৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বন্ধ করে দিয়ে কারো কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে এক ধরণের ভিতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে৷ তারপরও পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না৷ সরকার অবশ্য নানা উপায়ে এই নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা অব্যহত রেখেছে৷
ঘুস দিয়ে অথবা ভয়-ভিতি দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা
লেখক-শিক্ষক-বুদ্ধিজীবীদের নিয়ন্ত্রণের জন্যে স্বৈরশাসকরা দুটি উপায় অবলম্বন করে থাকে৷ এক. সুযোগ-সুবিধা, অর্থ-সম্পদ দিয়ে৷ দুই. ভয় দেখিয়ে৷ অর্থ-সম্পদ দিয়ে নাগরিক সমাজের অনেককে পক্ষে নেয়ার প্রবণতা আইয়ুব খানের সময় থেকে দেখা গেছে৷ বাংলাদেশে সামরিক শাসক জিয়াউর রাহমানও নাগরিক সমাজের অনেককে পদ-পদবি দিয়ে পক্ষে নিয়েছিলেন৷ তবে নাগরিক সমাজের বড় একটি অংশের চরিত্র দুষিত করে দিয়েছেন সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ৷ মন্ত্রীত্ব, পদ-পদবি, ঢাকায় প্লট বাঅর্থ দিয়ে নাগরিক সমাজের অনেককে কাছে টেনে নিয়েছিলেন এরশাদ৷ যাঁদের নিতে পারেননি, তাঁদের উপর জুলুম-নির্যাতন করেছেন৷
বর্তমানে সুযোগ-সুবিধা পেয়ে বা পাবেন এই লোভে নাগরিক সমাজের বড় একটি অংশ সরকারের দুর্নীতি-অন্যায়-অনৈতিক কর্মকাণ্ড সমর্থন করছেন৷ যাঁরা এখনও সত্য কথা বলছেন, লিখছেন, তাঁদের নানা রকমের ভয়-ভিতি দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে৷ কেউ একজন নিজে ভয় না পেলে, সন্তানদের কথা বলে ভয় দেখানো হচ্ছে৷ দেশে যেহেতু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বলতে কিছু নেই, নেই আইনের শাসন, বিপদে পড়লে আশ্রয়ের জায়গাও নেই, সেহেতু অনেকে নিজে থেকেও সতর্ক হয়ে গেছেন৷ হিসেব করে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করছেন৷ চোখের সামনে অন্যায় হতে দেখছেন, কিন্তু বলছেন না, প্রতিবাদ করছেন না৷ আর যিনি বলতে চান, তাঁকে বলার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না৷ পত্রিকাগুলিও তাঁর লেখা ছাপতে অপারগতা প্রকাশ করছে৷
লোভি-নীতিভ্রষ্ঠ একদল তোষামোদকারী ভোটারবিহীন নির্বাচন থেকে শুরু করে, গুম-খুন, সন্ত্রাস, ব্যাংক-শেয়ার বাজার লুট – এ সব অপকর্মকে ভালো কর্ম বলে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন৷ সব কিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ অত্যন্ত খারাপ সময় অতিক্রম করছে৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্থানীয় নির্বাচন নাকি রাজনীতির লড়াই?
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাছের সাথে বেঁধে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সাংবাদিক উৎসকে by সরকার মাজহারুল মান্নান
দৈনিক যুগের আলোর সহকারী বার্তা সম্পাদক নজরুল মৃধা নয়া দিগন্তকে জানান, বুধবার মশিউর রহমান উৎস রাত ৯টা পর্যন্ত অফিস করেছিলেন। এরপর তিনি বৈরিগঞ্জে খালার বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার জন্য ১ ঘন্টার ছুটি নিয়ে তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে যান। নজরুল মৃধা আরো জানান, রাতে তার পিতা সামসুল হুদা মন্ডল রাতে ফোন করে জানান, উৎস বাড়ি আসেননি। সকালে পুলিশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের সামনে সিএনজি স্টেশনের পাশ দিয়ে যাওয়া শেখপাড়া সড়কের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
লাশ উদ্ধারকারী পুলিশের কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার এসআই নবাব আলী জানান, লাশটি কৃষিক্ষেতের জমিতে ইউকিলিপটাস গাছের সাথে রশি দিয়ে হাত পা বাধা এবং মুখে মাফলার পেচানো অবস্থায় ছিল। জায়গাটি নির্জন হওয়ায় খুব ভোরে সেটি কারো চোখে আসে নি। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা স্থানীয়রা লাশটি দেখে পুলিশকে খবর দেয়। আমরা লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠাই। যুগের আলোর কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিশ্চিত হই লাশটি সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎসের। তার ব্যবহৃত ফ্রিডম কালো রংয়ের মোটরসাইকেল, ক্যামেরা এবং মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক জানান, দুপুরে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সাংবাদিক উৎস দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হয়েছেন। বিষয়টি আমরা খুবই গুরুত্বের সাথে দেখছি। ইতোমধ্যেই জোর তদন্ত শুরু করেছি। নিশ্চিত করে বলা যাবে না কী কারণে খুনের ঘটনাটি ঘটেছে। তবে তার ব্যাক্তিগত কোন শত্রুতা ছিল না কিনা, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধসহ আগের স্ত্রীর সাথে ডিভোর্স সংক্রান্ত কোনো কিছু ছিল কি না। পুলিশ সুপার জানান, মিঠাপুকুরের বৈরিগঞ্জে খালার বাসায় যাওযার কথা বলে অফিস থেকে বের হলেও আমরা তিনি খালার বাসায় যাননি বলে আমরা জানতে পেরেছি।
কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাদের জিলানী জানান, উৎস রহমানের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লাশ পোস্ট মোটেম শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উৎসর বন্ধু আনছার আলী জানান, সাংবাদিক উৎস আমাকে নানা বলে ডাকতেন। আমি তার সাথে একাধিকবার বৈরিগঞ্জ স্কুলের পাশের ওই খালার বাড়িতে গেছি। ওই খালার একটি জমি নিয়ে কিছু লোকের বিরোধ ছিল । উৎস নাতি আমার খালার পক্ষে ছিল। তার আশংকা ওই জমি নিয়ে বিরোধীয় প্রতিপক্ষ এবং বৈরিগঞ্জের মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেই এই খুনের অনেক রহস্য বেরিয়ে আসবে।
সাংবাদিক উৎস রহমানের পিতা সামসুল হুদা মন্ডল জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার মধ্যেই সে বাড়িতে আসবে বলে জানালেও আসেনি। পরে তাকে আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করি। কিন্তু পাইনি। সকালে তার লাশ পাই। তিনি বলেন, আমার ছেলে মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সব সময় লিখতো। তারাই আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। অবিলম্বে খুনীদে গ্রেফতার করে ফাঁসি দিতে হবে। তিনি বলেন, মিঠাপুকুরের বৈরিগঞ্জের কথিত খালা এবং তার মোবাইল ট্রাকিং করলেই আমার ছেলের খুনি ধরা পড়বে।
উৎস রহমানের মা জানান, আমার একটি মাত্র ছেলে । ওর বাবা প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় শয্যাশয়ী। যারা আমার ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে। তাদের আমি ফাঁসি চাই। আমি এর ন্যায়বিচার চাই। আমার ছেলে সৎ। তার সাথে কারো কোনো শত্রুতা ছিল না। তবে সে মাদক ও অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে সব সময় রিপোর্ট লিখতো।
উৎস রহমানের স্ত্রী তাহমিনা রহমান ‘আমার স্বামীর ভালো মানুষ। ও কখনও মানুষের অন্যায় করে না বলে’ ডকুরে ডুকরে কেঁদে উঠেই বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন। তার কান্নার শব্দে সেখানকার আকাশবাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। তিনি আরো বলেন, হে আল্লাহ একি হলো। এখন আমি ১৫ মাসের সন্তানকে নিয়ে কোথায় গিয়ে দাড়াবো। তিনি এই হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমুলক বিচার দাবি করেন।
সাংবাদিক উৎস রহমান দৈনিক আখিরায় ১০ বছর ক্রাইম রিপোর্টার পদে কর্মরত ছিলেন। এরপর বছর পাচেক আগে তিনি দৈনিক যুগের আলোতে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন। তিনি পত্রিকাটির ক্রাইম বিট করতেন।
সাংবাদিক উৎস রহমানের বাড়ি নগরীর স্টেশন রোডের পীরপুরে। তার গ্রামের বাড়ি পীরগাছার কান্দি ইউনিয়নে। তারা ২ বোন এক ভাই। তার দুই বোনের ঢাকায় বিয়ে হয়েছে।
গতকাল রাতে পীরপুর জামে মসজিদে তার প্রথম নামাজে জানাযা শেষে তাকে তার শেষ কর্মস্থল যুগের আলোতে আনা হয়। পরে তাকে পীরপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। বাবা মা, স্ত্রী ও ১৫ মাসের কন্যা মালিয়া আক্তার উর্ম্মি নামের ১৫ মাসের এক কন্যা সন্তান আছে।
এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে রংপুরের সাংবাদিক সমাজ। বৃহস্পতিবার সন্ধায় ডিসি অফিসের সামনে ন রংপুরে কর্মরত সাংবাদিকরা মানববন্ধন করে এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ জানান। এসময় বক্তারা তার হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক সমাজ উদ্বিগ্ন ও আতংকিত। এ ঘটনায় রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন, রংপুর প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব, সিটি প্রেসক্লাব, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম, ফটো জার্ণালিষ্ট এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
রিপোর্টার্স ক্লাবের সেক্রেটারী মোজাফফর হোসেন জানান, সাংবাদিক উৎস খুনের ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত হয়েছি। সংবাদ প্রকাশের কারণেই তাকে খুন করা হয়েছে। অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার করা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সাংবাদিকদেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহবান জানান তিনি।
প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি আলী আশরাফ ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, খুন করে সাংবাদিকদের কলমকে থামানো যাবে না। তিনি বলেন আমরা সকল সাংবাদিক সংগঠন নিয়ে বসে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষনা করার জন্য কাজ করছি। তিনি খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহবান জানান পুলিশের কাছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
December
(688)
-
▼
Dec 25
(25)
- গ্রেনেডের উপকরণ আসছে দেশের বাইরে থেকে by গোলাম মর...
- লাহোরে শরিফকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন মোদি
- নৃশংসভাবে সাংবাদিককে হত্যা
- বার্মিংহামের প্রাচীন কোরআন ‘প্রথম খলিফা আবু বকর (র...
- এক যে ছিল ফেসবুক by পিয়াস মজিদ
- অবসরে যাচ্ছেন দাউদ ইব্রাহিম আসছেন আনিস!
- লটারিতে ৪ লাখ ইউরো জিতলেন শরণার্থী
- মেরুদণ্ড সোজা হতে কত দেরি পাঞ্জেরি? by ডক্টর তুহিন...
- সন্ত্রাসী ও অপরাধীর মধ্যে পার্থক্য কী?
- সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় হোক
- শক্ত-সোজা মেরুদণ্ড! আছে? নাকি নেই? by গোলাম মাওলা রনি
- নিষ্পাপ ফিলিস্তিনি শিশু হত্যা উদযাপন ইসরাইলিদের, ন...
- খালেদা কেন ইতিহাসকে অস্বীকার করছেন? by সোহরাব হাসান
- আরো ৪ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করলো ইসরাইলি সেনারা
- ইনটেনসিভ কেয়ারে মুমূর্ষু গণতন্ত্র বাঁচবে তো? by নূ...
- জনমতকে উপেক্ষা করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টায় সরকার by ...
- স্থানীয় নির্বাচন নাকি রাজনীতির লড়াই?
- গাছের সাথে বেঁধে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সাংবাদিক উৎসক...
- ১৪ ঘণ্টার অভিযান ‘জঙ্গি’ আস্তানায় সুইসাইড ভেস্ট- ১...
- ব্যাংকিং খাতে হতাশার বছর by হামিদ বিশ্বাস
- কারাগারে বহুরূপী জুমা by ওয়েছ খছরু
- ভাগ্য বিড়ম্বিত গণক by আবদুল আলীম
- এখন একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা চলছে
- কারাগারে স্বামীরা প্রচারণায় স্ত্রীরা by কাজী সুমন
- মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণায় ৯৯ ভাগই ভুয়া অ্যাকাউন্ট ...
-
▼
Dec 25
(25)
-
▼
December
(688)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...














