Showing posts with label চিত্রকর্ম. Show all posts
Showing posts with label চিত্রকর্ম. Show all posts

Sunday, April 12, 2026

আলোকচিত্রে দুই কবির অদেখা জীবন

প্রকাশ ০৪ এপ্রিল ২০২৬ঃ পবিত্র রমজান মাস চলছিল তখন। ২০০৪ সালের অক্টোবর মাসের শেষ দিন। এক অসাধারণ দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল রাজধানীর ৩/১ শ্যামলীর এক গৃহকোণে, মিলিত হয়েছিলেন সমকালীন বাংলা কবিতার দুই প্রধান কবি। মেঝেতে পাতা জায়নামাজে নামাজে দাঁড়িয়েছেন কবি আল মাহমুদ। আর ইফতারির থালা নিয়ে নিজ শয়নকক্ষের বিছানায় বসে কবি শামসুর রাহমান তাকিয়ে আছেন তাঁর দিকে। দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দী করেছিলেন ক্যামেরার কবি খ্যাত বিশিষ্ট আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন।

বাংলার কাব্যের দুই অনন্য কীর্তিমান কবির এমন অনেক দুর্লভ মুহূর্ত এবার দর্শকদের সামনে উন্মোচিত করলেন নাসির আলী মামুন তাঁর ‘ফটোজিয়াম: লাইফ অব পোয়েট্রি’ নামের প্রদর্শনীতে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রসেঁজের লা গ্যালারিতে শুরু হয়েছে এই দুই সপ্তাহের প্রদর্শনী। চলবে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে।

কবি শামসুর রাহমান ও কবি আল মাহমুদের কাব্যকৃতি নিয়ে যেমন কাব্যানুরাগী ও বিদগ্ধজনের মধ্য রয়েছে বিপুল মুগ্ধতা, তেমনি এই দুই কবির মধ্যে রাজনৈতিক বিশ্বাস, মত–পথ নিয়ে পারস্পরিক দূরত্বের বিষয়টিও অনেকে অনেক রকমভাবে ভেবে থাকেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ব্যাপারটা কেমন ছিল, সেদিকেই আলোকপাত করলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে তিনি বলেন, ‘শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদ নিজেরা নিজেদের মধ্যে যত না দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন, তার চেয়ে বেশি দূরত্ব তৈরি করেছি আমরা তাঁদের ভক্ত–অনুরাগীরা।’

আলোচনার শুরুতে দুই কবির কাজের তুলনামূলক আলোচনা করে মতিউর রহমান বলেন, শামসুর রাহমান ঢাকা শহরে বেড়ে উঠছেন; নগরজীবন, নাগরিক চেতনা তাঁর কাব্যে নান্দনিকভাবে রূপায়িত হয়েছে। অন্যদিকে আল মাহমুদ এসেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্রাম থেকে। গ্রামীণ প্রকৃতি, প্রকৃতিলগ্ন মানবজীবনের মহিমাকেই তিনি তাঁর কবিতার অবলম্বন করে তুলেছেন। প্রথম দিকে তিনি প্রগতিশীল রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, পরে ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতার আস্থাশীল হয়েছেন। অপর দিকে শামসুর রাহমান জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিকতাবাদ—এসব মতাদর্শ ধারণ করেছেন।

প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে তাঁরা দুজনই কবিতায় তাঁদের মতো করে উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু আমরা কোনো বিশেষ কারণে তাঁদের মধ্যে পার্থক্য করে শামসুর রাহমানকে এগিয়ে রেখেছি। তাঁর প্রতি যতটা প্রশ্রয় ও পক্ষপাত করেছি, ততটা আল মাহমুদের ক্ষেত্রে করিনি।’

মতিউর রহমান আরও বলেন, এমন পক্ষপাত শিল্পকলার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, মোহাম্মদ কিবরিয়ার প্রতি যেমন প্রাধান্য ও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে; ততটা এস এম সুলতানের প্রতি দেওয়া হয়নি। তিনি মফস্‌সলে থাকতেন। তাঁকে একরকম আড়াল করার চেষ্টা তো ছিলই। এ ধরনের পক্ষপাত আসলে সার্বিক বিচারে আমাদের শিল্প-সাহিত্যের জন্যই ক্ষতিকর হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম আলোতে আরও বেশি ভিন্নমত, যুক্তিতর্কের বিষয়কে উপস্থাপন করতে চাই। শুধু শিল্প–সাহিত্য ও সৃজনশীলতার জন্যই নয়; দেশের সার্বিক অগ্রগতির জন্যই এই মুক্ত পরিবেশ ও পরমতসহিষ্ণুতা প্রয়োজন।’

আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট শিল্পী মনিরুল ইসলাম বলেন, নাসির আলী মামুন দীর্ঘদিন থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতির ছবি তুলছেন। কাজটি বেশ কঠিন। এটা কেবল ক্যামেরার শাটারে চাপ দেওয়া না। আলোকচিত্রের মাধ্যমে সেই ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করাটাই সার্থক পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফারের কৃতিত্ব। তিনি এ ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট বলেন, বাংলা সাহিত্যের দুই প্রধান কবির আলোকচিত্র নিয়ে এই প্রদর্শনীতে কবিতা, সাহিত্য ও আলোকচিত্রের মধ্য একটি নিবিড় সংযোগের সৃষ্টি হয়েছে।

নাসির আলী মামুন বলেন, তিনি স্বাধীনতার পর থেকেই এই দুই কবির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। ক্যামেরা ছিল এই যোগাযোগের মাধ্যম। দেশে ও দেশের বাইরে, ভারতের শান্তিনিকেতনে তিনি এই দুই কবির সঙ্গে ভ্রমণ করেছেন। তিনি লক্ষ করেছেন, দুই কবির মধ্যে কথাবার্তা হতো না। তিনি তাঁদের মধ্য এই দূরত্ব ঘোচাতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। ২০০৪ সালে শামসুর রাহমানের বাড়িতে আল মাহমুদকে নিয়ে গিয়ে তাঁদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন।

নাসির আলী মামুন বলেন, তাঁর কাছে আরও বহু দুর্লভ ছবি ও নিদর্শন রয়েছে। এগুলো নিয়ে তিনি ‘ফটোজিয়াম’ নামের একটি সংগ্রহশালা করতে চান। এ জন্য তিনি সবার সহায়তা কামনা করেছেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের পরিচালক সাঁজোয়া শম্ভো। তিনি বলেন, এ বছর আলোকচিত্রের ২০০ বছর পূরণ হচ্ছে। এমন একটি সময়ে বাংলাদেশের দুই প্রধান কবিকে নিয়ে এমন একটি ব্যতিক্রমী আলোকচিত্র প্রদর্শনী করতে পেরে তাঁরা আনন্দিত।

দুই কবির দুই ভুবন

প্রদর্শনীতে আলোকচিত্র রয়েছে ৫৮টি। অধিকাংশই সাদাকালো। সেখানে দুই কবির তরুণ থেকে বৃদ্ধ বয়সের নানা রকমের প্রতিকৃতি রয়েছে। আছে অনেক ঘরোয়া জীবনের পরিবার–পরিজনের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর মুহূর্ত। ফলে দর্শকেরা দুই কবির বেড়ে ওঠার পাশাপাশি তাঁদের জীবনযাপনের বিষয়েও অনেক ধারণা পাবেন। শামসুর রাহমানের কবিতা, লেখা, চুল আঁচড়ানো, মুখে শেভিং ক্রিম মাখিয়ে ক্ষৌরকর্মের প্রস্তুতি, স্ত্রীর সঙ্গে পাশাপাশি বসে থাকা, রিকশায় পুরান ঢাকার রাস্তায়—এমন অনেক দৃশ্য দেখতে পাবেন দর্শকেরা।

আল মাহমুদকে পাওয়া যাবে তাঁর গ্রামে দেহাতি মানুষদের সঙ্গে, মমতাময়ী মায়ের নিবিড় সান্নিধ্যে, গভীর কাব্যভাবনায় গভীর নিমগ্ন হয়ে থাকার মুহূর্ত, স্ত্রী ও নাতি–নাতনিদের সঙ্গে পারিবারিক পরিবেশে।

প্রদর্শনীতে দর্শকেরা আরও দেখতে পাবেন দুই কবি একসঙ্গে মেতেছেন আড্ডায়, খাওয়াদাওয়া করছেন, করমর্দন করছেন পরস্পরের উষ্ণ হৃদ্যতায়। এই ছবিগুলো নতুন করে ফিরিয়ে আনবে তাঁদের অনুরাগীদের মনে। কবিরা সশরীর নেই কিন্তু তাঁদের কাব্যকৃতি মহাকালের পাতায় অক্ষয় হয়ে আছে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-04-03%2F81n7j6vl%2F3.JPG?w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
প্রদর্শনীর একটি ছবিতে আল মাহমুদ নামাজে দাঁড়িয়েছেন শামসুর রাহমানের শ্যামলীর বাসভবনের কক্ষে। ২০০৪ সালের অক্টোবরে আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনের তোলা।



Monday, January 5, 2026

বান্দরবানে চিত্র প্রদর্শনী: পাল্লায় উঠেছে প্রাণ-প্রকৃতি, শিল্পীর তুলিতে বিপন্ন পাহাড় by বুদ্ধজ্যোতি চাকমা

প্রকাশ ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ঃ ঝিরি-ঝরনার পাথর ও জীবন্ত ব্যাঙ দাঁড়িপাল্লায় ঝুলছে। বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে। প্রাণ-প্রকৃতি যেন পণ্যে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ের নিসর্গ ও পাহাড়ি মানুষের অস্তিত্বের সংকট নিয়ে আঁকা এই ছবির সামনে দর্শকেরা মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ান। শিল্পী খিং সাই মং মারমার আঁকা ছবিটি যেন পাহাড়ের প্রাণ-প্রকৃতির দীর্ঘশ্বাস।

বান্দরবান জেলা শহরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে (কেএসআই) খিং সাই মং মারমার একক চিত্র প্রদর্শনীর শেষ দিন ছিল গতকাল সোমবার। চার দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী শুরু হয় ১৯ ডিসেম্বর। ‘রোয়া-দ্ব’ নামের এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে শিল্পীর জলরং ও তেলরঙে আঁকা ২৭টি ছবি।

শিল্পী খিং সাই মং মারমা প্রতিটি ছবিতে বান্দরবানের প্রাকৃতিক ও জাতিতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যের ছোঁয়া যেমন রয়েছে, তেমনি উঠে এসেছে হারানো সময়ের চালচিত্র। আদিবাসী ঐতিহ্যের শিকড়সন্ধানী শিল্পীর মনোভাবে পরিচয় মেলে প্রদর্শনীর নামকরণেও। ‘রোয়া-দ্ব’ নামে আয়োজিত এই প্রদর্শনী বান্দরবানের অতীতের কথা মনে পড়িয়ে দেয়। মারমা ভাষায় ‘রোয়া-দ্ব’ বলতে বান্দরবানকে বোঝায়। আরও পরিষ্কার করে বললে, ‘রোয়া-দ্ব’ হলো বোমাং সার্কেলের কেন্দ্রীয় গ্রাম বা রাজধানী।

শিল্পীর বেশ কয়েকটি ছবির শিরোনাম ‘অস্তিত্ব’। এই সিরিজের একটি ছবিতে দেখা যায়, কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, কুকুরের পাশ ঘেঁষে বসে থাকা কয়েকটি পাহাড়ি শিশু শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে উড়ন্ত পালকের দিকে। ছবিটি দর্শককে আচ্ছন্ন করে। আক্রান্ত করে। পাহাড়ের বাস্তবতা ও তার অনিশ্চয়তার দিকে টেনে নিয়ে যায়।

‘পাথর’ শিরোনামে একটি ছবিতে দেখা যায়, ঝিরি-ঝরনার পাথর দাঁড়িপাল্লায় তোলা হয়েছে, তার নিচে একটি কাঁকড়া। কোটি বছর ধরে বালুকণা জমে সৃষ্ট পাথর বিক্রি হচ্ছে, অপর দিকে এই পাথর যার আবাস, সেই কাঁকড়ার অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে উঠছে।

শিল্পী খিং সাই মং মারমার ছবিতে হাইপাররিয়েলিজম অর্থাৎ অতিবাস্তবতা আর পরাবাস্তবতার মেলবন্ধন ঘটেছে। ফটোগ্রাফির নিখুঁত ডিটেইল পাওয়া যায় তাঁর ছবিতে। একই সঙ্গে পরিপার্শ্বকে বদলে দেওয়া নতুন বাস্তবতাও আবিষ্কার করে দর্শক।

প্রকৃতিঘনিষ্ঠ ১১টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবনের প্রতিচ্ছবি উঠে এসেছে খিং সাইয়ের ছবিতে। শিল্পী খিং সাই মং বলেন, তাঁর শৈল্পিক পথচলায় পাহাড়ের ভূমি, ভূমিপুত্র ও তাদের জীবনযাত্রা ভীষণভাবে প্রভাব ফেলেছে। ছবিগুলো সেই গভীর অনুভূতির প্রতিফলন। খিং সাইয়ের এটি প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী। ঢাকা চারুকলা ইনস্টিটিউটের সাবেক এই ছাত্র এর আগে দলগতভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১৫টি প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন।

চিত্র প্রদর্শনীতে সহযোগিতা করেছেন সেনাবাহিনীর বান্দরবান ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম রাকিব ইবনে রেজওয়ান। সমাপনী অনুষ্ঠানে এস এম রাকিব ইবনে রেজওয়ান বলেন, শিল্পী খিং সাই মং মারমার এই প্রদর্শনী দেখে আরও অনেকে অনুপ্রাণিত হবেন। তাঁর ছবি ভবিষ্যতে পাহাড়কে আলোকিত করবে।

শিল্পী খিং সাই মং মারমার একক চিত্র প্রদর্শনীতে ছবি দেখছেন এক দর্শক। গত শুক্রবার বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটে
শিল্পী খিং সাই মং মারমার একক চিত্র প্রদর্শনীতে ছবি দেখছেন এক দর্শক। গত শুক্রবার বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটে। ছবি- মং হাই সিং মারমা

Wednesday, November 20, 2019

চোখগুলো বিমর্ষ কেন? by রাসেল মাহ্‌মুদ

‘ডিসটেন্ট স্ক্যাইস–১১’
লাস্ট আপডেট- ১১ মে ২০১৮: চিত্রকর্মগুলোতে দৃশ্যের আড়ালে দৃশ্য, ছবির অন্তরালে লুকানো আছে ভিন্ন গল্প। এখানে যেনবা আছে গোপন কোনো সংকেত। কথাগুলো বললাম মোহাম্মদ ইকবালের সাম্প্রতিক চিত্র প্রদর্শনী নিয়ে। ‘সাইলেন্ট রিভেলেশন’ বা ‘নীরব বিপ্লব’ শিরোনামে তাঁর প্রদর্শনী দেখতে গ্যালারিতে ঢুকতেই প্রথমে দুটি প্রশ্ন করে মন। এক. ছবিতে এত চোখ কেন? দুই. চোখগুলো বিমর্ষ কেন? মানে দেয়ালের পর দেয়াল শুধু ভয়ার্ত, বিভ্রান্ত, বিস্মিত, বিষাদাক্রান্ত চোখ আর চোখ। কিন্তু কন্যাশিশুর চোখেই কেন বারবার চোখাচোখি হবে আমাদের? এই দৃষ্টি কেন এঁকে রেখেছেন শিল্পী?

শৈশবে মুক্তিযুদ্ধ দেখেছিলেন ইকবাল। এই মধ্য জীবনেও সেই যুদ্ধ ঘুরেফিরে আসে তাঁর কাছে। আসে পৃথিবীব্যাপী যুদ্ধের বিভীষিকাগুলোও। ‘যুদ্ধ’ নামের গোলকধাঁধা থেকে এখনো বের হতে পারেনি পৃথিবী। প্রতিদিন সেসব যুদ্ধে নতুন ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা বাড়ছে সিরিয়ায়, ফিলিস্তিনে, কঙ্গোতে বা ইরাকে। ইকবাল তেলরঙে এঁকে রেখেছেন যুদ্ধের সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ কন্যাশিশু এবং তাদের ওই ভয়ার্ত দৃষ্টিগুলো। এই কন্যাশিশুদের জন্য নিজস্ব বেদনার রঙে প্লাবিত হয় শিল্পীর ক্যানভাস! তবে মজা হলো, তাঁর ক্যানভাসের ভেতর থাকে আরেকটি গোপন ক্যানভাস। এটা যেন অনেকটা জাদুকরের বাক্সের ভেতর থেকে বের হয়ে আসা আরেকটি বাক্স।

চিত্রকলা নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করতে গিয়ে ইকবালের অঙ্কনরীতিতে যুক্ত হয়েছে বৈচিত্র্য। রঙের জমিন হিসেবে এখন তাঁর প্রিয় হয়ে উঠেছে জাপানি কাগজ ওয়াশি, যা এ শিল্পীর ছবিকে করে তুলেছে আরও অভিনব।
জাপানের বয়স্ক নারীরা ক্যালিগ্রাফি করেন। তাঁদের দেখে এ শিল্পে তাঁরও আগ্রহ জন্মেছিল। সেটিও তাঁর ছবিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
গ্যালারিতে গেলেই ইকবালের ছবির সঙ্গে বোঝাপড়া তৈরি করা সম্ভব। সৌন্দর্যের গুণে তাঁর চিত্রকর্ম ক্রমেই নিকটবর্তী করে চিত্ররসিককে। আর যাঁরা নতুন করে পরিচিত হন তাঁর ছবির সঙ্গে, প্রকারান্তরে তাঁরা মিলিত হন এক অস্বস্তিকর সুন্দরের সঙ্গে। যাকে ছেড়ে আসা যায় না, মুখোমুখি দাঁড়ানোও যায় না। কেবলই দূরত্ব রেখে চেয়ে থাকতে হয়।

২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আঁকা ৫০টি ছবি নিয়ে প্রদর্শনীতে ‘এক্সপ্রেশন’, ‘কনভারসেশন’, ‘পিস ইন দ্য টাইম অব ডিসকুইট’, ‘আননোন ফেস’সহ বেশ কিছু সিরিজ ছবিতে আছে নানা রঙের অভিব্যক্তি, যা প্রভাব ফেলবে অনুভূতিপ্রবণ দর্শকের চোখ থেকে মনে।
‘সিভিলাইজেশন অ্যান্ড দ্য চ্যালেঞ্জ ফর দ্য পিস টু’, শিল্পী: মোহাম্মদ ইকবাল

Tuesday, September 24, 2019

প্রকৃতিকে ভালোবেসেই শিল্পী হয়েছেন তিনি by হৃদয় সম্রাট

কারু তিতাস, একজন শিল্পী, একজন আঁকিয়ে। ৩০ বছর ধরে ক্যানভাসে রঙ দিয়ে সৃষ্টি করছেন প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানালেন কেমন করে বাংলার প্রতিটা ঋতু তাকে প্রভাবিত করেছে। সুজলা, সুফলা, শস্য, শ্যামলা এই বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য সব সময় তাকে প্রলুব্ধ করেছে তুলির আঁচড়ে সেসব দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে।
চিত্রশিল্পী কারু তিতাস
ছবির পথে যাত্রা...
শুরুটা আসলে কীভাবে হয়েছিলো সেটা সঠিকভাবে বলতে পারবো না। আমাদের বাড়িতে সবসময় আঁকাআঁকির পরিবেশ ছিল। মা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী আমাদের অনেক বড় অনুপ্রেরণা। তবু একেবারে ছেলেবেলা থেকে ছবি আঁকা শুরু করিনি। একটি ঘটনার পর থেকে আমার ছবি আঁকার প্রতি ভালোবাসা জন্মেছিল। তখন আমি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। একদিন পৃষ্ঠায় সুন্দর একটি ফুলের ছবি এঁকেছিলাম। তখন আমার মনে হলো যে, আমি কী সুন্দর একটা ফুল তৈরি করে ফেললাম! এরপর থেকেই শুরু হয় আমার নিত্য ছবি আঁকা। সেই থেকেই চলছে তুলির সঙ্গে বসবাস।
ছবি আঁকার অনুপ্রেরণা...
আমাদের পরিবারটা একটি আগাগোড়া শিল্পী পরিবার। এখানে আমরা পেয়েছি অবাধ স্বাধীনতা, শিল্পী হওয়ার সুযোগ। এই বিষয়কে অনুপ্রেরণা বলবো কিনা, ঠিক বুঝতে পারছি না, কেননা আমার পরিবার কখনও আমাদের ওপরে কোনও কিছু চাপিয়ে দেয়নি। বলেনি যে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। আমরা আমাদের পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়েছি। যেমন আমার ইচ্ছা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় পড়াশোনা করার। আমি তাই করেছি। সবাই সাদরে গ্রহণ করেছে। আর একটি কথা না বললেই নয়, আসলে বাংলাদেশের প্রকৃতির বৈচিত্র্যই আমার ছবি আঁকার প্রেরণা। এই প্রকৃতিতে নেশা আছে।
চিত্রশিল্পী কারু তিতাস
ভালোবাসার নাম বাংলাদেশ...
অনুপ্রেরণা বা ভালোবাসার কথা যদি বলতে চাই তবে বলতে হয় বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্যের কথা। আমার মতো চিত্রশিল্পীদের জন্য এই দেশের কোনও বিকল্প হয় না। কেননা প্রতিনিয়ত এই দেশের ঋতু পরিবর্তন হয় যেমনটা অন্য কোনও দেশে হয় না। আর সবচেয়ে ভালো লাগে যে ২০ মাইল অন্তর অন্তর এই দেশের বাতাসের পরিবর্তন ঘটে। আর দেশের প্রকৃতিক পরিবেশতো অসাধারণ, একেকটি জায়গা একটি বিশেষত্ব নিয়ে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের ভাণ্ডার খুলেছে। আর এসব কারণে আমার ঘুরতে ভীষণ ভালো লাগে। তবে ঢাকা ছাড়া যেকোনও স্থানে ঘুরতে যেতে আমি আগ্রহী। যখনই সময় পাই তখনই ঘুরতে বের হয়ে যাই। একবার চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠেছিলাম, ট্রেনটি চলতে চলতে হঠাৎ এক স্টেশনে থেমে যায়। সেখানকার পরিবেশটা এতটাই নীরব আর সুন্দর ছিল যে, আমি ট্রেন থেকে নেমে যাই।
তরুণদের জন্য কিছু কথা...
ছবি আঁকা কাজটি করতে হয় ধৈর্য আর ভালোবাসা নিয়ে। আপনার মাথায় যদি সারাদিনের কর্মব্যস্ত দিকগুলো নিয়ে চিন্তা থাকে তবে আপনি কখনও ভালো ছবি আঁকতে পারবেন না। আর আরেকটা বিষয় হচ্ছে, এখানে কোনও শর্টকাট ওয়ে নেই। কোনটা ছবি আর কোনটা ছবি না, তা সময়ই একদিন বলে দেবে। ঠিক যেমন একটি কবিতা সব ভেঙেচুরে কবিতা হয়ে ওঠে।
শপিং ব্যাগের উপর এঁকেছেন ছবি
চলছে অবিরাম আঁকাআঁকি
ছবি নিয়ে বাংলাদেশের মতো একটি জায়গায় কাজ করা খুবই কঠিন বিষয়। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আর ছবি তো একটি সময়োপযোগী ব্যাপার। সময় বলে দেবে কী হবে। এই মুহূর্তে শিল্পাঙ্গনে চলছে আমাদের ২৯ জন শিল্পীর বর্ষা বিষয়ক প্রদর্শনী। এখানে আমরা কাজ করেছি বর্ষণমুখর বাংলাকে নিয়ে। আমাদের প্রতিটি ছবিতেই বাংলাদেশের বর্ষাকালের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি ছবির মেঘ, বাতাসের ভাঁজ আর পরিবেশটার দিকে তাকালেই বর্ষার ছোঁয়া পাবেন শিল্পপ্রেমীরা। প্রদর্শনীটি চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
ক্যানভাস তুলি নিয়েই পথচলা...
ছবি ছাড়া আমি আমার দিন শুরু করতে পারি না। আর নির্দিষ্ট করে এক বিষয় ধরে বেশিদিন বসে থাকতে পারি না। যেমন আমি ফুলের ছবি আঁকছি, কিন্তু আমি বেশি দিন ফুল আঁকতে পারি না। আমাকে পরিবর্তন করতে হয় ছবি আঁকার বিষয় বা মাধ্যম। এখন যেমন কাজ করছি বিভিন্ন শপিং ব্যাগের উপর। ইচ্ছা আছে এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু কাজ করার। ২০২০ সালে ছবির একটি প্রদর্শনীর পরিকল্পনাও রয়েছে। ছবি নিয়েই জীবন শুরু, ছবি নিয়েই শেষ দিন পর্যন্ত থাকতে চাই।
শপিং ব্যাগের উপর এঁকেছেন ছবি
>>ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

Monday, November 19, 2018

৯ কোটি ডলারে বিক্রি হলো ডেভিড হুকনির চিত্রকর্ম

প্রখ্যাত ব্রিটিশ চিত্রকর ডেভিড হুকনির একটি চিত্রকর্ম নিলামে রেকর্ড পরিমাণ অর্থে বিক্রি হয়েছে। নিউ ইয়র্কের ক্রিস্টিতে নিলামে তার ওই ছবিটি নয় কোটি মার্কিন ডলারের বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। জীবিত যেকোনো শিল্পীর কাজের অর্থমূল্যের ক্ষেত্রে এটি নতুন একটি রেকর্ড। প্রোট্রেট অব অ্যান আর্টিস্ট নামের ছবিটি আট কোটি ডলারে বিক্রি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে সাত কোটি ডলার দর ওঠার পর টেলিফোনে অংশ নেওয়া দুই নিলামকারীর দশ মিনিটের দামাদামিতে এর দর নতুন রেকর্ড গড়ে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জেফ কুনসের। ২০১৩ সালে তার স্টেইনলেস স্টিল বেলুন ডগ বিক্রি হয়েছিল ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারে। শুক্রবার নিউ ইয়র্কের নিলাম কক্ষটি চূড়ান্ত হাতুড়ির শব্দের পর করতালিমুখর হয়ে ওঠে। কমিশন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এখন শিল্পকর্মটি পেতে ক্রেতাকে নয় কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে। ১৯৭২ সালে ছবিটি এঁকেছিলেন বর্তমানে ৮১ বছর বয়স্ক ডেভিড হুকনি। ইয়র্কশায়ারের এই চিত্রকরের সবচেয়ে স্বীকৃত ছবিগুলোর অন্যতম এটি। ১৯৭২ সালে নিউ ইয়র্কের আন্দ্রে এমিরেক গ্যালারিতে ছবিটির প্রথম প্রদর্শনী হয়। নিলাম প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টি বলেছে, এটি আধুনিক যুগের অন্যতম সেরা মাস্টার পিস। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে হুকনির আরেকটি ছবি বিক্রি হয়েছিল ২ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলারে। সেটিই ছিল সর্বোচ্চ দরে বিক্রি হওয়া তার কোনও শিল্পকর্মের দাম।

Sunday, October 7, 2018

বৈচিত্র্যময়তার অনন্য বিন্যাস ‘ঊর্মিমুখর’

মানুষ যা পায়, তা নিয়ে সে কখনোই সন্তুষ্ট থাকে না। তাই সে নিজেকে প্রতিনিয়ত অতিক্রম করতে চায়। মানুষ নিজেকে নিয়ে আত্মতৃপ্ত নয়, তার বড় প্রমাণ হলো শিল্প। কথাগুলো অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ-এর। সত্যিই শিল্পী তার শিল্প নিয়ে নিমগ্ন থাকেন নিরন্তর। আর সেই চর্চা তাকে নিয়ে যায় পরিবর্তন আর পরিবর্ধনের মধ্য দিয়ে উৎকর্ষতার চূড়ায়। কিন্তু একজন শিল্পীর কাছে তার প্রথম শিল্পকর্মের প্রদর্শনী আবেদন একেবারেই অন্যরকম। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ-এর সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলতে হয় একজন শিল্পীর একক প্রদর্শনী সেই শিল্পীর জীবনে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বিষয়।  বৈচিত্র্যময়তার অনন্য বিন্যাসের সমাহার খুঁজে পাওয়া যায় ‘ঊর্মিমুখর’ প্রদর্শনীতে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন আর্টস থেকে ইলাস্ট্রেশনে গ্র্যাজুয়েট তমা সাহার রঙের নানা মাধ্যম ফুটিয়ে তুলেছেন তিরিশের অধিক ছবিতে। শিল্পীর আঁকা একেকটি ক্যানভাস যেন কথা বলে একেকটি গল্পের; একেকটি মাধ্যমের। একেকটি ছবি যেন কথা বলে এককটি প্রস্ফুটিত শিল্পের। শিল্পীর আঁকা আন্দামান সিরিজের তিনটি ছবি তিনরকম প্রকাশ। বিলয় আন্দামান, বুদ্ধা আন্দামান আর মিস্ট্রি অব আন্দামান। আন্দামানের ত্রিমাত্রিক প্রকাশ এই ছবিগুলো। অন্যদিকে পেন্সিলে স্কেচে করা স্টিল লাইফের অনন্য প্রকাশ দেখা যায় কম্পোজিশন, ল্যাজিনেস বা ইনানিমেটেড লাইফ-এ। যেখানে যান্ত্রিক জীবন আর চলমান জীবনের নানা মাত্রিক প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। দেব দেবীর মুখ আমাদের কাছে অতি পরিচিত। কিন্তু শিল্পী তমা সাহা সেই পরিচিত মুখগুলোকেই শিল্পীর চোখে নিয়ে এসেছেন ভিন্নতা। তার প্রকাশ আমরা দেখি এনচান্টিং শঙ্করী-১, এনচান্টিং শঙ্করী-২, লর্ড গজানন-১, লর্ড গজানন-২-তে। ফ্রয়েডিয় মনস্তত্ত্বে আমরা স্বপ্নের নানা ব্যাখ্যার কথা জেনেছি। কিন্তু একজন শিল্পী তার রং তুলির মাধ্যমে স্বপ্নের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা নিয়ে হাজির হয়েছেন। শিল্পী তার ড্রিম অব ডল-১, ড্রিম অব ডল-২, ড্রিম অব ডল-৩, ড্রিম অব ডল-৪-এ স্বপ্নের ভিন্নতা নিয়ে হাজির হয়েছেন। আবার মিশ্র মাধ্যমের আলগেই-১২, আলগেই-২, আলগেই-৩, আলগেই-৪ কথা বলে জীবনের নানা বৈচিত্র্যময়তার।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে তমা সাহার প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী ‘ঊর্মিমুখর’-এর সাতদিনের আযোজনের সূচনা লগ্ন যেন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছিল শিল্পবোদ্ধাদের উপস্থিতিতে। 
প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ যা দেখি শুধু সেটাই কল্পনা করি, তার বাইরে করতে পারি না। কিন্তু যারা শিল্পী, তারা পৃথিবীর বাইরের কোনো পরাবস্তু নিয়ে কল্পনা করে শিল্পের মাধ্যমে তা উপস্থাপন করতে পারে। তমার সেন্টলেস ব্লু ক্লিটোরিয়া-২ তেমনই একটি ছবি। শিল্পের নিরলস সাধনা না থাকলে সেটা সম্ভব না। আর পেইন্টিং হচ্ছে সকল সুন্দরের প্রতিফলিত রূপ। চিত্রশিল্পী তমা সাহা তেমনই একজন শিল্পী, যিনি তার নিজস্ব কল্পনা দিয়ে প্রকৃতির সকল সুন্দরের প্রতিচ্ছবি দেখাতে পারেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শিশু-সাহিত্যিক, সংগঠক আলী ইমাম বলেন, যন্ত্রণা না থাকলে সে শিল্প পরিণত হয় না। বিপর্যস্ত অবস্থায় একজন শিল্পী তার শ্রেষ্ঠ শিল্পকাজ তৈরি করতে পারেন। তমা সাহার আঁকা ছবির ভূয়সী প্রশংসা করে তাকে কিঞ্চিৎ যন্ত্রণাদগ্ধ হবার কথাও জানান তিনি।
নিজের প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী নিয়ে তমা সাহা বলেন, শিল্প মানেই তো আনন্দ অথবা যা মানুষকে আনন্দ দেয় সেটাই তো শিল্প। আর একজন শিল্পীর জীবন তখনই ‘শিল্পীত’ হয় যখন তার শিল্পকর্ম সবার সঙ্গে উপভোগ্য হয়। আমার যত আনন্দ আর বিস্ময়, সেটা সবার সঙ্গে উপভোগ করার জন্যই ‘ঊর্মিমুখর’।
উদ্বোধনী আয়োজনে আরো উপস্থিত ছিলেন, কার্ডিয়াক সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবির, মীর মামুনসহ চিত্রশিল্প বোদ্ধারা। তমা সাহার একক চিত্র প্রদর্শনী ‘ঊর্মিমুখর’ চলবে ১০ই অক্টোবর পর্যন্ত। প্রদর্শনী বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

Sunday, November 9, 2014

ছোট খবর

হিটলারের চিত্রকর্ম
আগামী ২২ নভেম্বর জার্মানির নুরেমবার্গ শহরে চিত্রকর্ম নিলামের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম দেখায় নিলামে ওঠা অন্যসব সাধারণ পেইন্টিংয়ের মতোই এই ছবিটিরও কোনো বিশেষত্ব চোখে পড়বে না। সাধারণই মনে হবে। কিন্তু একটু পর্যবেক্ষণ করলে যে কেউই চমকে উঠতে পারেন। কারণ জলরঙে আঁকা মিউনিখের ‘ওল্ড টাউন হল’ চিত্রকর্মটি সাধারণের চেয়ে একটু বেশি কিছুই।
ইসলামাবাদ
নতুন গোয়েন্দা প্রধান
পাকিস্তানের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স’র (আইএসআই) নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল রিজওয়ান আখতার। শুক্রবার এই দায়িত্বগ্রহণের মাধ্যমে তিনি পাকিস্তান সেনবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জহিরুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘জেনারেল আখতার আইএসআই’র পরবর্তী মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।’ ডন
নিউইয়র্ক
বিচার বিভাগের প্রধান লিঞ্চ
নিউইয়র্কের ফেডারেল প্রসিকিউটর লরেট্টা লিঞ্চকে (৫৫) নয়া এটর্নি জেনারেল হিসেবে মনোনীত করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি সাবেক এটর্নি জেনারেল ইরিক হোল্ডারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ওবামার এই মনোনয়ন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সিনেটে পাঠানো হবে। সিনেট অনুমোদন পেলে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান নারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রধান হবেন তিনি। টেলিগ্রাফ
বার্লিন
২৫ বছর পূর্তি
জার্মানি ঐতিহাসিক বার্লিন প্রাচীর পতনের ২৫ বর্ষপূর্তি উদযাপন শুরু করেছে। ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর ইউরোপের শীতল যুদ্ধের আনন্দজনক অবসান উপলক্ষে রোববার এক বিশাল অনুষ্ঠানের আগে পূর্ব জার্মানির নিপীড়নমূলক শাসন থেকে পালাতে গিয়ে নিহতদের স্মরণে তিন দিনব্যাপী এক অনুষ্ঠান চলছে। পূর্ব জার্মানিতে বেড়ে ওঠা বর্তমান জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল এ অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।