Sunday, March 9, 2025

ইফতারে রোজ এক কাপ পরিমাণ তরমুজ খেলে দেহে যে ৫ পরিবর্তন আসবে by রাফিয়া আলম

উষ্ণ আবহাওয়ায় স্বস্তিদায়ক ফল হিসেবে তরমুজ বেশ জনপ্রিয়। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল আপনি খেতে পারেন ইফতারেও। তরমুজের প্রায় ৭৫ শতাংশই পানি। তার মানে, এক কাপ পরিমাণ তরমুজ খেলে প্রায় পৌনে এক কাপ পানি গ্রহণ করা হয়। বুঝতেই পারছেন, ইফতারে তরমুজ খেলে তাতে তৃষ্ণা মিটবে, হবে রসনার তৃপ্তিও। এর সঙ্গে কিন্তু আরও কিছু ব্যাপার জড়িয়ে আছে।

আমাদের দেহের ভেতর যেসব ক্রিয়া–বিক্রিয়া চলে অবিরাম, সেগুলোর জন্য পানি অপরিহার্য। কিন্তু ইফতারের সময় দেহের চাহিদা মেটাতে গিয়ে আপনি যদি অনেকটা পানি খেয়ে ফেলেন, তাহলে পুষ্টিকর অন্যান্য খাবার খুব একটা খেতে পারবেন না। অর্থাৎ পানি ছাড়া অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে পাবেন না। তাই এমন খাবার খাওয়া উচিত, যাতে পানি ছাড়াও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। বিভিন্ন ফলমূল থেকে আপনি পানি, আঁশ এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পাবেন।

আর ফল খেলে খিদেও খানিকটা মিটবে। কেউ যদি ইফতারের একটি পদ হিসেবে রোজই তরমুজ খান, তাহলে ব্যাপারটা কেমন দাঁড়ায়—জানালেন রাজধানীর আজিমপুরের গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ফাতেমা আকতার।

শক্তিতে ভরপুর

ইফতারের পর ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে আসতে চায় অনেকেরই। তরমুজে কেবল পানি নয়, রয়েছে পটাশিয়াম আর ম্যাগনেশিয়ামও। অতিরিক্ত ক্লান্তির পেছনে অনেক ক্ষেত্রেই পানি ও ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি দায়ী হয়ে থাকে। পেশির স্বাভাবিক কাজের জন্যও পটাশিয়াম প্রয়োজন। তাই ইফতারে মোটামুটি এক কাপ পরিমাণ তরমুজ খেলে আপনি ইফতারের পর খুব বেশি ক্লান্তি অনুভব করবেন না। রাতের বেলা অন্যান্য কাজও সারতে পারবেন সহজে।

ব্যায়ামে স্বস্তি

ব্যায়াম করতে গিয়ে যদি আপনি পানিশূন্য হয়ে পড়েন, তাহলে হুটহাট পেশিতে টান পড়তে পারে। রমজান মাসে রাতে ব্যায়াম করেন অনেকেই। ইফতারে এক কাপ তরমুজ খেলে তাঁরা উপকার পাবেন। পেশিতে টান লাগার মতো সমস্যার ঝুঁকি কমবে। তা ছাড়া তরমুজে থাকা সাইট্রুলিন নামের অন্য একটি উপাদানের কারণেও পেশিতে টান লাগার প্রবণতা কমে। তাই ইফতারে তরমুজ খেলে রাতে আপনি বেশ স্বস্তিতেই শরীর চর্চা করতে পারবেন। সাইট্রুলিন কিন্তু হৃৎপিণ্ডের জন্যও ভালো।

পেট ঠিকঠাক

ইফতারে প্রচলিত ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া হলে হজমে গণ্ডগোল হতেই পারে। তাই সহজে হজম হয়, এমন খাবার খেতে বলা হয়। তরমুজ হজম হয় সহজে, আর অন্যান্য খাবারের হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তাও করে। এক কাপ তরমুজ খেলে আপনার পেটও খানিকটা ভরবে। তাই ভাজাপোড়া খাওয়ার পরিমাণ কমানোও সহজ হবে। তা ছাড়া তরমুজে পর্যাপ্ত পানির সঙ্গে খানিকটা আঁশও থাকে। তাই নিয়মিত তরমুজ খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য এড়ানোও সহজ হবে।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি

তরমুজে রয়েছে ভিটামিন সি। আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং অন্যান্য বহুবিধ কারণে যেসব সাধারণ রোগবালাইয়ের ঝুঁকি থাকে, সেগুলো প্রতিরোধ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে এই ভিটামিন সি। তাই রোজ তরমুজ খাওয়া নিঃসন্দেহেই দারুণ অভ্যাস।

মসৃণ ত্বক

পানি ও ভিটামিন সি ছাড়াও তরমুজ থেকে পাবেন ভিটামিন এ। ত্বকের সুস্থতার জন্য এ সব উপাদানই আবশ্যক। পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে ত্বক রুক্ষ ও মলিন হয়ে পড়ে। তাই মসৃণ, সুন্দর ত্বকের জন্য আপনার কাজে আসবে এক কাপ তরমুজ। ইফতারে রোজ তরমুজ খেলে ঈদের আগে ত্বক থাকবে প্রাণবন্ত।

এক কাপ পরিমাণ তরমুজ খেলে প্রায় পৌনে এক কাপ পানি গ্রহণ করা হয়
এক কাপ পরিমাণ তরমুজ খেলে প্রায় পৌনে এক কাপ পানি গ্রহণ করা হয়। ছবি: ফ্রিপিক

গাজা নিয়ে আরব পরিকল্পনায় সমর্থন বৃটেন ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির

গাজা নিয়ে পাল্টাপাল্টি শান্তি পরিকল্পনা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা শান্তি পরিকল্পনার পাল্টা শান্তি পরিকল্পনা দিয়েছেন আরব নেতারা।  তাদের এই পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কান্ট্রিজ (ওআইসি), বৃটেন এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ। গাজাবাসীকে উৎখাত করে সেখানে ‘রিভেইরা’ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তার প্রস্তাবের বিপরীতে গিয়ে মিশরের নেতৃত্বে আরব জাহান নতুন পরিকল্পনা উত্থাপন করেছে। এই পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়েছেন বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এই চারটি দেশ যৌথ এক বিবৃতিতে বলেছে, আরবদের উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা। শান্তি পরিকল্পনাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ এক ইঙ্গিত বলে আরবদের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন তারা। কিন্তু মিশরের গৃহীত শান্তিপরিকল্পনা মঙ্গলবার গ্রহণ করেছেন আরব নেতারা। তাদের পরিকল্পনা ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশ অনুমোদন করলেও প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল ও ট্রাম্প।

আরবদের পরিকল্পনায় গাজাকে পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৫৩০০ কোটি ডলার। এজন্য গাজাবাসীকে তাদের উপত্যকা ছাড়তে হবে না। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্র ও আরব জাহানের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক এক লড়াই শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে আরবদের, বিশেষত নির্যাতিত, নিপীড়িত গাজাবাসীর পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বৃটেন সহ ইউরোপের ওই দেশগুলো। সামনের দিনগুলোতে গাজাকে সমর্থনকারী দেশের তালিকা দীর্ঘ হতে পারে। অনলাইন আল-জাজিরা বলছে, গাজাবাসীর জন্য সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল। তাদেরকে ‘ভাতে মারবো, কাপড়ে মারবো, গুলি করে মারবো’- যেন এমন নীতিতে পৌঁছে গেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রথম দফা চলাকালেও তিনি গাজাবাসী, পশ্চিমতীরের ওপর হামলা চালিয়েছেন। রাফায় হত্যা করেছেন আরও দুই ফিলিস্তিনিকে।

গাজায় সপ্তাহব্যাপী চলছে ব্লকেড। এর ইতি ঘটানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে জাতিসংঘসহ বিশ্ববাসীর পক্ষ থেকে। কিন্তু বৈশ্বিক সেই আহ্বানকে উপেক্ষা করছেন নেতানিয়াহু। এর কারণ, তিনি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। এমনিতেই তাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সমর্থন দিচ্ছেন ট্রাম্প। জো বাইডেন বলেননি গাজাবাসীকে উৎখাত করে সেখানে ‘রিভেইরা’ বানানো হবে। কিন্তু ট্রাম্প বলেছেন। তিনি বলেছেন, গাজাবাসীকে গাজা থেকে অন্য দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে। এতে আরও উজ্জীবিত নেতানিয়াহু। তার চোখেমুখে হাসি লেগেই আছে। কিন্তু বিবেক বিক্রি করে দেননি বৃটেন সহ ইউরোপের নেতারা। তারা দিব্যচোখে দেখতে পাচ্ছেন গাজাবাসীর ওপর কী নিষ্ঠুর, নৃশংস অত্যাচার, হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে এবং হচ্ছে। ফলে ট্রাম্পের ‘মিডল ইস্টার্ন রিভেইরা’ দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ওআইসি, বৃটেন, ইউরোপের অনেক দেশ। এমন অবস্থায় গাজায় ওষুধ, খাদ্য সহ অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্রের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ব্লকেড তুলে নিতে ইসরাইলকে চারদিনের সময় বেঁধে দিয়েছে ইয়েমেনের হুতিরা।

 তারা সতর্ক করে বলেছে, যদি এর মধ্যে ব্লকেড তুলে নেয়া না হয় তাহলে নতুন করে নৌপথে অভিযান চালানো হবে। ওদিকে গাজার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় দফা নিয়ে আলোচনার জন্য মিশরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শনিবার আলোচনা করছিলেন হামাসের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল। গাজার ওপর থেকে ব্লকেড তুলে না নিলে, যুদ্ধবিরতি না করলে হামাসের হাতে এখন যে কয়েকজন জিম্মি আছেন, তাদেরকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছে তারা। কমপক্ষে ৫০ জন মুক্ত জিম্মি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কাছে চিঠি লিখেছেন। তাতে গাজায় যুদ্ধবিরতি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের অনুরোধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, গাজায় এখনও যেসব জিম্মি আটক আছেন, তাদের মুক্তি নিশ্চিত করতে। শনিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় নারী দিবস। এ দিন গাজার মিডিয়া অফিস থেকে বলা হয়েছে- এ পর্যন্ত যুদ্ধে কমপক্ষে ১২,৩১৬ জন ফিলিস্তিনি নারীকে হত্যা করেছে ইসরাইল।

ওদিকে গাজা উপত্যকায় এই পবিত্র রমজানে ইসরাইলের ব্লকেড অতিক্রম করেছে সাত দিন। ফলে গাজার নির্যাতিত মুসলিমরা খেয়ে না খেয়ে পালন করছেন পবিত্র রমজান। তাদের কাছে সাহায্য নেই, কোনো খাবার নেই, কোনো ওষুধও নেই। তারা হারিয়েছেন ঘরবাড়ি, আয়ের পথ। সবকিছু।  এমন এক পরিস্থিতিতে সমস্ত পণ্যের দাম আকাশ ছোঁয়া। এজন্য বাড়তি দামে পণ্য কেনার সামর্থ্য হারিয়েছেন গাজাবাসী। অসংখ্য ফিলিস্তিনি এই পরিস্থিতিতে পড়ে ইফতার করার মতো সামান্য খাবারও জোটাতে পারছেন না। তাদের ফুরিয়ে গেছে রান্নার গ্যাস। সামান্য কিছু জোগাড় করতে পারলেও তা সিদ্ধ করতে খুঁজে বেড়াতে হচ্ছে কাঠ। সব মিলে গাজায় মানবিক অবস্থা ধসে পড়েছে। তারা অখণ্ড অপেক্ষার সময় কাটাচ্ছে- কখন একটা সুসংবাদ শুনবে যে, সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেয়া হয়েছে।

ওদিকে লন্ডনের বিগবেন টাওয়ার ফিলিস্তিনের পতাকা দিয়ে ঢেকে দিয়েছে এক ব্যক্তি। প্যালেস অব ওয়েস্ট মিনস্টারের পাশে এ সময় ওই ব্যক্তি আরোহন করে ফ্রি প্যালেস্টাইন বলে চিৎকার করতে থাকে। মেট্রোপলিটন পুলিশের এক মুখপাত্র বলেছেন, বিষয়টি নিরাপদ সমাপ্তির চেষ্টা করছেন তারা।

mzamin
গাজার অধিবাসীদের গাজা ছেড়ে চলে যাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন কিছু মন্ত্রী । যদি তারা না যান, তাহলে গাজায় ‘নরকের দরজা’ খুলে দেবেন। এর আগে গত রোববার ইসরাইল সরকার জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রিসহ সব পণ্য গাজায় সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। জোর যার মুল্লুক তার- পরিস্থিতি সর্বশেষ এমন পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে। এর কড়া নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘর মানবাধিকার বিষয়ক কমপক্ষে ২০ জন নিরপেক্ষা অধিকারকর্মী, বিশেষজ্ঞ। ওদিকে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে, ১৯৯৭ সালের পর ইসরাইলি বংশোদ্ভূত মার্কিন জিম্মিদের মুক্তি ও গাজা যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনা হচেছ হামাসের সঙ্গে। এর আগে হামাসকে গাজায় সব ইসরাইলি জিম্মি মুক্তি দেয়ার শেষ সতর্কতা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে  ইসরাইল সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কড়া নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের ওই বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া এবং গাজায় নরকের দরজা খুলে দেয়ার যে হুমকি দিয়েছে ইসরাইল, তা হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। এতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হয়। শান্তির প্রত্যাশা বিপন্ন হয়। বৃহস্পতিবার ওই বিশেষজ্ঞরা একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। এর আগে ইরাইলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিপরিষদ থেকে ঘোষণা দেয়া হয় যে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে যেতে প্রস্তুত। অনেক মন্ত্রী প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন যে, যুদ্ধবিধ্বসত গাজাকে নরকের দরজায় পরিণত করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বিবৃতিতে বলেন, তাদের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন। একটি দখলদার বাহিনী হিসেবে ইসরাইলের আইনগত কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। নিশ্চিত করতে হবে পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা, মেডিকেল সরঞ্জাম সরবরাহ ও সব রকম ত্রাণের প্রবাহ। বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, বিকলাঙ্গদের সাপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ সব সেবাখাতকে অবরুদ্ধ করে মানবাধিকার সহায়তাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরাইল। তাদের এসব কর্মকান্ড আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার বিষয়ক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন।  রোম স্ট্যাটু-এর অধীনে মানবতার বিরুদ্ধে একে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধ হিসেবে দেখা যেতে পারে। এসব নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের মধ্যে আছেন ফ্রাসেস্কা আলবানিজ। তিনি দখলীকৃত ফিলিস্তিন ভূখন্ডের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিউর। মাইকেল ফাখরি। তিনি খাদ্য অধিকার বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর। তারা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি জাতিসংঘের কাছে তুলে ধরেন। নিরপেক্ষ এসব বিশেষজ্ঞ কাজ করেন স্বেচ্ছাভিত্তিতে। তারা জাতিসংঘের সদস্য নন এবং তাদের কাজের জন্য কোনো বেতনও পান না।



চারজন গ্রেপ্তার: বাঁচা-মরার লড়াইয়ে সেই শিশুটি

শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়াতে মাগুরায় পাশবিকতার শিকার আট বছর বয়সী শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ স্থানান্তর করা হয়েছে। গতকাল বিকাল ৫টার দিকে তাকে কার্ডিয়াক এম্বুলেন্সে করে সিএমএইচে পাঠানো হয়। এ সময় তার সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ছিলেন। দুপুরে ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে যান সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন মুর্শিদ। উপদেষ্টার নির্দেশ ও শিশুটির চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে শিশুটিকে সিএমএইচে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন শিশুটির মা। মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তবে শিশুটির বাঁচা-মরার বিষয়ে শঙ্কা রয়েছে। কারণ এখনো সে অচেতন। নিজ থেকে নিঃশ্বাসও নিতে পারছে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারেননি। বরং অনিশ্চয়তার কথা বলেছেন। 

গতকাল দুপুরেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছিলেন, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভেন্টিলেটর যন্ত্রের সাহায্যে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে। পাশবিক নির্যাতনের কারণে শিশুটির যৌনাঙ্গে ক্ষত রয়েছে। তার গলার আঘাত গুরুতর। শিশুটির চিকিৎসায় গাইনি, এনেস্থেসিওলজি, শিশু সার্জারি ও শিশু বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা এই শিশুটি মাগুরা শহরে বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে মাগুরা থেকে পাঠানো হয় ফরিদপুর মেডিকেলে। সেখান থেকে অচেতন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। এখানকার চিকিৎসকরা তার অবনতি দেখে সিএমএইচে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায়। শিশুটি কয়েকদিন আগে তার বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার বোনের শাশুড়ি। পরে শিশুটির মা হাসপাতালে আসেন। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করে দেখা গেছে, শিশুটির গলায় একটা দাগ আছে। মনে হচ্ছে, কিছু দিয়ে চেপে ধরা হয়েছিল। শরীরের বেশ কিছু জায়গায় আঁচড় আছে। তার যৌনাঙ্গে রক্তক্ষরণ হয়েছে।

গতকাল হাসপাতালে দেখতে গিয়ে উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যে মেয়েটি মেয়ে হয়ে ওঠেনি, নারী হয়ে ওঠেনি তার গায়ে হাত দেয় কী করে। যারা আট বছরের শিশুর গায়ে হাত দিল এই কাপুরুষগুলো পুরুষ হয়ে চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সমাজ সুস্থ আছে কি না সেই প্রশ্ন রেখে এই উপদেষ্টা বলেন, আমি ছয় মাস হলো এসেছি, আর এর মধ্যে এই পচে যাওয়া সমাজকে বদলে দেবো! বাচ্চাটা জীবন নিয়ে লড়ছে। ডাক্তাররা জানে না তাকে বাঁচাতে পারবেন কি পারবেন না। তারা কাজ করছে, তরুণ ছেলে-মেয়েরা প্রতিবাদ করছে। আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। এই বাচ্চাটা যেন সর্বোচ্চ বিচার পায়। বারবার এই ঘটনাগুলো ঘটছে, এগুলো ঘটতে দেয়া যাবে না।

হাসপাতালে গিয়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় এসবের বিচার হয়নি। এ কারণেই এসব দমন হয়নি। তারা উল্টো এ সমস্ত ঘটনাকে সমর্থন করেছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এমন ঘটনা অপ্রত্যাশিত। একের পর এক ঘটনা ঘটছে।

গতকাল দেখা যায়, ঢামেকের পিআইসিইউ’র সামনে শিশুটির মা, বাবা ও অন্যান্য স্বজনরা অপেক্ষা করছিলেন। তার মা বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। ওনার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। তিনি সব দায়িত্ব নিয়েছেন। সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তারেক রহমান ও দেশবাসীর কাছে আমি দোয়া চাচ্ছি। মেয়ের বর্তমান অবস্থার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মেয়েটা এখন লাইফ সাপোর্টে আছে। তার অবস্থা ভালো নয়। এতটুকু বাচ্চাকে কিভাবে যে অত্যাচার করেছে সেটি হয়তো আপনারা শুনেছেন কিন্তু দেখতে তো পারেননি। তার শরীরে কতোগুলো আঘাত করেছে। মেয়েকে নির্যাতনের সঙ্গে কারা জড়িত জানতে চাইলে তিনি বলেন, বড় মেয়ের শ্বশুর, ভাসুর ও তার জামাই তিনজনই নির্যাতন করেছে। মেয়ের জামাই আগেও বিয়ে করেছিল সেটা আমরা জানতাম না। মেয়ের শ্বশুরের বিরুদ্ধে আগেও দু’টি মেয়েলি কেস ছিল। সেখান থেকে খালাস পেয়েছেন। এই মামলা থেকে যাতে খালাস না পায়। এর সর্বোচ্চ শাস্তি যাতে হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে জঘন্যভাবে যারা নির্যাতন করেছে, তাদের ফাঁসি দিয়ে দিক। যাতে আর কোনো মা-বোনের দিকে তারা চোখ তুলে তাকাতে না পারে।

এদিকে, শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করেছেন তার মা। শনিবার ভুক্তভোগীর বোন ও তার বাবার মাধ্যমে মাগুরা সদর থানায় এজাহার পাঠান তার মা। পরে বিকালে পুলিশ মামলা হিসেবে রুজু করে। মামলায় শিশুটির মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪) এর ক/৩০ ধারায় ধর্ষণ ও ধর্ষণের মাধ্যমে আহত করার অভিযোগ এনেছেন। মামলায় ভুক্তভোগীর বোন জামাই, বোনের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাসুরকে আসামি করা হয়। তারা আগে থেকেই পুলিশ হেফাজতে ছিলেন। পরে মামলা রুজু হওয়ার পর তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।  

ওদিকে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে গতকাল জুমার পর মাগুরা সদরে মহাসড়ক অবরোধ ও থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন ছাত্র-জনতা। এ সময় থানার মূল ফটক ঘেরাও করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তাদের হাতে তুলে দেয়ার দাবি তোলেন। পরে সেনাবাহিনী এসে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

mzamin

বদনজর ডেভিলদের: টাকার খনি পূর্ব সিলেট by মিজানুর রহমান

সরকার বদল হলেই ডেভিল বদলায়। সামরিক-বেসামরিক সব সরকারের আমলে একই হাল। স্থানীয় কিছু আছে ‘পার্মানেন্ট পাওয়ার পার্টি’। তারা সব আমলে সক্রিয়। পথ-ঘাট চেনার কারণে বহিরাগত রাজনৈতিক ডেভিলদের কাছে তারা অপরিহার্য। তাদের নিজের কোনো পুঁজি খাটাতে হয় না। তাদের অবস্থা লাসভেগাস, সিঙ্গাপুর কিংবা হংককের ক্যাসিনোতে থাকা পার্মানেন্ট জুয়াড়িদের মতো। যারা নিজের অর্থে খেলে না। তবে তারা সার্টিফিকেট বা কার্ডধারী জুয়াড়ি। দামি ক্যাসিনোতে কোটি কোটি ডলার তাদের কার্ডেই ট্রানজেকশন হয়। রেকর্ডে তারা ক্যাসিনোর একেকজন সম্রাট। চোরাচালান রাজ্য পূর্ব সিলেটেও এমন অনেক জুয়াড়ি আছে।

সরকার বদল হওয়ার পর ওই জুয়াড়িরাই নতুনদের পথ দেখায়। তাদের অর্থকড়ি তেমন খরচ হয় না। ঢাকা বা সিলেট থেকে যাওয়া নতুন ডেভিলদের নিয়ে তারা টাকার খেলায় মেতে ওঠেন। পাথর-বালু লুট, চিনি চোরাচালান, স্বর্ণ পাচার, মাদক আমদানি কোথায় নেই তারা। সিলেট-তামাবিল সড়কের দু’পাশের জনপদকে পূর্ব সিলেট ধরা হয়। সেই সড়ক ঠেকছে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে থাকা শহর ডাউকি, শিলংয়ে। পূর্ব সিলেট প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। এখানেই দেশের প্রথম গ্যাস ক্ষেত্র হরিপুর। গোটা অঞ্চল টাকার খনি। যার অন্যতম জাফলং। সেখানকার দিনের মায়াবি পরিবেশ রাতে ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। কাঁচা টাকা নিয়ে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে জড়ো হন। দামি গাড়িতে চড়া সেই মাফিয়াদের টাকার কাছে স্থানীয়রা অসহায়। পূর্ব সিলেট পাথর লুট আর চোরাচালানের এক স্বর্গরাজ্য। ২০০৯ সাল, মহাজোট সরকারের তখন শুরু। পরিচিত-অপরিচিত সব ক্ষমতার চোখ আটকে যায় প্রকৃতি কন্যায়। সিলেট আওয়ামী লীগের এমন কোনো নেতা নেই জাফলংয়ে যার চোখ পড়েনি। গত ১৫ বছর ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ ছিল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রঞ্জিত সরকার, বিধান কুমার সাহা ও নাসির উদ্দিন খানের। পেছনে ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। তিনি ছিলেন পর্দার অন্তরালের আসল খেলোয়াড়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদের শক্তিমত্তার জেরে জাফলং শাসনে সর্বপ্রথম মাঠে নামেন জৈন্তাপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলোচিত লিয়াকত আলী। তিনি এখন শত শত কোটি টাকার মালিক। শুরু থেকেই তার দাপট। সঙ্গে মাঠে ছিলেন সিলেটের রঞ্জিত বলয়ের নেতা আনোয়ার হোসেন আনু, বাবলু বখত, যুবলীগ নেতা কালা মালেক, জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রাজা, আব্দুল আলিম ওরফে কালা আলিম, পূর্ব জাফলং ছাত্রলীগ সম্পাদক সাব্বির হোসনে সাজন। শুরুর দু’বছরে জাফলং থেকে লুট হয় হাজার কোটি টাকার পাথর। পরবর্তীতে লিয়াকত গ্রুপকে সরিয়ে জাফলংয়ের নিয়ন্ত্রণে নেয় আলোচিত লেবু চেয়ারম্যান পরিবার। আচমকা নেতৃত্বে আসেন গোয়াইনঘাট কলেজের অধ্যক্ষ ও এমপি ইমরান আহমদের আরেক আস্থাভাজন ফজলুল হক। তার সিন্ডিকেটের প্রধান ছিলেন ইমরান হোসেন সুমন ওরফে জামাই সুমন, ছাতকী আলাউদ্দিন, বিশ্বনাথী ফয়জুল, ট্রাক শ্রমিক নেতা সমেদসহ কয়েকজন। প্রায় ১৩ বছর জাফলং শাসন করে তারা। প্রতি বছর তারা বালু লুট করলেও ইসিএভুক্ত এলাকা হওয়ার কারণে শেষ সময়ে এসে তেমন পাথর লুট করতে পারেনি। তবে ওই সময়েও হাজার কোটি টাকার অন্য সম্পদ লুট হয়েছে। ৫ই আগস্টের পর এখন ভিন্ন পরিবেশ। পূর্বের ডেভিলরা পালিয়েছে। নতুনরা জায়গা করে নিয়েছে। জাফলংয়ের গডফাদার এখন জেলা বিএনপি’র বহিষ্কৃত যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহপরান এবং বহিষ্কৃত কোষাধ্যক্ষ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ আলম স্বপন। তারা নতুন হওয়ায় পুরনো ডেভিলদের দেখানো পথে হাঁটছেন। তাদের নেতৃত্বে সিন্ডিকেটে রয়েছে পুরনো ডেভিল আনোয়ার হোসেন ওরফে পানামা আনু, জুবের আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা লন্ডনী কামাল, ট্রাক শ্রমিক নেতা সমেদ, আমজাদ বক্স, ছাত্রদল নেতা সোহেল আহমদ, আজগর, আকবর, যুবদল নেতা আবুল কাশেম। নেপথ্যে থেকে কাজ করছে জাফলংয়ের কুখ্যাত লুটেরা হেনরী লামিন। পিয়াইন নদীর ওপারে খাসিয়া পল্লীতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে যুবদল নেতা স্ট্যালিন খাসিয়া। জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুর রশিদ চেয়ারম্যান গত দু’মাস ধরে জাফলংয়ের কোয়ারিতে অবস্থান নিয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট মতে; জাফলংয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও কোয়ারি থেকে ইতোমধ্যে কয়েকশ’ কোটি টাকার বালু ও পাথর লুট হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত ওই লুটতরাজ অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করলেও লুটপাট বন্ধ হচ্ছে না। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, জাফলং তছনছ হয়ে গেছে। পাথর লুটের রীতিমতো মহোৎসব চলছে। অভিযানে বারকি শ্রমিক এবং শ্যালো মেশিন শ্রমিকদের ধরপাকড় করা হলেও মূলহোতারা থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। জাফলং বাঁচাতে স্থানীয়রা মাঠে। গত শুক্রবার রাতেও পাথর লুট বিরুদ্ধে এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে শনিবার উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বের টাস্কফোর্সের সাঁড়াশি অভিযান হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শ্রমিক হয়রানি না করে যেন প্রকৃত হোতা অর্থাৎ রাজনৈতিক ডেভিলদের ধরা হয়।

স্মরণ করা যায়, জাফলংয়ে বালু লুটে ৫ই আগস্টের পূর্বে নেতৃত্ব দেয়া আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, সুভাষ দাশ, যুবলীগ নেতা রাসেল আহমদ, সরওয়ার আহমদ পালিয়েছে। সিলেটের নাম্বার ওয়ান ডেভিলখ্যাত রঞ্জিতের অনুসারী ছিলো তারা। জাফলং চোরাচালানের নিরাপদ রুটও। বিশেষ করে সোনাটিলা, আমসত্বপুর, তামাবিল, মিনার টিলা, জিরো পয়েন্টসহ কয়েকটি এলাকা চোরাচালানের জন্য গোটা রাতই জেগে থাকে। পূর্বে চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণ করতো পূর্ব জাফলংয়ের মেম্বার আব্দুল মান্নান, নাজিম উদ্দিন, চশমা শামীমসহ কয়েকজন। তাদের নেতৃত্বে ছিল ইমরান হোসেন সুমন ওরফে জামাই সুমন। বর্তমানে জামাই সুমন পালিয়ে গেলেও মান্নান মেম্বারের নেতৃত্বে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার চোরাকারবার অব্যাহত রয়েছে। ছাত্র-জনতার ক্ষোভের আগুনে পুড়েছে জামাই সুমনের বাড়ি ও মসলা ফ্যাক্টরি। জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম নতুন করে এই সিন্ডিকেটে যোগ দিয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এখন স্বপন গ্রুপের সঙ্গে কাশের গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলছে। কয়েক দফা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও হয়েছে।

টাকার উড়ে তামাবিল স্থলবন্দরে
গোয়াইনঘাটের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র হচ্ছে তামাবিল স্থলবন্দর। টাকা উড়ে এ বন্দরে। সাবেক এমপি ও মন্ত্রী ইমরান আহমদের ছত্রচ্ছায়ায় তামাবিলের মূল নেতৃত্ব ছিল জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম লিয়াকত আলী। ৫ই আগস্টের  পর থেকে পার্শ্ববর্তী ভারতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে সে। এ বন্দরে লিয়াকতের অন্যতম সহযোগী হচ্ছে- ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন, ফারুক আহমদ, সাবেক অধ্যক্ষ ফজলুল হক, সারোয়ার হোসেন ছেদু, রফিকুল ইসলাম শাহপরান, শাহ আলম স্বপন, জাকির আহমদ ওরফে আর্মি জাকির, ইসমাইল হোসেন, ইলিয়াস উদ্দিন লিপু, আব্দুল করিম। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- তামাবিল বন্দরে লেবার হেন্ডেলিংয়ের শতকোটি টাকা লুটে নিয়েছে ওই চক্র। লেবার হেন্ডেলিংয়ে টাকা নিলেও কোনো সেবা দেয়া হতো না। ফলে সব টাকাই লিয়াকত-জালাল সিন্ডিকেটের পকেটে গেছে। জনশ্রুতি আছে; জালাল-লিয়াকত জৈন্তাপুরের কেয়ামত। গণ অভ্যুত্থ্যানের পর বিএনপি’র বহিষ্কৃৃত নেতা রফিকুল ইসলাম শাহপরান তার ক্যাডার বাহিনী ব্যবহার করে তামাবিল বন্দরের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এ ছাড়া জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন, এডভোকেট আহাদসহ কয়েকজনকে নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করা হয়। বিতর্কের মুখে জয়নাল আবেদীন তামাবিল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। সেখানে তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন জৈন্তাপুরের ইউপি চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টি নেতা ফখরুল ইসলাম। তামাবিল বন্দরের অনিয়মের নানা অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকের কর্মকর্তারা সরজমিন তদন্ত করেন। ওই তদন্তে লেবার হেন্ডেলিংয়ে দুর্নীতির সত্যতা পায় দুদক।

চোরাচালানের হেডকোয়ার্টার হরিপুর
চোরাচালান আগেও ছিলো এখনো আছে। তবে করোনাকালে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। নিয়মিত বাণিজ্যও তখন মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু নিউ নরমাল করোনা পরিস্থিতিতে সিলেট সীমান্তে চোরাচালান অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। বানের পানির মতো নামতে থাকে চিনি। শুরুতে চিনি চোরাচালান নিয়ে পুলিশের কড়াকড়ি ছিল। স্থানীয় ছিচকে চোরাকারবারির সঙ্গে যোগসাজশে এটি মূলত রাজধানীতে সাপ্লাই হতো। ওই রুট দিয়ে যাতায়াতকারী চিনি চোরাচালানে যুক্ত ট্রাকগুলো রঞ্জিত সিন্ডিকেটকে চাঁদা না দিয়ে শাহপরান বাইপাস বা টিলাগড় পাড় হতে পারতো না। অবশ্য পরবর্তীতে তামাবিল-সিলেট তথা ঢাকা পর্যন্ত রুটে প্রভাবশালী চিনি চোরাচালান বৃহত্তর সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। স্থানীয়দের মতে, এক রাতে হরিপুর থেকে শ শ ট্রাকে করে শত কোটি টাকা পর্যন্ত চিনি চোরাচালান হতো। তার সঙ্গে ছিল মহিষ ও গরু চোরাচালান, শাড়ি, প্রসাধনীসহ নানা ধরনের পণ্য। হরিপুরের স্থানীয় সিন্ডিকেট চোরাচালানের নিয়ন্ত্রক। আওয়ামী লীগ শাসনামলে হরিপুরের মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুর রশিদ চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিক আহমদ ও বোঙারী প্রধান আবুল হোসেন। মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে ছাত্রলীগ কর্মী আলমগীর হোসেন রায়হান ও স্থানীয় ছাত্রদল নেতা শাহীন আহমদের। গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাটের অর্ধশতাধিক সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে স্রোতের মতো আসা চোরাই পণ্যের গুদামজাত হয় হরিপুরে। সেখান থেকে প্রতিদিন ২শ’ থেকে ৩শ’ ট্রাক ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রওয়ানা দিতো। ওপেন সিক্রেট এই চোরাচালানে শেল্টার ছিল পুলিশেরও। সিলেটের সাবেক এসপি (ছাত্র আন্দোলন চলাকালে যাত্রাবাড়ী অঞ্চলের র‌্যাবের কমান্ডিং অফিসার) ফরিদ উদ্দিন ও সিলেট জেলার ডিবি ইন্সপেক্টর রেফায়েত চৌধুরী এখান থেকে দু’হাতে টাকা কামিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে তারা দু’জনই সিলেট থেকে বদলি হয়ে চলে যান। হরিপুর থেকে টিলাগড় পর্যন্ত চোরাই লাইনের নিয়ন্ত্রণ ছিল সিলেটের ডন রঞ্জিতের সহযোগী কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নাজমুল ইসলামের। তাদের নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বড় একটি অংশ যুক্ত হয়ে প্রকাশ্যই চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করে। স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিন হরিপুরে চোরাকারবারির কয়েকশ’ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর হরিপুরের চোরাই রাজ্যের সেই রমরমা ভাব নেই। সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে এখন পণ্য আসা কমেছে। যেটুকু চোরাই পণ্য আসছে তার নিয়ন্ত্রকের হাত বদল হয়েছে। নতুনদের দখলে এখন হরিপুর। রিপোর্ট বলছে, পণ্য সংগ্রহে হুন্ডির মাধ্যমে শ’ শ’ কোটি টাকা পাচায় হয় ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যে।

এসপি’র বক্তব্য:
৫ই আগস্টের রক্তাক্ত অভ্যুত্থান দেশের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন নিয়েছে। কিন্তু পূর্ব সিলেটের চোরাচালান এবং পাথর-বালু লুট বন্ধ হয়নি। এজন্য পুলিশের নিস্ক্রিয়তার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন করে বদলি হয়ে আসা পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে। এসব অভিযোগ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য হচ্ছে সীমান্ত চোরাচালান ঠেকানো পুলিশের কাজ নয়। উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে দেদারসে ভারতীয় পণ্য এবং মাদক ঢুকছে স্বীকার করে মানবজমিনকে তিনি বলেন- জরুরি হয়ে গেছে ওই এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ। পুলিশের নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন- চোরাচালান পরিবহন বন্ধে সড়কে পুলিশ যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছে। কোয়ারি থেকে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকার কারণে অনেকে চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে বলে স্বীকার করেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন- গোটা জেলায় প্রায় সব পুলিশ নতুন। এসপি অফিসে খাতাপত্রও নতুন। এ অবস্থায় কাজ বুঝে নবাগত পুলিশ সদস্যরা অল্পদিনের মধ্যেই অপরাধ বন্ধে তৎপর বলে দাবি করেন তিনি। চোরাচালান বিষয়ে এসপি’র মূল্যায়ন হচ্ছে একটি চক্র বংশপরম্পরায় সীমান্তে এ অপরাধ অব্যাহত রেখেছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে অপরাধ বা পাপবোধ নেই।

mzamin


তৌহিদী জনতার নেপথ্যে কারা?

মাজারে হামলা। পত্রিকা অফিসের সামনে গরু জবাই করে জিয়াফত। বইমেলায় স্টল বন্ধের দাবিতে হানা। মামলার আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় মব। অতি সম্প্রতি এমন নানা ঘটনা ঘটছে ‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে। কারা তারা? তাদের আড়ালে বা নেপথ্যে রয়েছেন কারা? এ নিয়ে নানা আলোচনা।

ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা বলছেন, প্রতিটি মুসলমানই তৌহিদী জনতা। কিন্তু কোনো পক্ষ যদি এই তৌহিদী জনতার নামে কোনো অনৈতিক কাজ করে তা অপরাধ হিসেবেই গণ্য হবে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া উচিত। রাজনৈতিক দলের নেতারাও মনে করেন, তৌহিদী জনতার নামে যেখানে সেখানে অভিযান গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দেয়া যেতে পারে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী মানবজমিনকে বলেন, সব মুসলমানই তৌহিদী জনতা। সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া মবের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা কে বা কারা এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। এটা গণতান্ত্রিক দেশ, এদেশের যেকোনো নাগরিক যেকোনো বিষয়ে তার মতের প্রতিফলন ঘটাতে পারে, কথা বলতে পারে, প্রতিবাদ করতে পারে। এটা সাংবিধানিক অধিকার। সুতরাং এই সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে যদি কেউ কথা বলে সেখানে তো আমাদের কিছু করার নেই। রাষ্ট্র সেটি দেখবে তারা কে বা কি করছে না করছে।

বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ইমরান সালেহ প্রিন্স এ বিষয়ে বলেন, তৌহিদী জনতা নামে কারা ঝামেলা করার চেষ্টা করছে এ বিষয় নিয়ে আসলে কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরাও চাই সরকার এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। এদের নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ কাজগুলো করছে কিনা সেটা দেখা প্রয়োজন। তারা আসলে কারা। শুক্রবারও একটা নিষিদ্ধ সংগঠন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই এসে দেশকে অস্থিতিশীল করার যে চেষ্টা করেছে এটা আসলে ভাবনার বিষয়। আমরা কয়দিন আগেও দেশের নানা ধরনের অস্থিতিশীলতার কথা শুনেছি, সেসব ঘটনার সঙ্গে এদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আমরা গত ৫ই আগস্টের পর থেকে মব কালচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। এটা যেটা হচ্ছে খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং খুবই নিন্দনীয়। আমরা আহ্বান জানাচ্ছি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবশ্যই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, তৌহিদী জনতা বাংলাদেশের মতো মুসলিম দেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা মুসলিমদের জাতিসত্তার সঙ্গে মিশে আছে। বিশেষ কোনো গোষ্ঠী বা গোত্র এই বিষয়টিকে ব্যবহার করে অসম্মান করছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আর এটা দেখার দায়িত্ব মূলত রাষ্ট্রের। আমাদের আহ্বান থাকবে এই বিষয়টিকে কারা যত্রতত্র ব্যবহার করছে, এবং কি উদ্দেশ্যে করছে, তাদের সঙ্গে সংযোগ কি ইত্যাদির জন্য প্রচলিত যে আইন রয়েছে যা  রয়েছে সে অনুযায়ী প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। আমরা মব বা তৌহিদী জনতার টার্মকে ব্যবহার করে মব সৃষ্টি করার পক্ষে না। এসবের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততার কোনো সুযোগই নেই। সব বড় ধরনের বিপ্লবের পর সেখানে অনেক ধরনের ঘটনা ঘটে। এসব স্পর্শকাতর সময়গুলোতে একটু বেশি সতর্ক থাকা দরকার সরকারকে। তা না হয়ে যদি কিছু গোষ্ঠী বা ব্যক্তি যদি মবের সংস্কৃতিকে আরও উস্কে দেয় এটা রাষ্ট্রের শৃঙ্খলার জন্য হুমকির কারণ। সেজন্য আমরা নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাবো সবাই যেন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়। কারও যদি কোনো দাবিও থাকে তা যেন নিয়ম তান্ত্রিকভাবে উত্থাপন করে। কিন্তু মব তৈরি করে কোনো কিছুকে অতিমাত্রায় নিয়ে যাওয়ার পক্ষে না আমরা।    

বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি জেনারেল ড. মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, দেশে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন সংগঠন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নাম দিয়ে আবির্ভাব হয়। মেইনস্ট্রিমে তারা থাকে না। তৌহিদী জনতা এমনই কোনো গোষ্ঠী। আসলে তারা হঠাৎ করে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কাদের ইশারায়, কাদের ইন্ধনে নামে, কিছুদিনের জন্য দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলে বলা যায় না। ইসলামকে বিভিন্ন সময় বিপদে ফেলে দিবে তারাই। দেখা গেল, একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটালো তারা। কিন্তু দোষ দিয়ে দিলো আলেম-ওলামাদের উপরে। হঠাৎ করে আবির্ভাব হয়ে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে সরকার ও সকলকে সচেতন হতে হবে।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, আমরা দেখেছি যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের যারা তারা একটি ঘোষণা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। তখন কেউ তৌহিদী জনতা দাবি করেছে, কেউ বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী আবার কেউ সাধারণ জনগণ দাবি করেছে। এই মুহূর্তে আসলে এককভাবে কারা তৌহিদী জনতা সেটি নির্ণয় করা কঠিন। সে সময় থেকেই কিন্তু দেশে এ ধরনের অরাজকতা শুরু হয়েছে। তখন উপদেষ্টাদের কেউ কেউ কিন্তু এ বিষয়ে উস্কে দিয়েছে, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা তারা ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে, ভাঙার জন্য তারা নির্দেশ দিয়েছে। সরকার সে সময় কিন্তু কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীর পরিচয়ে যদি কেউ কিছু করছে, উপদেষ্টারা যখন উস্কে দিচ্ছে তখন কিন্তু কাউকে গ্রেপ্তার করছে না। তার মানে সরকার একদিকে এটাকে উস্কে দিচ্ছে নিজের লোক দিয়ে করাচ্ছে আবার এগুলো যখন মানুষ করছে তখন গ্রেপ্তার করছে আবার কাউকে ছেড়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করার পরে ধর্মীয় গ্রন্থকে আঁকড়ে ধরা, ধর্মকে আঁকড়ে ধরা এটা এক ধরনের ভণ্ডামি। সে সময় তার আশপাশে তৌহিদী জনতার পরিচয়ে যারা ছিল আমার মনে হয় তারাই এখানে মূল দোষী। ওই ব্যক্তি দোষী নাকি নির্দোষ সেটি আদালত প্রমাণ করবে কিন্তু তাকে সেভ করার জন্য থানা ঘেরাও করা, মব সৃষ্টি করা এটি আসলে কোনো ভাবেই কাম্য না। এগুলো যথাযথ তদন্ত করা দরকার। এই ঘটনায় কিন্তু কোনো ভাবেই মুসলিম বা ইসলামিক গোষ্ঠীকে অপবাদ দেয়া যাবে না। এই ঘটনা দেশের সামগ্রীক চিত্রের সঙ্গে কোনো মিল নেই। দেশের মানুষ অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় গোড়ামি বা ধর্মকে দোষ দেয়া ঠিক না।
ওদিকে রাজধানীতে তৌহিদী জনতার নামে হওয়া কিছু মবের ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে কিছু ঘটনায় একই ব্যক্তিদের দেখা গেছে। কেন, কি উদ্দেশ্যে তারা এসব করেছেন তা কিন্তু স্পষ্ট নয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিক কদরুদ্দিন শিশির এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ তথ্য  প্রকাশ করে বলেছেন, আমি সম্প্রতি ৩টি ঘটনার কিছু ছবি-ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখেছি গত নভেম্বর মাসে প্রথম আলো ও ডেউলি স্টার পত্রিকার সামনে গরু জবাই করে জিয়াফত কর্মসূচি পালন এবং নারী হেনস্তাকারী অর্ণবকে ছাড়িয়ে নিতে শাহবাগ থানায় হট্টগোলকারীদের মধ্যে ৩ জন লোক সবসময় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এদের মধ্যে ৩ জনের নাম ও পরিচয় পাওয়া গেছে।
এসব বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেছেন, আসলে এখন তৌহিদী জনতা বা অন্য যে নামেই হোক না কেন তা মূলত বাংলাদেশের সংস্কৃতির ওপর পরিকল্পিতভাবে আঘাত করা হচ্ছে।

একের পর এক ঘটনা:  গত ৫ই মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী হেঁটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন। পথে রাজু ভাস্কর্যের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ মোস্তফা আসিফ অর্ণব নামের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সহকারী বাইন্ডার এসে ওই নারী শিক্ষার্থী কেন পর্দা করেনি বলে তাকে প্রশ্ন করেন। তার ওড়না ঠিক নেই কেন বলাসহ আরও কুরুচিপূর্ণ কথা বলে তাকে হেনস্থা করেন। ওই ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রক্টর অফিসে ডেকে নেয়া হয় অভিযুক্তকে। প্রক্টরিয়াল বডির মাধ্যমে এ বিষয়ে ওই শিক্ষার্থীর করা মামলায় অর্ণবকে ওই দিনই শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। এরপরই তৌহিদী জনতার নামে একদল লোক গিয়ে শাহবাগ থানায় মব করেন। তারা দাবি করেন, এখনই অর্ণবকে ছেড়ে দিতে হবে। তারা সকাল পর্যন্ত এ দাবিতে থানায় অবস্থান করেন। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালত থেকে জামিন পান। জামিন পাওয়ার পর তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন মবকারীরা।

এর আগে গত ১০ই ফেব্রুয়ারি তৌহিদী জনতার ব্যানারে বইমেলার একটি স্টলে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। তসলিমা নাসরিনের বই রাখায় বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলায় ‘সব্যসাচী প্রকাশনা’র স্টলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সন্ধ্যায় তৌহিদী জনতা’র নামে একদল লোক স্টলটিতে গিয়ে প্রকাশককে ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে থাকলে পিরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ সব্যসাচীর প্রকাশক শতাব্দী ভবকে বইমেলায় তাদের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নিয়ে যায়। পরে পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষও ঘিরে রাখে ওই উত্তেজিত জনতা। ওই ঘটনার পর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় সব্যসাচীর ১২৮ নম্বর স্টলটি।

তৌহিদী জনতার ব্যানারে ১৪ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার উত্তরায় বসন্ত উৎসবও বন্ধ করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ আসে। ঢাকার বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপন পরিষদ চারুকলার বকুল তলা, পুরনো ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক এবং উত্তরায় উন্মুক্ত মঞ্চে বসন্তবরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। এরমধ্যে উত্তরার উন্মুক্ত মঞ্চে বসন্তবরণের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। একইদিনে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে ফুল বিক্রি করায় ফুলের দোকানে  তৌহিদী জনতার ব্যানারে হামলা হয়। আর ওই ঘটনার পরে লিফলেট বিতরণ করে ১৫ই ফেব্রুয়ারি সেখানে পূর্ব নির্ধারিত ঘুড়ি উৎসবও বাতিল করা হয়।
গত ২৮শে জানুয়ারি দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের বাওনা গ্রামে তৌহিদী জনতার তোপের মুখে নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট বাতিল করা হয়। সেদিন বিকালে নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে তৌহিদী জনতার। সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

গত ১৮ই জানুয়ারি পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৪ঠা আগস্টের পর থেকে ৪০টি মাজারের ৪৪ বার হামলা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে ১৭টি মাজারে ভাঙচুর, লুটপাট হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১০টি ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৭টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলা ভাঙচুর তৌহিদী জনতার ব্যানারে করা হয়।
এদিকে গরু জবাই করে কাওরান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার ভবনের সামনে জিয়াফত এবং ডেইলি স্টার পত্রিকা অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, তৌহিদী জনতা হোক আর যেই ব্যানারেই হোক, যে বা যারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা চালাবে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিবে পুলিশ। বিভিন্ন সময়ে এই তৌহিদী জনতার নাম ব্যবহারকারীরা অনেকেই উগ্রপন্থি কর্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকায় গ্রেপ্তার হয়েছেন-তাদের বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। একইসঙ্গে এই বিষয়ে নগরবাসীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার অনুরোধ জানান তিনি।

mzamin


আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ তিন মানুষ-মা স্ত্রী ও কন্যা -তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন মানুষ হলেন- আমার মা, স্ত্রী এবং কন্যা, তিনজন অসাধারণ নারী। আমি সবসময় তাদের জন্য প্রতিটি সম্ভাবনা, সাফল্য এবং সুখ নিশ্চিত করতে চেয়েছি। আমি নিশ্চিত যে, আপনারা যারা এটি পড়ছেন তাদের অনেকেই একই অনুভূতি লালন করেন। গতকাল নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেয়া পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিখেছেন, বাংলাদেশের তরুণী এবং নারীরা চারপাশের মানুষের মাধ্যমে ক্ষমতায়িত এবং সমর্থন পাওয়ার অধিকার রাখেন। প্রতিটি নারীরই যেকোনো পুরুষের মতো একই মর্যাদা, সুরক্ষা এবং সুযোগ উপভোগ করা উচিত। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমি আবারো নিশ্চিত করছি যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত পূর্ববর্তী বিএনপি সরকারের মতো আমরা একটি ন্যায়সঙ্গত, সহনশীল এবং সম্মানজনক সমাজ তৈরির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করবো। যেখানে লিঙ্গ, বর্ণ বা ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য থাকবে না।

নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান লিখেছেন, আমাদের মেয়েদেরও আমাদের ছেলেদের মতো সমান সুযোগ থাকা উচিত। তাদেরকে ঘর ছেড়ে বাইরে আসতে হবে, তারা যেন কোনো হয়রানি ছাড়াই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে এবং কোনো ভয়-ভীতি ছাড়াই নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারে।

তারেক রহমান তার পোস্টে লিখেছেন, একটি নিরাপদ এবং সুরক্ষিত সমাজে নারীর সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেয়ার মধ্যেই বিএনপি’র নীতি প্রণয়ন গভীরভাবে প্রোথিত। আমাদের ‘পরিবার কার্ড’ কর্মসূচি, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এসএমই ঋণ, তরুণীদের শিক্ষিত করার জন্য শিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক প্রকল্পের মতো উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আসুন, আমরা একসঙ্গে চ্যাম্পিয়ন নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাই।

এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন সরকারের নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে সুচিকিৎসার জন্য লন্ডন যান তারেক রহমান, সঙ্গে স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে জাইমা রহমান।

দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার সরকারের নির্যাতনের শিকার হন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও। সরকারের নির্যাতন চিকিৎসা না পেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনিও লন্ডনে যান এবং বর্তমানে ছেলের বাসায় আছেন।

mzamin

ওয়ান-ইলেভেনে মার্কিন দূতাবাসের ভূমিকায় বিরাট ভুল ছিল

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক জন এফ. ড্যানিলোভিচ বলেছেন, বাংলাদেশে এক-এগারোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ভূমিকায় বিরাট ভুল ছিল। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে মনোযোগ দেয়নি। শনিবার সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন। ‘মাইলাম ও জন-এর সঙ্গে সংলাপ’- শীর্ষক অনুষ্ঠানে গণ-আন্দোলনের পর বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের বর্তমান গতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিজিএস’র নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান সঞ্চালনা করেন। আলোচক হিসেবে ছিলেন- সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি. মাইলাম এবং সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন এফ. ড্যানিলোভিচ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন বিদেশি মিশনের কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী নেতা, আন্তর্জাতিক, উন্নয়ন সংস্থা, নাগরিক সমাজের সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্র নেন।

গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে ড্যানিলোভিচ বলেন, ‘১৯৭১ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ নীতি ধারাবাহিকতা রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি হলো- শাসক দলের জবাবদিহিতার অভাব। গণতন্ত্রকে বিকশিত করতে হলে একটি শক্তিশালী সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক অপরিহার্য। স্বৈরাচারী শাসন কখনোই গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক নয়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে একটি তথ্যযুদ্ধের সম্মুখীন এবং মার্কিন সরকার মিডিয়াভিত্তিক বিভ্রান্তিমূলক তথ্য মোকাবিলার জন্য কাজ করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাংলাদেশে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য মার্কিন তহবিল সম্পর্কে দেয়া বিবৃতিও বিভ্রান্তিকর, যা মূলত কিছু ব্যক্তি দ্বারা প্রচারিত, যারা দুই দেশের সম্পর্ক অস্থিতিশীল করতে চায়। সেন্টমার্টিন দ্বীপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম সম্পর্কিত  বিভ্রান্তিমূলক তথ্য নিছক মিথ্যা প্রচারণা, যা কিছু গোষ্ঠী উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছড়াচ্ছে। সাবেক সরকার বিদেশি দেশগুলোর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, যাতে তারা নিজেদের দুর্নীতি ও অনিয়ম আড়াল করতে পারে।

ড্যানিলোভিচ আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে। ‘স্বৈরাচারী শাসন কখনোই মার্কিন স্বার্থের অনুকূলে নয়। তিনি ২০০৭-০৮ সালে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির কিছু ভুলের কথা স্বীকার করেন। বলেন, আমি প্রথম স্বীকার করছি ২০০৭-০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিরাট ভুল করেছিল। তবে রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া বিউটেনিস কিংবা আমার সহকর্মীরা এক-এগারো ঘটাননি। আমি মনে করি না, কোনো গোপন ‘কফি গ্রুপ’ সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাংলাদেশের জনগণকে বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দিয়েছিল। ’৯০ সালে গণতন্ত্রের যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা থেকে বিচ্যুতি ঘটেছিল। বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে আনতে হলে মৌলিক সংস্কার দরকার। তখন জেনারেল ও ব্রিগেডিয়ারদের মতকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের জনগণ কী চায়, তাকে প্রাধান্য দেয়া হয়নি। আমরা নাগরিক সমাজ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু আমরা সেনাবাহিনীর কথাই বেশি শুনেছি। সম্ভবত সে কারণেই গণতন্ত্রের উত্তরণ নিয়ে যে প্রত্যাশা ছিল তা বাস্তবায়িত হয়নি।

জন ড্যানিলোভিচ বলেন, আমাদের দ্বিতীয় ভুলটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র দেশ হিসেবে এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস হিসেবে আমরাও নির্বাচনের সময়সীমার ওপরই বেশি জোর দিয়েছিলাম। নির্বাচন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের দীর্ঘ সময়ের রায় ছাড়া কোনো সরকার পরিচালিত হতে পারে না। আর নির্বাচিত সরকারকে প্রতিশ্রুতি দেয়া উচিত। ওই সময় মৌলিক কিছু সংস্কার সাধনের প্রয়োজন ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংস্কারের এজেন্ডাও এগিয়ে নিচ্ছিল। কিন্তু একটা সময়ে এসে যখন এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, নির্বাচনের আয়োজন করে দায়িত্ব হস্তান্তরই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। এরপরেই তখনকার সরকার রাজনৈতিক দলের ওপর থেকে তাদের সব ধরনের প্রভাব হারিয়ে ফেলল। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের বোঝাপড়াটা হয়েছিল গোপনে। তাই আমাদের জানা সম্ভব ছিল না সাবেক প্রধানমন্ত্রী কোন শর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে আপসরফা করেছিলেন। আমরা এর কোনো পক্ষ ছিলাম না।  তখন আমাদের ধারণা হয়েছিল যে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছিল এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবেন।

এই কূটনীতিক বলেন, ইতিহাস ভুল প্রমাণ করল। আমাদের যেটা বলা হয়েছিল তার ভিত্তিতে ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। আমরা দেখলাম ধীরে ধীরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অধোগতি ঘটতে থাকল, যার চূড়ান্ত রূপ দেখলাম ২০২৪ সালের নির্বাচনে।
রাষ্ট্রদূত মাইলাম বাংলাদেশের গণতন্ত্র সম্পর্কে আমেরিকান জনগণকে সচেতন করার জন্য তার সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা একটি ছোট সংগঠন গঠন করি এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমেরিকান জনগণকে সচেতন করার জন্য কাজ করি। গত পাঁচ বছরে আমরা অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছি এবং এই উদ্যোগকে সমর্থন করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’ তার সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে আসতে পেরে আমি আনন্দিত, বিশেষ করে গত দশ বছরে আমি বাংলাদেশ সফর করতে পারিনি, ভিসার জন্যে।

মাইলাম বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা ছিল তার জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ। আমি যে তথ্য আমার সরকারের কাছে পৌঁছে দেবো, তা সঠিকভাবে সংগ্রহ করাটা ছিল সবচেয়ে কঠিন অংশ। সেই সময় সরকার আমাকে তাদের পক্ষ নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিল।

সিজিএস’র নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান সুশাসন উন্নয়নকে উৎসাহিত করে এমন উদ্যোগগুলোর গুরুত্বপূর্র্ণ বলে ব্যক্ত করেন এবং উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের আলোচনা বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক রূপান্তরকে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে সমর্থন ও একটি টেকসই এবং জবাবদিহিমূলক শাসন কাঠামো নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। আলোচনায় উভয় বক্তাই গণতন্ত্রে মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা বলেন, মিডিয়ার প্রভাব অস্বীকার করা যায় না, এবং গণতান্ত্রিক আলোচনাকে শক্তিশালী করতে নাগরিক সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করা উচিত। 


৩৬ জুলাইয়ের পর কোন পথে বাংলাদেশ by মু. আবদুল হাকিম

বাংলাদেশের রাজনীতি নামে বহুদলীয় কিন্তু কাজে দ্বিদলীয়। বহুদলীয় গণতন্ত্র মানে প্রতিযোগিতামূলক গণতন্ত্র। এখানে জনগণের সবচেয়ে ভালো দল এবং ভালো ইশতেহার বেছে নেয়ার সুযোগ থাকে। দেশে বাকশালের বদলে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু হলেও মূল দলগুলো বাকশালী  বা কমিউনিস্ট মডেলে তৈরি। দলের   ভেতরে নেতৃত্ব গঠনে গণতন্ত্রকে অনুশীলন করা হয় না।  বড় দলগুলোর কমিউনিস্ট পার্টির মতো নিজস্ব ক্যাডার এবং ছাত্র সংগঠন আছে। বড় বড় দলগুলোর নিজস্ব পেশাজীবী অঙ্গসংগঠন আছে। ছাত্র এবং পেশাজীবী নেতারা নিজেদের ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা হাসিল করার জন্য দলীয়করণে বেশি উৎসাহী। পেশা স্বার্থ আদায়ে তারা কখনো  তৎপর  নয়। পশ্চিমা গণতন্ত্রের আদলে দলগুলোর অবাধ দলীয়করণ ঠেকানোর মতো শক্তিশালী সিভিল সমাজ এদেশে নেই। শক্তিশালী সিভিল সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সদিচ্ছার প্রচণ্ড অভাব। কোনো কোনো ক্ষেত্রে  তীব্র অনীহা বিদ্যমান। ক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চর দখলের মতো দেশ দখল হয়ে যায়। দেশের বড় তিনটি দলই তিনটি পরিবারকে কেন্দ্র করে সুসংগঠিত। নেতৃত্বে পরিবার না থাকলে দল ভাঙনের মুখে পড়তে পারে। শুধু জাতীয় রাজনীতিতে নয়। স্থানীয় সরকার রাজনীতিও পরিবারতান্ত্রিক। গোটা বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনীতি হাতবদলের মাধ্যমে হাতেগোনা কিছু মানুষের হাতে জিম্মি। কখনো অন্য হাতে হস্তান্তর হয় না। মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হয়। এমপি’র ছেলে এমপি হয়। চেয়ারম্যানের ছেলে চেয়ারম্যান হয়। মেম্বারের ছেলে মেম্বার হয়। ব্যতিক্রম খুব সামান্য। কোনো দলের নেতা নির্বাচনে দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের কোনো অনুশীলন নেই। পশ্চিমা দেশগুলোর মতো দলগুলো নীতিভিত্তিক নয়- নেতাভিত্তিক। আবার নীতি থাকলেও তা নেতার হ্যাডমের কাছে নত হয়ে যায়। নেতার পিছে পিছে ঘুরা এদেশের মানুষের নেশা ও পেশা। জনগণ নেতাদের চামচা এবং চাটুকার হয়ে বেঁচে থাকতে চায়। কোনো নীতি ও আদর্শের কথা কল্পনা করার সক্ষমতাও অনেক ভোটারের নেই। নেতাদের চেহারা সুরত এবং কণ্ঠের জাদুতে তারা মুগ্ধ হয় এবং রাজপথে জীবন দান করে। একই মতাদর্শের অনেকগুলো দল থাকে।

ব্রাকেটে ব্যক্তির নাম দেখে এগুলো শনাক্ত করতে হয়। অধিকাংশ দল হচ্ছে ব্যক্তিসর্বস্ব, সাইনবোর্ড সর্বস্ব এবং ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র। এগুলো সংসদে একটিও আসন পায় না। তবুও টিকে থাকে। বড় দলগুলো টাকা দিয়ে এগুলো টিকিয়ে রাখে। দলগুলো আর্থিকভাবে সচ্ছলও না। আবার স্বচ্ছও না। দলের গঠনতন্ত্র অনেকটা ফ্যাসিবাদী ধাঁচের। নেতৃত্ব কুক্ষিগত থাকে কয়েকটি ব্যক্তির হাতে। দলীয় কর্মীরা আদার ব্যাপারী হিসেবে দলীয় অফিসে আসে। লুডু ও ক্যারম বোর্ড খেলে এবং টিভি দেখে তাদের সময় কাটে। দলীয় নীতি সম্পর্কে তাদের কিছুই জানানো হয় না। শহীদ হওয়ার প্রয়োজন হলে নেতার নির্দেশে তাদের বলির পাঁঠা হিসেবে রাস্তায় নামানো হয়। কোনো দলীয় সরকার দলীয় ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে পারবে না। কারণ ছাত্র ক্যাডার ছাড়া তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে পারবে না। ছাত্র সংগঠন এবং পেশাজীবী সংগঠন ব্যবহার না করে কোনো রাজনৈতিক দল রাজপথে শোডাউন করতে পারবে না। চাঁদাবাজি এবং টেন্ডারবাজির সুযোগ না দিলে কোনো ছাত্র আদর্শিক কারণে দলীয় ছাত্ররাজনীতি করবে না। আর্থিক সুযোগ-সুবিধা না দিলে দলে কোনো কর্মী থাকবে না। কোনো রাজনৈতিক দলে দলীয় কর্মীদের জন্য কোনো ক্যারিয়ার পাথ নেই। কর্মীদের নেতা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে শহীদ হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। শহীদের লাশ নিয়ে মিছিল করলেও নেতাদের আসল  ধান্ধা থাকে রাজনীতি করে টাকা কামাই করা এবং বিদেশে টাকা পাচার করা। বড় বড় দলগুলোতে সর্বোচ্চ নেতাকে ঈশ্বরের মতো ভক্তি করা হয়। এজন্য বড় বড় দলগুলোতে সচেতন সমর্থকের চেয়ে অন্ধ সমর্থক বেশি। তারা নেতাদের উচ্চাভিলাষ পূরণে বলির পাঁঠা হিসেবে কাজ করে এবং তাতেই তারা নিজেদের  জীবনকে ধন্য মনে করে। বলির পাঁঠাদের মুখে বার বার শহীদ বললেও শহীদী মর্যাদা দিয়ে তাদের তালিকা প্রণয়ন করা হয় না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়  ত্রিশ লাখ শহীদের কোনো তালিকা দেশের কোথাও সংরক্ষিত নেই।

দুই লাখ বীরাঙ্গনার তালিকা নেই। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নির্ভুল কোনো তালিকা নেই। রাজাকারদের নির্ভুল কোনো তালিকা নেই। ফলে যাকে খুশি তাকে কায়দা মতো রাজাকার বলে ঘায়েল করা যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ভুল কোনো তালিকা এখনো তৈরি করা  হয়নি যাতে কিয়ামত পর্যন্ত নতুন নতুন মুক্তিযোদ্ধা বানানোর রাস্তাটা খোলা থাকে। আহত মুক্তিযোদ্ধাদেরও  নির্ভুল কোনো তালিকা নেই। এজন্য নেতাদের ডাকে রাজপথে জনগণ সহজে নামতে চায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, প্রভোস্ট ইত্যাদি হওয়ার জন্য দলবাজি করেন। আইনজীবীরা জিপি, পিপি,  অ্যাটর্নি এবং হাইকোর্টের বিচারপতি হওয়ার জন্য দলবাজি করেন। পুলিশ ও আমলারা বড় বড় পদে যাবার জন্য নেতার পদলেহন এবং দলবাজি করেন। এমন কি সেনা অফিসারগণও বিগত পনেরো বছরে দলবাজি থেকে মুক্ত ছিলেন না। আমলারা মন্ত্রিপরিষদ  সচিব, মুখ্য সচিব, সচিব, সাংবিধানিক পদ এবং ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার জন্য দলবাজি করেন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দলীয় কোটায় পদোন্নতি পাবার জন্যই এত দলীয়করণ এবং দলবাজি। এজন্যই কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে জন্ম হয় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের। এজন্য প্রায় সকল পেশাজীবী অনেক নিচে নামতেও মানসিকভাবে প্রস্তুত। দলীয় সরকারের হাত ধরেই স্বাধীনতার ঊষালগ্ন থেকে রাজনীতি ধীরে ধীরে দুর্বৃত্তায়িত হয়েছে। ফলশ্রুতিস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বর্তমান এই  বিষবৃক্ষ। গ্যাং পলিটিক্সকে নলেজ পলিটিক্সে রূপান্তর মোটেই সহজ কোনো বিষয় নয়।  সংসদীয় গণতন্ত্র এবং অধিকারভিত্তিক রাজনীতির চর্চা বা অনুশীলন না থাকায় এদেশের মানুষ গণতন্ত্রের কোনো স্বাদ পায় না। কোথাও কোনো দুর্নীতি বা সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটলে সবার নজর পড়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি  ও তার নৈতিক চরিত্রের উপর। ঐ ব্যক্তিকে ভালো করে ধর্মগ্রন্থ পড়ালে এমনটি ঘটতো না বলে অনেকে অভিমত প্রকাশ করেন। এ দেশের সংবিধান ও আইনগুলোকে জ্ঞানপাপীরা এমন ভাবে প্রচার করে যাতে আমজনতা মনে করে এগুলো আসমানী কিতাব। এগুলোতে কোনো ভুল বা দোষ নেই। যত ভুল বা দোষ সব মানুষের চরিত্রে। মানুষের চরিত্র ঠিকঠাক হয়ে গেলে রাষ্ট্র বা সমাজ সংস্কারের আর কোনো প্রয়োজন হবে না। টকশোতে সংস্কারের কথা যারা বলে তাদেরকে আমেরিকার দালাল বলে দিনরাত গালিগালাজ করা হয়।  আইনের ঘাটতিটা সবার নজর এড়িয়ে যায়। আইনকেন্দ্রিক স্বার্থান্বেষী মহলের অভ্যুদয় সম্পর্কে তারা বেখবর। বুদ্ধিজীবীদের ফোকাসটা এখানেই দরকার সবচেয়ে বেশি। এ দেশের মতো সুবিধাবাদী এবং ভীতু বুদ্ধিজীবী পৃথিবীতে বিরল। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছিল দয়াল বাবা কিবলার কাবার আয়নাঘরের আয়নাবাজি এবং গুমের ভয়।  এদেশে প্রধানমন্ত্রীর পদটি মাফিয়া ডনের মতো একটি পদ। সংবিধানের ৪৮ (৩) অনুচ্ছেদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে মাফিয়া ডনের মতো পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীই রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ- পদোন্নতি দেন। এই ক্ষমতা দিয়ে তিনি প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং সাংবাদিকদের আজ্ঞাবহ ক্রীতদাস বানান। এদের মাধ্যমে তিনি ৫ বছরের ক্ষমতাকে বিনাভোটে টেনে লম্বা করে ১৫ বছরে নিয়ে যান। 

সাংবিধানিক ঈশ্বরের এ পদটি কোনো দলীয় প্রধানমন্ত্রী সংস্কার করবে না। কোনো দলীয় প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের সত্তর অনুচ্ছেদ সংশোধন করে এমপিদের দ্বারা অপসারিত হতে চান না। সংবিধানের ক্ষমতা কাঠামো থেকে বেশি ফায়দা লুটে রাজনৈতিক দল। শক্তিশালী সিভিল সমাজ না থাকায় জনগণ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জিম্মি। সংবিধান সংশোধনে বা রাষ্ট্র সংস্কারে সিভিল সমাজের মতামতকে কখনো গুরুত্ব দেয়া হয় না। ফলে এদেশে বিপ্লব বার বার বেহাত হয়ে যায়। এভাবেই ভারসাম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি হয়। নির্বাচিত সরকারের কাছে সবসময় বিপন্ন নির্বাচন। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এদেশে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। অথচ রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে নিরপেক্ষতা এবং সিভিল সমাজের তত্ত্বাবধায়ক শক্তি খর্ব করার জন্য হেন কোনো কাজ নেই যা করে না। এদেশের  অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের চোখে রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রম একটি মার্কিন ষড়যন্ত্র। তাদের এই সংস্কারবিরোধী মনোভাবের ফলে দেশে কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহলের শিকড় আরও মজবুত হয়। জনগণের ম্যান্ডেট নেই বলে বার বার তারা সিভিল সমাজের রাষ্ট্র সংস্কারের সকল উদ্যোগ ভণ্ডুল করে। জনগণ যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই থেকে যায়। বেহাত হয় বিপ্লব। বদলায় না কিছুই। এদেশের  জ্ঞানপাপী বাংলা পণ্ডিত সমপ্রদায় যারা হ্রস্ব ই এবং দীর্ঘ ঈ কোথায় হবে  তা জানতে সারা জীবন পার  করে দেন। বিপ্লব কি জিনিস তা তাদের জানার সময় কই? শহীদের সংখ্যা বা আহতের সংখ্যা তাদের কাছে গুরুত্বহীন একটি নামতা মাত্র।  অথচ তারাই  অনেক গবেষণা করে জুলাই বিপ্লবকে জুলাই অভ্যুত্থান বানিয়ে  বিপ্লবকে অর্ধেক ঠাণ্ডা করে ফেলেছে। বাকিটাও হয়তো একদিন একেবারে ঠাণ্ডা হয়ে যেতে পারে।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব
সূত্র- জনতার চোখ

mzamin


পুতিনের হানিট্র্যাপ

পুতিনের হানিট্র্যাপ। সেখানে সুন্দরী নারীদের দিয়ে প্রলুব্ধ করা হতো পুরুষদের। এরপর তাদেরকে অপহরণ করা হতো। এমনকি হত্যা পর্যন্ত করা হতো। গত তিন বছর ধরে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাটিতে গুপ্তচরবৃত্তি করছিল তাদের এজেন্টরা। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য তারা পাচার করেছে রাশিয়ায়। এখন ধারণা করা হচ্ছে, বৃটেনে রাশিয়ার আরো গুপ্তচর লুকিয়ে আছে। সন্ত্রাস বিরোধী একজন প্রধান কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন এ বিষয়ে। কারণ, ক্রেমলিনের জন্য গুপ্তচরবৃত্তি করছিলেন ৬ বুলগেরিয়ান। তাদেরকে সরাসরি নির্দেশনা দেয়া হতো মস্কো থেকে। গুপ্তচরের এই চক্রটি গ্রেট ইয়ারমাউথ গেস্টহাউসে অবস্থান করতো। সেখান থেকে স্পর্শকাতর নজরদারিকারী প্রযুক্তি ব্যবহার করতো তারা।

স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কমান্ডার ডমিনিক মারফি বলেন, কোনো রাষ্ট্রের মদতে হুমকি মোকাবিলার জন্য বৃটেনের ৫ম সন্ত্রাস বিরোধী পুলিশিং ইউনিট কাজ করছে। রাশিয়ান গোয়েন্দারা যে প্রক্সি এজেন্ট ব্যবজহার করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এটা হলো তার মাত্র একটি উদাহরণ। এসব এজেন্টরা ছদ্মবেশে তাদের কর্মকাণ্ড চালাচিছল এবং করছিল স্যাবোটাজ।

অনলাইন ডেইলি মেইলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সন্ত্রাস বিরোধী কমান্ডের প্রধান ডমিনিক মারফি বলেন, রাশিয়া যে বৃটেনে এভাবে গুপ্তচরবৃত্তি করছে এটি তার একটি ঘটনা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কিছু বিঘ্ন সৃষ্টি করা হয়েছে। সেটা আমরা দেখেছি।

তিন মাসের বিচার কার্যক্রমে বিউটিশিয়ান ভান্যয়া গাবেরোভা (৩০), ডেমোরেটর তিহোমির ইভানচেভ (৩৯) এবং ল্যাব টেকনিশিয়ান ক্যাট্রিন ইভানোভা (৩৩)কে রাশিয়ার পক্ষে গুপ্তচরবৃত্থির মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাদেরকে যারা আশ্রয়প্রশ্রয় দেন তার মধ্যে অরলিন রুসেভ (৪৬), বিসের ডঝামবাজোভ (৪৩) এবং ইভান স্টোয়ানভ (৩২ কে এরই মধ্যে অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টের অধীনে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যখন শাস্তি ঘোষণা করা হবে, তখন এসব এজেন্ট দীর্ঘমেয়াদি জেল পেতে পারে।

কিন্তু তারা লন্ডন, ভিয়েনা, ভ্যালেন্সিয়া, মন্টেনেগ্রো এবং স্টাটগার্টসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের অর্থনৈতিক জাল বিস্তার করেছে। তার মধ্যে দু’জন যুবতীকে ধারাবাহিকভাবে ব্যবহার করা হতো হানিট্র্যাপ হিসেবে। আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য পলাতক ব্যবসায়ী জ্যান মারসালেক, যিনি মস্কোভিত্তিক এদের হোতা, তিনি কমপক্ষে দুই লাখ পাউন্ড পাঠিয়েছেন। টেলিগ্রামে রুসেভের সঙ্গে পরিকল্পনা নিয়ে কমপক্ষে ৮০ হাজার ম্যাসেজ বিনিময় হয়েছে। রুসেভ যে গেস্টহাউসে থাকতেন সেখানে যেন আলাদিনের এক গুহার সন্ধান মিলেছে। সেখানে পাওয়া গেছে স্পর্শকাতর প্রযুক্তি। এর মধ্যে আছে পাথরের ভেতরে লুকানো ক্যামেরা। মোবাইল ফোনে আড়ি পাতার জন্য এক লাখ ২০ হাজার পাউন্ডের একটি ডিভাইস। ১১টি ড্রোন, ২২১টি মোবাইল ফোন এবং ৭৫টি ভুয়া পাসপোর্ট। পাওয়া গেছে কোকোকোলার একটি বোতল। এর ভেতরও লুকানো অবস্থায় রাখা আছে ক্যামেরা।

কমান্ডার মারফি বলেছেন, সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকাণ্ডে গত দুই বছরে এত বড় গ্রুপের সন্ধান এই প্রথম পেলেন তিনি। তার কথায়, এসব গোয়েন্দা সরাসরি রাশিয়ার পক্ষে কাজ করছিল। বিষয়টি শুনলে মনে হবে আপনি কোনো উপন্যাস পড়ছেন।

ওই গ্রুপে থাকা দু’জন যুবতীকে বলা হয় শ্যামাঙ্গীনি যমজ। সাংবাদিক ক্রিস্টো গ্রোজেভসক নির্দিষ্ট টার্গেটকে শিকার করতে তাদেরকে বলা হতো হানিট্র্যাপ পাততে।

উল্লেখ্য, সালিসবারিতে স্নায়ুগ্যাস হামলার নেপথ্যে কে তা উদঘাটন করেছিলেন সাংবাদিক ক্রিস্টো গ্রোজেভ। এ জন্য তিনি ক্রেমলিনের টার্গেটে পরিণত হন। তাকে শিকার করতে হানিট্র্যাপ পাতেন গাবারোভা। এর মধ্য দিয়ে ওই সাংবাদিককে যৌনতায় আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। এ জন্য তিনি গ্রোজেভকে ফেসবুকে একটি ম্যাসেজ দেন এবং গ্রোজেভ তা গ্রহণ করেন। এরপর মারসালেককে বার্তা পাঠান রুসেভ। তাতে তিনি লেখেন, প্রাপ্তবয়স্কদের একটি ওয়েবসাইটের জন্য আমরা অবশ্যই কিছু একটা ভাল রেকর্ড করতে পারবো। মেয়েটি বাস্তবেই খুব হট। সে যেখানে-সেখানে আসা-যাওয়া করে। স্পাইমাস্টার এ সময় গ্রোজেভকে অপহরণের ষড়যন্ত্র আঁটেন। তাকে অপহরণ করে নিয়ে যেতে চান রাশিয়া। কিন্তু তার সেই পরিকল্পনা বস্তাবায়ন হয়নি।

এই গুপ্তচর চক্র বৃটেনভিত্তিক রাশিয়ার একজন ভিন্নমতাবলম্বিকে টার্গেট করে।  তারা তাকে ড্রোন থেকে বিষ মিশানো তীর ছুড়ে হত্যা করার বিষয়ে আলোচনা করে। কাজাখস্তানের সাবেক একজন রাজনীতিক এবং রাশিয়ার একজন আইনজীবীকে তারা জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় মস্কো নেয়ার পরিকল্পনা করে। এর জন্য খরচ ধরা হয় ৩০ হাজার পাউন্ড।  এসব এজেন্ট ওই সময় উচ্চ প্রযুক্তির সরঞ্জাম ব্যবহার করে। স্টাটগার্টে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটি প্যাট ব্যারাকে প্রশিক্ষণে ছিলেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। তাদেরকে শনাক্ত করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এই অপারেশন চালাতে তারা মাসে ৩৪ হাজার পাউন্ড দিতে রাজি হয়।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিযান চালিয়ে যখন এসব গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করে বৃটিশ পুলিশ, তখন এই অর্থ হয়তো বন্ধ করে দেয় না হয় কর্তন করা হয়। অভিযানে পুলিশ ডঝামবাজোভের ঘরে ঢুকে পড়ে। এসময় বিছানায় গাবারোভার সঙ্গে ডঝামবাজোভকে নগ্ন অবস্থায় দেখতে পায় তারা। এক পর্যায়ে ডঝামবাজোভের দীর্ঘ সময়ের গার্লফ্রেন্ড ইভানোভা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তিনি অবশ্য ডঝামবাজোভের সঙ্গে গাবারোভার ওই সম্পর্ক সম্পর্কে জানতেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সালিসবারিতে পয়জন হামলার পর ২৩ জন রাশিয়ান কূটনীতিককে বহিষ্কার করে বৃটেন। তার মধ্যে ছিলেন গোয়েন্দা কর্মকর্তাও। তখন থেকে জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে রাশিয়ার ১০০ কূটনীতিকের ভিসা আবেদন বাতিল করে দেয় বৃটেন।

ওদিকে রাশিয়ার গোয়েন্দা বিয়ক এজেন্সিগুলো তাদের ছদ্মবেশে ষড়যন্ত্র কার্যকর করতে ভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে তারা প্রক্সি গ্রুপ সেট করে। এ কথা বলেছেন সন্ত্রাস বিরোধী লেজিসলেশনের নিরপেক্ষ রিভিউয়ার জোনাথন হল কেসি। তিনি বলেন, বিশ্বকে হুমকি দেয়ার জন্য সবচেয়ে ভাল ব্যবস্থা হলো ক্রিমিনাল প্রক্সিদের ব্যবহার। তার ভাষায়, অরলিন রুসেভের ঘটনা আমাদেরকে দেখিয়ে দেয় যে এতে রাশিয়ার খুবই স্পর্শকাতর ‘অ্যাক্টর’রা জড়িত। তারা এসব মানুষের পেছনে নিশ্চয়ই প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এটা বোঝা যায় তাদের বাসায় পাওয়া জিনিসপত্র দেখে। তাদের এসব কর্মকাণ্ড এমন সময়ে ধরা পড়েছে যখন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে একদিক দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল রাশিয়া। এ সময়ে তারা বৃটেন ও পশ্চিমা মিত্রদের ভেতরে আগ্রাসী গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে।

mzamin

মালয়েশিয়ায় ইসলাম অবমাননায় তোলপাড়, তদন্তে রয়েল পুলিশ: প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কড়া বার্তা

মালয়েশিয়ার পুলিশ ইসলাম অবমাননা এবং অশ্লীল মন্তব্যের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে খুঁজছে। ওই ব্যক্তি ফেসবুকে প্রায় চার মিনিটের একটি ভিডিও আপলোড করেছিলেন, যা পরে ভাইরাল হয়ে যায়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি বর্তমানে বিদেশে থাকতে পারেন।

দেশটির পহাং রাজ্যে অভিযোগ দায়েরের পর ইন্সপেক্টর-জেনারেল অব পুলিশ রাজারুদ্দিন হুসাইন জানিয়েছেন, বুকিত আমানের বিশেষ অপরাধ তদন্ত ইউনিট (সিসিআইডি) তদন্ত শুরু করেছে। তিনি বলেন, “পুলিশ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, ভিডিওটি গতকাল আপলোড করা হয়েছিল এবং পরে তা মুছে ফেলা হয়, কারণ এতে আপত্তিকর ভাষা ও মুসলমানদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য ছিল। আমরা এমন বিষয়গুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখি, কারণ এগুলো সামাজিক সম্প্রীতি ও জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হতে পারে।”

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম আজ রাজনীতিকদের ব্যক্তিগত স্বার্থে ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, "যদি আমরা এমন করতে থাকি, তাহলে এটি অগ্নিসংযোগ ঘটাবে এবং জনগণকে ধ্বংস করবে। কিন্তু সরকারের অবস্থান দৃঢ়—মানবতা ও ধর্মের প্রতি কোনো ধরনের অবমাননার জন্য আমাদের দেশে কোনো স্থান নেই।"

এ ঘটনায় মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ২৯৮ ধারার আওতায় তদন্ত চলছে, যা জাতিগত ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপরাধের আওতাভুক্ত। পাশাপাশি, নেটওয়ার্ক সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগেও তদন্ত চলছে। রাজারুদ্দিন হুসাইন জানান, এই ভিডিওটি সম্ভবত আগের এক ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে তিনজন ডিজে থাইপুসাম কাওয়াড়ি রীতিকে নিয়ে, ইসলাম নিয়ে উপহাস করায় বিতর্ক তৈরি হয়।

এদিকে, গত রাতে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (জাকিম) মালয়েশিয়ান কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া কমিশনে (এমসিএমসি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। ইসলাম অবমাননাকর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে তারা পুলিশের কাছেও অভিযোগ জমা দিয়েছে। জাকিমের মহাপরিচালক সিরাজুদ্দিন সুহাইমি বলেন, “আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' তবে বিতর্কিত ভিডিওটির পরিচয় প্রকাশ করেনি জাকিম।

মালয়েশিয়ায় ধর্ম অবমাননা সংক্রান্ত আইন কঠোর, এ বিষয়ে পুলিশ আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বুকিত আমান।

প্রতিবেদনে ভিডিওটির সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। তবে জানা গেছে, ভিডিওটি প্রায় চার মিনিটের ছিল এবং তাতে ইসলাম ধর্মের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল।

mzamin

‘মাস্কের সঙ্গে বন্ধুত্বে 'সীমারেখা' টেনে দিলেন ট্রাম্প

তিনি পরিবর্তন আনতে এখানে এসেছেন। প্রয়োজনে কাছের লোককেও সেই বার্তা পাঠাতে ভুলবেন না। ৬ মার্চ উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেকথা আরো একবার স্পষ্ট করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প সেখানে স্পষ্ট করেছেন, ইলন মাস্ক-এর নেতৃত্বাধীন ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (DOGE) নয়, নিয়োগ এবং বরখাস্তের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিভাগীয় প্রধানরা। ডজ শুধুমাত্র একটি উপদেষ্টার ভূমিকা পালন করতে গঠন করা হয়েছে, মাস্কের ভূমিকা কেবলই পর্যবেক্ষকের বলে জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এভাবেই তিনি মাস্ক এবং ডজের মধ্যে সূক্ষ্ম সীমারেখা টেনে দিলেন। মনে করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে মাস্কের যে আক্রমণাত্মক হাবভাব দেখা গিয়েছে, সেটাকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আর তাই তার গতিবিধিতে টেনে দিলেন লক্ষ্মণরেখা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে, মাস্ক ফেডারেল কর্মচারীদের তাদের কাজের ন্যায্যতা দিতে বলেছিলেন। এই পদক্ষেপটি প্রশাসনের মধ্যে শঙ্কা সৃষ্টি করেছিল, কিছু মন্ত্রিপরিষদ সদস্য কর্মীদের ছাঁটাই নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। বৈঠকের সময়, ট্রাম্প তার শীর্ষ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। সেইসঙ্গে বুঝিয়ে দেন মাস্ক উপদেশ দিতে পারেন, কিন্তু তিনি একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। দুই প্রশাসনিক কর্মকর্তা পলিটিকোকে এ খবর দিয়েছেন। মাস্ক প্রেসিডেন্টের নির্দেশ মেনে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, ডজ কিছু ভুল করেছে।

এবিসি নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিলিয়নেয়ার মাস্ক আলোচনাটিকে ‘খুবই ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেছেন। ক্ষমতা পেয়েই দেশের ব্যয় কমাতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন মার্কিন ধনকুবের। তার ডিপার্টমেন্ট ডজ- এর থেকে সরকারি কর্মীদের কাছে কাজের জবাবদিহি চেয়ে ইমেইল যায়। সরকারি কর্মীদের ছাঁটাই করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হন আমেরিকার প্রায় ২৩ লক্ষ সরকারি কর্মী। মাস্কের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তে আদালতের দ্বারস্থ হন সরকারি কর্মীদের একাংশ। গত মাসের শেষে স্বস্তি পান তারা। আদালতে ধাক্কা খায় ট্রাম্প সরকারের সিদ্ধান্ত ।সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন সম্প্রতি সিএনএনকে বলেছেন যে, সরকারী চাকুরীদের বিষয়ে চূড়ান্ত বক্তব্য মাস্ক নয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিবদের দেওয়া উচিত। মাস্ক ৫ মার্চ সিনেট রিপাবলিকানদের সাথে বন্ধ দরজার পিছনে সাক্ষাত করার পরে গণ ছাঁটাইয়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করার পরে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। দোলাচলের মধ্যেই  মাস্কের ডানা ছাঁটলেন ট্রাম্প।

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

mzamin

'পাকিস্তান এবং চীনের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের যোগসাজশ রয়েছে'

পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ‘উচ্চ পর্যায়ের যোগসাজশ’ রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ইন্ডিয়া টুডেকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে একথা জানিয়েছেন ভারতের স্থলসেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে, চীন এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের যোগসাজশ রয়েছে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে তা প্রায় ১০০ শতাংশ। পাকিস্তানের যাবতীয় সরঞ্জাম চীন থেকে আসে। দু’দিক থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে, এটা বাস্তব।’

কথোপকথনের সময়, ইন্ডিয়া টুডের নিউজ পরিচালক রাহুল কানওয়াল জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীকে পাকিস্তানের সামরিক অবস্থান, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পরিস্থিতি এবং গ্রীষ্ম ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে জম্মু ও কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশের বিষয়ে বলতে গিয়ে স্থলসেনাপ্রধান জোর দিয়ে বলেন যে, পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশ ঘটেই চলেছে। উপেন্দ্র দ্বিবেদীর কথায়  ‘অনুপ্রবেশ  থামার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে? আদৌ কি কোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে? উত্তর হলো- না। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড  বৃদ্ধির জন্য আমাদের অবশ্যই প্রস্তুত থাকতে হবে।’

দ্বিবেদীর কথায়, ভারতীয় সেনাবাহিনী সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। ২০১৮ সাল থেকে সন্ত্রাসী ঘটনার সংখ্যা ৮৩ শতাংশ কমিয়েছে। উপত্যকায় জঙ্গিদলে নিয়োগ ব্যাপকভাবে কমে গেছে, মাত্র ৪৫ জন ব্যক্তি এখন সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত  হয়েছে। একই সময়ে, অমরনাথ যাত্রায় পাঁচ লক্ষেরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ দেখা গেছে। ভারতীয় সেনা দেশের উত্তর-পশ্চিমের এই উপত্যকায় সন্ত্রাসের পরিবর্তে পর্যটনের দিকে নজর ঘোরাতে পেরেছে। পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উপেন্দ্র।

তিনি জানান, গত বছরে কাশ্মীরে যত জন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই পাকিস্তানের নাগরিক। ফলে প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে অনবরত বহিরাগত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে ভারত। তার কথায়, ‘নিজেদের চরমপন্থার কারণেই ভুগছে পাকিস্তান। নিজেদের আরও গভীর সঙ্কটে ডুবিয়ে দিচ্ছে তারা। আমরা পাকিস্তানে স্থিতিশীলতা চাই, এটি সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হোক তা আমরা চাই না।'

সূত্র:  ইন্ডিয়া টুডে

mzamin

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন: ভারত কেন ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচন চায়?

বাংলাদেশের নির্বাচনে শেখ হাসিনার বিষয়ে জোর দিয়েছে ভারত। ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচন আহ্বান তাদের। গতকাল প্রভাবশালী অনলাইন ডেইলি টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এমন কথা বলা হয়েছে। সাংবাদিক দেবাদীপ পুরোহিতের লেখা ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘শেখ হাসিনা থ্রাস্ট ইন বাংলাদেশ পোল প্রোড: ইন্ডিয়া কলস ফর ইনক্লুসিভ ইলেকশন’। এতে আরও বলা হয়, সাত মাস আগে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন শেখ হাসিনা। তারপর থেকে নয়াদিল্লি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছে, বাংলাদেশের নির্বাচন হওয়া উচিত অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক। গত শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দু’টি খুব তীক্ষ্ণ বিষয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে। তা হলো, বর্তমানে ভারতে থাকা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে রাখা উচিত নয়। অন্যটি হলো বিদ্যুতের বর্ধিত লিজের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগকে হালকাভাবে দেখছে ভারত। পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী বাংলাদেশ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন- ‘স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশকে সমর্থন করি আমরা, যেখানে সব সমস্যার সমাধান হতে হবে গণতান্ত্রিক উপায়ে, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে’।

টেলিগ্রাফ আরও লিখেছে, গত আগস্টে শেখ হাসিনা রাজপথের প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ড. ইউনূসের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে অন্তর্বর্তী সরকার। তখন থেকেই বাংলাদেশ টালমাটাল। তাড়াতাড়ি নির্বাচন দেয়ার দাবি জোরালো থেকে আরও জোরালো হচ্ছে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই সরকার আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে। অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর  থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচনের একটি টাইমফ্রেম ঘোষণা করেছেন ড. ইউনূস। তবে কোনো রোডম্যাপের বিষয়ে জোর দেননি। কিছু কিছু তরুণ নেতা- যারা নিজেদের ছাত্র বলে দাবি করেন এবং ড. ইউনূসের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব আছে, তারা বলছেন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংস্কার হওয়া উচিত। বার বার তাদের এমন দাবির ফলে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। জামায়াতে ইসলামী এবং নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীর থেকে বেরিয়ে আসা এমন কিছু তরুণ নেতা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দাবি করেন। তাদের একজন সারজিস আলম। তিনি নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার বিচার করে তার ফাঁসি দাবি করেছেন। ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। এখন রাজনৈতিক এই প্রেক্ষাপটে ড. ইউনূসের নির্বাচন তদারকি করার ক্ষমতা বা ম্যান্ডেট আছে কিনা তাও প্রশ্ন।

শেখ হাসিনার দলের প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্বেষ আছে। দেশ জুড়ে এ দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে যে দমনপীড়ন চলছে, তাতে সেই বিদ্বেষ প্রতিফলিত হয়। ফলে বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে কেউ কেউ বিশ্বাস করছেন নির্বাচন হওয়া উচিত একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার তানিয়া আমির বলেন, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তী সরকারকে শপথ পড়ানো হয়েছিল। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানে সর্বশেষ অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান আছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দ্বারা প্রতিস্থাপিত হওয়া উচিত। জেল থেকে যেসব অভিযুক্ত সন্ত্রাসী মুক্তি পেয়েছেন সারা দেশে তাদের গ্রেপ্তারের পক্ষে পরামর্শ দিয়েছেন তানিয়া আমির। সরকারের আশীর্বাদে থাকা এসব দুর্বৃত্তদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের পক্ষে তিনি। ওইসব অস্ত্র গত ছয় মাসে বা তারও বেশি সময়ে আইনপ্রয়োগকারী এজেন্সির লোকদের কাছ থেকে লুট করা হয়েছিল।

রণধীর জয়সওয়াল বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যেখানে সব রকমের অপরাধ, বিশেষ করে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে আমরা উদ্বিগ্ন। গুরুতর অপরাধের জন্য সাজা হয়েছিল এমন ভয়াবহ উগ্রপন্থিদের মুক্তি দেয়ার কারণে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি বিবিসিকে ড. ইউনূস এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তার সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে অপরাধের হার বৃদ্ধি পায়নি। তার এই যুক্তির খণ্ডন হিসেবে দেখা যেতে পারে রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য। ড. ইউনূসের প্রতি নমনীয় ঢাকার এমন একটি প্রকাশনা সম্প্রতি পুলিশের রিপোর্ট উল্লেখ করে বলেছে, গত ছয় মাসে বাংলাদেশে ডাকাতি বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ৫০ ভাগ। পুলিশের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, বেশির ভাগ অপরাধের রিপোর্ট করা হয় না। ফলে এর প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি।

ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে স্পর্শ করে জয়সওয়াল বলেন, হিন্দু ও অন্য সংখ্যালঘুদের সুরক্ষিত রাখা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব। একই সঙ্গে তাদের সহায় সম্পত্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষা করাও তাদের দায়িত্ব। জয়সওয়াল বলেন- ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৩৭৪টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ১২৫৪টি রিপোর্ট করা হয়েছে। এসব সংখ্যার সত্যতা যাচাই করেছে পুলিশ। এই ১২৫৪টি ঘটনার মধ্যে শতকরা ৯৮ ভাগকে মনে করা হয় ‘রাজনৈতিক প্রকৃতির’। আমরা আশা করি এসব খুন, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে বাংলাদেশ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের কোনো রকম ব্যতিক্রম না করে বিচারের আওতায় আনবে। জয়সওয়াল আরও বলেন, ৬ই মার্চ কলকাতায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা পানি চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে নজরদারি করতে যৌথ কমিটির ৮৬তম বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, এই বৈঠকের পর দুই পক্ষই গঙ্গা পানি চুক্তি, পানিপ্রবাহ পরিমাপ এবং পারস্পরিক স্বার্থের অন্যান্য বিষয় সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।