Tuesday, May 17, 2016

বয়ঃসন্ধিতেই বখে গিয়েছিলেন রমণীবিলাসী ট্রাম্প

ছোট থেকেই একটু দুষ্টু ছিলেন ট্রাম্প। বয়ঃসন্ধিকালেই সুদর্শনা-সঙ্গ উপভোগ করতে শুরু করেন। পৈতৃকসূত্রের ব্যবসা এবং নিয়মিত অভিসার- সমানতালেই চলতে থাকে দুটি। উভয়ক্ষেত্রেই সফল তিনি। মদ, অর্থ এবং নারী- জীবনে কোনোটাইরই অভাব বোধ করেননি। আর এ নিয়ে কারও কাছে কখনও জবাবদিহিতাও করতে হয়নি। তবে এই প্রথমবারের মতো বেকায়দায় পড়ছেন- কারণ এটা রাজনীতি! এক সময়ের টিভি উপস্থাপক তার চটুল কথায় মাত করেছেন নির্বাচনী মিছিল। ক্যাসিনো ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে এসে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ভালোই লড়ছেন তিনি। জনপ্রিয়তায় হিলারিকেও ছুঁইছুঁই। টানটান উত্তেজনার এমন সময়ে রোববার ট্রাম্পের অতীত কীর্তিকলাপ নিয়ে বোমা ফাটিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। ভোটের বাজারের জনদরদী ট্রাম্প নাকি বরাবরই ‘নারী ছুকছুকে’ প্রকৃতির। ব্যক্তি ট্রাম্পের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। ৬ সপ্তাহ ধরে প্রায় ৫০ জনের সাক্ষাৎকার নেয়ার পর প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে ট্রাম্পকে একজন নারীলোলুপ ও বিকৃত মানুষ হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে। যেন তিনি এক আত্মম্ভরী ব্যবসায়ী আর ‘ট্রাম্পরাজ্যে’ তাবৎ নারীরা তার দাসী!
স্কুলজীবনেই ‘রমণীমোহন’ উপাধি : ১৯৬৪ সালে নিউইয়র্কের মিলিটারি একাডেমিতে অধ্যয়নকালে সুযোগ পেলেই রূপসী ললনাদের সঙ্গ নিতেন তিনি। তার স্কুলবন্ধু জর্জ হোয়াইট জানান, ‘স্কুলজীবন শেষ হওয়ার আগেই পুরো একাডেমিতে সবাই তাকে প্লেবয় বলে ডাকতে শুরু করে। যদিও বালক বিদ্যালয়টিতে মেয়েদের প্রবেশ নিষেধ। তবু ট্রাম্প বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে মেয়ে নিয়ে আসত। ট্রাম্পের প্রতিটি সঙ্গিনীই ছিল লাস্যময়ী। ট্রাম্পের আরেকটি বিস্ময়কর দিক হল- কোনো মেয়ের সঙ্গেই তাকে দ্বিতীয়বার দেখা যায়নি।’ নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী দুষ্টু ট্রাম্প নষ্ট হতে শুরু করেন সেই আবাসিক স্কুলেই!
প্রথম দর্শনেই ‘বিকিনি’ গিফট : ১৯৯০ সালে ফ্লোরিডার পুলবিচে এক মারাত্মক ঘটনার জন্ম দেন তিনি। প্রথম দর্শনেই অভিভূত করে ফেললেন মডেল রোয়ান ব্রিয়ান লেনকে। রূপের গুণকীর্তন করতে করতে ধরলেন হাত। নিয়ে গেলেন রুমে। ড্রয়ার খুলে পছন্দমতো বেছে নিতে বললেন বিকিনি। তারপর নতুন পোশাক পরিয়ে মডেলকে পাশে নিয়ে বীরদর্পে ঘুরে বেড়ালেন সুইমিংপুলের পার্টিতে। নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, এই প্রিয়দর্শনীর সঙ্গে পরবর্তী ৩ মাস উড়ন্ত প্রেম করেছেন ট্রাম্প। এছাড়াও ১৯৯৭ সালের মিস ইউএসএ টেম্পল তাগার্ত বলেন, ‘এক অনুষ্ঠানে সে হুট করেই আমার কাছে এলো এবং জড়িয়ে ধরে চুমু খেল। ভয়াবহ অভিজ্ঞতা- প্রথম দর্শনেই!’
নারী স্বাস্থ্যে তীক্ষ্ণ চোখ : নিজ প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প হাউসে বসে অফিসের নারী কর্মকর্তাদের চেহারা ও স্বাস্থ্য নিয়ে মাঝে মাঝেই বেঢপ মন্তব্য করতে অভ্যস্ত তিনি। তার কোম্পানির এক্সিকিউটিভ বারবারা রেস এবং লুই সানশাইনকে তাদের মুটিয়ে যাওয়া নিয়ে তাচ্ছিল্য করতেন ট্রাম্প। এমনকি বিনোদন অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে এক প্রতিযোগীকে তিনি মুখের বদলে পায়ের ছবি জমা দিতে বলেছিলেন। তিনি বলেন, ‘তোমার মুখ খুব কুৎসিত’। সাবেক প্রেমিকা বিয়ার লেন বলেন, ‘প্রেমিকা মারলা ও স্ত্রী ইভানা সৌন্দর্যে ১০ এ কত পাবে সেই নাম্বার জানতে চাইতো ট্রাম্প। একটু ছেলেমানুষি করা তার অভ্যাস।’
বউ পেটানোতেও ওস্তাদ : ট্রাম্পের সাবেক স্ত্রী ইভানা ১৯৯৩ সালে তার বিরুদ্ধে দাম্পত্য সম্পর্ককালীন ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। এছাড়াও বর্তমান স্ত্রী ম্যালোনিয়াকেও শুধু রান্না আর ঘর গোছানোর বাইরে অন্য কিছুতে জড়াতে দিতে নারাজ তিনি। বার্ষিক একটানা বেতনে প্রথম বউকে ক্যাসিনোর দায়িত্ব দেয়া সম্পর্কে ট্রাম্প তার বই ‘দ্য আর্ট অব দ্য কামব্যাক’-এ বলেন, ‘আর কখনোই কোনো বউয়ের ওপর ব্যবসার দায়িত্ব দেব না। ব্যবসার আলাপ নয়, চার দেয়ালের মাঝে খুনসুটি করতেই পছন্দ করি আমি।’
পর প্রেমিকায় আসক্তি : ১৯৯০ সালে আটলান্টায় ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যবসায়িক আলোচনার জন্য এসেছিলেন তরুণ উদ্যোক্তা জুটি জিল হার্থ এবং জর্জ হার্নি। তখন প্রাণবন্ত তরুণী জিল হার্থের দিকে চোখ পড়ে ট্রাম্পের। প্রেমিক জর্জ জিলের সঙ্গে তার সম্পর্কের ব্যাপারটি ট্রাম্পকে বারবার নিশ্চিত করার পরেও জিলকে একান্ত সান্নিধ্য পাওয়ার আকাক্সক্ষা প্রকাশ করেন তিনি।
ট্রাম্পটাচে মিস ইউনিভার্স ‘উন্মাদিনী’: ১৯৯৬ সালের মিস ইউনিভার্স এলিসিয়া মাসাদো। ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে এসেছিলেন উন্নত ভবিষ্যতের আশায়। কিন্তু ট্রাম্পের উপর্যুপরি ‘অপমানজনক বিশেষণের’ হামলায় শেষ পর্যন্ত পাগলিতে পরিণত হন তিনি। এলিসিয়া বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে ৯০টি ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প আমার স্বাস্থ্য নিয়ে কটূ কথা বললেন। এরপর পাঁচ বছর মানসিক ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়েছি আমি।’
নারীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য-জ্ঞান : ট্রাম্প টাওয়ারের বাইরে শীর্ষ প্রভাবশালী পদে থাকা রাজ্যের ডেপুটি মেয়রদের সঙ্গেও বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন ট্রাম্প। এলিয়েন এ টাউনসেলের সঙ্গে বৈঠকে তাকে ‘প্রিয়তমা’ বলে ডাকতে শুরু করেন তিনি। যা তার কাছে অপমানজনক হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক এ নারী ডেপুটি মেয়র। আরেক ডেপুটি বারবারা ফাইক বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা নেই। তারপরও আমি তাকে থামাতে পারিনি। রাতভর এক নতুন সুপার মডেলের সঙ্গে আনন্দ যাপনের কথা বলেই যাচ্ছিলেন তিনি।’
প্রেমিকার পাশে বসে ‘প্রেসিডেন্ট স্বপ্ন’ : প্রথম স্ত্রী ইভানার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২৬ বছর বয়সী ব্রিয়ার লেনের সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করেন ট্রাম্প। সেই প্রণয়সঙ্গিনী গত ফেব্রুয়ারিতে ‘ইনসাইড এডিশন’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘২৫ বছর আগেই প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন ট্রাম্প। আমরা যখন একান্তে সময় কাটাতাম তখনই তাকে এ বিষয়ে বলতে শুনেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনসম্মুখে ট্রাম্প যতটা উদ্ধত, নিরালায় সে ততটাই শান্ত।’
অতীত অস্বীকারের ভুলোমনা স্বভাব : ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারটি নিয়ে পুরো বিশ্ব আমাকে ভুল বুঝছে। নারীদের প্রতি আমার সম্মানের কোনো ঘাটতি নেই। আমি একজন নারী উন্নয়ন কর্মী।’ এ সময় নারীদের প্রতি নিজের অটুট আস্থা ও শ্রদ্ধার কথাও জানান তিনি।
ট্রাম্প হাউসের কানাঘুষা : ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের অনেকেই ট্রাম্পকে উদার ও উৎসাহদানকারী ব্যক্তি হিসেবেই মনে করেন। তার ম্যানহাটন অফিসের কয়েকজন নারী কর্মকর্তা বলেন, ‘ট্রাম্প কখনও হঠাৎ করেই একটু খোলামেলা কথা বলেন, তবে পরক্ষণেই আবার ভদ্র আচরণ করেন।’
তিনি অনেক মেয়ের ক্যারিয়ার গড়ে দিয়েছেন তবে শারীরিক গড়ন নিয়ে মজা করাটা তার অভ্যাস। ট্রাম্প হাউসের প্রধান নির্বাহী বারবারা রেস বলেন, ‘অন্য কোনো গ্রুপের সঙ্গে মিটিংয়ের সময় অফিসের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েদের নিজের সঙ্গে নিতেন তিনি। আমাকেও মোটা হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সচেতন করে দিতেন।’

ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে ১০ কোটি মানুষ

বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সংখ্যা বাড়লেও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম। এখন ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৩ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। তবে মোবাইল ফোন ব্যবহারে অন্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও ইন্টারনেট ব্যবহারে অনেক পিছিয়ে। দেশে এখনও ১০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারের বাইরে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ‘ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০১৬ : ডিজিটাল ডিভিডেন্ট’ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। সোমবার রাজধানীর গুলশানের হোটেল আমারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। এসময় ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফান ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক এসএম আশরাফ“ল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত প্রতিবেদনের কো-ডিরেক্টর দিপক মিশরা। পরবর্তীতে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রযুক্তি খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশে এখন রফতানিতে প্রথম অবস্থানে আছে পোশাক খাত। ধীরে ধীরে প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার রফতানিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রযুক্তি রফতানির আশা করছে সরকার। প্রযুক্তিতে গত ছয় বছরে সরকারের নেয়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, আমরা সাত হাজার ইন্টারনেট বেজই চাকরিজীবী তৈরি করেছি। মানবসম্পদ উন্নয়নে ২৫ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে এখন ৬৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী তরুণ। বাংলাদেশে এখন জনসংখ্যার বোনাসকাল চলছে। বিশ্বের যে কোনো দেশ এ সুযোগ একবারই পায়। সত্তরের দশকে দক্ষিণ কোরিয়া ও নাইজেরিয়া একসঙ্গে এ সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু চার দশক পর এখন দেখা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়া তাদের জনসংখ্যার বোনাসকালকে কাজে লাগাতে পেরেছে।
কিন্তু নাইজেরিয়া সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। তবে নাইজেরিয়ার মতো ভুল বাংলাদেশ করবে না। এ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এরমধ্যে সরকার গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্ক তৈরি করছে। সারা দেশে ৫ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে তথ্য সেবা নিশ্চিত করেছে। আইসিটি খাতে সব বাধা দূর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় তথ্য প্রযুক্তি খাত উন্নয়নের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। মন্ত্রী জানান, সরকার এখন উচ্চগতির ইন্টারনেটের দিকে নজর দিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা বিশ্বে কম ইন্টারনেট ব্যবহার করা দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত দেশের মধ্যে সবার উপরে রয়েছে ভারতের নাম। সেখানে এখনও ১০০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট সেবার বাইরে। এরপর যথাক্রমে রয়েছে চীন (৭৫ কোটি), ইন্দোনেশিয়া (২১ কোটি) এবং পাকিস্তান (১৬ কোটি)। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের সংখ্যা কম হলেও এখানে মোবাইল ফোনে খরচের হার অনেক কম। প্রতি মাসে মোবাইল ফোনে কম টাকা খরচ করা দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। এখানে প্রতি মাসে মোবাইল ফোনে গড় খরচ হয় ১ ডলারের মতো। প্রথম অবস্থানে আছে শ্রীলংকা। এখানে খরচ হয় গড়ে প্রায় হাফ ডলার। এছাড়া মোবাইল ফোনে কম টাকা খরচের মধ্যে অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে ইরান, নেপাল,
ভুটান, উজবেকিস্তান ও ভারত। সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ হয় ব্রাজিলে, প্রায় ৫০ ডলার। এছাড়া ডিজিটাল প্রযুক্তির বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে উচ্চ শুল্কের বিষয়টি উঠে এসেছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, মোবাইল ফোন আমদানিতে সবচেয়ে বেশি শুল্ক দিতে হয়, এমন ১৫টি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। এ তালিকার শীর্ষে আছে ফিজি। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, বিশ্বে এখন ৭৪০ কোটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে ৭০০ কোটি। ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আছে ৩২০ কোটি। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আছে ১০০ কোটি মানুষ। বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, আমাদের অবশ্যই প্রত্যেক মানুষকে ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ডিজিটাল লভ্যাংশ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দিতে হবে। বাংলাদেশের কম্পিউটার কাউন্সিল প্রযুক্তি সংক্রান্ত শিল্প গড়ে তুলতে কাজ করছে। বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যে অনলাইন কেনাকাটা বাস্তবায়নে সহায়তা দিয়ে আসছে। সেইসঙ্গে বেসরকারি খাতেও সহায়তা দিচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো সেবাগুলোতে প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াতে হবে।

পাঁচ জেলায় এক ছটাকও ধান সংগ্রহ হয়নি

দেশব্যাপী বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় এক ছটাক ধানও সংগ্রহ করেনি খাদ্য বিভাগ। খাদ্য বিভাগের এক শ্রেণীর কর্মকর্তার উদাসীনতা ও ধান ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্রের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ না করায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ন্যায্যম্যূল্যে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে কৃষককে উৎসাহিত করা ও উৎপাদিত ফসল ক্রয়ের যে সরকারি উদ্যোগ তা ভেস্তে যেতে বসেছে। অভিযোগে জানা গেছে,
মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উৎসাহ কম। কারণ এখন সরকারিভাবে ধান ক্রয় মূল্য কেজিপ্রতি ২৩ টাকা। যা ৪০ কেজি মণ দরে দাঁড়ায় ৯২০ টাকা। কিন্তু উত্তরের জেলাগুলোতে ধান ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্র ধানের বাজারদর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তারা খাদ্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করে গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করতে দিচ্ছে না। ফলে এখন বাজারে ধানের প্রচুর সরবরাহ থাকায় বাজারে ধানের দামও নিুমুখী। প্রতি মণ ধানের দাম এলাকা ভেদে ৩৮০ টাকা থেকে ৫শ’ টাকা পর্যন্ত ওঠা-নামা করছে। সরকারিভাবে ধান ক্রয় না করার ফলে বাজারে ধানের সরবরাহ বেশি থাকায় ধানের দামও মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এমতাবস্থায় আমন ধান উৎপাদনের জন্য জমি প্রস্তুত করতে এবং অন্য ফসল উৎপাদনের জন্য এ অঞ্চলের প্রান্তিক চাষী ও ক্ষুদ্র চাষীদের ধান বিক্রি করে আর্থিক জোগান দেয়া ছাড়া উপায় নেই। কারণ এ অঞ্চলের কৃষি পরিবারগুলো কৃষি অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল। তারা এক ফসলের আয় থেকে আর একটি ফসল উৎপাদনের খরচ জোগান দেন। তাই এখন কৃষকরা সরাসরি ধান সরকারের কাছে বিক্রি করতে না পারলে তা কম দামে কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করবে ধান ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্র। প্রতি বছরের মতো তারা এবারও কম দামে ধান ক্রয় করে ধানের মজুদ গড়ে তা আবার সরকারের দেয়া উচ্চমূল্যে সরকারি গুদামে সরবরাহ করে থাকে।
ফলে প্রতি বছরের মতো এবারও কৃষকরা সরকারিভাবে ধানের দেয়া দাম থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা করছে। এ জন্য সরকারের এখনি উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। কেন মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হচ্ছে না তার কার্যকরী মনিটরিং করা প্রয়োজন বলে কৃষকরা মনে করেন। এ অবস্থায় খাদ্য বিভাগের রংপুর আঞ্চলিক খাদ্যনিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের ৮ জেলার মধ্যে রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় ধান ক্রয় অভিযানের ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এক ছটাক ধান ক্রয় করেনি খাদ্য বিভাগ। ওই পরিসংখ্যানে আরও জানা গেছে, রংপুর জেলায় এবারে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯৮১৬ টন, পর্যায়ক্রমে একইভাবে লালমনিরহাটে ৮১৭৮, নীলফামারীতে ১২৬৩৮, পঞ্চগড়ে৪৬৪৯ ও ঠাকুরগাঁওয়ে ৮২৪৮ টন। এসব জেলায় এই সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এক ছটাক ধান ক্রয় করা হয়নি। কৃষি বিভাগের সূত্র মতে, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় এবার ১৬ লাখ হেক্টরের ওপর বোরোর আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৪ টন করে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সেই হিসাবে এবার ৬৪ লাখ টন ধান উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ মেজবাহুল ইসলাম জানান, রোববার পর্যন্ত ৯০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। বাদবাকি ধান কাটতে আরও সপ্তাহ দুয়েক লাগবে। খাদ্য বিভাগের রংপুর সহকারী আঞ্চলিক খাদ্যনিয়ন্ত্রক আনিসুর রহমান যুগান্তরকে জানান, তাদের তিন জেলায় এ পর্যন্ত ৩৭ টন ধান সংগ্রহ হয়েছে। রংপুর বিভাগের বাকি ৫ জেলায় এ পর্যন্ত ধান ক্রয় করা যায়নি।
কেন সম্ভব হয়নি তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি। তবে তিনি জানিয়েন, ধান সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয়ের জন্য তারা মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন। কেন কোনো উপজেলায় খাদ্য কর্মকর্তারা ধান সংগ্রহ করতে পারেনি তাও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। বগুড়ায় কেনা হচ্ছে ধান : বগুড়ায় সোমবার সরকারিভাবে কৃষকের কাছে ২৩ টাকা কেজি দরে বোরো ধান কেনা শুরু হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন সোমবার শহরের চকসূত্রাপুরে সদর খাদ্য গুদামে এ ক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্র জানায়, বগুড়ার ২৩টি লোকাল সাপ্লাই ডিপো (এলএসডি) বা স্থানীয় খাদ্য সরবরাহ কেন্দ্র এবং একটি সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপো (সিএসডি) বা কেন্দ্র খাদ্য সংরক্ষণাগারে মোট ৪০ হাজার ৬১৪ টন ধান কেনা হবে। ন্যায্যমূল্য দাবিতে বিক্ষোভ ঢাবিতে : কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জোটের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি কলা ভবন, ডাকসু হয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। জোটের কেন্দ্রীয় নেতা আহনাফ আতিকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদসহ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্যের নেতারা। সমাবেশে বক্তারা শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ এবং কৃষিতে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন রুখে দেয়ার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে কৃষি ব্যবস্থার কারণেই। অথচ সেই কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য দেয়া হচ্ছে না। তাদের জীবন আজ হুমকির সম্মুখীন। তারা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে পরিবারের জন্য আয় করতে পারে না। কৃষকদের জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি বাড়নোর দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, বর্তমানে শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি পাঁচ হাজার তিনশ’ টাকা। বাংলাদেশে বসবাসের জন্য এটা কোনো শ্রমিকের ন্যায্যমূল্য হতে পারে না। এটি বাড়াতে হবে।