Thursday, July 25, 2013
মার্কিন কংগ্রেসে নজরদারি ও আফগান ইস্যুতে জোর বিতর্ক
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা করার স্বীকৃতি পেলেন দুই নারী
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চীনে ৫ বছরের জন্য সরকারি ভবন নির্মাণ নিষিদ্ধ
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘বিমানবন্দর ছাড়ার অনুমতি পেয়েছেন স্নোডেন’
![]() |
| এডওয়ার্ড স্নোডেন |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নাম কি সত্যিই জেমস বা জর্জ?
![]() |
| বাবার কোলে রাজপরিবারের নতুন অতিথি ষ রয়টার্স |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ভবিষ্যৎ রাজাকে’ নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমে ভুল
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাড়িতে প্রথম রাত কাটাল রাজপুত্র
![]() |
| হাসপাতাল থেকে নবজাতক ও মাকে নিয়ে মঙ্গলবার নিজেই গাড়ি চালিয়ে কেনসিংটন প্রাসাদে যান প্রিন্স উইলিয়াম ষ এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পদ্মা সেতু উপাখ্যান by আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়
পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ যখন শুরু হয়, তখন বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিলেন এলেন গোল্ডস্টেইন। তার কল্যাণে প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরুতেই দেখা দেয় হরিষেবিষাদ। প্রকল্পটির পরামর্শক সংস্থা নির্বাচন নিয়ে কথা তোলে বিশ্বব্যাংক। মন্ত্রী-উপদেষ্টা-সচিবসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, তারা পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে এসএনসি লাভালিন নামক একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাছাড়া এমন একটি কথাও চাউর হয়, কয়েকজন ব্যক্তি লাভালিন থেকে ঘুষ গ্রহণ করতে চেয়েছেন; কিংবা উল্লিখিত কোম্পানি কাজটি বাগিয়ে নেয়ার জন্য বাংলাদেশের কয়েকজন সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তিকে উৎকোচ দিতে চেয়েছে। এক্ষেত্রে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করানো হয় উল্লিখিত কোম্পানির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ডায়েরি। বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে ক্রিমিনাল কন্সপিরেসি আখ্যা দিয়ে বলা হয়, তারা লাভালিন কোম্পানির কর্মকর্তা রমেশ সাহার ডায়েরি থেকে জানতে পেরেছেন পরামর্শক নিয়োগের বিনিময়ে কাকে কী পরিমাণ হারে অর্থ দেয়ার কথা ছিল। ওই ডায়েরির এক স্থানে নাকি লেখা রয়েছে : সৈয়দ আবুল হোসেন (যোগাযোগমন্ত্রী) ৪ শতাংশ, আবুল হাসান চৌধুরী (সাবেক প্রতিমন্ত্রী) ২ শতাংশ, মসিউর রহমান (প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা) ১ শতাংশ, মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া (সচিব সেতু বিভাগ) ১ শতাংশ ইত্যাদি। উল্লেখ্য, ডায়েরিতে পরিষ্কার করে বলা হয়নি এ হিসাবটি কিসের। এ পরিমাণ অর্থ কি কোম্পানি দিতে চেয়েছিল, নাকি একেবারেই দিয়ে ফেলেছে। প্রমাণ দূরে থাক, কোনো ধরনের উল্লেখও নেই ওই ডায়েরিতে।
যা হোক, বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হওয়ার একপর্যায়ে বিশ্বব্যাংক মহাদুর্নীতির অভিযোগ এনে এ প্রকল্পে তাদের দেয়া আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্র“তি স্থগিত ঘোষণা করে। পরে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে অনেক যোগাযোগ ও আলোচনার পর বিশ্বব্যাংকের সুর নরম হয় এবং একপর্যায়ে তারা আবার পদ্মা সেতুতে আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্র“তি পুনর্ব্যক্ত করে। এ সময় বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কিছু কথাবার্তায় বিশ্বব্যাংক আবার গোস্ব^া হয় এবং ঋণ সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে কঠিন শর্ত আরোপ করে। এর মধ্যে একটি শর্ত হল বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত দল ঢাকায় আসবে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সবার সঙ্গে কথাবার্তা বলে তারা কেবল সন্তুষ্টি লাভ করলেই ঋণ প্রদানের বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় আসবে।
এ সিদ্ধান্তের আলোকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর লুইস মরেনো ওকাম্পোর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত টিম যথারীতি ঢাকায় আসে, তদন্ত সম্পন্ন করে প্রাথমিকভাবে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা প্রদানের জন্য ধন্যবাদও জানিয়ে যায়।
পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্ন জড়িত। এর সঙ্গে জড়িত একটি সরকার এবং দেশ ও জাতির সম্মান ও ভাবমূর্তি। সঙ্গত কারণে বিষয়টির ওপর বিশ্বব্যাংকের ত্বরিত সিদ্ধান্ত আশা করা হয়েছিল। কিন্তু এ তদন্ত কমিটি তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ তথা দুর্নীতি দমন কমিশনকে পত্র পাঠাতে সময় নেয় ছয় মাসেরও বেশি। একটি তদন্ত রিপোর্ট দিতে এত বিলম্ব হলে নানা ধরনের প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক।
আমার ধারণা, পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি বা অন্যকিছুর তুলনায় রাজনীতি অনেক বেশি ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে শুরু থেকেই বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন কান্ট্রি ডিরেক্টর এলেন গোল্ডস্টেইন যে ভাবসাব দেখিয়েছেন এবং বৈপ্লবিক বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যখন দ্বিতীয় পর্যায়ে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্প সহায়তার ঘোষণা দেয়, তখন এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এও বলেন, শুধু পদ্মা সেতু প্রকল্পের স্বচ্ছতাই যথেষ্ট নয়, বিশ্বব্যাংকের সহায়তা পেতে বাংলাদেশ সরকারকে আরও অনেক প্রতিশ্র“তি দিতে হবে। বিষয়টি পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি প্রচ্ছন্নভাবে একথাও বলতে চেয়েছেন, আগামী নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে কিনা সে বিষয়েও সরকারকে প্রতিশ্র“তি দিতে হবে। এখানেই শেষ নয়, অতি উৎসাহের সঙ্গে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর ব্যাপারে তার (বিশ্বব্যাংকের) দৃঢ় পদক্ষেপের পেছনে বাংলাদেশের মানুষের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। তার এ ধরনের বক্তব্য এতই খোলামেলাভাবে উপস্থাপন করা হয় যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্বভাবসুলভ কৌতুক করে বলেছিলেন, তিনি (গোল্ড) যদি এতই জনপ্রিয় হন, তবে বিশ্বব্যাংক ছেড়ে রাজনীতিতে যোগদান করে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন। তার এ কৌতুকপূর্ণ উক্তিটি হাল্কা ভেবে উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়। কারণ গোল্ডস্টেইন যে পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে যথেষ্ট রাজনীতি করেছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে আশার কথা, বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের বর্তমান আবাসিক পরিচালক জোহান্স জুট একপর্যায়ে বলেন, ষড়যন্ত্র ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদ্মা সেতু প্রকল্পে সহায়তা বাতিল করলেও বিশ্বব্যাংক মনে করে প্রকল্পটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা বাস্তবায়ন হওয়া উচিত। তাই আমরা প্রকল্পটি বস্তবায়নে সরকারকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করে যাব। জোহান্স জুটির বিবৃতিটি পড়ে আমার মনে হয়েছে, ওই ক্রান্তিকালে গোল্ডস্টেইনের পরিবর্তে অন্য কেউ বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি থাকলে পদ্মা সেতুর পানি এতদূর গড়াত না।
বিলম্ব হলেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দল যে রিপোর্ট দুর্নীতি কমিশনের চেয়ারম্যানকে প্রদান করেন, তা আদ্যপান্ত পাঠ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, রিপোর্টটি পড়ে আমার মনে হয়েছে দুর্নীতি হতে পারত, কিন্তু দুর্নীতি হয়নি।
একে সঠিক ধরে নিলে বলতে হয়, মার্ডার করা আর অ্যাটেম্পট টু মার্ডার- এক কথা নয়। খুনের বিচার হয় পেনাল কোডের ৩০২ ধারায়। এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা ন্যূনপক্ষে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর অ্যাটেম্পট টু-মার্ডারের বিচার হয় পেনাল কোডের ৩০৭ ধারায়। এক্ষেত্রে শাস্তি যাবজ্জীবনও হতে পারে। আবার ক্ষেত্রবিশেষে বেকসুর খালাসও হতে পারে। তবে বিশ্বব্যাংক অ্যাটেম্পট-টু মার্ডারের দায়ে আমাদের ফাঁসিতেই ঝুলিয়ে দিল। আমাদের একটি কথা এখানে ভুলে গেলে চলবে না, দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বিশ্বব্যাংকের হাতও সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও স্বচ্ছ ছিল না। পরামর্শক নিয়োগের ব্যাপারে বিশ্বব্যাংক এমন এক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তদবির করেছিল, যে প্রতিষ্ঠানটি তার অপকর্মের জন্য বিশ্বের অনেক দেশেই ব্লাক লিস্টেড। কোনো নৈতিকতার বিচারেই বিশ্বব্যাংকের এমন একটি প্রতিষ্ঠান এমনকি কোনো ভালো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ওকালতি করার এখতিয়ার ছিল না। বিষয়টি ডামাডোলের মধ্যে ঢাকা পড়লেও একে উপেক্ষা করার কোনো উপায় নেই।
আমরা জানি, ভারতের নন্দিত প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধী একবার পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন আদালতের রায়ের কারণে। তার অপরাধ ছিল, তার প্রাইভেট সেক্রেটারি টেলিগ্রাম করে এলাহাবাদের ডিসিকে অনুরোধ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি নমিনেশন ফর্ম কিনে রাখার জন্য, কারণ তখন পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছিল। এলাহাবাদ হাইকোর্ট এ টেলিগ্রামটিকে ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রশাসনকে ব্যবহার করার অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে আদালতের রায়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইন্দিরা গান্ধীকে সরে যেতে হয়। এ রায় সম্পর্কে ব্রিটেনের একটি প্রভাবশালী পত্রিকায় লেখা হয়, It is just giving death sentence to a person for mere violation of traffic signal.
আমাদের বেলায় কেবল দুর্নীতি করতে চাওয়ায় কিংবা দুর্নীতি করার ইচ্ছা মনে ছিল- এ ধরনের সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক বিবেচনায় এমন শাস্তি প্রদান করা হল, যাতে গোটা সরকার, দেশ ও জাতির আপদমস্তক কলংকের কালিমা লেপন করে দেয়া হল। বিনা দোষে একেবারে ফাঁসির কাষ্ঠে লটকিয়ে দেয়া হল গোটা জাতিকে। অর্থনীতির চেয়ে এখানে রাজনীতি বেশি কাজ করেছে, ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার চেয়েও ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের বিষয়টি এখানে গভীরভাবে কাজ করেছে। পরবর্তীকালে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোই তার সুস্পষ্ট প্রমাণ।
আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া : ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আগ্রাসী ভূমিকায় ব্যাংকিং খাত : করণীয় by ড. আর এম দেবনাথ
আমি প্রতিবেদনটি পড়ে নিজের মতো করে একটা সারসংক্ষেপ করেছি। তাতে দেখা যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঋণের ওপর সুদের হার বেশি। এর ওপর সুদ তো আছেই। তার ওপর চার্জ হয় নানা ধরনের ফি। এর ফলে প্রকৃত সুদের হার ৩ থেকে ৪ শতাংশ বেশি হয়। সব মিলিয়ে তা হয় ২০ থেকে ২৪ শতাংশ। মজার ঘটনা হচ্ছে, কেউ ঋণের টাকা ফেরত দিতে চাইলেও নাকি চার্জ দিতে হয় চার শতাংশ। দ্বিতীয় অভিযোগটি হচ্ছে ব্যাংকের ‘স্প্রেড’ নিয়ে। ‘স্প্রেড’ হচ্ছে আমানত ও ঋণের সুদের তারতম্য। তা পাঁচ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা নয়। অনেক ক্ষেত্রে তা নাকি বেশি। অর্থাৎ ব্যাংক আমানত নিচ্ছে কম সুদে, বিপরীতে ঋণ দিচ্ছে বেশি হারে যাতে ‘স্প্রেড’ অর্থাৎ মুনাফা বাড়ে। তৃতীয় অভিযোগটি ‘সার্ভিস চার্জ’ সম্পর্কিত। ব্যাংকগুলো নতুন নতুন সার্ভিস চার্জ আবিষ্কার করছে এবং তা আদায় করছে। এসব চার্জের তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা, যেমন প্রকাশিত থাকার কথা আমানত ও সুদের হার। বলা হয়েছে, ‘সার্ভিস চার্জের’ পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করে না ব্যাংক। প্রতিবছর দু’বার গ্রাহকদের ‘হিসাবের বিবরণী’ (অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট) পাঠানো বাধ্যতামূলক। তা পাঠানো হয় না। বিপরীতে কেউ তা চাইলে এর জন্য গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ‘ডেবিট’ করা হয় অর্থাৎ চার্জ আদায় করা হয়। সব শেষে বলা হয়েছে, দেশের ২৩টি ব্যাংক এ-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা লংঘন করেছে।
প্রতিবেদন পাঠ করে বোঝা গেল না, যে ২৩টি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা লংঘন করছে এর মধ্যে কয়টি সরকারি আর কয়টি বেসরকারি ব্যাংক। আমার মনে হয়, এ বিষয়টি পরিষ্কার না হলে অভিযোগটি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হয়। আমার ধারণা, ২৩টি ব্যাংকের প্রায় সবই বেসরকারি খাতের। বেসরকারি ব্যাংকের যখন অনুমোদন দেয়া হয়, তখন যুক্তি ছিল প্রতিযোগিতার। সরকারি ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের ‘অত্যাচার’ করে। এখন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ আমলে নিলে বলতে হয়, প্রতিযোগিতার যুক্তিটা অকার্যকর। বেসরকারি ব্যাংক সত্যিকার অর্থে প্রতিযোগিতা করছে না। তারা অতিরিক্ত মুনাফার যন্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এখানেও কথা আছে। ২৩টি ব্যাংকই সব ব্যাংক নয়। রিপোর্টের সময়কে ভিত্তি করে বলতে হয় মে পর্যন্ত দেশে ব্যাংক ছিল ৪৭টি। তার অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মোতাবেক ২৪টি ব্যাংক ঠিক পথেই ছিল। কাজেই ঢালাও অভিযোগ করা যাবে না। ব্যাংকিং খাতের একাংশ বাংলাদেশ ব্যাংককে মানছে না, বৃহত্তর অংশ মানছে। প্রশ্ন, যে অভিযোগগুলো ব্যবসায়ীরা উত্থাপন করেছেন তা কি নতুন? আমার মতে এসব অভিযোগ নতুন নয়। ঋণের ওপর সুদের হার বেশি। এর কারণে ব্যবসার খরচ হচ্ছে বেশি। এতে ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতার ক্ষমতা হ্রাস পায় আন্তর্জাতিক বাজারে। এসব অভিমতের কোনো ভিত্তি নেই তা বলা যাবে না। তবে এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য অনেকগুলো বিষয়। ‘কস্ট অব ফান্ড’ কত অথবা আমানতের সুদ কত? ব্যাংকের প্রশাসনিক ব্যয় কত? মূল্যস্ফীতি কত? সুদের হার নির্ণয়ে এগুলোও বিবেচ্য বিষয়। এক বছর আগের ঘটনা ভিন্ন ছিল। কিন্তু এখন মূল্যস্ফীতি ৭-৮ শতাংশ। আমানতের ওপর সুদের হারও ব্যাংক কমাচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই সুদের হার পুনর্বিবেচনা করতে হবে। পুরনো যুক্তিতে চলবে না। ‘স্প্রেড’ ৫ শতাংশের বেশি রাখা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ মুহূর্তে এ কথা বলতেই হবে। যদি ব্যাংকগুলো তাদের মুনাফা ঠিক রাখার জন্য আমানতকারীদের সুদ কমায় অথচ ঋণের ওপর সুদ না কমায় তাহলে অবশ্যই এটা আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতা উভয়ের প্রতি অবিচার হবে।
একথা বললেই সমস্যা শেষ হয় না। আমাকে বলতেই হয়, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মালিক বাংলাদেশের বড় বড় ব্যবসায়ী। তারা আবার আমদানি-রফতানি ব্যবসা থেকে শুরু করে সব ব্যবসা করেন। এ অবস্থায় বোঝা যাচ্ছে, লড়াইটা ব্যবসায়ী বনাম ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীরাই ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখছেন না। অথচ সরকারি ব্যাংক ‘অত্যাচার’ এতটা করে না। করলে বেসরকারি ব্যাংক এবং নন-ব্যাংক ফিনান্সিয়াল ইন্সটিটিউট থেকে অনেক গ্রাহক সরকারি ব্যাংকে আসতে চাইত না। এখন প্রশ্ন, ব্যবসায়ীদের এ সমস্যার সমাধান কে করবে? আরেকটা প্রশ্ন। ব্যবসার মোট খরচে ‘সুদ খরচ’ কত শতাংশ? ১০০ টাকার মধ্যে ব্যবসায় সুদ বাবদ কত খরচ হয়? আমার ধারণা, ব্যবসায়ীরা এ বিষয়টি সম্বন্ধে ভাবেন না। চার্জ নিয়ে কথা থাকতে পারে, বস্তুত আছেও। অবশ্য এ প্রশ্নটির সঙ্গে বৃহত্তর একটা বিষয় জড়িত যার প্রতি কেউ নজর দেয় না। ব্যবসায়ীরা যদি ২০-২৪ শতাংশ সুদ দিয়ে ব্যবসা করতে না পারেন, তাহলে ৩০-৩৫ এমনকি ৪০ শতাংশ সুদ দিয়ে গ্রামের গরিব মানুষ, কৃষক, প্রান্তিক চাষী, ভূমিহীনরা কিভাবে টিকবে? ব্যবসায়ীদের ওপর ধার্যকৃত সুদের হার যদি অসহনীয় হয়, যদি তা ‘অত্যাচার’ হয়, তাহলে কৃষকদের ওপর কী হচ্ছে? আমার ধারণা, ঋণের ওপর সুদের হারের বিষয়টি নির্মোহ দৃষ্টিতে দেখা দরকার। অবিচার কারও প্রতি কাম্য নয়- ব্যবসায়ীদের প্রতিও নয়, কৃষকদের প্রতিও নয়। আরেকটি কথা। ব্যবসার খরচ কমানোর অন্যতম প্রধান উপায় হচ্ছে শেয়ারবাজার। ব্যবসায়ীদের উচিত পুঁজির জন্য শেয়ার বিক্রি করা। এতে খরচ কমবে। অন্তত সুদের হিসাব করতে হবে না।
বড় প্রশ্ন বোধহয় সার্ভিস চার্জ নিয়ে। যুগান্তরের প্রতিবেদনের মূল কথা মনে হচ্ছে তাই। প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে সুদের হার। একথা আমি মানি, ব্যাংকগুলো সার্ভিস চার্জের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। নানা ধরনের নাম দিয়ে ব্যাংক সার্ভিস চার্জ আদায় করছে। এটা কেমন কথা, একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট পাঠাবে না, অথচ তা চাইতে গেলে ‘চার্জ’ দিতে হবে? এটা তো অন্যায়, অবিচার। অন্যায় অনেক ধরনের। হিসাব খোলা হয়েছে, তখন ‘ভোটার আইডি’ ছিল না। পাসপোর্টের কপি দেয়া হয়েছে, যথারীতি ছবি দেয়া হয়েছে। ট্রানজেকশন প্রোফাইল ইত্যাদিও করা হয়েছে। নমিনির ছবিও দেয়া হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে, ‘ভোটার আইডি’ না দিলে অ্যাকাউন্ট ক্লোজ করে দেয়া হবে। নিয়ম হচ্ছে ‘ভোটার আইডি’ অথবা পাসপোর্টের কপি অথবা ওয়ার্ড কমিশনারের সার্টিফিকেট দিতে হবে। অথচ কোনো কোনো ব্যাংকের ‘অতিশিক্ষিত’ ম্যানেজমেন্ট স্বেচ্ছাচারিতা করছে। কে দেখবে এসব?
সুদের হারই হোক, সার্ভিস চার্জই হোক, অথবা হোক অন্য বিষয়ের ওপর অভিযোগ, তা দেখার মালিক কে? স্পষ্টতই বাংলাদেশ ব্যাংক। দু’দিন পরপর খবরের কাগজের রিপোর্ট পড়ে আমার ধারণা হচ্ছে, গ্রাহকদের অভিযোগ দেখার দায়িত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খুবই ‘ক্যাজুয়েল’। তারা বলেছে, ব্যাংকে ব্যাংকে অভিযোগ কেন্দ্র খুলবে। তারা নিজেরাও অভিযোগ নেয়। অথচ অভিযোগ বাড়ছেই। একটি বড় অভিযোগ আন্তঃব্যাংক দাবি-সংক্রান্ত। এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের ‘একসেপটেন্সের’ বিপরীতে টাকা দিয়েছে। ‘বিল’ পরিশোধের সময় হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নানা কথা বলে টাকা দিচ্ছে না। ফলে সৃষ্টি হয়েছে আন্তঃব্যাংক সমস্যা। এর সমাধান কে করবে? স্পষ্টতই তা করতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। আইনি জটিলতা থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেই তার সমাধান খুঁজতে হবে। অথচ এটা হচ্ছে না। সমস্যাটা ‘হলমার্ক’ সমস্যা থেকে উদ্ভূত। এক্ষেত্রে দুদক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। শত হোক সমস্যার সমাধান করতে হবে। সমস্যা ঝুলিয়ে রাখা যায় না। এটা ব্যাংকিং রীতি-নীতির বাইরে। এতে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম বিঘিœত হয়।
কয়েক দিন আগে কাগজে দেখলাম, বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি প্রতিষ্ঠানে, এমনকি দুদককে পর্যন্ত নাকি তথ্য দিতে অস্বীকৃত হচ্ছে। খবরটি সত্য কি-না জানি না। আমরা ব্যাংকারদের কাছে শুনেছি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক অথবা কোনো ব্যাংক বাইরের কাউকে তথ্য দেবে না। দেবে কোর্টের মাধ্যমে। দীর্ঘদিনের এ রীতি ভাঙা হচ্ছে কি? এতে আইনি বিষয় আছে কি? আমি নিশ্চিত নই। অথচ এসব কারণে ব্যাংকিং খাতে সমস্যা বাড়ছে। কে সমাধান করবে এসব সমস্যার? অবশ্যই এর সমাধান বের করতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেই। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, এ কাজটি হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইএমএফের হুকুম মানতেই ব্যস্ত। অন্য কাজ সে কখন করবে? এ অবস্থায় আমার একটা প্রস্তাব আছে। ঋণগ্রহীতা, আমানতকারী ও অন্যান্য সেবা গ্রহণকারীদের অনেক অভিযোগ আছে। অনেকেই সুদের হারের কারণে, অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জের কারণে, নিুমানের সেবার কারণে, বিলম্বে সেবা প্রাপ্তির কারণে, সর্বনিু সেবাপ্রাপ্তিতে বিলম্বের কারণে হরহামেশা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকে হয়রানির শিকার হচ্ছে। প্রতিকার নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গিয়ে ফল হচ্ছে না। ব্যাংকে অভিযোগ করে লাভ হচ্ছে না। এমতাবস্থায় ‘কাস্টমার রাইটস প্রটেকশন কমিশন’ গঠিত হোক। অন্য নামও হতে পারে, যারা শুধু ব্যাংকের অভিযোগ শুনবে এবং দ্রুত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করবে। এ ব্যাপারে নেতারা, নীতি-নির্ধারক, আমলা, ব্যাংকাররা একটু ভাববেন কি? এটা হলে দুদিন পরপর ‘আগ্রাসী ভূমিকায় ব্যাংকিং খাত’ ধরনের খবরের পাঠক আমাদের আর হতে হবে না।
ড. আর এম দেবনাথ : সাবেক প্রফেসর, বিআইবিএম
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মহাজোট সরকারের যত ভুল by মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার
ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকার আরেকটি বড় ভুল করে। যোগ্যতার সঙ্গে আপস করে, পরীক্ষিত অভিজ্ঞ আওয়ামী লীগ নেতাদের কোণঠাসা করে অনেক অযোগ্য ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া হয়। তোফায়েল, জলিল, রাজ্জাকদের মতো সুযোগ্য ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই না দিয়ে তাদের দলে কোণঠাসা করে রাখায় মন্ত্রিসভা যেমন শক্তিশালী হয়নি, তেমনি দলীয় সাংগঠনিক তৎপরতাও গতি পায়নি। দলে ও সরকারে বামদের প্রাধান্য দেয়ায় দলের তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া স্বল্প যোগ্য মন্ত্রিসভার মাথার ওপর সাত সাতজন অনির্বাচিত সুশিক্ষিত উপদেষ্টা বসিয়ে কাজ করাবার কৌশল উল্লেযোগ্যসংখ্যক মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা-মন্ত্রী দ্বন্দ্ব সৃষ্টির মধ্য দিয়ে ব্যর্থ হয়। এসব উপদেষ্টা রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ না হওয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণকালে জনগণের নাড়ির স্পন্দন পড়তে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এ দেশে জনগণের মধ্যে একটি ভারতবিরোধী চেতনা কাজ করে জেনেও একজন উপদেষ্টা ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার বিনিময়ে ফি চাইলে অসভ্যতা হবে মন্তব্য করে দেশপ্রেমিক নাগরিদের বিক্ষুব্ধ করেন। আরেকজন উপদেষ্টা কমিউনিটি ক্লিনিকে ১৩ হাজার ৩৫০ জন কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে দলের পরীক্ষিত কর্মী ছাড়া কাউকে চাকরি দেয়া হবে না মন্তব্য করে গরিব চাকরিপ্রার্থীদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করেন। উপদেষ্টাদের কর্মকাণ্ড দেখে বলা যায়, গণবিচ্ছিন্ন, অনির্বাচিত উপদেষ্টা নিয়োগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের প্রাধান্য দেয়া সরকারের জন্য ছিল বড় ভুল।
গণতান্ত্রিক সরকারের স্বচ্ছতার নীতিকে জলাঞ্জলি দেয়ায় সাধারণ মানুষ সরকারের ওপর রুষ্ট হন। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ডিসিসি নির্বাচন না দিয়ে সরকার আরেকটি ভুল করে। ওই সময় নির্বাচন দিলে সরকার সমর্থিত প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু দেরি করতে করতে এখন সরকার এ নির্বাচন করে যেতে পারে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্র“তিতে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী-এমপিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব গ্রহণ ও প্রকাশের ওয়াদা ভঙ্গ করে সরকার নেতা-মন্ত্রীদের দুর্নীতি করার সুযোগ দিয়ে ভুল করে। এছাড়া প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে জাতীয় সংসদে আলোচনা না করে বা জনগণকে না জানিয়ে চুক্তি করার বিষয়গুলো সাধারণ মানুষ সরকারের অস্বচ্ছতার নমুনা হিসেবেই বিবেচনা করেন। এর সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের অনুরোধ উপেক্ষা করে বিসিএস মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০০ থেকে বাড়িয়ে ২০০ করায় এবং ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ভর্তিবাণিজ্যকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে সরকার দুর্নীতি দমনের ওয়াদা থেকে সরে এসে সরকারি কাজকর্মে অস্বচ্ছতাকে প্রশ্রয় দেয়ায় জনগণ বিরক্ত হন। পিলখানার বিজিবি হেডকোয়ার্টারে রেলওয়ের নিয়োগ দুর্নীতির বস্তাভরা টাকা ধরা পড়ার পর ওই দুর্নীতির অভিযোগের তীর রেলমন্ত্রীর দিকে নিক্ষেপিত হয়। ওই ঘটনার প্রধান সাক্ষী মন্ত্রীর এপিএসের গাড়িচালক আলী আজমের টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বিষয়টি স্বীকৃত হওয়া সত্ত্বেও মন্ত্রীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে আবারও তাকে দফতরবিহীন মন্ত্রিত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করায় জনগণ কিছুটা অবাক হয়ে বুকের মধ্যে সে ক্ষোভ পুষে রাখেন।
দ্রব্যমূল্যের সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষের টাকা লুটকারী এবং শেয়ারবাজারের ৩৩ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগারীর পুঁজি আÍসাৎকারীদের ছাড় দিয়ে সরকার ভেবেছিল, সময়ের বিবর্তনে এসব ঘটনা জনগণ ক্রমান্বয়ে ভুলে যাবে। সরকারের এ ভাবনা ছিল বড় রকমের ভুল। সরকারের মনে রাখা উচিত ছিল, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এমন একটা বিষয়, যা সব মানুষকে স্পর্শ করে। একইভাবে শেয়ারবাজারের পরিকল্পিত লুটেরাদের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে চিহ্নিত করেও তাদের শাস্তি না দিয়ে এর পরিবর্তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং যুদ্ধাপরাধীর বিচার বাধাগ্রস্ত করার মলম লাগিয়ে সে বেদনা ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হলে তা ব্যর্থ হয়। শেয়ারবাজার লুটকারীদের বিচার তো সরকার করেইনি; উপরন্তু অর্থমন্ত্রীর এ বিষয়ে দেয়া আপত্তিকর বক্তব্য ছিল পুঁজি হারানো নিঃস্ব বিনিয়োগারীদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেয়ার শামিল। সরকার যদি ভেবে থাকে, পুঁজি হারানো নিঃস্ব মানুষদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিলে ব্যালট হাতে পেলে তারা ওই যন্ত্রণার প্রতিশোধ নেবেন না, তাহলে তা হবে বড় রকমের ভুল। সরকার একই রকম ভুল করে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেলবিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি নেতিবাচক আচরণ করে। প্রতিবেশী দেশের নোবেলবিজয়ী প্রফেসরকে অধিক সম্মান দিয়ে স্বদেশী ইউনূসকে অবজ্ঞা করার বিষয়টি সাধারণ মানুষ পছন্দ করেননি। গ্রামীণ ব্যাংককে টুকরো টুকরো করার চেষ্টা করার আগে সরকারের ভাবা উচিত ছিল, ব্যাংকটির যে ৮৪ লাখ ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতা রয়েছেন, তারা সবাই ভোটার। ওই বিষয়টি মাথায় না রেখে গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছিল রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বড় রকমের ভুল।
নির্বাচনী ওয়াদা পূরণে মনোযোগ না দেয়া ছিল সরকারের আরেকটি ভুল। সরকার নির্বাচনী ওয়াদা পূরণে যতটা মনোযোগ দেয়, তার চেয়ে বেশি মনোযোগ দেয় বিরোধীদলীয় সাংবিধানিক নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন দমনে। যুগপৎ সংসদে ও সংসদের বাইরে বিরোধী দলকে প্রতিবাদ করতে না দেয়ার নীতি গ্রহণ করে সরকার ভুল করে। একপর্যায়ে রোডমার্চ করতে দিলেও পরে বিরোধী দলকে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে সরকার সর্বশক্তি নিয়োগ করে বাধা প্রদান করে। বিরোধীদলীয় আন্দোলন দমনে হামলা-মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশি নির্যাতনের আশ্রয় নেয়া ছিল সরকারের জন্য ভুল সিদ্ধান্ত। বিএনপি অফিসে প্রবেশ করে দলীয় কেন্দ্রীয় নেতাদের পাইকারি হারে গ্রেফতার করা এবং লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতাদের কারাগারে আটকে রাখা সাধারণ মানুষ পছন্দ করেননি। সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের মামলাগুলোকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা অভিহিত করে ওইসব মামলা পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের একই চরিত্রসম্পন্ন মামলাগুলো জিইয়ে রেখে তাদের বিরুদ্ধে আরও নতুন মামলা রুজু করার ঘটনাকে সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে বিবেচনা করে সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বাঁচাতে গিয়ে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টি কেবল স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণকেই প্রায় অসম্ভব করে তোলেনি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি করেছে, যা সরকারের ওপর জনগণকে বিক্ষুব্ধ করে। ওই সময় উল্লিখিত মন্ত্রীকে দুদক কর্তৃক দ্রুত স্বচ্ছতার সনদপত্র দেয়াকে সাধারণ মানুষ নিন্দা করেছেন। ভালো চোখে দেখেননি বিশ্বজিৎকে চাপাতির আঘাতে হত্যা করার ভিডিও ফুটেজ দেখার পর ওই ঘটনার মামলা ও বিচারের শ্লথগতিকে। লিমনের পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে র্যাবের গুলি করার ঘটনা এবং পরে ওই অসহায় কিশোরের সঙ্গে সরকারের আচরণ লক্ষ্য করে সাধারণ মানুষ সরকারকে ধিক্কার জানায়। সরকার অনেক দেরি করে গণমানুষের এ সংক্রান্ত ক্ষোভ অনুধাবন করতে পারে এবং সম্প্রতি লিমনের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, গাধার মতো ঘোলা করে পানি খাওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল কি? অসহায় কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রয়োজন ছিল কি? দু’-একজন র্যাব সদস্য যদি অন্যায় করে থাকে এবং সে জন্য যদি তাদের আইনের আওতায় আনা হতো, তাহলে সরকারের কতটা জনপ্রিয়তা বাড়ত, সে বিষয়টি সময়মতো ভেবে না দেখে সরকার আরেকটি ভুল করে।
ধর্মের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং তা এ দেশের রাজনীতিতে খুবই সক্রিয় জেনেও সরকার শাহবাগের গণজারণ মঞ্চকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে ব্লগারদের পক্ষাবলম্বন করে তাদের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করার যে প্রচেষ্টা গ্রহণ করে, শেষ পর্যন্ত তা সামাল দিতে পারেনি। নির্দলীয় এ অরাজনৈতিক আন্দোলনটি সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক রূপ পরিগ্রহ করলে এ আন্দোলনে ক্রমান্বয়ে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা হ্রাস পেতে থাকে। মানবতাবিরোধীদের ফাঁসির দাবি নিয়ে শুরু করা এ আন্দোলন জনগণের প্রাথমিক সমর্থন পেলেও পরে প্রজš§ চত্বরের নেতৃত্ব সাধারণ ব্লগারদের হস্তচ্যুত হওয়ায়, বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিচারের রায়কেন্দ্রিক স্লোগান দেয়ায়, বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিত্বকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করায়, খ্যাতিমান মুক্তিযোদ্ধাকে ‘নব্য রাজাকার’ বলায়, পত্রিকা সম্পাদককে গ্রেফতার করতে সময় বেঁধে দিয়ে বিশেষ পত্রিকা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধ করার দাবি তোলায় এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের কাছে টানার পরিবর্তে আন্দোলনে জড়িত ব্লগারদের কেউ কেউ আল্লাহ ও হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি কটূক্তি করায় ধর্মবিশ্বাসীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হন। সরকার তিন স্তরের নিরাপত্তা, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পোশাকধারী বাহিনীর সমর্থন দিলেও গণজাগরণ মঞ্চ তার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। কিছু ব্লগারের ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক আলেম-ওলামাদের সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। কাজেই গণজাগরণ মঞ্চকে সমর্থন দিয়ে ওই মঞ্চ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সরকারি কৌশলও ভুল ছিল বলে প্রমাণিত হয়। সাধারণ মানুষ যে গণজাগরণ মঞ্চকে গ্রহণ করেনি, তা সরকার অনেক দেরিতে বুঝতে পারে। সে জন্য ১৫ জুনের চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং ৬ জুলাইয়ের গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভালো করার জন্য সরকার সর্বশক্তি নিয়োগ করলেও গণজাগরণ মঞ্চকে ব্যবহার করেনি।
অন্যদিকে আলেম-ওলামাদের সংগঠন হেফাজতকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকার শাপলা চত্বরে তাদের ৫ মে সমাবেশের অনুমতি দিয়ে পরে তাদের বিরুদ্ধে গভীর রাতে বাতি নিভিয়ে যে নির্দয় আচরণ করে, তা ছিল আরও বড় ভুল। এ রকম চূড়ান্ত নির্দয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে এ ঘটনার রাজনৈতিক পরিণামের কথা বিবেচনা করা উচিত ছিল সরকারের। কিন্তু সরকার সে বিবেচনা তো করেইনি, পরিবর্তে এ ঘটনার পর সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ‘শাপলা চত্বরে ৫ মে দিবাগত রাতে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি, হেফাজত কর্মীরা গায়ে রঙ মেখে রাস্তায় পড়েছিল এবং পুলিশ টান দেয়ার পর লাশ দৌড় মারল’ এবং সুরঞ্জিতের ‘হেফাজত কর্মীদের সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ বলতে বলতে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যাওয়া’র মতো উপহাসমূলক বক্তব্য ছিল আলেম-ওলামাদের শরীরে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেয়ার শামিল। হেফাজতকে আক্রমণ করে হটিয়ে দেয়ার পর সরকারের অনেক নেতা-কর্মী-সমর্থককে ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেলেও এর কয়েকদিন পরই তারা বুঝতে পারেন, রাজনৈতিক মুনাফার দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। এ কারণে চার সিটি এবং গাসিক নির্বাচনে সরকার সমর্থিত প্রার্থীরা হেফাজতের সমর্থন লাভে সমর্থ হননি। বিশেষ করে হেফাজতের ভোটব্যাংকের কথা চিন্তা করে গাসিক নির্বাচনের আগে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও হেফাজতের সমর্থন পাননি সরকার সমর্থিত প্রার্থী।
সামনে সরকারের আরেটি বড় ভুল করার সম্ভাবনা রয়েছে। তা হল তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন না দিয়ে নিজেরা ক্ষমতায় থেকে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন। এমন সিদ্ধান্ত যে দেশের শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি মানুষ গ্রহণ করবেন না, সে বিষয়টি জেনেও সরকার চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এ কাজ করলে তা হবে বড় একটি ভুল। এ ভুল করলে সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সাড়ে চার বছরে সরকারের যে কোনো সাফল্যের দিক নেই, এমন নয়। কিন্তু অসংখ্য ভুলের চাপে সামান্য সাফল্য থাকলেও তা ম্লান হয়ে গেছে। সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণে এত ভুল করলে সে ভুলের খেসারত তো দিতেই হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চার সিটি ও গাসিক নির্বাচন থেকে সরকারের ভুলের মাশুল দেয়া শুরু হয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিশরের গণতন্ত্র ও ষড়যন্ত্র: মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব by সানাউল হক

প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের মধ্য দিয়ে কার্যত দেশটি ফিরে গেছে সামরিক শাসনে। সেনাবাহিনী ক্ষমতায় বসিয়েছে তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে। স্থগিত করা হয়েছে সংবিধান। নতুন যে সরকারকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে দৃশ্যত এর নেপথ্যে ক্ষমতার চাবি রয়েছে সেনাবাহিনী, বিশেষ করে সেনাপ্রধান জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি। ফলে আগামী দিনগুলোতে মিশরের ভবিষ্যৎ কি তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী, মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতি মারাত্মক এক আঘাত হেনেছে। এখন অনেকেই বলছেন, পরিস্থিতির শিকার হয়ে এই সংগঠনটি বাধ্য হয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যেতে পারে। যদি তারা তা-ই করে তাহলে মিশরে অস্থিরতা কমবে না বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। তারা মনে করেন, মিশরের সেনাবাহিনী ভয়াবহ একটি বিষয়ে হাত দিয়েছে। মুসলিম ব্রাদারহুডের মুখপাত্র জেহাদ আল হাদ্দাদ বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত মোহাম্মদ মুরসিকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। তার সরকারে যারা ছিলেন তাদের সবাইকে করা হয়েছে আটক। এর মধ্যে রয়েছেন জেহাদ হাদ্দাদের পিতা এসাম আল হাদ্দাস, মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখার প্রধান সাদ আল তাকাতনি। রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদপত্র আল আহরাম বলেছে, মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা ও সদস্য মিলে প্রায় ৩০০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মুরসি বিরোধী ও তার সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দিন ধরে চলমান বিক্ষোভের পর সেনাবাহিনী ৩রা জুলাই বুধবার গভীর রাতে মুরসিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। সেনাপ্রধান জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি ঘোষণা দেন, মুরসি এখন মিশরের কোন নেতা নন। তিনি দেশের জনগণের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
অন্তর্বতী সরকারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় মিশরের সুপ্রিম কনস্টিটিউশনাল কোর্টের প্রধান বিচারপতি আদলি মানসুরের। যথারীতি তাকে শপথ পড়ানো হয়। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকারের যাত্রা হলো মিশরে। ২৯ শে জুন এই বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট মুরসি। কিন্তু নিয়তির বিধান অনুসারে এখন তিনিই মুরসির স্থান দখল করলেন। ওদিকে মুরসি আর মিশরের প্রেসিডেন্ট নন- সেনাপ্রধানের এমন ঘোষণা দেয়ার পর ঐতিহাসিক তাহরির স্কয়ার আনন্দে ফেটে পড়ে। রাতের তাহরির স্কয়ার আলোয় আলোয় ঝলসে যায়। আতশবাজির আলোয়, লেসার রশ্মিতে অন্য এক আবহ সৃষ্টি করে। মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর এই অভ্যুত্থান পরিকল্পনা ছিল অনেকটা আগে থেকেই। অনেক দিন ধরেই রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার বাসনা সেনাপ্রধান জেনারেল সিসির মনে ছিল। তিনি ৩রা জুলাই বুধবার রাতে সংবিধান স্থগিত করে মুরসিকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তার করা হয় মুসলিম ব্রাদারহুডের অনেক নেতাকর্মীকে। বন্ধ করে দেয়া হয় কয়েকটি ইসলামী টেলিভিশন চ্যানেল।
২০১১ সালের আরব বসন্তের পর মিশরে ও ঐ অঞ্চলে মুসলিম ব্রাদারহুড বেশ ভাল করছিল। এর কারণ, এ সংগঠনটি অত্যন্ত সুসংগঠিত। তাদের রয়েছে সততার সুনাম। ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে তারা এগিয়ে গেছে। কিন্তু এখন তাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর যে সংঘাত তৈরি হলো এর সমাধান কোথায় বা কতদিন পরে মিটবে নাকি আদৌ মিটবে না- এ প্রশ্নের কোন উত্তর আপাতত নেই। ওদিকে মুরসির ক্ষমতা গ্রহণের ১ম বর্ষপূর্তি ছিল ৩০শে জুন। এ উপলক্ষে তার সমর্থকরা মাঠে নামে। মাঠে নামে বিরোধী পক্ষও। দু’পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। এ অবস্থায় ১লা জুলাই সেনাবাহিনী মুরসিকে সঙ্কট সমাধানের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়। তারা বলে, ওই সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে তারা দেশের স্বার্থে ও জনগণের স্বার্থে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে। মুরসি এ সময়সীমাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। কারও রক্তচক্ষুকে ভয় করেন না। কেউ তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না। ৩রা জুলাই স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে চারটায় শেষ হয় সেনাবাহিনীর সময়সীমা। এরপরই সেনাবাহিনীর দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যায়। রাজনীতিবিদ, ধর্মীয় নেতা ও যুব সমাজের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জেনারেলরা। তখনই গুজব ছড়িয়ে পড়ে মিশরে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটতে যাচ্ছে। মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতারা বলে দেন, অভ্যুত্থান প্রক্রিয়া চলছে। ততক্ষণে রাজপথে নেমেছে সেনা সদস্যরা। নামানো হয় ট্যাংক। সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সামনে মোতায়েন করা হয় সেনা ও ট্যাংক। বিশ্বের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল দর্শকদের টেনে নিয়ে যায় মিশরে, তাহরির স্কয়ারে। তারা নিয়মিত সম্প্রচার বাদ দিয়ে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে একটানা মিশরের সংবাদ পরিবেশন করতে থাকেন। বাংলাদেশে গভীর রাত পর্যন্ত বলা হয়, সেনাবাহিনী অল্পক্ষণের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দেবে। আরও গভীর রাতে দেখানো হয়, সেনাপ্রধান সিসি বিবৃতি দিচ্ছেন। সেখানে তিনি ঘোষণা করছেন, মুরসি এখন আর মিশরের কোন নেতা নন। এ সময় তিনি ঘোষণা করেন ভবিষ্যতের রোডম্যাপ। বলেন, নতুন প্রেসিডেন্ট আদলি মানসুরকে অন্তরবর্তী সরকারের সময়ে দেশ পরিচালনা করার দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। তিনি এ কাজ করবেন যতদিন নির্বাচিত একজন প্রেসিডেন্ট না আসেন। সুপ্রিম কনস্টিটিউশনাল কোর্ট প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন আয়োজন করবে। একটি ‘সম্মান সনদ’ তৈরি করে তা জাতীয় মিডিয়ায় প্রচার করা হবে। জেনারেল সিসির ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সাঁজোয়া যান রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ছুটতে শুরু করে। মুসলিম ব্রাদারহুডের টেলিভিশন স্টেশন বন্ধ করে দেয়া হয়। ২০১১ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি মিশরে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। সেবার ক্ষমতাচ্যুত হন প্রায় ৩০ বছরের স্বৈরশাসক হোসনি মুবারক। তার প্রায় এক বছর পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মোহাম্মদ মুরসি। তিনি ক্ষমতায় আসেন ২০১২ সালের ৩০শে জুন। কিন্তু এক বছর ক্ষমতায় থাকায় তাকেও সেনাদের রোষানলে পড়তে হলো। ঘটলো অভ্যুত্থান।
মুরসিকে কেন সরে যেতে হলো
গত বছর জুনে মিসরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর মোহাম্মদ মুরসি ইসলামের মহান শাসক হজরত আবু বকর সিদ্দিকের একটি উক্তি উদ্ধৃত করে দেশবাসীকে বলেছিলেন, ‘যতক্ষণ আমি ন্যায়পরায়ণ থাকব, আমি আল্লাহর দাসত্ব করব, ততক্ষণ আমাকে সহায়তা করবেন। আল্লাহর দাসত্ব না করলে আমার কথা শুনবেন না। ডঃ মুরসী কেবল প্রেসিডেন্ট ছিলেন না, তিনি একজন হাফেজে কোরান। গত বছর তিনি রমজানের তারাবী নামাজের ইমামতি করেছিলেন।
ভাগ্যের পরিহাস, মিসরের জনগণের একাংশ তার ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছেন। ইসলামের ওপর অবিচল থাকার জন্য। মিসরের পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মুরসি চেয়েছিলেন, ইসলামের ঐহিত্যবাহী এই দেশটি পরিচালিত হবে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে। এজন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনেছিলেন তিনি। সম্ভবত এটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ‘রাজনৈতিক ইসলামের’ শত্রুরা তাকে মেনে নিতে পারেননি।
তাই ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র এক বছরের মাথায় তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। কথিত বিক্ষোভের অজুহাতে অবাধ নির্বাচনে জয়ী একজন প্রেসিডেন্টকে বন্দুকের নলের মাথায় সরিয়ে দিয়ে তাকে বন্দি করা হয়েছে। যারা গণতন্ত্রের কথা জোরেশোরে বলে বেড়ায়, তারা প্রকাশ্যেই এই গণতন্ত্রবিনাশী তৎপরতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
মুরসির অপরাধ কী?
তৃতীয় বিশ্বের দেশে দেশে আমরা শাসকদের দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির কথা খুব শুনি। কিন্তু মুরসির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ নেই মোটেই। শাসকরা অন্য যে কারণে জনগণের বিরাগভাজন হন, তার একটি হলো ব্যর্থতা। তবে পাহাড়সমান সমস্যা নিয়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করা একটি দেশের শাসকের সাফল্য ব্যর্থতা মূল্যায়নে এক বছরই কি যথেষ্ট? অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ২০১১ সালের বিশ্বকাঁপানো এক বিপ্লবের মাধ্যমে মিসরবাসী স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্ত হওয়ার পর উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন, কিন্তু মুরসি হয়তো সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।
মোবারকবিরোধী আন্দোলনের পর থেকে মিসরীয় অর্থনীতির অন্যতম খাত পর্যটন ব্যবসায় ধস নামে। বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারেননি তিনি। আইএমএফের ৪৮০ কোটি ডলারের একটি ঋণচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। আশা করা হয়েছিল এই অর্থটা পেলে মিসরীয় অর্থনীতিতে কিছুটা গতি ফিরবে। মুরসি দায়িত্ব নেয়ার পর আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা শুরু হলেও তখনও চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ওই ঋণ পেতে হলে জ্বালানিতে ভর্তুকি বিপুলহারে কমানো হতো। ফলে এতে জনগণের ওপর তাৎক্ষণিক কষ্টের বোঝা চাপত। তাই হয়তো ধীরে চলার কৌশল নিয়েছিলেন মুরসি।
তবে অর্থনৈতিক সমস্যার চেয়েও মুরসিবিরোধী বিক্ষোভের প্রধান কারণ ছিল রাজনৈতিক, বিশেষ করে রাজনৈতিক ইসলাম। মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম ইসলামী সংগঠন ব্রাদারহুডের এই নেতা চেয়েছিলেন ইসলামী মূল্যবোধ দ্বারা শাসিত হবে তার দেশ। কিন্তু কয়েক যুগের কথিত ধর্মনিরপেক্ষতায় অভ্যস্ত মিসরের প্রভাবশালী সেনাবাহিনী ও বিচারবিভাগ মুরসির এই নীতি মেনে নিতে পারেনি। তাছাড়া মুরসি যেভাবে অগ্রসর হচ্ছিলেন, তাতে সেনাবাহিনীর দাপট দিন দিনই কমে আসছিল। অথচ গত ৬০ বছর ধরে কার্যত এই সেনাবাহিনীই মিসর শাসন করেছে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মিসরের পতিত স্বৈরশাসক হোসনি মোবারক আমলের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা পদে পদে মুরসিকে বাধা দিয়েই আসছিল। শেষ পর্যন্ত এসব শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতা কেড়ে নেয় সেনাবাহিনী। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, মুরসিবিরোধী বিক্ষোভ ছিল সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের নীল নকশারই অংশ।
দৃশ্যত সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলকে প্ররোচিত করেছেন মিসরের মোবারক ও বামপন্থী নেতাকর্মীরা। তবে তাদের মোহ হয়তো অচিরেই কেটে যাবে।
দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, যে কোনো বিচারে একটি বৈধ সরকারকে উৎখাত করে অস্ত্রের মুখে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করলেও পশ্চিমা বিশ্বসহ বেশিরভাগ দেশই এর নিন্দা করেনি। সৌদি বাদশাহ তো কার্যত একে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ওবামা ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করলেও এই অভ্যুত্থানকে অভ্যুত্থান বা ক্যু বলে উল্লেখ করেননি।
একই পথের যাত্রী যুক্তরাজ্য সরকারও। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য স্বৈরশাসকরাও মুরসির বিদায়ে উল্লসিত। তারা চায়নি মিসরে ইসলামী ব্রাদারহুডের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের দেশেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্মেষ ঘটুক। সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদ মুরসির বিদায়ে ‘রাজনৈতিক ইসলামের’ সমাপ্তি দেখছেন। তবে এ ঘটনাকে অগণতান্ত্রিক বলে আখ্যায়িত করেছে তুরস্ক আর সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে তিউনিসিয়া।
অনেকেরই ধারণা, আরব দুনিয়ায় রাজতন্ত্রের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আমেরিকা এবং তাদের সহযোগীরা চায়নি মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামী ব্রাদারহুডের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি ইসলামী শক্তির বিকাশ ঘটুক। এতে ইহুদিবাদী ইসরাইলের অস্তিত্ব সঙ্কট তৈরিসহ মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা স্বার্থ দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, তৃতীয় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই মিসরে নবীন গণতন্ত্রকে কবর দেয়ার যাত্রায় সহযোগীর ভূমিকা নিয়েছে মিসরের আদালত।
তবে মিসরের বহু জনগণ তাদের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে যেভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, তাতে ক্ষুব্ধ। এর প্রমাণ দেখা যায়, মুরসির সমর্থনে মিসরে লাখো জনতা সমাবেশ করেছে। তবে এসব খবর তেমন গুরুত্ব পায়নি পশ্চিমা গণমাধ্যমে। মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করেই ক্ষান্ত হয়নি সেনাবাহিনী, তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে ক্যান্টনমেন্টে। কোনো কারণ ছাড়াই তার দল ইসলামী ব্রাদারহুডের নেতাদের ধরপাকড় শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মিসরের বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ মুসলিম বিশ্বের উদীয়মান শক্তি তুরস্কের গত শতাব্দীর শেষের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি। সেখানে একটি ইসলামপন্থী সরকারকে বারবার সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের অবিচারের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত জনগণের ইচ্ছারই জয় হয়েছে। তুরস্কের একে পার্টি আজ দেশটির অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তি। তুরস্ককে তারা বিশ্ব রাজনীতির নেতৃত্বে নিয়ে এসেছে। নানা চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে মিসরে তুরস্কের ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি হবে। সেজন্য কত সময় লাগে আর কত রক্ত ঝরাতে হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আফ্রিকান ইউনিয়ন মিশরের সদস্যপদ স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে ‘গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করেছে কায়রো। সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মুরসি’কে ক্ষমতাচ্যুত করার কারণে আফ্রিকান ইউনিয়ন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেইসবুক পৃষ্ঠায় প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আফ্রিকান ইউনিয়নের শান্তি ও নিরাপত্তা পরিষদ এ সংস্থার কর্মকান্ডে আমাদের অংশগ্রহণ স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে কায়রো গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে।” এর আগে আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) শুক্রবার সকালে সংস্থাটিতে মিশরের সদস্যপদ স্থগিত করে। মিশরে অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতার হাত বদল হওয়ার কারণে এ পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানায় সংস্থাটি। ইথিউপিয়ার রাজধানীতে এইউ’র শান্তি ও নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করা সংবিধান পরিপন্থী। এইউ কমিশনের প্রধান দালামিনি যুমা সাংবাদিকদের বলেছেন, মিশরে অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির সদস্যপদ স্থগিত থাকবে।
আফ্রিকান ইউনিয়নের একটি নীতি হলো, জোটভুক্ত কোনো দেশে অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতার হাত বদল হতে পারবে না। সংবিধান মেনেই সব কিছু করতে হবে। এর আগে অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলের ঘটনা ঘটায় সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের সদস্যপদ স্থগিত করে এই জোট। জাপান সরকারের মুখপাত্র মিশরের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাপান সরকার পরিস্থিতির উপর সতর্ক নজর রাখছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী পরিষদসচিব ইয়োশিহিদে সুগা সাংবাদিকদেরকে বলেন জাপান সকল পক্ষকে সহিংসতা এড়িয়ে, সর্বোত্তম সংযম প্রদর্শন করে দায়িত্বশীল আচরন করার আহ্বান জানাচ্ছে। তিনি বলেন, জাপান আশা করে শিগগিরই গনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতার দায়িত্ব নেবে।
বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া এবং নিন্দা
মোহাম্মদ মুরসিকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করাকে আরব বিশ্বের কয়েকটি দেশ স্বাগত জানালেও এ ব্যাপারে অন্যান্য দেশে শোক, অস্বস্থি ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ছে। নিজেদের মুরসির ব্যর্থতার সাথে সম্পৃক্ত না করে উদারপন্থী ইসলামি দলগুলো এই অভ্যুত্থানের নিন্দা করেছে। তুরস্কের বর্তমান সরকার এই অভ্যুত্থানের নিন্দা করেছে। তুর্কি প্রধানমন্ত্রী রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, মোহাম্মদ মুরসি সরকারের বিরুদ্ধে যে অভ্যুত্থান হয়েছে তা অবৈধ। মিসরের চলমান ঘটনাবলির ব্যাপারে গত ১১ জুলাই মন্তব্য করতে গিয়ে এরদোগান বলেন, তুরস্কের দৃষ্টিতে যেকোনো সামরিক অভ্যুত্থান অবৈধ। তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামরিক অভ্যুত্থান যে দেশে যে কারণে এবং যে লক্ষ্যকে সামনে রেখেই হোক না কেন তা সেই দেশের গণতন্ত্র, জনগণ ও ভবিষ্যৎকে হত্যা করে। কাজেই আমাদের দৃষ্টিতে তা গ্রহণযোগ্য নয়। উল্লেখ্য, তুরস্কে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সেনাবাহিনী বারবার রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছিল। তারা নির্বাচিত ইসলামপন্থী সরকারকে কয়েকবার ক্ষমতাচ্যুত করে। কিন্তু এরদোগানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসলামপন্থী সরকার রাজনীতিতে নাক গলানোর জন্য সেনাবাহিনীকে এমনভাবে শায়েস্তা করেছে, মনে হয় তারা আর ভবিষ্যতে কখনো এ ধরনের দুঃসাহস দেখাবে না।
সিরিয়ার মুসলিম ব্রাদারহুডও মিসরে সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা করেছে। সিরিয়ার চলমান সংঘাতে বাশার আল আসাদের পতন ঘটলে মুসলিম ব্রাদারহুডই দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে বলে ব্যাপকভাবে আশা করা হচ্ছে। তিউনিসিয়ায় আরব বসন্তের পর দু’বছর আগে বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা আননাহাদা পার্টির প্রধান রশিদ ঘানুশি মিসরে সেনা-অভ্যুত্থানের পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, তার দলের নীতি মুরসির দলের মত না। তবে তিউনিসিয়া সামারিক অভ্যুত্থানের নিন্দা করেছে। সালাফি ও চরমপন্থীদের সাথে তুলনা করে প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার মাধ্যমে ব্যালট বাক্সের সাথে চরমপন্থীদের দীর্ঘ বিরোধের বিষয় ইঙ্গিত করে সিরিয়ান ইসলামি ফ্রন্টের নেতা টুইটারে বলেন, ‘গণতন্ত্র আমাদেরকে ইসলাম অথবা আল্লাহর আইন দেবে না। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ অবশ্য মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করাকে অভিনন্দিত করেন। তিনি মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করাকে রাজনৈতিক ইসলামের মৃত্যু বলে স্বাগত জানান। বাশার আল আসাদ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে সেকুলার সরকার ও চরমপন্থীদের মধ্যকার সঙ্ঘাত বলে উল্লেখ করেন। এ দিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ সেকুলার জাতীয়তাবাদী ফিলিস্তিনি অংশ মুরসির বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানকে অনুমোদন দিয়েছে।
অপর দিকে গাজার হামাস প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায় নি। উপসাগরীয় রাজতান্ত্রিক আরব রাষ্ট্রগুলো মুরসির ক্ষমতাচ্যুতিকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা মুসলিম ব্রাদারহুডের সংগঠিত শক্তি ও উত্থানকে ভয় পায়। কারণ তারা মনে করে ব্রাদারহুডের গণতান্ত্রিক আন্দোলন তাদের রাজতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং একদিন তারা রাজতন্ত্রকে উৎখাত করবে। এই জুজু থেকে তারা ব্রাদারহুড ও মুরসির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সৌদি আরব মুরসির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এ কারণে। সৌদি মালিকানাধীন আল আরাবিয়া টেলিভিশন চ্যানেলে মিসরের অভ্যুত্থানকে ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ আখ্যা দিয়ে মুরসিবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ছবি সম্প্রচার করা হয়। একই কারণে বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার ও শাসকেরা মিসরের অন্তর্বতী প্রেসিডেন্ট আদলি মনসুরকে দাায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত অভিনন্দন জানিয়েছে। কাতার অধিকতর সতর্কতার সাথে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। কাতার ওই অঞ্চলের ব্রাদারহুডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ড. মুরসি ক্ষমতা গ্রহণের পর মিসরের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের জন্য কাতার মিসরকে অন্তত ৮০০ কোটি ডলার সহায়তা প্রদান করে। কাতারভিত্তিক আল জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেল মুরসি সমর্থকদের বিক্ষোভ সমাবেশ টেলিভিশনে সম্প্রচার করে। কাতারের শাসকেরা ইসলামি আদর্শকে প্রমোট করার চেয়ে তাদের আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে। অবশ্য আগে তারা ইসলামি আদর্শকে প্রমোট করার ব্যাপারে উৎসাহব্যঞ্জক ভূমিকা পালন করেছে।
কাতারের বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির নতুন আমির শেখ তামিম আদলি মনসুরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন; তুরস্ক, তিউনিসিয়া, ইরান মিসরের অভ্যুত্থানের নিন্দা করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো একটি দুর্বল ও অনুগত মিসর চায়। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যাটেজিক স্টাডিজের ইমিলি হোফারেস এ কথা বলেন। ইরান সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা করেছে; তবে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা তাদের স্বার্থের অনুকূলে যেটা হয় সে দিকেই তাদের সমর্থন জানাচ্ছে। এক বছর আগে মুরসি যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন তখন তিনি ইরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় খুলে দিয়ে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। মিসরের প্রেসিডেন্ট মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বিদ্রোহীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। বাশার আল আসাদের প্রভাব ইসলামি আল ওয়াাভি বংশধারার শিয়া পরিবারের অংশ বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এ কারণে ইরান তার প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছে। ইরানি মিডিয়াগুলো মুরসির বিরুদ্ধে ক্যুকে স্বাগত জানালেও তেহরানের সরকারি পক্ষ নীরব ছিল। পাঁচ দিন পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে মিসরের ‘রাজপথের গণতন্ত্রের’ সমালোচনা করে। গার্ডিয়ানের কলামিস্ট আইয়ান ব্ল্যাকের মতে, সৌদিরা চায় মিসর ইরানের সাথে সংঘাতে লিপ্ত হোক এবং আমেরিকার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলুক। এ দিকে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ব্রাদারহুডকে জোরপূর্বক অন্যায়ভাবে রাজনৈতিকভাবে পরাজয়ে বাধ্য করা হলে চরমপন্থা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই চরমপন্থা হচ্ছে গণতন্ত্র বা নির্বাচনবিরোধী অবস্থান। নাদিম শিহাদি বলেন, মুরসি ও ব্রাদারহুডকে যে দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে তারা এখন জুলুমের শিকার। এতে করে চরমপন্থার দিকেই মানুষের সমর্থন বৃদ্ধি পাবে।
মুরসির মুক্তি চাইল ইউরোপীয় ইউনিয়ন
মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুডের অব্যাহত আন্দোলনের মধ্যে এবার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মুক্তি চেয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। কায়রো সফররত ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন বুধবার খোলাখুলিভাবেই মিশরের সেনা সমর্থিত সরকারের কাছে মুরসিকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান। গত ৩ জুলাই সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে মিশরের আমেরিকাপন্থী সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মুরসিকে অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখা হয়েছে। অ্যাস্টন বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি তাকে মুক্তি দেয়া উচিত। আমাকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে যে তিনি ভালো আছেন। আমি তার সঙ্গে দেখা করতে পারলে খুশি হতাম।’ অ্যাস্টন ব্রাদারহুড নেতা আমর দারাগ, মুরসির প্রধানমন্ত্রী হিশাম কান্দিলসহ ব্রাদারহুড নেতাদের সঙ্গে ৪৫ মিনিট ব্যাপী বৈঠক করেন। সাক্ষাৎ শেষে দারাগ বলেন, ‘অ্যাস্টন মিশরের সংকট সমাধানের কোনো প্রস্তাব দেননি। আমরা কারো কাছে সাহায্যও চাই না। আমরা আমাদের ওপর নির্ভর করি। প্রভাবশালী ইইউ মুরসিকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানানোর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাজপথে বিক্ষোভ করেছিলেন মুরসি সমর্থকরা। এদিকে, ব্রাদারহুড নেতাদের ওপর নিপীড়নে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আম্মান সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। জার্মান, আমেরিকা যদিও ডঃ মুরসির মুক্তি চেয়েছে।
শেষ কথা
মিশর হচ্ছে আমেরিকার সর্বোচ্চ সামরিক সহায়তা গ্রহণকারী দেশ। ১৯৪৮ সাল থেকে এই পর্যন্ত আমেরিকার কাছ থেকে ৭,০০০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা পেয়েছে কায়রো। এই সামরিক সহায়তা সাধারণত আমেরিকার মতাদর্শের বা পছন্দের বাইরের কোন রাষ্ট্রকে দেয়া হয় না। মিশরে সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে এই কথাটি বিশ্বাস করলে স্বয়ংক্রীয়ভাবে মিশরের সাথে আমেরিকার সামরিক সম্পর্ক ছিণœ হবার ব্যাপারটি স্পষ্ট হয়। এছাড়া মিশরের সাথে আমেরিকার এই সম্পর্ককে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে কায়রো। সুতরাং আমেরিকার দেয়া বিবৃতি নিশ্চয়ই ভারসাম্যতা মেনে হবে এমনটাই মনে করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সমরবিদগণ।
আমরা যে কোন মূল্যে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী। কোন দল বা গোষ্ঠীর অনৈতিক অশুভ ক্ষমতার দাপট সাধারণ মুক্তিকামী মানুষ কামনা করে না। বিশ্ব শান্তির এই পথপরিক্রমায় মুক্তিকামী মানুষ যুগে যুগে গণতন্ত্রের পথেই হেঁটেছে। ৫২ শতাংশ ভোটারের ভোটে যে দল ক্ষমতায় এসেছিল সেই দলকে তার পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে দেয়া উচিৎ ছিল। আমরা আশাকরি মিশরের জনগণ দেশে আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে একটি সুষ্ঠ গণতান্ত্রিক ধারার মধ্য দিয়ে। তা না হলে মিশরকে গণতন্ত্রের জন্য আবারও অনেক মুল্য দিতে হবে।
নানান সমীকরণে মধ্যপ্রাচ্যের হিসাব কষছে ইহুদী রাষ্ট্রসহ পৃথিবীর শক্তিশালী দেশগুলো, সেই সাথে যোগ হয়েছে আরবের ধনী রাজতন্ত্রের ধারক ও বাহকেরা, সময়ই বলে দিবে মিশর সহ সিরিয়া, লিবিয়া, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, লেবালন, ইরান, ইরাকের ভাগ্য কোন দিকে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1429)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
July
(1526)
-
▼
Jul 25
(11)
- মার্কিন কংগ্রেসে নজরদারি ও আফগান ইস্যুতে জোর বিতর্ক
- বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা করার স্বীকৃতি পেলেন দুই নারী
- চীনে ৫ বছরের জন্য সরকারি ভবন নির্মাণ নিষিদ্ধ
- ‘বিমানবন্দর ছাড়ার অনুমতি পেয়েছেন স্নোডেন’
- নাম কি সত্যিই জেমস বা জর্জ?
- ‘ভবিষ্যৎ রাজাকে’ নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমে ভুল
- বাড়িতে প্রথম রাত কাটাল রাজপুত্র
- পদ্মা সেতু উপাখ্যান by আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়
- আগ্রাসী ভূমিকায় ব্যাংকিং খাত : করণীয় by ড. আর এম দ...
- মহাজোট সরকারের যত ভুল by মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার
- মিশরের গণতন্ত্র ও ষড়যন্ত্র: মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জা...
-
▼
Jul 25
(11)
-
▼
July
(1526)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


